কটি জাল হাদিস মেনে চলা মানে মিথ্যা প্রচার করা বা মিথ্যা অনুসরণ করে নিজেকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে ফেলা। সুতরাং যে কোন হাদিস জানার আগে তার সূত্র এবং এটি সহিহ বা বিশুদ্ধ কিনা তা জেনে নেয়া খুব জরুরী। এর জন্য খুব কষ্ট করার দরকার নেই। কম্পিউটার থাকলে এক সার্চেই এর আদ্যোপান্ত বেরিয়ে আসবে। আর তা না থাকলে একজন ভালো আলিমের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। আসুন দেখে নেয়া যাক কিছু প্রচলিত জাল হাদিস এবং মিলিয়ে দেখে নিন আপনার জানা হাদিসগুলো এর ভেতর পড়ে কিনা।
Monday, November 29, 2021
জেনে নিন কিছু বহুল প্রচলিত জাল হাদিস
সুন্নাত পরিপন্থী আমলকে সর্বদা অস্বীকৃতি জানানো অপরিহার্য
মুমিন ব্যক্তি কেবলমাত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের যথাযথ অনুসরণ করবে এবং কুরআন ও সহীহ হাদীস পরিপন্থী আমলকে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ‘মুমিনদের উক্তি তো এই যে, যখন তাদের মধ্যে ফায়ছালা করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম। আর তারাই সফলকাম। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর অবাধ্যতা হ’তে সাবধান থাকে তারাই সফলকাম’।
***সূরা আন-নূরঃ আয়াতঃ ৫১-৫২।
আল্লাহ অন্যত্র বলেছেনঃ
‘আমি তোমাকে দ্বীনের এক বিশেষ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং তুমি তার অনুসরণ কর এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর না’।
***সূরা জাসিয়াঃ আয়াত-১৮।
সাহাবায়ে কেরাম অহি-র বিধান মানার ব্যাপারে যেমন কঠোর ছিলেন – অহি-র বিধান বহির্ভূত আমলের বিরুদ্ধে তেমনি কঠোর ছিলেন। যেমনঃ মু‘আবিয়া(রাঃ) যখন হজ্জ ও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মদীনায় আসলেন। তখন তাঁর সাথে কিছু গম এসেছিল। তিনি দেখলেন যে, সিরিয়া থেকে আসা অর্ধ ছা‘ গমের মূল্য মদীনার এক ছা‘ খেজুরের মূল্যের সমান হয়। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর ইজতিহাদী রায় প্রকাশ করলেন যে, কেউ গম দ্বারা ফেৎরা আদায় করলে অর্ধ ছা‘ দিতে পারে। সাথে সাথে বিশিষ্ট সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী(রাঃ) তার তীব্র প্রতিবাদ করে বলেছিলেনঃ
‘আমি যতদিন দুনিয়ায় বেঁচে থাকব ততদিন তা (অর্ধ ছা‘ গমের ফিৎরা) কখনোই আদায় করব না। বরং (রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-এর যামানায়) আমি যা দিতাম তাই-ই দিয়ে যাব’।
***বুখারীঃ ১৫০৮; মুসলিমঃ ৯৮৫।
দ্রুত ইফতার করা, ছিয়ামের আদব
ছিয়ামের আদব হচ্ছে, দ্রুত ইফতার করা। সূর্য অস্ত যাওয়া নিশ্চিত হলে বা অস্ত যাওয়ার অনুমান প্রবল হলেই সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করা। কেননা রাসুল ﷺ বলেন,
لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ
-মানুষ কল্যাণের মাঝে থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে।
[বুখারী, অধ্যায়: ছিয়াম, অনুচ্ছেদ: দ্রুত ইফতার করা হা/১৮২১;মুসলিম অধ্যায়: ছিয়াম, অনুচ্ছেদ: সাহুরের ফযীলত, হা/২৬০৮, হাদীসের শব্দাবলী ইভয়ের; তিরমিযী হা/৬৯৯; ইবনু মাজাহ হা/১৬৯৮; দরিমী হা/১৭৫২; আহমাদ হা/২২৮০৪; ইবনু খুযাইমাহ ইরওয়াউল গালীল হা/৯১৭]
আবু হুরায়রাহ (রা:) হতে বর্ণীত অপর হাদীসে রাসূল ﷺ বলেন,
-দ্বীন (ইসলাম) ততদিন পর্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে থাকবে যতদিন লোকেরা ইফতার জলদি করবে, নিশ্চয়ই ইয়াহুদী এবং নাসারা (ইফতার) বিলম্বে করে।
[ আবু দাউদ হা/২৩৫৩ -হাদীসের শব্দাবলী তার; ইবনু খুযাইমাহ হা/২০৬০;ইবনু হিব্বান হা/৩৫০৩; ইবনু মাজাহ হা/১৬৯৮;ইবনু বায়হাক্বী শু’আবুল ঈমান হা/৩৯১৬; আহমাদ হা/৯৮১০;সহীহ আত-তারগীব হা/১০৭৫]
.
অন্য বর্ণনায় রয়েছে:
-লোকেরা ততদিন কল্যাণে খাকবে যতদিন তারা ইফতার জলদি করবে।
[ইবুন মাজাহ হা/১৬৯৭; ইরওয়াউল গালীল হা/৯১৭]
সবাইকে অনুরোধ সহীহ ইফতারের ক্যালেন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করুন। ‘Sunset Dhaka’, ‘Sunset Chittagong’,,‘Sunset Sylhet’ ইত্যাদি মানে আপনি যে জেলায় অবস্থান করছেন সে জেলার নাম লিখে google.com এ Search দিন। সহীহ ইফতারের সময় আপনি নিজেই দেখতে পাবেন। আপনার বাসার ইফতারের ক্যালেন্ডারের সাথে Real-Time সূর্য্যাস্তের মিল খুঁজে নিন। মনে রাখবেন সূর্য্যাস্তের সাথে সাথেই ইফতার করা সুন্নাত। অবহেলায় এই সুন্নাতের অবহেলা কেন করবেন, যেটা ইহুদী নাসারাদের কাজ? আল্লাহ সবাইকে সঠিক ইসলামী জ্ঞান দান করুন এবং সঠিক দ্বীনের উপর অবিচল থাকার তৌফীক দান করুন।। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন!!
ইসলামে স্ত্রীর সাথে সদাচরণের গুরুত্ব
নিচের হাদিসগুলো একটু ভালো করে লক্ষ করুন:
হাদিস-১
আবুহুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঈমানওয়ালাদের মধ্যে পরিপূর্ণ মুমিন সেই ব্যক্তি, যার আচার-আচরণ উত্তম। আর তোমাদের মাঝে তারাই উত্তম যারা আচার-আচরণে তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম। [তিরমিযি, হাদিস নং ১০৭৯]
হাদিস-২
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মুমিন মু’মিনা(স্ত্রী)র প্রতি বিদ্বেষ রাখবে না। যদি তার একটি অভ্যাস অপছন্দনীয় হয় তবে আরেকটি অভ্যাস তো পছন্দনীয় হবে। [মুসলিম হাদিস নং- ১৪৬৯, ২৬৭২]
হাদিস-৩
আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঈমানওয়ালাদের মধ্যে পরিপূর্ণ মুমিন সেই ব্যক্তি যার আচার-আচরণ উত্তম এবং নিজ পরিবারের জন্য অনুগ্রহশীল। [তিরমিযি, হাদিস নং- ২৫৫৫]
স্বামীর ভালবাসা অর্জনের উপায়
নারীসুলভ আচরণ করুন (যেমনঃ কোমল হওয়া), স্বামীরা তাদের স্ত্রীর জায়গায় কোন পুরুষ চায় না!