Friday, August 13, 2021

বরকতের ১০টি চাবি:

বরকতের ১০টি চাবি:

১) ঈমান এবং তাক্বওয়া।

২) যেকোনো কাজের শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' বলা।

৩) কুরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়ানো (বেশি বেশি পড়া, বুঝা,আমল করা)।

৪) সদাকা বা দান করা।

৫) আত্মীয় স্বজনের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখা।

৬) সকাল বেলা না ঘুমিয়ে কাজ শুরু করা

৭) নিজে নামাজ পড়া এবং পরিবারের লোকদের নামাজের নির্দেশ দেওয়া।

৮) আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা।

৯) বেশি বেশি ইস্তেগফার করা।

১০) পরিপূর্ণ সালামের ব্যাপক প্রচলন করা।

- শাইখ Ahmadullah

Wednesday, August 11, 2021

মা-আদরের “মা”

 

১৮ জুলাই, ২০২১ ইং, ৩ শ্রাবণ, ১৪২৮, ৭ জিলহজ, ১৪৪২ রোজ রবিবার সকাল আনুমানিক ১১ টা ১৫ মিনিটে আমার জন্মদাত্রী মা এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে যায়।

 ’মা’ বলে ডাকার মানুষটা চলে গিয়েছে। অভিমানের মানুষটা চলে গিয়েছে। যার কাছে সমস্ত আবদার করতাম সেই মানুষটা চলে গিয়েছে। আদর স্নেহ মমতা দিয়ে যে মা লালল-পালন করেছেন সেই মা আজ কবরবাসী। ব্যথা ভুলতে পারছি না। এ ব্যথা সহ্য করতে পারছি না। কি দিয়ে তুলনা করবো? ‘মা’ তোমার তুলনা কি দিয়ে করবো? আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে যা কিছু সবই তো তোমার দেওয়া। আমার যে বেড়ে ওঠা, আমার যে রক্ত মাংস সবই তো তোমার শরীরের অংশ। আমার নিজের তো কিছুই নেই। ২০০৯ সালের কোন এক বৃহস্পতিবার সালে ঠিক তোমার মৃত্যূ যে সময়টাতে হয়েছে এমন সময় চির কালের মহা বীর, বিপদের কাণ্ডারী, অসীম সহ্য ক্ষমতা আল্লাহ যার ভিতরে দিয়েছিলেন সেই বাবাও চলে গিয়েছে। তোমরা শুধু চলেই যাও, তোমার ছেলে মেয়েরা কেমন করে থাকে সেটা তোমরা জানো না। তোমাদের চলে যাওয়া যে এতোটা ব্যথীত করবে কে জানতো!!! আল্লাহ সহ্য ক্ষমতা দিয়েছেন তাই হয়তো বেঁচে আছি। তাছাড়া তোমাদের হারানোর বেদনা বয়ে বেড়ানোর থেকে মরে গিয়ে তোমাদের কাছে চলে আসতাম। কালো হোক, ধলা হোক তোমরা ছিলে আমার চোখে শ্রেষ্ঠ। বাবা মারা যাবার সময় ক্লাস 9 এ পড়ি। তখন থেকে মায়ের লোলের ভিতর থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিই। 

রাত জেগে পড়াশোনা করতাম, মা জেগে থাকতো। রাতে যখন মায়ের পাশে ঘুমাতাম মা প্রায়ই আমার শরীরে হাত বুলিয়ে দিতেন। আমি তখন বুঝতাম না। কিন্তু একটু পরেই যখন দেখদাম মা হাত পাখাটা নাড়ছে তখন বুঝতাম আমার শরীর ঘেমে গিয়েছে তাই মা বাতাস করছে। এমন হাজারো স্মৃতি এখন আমার অন্তরে। বাবা মারা যাবার পর থেকে মাকে নিয়ে আলাদা একটা সংসার আমার। ভাইয়েদের টানা টানির সংসার। তার উপরে আমি মা আর দাদি তিনটা মানুষ। সব দিক বিবেচনা করে মাকে নিয়ে আমি আলাদা হয়ে যায়। আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিলো যেন কেউ আমার মাকে খাবারের খোটা, কাপড়েরের খোঁটা দিতে না পারে। আমার সামান্য টিউশনির টাকা দিয়ে ভাবেই চলতো আমাদের মা ছেলের সংসার। এভাবেই মায়ের কোলে শুয়ে আমি আমার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করি। কতো স্মৃতি, কতো কথা, কতো আনন্দ সবই যেন ম্লান হয়ে গিয়েছে। ২০১৪ সালে আমি পড়াশোনা করার জন্য ঢোকাতে চলে আসি। তারপর থেকে মায়ের থেকে আমার দূরত্ব। আমি মাকে মোবাইল কিনে দিয়েছিলাম। মা আমার সাথে ফোনে কথা বলতো। কতো বার যে আমাকে কল করতো! মনি মনি মনি- মনি ছাড়া কোন কথা সে বলতো না। 

আমার তেমন বাড়ি যাওয়া হতো না। কোন উৎসব বা বিশেষ ছুটি পেলে বাড়ি যেতাম। মা আমাকে সব জিনিস রান্না করে করে খাওয়াতো। আমার মনে যেটা খেতে চাইতো মা আমাতে সেটাই বানিয়ে খাওয়াতো। রোদ  বৃষ্টি ঝড় তুফান তাকে যেন কেউ দমিয়ে রাখতে পারতো না। আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। 

আমি কঁচু শাস পছন্দ করতাম, মা আমাকে কঁচু শাক খাওয়াতো। মারা যাবার আগে সবাইকে বলে রেখেছে ‘এখন থেকে কেউ কঁচুর পাতা তুলবা না, আমার মনি বাড়ি আসবে আমি আমার মনিকে শাক রান্না করে খাওয়াবো।’ 😥

আমি পিঠা খেতে পছন্দ করতাম, মা এক হাড়ি চাউল রেখেছে আমি আসলে গুড়া কুটে আমাকে পিঠা খাওয়াবে😥কে

আমি কাঁচা কাঁঠাল রান্না পছন্দ করতাম, মা গ্রামে খুঁজে খুঁজে আমার জন্য একটা কাঁঠাল দেখে রেখেছে, আমি বাড়ি গেলে রান্না করে খাওয়াবে।😥

আহা😥 মাছের ডিম!!! মাকে প্রায়ই বলতাম ঢাকাতে মাছের ডিমের অনেক দাম । মা বাজার থেকে ৩ কেজি ডিম ওয়ালা মাছ কিনেছে। একটা ডিম ও মাছ সে খাইনি। পরের বাড়ি ফ্রিজে রেখে এসেছে। আমি প্রায়ই বলতাম তুমি খেয়ে ফেলো। মা বলতো আমি খাবো না, তুমি আসবা তারপর রান্না করে খাওয়াবো।😥 

এ স্মৃতি কেমন করে ভুলবো। মা। তোমার সাথে আমাকেউ নিয়ে গেলে না কেন? জীবতি মাকে আর দেখতে পারলাম না। মায়ের মরদেহ কবরে নামাতে হলো আমার😥 মায়ের জন্য যা করেছি তা তো কিছুই না। একটা সময় অনেক কষ্ট ছিলো সংসারে। মা-বাবার পরিশ্রমের ফল আজকের আমরা তিনটা ভাই একটা বোন। অভাবের সংসারে তাদের অবদান কি করে ভুলে যাবো। যাদের মাধ্যম দিয়ে দুনিয়ার আলো বাতাস দেখলাম, হাটি হাটি পা পা করে বড় হলাম তাদেরকে কবরে রেখে কেমন করে থাকবো?😥

মৃত্যু অবধারীত এটা সত্য। তারপরও প্রিয় মানুষের হারানোর বেদনা সহ্য করা কঠিন। মাকে হারিয়ে আমি যেন অস্তিত্ব শূণ্য হয়ে পড়েছি। কোন ভাবেই মায়ের কথা ভুলতে পারছি না। কিছুই তো করতে পারলাম না মায়ের জন্য। আমার টাকা পয়সা কোন কাজে আসবে যদি আমার মা-বাবার কল্যাণে খরচ করতে না পারি😥

আল্লাহ আমাকে সহ্য ক্ষমতা দিক। 

মা, বাবা, তোমাদেরকে অনেক ভালোবাসি, অনেক, অনেক।


Saturday, May 29, 2021

১০০ টি কবিহার গুনাহ

 একশটি কবিরা গুনাহ 🥀💔


অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্সে সেন্টার, সৌদি আরব

▬▬▬◄❖►▬▬▬


🌀 কবিরা গুনাহ কাকে বলে?❗


কবিরা গুনাহ বলা হয় ঐ সকল বড় বড় পাপকর্ম সমূহকে যেগুলোতে নিন্মোক্ত কোন একটি বিষয় পাওয়া যাবে:

◉ যে সকল গুনাহের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়তে জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

◉ যে সকল গুনাহের ব্যাপারে দুনিয়াতে নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগের কথা রয়েছে।

◉ যে সকল গুনাহের ব্যাপারে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা রাগ করেন।

◉ যে সকল কাজে আল্লাহ তায়ালা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ফেরেশতা মণ্ডলী লানত দেন।

◉ যে কাজের ব্যাপারে বলা হয়েছে, যে এমনটি করবে সে মুসলমানদের দলভুক্ত নয়।

◉ কিংবা যে কাজের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

◉ সে সব বিষয়কে মুনাফেকির আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

◉ যে কাজে ‘দ্বীন নাই’, ‘ঈমান নাই’ ইত্যাদি বলা হয়েছে।

◉ অথবা যে কাজকে আল্লাহ তায়ালা সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় করা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


🌀 কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার মর্যাদা:


১. মহান আল্লাহ বলেন:

إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا

"যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের (ছাট) গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাব।” (সূরা নিসা: ৩১)

২. রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:

الصلوات الخمس . والجمعة إلى الجمعة . ورمضان إلى رمضان . مكفرات ما بينهن

إذا اجتنب الكبائر

“পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং এক রমাযান থেকে আরেক রমাযান এতদুভয়ের মাঝে সংঘটিত সমস্ত পাপ রাশির জন্য কাফফারা স্বরূপ যায় যদি কবিরা গুনাহ সমূহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।” (মুসলিম)


🌀 একশটি কবিরা গুনাহ (বড় পাপ):


নিম্নে একশটি কবিরা গুনাহ (বড় পাপ) তুলে ধরা হল:

1. আল্লাহর সাথে শিরক করা

2. নামায পরিত্যাগ কর

3. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া

4. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা

5. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা

6. যাদু-টোনা করা

7. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা

8. জিহাদের ময়দান থেকে থেকে পলায়ন

9. সতী-সাধ্বী মু‘মিন নারীর প্রতি অপবাদ

10. রোযা না রাখা

11. যাকাত আদায় না করা

12. ক্ষমতা থাকা সত্যেও হজ্জ আদায় না করা

13. যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা

14. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া

15. অহংকার করা

16. চুগলখোরি করা (ঝগড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের নিকট লাগোনো)

17. আত্মহত্যা করা

18. আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা

19. অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা

20. উপকার করে খোটা দান করা


21. মাদক বা নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা।

22. মদ প্রস্তুত ও প্রচারে অংশ গ্রহণ করা।

23. জুয়া খেলা।

24. তকদির (ভাগ্য) অস্বীকার করা।

25. অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা।

26. গণকের কাছে ধর্না দেয়া বা গণকের কাছে অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া।

27. পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা।

28. রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামে মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করা।

29. মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা।

30. মিথ্যা কথা বলা।

31. মিথ্যা কসম খাওয়া।

32. মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা।

33. জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।

34. সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।

35. মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টা করা।

36. হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা।

37. যার জন্যে হিলা করা হয়।

38. মানুষের বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা।

39. মৃতের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করা।

40. মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।


41. কোন মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে মারামারিতে লিপ্ত হওয়া।

42. খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্য বস্তু বানানো।

43. কোন অপরাধীকে আশ্রয় দান করা।

44. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবেহ করা।

45. ওজনে কম দেয়া।

46. ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা।

47. ইসলামি আইনানুসারে বিচার বা শাসনকার্য পরিচালনা না করা।

48. জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা বা পরের জমি জবর দখল করা।

49. গিবত তথা অসাক্ষাতে কারো দোষ চর্চা করা।

50. দাঁত চিকন করা।

51. সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে মুখমণ্ডলের চুল তুলে ফেলা বা চুল উঠিয়ে ভ্রু চিকন করা (ভ্রু প্লাগ করা)

52. মাথায় অতিরিক্ত/ চুল সংযোগ করা (পরচুলা ব্যবহার করা)

53. পুরুষের নারী বেশ ধারণ করা।

54. নারীর পুরুষ বেশ ধারণ করা।

55. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো।

56. কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা।

57. পথিককে নিজের কাছে অতিরিক্ত পানি থাকার পরেও না দেয়া।

58. পুরুষের গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করা।

59. মুসলিম শাসকের সাথে কৃত বয়াত বা আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা।

60. ডাকাতি করা।


61. চুরি করা।

62. সুদ লেন-দেন করা, সুদ লেখা বা তাতে সাক্ষী থাকা।

63. ঘুষ লেন-দেন করা।

64. গনিমত (জিহাদের মাধ্যমে কাফেরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ) বণ্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করা।

65. স্ত্রীর পায়ু পথে যৌন ক্রিয়া করা।

66. জুলুম-অত্যাচার করা।

67. অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখানো বা তা দ্বারা কাউকে ইঙ্গিত করা।

68. প্রতারণা বা ঠগবাজী করা।

69. রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা।

70. স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র ব্যবহার করা।

71. পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য পরিধান করা।

72. সাহাবিদেরকে গালি দেয়া।

73. নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে গমন করা।

74. মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের পলায়ন।

75. ভ্রান্ত মতবাদ জাহেলি রীতিনীতি অথবা বিদআতের প্রতি আহবান করা।

76. পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কোন অপকর্ম বা দুষ্কৃতি করা।

77. কোন দুষ্কৃতিকারীকে প্রশ্রয় দেয়া।

78. আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা।

79. বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া।

80. যে নারীর প্রতি তার স্বামী অসন্তুষ্ট।


81. স্বামীর অবাধ্য হওয়া।

82. স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা।

83. স্বামী-স্ত্রীর মিলনের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা।

84. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করা।

85. বেশী বেশী অভিশাপ দেয়া।

86. বিশ্বাসঘাতকতা করা।

87. অঙ্গীকার পূরণ না করা।

88. আমানতের খিয়ানত করা।

89. শরীরে উল্কি অঙ্কন করা বা ট্যাটু করা।

90. ঋণ পরিশোধ না করা।

91. বদ মেজাজি ও এমন অহংকারী যে উপদেশ গ্রহণ করে না।

92. তাবিজ-কবজ, রিং, সুতা ইত্যাদি ঝুলানো।

93. পরীক্ষায় নকল করা।

94. ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা।

95. ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায় বিচার করা।

96. আল্লাহ বিধান ব্যতিরেকে বিচার-ফয়সালা করা।

97. পার্থিব উদ্দেশ্যে দীনী ইলম (দীনের জ্ঞান) অর্জন করা।

98. কোন ইলম (দীনের জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জানা সত্যেও তা গোপন করা।

99. নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা।

100. আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া।

Monday, April 26, 2021

স্বামী স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক -১

 স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক (পর্ব-১)

পৃথিবীর গভীরতম সম্পর্কগুলোর একটি হলো স্বামী-স্ত্রী। এই সম্পর্ক যদি গভীর ও গাঢ় হয় তাহলে এই নশ্বর পৃথিবীও মনে হবে স্বর্গরাজ্য। সুখ বইবে জীবনের সর্বময়।

স্বপ্নময় দিন গত হবে অতিসহজে। জীবন কখনো তৃষ্ণাতুর হবে না। জীবন কখনো কষ্টকর মনে হবে না।

স্বামী-স্ত্রী দুজন দুজনার হলেই শান্তির বাতাস বহে জীবনের আকাশে। অর্থবিত্ত আর ঐশ্বর্য কিন্তু সাংসারিক জীবনের মূল চাবিকাঠি নয়। চাবিকাঠি হলো দুজনের বনিবনা প্রেম-প্রিতি ভালোবাসা। একজন আরেকজনের পৃথিবী হওয়া। স্বামীর ভেতর স্ত্রী তার নিজের পৃথিবী খুঁজে নেয়া, স্ত্রীর ভেতর স্বামী তার নিজের পৃথিবী খুঁজে নেয়া। একজন ছাড়া অন্যজন দিশাহারা হওয়া।

হাজার বছরের জীবনযাত্রায় পৃথিবী এর প্রমাণ দেখেছে বহুবার; লক্ষকোটি টাকার সংসারও দুজনের অনলে পুড়ে ছাই হয়েছে, আবার শূন্যপাতার পথের ধারের সংসারও হয়েছে স্বর্গময়। এই সবকিছুর মূলে ও গোড়ে দুজনার সৌজন্য আচার আচরণ। আমাদের সমাজে যার উপস্থিতি শূন্যের কোঠায়।

আমাদের সমাজে যত উপদেশ সব স্ত্রীকে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর কেমন আচরণ করতে হবে’ এই সম্পর্কে দশ বইয়ে দশটা উপদেশ অনায়সেই পেয়ে যাবেন; এর বিপরীতে স্ত্রীর সঙ্গে তার স্বামী কী আচরণ করবে সেই সম্পর্কে দশ বই বা উপদেশ পেতে আপনাকে বেগ পেতে হবে। হাজারটা বই ঘেঁটেও এমনটা পাবেন না, যেখানে স্বামীকে উদ্দেশ্যকে স্ত্রীর সঙ্গে তার আচরণের উপদেশ দেয়া হয়েছে।

আমাদের দেশের সমাজে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছিন্নতার অধিকাংশ ঘটনা কিন্তু স্বামীর আচরণ থেকেই উদ্ভব। অথচ একটি সংসার টিকে থাকতে স্ত্রী যে ধরণের আচরণ করা জরুরি তার থেকে শতগুণে বেশি জরুরি স্বামীর আচরণ ঠিক করা। একজন স্ত্রী চাইলেই একটি সংসার ভেঙ্গে দিতে পারে না। এর বিপরীতে একজন স্বামী চাইলেই ভেঙ্গে দিতে পারে একটি সংসার, যদিও স্ত্রী থাকে নির্দোষ। আমাদের সমাজের তালাক ডিভোর্স বা বনিবনা অনুপস্থিতির ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখায় এর মূল দায়ভার আশি পার্সেন্ট পুরুষের ওপর। আর যত ওয়াজ নসিহত স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে।

আমাদের মানিত ধর্ম ইসলাম এই বিষয়টার প্রতি সর্বাদিক গুরুত্ব দিয়েছে। কঠোর ভাষায় স্বামীকে হুশিয়ারি করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে স্ত্রীর প্রতি তার আচার-আচারণ ও ব্যবহাববিধিতে। আমাদের সমাজে একশ্রেণির লোক আছে যারা স্ত্রীকে ঘরের বুয়ার মতো ব্যবহার করতে চায়। আরেক শ্রেণির লোক আছে যারা মনে করে স্ত্রীকে ঘরে তুলে তার প্রতি অনুগ্রহ করেছে। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর অধিকারকে সমান করে দিয়েছে।

আল কোরআনে ঘোষণা হচ্ছে- هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ তরজমা : নারীরা তোমাদের পোশাক স্বরূপ, তোমরাও নারীদের পোশাক স্বরূপ’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৮৭) এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট বুঝা যায় নারী পুরুষের সমান অধিকার।

তাই, ইসলাম স্বামীকে খুবগুরুত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে বলে দিয়েছে স্ত্রীর সঙ্গে কী ধরণের আচরণ করতে হবে। ইসলাম স্বামীকে এটা বলে দেয়নি যে, হে স্বামী তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে এটা করবে, ওটা করবে না, এইভাবে করবে, ওইভাবে করবে না’। এই টাইপের আদেশ দেননি, দিয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে অন্যকথায়। সেই কথা কী?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

عن عائشة قالت : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم خيركم خيركم لأهله وأنا خيركم لأهلي وإذا مات صاحبكم فدعوه

তরজমা : আম্মাজান হজরত আয়েশা ছিদ্দিকা রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম পুরুষ সে-ই যে, তার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম। আমি আমার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম পুরুষ। (তিরমিযি ৩৬৯৫)

পুরুষের ভালোমন্দের ভার হলো তার পরিবার। যে পরিবারের সঙ্গে ভালো সে-ই উত্তম পুরুষ। সমাজে এমন অনেক মানুষ পাবেন যারা অন্যকে উপদেশ দেয় এই মর্মে স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে। আর নিজে ঘরে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।

ইসলাম এটাকে পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করলো কেন? যুদ্ধের ময়দানে লড়ায়ে উত্তীর্ণ হলো সে ভালো বীর হয়, ভালো বা উত্তম পুরুষ হয় না। আর পরিবারের সঙ্গে সদাচরণ করলে ভালো পুরুষ হয়? কারণ কী? নারী যখন বউ হয়ে শ্বশুড়বাড়ীতে এসে; এখানে তার আপন বলতে একমাত্র স্বামীই। দুর্বল মুহূর্তে সবাই-ই আঘাত করতে পারে, কিন্তু ওই মুহূর্তেও কেউ পাশে থাকে না। আপনি স্বামী যদি ওই দুর্বল মুহূর্তে সদাচারণ করতে পারেন তাহলেই আপনি সর্বোত্তম পুরুষ।

পবিত্র কোরআন হাদিসের আলোকে স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে কী আরচণ করবে- (১) সদাচরণ: স্বামীর আচরণ সম্পর্কে ইসলাম খুবই সতর্ক। জাহেলি যুগে স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে দাস-দাসির মতো আচরণ করতো। কোনো কারণ ছাড়াই শুধুমাত্র মনের ইচ্ছেতেই স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিত। শুধু তাই নয়, বিচ্ছিন্নতার সময় স্বামীরা চাইতো যে, যেসব অলঙ্কার বা অন্যান্য পরিধেয় বস্ত্রসমূহ স্বামী দিয়েছে এগুলোও ফিরিয়ে দিক। আর জন্য তারা নির্যাতনও করতো প্রচুর। সেই কুসংস্কারকে সমাজ থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য আল্লাহ তায়ালা আদেশ দেন-

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

তরজমা : তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদাচরণ করো (সূরা নিসা আয়াত ১৯)।

এই অংশটুকুর ব্যাখ্যাতে ইবনে কাসির (রহ.) বলেন- وعاشروهن بالمعروف ) أي : طيبوا أقوالكم لهن ، وحسنوا أفعالكم وهيئاتكم بحسب قدرتكم ، كما تحب ذلك منها ، فافعل أنت بها مثله স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণের অর্থ হলো স্ত্রীদের সঙ্গে তোমরা উত্তম কথা-বার্তা সুন্দর আচার-আচরণ এবং তোমাদের বেশভুষাও সাধ্যানুযায়ী সুন্দর রাখবে। এমন সুন্দর যেমনটা তোমরা তাদের থেকে আশা করো।

এই আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাফসিরে মারেফুর কোরআনে একটু বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাফসিরে মারেফুর কোরআন থেকে তুলে ধরছি- জাহিলিয়াত আমলে নারীদের ওপর স্বামীর পক্ষ থেকে উৎপীড়ন হতো এবং ওয়ারিসদের পক্ষ থেকেও। কোনো স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গেলে ওয়ারিসরা তার সঙ্গে যদৃচ্ছা ব্যবহার করতো। মন চাইলে নিজেই বিয়ে করে নিতো কিংবা অন্য কারো বিবাহে আবদ্ধ করে দিতো। মন না চাইলে কারো কাছে বিয়ে দিতো না, বিয়ে বসতেও দিতো না। এমন কী তাদেরকে বন্দি করে রাখতো। যাতে অর্থ উপার্জনের পথ প্রশস্ত হয় এমন অবস্থায় স্ত্রীলোকটি হয়তো স্বামীর দেয়া ধন-সম্পদ তাদেরকে দিয়ে মুক্ত হতো না হয় ওই অবস্থায় তাদের মৃত্যু হতো।

নারীর প্রতি সেই দুরবস্থা দূর করার জন্য আল্লাহ বলেন وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ। এই নাতিদীর্ঘ আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবে যেমন ব্যবহার সে স্ত্রী থেকে আশা করে। ইমাম গাজাযী (রহ.) ইয়াহইয়াউ উলুমুদ্দিনে লিখেন ‘সকলের জেনে রাখা আবশ্যক যে, স্ত্রীদের নানান হক থেকে এটিও একটি হক যে, তার সঙ্গে স্বামী উত্তম ব্যবহার দেখাবে, উন্নত চরিত্রের পরিচয় দিবে। স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণের অর্থ এই নয় যে, শুধু তাকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা। বরং স্ত্রী থেকে কষ্ট পেলে সেই কষ্ট সহ্য করে নেয়া। তাফসিরে কুরতুবিতে এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে বলা হয়েছে, এই আয়াতে শুধু স্বামীকে নয়, স্বামী, স্বামীর অভিভাবক, বড়ভাই, শ্বশুড় শাশুড়ীসহ সকলকে স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণের আদেশ দেয়া হয়েছে।

সদাচরণে বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই সতর্ক থাকতেন। এক হাদিসে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِنَّ مِنْ أَكْمَلِ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَأَلْطَفُهُمْ بِأَهْلِهِ

হজরত আয়েশা রাযিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন- সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ মুমিন ওই ব্যক্তি যে আচারণে সর্বোত্তম এবং পরিবারের সঙ্গে সদয় আচরণকারী ও বিনয় বন্ধুসুলভ’ (তিরমিযি, হাদিস নং ২৬১৫)

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবনের শেষ ভাষণ তথা বিদায় হজের ভাষণেও স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের নসিহত করে দিয়েছে। ঘোষণা দিলেন استوصوا بالنساء خيراً তোমরা নারীদের সঙ্গে সদয় আচরণের উপদশ গ্রহণ করো। স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর সুন্দর আচরণ বা স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর সুন্দর আচরণ শুধুমাত্র সংসার সুখি হওয়া জন্য নয়, প্রতিজন স্বামীকে তার স্ত্রীর সঙ্গে কেমন আচরণ করেছ এর জবাবদিহিতা করতে হবে কাল কিয়ামতের দিন, এমনভাবে স্ত্রীকেও তার স্বামীর সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে এর জবাবদিহিতা করতে কাল কিয়ামতের দিন।

একথা আমরা জানতে পারি তিবরানির হাদিস থেকে ‘হজরত আবু আইয়ুব আনসারী রাযিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে বিরোধ মীমাংসা করা হবে তাহলো এক স্বামী ও তার স্ত্রীর বিরোধ। আল্লাহর শপথ! (সে সময়) স্ত্রীর জিহ্বা কথা বলবে না, বরং তার হাত-পা সাক্ষ্য দিবে, পৃথিবীতে সে তার স্বামীর সঙ্গে এই এই আচরণ করেছে! আর স্বামীর হাত-পাও সাক্ষ্য দিবে যে, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে এই এই ভালো আচরণ বা এই এই খারাপ আচরণ করেছে। অতঃপর আল্লাহর এজলাসে মনিব ও কর্মচারীসংক্রান্ত মামলা উঠবে। সেদিন কোনো আর্থিক জরিমানা করে বিরোধ মেটানো হবে না। বরং মজলুমকে জালিমের নেক আমলগুলো দিয়ে দেয়া হবে এবং মজলুমের বদ আমলসমূহ জালিমের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হবে। অবশেষে প্রতাপশালী অহংকারী অত্যাচারীদের লোহার জিঞ্জিরে পেঁচিয়ে হাজির করা হবে। অনন্তর বলা হবে তাদের দাবড়িয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাও।’

Translate