Thursday, December 23, 2021

আকীদা বিষয়ক ৫০টি প্রশ্নোত্তর



▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স,মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব
দাঈ ও গবেষক, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার,সৌদী আরব
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لانبي بعده
সুপ্রিয় দ্বীনী ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
অত:পর ‘আকীদা বিষয়ক ৫০টি প্রশ্নোত্তর’ শীর্ষক ছোট্ট এই পুস্তিকাটিতে ইসলামের অত্যন্ত মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ৫০টি প্রশ্নোত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে-যেগুলো সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।
এখানে যে সব বিষয় আলোচিত হয়েছে সেগুলো হল:
• মহান আল্লাহর পরিচয়
• ইসলাম এবং তার রোকন সমূহ
• ঈমান ও তার রোকন সমূহ
• তাওহীদ ও তার প্রকারভেদ
• শিরক ও তার প্রকারভেদ।
• কুফরী ও তার প্রকারভেদ
• মুনাফেকি এবং তার প্রকারভেদ
• কালিমার অর্থ এবং শর্তাবলী
• ইবাদতের পরিচয় এবং তা কবুলের শর্তাবলী
• তাগুতের পরিচয় ও তার প্রকারভেদ
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করে জ্ঞানের আলোকিত পথ ধরে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
-বিনীত, আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
❖ ১ম প্রশ্ন: আমার, আপনার এবং পৃথিবীর সব কিছুর স্রষ্টা ও পালনকর্তা কে?
উত্তর: আমার, আপনার এবং সারা জাহানের একমাত্র স্রষ্টা ও পালনকর্তা হলেন মহান আল্লাহ। তিনি দয়া করে আমাকে সহ পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু লালন-পালন করছেন।

❖ ২য় প্রশ্ন: আমাদের দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থার নাম কি?
উত্তর: আমাদের দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থার নাম হল ইসলাম। ইসলাম মানে হল, আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর প্রতি ভালবাসা রেখে এবং তাঁর কাছেই আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পরিপূর্ণভাবে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।

❖ ৩য় প্রশ্ন: আমরা কিভাবে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে পারি?
উত্তর: আমরা এ বিশাল সৃষ্টি জগতের দিকে তাকালে আল্লাহর পরিচয় পাই। ঐ সুবিশাল আকাশ,এই বিস্তীর্ণ পৃথিবী, চাঁদ, সুরুজ, দিন ও রাতের আবর্তন ইত্যাদির দিকে গভীরভাবে তাকালে বুঝতে পারি এ বিশ্বচরাচর একাকী সৃষ্টি হয়ে যায়নি। বরং এসবের পেছনে রয়েছে একজন সুনিপুণ স্রষ্টার হাত। আর তিনি হলেন,মহান আল্লাহ তা’আলা।

❖ ৪র্থ প্রশ্ন: আল্লাহ কোথায় আছেন?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা সাত আসমানের উপর আরশে আযীমে অবস্থান করেন। তিনি তাঁর সব সৃষ্টি থেকে আলাদা।

❖ ৫ম প্রশ্ন: আল্লাহ কি স্বত্বাগতভাবে আমাদের সাথে থাকেন?
উত্তর: আল্লাহ স্বীয় স্বত্বায় আরশে আযীমের উপর অবস্থান করেন। কিন্তু তাঁর জ্ঞান আমাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে। তিনি সব কিছু দেখছেন। সব কিছু শুনছেন। তার শক্তি এবং ক্ষমতা সব জায়গায় বিরাজমান। আল্লাহ তা’আলা মূসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম)কে লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা ভয় পেও না। আমি তোমদের সাথে আছি। সব কিছু দেখছি এবং শুনছি।” (সূরা ত্ব-হাঃ ৪৬)

❖ ৬ষ্ঠ প্রশ্ন: আল্লাহর অলি কারা?
উত্তর: অলি শব্দের অর্থ, আল্লাহর প্রিয়পাত্র বা বন্ধু। তারাই আল্লাহর প্রিয়পাত্র হন যারা সত্যিকার ভাবে আল্লাহকে ভয় করে জীবন পরিচালনা করেন, সৎ আমল করেন, তাঁর আদেশগুলো বাস-বায়ন করেন এবং নিষেধ কৃত বিষয়গুলো থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখেন এবং কুরআন ও হাদিসকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখেন।

❖ ৭ম প্রশ্ন: কি পদ্ধতিতে আমাদের আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করা উচিৎ?
উত্তর: আমাদের কর্তব্য হল, এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করব যাতে সবটুকু ইবাদত শুধু তাঁর জন্যই নিবেদিত হয়। অন্য কোন সৃষ্টিকে তাঁর সাথে শরীক বা অংশীদার করা না হয়।

❖ ৮ম প্রশ্ন: কি দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে নবীদেরকে প্রেরণ করেছিলেন?
উত্তর: যুগে যুগে সকল নবী ও রসূলগণকে প্রেরণের উদ্দেশ্য হল, তারা মানুষকে এ আহবান করবেন যে, মানুষ যেন কেবল আল্লাহর ইবাদত করে এবং তার সাথে অন্য কাউকে শরীক না করে।
আরও উদ্দেশ্য হল, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট অজ্ঞতার অজুহাত পেশ করতে না পারে।

❖ ৯ম প্রশ্ন: ইসলাম কাকে বলে?
উত্তর: আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নিয়ে পরিপূর্ণভাবে তার আনুগত্য করা এবং শিরক ও শিরক পন্থীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করাকেই ইসলাম বলে।

❖ ১০ম প্রশ্ন: ইসলামের মূল স্তম্ভ কয়টি ও কি কি?
উত্তর: ইসলামের মূল স্তম্ভ ৫টি। সেগুলো হল:
• ১) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল- এ কথার স্বীকৃতি প্রদান করা।
• ২) নামায প্রতিষ্ঠা করা।
• ৩) যাকাত আদায় করা।
• ৪) রামাযান মাসে রোযা পালন করা।
• ৫) যে ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম তার জন্য হজ্জ সম্পাদন করা।

❖ ১১তম প্রশ্ন: ঈমান কাকে বলে?
উত্তর: অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি এবং কাজে বাস্তবায়নকে ঈমান বলে।
❖১২তম প্রশ্ন: ঈমান কি বাড়ে ও কমে?
উত্তর: হ্যাঁ, কথা ও কাজ অনুযায়ী ঈমান বাড়ে ও কমে।

❖১৩তম প্রশ্ন: ঈমান বাড়ে ও কমে এ কথার অর্থ কি?
উত্তর: একথার অর্থ হচ্ছে, যে ব্যক্তি যত বেশী আল্লাহর আনুগত্য করবে এবং ভাল কাজ করবে তার ঈমান তত বৃদ্ধি পাবে। আর যে যত পাপ ও অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়বে তার ঈমান তত কমবে।

❖ ১৪তম প্রশ্ন: ঈমানের মূল স্তম্ভ কয়টি ও কি কি?
উত্তর: ঈমানের মূল স্তম্ভ ৬টি। যথা:
• ১) আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস
• ২) ফেরেশতাগণের প্রতি বিশ্বাস
• ৩) আসমানি কিতাব সমূহের প্রতি বিশ্বাস
• ৪) নবী ও রসূলগণের প্রতি বিশ্বাস
• ৫) পরকালের প্রতি বিশ্বাস
• ৬) ভাগ্যের ভাল মন্দের প্রতি বিশ্বাস।

❖ ১৫তম প্রশ্ন: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অর্থ কি?
উত্তর: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অর্থ হচ্ছে, এ বিশ্বাস করা যে আল্লাহ তা’আলা রিজিক দাতা, সৃষ্টিকর্তা, সব কিছুর পরিচালক, আসমান ও জমিনের সমস্ত রাজত্ব এবং কর্তৃত্ব তাঁর হাতে। সমস্ত সৃষ্টি তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি যাবতীয় ইবাদত পাওয়ার একমাত্র অধিকারী; অন্য কেউ নয়। তাঁর রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর নাম এবং তিনি অসংখ্য পরিপূর্ণগুণের অধিকারী।

❖ ১৬তম প্রশ্ন: ফেরেশতা কারা?
উত্তর: তাঁরা আল্লাহর এমন এক সৃষ্টি যাদেরকে তিনি নূর (আলো) দ্বারা সৃষ্টি করেছে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে যে কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন বা যে সব কাজ করতে আদেশ করেছেন তা পরিপূর্ণভাবে পালন করেন। তাতে বিন্দুমাত্র অবাধ্যতা করেন না।
❖ ১৭তম প্রশ্ন: আসমানি গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং নবী-রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের অর্থ কি?
উত্তর: নবী রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের অর্থ হল, আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে অনেক নবী প্রেরণ করেছেন যেমন, নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা, (আলাইহিমুস সালাম) প্রমুখ । তাদের প্রতি আল্লাহ তা’আলা মানবজাতির দিকনির্দেশনার জন্য আসমানি গ্রন্থ নাজিল করেছেন। যেমন, তাওরাত, ইনজিল, জবুর,ইত্যাদি। নবীগণ তাদের সমসাময়িক মানবগোষ্ঠীকে এক আল্লাহর দাসত্ব করার জন্য আহবান করেছেন এবং শিরক করা থেকে নিষেধ করেছেন।
নবী-রাসূলদের ধারাবাহিকতার সব শেষে আগমন করেছেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁর প্রতি আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেছেন আল কুরআন। এ কুরআনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল আসমানি গ্রন্থকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। তিনি এ কুরআনকে পরিপূর্ণভাবে বাস্ববায়ন করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তাঁর দীর্ঘ ২৩ বছরের নবুওয়তী যিন্দেগীতে। তাই যে কোন ইবাদত অবশ্যই হতে হবে কুরআনের শিক্ষা এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্নাহ তথা তাঁর নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসারে।

❖ ১৮তম প্রশ্ন: পরকালে বিশ্বাসের অর্থ?
উত্তর: পরকালে বিশ্বাসের অর্থ হল, একথা বিশ্বাস করা যে, মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি জিনিসের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ দিয়েছেন। সে মেয়াদ শেষ হলে সবাইকে অবশ্যই মৃত্যু বরণ করতে হবে। এরপর আল্লাহ সকলকে কবর থেকে পুনরুত্থিত করবেন এবং কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ নেয়ার পর প্রত্যেককে তাদের কাজের যথোপযুক্ত প্রতিদান দিবেন। ভাল কাজের বিনিময়ে তাদেরকে দেয়া হবে ভাল প্রতিদান। আর পাপ ও অন্যায়ের বিনিময়ে প্রদান করবেন কঠিন শাস্তি।
আমাদেরকে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, যে মহান স্রষ্টা এ সুন্দর দেহাবয়বকে যেমনিভাবে প্রথমবার সৃজন করেছেন তিনি পুণরায় তাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

❖ ১৯তমঃ ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রাত বিশ্বাসের অর্থ কী?
এর অর্থ হল, এ জীবনে ভাল-মন্দ যাই ঘটুক না কেন এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, তা অবশ্যই আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছা ও পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে। কারণ, মহাপ্রজ্ঞাবান আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অনেক পূর্বেই নির্ধারণ করে রেখেছেন।

❖ ২০তম প্রশ্ন: “লা-ইলাহা ইল্লালাহ” এর ব্যাখ্যা কী?
উত্তর: ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’ অর্থ হল, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই। বরং যাবতীয় ইবাদত ও উপাসনা পাওয়ার একমাত্র হকদার তিনি। তিনি ব্যতিরেকে যত কিছুর ইবাদত করা হচ্ছে সবই মিথ্যা এবং ভ্রান্ত।

❖ ২১তম প্রশ্ন: ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর ব্যাখ্যা কি?
‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর ব্যাখ্যা হল, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশগুলো বাস্তবায়ন করা। তিনি যে সকল সংবাদ ও তথ্য দান করেছেন সেগুলোকে নির্ভুল ও সত্য বলে মেনে নেয়া। তিনি যেসকল বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন বা সতর্ক করেছেন সেগুলো থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর দেখানো পদ্ধতি ব্যতিরেকে ইবাদত না করা।

❖ ২২তম প্রশ্ন: ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’ এর কোন শর্ত আছে কি?
উত্তর: তাওহীদের স্বীকৃতি জ্ঞাপক এই মহান বাণীটির জন্য ৮টি শর্ত রয়েছে। সে শর্তগুলো হল:
• ১) ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’ এর অর্থ জেনে-বুঝে স্বীকৃতি দেয়া। এর অর্থ বা তাৎপর্য না বুঝে পাঠ করলে কোন লাভ হবে না।
• ২) দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে স্বীকৃতি দেয়া। এতে কোন সন্দেহ ও অস্পষ্টতা রাখা যাবে না।
• ৩) নির্ভেজাল মনে স্বীকৃতি দেয়া। কোন শিরকী ধ্যান-ধারণা নিয়ে পাঠ করলে কোন লাভ নেই।
• ৪) সত্য মনে করে স্বীকৃতি দেয়া। কপটতা থেকে মুক্ত থাকা অপরিহার্য।
• ৫) ভালবাসা সহকারে স্বীকৃতি দেয়া। মনের মধ্যে ঘৃণা বা ক্রোধ জমা রেখে স্বীকৃতি দিলে কোন উপকার হবে না।
• ৬) পূর্ণ আনুগত্যের মন-মানসিকতা নিয়ে স্বীকৃতি দেয়া। পরিত্যাগ করার বা অমান্য করার মানসিকতা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
• ৭) মনেপ্রাণে নিঃশর্ত ভাবে গ্রহণ করা। এ বিষয়ে কোন প্রতিবাদ করা বা প্রশ্ন তোলা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
• ৮) আল্লাহ ছাড়া অন্য যত কিছুর ইবাদত করা হচ্ছে সব অস্বীকার করা।

❖ ২৩তম প্রশ্ন: আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে যে সব বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন সেগুলোর মধ্যে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বড়?
উত্তর: সে বিষয়টি হল তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ।

❖২৪তম প্রশ্ন: তাওহীদ কি?
উত্তর: তাওহীদ হল, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা এবং আল্লাহ তা’আলা নিজে কুরআনে বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে তার যে সকল নাম ও গুণাবলীর কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলোকে কোনরূপ ব্যাখ্যার আশ্রয় না নিয়ে সহজভাবে মেনে নেয়া।

❖ ২৫তম প্রশ্ন: তাওহীদ কত প্রকার?
উত্তর: তাওহীদ তিন প্রকার। যথা:
• ১) প্রকার: রুবূবিয়া
• ২) তাওহীদুল উলূহিয়া
• ৩) তাওহীদুল আসমা ওয়াস্‌ সিফাত।

❖২৬ তম প্রশ্ন: ‘তাওহীদুর রুবূবিয়া’ কাকে বলে?
উত্তর: সৃষ্টি করা, রিজিক দান করা, বৃষ্টি বর্ষণ, জীবন দান, মৃত্যু দান ইত্যাদি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আল্লাহকে এক মনে করাকে তাওহীদে রুবূবিয়া বলা হয়।

❖২৭তম প্রশ্ন: ‘তাওহীদুল উলূহিয়া’ কাকে বলে?
উত্তর: নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ, দু’আ, মানত ইত্যাদি বান্দার যত প্রকার ইবাদত-বন্দেগী হতে পারে সবকিছুর একমাত্র অধিকারী আল্লাহকে মনে করাকে তাওহীদে উলূহিয়া বলা হয়।

❖ ২৮তম প্রশ্ন: ‘তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত’ কাকে বলে?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা নিজে কুরআনে অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসে আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে যে সব কথা বলেছেন সেগুলো মনে প্রাণে মেনে নেয়া। এ ক্ষেত্রে আল্লাহর কোন গুণকে অস্বীকার করা যাবে না বা তাতে কোন শব্দগত বা অর্থগত বিকৃতি সাধন করা যাবে না। কিংবা সেগুলোর কোন ধরণ বা আকৃতি কল্পনা করা যাবেনা। বরং এ বিশ্বাস পোষণ করতে হবে যে, এ সমস্ত গুণাবলী অবশ্যই সত্য কিন্তু তা মহান আল্লাহর জন্য যেমন হওয়া উচিৎ তেমনই।

❖ ২৯তম প্রশ্ন: ইবাদত বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা যে সমস্ত কথা বা কাজে খুশী হন চাই তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য হোক তাকে ইবাদত বলে।

❖৩০তম প্রশ্ন: ইবাদতের কোন শর্ত আছে কি?
উত্তর: ইবাদতের কয়েকটি শর্ত রয়েছে। সেগুলো হল:
• ১) ইখলাস থাকা অর্থাৎ যে কোন কাজ নির্ভেজাল চিত্তে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কাজ করা।
• ২) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো পদ্ধতি অনুসারে সে কাজটি করা।

❖ ৩১তম প্রশ্ন: ইবাদতের কতিপয় উদাহরণ দিন।
উত্তর: নামায রোযা, হজ্জ, যাকাত, ভয়, আশা, সাহায্য চাওয়া, বিপদ থেকে উদ্ধার কামনা ইত্যাদি যে সব কাজ আল্লাহ তা’আলা আমদেরকে করার জন্য আদেশ প্রদান করেছেন সবই আল্লাহর ইবাদত।

❖ ৩২তম প্রশ্ন: আল্লাহ তা’আলা আমদেরকে যে সব কাজ থেকে নিষেধ করেছেন সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ কোনটি?
উত্তর: সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং মারাত্মক হচ্ছে আল্লাহর সাথে শিরক করা।

❖৩৩তম প্রশ্ন: শিরক কী?
উত্তর: কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা শিরক। যেহেতু মহান আল্লাহ তো আমাকে, আপনাকে তথা সমগ্র বিশ্বকে একাই সৃষ্টি করেছেন।
❖ ৩৪তম প্রশ্ন: শিরক কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: শিরক তিন প্রকার। যথা:
• ১) বড় শিরক
• ২) ছোট শিরক
• ৩) গোপন শিরক।

❖ ৩৫তম প্রশ্ন: বড় শিরক বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: কোন ইবাদত যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর নামে করা হয় তবে সেটা হল বড় শিরক। কোন মুসলমান এ শিরক করলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় এবং তার পূর্বের সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। এমনকি তওবা না করে এ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

❖ ৩৬তম প্রশ্ন: বড় শিরক কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: বড় শিরক চার প্রকার। তা হল:
• ১) দু’আর ক্ষেত্রে শিরক করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট কিছু চাওয়া বা বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দুআ করা বড় শিরক।
• ২) নিয়তের ক্ষেত্রে শিরক করা। ইবাদত করতে গিয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করা।
• ৩) ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক। আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করার পরিবর্তে কোন পীর, অলী-আউলিয়া বা অন্য কোন সৃষ্টির উপাসনা করা।
• ৪) ভালোবাসার ক্ষেত্রে শিরক। যে ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহ তা’আলা ভালবাসা পাওয়ার উপযুক্ত সে ক্ষেত্রে তাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা।

❖ ৩৭তম প্রশ্ন: ছোট শিরক কি?
উত্তর: যে কাজ করলে বড় শিরকে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেটাই ছোট শিরক। যেমন, লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্যে কিংবা দুনিয়াবি কোন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোন নেক কাজ করা হলে তা ছোট শিরকে রূপান্তরিত হয়।
এ জাতীয় কাজ করলে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হবে না বটে কিন্তু সে অবশ্যই একটি বড় ধরণের পাপ সম্পাদন করল। এ জন্য যে কোন ভাল কাজ করার আগে নিয়তকে পরিশুদ্ধ করার ব্যাপারে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে।

❖ ৩৮তম প্রশ্ন: গোপন শিরক কি?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক নির্ধারিত তকদীরের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করাই হল গোপন শিরক।

❖ ৩৯তম প্রশ্ন: গোপন শিরকের প্রমাণ কি?
উত্তর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “গভীর রাতে একখণ্ড কালো পাথরের উপর দিয়ে একটি কালো পিঁপড়া হেঁটে গেলে তার পায়ের যে আওয়াজ হয় তার চেয়ে আরও বেশী নীরবে আমার উম্মতের মধ্যে গোপন শিরক প্রবেশ করবে।”

❖ ৩৮তম প্রশ্ন: গোপন শিরক কি?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক নির্ধারিত তকদীরের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করাই হল গোপন শিরক।

❖ ৩৯তম প্রশ্ন: গোপন শিরকের প্রমাণ কি?
উত্তর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “গভীর রাতে একখণ্ড কালো পাথরের উপর দিয়ে একটি কালো পিঁপড়া হেঁটে গেলে তার পায়ের যে আওয়াজ হয় তার চেয়ে আরও বেশী নীরবে আমার উম্মতের মধ্যে গোপন শিরক প্রবেশ করবে।”

❖ ৪০তম প্রশ্ন: কুফরী কয় প্রকার ও কি কি?
উত্তর: কুফরী দু প্রকার। যথা:
• ১) বড় কুফরী। যেমন, কেউ আল্লাহ অসি-ত্বকে অস্বীকার করলে বা ইসলামী আদর্শকে ঘৃণা করলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। এ জাতীয় কুফুরী করার কারণে মানুষ ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে কাফের হয়ে যায়।
• ২) ছোট কুফরী। যেমন, কেউ আল্লাহকে অস্বীকার করল না কিন্তু সে আল্লাহর কোন অবদানকে অস্বীকার করল। এ ক্ষেত্রে সে ইসলাম থেকে বের হবে না কিন্তু তা অবশ্যই বিরাট গুনাহের কাজ করল।

❖ ৪১তম প্রশ্ন: বড় কুফরি কয় প্রকার?
উত্তর: বড় কুফরি পাঁচ প্রকার। যথা:
• ১) অস্বীকার করার মাধ্যমে কুফরি করা। আল্লাহ, রাসূল, ফেরেশতা, ইসলামী কোন বিধান যেমন, নামায, পর্দা ইত্যাদি বিষয়কে সরাসরি অস্বীকার করা বড় কুফুরী। যার কারণে একজন মানুষ নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।
• ২) অহংকারের মাধ্যমে কুফুরী করা। যেমন, ইসলাম একটি ‘চিরন্তন সত্য জীবন ব্যবস্থা’ এ কথা জানার পরও অহংকার বশত: ইসলাম বা ইসলামের রীতি-নীতিকে এড়িয়ে চলা।
• ৩) সন্দেহ পোষণ করা।
• ৪) অবাধ্যতা করার মাধ্যমে কুফরি করা।
• ৫) মুনাফেকি করা তথা মনের মধ্যে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ লুকিয়ে রেখে বাহ্যিক ভাবে ইসলাম প্রকাশ করা। এটা জঘন্যতম কুফর।

❖ ৪২তম প্রশ্ন: মুনাফেকি কয় প্রকার?
উত্তর: দু প্রকার। যথা: ১) বিশ্বাসগত ও ২) কর্মগত।

❖ ৪৩তম প্রশ্ন: বিশ্বাসগত মুনাফেকির অর্থ কি? তা কয় প্রকার ও কি কি?
উত্তর: বিশ্বাসগত মুনাফেকির অর্থ হল, মূলত সে ইসলামকে বিশ্বাসই করেনা। বরং বাহ্যিক ভাবে ইসলামকে মেনে চলে মনে হলেও বিশ্বাসগতভাবে সে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষী। ইসলামের ক্ষতি করার জন্য সে এ বেশ ধারণ করেছে।
বিশ্বাসগত মুনাফেকি ৬ প্রকার। যথা:
• ১) আল্লাহ ও রাসূলকে অস্বীকার করা।
• ২) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনিত জীবনাদর্শ ইসলাম এবং ইসলামের মৌলগ্রন্থ কুরআনকে অস্বীকার করা।
• ৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ঘৃণা করা।
• ৪) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনিত জীবনাদর্শকে ঘৃণা করা।
• ৫) ইসলামকে অপমান করা হলে বা ইসলামের পতন হলে মনে মনে আনন্দিত হওয়া।
• ৬) ইসলামের বিজয় বা ইসলামের বিস্তার লাভ করাকে অপছন্দ করা।

❖ ৪৪তম প্রশ্নঃ কর্মগত মুনাফেকীর বৈশিষ্টগুলো কী কী?
উত্তর: কর্মগত মুনাফেকীর চারটি বৈশিষ্ট রয়েছে। সেগুলো হলঃ
• ১) কথায় কথায় মিথ্যা বলা।
• ২) ওয়াদা ভঙ্গ করা বা কথা দিয়ে কথা না রাখা।
• ৩) আমানতের খেয়ানত করা।
• ৪) ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা।

❖ ৪৫তম প্রশ্ন: শিরকে লিপ্ত থাকা অবস্থায় কি কোন আমল গ্রহণযোগ্য হবে?
উত্তর: শিরকে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা’আলার কাছে কোন আমল গ্রহণযোগ্য হবে না। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন: “তারা যদি শিরক করত তবে তারা যত আমল করেছিল সব বরবাদ হয়ে যেত।” (সূরা আন’আমঃ ৮৮)
আল্লাহ আরও বলেন, “আল্লাহ তা’আলা তাঁর সাথে শিরক করাকে অবশ্যই ক্ষমা করবেন না এবং এর নিন্মোস্তরের যে কোন অপরাধ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। যে শিরক করল সে (হেদায়েতের পথ থেকে) অনেক দূরে ছিটকে পড়ল।” (সূরা নিসা: ১১৬)

❖ ৪৬তম প্রশ্ন: ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয় কয়টি ও কি কি?
উত্তর: ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয় দশটি। যথা:
• ১) ইবাদতে ক্ষেত্রে শিরক করা।
• ২) মুশরিকদেরকে মুশরিক মনে না করা বা তাদের কুফরির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা কিংবা তাদেরকে সঠিক পথের অনুসারী মনে করা।
• ৩) আল্লাহ তা’আলার নিকট পৌঁছার উদ্দেশ্যে কোন ‘মাধ্যম’ ধরে তার নিকট দুআ করা বা তার নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করা অথবা তার উপর পরকালে নাজাত পাওয়ার ভরসা করা।
• ৪) এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শের চেয়ে অন্য কোন ব্যক্তির মতাদর্শ উত্তম বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনিত জীবন ব্যবস্থার চেয়ে অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদ শ্রেয়।
• ৫) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশিত কোন বিষয়কে মনে মনে ঘৃণা করা যদিও সে তা পালন করে।
• ৬) দ্বীন-ইসলামের কোন বিষয়কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা হেয় মনে করা।
• ৭) যাদু করা অথবা যাদু-তাবিজ ইত্যাদির মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার মনের মিলন কিংবা বিচ্ছেদ ঘটানো।
• ৮) মুসলমানদের বিরুদ্ধে অমুসলিমদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা।
• ৯) এ বিশ্বাস করা যে, বিশেষ কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শরীয়ত মেনে চলতে বাধ্য নন।
• ১০) ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে চলা, ইসলাম শিক্ষা না করা এবং ইসলাম অনুযায়ী আমল না করা।

❖ ৪৭তম প্রশ্ন: এমন তিনটি বিষয় রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যক। সে বিষয় তিনটি কি?
উত্তর: সে তিনটি বিষয় হল:
• ১) আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা
• ২) দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা
• ৩) নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা।

❖ ৪৮তম প্রশ্ন: তাগুত কাকে বলে?
উত্তর: আল্লাহ ছাড়া যত কিছুর ইবাদত করা হয় সবই তাগুতের অন্তর্ভুক্ত।
৪৯তম প্রশ্ন: তাগুত কতটি এবং মূল তাগুতগুলো কি কি?
উত্তর: তাগুতের সংখ্যা অনেক। তবে সেগুলোর মধ্যে প্রধান হল ৫টি।

❖ ৫০তম প্রশ্ন: প্রধান প্রধান তাগুতগুলো কি কি?
উত্তর: সেগুলো হল:
• ১) শয়তান।
• ২) যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা হলেও তার কোন প্রতিবাদ করেনা বা তাকে ঘৃণা করেনা বরং তাতে রাজি থাকে।
• ৩) যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদতের দিকে মানুষকে আহবান করে এবং এজন্য কাজ করে।
• ৪) যে ব্যক্তি ইলমে গায়ব তথা অদৃশ্যের খবর দিতে পারে বলে দাবি করে ।
• ৫) যে শাসক আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করেন না।

সমাপ্ত

কুরআন ও সহীহ হাদীছের আলোকে জেনে নেই মিরাজের ঘটনা

 

মিরাজের ঘটনা কুরআন ও সহীহ হাদীছের

মাধ্যমে প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
) ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﺳْﺮَﻯ ﺑِﻌَﺒْﺪِﻩِ ﻟَﻴْﻠًﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡِ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺄَﻗْﺼَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺑَﺎﺭَﻛْﻨَﺎ ﺣَﻮْﻟَﻪُ ﻟِﻨُﺮِﻳَﻪُ ﻣِﻦْ ﺁﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻪ
ﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﺍﻟْﺒَﺼِﻴﺮُ (
“পবিত্র ও মহিমাময় তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীর
কিয়দাংশে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম হতে
মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার পরিবেশকে আমি
করেছিলাম বরকতময়। তাঁকে আমার নিদর্শন দেখাবার
জন্যে। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোত, সর্বদ্রষ্টা। (সূরা
বাণী ইস্রাঈলঃ ১)
মেরাজ কখন সংঘটিত হয়েছিল?
মেরাজ কখন হয়েছিল সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট
কোন দলীল পাওয়া যায় না। সুতরাং
২৭ রজব মেরাজ
হওয়ার অনুমান ঠিক নয়। তবে বিশুদ্ধ কথা হল: তায়েফ
থেকে ফেরত আসার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামএর মিরাজের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।
(দেখুন: রাহীকুল মাখতুম)
মিরাজ হয়েছিল স্বশরীরেঃ
ইমাম ইবনুল কায়্যেম (রঃ) বলেনঃ বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে
মিরাজ হয়েছিল স্বশরীরে। তিনি প্রথমে বুরাকে
আরোহন করে মাসজিদুল হারাম থেকে বায়তুল
মাকদিস পর্যন্ত ভ্রমণ করলেন। জিবরীল
ফেরেশতা সাথেই ছিলেন। মসজিদের দরজার
হাতলের সাথে বুরাক বেঁধে সেখানে নেমে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবীদের ইমাম
হয়ে নামায পড়লেন। মাসজিদুল হারাম থেকে বায়তুল
মাকদিস পর্যন্ত ভ্রমণকে ‘ইসরা অর্থাৎ রাত্রির ভ্রমণ
বলা হয়। সেরাত্রেই বায়তুল মাকদিস হতে উর্ধাকাশ
পর্যন্ত মিরাজের ঘটনা সংঘটিত হয়।
আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেছেনঃ আমি একদা কাবাঘরের নিকট ঘুমন্ত
ও জাগ্রত অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। এমন সময়
হিকমত (জ্ঞান) ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের
পেয়ালা আনয়ন করা হলো। আমার বক্ষ হতে পেট
পর্যন্ত ফেঁড়ে যমযমের পানি দিয়ে পেটের
ভিতরের অংশ ধৌত করে তা ঈমান ও হিকমতের
মাধ্যমে পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো। তারপর আমার
নিকট খচ্চরের চেয়ে একটু ছোট এবং গাধার
চেয়ে বড় একটি সাদা রঙ্গের বুরাক নামক একটি বাহন
আনয়ন করা হল। তিনি প্রথমে বুরাকে আরোহন
করে মাসজিদুল হারাম থেকে বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত
ভ্রমণ করলেন। জিবরীল ফেরেশতা সাথেই
ছিলেন। মসজিদের দরজার হাতলের সাথে বুরাক
বেঁধে সেখানে নেমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম নবীদের ইমাম হয়ে নামায পড়লেন।
মাসজিদুল হারাম থেকে বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত
ভ্রমণকে ‘ইসরা অর্থাৎ রাত্রির ভ্রমণ বলা হয়।
অতঃপর তিনি সিঁড়ির মাধ্যমে উর্ধাকাশে ভ্রমণ শুরু
করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেনঃ দুনিয়ার আকাশের নিকটবর্তী হলাম।
জিবরীল ফেরেশতা আমার সাথেই ছিল। উপর
থেকে আগমণকারীর পরিচয় জানতে চেয়ে
জিজ্ঞেস করা হলো, কে? উত্তরে জিবরীল
বললঃ আমি জিবরীল। আবার জিজ্ঞেস করা হলোঃ
আপনার সাথের লোকটি কে? তিনি বললেনঃ মুহাম্মাদ।
বলা হলোঃ তাকে কি আসতে বলা হয়েছে?
জিবরীল বললেনঃ হ্যাঁ। আকাশের ফেরেশতাগণ
বললেনঃ স্বাগতম, শুভ হোক তাঁর আগমণ। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
প্রথম আকাশে আমি আদম (আঃ)এর সাথে সাক্ষাৎ
করে তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি আমাকে স্বাগতম
জানিয়ে বললেনঃ আমার ছেলে ও নবীর আগমণ
শুভ হোক।
দ্বিতীয় আকাশে যাওয়ার সময় আমাদেরকে একই
প্রশ্ন করা হল। সেখানে গিয়ে আমি ঈসা এবং ইয়াহইয়া
(আঃ)এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তাঁরা উভয়ই আমাকে
সমাদর করলেন এবং স্বাগতম জানালেন।
তৃতীয় আকাশে ইউসূফ (আঃ)এর সাথে সাক্ষাৎ করে
তাঁকে সালাম দিলাম। তিনিও আমাকে স্বাতম জানিয়ে
বললেনঃ আমার ভাই ও নবীর আগমণ শুভ হোক।
এমনিভাবে চতুর্থ আকাশে গিয়ে ইদরীস (আঃ)।
পঞ্চম আকাশে হারুন (আঃ)।
ষষ্ঠ আকাশে মূসা (আঃ)এর সাথে দেখা করলাম। মূসা
(আঃ)কে সালাম দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে আসার সময়
তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁকে ক্রন্দনের কারণ
জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! এই
ছেলেটিকে আমার অনেক পরে নবী হয়ে
দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়েছে কিন্তু আমার
চেয়ে অধিক সংখ্যক উম্মাত নিয়ে আমার পূর্বেই
জান্নাতে প্রবেশ করবে।
পরিশেষে সপ্তম আকাশে গমণ করলাম। উপর
থেকে আগমণকারীর পরিচয় জানতে চেয়ে
জিজ্ঞেস করা হলঃ কে? উত্তরে জিবরীল
বললেনঃ আমি জিবরীল। আবার জিজ্ঞেস করা
হলোঃ আপনার সাথের লোকটি কে? তিনি বললেনঃ
মুহাম্মাদ। বলা হলোঃ তাকে কি আসতে বলা
হয়েছে? জিবরীল বললেনঃ হ্যাঁ। আকাশের
ফেরেশতাগণ বললেনঃ স্বাগতম, শুভ হোক তাঁর
আগমণ। সপ্তম আকাশে গিয়ে ইবরাহীম (আঃ)এর
সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি
বললেনঃ আমার সন্তান ও নবীকে স্বাগতম।
মিরাজের রাত্রিতে নবী (সাঃ) যে সমস্ত নিদর্শন
দেখেছেনঃ
মেরাজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ্ তাআলা
বলেনঃ
ﻟِﻨُﺮِﻳَﻪُ ﻣِﻦْ ﺁﻳَﺎﺗِﻨَﺎ (মিরাজ সংঘটিত হয়েছিল) তাঁকে আমার
নিদর্শন দেখাবার জন্যে। (সূরা বাণী ইসরাঈলঃ ১)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রাত্রিতে
অসংখ্য বড় বড় নিদর্শন দেখেছেন। তম্মধ্যে:
১) মানব জাতির পিতা আদম (আঃ)কে দেখেছেন।
তার ডান পাশে ছিলে শহীদদের (জান্নাতীদের)
রূহ এবং বাম পাশে ছিল জাহান্নামীদের রূহ।
২) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম বলেন: অতঃপর
আমার সামনে বায়তুল মামূর উম্মুক্ত করা হলো।
বায়তুল মামূর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে জিবরীল
বললেনঃ এটি হলো বায়তুল মামূর। এতে প্রতিদিন
সত্তর হাজার ফেরেশতা নামায আদায় করে। এক বার
যে সেখান থেকে বের হয়ে আসে কিয়ামতের
পূর্বে সে আর তাতে প্রবেশের সুযোগ
পাবেনা।
৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম বলেন: অতঃপর
আমার জন্যে সিদরাতুল মুনতাহা তথা সিমান্তের কূল
বৃক্ষ উম্মুক্ত করা হল। এই বৃক্ষের ফলগুলো ছিল
কলসীর ন্যায় বড়। গাছের পাতাগুলো ছিল হাতীর
কানের মত বৃহদাকার।
৪) তিনি গাছের গোড়াতে চারটি নদী দেখতে
পেলেন। দু’টি চলে গেছে ভিতরের দিকে এবং
দুটি চলে গেছে বাহিরের দিকে। জিবরীলকে
আমি এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ
ভিতরের দিকে প্রবাহিত নদী দুটি জান্নাতে চলে
গেছে এবং বাহিরের নদী দুটি হলো ফোরাত ও
নীল। ফোরাত ও নীল দেখার অর্থ হল নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর মিশন অচিরেই ঐ
নদী দুটির অঞ্চলে পৌঁছে যাবে এবং ঐ সমস-
অঞ্চলের অধিবাসীরা যুগে যুগে ইসলামের পতাকা
বহন করবে। অর্থ এই নয় যে এদুটি নদী জান্নাত
থেকে বের হয়ে এসেছে।
৫) মিরাজের রাত্রিতে তিনি সিদরাতুল মুনতাহায় জিবরীল
ফেরেশতাকে আসল আকৃতিতে দেখলেন। অথচ
ইতোপূর্বে তিনি আরেকবার দুনিয়াতে তাঁকে
দেখেছিলেন।
৬) তিনি বেনাযীর শাস্তি দেখেছেন। সহীহ
বুখারীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর
দীর্ঘ হাদীছে এসেছে,
ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺃَﺗَﻴْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺟُﻞٍ ﻣُﻀْﻄَﺠِﻊٍ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺁﺧَﺮُ ﻗَﺎﺋِﻢٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺑِﺼَﺨْﺮَﺓٍ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻫُﻮَ ﻳَﻬْﻮِﻱ ﺑِﺎﻟﺼَّﺨْﺮَﺓِ ﻟِﺮَﺃْﺳِﻪِ ﻓَﻴَﺜْﻠَﻎُ ﺭَﺃْﺳَﻪُ
ﻓَﻴَﺘَﻬَﺪْﻫَﺪُ ﺍﻟْﺤَﺠَﺮُ ﻫَﺎ ﻫُﻨَﺎ ﻓَﻴَﺘْﺒَﻊُ ﺍﻟْﺤَﺠَﺮَ ﻓَﻴَﺄْﺧُﺬُﻩُ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺮْﺟِﻊُ
ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺼِﺢَّ ﺭَﺃْﺳُﻪُ ﻛَﻤَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺛُﻢَّ ﻳَﻌُﻮﺩُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻴَﻔْﻌَﻞُ ﺑِﻪِ
ﻣِﺜْﻞَ ﻣَﺎ ﻓَﻌَﻞَ ﺍﻟْﻤَﺮَّﺓَ ﺍﻟْﺄُﻭﻟَﻰ
“আমরা এক শায়িত ব্যক্তির কাছে আসলাম। তার মাথার
কাছে পাথর হাতে নিয়ে অন্য একজন লোক
দাড়িয়ে ছিল। দাড়ানো ব্যক্তি শায়িত ব্যক্তির মাথায়
সেই পাথর নিক্ষেপ করছে। পাথরের আঘাতে তার
মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং পাথরটি বলের মত
গড়িয়ে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। লোকটি পাথর
কুড়িয়ে আনতে আনতে আবার তার মাথা ভাল হয়ে
যাচ্ছে। দাড়ানো ব্যক্তি প্রথমবারের মত আবার
আঘাত করছে এবং তার মাথাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে
দিচ্ছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর
সফরসঙ্গী ফেরেশতাদ্বয়কে জিজ্ঞেস
করলেনঃ কি অপরাধের কারণে তাকে এভাবে শাস্তি
দেয়া হচ্ছে? উত্তরে তারা বললেনঃ এব্যক্তি
কুরআন শিক্ষা করেছিল। কিন্তু কুরআন অনুযায়ী
আমল করেনি এবং সে ফরজ নামাযের সময় ঘুমিয়ে
থাকত। কিয়ামত পর্যন্ত তাকে এভাবে শাসস্ত দেয়া
হবে। (সহীহ বুখারী)
৬) তিনি সুদখোরের শাসি- দেখেছেন। সহীহ
বুখারীতে সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত
হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর
দীর্ঘ হাদীছে এসেছে,
ﻓَﺄَﺗَﻴْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻧَﻬَﺮٍ ﺣَﺴِﺒْﺖُ ﺃَﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺃَﺣْﻤَﺮَ ﻣِﺜْﻞِ ﺍﻟﺪَّﻡِ
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﻬَﺮِ ﺭَﺟُﻞٌ ﺳَﺎﺑِﺢٌ ﻳَﺴْﺒَﺢُ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺷَﻂِّ ﺍﻟﻨَّﻬَﺮِ
ﺭَﺟُﻞٌ ﻗَﺪْ ﺟَﻤَﻊَ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﺣِﺠَﺎﺭَﺓً ﻛَﺜِﻴﺮَﺓً ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟﺴَّﺎﺑِﺢُ
ﻳَﺴْﺒَﺢُ ﻣَﺎ ﻳَﺴْﺒَﺢُ ﺛُﻢَّ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻗَﺪْ ﺟَﻤَﻊَ ﻋِﻨْﺪَﻩُ
ﺍﻟْﺤِﺠَﺎﺭَﺓَ ﻓَﻴَﻔْﻐَﺮُ ﻟَﻪُ ﻓَﺎﻩُ ﻓَﻴُﻠْﻘِﻤُﻪُ ﺣَﺠَﺮًﺍ ﻓَﻴَﻨْﻄَﻠِﻖُ ﻳَﺴْﺒَﺢُ ﺛُﻢَّ
ﻳَﺮْﺟِﻊُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻛُﻠَّﻤَﺎ ﺭَﺟَﻊَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻓَﻐَﺮَ ﻟَﻪُ ﻓَﺎﻩُ ﻓَﺄَﻟْﻘَﻤَﻪُ ﺣَﺠَﺮًﺍ
“আমরা একটি রক্তের নদীর কাছে আসলাম।
দেখলাম নদীতে একটি লোক সাঁতার কাটছে।
নদীর তীরে অন্য একটি লোক কতগুলো পাথর
একত্রিত করে তার পাশে দাড়িয়ে আছে। সাঁতার
কাটতে কাটতে লোকটি যখন নদীর কিনারায়
পাথরের কাছে দাড়ানো ব্যক্তির নিকটে আসে
তখন দাড়ানো ব্যক্তি তার মুখে একটি পাথর ঢুকিয়ে
দিচ্ছে। পাথর মুখে নিয়ে লোকটি আবার সাঁতরাতে
শুরু করে। যখনই লোকটি নদীর তীরে
আসতে চায় তখনই তার মুখে পাথর ঢুকিয়ে দেয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কারণ জানতে
চাইলে ফেরেশতাদ্বয় বললেনঃ এরা হলো আপনার
উম্মতের সুদখোর”। (সহীহ বুখারী)
৭) তিনি ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎকারীকেও
দেখেছেন। তাদের ঠোঁটের আকার আকৃতি ছিল
উটের ঠোঁটের মত। তারা পাথরের টুকরোর মত
আগুনের ফুলকী মুখের মধ্যে পুরতেছিল এবং
সেগুলো পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হচ্ছিল।
৮) তিনি ব্যভিচারী নারী পুরুষের শাস্তি
দেখেছেন। সহীহ বুখারীতে সামুরা বিন জুনদুব
(রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামএর দীর্ঘ হাদীছে কবরে ব্যভিচারীর
ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেনঃ
ﻓَﺄَﺗَﻴْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻣِﺜْﻞِ ﺍﻟﺘَّﻨُّﻮﺭِ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺄَﺣْﺴِﺐُ ﺃَﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻓَﺈِﺫَﺍ
ﻓِﻴﻪِ ﻟَﻐَﻂٌ ﻭَﺃَﺻْﻮَﺍﺕٌ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺎﻃَّﻠَﻌْﻨَﺎ ﻓِﻴﻪِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻓِﻴﻪِ ﺭِﺟَﺎﻝٌ
ﻭَﻧِﺴَﺎﺀٌ ﻋُﺮَﺍﺓٌ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻫُﻢْ ﻳَﺄْﺗِﻴﻬِﻢْ ﻟَﻬَﺐٌ ﻣِﻦْ ﺃَﺳْﻔَﻞَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻓَﺈِﺫَﺍ
ﺃَﺗَﺎﻫُﻢْ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟﻠَّﻬَﺐُ ﺿَﻮْﺿَﻮْﺍ
“আমরা একটি তন্দুর চুলার নিকট আসলাম। যার উপরিভাগ
ছিল সংকীর্ণ এবং ভিতরের অংশ ছিল প্রশস্ত। তার
ভিতরে আমরা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম।
দেখতে পেলাম তাতে রয়েছে কতগুলো
উলঙ্গ নারী-পুরুষ। তাদের নিচের দিক থেকে
আগুনের শিখা প্রজ্বলিত করা হচ্ছে। অগ্নিশিখা
প্রজ্ব্বলিত হওয়ার সাথে সাথে তারা উচ্চঃস্বরে
চিৎকার করছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর কারণ জানতে চাইলে ফেরেশতাদ্বয় বললেনঃ
এরা হলো আপনার উম্মতের ব্যভিচারী নারী-
পুরুষ”। (বুখারী)
ব্যভিচারীর শাস্তির অন্য একটি চিত্রঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজের
রাত্রিতে একদল লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে
দেখতে পেলেন তাদের সামনে একটি পাত্রে
গোশত রান্না করে রাখা হয়েছে। অদূরেই অন্য
একটি পাত্রে রয়েছে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত কাঁচা
গোশত। লোকদেরকে রান্না করে রাখা গোশত
থেকে বিরত রেখে পঁচা এবং দুর্গন্ধযুক্ত, কাঁচা
গোশত খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারা চিৎকার
করছে এবং একান্ত অনিচ্ছা সত্বেও তা থেকে
ভক্ষণ করছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
জিবরীল ফেরেশতাক জিজ্ঞেস করলেনঃ এরা
কোন শ্রেণীর লোক? জিবরীল বললেনঃ এরা
আপনার উম্মতের ঐ সমস্ত পুরুষ লোক যারা
নিজেদের ঘরে পবিত্র এবং হালাল স্ত্রী থাকা
সত্বেও অপবিত্র এবং খারাপ মহিলাদের সাথে রাত্রি
যাপন করত। (আল-খুতাবুল মিম্বারিয়াহ, ডঃ সালেহ ফাওযান)
৯) জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছেন।
১০) তিনি সেই রাত্রে জাহান্নামের প্রহরী মালেক
ফেরেশতাকে দেখেছেন। তাঁর দিকে ফিরে
তাকাতেই তিনি আমাকে প্রথমেই সালাম দিলেন।
(বুখারী, কিতাবু আহাদীছুল আম্বীয়া, হাদীছ নং-
৩১৮২। মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান, হাদীছ নং- ২৫১)
১১) বায়তুল মাকদিসে নবীদের ইমাম হয়ে নামায
পড়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সকালে ঘুম থেকে উঠে সে রাত্রিতে দেখে
আসা নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে যখন কুরাইশদেরকে
সংবাদ দিলেন, তখন তারা এই ঘটনাকে মিথ্যা বলে
উড়িয়ে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর
উপর তারা অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল। তারা
তাঁর নিকট বায়তুল মাকদিসের বর্ণনা পেশ করার দাবী
জানালো। আল্ল্লাহ বায়তুল মাকদিসে দৃশ্য তার
চোখের সামনে উম্মুক্ত করলেন। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখে দেখে
সেখানকার সকল নিদর্শন বলে দিলেন। তারা একটি
কথাও অস্বীকার করতে পারলনা।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমি একদা কাবার প্রাঙ্গনে ছিলাম।
কুরাইশরা আমাকে বায়তুল মাকদিসের এমন জিনিষ
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল যা আমার স্বরণ ছিলনা।
এতে আমি সংকটে পড়ে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ আমার জন্যে
বায়তুল মাকদিসকে চোঁখের সামনে উঠিয়ে
ধরলেন। দেখে দেখে আমি তাদের সকল
প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলাম।
মিরাজের শিক্ষাঃ
১) ঈমানী পরীক্ষাঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল মাকদিস
ভ্রমণ করে এসে সকালে মানুষের কাছে তা
বলতে শুরু করলেন। এ ঘটনা শুনে কতিপয় দুর্বল
ঈমানদার মুরতাদ হয়ে গেল। মুশরিকদের কিছু লোক
দৌড়িয়ে আবূ বকর (রাঃ) নিকট গিয়ে বললঃ তোমর
বন্ধুর খবর শুনবে কি? সে বলছে, আজ রাতের
ভিতরেই সে নাকি বায়তুল মাকদিস ভ্রমণ করে চলে
এসেছে। তিনি বললেনঃ আসলেই কি মুহাম্মাদ তা
বলছে? তারা এক বাক্যে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ যদি
বলেই থাকে, তাহলে সত্য বলেছেন। তারা আবার
বললঃ তুমি কি বিশ্বাস কর যে, সে এক রাতের ভিতরে
বায়তুল মাকদিস ভ্রমণ করে সকাল হওয়ার পূর্বেই
আবার মক্কায় চলে এসেছে? উত্তরে তিনি
বললেনঃ আমি এর চেয়েও দূরের সংবাদকে বিশ্বাস
করি। তাঁর কাছে সকাল-বিকাল আকাশ থেকে সংবাদ
আসে। আমি তা বিশ্বাস করি। সে দিনই আবূ বকর (রাঃ)
কে পরম সত্যবাদী তথা সিদ্দীক উপাধীতে ভূষিত
করা হয়। (হাকেম, তৃতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং- ৮১, হাদীছ
নং- ৩১৮২, ইমাম আলবানী হাদীছটিকে সহীহ
বলেছেন)
২) দাঈদের জন্য শিক্ষাঃ
মিরাজের ঘটনায় দ্বীনের দাঈদের জন্য এক
বিশেষ শিক্ষা রয়েছে। তিনি মিরাজ থেকে ফেরত
এসে মানুষের কাছে ঘটনা খুলে বলতে ইচ্ছা
প্রকাশ করলে উম্মে হানী বিনতে আবু তালেব
(রাঃ) তাঁকে বললেনঃ আমার আশঙ্কা হচ্ছে,
লোকেরা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলবে। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেনঃ আল্লাহর
শপথ! আমি অবশ্যই তাদের কাছে ঘটনা খুলে
বলবো। আমাকে তারা মিথ্যাবাদী বললেও। সুতরাং
দ্বীনের দাঈগণের উচিত, সত্য প্রকাশের
ক্ষেত্রে তারা কোন প্রকার দ্বিধাবোধ করবে না
এবং মানুষ সেটাকে গ্রহণ করবে কি করবে না- এ
ধরণের কোন চিন্তা-ভাবনা করবে না; বরং বলিষ্ঠ
কন্ঠে মানুষের সামনে সত্যকে তুলে ধরবে।
৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ হয়ঃ
মেরাজের রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরজ করা
হয়েছে। মিরাজ থেকে ফেরত আসার সময় ৬ষ্ঠ
আসমানে মূসা (আঃ)এর সাথে সাক্ষাৎ হল। মূসা (আঃ)
জিজ্ঞেস করলেনঃ কি নিয়ে আসলেন? নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ আমার উপর
পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরজ করা হয়েছে। মূসা (আঃ)
আমি মানুষের অবস্থা তোমার চেয়ে অনেক
বেশী অবগত। বানী ইসরাঈলকে আমি ভালভাবেই
পরীক্ষা করে দেখেছি। তোমার উম্মাত পঞ্চাশ
ওয়াক্ত নামায পড়তে পারবে না। তুমি ফেরত যাও এবং
কমাতে বল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেনঃ আমি মূসা (আঃ)এর পরামর্শ মোতাবেক
ফেরত গিয়ে কমাতে বললাম। চল্ল্লিশ করা হলো।
আবার মূসা আলাইহিস সালামের পরামর্শ মোতাবেক ২য়
বার আবদারের প্রেক্ষিতে ত্রিশ করা হলো।
পুনরায় যাওয়ার প্রেক্ষিতে বিশ ওয়াক্ত করে দেয়া
হলো। অতঃপর দশে পরিণত হলো। মূসা (আঃ)এর
কাছে দশ ওয়াক্ত নিয়ে ফেরত আসলে তিনি আবার
যেতে বললেন। এবার পাঁচ ওয়াক্ত করা হলো।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ পাঁচ
ওয়াক্ত নামায নিয়ে মূসা (আঃ)এর কাছে আগমণ করলাম।
তিনি আমাকে আবার যেতে বললেন। আমি তাঁকে
বললামঃ আমি গ্রহণ করে নিয়েছি। তখন আল্ল্লাহর
পক্ষ হতে ঘোষণা করা হলোঃ আমার ফরজ ঠিক
রাখলাম। কিন’ বান্দাদের উপর থেকে সংখ্যা কমিয়ে
দিলাম। আর আমি প্রতিটি সৎআমলের বিনিময় দশ পর্যন-
বাড়িয়ে দিব। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায
সঠিকভাবে আদায় করলে তাকে পঞ্চাশ ওয়াক্তের
ছওয়াব দেয়া হবে। (বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবু বাদইল
খাল্ক, হাদীছ নং- ৪৪৫৮, মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান,
হাদীছ নং- ২৩৮)
৪) আল্লাহ্ তাআলা যে আরশে আযীমে
সমুন্নত মিরাজের ঘটনা তার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
৫) সকল ইবাদতের মধ্যে নামায হচ্ছে সবচেয়ে
গুরত্বপূর্ণ ইবাদত। কারণ আল্লাহ্ তাআলা অন্যান্য ইবাদত
জমিনে ফরজ করেছেন। আর নামায ফরজ
করেছেন তাঁর প্রিয় বন্ধুকে কাছে ডেকে
নিয়ে সাত আসমানের উপরে। এতে নামাযের
গুরুত্বের কথাটি সহজেই অনুধাবন করা যায়।
৬) নামায পরিত্যাগ করা কঠিন অপরাধ। তাই বেনামাযীর
শাস্তিও অত্যন্ত কঠোর।
৭) ব্যভিচার একটি ঘৃণিত কাজ। এর শাস্তিও অত্যন্ত
নিকৃষ্ট।
৮) সুদখোরের ভয়াবহ পরিণতি।
মিরাজ সম্পর্কে কতিপয় ভ্রান্ত বিশ্বাস ও তাঁর
প্রতিবাদঃ
ক) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ ২৭
বছর পর্যন্ত মিরাজে থাকার গল্প কাল্পনিক।
খ) বড় পীরের ঘাড়ে চরে সিদরাতুল মুন্তাহা পার
হয়ে আল্লাহর দরবারে পৌঁছার কিচ্ছা বানোয়াট।
গ) ২৭ রজবে বিশেষ ইবাদত পালন করা বা রজব দিবস
পালন করা বিদআত। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ শবে মিরাজ উপলক্ষে
কোন ইবাদত করেন নি বা করতে বলেন নি। সুতরাং
দ্বীনের ক্ষেত্রে সকল নব আবিস্কৃত বিষয়ই
বিদআত, যা থেকে দূরে থাকা সকল মুসলিমের উপর
করণীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
ﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﻓِﻲ ﺃَﻣْﺮِﻧَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻓِﻴﻪِ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ
“যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে নতুন বিষয়
তৈরী করবে যা তার অন্তর্ভূক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত
হবে। (বুখারী ও মুসলিম) তিনি আরও বলেনঃ
ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻣْﺮُﻧَﺎ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ
“যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করবে, যে
বিষয়ে আমাদের অনুমোদন নেই, তা আমলকারীর
উপর প্রত্যাখ্যাত হবে। (সহীহ মুসলিম)
ঘ) আল্ল্লাহ্কে স্বচক্ষে দেখার কথাটি সঠিক
নয়।
ইমাম ইবনুল কায়্যেম (রঃ) আল্লাহকে দেখার
ব্যাপারে আলেমদের মতবিরোধ বর্ণনা
করেছেন। তবে বিশুদ্ধ কথা হলো, তিনি
আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখেন নি। কারণ কোন
সাহাবী স্বচক্ষে দেখার পক্ষে কোন বর্ণনা
উল্লেখ করেন নি। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে
যে বর্ণনা এসেছে, আল্লাহকে দেখার অর্থ
হলো অন্তর চক্ষু দিয়ে দেখা। কপালের চক্ষু
দিয়ে দেখা উদ্দেশ্য নয়। (যাদুল মাআদ, (৩/৩০)
আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখার ব্যাপারে আয়েশা
(রাঃ) এর হাদীস:
ﻋﻦ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ ﺛَﻠَﺎﺙٌ ﻣَﻦْ ﺗَﻜَﻠَّﻢَ ﺑِﻮَﺍﺣِﺪَﺓٍ ﻣِﻨْﻬُﻦَّ ﻓَﻘَﺪْ
ﺃَﻋْﻈَﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟْﻔِﺮْﻳَﺔَ ﻗُﻠْﺖُ ﻣَﺎ ﻫُﻦَّ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻣَﻦْ ﺯَﻋَﻢَ ﺃَﻥَّ
ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺭَﺃَﻯ ﺭَﺑَّﻪُ ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﻋْﻈَﻢَ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟْﻔِﺮْﻳَﺔ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻭَﻣَﻦْ ﺯَﻋَﻢَ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺘَﻢَ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻣِﻦْ ﻛِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﻋْﻈَﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟْﻔِﺮْﻳَﺔَ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﻘُﻮﻝُ ‏( ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﺑَﻠِّﻎْ ﻣَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ
ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻚَ ﻭَﺇِﻥْ ﻟَﻢْ ﺗَﻔْﻌَﻞْ ﻓَﻤَﺎ ﺑَﻠَّﻐْﺖَ ﺭِﺳَﺎﻟَﺘَﻪُ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻭَﻣَﻦْ ﺯَﻋَﻢَ
ﺃَﻧَّﻪُ ﻳُﺨْﺒِﺮُ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻓِﻲ ﻏَﺪٍ ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﻋْﻈَﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟْﻔِﺮْﻳَﺔَ
ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﻘُﻮﻝُ ‏( ﻗُﻞْ ﻟَﺎ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﻦْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﻮَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ
ﺍﻟْﻐَﻴْﺐَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ )
আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি বলবে যে,
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রবকে
স্বচক্ষে দেখেছেন সে আল্লাহর উপর বিরাট
মিথ্যাচার করল। যে ব্যক্তি বলবে যে, মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কিতাবের কিছু
অংশ তিনি গোপন করেছেন, সে আল্লাহর উপর
বিরাট মিথ্যা রচনা করল। আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ হে
রসূল! পৌঁছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ
থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর
যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তার পয়গাম
কিছুই পৌঁছালেন না। (সূরা মায়িদাঃ ৬৭) আর যে ব্যক্তি
বিশ্বাস করবে যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস
সাল্লাম (গায়েবের) আগাম খবর দিতে পারতেন
সেও আল্লাহর উপর চরম মিথ্যা রচনা
করল।” (তিরমিযী-সহীহ) তিনি আল্লাহর খুব কাছাকাছি
পৌঁছে গিয়ে ছিলেন এবং অন্তর দিয়ে তা অনুভব
করেছেন। কিন’ স্বচক্ষে দেখার কোন দলীল
পাওয়া যায় না।
সুতরাং মিরাজ সম্পর্কে সকল কাল্পনিক ও মিথ্যা ঘটনা
পরিহার করে তা থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করা
আমাদের সকলের জন্য জরুরী।

সহীহ্ বুখারীর শরীফের ১০ টি Scientific আমল ও গুরুত্বপূর্ণ ৪০ টি হাদীস আমল করার মত হাদীস

 

সহীহ বুখারী শরীফের ১০ টি বৈজ্ঞানিক হাদিসঃ

১)নবীজি বলেন,”জ্বর আসে জাহান্নামের তাপ
থেকে!সুতরাং,জ্বর কে পানি দ্বারা প্রশমিত কর!
(সহীহ বুখারী,, খন্ড: ৭:অধ্যায় ৭১:হাদিস ৬২১)
.২)নবীজি বলেন,”যদি কারো পানিতে মাছি পড়ে
যায়,তবে মাছিটিকে পানিতে চুবিয়ে তারপর পান
কর!কারণ,মাছির এক ডানায় আছে রোগ,অন্য ডানায়
আছে প্রতিকার! “(সহী বুখারী, 4:54:537)
৩)নবীজি বলেন,কালোজিরা আস-সামস ব্যতিত
সর্বরোগের ঔষধ! আয়েশা জিজ্ঞেস করেন,আস-
সামস কি?নবীজি উত্তরে বলেন,মৃত্যু!(বুখারী
৭:৭১:৫৯১)
৪)নবীজি বলেন,”যারা রোপ্যপাত্রে পানি পান
করে,তারা জাহান্নামের আগুন দ্বারা তাদের
পেটপুর্ণ করে! (বুখারী 7:69:538)
৫) নবীজি বলেন,”জাহান্নামের আগুণ আল্লাহর
কাছে অভিযোগ করল,”হে আমার প্রতিপালক,আমার
বিভিন্ন অংশ পরস্পরকে খেয়ে ফেলছে!সুতরাং,তি
নি জাহান্নামকে দুইবার শ্বাস নেয়ার অনুমতি
দিলেন,একটিটি শীতকালে (প্রশ্বাস),অন্যটি
গ্রীষ্মকালে (নিঃশ্বাস)!এবং এটাই (গ্রীষ্মকলে)
প্রখর গরম ও (শীতিকালে) তীব্র শীতের কারণ!
(বুখারী 4:54:482)
৬)নবীজি বলেন,”আল্লাহ হাচি পছন্দ করেন এবং হাই
তোলা অপছন্দ করেন!(বুখারী 8:73:242)
৭)নবীজি বলেন,”ভাল স্বপ্ন আসে আল্লাহ থেকে আর
দুঃস্বপ্ন আসে শয়তান থেকে!কেউ যদি দুঃস্বপ্ন
দেখে তার উচিত আল্লাহর কাছে শয়তান হয়ে আশ্রয়
চাওয়া ও বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করা,কারণ এতে
দুঃস্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা।(বুখারী
9:87:115)
৮)আব্দুল্লাহ বর্ণিত:এক লোক নবীজির কাছে এসে
বলল,সে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়েছে এবং নামায আদায়
করতে পারেনি!!নবীজি বললেন:শয়তান তার কানে
প্রস্রাব করে দিয়ে চলে গিয়েছে!(বুখারী 2:21:245)
৯)নবীজি বলেন,”তোমরা সুর্যদ্বয় ও সুর্যাস্তের সময়
নামায আদায় করোনা,কারণ সুর্য শয়তানের মাথার
দুইপ্রান্তের মধ্যখান দিয়ে উদিত হয়(বুখারী৪:৫৪:৪৯৪)
১০) নবীজি বলেন,,”যে ব্যক্তি প্রতি সকালে ৭ টি
আজওয়া খেজুর খায়,তার ওপর বিষ ও জাদু কোন
প্রভাব ফেলতে পারেনা!(বুখারী ৭:৬৫:৩৫৬)।।
৪০ হাদিস, নিজে পড়ুন, অন্যকে পড়ার সুযোগ করে
দেন।
✍১। আমার কথা (অন্যদের কাছে) পৌছিয়ে দাও,
তা যদি একটি আয়াতও হয়।
(সহীহ বুখারীঃ ৩২১৫)
✍২। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তির
মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটকুই যথেষ্ঠ যে, সে যা
শোনে (যাচাই ব্যতীত) তাই বলে বেড়ায়।
(সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দামা, অনুচ্ছেদ -৩)
✍৩।রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার
প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে।
(দেখুন সহীহ বুখারীঃ ১০৭,১০৯,১০৯,১১০,১১১ সহীহ
মুসলিম, মুকাদ্দামা)
✍৪।পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ্ সন্তুষ্ট আর
পিতা-মাতার অসন্তুষ্টে আল্লাহ্ অসন্তুষ্ট।
(তিরমিযী, সনদ হাসান, মিশকাত হা/৪৭১০)
✍৫। পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করলে পঞ্চাশ
ওয়াক্ত সলাতের সওয়াব পাওয়া যায়
(সহীহ বুখায়, মুসলিম ও তিরমিযীঃ ২১৩)
✍৬। ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মাঝখানে সলাত
ছেড়ে দেওয়াই হচ্ছে ব্যবধান।
(সহীহ মুসলিমঃ ১৫৪,১৫৫, মিশকাত)
✍৭। ক্বিয়ামতের দিন বান্দার কাজসমূহের মধ্যে
সর্বপ্রথম সলাতের হিসাব নেওয়া হবে।
(সহীহ তিরমিযীঃ ৪১৩, ইবনু মাযাহঃ ১৪২৫,১৪২৬)
✍৮। যে ব্যক্তি ফজর ও আসরের নামায আদায়
করবে সে জান্নাতে যাবে।
(সহীহ বুখারীঃ ৫৪৬)
✍৯। আল্লাহ্ তা’আলার নিকট প্রিয় ঐ আমল যা
নিয়মিত করা হয় যদিও তা অল্প হয়।
(সহীহ বুখারীঃ ৪১,৬০২০)
✍১০। যে ব্যক্তি (পুরুষ) পায়ের টাখনুর নিচে কাপড়
ঝুলিয়ে পরবে, সে জাহান্নামী।
(সহীহ বুখারীঃ৫৩৭১, মিশকাত, হা/৪১২৫)
✍১১। কালিজিরায় মৃত্যু ছাড়া আর সকল রোগের
চিকিৎসা রয়েছে।
(বুখারী, হা/৫২৮৬ ও মুসলিম)
✍১২। নবী করীম (সাঃ) মিষ্টি ওমধু খুব ভালো
বাসতেন।
(বুখারী, হা:৫২৮০)
✍১৩। যারা আমার সুন্নতের প্রতি বিরাগ পোষন
(অনিহা প্রকাশ) করবে, তারা আমার উম্মতের
অন্তর্ভূক্ত নয়।
(সহীহ বুখারীঃ ৪৬৯৭)
✍১৪। যে ব্যক্তি বিদআত সৃষ্টি করবে ও আশ্রয়
দিবে তার উপর আল্লাহ্ তা’আলার, ফেরেশতা ও সকল
মানব সম্প্রদায়ের লানত ।
(সহীহ বুখারীঃ ৬৮০৮)
✍১৫। যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ ঈমান আছে,
সে জাহান্নামে যাবে না। আর যার অন্তরে সরিষা
সমপরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে যাবে না।
(মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮)
✍১৬। যে ঘরে কুকুর ও (প্রাণীর) ছবি থাকে,সে ঘরে
রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
(সহীহ বুখারীঃ ২৯৯৮, ৫৫২৫, মিশকাত হাঃ৪২৯৮)
✍১৭। তিন ব্যক্তির দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্
তাদের দিকে করুণার দৃষ্টি দিবেন না ও তাদের জন্য
কঠিন শাস্তি- (ক) গঁিটের নিচে কাপড় পরিধানকারী
পুরুষ (খ) খঁোটাদানকারী (গ) মিথ্যা কসমে পণ্য
বিক্রয়কারী।
(মুসলিম, মিশকাত হা/২৬৭৩)
✍১৮। “যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ জিহাদ করেনি
এমনকি জিহাদের আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেনি, সে
মুনাফিকের ন্যায় মৃত্যুবরণ করল। ”
(সহীহ মুসলিমঃ ৪৭৭৯, নাসায়ীঃ ৩০৯৯)
✍১৯। আত্নীয়ের সাথে ভালো ব্যবহার করলে
রিযিক ও হায়াত বৃদ্ধি পায়।
(সহীহ বুখারীঃ ৫৫৫৯,৫৫৬০)
✍২০। কেউ সওয়াল থেকে পবিত্র থাকতে চাইলে
আল্লাহ্ তাকে পবিত্র রাখেন। যে অমুখাপেক্ষী
থাকতে চায়, আল্লাহ্ তাকে অমুখাপেক্ষী রাখেন
এবং যে ধৈর্য ধারণ করতে চায়, আল্লাহ্ তাকে তাই
দান করেন।
ধৈর্যের চায়ে অধিক ব্যাপক কিছু দান করা হয়নি।
(সহীহ বুখারী, হা/১৪৬৯, সহীহ মুসলিম , সহীহ আবু দাউদ,
হা/১৬৪৪)
✍২১। বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে (সত্তর
হাজার) ওসব লোক যারা অশুভ অমঙ্গল চিহ্ন মানে
না,যারা ঝাড়-ফুক করায় না, যারা মন্ত্রতন্ত্রের ধার
ধারে না এবং আগুনে পোড়া লোহার দাগ লাগায় না ;
বরং সদা সর্বদা তাদের পরোয়ারদেগারের উপর পূর্ণ
ভরসা রাখে।
(সহীহ বুখারী, হাদিস ৫৩৪১,৬২৮,৬০৯৯)
✍২২। যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে শহীদি মৃত্যু কামনা
করে, আল্লাহ্ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌছিয়ে
দিবেন, যদিও সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।
(সহীহ মুসলিমঃ ৪৭৭৮)
✍২৩। যখন কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের
অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু’আ করে, তখন ফেরেশতাগণ
বলেন, আমীন, এবং তোমার জন্যও অনুরুপ হবে।
(সহীহ মুসলিম ও আবু দাউদ,হাঃ১৫৩৪)
✍২৪। কোন ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য অশ্লীল
বাকচারী ও কৃপণ হওয়াই যথেষ্ট।
(আহমাদ, মিশকাত হা/৪৬৯৩)
✍২৫। রাসূল বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি ফরয
নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে
প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না।
(সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪, নাসায়ী, ইবনে হিব্বান,
ত্বাবরানী, আল্লামা আলবানী রহ. এর সিলসিলাতুল
আহাদিস আস-সহীহা খণ্ড দুই হাদিস নং-৯৭২)
✍২৬। যে ব্যক্তি উযূ করে এবং উযূকে পূরণাংগরুপে
সম্পন্ন করে, তারপর কালেমা শাহাদাত পাঠ করে,তার
জন্য জান্নাতের ৮(আট)টি দরজা খুলে যায় । সে যে
দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে ।
(সহিহ মুসলিমঃ ৪৬০, তিরমিযীঃ৫৫, ইবনু মাযাহঃ ৪৭০)
✍২৭। যে ব্যক্তি দিবসে ১ বার ও রাতে ১ বার
আন্তরিকতার সাথে সােয়্যদুল ইস্তেগফার পাঠ করে
যদি সে দিন বা রাতে মারা যায়, তাহলে ওই েব্যক্ত
জান্নাতি । ( সহিহ বুখারী-৫৮৬৭)
✍২৮। ওযু করার সময় কেউ যদি উত্তমরূপে ওযু করে
তাহলে তার শরীরের সব গুণাহ বের হয়ে যায়। এমনকি
তার নখের নিচের গুণাহও বের হয়ে যায়।
(সহীহ মুসলিমঃ ৪৮৪,৪৮৫)
✍২৯। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের
মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরান শিখে এবং
অন্যকে শিক্ষা দেয়।
(সহীহ বুখারীঃ ৪৬৬১,৪৬৬২)
✍৩০। কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি উচ্চ মর্যাদা
ফিরিশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরাআন
পড়ার সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে তিলাওয়াত
করে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।
(সহীহ বুখারী-৪৯৩৭, মুসলিম আবু দাউদ -১৪৫৪ ক্বাতাদাহ
হতে)
✍৩১। রাসূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমাদের
কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দু’রাকাত
সালাত আদায় করা ব্যতীত না বসে।” (বুখারী হা/৪৪৪ ,
১১৬৭ ; মুসলিম হা/ ৭১৪ ; তিরমিযী হা/ ৩১৬ ; নাসাঈ হা/
৭৩০ ; আবু দাউদ হা/ ৪৬৭ ; ইবনু মাজাহ হা/ ১১২৩ ; আহমাদ
হা/ ২২০১৭ , ২২০৭২ , ২২০৮৮ , ২২১৪৬ ;দারেমী হা/ ১৩৯৩)
✍৩২। রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ আমার প্রত্যেক
উম্মতের গুণাহ মাফ হবে, তবে যে গুণাহ করে বলে
বেড়ায়, তার গুনাহ মাফ হবে না।
(সহীহ বুখারীঃ ৫৬৪৩, সহীহ মুসলিমঃ ৭২৬৭)
✍৩৩। ইউসায়রাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী (সাঃ)
তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ তোমরা তাকবীর,
তাকদীস এবং তাহলীল এগুলো খুব ভালভাবে স্মরণে
রাখবে এবং এগুলোকে আঙ্গুলে গুনে রাখবে।
কেননা আঙ্গুলগুলোকে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং
এগুলোও সেদিন (ক্বিয়ামতে) কথা বলবে।
(আবু দাউদ, হা/১৫০১, আলবানীর মতে হাসান, তিরমিযী,
হা/৩৫৮৫, তিরমিযীর মতে গরীব, আহমাদ,৬/৩৭০)
✍৩৪। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন ব্যক্তির দোষ-
ত্রুটি গোপন রাখবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্
তা’আলাও তার ত্রুটি গোপন রাখবেন।
(সহীহ মুসলিমঃ ৬৩৯২,৬৪০৮,৬৩০৯)
✍৩৫। বিদাতী হাউজে কাওছারের পানি পাবে
না।
(সহীহ বুখারীঃ ৬১২৭,৬৫৭৩, মুসলিমঃ ৫৭৯৯,৫৮০২,৫৮০৩)
✍৩৬। যে ব্যক্তি নম্রতা ও সহনশীলতার বৈশিষ্ট্য
থেকে বঞ্চিত সে কল্যান থেকে বঞ্চিত
(সহীহ মুসলিমঃ ৬৪১২,৬৪১৩,৬৪১৪)
✍৩৭। মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট হল
‘দ্বিমুখী ব্যক্তি’। তারা এদের কাছে বলে এক কথা
আর ওদের কাছে বলে আর এক কথা।
(সহীহ বুখারীঃ ৬৬৯০)
✍৩৮। নেশা সৃষ্টি করে এমন যে কোন পানীয়
হারাম।
(সহীহ বুখারীঃ ৫২৫৮, সহীহ মুসলিমঃ ৫০৫১,৫০৫২,৫০৫৩,
৫০৫৪)
✍৩৯। রাসূল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি তার
দু’চোয়ালের মাঝখান(অর্থাৎ জিহ্ববা) এবং দ’পায়ের
মাঝখান (অর্থাৎ লজ্জাস্থান)- এর জামানত আমাকে
দিবে, আমি তার জান্নাতের জামিন হব।
(সহীহ বুখারীঃ ৬০৩০, মিশকাত হাঃ৪৬০১)
✍৪০। ঈমানের সত্তরের কিছু বেশী শাখার মধ্যে
সর্বোত্তম শাখা হচ্ছে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ‘বলা
এবং সাধারণ শাখা হচ্ছে চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক
বস্তু সরিয়ে দেয়া। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি
বিশেষ শাখা।
(সহীহ মুসলিমঃ ৬১)
“এখন সকলের দায়িত্ব হল প্রথমে সকল হাদিসের উপর
আমল করা,
আর অন্যের মাঝে পৌছে দেয়া তাই এখনই এটাকে
শেয়ার করে সাদকায়ে জারিয়ার সাওয়াব অরজন করুন। collected

Translate