Saturday, December 11, 2021

জিহ্বার আছে আপদ, কথার আছে আদব

 জিহ্বার আছে আপদ, কথার আছে আদব,

কথা তাই সাবধানে, সব কথা নয় সবখানে!
লিখেছেনঃ আব্দুল হামীদ ফাইযী মাদানী

মহানবী (সাঃ) বলেন, “বান্দা নির্বিচারে এমনও কথা বলে, যার দরুন সে পূর্বে ও পশ্চিমে বরাবর স্থান দোযখে পিছলে যায়।”(বুখারী ৬৪৭৭, মুসলিম ২৯৮৮, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

তিনি বলেন, “মানুষ এমনও কথা বলে, যাতে সে কোন ক্ষতি আছে বলে মনেই করে না; অথচ তার দরুন সে ৭০বছরের পথ জাহান্নামে অধঃপতিত হয়।”

(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকেম, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫৪০ নং)

তিনি আরো বলেন, “মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির এমনও কথা বলে, যার মঙ্গলের কথা সে ধারণাই করতে পারে না; অথচ আল্লাহ তার দরুন কিয়ামত দিবস অবধি তার জন্য সন্তুষ্টি লিপিবদ্ধ করেন। আবার মানুষ আল্লাহর অসন্তুষ্টির এমনও কথা বলে যার অমঙ্গলের কথা সে ধারণাই করতে পারে না; অথচ আল্লাহ তার দরুন কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তার অসন্তুষ্টি লিপিবদ্ধ করেন।” (মালেক, আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম সিলসিলাহ সহীহাহ ৮৮৮ নং)

বখাটে_বোনটি_আমার!
জিহ্বা দেখতে ছোট ও নরম, কিন্তু তার আঘাত বড় শক্ত। লৌহ-তরবারি অপেক্ষা বাক-তরবারির ধার অধিক বেশী। এ জন্যই বোবার কোন শত্রু নেই।

> পা পিছলে গেলে মানুষ মরে না, কিন্তু মুখ পিছলে গেলে অনেকে মারা যায়। সাবধান! তুমি তোমার জিভ দিয়ে নিজের গর্দান কেটে ফেলো না। অধিকাংশ রোগ নির্ণয় করা হয় জিভ দ্বারা। আর অধিকাংশ ঝামেলা বাঁধে লম্বা ভিজ দ্বারা।

> পক্ষান্তরে অল্প কথা বলা জ্ঞানীর লক্ষণ। চুপ থাকলে আহমককেও জ্ঞানী মনে হয়।

> আর জেনে রেখো, যার মুখে জ্ঞানের লাগাম আছে, লোকে তাকেই নেতা নির্বাচন করে।

> শেখ সা’দী বলেন, ‘কথা বলতে পারার জন্য মানুষ জন্ত-জানোয়ার থেকেও শ্রেষ্ঠ।
কিন্তু মানুষ যদি কথা ঠিক না বলে, তাহলে সে জানোয়ার থেকে নিকৃষ্ট নয় কি?’
তা বলে হক বলতে চুপ থাকলে হবে না, নোংরা কাজ হতে দেখে বাধা না দিয়ে চুপ থাকলে চলবে না।

> নীরব প্রতিবাদও ফলপ্রসূ । কিছু নীরবতা আছে, যা কথা বলার চেয়েও অধিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়াশীল। নীরবতা মঙ্গল না করতে পারে, কিন্তু ক্ষতি করে না।

> যে বেশী কথা বলে, তার ভুল বেশী হয়। যার ভুল বেশী হয়, তার লজ্জা কমে যায়। যার লজ্জা কমে যায়, তার সংযম কমে যায়। আর যায় সংযম কমে যায়, তার হৃদয় মারা যায়।

> যে বেশি কথা বলে, সাধারণতঃ সে বেশী মিথ্যা বলে। যেমন যে নিজের গল্প ও বরাই বেশী করে, সেও বেশি মিথ্যা বলে।

> আল্লাহ আমাদের দেহে একটি মাত্র জিভ এবং দু-দু’টো কান দিয়েছেন। যাতে আমরা কম করে বলি এবং বেশী করে শুনি। শোনাতে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, আর কথা বলাতে অনুতাপ সৃষ্টি হয়।

জ্ঞানী_বোনটি_আমার!
যা তুমি দেখাও, তার চেয়ে বেশী তোমার থাকা উচিত। যা তুমি জান, তার তুলনায় কম কথা বলা উচিত। যা জানো তার সবটা বলা জরুরি নয়; কিন্তু যা বল তার সবটা জানা জরুরী।

বুদ্ধিমতী_বোনটি_আমার!
মানুষের জ্ঞান বাড়লে কথা কমে যায়। ও কথা অবশ্যই ভুলবে না।

> ন্যায় বা হক কথা হলেও সব কথা সব সময় বলা চলে না। বললে বিপদ হয়, শাস্তি পেতে হয়, ক্ষতি হয় দ্বিগুণ। যেমন কোন যুবক-যুবতীকে স্বচক্ষে উপরি-উপরি ব্যভিচারে আলিপ্ত দেখলেও সে কথা কাজী বা অন্য কারো কাছে বলা চলে না। ৪ সাক্ষী উপস্থিত করে তবেই বলতে হয়। নচেৎ অপবাদের চাবুক খেতে হয়।

> ‘স্পষ্ট কথায় কষ্ট নেই, কথাটাও ঠিকই। কিন্তু সর্বত্র স্পষ্ট কথা বলাও জ্ঞানীর কাজ নয়, আহমকের কাজ। আর কিছু কথা আছে, যা স্পষ্ট করে বললে অশ্লীল হয়ে যায়।

> কারো কাছে সরল হওয়া ভালো, কিন্তু তাই বলে সব কথা সবার কাছে বলা ভালো নয়।

> মহিলা মজলিসে কিছু কথা ফিসফিসিয়ে বলা হয়। গোপন কথাআর কি হবে?
একদা এক ব্যক্তি আব্দুল বিন মারওয়ানের এসে গোপনে কিছু বলতে চাইল। তিনি বললেন, ‘তুমি আমার প্রশংসা করবে না। কারণ আমি নিজের ব্যাপারে খুব ভালো জানি। মিথ্যা বলবে না। কারণ মিথ্যুকের কোন রায় নেই। আর আমার কাছে কারো বিষয় গীবত করবে না। লোকটি বলল, “হে আমীরুল মু’মিনীন! তাহলে আমাকে চলে যেতে অনুমতি দিন।”

> মঙ্গল_রয়েছে_৩টি_কর্মেঃ
কথায়, দৃষ্টিতে ও নীরবতায়। কিন্তু,
আল্লাহর যিকর ছাড়া প্রত্যেক কথা বৃথা,
উপদেশ গ্রহন ব্যতীত দৃষ্টি-বিবেচনা বৃথা এবং
কোন সুচিন্তা ব্যতীত নীরবতা বৃথা।

কথা হল ওষুধের মত। পরিমাণ মত ব্যবহার করলে তুমি উপকৃত হবে, বেশী ব্যবহার করলে ধ্বংস হবে।

আর সতর্ক হও! অসভ্যের সাথে কথা বলার মানেই হল, নিজের সম্ভ্রম নষ্ট করা।
ছোটলোকদের কথায় জবাব দিও না’ নচেৎ তোমার মান মাঠে-ঘাঠে যাবে।
পরীলে ভেড়ার শৃঙ্গে ভাঙ্গে হীরার ধার।

> বিষ্ঠায় ঢেলা মারলে নিজের গায়ে ছিটকে পড়ে। (নিজেকেই গন্ধ লাগে)

> আর ভজাভজি করতে যেয়ো না। কারণ, ‘ছেদো কথা মাথার জটা, খুলতে গেলেই লাগে জটা।’ তার চেয়ে সহ্য করে নাও বোনটি আমার!

> কত শেওড়া গাছের পেত্মী তোমার বাড়িতে এসে কত রকম পচা কথা বলবে, তুমি তাদেরকে পাত্তা দিও না। তবে এমন কথাও বলো না, যাতে সে তোমার মাথায় সওয়ার হয়ে বসে।

> শত সাবধান থেকো কুটনী জাতের মেয়ে থেকে! যারা ভালো লোকের ঘরেও পাপ ঢুকিয়ে দেয়। ‘সাপের বাসায় ভেকেরে নাচায়, কেমন কুটিনী সে বা?’

> আর শাড়ী-সর্বস্ব নারী হয়ো না তুমি। মজলিসে তোমার পৃথক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাক। তুমি যে আদর্শ মহিলা, তা তোমার কথা বার্তায় ফুটে উঠুক। আতর-ওয়ালার কাছে বসলে অনুরূপ খোশব-ওয়ালার মত । আর খবরদার! কামারের মত হয়ো না, যার কাছে বসলে কাপড় পুড়ার ভয় থাকে অথবা ধোঁয়াতে দম বন্ধ হতে চায়।

> কোন কোন মজলিসে হাদীস-কুরআন, আলেমা-উলামা, দাড়ি ও পর্দা নিয়ে ব্যঙ্গ- বিদ্রূপ হয়। পারলে তার প্রতিবাদ করো। না পারলে সে মজলিস ত্যাগ করো।

মহান_আল্লাহ_বলেন,

তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দূরে স্প্রে পড়, যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে, তাহলে স্মরণ হওয়ার পরে তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না।(সূরা আনাআম-আয়াত ৬৮)

তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর কোন আয়াত প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত না হয় তোমরা তাদের সাথে বসো না; নচেৎ তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ কপট ও অবিশ্বাসী সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন। (সূরা নিসা-আয়াত ১৪০১)

আদর্শ_বোনটি_আমার! তোমার বাড়িতে মহিলাদের মজলিসকে আল্লাহর যিকরের মজলিস করে গড়ে তোলো। নচেৎ জেনে রেখো, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “যে সম্প্রদায় এমন মজলিস থেকে উঠে যায়, যেখানে তারা আল্লাহর যিকর করে না, আসলে তারা মৃত গাধার মত কোন জিনিস থেকে উঠে যায়। আর (এর জন্য) আল্লাহর তরফ থেকে তাদের উপর পরিতাপ আসবে।”(আবূ দাঊদ ৪৮৫৫ নং)

বইঃ দাম্পত্য জীবনে সমস্যাবলির ৫০টি সমাধান
পাবেনঃ ইসলামহাউস পাবলিকেশন্স
প্রচারে আন-নূর ইসলামীক ম্যারেজ মিডিয়া

পানিপূর্ন ছিদ্রযুক্ত বালতি হতে সাবধান হউন?

 পানিপূর্ন ছিদ্রযুক্ত বালতি হতে সাবধান হউন?

আপনি কি জানেন পানিপূর্ন ছিদ্রযুক্ত বালতি কি?
তাহলে জেনে নিন পানিপূর্ন ছিদ্রযুক্ত বালতি সম্পর্কে।
.
১) বোরকা হিজাব সব পড়েছেন, কিন্তু উত্তেজক পারফিউম ও ঠোট মুখে মেকাপ ;
— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।
.
২) সুন্নাহর অনুসারী, খুব লম্বা সুন্দর দাড়ি রেখেছেন, কিন্তু টাকনুর নীচে কাপড় পড়েন;
— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।
.
৩) ৫ ওয়াক্ত সলাত সময়মত আদায় করেন, কিন্তু খুশুখুজু নেই;
— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।
.
৪) মানুষের প্রতি দয়ালু ও নম্র ব্যবহারকারী, কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সহিত সর্বদা রুক্ষ ব্যবহার করেন;
— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।

৫) মেহমানদের খুব সুন্দরভাবে আপ্যায়ন করেন, কিন্তু মেহমান চলে গেলে পিছনে সমালোচনা করেন;
— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।
.
৬) গরীবদেরকে অনেক দান সদকা করেন, কিন্তু এরা আপনার কটু কথা ও দমন পীড়ন থেকেও রক্ষা
পায় না;
— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।
.
৭) সবসময় তাহাজ্জুদ সলাত আদায় করেন, নফল ও সুন্নত সাওম রাখেন, প্রতিদিন কুরআন পড়েন, কিন্ত পরিবারকে সময় দিতে অপারগ হন, বঞ্চিত করেন, পরিবারের বন্ধন চিহ্ন করেন;
— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।.

৮) সাওম রাখেন এবং ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্টে সবর করেন, কিন্তু মিথ্যা শপথ করেন, মানুষকে অপমান করেন এবং অভিশাপ দেন;

— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।

.
৯) অন্যকে সাহায্য করছেন, অথচ প্রতিদান আশা করছেন তাদের কাছ হতে এবং প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ’র সন্তুষ্টির জন্য করেন নাই;
— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।
.
১০) ফেবু, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে পোষ্ট দিচ্ছেন, হাজার ফ্রেন্ড ও ফলোয়ার আছে, কিন্তু এগুলো করছেন খ্যাতির জন্য, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নহে;
— মানে, পানিপূর্ন বালতিতে ছিদ্র আছে।।
.
পূন্যময় কাজে পানিপূর্ন বালতির ন্যয় ছিদ্র রাখবেন না। তাহলে, আপনার সকল কষ্ট শ্রম সম্পদ ও পূন্য বিফলে যাবে এবং শিরক কুফরী
জাতীয় কাজে আক্রান্ত হবে।।
………………………………………
হে আল্লাহ, আমাদের সকল কর্মকাণ্ড যেন আপনার সন্তুষ্টির জন্যই হয় এবং অহংকার, হিংসা, মন্দ জিনিষ ও শয়তানী ওয়াস-ওয়াসা হতে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।।
আমীন!!!

{{{***সংগৃহীত এবং পরিমার্জিত ও সংযোজিত***}}}

আমরা কেমন মুসলিম?

 আমরা জানি দাড়ি কেটে ছোট করে ফেলা হারাম,

?তারপরও দাড়ি কেটে ফেলি ।

?আমরা জানি, (ছেলেদের) টাখনুর নিচে কাপড় পড়া হারাম,
?তারপরও টাখনুর নিচে কাপড় পড়ি ।

?আমরা জানি নামাজ না পড়লে মুসলিম থাকা যায় না (কুফুরী),
?তারপরও নামায পড়ি না ।

?আমরা জানি পর্দা না করা হারাম,
?তারপরও পর্দা করি না ।

?আমরা জানি, সিনেমা দেখা হারাম,
?তারপরও সিনেমা দেখি ।

?আমরা জানি, গান শুনা হারাম,
?তারপরও গান শুনি ।

?আমরা জানি নেশাজাতীয় দ্রব পান করা হারাম,
?তারপরও আমরা নেশাজাতীয় দ্রব পান করি ।

?আমরা জানি বিয়ের আগে ছেলে-মেয়েদের অবৈধ সম্পর্ক হারাম,
?তারপরও ছেলে-মেয়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করি ।
?আমরা জানি ইসলামের নাম দিয়ে মিথ্যা পীর মুরীদির ব্যাবসা হারাম,
?তারপরও কেন মিথ্যা বলি ।

?আমরা জানি (সময় নষ্ট করে  আন্তর্জাতিক) খেলা দেখা হারাম,
?তারপরও খেলা দেখি ।

?আমরা জানি, বেগানা নারীর দিকে তাকিয়ে থাকা হারাম,
?তারপরও বেগানা নারীদের দিকে তাকিয়ে থাকি ।

❎আমরা জানি, এসব কিছু হারাম । এর পরিণতি জাহান্নাম ।
❎এরকম অসংখ্য পাপ, আমরা প্রতিদিন জেনে-শুনেই করছি ।

?ও.. মুসলিম
⏩আমরা কেমন মুসলিম?
▶এগুলো কি কোনো প্রকৃত মুসলিম এর বৈশিষ্ট্য হতে পারে?
⏩এজন্যই কি আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন?

?আমরা জেনে শুনে ইচ্ছা করে এসব পাপ করার পরও কিভাবে জান্নাতের আশা করি?
?অথচ এসব পাপের পরিণতি জাহান্নাম ।

?এসব পাপের ফলে যদি আমাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়, তাহলে কি অন্যায় হবে?
কখনও না । এটাই উচিত শাস্তি ।

?আমরা জাহান্নামের গাড়িতে ওঠে জান্নাতে যাওয়ার আশা করছি । আজব ব্যাপার !

⭕ও.. মুসলিম ভাই-বোনেরা…
?এখনও কি নামায পড়বেন না?
?এখনও কি পাপ বর্জন করবেন না?
?এখনও কি পাপ থেকে ফিরে আসবেন না?
?আমরা কি জাহান্নামে যেতে চাই?
?আমরা কি জান্নাতে যেতে চাই না?

?তাহলে ভাই-বোনেরা, আসুন,
✔আল্লাহর কাছে তওবা করে
✔আজ থেকেই আল্লাহর হুকুম মেনে চলি । ।
✔জান্নাতের পথে চলি ।
✔পাপ বর্জন করে নেক আমল শুরু করি ।

?আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“যে দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে যাবে।”
[সূরা আর-রূম, আয়াত ১২]

“মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”
[সূরা আন-নূর, আয়াত ৩১]

“তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট (পাপের জন্য) ক্ষমা প্রার্থনা করো অতঃপর তাঁর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) করো”
[সূরা হুদ, আয়াত ৩]

↩মৃত্যু আসার আগেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন,,,⁠⁠⁠⁠

ড. বিলাল ফিলিপ্স এর কিছু অসাধারণ উক্তি

 পড়েন আর নিজের জীবনের সাথে সেট করেন। আলো আসবেই…

* ‘আপনার জীবনের জন্য আপনার পরিকল্পনা থেকে আল্লাহর পরিকল্পনাই উত্তম।
* ‘যেখানে আপনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছেন, সেখানে চিন্তিত হওয়ার কোন মানে হয় না । প্রয়োজন শুধু একটু ধৈর্যধারণ করা…।’
* ‘আপনি কি মনে করছেন এমন কেউ নেই যাকে আপনার ব্যক্তিগত কথা ও দুশ্চিন্তাগুলো শেয়ার করবেন? তাহলে আপনি শ্রেষ্ঠ শ্রবণকারীর আল্লাহ্ তা’আলাকেই ভুলে গেছেন।’
* ‘আপনি যা ই করেন না কেন এই দুনিয়ার মানুষদের সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। তাই দুনিয়ার সকল মানুষদের খুশি করার মিথ্যা আশা ছেড়ে তাদের সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করতে চেষ্টা করুন।’
* ‘ফর্সা আর সৌন্দর্য কখনোই এক কথা নয়। ফর্সা কেবল চামড়ার মধ্যে ফুটে উঠলেও সৌন্দর্য ফুটে উঠতে প্রয়োজন আল্লাহর আনুগত্য ও উত্তম চরিত্র।’
* ‘আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত প্রতিটা বিষয়ই আপনার প্রতি সুবিচার। প্রয়োজন শুধু আপনাকে তাঁর প্রতি আস্থাশীল ও নির্ভরশীল হওয়া এবং তাঁরই উপর ভরসা করা।’
* ‘আপনি যত বেশি আল্লাহর উপর ভরসা করবেন, আপনার পক্ষে ধৈর্যধারণ ততোবেশি সহজ হবে।’
* ‘একাকীত্ব সবসময়ই একটু বিরক্তিকর মনে হয় । তবে যে তাঁর প্রভুর (আল্লাহর) আনুগত্য করে করে সে কখনো একাকীত্ব অনুভব করে না।’
* ‘মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণের চেয়ে মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করতে পারাটাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।’
* ‘এমন কাউকে ভালোবাসা উচিত নয় যে আল্লাহকেই ভালোবাসতে জানেননা।’
* ‘আমরা অনেক সময় ধরে কোন মানুষকে প্রভাবিত করেও তার খুব কমই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি, অথচ আমরা এমন এক সত্তাকে (আল্লাহকে) ভুলে থাকি যে কিনা সবসময়ই আমাদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।’
* ‘সবচেয়ে কষ্টসাধ্য বিষয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এমন কিছু বর্জন করা যা আপনি ভালোবাসেন। তবে মনে রাখবেন আল্লাহ সবসময়ই কোন কিছুর পরিবর্তে এর চেয়ে ��

যুলুমের পরিণাম ভয়াবহ

 মাসিক আত-তাহরীক। এপ্রিল, ২০১৭।

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

বিশ্বব্যাপী যুলুম বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবাধিকার এখন কেবল শ্লোগানে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় অধিকার, সত্য বলার অধিকার, জান-মাল-ইয্যতের অধিকার, বড়-ছোট ভেদাভেদ, পুরুষ ও নারীর ভেদাভেদ ইত্যাদি সব ধরনের মানবিক মূল্যবোধ এখন ভূলুণ্ঠিত। সর্বত্র যেন চলছে মত্ত হস্তীর লড়াই। বৃহৎ শক্তি অর্থ বৃহৎ অস্ত্রশক্তির মালিক। ধনী রাষ্ট্র অর্থ মুষ্টিমেয় ধনীদের রাষ্ট্র। গরীবেরা গণনার বাইরে। যেকোন অজুহাতে যেকোন রাষ্ট্রে বোমা ফেলে নিরীহ মানুষ হত্যা করাই এখন গণতন্ত্র উদ্ধারের বড় মাধ্যম। বিশ্বায়ন ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে দেশে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ ও নির্যাতন এখন অঘোষিত আইনে পরিণত হয়েছে। এমনকি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার নীল নকশায় ক্ষমতার বদল হয়; ভোটাভুটি নাকি আইওয়াশ মাত্র। যুলুম করে শক্তিমানরা। তারা ব্যক্তি, দল, সরকারী প্রশাসন বা আদালত যে কেউ হ’তে পারে। আর যালেমদের বাঁচার হাতিয়ার হ’ল মিথ্যাচার। যে যত বড় যালেম, সে তত বড় মিথ্যাবাদী। রাষ্ট্রীয় নির্যাতনে বিশ্বব্যাপী দুর্নাম কুড়িয়েছেন জার্মানীর চ্যান্সেলর ও ফুয়েরার এডলফ হিটলার (১৮৮৯-১৯৪৫ খৃ.) এবং মিথ্যা প্রচারে দুর্নাম কুড়িয়েছেন তার তথ্যমন্ত্রী ও প্রচার বিভাগের প্রধান ড. জোসেফ গোয়েবল্স (১৮৯৭-১৯৪৫ খৃ.)। একটা জাজ্বল্যমান মিথ্যাকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তার কৌশল ছিল ‘একটি মিথ্যা শতবার বললে তা সত্যে পরিণত হয়ে যায়’। প্রধানতঃ তারই অপপ্রচারে জার্মানীতে লাখ লাখ ইহূদীর জীবন নাশ হয়েছিল। যদি বলি, এ যুগে ‘ইসলাম’কে টার্গেট বানানো হয়েছে, তাহ’লে সম্ভবতঃ ভুল হবে না।
হিটলার ছিলেন অষ্ট্রিয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ। যিনি সোস্যালিষ্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি (সমাজতান্ত্রিক জার্মান শ্রমিক দল) বা ‘নাৎসী’ পার্টির নেতা ছিলেন। ১৯২১ সালে হিটলার উক্ত দলের নেতা হন। ১৯২৪ সালে গোয়েবল্স এ দলের সদস্য হন। বিদ্বেষ পূর্ণ বক্তৃতা ও ইহূদী বিরোধী তৎপরতার জন্য তিনি খ্যাত ছিলেন। হিটলার ৩০শে এপ্রিল রাজধানী বার্লিনে নিজ সদ্য বিবাহিত স্ত্রীসহ বাংকারে আত্মহত্যা করার পরদিন ১লা মে গোয়েবল্স সস্ত্রীক আত্মহত্যা করার আগে নিজের ৬ সন্তানকে হত্যা করেন। এভাবেই এই দুই কুখ্যাত ব্যক্তির নির্মম পরিণতি হয়। হিটলারের পুঁজি ছিল মোহনীয় বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ, ইহূদী বিদ্বেষ ও সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা। সমগ্রতাবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কত্বের রাজনীতি ও শোষণমূলক রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ ছিল তার লক্ষ্য। অন্যদিকে গোয়েবল্সের কাজ ছিল হিটলারের যুলুমের পক্ষে জনমত ঠিক রাখা এবং সেজন্য নিত্য নতুন মিথ্যা রটনা করা। এ দু’জনকে সবাই ঘৃণা করলেও বাস্তবে তারাই পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিতে সবচেয়ে স্মরণীয় ও বরণীয় ব্যক্তি হয়ে আছেন।
মিথ্যা তথ্য, মিথ্যা বক্তব্য, মিথ্যা সাক্ষী, মিথ্যা রায়- এ সবই এখন ডাল-ভাত। হিটলারের মতই এযুগে ক্ষমতারোহনের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হ’ল মিথ্যা প্রচারে ভুলিয়ে বাক্স ভরে সত্য-মিথ্যা ভোট নিয়ে নেতা হওয়া। এরপর গণবিরোধী হাযারো দুষ্কর্ম করা। কথিত ৬০ লাখ ইহূদীকে হত্যা করেও হিটলার ছিলেন জার্মানীর একচ্ছত্র নেতা। পুঁজি ছিল বর্ণবাদী মিথ্যাচার। এ যুগেও যেন নেওয়া হয়েছে ইসলাম বিরোধী মিথ্যাচার। যখন যাকে টার্গেট করা হচ্ছে, তখন তাকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। তারপর গুম। তারপর যেকোন এক রাতে হত্যা করে পরদিন পত্রিকায় বন্দুক যুদ্ধের নাটক শুনানো হচ্ছে। অথবা তিন-চারদিন থানায় রেখে পরদিন বলা হচ্ছে, এই নামের কেউ থানায় ছিল না। ব্যস, একেবারেই হাওয়া। অথবা বহুদিন পর হঠাৎ একদিন সাংবাদিকদের ডেকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, লোকটি অমুক জঙ্গী দলের সদস্য। অতঃপর মিথ্যা মামলা দিয়ে বা অন্যদের কোন মামলায় জড়িয়ে দিয়ে আদালত ঘুরিয়ে কারাগারে পাঠানো এখন নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। বিচারের আগেই রায় শেষ। পরিবার, এলাকাবাসী বা সংগঠনের লোকেরা তার পক্ষে কথা বলতে গেলে তাদের ভয় দেখানো হয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একেবারেই চুপ। সবজান্তা আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতেই দেশকে জঙ্গী দেশ বলে পরিচিত করানো হচ্ছে। ফলে কমে গেছে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ। নিরপরাধ মযলূমদের পক্ষে সমাজ, থানা, আদালত কেউ মাথা তোলে না। এমনকি কথিত আইনজীবীরা একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে, অমুক ব্যক্তি বা দলের সদস্যের পক্ষে আইনী সহায়তা দেওয়া যাবে না। ভাগ্যিস এখনও ডাক্তাররা এমন সিদ্ধান্ত নেননি যে, অমুক দলের রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।
যুলুমের উৎস হ’ল হিংসা ও অহংকার এবং বাহন হ’ল মিথ্যাচার। এই পাপে যখন কেউ ডুবে যায়, তখন সে হেন অপকর্ম নেই যে করতে পারে না। অজুহাত সৃষ্টির জন্য যালেমের উর্বর মস্তিষ্কে কোন তথ্যের অভাব হয় না। গোপাল ভাঁড়ের গল্প এদেশে খুবই প্রসিদ্ধ। ‘নদীর কিনারে একটা হরিণ শাবক পানি পান করছে। বনের রাজা বাঘ তাকে টার্গেট করল। কাছে এসে বলল, তোর এতবড় সাহস পানি ঘোলা করছিস। হরিণটি বলল, আমি তো পানিতেই নামিনি। ঘোলা করলাম কিভাবে? রাজা বলল, তুই করিসনি তোর বাপ করেছে। বলেই তার ঘাড় মটকালো’। এটাই হ’ল রাজার ন্যায় বিচার। এ যুগে এর দৃষ্টান্ত এখন সর্বত্র। যালেমরা সর্বদা প্রশংসা কুড়াচ্ছে। মযলূমরা নিভৃতে গুমরে মরছে। কিন্তু এটাই কি শেষ? বিগত যুগের নমরূদ-ফেরাঊন এবং আধুনিক যুগের হিটলার-গোয়েবল্স শত যুলুম করেও পৃথিবীতে স্থায়ী হ’তে পারেনি। কেননা আল্লাহর নীতি হ’ল একজনকে দিয়ে অন্যজনকে প্রতিহত করা (বাক্বারাহ ২৫১)। কিন্তু যালেমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এই যে, তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না।

যালেমদের পরকালীন পরিণতি :

(১) ক্বিয়ামতের দিন তারা আল্লাহর সামনে হাত কামড়াবে। আল্লাহ বলেন, ‘যালেম সেদিন নিজের দু’হাত কামড়ে বলবে, হায়! যদি (দুনিয়াতে) রাসূলের পথ অবলম্বন করতাম’। ‘হায় দুর্ভোগ আমার! যদি আমি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম’। ‘আমার কাছে উপদেশ (কুরআন) আসার পর সে  আমাকে পথভ্রষ্ট করেছিল। বস্ত্ততঃ শয়তান মানুষের জন্য পথভ্রষ্টকারী’ (ফুরক্বান ২৭-২৯)।

(২) মযলূমদের প্রতিশোধ নেওয়ার পর নিঃস্ব অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। রাসূল (ছাঃ) একদিন বলেন, তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? সবাই বলল, যার কোন ধন-সম্পদ নেই। তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে ক্বিয়ামতের দিন ছালাত, ছিয়াম, যাকাত নিয়ে হাযির হবে। অতঃপর লোকেরা এসে অভিযোগ করে বলবে যে, তাকে ঐ ব্যক্তি গালি দিয়েছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, তার মাল গ্রাস করেছে, হত্যা করেছে, প্রহার করেছে। অতঃপর তার নেকী থেকে তাদের একে একে বদলা দেওয়া হবে। এভাবে বদলা দেওয়া শেষ হবার আগেই যখন তার নেকী শেষ হয়ে যাবে, তখন বাদীদের পাপ থেকে নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে ঐ ব্যক্তিকে জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হবে’ (মুসলিম হা/২৫৮১)। তিনি আরও বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই হকদারকে তার হক আদায় করে দেয়া হবে। এমনকি শিংওয়ালা ছাগল যদি শিংবিহীন ছাগলকে গুঁতো মেরে কষ্ট দিয়ে থাকে, সেটারও বদলা নেওয়া হবে (মানুষকে ন্যায়বিচার দেখানোর জন্য)’ (মুসলিম হা/২৫৮২)।

(৩) অহংকার চূর্ণ করে নিকৃষ্ট পিপীলিকার ন্যায় উঠানো হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের দিন অহংকারীদের পিপীলিকার ন্যায় জড়ো করা হবে। যদিও তাদের আকৃতি হবে মানুষের। অপমান তাদেরকে চতুর্দিক থেকে বেষ্টন করে নিবে। অতঃপর তাদেরকে ‘বূলাস’ নামক  জাহান্নামের কারাগারের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে। যেখানে আগুনের লেলিহান শিখা তাদের উপর ছেয়ে যাবে। আর তাদেরকে পান করানো হবে জাহান্নামীদের দেহ নিঃসৃত ‘ত্বীনাতুল খাবাল’ নামক কদর্য পুঁজ-রক্ত’ (তিরমিযী হা/২৪৯২)। অতএব অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যাকারী ও মিথ্যা মামলা দানকারীরা সাবধান! (স.স.)।⁠⁠⁠⁠

Translate