Wednesday, April 16, 2025

ইসলামে ঘোড়ার মাংস খাওয়ার বিধান

 আলহামদুলিল্লাহ। অধিকাংশ ইসলামি বিদ্বান ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে বৈধ বলেছেন। কারণ এ বিষয়ে সহিহ হাদিস রয়েছে।

হাদিসের দলিল:

❂ ১. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত:

نَهَى رَسولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عليه وسلَّمَ يَومَ خَيْبَرَ عن لُحُومِ الحُمُرِ الأهْلِيَّةِ، ورَخَّصَ في الخَيْلِ

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাইবারের দিনে গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।” [সহিহ বুখারি (৩৯৮২), সহিহ মুসলিম (১৯৪১)]

❂ ২. আসমা বিনতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন:

نحَرْنا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فرساً فأكلناه

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে আমরা একটি ঘোড়া জবাই করে খেয়েছিলাম।” [সহিহ বুখারি (৫১৯১), সহিহ মুসলিম (১৯৪২)]

❂ ৩. জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:

سافرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وكنا نأكل لحم الخيل ونشرب ألبانها

“আমরা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সফর করছিলাম এবং ঘোড়ার মাংস খেয়েছি ও এর দুধ পান করেছি।” [দারকুতনি, বায়হাকি – ইমাম নববী বলেছেন: এটি সহিহ সনদ বিশিষ্ট]

❒ বিরোধী মতামত:

কিছু বিদ্বান যেমন ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর দুই শিষ্য ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে মাকরুহ বলেছেন এবং তারা একটি আয়াত ও একটি হাদিস দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।

❂ ১. আয়াতের দলিল:

الْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً

“আর তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা যাতে তোমরা এগুলোর উপর সওয়ার হতে পারো এবং এগুলো তোমাদের জন্য শোভাস্বরূপ।” [সূরা আন-নাহল: ৮]

তারা বলেন, এখানে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধাকে কেবল বাহনের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, খাদ্য হিসেবে নয়। অথচ এর আগের আয়াতে চতুষ্পদ জন্তুর (গরু, উট, ছাগল) মাংস খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

➧ এর জবাব:

ইসলামি স্কলাররা বলেন, এই আয়াতে বাহনের বিষয়টি মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়ায় তা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, এগুলোর অন্য কোনো উপকারিতা নেই। যেমন: আল্লাহ বলেছেন:

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ

“তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত, শুকরের মাংস।” [সূরা মায়েদা: ৩]

এখানে কেবল মাংসের কথা বলা হলেও, সবাই একমত যে শুকরের চর্বি, রক্ত ও অন্যান্য অংশও হারাম।

❂ ২. হাদিসের দলিল: খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:

نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لحوم الخيل والبغال والحمير وكل ذي ناب من السباع

“রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়া, খচ্চর, গাধা ও হিংস্র দাঁতওয়ালা প্রাণীর মাংস খেতে নিষেধ করেছেন।” [আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]

❒ এর জবাব: এই হাদিসটি দুর্বল।

◈ শাইখ আলবানি জইফ আবু দাউদে এটিকে জয়িফ বলেছেন।
◈ বিশিষ্ট মুহাদ্দিস হাফিজ মুসা ইবনে হারুন (মৃত্যু: ২৯৪ হিজরি) বলেছেন: “এই হাদিসটি দুর্বল।”
◈ ইমাম বুখারি বলেছেন: “এই হাদিসটি সন্দেহযুক্ত।”
◈ ইমাম বায়হাকি বলেছেন: “এই হাদিসটির সনদ অসংগত এবং এটি বিশ্বাসযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসের (যা ঘোড়ার মাংসের বৈধতার পক্ষে) বিপরীত।”
◈ ইমাম খাত্তাবি বলেছেন: “এই হাদিসটির সনদে সন্দেহ রয়েছে।”
◈ ইমাম আবু দাউদ বলেছেন: “এই হাদিসটি রহিত (মানসুখ)।”
◈ ইমাম নাসাঈ বলেছেন: “ঘোড়ার মাংসের বৈধতার হাদিসই বেশি সহিহ।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন: “যদি নিষেধাজ্ঞার হাদিসটি সহিহ হয়, তবে এটি রহিত (নাসিখ) বলে মনে হয়। কারণ সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এটি সেই অনুমতিরই প্রমাণ।” (তথ্যসূত্র: আল মাজমু)

[islamqa থেকে অনুদিত]

❖❖ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ.-এর ফতোয়া:

শাইখকে প্রশ্ন করা হয়:

প্রশ্ন: আমাদের অঞ্চলের একটি গ্রামে লোকজন একটি ঘোড়া জবাই করে তার মাংস মানুষের মাঝে বিতরণ করে এই দাবিতে যে, এটি ইসলামে বৈধ। এটি কি সত্য?

উত্তরে তিনি বলেন:

: نعم، لحم الخيل مباح هذا الذي عليه جمهور أهل العلم وهو الصحيح، والرسول ﷺ أذن في لحوم الخيل، وروت أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما: أنهم نحروا فرسًا على عهد النبي ﷺ في المدينة وأكلوها، فالمقصود: أن لحوم الخيل مباح، هذا هو الصواب الذي عليه جمهور أهل العلم

“হ্যাঁ, ঘোড়ার মাংস খাওয়া ইসলামে বৈধ। এ বিষয়ে অধিকাংশ ইসলামি স্কলারের ঐকমত্য রয়েছে। এই মতটাই সঠিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। আসমা বিনতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন যে, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে আমরা মদিনায় একটি ঘোড়া জবাই করেছিলাম এবং তা খেয়েছিলাম।” [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম]

❑ প্রশ্নকারী: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। এটি কি উটের মতো জবাই করতে হয় নাকি গরুর মতো জবাই করতে হয়?

উত্তর:

تذبح كالبقر، بخلاف البغال والحمير لا، البغال والحمير هذه محرمة الحمر الأهلية المعروفة هذه محرمة، أما الخيل فإنها مباحة، الرسول ﷺ نهى عن الحمر والبغال وأذن في لحوم الخيل.

“ঘোড়া গরুর মতো জবাই করা হয়। তবে খচ্চর ও গৃহপালিত গাধার মাংস খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গৃহপালিত গাধা ও খচ্চরের মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু ঘোড়ার মাংসের ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন।”

❒ ঘোড়ার মাংস খাওয়া হালাল। তবে জিহাদের প্রয়োজন হলে জবাই করা উচিত নয়

শাইখক এ বিষয়ে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে বলেন,

الخيل مباحة قد أذن فيها النبي ﷺ، ورخص في لحم الخيل، وقالت أسماء بنت أبي بكر رضي الله تعالى عنهما: نحرنا على عهد النبي ﷺ فرساً، فأكلناه ونحن في المدينة رواه الشيخان في الصحيحين.

فالخيل مباحة، لكن إذا احتيج إليها في الجهاد لا تذبح .. لا تنحر، وإذا لم يحتج إليها وذبحت فهي حلال كالضباء وكالوعل، وكالأرنب، وكغيرها من الصيود النافعة،

أما الحمر والبغال لا، ليست بحلال، محرمة، الحمر والبغال.. الحمر الأهلية والبغال المعروفة هذه محرمة لا يجوز أكلها، أما الحمر الوحشية المعروفة هذه لا بأس بها، يسمونها الوضيحي فهذه مباحة، وهي حمر منقشة لها نقش عجيب، فليست مثل الحمر الأهلية بل لها شكل آخر، ولون آخر، وخلق آخر، فلا بأس بها، أما الحمر الأهلية فإنها تحرم، المعروفة اللي كان الناس يركبونها ويستعملونها في الحرث، والسني عليها، هذه معروفة، وقد ذبحها الناس يوم خيبر، فأنكر عليهم النبي ﷺ وأكفأ القدور، وبين تحريمها عليه الصلاة والسلام.

وهكذا البغال المعروفة لا يحل أكلها، ولكن تستعمل، تركب وتستعمل في
الحمل عليها كالحمير

“হ্যাঁ, ঘোড়ার মাংস খাওয়া বৈধ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং এটিকে হালাল ঘোষণা করেছেন।

আসমা বিনতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে আমরা মদিনায় একটি ঘোড়া জবাই করে তা খেয়েছিলাম।” [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম]

◆ ঘোড়া হালাল। তবে যদি জিহাদের জন্য প্রয়োজন হয় তাহলে এটিকে জবাই করা উচিত নয়। যদি জিহাদের প্রয়োজন না থাকে তাহলে তা হরিণ, বন্য ছাগল (ঘুরাল), খরগোশ এবং অন্যান্য উপকারী শিকারযোগ্য প্রাণীর মতোই বৈধ।

◆ গৃহপালিত গাধা ও খচ্চর গৃহপালিত গাধা এবং খচ্চরের মাংস খাওয়া হারাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাইবার যুদ্ধে গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেন এবং রান্নার হাঁড়িগুলো উল্টে দেন। [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম]

◆ বন্য গাধা: (নীলগাভি/নীলগাই) বন্য গাধার মাংস খাওয়া বৈধ। এটি গৃহপালিত গাধার মতো নয় এবং এটিকে খাওয়া জায়েজ।

◆ খচ্চরের মাংস খাওয়া হারাম হলেও এগুলো বাহন হিসেবে ব্যবহার করা এবং মাল বহনের কাজে লাগানো বৈধ যেমন গৃহপালিত গাধার ক্ষেত্রে হয়।”

সংক্ষিপ্ত কথা হলো, ঘোড়ার মাংস খাওয়া জায়েজ। হবে জিহাদের প্রয়োজন হলে, তা গণহারে খাওয়া উচিত নয়। হানাফি মাজহাবে তা মাকরুহ বলা হলেও এ মর্মে দলিল প্রমাণিত না হওয়ায় তা গ্রহনযোগ্য নয়।

▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ধর্ষণ ও বর্তমান সমাজের চিত্র এবং কারণ ও প্রতিকার

 ভূমিকা: আমাদের সমাজে অসংখ্য অন্যায়-অপকর্মের স্রোত-তরঙ্গের মাঝে ধর্ষণ বর্তমানে নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত আসছে ধর্ষণের নানা খবর। মানুষ গড়ার আঙ্গিনায় অমানুষদের হিংস্র থাবায় আমার বোন আজ ক্ষত-বিক্ষত। স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ। বাসের ড্রাইভার আর হেল্পার মিলে জন্তু-জানোয়ারের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে অসহায় নারীর উপর। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে জনসম্মুখে কুপিয়ে হত্যা কিংবা শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার মত ঘটনা দেখে জাতি স্তম্ভিত। এমনকি প্রেম প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রতিশোধ নিতে কয়েকজন ধর্ষক গণ ধর্ষণ করার পর ফেসবুক লাইভে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠে। বাদ যায় না প্রতিবন্ধী কিংবা ছয় বছরের শিশুও৷ এই হল, আমাদের বর্তমান সমাজের নির্মম হাল-চিত্র। (আল্লাহ এ জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।)

যাহোক, এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতে নিম্নে ধর্ষণ সংক্রান্ত জরুরি কিছু তথ্য, ধর্ষণের প্রকারভেদ, কারণ ও ইসলামে ধর্ষণ রোধে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ তুলে ধরা হল:

❐ বাংলাদেশ সংবিধানে ধর্ষণের সংজ্ঞা:

বাংলাদেশ সংবিধানে ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলক ভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।” [বাংলাদেশ সংবিধান: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০] অনুমতি প্রদানে অক্ষম (যেমন: কোনও অজ্ঞান, বিকলাঙ্গ, মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি) এরকম কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হওয়াও ধর্ষণের আওতাভুক্ত। ধর্ষণ শব্দটির প্রতিশব্দ হিসেবে কখনো কখনো ‘যৌন আক্রমণ’ শব্দ গুচ্ছটিও ব্যবহৃত হয়। (উইকিপিডিয়া) ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং আঘাত পরবর্তী চাপ বৈকল্যে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া ধর্ষণের ফলে গর্ভধারণ ও যৌন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির পাশাপাশি গুরুতর ভাবে আহত হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি ধর্ষকের দ্বারা এবং কোনও কোনও সমাজে ভুক্তভোগীর নিজ পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়।

❐ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ৯ ধারা মতে সাজাসমুহ:

(১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
ব্যাখ্যা৷- যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত [ষোল বৎসরের] অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলক ভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা [ষোল বৎসরের] কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন৷
(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-
(ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষিতা হন, তাহা হইলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্ত রূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷ [নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ source: https://bit.ly/3kWfFOO]

❐ ধর্ষণের প্রকারভেদ: (১০ প্রকার)

ধর্ষণের নানা প্রকারভেদ রয়েছে। এগুলো থেকে নিম্নোক্ত প্রকার সমূহ সমধিক সংঘটিত হয়। যেমন:

১) ডেট ধর্ষণ
২) গণ ধর্ষণ
৩) শিশু ধর্ষণ
৪) কারাগারে ধর্ষণ
৫) ধারাবাহিক ধর্ষণ (serial rape)
৬) প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ষণ
৭) হেফাজত কালীন ধর্ষণ। (যেমন: হাসপাতাল কর্মী, পুলিশ, সরকারী কর্মকর্তা ইত্যাদি কর্তৃক ধর্ষণ)।
৮) আন্তর্জাতিক সংঘাত বা যুদ্ধ কালীন নিয়মতান্ত্রিকভাবে ও ব্যাপক হারে ধর্ষণ।
৯) চৌর্যবৃত্তিমুলক ধর্ষণ: নারী অথবা পুরুষকে অপহরণ করে এ ধর্ষণ করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের যৌন দাসত্বে অথবা দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
১০) বিকৃত মস্তিষ্ক নিকটাত্মীয় কর্তৃক ধর্ষণ। যেমন: বাবা, চাচা, ভাই, দাদা ইত্যাদি রক্ত সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয় কর্তৃক এ ঘৃণ্য কাজটি করা হলে তাকে বলা হয় অজাচার।

❐ ধর্ষণে শীর্ষস্থানে থাকা ১০ দেশ:

ধর্ষণ অপরাধে গোটা বিশ্বে এক নম্বরে যে দেশটি অবস্থান করছে তার নাম হল, কথিত ‘সভ্য’ দেশ আমেরিকা/যুক্তরাষ্ট্র। আর ধর্ষণে শীর্ষস্থানে থাকা দশটি দেশের সবগুলোই অমুসলিম দেশ। যদিও এ সব দেশে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ আছে, নারীদের ইচ্ছামত পোশাক পরার স্বাধীনতা আছে, সর্বক্ষেত্রে পুরুষদের সাথে কাজের অনুমতি আছে এবং সেখানে নারী-পুরুষের মাঝে কোন ভেদাভেদ করা হয় না।
● ১. আমেরিকা : আমেরিকার ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিক অনুযায়ী আমেরিকায় ধর্ষণের শিকার নারীর পরিসংখ্যান ৯১% এবং ৮% পুরুষ। ন্যাশনাল ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইম্যানের সার্ভে অনুযায়ী আমেরিকার প্রতি ৬ জন মহিলার মধ্যে ১ জন ধর্ষণের শিকার।
পুরুষদের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটা ৩৩ জনে ১ জন ধর্ষণের শিকার। এই দেশে ১৪ বছর বয়স থেকেই ধর্ষণের মত অপরাধের প্রবণতা তৈরি হয় শিশু মননে।
● ২. দক্ষিণ আফ্রিকা: সন্তান এবং শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গোটা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয়। এই দেশে একজন ধর্ষকের শাস্তি মাত্র ২ বছরের কারাবাস। দক্ষিণ আফ্রিকাকে বলা হয় ‘রেপ ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড’।
● ৩. সুইডেন : ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে সুইডেনেই সবথেকে বেশি ধর্ষণ হয়। প্রতি বছরই প্রায় ৫৮% হারে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়ে সুইডেনে।
● ৪. ভারত : ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো অনুযায়ী ২০১২ সালে ভারতের মত উন্নতশীল দেশে ধর্ষণের অভিযোগ জমা হয়েছে ২৪ হাজার ৯২৩টি। ভারতে ধর্ষণের শিকার হওয়া ১০০ জন নারীর মধ্যে ৯৮ জনই আত্মহত্যা করেন। প্রতি ২২ মিনিটে ভারতে একটি করে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়।
● ৫. ব্রিটেন : ৪ লাখ মানুষ প্রতিবছর ধর্ষণের মত ঘটনার শিকার হন ব্রিটেনে। প্রতি ৫ জন মহিলার (১৬-৫৯ বছর বয়সী) মধ্যে একজন করে ধর্ষণের শিকার হন।
● ৬. জার্মানি : এখনও পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার নারীর মৃত্যু হয়েছে জার্মানিতে। প্রতি বছর জার্মানিতে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয় ৬৫ লাখ ৭ হাজার, ৩৯৪।
● ৭. ফ্রান্স : ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ধর্ষণের মত ঘটনা ফ্রান্সে অপরাধ বলেই মানা হত না। ফ্রান্সের সরকারী গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি বছরে এই দেশে ধর্ষণের শিকার হন অন্তত ৭৫ হাজার নারী।
● ৮. কানাডা : এই দেশে এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগের (ধর্ষণ) সংখ্যা ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৯১৮টি (এই সময় পর্যন্ত)। প্রতি ১৭ জন মহিলার মধ্যে ১ জন করে মহিলা এই দেশে ধর্ষিতা হন। যাদের মধ্যে ৬২% শারীরিকভাবে আহত হন।
● ৯. শ্রীলঙ্কা : এই দেশে অপরাধের শতাংশের বিচারে ১৪.৫ শতাংশ অপরাধ সংগঠিত হয় ধর্ষণে। ধর্ষণে অভিযুক্তদের ৬৫.৮% ধর্ষণের মত নারকীয় কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকেও কোনও প্রকার অনুশোচনা তাদের মধ্যে হয় না।
● ১০. ইথিওপিয়া : এই দেশের ৬০% নারী ধর্ষণের শিকার। (সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ)

❐ বাংলাদেশে পরিসংখ্যান:

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৮ হাজার ৬৬৮টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে প্রতিবছর গড়ে ৪ শতাংশ আসামির সাজা হয়। বাকিদের অধিকাংশই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৩২২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৬ মাসে ৬ শতাধিক ধর্ষণ। ৩৭ জন হত্যা। (চ্যানেল ২৪)
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,”চলতি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট এই ৮ মাসে দেশে অন্তত ৮৯২ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ সকল ধর্ষিতা নারীদের মধ্যে অন্তত ৪১ জন আহত অবস্থায় মারা গেছেন এবং অপর ৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। এতে আরও বলা হয় এ সময়কালে ১৯২ জন নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল।” (ভয়েস অফ আমেরিকা/voabangla ডট কম)

❐ ধর্ষণ বৃদ্ধির ১৬ কারণ:

নানা কারণে ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়। তাই বিশেষ একটি কারণকে এ জন্য দায়ী বলা যাবে না। আমাদের সমাজে ধর্ষণ বৃদ্ধির জন্য যে সব মৌলিক কারণকে দায়ী করা যায় সেগুলো নিম্নরূপ:
১) আল্লাহর দীন থেকে দুরে সরে যাওয়া, মানুষের অন্তর থেকে আল্লাহ ভীতি উঠে যাওয়া এবং নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
২) জিনা-ব্যভিচারের শাস্তি সংক্রান্ত আল্লাহর বিধানকে অবমূল্যায়ন।
৩) অশ্লীলতার ছড়াছড়ি। যৌন আবেদন মূলক সিনেমা, নাটক, কনসার্ট, চলচ্চিত্রে ধর্ষণের দৃশ্য উপস্থাপন, দেয়ালে দেয়ালে অশ্লীল পোস্টার, কাছে আসার গল্প মার্কা অনুষ্ঠান, অশ্লীল ম্যাগাজিন, পাঠ্য বইয়ে যৌন শিক্ষার সুড়সুড়ি, বিদেশী টিভি চ্যানেল, পর্ণ ওয়েব সাইট, ইউটিউব, ফেসবুক সহ সর্বত্র উন্মুক্ত অশ্লীলতা।
৪) পর্দা হীনতা, অশালীন পোশাক, বেপরোয়া চলাফেরা‌ এবং লাজ-লজ্জাকে নির্বাসন।
৫) আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা বা বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রিতা।
৬) বর্তমান যুবসমাজের অসুস্থ ও নোংরা মানসিকতা।
৭) স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিতে সহশিক্ষা চালু থাকা।
৮) কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা।
৯) পারিবারিক সুশিক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার উদাসীনতা।
১০) যুবক-যুবতীদের উপর সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব ও ধর্ষকদেরকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ না থাকা।
১১) মদ ও নেশার ছড়াছড়ি।
১২) বেকারত্ব।
১৩) অবৈধ প্রেম—বয় ফ্রেন্ড/গার্ল ফ্রেন্ড নামক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসন।
১৪) শত্রুতা এবং ক্রোধ বশত প্রতিপক্ষের নারীকে ধর্ষণ।
১৫) রাজনৈতিক কারণে ধর্ষণ।
১৬) নারীবাদী ও সেক্যুলারদের পক্ষ যুবক-যুবতীদেরকে বিয়েতে বিলম্ব করতে উৎসাহিত করণ।

❐ ধর্ষণ ঠেকাতে শুধু মানসিকতা পরিবর্তনই কি যথেষ্ট না কি আরও কিছু করণীয় রয়েছে?

নারী ধর্ষণের জন্য মানসিকতাও দায়ী এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নাই। কোন আলেম কখনোই বলেন নি যে, মানসিক পরিবর্তনের দরকার নাই। কিন্তু দ্বিমত হল, যখন আপনি বলবেন, নারীর পোশাক কোনভাবেই দায়ী নয়! সে যা মনে চায় তাই পরবে। অথবা আপনি যখন ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য নারীকে হিজাব থেকে বের করে কেবল পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনের ওয়াজ করবেন। একজন যুবতী মেয়ে যখন খােলামেলা পোশাক পরে, সাজগোজ করে, পারফিউম করে কোন পর পুরুষের কাছে যায় তখন সে পুরুষ যদি সুস্থ হয়ে থাকে তাহলে তার ভিতরে তোলপাড় শুরু করবে- যতই সে তার মানসিক অবস্থা কন্ট্রোল করার চেষ্টা করুক না কেন। ক্রমান্বয়ে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) সে নিজের প্রবৃত্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়। আস্তে আস্তে সে ‘মানসিক পরিবর্তন করার ওয়াজ’ ভুলতে শুরু করে। এটিই স্বতঃ:সিদ্ধ বাস্তবতা-যদিও দ্বিমুখী নীতির লোকেরা মুখে ভিন্ন কথা বলার চেষ্টা করুক না কেন। এবার আসুন, দেখা যাক, নারীর ধর্ষণ ঠেকাতে ইসলাম কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?

❐ ধর্ষণ, ইভ টিজিং ও অবৈধ যৌন অপরাধ ঠেকাতে ইসলামের গৃহীত ১০টি পদক্ষেপ:

➊ ইসলাম আমাদেরকে যেমন মানসিক পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছে ঠিক তেমনটি মহিলাদেরকে হিজাবের নির্দেশ দিয়েছে।
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ
“হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের, তোমার কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলে দাও,
তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের (মুখের) উপর নামিয়ে দেয়।” (সূরা আহযাব : আয়াত নং ৫৯)
➋ ধর্ষণ এড়াতে ইসলাম মহিলাদেরকে পরপুরুষের সাথে নির্জন স্থানে বা লোকচক্ষুর আড়ালে যেতে নিষেধ করেছে।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ ‏”‏ الْحَمْوُ الْمَوْتُ ‏
عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ
➌ পুরুষ-নারী নির্বিশেষে সকলকে পর পুরুষ/নারীর দিকে চোখ পড়লে তৎক্ষণাৎ চোখ নিচু করতে নির্দেশ দিয়েছে।
➍ মহিলাদেরকে স্বামী, বাবা, দাদা, ভাই, ভাগিনা ইত্যাদি মাহরাম পুরুষ ছাড়া দূরের সফরে যেতে নিষেধ করেছে।
➎ মহিলাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রয়োজনে পরপুরুষের সাথে কথার বলার সময় যেন কোমল কণ্ঠ পরিহার করে।
يَٰنِسَآءَ ٱلنَّبِىِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍۢ مِّنَ ٱلنِّسَآءِ ۚ إِنِ ٱتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِٱلْقَوْلِ فَيَطْمَعَ ٱلَّذِى فِى قَلْبِهِۦ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
➏ জরুরি দরকারে বাইরে যাওয়ার সময় মহিলাদেরকে পারফিউম/সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।
( أَيُّمَا امْرَأَةٍ اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ عَلَى قَوْمٍ لِيَجِدُوا مِنْ رِيحِهَا فَهِيَ زَانِيَةٌ ) رواه الإمام أحمد (19212) والنسائي (5126) وحسنه الألباني في صحيح الجامع .
➐ ইসলাম আরও বলেছে, কারো বাড়িতে প্রবেশের পূর্বে যেন অনুমতি নেয়া হয়। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করতে হবে। অনুমতি না পেলে ফিরে যেতে হবে।
حَدَّثَنَا رَجُلٌ مَنْ بَنِي عَامِرٍ أَنَّهُ اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي بَيْتٍ فَقَالَ : أَلِجُ ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِخَادِمِهِ : اخْرُجْ إِلَى هَذَا فَعَلِّمْهُ الِاسْتِئْذَانَ فَقُلْ لَهُ : قُلْ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ فَسَمِعَهُ الرَّجُلُ فَقَالَ : السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ فَأَذِنَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَخَلَ .
➑ হাদিসে বিয়েতে সামর্থ্যবান যুবক-যুবতীদেরকে বিয়ে বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বিয়েকে সহজ করার কথা বলা হয়েছে।
➒ সর্বোপরি এতগুলো ইসলামি আইন ও বিধিবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোন বিবাহিত ব্যক্তি যদি কোন নারীকে ধর্ষণ করে তাহলে ধর্ষককে কোর্টের মাধ্যমে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ফৌজদারি দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন করা হবে। আর অবিবাহিত ব্যক্তি ধর্ষণ করলে তাকে ১০০ বেত্রাঘাত করা হবে এবং মতান্তরে তৎসঙ্গে এক বছর দেশান্তর (বর্তমানে জেল) প্রদান করা হবে।
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وقيل إن المرأة لا تُغرّب بل تُجلَد فحسب.
➓ অবৈধভাবে দুজনের সম্মতিতে হলেও উপরোক্ত বিধান কার্যকর করা হবে।
বর্তমান সমাজে আল্লাহ প্রদত্ত উপরোক্ত ইসলামী বিধানগুলোর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের কারণে চতুর্দিকে ইভ টিজিং এবং নারী-ধর্ষণের ছড়াছড়ি। ঘটছে অসংখ্য অবৈধ গর্ভপাত। নিষ্পাপ নবজাতকের লাশ ডাস্টবিনে কুকুর-বেড়ালের খাবার হচ্ছে। ঘটছে নানা হত্যাকাণ্ড। বাড়ছে অপরাধ। সুতরাং ধর্ষণ ধর্ষণ করে চিৎকার না করে ধর্ষণ রোধের জন্য ইসলামি অনুশাসন বাস্তবায়ন করতে হবে, ইসলামি ও সু শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে, আমাদের সন্তানদেরকে নারীদের প্রতি সম্মান জনক আচরণ শেখানো ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ইত্যাদিতে সহশিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশা সহ জিনা-ব্যভিচারের সকল রাস্তা বন্ধ করতে হবে, নারীদেরকে সাজসজ্জা সহ আতর-সুগন্ধি মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে কিংবা অশালীন পোশাক পরে খোলামেলা চলাফেরা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, দূর দূরান্তে বা রাত-বিরেতে স্বামী বা মাহরাম (যাদের সাথে বিয়ে হারাম) পুরুষদের ছাড়া নারীদের চলাফেরা করা যাবে না। পাশাপাশী নারীদেরকে রক্ষার জন্য এজন্য প্রত্যেক সচেতন অভিভাবক, সচেতন শিক্ষক মণ্ডলী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী মানুষ, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা-নেতৃ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আলেম-উলামা, দাঈ, বক্তা, লেখক, গবেষক, মিডিয়া কর্মী, সোশ্যাল এক্টিভিস্ট সহ সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে এবং গণ সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সর্বপরি, ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সর্বপ্রকার অনিষ্ট, অন্যায়-অপকর্ম, পাপাচার ও ধ্বংসাত্মক বিষয়াদি থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
▬▬▬▬◐◯◑▬▬▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

যে জিকির দিনরাতের সকল জিকিরের চেয়েও অধিক উত্তম

 আবু উমামা বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন:

“হে আবু উমামা! তুমি কীসের মাধ্যমে তোমার দুই ঠোঁট নড়াচড়া করছ?”
আমি বললাম, “আল্লাহর জিকির করছি, হে আল্লাহর রসুল!”

তখন তিনি বললেন,

ألا أُخبرُكَ بأكثرَ وأفضلَ من ذِكرِك باللَّيلِ والنَّهارِ

“আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব, যা তোমার রাত-দিনের সব জিকিরের চেয়েও বেশি উত্তম?”

আমি বললাম, “অবশ্যই, হে আল্লাহর রসুল!”

তিনি বললেন:

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা খালাক।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, তিনি যত কিছু সৃষ্টি করেছেন তার গণনা পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি মিলআ মা খালাক।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا فِي الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা ফিল আরদ ওয়াস্-সামা।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, আসমান ও জমিনে যত কিছু আছে তার গণনা পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ مَا فِي الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি মিলআ মা ফিল আরদ ওয়াস্-সামা।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا أَحْصَى كِتَابُهُ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা আহসা কিতাবুহু।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, তাঁর কিতাবে যা কিছু গণনা করা হয়েছে তার পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ مَا أَحْصَى كِتَابُهُ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি মিলআ মা আহসা কিতাবুহু।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, তাঁর কিতাবে যা কিছু গণনা করা হয়েছে তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা কুল্লি শাই’।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, সমস্ত কিছুর গণনা পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি মিলআ কুল্লি শাই’।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, সমস্ত কিছুর পূর্ণ পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা মা খালাক।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি যত কিছু সৃষ্টি করেছেন তার গণনা পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ مِلْءَ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি মিলআ মা খালাক।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا فِي الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা মা ফিল আরদ ওয়াস্-সামা।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও জমিনে যত কিছু আছে তার গণনা পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ مِلْءَ مَا فِي الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি মিলআ মা ফিল আরদ ওয়াস্-সামা।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا أَحْصَى كِتَابُهُ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা মা আহসা কিতাবুহু।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবে যা কিছু গণনা করা হয়েছে তার পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ مِلْءَ مَا أَحْصَى كِتَابُهُ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি মিলআ মা আহসা কিতাবুহু।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবে যা কিছু গণনা করা হয়েছে তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা কুল্লি শাই’।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত কিছুর গণনা পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি মিলআ কুল্লি শাই’।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত কিছুর পূর্ণ পরিমাণ।”

(হাদিসটি সহিহ: আলবানী, সহিহ আত-তারগিব ১৫৭৫)

[উৎস: আহমাদ (২২১৯৮), আন-নাসাই (আস-সুনান আল-কুবরা) ৯৯৯৪, ইবনৈ আবি দুনইয়া, ত্বরগীব ও ত্বরহীব ২/২৮৭]

সাফা ও মারওয়ায় সায়ির অতিরিক্ত চক্কর দেওয়ার বিধান

 ▪️সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রহ.

কে জনপ্রিয় ‘নূরুন আলাদ দারব’ শীর্ষক ইসলামি প্রশ্নোত্তর মূলক বেতার অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা হয় যে,

আমাদের এক ভাই বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আমি হজ ও ওমরা আদায় করেছি। কিন্তু আমি সাফা থেকে মারওয়ায় যেতাম এবং ফিরে আসতাম এটাকে এক চক্কর গণ্য করতাম। এভাবে আমি সাত চক্কর পূর্ণ করেছি। এই অতিরিক্ত অংশের কারণে কি কোনও সমস্যা হবে? দয়া করে আমাকে জানান। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

উত্তর:

السعي صحيح والسبعة الزائدة لا تضرك، السعي المشروع من الصفا إلى المروة شوط والعودة من المروة إلى الصفا شوط ثاني وهكذا، فإذا سعى أربعة عشر فالمشروع منها سبعة والزائد لا يضره لأنه وقع خطأً منه وجهلًا منه فلا يضره

“আপনার সায়ি সহিহ হয়েছে এবং এই অতিরিক্ত সাত চক্কর আপনার কোনও ক্ষতি করবে না। শারিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক পদ্ধতি হলো—সাফা থেকে মারওয়ায় যাওয়া এক চক্কর এবং মারওয়া থেকে সাফায় ফেরা আরেক চক্কর। এভাবে সাত চক্কর সম্পন্ন হয়। কিন্তু যদি কেউ ভুলবশত বা অজ্ঞতার কারণে চৌদ্দ চক্কর করে ফেলে, তাহলে তার কোনও ক্ষতি হবে না। কারণ এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল।

উপস্থাপক: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং কল্যাণ দান করুন।
[উৎস: binbaz–Org]

▪️ শাইখ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়,

আমি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ি করেছি। কিন্তু আমি সাফা থেকে সাফায় ফিরে আসাকে এক চক্কর হিসেবে গণ্য করেছি। এতে কি আমার কোনও সমস্যা হবে?

শাইখ উত্তরে বলেন:

هذه زيادة منك ، فقد سعيت أربعة عشر شوطا والواجب سبعة ، والسبعة الأخرى لا تجوز ؛ لأنها خلاف الشرع ، لكنك معذور بالجهل ، وعليك التوبة إلى الله من ذلك ، وعدم العود إلى مثلها إذا حججت أو اعتمرت ؛ لأن الذي حصل به المقصود سبعة من الصفا للمروة ثم من المروة للصفا ، تبدأ بالصفا وتختم بالمروة ، سبعة أشواط

“এটি আপনার পক্ষ থেকে একটি অতিরিক্ত কাজ হয়েছে। আপনি মোট চৌদ্দ চক্কর সম্পন্ন করেছেন। অথচ ওয়াজিব হলো সাতটি। অতিরিক্ত সাতটি বৈধ নয়। কারণ এটি শরিয়তের বিধানের বিপরীত। তবে আপনি এটি অজ্ঞতার কারণে করেছেন, তাই আপনি এই ভুলের জন্য ক্ষমার যোগ্য। আপনাকে আল্লাহর দরবারে তওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে, যখন হজ বা ওমরাহ করবেন, তখন এ ধরনের ভুল পুনরায় করা যাবে না। কারণ যথাযথ পদ্ধতি হলো—সাফা থেকে মারওয়ায় যাওয়া এক চক্কর এবং মারওয়া থেকে সাফায় ফেরা আরেক চক্কর। এভাবে সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় শেষ করে সাত চক্কর সম্পন্ন করতে হয়।”

[মাজমূ’ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৭/৩৪১-৩৪২]

উল্লেখ্য যে ইসলামে, শরিয়ত বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা ফরজ করা হয়েছে। তাই যে কোন ইবাদতের পূর্বে অবশ্যই সে সম্পর্কে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে কিংবা আলেমদের থেকে জেনে নিতে হবে এবং জ্ঞানের উপরে ভিত্তি করে ইবাদত-বন্দেগি করতে হবে। আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।

❑ সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ি করার সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি:

ওমরা আদায়ের ক্ষেত্রে কাবা ঘরে সাত চক্করের মাধ্যমে তওয়াফ সমাপ্ত করার পর করণীয় হলো, দু রাকাত সালাত আদায় করা করা। তারপর সাফা এবং মারওয়া পাহাড় দ্বয়ের মাঝখানে সাত চক্কর দেওয়া। এটি ওয়াজিব।

নিম্নে এর সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:

১. সর্বপ্রথম কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি পাঠ করতে সাফা পাহাড়ে আরোহণ করা:

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ

উচ্চারণ: “ইন্নাস সাফা ওয়াল মার্‌ওয়াতা মিন শাআয়িরিল্লাহি।”
অর্থ: “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা বাকারা: ১৫৮]

২. কিবলা মুখি হয়ে দাঁড়িয়ে তওহিদ, (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ), তাকবির (আল্লা-হু আকবার), তাহমিদ (আল হামদুলিল্লা-হ) ইত্যাদি পাঠ করা।
অতঃপর তিনবার বলবে:
لاَ إلَهَ إلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلىَ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ . لاَ إلَهَ إلاَّ اللهُ وَحْدَهُ أنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وهَزَمَ الأحْزاَبَ وَحْدَهُ
উচ্চারণ:
লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহ্-ইয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বদীর। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।
অর্থ:
“আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব কেবল তাঁরই। সমস্ত প্রশংসাও শুধুই তাঁর জন্য। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। আর তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য কোন ইলাহ নেই। তিনি একক। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং স্বীয় একক ক্ষমতাবলে শত্রুদের পরাজিত করেছেন।”
এরপর জানা যে কোন দুআ পাঠ করবে।
৩. সবুজ বাতি দ্বয়ের মধ্যবর্তী অংশে দৌড়ানো। (মহিলারা দৌড়াবে না।)
৪. সাফা-মারওয়া সায়ি করার সময় কোন দুআ নির্দিষ্ট না করে, জানা যে কোন দুআ পড়া।
৫. মারওয়া পাহাড়ে আরোহণ করা।
৬. সেখানেও সাফা পাহাড়ের ন্যায় দুআ করা।
৭. সাত বার সাফা-মারওয়া সাঈ করা। (রোকন)
৮. সাফা থেকে মারওয়া গমন ১ম চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা প্রত্যাবর্তন ২য় চক্কর। এভাবে ৭ম চক্কর মারওয়ায় এসে শেষ করা।
প্রণয়নে: শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী বিন আব্দুল জলীল রাহ. কর্তৃক রচিত ‘সহজ উমরা নির্দেশিকা’

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।

রমজান মাসের প্রথম অংশ রহমত ও মধ্য অংশ মাগফিরাত এবং শেষাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি এ হাদিসটি কি সঠিক

 উত্তর: এই সংক্রান্ত হাদিসটি আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে পরিচিত। এই কথাটি সেহেরি-ইফতারের সময়সূচী, রোজা-রমজান বিষয়ক বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকার ইসলামি কলাম ইত্যাদিতে উল্লেখ করা হয়ে তাকে, অনেক মসজিদের ইমাম, খতিব এবং ইসলামি বক্তাদের মুখেও প্রায় শোনা যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়।

কিন্তু হাদিস বিশারদগণের দৃষ্টিতে তা সনদগতভাবে জয়িফ (দুর্বল) হওয়ার পাশাপাশি এর মমার্থও সমস্যাপূর্ণ। কেননা পুরা রমজান ব্যাপী আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হয়। এবং রমজানের প্রতিটি রাত্রেই জাহান্নামের আগুন থেকে অসংখ্য মানুষকে মুক্ত ঘোষণা করা হয় যে বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
তাছাড়া রহমত, মাগফিরাত (ক্ষমা) ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি সবগুলোই একটি অপরটির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কারণ আল্লাহ সীমাহীন রহমত বা দয়ার কারণেই তিনি বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন। আর যে তার ক্ষমা লাভ করে সেই জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করে। সুতরাং এভাবে রমজানকে ভাগ করা সমীচীন নয়।

অতএব এই হাদিস প্রচার করা ঠিক নয়। এর পরিবর্তে রমজানের ফজিলতে যে সকল বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে সেগুলো প্রচার করা উচিত।

ইসলাম অনলাইন (islamonline)-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো:

◈ সালমান আল-ফারিসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসের শেষ দিনে আমাদের খুতবা দেন এবং বলেন:

أَيُّهَا النَّاسُ، قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرٌ عَظِيمٌ مُبَارَكٌ، شَهْرٌ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، جَعَلَ اللهُ صِيَامَهُ فَرِيضَةً، وَقِيَامَ لَيْلِهِ تَطَوُّعًا، مَنْ تَقَرَّبَ فِيهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ كَانَ كَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ، وَمَنْ أَدَّى فِيهِ فَرِيضَةً كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ، وَهُوَ شَهْرٌ أَوَّلُهُ رَحْمَةٌ، وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ، وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ

‘হে মানুষ! তোমাদের ওপর ছায়া ফেলেছে এক মহান ও বরকতময় মাস। এ মাসে এক রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ এ মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং এর রাতের কিয়ামকে নফল ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি এতে কোনও নেক আমল দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করবে, সে যেন অন্য সময় ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এতে ফরজ আদায় করবে, সে যেন অন্য সময় সত্তরটি ফরজ আদায় করল। এটি এমন এক মাস, যার প্রথম অংশ রহমত, মধ্য অংশ মাগফিরাত এবং শেষ অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি…’”(হাদিসের সম্পূর্ণ অংশ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।)

[বায়হাকির শুআবুল ইমানে হা/৩২১; কিতাবুদ দুয়াফা’ লিল উকাইলি: (২/১৬২); ‘আল-কামেল ফি দুয়াফায়ির রিজাল’ লি ইবনে আদি: (১/১৬৫); ‘কিতাবু ইলালিল হাদিস’ লি ইব্‌ন আবি হাতেম: (১/২৪৯); ‘সিলসিলাতিল আহাদিসুস দায়িফা ওয়াল মাওদুয়াহ’ হা/ ১৫৬৯]
________________________________________
◈ হাদিসের বিশুদ্ধতা:
এই হাদিসটি দীর্ঘ হাদিসের একটি অংশ, যা ইমাম ইবনে খুযাইমা, বায়হাকি ও তাবারানি রেওয়ায়ত করেছেন। তবে হাদিস বিশেষজ্ঞগণ এটিকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।
________________________________________
◈ হাদিসটি কেন দুর্বল?

১. সনদের দুর্বলতা:

✅ এতে সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব আছেন, যিনি সালমান ফারিসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সরাসরি বর্ণনা করেননি। অর্থাৎ এখানে সনদের (ইসনাদের) সমস্যা রয়েছে।
✅ এছাড়া আলী ইবনে যায়দ ইবনে জুদআন নামে একজন বর্ণনাকারী আছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف) হিসেবে চিহ্নিত।
________________________________________
২. মুহাদ্দিসদের মতামত:
✅ হাফিজ ইবনে হজর, ইমাম আহমদ, ইবনে মাইন, নাসাঈ, ইবনে খুযাইমা, জাওযাজানি প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ এটিকে দুর্বল বলেছেন।
✅ আবু হাতিম রাযি, ইমাম আইনি ও শায়খ আলবানি এটিকে “মুনকার” (আপত্তিজনক এবং অগ্রহণযোগ্য) বলেছেন।
________________________________________
৩. বিষয়বস্তুর সমস্যা:

✅ হাদিসটিতে রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির বিষয়টিকে তিন দশকে ভাগ করা হয়েছে। অথচ আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তি সারা মাসব্যাপী বর্ষিত হয়।
✅ সহিহ হাদিস অনুসারে, রমজানের প্রথম রাত থেকেই জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।
________________________________________
◈ সহিহ হাদিস থেকে প্রমাণ:

ইমাম তিরমিজি [হাসান] হাদিসে আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:

إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتْ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ ، وَفُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ ، وَيُنَادِي مُنَادٍ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ ، وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنْ النَّارِ وَذَلكَ كُلُّ لَيْلَةٍ

“যখন রমজানের প্রথম রাত হয়, শয়তান ও বিদ্রোহী জিনদের শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কোনও দরজা খোলা হয় না, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং কোনও দরজা বন্ধ করা হয় না। একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেন: ‘হে কল্যাণ প্রত্যাশী! এগিয়ে আসো। হে মন্দ প্রত্যাশী! বিরত থাকো।’ এবং আল্লাহ অনেককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, যা প্রতি রাতেই ঘটে।” [তিরমিজি: ৬৮২, হাসান]

◈ সতর্কতা:

দাঈদের (প্রচারকদের) উচিত এই হাদিসের দুর্বলতার বিষয়টি জানা এবং আল্লাহর রহমতকে নির্দিষ্ট দশকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো রমজান ব্যাপী আল্লাহর রহমত ও মুক্তির ব্যাপকতা তুলে ধরা।
সহিহ হাদিস অনুসারে, রমজানের শুরু থেকেই জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাই রমজানকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যথার্থ নয়।

❑ আল্লামা শাইখ ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ):

বর্তমান জমানার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ, আল্লামা শাইখ ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ) কে প্রশ্ন করা হয়, কিছু মানুষ রমজান মাস এলে বলে থাকে: “রমজানের প্রথম অংশ রহমত, মধ্য অংশ মাগফিরাত আর শেষ অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি।” এটি কি কোনও হাদিস বা আসার?

উত্তরে তিনি বলেন,

هذا أثر يُنسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم، ولكنه ضعيف الإسناد. سمعت شيخنا، الشيخ ابن باز -رحمه الله- يقول: “رمضان كله تجتمع فيه هذه الثلاث: الرحمة، والمغفرة، والعتق من النار، من أوله إلى آخره، من غير هذا التفصيل.”

“এটি একটি আসার হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি সম্বন্ধ করা হয়। তবে এর সনদ দুর্বল। আমি আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ, শাইখ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: “রমজানের সম্পূর্ণ মাস জুড়ে এই তিনটি (রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি) একত্রে বিদ্যমান থাকে কোনও নির্দিষ্ট বিভাজন ছাড়াই।” [শাইখ সালিহ বিন ফাওজান আল ফাওজান (হাফিযাহুল্লাহ)-এর ভিডিও থেকে অনুদিত]
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate