Thursday, December 9, 2021

লেখার সময় পূরো দরূদ লেখার পরিবর্তে সা./স. ইত্যাদি সংক্ষিপ্ত শব্দ দ্বারা দরূদ লেখার বিধান।

 লেখার সময় পূরো দরূদ লেখার পরিবর্তে সা./স. ইত্যাদি সংক্ষিপ্ত শব্দ দ্বারা দরূদ লেখার বিধান।

***************************************************************************************************
আমাদের উচিত হল, আমরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরূদ পড়ব তখন পুরো দরূদ পড়ব এবং যখন তার নামের শেষে দরূদ লিখব তখনও দরূদ শরিফ পুরোপুরি খিলব। কোনো প্রকার সংকেত বা কোনো অসমাপ্ত শব্দ ব্যবহার করব না।
শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ. বলেন, …আমরা জানি যেমনিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ সালাতের তাশাহুদের পর, খুতবার সময়, দো‘আ ইস্তেগফারের সময়, আজানের পর, মসজিদে প্রবেশে ও বাহির হওয়ার সময় অনুরূপভাবে কোনো কিতাব, প্রবন্ধ, রিসালা ও লেখনি লেখার সময় ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম লিখার সময় পুরো দরূদ লেখা সূন্নাত। আর দরূদটি পরিপূর্ণ লিখতে হবে, যাতে আল্লাহর আদেশের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয় এবং একজন পাঠক যখন তা পাঠ করে সে বুঝতে পারে যে এখানে দরূদ পড়া হয়েছে। সংক্ষিপ্তাকারে যেমন- (সা.)(ص) أو (صلعم) ইত্যাদি লেখা কোনোক্রমেই উচিত নয়। অনেককে এভাবে লেখতে দেখা যায়, এটি আল্লাহ তা‘আলার বাণী-{صَلُّوا عَلَيْهِ وسَلِّمُوا تَسْلِيماً} (الأحزاب:56). এর পরিপন্থী। এছাড়াও এ দ্বারা দরূদ পড়ার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না এবং দরূদ পড়ার যে সব লাভের কথা কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত তা হতে বঞ্চিত হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় একজন পাঠক সংকেত দ্বারা কি উদ্দেশ্য তা বুঝতে পারে না এবং সজাগ থাকে না। এ কারণেই আহলে ইলম সংকেত দিয়ে দরূদ শরীফ লেখাকে অপছন্দ করেন। দেখুন মাজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ে ইবন বায, পৃ: ৩৯৭-৩৯৯/২
——————————————–
পোস্টঃ- মোহাম্মাদ আবু হানিফ (দুবাই)

কে কার তাক্বলীদ করে ?

 কে কার তাক্বলীদ করে ?                                                                                                                                             **************************

তাক্বলীদ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। তবে ইদানীং কয়েকটা লেখা পড়লাম যেগুলোর মুখ্য বিষয় ছিল কে কার তাক্বলীদ করে। আলোচনায় ফুটে উঠেছে হানাফী ভাইয়েরা ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এবং তার দুই শাগরেদের তাক্বলীদ করেন। অন্যদিকে আহলেহাদীছ ভাইয়েরা বর্তমান যুগের কিছু আলেমের তাক্বলীদ করেন যেমন আলবানী, ইবনে বায (রহঃ) । আমি এই প্রসংগে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই।

দারুল উলুম দেওবান্দে পড়ার সুবাদে আমি দেখেছি সম্মানিত উস্তাদগণ ক্লাসে কয়েকটি নাম খুব উচ্চারণ করতেন, শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান, মুহাদ্দিছ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী, মাওলানা ক্বাসেম নানুতুবী, মুফতী রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী (রহঃ আজমাঈন)। যে মাসালাই হোক না কেন উস্তাদগণ সেই মাসালায় এই মহান ব্যক্তিবর্গের নাম অবশ্যই উল্লেখ করবেন। বর্তমানে কওমী মাদরাসার ছাত্ররা হাদীছের যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা গ্রন্থ পড়েন তাও এনাদের লিখিত। সাথে আরো যোগ হতে পারে ইউসুফ বিন্নৌরী, শাব্বির আহমাদ উসমানী (রহঃ) সহ বর্তমান যুগের কিছু ওলামায়ে কেরাম। দেওবান্দে পড়া অবস্থায় আমার এক বাংলাদশেী হানাফী বন্ধু ইসহাক্বকে বলেছিলাম আপনারা ইমাম আবু হানীফা রহঃ ও তার দুই শাগরেদ দিয়ে শুরু করেন তারপর লম্বা একটা যুগ লাফ দিয়ে পার হয়ে উপরে উল্লেখিত এই যুগের আলেমগণের নাম নেয়া শুরু করেন। মাঝখানের এই এক হাযার বছরে কত আলেম গেছে তাদের নাম কেন গ্রহণ করেন না? যতই অন্য মাযহাবের হোক যেমন ইমাম নাবাবী, আসক্বালানী, বায়হাক্বী, ইবনে তাইমিয়া…….. । উল্লেখ্য যে দারুল উলুম দেওবান্দে আমার দুই জন উস্তাদ ছিলেন যারা অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম ছিলেন। তারা উপরে উল্লেখিত বর্তমান যুগের হানাফী মাযহাবের আলেমগণের নাম কালে ভদ্রে নিতেন। বরং ইবনে তাইমিয়া, আসক্বালানী, নাবাবী এনাদের নাম নিতেন। শুধু তাই নয়, হাবিবুর রহমান আজমী হাফিঃ তো মাঝে মাঝে ইবন হাযম ও ইমাম শাওকানী রহঃ- এর নামও নিতেন। যা ছিল অন্য শিক্ষকগণের থেকে ব্যতিক্রম।

এবার আসি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথায়, এখানে খুব কম মাসালায় ইবনে উসাইমীন ও ইবনে বায (রহঃ)-এর নাম নেয়া হয়। যখন প্রয়োজন হয় শুধু তখন তাদের নাম নেয়া হয়। বাকী সবার আগে ছাহাবায়ে কেরাম তারপর চার ইমাম তারপর ইবনে তাইমিয়া, ও তার শাগরেদ ইবনুল কাইয়্যুম, আসক্বালানী, নাবাবী (রহঃ আজমাঈন) সহ যুগ শ্রেষ্ঠ ইমাম গণের নাম উচ্চারণ করা হয়। তবে হ্যাঁ হাদীছের তাহক্বীক্বের ক্ষেত্রে আলবানী রহঃ-এর নাম এবং মাসালার ক্ষেত্রে ইবনু তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যুম (রহঃ)-এর নাম খুব কম সময়ই বাদ যায়।

এখানে আরেকটা পার্থক্য উল্লেখ করি দেওবান্দে সকল উস্তাদগণ সব সময় হানাফী মাযহাবের ফৎওয়াকে প্রাধান্য দিতেন। পরীক্ষায় প্রশ্নও এই ভাবে আসত যে, ‘হাদীছটি যদি হানাফী মাযহাবের বিরোধী হয় তাহলে এর জবাব দাও’। সকলের মূল উদ্দেশ্য সব সময় থাকত হানাফী মাযহাবকে ডিফেন্ড করা। অন্যদিকে মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট কোন মাযহাবকে ডিফেন্ড করার প্রবণতা নাই বললেই চলে। এমনকি ছাত্ররাও অালোচ্য মাসালায় স্বাধীন মন্তব্য পেশ করার অধিকার রাখে। এবং শিক্ষকের মন্তব্যের সাথে ওপেনলি মুনাকাশা বা তর্ক বা বিতর্ক করার অধিকার রাখে। যা দারুল উলুম দেওবান্দে স্বপ্নের মত।

আমি যা লিখেছি মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ইনসাফের সাথে যা দেখেছি এবং দেখছি তাই লিখলাম। বিবেচনা পাঠকের হাতে।

লেখকঃ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক।
ছাত্রঃ মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা, সৌদিআরব।।

মুখ ঢাকার ব্যপারে এই কন্সেপ্ট টা সবার ক্লিয়ার থাকা উচিত

 মুখ ঢাকার ব্যপারে এই কন্সেপ্ট টা সবার ক্লিয়ার থাকা উচিত |

.
.
যারা বলেন, পরপুরুষের সামনে মেয়েরা তাদের চেহারা খোলা রাখতে পারবে! তাদের জন্য:
.
.
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সুরাহ আহযাব : ৫৯ )
.
.
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন “আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদেরকে চাদর দ্বারা মস্তক ও চেহারা আবৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন ” । (তফসীরে ইবনে কাসীর ৩/২৭৪)
.
.
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে।’
-সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর হজ্বের বিবরণে বলেছেন, ‘ইহরামের কারণে তারা নেকাব খোলা রাখতেন, কিন্তু যখন পুরুষেরা নিকট দিয়ে অতিক্রম করত তখন তারা মুখমন্ডল আবৃত করে ফেলতেন। তারা চলে যাওয়ার পর নেকাব তুলে ফেলতেন।’ -মুসনাদে আহমদ ৬/৩০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৮৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৭৫৭।
.
.
হযরত আয়েশা রা. ইফ্কের দীর্ঘ হাদীসে বলেছেন-‘আমি আমার স্থানে বসে ছিলাম। একসময় আমি ঘুমিয়ে পড়ি। সফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আসসুলামী ছিল বাহিনীর পিছনে। সে যখন এখানে পৌঁছল তখন একজন ঘুমন্ত মানুষের আকৃতি দেখতে পেল। এরপর সে আমার নিকট এলে আমাকে চিনে ফেলল। কারণ পর্দা বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগে সে আমাকে দেখেছিল। তখন সে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না
ইলাইহি রাজিউন বলে ওঠে, যার দরুণ আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি এবং ওড়না দিয়ে নিজেকে আবৃত করে ফেলি। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, ‘আমি ওড়না
দিয়ে আমার চেহারা ঢেকে ফেলি।’
– সহীহ বুখারী ৫/৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৭৭০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৩১৭৯
.
.
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন-‘সঠিকতর সিদ্ধান্ত এই যে, নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে দুই হাত, দুই পা ও মুখমন্ডল খোলা রাখার অবকাশ নেই।’
-মাজমুউল ফাতাওয়া ২২/১১৪
.
.
ইবনুল কাইয়িম রাহ. বলেন, ‘নারী নামায আদায়ের সময় দুই হাত ও মুখমন্ডল খোলা রাখতে পারেন, কিন্তু এভাবে বাজারে ও লোকের সমাগমস্থলে যাওয়ার অবকাশ নেই।’
-ই’লামুল মুয়াক্কিয়ীন ২/৪৭
.
.
শায়খ ইবনে বায রাহ., শায়খ ইবনে উছাইমীন ও শায়খ ইবনে জিবরীনও একই ফতোয়া দিয়েছেন। দেখুন : রিসালাতুন ফিলহিজাবি ওয়াসসুফূর, পৃ.১৯; ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম পৃ. ১১৬৯
.
.
.
এর পরেও কি বলতে হবে মেয়েরা কেন মুখ ঢেকে রাখে?
এর পরেও কি বলব মুখ খোলা রাখলেও হবে? আল্লাহ ই সর্বাধিক জ্ঞানী | যারা বুঝে তাদের জন্য ১টা হাদীস ই যথেষ্ট, আর যারা বুঝতে চায়না; তাদের হাজারটা হাদীস দেখালেও লাভ নেই |
আল্লাহু মুস্তায়ান |
মানুষের যে কোন কাজ আল্লাহ কে খুশী করার জন্য হওয়া বাঞ্ছনীয় |কে কি ভাবল, কে কি বলল সেটা দেখার বিষয় না; কারণ প্রতিদান তো রবের কাছে |

ভুলকারীর সঙ্গে শান্তশিষ্ট আচরণ

 ভুলকারীর সঙ্গে শান্তশিষ্ট আচরণ                                                                                                                 **********************************

ভুল করে কেউ কিছু করে ফেললে তার উপর কঠোর ও মারমুখী না হয়ে বরং ধীরস্থিরভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে যখন তার উপর খবরদারী ও কড়াকড়ি করায় ক্ষয়ক্ষতি আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিষয়টা আমরা মসজিদের মধ্যে পেশাব করে দেওয়া এক বেদুঈনের ঘটনায় নবী করীম (ছাঃ) কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ দ্বারা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারি।

আনাস বিন মালিক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,

بَيْنَمَا نَحْنُ فِى الْمَسْجِدِ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَ أَعْرَابِىٌّ فَقَامَ يَبُولُ فِى الْمَسْجِدِ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَهْ مَهْ. قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تُزْرِمُوهُ دَعُوهُ. فَتَرَكُوهُ حَتَّى بَالَ. ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لاَ تَصْلُحُ لِشَىْءٍ مِنْ هَذَا الْبَوْلِ وَلاَ الْقَذَرِ إِنَّمَا هِىَ لِذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَالصَّلاَةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ. أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَ فَأَمَرَ رَجُلاً مِنَ الْقَوْمِ فَجَاءَ بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَشَنَّهُ عَلَيْهِ-

‘আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর সাথে মসজিদে বসে ছিলাম। এমন সময় একজন বদ্দু এসে মসজিদে পেশাব করতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণ বলতে লাগলেন, আরে থাম! থাম! করছ কি? কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদের বললেন, তোমরা তাকে বাধা দিয়ো না বরং পেশাব করতে দাও। ফলে তারা তাকে ছেড়ে দিল। তার পেশাব করা শেষ হ’লে কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ‘এসব মসজিদ পেশাব (পায়খানা) ও ময়লা ফেলার স্থান নয়; এগুলো কেবলই আল্লাহর যিকির, ছালাত আদায় এবং কুরআন তেলাওয়াতের জন্য অথবা এমন কিছু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছিলেন। তারপর তিনি উপস্থিত একজনকে এক বালতি পানি আনতে বলেন এবং তা ঐ পেশাবের স্থানে ঢেলে দেন’।[মুসলিম হা/২৮৫; মিশকাত হা/৪৯২।] এখানে ভুলের প্রতিবিধানে নবী করীম (ছাঃ) অনুসৃত নীতি ছিল নম্রতা অবলম্বন ও কঠোরতা পরিহার।

ছহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত হয়েছে,

أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَالَ فِى الْمَسْجِدِ، فَثَارَ إِلَيْهِ النَّاسُ لِيَقَعُوْا بِهِ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَعُوهُ، وَأَهْرِيقُوا عَلَى بَوْلِهِ ذَنُوبًا مِنْ مَاءٍ أَوْ سَجْلاً مِنْ مَاءٍ فَإِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ، وَلَمْ تُبْعَثُوْا مُعَسِّرِيْنَ-

‘জনৈক বদ্দু মসজিদে পেশাব করে দেয়, তখন লোকেরা তার উপর হামলা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদের বললেন, ওকে তোমরা ছেড়ে দাও এবং ওর পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমরা প্রেরিত হয়েছ নম্র আচরণ করতে, কঠোর আচরণের জন্য তোমাদের প্রেরণ করা হয়নি’।[বুখারী হা/২২০, ৬১২৮; ফাৎহুল বারী হা/৬১২৮।]

ছাহাবীগণ তাদের মসজিদ পবিত্র রাখার ইচ্ছায় অন্যায় কাজের বাধা দানে খুবই তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। এতদসংক্রান্ত হাদীছের ভাষার শব্দগুলো তার সাক্ষী। যেমন فَصَاحَ بِهِ النَّاسُ ‘লোকেরা তার প্রতি চিৎকার করে উঠল’ فَثَارَ إِلَيْهِ النَّاسُ ‘লোকেরা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল’ فَزَجَرَهُ النَّاسُ ‘লোকেরা তাকে গালমন্দ করতে লাগল’ فَأَسْرَعَ إِلَيْهِ النَّاسُ ‘লোকেরা তার দিকে ধেয়ে গেল’। এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণ বললেন, مَهْ مَهْ ‘থাম! থাম!![ জামেউল উছূল ৭/৮৩-৮৭।]

কিন্তু নবী করীম (ছাঃ)-এর নযরে ছিল কাজের শেষ পরিণতি। এখানে দু’টো সম্ভাবনার মধ্যে বিষয়টা ঘুরপাক খাচ্ছিল। (ক) হয় লোকটাকে বাধা দেওয়া হবে (খ) নয় ছাড় দেওয়া হবে। যদি বাধা দেওয়া হয় তাহ’লে হয় তাৎক্ষণিক তার পেশাব বন্ধ হয়ে যাবে। তাতে লোকটি কষ্ট পাবে। নয় তার পেশাব বন্ধ হবে না, কিন্তু উপস্থিত জনতার ভয়ে সে ছুটোছুটি করবে; ফলে মসজিদের নানাস্থানে নাপাকী ছড়িয়ে পড়বে। অথবা লোকটার শরীর ও কাপড় পেশাবে একাকার হয়ে যাবে। ফলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে পেলেন লোকটাকে পেশাব করতে দেওয়ার মধ্যে তুলনামূলক কম ক্ষতি এবং কম অনিষ্ট। লোকটা যে খারাপ কাজ শুরু করেছে এবং মসজিদ অপবিত্র করে ফেলছে পবিত্র করার মাধ্যমে তার প্রতিবিধান করা সম্ভব। এজন্যই তিনি তাঁর ছাহাবীদের বলছিলেন, তাকে তোমরা ছেড়ে দাও। তাকে বাধা দিও না। তিনি আসলে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত যুক্তির ভিত্তিতে তাদেরকে থামতে হুকুম দিয়েছিলেন। তা হ’ল দু’টি অনিষ্টের গুরুটাকে পরিহার করে লঘুটা গ্রহণ এবং দু’টি সুবিধার বড়টাকে গ্রহণ করে ছোটটা পরিহার।

এক বর্ণনায় এসেছে, নবী করীম (ছাঃ) লোকটাকে এমন কাজ করার পেছনে কি কারণ থাকতে পারে তা জিজ্ঞেস করেছিলেন। ত্বাবারাণী আল-কাবীর গ্রন্থে ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,

أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْرَابِيٌّ فَبَايَعَهُ فِي الْمَسْجِدِ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَامَ فَفَحَّجَ، ثُمَّ بَالَ فَهَمَّ النَّاسُ بِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَقْطَعُوا عَلَى الرَّجُلِ بَوْلَهُ ثُمَّ قَالَ : أَلَسْتَ بِمُسْلِمٍ؟ قَالَ : بَلَى، قَالَ : مَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ بُلْتَ فِي مَسْجِدِنَا؟ قَالَ : وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا ظَنَنْتُهُ إِلاَّ صَعِيدًا مِنَ الصُّعُدَاتِ، فَبُلْتُ فِيهِ، فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَنُوبٍ منْ مَاءٍ فَصُبَّ عَلَى بَوْلِهِ-

‘জনৈক বদ্দু নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এল। তিনি মসজিদের মধ্যে তাকে বায়‘আত করলেন। তারপর লোকটা একটু দূরে সরে গেল এবং দু’ ঠ্যাং ছড়িয়ে গোড়ালির উপর ভর দিয়ে বসে পেশাব করে দিল। লোকেরা তার উপর তেড়ে এল। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, তোমরা লোকটার পেশাব করায় বাধা দিয়ো না। পেশাব ফেরা হয়ে গেলে লোকটাকে তিনি বললেন, তুমি কি মুসলিম নও? সে বলল, কেন নয়? (অবশ্যই)। তিনি বললেন, তাহ’লে কেন আমাদের মসজিদে পেশাব করে দিলে? সে বলল, যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ! আমি একে আর পাঁচটা ভূমির মত সাধারণ ভূমি মনে করে পেশাব করেছি। তখন নবী করীম (ছাঃ) এক বালতি পানি আনতে হুকুম দিলেন এবং তার পেশাবের উপর ঢেলে দিলেন’।[ত্বাবারানী আল-কাবীর হা/১১৫৫২, ১১/২২০। হায়ছামী মাজমাউয যাওয়য়েদ গ্রন্থে বলেছেন, এটির বর্ণনাকারীগণ ছহীহের বর্ণনাকারীদের অন্তর্গত ২/১০; (মুসনাদে আবী ইয়া‘লা হা/২৫৫৭, সনদ জাইয়িদ।]

সংশোধনের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিজ্ঞোচিত পদক্ষেপ ঐ বদ্দুর মনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। ইবনু মাজাহর একটি বর্ণনা থেকে তা বুঝা যায়।

আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,

دَخَلَ أَعْرَابِىٌّ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَلِمُحَمَّدٍ وَلاَ تَغْفِرْ لأَحَدٍ مَعَنَا. فَضَحِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَقَدِ احْتَظَرْتَ وَاسِعًا. ثُمَّ وَلَّى حَتَّى إِذَا كَانَ فِى نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَشَجَ يَبُولُ. فَقَالَ الأَعْرَابِىُّ بَعْدَ أَنْ فَقِهَ فَقَامَ إِلَىَّ بِأَبِى وَأُمِّى. فَلَمْ يُؤَنِّبْ وَلَمْ يَسُبَّ. فَقَالَ : إِنَّ هَذَا الْمَسْجِدَ لاَ يُبَالُ فِيهِ وَإِنَّمَا بُنِىَ لِذِكْرِ اللَّهِ وَلِلصَّلاَةِ. ثُمَّ أَمَرَ بِسَجْلٍ مِنَ مَاءٍ فَأُفْرِغَ عَلَى بَوْلِهِ-

‘এক বদ্দু মসজিদে এসে ঢুকল। নবী করীম (ছাঃ) তখন মসজিদে বসা ছিলেন। সে বলল, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ও মুহাম্মাদকে ক্ষমা কর। আমাদের সাথে আর কাউকে ক্ষমা কর না। তার কথায় নবী করীম (ছাঃ) হেসে ফেললেন এবং বললেন, তুমি একটি ব্যাপক বিষয়কে সংকীর্ণ করে দিলে। কিছুক্ষণ পর লোকটা ফিরে চলল, যখন সে মসজিদের এক কোণায় গিয়ে পৌঁছল তখন দু’পা ফাঁক করে পেশাব করতে বসল। বিষয়টি যে ভুল হয়েছে তা জানার পর বদ্দু তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বলল, আমার পিতা-মাতা রাসূলের জন্য উৎসর্গ হোক, তিনি এজন্য না আমাকে তিরস্কার করলেন, না গালাগালি করলেন। শুধু এতটুকু বললেন যে, মসজিদ তো কেবল বানানো হয়েছে আল্লাহর যিকির এবং ছালাত আদায়ের জন্য। এখানে পেশাব করার কোন সুযোগ নেই। তারপর তিনি এক বালতি পানি আনতে হুকুম দিলেন এবং তার পেশাবের উপর ঢেলে দিলেন’।[ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৪২৮।]

বদ্দুর এই হাদীছটির ব্যাখ্যায় ইবনু হাজার বেশ কয়টি উপকারী দিক তুলে ধরেছেন। যথা-

(ক) অজ্ঞ লোকের সঙ্গে নম্র-ভদ্র আচরণ করতে হবে, কোন রাগ না করে তাকে প্রয়োজনীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। কেননা সে তো গোঁয়ার্তুমি করে এসব করেনি। বিশেষ করে যদি সে এমন শ্রেণীর হয় যার মনস্ত্তষ্টি বিধান করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়।

(খ) এ হাদীছে নবী করীম (ছাঃ)-এর স্নেহশীলতা এবং সদাচারের পরিচয় মেলে।

(গ) নাপাক জিনিস থেকে পবিত্র থাকার মানসিকতা ছাহাবীদের অন্তরে গেঁথে গিয়েছিল। ফলে নবী করীম (ছাঃ)-এর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি না নিয়েই তারা নিষেধ করতে দ্রুত এগিয়ে এসেছিলেন। একই সাথে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধও তাদের মনে ভালমত জায়গা করে নিয়েছিল।

(ঘ) পেশাবের বাধা দূর হওয়ার পর ছাহাবীগণ পেশাবের মত অপবিত্রতা দূর করতে দ্রুত এগিয়ে এসেছিলেন। তারা আদেশ পাওয়া মাত্রই পানি ঢেলে তা পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন।[ফাৎহুল বারী ১/২২৪-২২৫।]

ঈমান বৃদ্ধি হওয়ার কিছু উপায়

 ঈমান বৃদ্ধি হওয়ার কিছু উপায়:

=====================
*** ঈমান বৃদ্ধির ব্যাপারে সালাফদের আগ্রহ:
# ওমর (রা:) তাঁর সাথীদের লক্ষ্য করে বলতেন: তোমরা আস,কিছু ঈমান বৃদ্ধি করি।
# ইবনু মাসউদ (রা:) বলতেন: আমাদের সাথে বস,কিছু ঈমান বৃদ্ধি করি। তিনি দুয়া করতেন: হে আল্লাহ্‌ আমার ঈমান, এক্বীন ও দ্বীনের জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।
# হযরত মুআয (রা:) বলতেন: আমাদের সাথে বস,আমরা কিছু সময় ঈমানের চর্চা করি।
–
ঈমান বৃদ্ধির উপায়:
(১) ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন: إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই তো তাঁকে ভয় করে থাকে।” (সূরা ফাতির-২৮)

(২) কুরআন পাঠ করা,তা নিয়ে চিন্তা করা এবং বুঝে পাঠ করা। আল্লাহ্‌ বলেন: إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ
“নিশ্চয় এই কুরআন সর্বাধিক সরল ও সঠিক পথ প্রদর্শন করে।” (সূরা বানী ইসরাঈল-৯)

(৩) আল্লাহ্‌ তায়ালার সুন্দর সুন্দর নাম ও তাঁর সর্বোচ্চ গুণরাজি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং সে জ্ঞানানুসারে তাঁর ইবাদত করা।

(৪) সীরাতুন নবী তথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবন-চরিত অধ্যয়ন করা এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

(৫) সালাফে সালেহীনের জীবনী পাঠ করা এবং তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করা।

(৬) ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করা।

(৭) আল্লাহ্‌ তায়ালার নিদর্শন তথা সৃষ্টি জগত নিয়ে গবেষণা করা।

(৮) অধিক হারে ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকা, সৎ আমল সমূহ বেশী বেশী সম্পাদনের চেষ্টা করা। যেমন- সালাত, যাকাত, সদকা, সিয়াম, হজ্জ-উমরাহ, আল্লাহ্‌র জিকির, ইস্তিগফার, আল্লাহর কাছে বেশী বেশী দুআ, নিকটাত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক ইত্যাদি।

(৯) আত্মীক আমলের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। আর তা হল- সর্বদা আল্লাহকে ভয় করা, তাঁকে ভালবাসা, তাঁর কাছেই আশা-আকাঙ্ক্ষা পেশ করা, তাঁর প্রতি ভরসা রাখা, তাঁর প্রতি বিনীত হয়ে তাঁকে ডাকা ইত্যাদি।

(১০) আল্লাহর বান্দাদের প্রতি সদয় হওয়া।
(১১) হেকমত এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর রাস্তায় আহবান করা।

(১২) সাধ্য এবং সামর্থ্যানুযায়ী সৎ কাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদান করা।

(১৩) ভাল ও সৎ লোকদের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করা।
(১৪) মিথ্যা ও অশ্লীল কথাবার্তার বৈঠক থেকে উঠে যাওয়া।

(১৫) বেশী খাদ্য, বেশী কথা, বেশী নিদ্রা এবং মানুষের সাথে বেশী মেলামেশা থেকে বিরত থাকা।
(১৬) সর্বদা দৃষ্টি অবনত রাখা।
(১৭) মানুষের হাতে যা আছে তা থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা। অর্থাৎ মানুষের সম্পদের প্রতি লোভ না করা।

(১৮) সত্যবাদী হওয়া। কেননা সত্যবাদিতা সৎপথ প্রদর্শন করে।

(১৯) দ্বীনী বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের দিকে দৃষ্টিপাত করা। আর দুনিয়াবি বিষয়ে নিচু পর্যায়ের লোকদের প্রতি লক্ষ্য করা।
~শায়খ আব্দুল্লাহিল কাফী

Translate