Friday, December 10, 2021

রোযাদারের নাকে, কানে ও চোখে ড্রপ ব্যবহার করার বিধান কি?

 প্রশ্নঃ রোযাদারের নাকে, কানে ও চোখে ড্রপ ব্যবহার করার বিধান কি?

——————————–
উত্তরঃ নাকের ড্রপ ব্যবহার করলে যদি তা পেটে পৌঁছে তবে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

কেননা লাক্বীত বিন সাবুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে,
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলেন,
وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا

ছিয়াম অবস্থায় না থাকলে ওযুর ক্ষেত্রে নাকে অতিরিক্ত পানি নিবে।
[আবু দাঊদ, অধ্যায়: নাক ঝাড়া, ১৪২। তিরমিযী, অধ্যায়ঃ পবিও্বতা, অনুচ্ছেদঃ আঙ্গুল খিলাল করার বর্ণনা। নাসাঈ, অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুচ্ছেদঃ নাকে পানি নেয়ায় বাড়াবাড়ি করা। ইবনু মাজাহ্‌, অধ্যায়: পবিত্রতা, অনুচ্ছেদ: আঙ্গুল খিলাল করার বর্ণনা। ]

অতএব পেটে পৌঁছে এরকম করে রোযাদারের নাকে ড্রপ ব্যবহার করা জায়েয নয়।

রোযাদার কুলি করা বা নাকে পানি নেয়ার কারণে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি পেটে পৌঁছে যায়, তবে তার রোযা ভঙ্গ হবে না। কেননা এতে তার কোন ইচ্ছা ছিল না। আল্লাহ্‌ বলেন,
ভুলক্রমে তোমরা যা করে ফেল সে সম্পর্কে তোমাদের কোন গুনাহ্‌ নেই। কিন্তু তোমাদের অন্তর যার ইচ্ছা করে তার কথা ভিন্ন।(সূরা আহযাবঃ ৫)

আরেকটি বিষয় নাকে ভাপের ধোঁয়া টানলে ধোঁয়ার কিছু অংশ পেটে প্রবেশ করে আর তা নিজ ইচ্ছায় হলে, এতে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

চোখে ড্রপ ব্যবহার করা সুরমা ব্যবহার করার ন্যায়। কানে ,চোখে ড্রপ ব্যবহার করে উহা পেটে পৌঁছানোর ইচ্ছা করা হয় না; বরং এতে উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু ড্রপ ব্যবহার করা।এতে রোযা নষ্ট হবে না।

এমনিভাবে রোযা অবস্থায় শ্বাসকষ্টের কারণে স্প্রে(nabulijer) ব্যবহার করলে এবং স্প্রে নাকে প্রবেশ করে কিন্তু পেট পর্যন্ত পৌঁছে না। তাই রোযা রেখে ইহা ব্যবহার করতে কোন অসুবিধা নেই। এতে রোযা ভঙ্গও হবে না। কেননা এটা এমন বস্তু যা উড়ে বেড়ায় নাকে প্রবেশ করে এবং বিলীন হয়ে যায়, এর অংশ বিশেষ পেটের মধ্যে প্রবেশ করে না। তাই এদ্বারা ছিয়াম ভঙ্গ হবে না।

শ্বাস কষ্ট দূর করার জন্য যদি মুখে পাইপ লাগিয়ে অক্সিজেনের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে চলমান করা হয়, এবং তা পেটে পৌঁছে, তাতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। কেননা উহা পানাহারের অন্তর্ভূক্ত নয়।
–
(ফতোয়া আরকানুল ইসলাম থেকে)
মূল: আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উছাইমীন (রাহ:)
অনুবাদক: শাইখ মুহা: আব্দুল্লাহ আল কাফী

নন প্র্যাকটিসিং মুসলিমকে খোঁচা মেরে কথা বলা প্রসঙ্গে

 আমরা কত সহজেই একজন অ্যাপারেন্টলি নন প্র্যাকটিসিং মুসলিমকে খোঁচা মেরে কথা বলি। তাদেরকে নিয়ে ট্রল বানাই। হিজাবি গার্লফ্রেন্ড, নামাজী বয়ফ্রেন্ড, এগুলো নিয়ে কম হাসাহাসি হয় না অনলাইনে বা অফলাইনে। খোঁচা মেরে আর যাই হোক, দাওয়াহ বা ইসলাহ হয় না। স্পেশালি খোঁচা মারার উদ্দেশ্য যদি থাকে হাসি তামাশা করা। একবার আমরা নিজের দিকে তাকাই। কত দিন হল ৫ ওয়াক্ত সালাহ শুরু করেছি, ৫ বছর ১০ বছর? কতদিন হলে প্রপারলি হিজাবটা পরি আমি?

আমি অন্যান্যদের কথা জানিনা। নিজের জীবন দেখেছি, এই একটা জীবনই আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি। আমি ইসলামে আসার আগ পর্যন্ত জানতামই না যে প্রেম জিনিসটা হারাম। আমি এটাও জানতাম না যে সালাহ না পড়লে মানুষ মুসলিম থাকে না। এটাও জানতাম না যে হিজাব করাটা ফরজ। আসলে আমি ফরজের মানেই জানতাম না। ফরজ তরক করলে যে গুনাহ হয় এটা আমার জানা ছিল না। আমি নিজের ওই জীবনের কথা চিন্তা করি, একটু একটু মাথায় কাপড় দেই, ভাল লাগে এই জন্য। ওই সময় আমার এক কাজিন এসে আমাকে বলল,

“কিরে তুই সিজনাল পর্দা করিস নাকি?”

আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি শ্রেফ ভাল লাগা থেকে মাঝে মাঝে বোরকা পরতাম। চেষ্টা করতাম কন্টিনিউ করার, শ্রেফ পোষাকটার প্রতি ভাল লাগা থেকে। আমাকে কেউ বলেনি যে ফুল ভেইল না করলে গুনাহ হবে। উল্টো আমাকে শুনতে হল আমি সিজনাল পর্দা করি নাকি। মনটা খুব ছোট হয়ে গিয়েছিল।

এক ছোট বোন যখন ইসলামের দিকে আসছিল তার তখন অ্যাফেয়ার ছিল। একটা লেকচারে শুনেছিলাম,আনফরচুনেটলি আমরা যখন এসব অ্যাফেয়ার ছাড়ার জন্য দাওয়াহ দেই এমনভাবে দেই যেন আমরা ঝুড়ি ভরা কয়লা নিয়ে ডিল করছি। আমাদের মাথায় এটা থাকে না এটা একটা ইমোশনাল ব্যপার , আমরা আসলে হার্ট নিয়ে ডিল করছি। তো আপুটা নিজে সালাহ শুরু করে তার অপরজনকেও উঠতে বসতে তাগাদা দিতে থাকে সালাহ পড়ার জন্য। দেখা করা বন্ধ করে দেয়। ফোনে কথা বলা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়ে যায় সবকিছু। এদিকে গুনাহ হয়ে যাচ্ছে সেই অপরাধবোধ অন্যদিকে মনকেও মানাতে পারছেনা। বছরে একবার দেখা করতে গেলেও বোনটা অপরজনকে বলত আপনি সামনে হাঁটেন, আমি পেছনে হাঁটছি। অবশেষ বোনটার এরকম করে ইসলাম প্র্যাকটিস করাটা আরেকজন মেনে নিতে পারেনি। বোনটা বিয়ের জন্য রিকুয়েস্ট করেছিল, আরেকজন বলেছিল ২ বছর অপেক্ষা করতে। তা বোনটা বলেছিল ২ বছর কারও গার্ল ফ্রেন্ড ট্যাগ নিয়ে উনি বেঁচে থাকতে চান না। আলহামদুলিল্লাহ, ব্রেকাপ হয়েছিল।

আমি আসলে চিন্তা করি, ওই সময় বোনটা যখন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছিল কিভাবে গুনাহ মিনিমাইয করা যায় তখন আমরা যদি তার সামনে হিজাবি গার্লফ্রেন্ড টাইপ জোক করতাম কেমন লাগত উনার?

আমরা আসলে ভেবে দেখিনা যে, অন্তরের মত একটা কোমল জায়গা আসলে কথার তরবারির কতটুকু আঘাত সইতে পারবে।

এবার নিজের কথায় আসি। ২০০৭ সাল। আমি তখন ২০০% জাহেল। মাথায় ঘোমটার মত করে কাপড় দেই। মাঝে মধ্যে ৩-৪ ওয়াক্ত সালাহ পড়ি। আর মাঝে মাঝে এওটু একটু ক্বুর’আনের অর্থ পড়ি। ব্যাস। তখন অ্যাডমিশনের জন্য কোচিং করতে ঢাকায়। হঠাৎ খুবই অসুস্থ হয়ে যাই। আব্বু কয়েকদিন পর এসে কিছু পরীক্ষা করার জন্য একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলেন। রক্ত নেয়ার সময় হঠাৎ কি যেন হল, আমার মনে হল আমাই মারা যাচ্ছি, আমি জোরে জোরে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে শুরু করলাম, আর কালিমা পড়তে পড়তে অজ্ঞান হয়ে গেলাম।

কিন্তু পরবর্তী অনেক বছর আমি চিন্তা করেছি, আমি কেন আসলে ওই সময় কালেমা পড়েছিলেম। আচ্ছা আমি মরে যাচ্ছি এই অনুভূতি নিয়ে কালেমা পড়ার কি হল? আমি সবচেয়ে বেশি পড়তাম হচ্ছে আয়াতুল করসী। সেই হিসেবে আমার আয়াতুল কুরসী পড়ার কথা ছিল। আমি বহু বছর চিন্তা করেছি কেন আসলে আমি কালেমা পড়ছিলাম যখন বুঝে গেছি যে মারা যাব।

এখন আফসোস হয়, আচ্ছা ওইসময় যদি মারা যেতাম আমি নিশ্চিত জান্নাতে যেতাম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার শেষ কথা হবে লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আমি খুব অবাক হই, জাহেলিয়াতের চূড়ায় থাকা অবস্থায় আমি যদি ওইদিন মারা যেতাম তাহলে আমি জান্নাতি হতাম! কি আশ্চর্য!

অথচ এখন নিজের দিকে তাকাই, কত জনের সমালোচনা করেছি, কত নন প্র্যাকটিসিং মানুষকে নিয়ে গীবাহ করেছি। নিজের যা কিছু আমল ছিল তা তাদের জন্যই বরাদ্দ করে দিয়েছি। এখন আমার কি অবস্থা হবে আমি জানিনা। এখন আমার জন্য কি অপেক্ষা করছে আমার তা জানা নাই। এখনই যদি মারা যাই আমি জানিনা আমার শেষ কথাগুলো কি হবে।

আমার সেই কাজিনের কথা বলে শেষ করতে চাই। ও দিন দিন ইসলাম থেকে বহু দূরে সরে গেছে। অশালীন পোশাক পরা মেয়ে দেখলে যে মানুষ রাগে ফোঁশ ফোঁশ করতে করতে বলত, “আপা, ওর পেছনে একটা লাত্থি দিতে পারবি? ” আজ সেই মানুষটা যখন বিয়ের জন্য একই রকম মেয়ে পছন্দ করে তখন খুব কষ্ট লাগে। সেই সাথে ভয় লাগে। আমি নিজে যেন এরকম না হয়ে যাই।

আমরা যেন সুন্দর ভাবে দাওয়াহ করি। যেখানে কোমলতা দরকার সেখানে যেন কোমলতা দেখাই, যেখানে কঠরতা দরকার সেখানে যেন কঠোরতা দেখাই। কিন্তু কাউকে যেন বিদ্রুপ না করি। আজকে এই ভার্চুয়াল জগতে যেই সকল মুসলিম ভাই বোনকে আমরা বিদ্রুপ করছি, আমরা জানিনা কালের পরিক্রমায় হয়তো তাদেরকে আল্লাহ আমাদের উপরে মর্যাদা দিবেন আর হয়তো তারা সবচেয়ে বড় সমাবেশের দিন- ইয়াউমুল ক্বিয়ামাহতে আমাদেরকে বিদ্রুপ করবে।

আমার আনুরোধ। দাওয়াহ হোক ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ মুক্ত। সত্য এমনিতেই সুন্দর। এটাকে রঙ চং দেয়ার দরকার হয় না। যার ইচ্ছা একে গ্রহণ করুক। যার ইচ্ছা বর্জন করুক। কিন্তু আমাদের দেয়া রঙ চং যেন কারও অন্তরে কালি না লেপে দেয়।

আমরা যেন ভুলে না যাই- আর রাহমান- যিনি একজন পতিতাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন নাপাক জন্তু কুকুরকে পানি খাওয়ানোর জন্য তাঁর জন্য হিজাবি গার্লফ্রেন্ড বা নামাজী বয়ফ্রেন্ডকে ক্ষমা করা কোন ব্যপার না যাদের মাংস আমরা দেদারসে চিবিয়ে খাচ্ছি।

Courtesy: Sister Shabnaj Rafnee

মন জয় করার ১১টি সহজ উপায়

 ??মন জয় করার ১১টি সহজ উপায়??

-আপনি কি চান আপনার সহকর্মীরা আপনাকে ভালবাসুক?
– আপনি কি চান আপনার অধিনস্তরা আপনাকে ভালবাসুক?
– আপনি কি চান তারা আপনার দেয়া কাজ গুলো সুন্দর ভাবে আদায় করুক?
– আপনি কি চান আপনার ছাত্রদেরকে আপনার মনের মত করে গড়ে তুলবেন?
– আপনি কি আপনার দাওয়াত অন্যের মাঝে সহজে ছড়িয়ে দিতে চান?
তাহলে ১১টি গোপন চাবি আপনার হাতে তুলে দিলাম। এগুলো দ্বারা সহজে অন্যের হৃদয় রাজ্যে গোপনে প্রবেশ করে তাদের স্বপ্নের রাজা হয়ে যেতে পারেন আপনিও, ইনশাআল্লাহ! তো আর কথা নয়…

১.উত্তম চরিত্র: এর দ্বারা অধীনস্থদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি অর্জন করা যায়। ফলে তাদের দ্বারা লক্ষ বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। কারণ, মানুষ যখন ঊর্ধ্বতনদের পক্ষ হতে মানবিক ও অমায়িক আচরণে মুগ্ধ হয় তখনি তারা ঝরঝরা মনোভাব নিয়ে কাজ আঞ্জাম দেয়।
২.কথা ও কাজে মিল রাখুন : আপনি যে কাজ করতে আদেশ কিংবা নিষেধ করবেন, নীতিগত ভাবে নিজে অবশ্যই তার উপর আমল করবেন। যেমন জামায়াতে নামায পড়ার উপর আপনি খুব উপদেশ এবং কড়াকড়ি করেন কিন্তু তিনি নিজেই মাঝে-মধ্যে ফজরের জামায়াত ফেল করেন। অনুরূপ আপনি টিভির আজে-বাজে প্রোগ্রাম দেখতে নিষেধ করেন, অথচ নিজেই টিভিতে বাজে প্রোগ্রাম দেখেন। এ অভ্যাস দূর করতে হবে। আপনি আদর্শ হতে এক চুলও নড়বেন না। তাহলে সাথীরা আপনার অনুসরণ করবে। এভাবে সবার আস্থা অর্জন করা যায় এবং সমালোচনা এড়ানো যায়।
৩.সাম্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা: স্বজন প্রীতি, বন্ধু প্রীতি, আত্নীয় করণ, দলীয় করণ ইত্যাদির সীমানা পেরিয়ে আপনাকে হতে হবে সবার জন্য সমান। কথা, কাজ, বেতন, পুরষ্কার, তিরস্কার সর্বক্ষেত্রে ইনসাফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। তাহলে অধীনস্থরা মানস পটে সঞ্চিত সংকীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলে উদারতা ও আত্ন-শক্তি অর্জন করবে। একই সাথে তারা আপনাকে উপহার দেবে নিষ্ঠা ও প্রাণবন্ততা। আর হ্যাঁ, ভালোদেরকে ভালো বলবেন এবং মূল্যায়ন করবেন এবং উৎসাহ দিবেন ভুলবেন না! কারণ যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের মূল্যায়ন না হলে উদ্যমী কর্মীরা মনোবল হারিয়ে ফেলে।
৪.ক্ষমা প্রদর্শন ও পজেটিভ হোন: অনেক সময় প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা প্রদর্শন করলে ভুলকারী অধিক শিক্ষা পায়, ভুল সংশোধনের প্রতি অধিক প্রয়াসী হয় এবং তার হৃদয়ে আপনার প্রতি স্বচ্ছ ও বর্ধিত ভালবাসা সৃষ্টি হয়। এভাবে আপনি অপরাধীকে সংশোধন করে নিজের ভক্তে পরিণত করতে পারেন।
৫.সংযত আত্নার অধিকারী হোন: আপনাকে অর্থ, নারী, বিলাসিতা অলসতা ও অন্যান্য ফেতনা থেকে দূরে থাকতে হবে। তাহলে অধীনস্থদের প্রতি দৃঢ়তা এবং প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন।
৬.সবসময় নিজের মতামতকে চাপিয়ে দিবেন না: বরং সবার সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।
৭.কল্যাণ কামী হওয়া: রাসূলূল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন :

( ما مِنْ عَبْدٍ اسْتَرْعاهُ اللهُ رَعِيَّةً فَلَمْ يَحُطْها بِنَصيحَةٍ إِلاّ لَمْ يَجِدْ رائِحَةَ الْجَنَّةِ (أخرجه البخاري

“আল্লাহ তায়ালা যাকে কোন জনসমষ্টির দায়িত্বশীল করলেন আর সে তাদের জন্য কল্যাণ কামনা করল না, সে জান্নাতের গন্ধও পাবেনা।” (সহীহুল বুখারী, কিতাবুল আহকাম)

৮.আমিত্ব পরিহার করুন: কারণ এতে আর যাই হোক, অন্যের হৃদয় রাজ্যে গড়ে উঠা ভালবাসা, মর্যাদা আর ব্যক্তিত্বের পাহাড় বরফের মত গলে গলে নি:শেষ হয়ে যায়।
৯.জ্ঞান ও প্রজ্ঞা: আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে থাকেন তবে সেখানকার সকল বিভাগের কাজ-কর্ম সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে। কুরআন-হাদীসের পাশাপাশি হিসাব, ইংরেজি, ম্যানেজম্যান্ট, কম্পিউটার ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে যে, সুপার ভাইজার যদি নিজেই কাজ না বুঝে, তাহলে তার দ্বারা সবসময় অর্ধেক সাফল্য আশা করতে হবে। গভীর দৃষ্টি, সূক্ষ্ম চিন্তাশক্তি, দ্রুত সমস্যা উপলব্ধি এবং দ্রুত সমাধান, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান এসবগুলোকে এক কথায় প্রজ্ঞা বলে।
১০.প্রতিভা , বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা : যার মধ্যে এই গুণগুলো রয়েছে তার মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত অফুরন্ত কল্যাণের সমাহার ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا

“যাকে হেকমত বা প্রজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাকে দেয়া হয়েছে প্রভূত কল্যাণ।” (সূরা বাকারা: ২৬৯)

পক্ষান্তরে এই গুণ যার মধ্যে নেই, সাফল্য তাকে ধরা দিবে না।

১১. ধৈর্য ও সহনশীলতা: এটি বিরোধীদের মোকাবেলা এবং নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এই গুণটিকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলা যায়।

তাছাড়া, মানুষকে তার সুন্দর নাম ধরে ডাকা, পূর্বের কোন ঘটনার খোজ খবর নেয়া, হাসি মুখে কথা বলা, চা-নাস্তার আসর বসানো, উপকার করা, নিজেকে তার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা, কোমলতা, উদারতা, ওয়াদা ঠিক রাখা এসবই মানুষকে মানুষের কাছে এনে দেয়। তবে সবকিছুর আগে খুলুসিয়াত কথা যেন ভুলে না যাই।

লেখক: আব্দুল্লাহ আল বাকী

দাঈ, পূর্ব জেদ্দা ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার, সউদী আরব

লিপ অফ ফেইথ

 এককালে গানবাজনার ভক্ত ছিলাম। একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম সব ছেড়ে দেব। প্রথমে চিন্তা হচ্ছিল, যে গানের এত ভক্ত, সে মিউজিক ছাড়া কীভাবে থাকবে? ভেবেছিলাম হয়তো কয়দিন পর আবার ফিরে আসতে হবে।

.
কিন্তু সুবহানআল্লাহ্‌, আমি গান ছাড়ার দুদিনের মধ্যে আল্লাহ্‌ আমার অন্তর থেকে গানের আসক্তি তুলে নিলেন। এরপর দেখি কোথাও গান শুনলেই মেজাজ খারাপ হয়। আল্লাহ্‌ কেন আমাকে সাহায্য করলেন? কারণ আমি প্রথম স্টেপটা নিয়েছিলাম। তা হল কোনকিছু না ভেবে গান শোনা ছেড়ে দেওয়া। বাকিটা আল্লাহ্‌ করেছিলেন।

এটার নামই লিপ অফ ফেইথ।
.
______
.
অনেককে বলতে শুনি হারাম কাজ ছাড়তে চায়, কিন্তু করি করি করেও করতে পারে না। কারণ এই চিন্তা, ছেড়ে দিলে কীভাবে থাকবে? হারাম রিলেশান স্টপ করতে গিয়ে বাধা, গার্লফ্রেন্ডকে ছাড়া কীভাবে থাকবে? শুধু তার কথা মনে পড়বে যে!
.
আরে ভাই, আপনি আল্লাহ্‌র ওপর ভরসা রেখে ছেড়ে দেন, আপনার অন্তরকে প্রশান্ত করার দায়িত্ব আল্লাহ্‌র। যে হারামে আসক্তি আছে, তা ছেড়ে দেখুন, আসক্তি দূর করার দায়িত্ব আল্লাহ্‌কে নিতে দিন।
.
______
.
জুমু’আর দিন আযান হয়ে গেলে আল্লাহ্‌র নির্দেশ হল বেচাকেনা বন্ধ করে মাসজিদে যাওয়া। আপনার যুক্তি বলবে ঐসময় কজন কোর কাস্টমার আসেন, তাদের ছেড়ে মাসজিদে আসলে ব্যবসায় লস।
.
আপনি আল্লাহ্‌র নির্দেশ মেনে মাসজিদে আসুন, লাভের দায়িত্বটা আল্লাহ্‌র ওপর ছেড়ে দিন। ইন-শা-আল্লাহ্‌, যা লস হল তার দশগুণ টাকা আপনার পকেটে এসে যাবে।
.
______
.
ফ্রি মিক্সিং এর আশঙ্কা থাকায় মোটা বেতনের কর্পোরেট জব ছেড়ে সীমিত আয়ের চাকরি নিয়েছেন কত ভাই। আল্লাহ্‌র কাছে সম্মানিত হবার স্বপ্নে উচ্চ সেক্যুলার ডিগ্রি থাকার পরেও চব্বিশঘণ্টা স্বামীর ঘরের দায়িত্ব নিয়েছেন কত বোন।
.
চারিদিকের কী সমালোচনা, কী তীর্যক মন্তব্য-“এত পড়াশোনা করেছ গৃহিণী হতে!”
এই ভাই-বোনেরা আমাদের আশেপাশেই আছেন। চোখ খোলা রাখলেই দেখা যায়। তাঁদের সংসারে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি চোখে পড়ে। কোটিপতিদের মত ঘুমের বড়ি খেয়ে চোখ বুজতে হয় না। শান্তি যে টাকার মধ্যে নেই, এটা বিশ্বাস করতে পারেন? শান্তির যিনি মালিক, তাঁকে সন্তুষ্ট করতে আপনি কাজ করবেন, আর তিনি আপনাকে শান্তি এনে দেবেন না?
.
_____
.
নিজের যুক্তির সাথে না মিললেও আল্লাহ্‌র বিধান মেনে নিয়ে ভালো ফলাফলের বিশ্বাস রাখা-এরই নাম লিপ অব ফেইথ। এই লিপ অব ফেইথটা আমাদের নিতে হবে।
.
-মূসা আলাইহিস সালাম বলেন নি সাগরের বুকে লাঠির আঘাত করে কী লাভ?
-ইউসুফ আলাইহিস সালাম বলেন নি বন্ধ দরজার দিকে দৌড়ে গিয়ে কী লাভ?
-মারইয়াম আলাইহিস সালাম বলেন নি দুর্বল শরীরে গাছের প্রচণ্ড শক্ত কাণ্ড নাড়ানোর চেষ্টা করে কী লাভ?
.
.
আমরাও যেন না বলি। আল্লাহ্‌ তৌফিক দান করুন। -আমীন
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
.
লেখাঃ জুবায়ের হোসেন (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

দ্বীন Vs নারীর শারীরিক সৌন্দর্য

 পৃথিবীতে প্রত্যেক পুরুষই নারীর সৌন্দর্যের প্রতি নিতান্তই দুর্বল। সুন্দরী নারীর প্রতি একজন পুরুষের ফিতরাতগত (সহজাত প্রবৃত্তি) আকর্ষণ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। আর তা কেবল এই আধুনিক সমাজ বলেই নয়, বরং হাজার হাজার বছর ধরে সুশ্রী চেহারার নারীদের প্রতি পুরুষদের অত্যাধিক ঝোঁক ছিলো এবং এভাবেই পরম্পরায় চলে আসছে।

কিন্তু আমরা কি জানি, এই পৃথিবীতে প্রত্যেক নারীকুল পুরুষদের অতীব আকাঙ্ক্ষিত- আকর্ষণীয়- চেহারা নিয়ে জন্মায় না? (ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি মহান রবের নিকট যিনি প্রত্যেক নর-নারীকে সৃষ্টি করেছেন সৌন্দর্য মন্ডিত করে- ভিন্ন আঙ্গিকে)

আকর্ষনীয় চেহারার অধিকারী না হওয়া নারীদের হাজার বছর আগ হতে ট্রিট করা হতো পশুর ন্যয়। কাউকে বেছে নিতে হতো চিরস্থায়ী দাসীর জীবন, কাউকে পুঁতে ফেলা হতো জীবন্ত কবরে, কেউ বা পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরনের সঙ্গী- পতিতা- রূপে নিজেকে মেলে ধরতো। এছাড়া সামাজিক নির্যাতন থেকে শুরু করে শত কুসংস্কার এর বলি হওয়া তো ছিল নিত্য দিনের ব্যাপার।

সেই সুদূর আরবেও ১৪০০ বছর পুর্বে লোকেরা সম্পদশালী, বংশীয় মর্যাদার অধিকারী এবং সুন্দরী নারীদেরই কেবল বিয়ে করতেন। এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একটি হাদিস আছে যা দ্বারা এই সত্যই অনুমেয়।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মানুষ সাধারণত নারীদের মাঝে চারটি গুণ দেখে বিবাহ করে, তার ধন-সম্পদ, বংশ-মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং দ্বীন (কিন্তু এমন করবেনা), তোমরা বিয়ের জন্য দ্বীনকে অগ্রাধিকার দাও। তোমরা যদি ধার্মিক নারীদেরকে অগ্রাধিকার না দাও, তাহলে অবশ্যই তোমাদের দুই হাত ধূলায় ধূসরিত হবে”।

[সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাতঃ ৩০৮২, ৩০৯০, ‘বিবাহ’ অধ্যায়।]

উক্ত হাদিস হতেও এটাই প্রতীয়মাণ হয় তৎকালীন সমাজেও একই রীতি অনুসৃত হতো। অথচ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করতে আমাদের নিষেধ করেছেন। এর মানে কিন্তু এই নয় যে, সুন্দরী নারীদের বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন, বরং এর অর্থ সুন্দরী নারী যদি বে-দ্বীন হয় তবে একজন পুরুষের জন্য ধ্বংস অবধারিত, অথচ দুনিয়াবী আকর্ষণহীন একজন নারীও যদি দ্বীনদারীতায় আগ্রগামী হয় তবে এর মাঝেই আছে সফলতা।

– প্রায় সময় কাছের অনেক বোনদের গল্প কানে আসে। আমার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের কথা জেনেছিলাম, বোনের চেহারায় শ্রী নেই দেখে পাত্র পক্ষের কেউই পছন্দ করছে না; বয়স প্রায় ৩৮ বছর পেরিয়ে গেছে। পরিবারের কোন সদস্যের মুখে হাসি নেই, তার দুশ্চিন্তায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় সে বোন দ্বীনদারও নয়।

– সেদিন আরেক বোনের ব্যাপারে শুনলাম, সামান্য স্থুলকার দেহের কারনে বিয়ে হচ্ছে না। বয়স ৩৫ পেরিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রেও একই কেস; দ্বীনদারীতার লেশটুকুও নেই (আল্লাহ মাফ করুক)।

একটাবার চিন্তা করুন তো, যদি এভাবে পৃথিবীর সকল কম আকর্ষনীয় নারীদের সংখ্যা হিসেবে করতে যাই তাহলে এসব নারীদের বিয়ের মাধ্যমে সংসার করার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে। আর তাই ইসলাম এমন এক মানদণ্ড পুরুষদের জন্য সেট করেছে যেখানে নারীর শারীরিক সৌন্দর্য, ধন-দৌলত, বংশীয় মর্যাদা কোনটাই গুরত্ব বহন করে নি কেবল মাত্র দ্বীন ছাড়া। দ্বীনের অগ্রগামীতা দেখেই পুরুষদের বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনেক ফুকাহা এবং সলফে স্বলেহীগন বলেছেন, ‘দ্বীনহীনা কোন নারীকে বিয়ে করা গুনাহের কাজ হবে যদিও তার সৌন্দর্য, বংশ, ধন-সম্পদ তোমাকে আকর্ষণ করুক; কেননা দ্বীনহীনা নারী তার স্বামীকে দাইয়্যুসে পরিনত করে, যা একজন পুরুষের জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম বড় কারন’।

সাহাবীদের আমলে কেবল দ্বীনদারিতার উপর বৃদ্ধ নারীর বয়সী মহিলাকেও বিয়ে করেছেন অনেক সাহাবী। স্বয়ং আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দুধ-মাকেও বিয়ে করেছিলেন তাঁর পালক পুত্র যায়েদ বিন হারিসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল বলেছেন, ‘এই নারী জান্নাতী, তোমরা কে এই নারীকে বিয়ে করতে চাও?’ যায়েদ ইবনে হারিসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হাত তুললেন এবং পরবর্তীতে দাদীর বয়সী নারীকে বিবাহ করলেন; যিনি যৌবন নিঃশেষ অবস্থায় উপনীত। এরপর এই ঘর থেকেই উসামা বিন যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর মতো দুর্ধর্ষ সেনাপ্রধান জন্মেছিলো। তার মানে হলো দ্বীনের অগ্রগামীতা একজন নারীর মধ্যে থাকলে অবশ্যই আল্লাহ্ তা’য়লা তাঁর কোন এক বান্দার মাধ্যমে সেই বান্দীর ব্যবস্থা করিয়ে নিবেন।

তাই সমস্ত পুরুষেরা আসুন দ্বীনদারীতাকে প্রাধান্য দেই। চেহারার আকর্ষনীয় সৌন্দর্যকে প্রাধান্য না দিয়ে দ্বীনদার নারীদের প্রাধান্য দেই, আখিরাতের ঘর নির্মাণে মনোযোগী হই। আর সমস্ত বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি, নিজেদের সৌন্দর্যের ব্যাপারে চিন্তিত না হয়ে, মহান রবের সান্নিধ্যে শান্তি খুঁজে নিন; ইন শা আল্লাহ, যায়েদ ইবন হারিসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর মতো বাঘা সাহাবীদের ন্যায় ভাইয়েরাও এগিয়ে আসবে আপনাদের কাছেই। বিইযনিল্লাহ্, নিশ্চয়ই যাদের স্বপ্ন ঊর্ধ্বাকাশে বাড়ি নির্মাণের, তারা দ্বীনের সৌন্দর্যে-কে ভালোবাসার কারনেই সেই চিরস্থায়ী বাড়ির মালিক হওয়ার যোগ্যতা অর্জনে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

Translate