প্রশ্ন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম কোন নবীকে কাপড় পরানো হবে?
▬▬▬✪✪✪▬▬▬
প্রশ্ন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম কোন নবীকে কাপড় পরানো হবে?
▬▬▬✪✪✪▬▬▬
প্রশ্ন: স্বামী মৃত্যুবরণ করলে নাক ফুল, কানের দুল, হাতের চুড়ি, মালা ইত্যাদি খুলে ফেলা কি শিরক? এ প্রথা না কি হিন্দুদের থেকে এসেছে। এ কথা কি সঠিক?
❑ এ ব্যাপারে নিম্নে সম্মানিত ফকিহদের অভিমত তুলে ধরা হল:
সুতরাং কোনও মহিলার স্বামী মারা গেলে ইদ্দত পালন কালীন সময় (গর্ভবতী না হলে চার মাস দশ দিন আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত) কোনও ধরণের সাজসজ্জা গ্রহণ, মেহেদি ও রং এর ব্যবহার, কানের দুল, নাকের ফুল, হাতের চুরি, গলার মালা ইত্যাদি পরিধান করা বৈধ নয়। কেউ পরে থাকলে তা খুলে ফেলবে। এটাই ইসলামের বিধান।
প্রশ্ন: স্বামী ধূমপান করে। কিন্তু স্ত্রী তাকে বুঝানোর পরেও তা পরিত্যাগ করে না। এমন স্বামীর সাথে ঘরসংসার করা কি জায়েজ?
❑ ধূমপানের পরোক্ষ ক্ষতি:
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীগণ বলে, “একটা সিগারেটের গোড়া (ফিলটার) পুড়তে থাকার সময় যে ধোঁয়া বের হয় তা ধূমপায়ীর টেনে নেওয়া ধোঁয়াটুকুর চেয়ে ক্ষতিকর, কেননা এই ধোঁয়াটুকু কোনো রকম ছাঁকাছাঁকির ভেতর দিয়ে যায় না। আর এই ধোঁয়ায় থাকা বস্তুকণাগুলোও অনেক ছোট হয়। ফলে সেগুলো অনেক বেশি সময় ধরে বাতাসে ভেসে বেড়ায় এবং মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে।’ এভাবেই পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিলেন ভারতের কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতাল এবং মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এসপি রায়।
এই জাতীয় পরোক্ষ ধূমপান ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ, শ্বাসনালীসংক্রান্ত হাঁপানি, স্থায়ী শ্বাসকষ্ট, নানা ধরনের অ্যালার্জি এবং ফুসফুসের অন্যান্য রোগের জন্যও দায়ী বলে জানিয়েছেন গ্লোবাল হসপিটালসের মেডিকেল অঙ্কোলজি বিভাগের চিকিত্সক নিলেশ লোকেশ্বর। ধূমপায়ীদের স্ত্রী বা স্বামী এবং কর্মক্ষেত্রে ধূমপানের ক্ষেত্রে সহকর্মীরা এ ধরনের অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। এ ছাড়া নারী ও শিশুরা বরাবরই ধূমপান জনিত রোগের ঝুঁকিতে বেশি পড়ে।”
প্রতিবেদনে আও বলা হয়,
‘বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৬০ লাখ মানুষ মারা যায় কোনো না কোনোভাবে তামাকজনিত নানা অসুস্থতার কারণে। আর এর মধ্যে প্রায় ছয় লাখ মানুষ ধূমপায়ী না হয়েও মারা যায় পরোক্ষ ধূমপানজনিত কারণে।” [দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা]
➤ ২য়ত: ধূমপায়ী স্বামীকে এর ভয়াবহতা, ক্ষয়-ক্ষতি ও ইসলামে তা হারাম হওয়ার বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে, ধূমপানে নিষেধ করতে হবে এবং নানাভাবে তা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অত:পর সে যদি এই বদভ্যাস পরিত্যাগ করে এবং তার আচার-আচরণ ভালো হয় ও দীনমূখী হয় তাহলে তার সাথে সংসার অব্যাহত রাখায় আপত্তি নাই। কিন্তু সে যদি তা পরিত্যাগ না করে বরং আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত থাকে এবং তার সাথে ঘর সংসার করার কারণে স্ত্রী তার নিজের ও সন্তানদের স্বাস্থ্যগত, দীনদারিত্ব ও চারিত্রিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করে এবং নানা চেষ্টার পরও তাকে এ পথ থেকে ফেরানো সম্ভব না হয় তাহলে খোলা তালাকের মাধ্যমে তার থেকে সংসার ভঙ্গ করা জায়েজ আছে।
প্রশ্ন: অনেক সময় দেখা যায়, ফরসা বা সুন্দর চোখ বিশিষ্ট নারী কালো বোরখা পরিধান করে শুধু দুটি চোখ খোলা রাখে। এমন নারীকে খুব আকর্ষণীয় লাগে। এতে তার সৌন্দর্য যেন আরও বেশি প্রকাশ পায়। এ ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিতে নারীদের নিকাব পরিধান করার বিধান কী এবং রাস্তা চলাচলের জন্য চোখের কতটুকু খোলা রাখা জায়েজ?
◯ ক. ইসলামের দৃষ্টিতে মহিলাদের মুখে নিকাব পরিধান করার বিধান কী?
উল্লেখ্য যে, এ অবস্থায় তারা নেকাব ও হাত মোজা পরিধান না করলেও মাথার ওড়না উপর থেকে ফেলে মুখমণ্ডল এবং হাতের লম্বা আস্তিন দ্বারা হাতের কব্জি দ্বয় পরপুরুষ থেকে ঢেকে রাখবে।
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল, ইহরাম ছাড়া অন্য অবস্থায় নিকাব পরিধান করা জায়েজ।
◯ খ. নিকাব কাকে বলে এবং চোখের কী পরিমাণ খোলা রাখা জায়েজ?
আর নিকাব পরিধান করা হলে, রাস্তা চলাচলের স্বার্থে দু চোখ (ভ্রূ’র নিম্নাংশ ও গালের উপরিভাগ) খোলা রাখা জায়েজ আছে। তবে শর্ত হল, ইচ্ছাকৃত ভাবে যেন চোখের ভ্রূ দ্বয় কিংবা চোখের নিচে গালের কোনও অংশ অতিরিক্ত প্রকাশ না করা হয়।
প্রশ্ন: গোস্ত/গোশত নাকি মাংস? মাংস শব্দ দ্বারা নাকি মায়ের অংশ বুঝায়? হিন্দুরা মাংস বলে তাই নাকি মুসলিমদের জন্য এই শব্দ ব্যবহার করা হারাম? এ ব্যাপারে সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাই।
❑ এ শব্দ দ্বয়ের আভিধানিক বিশ্লেষণ:
❑ বিশিষ্ট বাংলা ভাষা গবেষক, এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ প্রণেতা ও শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মদ আমীন গোশত, মাংস ও মাংশ শব্দ সমূহের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন:
❑ হিন্দুরা মা তথা গরুর অংশ বুঝাতে ‘মাংস’ বলে-এ কথা কি ঠিক?
‘হিন্দুরা মা তথা গরুর অংশ বুঝাতে ‘মাংস’ বলে’-এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। কারণ তারা কেবল গরুর গোশতের ক্ষেত্রেই ‘মাংস’ শব্দ ব্যবহার করে না বরং ছাগল, হাস, মুরগি বা পাখির গোশতের ক্ষেত্রেও ‘মাংস’ শব্দ ব্যবহার করে কিন্তু ছাগল, হাস, মুরগি ইত্যাদি তো তাদের তাদের ‘মা’ নয়।
তাছাড়া বানান দেখুন। সঠিক বানান হল, মাংস; মাংশ নয়। বরং মাংশ শব্দটি বাংলা অভিধানে কোথাও নেই। সুতরাং ‘মাংস’ শব্দের বানান ‘মাংশ’ লেখা যেমন ভুল তেমনি ‘মায়ের (গরুর) অংশ’ ব্যাসবাক্যে সন্ধিবিচ্ছেদ করাটাও ভুল। যারা এমনটি বলে তারা নিতান্তই অজ্ঞতা বশত: বলে। সুতরাং বাংলা ব্যাকরণের দিক থেকেও এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা।