Saturday, February 5, 2022

নামাজে মহিলারা কীভাবে সেজদা দিবে

 প্রশ্ন: নামাজে মহিলারা কীভাবে সেজদা দিবে?

উত্তর:
মহিলারা ঠিক সেভাবে সেজদা দিবে যেভাবে পুরুষরা দেয়। এটাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শেখনো পদ্ধতি। এভাবেই মহিলা সাহাবিগণ আমল করতেন।
সুতরাং এ ক্ষেত্রে সহিহ সুন্নাহর দলিল ব্যতিরেক ভিন্ন কোনও পদ্ধতি আমল যোগ্য নয়- যদিও সে বিষয়ে কোনও বড় ইমাম, আলেম, মুহাদ্দিস, মুজতাহিদ বা অন্য কোনও ব্যক্তি ফতোয়া প্রদান করেন। কারণ আমরা একমাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করতে নির্দেশিত। সুতরাং আমাদের করণীয়, ইবাদত-বন্দেগীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করা। আল্লাহ বলেন,

لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّـهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

“নিশ্চয় তোমাদের জন্য জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহযাব: ২১)

তাছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي

“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখ, সেভাবে সালাত আদায় কর” [বুখারী ও মুসলিম]

এই নির্দেশ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আম ভাবে সবার জন্য প্রযোজ্য যতক্ষণ না ভিন্ন সহিহ হাদিস দ্বারা নারী অথবা পুরুষের জন্য ভিন্ন কোনও বিধান প্রমাণিত হয়।

হ্যাঁ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস ছাড়া অন্য কারও কথা বা ফতোয়া কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন তা হাদিসের বিপরীত বা তার সাথে সাংঘর্ষিক না হবে।

সুতরাং আমাদের সমাজে প্রচলিত পদ্ধতিতে অনেক মহিলা পেটের সাথে উরু বা দু রান লাগিয়ে এবং দু হাত মাটিতে বিছিয়ে খুব জড়সড় হয়ে সেজদা দেয়। এটি স্পষ্ট হাদিস বিরোধী এবং পরিত্যাজ্য। কারণ:

◈ ক. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু হাত মাটিতে বিছিয়ে দিতেন না বরং তা জমিন থেকে উপরে [বুখারী] এবং পেটের দু পাশ থেকে দুরে রাখতেন। [বুখারী ও মুসলিম]

◈ খ. হাঁটু, পেট, হাত, মাথা এই অঙ্গগুলোর মাঝখানে এমন ফাঁকা থাকতে হয় যেন এই ফাঁকা দিয়ে একটি বকরীর বাচ্চা চলে যেতে পারে। [সহিহ মুসলিম]

◈ গ. আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

اعْتَدِلُوا في السُّجُودِ ولا يَبْسُطْ أحَدُكُمْ ذِراعَيْهِ انْبِساطَ الكَلْبِ

“তোমরা সেজদার মধ্যে স্থির হও, তোমাদের কেউ তার বাহুদ্বয় কুকুরের ন্যায় বিছিয়ে রাখবে না”। [বুখারি, হা/৮২২, মুসলিম, হা/৪৯৩]

এ বিধানগুলো নারী-পুরুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদেরকে আলাদা পদ্ধতিতে সেজদা দেওয়ার কোনও নিয়ম শিক্ষা দেন নি। অথচ নারী-পুরুষের সালাতে যে সব পার্থক্য আছে তা বিভিন্ন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যদিও মাজাহাবের দোহায় দিয়ে নারীদেরকে একদম জড়সড় হয়ে সেজদা দেওয়ার ফতোয়া প্রদান করা হয় কিছু যুক্তি, পরবর্তী যুগের কিছু ফতোয়া এবং সনদগতভাবে দুর্বল হাদিস দ্বারা-যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিসের বিপরীতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

❑ মহিলাদের সেজদার সময় পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখার হাদিস সহিহ নয়:

আমাদের সমাজে প্রচলিত জড়সড় হয়ে সেজদার দেওয়ার ব্যাপারে নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা দলিল প্রদান করা হয়-কিন্তু মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে তা সহিহ নয়। নিম্নে হাদিস এবং সে প্রসঙ্গে মুহাদ্দিসদের অভিমত তুলে ধরা হল:

إِذَا جَلَسْتِ الْمَرْأَةُ فِى الصَّلاَةِ وَضَعَتْ فَخِذَهَا عَلَى فَخِذِهَا الأُخْرَى ، وَإِذَا سَجَدْتْ أَلْصَقَتْ بَطْنَهَا فِى فَخِذَيْهَا كَأَسْتَرِ مَا يَكُونُ لَهَا ، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَيَقُولُ : يَا مَلاَئِكَتِى أُشْهِدُكُمْ أَنِّى قَدْ غَفَرْتُ لَهَا

“মহিলা যখন নামাজের মধ্যে বসবে তখন যেন (ডান) উরু অপর উরুর উপর রাখে। আর যখন সেজদা করবে তখন যেন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে; যা তার সতরের জন্য অধিক উপযোগী। আল্লাহ তাআলা তাকে দেখে (ফেরেশতাদের সম্বোধন করে) বলেন, ওহে আমার ফেরেশতারা! তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম।” [সুনানে কুবরা, বায়হাকি, ২/২২৩, হাদিস নং ৩৩২৪]

এ হাদিসটির মান: জইফ (দুর্বল)

– ইমাম বায়হাকি নিজেই এ হাদিস সম্পর্কে বলেন,
ضعيف لا يحتج بمثله
“এটি দুর্বল। এমন দুর্বল হাদিস দ্বারা দলিল দেওয়া যায় না।”
– তিনি আরও বলেন
[فيه] أبو مطيع ضعفه ابن معين وابن عدي، وكذلك عطاء بن عجلان ضعيف
“এ হাদিসের সনদে আবু মুতি আল হাকাম আল বালখি (الحكم بْن عَبد اللَّهِ أَبُو مطيع البلخي) নামক বর্ণনাকারীকে ইয়াহয়া ইবনে মাঈন এবং ইবনে আদী জইফ (দুর্বল) বলেছেন। অনুরূপভাবে আরেকজন বর্ণনাকারী আত্বা বিন আজলানও জইফ।” [বায়হাকি ২/২২৩]

– ইবনুল কায়সারানি বলেন, الحكم البلخي ضعيف “(এর সনদে আবু মুতি) হাকাম আল বালখি নামক বর্ণনাকারী দুর্বল।” [যাখিরাতুল হুফফায: ১/৩০৩]

-ইমাম যাহাবি বলেন, فيه الحكم ضعفه ابن معين وغيره وتركه جماعة وراويه عنه محمد بن القاسم الطايكاني متهم
“এ হাদিসে বর্ণনাকারী হাকামকে ইবনে মাঈন প্রমুখগণ জইফ (দুর্বল) বলেছেন। এবং অন্য একদল মুহাদ্দিস তাকে বর্জন করেছেন। তার থেকে ‘মুহাম্মদ ইবনুল কাসেম আত ত্বয়কানি’ নামক যে বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছে সে متهم বা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।” [আল মুহাযযাব ২/৬৬২]

এ ছাড়াও এ বিষয়ে মুনকাতিন (বিচ্ছিন্ন সনদ বর্ণিত) হাদিস এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের কিছু ফতোয়া পাওয়া যায় যেগুলো হাদিসের বিপরীতে পেশ করা কোনোভাবেই শোভনীয় নয়।

আল্লাহ আমাদেরকে সুপথ দেখান এবং বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬✪✪✪▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার , সৌদি আরব।

মৃত্যুকালীন শয়তানের ইমান হরণের কঠিন চক্রান্ত এবং আত্মরক্ষার উপায়

 প্রশ্ন: মানুষের মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে শয়তান ওয়াস‌ওয়াসা (কুমন্ত্রণা) দিয়ে তার ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করে। এ থেকে বাঁচার উপায় কি?

উত্তর:
প্রথমত: আমাদের জানা দরকার যে, শয়তান বনী আদমের দীন ও ইমান সহ সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে চ্যালেঞ্জ করে আসা এক প্রকাশ্য শত্রু। সে প্রতি মুহূর্তে বনী আদমকে পথভ্রষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। সে তার শয়তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মানুষের গাফলতি, অসচেতনতা, বিপদাপদ, দুর্যোগ ও দুর্বল মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগায়। সুতরাং মৃত্যুর মত কঠিন ও বিভীষিকাময় মুহূর্তে সে তাকে পথভ্রষ্ট করার প্রাণান্তকর চেষ্টা করবে-তা খুবই স্বাভাবিক।

◍ আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ – ثُمَّ لَآتِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَائِلِهِمْ ۖ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ
“সে (ইবলিশ) বলল, আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্যই তাদের জন্যে আপনার সিরাতে মুস্তাকিম বা সরল পথে বসে থাকবো। এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।” [সুরা আরাফ: ১৬ ও ১৭]
◍ আল্লাহ তাআলা শয়তান থেকে সতর্ক করে আরও বলেন,
وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ ‎
“আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” [সূরা বাকারা: ১৬৮]

◍ তিনি অন্যত্র বলেন,
إِنَّهُ عَدُوٌّ مُّضِلٌّ مُّبِينٌ
“নিশ্চয় সে প্রকাশ্য শত্রু ও পথভ্রষ্ট কারী।” [সূরা কাসাস: ১৫]

এভাবে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বহু স্থানে তাকে ‘প্রকাশ্য শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে মানবজাতিকে তার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

(যদিও বিশেষ করে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে শয়তান ইমানদারের সামনে ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মকে অধিক উত্তম বলে উপস্থাপন করার ব্যাপারে কিছু আলেম লিখেছেন। কিন্তু সেগুলোর পক্ষে কোন দলিল নেই।)

❑ মৃত্যুকালীন শয়তান কর্তৃক ঈমান হরণের কঠিন চক্রান্ত থেকে আত্মরক্ষার দুআ:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ করে মৃত্যুর বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে শয়তান যেন ইমান ছিনিয়ে নিতে না পারে বা পথভ্রষ্ট করতে না পারে সে জন্য আল্লাহর কাছে নিজে দুআ করেছেন এবং তার উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন:

১. আবুল ইয়াসার রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,
الَّلهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَدمِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَرَدِّي ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الغَرَقِ وَالحَرَقِ وَالهَرَمِ ، وَأَعُوذُ بِكَ أَن يَتَخَبَّطَنِي الشَّيطَانُ عِندَ المَوتِ ، وَأَعُوذُ بِكَ أَن أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدبِرًا ، وَأَعُوذُ بِكَ أَن أَمُوتَ لَدِيغًا
“হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি পতন জনিত মৃত্যু থেকে। আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভারী কোনও বস্তুর চাপা পড়ে বা গর্তে পড়ে মৃত্যু থেকে। আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি, সলিল সমাধি ও আগুনে দগ্ধীভূত হয়ে মৃত্যু এবং বার্দ্ধক্য থেকে।
আর আমি মৃত্যুকালে শয়তানের ছোঁ মারা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার রাস্তায় (জিহাদের সময়) পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যু থেকে এবং আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি সাপ-বিচ্ছুর দংশন জনিত মৃত্যু থেকে।” [সহিহ আবু দাউদ, হা/ ১৩৮৮]

ইমাম খাত্তাবি ‘শয়তান কর্তৃক ছোঁ মারা’ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম মৃত্যুর সময় শয়তান কর্তৃক ছোঁ মারা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। এর অর্থ হল, দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় শয়তান যেন তার উপর কর্তৃত্ব আরোপ করে তাকে পথভ্রষ্ট করতে না পারে, তার তওবার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, তার আত্ম সংশোধন করা এবং তার সম্মুখের অন্ধকার থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক না হয়ে দাঁড়ায়। সে যেন তাকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না করে বা তার মনে মৃত্যুর ব্যাপারে ঘৃণা বোধ এবং দুনিয়া ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে হা-হুতাশ সৃষ্টি না করে। কেননা এর ফলে এই নশ্বর জীবন ছেড়ে আখিরাতের পথে পাড়ি জমানোর ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালায় অসন্তোষ প্রকাশিত হবে। ফলে তার জীবনের পরিসমাপ্তি হবে মন্দ পরিস্থিতির উপরে এবং সে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়ে তার সাথে সাক্ষাত লাভ করবে।” [মাআলিমুস সুনান, ২/১৯৪]

২. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নামাযের শেষ বৈঠকে সালাম ফিরানোর পূর্বে মৃত্যুর ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। আর মৃত্যু কালীন ফিতনার অন্তর্ভুক্ত হল, জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণের সংকটময় মুহূর্তে শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ সালাতে তাশাহুদ পড়বে, তখন চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে। বলবে,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।”
[সহিহহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ৫/ মসজিদ ও সালাতের স্থান, পরিচ্ছেদ: ২৫. সালাতের মধ্যে এসব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা]

সুতরাং কেউ যদি মৃত্যুকালীন শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে চায় তাহলে তার কর্তব্য, ১ম দুআটি অধিক পরিমাণে পাঠ করা। আর ২য় দুআটি বিশেষ করে প্রত্যেক সালাতের শেষ বৈঠকে সালাম ফিরানোর পূর্বে পাঠ করা।

সেই সাথে কর্তব্য, জীবনভর শয়তানের রাস্তা থেকে দূরে থাকা, আল্লাহর নাফরমানি পরিত্যাগ করা, কখনো পাপাচার সংঘটিত হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা ও তৎক্ষণাৎ আল্লাহর পথে ফিরে আসা।
আর যখনই মনের মধ্যে শয়তানি ওয়াসওয়াসা ও আল্লাহর নাফরমানির কথা উদ্রেক হবে তখনই ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শাত্বানারি রাজীম” (অর্থ: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) পাঠ করা।
মোটকথা, যে ব্যক্তি তার জীবনটাকে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি ও সৎকর্ম দ্বারা সাজাতে সক্ষম হবে, শয়তানের পথ অনুসরণ থেকে দূরে থাকবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক শিখানো দুআগুলো আমল করবে সে মৃত্যুর বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাবে ইনশাআল্লাহ।
——–উত্তর প্রদানে——–
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।।

ফরয নামাযের সালাম শেষে প্রথমে এক বার আল্লাহু আকবার, নাকি তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ

 ফরয নামাযের সালাম শেষে প্রথমে এক বার আল্লাহু আকবার, নাকি তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ? একটি দলিল ভিত্তিক পর্যালোচনা

▬▬▬◍❂◍▬▬▬
লেখক: আব্দুর রাকীব মাদানি
দাঈ, দাওয়া’হ সেন্টার খাফজী, সউদি আরব
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

১-বিষয়টি অবতারণার কারণ:

আমরা জানি, আমাদের সমাজে নামায শিক্ষার সময় সাধারণত: এই শিক্ষা নেওয়া হয় বা দেওয়া হয় যে, ফরয সালাতে সালাম ফিরানোর পর প্রথমে এক বার সশব্দে আল্লাহু আকবার বলতে হবে অতঃপর নীরবে তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ এবং আমাদের আহলুল হাদিস সমাজের বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিগণকে জোর শব্দে এই আমলটি করতেও দেখা যায়। এছাড়া সালাফী আলেমগণের প্রচলিত প্রসিদ্ধ বাংলা সালাত শিক্ষার বই-পুস্তকেও এই মাসআলা দেখা যায়। কিন্তু আশ্চর্য হলাম, যখন সউদী আরবের সমাজে মুসল্লিদের নামাযান্তে ১বার উচ্চ কন্ঠে আল্লাহু আকবার বলতে শুনলাম না; অথচ এখানে সালাম শেষে উচ্চ স্বরে কিছুক্ষণ যিকর ও দুআ পড়ার প্রচলন রয়েছে। আর না এখানকার বিজ্ঞ উলামাদের বই-পুস্তকে এবং ফতোয়ায় এই বিধানটি লক্ষ্য করলাম। আরো আশ্চর্য হলাম যখন প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ফিকহের বই পুস্তকেও সালাম শেষে এক বার জোর শব্দে আল্লাহু আকবার বলতে হবে বলে কোনো বিধান অবলোকন করলাম না; বরং তারা সকলে প্রথমে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলার কথা উল্লেখ করেছেন, যা লেখার শেষ পয়েন্টে দেখা যেতে পারে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে বহু পূর্বে মনে কৌতূহল জেগেছিল। সম্প্রতি সাধ্যানুযায়ী এ সম্বন্ধে দলিল-প্রমাণগুলির সাধারণ অধ্যয়ন করার চেষ্টা করলাম। অবশেষে যা অবগত হলাম, তা আপনাদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা ভাল মনে করছি। ওয়াল্লাহু হুআল্ মুআফ্ফিক্ ওয়াল্ মুস্তাআন।

বক্ষমাণ লেখাটির মূল বিষয় হল, সালাম ফিরানোর পর সর্ব প্রথম কি বলতে হবে এবং কত বার বলতে হবে?

২-যারা সালাম শেষে ১ বার জোর শব্দে আল্লাহু আকবার বলতে হবে বলে মত দিয়েছেন, তাঁদের মন্তব্য ও দলিল:

উল্লেখ্য যে, মুতাকাদ্দেমীন (প্রাচীন) উলামাদের কেউ এমন বলেছেন বলে আমার জানা নেই। কিন্তু বর্তমান যুগের বাংলা ও উর্দুভাষী আহলে হাদিস উলামা ও লেখকগণের নামায শিক্ষার বইতে উপরোক্ত মত পাওয়া যায়। আমরা প্রথমে তাদের লেখা বই থেকে কিছু বিবরণ তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ।

ক-‘আইনী তুহ্ফা সালাতে মুস্তফা’র সম্মানিত লেখক বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরয নামাযের সালাম ফিরেই আল্লাহ আকবার জোরে বলতেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি ঐ তাকবীর শুনে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নামায শেষ হওয়া বুঝতে পারতাম (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৮৮ পৃঃ)’। [আইনী তুহ্ফা সালাতে মুস্তফা, অধ্যাপক হাফিয শাইখ আইনুলবারী, ১ম খন্ড পৃঃ ১৫০]

খ-‘ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)’ এর শ্রদ্ধেয় লেখক বলেন, ‘অতঃপর একবার সরবে ‘আল্লাহু আকবার’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৯৫৯; বুখারী ফতহ সহ হা/৮৪১-৮৪২) এবং তিনবার ‘আসতাগফিরুল্লা-হ’ ও একবার ‘আল্লা-হুম্মা আন্ তাস সালা-মু অ-মিন্কাস সালা-মু, তাবা-রাকতা ইয়া-যাল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম’ বলে (মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬১) ডাইনে অথবা বামে কিংবা সরাসরি মুক্তাদীগণের দিকে ফিরে বসবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৯৪৪-৪৬)।’ [ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব, পৃঃ ১৩২]

গ-‘নামাযের মাসায়েল’ এর মুহতারাম লেখক বলেন, ‘মাসআলা-২৬০: ফরজ নামাজ থেকে সালাম ফিরানোর পর উচ্চস্বরে একবার ‘আল্লাহু আকবর’ এবং নিম্নস্বরে তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ অতঃপর ‘আল্লাহুম্মা আন্ তাসসালাম ওয়া মিনকাস্ সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল্ ইকরাম’ বলা সুন্নাত।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার আন্দাজ করতাম তাকবীরের আওয়াজ দ্বারা। (বুখারী, মুসলিম)। [নামাযের মাসায়েল (বাংলা অনুদিত), মুহাম্মদ ইকবাল ক্বীলানী, পৃঃ ৭০]

দেখা যাচ্ছে, উপরোক্ত লেখকগণ সালাম শেষে প্রথমে এক বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন এবং তা জোর শব্দে বলতে বলেছেন। তার পর ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ। প্রথমে এক বার আল্লাহু আকবার বলার প্রমাণ স্বরূপ তারা সকলে যেই দলিলটি পেশ করেছেন বা হাওয়ালা দিয়েছেন, সেটি হল ইবনে আব্বাস রা. এর এই হাদিস:

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: “كنتُ أعرفُ انقضاءَ صلاةِ النبي صلى الله عليه وسلم بالتكبير” رواه البخاري في كتاب الأذان رقم 842

“ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাযের শেষ হওয়া জানতে পারতাম তাকবীরের মাধ্যমে।” [বুখারী, আযান অধ্যায়, নং (৮৪২) মুসলিম, মসজিদ অধ্যায়, নং (১৩১৬)]

অন্য সূত্রে বর্ণনাটি বহু বচনে এই ভাবে উল্লেখ হয়েছে, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামায শেষ হওয়া জানতে পারতাম না তাকবীর (এর আওয়াজ শোনা) ছাড়া”। [ফাতহুলবারী, ২/৪২১]

৩–ইবনে আব্বাস রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদিস “আমি তাকবীরের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাযের শেষ হওয়া জানতে পারতাম।” এর পর্যালোচনা:

◈ পর্যালোচনা নং (১): ইবনে আব্বাস রা. এর এই বর্ণনা একটি শারঈ মূল বিধানের বিপরীত:

এ কথা দলিল ও উম্মতের ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত যে, নামায শেষ হয় বা সম্পন্ন হয় সালামের মাধ্যমে কিন্তু ইবনে আব্বাস রা. এর এই বর্ণনানুযায়ী তিনি নামায শেষ হওয়া জানতে পারতেন তাকবীরের মাধ্যমে, যা একাধিক দলিল, ইজমায়ে উম্মত ও সালাতে সালাম ফিরানোর মূল নিয়মের বিপরীত। এই কারণে সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার ইবনে হাজার আসক্বালানী রাহ. বলেন, “এটা ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন বলে মতভেদ রয়েছে। আয়ায বলেন, বাহ্যত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, তিনি (ইবনে আব্বাস) জামাআতে উপস্থিত ছিলেন না। কারণ তিনি ছোট ছিলেন, যে কারণে হয়তো তিনি বরাবর জামাআতে উপস্থিত হতেন না। আর জামাআতে হাজির হওয়া তার উপর জরুরিও ছিল না। তাই তিনি নামাযের শেষ হওয়াটা উপরোক্ত তাকবীরের মাধ্যমে বুঝতে পারতেন।

(আয়ায) ব্যতীত অন্য বিদ্বান বলেন, “হতে পারে তিনি নামাযের কাতারগুলোর শেষ দিকে উপস্থিত ছিলেন। তাই তিনি সালামের মাধ্যমে নামায শেষ হওয়াটা বুঝতে পারেন নি; বরং তাকবীরের মাধ্যমে বুঝতে পারেন”। [ফাতহুল বারী, ২/৪২১]

তাঁদের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ না করার কারণ হচ্ছে, একাধিক হাদিস দ্বারা এটা প্রমাণিত যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীরের মাধ্যমে নামায শুরু করতেন এবং সালামের মাধ্যমে নামায শেষ করতেন। [দেখুন, তিরমিযী নং (২৩৮) ইবনে মাজাহ নং (২৭৬) বায়হাক্বী নং (৩৭৮৫) সহীহ সুনান আবু দাউদ নং (৬১৯) সহীহ সুনান ইবনে মাজাহ নং (২২২)]

যাই হোক হাদিসটির বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব নয়, কারণ নামায শেষ হয় সালামের মাধ্যমে আর তিনি বলেছেন, “আমি বুঝতে পারতাম তাকবীরের মাধ্যমে।” তাই ইসালামি বিদ্বানগণ তার কথার অন্য ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আর এমন হলে, সালামের পর প্রথমে এক বার তাকবীর দেওয়া সাব্যস্ত হয় না।

◈ পর্যালোচনা নং (২): হাদিসটির বাহ্যিক অর্থ দ্বারাও ১বার আল্লাহু আকবার বলা বুঝায় না।

হাদিসটির বাহ্যিক অর্থ ও এ কথার পক্ষে নয় যে, সালামের পর সর্বপ্রথম ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে এবং তা একবার বলতে হবে। আমি আরও একবার হাদিসের হুবহু অর্থ তুলে ধরলাম। “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাযের শেষ হওয়া জানতে পারতাম তাকবীরের মাধ্যমে।” [বুখারী, আযান অধ্যায়, নং (৮৪২) মুসলিম, মসজিদ অধ্যায়, নং (১৩১৬)

হাদিসটির বাহ্যিক অর্থে কি এটা রয়েছে যে, সালামের পর প্রথমে একবার সশব্দে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে? তাই সালামের পর এক বার সশব্দে ‘আল্লাহু আকবার’ বলার বিধান যারা এই হাদিসের আলোকে দিয়েছেন, তারা কোন্ শব্দ থেকে তা গ্রহণ করেছেন, তা প্রশ্নবিদ্ধ। হ্যাঁ, তবে এটা অনুমান করা যায় যে, নামায শেষে তাকবীর রয়েছে। কিন্তু সেটা সালামের পর প্রথম শব্দ এবং তা একবার-এটা কখনও বুঝা যায় না।

◈ পর্যালোচনা নং (৩): উলামাগণ হাদিস টি থেকে যা ইস্তিদলাল করেছেন বা বুঝেছেন।

সিংহভাগ মুহাদ্দিস ও উলামা হাদিস টি দ্বারা যা দলিল দিয়েছেন বা যা ইস্তিদলাল করেছেন তা হল, সালামের পর উচ্চস্বরে যিকর করা বৈধ; সালামের পর প্রথমে একবার তাকবীর দিতে হবে তা নয়। ইমাম বুখারী রাহ. আলোচ্য ইবনে আব্বাস রা. এর হাদিসের ঠিক পূর্বে স্বয়ং ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় আর এক হাদিস উল্লেখ করেছেন, যাতে নামাযের পর উচ্চস্বরে যিকরের বর্ণনা এসেছে। যা দ্বারাও অনুমান করা যায় যে, হাদিসটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, সশব্দে যিকর করার প্রামাণিকতা। তিনি রা. বলেন, “যিকরের মাধ্যমে আওয়াজ উঁচু করা-যখন লোকেরা ফরয নামায শেষ করতেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ছিল।” ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তাদের নামায শেষ হওয়া জানতে পারতাম, যখন তা শুনতে পেতাম”। [বুখারী, আযান অধ্যায়, নং ৮৪১]

ইমাম নবভী বলেন, “এটা কতিপয় সালাফের মতের পক্ষে দলিল, যারা বলেছেন, ফরয নামায শেষে উচ্চস্বরে তাকবীর ও যিকর করা মুস্তাহাব। মুতাআখ্খেরীন (পরবর্তী যুগের আলেমগণ) এর মধ্যে ইবনে হাযম মুস্তাহাব বলেছেন। ইবনে বাত্তাল সহ অন্যরা নকল করেছেন যে, অনুসৃত আসহাবে মাযহাব এবং অন্যরা ঐক্যমতানুযায়ী উচ্চস্বরে তাকবীর ও যিকর মুস্তাহাব মনে করেন না”। [শারহু মুসলিম, ৩/৮৬]

শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রাহ. ইবনে আব্বাস রা. এর এই হাদিস টি সম্পর্কে বলেন, “এই সহীহ হাদিস টি এবং এই অর্থের ইবনুয যুবাইর এবং মুগীরাহ বিন শু’বা সহ অন্যান্য হাদিস প্রমাণ করে যে, ফরয নামায শেষে এমন ভাবে উচ্চস্বরে যিকর করা বৈধ, যেন মসজিদের দরজার নিকট এবং মসজিদের আশেপাশে অবস্থানরত লোকেরা নামায শেষ হওয়া জানতে পারে”। [মাজমূউ ফাতাওয়া, ইবনে বায, ১১/২০৬]

◈ পর্যালোচনা নং (৪): আলোচ্য হাদিসে তাকবীর অর্থ আল্লাহু আকবার নয়; বরং এর অর্থ যিকর। “আমি তাকবীরের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামায শেষ হওয়া জানতে পারতাম।” অর্থাৎ যিকরের মাধ্যমে।

উপরোক্ত অনুচ্ছেদে ইমাম বুখারী ও মুসলিম স্বয়ং ইবনে আব্বাস রা. থেকে একটি অন্য আসার বর্ণনা করেছেন, যা সেই তাকবীর শোনার ব্যাখ্যা দেয়। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, “আমি এ থেকে তাদের শেষ করা জানতে পারতাম, যখন তা শুনতাম”। [বুখারী, নং ৮৪১, মুসলিম নং ১২২]

উপরোক্ত বাক্যের ব্যাখ্যায় ইবনে হাজার বলেন, “অর্থ হচ্ছে, আমি যিকর শোনার মাধ্যমে তাদের (নামায) শেষ হওয়া জানতে পারতাম”। [ফাতহুল বারী, ২/৪২১]

কিরমানী বলেন, (তাকবীরের মাধ্যমে) অর্থাৎ আল্লাহর যিকরের মাধ্যমে। এ বক্তব্য আয়নী উমদাতুল ক্বারীতে উল্লেখ করেছেন। [৬/১২৬]

তাই ইবনে আব্বাস রা. এর উপরোল্লিখিত হাদিসে তাঁর উক্তি “আমি তাকবীরের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামায শেষ হওয়া জানতে পারতাম” অর্থ তাদের যিকর শুনে বুঝতে পারতাম যে, তাদের নামায সমাপ্ত হয়েছে। তবে তিনি এখানে যিকরকে যিকর না বলে তাকবীর বলেছেন। এমন বলাটা অসঙ্গত নয়; কারণ আরবি বালাগাত তথা অলংকার শাস্ত্রে এর নজীর রয়েছে। এমন করাকে বলা হয়, জুয বলে কুল মুরাদ নেওয়া। অর্থাৎ কোনো কিছুর অংশ উল্লেখ করে তার সম্পূর্ণটাই উদ্দেশ্য করা। আর এর পিছনে কারণ হচ্ছে, যেহেতু সেই সব যিকরেরর মধ্যে তাকবীরও রয়েছে তাই হয়তো তিনি তাকবীর বলে যিকরকেই বুঝাতে চেয়েছেন। যেমনটি ইবনে হাজার রাহ. ব্যাখ্যায় উল্লেখ হয়েছে।

হয়তো অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, এমন অর্থ নেওয়া হাদিসের অপব্যাখ্যা নয় কি? আমি বলবো না, এটা অপব্যাখ্যা নয়। কারণ অপব্যাখ্যা তখন হত, যখন হাদিসটির শব্দকে নিজ অর্থে নেওয়া সম্ভব হত। এখানে হাদিসটিকে আসল অর্থে নেয়া অসম্ভব। কারণ; নামায শেষ হয় ঐক্যমতানুসারে সালামের মাধ্যমে কিন্তু তিনি রা. বলছেন: আমি জানতে পারতাম তাকবীরের মাধ্যমে। তাই উপরোক্ত ব্যাখ্যা আসলে কোনো অপব্যাখ্যা নয়; বরং দলিলের আলোকে সঠিক ব্যাখ্যা। এমন হলে এটা প্রমাণিত হয় না যে, সালামের পর প্রথমে একবার তাকবীর দিতে হবে। কারণ এই তাকবীরের অর্থ আল্লাহু আকবার বলা নয় বরং সাধারণ যিকর।

◈ পর্যালোচনা নং (৫): ইবনে আব্বাস রা. এর এই বর্ণনা অস্পষ্ট, অন্যান্য স্পষ্ট বর্ণনায় সালামের পর তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলার কথা এসেছে:

আমাদের এটা স্বীকার করতে দ্বিধা হতে পারে না যে, ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণনায় যেই তাকবীরের কথা এসেছে তা অস্পষ্ট তথা মুহতামিল শব্দ। অর্থাৎ সেটা কোন্ তাকবীর তা স্পষ্ট নয়। সুবহানাল্লাহ, আল্ হামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবারের তাকবীর, না সালামের পর একটি স্বতন্ত্র তাকবীর না নামাযের এক অংশ শেষ করে দ্বিতীয় অংশে যাওয়ার তাকবীর? তবে সালামের পর তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলার বর্ণনাটি স্পষ্ট। ফিকহী মূলনীতিতে সাব্যস্ত যে, “দুটি দলিলের মধ্যে যদি একটি অপরটির বিপরীত হয় আর একটি অস্পষ্ট হয় কিংবা তাতে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা থাকে আর অন্যটি স্পষ্ট হয় এবং তাতে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে স্পষ্ট দলিল (স্বরীহ নস্স) অগ্রাধিকার পায়।” এই মূলনীতির আধারে আমরা সহজে বুঝতে সক্ষম যে, সালামের পর আল্লাহু আকবার বলার বর্ণনাটি অস্পষ্ট তথা একাধিক অর্থে সম্ভাব্য কিন্তু সালামের পর তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলার দলিলটি স্পষ্ট। তাই আস্তাগফিরুল্লাহ বলাই নির্ধারিত হবে। সহজ ভাবে বলা যেতে পারে, সালাম ফিরানোর পর আল্লাহু আকবার বলা অপেক্ষা আস্তাগফিরুল্লাহ বলার বর্ণনাটি বেশী স্বরীহ বা স্পষ্ট। তাছাড়া ইবনে আব্বাস রা. এর আলোচ্য বর্ণনাটি ছাড়া অন্য বর্ণনায় আস্তাগফিরুল্লাহ বলার বিবরণ এসেছে। তাই আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া প্রাধান্য পাবে। নিম্নে বর্ণনাটি প্রদত্ত হল:

عن ثوبان قال: كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا انْصرفَ مِنْ صلاتِه استغْفَرَ ثلاثاً و قال: ” اللهمَّ أنْتَ السلامُ و منْكَ السلامُ، و تباركتَ ذا الجَلالِ والإكْرامِ”

সাওবান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর নামায থেকে ফিরতেন, তখন তিন বার ইস্তিগফার করতেন এবং বলতেন: “আল্লাহুম্মা আন্তাস্ সালামু ওয়া মিনকাস সালামু, ওয়া তাবারাকতা ইয়া যাল্ জালালি ওযাল্ ইকরাম”। [মুসলিম, অধ্যায়ঃ মসজিদ ও নামাযের স্থান, নং (৫৯১) আবু দাউদ, সালাত অধ্যায়, নং (১৫১৩), তিরমিযী, সালাত অধ্যায়, নং (৩০০), ইবনে মাজাহ, নং (৯২৮)]

ইমাম নবভী বলেন, “যখন তিনি তাঁর নামায থেকে ফিরতেন…।” কথাটির অর্থ যখন তিনি সালাম ফিরাতেন। [শারহু মুসলিম, ৩/৯২]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফিরানোর পরেই যে এই ইস্তিগফার করতেন, তা বিভিন্ন মুহাদ্দেসীনদের অনুচ্ছেদ দ্বারা আরো স্পষ্ট হয়।
-উক্ত বর্ণনাটির জন্য ইমাম আবু দাউদের অনুচ্ছেদ শিরোনাম হচ্ছে, সালাম ফিরানোর পর মানুষ কী বলবে?
-ইমাম তিরমিযীর অনুচ্ছেদ শিরোনাম হচ্ছে, নামাযে সালামের পর যা বলবে।
-ইমাম ইবনে মাজার অনুচ্ছেদটি হচ্ছে, সালামের পর যা বলতে হয়।
অতঃপর তাঁরা সকলে উপরোক্ত সাওবান রা. এর বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন, যা দ্বারা মুহাদ্দিসগণের ইস্তিদলাল বুঝা যায় যে, সালামের পর প্রথমে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হবে; একবার আল্লাহু আকবার নয়।

◈ পর্যালোচনা নং (৬): যদি হাদিসের বাহ্যিক শব্দ তাকবীর এর অর্থ আল্লাহু আকবার গ্রহণ করা হয়, তাহলে সেই তাকবীর কি একটি স্বতন্ত্র ভিন্ন তাকবীর না সালাম শেষে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার এর তাকবীর?

উপরে বর্ণিত প্রমাণ ও সালফে সালেহীনদের ব্যাখ্যার আলোকে আমরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, সালামের পর একবার আল্লাহু আকবার নয়; বরং তিন বার আসতাগফিরুল্লাহ পড়তে হবে। কিন্তু কেউ যদি ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণনার বাহ্যিক শব্দের ভিত্তিতে তার উপর আমল করতে চায়, তাহলে সে সালাম ফিরানোর পর তাকবীরের মাধ্যমে যিকর শুরু করতে পারে কিন্তু তা হবে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবারের তাকবীর, যা ৩৩ বার কিংবা অন্য বর্ণনানুযায়ী ১০ বার। একটি মাত্র তাকবীর নয়। সালাম শেষে একটি স্বতন্ত্র তাকবীরের কথা ইবনে আব্বাস রা. এর হাদিসের শব্দ দ্বারা বুঝা যায় আর না আবার সেই হাদিসের ব্যাখ্যায় কোনো প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাকারীও তা বলেন নি। এমনকি সালফে সালেহীনের কেউই একটি ভিন্ন তাকবীরের কথা বলেন নি। হ্যাঁ, তবে উক্ত হাদিস “তাকবীরের মাধ্যমে নামায শেষ হওয়া জানতে পারতাম” এর ব্যাখ্যায় এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা দ্বারা অনুমান করা যেতে পারে যে, সালাফদের কেউ কেউ তাকবীরের মাধ্যমে যিকর শুরু করতেন। আর তা হত, সুবহানাল্লাহ, আল্ হামদুলিল্লাহর তাকবীর; কোনো স্বতন্ত্র তাকবীর নয়।

“বিত্ তাকবীর” (তাকবীরের মাধ্যমে) এ কথার ব্যাখ্যায় ইবনে হাজার রাহ. উল্লেখ করেছেন: “মনে হয়, তারা নামায শেষে সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ এর পূর্বে আল্লাহুআকবার দ্বারা শুরু করতেন”। [ফাতহুলবারী, ২/৪২১]

সউদী স্থায়ী উলামা পরিষদকে জিজ্ঞাসা করা হয়, উক্ত তাকবীর বলতে কী বুঝায়? [ফতোয়া নম্বর ১৮১৪৭ এর চতুর্থ প্রশ্ন] তাঁরা উত্তরে বলেন:

সেই হাদিসে উল্লেখিত তাকবীরের অর্থ হচ্ছে, নামাযের পশ্চাতে ৩৩ বার (সুবহানাল্লাহ, আল্ হামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার) বলা। এটা এ সম্বন্ধীয় হাদিস সমূহের মধ্যে সমন্বয় স্বরূপ। [ফাতাওয়াল লাজনা আদ দায়িমাহ, ৫/৪২০, মাকতাবা শামেলার নাম্বার অনুযায়ী]

শাইখ ইবনে উসায়মীন রহ. আলোচ্য হাদিসে “বিত্ তাকবীর” (তাকবীরের মাধ্যমে) বলতে কী বুঝায়? এর ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ সেই তাকবীরের মাধ্যমে যা যিকরের সাথে হয়; কারণ সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার যিকরের অন্তর্ভুক্ত। [ফাতাওয়া নুরুন আলাদ্ দারব, ৮/২, মাকতাবা শামেলার নাম্বার অনুযায়ী]

যেহেতু নামাযের পশ্চাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীরের আদেশ দিয়েছেন, তাই নামায শেষ হলেই তা করা বৈধ। অন্য দিকে কিছু এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়, যাতে তাসবীহ এর পূর্বে তাকবীরের উল্লেখ এসেছে। তাই তাকবীর দ্বারা যিকর শুরু করা বৈধ কিন্তু উত্তম নয়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুসাব্বিহূনা ওয়া তাহমাদূনা ওয়া তুকাব্বিরূনা খালফা কুল্লি স্বালাতিন সালাসাঁও ও সালাসীনা”। অর্থ: “তোমরা প্রত্যেক নামায শেষে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলবে”। [বুখারী, নং ৮৪৩]

ইবনে হাজার রাহ. বলেন, “বেশীরভাগ হাদিসে আলহামদুলিল্লাহ এর পূর্বে সুবহানাল্লাহ এসেছে এবং আল্লাহু আকবার পরে এসেছে। তবে ইবনে আজলান এর বর্ণনায় বিশেষ করে আল হামদুলিল্লাহের পূর্বে আল্লাহু আকবার এসেছে এবং তাতে আবু সালিহ এর উক্তি রয়েছে, তুমি বলবে: “আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহ এবং আল হামদুলিল্লাহ”। অনুরূপ উম্মুল হাকাম থেকে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে (২৯৮৭)। এবং তাতে আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, “তোমরা তাকবীর, হামদ এবং তাসবীহ পাঠ করবে”। ইবনে উমরের হাদিসেও অনুরূপ এসেছে।

তিনি আরও বলেন, এই মতভেদ প্রমাণ করে যে, উক্ত যিকরে ধারাবাহিকতা জরুরি নয়। আর এই মতের সমর্থনে রয়েছে বাকিয়াতুস্ স্বালিহাতের হাদিস “যার দ্বারাই শুরু কর না কেন তাতে কোনো ক্ষতি নেই”। [ফাতহুল বারী, ২/৪২৪/কাশফুল্ লিসাম, সাফারীনী, ৩/১০০]

উক্ত ব্যাখ্যা দ্বারাও বুঝা যায়, সুবহানাল্লাহ এবং আল্ হামদুলিল্লাহ এর পূর্বে আল্লাহু আকবার দ্বারা যিকর শুরু করা বৈধ। তবে উত্তম হচ্ছে প্রথমে তাসবীহ, তার পর তাহমীদ, অতঃপর তাকবীর”। [ফাতহুলবারী, ২/৪২৪]

অতএব বুঝা গেল, ইবনে আব্বাস রা. এর হাদিসে উল্লেখিত তাকবীর কোনো স্বতন্ত্র তাকবীর নয়; বরং তা তাসবীহ ও তাহমীদের তাকবীর। তাই কেউ ফরয সলাতান্তে তাকবীরের মাধ্যমে যিকর করতে চাইলে তো করতে পারে কিন্তু তা একটি আলাদা একবার তাকবীর হবে না; বরং তা হবে ৩৩ বার কিংবা ১০ বার, যা যিকরের অন্তর্ভুক্ত।

বিগত ও বর্তমান যুগের ১০ জন বিশিষ্ট ইসালামি লেখক, গবেষক ও উলামার উক্তি, যারা নামাযান্তে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলার পক্ষে মন্তব্য ও ফতোয়া দিয়েছেন:

✪ ১-ইমাম নওয়াভী রহ. (মৃত্যু: ৬৭৬ হি.) বলেন, “কাযী আবুত ত্বাইয়েব বলেছেন, “এই সকল যিকরের মধ্যে ইস্তেগফার দিয়ে শুরু করা মুস্তাহাব। অতঃপর তিনি সাওবান রা. এর হাদিস উল্লেখ করেন।” [কিতাবুল্ মাজমু, ৩/৪৬৮]

✪ ২-ইবনে তায়মিয়াহ রহ. ( মৃত্যু: ৭২৮ হি. ) বলেন, “সহীতে উল্লেখ হয়েছে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুখ ফিরে বসার পূর্বে তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন এবং বলতেন আল্লাহুম্মা আনতাস্ সালামু ওয়া মিনকাস্ সালামু তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।” [মাজমুউ ফাতাওয়া, ২২/৪৯২-৪৯৩]

✪ ৩-ইবনুল ক্বায়্যিম রহ. (মৃত্যু: ৭৫১ হি.) বলেন, “তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাম ফিরাতেন, তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন। অতঃপর বলতেন: আল্লাহুম্মা আন্তাস্ সালামু .. ..।” [যাদুল মাআদ, ১/২৯৫]

✪ ৪-ইবনুন নাজ্জার রহ. (মৃত্যু; ৯৭২হি.) বলেন, “অতঃপর সুন্নত হল, তিন বার ইস্তিগফার করা এবং বলা আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ….।” [মুনতাহাল ইরাদাত, ১/২২]

✪ ৫-রামলী রহ. (মৃত্যৃ: ১০০৪ হি.) বলেন, “তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামায শেষ করতেন, তিনবার ইস্তিগফার করতেন।” [নিহাইয়াতুল মুহতাজ, ১/৫২৯]

✪ ৬-বহূতী রহ. (মৃত্যু: ১০৫১হি.) বলেন, “অতঃপর তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলবে। (তারপর) আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ….।” [কাশ্শাফুল কান্না, ১/৪৩৪]

✪ ৭-শাইখ ইবনে বায রহ. বলেন, ‘অতঃপর আমি আমার ভাইসকলকে এই উপদেশ দিতে আনন্দ বোধ করছি যে, সুন্নত হল: মুসলিম ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতান্তে ইমাম হোক কিংবা মুক্তাদি হোক কিংবা একাকী নামায আদায়কারী হোক- সে যেন বলে, আস্তাগফিরুল্লাহ তিন বার। আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ওয়া মিনকাস্ সালামু তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম। অতঃপর ইমাম হলে যেন লোকদের দিকে মুখ করে ফিরে বসে।’ [মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১১/১৮৮]

✪ ৮-শাইখ বকর আবু যাইদ রাহ. তাঁর তাসহীহুদ্ দুআ নামক গবেষণাধর্মী গ্রন্থে সালাত শেষে বৈধ যিকর সমূহ শিরোনামে যিকরগুলির ধারাবাহিকতা উল্লেখ করার সময় প্রথম নম্বরে বলেন, “ইস্তিগফার করা, আর এর প্রমাণিত নিয়ম হচ্ছে “আস্তাগফিরুল্লাহ” তিন বার।” [তাসহীহুদ দুয়া, ১/৪৩০]

✪ ৯-শাইখ সালেহ বিন ফাউযান (হাফেযাহুল্লাহ) বলেন, “যখন সালাম শেষ হবে বলবে, আস্তাগফিরুল্লাহ তিন বার। আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আন্তাস সালাম ওয়া মিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া যাল্ জালালি ওয়াল ইকরাম। অতঃপর প্রমাণিত যিকর করবে।” [আল মুলাখ্খাস আল ফিকহী, ১/৭০]

✪ ১১-সউদি স্থায়ী উলামা পরিষদ তাদের ফতোয়ায় বলেন, “ফরয সালাতের সালাম শেষে মুসল্লি তিন বার ইস্তিগফার করবে এবং বলবে আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম। তারপর বলবে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহূ লা শারীকা লাহূ লাহুল‌ মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর। লা হাওলা ওয়ালা কুও আতা ইল্লা বিল্লাহ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা না’বুদু ইল্লা ইয়্যাহু..শেষ পর্যন্ত। আল্লাহুম্মা লা মানিয়া লিমা আ’ত্বাইতা ওয়ালা মু’ত্বিয়া লিমা মানা’তা ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ। অতঃপর সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহুআকবার ৩৩ বার। অতঃপর ১০০ পূরণে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু …”।[ফাতাওয়াল লাজনা আদ দাইমাহ, ৭১০২-১০৩]

আশা করি, সম্মানিত পাঠকদের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিনা তাসলীমান মাযীদা।।

ইসলামের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুন

 প্রশ্ন: মাস্টারবেট বা হস্তমৈথুন করার বিধান কী?

উত্তর:
ইসলাম অত্যন্ত স্বভাবজাত ও বাস্তবসম্মত একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনাদর্শের নাম। এখানে মানুষের জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগের সুন্দরতম সমাধান রয়েছে। আর মানুষের জৈবিক চাহিদা যেহেতু তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সেহেতু এক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে-এটাই স্বাভাবিক।

আর তাইতো এই মহাবিশ্বের মহাপরিচালক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষকে তার জৈবিক বাসনা পূর্ণ করার পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেমন:
মহা-গ্রন্থ আল কুরআনে তিনি বলেন,
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ‎‏ إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ ‎
“এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালঙ্ঘন কারী হবে।” [সূরা আল মুমিনূন: ৫, ৬ ও ৭]
অর্থাৎ মানুষের যৌন চাহিদা পূরণের বৈধ পন্থা হল, দুটি। যথা:
🔹১. বিয়ের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন গঠন। এই ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা প্রয়োজনবোধে শর্তসাপেক্ষে একসাথে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,
فَٱنكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ مَثۡنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَۖ فَإِنۡ خِفۡتُمۡ أَلَّا تَعۡدِلُواْ فَوَٰحِدَةً أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡۚ ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَلَّا تَعُولُواْ
“অতএব তোমরা বিয়ে করো নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই, তিন বা চার ; আর যদি আশংকা কর যে সুবিচার করতে পারবে না তবে একজনকেই বা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকেই গ্রহণ কর। এতে পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা বেশী।
[সূরা নিসা: ৩]

🔹 ২. কাফেরদের সাথে সংঘটিত জিহাদের মাধ্যমে গনিমত হিসেবে প্রাপ্ত নারী বন্দি বা ক্রীতদাসী। (বর্তমানে দাস-দাসী প্রথা প্রচলিত নেই। বিধায় এখানে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো না)

উপরোক্ত আয়াতে উল্লেখিত দুটি উপায়ের বাইরে লজ্জাস্থানের ব্যবহারকে ‘সীমালঙ্ঘণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখান থেকেই ইমাম শাফেয়ী রহ. সহ অনেক সম্মানিত ফকিহ, হাত বা অন্য কোনও উপায়ে বীর্য স্খলন ঘটানোকে হারাম বলেছেন।

নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য এই বিধান প্রযোজ্য।

🔸 সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ. বলেন,
العادة السرية لا تجوز وهي الاستمناء باليد أو بغيرها من الآلات لا يجوز؛
“হস্তমৈথুন তথা হাত অথবা অন্য যন্ত্র দ্বারা বীর্য স্খলন ঘটানো জায়েজ নয়।” এরপর তিনি হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত হওয়ার বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করেন। (শাইখের এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট)

🔸 শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানিও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি বলেন, হস্ত মৈথুন ‘অভিশাপ যোগ্য কর্ম’ হওয়ার ব্যাপারে কিছু হাদিস পাওয়া যায়। সেগুলো ভিত্তিহীন এবং এমন দুর্বল যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন,
من نكح بيده ملعون أو ناكح كفه ملعون. فهذا الحديث لا أصل له، نعم هناك حديث بمعناه ( سبعة لعنهم الله ومنهم ناكح يده ) لكنه حديث ضعيف الإسناد لا تقوم فيه حجة، ولذلك هو مذكور في كتابي ( ضعيف الجامع الصغير )
“যে তাঁর হাতকে বিয়ে করবে সে অভিশপ্ত অথবা হাতের তালুকে বিয়ে কারী অভিশপ্ত।” এর কোনও ভিত্তি নেই। হ্যাঁ, এর সমার্থবোধক একটি হাদিস রয়েছে। তা হল, “আল্লাহ সাত শ্রেণীর মানুষের প্রতি অভিসম্পাত করেন। তাদের মধ্যে একজন হল, হাতকে বিবাহ কারী।” কিন্তু এর সনদ দুর্বল যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। [যাঈফ আল জামে আস সাগীর]

এছাড়াও হস্তমৈথুন বিয়ের মাধ্যমে হালাল পন্থায় সন্তান লাভের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক এবং আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম পরিপন্থী। কেননা কোন মানুষ এই হারাম কর্মে অভ্যস্ত হয়ে গেলে সে বিয়ের প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এমনকি অতিরিক্ত অবিচারের ফলে তার বিয়ের শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতা ধ্বংস হয়ে যায় যেমনটি ডাক্তারগণ সতর্ক করেছেন।

◾এবার দেখা যাক, হস্তমৈথুনের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন কী বলেন:

pnsnews24 এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়:

হস্তমৈথুন এমন একটি অভ্যাস যা একবার কাউকে পেয়ে বসলে ত্যাগ করা খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, অভ্যাসটি এক সময় অনেকের যৌন জীবন বিপর্যস্ত করে তুলে। হস্তমৈথুনের কারণে দুই ধরনের সমস্যা হয়- মানসিক সমস্যা ও শারীরিক সমস্যা।

অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে যে ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে:

১. অকাল বীর্যপাত(Premature Ejaculation)। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ে বীর্যপাত ঘটে। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয়। বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

২. বীর্য পাতলা হয়ে যায় (Temporary Oligospermia)- Oligospermia হলে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়। তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম। যার ফলে Male infertility দেখা দেয়। অর্থাৎ সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতা দেখা দিতে পারে। একজন পুরুষ যখন স্ত্রীকে রমণ করেন তখন তার পুরুষাঙ্গ থেকে যে বীর্য বের হয় সেই বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত।

৩. বিজ্ঞান বলে, কোনও পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ কোনও সন্তানের জন্ম দিতে পারেন না। অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়।

৪. Nervous system, heart, digestive system, urinary system এবং আরও অন্যান্য system ক্ষতিগ্রস্ত হয় । পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ-বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায়।
৫. চোখের ক্ষতি হয়।
৬. স্মরণ শক্তি কমে যায়।
৭. মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরও অনেক সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে।
৮. আরেকটি সমস্যা হল Leakage of semen। অর্থাৎ সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হওয়া।
৯. শারীরিক ব্যথা এবং মাথা ঘোরা।
১০. যৌন ক্রিয়ার সাথে জড়িত স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হওয়া অথবা ঠিক মত কাজ না করার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া।
১১. শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন: হজম প্রক্রিয়া এবং প্রস্রাব প্রক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি করে। দ্রুত বীর্য স্খলনের প্রধান কারণ অতিরিক্ত হস্তমৈথুন।
১২. হস্তমৈথুনের ফলে অনেকেই কানে কম শুনতে পারেন। [পিএনএস ডেস্ক]

সুতরাং সামর্থ্য বান যুবকদের অনতিবিলম্বে বিয়ে করা উচিত। পাপাচারে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে বিয়ে করা ফরজ। হ্যাঁ, বিশেষ কোন কারণে বিয়েতে সাময়িক বিলম্ব হলে রোজা রাখার মাধ্যমে যৌন বাসনা কে দমন করবে। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ؛ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
“হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখতে এবং লজ্জা স্থানকে সংযত করতে সব চেয়ে বেশি সহায়ক। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম (রোজা) পালন করে। কেননা তা প্রবৃত্তিকে দমন করে।” [বুখারী ১৯০৫, ৫০৬৫ ও মুসলিম ১৪০০]

কিন্তু ক্যারিয়ার গঠন, চাকরি পাওয়া, নিজের পায়ে দাঁড়ানো, বয়স হয়নি, বউকে কী খাওয়াবো এসব দুর্বল ও কু যুক্তি পেশ করে হালাল বিয়ে থেকে দূরে থাকা এবং তথাকথিত বয় ফ্রেন্ড-গার্ল ফ্রেন্ড নামক ঘৃণ্য অপসংস্কৃতিতে হাবুডুবু খাওয়া অথবা পর্ণ, ও যৌন উত্তেজক ভিডিও দেখা, এই জাতীয় গান শোনা, অশ্লীল ও নোংরা গল্প-উপন্যাস পড়া কিংবা কারো সাথে অশ্লীল কথাবার্তা বলার মাধ্যমে যৌন উত্তেজনা অনুভব করা অবশেষে হস্তমৈথুনের মাধ্যমে যৌন চাহিদা নিবৃত করে নিজের উপর অত্যাচার করা এবং তাকে অভ্যাসে পরিণত করা নিঃসন্দেহে হারাম ও কবিরা গুনাহ।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হালাল পন্থায় জৈবিক চাহিদা পূরণ করার এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম
▬▬▬✪✪✪▬▬▬

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

স্বামী-স্ত্রী ফোন সেক্স করার বিধান

 প্রশ্ন: আমার স্বামী দেশের বাইরে থাকে। এমতবস্থায় আমার এবং আমার স্বামী উভয়ের ফিতনায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী ফোন সেক্স করলে কি গুনাহ হবে?

উত্তর:
স্বামী-স্ত্রী যদি ফোনের মাধ্যমে যৌন আবেদন মূলক কথা-বার্তা বলে, বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে একে অপরের ছবি বা ভিডিও দেখে এবং যৌন বিষয়ে কল্পনা করে আনন্দ উপভোগ করে করে তাহলে তাতে কোনও দোষ নেই।
তবে এ ক্ষেত্রে দুটি শর্ত রয়েছে:
🔸 ১. তাদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা যেন অন্য কেউ শুনতে না পায় বা তাদের ছবি-ভিডিও কোনোভাবেই অন্যের দৃষ্টি গোচর না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ কোনও সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি আড়ি পেতে তাদের কথাবার্তা শুনতে না পারে বা গোপনে তাদের কোন কিছু দেখতে না পারে সে ব্যাপারে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

🔸 ২. কোনও হারাম কর্মে লিপ্ত হওয়া যাবে না। যেমন: তারা যৌন সম্পর্কিত কথাবার্তা বলা বা দেখাদেখি করার সময় যদি উত্তেজিত হয়ে কোনও হারাম কর্মের দিকে পা বাড়ায় তাহলে তা নি:সন্দেহে হারাম। যেমন: হস্তমৈথুন (তবে জিনায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ভিন্ন কথা। এ ক্ষেত্রে তা জায়েজ হবে), পরপুরুষ/পরনারীর মাধ্যমে যৌন চাহিদা পূরণ করা ইত্যাদি।
উল্লেখ্য যে, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে শুধু কল্পনা করা, ভিডিও মারফতে দেখাদেখি করা বা যৌন সংক্রান্ত কথাবার্তা বলার কারণে (হাত অথবা অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার ব্যতিরেকে) যদি বীর্যপাত ঘটে তাহলে তাতে কোন দোষ নেই ইনশাআল্লাহ।
(আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ. এর ফতোয়ার আলোকে)
[উৎস: islamqa]
سئل الشيخ ابن عثيمين رحمه الله : هل يجوز للزوجين أن يتحدثا عن الجنس بالهاتف ويستثيرا بعضهما حتى ينزل أحدهما أو كلاهما بدون استعمال اليد لأنه محرم ؟ يحصل هذا لأن زوجي يسافر دائما ولا نرى بعضنا إلا كل 4 أشهر .
فأجاب : لا بأس ، نعم يجوز هذا .
السائل : ولو كان باستعمال اليد .
الجواب : استعمال اليد فيه نظر ، ولا يجوز إلا إذا خاف على نفسه الزنا .
السائل : وبدون استعمال اليد لا مانع .
الجواب : نعم بدون استعمال اليد لا مانع ، يتصور أنه معها لا بأس في ذلك ” انتهى
الله أعلم
▬▬▬✪✪✪▬▬▬

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate