Monday, March 1, 2021

বুখারী শরীফের ১০ টি scientific আমল ও ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস আমল করার মত!

 

সহীহ বুখারী শরীফের ১০ টি বৈজ্ঞানিক হাদিসঃ

১)নবীজি বলেন,”জ্বর আসে জাহান্নামের তাপ
থেকে!সুতরাং,জ্বর কে পানি দ্বারা প্রশমিত কর!
(সহীহ বুখারী,, খন্ড: ৭:অধ্যায় ৭১:হাদিস ৬২১)
.২)নবীজি বলেন,”যদি কারো পানিতে মাছি পড়ে
যায়,তবে মাছিটিকে পানিতে চুবিয়ে তারপর পান
কর!কারণ,মাছির এক ডানায় আছে রোগ,অন্য ডানায়
আছে প্রতিকার! “(সহী বুখারী, 4:54:537)
৩)নবীজি বলেন,কালোজিরা আস-সামস ব্যতিত
সর্বরোগের ঔষধ! আয়েশা জিজ্ঞেস করেন,আস-
সামস কি?নবীজি উত্তরে বলেন,মৃত্যু!(বুখারী
৭:৭১:৫৯১)
৪)নবীজি বলেন,”যারা রোপ্যপাত্রে পানি পান
করে,তারা জাহান্নামের আগুন দ্বারা তাদের
পেটপুর্ণ করে! (বুখারী 7:69:538)
৫) নবীজি বলেন,”জাহান্নামের আগুণ আল্লাহর
কাছে অভিযোগ করল,”হে আমার প্রতিপালক,আমার
বিভিন্ন অংশ পরস্পরকে খেয়ে ফেলছে!সুতরাং,তি
নি জাহান্নামকে দুইবার শ্বাস নেয়ার অনুমতি
দিলেন,একটিটি শীতকালে (প্রশ্বাস),অন্যটি
গ্রীষ্মকালে (নিঃশ্বাস)!এবং এটাই (গ্রীষ্মকলে)
প্রখর গরম ও (শীতিকালে) তীব্র শীতের কারণ!
(বুখারী 4:54:482)
৬)নবীজি বলেন,”আল্লাহ হাচি পছন্দ করেন এবং হাই
তোলা অপছন্দ করেন!(বুখারী 8:73:242)
৭)নবীজি বলেন,”ভাল স্বপ্ন আসে আল্লাহ থেকে আর
দুঃস্বপ্ন আসে শয়তান থেকে!কেউ যদি দুঃস্বপ্ন
দেখে তার উচিত আল্লাহর কাছে শয়তান হয়ে আশ্রয়
চাওয়া ও বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করা,কারণ এতে
দুঃস্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা।(বুখারী
9:87:115)
৮)আব্দুল্লাহ বর্ণিত:এক লোক নবীজির কাছে এসে
বলল,সে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়েছে এবং নামায আদায়
করতে পারেনি!!নবীজি বললেন:শয়তান তার কানে
প্রস্রাব করে দিয়ে চলে গিয়েছে!(বুখারী 2:21:245)
৯)নবীজি বলেন,”তোমরা সুর্যদ্বয় ও সুর্যাস্তের সময়
নামায আদায় করোনা,কারণ সুর্য শয়তানের মাথার
দুইপ্রান্তের মধ্যখান দিয়ে উদিত হয়(বুখারী৪:৫৪:৪৯৪)
১০) নবীজি বলেন,,”যে ব্যক্তি প্রতি সকালে ৭ টি
আজওয়া খেজুর খায়,তার ওপর বিষ ও জাদু কোন
প্রভাব ফেলতে পারেনা!(বুখারী ৭:৬৫:৩৫৬)।।
৪০ হাদিস, নিজে পড়ুন, অন্যকে পড়ার সুযোগ করে
দেন।
✍১। আমার কথা (অন্যদের কাছে) পৌছিয়ে দাও,
তা যদি একটি আয়াতও হয়।
(সহীহ বুখারীঃ ৩২১৫)
✍২। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তির
মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটকুই যথেষ্ঠ যে, সে যা
শোনে (যাচাই ব্যতীত) তাই বলে বেড়ায়।
(সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দামা, অনুচ্ছেদ -৩)
✍৩।রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার
প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে।
(দেখুন সহীহ বুখারীঃ ১০৭,১০৯,১০৯,১১০,১১১ সহীহ
মুসলিম, মুকাদ্দামা)
✍৪।পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ্ সন্তুষ্ট আর
পিতা-মাতার অসন্তুষ্টে আল্লাহ্ অসন্তুষ্ট।
(তিরমিযী, সনদ হাসান, মিশকাত হা/৪৭১০)
✍৫। পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করলে পঞ্চাশ
ওয়াক্ত সলাতের সওয়াব পাওয়া যায়
(সহীহ বুখায়, মুসলিম ও তিরমিযীঃ ২১৩)
✍৬। ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মাঝখানে সলাত
ছেড়ে দেওয়াই হচ্ছে ব্যবধান।
(সহীহ মুসলিমঃ ১৫৪,১৫৫, মিশকাত)
✍৭। ক্বিয়ামতের দিন বান্দার কাজসমূহের মধ্যে
সর্বপ্রথম সলাতের হিসাব নেওয়া হবে।
(সহীহ তিরমিযীঃ ৪১৩, ইবনু মাযাহঃ ১৪২৫,১৪২৬)
✍৮। যে ব্যক্তি ফজর ও আসরের নামায আদায়
করবে সে জান্নাতে যাবে।
(সহীহ বুখারীঃ ৫৪৬)
✍৯। আল্লাহ্ তা’আলার নিকট প্রিয় ঐ আমল যা
নিয়মিত করা হয় যদিও তা অল্প হয়।
(সহীহ বুখারীঃ ৪১,৬০২০)
✍১০। যে ব্যক্তি (পুরুষ) পায়ের টাখনুর নিচে কাপড়
ঝুলিয়ে পরবে, সে জাহান্নামী।
(সহীহ বুখারীঃ৫৩৭১, মিশকাত, হা/৪১২৫)
✍১১। কালিজিরায় মৃত্যু ছাড়া আর সকল রোগের
চিকিৎসা রয়েছে।
(বুখারী, হা/৫২৮৬ ও মুসলিম)
✍১২। নবী করীম (সাঃ) মিষ্টি ওমধু খুব ভালো
বাসতেন।
(বুখারী, হা:৫২৮০)
✍১৩। যারা আমার সুন্নতের প্রতি বিরাগ পোষন
(অনিহা প্রকাশ) করবে, তারা আমার উম্মতের
অন্তর্ভূক্ত নয়।
(সহীহ বুখারীঃ ৪৬৯৭)
✍১৪। যে ব্যক্তি বিদআত সৃষ্টি করবে ও আশ্রয়
দিবে তার উপর আল্লাহ্ তা’আলার, ফেরেশতা ও সকল
মানব সম্প্রদায়ের লানত ।
(সহীহ বুখারীঃ ৬৮০৮)
✍১৫। যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ ঈমান আছে,
সে জাহান্নামে যাবে না। আর যার অন্তরে সরিষা
সমপরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে যাবে না।
(মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮)
✍১৬। যে ঘরে কুকুর ও (প্রাণীর) ছবি থাকে,সে ঘরে
রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
(সহীহ বুখারীঃ ২৯৯৮, ৫৫২৫, মিশকাত হাঃ৪২৯৮)
✍১৭। তিন ব্যক্তির দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্
তাদের দিকে করুণার দৃষ্টি দিবেন না ও তাদের জন্য
কঠিন শাস্তি- (ক) গঁিটের নিচে কাপড় পরিধানকারী
পুরুষ (খ) খঁোটাদানকারী (গ) মিথ্যা কসমে পণ্য
বিক্রয়কারী।
(মুসলিম, মিশকাত হা/২৬৭৩)
✍১৮। “যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ জিহাদ করেনি
এমনকি জিহাদের আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেনি, সে
মুনাফিকের ন্যায় মৃত্যুবরণ করল। ”
(সহীহ মুসলিমঃ ৪৭৭৯, নাসায়ীঃ ৩০৯৯)
✍১৯। আত্নীয়ের সাথে ভালো ব্যবহার করলে
রিযিক ও হায়াত বৃদ্ধি পায়।
(সহীহ বুখারীঃ ৫৫৫৯,৫৫৬০)
✍২০। কেউ সওয়াল থেকে পবিত্র থাকতে চাইলে
আল্লাহ্ তাকে পবিত্র রাখেন। যে অমুখাপেক্ষী
থাকতে চায়, আল্লাহ্ তাকে অমুখাপেক্ষী রাখেন
এবং যে ধৈর্য ধারণ করতে চায়, আল্লাহ্ তাকে তাই
দান করেন।
ধৈর্যের চায়ে অধিক ব্যাপক কিছু দান করা হয়নি।
(সহীহ বুখারী, হা/১৪৬৯, সহীহ মুসলিম , সহীহ আবু দাউদ,
হা/১৬৪৪)
✍২১। বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে (সত্তর
হাজার) ওসব লোক যারা অশুভ অমঙ্গল চিহ্ন মানে
না,যারা ঝাড়-ফুক করায় না, যারা মন্ত্রতন্ত্রের ধার
ধারে না এবং আগুনে পোড়া লোহার দাগ লাগায় না ;
বরং সদা সর্বদা তাদের পরোয়ারদেগারের উপর পূর্ণ
ভরসা রাখে।
(সহীহ বুখারী, হাদিস ৫৩৪১,৬২৮,৬০৯৯)
✍২২। যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে শহীদি মৃত্যু কামনা
করে, আল্লাহ্ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌছিয়ে
দিবেন, যদিও সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।
(সহীহ মুসলিমঃ ৪৭৭৮)
✍২৩। যখন কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের
অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু’আ করে, তখন ফেরেশতাগণ
বলেন, আমীন, এবং তোমার জন্যও অনুরুপ হবে।
(সহীহ মুসলিম ও আবু দাউদ,হাঃ১৫৩৪)
✍২৪। কোন ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য অশ্লীল
বাকচারী ও কৃপণ হওয়াই যথেষ্ট।
(আহমাদ, মিশকাত হা/৪৬৯৩)
✍২৫। রাসূল বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি ফরয
নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে
প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না।
(সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪, নাসায়ী, ইবনে হিব্বান,
ত্বাবরানী, আল্লামা আলবানী রহ. এর সিলসিলাতুল
আহাদিস আস-সহীহা খণ্ড দুই হাদিস নং-৯৭২)
✍২৬। যে ব্যক্তি উযূ করে এবং উযূকে পূরণাংগরুপে
সম্পন্ন করে, তারপর কালেমা শাহাদাত পাঠ করে,তার
জন্য জান্নাতের ৮(আট)টি দরজা খুলে যায় । সে যে
দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে ।
(সহিহ মুসলিমঃ ৪৬০, তিরমিযীঃ৫৫, ইবনু মাযাহঃ ৪৭০)
✍২৭। যে ব্যক্তি দিবসে ১ বার ও রাতে ১ বার
আন্তরিকতার সাথে সােয়্যদুল ইস্তেগফার পাঠ করে
যদি সে দিন বা রাতে মারা যায়, তাহলে ওই েব্যক্ত
জান্নাতি । ( সহিহ বুখারী-৫৮৬৭)
✍২৮। ওযু করার সময় কেউ যদি উত্তমরূপে ওযু করে
তাহলে তার শরীরের সব গুণাহ বের হয়ে যায়। এমনকি
তার নখের নিচের গুণাহও বের হয়ে যায়।
(সহীহ মুসলিমঃ ৪৮৪,৪৮৫)
✍২৯। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের
মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরান শিখে এবং
অন্যকে শিক্ষা দেয়।
(সহীহ বুখারীঃ ৪৬৬১,৪৬৬২)
✍৩০। কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি উচ্চ মর্যাদা
ফিরিশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরাআন
পড়ার সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে তিলাওয়াত
করে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।
(সহীহ বুখারী-৪৯৩৭, মুসলিম আবু দাউদ -১৪৫৪ ক্বাতাদাহ
হতে)
✍৩১। রাসূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমাদের
কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দু’রাকাত
সালাত আদায় করা ব্যতীত না বসে।” (বুখারী হা/৪৪৪ ,
১১৬৭ ; মুসলিম হা/ ৭১৪ ; তিরমিযী হা/ ৩১৬ ; নাসাঈ হা/
৭৩০ ; আবু দাউদ হা/ ৪৬৭ ; ইবনু মাজাহ হা/ ১১২৩ ; আহমাদ
হা/ ২২০১৭ , ২২০৭২ , ২২০৮৮ , ২২১৪৬ ;দারেমী হা/ ১৩৯৩)
✍৩২। রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ আমার প্রত্যেক
উম্মতের গুণাহ মাফ হবে, তবে যে গুণাহ করে বলে
বেড়ায়, তার গুনাহ মাফ হবে না।
(সহীহ বুখারীঃ ৫৬৪৩, সহীহ মুসলিমঃ ৭২৬৭)
✍৩৩। ইউসায়রাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী (সাঃ)
তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ তোমরা তাকবীর,
তাকদীস এবং তাহলীল এগুলো খুব ভালভাবে স্মরণে
রাখবে এবং এগুলোকে আঙ্গুলে গুনে রাখবে।
কেননা আঙ্গুলগুলোকে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং
এগুলোও সেদিন (ক্বিয়ামতে) কথা বলবে।
(আবু দাউদ, হা/১৫০১, আলবানীর মতে হাসান, তিরমিযী,
হা/৩৫৮৫, তিরমিযীর মতে গরীব, আহমাদ,৬/৩৭০)
✍৩৪। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন ব্যক্তির দোষ-
ত্রুটি গোপন রাখবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্
তা’আলাও তার ত্রুটি গোপন রাখবেন।
(সহীহ মুসলিমঃ ৬৩৯২,৬৪০৮,৬৩০৯)
✍৩৫। বিদাতী হাউজে কাওছারের পানি পাবে
না।
(সহীহ বুখারীঃ ৬১২৭,৬৫৭৩, মুসলিমঃ ৫৭৯৯,৫৮০২,৫৮০৩)
✍৩৬। যে ব্যক্তি নম্রতা ও সহনশীলতার বৈশিষ্ট্য
থেকে বঞ্চিত সে কল্যান থেকে বঞ্চিত
(সহীহ মুসলিমঃ ৬৪১২,৬৪১৩,৬৪১৪)
✍৩৭। মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট হল
‘দ্বিমুখী ব্যক্তি’। তারা এদের কাছে বলে এক কথা
আর ওদের কাছে বলে আর এক কথা।
(সহীহ বুখারীঃ ৬৬৯০)
✍৩৮। নেশা সৃষ্টি করে এমন যে কোন পানীয়
হারাম।
(সহীহ বুখারীঃ ৫২৫৮, সহীহ মুসলিমঃ ৫০৫১,৫০৫২,৫০৫৩,
৫০৫৪)
✍৩৯। রাসূল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি তার
দু’চোয়ালের মাঝখান(অর্থাৎ জিহ্ববা) এবং দ’পায়ের
মাঝখান (অর্থাৎ লজ্জাস্থান)- এর জামানত আমাকে
দিবে, আমি তার জান্নাতের জামিন হব।
(সহীহ বুখারীঃ ৬০৩০, মিশকাত হাঃ৪৬০১)
✍৪০। ঈমানের সত্তরের কিছু বেশী শাখার মধ্যে
সর্বোত্তম শাখা হচ্ছে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ‘বলা
এবং সাধারণ শাখা হচ্ছে চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক
বস্তু সরিয়ে দেয়া। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি
বিশেষ শাখা।
(সহীহ মুসলিমঃ ৬১)
“এখন সকলের দায়িত্ব হল প্রথমে সকল হাদিসের উপর
আমল করা,
আর অন্যের মাঝে পৌছে দেয়া তাই এখনই এটাকে
শেয়ার করে সাদকায়ে জারিয়ার সাওয়াব অরজন করুন।

বছরের শ্রেষ্ঠ 10 দিনে করণীয় 10 আমল।

 বছরের শ্রেষ্ঠ ১০ দিনে করণীয় ১০ আমলআল্লাহ তা‘আলা দয়ালু। তাই তিনি আপনবান্দাদের তওবার সুযোগ দিতেভালোবাসেন। তিনি চান বান্দারা ইবাদতেরমাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করুক। এ উদ্দেশ্যেতিনি আমাদের জন্য বছরে কিছু বরকতময় ওকল্যাণবাহী দিন রেখেছেন- যাতে আমলেরসওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। আমরাপরীক্ষার দিনগুলোতে সর্বোচ্চ চেষ্টাচালাই সবচে ভালো ফলাফল অর্জন করারজন্য। তবে কেন আখেরাতের জন্য এসবপরীক্ষার দিনগুলোতেও সর্বাধিক প্রচেষ্টাব্যয় করব না? এ দিনগুলোতে আমল করা তোবছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশিনেকী ও কল্যাণ বয়ে আনে। এমন দিনগুলোরমধ্যে উল্লেখযোগ্য যিলহজ মাসের এই প্রথমদশদিন। এ দিনগুলো এমন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামযেগুলোকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন বলেআখ্যায়িত করেছেন। তাতে আমলের প্রতিতিনি সবিশেষ উদ্বুদ্ধ করেছেন। এ দিনগুলোরশ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে শুধু এতটুকুই যথেষ্ট যেআল্লাহ তা‘আলা এর কসম করেছেন।যে কারণে এই দশ দিন বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন১ . আল্লাহ তা‘আলা এর কসম করেছেন: আল্লাহ তা‘আলা যখন কোনো কিছুর কসমকরেন তা কেবল তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাইপ্রমাণ করে। কারণ, মহা সত্তা শুধু মহাগুরুত্বপূর্ণ বিষয়েরই কসম করেন। আল্লাহতা‘আলা বলেন,‘কসম ভোরবেলার। কসম দশ রাতের।’ {সূরা আল-ফাজর, আয়াত : ১-২} আয়াতে ‘কসম দশরাতের’ বলে যিলহজের দশকের প্রতিই ইঙ্গিতকরা হয়েছে। এটিই সকল মুফাসসিরের মত।ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন,এ মতটিই সঠিক।২ এসবই সেই দিন আল্লাহ যাতে তাঁরজিকিরের প্রবর্তন করেছেন : আল্লাহ তা‘আবলেন, ‘যেন তারা নিজদের কল্যাণেরস্থানসমূহে হাযির হতে পারে এবং তিনিতাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিজিকদিয়েছেন তার ওপর নির্দিষ্ট দিনসমূহেআল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’ {সূরা আল-হজ, আয়াত : ২৮} জমহূর উলামার মতে, আয়াতেনির্দিষ্ট দিনসমূহ বলে যিলহজ মাসের প্রথমদশ দিনকে বুঝানো হয়েছে। এটিই ইবন উমর ওইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমার মত।৩. রাসূলুল্লাহ দিনগুলোকে শ্রেষ্ঠ দিনবলে আখ্যায়িত করেছেন : যিলহজের এইদিনগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিনবলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন জাবিররাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,‘পৃথিবীর দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠদিনগুলো হলো দশকের দিনসমূহ। অর্থাৎযিলহজের (প্রথম) দশদিন। জিজ্ঞেস করাহলো, আল্লাহর পথে জিহাদেও কি এর চেয়েউত্তম দিন নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর পথেজিহাদেও এর চেয়ে উত্তম দিন নেই।হ্যা, কেবল সে-ই যে (জিহাদে) তারচেহারাকে মাটিতে মিশিয়েদিয়েছে।’ [মুসনাদ বাযযার : ১১২৮; মুসনাদআবী ই‘আলা : ২০৯০]৪. এই দিনগুলোর মধ্যে রয়েছে আরাফারদিন : আরাফার দিন হলো বড় হজের দিন।এটি ক্ষমা ও মাগফিরাতের দিন। জাহান্নামথেকে মুক্তি ও নাজাতের দিন। যিলহজের এইদশকে যদি ফযীলতের আর কিছু না থাকত তবেএ দিবসটিই তার মর্যাদার জন্য যথেষ্ট হত। এদিনের ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‘আরাফা দিবসই হজ’। [তিরমিযী : ৮৯৩;নাসায়ী : ৩০১৬]৫. এতে রয়েছে কুরবানীর দিন : কোনোকোনো আলিমের মতে কুরবানীর দিনটিবছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদকরেন,‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ দিনহলো কুরবানীর দিন অতপর স্থিরতার দিন’।(অর্থাৎ কুরবানীর পরবর্তী দিন। কারণ,যেদিন মানুষ কুরবানী ইত্যাদির দায়িত্বপালন শেষ করে সুস্থির হয়।) [নাসায়ী :১০৫১২; ইবন খুযাইমা, সহীহ : ২৮৬৬]৬. এ দিনগুলোতে মৌলিক ইবাদতগুলোরসমাবেশ ঘটে :হাফেয ইবন হাজর রহিমাহুল্লাহ তদীয় ফাতহুলবারী গ্রন্থে বলেন,‘যিলহজের দশকেরবৈশিষ্ট্যের কারণ যা প্রতীয়মান হয় তাহলো, এতে সকল মৌলিক ইবাদতের সন্নিবেশঘটে। যথা : সালাত, সিয়াম, সাদাকা, হজইত্যাদি। অন্য কোনো দিন এতগুলো ইবাদতেরসমাবেশ ঘটে না।’ [ফাতহুল বারী : ২/৪৬০]এই দশটি দিনের আমল আল্লাহর কাছেঅধিক প্রিয়ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘এমন কোনো দিননেই যার আমল যিলহজ মাসের এই দশ দিনেরআমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহররাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদওনয়? রাসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহর পথেজিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মালনিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হল এবং এরকোনো কিছু নিয়েই ফেরত এলো না (তারকথা ভিন্ন)।’ [বুখারী : ৯৬৯; আবূ দাউদ : ২৪৪০;তিরমিযী : ৭৫৭]আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেন,‘ এ দশ দিনে নেক আমলকরার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ওমহান কোন আমল নেই। তাই তোমরা এ সময়েতাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর(আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পড়।’ [মুসনাদআমহদ : ১৩২; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪;মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪]অন্য বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যিলহজের(প্রথম) দশদিনের মতো আল্লাহর কাছেউত্তম কোনো দিন নেই। সাহাবীরাবললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহর পথেজিহাদেও কি এর চেয়ে উত্তম দিননেই? তিনি বললেন, হ্যা, কেবল সে-ই যে(জিহাদে) তার চেহারাকে মাটিতে মিশিয়েদিয়েছে।’ [সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব :২/১৫; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৩]এ হাদীসগুলোর মর্ম হল, বছরে যতগুলোমর্যাদাপূর্ণ দিন আছে তার মধ্যে এ দশদিনের প্রতিটি দিনই সর্বোত্তম।রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম এ দিনসমূহে নেক আমল করারজন্য তাঁর উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। তাঁরএ উৎসাহ প্রদান এ সময়টার ফযীলত প্রমাণকরে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম এ দিনগুলোতে বেশি বেশি করেতাহলীল ও তাকবীর পাঠ করতে নির্দেশদিয়েছেন। যেমন ওপরে ইবন উমররাদিআল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে উল্লেখহয়েছে।ইবন রজব রহিমাহুল্লাহ বলেন, উপরোক্তহাদীসগুলো থেকে বুঝা যায়, নেক আমলেরমৌসুম হিসেবে যিলহজ মাসের প্রথম দশক হলসর্বোত্তম, এ দিবসগুলোয় সম্পাদিত নেক আমলআল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। হাদীসেরকোনো কোনো বর্ণনায় ﺃَﺣَﺐُّ (‘আহাব্বু’তথাসর্বাধিক প্রিয়) শব্দ এসেছে আবার কোনোকোনো বর্ণনায় ﺃَﻓْﻀَﻞُ (‘আফযালু’ তথাসর্বোত্তম) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। অতএব এ সময়েনেক আমল করা বছরের অন্য যে কোনো সময়েনেক আমল করার থেকে বেশি মর্যাদা ওফযীলতপূর্ণ। এজন্য উম্মতের অগ্রবর্তীপুণ্যবান মুসলিমগণ এ সময়গুলোতে অধিকহারেইবাদতে মনোনিবেশ করতেন। যেমন আবূছিমান নাহদী বলেন,‘তাঁরা অর্থাৎ সালাফ তথা পূর্বসূরীগণদিনটি দশককে অনেক বেশি মর্যাদাবানজ্ঞান করতেন : রমযানের শেষ দশক,যিলহজের প্রথম দশক এবং মুহাররমের প্রথমদশক।’এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগানোর ১০টিউপায়প্রতিটি মুসলিমের উচিত ইবাদতেরমৌসুমগুলোকে সুন্দর প্রস্তুতির মাধ্যমেস্বাগত জানানো। যিলহজ মাসকে আমরাস্বাগত জানাতে পারি নিচের কাজগুলোরমধ্য দিয়ে : এ দশ দিন যে আমলগুলো বেশিবেশি করা উচিতঃ১. এই দশটি দিন কাজে লাগাতে দৃঢ়সংকল্প গ্রহণ করা :শুরুতেই যা করা সবার উচিত তা হল, এইদিনগুলোকে পুণ্যময় কাজ ও কথায় সুশোভিতকরার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করা। যে ব্যক্তিকোনো কাজের সংকল্প করে আল্লাহ তাকেসাহায্য করেন। তার জন্য সাহায্যকারী উপায়ও উপকরণ প্রস্তুত করে দেন। যে আল্লাহরসঙ্গে সত্যবাদিতা দেখায় আল্লাহ তাকেসততা ও সফলতায় ভূষিত করেন। আল্লাহতা‘আলা বলেন, ‘আর যারা আমার পথেসর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকেআমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব।আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেইআছেন।’ {সূরা আল-আ‘নকাবূত, আয়াত : ৬৯}২. হজ ও উমরা সম্পাদন করা : হজ ও উমরা এদুটি হলো এ দশকের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। যারা এদিনগুলোতে হজ আদায়ের সুযোগ পেয়েছেনতারা যে অনেক ভাগ্যবান তাতে কোনোসন্দেহ নেই। আল্লাহ যাকে তাঁর নির্দেশিতএবং রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত পন্থায় হজবা উমরা করার তাওফীক দান করেন তারপুরস্কার শুধুই জান্নাত। কারণ, আবূ হুরায়রারাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন,‘এক উমরা থেকে আরেক উমরাএতদুভয়ের মাঝের গুনাহগুলোর কাফফারাএবং মাবরূর হজের প্রতিদান কেবলইজান্নাত।’[বুখারী : ১৭৭৩; মুসলিম : ৩৩৫৫]আর মাবরূর হজ সেটি যা পরিপূর্ণভাবেসম্পাদিত হয় রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিতপন্থায়। যাতে কোনো রিয়া বা লোকদেখানো কিংবা সুনাম বা মানুষের প্রশংসাকুড়ানোর মানসিকতা নেই। নেই কোনোঅশ্লীলতা বা পাপাচারের স্পর্শ। যাকেবেষ্টন করে থাকে নেক কাজ ও পুণ্যময় আমল।৩. সিয়াম পালন করা : মুসলমানের জন্য উচিতহবে যিলহজ মাসের এই মুবারক দিনগুলোতেযত বেশি সম্ভব সিয়াম পালন করা। সাওমআল্লাহর অতি প্রিয় আমল। হাদীসে কুদসীতেসিয়ামকে আল্লাহ নিজের সঙ্গে সম্পৃক্তকরেছেন। আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহবলেছেন, সিয়াম ছাড়া আদম সন্তানেরপ্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য; শুধুসিয়াম ছাড়া। কারণ, তা আমার জন্য। তাইআমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢালস্বরূপ।’[বুখারী : ১৯০৪; মুসলিম : ২৭৬২]সাওম যে এক বড় মর্যাদাসম্পন্ন ও আল্লাহরকাছে প্রিয় আমল তা আমরা অনুধাবন করতেপারি আমরাএ হাদীস থেকে। তবে রাসূলুল্লাহরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম আরাফার দিনের সাওমের প্রতিবিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এরমর্যাদা বর্ণনা করেছেন। আবূ কাতাদারাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আরাফার দিনের সাওমআল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিগত ও আগতবছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গ্রহণকরে থাকেন।’ [মুসলিম : ১১৬৩]এ হাদীসের ভিত্তিতে যিলহজের নয় তারিখসাওম পালন করা সুন্নত। ইমাম নববীরহিমাহুল্লাহ বলেন, এসব দিনে সাওম পালনকরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব। কোনোকোনো দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করেমহিলাদের মাঝে একটি ধারণা প্রচলিতআছে যে, যিলহজ মাসের সাত, আট ও নয়তারিখে সাওম পালন করা সুন্নত। কিন্তুসাওমের জন্য এ তিন দিনকে নির্দিষ্ট করারকোনো প্রমাণ বা ভিত্তি নেই। যিলহজের ১থেকে ৯ তারিখে যে কোনো দিন বা পূর্ণ নয়দিন সাওম পালন করা যেতে পারে।৪. সালাত কায়েম করা : সালাত অন্যতমগুরুত্বপূর্ণ, সম্মানীত ও মর্যাবান আমল। তাই এদিনগুলোতে আমাদের সবার চেষ্টা করাউচিত ফরয সালাতগুলো জামাতে আদায়করতে। আরও চেষ্টা করা দরকার বেশি বেশিনফল সালাত আদায় করতে। কারণ, নফলসালাতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেবেশি নৈকট্য হাসিল করে। আবূ হুরাইরারাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনিবলেন, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমারকোনো অলির সঙ্গে শত্রুতা রাখে, আমি তারসাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার বান্দা ফরযইবাদতের চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয়কোনো ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভকরতে পারে না। আমার বান্দা নফল ইবাদতদ্বারাই সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতেথাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমারএমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নেই যে,আমি তারকান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমি তারচোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আরআমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে।আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে।সে আমার কাছে কোনো কিছু চাইলে আমিঅবশ্যই তাকে তা দান করি। আর যদি সেআমার কাছে আশ্রয় চায় আমি তাকে অবশ্যইআশ্রয় দেই। আমি যে কোনো কাজ করতেচাইলে তাতে কোনো রকম দ্বিধা-সংকোচকরি না, যতটা দ্বিধা-সংকোচ করি মুমিনবান্দার প্রাণহরণে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করেথাকে অথচ আমি তার বেঁচে থাকাকে অপছন্দকরি।’ [বুখারী : ৬৫০২]৫. দান-সাদাকা করা : এ দিনগুলোতে যেআমলগুলো বেশি বেশি দরকার তার মধ্যেঅন্যতম হলো সাদাকা। আল্লাহ তা‘আলামানুষকে সাদাকা দিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।ইরশাদ হয়েছে : ‘হে মুমিনগণ, আমিতোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা হতেব্যয় কর, সে দিন আসার পূর্বে, যে দিনথাকবে না কোনো বেচাকেনা, নাকোনো বন্ধুত্ব এবং না কোনো সুপারিশ।আর কাফিররাই যালিম।’ {সূরা আল-বাকারা,আয়াত : ২৫৪}আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেন,‘সাদাকা সম্পদকে কমায়না, ক্ষমার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার মর্যাদাবৃদ্ধি করেন এবং কেউ আল্লাহর জন্য বিনয়ীহলে আল্লাহ তাকে উঁচু করেন।’ [মুসলিম :৬৭৫৭]৬. তাকবীর, তাহমীদ ও তাসবীহ পড়া : এসবদিনে তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাহমীদ(আলহামদু লিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহাইল্লাল্লাহ) ও তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়াসুন্নত। এ দিনগুলোয় যিকর-আযকারের বিশেষগুরুত্ব রয়েছে, হাদীসে এসেছে, আবদুল্লাহইবন উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেন, ‘এ দশ দিনে নেক আমলকরার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ওমহান কোনো আমল নেই। তাই তোমরা এসময়ে তাহলীল (লা-ইলাহাইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ওতাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশিকরে পড়।’ [বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪;মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪]তাকবীরের শব্দগুলো নিম্নরূপ : (আল্লাহুআকবার, আল্লাহু আকবার লা ইলাহাইল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিলহামদ।) উল্লেখ্য, বর্তমানে তাকবীর হয়েপড়েছে একটি পরিত্যাক্ত ও বিলুপ্তপ্রায়সুন্নত। আমাদের সকলের কর্তব্য এ সুন্নতেরপুনর্জীবনের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত ব্যাপকপ্রচারণা চালানো। হাদীসে উল্লিখিতহয়েছে,‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নতসমূহ থেকে একটিসুন্নত পুনর্জীবিত করল, যা আমার পর বিলুপ্তহয়ে গিয়েছে, তাকে সে পরিমাণ সওয়াবদেওয়া হবে, যে পরিমাণ তার ওপর (সেসুন্নতের ওপর) আমল করা হয়েছে। এতে(আমলকারীদের) সওয়াব হতে বিন্দুমাত্রকমানো হবে না।’ [তিরমিযী : ৬৭৭]যিলহজ মাসের সূচনা থেকে আইয়ামেতাশরীক শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ তাকবীরপাঠ করা সকলের জন্য ব্যাপকভাবেমুস্তাহাব। তবে বিশেষভাবে আরাফাদিবসের ফজরের পর থেকে মিনার দিনগুলোরশেষ পর্যন্ত অর্থাৎ যেদিন মিনায় পাথরনিক্ষেপ শেষ করবে সেদিন আসর পর্যন্তপ্রত্যেক সালাতের পর এ তাকবীর পাঠ করারজন্য বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আবদুল্লাহইবন মাসঊদ ও আলী রাদিআল্লাহু আনহুমাথেকে এ মতটি বর্ণিত। ইবন তাইমিয়া রহ.একে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত বলেছেন।উল্লেখ্য, যদি কোনো ব্যক্তি ইহরামবাঁধে, তবে সে তালবিয়ার সাথে মাঝেমাঝে তকবীরও পাঠ করবে। হাদীস দ্বারা এবিষয়টি প্রমাণিত। [ইবন তাইমিয়াহ,মজমু‘ ফাতাওয়া : ২৪/২২০]৭. পশু কুরবানী করা : এ দিনগুলোর দশম দিনসামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কুরবানী করাসুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আল্লাহ রাব্বুলআলামীন তাঁর নবীকে কুরবানী করতেনির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনিআপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাতআদায় করুন ও কুরবানী করুন।’ {সূরা আল-কাউসার, আয়াত : ০২}এই দশদিনের অন্যতম সেরা প্রিয় আমল হলোকুরবানী। কুরবানীর পশু জবাই ও গরিবদেরমধ্যে এর গোশত বিতরণের মাধ্যমে আল্লাহরবিশেষ নৈকট্য লাভ হয়। এর দ্বারা গরিবদেরপ্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ পায় এবং তাদেরকল্যাণ সাধন হয়।৮. গুনাহ থেকে দূরত্ব অবলম্বন করা : সৎকর্মের মাধ্যমে যেমন আল্লাহর নৈকট্যঅর্জিত হয়, গুনাহের কাজের মাধ্যমে তেমনআল্লাহ থেকে আল্লাহর রহমত ও করুণা থেকেদূরত্ব সৃষ্টি হয়। মানুষ তার নিজের করাঅপরাধের কারণে কখনো আল্লাহর রহমতথেকে বঞ্চিত হয়। তাই আমরা যদি অপরাধমার্জনা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তিরপ্রত্যাশী হই, তাহলে এ দিনগুলোতে এবং এরশিক্ষা কাজে লাগিয়ে বছরের অন্যদিনগুলোতে গুনাহ পরিত্যাগ করতে হবে। কেউযখন জানতে পারেন কী বড় অর্জনই না তারজন্য অপেক্ষা করছে, তার জন্য কিন্তু যেকোনো কষ্ট সহ্য করা সহজ হয়ে যায়।৯. একনিষ্ঠ মনে তওবা : তওবার অর্থপ্রত্যাবর্তন করা বা ফিরে আসা। যে সব কথাও কাজ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অপছন্দকরেন তা বর্জন করে যেসব কথা ও কাজতিনি পছন্দ করেন তার দিকে ফিরে আসা।সাথে সাথে অতীতে এ ধরনের কাজে লিপ্তহওয়ার কারণে অন্তর থেকে অনুতাপ ওঅনুশোচনা ব্যক্ত করা। যিলহজের শুভাগমনেরআগে সবচে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার এতওবা তথা সকল গুনাহ থেকে ফিরে আসারপ্রতি। স্বার্থক তওবা সেটি যার মধ্যেতিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যথা- প্রথম.গুনাহটি সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা। দ্বিতীয়.গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। এবং তৃতীয়. এইগুনাহটি ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করা।”বাস্তবেই এটি তওবার সুবর্ণ সময়। দয়াময়খোদা এ সময় বেশি বেশি তওবার তাওফীকদেন এবং অধিক পরিমাণে বান্দার তওবাকবুল করেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘তবে যেতাওবা করেছিল, ঈমান এনেছিল এবংসৎকর্ম করেছিল, আশা করা যায় সেসাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্তহবে।’ (কাসাস : ৬৭)”তিনি আরও ইরশাদ করেন, ‘বল, ‘হে আমারবান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়িকরেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকেনিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনিক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ {যুমার : ৫৩}অতএব হে মুসলিম ভাই ও বোন, আপনি এদিনগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতেসচেষ্ট হোন। সময় চলে যাওয়ার পর আফসোসনা করতে চাইলে যিলহজ মাস আসার আগেইএতে অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিন।অন্য সাধারণ আমল বেশি বেশি করা :উপরে যে নেক আমলগুলোর কথা উল্লেখ করাহলো এসব ছাড়াও কিছু নেক আমল আছেযেগুলো দিনগুলোতে বেশি করা যায়ঃযেমন : কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, দু‘আ, দান-সাদাকা,পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচার, আত্মীয়তার হকআদায় করা, মা-বাবার সখী-সখার প্রতিশ্রদ্ধা দেখানো,সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা,সালামের প্রচার ঘটানো,মানুষকে খাবার খাওয়ানো, প্রতিবেশিদেরপ্রতি সদয় আচরণ করা, মেহমানকে সম্মানকরা,পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা,অন্যকে কষ্ট না দেওয়া,অপর ভাইয়ের প্রয়োজন পুরা করা,অসাক্ষাতে অন্য ভাইয়ের জন্য দু‘আ করা,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া, পরিবার ওসন্তানদের জন্য অর্থ ব্যয় করা,আরও যেসকল আমল করতে পারেন সেগুলো হল;অধিনস্তদের প্রতি সদয় হওয়া,ওয়াদা ও আমানত রক্ষা করা, হারাম জিনিসথেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া,সালাতগুলোর পরে আল্লাহর জিকিরকরা, সুন্দরভাবে অযূ করা, আযান ও ইকামতেরমাঝখানে দু‘আ করা,জুমাবারে সূরাতুল কাহফ পড়া, মসজিদে গমনকরা, সুন্নত সালাতগুলো দায়িত্বশীলতারসঙ্গে আদায় করা,ঈদগাহে গিয়ে ঈদুল আযহার সালাত আদায়করা, হালাল উপার্জন করা,মুসলিম ভাইদের আনন্দ দেওয়া, দুর্বলদেরপ্রতি দয়ার্দ্র হওয়া, কৃপণতা পরিহার করা,ভালো কাজে পথ দেখানো, ছেলে-মেয়েদের ‌সুশিক্ষা দেওয়া, কল্যাণকাজেমানুষকে সহযোগিতা করা ইত্যাদি।এসবের প্রতিটিই ঈমান ও আল্লাহর মুহাব্বতবৃদ্ধি করে ফলে আল্লাহও তাকে বেশিভালোবাসেন। এসবই একজন মুমিনের চরিত্রমাধুরীর অংশ। এসবের মাধ্যমে একজন মানুষপ্রকৃত মানুষে পরিণত হয়। আল্লাহ এসবেরমাধ্যমে দান করেন আত্মিক প্রশান্তি-প্রতিটি আল্লাহ-ভোলা মানুষই যার শূন্যতায়ভোগে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকেসেসব ব্যক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন যারা এইসুবর্ণ সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার করে।আমীন।——————————————————————–মূল :যিলহজের প্রথম দশক : ফযীলত ও আমললেখক : আলী হাসান তৈয়বসম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া



 *১-গীবত থেকে দূরে থাকা- আসমা বিনতে ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যাক্তি তার (মুসলিম) ভায়ের অনুপস্থিতিতে (তার গীবত করা ও ইজ্জত লুটার সময় প্রতিবাদ করে) তার সম্ভ্রম রক্ষা করে সেই ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র নিকট এই অধিকার পায় যে তিনি তাঁকে দোযখ থেকে মুক্ত করে দেন।”(আহমদ, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে- ৬২৪০)

#কিন্তু এখন অবস্থা তোঁ পুরোই উল্টা, কোথাও কারো নিন্দা করা হলে আমরা প্রতিবাদ না করে বরং নিজেরাই অংশগ্রহন করি তবে নবী (সাঃ)-এর এ হাদিস থেকে তারাই শিক্ষা নিবে যারা জান্নাত যেতে ইচ্ছুক।

*২- প্রতিদিন ৩৬০ বার তাসবিহ, তাহলিল, তাকবীর, তাহমিদ আদায় করা- “আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘আদম সন্তানের মধ্যে প্রত্যেক মানুষকে ৩৬০ গ্রন্থির উপর সৃষ্টি করা হয়েছে। (আর প্রত্যেক গ্রন্থির পক্ষ থেকে প্রদেয় সাদকা রয়েছে।) সুতরাং যে ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল, ‘সুবহানাল্লাহ’ বলল, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলল, মানুষ চলার রাস্তা থেকে পাথর, কাঁটা অথবা হাড় সরাল, কিম্বা ভাল কাজের আদেশ করল অথবা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করল, (এবং সব মিলে ৩৬০ সংখ্যক পুণ্যকর্ম করল), সে ঐদিন এমন অবস্থায় সন্ধ্যা করল যে, সে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূর করে নিল।’’(সহিহ মুসলিম হাদিস-২২২০, হাদিস একাডেমী)
#যদি রাসূল (সাঃ) এর নিম্নে বর্ণিত হাদিসটি লক্ষ্য করেন– রাসূল (সাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি যদি প্রত্যেক ফরয স্বলাতের পর- “সুবহা-নাল্লাহ” (আল্লাহ কতই না পবিত্র-মহান)”«سُبْحَانَ اللَّه ((৩৩ বার
“আলহামদুলিল্লাহ” (সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য) الْحَمْدُ لِلَّهِ، (৩৩ বার)“আল্লা-হু আকবার” (আল্লাহ সবচেয়ে বড়)” اللَّهُ أَكْبَرُ (৩৩ বার)তারপর ১ বার নিম্নোক্ত দোয়া বলে
« لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ».
(লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর)। “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।”
তাহলে ঐ ব্যক্তির সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা সমতুল্যও হয়। (সহিহ মুসলিম হাদিস-১২৩৯, হাদিস একাডেমী)
আর এ দোয়া না পারলে আর ১ বার “আল্লা-হু আকবার” বলে ১০০ পূর্ণ করবে।
#তাহলে দেখা যাচ্ছে, কোন ব্যক্তি ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায় করলেই তার ৩৬০ বার নয় ৫০০ বার উপরোক্ত তাসবিহ, তাহলিল, তাকবীর, তাহমিদ আদায় এমনিতেই হয়ে যাচ্ছে তাছাড়া ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায়ে আরোও ১টা বিরাট ফযিলত রয়েছে, সেটা হোল-
“আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতবাসী হবে। (নাসাই, সহীহ জামে’ ৫/৩৩৯, সিলসিলাহ সহীহাহ্‌ ৯৭২)
মানুষের আর কি চাওয়া বাকি থাকতে পারে?
[রাসুল (সাঃ) সলাত শেষে একাকী বসে প্রায় ১৭টি দোয়া ও জিকির আদায় করতেন কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের আমরা রাসুল (সাঃ)-এর সুন্নাহর জায়গায় সম্মিলিত মুনাজাতের বিদআত চালু করেছি যার হাদিসে কোন প্রমাণ নেই, একথা অনেকেরই ভালো লাগবে না কিন্তু আপনি যে কাজটা করছেন সেই কাজটা শরীয়তে অনুমোদিত কিনা সেটা কি আপনার জানা উচিত নয়?

*৩- ৪০ দিন তাকবীরে উলার সাথে সলাত আদায় করা-

রাসুল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ৪০ দিন জামাতে সলাত আদায় করবে এবং তাকবীরে তাহরিমা পাবে অর্থাৎ সলাত আরম্ভ হওয়ার সময় উপস্থিত থাকবে আল্লাহ তাকে ২টি জিনিষ হতে মুক্তি দিবেন। ১- জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন এবং ২- মুনাফিকি থেকে মুক্তি দিবেন। (সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – হাদিস ২৪১, তাকবিরে উলার ফজিলত অধ্যায়)

*৪- অসুস্থ অবস্থায় নিম্নের দোয়া পড়া-

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) এবং আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা উভয়েই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অল্লাহু আকবার’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أكْبَرُ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলে, আল্লাহ তার সত্যায়ন করে বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমি সবচেয়ে বড়।’
আর যখন সে বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আমি একক, আমার কোন অংশী নেই।’
আর যখন সে বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হাম্দ’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই এবং তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা আমারই এবং আমারই যাবতীয় প্রশংসা।’
আর যখন সে বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অলা হাওলা অলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ [لاَ إله إِلاَّ اللهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমার প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই।’
নবী (সাঃ) বলতেন, ‘‘যে ব্যক্তি তার অসুস্থ অবস্থায় এটি পড়ে মারা যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে খাবে না।’’ (অর্থাৎ সে কখনো জাহান্নামে যাবে না।) (সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ৩৪৩০, দোয়া অধ্যায়)

*৫- বেশি-বেশি দান করা-

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, “তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো; যদিও খেজুরের এক টুকরো সাদকাহ করে হয়। আর যে ব্যাক্তি এরও সামর্থ্য রাখে না, সে যেন ভাল কথা বলে বাঁচে।(সহিহুল বুখারি- ১৪১৩, তাওহীদ পাবলিকেশন)

*৬- জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করা-

আনাস (রাঃ) বলেনঃ, “আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৩ বার আল্লাহ্‌র নিকট জান্নাত চায়, জান্নাত তখন বলে : “হে আল্লাহ্‌! ঐ ব্যাক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। পক্ষান্তরে যে ব্যাক্তি ৩ বার জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করে, জাহান্নাম বলে; ‘হে আল্লাহ্‌ ঐ ব্যাক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও।” (সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ২৫৭২, জান্নাতের বিবরণ অধ্যায়)
#জান্নাত চাওয়া ওঁ জাহান্নাম থেকে বাচার দোয়া-
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ».
(আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ‘উযু বিকা মিনান্নার)
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই”। (আবূ দাউদ- ৭৯৩, সলাত অধ্যায়)

*৭- যোহরের ফরয নামাজের পূর্বে ৪ এবং পড়ে ৪ রাকাত নামাজ আদায় করা-

উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি বরাবর যোহরের পূর্বে চার রাক’আত এবং যোহরের পরে চার রাক’আত ছালাত আদায় করবে আল্লাহ্‌ তাকে জাহান্নামের প্রতি হারাম করে দিবেন ” (ইবনে মাজাহ- ১১৬০, তিরমিযী ৪২৭-২৮, আবূ দাঊদ ১২৬৯, আহমাদ ২৬২৩২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১১৬৮, সহীহ আবী দাউদ ১১৫২)
[অর্থাৎ যোহরের ফরয নামাজের আগে ৪ রাকাত এবং পড়ে ২ রাকাত ২ রাকাত করে ৪ রাকাত এই মোট ৮ রাকাত যেটা আমরা পড়ে থাকি।
বেশিরভাগ মানুষ যেহেতু সুন্নত নফল হিসাবে বুঝে থাকে তাদের সুবিধার জন্য বলছি-এই হাদিস অনুযায়ী যোহরের প্রথমে ৪ রাকাত সুন্নত তারপর ৪ রাকাত ফরয তারপর ২ রাকাত সুন্নত এবং শেষে ২ রাকাত নফল, সব মিলে হবে ১২ রাকাত]

*৮- মানুষের সাথে সর্বোত্তম ব্যাবহার করা-

মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যাক্তি পছন্দ করে যে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক, তার মৃত্যু যেন আল্লাহ্‌ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখা অবস্থায় আসে এবং লোকেদের সঙ্গে সেই রকম ব্যাবহার করে, যে রকম ব্যবহার সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

*৯- চোখকে পাপ থেকে হিফাযত করা-

রাসুল (সাঃ) বলেন কিয়ামতের দিন জাহান্নাম দেখবে না। ১- এমন চক্ষু যে আল্লাহ্‌র ভয়ে কাঁদে, ২-এমন চক্ষু যে আল্লাহ্‌র রাস্তায় জেগে থাকে, ৩- এমন চক্ষু যে বেগানা মহিলাকে দেখে নিচু হয়ে যায়
(শাইখ আলবানি (রঃ) প্রনিত সিলসিলাহ সহীহাহ- হাদিস ১৪৭৭)

*১০- ফজর ও আসর সালাত যথাসময়ে আদায় করা-

আবু বাকর ইবনু ‘উমারাহ ইবনু রুওয়াইয়াহ হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি এমন ব্যাক্তি কখনোই জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে সালাত আদায় করে (অর্থাৎ ফজর ও আসর সালাত)। একথা শুনে বাসরার অধিবাসী একটি লোক তাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি নিজে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিকট একথা শুনেছ? সে বললো, হ্যাঁ! (সহীহ মুসলিম- ১৩১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লার কাছে এই ২ ওয়াক্ত সলাতের রয়েছে আলাদা মর্যাদা আর এই ২ ওয়াক্ত সলাত যথার্থ মর্যাদা দিয়ে তারাই আদায় করতে পারবে যারা ৫ ওয়াক্ত সলাতের ব্যাপারে সচেতন কেননা এই ২ ওয়াক্ত সলাত সবচেয়ে বেশি কষ্টের সময়ে, যারা এই ২ ওয়াক্ত সলাত সঠিক ভাবে আদায় করতে পারে তাদের জন্য বাকি ৩ ওয়াক্ত আদায় করা খুবই সহজ।

*১১- আন্তরিকভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকৃতি দেওয়া-

ইতবান বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যাক্তি একমাত্র আল্লহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, ক্বিয়ামতের দিন সে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার উপর জাহান্নাম হারাম হয়ে গেছে।” (মুসনাদে আহমাদ- হাদিস ১৬৪৮২)
এ হাদিসের অর্থ এই নয় যে, শুধু আপনি ১ বার মুখে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বললেন আর জান্নাত চলে গেলেন বরং যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকৃতি দিবে তখনই তার উপর ইসলামের ফরয বিধানগুলো পালন করা আবশ্যক হয়ে যাবে আর এজন্যই মক্কার মুশরিকরা এই স্বীকৃতি দিতো না কারণ তারা জানতো তাওহিদের এই স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থই হচ্ছে বহু দেবতার ইবাদত বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র-ই ইবাদত করতে হবে।

*১২- কন্যাসন্তানদের ভালভাবে লালন-পালন করা-

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার নিকট একটি মহিলা তার দুটি কন্যাকে সঙ্গে করে ভিক্ষা করতে (গৃহে) প্রবেশ করল। কিন্তু সে আমার নিকট খেজুর ছাড়া আর কিছু পেল না। আমি খেজুরটি তাকে দিলাম সে সেটিকে দুই খণ্ডে ভাগ করে তার দুটি মেয়েকে খেতে দিল। আর নিজে তা হতে কিছুও খেলনা। অতঃপর সে উঠে বের হয়ে গেল। তারপর নবী (সাঃ) আমাদের নিকট এলে আমি ঐ কথা তাঁকে জানালাম। ঘটনা শুনে তিনি বললেন, “যে ব্যাক্তি একাধিক কন্যা নিয়ে সঙ্কটাপন্ন হবে, অতঃপর সে তাদের প্রতি যথার্থ সদ্ব্যবহার করবে, সেই ব্যাক্তির জন্য ঐ কন্যারা জাহান্নাম থেকে অন্তরাল (পর্দা) স্বরূপ হবে।” (সহিহুল বুখারী- ১৪১৮, তাওহীদ পাবলিকেশন)

*১৩- ফরয সিয়ামের পাশাপাশি বেশি-বেশি নফল সিয়াম পালন করা-

রাসুল (সাঃ) বলেন “রোযা (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য ) ঢালস্বরূপ ।” (বুখারী- ১৮৯৪, তাওহীদ পাবলিকেশন)
রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন “যে ব্যাক্তি আল্লাহর পথে ১ দিন রোযা রাখবে, আল্লাহ্‌ ঐ ১ দিন রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হতে ৭০ বছর (পরিমাণ পথ) দূরে রাখবেন।” (বুখারী- ২৮৪০, তাওহীদ পাবলিকেশন)

#সহিহ হাদিসে বর্ণিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিয়াম/রোযা পালনের দিনসমূহ

(শাওয়াল মাসের রোযা)
আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোযা পালন করল অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা আদায় করল সে যেন সাড়া বছর রোযা পালন করল।’ (মুসলিম : ২৮১৫)

(প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা)
এ তিনটি রোযা আদায় করলে পূর্ণ বছর নফল রোযা আদায়ের সওয়াব লাভের কথা এসেছে। একটি নেক আমলের সওয়াব কমপক্ষে দশগুণ দেয়া হয়। তিন দিনের রোযার সওয়াব দশগুণ করলে ত্রিশ দিন হয়। যেমন আবু কাতাদা রা. হতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে—
‘প্রত্যেক মাসে তিনটি রোযা ও এক রমজানের পর পরবর্তী রমজানে রোযা পালন পূর্ণ বছর রোযা পালনের সমান’। (মুসলিম : ২৮০৪)
মাসের যে তিন দিন রোযা রাখা হবে সে তিন দিনকে হাদিসের পরিভাষায় বলা হয় ‘আইয়ামুল বিয’। এ তিন দিন হল চান্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখ। বিয শব্দের অর্থ আলোকিত। এ তিন দিনের রাতগুলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাঁদের আলোতে আলোকিত থাকে। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এ রোযা গুরুত্বসহকারে আদায় করতেন। হাদিসে এসেছে—
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুসাফির ও মুকিম কোন অবস্থাতেই এ রোযা ত্যাগ করতেন না। (নাসায়ী : ২৩৪৫)

(প্রত্যেক সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা)
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই আমি পছন্দ করি যখন আমার আমল পেশ করা হবে তখন আমি রোযা অবস্থায় থাকব।’ (তিরমিযী : ৭২৫)

*১৪- মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকা-

ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, “রাসুলে আকরাম (সাঃ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জানাবো না, কোন ব্যাক্তি জাহান্নামের আগুনের জন্যে হারাম অথবা (বলেছেন) কার জন্যে জাহান্নামের আগুন হারাম? (তাহলে জেনে রাখ) জাহান্নামের আগুন এমন প্রতিটি লোকের জন্য হারাম, যে লোকদের কাছাকাছি বা তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে; যে কোমলমতি নম্র প্রকৃতির ও মধুর স্বভাব বিশিষ্ট।” (সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ২৪৮৮, কিয়ামাত ও মর্মস্পর্শী বিষয় অধ্যায়)

১৫- সন্তান বা আপনজনদের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করা-

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন। আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও।’’ অতঃপর নবী (সাঃ) তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।’’ এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ তিনি বললেন, ‘‘দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।’’ ” (বুখারী- ১০১, তাওহীদ পাবলিকেশন)

#দুনিয়াবি কোন বিপদ থেকে বাচার জন্য আমরা কত রকমের উপায় অবলম্বন করে থাকি অথচ আমাদের সবচেয়ে বড় বিপদ জাহান্নাম থেকে বাচার জন্য এই উপায়গুলো সর্বাত্মকভাবে আঁকড়ে ধরা কি আমাদের জন্য জরুরি নয়? আল্লাহ তা’লা আমাদের এই আমলগুলো করার মাদ্ধমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার তাওফিক দান করুন, আমীন।

Sunday, February 28, 2021

কুরআন ও হাদিসের আলোকে গুনাহ মাফ এর আমল, পর্ব -5:

 কুরআন ও হাদিসের আলোকে গুনাহ মাফ এর আমল, পর্ব -5: ৫. জিহাদের অধ্যায়  আল্লাহর পথে জিহাদ করা প্রত্যেক  মুসলিমের উপর ফরযে আইন, হয় অন্তর  দিয়ে নতুবা বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে,  অথবা সম্পদ দিয়ে অথবা শক্তি প্রয়োগ  করে; সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের উপর  তার শক্তি, ক্ষমতা ও অবস্থান  অনুযায়ী উল্লেখিত  যে কোনো প্রকার  পদ্ধতি অবলম্বনে জিহাদ করা আবশ্যক।  আল্লাহ তা‘আলা বলেন:  ﴿ ﺑَﻞِ ﭐﻟۡﺈِﻧﺴَٰﻦُ ﻋَﻠَﻰٰ ﻧَﻔۡﺴِﻪِۦ ﺑَﺼِﻴﺮَﺓٞ ١٤ ﻭَﻟَﻮۡ ﺃَﻟۡﻘَﻰٰ ﻣَﻌَﺎﺫِﻳﺮَﻩُۥ ١٥  ﴾ ‏[ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ : ١٤، ١٥ ‏]  “বরং মানুষ নিজের সম্পর্কে সম্যক অবগত,  যদিও সে নানা অজুহাতের  অবতারণা করে।”[60]  আল্লাহ সুবহানাহু  ওয়া তা‘আলা জানিয়ে দিয়েছেন  যে, তিনি:  ﴿ ﭐﺷۡﺘَﺮَﻯٰ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﺃَﻧﻔُﺴَﻬُﻢۡ ﻭَﺃَﻣۡﻮَٰﻟَﻬُﻢ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : ١١١‏]  “নিশ্চয় তিনি মুমিনদের কাছ  থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ  কিনে নিয়েছেন।” [61]  আর তাদেরকে তার বিনিময়  দিয়েছেন এই বলে:  ﴿ ﺑِﺄَﻥَّ ﻟَﻬُﻢُ ﭐﻟۡﺠَﻨَّﺔَۚ ﴾ ‏[ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : ١١١ ‏]  “(এর বিনিময়ে) তাদের জন্য  আছে জান্নাত।”[62]  আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এই  চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি গচ্ছিত রেখেছেন  তাঁর নাযিলকৃত শ্রেষ্ঠ কিতাবসমূহে;  আল-কুআনের ভাষায়:  ﴿ ﻭَﻋۡﺪًﺍ ﻋَﻠَﻴۡﻪِ ﺣَﻘّٗﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟﺘَّﻮۡﺭَﻯٰﺔِ ﻭَﭐﻟۡﺈِﻧﺠِﻴﻞِ ﻭَﭐﻟۡﻘُﺮۡﺀَﺍﻥِۚ  ﴾ ‏[ ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : ١١١‏]  “তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআনে এ  সম্পর্কে তাদের হক ওয়াদা  রয়েছে।” [63]  আর তিনি সেই প্রতিশ্রুতির  ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন  এবং তাদেরকে সুসংবাদ দিয়েছেন  এই বলে:  ﴿ ﻭَﻣَﻦۡ ﺃَﻭۡﻓَﻰٰ ﺑِﻌَﻬۡﺪِﻩِۦ ﻣِﻦَ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﻓَﭑﺳۡﺘَﺒۡﺸِﺮُﻭﺍْ ﺑِﺒَﻴۡﻌِﻜُﻢُ ﭐﻟَّﺬِﻱ  ﺑَﺎﻳَﻌۡﺘُﻢ ﺑِﻪِۦۚ ﻭَﺫَٰﻟِﻚَ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﻔَﻮۡﺯُ ﭐﻟۡﻌَﻈِﻴﻢُ ١١١ ﴾ ‏[ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : ١١١ ‏]  “আর নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহ্র  চেয়ে শ্রেষ্ঠতর কে আছে?  সুতরাং তোমরা যে সওদা করেছ,  সে সওদার জন্য আনন্দিত হও। আর সেটাই  তো মহাসাফল্য।” [64]  সুতরাং যে চুক্তি সম্পাদনকারী ব্যক্তি  তার রবের সাথে এ ক্রয়-বিক্রয়  চুক্তি সম্পাদন করেছে, সে যেন  চিন্তাভাবনা করে— তার ঝুঁকি কত বড়  এবং তার প্রতিদান কত মহান! কারণ,  আল্লাহ তা‘আলা হলেন  স্বয়ং ক্রেতা এবং মূল্য  হচ্ছে নি‘য়ামতপূর্ণ জান্নাত ও  স্থায়ী সাফল্য; আর যাঁর হাত দিয়ে এই  চুক্তির প্রচলন তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ  রাসূল এবং ফিরিশতা ও মানবগোষ্ঠীর  মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি; আর এই  পণ্য, যার মূল্য এত বেশি, তা অবশ্যই  কোনো মহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বস্তুর জন্যই  নির্ধারণ করা হয়েছে।  আর যখন দাবিদারের  সংখ্যা বেশি হয়ে গেলো, তখন  তাদেরকে তাদের দাবির  স্বপক্ষে দলীল-প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করার  জন্য আহ্বান করা হলো; কারণ,  মানুষকে যদি তাদের দাবি অনুযায়ীই  (বিশুদ্ধতা যাচাই না করে) দেওয়া হত,  তাহলে আকাশ, যমীন ও তার  মধ্যবর্তী স্থানে চরম  বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হত।  আর যখন সাক্ষী-প্রমাণসহ বিভিন্ন রকম  দাবিদারের আত্মপ্রকাশ ঘটলো, তখন  তাদেরকে বলা হলো একটি মাত্র  প্রমাণ ছাড়া কোনো দলীল-প্রমাণ ও  দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠিত ও সাব্যস্ত  হবে না; আর সেই প্রমাণটি হলো আল-  কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻗُﻞۡ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢۡ ﺗُﺤِﺒُّﻮﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻓَﭑﺗَّﺒِﻌُﻮﻧِﻲ ﻳُﺤۡﺒِﺒۡﻜُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻳَﻐۡﻔِﺮۡ  ﻟَﻜُﻢۡ ﺫُﻧُﻮﺑَﻜُﻢۡۚ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٞ ﺭَّﺣِﻴﻢٞ ٣١ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ٣١‏]  “বলুন,  ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস,  তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ  তোমাদেরকে ভালবাসবেন  এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন।  আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম  দয়ালু।” [65]  ফলে সৃষ্টির অনেকেই  পিছনে পড়ে গেলো, কেবল  যারা কথায়, কাজে, দিক নির্দেশনায়  ও নৈতিক চরিত্রে রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ  করেছে তারাই অবশিষ্ট  থেকে গেলো; আল-কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻓَﺴَﻮۡﻑَ ﻳَﺄۡﺗِﻲ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻘَﻮۡﻡٖ ﻳُﺤِﺒُّﻬُﻢۡ ﻭَﻳُﺤِﺒُّﻮﻧَﻪُۥٓ ﺃَﺫِﻟَّﺔٍ ﻋَﻠَﻰ  ﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﺃَﻋِﺰَّﺓٍ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﻜَٰﻔِﺮِﻳﻦَ ﴾ ‏[ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٥٤‏]  “অতঃপর নিশ্চয় আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়  আনবেন  যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন  এবং যারা তাঁকে ভালবাসবে;  তারা মুমিনদের প্রতি কোমল ও  কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে।” [66]  আর তখনই তাদের কাছে (সে আনুগত্য ও  অনুসরণের) দীলল-প্রমাণসমূহের  যথার্থতা তলব করা হলো,  এবং বলা হলো: পরিশুদ্ধিতা ব্যতীত  সাক্ষ্য প্রমাণের যথার্থতা সাব্যস্ত  হবে না— আল-কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻳُﺠَٰﻬِﺪُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺨَﺎﻓُﻮﻥَ ﻟَﻮۡﻣَﺔَ ﻟَﺎٓﺋِﻢٖۚ  ﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٥٤‏]  “তারা আল্লাহর পথে জিহাদ  করবে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দার  ভয় করবে না।” [67]  আর তখনই মুজাহিদগণ  দাঁড়িয়ে গেলো (জিহাদের  মাধ্যমে নিজেদের দ্বারা রাসূলের  আনুগত্যের দাবীর যথার্থতা প্রমাণের  জন্য), অতঃপর তাদেরকে বলা হলো:  নিশ্চয় মুমিনগণের জীবন ও সম্পদের  মালিকানা তাদের নয়,  সুতরাং তোমরা চুক্তির  দাবি অনুযায়ী তা হস্তান্তর কর; কারণ  পারস্পরিক ক্রয়-বিক্রয়  চুক্তি মোতাবেক উভয় পক্ষ  থেকে বিনিময় হস্তান্তর করা আবশ্যক।  অতঃপর ব্যবসায়ীগণ যখন ক্রেতার মহত্ব  এবং বিনিময় মূল্যের কদর (মর্যাদা)  উপলব্ধি করলো, তখন  তারা বুঝতে পারলো যে, এ পণ্যের এমন  কদর ও মর্যাদা রয়েছে, যা অন্য  কোনো পণ্যের নেই; ফলে  তারা তাকে স্বল্প মূল্যে, মাত্র কয়েক  দিরহামের  বিনিময়ে বিক্রি করাটাকে স্পষ্ট  ক্ষতি ও নিকৃষ্ট মানের প্রতারণার  অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করলো; কারণ যে এ  ধরণের (স্পল্প মূল্যে বিক্রির) কাজ  করবে, সে এমন এক মানুষ,  যে নিজেকে বোকা বানিয়েছে  এবং তার রবের  মর্যাদাকে হালকা মনে করেছে।  তাই তারা যার (আল্লাহ সুবহানাহু  ওয়াতা‘আলার) সাথে বিনিময়  চুক্তি করেছে,  (যেখানে ক্রেতা হলেন  স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা)  তার সাথে সন্তোষ ও স্বেচ্ছায় এমন  সন্তুষ্টির চুক্তি সম্পাদন  করেছে যাতে কোনো খেয়ার  (চুক্তি বহাল রাখা বা না রাখার  স্বাধীনতা) রাখেনি; আর  তারা বলে: আমরা আপনার সাথে কৃত  চুক্তি ভঙ্গ করব না এবং আপনার নিকট  চুক্তি ভঙ্গ করার আবেদনও করব না;  অতঃপর যখন চুক্তি পরিপূর্ণ  হয়ে গেলো এবং তারা বিক্রিত মাল  হস্তান্তর করে দিল (জান ও মাল), তখনই  তাদেরকে বলা হলো: তোমরা ওঠো!  তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া  হয়েছে। আল-কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻓَﭑﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫَﺎﺟَﺮُﻭﺍْ ﻭَﺃُﺧۡﺮِﺟُﻮﺍْ ﻣِﻦ ﺩِﻳَٰﺮِﻫِﻢۡ ﻭَﺃُﻭﺫُﻭﺍْ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻠِﻲ  ﻭَﻗَٰﺘَﻠُﻮﺍْ ﻭَﻗُﺘِﻠُﻮﺍْ ﻟَﺄُﻛَﻔِّﺮَﻥَّ ﻋَﻨۡﻬُﻢۡ ﺳَﻴَِّٔﺎﺗِﻬِﻢۡ ﻭَﻟَﺄُﺩۡﺧِﻠَﻨَّﻬُﻢۡ ﺟَﻨَّٰﺖٖ  ﺗَﺠۡﺮِﻱ ﻣِﻦ ﺗَﺤۡﺘِﻬَﺎ ﭐﻟۡﺄَﻧۡﻬَٰﺮُ ﺛَﻮَﺍﺑٗﺎ ﻣِّﻦۡ ﻋِﻨﺪِ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻋِﻨﺪَﻩُۥ ﺣُﺴۡﻦُ  ﭐﻟﺜَّﻮَﺍﺏِ ١٩٥ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٩٥‏]  “কাজেই যারা হিজরত করেছে, নিজ  ঘর থেকে উৎখাত হয়েছে, আমার  পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং যুদ্ধ  করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি তাদের  পাপ কাজগুলো অবশ্যই দূর করব এবং অবশ্যই  তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতে,  যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত।  এটা আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার; আর  উত্তম পুরস্কার আল্লাহরই  কাছে রয়েছে। ”[68]  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:  ‏« ﺍﻟْﻘَﺘْﻞُ ﻓِﻰ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳُﻜَﻔِّﺮُ ﻛُﻞَّ ﺷَﻰْﺀٍ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﺪَّﻳْﻦَ ‏» .  ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .  “আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া ঋণ  ছাড়া সব কিছু মাফ করিয়ে দেয়।”[69]  আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:  ‏« ﺃﻥَّ ﺭَﺟُﻼً ﻗَﺎﻡَ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﺃَﺭَﺃَﻳْﺖَ ﺇِﻥْ ﻗُﺘِﻠْﺖُ  ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗُﻜَﻔَّﺮُ ﻋَﻨِّﻲ ﺧَﻄَﺎﻳَﺎﻱَ ؟ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ  ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏« ﻧَﻌَﻢْ ، ﺇِﻥْ ﻗُﺘِﻠْﺖَ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ  ﻭَﺃَﻧْﺖَ ﺻَﺎﺑِﺮٌ ﻣُﺤْﺘَﺴِﺐٌ ﻣُﻘْﺒِﻞٌ ﻏَﻴْﺮُ ﻣُﺪْﺑِﺮٍ ‏» . ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ  ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏« ﻛَﻴْﻒَ ﻗُﻠْﺖَ ‏» . ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺭَﺃَﻳْﺖَ  ﺇِﻥْ ﻗُﺘِﻠْﺖُ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﺃﺗُﻜَﻔَّﺮُ ﻋَﻨِّﻲ ﺧَﻄَﺎﻳَﺎﻱَ ؟ ﻓَﻘَﺎﻝَ  ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏« ﻧَﻌَﻢْ ، ﻭَﺃَﻧْﺖَ ﺻَﺎﺑِﺮٌ  ﻣُﺤْﺘَﺴِﺐٌ ﻣُﻘْﺒِﻞٌ ﻏَﻴْﺮُ ﻣُﺪْﺑِﺮٍ ، ﺇِﻻ ﺍﻟﺪَّﻳْﻦَ , ﻓَﺈِﻥَّ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞَ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﻲ  ﺫَﻟِﻚَ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .  “এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর  রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপিন  কি মনে করেন যে, আমি যদি আল্লাহর  পথে নিহত (শহীদ) হই, তাহলে আমার  সকল পাপ মোচন হয়ে যাবে? তখন  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য  করে বললেন: হ্যাঁ, যদি তুমি ধৈর্যশীল,  সাওয়াবের আশায় আশান্বিত হয়ে পৃষ্ঠ  প্রদর্শন না করে শত্রুর মুখোমুখি অবস্থায়  নিহত হও। তারপর রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেন: তুমি কি বললে? তখন  সে ব্যক্তি (আবার) বলল: আপিন  কি মনে করেন যে, আমি যদি আল্লাহর  পথে নিহত হই, তাহলে আমার সকল  পাপের কাফ্ফারা হয়ে যাবে? তখন  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হ্যাঁ,  যদি তুমি ধৈর্যশীল, সাওয়াবের আশায়  আশান্বিত হয়ে পৃষ্ঠ প্রদর্শন  না করে শত্রুর মুখোমুখি অবস্থায় নিহত  হও; তবে ঋণের বিষয়টি আলাদা।  কেননা, জিবরাঈল আ.  আমাকে একথা বলেছেন।”[70]  আল্লাহর পথের আহ্বানকারী, আল্লাহর  সম্মানিত ঘর জান্নাতের  দিকে আহ্বানকারী উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন  আত্মা এবং সুউচ্চ  সাহসী মনগুলোকে নাড়িয়ে দিয়েছে  ,  ﻓﺤﻴﻬﻼً ﺇﻥ ﻛﻨﺖ ﺫﺍ ﻫﻤﺔ ﻓﻘﺪ  ﺣﺪﺍ ﺑﻚ ﺣﺎﺩﻱ ﺍﻟﺸﻮﻕ ﻓﺎﻃﻮ ﺍﻟﻤﺮﺍﺣﻼ  সুতরাং এগিয়ে এস  যদি তুমি সত্যিকার সাহসী দৃঢ়  মনোবলের অধিকারী হয়ে থাক, কারণ  আবেগ মিশ্রিত  গানে তোমাকে গায়ক গান  গেয়ে ডাক  দিয়ে যাচ্ছে সুতরাং তুমি দ্রুত  পর্যায়গুলো অতিক্রম করে আস  হে ঈমানদার ভাই তোমার  আত্মাকে সে জন্য তৈরী কর:  ﻗﺪ ﻫﻴﺆﻭﻙ ﻷﻣﺮ ﻟﻮ ﻓﻄﻨﺖ ﻟﻪ  ﻓﺄﺭﺑﺄ ﺑﻨﻔﺴﻚ ﺃﻥ ﺗﺮﻋﻰ ﻣﻊ ﺍﻟﻬﻤﻞ  তোমাকে এমন এক মহৎ কাজের জন্য  তৈরী করা হয়েছে যদি তুমি তার জন্য  সাবধান হতে..  সুতরাং তুমি তোমার আত্মাকে অধো-  বুদ্ধিহীনদের কাতারে চারণ  করতে দেওয়া থেকে উপরে উঠিয়ে  রাখ।  আর জেনে রাখবেন যে, আল্লাহ  তা‘আলার পণ্য খুব দামী এবং তার মূল্য  হলো জীবন ও সম্পদ তার মালিকের জন্য  ব্যয় করা, যা তিনি মুমিনগণের কাছ  থেকে ক্রয় করে নিয়েছেন।  আর আল্লাহর কসম! এটা এমন দুর্বল বা কম  দামী পণ্য নয় যে, নিঃস্ব কাপুরুষ  ব্যক্তিগণ তার দাম  করতে পারে এবং তা বিক্রয়ের  অযোগ্য পণ্যও নয় যে, কোনো তুচ্ছ  হতদরিদ্র ব্যক্তি তা ক্রয় করে ফেলবে।  ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য প্রদর্শনের  উদ্দেশ্যে এই পণ্য  বাজারে উঠানো হয়েছে, আর  (ক্রেতাসকলের পক্ষ থেকে)  বলা হয়েছে: আরো বেশি আছে কি?  আর তার প্রতিপালক গ্রীবাস্থিত  ধমনীর বিনিময় ছাড়া আর অন্য  কোনো দামে তা বিক্রি করতে  রাজি নন।  * * *  ৬. সাওমের অধ্যায়  ৬. ১. রমযান মাসে সাওম পালন:  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:  ‏« ﻣَﻦْ ﺻَﺎﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺇِﻳﻤَﺎﻧًﺎ ﻭَﺍﺣْﺘِﺴَﺎﺑًﺎ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ  ﺫَﻧْﺒِﻪِ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭ ﻣﺴﻠﻢ ﻭ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ  ﻭ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻭ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ‏) .  “যে ব্যক্তি রমযান মাসে ঈমানের  সাথে সাওয়াবের আশায় সাওম পালন  করবে, তার অতীতের গোনাহসমূহ  ক্ষমা করে দেওয়া হবে। ।”[71]  ৬. ২. ‘আরাফা ও আশুরার দিনে সাওম  পালন:  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:  ‏« ﺛَﻼَﺙٌ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺷَﻬْﺮٍ ﻭَﺭَﻣَﻀَﺎﻥُ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻓَﻬَﺬَﺍ ﺻِﻴَﺎﻡُ  ﺍﻟﺪَّﻫْﺮِ ﻛُﻠِّﻪِ ، ﺻِﻴَﺎﻡُ ﻳَﻮْﻡِ ﻋَﺮَﻓَﺔَ ﺃَﺣْﺘَﺴِﺐُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻥْ ﻳُﻜَﻔِّﺮَ  ﺍﻟﺴَّﻨَﺔَ ﺍﻟَّﺘِﻰ ﻗَﺒْﻠَﻪُ ﻭَﺍﻟﺴَّﻨَﺔَ ﺍﻟَّﺘِﻰ ﺑَﻌْﺪَﻩُ ، ﻭَﺻِﻴَﺎﻡُ ﻳَﻮْﻡِ ﻋَﺎﺷُﻮﺭَﺍﺀَ  ﺃَﺣْﺘَﺴِﺐُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻥْ ﻳُﻜَﻔِّﺮَ ﺍﻟﺴَّﻨَﺔَ ﺍﻟَّﺘِﻰ ﻗَﺒْﻠَﻪُ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ  ﻣﺴﻠﻢ ‏) .  “প্রত্যেক মাসে তিনদিন সাওম পালন  করা এবং এক রমযানের সাওম পরের  রমযান পর্যন্ত— এটাই হলো সারা বছরের  সাওম পালন। আরাফার দিনের  সাওমের ব্যাপারে আমি আল্লাহ  তা‘আলার কাছে আশি করি যে,  তা পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক  বছরের গুনাহ মুছে দেবে। আর ‘আশুরার  দিনের সাওমের  ব্যাপারে আমি আল্লাহ তা‘আলার  কাছে আশি করি যে, তা পূর্বের এক  বছরের গুনাহ মুছে দেবে ।”[72]  * * *  ৭. হাজ্জের অধ্যায়  ৭. ১. হাজ্জ ও ওমরা:  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:  ‏« ﺗَﺎﺑِﻌُﻮﺍ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﺤَﺞِّ ﻭَﺍﻟْﻌُﻤْﺮَﺓِ ، ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻤَﺎ ﻳَﻨْﻔِﻴَﺎﻥِ ﺍﻟْﻔَﻘْﺮَ  ﻭَﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ، ﻛَﻤَﺎ ﻳَﻨْﻔِﻲ ﺍﻟْﻜِﻴﺮُ ﺧَﺒَﺚَ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺪِ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ  ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻭ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ‏) .  “তোমরা হাজ্জ ও ওমরা উভয়টি বিলম্ব  না করে পরপর সম্পাদন কর; কারণ, এই  দু’টি দারিদ্র ও  পাপরাশিকে এমনভাবে দূর করে,  যেভাবে হাপর লোহা’র ময়লা দূর  করে।”[73]  আর এই মহান ফযীলতের বিষয়টি অপর এক  হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায়  আরও বিস্তারিতভাবে এসেছে,  তিনি বলেছেন:  ‏« ﺃﻣﺎ ﺧﺮﻭﺟﻚ ﻣﻦ ﺑﻴﺘﻚ ﺗﺆﻡ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ ، ﻓﺈﻥ ﻟﻚ ﺑﻜﻞ  ﻭﻃﺄﺓ ﺗﻄﺆﻫﺎ ﺭﺍﺣﻠﺘﻚ ﻳﻜﺘﺐ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻚ ﺑﻬﺎ ﺣﺴﻨﺔ ، ﻭﻳﻤﺤﻮ  ﻋﻨﻚ ﺑﻬﺎ ﺳﻴﺌﺔ . ﻭﺃﻣﺎ ﻭﻗﻮﻓﻚ ﺑﻌﺮﻓﺔ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ  ﻳﻨﺰﻝ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ، ﻓﻴﺒﺎﻫﻰ ﺑﻬﻢ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ، ﻓﻴﻘﻮﻝ :  ﻫﺆﻻﺀ ﻋﺒﺎﺩﻯ ﺟﺎﺀﻭﻧﻰ ﺷُﻌْﺜًﺎ ﻏُﺒْﺮًﺍ ﻣﻦ ﻛﻞ ﻓﺞ ﻋﻤﻴﻖ ،  ﻳﺮﺟﻮﻥ ﺭﺣﻤﺘﻰ ﻭﻳﺨﺎﻓﻮﻥ ﻋﺬﺍﺑﻰ ﻭﻟﻢ ﻳﺮﻭﻧﻰ ، ﻓﻜﻴﻒ ﻟﻮ  ﺭﺃﻭﻧﻰ ؟ ﻓﻠﻮ ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻴﻚ ﻣﺜﻞ ﺭﻣﻞ ﻋﺎﻟﺞ ﺃﻭ ﻣﺜﻞ ﺃﻳﺎﻡ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ  ﺃﻭ ﻣﺜﻞ ﻗﻄﺮ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺫﻧﻮﺑﺎ ، ﻏﺴﻠﻬﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻚ . ﻭﺃﻣﺎ ﺭﻣﻴﻚ  ﺍﻟﺠﻤﺎﺭ ﻓﺈﻧﻪ ﻣﺬﺧﻮﺭ ﻟﻚ . ﻭﺃﻣﺎ ﺣﻠﻘﻚ ﺭﺃﺳﻚ ﻓﺈﻥ ﻟﻚ ﺑﻜﻞ  ﺷﻌﺮﺓ ﺗﺴﻘﻂ ﺣﺴﻨﺔ ، ﻓﺈﺫﺍ ﻃﻔﺖ ﺑﺎﻟﺒﻴﺖ ﺧﺮﺟﺖ ﻣﻦ  ﺫﻧﻮﺑﻚ ﻛﻴﻮﻡ ﻭﻟﺪﺗﻚ ﺃﻣﻚ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ‏) .  “আর তোমার ঘর থেকে সম্মানিত ঘর  কা‘বা’র উদ্দেশ্যে তোমার বের  হওয়া মানেই তোমার জন্য তোমার  বাহনের প্রতিটি পদক্ষেপের  বিনিময়ে একটি করে সাওয়াব  লেখা হয় এবং তোমার  একটি করে পাপ মোচন হয়। আর তুমি যখন  ‘আরাফাতের ময়দানে অবস্থান কর, তখন  আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার  আকাশে অবতরণ করেন, তারপর  তিনি তাদেরকে নিয়ে  ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করেন  এবং বলেন: আমার বান্দাগণ আমার  কাছে আউলা কেশে ধূলিমলিন  অবস্থায় দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে  এসেছে আমার রহমতের আশায়  এবং আমার শাস্তির ভয়ে, অথচ  তারা আমাকে দেখেনি;  সুতরাং তারা যদি আমাকে দেখত,  তাহলে কেমন জানি হত? অতএব,  যদি তোমার অপরাধ বালির স্তুপের মত  হয় অথবা দুনিয়ার দিনসমূহের সমান হয়  অথবা বৃষ্টির ফোটা পরিমাণ হয়,  তবে তিনি তোমার সেই অপরাধ ধুয়ে-  মুছে পরিষ্কার করে দিবেন। আর  তোমার কঙ্কর নিক্ষেপ তোমার জন্য  (সাওয়াব হিসেবে) সঞ্চিত থাকবে।  আর তোমার মাথা মুণ্ডনের  ফলে তোমার জন্য (মাটিতে) পতিত  প্রতিটি চুলের  বিনিময়ে একটি করে সাওয়াবের  ব্যবস্থা থাকবে। অতঃপর তুমি যখন  বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে, তখন  তুমি তোমার গুনাহসমূহ থেকে ঐ  দিনের মত পবিত্র  হয়ে বেরিয়ে আসবে, যেদিন তোমার  মা তোমাকে (নিষ্পাপ অবস্থায়) প্রসব  করেছে।”[74]  * * *  ৮. যাকাতের অধ্যায়  ৮. ১. সাদকা করা:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ﺇِﻥ ﺗُﺒۡﺪُﻭﺍْ ﭐﻟﺼَّﺪَﻗَٰﺖِ ﻓَﻨِﻌِﻤَّﺎ ﻫِﻲَۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗُﺨۡﻔُﻮﻫَﺎ ﻭَﺗُﺆۡﺗُﻮﻫَﺎ  ﭐﻟۡﻔُﻘَﺮَﺍٓﺀَ ﻓَﻬُﻮَ ﺧَﻴۡﺮٞ ﻟَّﻜُﻢۡۚ ﻭَﻳُﻜَﻔِّﺮُ ﻋَﻨﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺳَﻴَِّٔﺎﺗِﻜُﻢۡۗ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻤَﺎ  ﺗَﻌۡﻤَﻠُﻮﻥَ ﺧَﺒِﻴﺮٞ ٢٧١ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٧١‏]  “তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর,  তবে তা ভাল; আর যদি গোপনে কর  এবং অভাবগ্রস্তকে দাও,  তা তোমাদের জন্য আরো ভাল;  এবং এতে তিনি তোমাদের জন্য কিছু  পাপ মোচন করবেন। আর  তোমরা যে আমল কর আল্লাহ্  সে সম্পর্কে সম্মক অবহিত।” [75]  আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:  ﴿ ﺇِﻥ ﺗُﻘۡﺮِﺿُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺮۡﺿًﺎ ﺣَﺴَﻨٗﺎ ﻳُﻀَٰﻌِﻔۡﻪُ ﻟَﻜُﻢۡ ﻭَﻳَﻐۡﻔِﺮۡ ﻟَﻜُﻢۡۚ  ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﺷَﻜُﻮﺭٌ ﺣَﻠِﻴﻢٌ ١٧ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺘﻐﺎﺑﻦ : ١٧‏]  “যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান  কর, তাহলে তিনি তোমাদের জন্য  তা বহু গুণ বৃদ্ধি করবেন  এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা  করবেন। আর আল্লাহ্ গুণগ্রাহী, পরম  সহিষ্ণু।”[76]  * * *  ৯. ইসলাম নির্ধারিত শাস্তির অধ্যায়  ৯. ১. শরী‘য়ত কর্তৃক নির্ধারিত  শাস্তি প্রয়োগ:  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:  ‏« ﺃﻳﻤﺎ ﻋﺒﺪ ﺃﺻﺎﺏ ﺷﻴﺌﺎ ﻣﻤﺎ ﻧﻬﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ , ﺛﻢ ﺃﻗﻴﻢ ﻋﻠﻴﻪ  ﺣﺪﻩ , ﻛُﻔِّﺮ ﻋﻨﻪ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﺬﻧﺐُ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ ﻭ  ﺍﻟﺪﺍﺭﻣﻲ ﻭ ﺃﺣﻤﺪ ‏) .  “যে কোনো বান্দা আল্লাহ  তা‘আলা কর্তৃক নিষিদ্ধ  করা হয়েছে এমন কোনো অপরাধের  সাথে জড়িত হয়ে যায়, অতঃপর তার  উপর শরী‘য়ত কর্তৃক নির্ধারিত  শাস্তি প্রয়োগ করা হয়, এর ফলে তার  অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” [77]  * * *  ১০. যিকিরের অধ্যায়  ১০. ১. আল্লাহর যিকির করা:  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:  ‏« ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﻗَﻮْﻡٍ ﺍﺟْﺘَﻤَﻌُﻮﺍ ﻳَﺬْﻛُﺮُﻭﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﺇِﻟَّﺎ  ﻭَﺟْﻬَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﻧَﺎﺩَﺍﻫُﻢْ ﻣُﻨَﺎﺩٍ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ : ﺃَﻥْ ﻗُﻮﻣُﻮﺍ ﻣَﻐْﻔُﻮﺭًﺍ ﻟَﻜُﻢْ  ﻗَﺪْ ﺑُﺪِّﻟَﺖْ ﺳَﻴِّﺌَﺎﺗُﻜُﻢْ ﺣَﺴَﻨَﺎﺕٍ ‏» . ‏(ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ ‏) .  “যে কোনো সম্প্রদায় একত্রিত  হয়ে আল্লাহর যিকির করবে এবং এর  দ্বারা তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হয় তাঁর  সন্তুষ্টি অর্জন, সেই  সম্প্রদায়কে আসামানের কোনো এক  ঘোষণাকারী ডেকে বলবে:  তোমরা এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে যাও  যে, তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া  হয়েছে এবং তোমাদের  গুনাহসমূহকে পরিবর্তন  করে সাওয়াবে পরিণত  করা হয়েছে।”[78] রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আরও বলেন:  ‏« ﺇِﻥَّ ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ  ﺗَﻨْﻔُﺾُ ﺍﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ ﻛَﻤَﺎ ﺗَﻨْﻔُﺾُ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮَﺓُ ﻭَﺭَﻗَﻬَﺎ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ  ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ ﻓﻰ ﺍﻷﺩﺏ ﺍﻟﻤﻔﺮﺩ ‏) .  “নিশ্চয় ‏« ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ  ﺃَﻛْﺒَﺮُ ‏» (আল্লাহরই  পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং সকল  প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আর আল্লাহ  ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্য  মা‘বুদ নেই; আর আল্লাহ মহান) — এর  যিকির  গুনাহসমূহকে এমনভাবে ঝেড়ে ফেলে  দেয়, যেমনিভাবে গাছ তার  পাতাসমূহকে ঝেড়ে ফেলে।” [79]  ১০. ২. মাজলিসের কাফ্ফারা:  যখন মুসলিমগণের মধ্য  থেকে কোনো একটি দল  বা গোষ্ঠী একত্রিত হবে, তখন তাদের  উপর আবশ্যকীয় কর্তব্য হল— তারা আল্লাহ  তা‘আলার  বেঁধে দেওয়া সীমারেখার  মধ্যে থেকে তাদের মাজলিস  পরিচালনা করবে এবং কোনো রকম  সীমালংঘন করবে না, যেমন: খেল-  তামাসা, গীবত তথা তাদের ভাইয়ের  গোশ্ত দংশন, তাদের গোপনীয় বিষয়  প্রকাশ এবং তাদের ভুল-ত্রুটি ও  অপরাধের  সমালোচনা ইত্যাদি তাদের  আলোচনার বিষয় না হওয়া।  বরং তাদের জন্য ওয়াজিব হল—  সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ  করার  ব্যাপারে পরস্পরকে সহযোগিতা করা,  মানুষের মাঝে সংশোধন ও  সংস্কারমূলক কাজ করা এবং আল্লাহ  তা‘আলার কিতাব ও তাঁর রাসূল  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ  নিয়ে শিক্ষামূলক আলোচনা করা।  সুতরাং যে মুসলিমের লক্ষ্য  হবে আল্লাহ ও পরকাল, এমন প্রত্যেক  মুসলিমের কর্তব্য হল— তার  দ্বারা অনুষ্ঠিত প্রত্যেক মাজলিসে এই  বিষয়ে সতর্ক করা এবং আল্লাহর  যিকির ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করার  ব্যাপারে কোনো রকম  অমনোযোগী না হওয়া;  নতুবা কিয়ামতের দিনে তার উপর  নিঃসঙ্গতা, দুঃখ-কষ্ট ও অপমানজনক  অবস্থা চেপে বসবে, যদিও  সে জান্নাতে প্রবেশ করে।  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:  ‏« ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﻗَﻮْﻡٍ ﺟَﻠَﺴُﻮﺍ ﻣَﺠْﻠِﺴًﺎ ﻟَﻢْ ﻳَﺬْﻛُﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓِﻴﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺭَﺃَﻭْﻩُ  ﺣَﺴْﺮَﺓً ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ ‏) .  “যে কোনো সম্প্রদায়  কোনো মাজলিসে বসল, অথচ  তারা সেখানে আল্লাহর যিকির করল  না, কিয়ামতের দিন  তারা তাকে দুঃখ-কষ্ট  হিসেবে দেখবে।” [80]  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:  ‏« ﻣَﺎ ﻗَﻌَﺪَ ﻗَﻮْﻡٌ ﻣَﻘْﻌَﺪًﺍ ﻟَﻢْ ﻳَﺬْﻛُﺮُﻭﺍ ﺍَﻟﻠَّﻪَ ﻓﻴﻪِ , ﻭَﻟَﻢْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ  ﺍَﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﻟَّﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺣَﺴْﺮَﺓً ﻳَﻮْﻡَ  ﺍَﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ , ﻭَﺇِﻥْ ﺩَﺧَﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ ﻭ  ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ ‏) .  “কোন সম্প্রদায় কোনো আসর  বা মাজলিসে বসল, অথচ  তারা সেখানে আল্লাহর যিকির করল  না এবং নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরূদ  পাঠ করল না, কিয়ামতের  দিনে তাদের উপর দুঃখ-কষ্ট  চেপে বসবে, যদিও  তারা জান্নাতে প্রবেশ করে।”[81]  কিন্তু ভুলে যাওয়াটাই মানবজাতির  জন্য বিপদজনক এবং তাদের প্রয়োজনীয়  বস্তুর ঘাটতির কারণ। সুতরাং যখন  মুসলিম ব্যক্তি মাজলিসে তার  আবশ্যকীয় কর্তব্য পালনে ব্যর্থ বা অক্ষম  হবে, তখন সেখান থেকে উঠে আসার  পূর্বে সে যেন মাজলিসের  কাফ্ফারা আদায় করতে ভুলে না যায়,  যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি বলেন:  ‏« ﻣﻦ ﻗﺎﻝ: ﺳﺒﺤﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺑﺤﻤﺪﻩ ﺳﺒﺤﺎﻧﻚ ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻭﺑﺤﻤﺪﻙ  ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺃﻧﺖ ﺃﺳﺘﻐﻔﺮﻙ ﻭﺃﺗﻮﺏ ﺇﻟﻴﻚ ، ﻓﻘﺎﻟﻬﺎ ﻓﻲ  ﻣﺠﻠﺲ ﺫﻛﺮ ﻛﺎﻧﺖ ﻛﺎﻟﻄﺎﺑﻊ ﻳﻄﺒﻊ ﻋﻠﻴﻪ ، ﻭﻣﻦ ﻗﺎﻟﻬﺎ ﻓﻲ  ﻣﺠﻠﺲ ﻟﻐﻮ ﻛﺎﻧﺖ ﻛﻔﺎﺭﺓ ﻟﻪ ‏» . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ ﻭ  ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ‏) .  “যে ব্যক্তি যিকিরের  মাজলিসে বলে: ‏« ﺳﺒﺤﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺑﺤﻤﺪﻩ ﺳﺒﺤﺎﻧﻚ  ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻭﺑﺤﻤﺪﻙ ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺃﻧﺖ ﺃﺳﺘﻐﻔﺮﻙ ﻭﺃﺗﻮﺏ  ﺇﻟﻴﻚ ‏» (আল্লাহরই  পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁর  প্রশংসা করছি; হে আল্লাহ! আপনারই  পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার  প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য  দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য  ইলাহ (মা‘বুদ) নেই, আমি আপনার নিকট  ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা  করছি), তখন তা হবে মোহরাঙ্কিত বস্তুর  মত (টিকসই); আর যে ব্যক্তি তা অর্থহীন  মাজলিসে বলবে, তখন তা তার জন্য  কাফ্ফারা হয়ে যাবে।”[82]  * * *  উপসংহার  “আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে উত্তম  পুরষ্কার (জান্নাত) ও বাড়তি (আল্লাহর  দীদার) প্রদান করুন”  হে আল্লাহর বান্দা, হে মুসলিম ভাই!  জেনে রাখুন যে, আল-কুরআনের এসব  আয়াত ও নবীর  হাদীসে পাপরাশি ক্ষমার  সাথে সংশ্লিষ্ট আমলের  ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছে,  কিন্তু বান্দার জন্য উচিৎ হলো তার উপর  নির্ভরশীল হয়ে বসে না থাকা। এমন  যেন না হয় যে গুনাহ ও মন্দ  কাজে জড়িয়ে যাওয়ার  ব্যাপারে নিজের নফসের  লাগামকে ছেড়ে দেবে এবং এই  বাজে ধারণা করবে যে, সে গুনাহ  করলেও যখনই এ জাতীয় আমল করবে তখনই  তা তার সকল গুনাহ মাফের  নিশ্চয়তা বিধান করবে।  নিশ্চয়ই এ ধরনের কল্পনা চরম মূর্খতা ও  বোকামির বহিঃপ্রকাশ; কারণ,  হে প্রতারিত ব্যক্তি!  তুমি কিভাবে জানতে পারবে যে,  আল্লাহ তা‘আলা তোমার আমল কবুল  করেছেন এবং তোমার গুনাহ  ক্ষমা করে দিয়েছেন? আল্লাহ সুবহানহু  ওয়া তা‘আলা বলেন:  ﴿ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﺘَﻘَﺒَّﻞُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ٢٧ ﴾ ‏[ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٢٧‏]  “আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের পক্ষ  হতে কবুল করেন।” [83]  ঐসব মুত্তাকী বান্দগণ সৎকাজ করে,  আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার  ব্যাপারে যথাসাধ্য  চেষ্টা করে এবং পাপকাজ  থেকে বিরত থাকে, আর  সাথে সাথে এই আশঙ্কাও করে যে,  তাদের আমলসমূহ বাতিল  করে দিয়ে তাদের কাছে ফেরত  পাঠিয়ে দেওয়া হয়  কিনা এবং তাদের মুখের উপর  ছুড়ে মারা হয় কিনা:  ﴿ ﺇِﻥَّ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢ ﻣِّﻦۡ ﺧَﺸۡﻴَﺔِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻣُّﺸۡﻔِﻘُﻮﻥَ ٥٧ ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢ  ﺑَِٔﺎﻳَٰﺖِ ﺭَﺑِّﻬِﻢۡ ﻳُﺆۡﻣِﻨُﻮﻥَ ٥٨ ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢ ﺑِﺮَﺑِّﻬِﻢۡ ﻟَﺎ ﻳُﺸۡﺮِﻛُﻮﻥَ ٥٩  ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﺆۡﺗُﻮﻥَ ﻣَﺎٓ ﺀَﺍﺗَﻮﺍْ ﻭَّﻗُﻠُﻮﺑُﻬُﻢۡ ﻭَﺟِﻠَﺔٌ ﺃَﻧَّﻬُﻢۡ ﺇِﻟَﻰٰ ﺭَﺑِّﻬِﻢۡ  ﺭَٰﺟِﻌُﻮﻥَ ٦٠ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ : ٥٧، ٦٠ ‏]  “নিশ্চয় যারা তাদের রব-এর  ভয়ে সন্ত্রস্ত, আর যারা তাদের রব-এর  নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে, আর  যারা তাদের রব-এর সাথে শির্ক  করে না, আর যারা যা দেওয়ার  তা দেয় ভীত-কম্পিত হৃদয়ে, এজন্য  যে তারা তাদের রব-এর  কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।” [84]  হ্যাঁ, এরাই হলেন সত্যিকার মুমিন। [85]  আর এই মহান অর্থের দিকেই রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  ‘উসমান ইবন ‘আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু  ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে ইঙ্গিত  করেছেন, যাতে তিনি নবী  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযুর  পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন; অতঃপর  তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:  ‏« ﻣَﻦْ ﺗَﻮَﺿَّﺄَ ﻣِﺜْﻞَ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀِ , ﺛُﻢَّ ﺃَﺗَﻰ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪَ , ﻓَﺮَﻛَﻊَ  ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ , ﺛﻢ ﺟﻠﺲ , ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ , ﻗَﺎﻝَ ﻭَﻗَﺎﻝَ  ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﻟَﺎ ﺗَﻐْﺘَﺮُّﻭﺍ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ  ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .  “যে ব্যক্তি এই অযূর ন্যায় অযূ করবে,  অতঃপর মাসজিদে এসে দুই রাকা‘য়াত  সালাত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ্  ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তিনি বললেন:  নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন যে,  তোমরা ধোঁকায় পড়ো না।” [86]  হে আমার ভাই! আপনি আরও  জেনে রাখবেন যে, যেসব অপরাধ  জনগণের হক বা অধিকারের  সাথে সংশ্লিষ্ট, এসব আয়াত ও হাদিস  তা অন্তর্ভুক্ত করে না; বরং ওয়াজিব  হলো ঐ হক বা অধিকার তার  মালিকের নিকট ফিরেয়ে দেওয়া;  তার দলীল হলো ঐ হাদিস, যা শহীদের  ঋণ ব্যতীত সকল গুনাহ্ মাফের  কথা বর্ণনা করে।[87]  সুতরাং হে আমার ভাই! সতর্ক ও  সাবধান হও— আল্লাহ তোমাকে তাঁর  পক্ষ থেকে প্রাণশক্তির  মাধ্যমে সাহায্য করবেন। আর  জেনে রাখবে যে, শয়তানের পথ  অনেকগুলো এবং তার  পাতানো ফাঁদগুলো অনেক বড়;  সুতরাং এই দরজা দিয়ে সে তোমার  কাছে অনুপ্রবেশ করবে—  সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবে।  ‏« ﺳﺒﺤﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺑﺤﻤﺪﻩ ﺳﺒﺤﺎﻧﻚ ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻭﺑﺤﻤﺪﻙ ﺃﺷﻬﺪ  ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺃﻧﺖ ﺃﺳﺘﻐﻔﺮﻙ ﻭﺃﺗﻮﺏ ﺇﻟﻴﻚ ‏» .  (আল্লাহরই  পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁর  প্রশংসা করছি; হে আল্লাহ! আপনারই  পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার  প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য  দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য  ইলাহ (মা‘বুদ) নেই, আমি আপনার নিকট  ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা  করছি)।  * * *  [60] সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ১৪ – ১৫  [61] সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১১১  [62] সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১১১  [63] সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১১১  [64] সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১১১  [65] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১  [66] সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৫৪  [67] সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৫৪  [68] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৫  [69] ইমাম মুসলিম রহ.  হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনিল  ‘আস রাদিয়াল্লাহু  ‘আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন,  হাদিস নং- ৪৯৯২  [70] মুসলিম, হাদিস নং- ৪৯৮৮  [71] বুখারী, হাদিস নং- ৩৮; মুসলিম,  হাদিস নং- ১৮১৭; আবূ দাউদ, হাদিস  নং- ১৩৭২; তিরমিযী, হাদিস নং- ৬৮৩;  নাসায়ী, হাদিস নং- ২২০৩; ইবনু  মাজাহ, হাদিস নং- ১৩২৬;  তাঁরা হাদিসটি আবূ  হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু  থেকে বর্ণনা করেছেন।  [72] ইমাম মুসলিম রহ. হাদিসটি আবূ  কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু  থেকে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং-  ২৮০৩  [73] নাসায়ী, হাদিস নং- ২৬৩০;  ত্ববারানী, আল-কাবীর, হাদিস নং-  ১১১৯৬ এবং অন্যান্য মুহাদ্দিস প্রমুখ  হাদিসটি সাহল ইবন হাম্মাদ আবূ  ‘উত্তাব আদ-দাল্লালের  সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:  আমাদের কাছে ‘আযরা ইবন সাবিত  হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি ‘আমর  ইবন দিনার রহ. থেকে বর্ণনা করেন,  তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস  রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন,  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:  তারপর হাদিসের বক্তব্য উল্লেখ  করেছেন।  আমি বলি: এই সনদটি সহীহ এবং তার  বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।  আর এই হাদিসের সমর্থনে আবদুল্লাহ ইবন  ওমর, আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ ও জাবির ইবন  আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম প্রমুখ  হাদিস বর্ণনা করেছেন।  [74] ত্ববারানী, আল-কাবীর ( ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ ),  হাদিস নং- ১৩৫৬৬; আল-বায্যার,  ‘কাশফুল আসতার’ ( ﻛﺸﻒ ﺍﻷﺳﺘﺎﺭ ), হাদিস  নং- ১০৮২; আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ  ( ﺍﻟﻤﺼﻨﻒ ), হাদিস নং- ৮৮৩০;  তাঁরা সকলেই মুজাহিদ রহ. এর সনদে  আদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু  থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন  আমি বলি: হাদিসটি সহীহ। আর এই  হাদিসের সমর্থনে বায্যার রহ. আনাস  রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে হাদিস  বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং- ১০৮৩;  তবে তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।  [75] সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭১  [76] সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৭  [77] হাকেম: (৪/৩৮৮); দারেমী: (২/১৮২);  আহমাদ: (৫/২১৪ ও ২১৫); আমি বলি:  হাদিসের সনদটি হাসান; কেননা,  বর্ণনাকারী উসামা ইবন যায়েদ আল-  লাইসী’র ব্যাপারে সামান্য  কথা থাকলেও তাতে ক্ষতি নেই;  তাছাড়া এই হাদিসটির  সমর্থনে ‘সহীহাইন’ ও অন্যান্য গ্রন্থের  মধ্য বহু হাদিস বর্ণিত আছে।  [78] আহমাদ: (৩/১৪২); তিনি বলেন:  আমাদের কাছে হাদিস  বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন বকর,  তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ  দিয়েছেন মাইমুন আল-মারায়ী,  তিনি বলেন: আমাদের  কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন মাইমুন  ইবন সিয়াহ, তিনি আনাস  রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু  থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।  আমি বলি: এই সনদটি ‘হাসান’  পর্যায়ের ইনশাআল্লাহ; আর মাইমুন ইবন  মূসা আল-মারায়ী ‘মুদাল্লিস’  পর্যায়ের বর্ণনাকারী,  তবে তিনি বর্ণনার মাধ্যমে তা স্পষ্ট  করে দিতেন।  [79] আহমাদ: (৩/১৫২); বুখারী, আল-আদাবুল  মুফরাদ: (৬৩৪);  তাঁরা হাদিসটি ত্বরিক আবদুল  ওয়ারিসের সূত্রে বর্ণনা করেন,  তিনি বলেন আমাদের কাছে হাদিস  বর্ণনা করেছেন সিনান,  তিনি বলেন: আমাদের  কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আনাস  রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। আমি বলি: এই  সনদটি ‘হাসান’ পর্যায়ের; কারণ,  সিনান ইবন রবী‘য়া সত্যবাদী, নম্র।  [80] আহমাদ রহ. হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবন  ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু  থেকে বর্ণনা করেছেন: (২/১২৪) ।  আমি বলি: হাদিসের সনদটি সহীহ।  আর তার সমর্থনে জাবির  রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে হাদিস  বর্ণিত আছে, যা আত-তায়ালসী রহ.  বর্ণনা করেছেন: (১৫৭৬) এবং তার  সনদটিও সহীহ।  [81] আহমাদ: (২/৪৬৩); ইবনু হিব্বান: (২৩২২—  মাওয়ারিদ); হাকেম: (১/৪৯২) ও  অন্যান্য মুহাদ্দিস প্রমুখ  হাদিসটি আ‘মাশের  সনদে বর্ণনা করেছেন,  তিনি বর্ণনা করেন আবূ সালেহ  থেকে, তিনি আবূ  হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু  থেকে ‘মারফু‘’  হিসেবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।  আমি বলি: হাদিসের সনদটি সহীহ।  [82] হাকেম: (১/৫৩৭); ত্ববারানী, আল-  কাবীর ( ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ ), হাদিস নং- ১৫৮৬ ও  ১৫৮৭; তাঁরা হাদিসটি নাফে‘ ইবন  জুবায়ের ইবন মুত‘য়েমের  সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি তাঁর  পিতা জুবায়ের ইবন মুত‘য়েম  রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে ‘মারফু‘’  হিসেবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।  হাকেম রহ. বলেন: হাদিসটি ইমাম  মুসলিম রহ. এর শর্তে সহীহ। আর একই মত  ব্যক্ত করেছেন ইমাম যাহাবী রহ.  এবং আমাদের শাইখ আলবানী রহ.  তাঁর ‘সিলসিলাতুল আহাদিসিস্  সাহীহা’ ( ﺳﻠﺴﻠﺔ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﺔ ) নামক  গ্রন্থের মধ্যে, হাদিস নং- ৮১; আর  তাঁরা যা বলেছেন, বিষয়টি তাই।  আর ত্ববারানী’র দ্বিতীয় জায়গার  বর্ণনায় অতিরিক্ত কথা আছে: ‏« ﻳﻘﻮﻟﻬﺎ  ﺛﻼﺙ ﻣﺮﺍﺕ ‏» (তিনি তা তিনবার  বলেন)।  আমাদের শাইখ বলেন: হাইছামী রহ.  তার ব্যাপারে কোন মন্তব্য  করেননি এবং তা (সনদটি) উৎকৃষ্ট নয়;  কারণ, তার সনদের মধ্যে খালিদ ইবন  ইয়াযিদ আল-‘আমরী নামে একজন  বর্ণনাকারী রয়েছে, যাকে আবূ  হাতিম ও  ইয়াহইয়া মিথ্যাবাদী বলেছেন; আর  ইবনু হিব্বান বলেন: সে নির্ভরযোগ্য  বর্ণনাকারীদের থেকে ‘মাউযু’  হাদিস বর্ণনা করত।  সুতরাং এটা অতিরিক্ত, এর  দিকে দৃষ্টি দেয়ার দরকার নেই।  আমি বলি: এটা শাইখের পক্ষ  থেকে অনিচ্ছাকৃত ভুল (আল্লাহ  তাকে হিফাজত করুন); কেননা,  হাইছামী রহ. দুই জায়গায় ঐ  বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন,  যে বিষয়ে শাইখ অত্যন্ত কঠিন  কথা বলেছেন (আল্লাহ  তাকে হিফাজত করুন); তিনি ‘আল-  মাজমা‘ ( ﺍﻟﻤﺠﻤﻊ ) এর মধ্যে বলেছেন  (১০/১৪২): “ত্ববারনী রহ.  তা বর্ণনা করেছেন এবং তার  সনদে খালিদ ইবন ইয়াযিদ  আল-‘আমরী নামে একজন  বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি দুর্বল।”  আর তিনি ‘আল-মাজমা‘ ( ﺍﻟﻤﺠﻤﻊ ) এর  (১০/৪২৩) মধ্যে সহীহ ও দুর্বল—  দু’টি বর্ণনা উল্লেখ করার পর  বলেছেন: “ত্ববারানী রহ.  সবগুলো বর্ণনাই বর্ণনা করেছেন  এবং প্রথম বর্ণনার বর্ণনাকারীগণ  হলেন সহীহ হাদিসের বর্ণনাকারী।”  অতঃপর তিনি যিকির সংক্রান্ত  হাদিসের সনদগুলো অগ্রাধিকার  দেয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন।  আর এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে,  হাইছামী রহ. এই বর্ণার  ব্যাপারে নিরব থাকেননি,  বরং আমাদের শাইখ কর্তৃক উক্ত  বর্ণনাকে দুর্বল বলার পূর্বেই  তিনি তাকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত  করেছেন— সুন্নাতে নববী’র খেদমতের  কারণে আল্লাহ  তা‘আলা তাঁকে সাহায্য করুন।  [83] সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ২৭  [84] সূরা আল-মু’মিনুন, আয়াত: ৫৭ – ৬০  [85] এই বিষয়টি আমি আমার  ‘মুবতিলাতুল আ‘মাল’ ( ﻣﺒﻄﻼﺕ ﺍﻷﻋﻤﺎﻝ )  নামক পুস্তিকার মধ্যে ‘খাওফুস  সালফিস সালিহ রহ. মিন আন  তাহবাতা আ‘মালুহুম ওয়াহুম  লা ইয়াশ‘উরুন’ ( ﺧﻮﻑ ﺍﻟﺴَّﻠﻒ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ـ ﺭﺣﻤﻬﻢ ﺍﻟﻠﻪ ـ  ﻣﻦ ﺃﻥ ﺗﺤﺒﻂ ﺃﻋﻤﺎﻟﻬﻢ ﻭ ﻫﻢ ﻻ ﻳﺸﻌﺮﻭﻥ )  [পূর্ববর্তী সৎ বান্দগণের আশংকা যে,  তাদের অজান্তেই তাদের আমলসমূহ নষ্ট  হয়ে যাবে] নামক  শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করেছি;  প্রকাশক: দারু ইবনিল কায়্যিম, দাম্মাম।  [86] বুখারী, হাদিস নং- ৬০৬৯  [87] মুসলিম, হাদিস নং- ৪৯৮৮ ও ৪৯৯২  _________________________________________________  ________________________________  শাইখ সালীম ইবন ‘ঈদ আল-হিলালী  অনুবাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম  সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ  যাকারিয়া  সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ,  রিয়াদ, সৌদিআরব

Translate