Saturday, February 19, 2022

কবরের মানুষও কি দাজ্জালের ফেতনায় পড়বে?

 প্রশ্ন: কবরের মানুষও কি দাজ্জালের ফেতনায় পড়বে?

উত্তর:
দাজ্জাল শব্দের অর্থ: মিথ্যুক, প্রতারক, ভণ্ড, পথভ্রষ্ট কারী মিথ্যা দাবীদার, ছদ্মবেশী। হাদিসে যাকে বলা হয়েছে, المسيح الدجّال ‘আল মাসিহুদ্দাজ্জাল’ আর বাইবেলে বলা হয়েছে, AntiChrist বা খ্রিস্ট বিরোধী।

পৃথিবীতে মুসলিমদের জন্য যত বড় বড় ফিতনার আবির্ভাব হয়েছে এবং হবে দাজ্জালের ফিতনা সবচেয়ে বড় ফিতনা। সকল নবী-রাসূলই তাদের উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপার সতর্ক করেছেন।
ইবনে উমর রা. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। অতঃপর দাজ্জালের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন,
«إِنِّي لَأُنْذِرُكُمُوهُ، وَمَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا أَنْذَرَهُ قَوْمَهُ، لَقَدْ أَنْذَرَ نُوحٌ قَوْمَهُ، وَلَكِنِّي أَقُولُ لَكُمْ فِيهِ قَوْلًا لَمْ يَقُلْهُ نَبِيٌّ لِقَوْمِهِ: تَعْلَمُونَ أَنَّهُ أَعْوَرُ، وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ»
“আমি তোমাদেরকে তার ফিতনা থেকে সাবধান করছি। সকল নবীই তাদের উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদের কাছে দাজ্জালের একটি পরিচয়ের কথা বলব যা কোন নবীই তাঁর উম্মতকে বলেন নাই। তা হল, দাজ্জালের এক চোখ অন্ধ হবে কিন্তু আল্লাহ অন্ধ নন।” [বুখারি ও মুসলিম]

সে এমন অলৌকিক ও বিস্ময়কর বিষয়াদি প্রদর্শন করবে যেগুলো দেখে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়বে। দাজ্জাল নিজেকে প্রভু ও আল্লাহ হিসেবে দাবী করবে। তার দাবীর পক্ষে এমন কিছু প্রমাণও উপস্থাপন করবে যে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগেই সতর্ক করেছেন। মুমিন বান্দাগণ এগুলো দেখে মিথ্যুক দাজ্জালকে সহজেই চিনতে পারবে এবং আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু দুর্বল ইমানদার লোকেরা বিভ্রান্তিতে পড়ে ঈমান হারা হবে।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে সতর্ক ও সচেতন করার উদ্দেশ্যে তার শারীরিক গঠন বর্ণনা পূর্বক তার নানা প্রতারণা, ভণ্ডামি ও গোমরাহি মূলক কার্যক্রম তুলে ধরেছেন এবং দাজ্জলের ফেতনা থেকে আত্মরক্ষার বিভিন্ন উপায়-উপকরণ বর্ণনা করেছেন। আমাদের কর্তব্য, তার ব্যাপারে আরও বেশি জানা, সচেতন হওয়া এবং তার থেকে আত্মরক্ষার উপায়-উপকরণগুলো অবলম্বন করা।

❂ কবরের মানুষও কি দাজ্জালের ফেতনায় পড়বে?

যে মৃত্যু বরণ করলো সে দুনিয়ার সব ধরণের ফিতনা-ফ্যাসাদ বেঁচে গেল। সুতরাং কবরের লোকজনকে দাজ্জালের ফেতনা স্পর্শ করতে পারবে না। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, দাজ্জালের খবর শুনে কেউ যদি তার কাছে ন যায় তাহলে সেও ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে আর যারাই তার কাছে যাবে তারাই তার ফেতনায় পতিত হবে। যেমন: আবুদ দাহমাহ রাহ. সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইমরান ইবনুল হুসাইন রা.-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَّالِ فَلْيَنْأَ عَنْهُ، فَوَاللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَأْتِيهِ وَهُوَ يَحْسِبُ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ فَيَتَّبِعُهُ، مِمَّا يَبْعَثُ بِهِ مِنَ الشُّبُهَاتِ، أَوْ لِمَا يَبْعَثُ بِهِ مِنَ الشُّبُهَاتِ
“কেউ দাজ্জালের আবির্ভাবের কথা শুনলে সে যেন তার থেকে দূরে চলে যায়। আল্লাহর কসম! যে কোনও ব্যক্তি তার নিকট এলে তাকে ইমানদার মনে করে তার অনুসরণ করতে শুরু করবে তার মধ্যে যে সব সংশয় সৃষ্টি হয়েছে সে কারণে।” [সুনান আবু দাউদ (তাহকিক কৃত), অধ্যায়: ৩২/ যুদ্ধ-সংঘর্ষ, পরিচ্ছেদ: ১৪. দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কে-সহিহ আবু দাউদ, হা/৪৩১৯]
এ হাদিস থেকে জানা গেল, দাজ্জাল থেকে দূরে অবস্থানকারী ব্যক্তি তার ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে। তাহলে মৃত ব্যক্তির এই ফেতনায় পতিত হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তবে মানুষ মৃত্যুর পর কবরের ফিতনায় পতিত হবে-যা দাজ্জালের ফেতনা থেকে কম ভয়ানক নয়।
আল্লাহ আমাদেরকে দাজ্জালের ভয়াবহ ফিতনা এবং কবরের ফিতনা ও শাস্তি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদ আরব
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল-

খাওয়ার আগে-পরে লবণ খাওয়া সংক্রান্ত হাদিসগুলো সব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন

 প্রশ্ন: খাবার আগে এবং পরে সামান্য লবণ মুখে দেওয়া কি সুন্নাহ?

উত্তর:
‘খাওয়ার আগে-পরে লবণ মুখে দেয়া সুন্নত’ এ কথা ভিত্তিহীন। বলা হয়ে থাকে যে, খাওয়ার আগে-পরে লবণ খেলে এতগুলো রোগে থেকে আরোগ্য পাওয়া যাবে, এই এই রোগের শিফা রয়েছে, এই এই উপকার হবে ইত্যাদি। কিন্তু মুহাদ্দিসদের তদন্তে এ বিষয়ে যত হাদিস বলা হয় সবই জাল বা বানোয়াট। এ বিষয়ে কোনও সহিহ হাদিস নাই।
– সে সব বানোয়াট হাদিসের মধ্যে একটি হল,
من أكل الملح قبل كل شيء، وبعد كل شيء؛ دفع الله عنه ثلاثمائة وثلاثين نوعًا من البلاء، أهونها الجذام.
“যে ব্যক্তি সব ধরণের খাবারের শুরুতে এবং শেষে লবণ খাবে মহান আল্লাহ তাকে ৩৩০ প্রকার রোগ থেকে শিফা দান করবেন। তার ছোট রোগটি হচ্ছে, কুষ্ঠ রোগ।” [নুযহাতুল মাজালিস ও দায়লামি সংকলিত আল ফিরদউস গ্রন্থ।]
এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে একটি মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়। উল্লেখ্য যে, দায়লামি সংকলিত আল ফিরদউস কিতাবটি অসংখ্য জাল-জইফ হাদিসের সমাহার।
– আরেকটি বানোয়াট হাদিস হল, আলি রা.কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إذا أكلت، فابدأ بالملح، واختم بالملح؛ فإن الملح شفاء من سبعين داء، أولها الجذام، والبرص، ووجع الحلق، والأضراس، والبطن.
“তুমি যখন খাদ্য খাবে তখন শুরুতে লবণ খাবে এবং খাওয়া শেষ করে লবণ খাবে। কেননা লবণের মধ্যে ৭০ প্রকার রোগের শিফা (রোগমুক্তি) রয়েছে। তার প্রথমটি হচ্ছে, কুষ্ঠ রোগ, মস্তিষ্ক বিকৃতি বা পাগলামি, শ্বেত কুষ্ঠ, গলার ব্যথা, দাঁতের ব্যথা ও পেট ব্যথা।” [বুগইয়াতুল বাহিছ আন যাওয়ায়িদিল হারিছ- ১/৫২৬]
এ হাদিসটি বানোয়াট। ইমাম সুয়ুতি, ইবনুল জাওযি প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ এটি মউযু বা বানোয়াট হাদিস বলে চিহ্নিত করেছেন।

নিম্নে এ হাদিসটি সম্পর্কে মুহাক্কিক হাদিস বিশারদদের সনদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হল:
أورده الحافظ السيوطي في اللآلئ المصنوعة في الأحاديث الموضوعة، وقال محقق المطالب العالية لابن حجر: حديث بهذا الإسناد موضوع، كما قاله ابن الجوزي، وفيه أربع علل:
1- في إسناده: “عبد الرحيم بن واقد الخراساني”، وهو ضعيف.
2- وفي إسناده: “حماد بن عمرو النصبي”، وهو متروك.
3 – وفي إسناده: “السري بن خالد بن شداد”، وهو مجهول.
4- الانقطاع في إسناده، فإن علي بن الحسين زين العابدين، لم يدرك جده علي بن أبي طالب، كما أن محمَّد بن علي الباقر أرسل عن جده الحسين بن علي -رضي الله عنه
লবণ খাওয়া বিষয়ে আরও অনেক বানোয়াট হাদিস প্রচলিত রয়েছে।

যে সব পাপিষ্ঠ এসব হাদিস তৈরি করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে চালিয়ে দিয়েছে তাদের উপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক। এদের কারণে বহু মানুষ আজ বিভ্রান্ত এবং গোমরাহির শিকার। শুধু তাই নয় এগুলোকে ভিত্তি করে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকরা ইসলাম সম্পর্কে নানা কটুক্তি করার সুযোগ পায় এবং ইসলামের ব্যাপারে অজ্ঞ লোকদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলামের নামে সর্বপ্রকার ভিত্তিহীন কথা ও কর্ম হেফাজত করুন। আল্লাহু আলাম।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল-

বিয়ের পূর্বে বিবাহেচ্ছু পাত্র-পাত্রী একে অপরকে দেখার গুরুত্ব, পদ্ধতি ও সীমারেখা

 বিয়ের পূর্বে বিবাহেচ্ছু যুবক-যুবতী একে অপরকে দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আল্লাহ যদি তাদের মাঝে বিয়ে নির্ধারণ করে রাখেন তাহলে এই দেখা-দেখিটা তাদের দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টিতে অনেক সহায়ক হয়। অনেক ছেলে-মেয়ে বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজনের দেখার উপর ভিত্তি করেই বিয়ে করে নেয়। এটা উচিত নয়। কারণ প্রত্যেকটি মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পছন্দ-অপছন্দ রয়েছে।

সুতরাং যে দুটি হৃদয় পরস্পরের সাথে চিরজীবনের জন্য ভালোবাসার সম্পর্কের বাঁধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আগ্রহ-অনাগ্রহ এবং পছন্দ-অপছন্দের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা নিজেরা একে অপরকে দেখে পছন্দ করবে। তবে অবশ্যই তা হবে শরিয়তের গণ্ডির মধ্যে।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে বহু মুসলিম যুবক যুবতী বিয়ের পূর্বে একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়ার নামে অনৈতিক হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। নির্জনে দেখা সাক্ষাৎ, ঘোরাঘুরি, লং ড্রাইভ, ডেটিং ইত্যাদি করে থাকে। এমনকি শারীরিক সম্পর্ক জড়াতেও কুণ্ঠাবোধ করে না!
ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো সবই হারাম। তবে একে অপরকে দেখা-দেখি করতে বা বিয়ে সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু অবশ্যই তা হতে হবে শরিয়তের সীমারেখার মধ্যে।

নিম্নে বিবাহে আগ্রহী পুরুষ-নারী একে অপরকে দেখা সংক্রান্ত একাধিক হাদিস উল্লেখপূর্বক তারা একে অপরকে কিভাবে, কতটুকু দেখবে বা এ ক্ষেত্রে ইসলামি সীমারেখা কতটুকু সে বিষয়ে সম্মানিত আলেমদের মতামত উপস্থাপন হল:

🔹 বিয়ের পূর্বে বিবাহেচ্ছু পাত্র পাত্রী একে অপরকে দেখার গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু হাদিস:

▪️ আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত। মুগিরাহ ইবনে শুবাহ রা. এক মহিলাকে বিয়ে করার ইচ্ছা করলে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন,
فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا
“তুমি তাকে দেখে নাও। কেননা তা তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।”
অতঃপর তিনি তাই করলেন এবং তাকে বিয়ে করলেন। পরে তাঁর নিকট তাদের দাম্পত্য সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করা হয়। [তিরমিযি ১০৮৭, নাসায়ি ৩২৩৫, দারেমি ২১৭২, সহিহাহ ১/১৫১-১৫২।]

▪️ অপর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ – رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ – صلى الله عليه وسلم – قَالَ لِرَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً: «أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا?» قَالَ: لَا. قَالَ: اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, একজন মহিলাকে বিবাহ করতে যাচ্ছেন এমন একজন সাহাবীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
তুমি কি মেয়েটিকে দেখেছ?
সাহাবি বললেন, না।
তিনি বললেন, “যাও, তাকে দেখ।” [মুসলিম ১৪২৪,]

▪️ আরেকটি হাদিসে এসেছে,

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَقَدِرَ أَنْ يَرَى مِنْهَا بَعْضَ مَا يَدْعُوهُ إِلَيْ نكاحها فَلْيَفْعَلْ
“তোমাদের কেউ যখন কোন মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা করে তখন যতদূর সম্ভব তাকে দেখে নিয়ে এ মর্মে নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত যে, মেয়েটির মধ্যে এমন কিছু আছে যা তাকে বিয়ে করার প্রতি আকৃষ্ট করে।” [আহমদ ও আবু দাউদ। সনদ হাসান-সহিহুল জামে, হা/৫০৬]

❑ বর-কনে একে অপরকে দেখাদেখি বিষয়ে ইসলামি সীমারেখা ও পদ্ধতি:

এ বিষয়ে শাইখ বিন বাজ ও উসাইমিন রাহ. এর ফতোয়া উপস্থাপন করা হল:

প্রশ্ন: পূর্ণ সাজসজ্জা সহকারে এবং মাথায় হিজাব ব্যতিরেকে পাত্রীকে পাত্রের দেখার বিধান কি?
উত্তর:
এতে দোষের কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রীকে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই পাত্রের জন্য সুন্নত হল, পাত্রীকে দেখা-তার মুখমণ্ডল, চুল, হস্তদ্বয়, পদযুগল দেখা। এগুলো দেখতে কোনও সমস্যা নেই। তবে নির্জনে নয়। নির্জনতা ব্যতিরেকে তার বাবা, মা ইত্যাদি লোকজনের উপস্থিতে দেখবে। অথবা ঘরের ছিদ্র, দেয়ালের আড়াল বা এ জাতীয় দূরবর্তী কোনও স্থান থেকে দেখবে। এতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু নির্জন স্থানে বা একাকী তাকে দেখা জায়েজ নয়। যদি সে তার মায়ের সাথে বা বোনের সাথে বা ফুফুর সাথে থাকা অবস্থায় তার সাথে একত্রিত হয় তাহলে তাতে দোষের কিছু নেই। বরং এটি উত্তম। সে তাকে দেখবে। কারণ এই দেখাদেখিটা বিয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহর তাওফিক লাভ এবং তাদের মাঝে ভালবাসা সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।
– সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. [binbaz]

🗨️ শাইখের আরও একটি ফতোয়া:

প্রশ্ন: কোনও যুবক যদি কোনও যুবতীকে বিয়ে করতে চায় তাহলে কি তাকে দেখা ওয়াজিব? অনুরূপভাবে উক্ত যুবতীর জন্য তার মাথার চুল খোলা কি জায়েজ আছে যেন বরের নিকট তার সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে প্রকাশিত হয়?

উত্তর:
দেখতে অসুবিধা নেই তবে তা ওয়াজিব নয়। বরং একে অপরকে দেখা মোস্তাহাব। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন যে, বিবাহেচ্ছু পাত্র যেন পাত্রীকে দেখে নেয়। এটা তাদের মাঝে সম্প্রতি সৃষ্টিতে সহায়ক।
অতএব যদি সে তার মুখমণ্ডল, হস্তদ্বয় ও মাথার কাপড় খুলে তাহলে অধিক বিশুদ্ধ মতে কোনও সমস্যা নেই। কোনও কোনও আহলুল ইলম (আলেম) বলেন যে, শুধু চেহারা ও দু হাতের কব্জি দেখাই যথেষ্ট। তবে সঠিক হল, মাথা, মুখমণ্ডল, দু হাতের তালু, দু পায়ের পাতা দেখতে কোনও অসুবিধা নেই- উল্লেখিত হাদিসের আলোকে।
তবে তার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করা জায়েজ নয়। বরং অবশ্যই তার বাবা, ভাই ইত্যাদি সাথে থাকতে হবে। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ
“কোনও পুরুষ কোনও নারীর সঙ্গে নির্জনতা অবলম্বন করবে না মাহরাম পুরুষ সাথে থাকা ব্যতিরেকে” [বুখারি ও মুসলিম]

তিনি আরও বলেছেন,
«ألا لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ»
“সাবধান! কোন পুরুষ কোনও মহিলার সাথে একান্তে নির্জনে গেলেই তাদের সাথে তৃতীয় জন হবে শয়তান।” [আহমদ ও তিরমিযি। সহিহুল জামে ২৫৪৬-আলবানি]

🗨️ শাইখ উসাইমিন রহ. বলেন,
والذي يجوز للخاطب أن ينظر إليه من مخطوبته مثل الوجه والقدمين والرأس والرقبة بشرط ألاّ يخلو بها،
“পাত্রের জন্য পাত্রীকে যা দেখা জায়েজ তা হল, যেমন: চেহারা, দু পায়ের পাতা, মাথা ও ঘাড়। শর্ত হল, তার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করবে না।”
الله اعلم
অনুবাদ ও গ্রন্থনা:
♦️আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল♦️

বিয়ে বিলম্বে জিন ও যাদুর প্রভাব এবং আমাদের করণীয়

 প্রশ্ন: আমার প্রশ্ন হল, বরপক্ষ মেয়ে দেখতে এসে চলে যায়। যাওয়ার পর তারা আর কিছু বলে না। যখন আসে মনে হয় যেন, তাদের মেয়ে পছন্দ হয়েছে। কিন্তু যাওয়ার পর আর কোনও কথা বলেন না। এটা কীসের লক্ষণ? এখানে কি জিনের প্রভাবে কোনও কিছু হচ্ছে? আর এর জন্য কি কোনও হুজুরের কাছে যাওয়া যায়? এর থেকে কীভাবে বাঁচতে পারবো? দয়া করে যদি উত্তরটা দিতেন খুব উপকার হতো।

উত্তর:
সাধারণত: বিয়ের জন্য ছেলে-মেয়ে পছন্দ হওয়া বা না হওয়ার কিছু কারণ থাকে। সুতরাং কোনও মেয়েকে পাত্র দেখে যাওয়ার পরবর্তীতে বিয়েতে আগ্রহ প্রকাশ না করার কী কারণ থাকতে পারে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সরাসরি প্রশ্ন করে অথবা ঘটকের মাধ্যমে তা জানার চেষ্টা করতে হবে। যেমন: পাত্রীর অতিরিক্ত বয়স হওয়া অথবা পাত্রী সম্পর্কে তাদের প্রত্যাশিত রূপ-সৌন্দর্য, শিক্ষা-দীক্ষা, চাকুরী, অর্থ-সম্পদ, বংশমর্যাদা ইত্যাদি চাহিদা পূরণ না হওয়া।
এটাও মনে রাখতে হবে যে, অনেক সময় আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিত জন ইত্যাদি তৃতীয় পক্ষের কিছু মানুষ রূপী শয়তান ওঁত পেতে থাকে। তারা এখানে সময়মত হস্তক্ষেপ করে বিয়ে ভঙ্গ করার পেছনে অতি গোপনে ও সুকৌশলে কাজ করে। সুতরাং এ বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।

কিন্তু বিয়ে বিলম্ব হলেই বা পাত্র পক্ষ থেকে অনাগ্রহের বিষয় বুঝতে পারলেই তাকে জিনের আসর, যাদু দ্বারা বিয়ে আটকিয়ে রাখা ইত্যাদি ধারণা করা ঠিক নয়। যদিও তা অসম্ভব নয়। খারাপ জিনেরাও নানাভাবে মানুষের ক্ষতি করে এবং যাদু দ্বারাও মানুষের অনিষ্ট সাধন করা হয়। এগুলো অবাস্তব নয়।

এমন আশঙ্কা থাকলে সকাল-সন্ধ্যার জিকিরগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার করে এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর এক বার করে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করা এবং ঘুমের পূর্বে তিন কুল পাঠ করে শরীরে মাসেহ করা ইত্যাদি আমলগুলো করতে হবে। জিন-শয়তান থেকে আত্মরক্ষার বিশেষ দুআগুলোও পাঠ করার চেষ্টা হবে। তাহলে এ জাতীয় ক্ষতিকর কোনও কিছু থাকলে মহান আল্লাহ সেগুলো থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।

তৎসঙ্গে রাব্বুল আলামীনের নিকট সুপাত্র লাভের জন্য পরম আন্তরিকতা ও বিনয়াবনত ভাবে দুআ এবং সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না।

কিন্তু আমাদের সমাজের তথাকথিত গণক, ঠাকুর, কবিরাজ, যাদুকর, জিন তাবেকারী ইত্যাদির থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। কারণ এরা অধিকাংশই তাবিজ-কবজ, কুফরি কালাম, যাদু-টোনা, নানা শয়তানি তেলেসমাতি, হারাম পন্থায় জিন হাজির ইত্যাদি কার্যক্রম করে থাকে। এরা হল, ধান্ধা বাজ অর্থলোভী ও ঈমান লুটেরা দজ্জাল। তবে যদি কুরআন-সুন্নাহ ও বিশুদ্ধ আকিদা লালন কারী কোনও যোগ্য আলিমের পরামর্শ গ্রহণ করা যায় তাহলে দোষ নেই।
আল্লাহ আমাদের সমস্যাগুলো দূর করুন, সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন এবং আমাদের সৎ নিয়তগুলো পূর্ণ করুন। আমিন। নিশ্চয় তিনি বান্দার সকল সমস্যার সমাধান দাতা ও মনোবাসনা পূরণ কারী।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতার জন্য বক্তার মধ্যে কী কী গুণ-বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক?

 ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতার জন্য বক্তার মধ্যে কী কী গুণ-বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক?

(বক্তা, শ্রোতা এবং মাহফিলের আয়োজক সকলের জানা জরুরি)
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
ওয়াজ মাহফিলে বক্তা নির্বাচন ও বক্তৃতার ক্ষেত্রে আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা খুবই শোচনীয়। এ ক্ষেত্রে চলছে চরম দুরাবস্থা ও ভয়াবহ শরিয়ত বহির্ভূত কার্যক্রম। তাই এ ব্যাপারে সর্বস্তরের মুসলিমদের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে।
কারণ— আমাদের অজানা নয় যে, বর্তমান সময়ে কারও চাপার জোর, সুললিত কণ্ঠ, হাসানো, কাঁদানো, কৌতুক, ড্যান্স, অভিনয়, গান-গজল, ইত্যাদি দ্বারা মাহফিল জমানোর মত কৌশল, উস্কানি ও হুংকার মার্কা কথাবার্তা দিয়ে সাধারণ জনগণকে উত্তেজিত করার মত যোগ্যতা থাকলেই তিনি বিশাল বক্তা ও আন্তর্জাতিক মুফাসসিরে কুরআনে পরিণত হন। অনুরূপভাবে সার্টিফিকেট, পদবী, সুন্দর চেহারা, ইংরেজি বলার দক্ষতা থাকলে তিনি বিশাল আল্লামা!
মাহফিলগুলোতে বিদেশ থেকে আগত, রেডিও-টিভির ভাষ্যকার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ২৬ ইঞ্চি বক্তা, শিশু বক্তা, নারী থেকে পুরুষের রূপান্তরিত হওয়া বক্তা, নওমুসলিম বক্তা ইত্যাদি নানা অদ্ভুত উপাধি ও বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত বক্তার চাহিদা তুঙ্গে। যেন এগুলোই বক্তা নির্বাচনের মানদণ্ড! কিন্তু প্রকৃত পক্ষে বক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এগুলো আদৌ শরয়ী মানদণ্ডের মধ্যে পড়ে না।

যার কারণে— বিশাল বিশাল ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে, সেগুলোতে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হচ্ছে, এ উপলক্ষে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা চলছে, এলাকার যুবকদের মাঝে মাহফিল নিয়ে অনেক উত্তেজনা কাজ করে, মাহফিল উপলক্ষে এলাকায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, এগুলো অধিকাংশই সামাজিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক রুটিন ওয়ার্ক এবং অর্থ কালেকশনের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ওয়াজ মাহফিল থেকে মানুষ প্রত্যাশিত উপকার লাভ করে না, সেগুলো থেকে হেদায়েতের আলো বিচ্ছুরিত হয় না এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সঠিক দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য পাওয়া যায় না।

এর কারণ—অধিকাংশ ওয়াজ মাহফিল আয়োজন কারীদের নিয়ত ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সঠিক নয়। ফলে তারা বক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরয়ী মানদণ্ড বিচার না করে মাহফিল জমানো ও আকর্ষণ সৃষ্টি করার মত বক্তা অনুসন্ধান করে। ফলশ্রুতিতে একশ্রেণীর তথাকথিত বাজারি ও পেশাদার বক্তা আরও দ্বিগুণ উৎসাহে মানুষকে কিভাবে আকর্ষণ করে স্টেজ মাতানো যায় সেই চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে—যা খুবই দুর্ভাগ্য জনক এবং শরয়ী দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য।

যাহোক, নিম্নে আমরা ইসলামি আইন বিষয়ক বিশ্বকোষ ‘আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা’ থেকে ওয়ায়েজ বা ধর্মীয় বক্তার মধ্যে কী কী শর্তাবলী এবং শিষ্টাচার থাকা কর্তব্য সেগুলো উপস্থাপন করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তওফিক দানকারী:

❑ ওয়াজ কারী বা বক্তার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা:

◈ এক. শরিয়তের বিধিবিধান আবশ্যিকভাবে অর্পিত হওয়ার মত উপযুক্ত হওয়া অর্থাৎ তিনি সুস্থ বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হবেন।
◈ দুই. ন্যায়-নীতি ও আদর্শবান হওয়া।
◈ তিন. মুহাদ্দিস হওয়া। অর্থাৎ তিনি হাদিস শাস্ত্রের সাথে গভীর সম্পর্ক রাখবেন, হাদিস পাঠ করবেন, হাদিসের শব্দাবলীর অর্থ বুঝবেন এবং তার শুদ্ধতা-অশুদ্ধতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখবেন-যদিও তা কোনও বড় মুহাদ্দিস অথবা কোনও ফিকহবিদের গবেষণালব্ধ তথ্যাদির ভিত্তিতে হয়।

◈ চার. মুফাসসির হওয়া। অর্থাৎ তিনি কুরআনের দুর্বোধ্য ও কঠিন শব্দাবলীর অর্থ জানবেন এবং (বাহ্যত) সমস্যাপূর্ণ বিষয়গুলোর সঠিক সমাধান জানবেন এবং সে সম্পর্কে পূর্বসূরি তাফসির কারকদের থেকে বর্ণিত তাফসির সম্পর্কে জ্ঞান রাখবেন।
– পাশাপাশি তার জন্য এমন বাগ্মী ও সুভাষী হওয়া উত্তম যে, তিনি মানুষের ধারণ ক্ষমতার বাইরে কথা বলবেন না। সেই সাথে তিনি হবেন নম্র, ভদ্র ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন।
– তিনি দীনের বিষয়গুলোকে মানুষের সামনে সহজভাবে উপস্থাপন করবেন; জটিলতা সৃষ্টি করবে না। [আবজাদুল উলুম ২/৫৩৬-প্রকাশনী: দারুল কুতুবুল ইলমিয়া]

❑ বক্তার কতিপয় শিষ্টাচার:

ওয়ায়েজ (বক্তা), আলেম এবং শিক্ষকের অন্যতম শিষ্টাচার হল, তিনি এমন সব কথাবার্তা, কার্যক্রম ও আচার-আচরণ পরিত্যাগ করবেন যা বাহ্যত ভুল মনে হয়- যদিও তিনি এ ক্ষেত্রে নির্ভুল হন। কারণ তিনি এমনটি করার কারণে (সাধারণ মানুষের মাঝে) বিভিন্ন সমস্যা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। যেমন:

❂ কারও মধ্যে এমন বিষয় জানা গেলে অনেকেই ধারণা করে বসবে যে, এটা সর্বাবস্থায় জায়েজ। ফলে তা শরিয়তের বিধান বা আমল যোগ্য বিষয়ে পরিণত হবে- যে বিশেষ পরিস্থিতিতে তা করা হয়েছিলো তার মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকবে না।
❂ বক্তা যদি নাজায়েজ কর্মে জড়িত হয় তাহলে মানুষ তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে, তার সমালোচনা করবে এবং তার থেকে দূরে সরে যাবে।
❂ মানুষ তার ব্যাপারে খারাপ ধারণা করে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে এবং মানুষকেও তার ব্যাপারে সাবধান করবে যেন তার থেকে কেউ ইলম গ্রহণ না করে।
❂ তার সাক্ষ্য ও বর্ণনা অগ্রহণযোগ্য হবে। তার দেওয়া ফতোয়ার আমল প্রত্যাখ্যাত হবে এবং তার ইলমি কথা-বার্তার ব্যাপারে মানুষের মন থেকে আস্থা চলে যাবে ইত্যাদি।

❑ ওয়াজ মাহফিলে অর্থ কালেকশন নাজায়েজ:

ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে এসেছে, “বক্তার জন্য ওয়াজ মাহফিলে মানুষের কাছে কোনও কিছু চাওয়া জায়েজ নাই। কারণ তা ইলম এর মাধ্যমে দুনিয়া উপার্জন।” [ফাতাওয়া হিন্দিয়াহ ৫/৩১৯’
[উৎস: আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যা বা কুয়েতি ফিকাহ বিশ্বকোষ, ৪৪/৮১-৮৩,অনলাইন ভার্সন-সংক্ষেপায়িত]
আল্লাহ তাআলা যেন, আমাদেরকে সবচেয়ে সঠিক ও সুন্দর পদ্ধতিতে আল্লাহর দীনের আহ্বানকে গণ মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়ার তাওফিক দান করেন আর আমরা যে সব হেদায়েতের কথা মানুষকে বলবো তা যেন কর্মে বাস্তবায়ন করতে পারি রাব্বুল আলামিনের নিকট সেই তাওফিক কামনা করি।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

Translate