❒ ঝড় ও বায়ু প্রবাহের সময় দুআ:
❒ বৃষ্টির সময় দুআ:
❒ ঝড় ও বায়ু প্রবাহের সময় দুআ:
❒ বৃষ্টির সময় দুআ:
❑ প্রশ্ন-১: অনেকে পরীক্ষার পরে খাতায় বিভিন্ন দুআ পড়ে ফুঁ দেয়। তারা মনে করে যে, এটা করলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভ করা যাবে, পরীক্ষার খাতায় ভুল থাকলে তা ঠিক হয়ে যাবে, লেখায় কাটাকাটি থাকলে তা সংশোধিত হয়ে যাবে ইত্যাদি। হ্যাঁ, আমিও বিশ্বাস করি, সব কিছুতে দুআ-দরুদের প্রভাব আছে। কিন্তু এটা আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়। এখন আমি যদি বিশ্বাস করি যে, এতে কোনও উপকার হবে না তাহলে কি আমি কা/ফি/র হয়ে যাবো? আর এক্ষেত্রে কেমন বিশ্বাস রাখা উচিৎ?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
পড়াশোনার প্রতি অমনোযোগিতা, অনর্থক সময় অপচয় বা অলসতা করে যারা বছর পার করে তারাই পরীক্ষা পাশের এমন উদ্ভট দোয়া ও তদবির খুঁজে বেড়ায়। কোথাও না পেলে শেষ পর্যন্ত নিজেরাই আবিষ্কার করে ফেলে। আসলে এসব আবিষ্কার দ্বারা কোন উন্নতি হয় না। বরং ভালো পরীক্ষা না দেওয়ার ফলে একদিকে পরীক্ষায় দুর্বল ফলাফল লাভ করে অথবা অকৃতকার্য হয় অন্যদিকে মনগড়া পন্থায় পরীক্ষার খাতায় দুআ-দরুদ পড়ে ফুঁ দেওয়ার মাধ্যমে বিদআত করে। এটি কুরআন ও হাদিসের দুআর অপব্যবহারের শামিল। এতে সে দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।
একজন পরীক্ষার্থীর উচিত, পরীক্ষার জন্য আগে থেকেই সঠিক পদ্ধতিতে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দুআ করা যেন, আল্লাহ তাকে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার তৌফিক দান করেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখেন, তার মেধা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করেন এবং পরীক্ষার খাতায় সঠিকভাবে লেখার শক্তি দেন। পরীক্ষা শেষেও আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারে যে, আল্লাহ যেন পরীক্ষকের অন্তর নরম করে দেন যেন, তিনি তার উত্তরপত্র দেখে খুশি হন এবং তাকে আশানুরূপ নাম্বার দেন।
কিন্তু পরীক্ষার খাতায় ভুল লিখে ভুল ঠিক করার জন্য পরীক্ষার খাতায় দুআ-দরুদ পাঠ করে ফুঁ দেওয়া নিতান্ত মূর্খতা সুলভ কাজ এবং কুরআন-হাদিসের দুআর অপব্যবহারের শামিল। এটিকে দুআর মধ্যে ‘বাড়াবাড়ি’ও বলা যায়।
প্রশ্ন: মনে মনে কুরআন তিলাওয়াত করলে কি পূর্ণ সাওয়াব পাওয়া যাবে?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
হিজরি ক্যালেন্ডারের ১১ তম মাস হল, জিলকদ মাস। এর পরের মাসই জিলহজ মাস-যাতে ঐতিহাসিক আরাফার ময়দানে মুসলিম বিশ্বের সর্ব বৃহৎ গণ জমায়েত এবং ইসলামের ৫ম স্তম্ভ হজ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু হজের প্রস্তুতি শুরু হয় আরও বহু আগে থেকে।
❑ এ মাসগুলো হারাম হওয়ার কারণ:
◈ ৩. এ মাসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পরে মোট চারটি ওমরা আদায় করেছেন। সেগুলোর মধ্যে হজের সাথে যে ওমরা করেছেন সেটি ছাড়া বাকি সবগুলোই আদায় করেছেন জিলকদ মাসে।
কাতাদা রা. হতে বর্ণিত, আনাস রা. তাকে এ তথ্য দিয়েছেন যে,
প্রশ্ন: আমরা কীভাবে ইখলাস অর্জন করতে পারব?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
এখন প্রশ্ন হল, আমরা ইবাদতের মধ্যে কীভাবে ইখলাস অর্জন করতে পারি?
২. এই কথা মাথায় রাখা যে, ইবাদতের মধ্যে ইখলাস না থাকলে তা আল্লাহর কাছে প্রত্যাখ্যাত হবে।
৩. ইখলাস বিহীন আমলের পরিণতি মনে জাগ্রত রাখা। আর তা হলো, ইখলাস হীন আমল (বা রিয়া যুক্ত আমল) শিরকে আসগর।
৪. মনের মধ্যে দুনিয়ার স্বার্থ চিন্তা জাগ্রত হলে মনে করতে হবে, কুপ্রবৃত্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অথবা শয়তান অন্তরে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। তাই তৎক্ষণাৎ অন্তরের অনিষ্ট এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।
৪. যথাসম্ভব ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করবে। (যে সকল ইবাদত প্রকাশ্যে করতে হয় সেগুলো ছাড়া)। যেমন: রাতের শেষ প্রহরে উঠে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করা, যখন কোন মানুষ দেখার সম্ভাবনা না থাকে তখন নির্জনে সালাত আদায় করা, গোপনে দান-সদকা করা, নির্জনে দোয়া, জিকির-আজকার, কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি করার চেষ্টা করা ইত্যাদি। হাদিসে যেসব ঈমানদার ব্যক্তিগণ নিভৃতে চোখের পানি ফেলে ক্রন্দন করে এবং গোপনে এমন ভাবে দান করে যে ডান হাত দান করলে বাম হাত জানতে পারে না এমন ব্যক্তিদেরকে কেয়ামতের দিন আরশের ছায়া তলে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৬. দ্বীনদারি এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে আপনার থেকে যারা এগিয়ে আছেন তাদের দিকে দেখুন। বিশেষ করে সাহাবি এবং তাবেঈদের জীবনী থেকে ঈমান এবং আমলে তাদের অগ্রগামীতার বিষয়টি জানার চেষ্টা করুন। এতে আপনার নিজের আমল আপনার কাছে তাদের তুলনায় তুচ্ছ মনে হবে।
৭. ইবাদত-বন্দেগি করার পরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন যে, তিনি আপনাকে তা করার তৌফিক দান করেছেন। তবে তা যেন আপনার অন্তরে অহংকার বা আত্মম্ভরিতা সৃষ্টি না করে সেদিকে সজাগ থাকুন। অন্যথায় উক্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে।
৮. ইবাদত করার পরে অন্তরে এই ভয় জাগ্রত রাখুন যে, কোন ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে আল্লাহ তাআলা হয়তো এই ইবাদত প্রত্যাখ্যান করবেন।
৯. মানুষের প্রশংসায় গলে যাবেন না। আপনার ইবাদত-বন্দেগি, নামাজ, রোজা, হজ, ওমরা, পর্দা, সুন্দরভাবে কুরআন তেলাওয়াত, ইসলামের সেবায় অবদান, দান-সদকা ইত্যাদি দেখে মানুষ হয়তো আপনার প্রশংসা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার প্রশংসায় গলে যাবেন না। অন্যথায় তা অন্তরের ইখলাকে ধ্বংস করে দেবে।