Friday, March 27, 2026

রমজানের শেষ দশকে স্ত্রী সহবাস করার বিধান

 রমজানের শেষ দশকে স্ত্রী সহবাস সম্পর্কে শরিয়তের বিধান:

রমজানের শেষ দশকের ইবাদত এবং এই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়ে শরীয়তের বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। নিম্নে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হলো:
রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (লাইলাতুল কদরের অধিক সম্ভাব্য রাত) স্ত্রী সহবাস করা জায়েজ বা বৈধ। তবে এর সাথে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত ও ব্যতিক্রম রয়েছে যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি।
▪️১. কখন জায়েজ?
ইফতারের পর থেকে শুরু করে সুবহে সাদিক (ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া) পর্যন্ত সময়ের মধ্যে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া বৈধ। এটি রমজানের প্রথম দিনের রাত হোক বা শেষ দশকের বেজোড় রাত—সবার জন্যই প্রযোজ্য।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ
“রোজার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে।”
[সুরা বাকারা: ১৮৭]
▪️২. কখন হারাম বা নিষিদ্ধ?
ক. রমজানের ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম। এতে রোজা ভেঙে যায় এবং তওবার পাশাপাশি ‘কাফফারা’ ওয়াজিব হয়।
খ. কেউ যদি মসজিদে ইতিকাফে থাকে তবে তার জন্য দিনের বেলা বা রাত—কোনো সময়ই স্ত্রী সহবাস করা জায়েজ নয়।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ
“আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকো তখন স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না।” [সুরা বাকারা: ১৮৭]
গ. কেউ যদি মক্কায় ওমরার জন্য আসে তাহলে ইহরাম অবস্থায় (আমরা কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত) স্বামী-স্ত্রীর মিলন হারাম।
🔸একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রমজানের শেষ দশকে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবাদতের জন্য কোমর বেঁধে নামতেন এবং রাত জেগে ইবাদত করতেন।
(হাদিসে উল্লেখিত এই কোমর বাঁধার অর্থ কোন কোন আলেম বলেছেন, স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকা।)
তাই লাইলাতুল কদর পাওয়ার আশায় এই রাতগুলোতে সহবাসে লিপ্ত না হয়ে যথাসাধ্য কিয়ামুল লাইল, দুআ, জিকির, তিলাওয়াতুল কুরআন ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ। তবে কেউ যদি একান্ত প্রয়োজনে মিলিত হয় তবে সে গুনাহগার হবে না। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

টাকা দ্বারা ফিতরা দেওয়া যাবে কি

 আল্লামা ড. শাইখ সালেহ আল ফাওজান-(হাফিযাহুল্লাহ)-এর ফতোয়া:

➧ উপস্থাপক: আলজেরিয়া—আল্লাহ এই দেশ ও সকল মুসলিম দেশকে হিফাজত করুন—সেখানকার মানুষ সাধারণত মালেকি মাজহাব অনুসরণ করেন। কিন্তু ফিতরার ক্ষেত্রে তারা ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত অনুসরণ করে নগদ টাকা দিতে পছন্দ করেন। এখন প্রশ্ন হলো, ফিতরা কি টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে? সাধারণ মুসলিম এবং বিশেষ করে আলজেরিয়ার মানুষের প্রতি আপনার নসিহত কী? আল্লাহ আপনাদের বরকত দান করুন।
➧ শাইখ সালেহ আল ফাওজান বলেন:
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতরা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তা হলো, এক সা’ (প্রায় ৩ কেজি) গম, অথবা এক সা’ যব, অথবা এক সা’ খেজুর, অথবা এক সা’ কিসমিস, অথবা এক সা’ পনির (পনির জাতীয় দুগ্ধজাত খাবার)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে গ্রাম বা শহর—সবখানেই এই খাবারগুলো পাওয়া যেত। বর্তমান সময়ে যদি এই খাবারগুলোর বদলে অন্য কোনো খাবার প্রচলিত থাকে তবে তা দিয়ে ফিতরা আদায় করা জায়েজ।
মূল কথা হলো, হাদিসে যেভাবে এসেছে—মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে গণ্য এমন খাবার থেকে এক সা’ পরিমাণ আদায় করতে হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে দিনার ও দিরহাম (নগদ অর্থ) প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও তিনি টাকা দেওয়ার আদেশ দেননি।
এখন প্রশ্ন হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেন টাকার কথা উল্লেখ না করে শুধু খাবার দেওয়ার আদেশ দিলেন?
সুতরাং আমাদের উচিত হবে হাদিসে যা এসেছে তা-ই মেনে চলা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্পষ্ট হাদিসের বিপরীতে কোনো মতামত বা ফতোয়ার দিকে তাকানো উচিত নয়। এটাই হলো প্রকৃত দায়িত্ব।
➧ উপস্থাপক: এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছেন— “আমি ফিতরা নগদে টাকা দ্বারা আদায় করেছি। কিন্তু আমার বাবা তা খাবার (খাদ্যদ্রব্য) দিয়ে আদায় করেছেন। আমাদের মধ্যে কার কাজটা সঠিক হয়েছে? মেহেরবানি করে জানাবেন।”
➧ শাইখ সালেহ আল ফাওজান: আপনার বাবার কাজটাই সঠিক হয়েছে। ফিতরা খাদ্যদ্রব্য দিয়ে আদায় করাই হলো সঠিক পদ্ধতি। অবশ্যই এক সা’ পরিমাণ খাবার দিতে হবে। আর এক সা’-এর ওজন বর্তমানে প্রায় ৩ কেজি।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ এবং গ্রন্থনা:
আব্দুল্লাহিল হাদি বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন সৌদি আরব।

লাইলাতুল কদর ও আমাদের প্রচলিত ধারণা

 আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের মাঝে কেবল রমজানের সাতাশ তারিখের রাত জেগে ইবাদত করার এবং এই রাতেই শবে কদর হওয়ার একটি দৃঢ় ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তবে এই ধারণা সুন্নাহর সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয়। কারণ রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দিষ্ট কোনো একটি রাতের পরিবর্তে শেষ দশকের রাতগুলোতে, বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোতে কদর তালাশ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। যেমন:

▪️আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أَيْقَظَنِي بَعْضُ أَهْلِي فَنُسِّيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ
“স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল। কিন্তু আমার পরিবারের জনৈক সদস্য আমাকে জাগিয়ে দেওয়ায় আমি তা ভুলে গিয়েছি। অতএব তোমরা তা রমজানের শেষ দশকে অনুসন্ধান করো।” [সহিহ বুখারি: ২০২৩]
▪️অন্য একটি হাদিসে তিনি বলেন,
الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ
“তোমরা শেষ দশকে এটি (লাইলাতুল কদর) অনুসন্ধান করো।” [সহিহ বুখারি: ২০২০]
– তবে অন্য হাদিসে শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে তা অনুসন্ধানে নির্দেশনা এসেছে যেমন:
মা জননী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
“তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।”
[সহিহ বুখারি: ২০১৭, সহিহ মুসলিম: ১১৬৯]
এ কারণে মুহাক্কিক আলিমগণ বলেন, রমজানের শেষ দশকের যেকোনো রাতেই তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেজোড় রাতগুলো অধিক সম্ভাবনাময়।
💠 এই বিষয়ে শাইখ বিন বাযের একটি ফতোয়া অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য:
তিনি একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেন,
إذا تم الشهر، كل الليالي كلها محل ظن؛ لأنه في اللفظ الآخر: التمسوها في العشر الأواخر، وفي اللفظ الآخر: في الوتر من العشر الأواخر….. نعم عُيّنت له ﷺ ثم تلاحى رجلان فرفعت، وأخفي أمرها
“যদি মাস পূর্ণ হয় তবে শেষ দশকের প্রতিটি রাতই সম্ভাবনা রাখে। কারণ হাদিসের এক বর্ণনায় এসেছে:
«الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ»
“তোমরা শেষ দশকে এটি অনুসন্ধান করো।”
আবার অন্য বর্ণনায় এসেছে: «فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ»
“শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে।”
হ্যাঁ, রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এটি নির্দিষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, এরপর দুজন লোক বিবাদে লিপ্ত হওয়ায় সেই নির্দিষ্ট জ্ঞান উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং বিষয়টি গোপন রাখা হয়।”
🔸শাইখকে আবার প্রশ্ন করা হয়, যদি মাস পূর্ণ হয় তবে কি বলা যাবে যে লাইলাতুল কদর শেষ দশকের রাতগুলোতে আছে?
উত্তরে তিনি বলেন,
تُرجى في الليالي كلها، والأوتار آكد، والأوتار معروفة: إحدى وعشرين وثلاث وعشرين، خمس وعشرون وسبع وعشرون وتسع وعشرون، وإذا نقص الشهر صار كلها أوتار
“শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই এর আশা করা যায় তবে বেজোড় রাতগুলোতে সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
আর বেজোড় রাতগুলো হলো, একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ এবং উনত্রিশ। তবে মাস যদি উনত্রিশ দিনে শেষ হয় তখন সব রাতই বেজোড় হওয়ার অর্থাৎ কদর হওয়ার মতো শক্তিশালী সম্ভাবনা থাকে।
প্রশ্ন: এর কি কোনো আলামত বা চিহ্ন আছে?
উত্তর:
“উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যেমনটি বলেছেন, এর পরবর্তী সকালের সূর্য হবে কিরণহীন। কারণ রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের এভাবেই জানিয়েছেন।” (শায়খ বিন বায রাহ.- এর ফতোয়া সমাপ্ত)।
উল্লেখ্য যে, অনেক সালাফ বা পূর্বসূরি আলেম সাতাশ তারিখের রাতটিকে লাইলাতুল কদর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনাময় রাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তা সুনিশ্চিত নয়; অর্থাৎ কদর এই রাতে হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তাই মহিমান্বিত এই রাতটি পাওয়ার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদতের প্রচেষ্টা চালানো। যদি তা সম্ভব না হয় তবে কমপক্ষে বেজোড় পাঁচটি রাত জাগার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত।
আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

ফিতরা কি টাকায় দেওয়া যাবে এবং কোথায় দিতে হবে

 প্রশ্ন: সদাকাতুল ফিতর কি নগদ টাকায় আদায় করা জায়েজ? আর আমি যদি ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার সময় মক্কায় অবস্থান করি, তবে কি আমি মক্কাতেই তা আদায় করব, নাকি আমার পরিবার আমার নিজ দেশে তা আদায় করবে?

উত্তর:
لقد تقدم لنا في ليلتين سبقتَا بيانُ أن إخراج زكاة الفطر نقداً لا يجوز؛ لأنه خلاف ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم، وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال:
«مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ» [صحيح مسلم]
وبينّا أن الشيء المنصوص عليه لا خيار فيه للمرء ولا اختيار، بل لا بد من اتباع النص؛ لأن الله سبحانه وتعالى سيسأل العبد يوم القيامة عما بلغه عن رسوله محمد صلى الله عليه وسلم. فلينظر العبد ما هو جوابه إذا سُئل: “لماذا أخرجتَ دراهم وقد فرض عليك الرسول طعاماً؟”.
فالواجب على المسلم إخراج زكاة الفطر مما فرضه النبي صلى الله عليه وسلم من الطعام. وإن إقحام الاستحسان العقلي القاصر في النصوص الشرعية أمر خطير جداً، ليس في هذا الباب فحسب، بل في أبواب كثيرة من العلم والفقه.
والحمد لله، أنت إذا أديت ما أوجب الله عليك من الطعام فقد برئت ذمتك، حتى وإن كانت الدراهم أنفع للفقير؛ أَدِّ الواجب من الطعام، وإذا أردت الإحسان إلى الفقير فأعطه قيمة الطعام زيادةً عليه، فتكون قد أتيت بالواجب وفعلت التطوع، وفضل الله واسع.
أما مكان الإخراج:
فأداؤها في مكة وأنت فيها الآن أفضل من تأديتها في بلدك؛ وذلك لفضل المكان أولاً، ولأن زكاة الفطر تتبع البدن ثانياً. إلا إذا كان الفقراء في بلدك أو في مكان آخر أشد حاجة، فنقلتها إليهم فلا بأس بذلك.
“গত দুই রাতে আমরা এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছি যে, সদাকাতুল ফিতর নগদ টাকায় আদায় করা জায়েজ নয়। কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশের পরিপন্থী। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত আছে যে তিনি বলেছেন:
«مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ»
“যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।” [সহিহ মুসলিম]
আমরা আরও স্পষ্ট করেছি যে, কোনো বিষয় যখন সুস্পষ্টভাবে (কুরআন-সুন্নাহর মাধ্যমে) নির্ধারিত থাকে তখন সেখানে মানুষের নিজস্ব পছন্দ বা অপছন্দের কোনো সুযোগ থাকে না। বরং যা নির্দেশিত হয়েছে তা-ই মেনে চলা আবশ্যক। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিয়ামতের দিন বান্দাকে তাঁর রসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে পৌঁছানো দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তাই বান্দার ভাবা উচিত সেদিন তার জবাব কী হবে যখন তাকে প্রশ্ন করা হবে: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমার ওপর খাদ্যদ্রব্য (ফিতরা হিসেবে) ফরজ করেছিলেন, অথচ তুমি কেন টাকা দিলে?” সুতরাং মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে খাদ্যদ্রব্য নির্ধারণ করেছেন তা থেকেই ফিতরা আদায় করা। শরিয়তের সুস্পষ্ট দলিলের বিপরীতে আমাদের সীমাবদ্ধ বিবেক বা যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি কেবল এই একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়, বরং জ্ঞান ও ফিকহ শাস্ত্রের অনেক ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আলহামদুলিল্লাহ, আপনার ওপর আল্লাহ যা ফরজ করেছেন (খাদ্যদ্রব্য) তা আদায় করলে আপনি দায়মুক্ত হবেন; এমনকি যদি টাকা দেওয়াটা গরিবের জন্য বেশি উপকারী মনে হয় তবুও। আপনার যা করণীয় তা হলো আপনি খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করবেন। আর যদি আপনি গরিবের উপকার করতেই চান তবে এই খাদ্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে তার মূল্য পরিমাণ টাকাও দিয়ে দিতে পারেন। এতে করে আপনার ওয়াজিব পালন হলো এবং আপনি নফল সদকার সওয়াবও পেলেন। আল্লাহর অনুগ্রহ অনেক বিশাল।
✪ আদায়ের স্থানের ক্ষেত্রে নিয়ম:
আপনি বর্তমানে মক্কায় অবস্থান করলে মক্কাতেই ফিতরা আদায় করা উত্তম।
– প্রথমতঃ স্থানের মর্যাদার কারণে।
– দ্বিতীয়তঃ ফিতরা হলো শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট যাকাত (অর্থাৎ আপনি যেখানে থাকবেন সেখানেই তা দেবেন)। তবে যদি আপনার নিজ দেশে বা অন্য কোনো স্থানে অধিক অভাবী মানুষ থাকে এবং আপনি সেখানে তা পাঠিয়ে দেন তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।”
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রাহ.)।
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

কুরআন বা ফেরেশতা বা নবী রাসূল এবং সাহাবীদের মাধ্যমে ওসীলা দেয়ার বিধান

 প্রশ্ন: পবিত্র কুরআন, ফেরেশতা, নবী রাসূল এবং সাহাবীদের মাধ্যমে ওসীলা দেয়ার বিধান কী?

▬▬▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর প্রশ্নকর্তা কয়েক প্রকার ওসীলা উল্লেখ করেছেন, যাকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। এক. কুরআনের দ্বারা ওসীলা। দুই. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বারা ওসীলা। তিন. ফেরেশতাগণ, নবীগণ ও অন্যান্য নেককারদের দ্বারা ওসীলা। চার. এমন ওসীলা যা অর্থহীন।
.
▪️প্রথম প্রকার: দোয়াকারীর জন্য তার মহান রবের কাছে কুরআনের মাধ্যমে বা উসিলায় দোয়া করা জায়েয। কারণ এটি আল্লাহর কাছে তার কোনো একটি গুণের মাধ্যমে দোয়া করার অন্তর্ভুক্ত। শরীয়তের দৃষ্টিতে আল্লাহর কাছে তার গুণসমূহের কোনো একটি গুণের মাধ্যমে চাওয়া জায়েয। তাই কুরআনের মাধ্যমে ওসীলা দেয়া জায়েয। এ কারণে ইমাম আহমদসহ অন্যান্য সালাফগণ ‘আল্লাহর বাণী সৃষ্ট নয়’ এই বক্তব্যের পক্ষে দলীল হিসেবে ‘আল্লাহর পূর্ণ বাক্যসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাইছি’ হাদীসটি উল্লেখ করেন এবং বলেন: তিনি আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে আশ্রয় চেয়েছেন। অথচ কোন সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়া যায় না।(দেখুন:কাইদাতুন জালীলাহ ফিত্তাওয়াস্‌সুলি ওয়াল-ওয়াসীলাহ’খণ্ড; ১: পৃষ্ঠা: ২৯৭) এমন দোয়ার উদাহরণ হচ্ছে;মুসলিম ও তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, উসমান ইবনে আবিল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন যে সে যদি কোনো ব্যথা অনুভব করে তাহলে যেন এই দোয়া করে: أعُوْذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ ما أجِدُ وأحاذِرُ “এই যে আমি ব্যথা অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি তা থেকে আমি আল্লাহর সম্মান এবং তাঁর কুদরতের ওসীলা দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” (সহীহ মুসলিম হা/২২০২) ও তিরমিযী হা/২০৮০) এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া করেছেন:اللهمَّ بعِلْمِكَ الغيبَ وقُدْرَتِكَ عَلَى الخلَقِ ، أحْيِني ما علِمْتَ الحياةَ خيرًا لِي ، وتَوَفَّنِي إذا عَلِمْتَ الوفَاةَ خيرًا لي “হে আল্লাহ! আপনার অদৃশ্যের জ্ঞান ও সৃষ্টির ওপর আপনার ক্ষমতার বদৌলতে আমাকে ততদিন বাঁচিয়ে রাখুন যতদিন জীবন আমার জন্য ভালো। আর আপনার জ্ঞানে যখন মৃত্যু আমার জন্য ভালো তখন আমাকে মৃত্যু দিন।”।(হাদীসটি ইমাম আহমদ তার ‘মুসনাদ’ (৩০/২৬৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং রিসালা ছাপার মুহাক্কিকরা এটিকে বিশুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন] আল্লাহর কাছে তার গুণাবলির মাধ্যমে চাওয়ার পক্ষে দলীল অগণিত।
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:الدعاء بالقرآن الكريم ، يعني أن يسأل الإنسان ربه بكلامه… والقرآن صفة من صفات الله عز وجل ، فإنه كلام الله تكلم به حقيقة لفظا ، وأراده معنى ، فهو كلامه عز وجل… وإذا كان صفة من صفاته ، فالتوسل به جائز”কুরআন কারীমের মাধ্যমে দোয়া করার অর্থ হলো ব্যক্তি তার রবের কাছে তাঁর বাণীর মাধ্যমে প্রার্থনা করবে। …কুরআন আল্লাহর গুণসমূহের মাঝে একটি গুণ। এটি আল্লাহর বাণী; যা দিয়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে ধ্বনির মাধ্যমে কথা বলেছেন এবং কথার ভাবকে উদ্দেশ্য করেছেন। এটাই মহান আল্লাহর বাণী। … আর যেহেতু এটি তাঁর একটি গুণ, সেহেতু এর মাধ্যমে ওসীলা দেয়া জায়েয।”(ইবনু উসাইমীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব থেকে সমাপ্ত)
.
▪️দ্বিতীয় প্রকার: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তার মাধ্যমে ওসীলা গ্রহণ—এ ধরনের আমল পরবর্তী যুগের কিছু মানুষের মধ্যে দেখা যায়। তারা এভাবে বলে থাকে: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে প্রার্থনা করছি” অথবা “আমি আপনার কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা ও সম্মানের মাধ্যমে প্রার্থনা করছি।” কিন্তু এ ধরনের কোনো কথা বা পদ্ধতি সহূহ সুন্নাহতে প্রমাণিত নয়। ইমাম আবু হানীফা এবং তাঁর সঙ্গীরা এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন—এটি জায়েয নয়। তারা এ ধরনের ওসীলা গ্রহণ থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে (অর্থাৎ সৃষ্টির সত্তা বা মর্যাদাকে মাধ্যম বানিয়ে) আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া যাবে না।সুতরাং কেউ যেন এভাবে না বলে:“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার নবীদের অধিকারের মাধ্যমে প্রার্থনা করছি।” আল্লামা ইবনু আবিল ইয্য হানাফী বলেনقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ وَصَاحِبَاهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ : يُكْرَهُ أَنْ يَقُولَ الدَّاعِي: أَسْأَلُكَ بِحَقِّ فُلانٍ، أَوْ بِحَقِّ أَنْبِيَائِكَ وَرُسُلِكَ ، وَبِحَقِّ الْبَيْتِ الْحَرَامِ ، وَالْمَشْعَرِ الْحَرَامِ ، وَنَحْوِ ذَلِكَ‘‘ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) ও তাঁর সঙ্গীদ্বয় বলেছেন: ‘আমি অমুকের অধিকার বা আপনার নবী-রাসূলগণের অধিকার, বা বাইতুল হারামের অধিকার বা মাশ‘আরুল হারামের অধিকারের দোহাই দিয়ে চাচ্ছি বা প্রার্থনা করছি’ বলে দু‘আ করা মাকরূহ।’’(ইবনু আবিল ইয্য, শারহুল আকীদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ,পৃষ্ঠা: ২৩৭) ইমাম যাইলায়ী তার ‘তাবঈনুল হাকাইক’ গ্রন্থে বলেন: ‘আবু ইউসুফ বলেছেন:أَكْرَهُ بِحَقِّ فُلَانٍ ، وَبِحَقِّ أَنْبِيَائِك وَرُسُلِك’অমুকের অধিকারের বদৌলতে, আপনার নবী-রাসূলদের অধিকারের বদৌলতে প্রার্থনা করাকে অপছন্দ করি।”(তাবঈনুল হাকাইক; খন্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ৩১) কারণ ‘মহান আল্লাহ তাআলার উপর কারো কোনো অধিকার নেই’ যেমনটি আল্লামা আলাউদ্দীন কাসানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:وَيُكْرَهُ لِلرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ فِي دُعَائِهِ أَسْأَلُك بِحَقِّ أَنْبِيَائِك وَرُسُلِك وَبِحَقِّ فُلانٍ لأنَّهُ لا حَقَّ لأحَدٍ عَلَى اللَّهِ…‘‘‘আমি আপনার নবী-রাসূলগণের অধিকারের দোহাই দিয়ে চাচ্ছি এবং অমুকের অধিকারের দোহাই দিয়ে চাচ্ছি বলে দু‘আ করা মাকরূহ; কারণ মহান আল্লাহর উপরে কারো কোনো অধিকার নেই।’’(কাসানী, বাদাইউস সানাইয়; খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ১২৬)
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:الراجح من أقوال أهل العلم… أنه يحرم التوسل بجاه النبي صلى الله عليه وسلم ؛ فلا يجوز للإنسان أن يقول : اللهم أسألك بجاه نبيك كذا وكذا ؛ وذلك لأن الوسيلة لا تكون وسيلة ، إلا إذا كان لها أثر في حصول المقصود ، وجاه النبي صلى الله عليه وسلم بالنسبة للداعي ليس له أثر في حصول المقصود ، وإذا لم يكن له أثر : لم يكن سببا صحيحا ، والله عز وجل لا يُدعى إلا بما يكون سببا صحيحا ، له أثر في حصول المطلوب ، فجاه النبي صلى الله عليه وسلم هو مما يختص به النبي صلى الله عليه وسلم وحده ، وهو ما يكون منقبة له وحده ، أما نحن فلسنا ننتفع بذلك ، وإنما ننتفع بالإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم
“আলেমদের মতসমূহের মাঝে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো… নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান দিয়ে ওসীলা করা হারাম। কোনো মানুষের জন্য এটি বলা জায়েয নেই যে: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার নবীর সম্মানের ওসীলায় এটা-ওটা চাইছি। কারণ ওসীলা তখনই ওসীলা হয় যখন উদ্দিষ্ট বিষয় হাছিলে এর কোন প্রভাব থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা-প্রতিপত্তি দোয়াকারীর উদ্দেশ্য হাছিলে কোনো প্রভাব রাখে না। যেহেতু এর কোনো প্রভাব নেই, সেহেতু এটি সঠিক মাধ্যম নয়। মহান আল্লাহকে কেবল এমন সঠিক মাধ্যম দিয়েই ডাকা যাবে উদ্দিষ্ট বিষয়ে অর্জনে যার প্রভাব আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা-প্রতিপত্তি কেবল তাঁর জন্যই খাস। এটি কেবল তার জন্যই সম্মানজনক। আমরা এর দ্বারা কোনোভাবে উপকৃত হতে পারব না। আমরা কেবল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনার মাধ্যমে উপকৃত হতে পারব।”(ইবনু উসাইমীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব থেকে সমাপ্ত)
.
হিজরী ৮ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন:لو قيل : يحمل قول القائل أسألك بنبيك محمد على أنه أراد : أني أسألك بإيماني به وبمحبته وأتوسل إليك بإيماني به ومحبته ونحو ذلك ؟ وقد ذكرتم أن هذا جائز بلا نزاع ؟ قيل : من أراد هذا المعنى فهو مصيب في ذلك بلا نزاع ، وإذا حمل على هذا المعنى كلام من توسل بالنبي صلى الله عليه وسلم بعد مماته من السلف – كما نقل عن بعض الصحابة والتابعين وعن الإمام أحمد وغيره – كان هذا حسنا ؛ وحينئذ : فلا يكون في المسألة نزاع.ولكن كثير من العوام يطلقون هذا اللفظ ، ولا يريدون هذا المعنى ؛ فهؤلاء الذين أنكر عليهم من أنكر.وهذا كما أن الصحابة كانوا يريدون بالتوسل به : التوسل بدعائه وشفاعته ، وهذا جائز بلا نزاع ؛ ثم إن أكثر الناس في زماننا لا يريدون هذا المعنى بهذا اللفظ
“যদি বলা হয়: ‘আমি আপনার কাছে আপনার নবী মুহাম্মাদের মাধ্যমে দোয়া করছি’ বক্তার এ বক্তব্যকে ‘আমি আপনার কাছে তাঁর উপর ঈমান ও তাঁর প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে দোয়া করছি’ এ অর্থে ব্যাখ্যা করা যায় এবং ইতোপূর্বে আপনারা উল্লেখ করেছেন যে, এ ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই। তখন জবাবে বলা হবে: কেউ যদি এই অর্থ করে তাহলে সে নিঃসন্দেহে সঠিক কথা বলেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরে সালাফের মধ্যকার যে সকল ব্যক্তি তাঁর ওসীলা দিয়ে দোয়া করেছেন যেমনটি কিছু সাহাবী, তাবেয়ী, ইমাম আহমদ ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে তাদের বক্তব্যকে যদি এই অর্থে নেওয়া হয় তাহলে সেটি উত্তম। সেক্ষেত্রে এ মাসয়ালায় কোনো মতভেদ থাকে না।কিন্তু বহু সাধারণ মানুষ আছে যারা এই শব্দ ব্যবহার করে; কিন্তু তারা এই অর্থকে উদ্দেশ্য করে না। তাই যারা (এ ধরনের ওসীলার ব্যাপারে) আপত্তি করেছেন তারা মূলতঃ এদের ব্যাপারেই আপত্তি করেছেন।এটি সাহাবীদের সেই ওসীলা দেয়ার মত যারা তাঁর ওসীলা দিয়ে দোয়া করা বলতে উদ্দেশ্য করতেন: তাঁর দোয়া ও শাফায়াতের মাধ্যমে ওসীলা দেয়া। এ ধরণের ওসীলা দেয়া জায়েয হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। কিন্তু, বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ এই কথার দ্বারা এই অর্থ উদ্দেশ্য করে না।”(কাইদাতুন জালীলাহ; পৃষ্ঠা:  ১১৯)
.
▪️তৃতীয় প্রকার: সৃষ্ট জীবের সত্তা দিয়ে ওসীলা দেয়া। এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় একটি বিদআত। প্রথাগত ও ভাষাগত দিক থেকেও এটি পরিত্যাজ্য। এতে আল্লাহর সাথে বেয়াদবি এবং তিনি অনুমতি দেননি এমন কিছু করা হয়। এতে দোয়াকারী, মাধ্যম গ্রহণকারী এবং সুপারিশপ্রার্থীর প্রকৃত উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক এমন কিছু করা হয় যা দোয়ার শিষ্টাচারের খেলাফ।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:وأما الاستشفاع بمن لم يشفع للسائل ولا طلب له حاجة بل وقد لا يعلم بسؤاله، فليس هذا استشفاعا لا في اللغة ولا في كلام من يدري ما يقول”যে ব্যক্তির মাধ্যমে সুপারিশ চাওয়া হচ্ছে তিনি যদি দোয়াকারীর জন্য সুপারিশ না করে থাকে, তার প্রয়োজনের জন্য কোনো আবেদন না করে থাকে, এমনও হতে পারে তিনি তার দোয়ার ব্যাপারে অবগতই নন; সেক্ষেত্রে তার মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা করা ভাষাগত দিক থেকে ‘সুপারিশ’ নয়। যারা বুঝে শুনে কথা বলেন তাদের দৃষ্টিতেও এটি সুপারিশ নয়।”(ইবনু তাইমিয়্যাহ মাজমুউ ফাতাওয়া, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৪২)
.
তিনি রাহিমাহুল্লাহ আরও বলেন:ولو قال الرجل لمطاع كبير : أسألك بطاعة فلان لك ، وبحبك له على طاعتك ، وبجاهه عندك الذي أوجبته طاعته لك ؛ لكان قد سأله بأمر أجنبي لا تعلق له به ، فكذلك إحسان الله إلى هؤلاء المقربين ، ومحبته لهم ، مع عبادتهم له ، وطاعتهم إياه ؛ ليس في ذلك ما يوجب إجابة دعاء من يسأل بهم .وإنما يوجب إجابة دعائه : بسبب منه ، لطاعته لهم . أو سبب منهم ، لشفاعتهم له . فإذا انتفى هذا وهذا ، فلا سبب “যদি কেউ কোনো বড় মর্যাদার কোনো অনুসরণীয় ব্যক্তিকে বলে: ‘আমি আপনার কাছে আবেদন করছি— অমুক ব্যক্তি আপনার প্রতি যে আনুগত্য দেখান এর বদৌলতে, তার আনুগত্যের কারণে আপনি তার প্রতি যে ভালোবাসা রাখেন এর বদৌলতে, আপনার প্রতি তার আনুগত্য আপনার কাছে তার যে মর্যাদাকে অবধারিত করেছে সেই মর্যাদার বদৌলতে; তাহলে সে এমন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের মাধ্যমে আবেদন করল যার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।অনুরূপভাবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিকটবর্তী বান্দাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেন, তাদের প্রতি যে ভালোবাসা পোষণ করেন, এবং তারা আল্লাহর প্রতি যে ইবাদত ও আনুগত্য প্রকাশ করে— এগুলোর কোনোটিই তাদের মাধ্যমে প্রার্থনা করা ব্যক্তির দোয়া কবুলকে আবশ্যক করে না।বরং দোয়া কবুল হওয়াকে আবশ্যক করবে যদি দোয়াকারীর পক্ষ থেকে দোয়া কবুলের কোনো হেতু থাকে; যেমন: দোয়াকারী তাদের আনুগত্য করা। কিংবা যদি তাদের পক্ষ থেকে দোয়া কবুলের কোনো হেতু থাকে; যেমন: তারা তার জন্য সুপারিশ করা। কিন্তু যদি এই দুটির কোনো হেতুই না পাওয়া যায়, তাহলে তার দোয়া কবুলের কোনো কারণ অবশিষ্ট নেই।”
তিনি আরো বলেন:قول القائل : اللهم إني أسألك بحق فلان وفلان ، من الملائكة والأنبياء والصالحين وغيرهم ، أو بجاه فلان ، أو بحرمة فلان ، يقتضي أن هؤلاء لهم عند الله جاه ، وهذا صحيح ؛ فإن هؤلاء لهم عند الله منزلة وجاه وحرمة ؛ يقتضي أن يرفع الله درجاتهم ، ويعظم أقدارهم ، ويقبل شفاعتهم إذا شفعوا… فأما إذا لم يكن منهم دعاء ولا شفاعة.. فيكون قد سأل بأمر أجنبي عنه ليس سببا لنفعه”ব্যক্তি যদি বলে: আমি অমুক অমুক ফেরেশতা, নবী, নেককার ইত্যাদি ব্যক্তিদের হক্বের (অধিকারের) মাধ্যমে কিংবা প্রতিপত্তি (جاه)-এর মাধ্যমে কিংবা সম্মান (حُرْمَة) এর মাধ্যমে প্রার্থনা করছি, তাহলে এই কথার দাবি হচ্ছে আল্লাহর কাছে এদের সবার মর্যাদা রয়েছে। এটা সঠিক। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে এদের সবার মর্যাদা, প্রতিপত্তি ও স্থান রয়েছে; যার দাবি হচ্ছে আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন, তাদেরকে সম্মানিত করবেন এবং তারা সুপারিশ করলে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করবেন। … কিন্তু যদি তাদের পক্ষ থেকে কোনো দোয়া বা সুপারিশ না পাওয়া যায় তাহলে দোয়াকারী এমন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের মাধ্যমে দোয়া করল যেটা তার উপকার করার মাধ্যম নয়।”
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) অন্য এক স্থানে বলেন:ليس في إكرام الله لذلك سبب يقتضي إجابة هذا . وإن قال : السبب هو شفاعته ودعاؤه ، فهذا حق ، إذا كان قد شفع له ودعا له .وإن لم يشفع له ولم يدع له ، لم يكن هناك سبب “‘আল্লাহ তাকে (যার মাধ্যম গ্রহণ করা হচ্ছে) সম্মানিত করার মধ্যে এমন কোনো হেতু নাই যা এই ব্যক্তির দোয়া কবুল করাকে অনিবার্য করবে। যদি সে বলে: হেতু হলো তিনি সুপারিশ করা ও দোয়া করা। তাহলে এ কথা ঠিক। যদি বাস্তবেই তিনি তার জন্য সুপারিশ করে থাকেন ও দোয়া করে থাকেন। আর যদি তিনি কোনো সুপারিশ বা দোয়া না করে থাকেন তাহলে তো কোনো হেতু নাই।”ইমাম শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ উক্ত বিষয়ে তার বরকতময় বই ‘কাইদাতুন জালীলা ফিত-তাওয়াস্‌সুলি ওয়াল-ওয়াসীলাহ’-তে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
.
▪️চতুর্থ প্রকার: শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার ওসীলা, নূহ (আ.)-এর বংশধরের ওসীলা, আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর খেলাফতের ওসীলা, আলী (রা.)-এর বীরত্বের ওসীলা— এ ধরনের যেসব ওসীলার কথা প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন, এবং অর্থের প্রতি লক্ষ্য না রেখে কেবল শব্দের মিল (অন্ত্যমিল) রক্ষা করে দোয়ার বাক্য সাজিয়েছেন— এগুলো সবই অর্থহীন ও অসংগত কথা। কোনো ব্যক্তি যদি একাগ্রচিত্তে ও গভীর মনোযোগের সাথে দোয়া করে, তার মুখ থেকে এ ধরনের কথা বের হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, নূহ (আ.)-এর বংশধররা কীভাবে দোয়া কবুলের মাধ্যম হতে পারে, অথচ তাদের মধ্যে তো মুসলিম, কাফির, নেককার ও পাপী— সব ধরনের মানুষই রয়েছে?!
অনুরূপভাবে, আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর খেলাফত, আলী (রা.)-এর বীরত্ব, উমর (রা.)-এর ফারুকিয়াত, উসমান (রা.)-এর লজ্জাশীলতা— এমনকি ইবরাহীম (আ.)-এর সাথে আল্লাহর বন্ধুত্ব— এগুলো কীভাবে দোয়া কবুলের কারণ হতে পারে? ‘আল্লাহর সাথে ইবরাহীম (আ.)-এর বন্ধুত্ব’— এর সাথে দোয়া কারীর নিজের কী সম্পর্ক রয়েছে? এই উচ্চ মর্যাদার মধ্যে তার কি কোনো অংশীদারিত্ব আছে? অতএব, এসব হচ্ছে সুন্নাহর পরিপন্থী কাজ, মনগড়া দোয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়া, এবং কৃত্রিম অন্ত্যমিল রক্ষার অপচেষ্টার ফল। আর এখান থেকেই দোয়ায় জোরপূর্বক অন্ত্যমিল তৈরির ব্যাপারে নিষেধ করার প্রজ্ঞা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইবনে বাত্তাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:لأن طلب السجع فيه تكلف ومشقة ، وذلك مانع من الخشوع وإخلاص التضرع لله تعالى وقد جاء في الحديث : ( إن الله لا يقبل من قلب غافل لاه ) ، وطالب السجع في دعائه : همته في تزويج الكلام وسجعه ، ومَن شَغَل فكره وكَدَّ خاطره بتكلفه ، فقلبه عن الخشوع غافل لاه”কারণ অন্ত্যমিল অন্বেষণে কৃত্রিমতা ও কাঠিন্য রয়েছে। এটি দোয়ার মনোযোগ এবং আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে চাওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। হাদীসে এসেছে: ‘আল্লাহ অমনোযোগী উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।’ দোয়ার ক্ষেত্রে অন্ত্যমিল অন্বেষী ব্যক্তির লক্ষ্য থাকে তার কথাকে ছন্দবদ্ধ ও মিলযুক্ত করা। যে ব্যক্তি নিজের চিন্তাকে কৃত্রিম কিছু অর্জনে ব্যস্ত রাখে তার অন্তর মনোযোগের বদলে উদাসীন ও বেখবর হয়ে পড়ে।”(শারহু সহীহিল বুখারী; খণ্ড: ১০; পৃষ্ঠা: ৯৭)
.
এছাড়াও একদল মানুষ ফেরেশতা, নবী-রাসূল, অলি-আউলিয়া, পীর-বুজুর্গ বা অন্য কোন মৃত মানুষকে মাধ্যম বানিয়ে তাদেরকে ডাকে, তাদের উপর নির্ভর করে, তাদের কাছে প্রার্থনা করেন; অথচ এসব সুস্পষ্ট শিরক। আলেমগণ এই মর্মে ইজমা (ঐকমত্য) করেছেন যে, যে বক্তি তার মাঝে ও আল্লাহ্‌র মাঝে বিভিন্ন-মাধ্যম বানিয়ে সেসব মাধ্যমকে ডাকে ও মাধ্যমদের উপর নির্ভর করে তারা কাফের। এই বিধান থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডাকাও বাদ দেয়া হয়নি। এই মর্মে মহান আল্লাহ বলেন,وَ یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مَا لَا یَضُرُّهُمۡ وَ لَا یَنۡفَعُهُمۡ وَ یَقُوۡلُوۡنَ هٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنۡدَ اللّٰهِ ؕ قُلۡ اَتُنَبِّـُٔوۡنَ اللّٰهَ بِمَا لَا یَعۡلَمُ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ سُبۡحٰنَهٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ “আর তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদাত করছে যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, এগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। বলুন, তোমরা কি এমন কিছুর সংবাদ দেবে যা তিনি জানেন না? তিনি মহান, পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে”।(সূরা ইউনুস;১৮) যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে সে ব্যক্তি মূর্তি পূজার ইবাদতকারীদের অনুরূপ হবে। . এজন্য ইবনুল মুফলিহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: لأن ذلك كفعل عابدي الأصنام قائلين: ما نعبدهم إلا ليقربونا إلى الله زلفى”কারন এটা মূর্তি পূজারীদের ইবাদত করার মত হবে,যারা বলে যে আমরা মূর্তিপূজার ইবাদত করি শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিলের জন্য”।(আল ফুরু; খন্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৫৫৩) হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: مَنْ مَاتَ وَهْوَ يَدْعُوْ مِنْ دُوْنِ اللهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ “যে ব্যক্তি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, সে আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কোন অংশীদারকে ডাকে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”(সহিহ বুখারী হা/৪৪৯৭)
.
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:” فمن جعل الملائكة والأنبياء وسائط ، يدعوهم ويتوكل عليهم ، ويسألهم جلب المنافع ودفع المضار ، مثل أن يسألهم غفران الذنب وهداية القلوب وتفريج الكروب وسد الفاقات: فهو كافر بإجماع المسلمين “যে ব্যক্তি ফেরেশতাদেরকে কিংবা নবীদেরকে মাধ্যম বানিয়ে তাদেরকে ডাকে, তাদের উপর নির্ভর করে, কল্যাণ আনয়ন ও অকল্যাণ দূর করার জন্য তাদের কাছে প্রার্থনা করে; যেমন- গুনাহ মাফ, অন্তরের হেদায়েত প্রাপ্তি, বিপদাপদ দূর হওয়া, অভাব দূর হওয়ার জন্য তাদের কাছে প্রার্থনা করে মুসলিম উম্মাহ্‌র ইজমা অনুযায়ী সে কাফের”।(মাজমুউল ফাতাওয়া; খন্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১২৪) এ ইজমার প্রতি সম্মতি জানিয়ে একাধিক আলেম তা (নিজেদের গ্রন্থে) উদ্ধৃত করেছেন। যেমন দেখুন: “ইবনে মুফলিহ এর ‘আল-ফুরু; খন্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ১৬৫; ‘আল-ইনসাফ’; খন্ড: ১০; পৃষ্ঠা: ৩২৭; ‘কাশশাফুল ক্বিনা’;  খন্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ১৬৯; ‘মাতালিবু উলিন নুহা’; খন্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ২৭৯)। আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

Translate