Monday, December 20, 2021

যে সব ভুল-ভ্রান্তির কারণে দু’আ কবুল হয়না

 দু’আ করার সময় অনেক ভুলভ্রান্তি ঘটে এবং সেগুলো দু’আকে কবুল হওয়া থেকে বিরত করে। এই ভুলভ্রান্তিগুলো কি কি?

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য,

দু’আ করার ক্ষেত্রে কৃত ভুলের সংখ্যা অনেক, যেগুলোর অধিকাংশই ‘সীমালঙ্ঘন’ শিরোনামের আওতাভুক্ত যেমনঃ

১. যখন দু’আর মধ্যে আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন তথা শিরক করা হয়-

যেমনঃ আল্লাহর সাথে অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর নাম ধরে কোন কিছু চাওয়া হয়, সেটা হতে পারে কোন ব্যক্তি কিংবা গাছ অথবা কবর, কারণ দু’আ হচ্ছে একটি ইবাদাত আর এটাকে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে করা হলো শিরক আর শিরক হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম অপরাধ যেটার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি অবাধ্যতা প্রকাশ করা হয়। হাদীসে বর্ণিত আছে যেঃ

“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধ কোনটি? আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন-‘আল্লাহর সমকক্ষ কাউকে বানানো অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’।”(বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)

২. যখন দু’আ করার সময় কোন নতুন পদ্ধতির তাওয়াসসুল(আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়) প্রবর্তন করা হয়-

যেমনঃ আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর ব্যক্তিসত্তা কিংবা তাঁর মর্যাদার তাওয়াসসুল করা। ইসলাম ধর্ম হচ্ছে অনুসরণ করার জন্য , বিদ’আত তৈরির জন্য নয়।

৩. কারো ওপর বিপদ পতিত হওয়ার দরূণ মৃত্যুকামনা করা-

খাব্বাব(রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছেঃ

যদি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে মৃত্যুকামনা করতে নিষেধ না করতেন, আমি মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করতাম।”(বুখারী-৬৩৫০, মুসলিম-২৬৮১)

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যেঃ

“তোমাদের কেউ যেন তার ওপর বিপদ আসার কারণে মৃত্যুকামনা না করে। যদি সে একান্তই তা করতে চায় তবে যেন বলে: ‘ও আল্লাহ্! আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর এবং আমাকে মৃত্যুদান করুন যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর ’।”(বুখারী-৬৫৩১, মুসলিম-২৬৮০)

৪. শাস্তি তাড়াতাড়ি প্রদানের প্রার্থনা করা-

আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে যাতে নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকা যায়, সেই দু’আ করা উচিত। একবার রাসূল (সাঃ) এক মুসলিম ব্যক্তিকে অসুস্থ ও মুরগির মত দুর্বল অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি(সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ

“তুমি কি কোন কিছুর জন্য দু’আ করেছিলে অথবা এই অবস্থার জন্য প্রার্থণা করেছিলে?” সে বললঃ “হ্যাঁ, আমি বলতাম: ‘ও আল্লাহ্! আখিরাতে আপনি আমাকে যে শাস্তি দেওয়া নির্ধারণ করেছেন, আমাকে তা এই দুনিয়াতেই প্রদান করুন।’ রাসূল (সাঃ) বললেনঃ “সুবহানাল্লাহ্! তুমি এটা সহ্য করতে পারবে না। তুমি কেন বললে না যে, ও আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গাতেই কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে আমাদের হেফাযত করুন?” তারপর তিনি আল্লাহর কাছে তার জন্য দু’আ করলেন এবং আল্লাহ্ তাকে আরোগ্য করলেন। (মুসলিমঃ২৬৮৮)

৫. কারো পরিবার এবং সম্পদের বিরুদ্ধে দু’আ করা-

হাদীসে বর্ণিত আছে যেঃ

“নিজেদের বিরুদ্ধে দু’আ করো না, তোমাদের সন্তানাদির বিরুদ্ধে দু’আ করো না, এবং তোমাদের সম্পদের বিরুদ্ধে দু’আ করো না; কেননা এই আশঙ্কা হতে পারে যে এটা এমন এক সময়ের সাথে মিলে যেতে পারে যখন আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাওয়া হয় আর তিনি তা কবুল করে নেন।”(মুসলিমঃ৩০০৯)

৬. পারিবারিক বন্ধন ছিন্নকরণের জন্য দু’আ করা- যেমনঃ কারো বিরুদ্ধে দু’আ করা এবং তার ও তার আত্নীয়-স্বজন অথবা স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক যাতে ছেদ হয়, সেই জন্য দু’আ করা।

৭. সীমিত রহমতের জন্য দু’আ করা- যেমনঃ ও আল্লাহ্! কেবল আমাদের যমীনে বৃষ্টি বর্ষণ করুন এবং এরকম কিছু।

৮. আল্লাহর কাছে দু’আ করার ক্ষেত্রে সঠিক আচরণ পালনে ব্যর্থতা- যেমনঃ এমনভাবে দু’আ করা যেটা সঠিক নয়। আল-খাত্তাবি বলেছেনঃ

“এইভাবে বলা ঠিক নয় যে ও কুকুরসমূহের সৃষ্টিকর্তা অথবা ও বানর ও শূকরসমূহের সৃষ্টিকর্তা, যদিও সকল সৃষ্টি আল্লাহ্ কর্তৃক সৃষ্ট এবং এদের সকলের উপর তাঁর কর্তৃত্ব রয়েছে।”(শা’ন আল-দু’আঃ১৫৩)

আল্লাহর কাছে দু’আ করার সময় যতটুকু সম্ভব সঠিক আচরণ পালন করা এবং যথাসম্ভব উচিত বেমানান কোন কিছু বলা পরিহার করা। দু’আ করার দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত বিনয় ও আনুগত্যপূর্ণ।

আল্লাহ্ রাসূল(সাঃ) তাঁর দু’আর সময় আল্লাহকে এত অধিক পরিমাণে প্রশংসা করতেন যে মনে হত তিনি যথেষ্টভাবে আল্লাহকে প্রশংসা করছেন না। তিনি বলতেনঃ “আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই; আমি আপনার যথেষ্ট প্রশংসা করতে পারিনা।”

৯. দু’আ করার সময় অন্যের উপর নির্ভরশীল হওয়া-

আপনি দেখতে পাবেন যে কিছু লোক রয়েছে যারা নিজেরা গোনাহগার এই মর্মে নিজেরা আল্লাহর কাছে দু’আ করে না, তাই তারা সর্বদা অন্যদেরকে তাদের জন্য দু’আ করতে বলে ।

রমজানের পর ভাল কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার দশটি মাধ্যম

 আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান

রমজানের পর কি? রমজান মাসে আল্লাহর নিকট বেশি প্রার্থনা করেছি, অধিক পরিমাণে নফল আদায় করেছি। ইবাদতে স্বাদ অনুভব করেছি। অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করেছি। জামাতের স্বলাত ত্যাগ করিনি। হারাম জিনিস দেখা থেকে বিরত ছিলাম। কিন্তু রমজানের পর ইবাদতের স্বাদ হারিয়ে ফেলেছি যা রমজান মাসে পেতাম। আর আগে যে ইবাদতের প্রতি লোভ ছিল তা আর এখন পাই না। জামাতের সাথে অনেক সময় ফজরের স্বলাত ছুটে যায়, অনেক নফল ইবাদত এখন করা হয় না কোরআন তেলাওয়াতও এখন আর আগের মত করা হয় না। এই সমস্যার কোন সমাধান বা চিকিৎসা আছে কি? রমজানের পর ভাল কাজের

আপনাদের নিকট রমজানের পর ভাল কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার দশটি মাধ্যম পেশ করছি।

✔ ১। সব কিছুর পূর্বে আল্লাহ তাআলার সাহায্য কামনা করতে হবে হেদায়েত এবং দৃঢ়তার উপর থাকার জন্য, আল্লাহ তাআলা গভীর জ্ঞানের অধিকারীদের দোয়ার প্রসংশা করেছেন।

رَبَّنَا لا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ ” )سورة أل عمران8)

হে আমাদের রব, আপনি হেদায়েত দেয়ার আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। (সূরা আলে-ইমরান ৮ আয়াত)

✔ ২। ভাল লোকদের সাথে বেশি উঠা বসা করতে হবে, এবং ওয়াজ নছিহত ও বিভিন্ন ধরণের দ্বীনি আলোচনা যেখানে হয় সেখানে যাতায়াত করতে হবে।

✔ ৩। বই পত্র পড়া এবং ক্যাসেট শ্রবনের মাধ্যমে নেক লোকদের জিবনী জানা, বিশেষ করে সাহাবাদের জীবনী জানা। কেননা এর মাধ্যমে মনের ভিতর সাহস ও আশার সঞ্চার হয়।

✔ ৪। বেশি বেশি করে প্রভাব বিস্তারকারী ইসলামি ক্যাসেট শ্রবণ করা: যেমন ভাল ভাল খতীবদের আলোচনা ওয়াজ যেখানে পাওয়া যায় তা সংগ্রহ করা। সময় সময় দোকানে যেয়ে খোজ খবর নেয়া যে নতুন কোন ক্যাসেট বা সিডি বাজারে এসেছে কিনা।

✔ ৫। ফরজের প্রতি যত্নশীল থাকা যেমন পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাত রমজানের সওম কোন কারণে কাজা হয়ে থাকলে তা দ্রুত আদায় করা। কেননা ফরজের মধ্যে অনেক কল্যাণ রয়েছে।

✔ ৬। নফলের প্রতিও যত্নশীল হওয়া যদিও তা কম হয়, কিন্তু অবশ্যই তা এমন নফল কাজ হতে হবে যা আদায় করতে মনে ভাল লাগে, কেননা আল্লাহর নিকট ঐ আমল অধিক প্রিয় যা নিয়মিত হয় যদিও তা পরিমাণে কম হয়। রাসূল (ﷺ) এমনই বলেছেন।

✔ ৭। কোরআন হেফয করতে আরম্ভ করা এবং নিয়মিত তেলাওয়াত করা, আর যা হেফয করবে তা ফরজ নামাজে এবং নফল নমাজে পড়তে অভ্যাস গড়ে তোলা।

✔ ৮। বেশি বেশি জিকর ও ইস্তেগফার করা, কেননা এ কাজটি সহজ কিন্তু তার উপকার অনেক বেশি, ঈমান বৃদ্ধি করে এবং মন ও হৃদয়-কে শক্তিশালী করে।

✔ ৯। সম্পূর্ণরূপে এমন কিছু থেকে দুরে থাকা যা হৃদয়কে নষ্ট করে দেয়, যেমন অসৎ লোকের সঙ্গ, টেলিভিশন দেখা, ডিশ দেখা, কাম উদ্রেককারী গান শোনা, অশ্লীল অনুষ্ঠানে যাওয়া, অশ্লীল চিত্র দেখা ইত্যাদি।

✔ ১০। সর্বশেষ হে বন্ধুগণ! আপনাদের উপদেশ দিচ্ছি দ্রুত তওবা করার জন্য; খালেছ তওবা। যেখান থেকে আর পিছনে ফিরবেন না। আল্লাহ তাআলা বান্দা তওবা করলে অত্যন্ত খুশি হন। আপনারা ঐ সমস্ত লোকদের অন্তর্ভূক্ত হবেন না যারা আল্লাহকে চিনে না রমজান ছাড়া অন্য সময়ে। তাদের সম্পর্কে পূর্বসূরীরা বলেন: তারা হতভাগ্য যারা রমজান ছাড়া অন্য সময়ে আল্লাহকে চিনে না।

সমাপ্ত

তাবিজ ঝুলানো শির্ক তার দলিল

 ইমরান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু

‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির হাতে তামা/ স্বর্ণের আংটি দেখে বললেন,
‏« ﻭَﻳْﺤَﻚَ ﻣَﺎ ﻫَﺬِﻩِ ؟ ” ﻗَﺎﻝَ : ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻮَﺍﻫِﻨَﺔِ، ﻗَﺎﻝَ : ”
ﺃَﻣَﺎ ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﻟَﺎ ﺗَﺰِﻳﺪُﻙَ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫْﻨًﺎ، ﺍﻧْﺒِﺬْﻫَﺎ ﻋَﻨْﻚَ، ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﻟَﻮْ
ﻣِﺖَّ ﻭَﻫِﻲَ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻣَﺎ ﺃَﻓْﻠَﺤْﺖَ ﺃَﺑَﺪًﺍ ‏»
“ধ্বংস তোমার, এটা কী? সে বলল: অহেনার [1] অংশ।

তিনি বললেন: মনে রেখ, এটা তোমার দুর্বলতা ব্যতীত কিছু বৃদ্ধি করবে না, এটা তোমার থেকে ছুড়ে মার, কারণ তুমি যদি মারা যাও আর এটা তোমার উপর থাকে,
তুমি কখনো সফল হবে না” [2]

উকবা বিন আমের রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
‏« ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻖَ ﺗَﻤِﻴﻤَﺔً، ﻓَﻠَﺎ ﺃَﺗَﻢَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻪُ، ﻭَﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻖَ
ﻭَﺩَﻋَﺔً، ﻓَﻠَﺎ ﻭَﺩَﻉَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻪُ ‏»
“যে তামিমাহ[3] ঝুলালো,
আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে শঙ্খ ঝুলালো আল্লাহ তাকে নিরাপত্তা দিবেন না”।
[4]
উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,
একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
দরবারে একদল লোক উপস্থিত হল।
তাদের নয়জনকে তিনি বায়আত করলেন একজনকে করলেন না।
তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন, আর তাকে ত্যাগ করলেন? তিনি বললেন:
‏« ﺇِﻥَّ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺗَﻤِﻴﻤَﺔً ” ، ﻓَﺄَﺩْﺧَﻞَ ﻳَﺪَﻩُ ﻓَﻘَﻄَﻌَﻬَﺎ، ﻓَﺒَﺎﻳَﻌَﻪُ،
ﻭَﻗَﺎﻝَ : ” ﻣَﻦْ ﻋَﻠَّﻖَ ﺗَﻤِﻴﻤَﺔً ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺷْﺮَﻙَ ‏»
“তার উপর তাবিজ রয়েছে,
তিনি স্বীয় হাত বের করে তা ছিঁড়ে ফেললেন, অতঃপর তাকে বায়আত করলেন, এবং বললেন যে তাবিজ ঝুলালো সে শিরক করল।[5]
একদা হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু জনৈক ব্যক্তির হাতে জ্বরের তাগা দেখে কেটে ফেললেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন:
﴿ ﻭَﻣَﺎ ﻳُﺆۡﻣِﻦُ ﺃَﻛۡﺜَﺮُﻫُﻢ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻢ ﻣُّﺸۡﺮِﻛُﻮﻥَ ١٠٦
﴾ ‏[ ﻳﻮﺳﻒ : ١٠٥ ‏]
“তাদের অধিকাংশ আল্লাহর
প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে শিরক করা অবস্থায়”। [6]
এ ঘটনা প্রমাণ করে তাগা ব্যবহার করা শিরক।
আবু বশির আনসারি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফর সঙ্গী ছিলেন। তিনি জনৈক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, -মানুষেরা তখন ঘুমের বিছানায় ছিল-,
‏« ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﻳَﺒْﻘَﻴَﻦَّ ﻓِﻲ ﺭَﻗَﺒَﺔِ ﺑَﻌِﻴﺮٍ ﻗِﻠَﺎﺩَﺓٌ ﻣِﻦْ ﻭَﺗَﺮٍ ﺃَﻭْ
ﻗِﻠَﺎﺩَﺓٌ ﺇِﻟَّﺎ ﻗُﻄِﻌَﺖْ ‏»
“কোনো উটের গলায় সুতার মালা (ধনুকের ছিলা) বা কোনো প্রকার মালা রাখা যাবে না, অবশ্যই কেটে ফেলা হবে”।[7]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের গলার সুতা ও মালা কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তাবিজ ঝুলানোর উপায় অবশিষ্ট না থাকে।
আবু ওয়াহহাব রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‏« ﻭَﺍﺭْﺗَﺒِﻄُﻮﺍ ﺍﻟْﺨَﻴْﻞَ، ﻭَﺍﻣْﺴَﺤُﻮﺍ ﺑِﻨَﻮَﺍﺻِﻴﻬَﺎ ﻭَﺃَﻛْﻔَﺎﻟِﻬَﺎ،
ﻭَﻗَﻠِّﺪُﻭﻫَﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﻘَﻠِّﺪُﻭﻫَﺎ ﺍﻟْﺄَﻭْﺗَﺎﺭَ ‏»
“তোমরা ঘোড়া বেঁধে রাখ,
তার মাথায় ও ঘাড়ে হাত বুল
াও এবং তাকে লাগাম পরাও,
তবে সুতা/ মালা পরিয়ো না।[8]
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর স্ত্রী জয়নব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আব্দুল্লাহ বাড়িতে এসে আমার গলায় তাগা দেখতে পান। তিনি বলেন, এটা কী?
আমি বললাম, এটা পড়া তাগা,
এতে ঝাড়-ফুঁক করা হয়েছে।
তিনি তা কেটে ফেললেন এবং বললেন, আব্দুল্লাহর পরিবার শিরক থেকে মুক্ত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
‏« ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺮُّﻗَﻰ ﻭَﺍﻟﺘَّﻤَﺎﺋِﻢَ ﻭَﺍﻟﺘِّﻮَﻟَﺔَ ﺷِﺮْﻙٌ ‏»
“ঝাড়-ফুঁক, [9] তাবিজ ও
তিওয়ালাহ[10] নিঃসন্দেহে শিরক”।[11]
এসব দলিল বলে, রোগ-ব্যাধি দূর বা প্রতিরোধ করার জন্য মানুষ বা জীব-জন্তুর শরীরে, কিংবা ক্ষেত-খামারে তাবিজ,
তাগা, কড়ি ও সুতা ইত্যাদি ব্যবহার করা শিরক। কারণ,
তামিমাহ ও তামিমাহ জাতীয় বস্তুর উপর নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলো ব্যাপক, তাই সবধরণের তাবিজ শিরক। কুরআন/
গায়রে কুরআন কোনো বিভেদ নেই।
দ্বিতীয়ত যেসব দলিলে তাবিজের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাতে কুরআন-হাদিসের তাবিজ বৈধ বলা হয়নি, যেমন শিরক মুক্ত ঝাড়-ফুঁক বৈধ বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﺍﻋْﺮِﺿُﻮﺍ ﻋَﻠَﻲَّ ﺭُﻗَﺎﻛُﻢْ ﻟَﺎ ﺑَﺄْﺱَ ﺑِﺎﻟﺮُّﻗَﻰ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ
ﻓِﻴﻪِ ﺷِﺮْﻙٌ ‏»
“তোমাদের ঝাড়-ফুঁক আমার কাছে পেশ কর, ঝাড়-ফুঁকে কোনো সমস্যা নেই, যদি তাতে
শিরক না থাকে”।[12]
এ হাদিসে যেরূপ কুরআনুল কারিমের তাবিজকে পৃথকভাবে বৈধ বলা হয়নি, যেমন শিরক মুক্ত ঝাড়-ফুককে বৈধ বলা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিদের জীবনে
তাবিজের কোনো প্রমাণ নেই।
হাদিসের পাঠকমাত্র দেখবে,
দোয়া ও যিকর সংক্রান্ত সকল হাদিসের ভাষা হচ্ছে, ‘যে ইহা বলবে’, অথবা ‘যে ইহা পড়বে’
ইত্যাদি; একটি হাদিসেও নেই
‘যে ইহা লিখে রাখবে’, অথবা ‘যে ইহা ঝুলাবে’। ইবনে আরাবি বলেন: “কুরআন ঝুলানো সুন্নত নয়,
কুরআন পাঠ করা সুন্নত”।
ইব্রাহিম নখয়ি রহ. বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের সাথীগণ কুরআন ও গায়রে কুরআন সর্বপ্রকার তাবিজ অপছন্দ করতেন,
যেমন আলকামা, আসওয়াদ, আবু ওয়ায়েল, মাসরুক ও রাবি বিন খায়সাম প্রমুখ তাবেয়িগণ”। [13]
শিরক ও পাপের পথ বন্ধ করার স্বার্থে সকল তাবিজের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা জরুরি। কুরআনের তাবিজ শিরকী তাবিজের পথ উন্মুক্ত করে। আদর্শ মনীষীগণ তাবিজ অপছন্দ করতেন, অথচ তাদের যুগ ছিল বিদআত ও শিরক মুক্ত, ওহী ও ঈমানের নিকটবর্তী। আমাদের যুগ মূর্খতা ও বিদআত সয়লাবের যুগ, এতে তাবিজ বৈধ বলার অর্থ উম্মতকে শিরকের দিকে ঢেলে দেওয়া।
দ্বিতীয়ত তাবিজে ব্যবহৃত কুরআন নাপাক বস্তু বা স্থানের সম্মুখীন হয়, বিশেষত বাচ্চাদের গলার তাবিজ, যা থেকে কুরআনকে পবিত্র রাখা জরুরি।
তাবিজ ব্যবহারকারীরা সাধারণত কুরআন-হাদিসের
ঝাড়-ফুঁক করে না, তাবিজকেই
যথেষ্ট ভাবে। তাদের অন্তর
তাবিজের সাথে ঝুলন্ত থাকে,
যদিও তারা স্বীকার করে না,
তবে তাবিজ খুললে তার সত্যতা
প্রকাশ পায়! কারো চেহারা
বিবর্ণ হয়, কারো শরীরে
কাঁপুনি উঠে। যদি তাদের অন্তর
আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত থাকত ও তাতে পূর্ণ বিশ্বাসী হত, কখনো
তারা মন এমন বস্তুর দিকে
ধাবিত হত না, যার সম্পর্ক কুরআন-
হাদিসের সাথে নেই। বস্তুত তাবিজ ব্যবহার করে তারা কুরআনের সাথে নয়, বরং কাগজ ও
জড় বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত হয়।
তাবিজ একটি জড়-বস্তু, তার
সাথে রোগ-মুক্তির কোনো
সম্পর্ক নেই। তাবিজকে রোগ মুক্তির উপায় সাব্যস্ত করার জন্য
অবশ্যই দলিল প্রয়োজন, তার পক্ষে
কোনো শরীয় দলিল নেই।
কারো রোগ-ব্যাধি হলে শরয়ী ঝাড়-ফুঁক করা সুন্নত, যেমন
জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করেছেন, নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের
করেছেন। এটাই বৈধ ও শরীয়ত অনুমোদিত পন্থা।
বৈধ ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় গ্রহণ
করা বৈধ, যদি তার দ্বারা
আরোগ্য লাভ হয় এবং সুন্নত
মোতাবেক ঝাড়-ফুঁক করা হয়;
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
সাহাবীগণ বিনিময় গ্রহণ
করেছেন, কিন্তু আমাদের সমাজের একশ্রেণীর আলেম
তাবিজ দেন ও আরোগ্য লাভের পূর্বে বিনিময় গ্রহণ করেন।
তারাও দলিল হিসেবে বুখারি শরীফের হাদিসটি পেশ করেন,
অথচ সেখানে স্পষ্ট আছে
সাহাবিগণ তাবিজ দেননি,
বরং সূরা ফাতিহা পাঠ
করেছেন এবং আরোগ্য লাভ
করার পর বিনিময় গ্রহণ করেছেন,
আগে নয়। অতএব এ হাদিসকে
তাবিজ দেয়া ও তার বিনিময়
গ্রহণ করার দলিল হিসেবে পেশ
করা অপব্যাখ্যা ব্যতীত কিছু নয়।
========================

[1] অহেনা অর্থ এক প্রকার হাড়,
যার অংশ বিশেষ তাবিজে
ব্যবহার করা হয়।
[2] মুসনাদে আহমদ: (১৯৫৪৯), নাসায়ী: (৯/৩৪৯), ইবনে মাজাহ: (৩৫৩১), ইবনে হিব্বান: (৬২২২),
হাদিসটি সহিহ্।
[3] তামিমার সংজ্ঞা: রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ অথবা বদ-নজর প্রতিরোধ অথবা সম্ভাব্য কোনো অনিষ্ট দূর করার জন্য শরীরে ঝুলানো বস্তুকে তামিমাহ বলা হয়, হোক সেটা কড়ি, অথবা লাকড়ি, অথবা তাগা, অথবা কাগজ কিংবা কোনো বস্তু। ইসলাম পূর্বযুগে বদ-নজর থেকে সুরক্ষা এবং গৃহ-পালিত পশু-পাখী ও দুষ্ট প্রাণীকে বশ করার জন্য, কখনো আত্মরক্ষার জন্য মুশরিকরা তামিমাহ গলায় বা শরীরের কোনো অংশে ঝুলাত। তাদের বিশ্বাস ছিল, তাকদির প্রতিরোধ ও অনাগত অনিষ্ট দূর করার ক্ষমতা রাখে তামিমাহ।
তারা কখনো তামিমাহ দ্বারা গায়রুল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করত, যা ছিল সরাসরি শিরক ও তাওহীদ পরিপন্থী। ইসলাম তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
[4] আহমদ: (১৬৯৫১), হাকেম: (৪/২১২), মুসনাদে আবি ইয়ালা আল-মুসিলি: (১৭৫৯)
[5] সহি মুসনাদে আহমদ: (১৬৯৬৯), সহি হাদিস সমগ্র : (৪৯২), হাকেম।
[6] ইউসুফ: (১০৬) তাফসিরে ইবনে কাসির।
[7] বুখারি: (৩০০৫), মুসলিম: (২১১৮)
[8] সুনানে নাসায়ী সুগরা: (৩৫৬৫), মুসনাদে আহমদ: (১৮৫৫২)
[9] রুকা অর্থ নিষিদ্ধ ঝাড়-ফুঁক,
আউনুল মাবুদ, হাদিস নং: (৩২৭২)
[10] আসমায়ি বলেন:
তিওয়ালাহ: একপ্রকার যাদু, স্বামীর নিকট স্ত্রীকে প্রিয় করার জন্য যার ব্যবহার করা হয়। মোল্লা আলি কারি বলেন:
‘তিওয়ালাহ’ একপ্রকার যাদু, অথবা যাদুর মন্ত্র পাঠ করা তাগা, অথবা কাগজ, তাতে মহব্বত সৃষ্টির মন্ত্র পাঠ করা হয়। আউনুল মাবুদ, হাদিস নং: (৩২৭২)
[11] আবু দাউদ: (৩৮৮৩), আহমদ: (৩৬০৪),
ইবনে হিব্বান: (৬০৯০), ইবনে
মাজাহ: (৩৫৩০), সহি হাদিস সমগ্র: (১৩১)
[12] মুসলিম : (২২০২), ইবনে হিব্বান: (৬০৯৪)
[13] ফতহুল মজিদ।

শেষ দিবসের নিদর্শনগুলি – রাসুলুল্লাহ ﷺ এর মু’জিজা

 ইবনে মাসূদ বলেন, “আমি একদিন নাবী (সাঃ)- কে বললাম”

শেষ সময় চেনার কোনও জ্ঞান আছে কি?
তিনি (সাঃ) বললেন “হ্যা ইবনে মাসূদ!”
এসম্পর্কিত বহু নিদর্শন রয়েছে তাদের মধ্যে একটি হল
১. বাচ্চারা ভীষণ বদমেজাজি হবে
২. বৃষ্টি হবে আম্লিক, অল্মবৃষ্টি
৩. তুমি দেখবে, খারাপ লোকেরা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে!
“ও ইবনে মাসূদ ঐ লক্ষণগুলোর আরও একটি হলো যে
৪. লোকেরা বিশ্বাসঘাতকদের বিশ্বাস করবে এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বিশ্বাসঘাতক মনে করবে।
৫. সত্যবাদীদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হবে এবং মিথ্যাবাদীদের বলা হবে সত্যবাদী।
৬. থালাসমুহ ক্রমাগত যোগাযোগ করতে থাকবে যা স্যাটেলাইট যোগাযোগ বোঝাতে ব্যাবহার করা হয়। এবং মানুষেরা তখন পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করবে ।
৭. ও ইবনে মাসূদ, তুমি আরো দেখবে মুনাফিকরা শাসন করবে এবং
৮. সর্বাপেক্ষা মন্দ লোকেরা বাজার নিয়ন্ত্রন করছে
৯. মসজিদসমুহ অলংকৃত করা হবে, কিন্তু হৃদয়সমূহ হবে কুৎসিত!
১০. বিশ্বাসীদের কুৎসিত ছাগলের চেয়েও বেশি অপদস্থ করা হবে! যেন তাঁরা কিছুই না!
১১. তুমি দেখবে পুরুষ ও স্ত্রী সমকামীতা প্রসার হবে
১২. এবং অল্পবয়স্ক লোকেরা প্রচুর সম্পদশালী হবে
১৩. নারীদের নীতিভ্রষ্ট করতে আন্দোলন করা হবে
১৪. তুমি দেখবে সভ্যতার ধ্বংস এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক সভ্যতা
১৫. তখন বাদ্যযন্ত্র ব্যপক ভাবে ছড়িয়ে পরবে।
১৬. বাদ্যযন্ত্রগুলো তাদের মাথায় চড়ানো থাকবে
তিনি (সাঃ) বলেছিলেন,
১৭. আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অনেক দেখতে পাবে
১৮. এবং লোকেরা ঠাট্টা-তামাশা ও বিদ্রুপ করবে
১৯. তোমরা দেখবে বহু শিশু বিবাহ বন্ধন ছাড়াই জন্ম নিবে
নাবী সাঃ বলেছিলেন,
২০. সেসময় ফিতনাগুলো মাদুরের আকৃতিতে প্রদর্শিত করা হবে এর দুটি সীমারেখা থাকবে (টেলিভিশন সেটএর কথা বলছে)
২১. ফিতনাগুলো তাদের সামনে মাদুর আকৃতিতে দেখানো হবে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন,
২২. জাহান্নামে দুই ধরনের লোক আছে যাদের আমি এখনও দেখিনি।
তুমি গরুর লেজের মত চাবুক হাতে কিছু লোকদের দেখবে তাঁরা এর দ্বারা অন্যদের প্রহার করবে।
সে সময় নারীরা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকবে, তাঁরা কোমর দুলিয়ে হাঁটবে এবং অন্যদেরকে তাদের দিকে আকর্ষণ করবে
তিনি (সাঃ) বলেছিলেন,
২৩. ঐ মেয়েদের চুল হবে “বখতের” লোমশ উটের মত। এই লোকগুলো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
২৪. আমার উম্মাহর কিছু অংশ মদপান করবে এবং মদকে অন্য নামে ডাকবে।
আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইতনির রাযীম।
হে আল্লাহ্‌, আমি বার্তা পৌছে দিয়েছি।
আল মুয়াযযাম আল কিবার আত-তাবারানি হাদিস নং ১০৪১০

লজ্জা মানব জীবনের এক মহৎ গুণ

 লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

▪▪▪▪▪▪▪▪

? ইবনে মাসঊদ উকবা ইবনে আমর আল আনসারী রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
إذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْت”
“লজ্জা না থাকলে তুমি যা খুশি তাই করতে পার।” (সহীহ বুখারী)
অর্থাৎ যখন তুমি লজ্জার পোশাক তোমার শরীর থেকে খুলে ফেলবে তখন যা খুশি কর। কিন্তু মনে রেখ, মহান আল্লাহ তোমার বিচারের জন্য কাঠগড়া প্রস্তুত করে রেখেছেন। সেখানে তোমার সকল অপকর্মের বিচার হবে। সে দিন তুমি লাঞ্ছিত হবে। তোমার কৃতকর্মের যথাযোগ্য শাস্তি তোমাকে পেতে হবে।
? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন:
الْحَيَاءُ خَيْرٌ كُلُّهُ
“লজ্জাশীলতার পুরোটাই কল্যাণময়।” (সহীহ মুসলিম/১৬৬)
? আনাস রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন:
مَا كَانَ الْحَيَاء فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا زَانَهُ ، وَمَا كَانَ الْفَخْرُ فِي شَيْءٍ , إِلَّا شَانَهُ ” . “লজ্জাশীলতা যে কোনো জিনিসকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর নির্লজ্জতা যে কোন জিনিসকে কুৎসিত করে।” (সুনান তিরমিজি)

✴✴✴✴✴✴
♻- লজ্জা মানব জীবনের শ্রেষ্ঠতম অলংকার ও সর্বোৎকৃষ্ট ভূষণ। মুসলিম পুরুষ-নারী সকলের নিকটই এটি কাম্য। সৃষ্টিগতভাবে নারীরা লজ্জাশীল। কিন্তু ঈমানদার নারীর লজ্জাশীলতা তাকে আরও সৌন্দর্য মণ্ডিত করে তোলে। অনুরূপভাবে পুরুষকে করে তোলে আরও মহৎ ও উন্নত।
♻- এটি পবিত্র ও নির্মল ও মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ বহন করে।
♻ – এটি ঈমানের একটি শাখা। যার লজ্জা নাই তার ঈমান নাই। যার লজ্জা কম তার ঈমান কম।
♻- লজ্জা মানুষকে তাকওয়া বান হতে শেখায়। কারণ, লজ্জাবোধের কারণে একজন মানুষ সব সময় ভাল কাজ করার চেষ্টা করে এবং সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। একদিন লোক সমাজে যে কাজকে খারাপ চোখে দেখা হয় সেটা থেকে দূরে থাকে অপর দিকে মহান আল্লাহর নিকট যে কাজ ঘৃণ্য সেটা থেকেও সে দূরে অবস্থান করে।
♻- লজ্জাশীল মানুষ অন্যকে সম্মান করে আবার অন্যের নিকটও সম্মান কুড়ায়।

? পক্ষান্তরে————-
মানুষ যখন এই গুণটি হারাবে তখন তার জীবনের মহামূল্যবান গুণটি হারাবে।
⛔- যখন সে নির্লজ্জ হয়ে যাবে তার মাঝে সমাবেশ ঘটবে সকল প্রকার ঘৃণ্য স্বভাবের।
⛔-বেহায়া মানুষ পদে পদে লাঞ্ছিত হবে। তার কাছে কোন খারাপকে খারাপ মনে হবে না।
⛔-যে কোন কাজ সে নির্দ্বিধায় করতে শুরু করে। কাজটি যত খারাপই হোক না কেন তার কাছে সেটা ব্যাপার মনে হয় না।
⛔- তার ব্যক্তিত্ব বোধ, আত্মমর্যাদা, আত্মিক পরিচ্ছন্নতা, চারিত্রিক নির্মলতা সব বিদায়ে নেয়। এভাবেই একদিকে সে যেমন সমাজের চোখে হয়ে উঠে নোংরা স্বভাবের মানুষ অন্যদিকে মহান আল্লাহর দৃষ্টিতে হয় ঘৃণ্য।,
? আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরকে লজ্জাশীল হওয়ার তাওফীক দান করেন। নির্লজ্জতা থেকে হেফাজত করেন এবং সকল মহৎ গুণাবলী দ্বারা আমাদের চরিত্রকে সুষমা মণ্ডিত করেন। আমীন।
▪▪▪▪▪▪▪
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

Translate