Sunday, February 28, 2021

কুরআন ও হাদিসের আলোকে গুনাহ মাফের আমল! পর্ব -1:

 কুরআনে কারীম ও সহীহ সুন্নাহর  আলোকে গুনাহ্ মাফের আমল  নবুয়্যাতের প্রদীপ থেকে  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:  ‏« ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪُ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﻣَﻦْ ﻋَﻠِﻢَ ﺃَﻧِّﻲ ﺫُﻭ ﻗُﺪْﺭَﺓٍ ﻋَﻠَﻰ  ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓِ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏِ، ﻏَﻔَﺮْﺕُ ﻟَﻪُ ﻭَﻻ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﻲ  ﺷَﻴْﺌًﺎ ‏» . ‏(ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﺍﻟﺼﻐﻴﺮ ﻭ ﺯﻳﺎﺩﺗﻪ: 4206 ‏).  “আল্লাহ সুবহানাহু  ওয়া তা‘আলা বলেন:  যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, আমিই  গুনাহ মাফ করার ক্ষমতাবান,  তাকে আমি ক্ষমা করে দেই  এবং যতক্ষণ সে আমার  সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করে,  ততক্ষণ (তাকে ক্ষমা করার ব্যাপারে)  আমি কোনো কিছুর  পরওয়া করি না।” [সহীহুল জামে‘ আস-  সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু: ৪২০৬]।  আল-কুরআনুল কারীম ও পবিত্র সহীহ  সুন্নাহ’র আলোকে  গুনাহ্ মাফের আমল  ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ  ভূমিকা  সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য;  আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট  সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর  কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি; আর  আমাদের নফসের জন্য ক্ষতিকর এমন সকল  খারাপি এবং আমাদের সকল প্রকার  মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয়  চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন,  কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না;  আর তিনি যাকে পথহারা করেন, কেউ  তাকে পথ দেখাতে পারবে না। আর  আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ  ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক,  তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরও  সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  তাঁর বান্দা ও রাসূল।  অতঃপর:  বান্দা অপরাধ থেকে মুক্ত নয়;  সুতরাং এই ত্রুটি থেকে কোনো আদম  সন্তানই মুক্ত নয়। আর নিষ্পাপ শুধু সেই,  যাকে আল্লাহ তা‘আলা পাপমুক্ত  করেছেন।  আর মানুষ শক্তি ও সামর্থ্যের  ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে;  এটাই অমোঘ মূলনীতি। আর  যে ব্যক্তি নিজকে নিয়ে  পর্যালোচনা করবে, সে তাকে এই  ধরনের ত্রুটিতে ভরপুর পাবে;  সুতরাং যখন তাকে তাওফীক (শক্তি-  সামর্থ্য) দেওয়া হবে, তখন তার উপর  ধ্বংসাত্মক আক্রমণের ভয়ে সে এর  থেকে সতর্ক ও সচেতন  হবে এবং আল্লাহর পথ থেকে ভিন্ন  পথে চলার কারণে সে ব্যথা অনুভব  করবে। অতঃপর যখন সে ব্যথা ও কষ্ট অনুভব  করবে, তখন সে মুক্তির আশায় গুনাহের  অভ্যাস ছেড়ে দিয়ে দ্রুত আল্লাহর  দিকে ফিরে আসবে। আর তখন সে গুনাহ  মাফের দরজা উন্মুক্ত অবস্থায় পাবে,  যার দুই পাল্লায় লেখা থাকবে:  ﴿ ۡﻞُﻗ۞ ﻳَٰﻌِﺒَﺎﺩِﻱَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﺳۡﺮَﻓُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢۡ ﻟَﺎ ﺗَﻘۡﻨَﻄُﻮﺍْ ﻣِﻦ  ﺭَّﺣۡﻤَﺔِ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻐۡﻔِﺮُ ﭐﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎۚ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﻐَﻔُﻮﺭُ  ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ ٥٣ ﴾ ‏[ﺍﻟﺰﻣﺮ : ٥٣‏]  “বলুন, ‘হে আমার বান্দাগণ!  তোমরা যারা নিজেদের  প্রতি অবিচার করেছ—আল্লাহ্র অনুগ্রহ  হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ্  সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।  নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [1]  পাপ মোচন দু’ভাবে হয়:  প্রথমত: মুছে ফেলা বা নিশ্চিহ্ন  করে দেওয়া; যেমন রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন:  ‏« ﻭَﺃَﺗْﺒِﻊِ ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔَ ﺍﻟْﺤَﺴَﻨَﺔَ ﺗَﻤْﺤُﻬَﺎ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .  “আর তুমি অসৎ কাজ  করলে সাথে সাথেই সৎকাজ কর,  তাহলে ভালো কাজ মন্দ  কাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।” [2] আর  এটা হল ক্ষমার পর্যায়।  দ্বিতীয়ত: পরিবর্তন করে দেওয়া; যেমন  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦ ﺗَﺎﺏَ ﻭَﺀَﺍﻣَﻦَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠٗﺎ ﺻَٰﻠِﺤٗﺎ ﻓَﺄُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻳُﺒَﺪِّﻝُ ﭐﻟﻠَّﻪُ  ﺳَﻴَِّٔﺎﺗِﻬِﻢۡ ﺣَﺴَﻨَٰﺖٖۗ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٗﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤٗﺎ ٧٠﴾ ‏[ﺍﻟﻔﺮﻗﺎﻥ :  ٧٠‏]  “তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে ও  সৎকাজ করে, ফলে আল্লাহ্ তাদের  গুণাহসমূহ নেক দ্বারা পরিবর্তন  করে দেবেন। আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল,  পরম দয়ালু।” [3] আর এটা হল ‘মাগফিরাত’  তথা গুনাহ মাফের পর্যায়।  আর যে ব্যক্তি (গুনাহ মাফের)  দু’টি পর্যায়  নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে, সে সূক্ষ্ম  পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারবে; কারণ,  মাগফিরাতের মধ্যে ক্ষমার উপর  অতিরিক্ত ইহসান ও দয়ার ব্যাপার  রয়েছে; আর এ দু’টিই উত্তম ও শুভসংবাদ।  জেনে রাখুন, এই দীন কত উদার! আর তার  নিয়মনীতি কত সহজ! তার  প্রতিটি শ্লোগানই হল উচ্চতা,  শ্রেষ্ঠত্ব, পবিত্রতা ও পরিষ্কার-  পরিচ্ছন্নতা নির্ভর; আর তার  প্রত্যেকটি অর্পিত দায়িত্বপূর্ণ কাজ,  শাস্তিবিধান, নির্দেশ এবং ধমক  বা তিরস্কারের মূল লক্ষ্য হল পবিত্র ও  পরিশুদ্ধ ব্যক্তি তৈরি করা। আল-  কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟﻨَّﺎﺱُ ﭐﻋۡﺒُﺪُﻭﺍْ ﺭَﺑَّﻜُﻢُ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢۡ ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻜُﻢۡ  ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗَﺘَّﻘُﻮﻥَ ٢١ ﴾ ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢١ ‏]  “হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই  রবের ‘ইবাদাত কর,  যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের  পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন,  যাতে তোমরা তাকওয়ার  অধিকারী হও।”[4]  নিশ্চয় এই শ্লোগান এবং শরী‘য়ত কর্তৃক  নির্ধারিত এই দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ  মানুষের দুর্বলতা ও  অক্ষমতা সম্পর্কে অচেতন নয়, তার  শক্তি ও সামর্থ্যের সীমানা অতিক্রম  করে না, তার  স্বভাবকে অবজ্ঞা করে না এবং তার  মনের অনেক অনেক আগ্রহ ও  উদ্দীপনা সম্পর্কে অজ্ঞ নয়।  আর সেই কারণেই অর্পিত কাজের  দায়িত্ব ও শক্তি-সামর্থ্যের মধ্যে,  ঠেলে দেওয়া ও টেনে ধরার মধ্যে,  উৎসাহিত করা ও হুমকি প্রদানের মধ্যে,  নির্দেশ ও তিরস্কারের  মধ্যে এবং অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড  আকারে শাস্তির ভয় প্রদর্শন ও ক্ষমার  ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারি আশা পোষণ করার  মধ্যে এক চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে।  এই দীন মানব  আত্মাকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ  অভিমুখী এবং রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের  অনুসরণ করাতে যথেষ্ট  ভূমিকা রাখে। … এর পরেও  সেখানে রয়েছে আল্লাহ তা‘আলার  অবারিত রহমত … যা ভুল-ত্রুটির মত  ঘাটতি পূরণ করবে … সীমাবদ্ধতার  ব্যাপারে সহানুভূতিশীল হবে …  তাওবা কবুল করবে … গুনাহ  ক্ষমা করবে … পাপরাশি ধুয়ে-  মুছে সাফ করে দিবে …  এবং প্রত্যাবর্তনকারীদের  সামনে তাদের বাসস্থান ও  আঙ্গিনা জান্নাতের  দিকে দরজা উন্মুক্ত করে দিবে।  দ্বীনের কাণ্ডারী আলেম দ্বিতীয়  শাইখুল ইসলাম ইবনু কায়্যিম আল-  জাওযিয়্যাহ রহ. বলেন:  ﻭﺃﻗﺪِﻡْ ﻭﻻ ﺗﻘْﻨَﻊْ ﺑﻌَﻴْﺶٍ ﻣُﻨَﻐَّﺺٍ  ﻓﻤﺎ ﻓﺎﺯَ ﺑﺎﻟﻠﺬﺍﺕِ ﻣَﻦ ﻟﻴﺲ ﻳﻘﺪﻡُ  (পদক্ষেপ নাও এবং অস্বস্তিকর  জীবনে তুমি সন্তুষ্ট হয়ো না;  কারণ, আনন্দ-ফুর্তির  দ্বারা সে ব্যক্তি সফল হবে না,  যে (তাওবার পথে) অগ্রসর হবে না।  ﻭﺇﻥ ﺿﺎﻗﺖِ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻋﻠﻴﻚَ ﺑﺄﺳﺮِﻫﺎ  ﻭﻟﻢ ﻳﻚُ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻨﺰﻝٌ ﻟﻚَ ﻳُﻌﻠَﻢُ  (যদিও দুনিয়ার তাবৎ কর্মকাণ্ডের  কারণে তোমার উপর দুনিয়া সঙ্কুচিত  হয়ে গেছে  এবং জানা মতে তোমার জন্য  তাতে কোনো বাসস্থানও নেই)।  ﻓﺤﻲَّ ﻋﻠﻰ ﺟﻨﺎﺕِ ﻋﺪْﻥٍ ﻓﺈﻧَّﻬﺎ  ﻣﻨﺎﺯﻟﻚَ ﺍﻷﻭﻟﻰ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﺍﻟﻤﺨﻴَّﻢُ  (সুতরাং তুমি শ্বাশ্বত বাসস্থান  জান্নাতের দিকে আস; কেননা, তা  তোমার প্রথম বাসস্থান  এবং তাতে রয়েছে তাঁবু গাড়ার  স্থান)।  ﻭﻟﻜﻨﻨﺎ ﺳَﺒْﻲُ ﺍﻟﻌﺪﻭِّ ﻓﻬﻞ ﺗﺮﻯ  ﻧﻌﻮﺩُ ﺇﻟﻰ ﺃﻭﻃﺎﻧِﻨﺎ ﻭﻧﺴﻠَّﻢُ  (কিন্তু আমারা হলাম শত্রুর  হাতে বন্দী; কেননা, তুমি কি মনে কর  —  আমরা আমাদের নিজ  আবাসভূমিতে ফিরে যাব  এবং তা সঠিক বলে মেনে নেব)।  ﻭﻗﺪ ﺯﻋﻤﻮﺍ ﺃﻥ ﺍﻟﻐﺮﻳﺐَ ﺇﺫﺍ ﻧﺄﻯ  ﻭﺷﻄَّﺖْ ﺑﻪ ﺃﻭﻃﺎﻧُﻪ ﻓﻬﻮ ﻣﻐﺮﻡ  (আর তারা ধারণা করে যে,  প্রবাসী ব্যক্তি যখন দূরে চলে যায়  এবং তার কারণে তার মাতৃভূমি খান  খান হয়, তখন সে তার প্রতি আকর্ষণ অনুভব  করে)।  ﻭﺃﻱُّ ﺍﻏﺘﺮﺍﺏٍ ﻓﻮﻕ ﻏﺮﺑَﺘِﻨﺎ ﺍﻟﺘﻲ  ﻟﻬﺎ ﺃﺿﺤﺖِ ﺍﻷﻋﺪﺍﺀُ ﻓﻴﻨﺎ ﺗَﺤَﻜَّﻢُ  (আমাদের প্রবাসজীবনের উপর আর  কোনো প্রবাসজীবন কী আছে?  যেখানে আমাদের উপর কর্তৃত্ব  হয়ে যায় শত্রুগণের)।  আমরা যে বিষয় অধ্যয়ন করছি, তা হল  আল-কুরআনের একগুচ্ছ সুস্পষ্ট আয়াত  এবং নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  কতগুলো বিশুদ্ধ হাদিস  যেগুলো আমি একত্রিত করেছি;  অতঃপর আমি তা লিপিবদ্ধ করেছি,  যার সবকটিই একই অর্থের অন্তর্ভুক্ত; আর  তা হল এমন আমল, যার  ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত  হয়েছে গুনাহ মাফ আর  পাপরাশি মোচনের।  আমি এ  আলোচনাটি সাজিয়েছি কয়েকটি  অধ্যায়ে, যাতে পাঠক সহজেই তার  বিষয়বস্তু সম্পর্কে অনুধাবন  করতে পারে এবং আমি তার নাম  দিয়েছি:  ‏« ﻣﻜﻔﺮﺍﺕ ﺍﻟﺬﻧﻮﺏ ﻓﻲ ﺿﻮﺀ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ﻭ ﺍﻟﺴﻨﺔ  ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﺔ ﺍﻟﻤﻄﻬﺮﺓ ‏»  (আল-কুরআনুল কারীম ও পবিত্র সহীহ  সুন্নাহ’র আলোকে গুনাহ্ মাফের আমল)  এখন দেখুন আমরা কিন্তু আমাদের সেই  ওয়াদাকৃত বিষয়টি উপস্থাপনের কাজ  শুরু করতে যাচ্ছি এবং আল্লাহ  সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার নিকট  আশা করছি যে, তিনি তার  দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করবেন;  তিনি হলেন খুবই নিকটতম, আবেদন-  নিবেদন কবুলকারী, তিনি ব্যতীত  উপাসনার যোগ্য আর কোনো ইলাহ্ নেই,  আমি তাঁর উপরই ভরসা করি এবং তাঁর  কাছেই তাওবা করি। আর সরল পথ  আল্লাহর কাছেই পৌঁছায়।  লেখক:  আবূ উসামা সালীম ইবন ‘ঈদ আল-  হেলালী  জামাদিউল উলা, ১৪০৮ হিজরী,  আম্মান, জর্দান।  * * *  ১. ঈমানের অধ্যায়  ১. ১. ইসলাম:  আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার  নিকট গ্রহণযোগ্য মূলনীতি ও  জীবনবিধান হল ইসলাম; কারণ, তা হল  প্রধান বিষয়; সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলাম  ভিন্ন অন্য কোনো পথ অনুসরণ করে চলবে,  সেই ব্যক্তি ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত  হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﺪِّﻳﻦَ ﻋِﻨﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﭐﻟۡﺈِﺳۡﻠَٰﻢُۗ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٩‏]  “নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র  দ্বীন।”[5]  আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন:  ﴿ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺒۡﺘَﻎِ ﻏَﻴۡﺮَ ﭐﻟۡﺈِﺳۡﻠَٰﻢِ ﺩِﻳﻨٗﺎ ﻓَﻠَﻦ ﻳُﻘۡﺒَﻞَ ﻣِﻨۡﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻓِﻲ  ﭐﻟۡﺄٓﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﺨَٰﺴِﺮِﻳﻦَ ٨٥ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ٨٥ ‏]  “আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য  কোনো দ্বীন গ্রহণ  করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ  থেকে কবুল  করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে  ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।”[6]  কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা হলেন  ন্যায়পরায়ণ ও দয়াবান, তিনি তাঁর  বান্দাদের জন্য কুফরীকে পছন্দ করেন  না; তাই তারা যখন  কুফরী করা থেকে বিরত থাকবে, তখন  তিনি তাদেরকে (তার প্রিয়  বান্দা হিসেবে) গ্রহণ করে নিবেন  এবং তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন;  কেননা, তিনি হলেন ক্ষমাশীল ও  দয়াবান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:  ﴿ ﻗُﻞ ﻟِّﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭٓﺍْ ﺇِﻥ ﻳَﻨﺘَﻬُﻮﺍْ ﻳُﻐۡﻔَﺮۡ ﻟَﻬُﻢ ﻣَّﺎ ﻗَﺪۡ ﺳَﻠَﻒَ ﻭَﺇِﻥ  ﻳَﻌُﻮﺩُﻭﺍْ ﻓَﻘَﺪۡ ﻣَﻀَﺖۡ ﺳُﻨَّﺖُ ﭐﻟۡﺄَﻭَّﻟِﻴﻦَ ٣٨ ﻭَﻗَٰﺘِﻠُﻮﻫُﻢۡ ﺣَﺘَّﻰٰ ﻟَﺎ  ﺗَﻜُﻮﻥَ ﻓِﺘۡﻨَﺔٞ ﻭَﻳَﻜُﻮﻥَ ﭐﻟﺪِّﻳﻦُ ﻛُﻠُّﻪُۥ ﻟِﻠَّﻪِۚ ﻓَﺈِﻥِ ﭐﻧﺘَﻬَﻮۡﺍْ ﻓَﺈِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺑِﻤَﺎ  ﻳَﻌۡﻤَﻠُﻮﻥَ ﺑَﺼِﻴﺮٞ ٣٩ ﴾ ‏[ﺍﻻﻧﻔﺎﻝ : ٣٨، ٣٩‏]  “যারা কুফরী করে তাদেরকে বলুন,  ‘যদি তারা বিরত হয়,  তবে যা আগে হয়ে গেছে আল্লাহ্  তা ক্ষমা করবেন; কিন্তু  তারা যদি অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি করে,  তবে পূর্ববর্তীদের রীতি তো গত  হয়েছেই। আর তোমরা তাদের  বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ  না ফেৎনা দুর হয় এবং দ্বীন  পূর্ণরূপে আল্লাহ্র জন্য হয়ে যায়; তারপর  যদি তারা বিরত হয়,  তবে তারা যা করে আল্লাহ্ তো তার  সম্যক দ্রষ্টা।”[7]  আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:  ‏«ﺇﺫﺍ ﺃَﺳْﻠَﻢَ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ، ﻓَﺤَﺴُﻦَ ﺇِﺳْﻼَﻣُﻪُ، ﻛَﺘَﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟﻪ ﻛﻞ ﺣﺴﻨﺔ  ﻛﺎﻥ ﺃَﺯْﻟَﻔَﻬَﺎ، ﻭَﻣُﺤِﻴَﺖْ ﻋَﻨْﻪُ ﻛُﻞُّ ﺳَﻴِّﺌَﺔٍ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺯْﻟَﻔَﻬَﺎ، ﺛُﻢَّ ﻛﺎﻥ  ﺑﻌﺪ ﺫﻟﻚ ﺍﻟْﻘِﺼَﺎﺹُ ، ﺍﻟْﺤَﺴَﻨَﺔُ ﺑِﻌَﺸْﺮ ﺃَﻣْﺜَﺎﻟِﻬَﺎ ﺇﻟﻰ ﺳَﺒْﻌِﻤِﺎﺋَﺔِ  ﺿِﻌْﻒٍ ، ﻭَﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔُ ﺑِﻤِﺜْﻠِﻬَﺎ ، ﺇِﻻَّ ﺃَﻥْ ﻳَﺘَﺠَﺎﻭَﺯَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ ‏» .  ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ‏) .  “বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার  ইসলাম গ্রহণ উত্তমভাবে হয়, তখন আল্লাহ  তা‘আলা তার আগের সকল ভাল  কাজকে ভাল কাজ বলে গণ্য করেন  এবং তার আগের সকল গুনাহ্  ক্ষমা করে দেওয়া হয়; অতঃপর শুরু হয়  প্রতিদান; একটি সৎ কাজের  বিনিময়ে দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ  পর্যন্ত সাওয়াব দেওয়া হয়; আর একটি মন্দ  কাজের বিনিময়ে তার সমপরিমাণ মন্দ  প্রতিফল; তবে আল্লাহ যদি মাফ  করে দেন, তাহলে ভিন্ন কথা।” [8]  নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই  বাণী একটি অতিরিক্ত হুকুম (বিধান)  সাব্যস্ত করল, যা আল্লাহর পক্ষ  থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ ও  দয়া হিসেবে প্রমাণিত; তা হল ইসলাম  পূর্ব সময়ের সকল ভাল কাজকে ভাল  কাজ বলে গণ্য করে নেওয়া[9] ; আর  অনুরূপভাবে তা হয়ে যাবে মহান  আল্লাহর অপার দান এবং মহান রব কর্তৃক  প্রদত্ত পুরস্কার।  অতএব, ঐ সত্তার নামে শপথ করে বলছি,  যাঁর হাতে আমার জীবন! এই মহান অনুগ্রহ  ও অবদান  থেকে আত্মভোলা ব্যক্তি ছাড়া আর  কেউ উদাসীন থাকতে পারে না,  যাকে শয়তান দখল করে নিয়েছে,  ফলে সে তার রবকে ভুলে গেছে। আল-  কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﻟَﻮۡ ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﺴۡﻤَﻊُ ﺃَﻭۡ ﻧَﻌۡﻘِﻞُ ﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻓِﻲٓ ﺃَﺻۡﺤَٰﺐِ ﭐﻟﺴَّﻌِﻴﺮِ  ١٠ ﻓَﭑﻋۡﺘَﺮَﻓُﻮﺍْ ﺑِﺬَﻧۢﺒِﻬِﻢۡ ﻓَﺴُﺤۡﻘٗﺎ ﻟِّﺄَﺻۡﺤَٰﺐِ ﭐﻟﺴَّﻌِﻴﺮِ ١١ ﺇِﻥَّ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ  ﻳَﺨۡﺸَﻮۡﻥَ ﺭَﺑَّﻬُﻢ ﺑِﭑﻟۡﻐَﻴۡﺐِ ﻟَﻬُﻢ ﻣَّﻐۡﻔِﺮَﺓٞ ﻭَﺃَﺟۡﺮٞ ﻛَﺒِﻴﺮٞ ١٢ ﻭَﺃَﺳِﺮُّﻭﺍْ  ﻗَﻮۡﻟَﻜُﻢۡ ﺃَﻭِ ﭐﺟۡﻬَﺮُﻭﺍْ ﺑِﻪِۦٓۖ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻋَﻠِﻴﻢُۢ ﺑِﺬَﺍﺕِ ﭐﻟﺼُّﺪُﻭﺭِ ١٣ ﺃَﻟَﺎ ﻳَﻌۡﻠَﻢُ  ﻣَﻦۡ ﺧَﻠَﻖَ ﻭَﻫُﻮَ ﭐﻟﻠَّﻄِﻴﻒُ ﭐﻟۡﺨَﺒِﻴﺮُ ١٤ ﴾ ‏[ﺍﻟﻤﻠﻚ : ١٠، ١٤‏]  “আর তারা বলবে, যদি আমরা শুনতাম  অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম,  তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের  অধিবাসী হতাম না। অতঃপর  তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে।  সুতরাং ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের  অধিবাসীদের জন্য! নিশ্চয়  যারা গায়েব অবস্থায় তাদের  রবকে ভয় করে, তাদের জন্য  রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। আর  তোমরা তোমাদের কথা গোপনেই বল  অথবা প্রকাশ্যে বল,  তিনি তো অন্তরসমূহে যা আছে তা  সম্পর্কে সম্যক অবগত।  যিনি সৃষ্টি করেছেন,  তিনি কি জানেন না? অথচ  তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত।” [10]  হে সন্দেহের  মরুভূমিতে দিশেহারা মানব জাতি! ঐ  আল্লাহর দিকে পালিয়ে আস, সবকিছু  যাঁর রহমত ও জ্ঞানের পরিধিভুক্ত।  হে বিচ্ছিন্ন প্রবৃত্তির মরীচিকায়  উত্তেজিত কামনাবিভোর জাতি!  মহান রব ও নিরবিচ্ছিন্ন ছায়ার  দিকে ছুটে আস।  হে লোকসকল! এ মাহান  সংবাদটি নিয়ে মুহূর্তকাল চিন্তা,  গবেষণা ও বিচার-বিশ্লেষণ কর।  আবদুর রাহমান ইবন শুমাসাহ আল-  মাহরী রা. থেকে বর্ণিত,  তিনি বলেন:  ‏« ﺣَﻀَﺮْﻧَﺎ ﻋَﻤْﺮَﻭ ﺑﻦَ ﺍﻟﻌَﺎﺹِ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭَﻫُﻮَ ﻓﻲ ﺳِﻴَﺎﻗَﺔِ  ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ، ﻓَﺒَﻜَﻰ ﻃَﻮِﻳﻼً ، ﻭَﺣَﻮَّﻝَ ﻭَﺟْﻬَﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺠِﺪَﺍﺭِ ، ﻓَﺠَﻌَﻞَ  ﺍﺑْﻨُﻪُ ﻳَﻘُﻮﻝُ : ﻳَﺎ ﺃﺑَﺘَﺎﻩُ ، ﺃﻣَﺎ ﺑَﺸَّﺮَﻙَ ﺭﺳﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ  ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻜَﺬَﺍ ؟ ﺃﻣَﺎ ﺑَﺸَّﺮَﻙَ ﺭﺳﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ  ﻭﺳﻠﻢ ﺑِﻜَﺬَﺍ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﺄﻗْﺒَﻞَ ﺑِﻮَﺟْﻬِﻪِ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺇﻥَّ ﺃﻓْﻀَﻞَ ﻣَﺎ  ﻧُﻌِﺪُّ ﺷَﻬَﺎﺩَﺓُ ﺃﻥْ ﻻ ﺇﻟﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪ ، ﻭَﺃﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪﺍً ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪِ ، ﺇﻧِّﻲ  ﻗَﺪْ ﻛُﻨْﺖُ ﻋَﻠَﻰ ﺃﻃْﺒَﺎﻕٍ ﺛَﻼَﺙٍ :  ﻟَﻘَﺪْ ﺭَﺃﻳْﺘُﻨِﻲ ﻭَﻣَﺎ ﺃﺣَﺪٌ ﺃﺷَﺪُّ ﺑُﻐﻀﺎً ﻟﺮﺳﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ  ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻣِﻨِّﻲ ، ﻭَﻻَ ﺃﺣَﺐَّ ﺇﻟﻲَّ ﻣِﻦْ ﺃﻥْ ﺃﻛُﻮﻥَ ﻗﺪِ  ﺍﺳْﺘَﻤﻜﻨﺖُ ﻣِﻨْﻪُ ﻓَﻘَﺘَﻠْﺘُﻪ ، ﻓَﻠَﻮْ ﻣُﺖُّ ﻋَﻠَﻰ ﺗﻠﻚَ ﺍﻟﺤَﺎﻝِ ﻟَﻜُﻨْﺖُ ﻣِﻦْ  ﺃﻫْﻞِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ .  ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺍﻹﺳﻼﻡَ ﻓﻲ ﻗَﻠْﺒِﻲ ﺃﺗَﻴْﺖُ ﺍﻟﻨﺒﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ  ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ، ﻓﻘُﻠْﺖُ : ﺍﺑﺴُﻂْ ﻳَﻤِﻴﻨَﻚَ ﻓَﻸُﺑَﺎﻳِﻌُﻚ ، ﻓَﺒَﺴَﻂَ  ﻳَﻤِﻴﻨَﻪُ . ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻘَﺒَﻀْﺖُ ﻳَﺪِﻱ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ‏« ﻣَﺎ ﻟَﻚَ ﻳَﺎ ﻋَﻤْﺮُﻭ ؟  ‏» . ﻗﻠﺖُ : ﺃﺭﺩﺕُ ﺃﻥْ ﺃﺷْﺘَﺮِﻁَ . ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺗَﺸْﺘَﺮِﻁ ﻣَﺎﺫﺍ ؟ ‏»  ﻗُﻠْﺖُ : ﺃﻥْ ﻳُﻐْﻔَﺮَ ﻟِﻲ ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺃﻣَﺎ ﻋَﻠِﻤْﺖَ ﺃﻥ ﺍﻹﺳﻼﻡَ ﻳَﻬْﺪِﻡُ  ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒْﻠَﻪُ ، ﻭَﺃﻥ ﺍﻟﻬِﺠْﺮَﺓَ ﺗَﻬْﺪِﻡُ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒﻠَﻬَﺎ ، ﻭَﺃﻥَّ ﺍﻟﺤَﺞَّ  ﻳَﻬْﺪِﻡُ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒْﻠَﻪُ ؟ ‏» .  ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃﺣﺪٌ ﺃﺣَﺐَّ ﺇﻟﻲَّ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ  ﻭﺳﻠﻢ ، ﻭَﻻَ ﺃﺟَﻞَّ ﻓﻲ ﻋَﻴﻨﻲ ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨْﺖُ ﺃُﻃﻴﻖُ ﺃﻥ ﺃﻣﻸ  ﻋَﻴﻨﻲ ﻣِﻨْﻪُ ؛ ﺇﺟﻼﻻً ﻟَﻪُ ، ﻭﻟﻮ ﺳﺌﻠﺖ ﺃﻥ ﺃﺻﻔﻪ ﻣَﺎ ﺃﻃﻘﺖ ،  ﻷﻧﻲ ﻟَﻢْ ﺃﻛﻦ ﺃﻣﻸ ﻋﻴﻨﻲ ﻣِﻨْﻪُ ، ﻭﻟﻮ ﻣُﺖُّ ﻋَﻠَﻰ ﺗِﻠْﻚَ ﺍﻟﺤﺎﻝِ  ﻟَﺮﺟَﻮْﺕُ ﺃﻥ ﺃﻛُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﺃﻫْﻞِ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ .  ﺛُﻢَّ ﻭَﻟِﻴﻨَﺎ ﺃﺷْﻴَﺎﺀَ ﻣَﺎ ﺃﺩْﺭِﻱ ﻣَﺎ ﺣَﺎﻟِﻲ ﻓِﻴﻬَﺎ ؟ ﻓَﺈﺫَﺍ ﺃﻧَﺎ ﻣُﺖُّ ﻓَﻼَ  ﺗَﺼﺤَﺒَﻨِّﻲ ﻧَﺎﺋِﺤَﺔٌ ﻭَﻻَ ﻧَﺎﺭٌ ، ﻓَﺈﺫﺍ ﺩَﻓَﻨْﺘُﻤُﻮﻧِﻲ ، ﻓَﺸُﻨُّﻮﺍ ﻋَﻠﻲَّ  ﺍﻟﺘُّﺮﺍﺏَ ﺷَﻨّﺎً ، ﺛُﻢَّ ﺃﻗِﻴﻤُﻮﺍ ﺣَﻮْﻝَ ﻗَﺒْﺮِﻱ ﻗَﺪْﺭَ ﻣَﺎ ﺗُﻨْﺤَﺮُ ﺟَﺰﻭﺭٌ ،  ﻭَﻳُﻘْﺴَﻢُ ﻟَﺤْﻤُﻬَﺎ ، ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﺳْﺘَﺄﻧِﺲَ ﺑِﻜُﻢْ ، ﻭَﺃﻧْﻈُﺮَ ﻣَﺎ ﺃُﺭَﺍﺟﻊُ ﺑِﻪِ  ﺭﺳُﻞَ ﺭَﺑّﻲ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .  “আমরা ‘আমর ইবন ‘আসের নিকট হাযির  হলাম, তখন তিনি ছিলেন মুমূর্ষাবস্থায়  — মৃত্যুযন্ত্রনায় কাতর; তারপর  তিনি বহুক্ষণ ধরে কাঁদলেন এবং তার  চেহারা দেয়ালের  দিকে ফিরিয়ে নেন। এ  অবস্থা দেখে তার পুত্র তাকে উদ্দেশ্য  করে বলতে লাগলেন: হে আব্বাজান!  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  কি আপনাকে এরূপ সুসংবাদ শোনান  নি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  কি আপনাকে অমুক সুসংবাদ শোনান  নি? বর্ণনাকারী বলেন: তারপর  তিনি মুখ ফেরালেন এবং বললেন:  আমাদের সর্বোত্তম পুঁজি হল এই কথার  সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর  কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আল্লাহর রাসূল। বস্তুত  আমি জীবনে তিন তিনটি পর্যায় [11]  অতিক্রম করেছি:  আমার জীবনের এমন একটি পর্যায়ও  ছিল, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আর  কারও প্রতি আমার এতো বেশি কঠোর  বিদ্বেষ ও শত্রুতা ছিল না; আওতায়  পেলে তাঁকে হত্যা করে ফেলার  চাইতে বেশি প্রিয় আমার নিকট আর  কিছু ছিল না; সুতরাং ঐ অবস্থায়  যদি আমার মৃত্যু হয়ে যেত,  তাহলে আমি নিশ্চিত জাহান্নামের  অধিবাসী হয়ে যেতাম।  অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যখন আমার  অন্তরে ইসলামের মনোভাব ও আকর্ষণ  তৈরি করে দিলেন, তখন  আমি নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট  আসলাম এবং তারপর বললাম: আপনার  ডান হাত বাড়িয়ে দিন, আমি আপনার  নিকট (আনুগত্যের) বাই‘আত গ্রহণ  করতে চাই; তখন তিনি তাঁর ডানহাত  প্রসারিত করে দিলেন। তিনি (‘আমর  ইবন ‘আস রা.) বললেন: এবার আমি হাত  গুটিয়ে নিলাম। তিনি বললেন:  হে ‘আমর! তোমার কী হয়েছে?  জবাবে আমি বললাম: আমি শর্ত  করতে চাই। তিনি বললেন:  তুমি কী শর্ত করতে চাও?  জবাবে আমি বললাম: আমাকে যেন  ক্ষমা করে দেওয়া হয়; এবার  তিনি বললেন: “তোমার  কি জানা নেই যে, ইসলাম ইসলাম-পূর্ব  জীবনের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়? আর  হিজরত হিজরত-পূর্ব জীবনের সকল গুনাহ  ধ্বংস করে দেয়? আর হাজ্জ হাজ্জ-পূর্ব  জীবনের সকল গুনাহ ধ্বংস  করে দেয়?” (যাই হউক, এরপর  আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট  বাই‘আত গ্রহণ করলাম)।  আর তখন আমার নিকট রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  চেয়ে অধিক প্রিয় আর কেউ রইল না;  আমার চোখে তাঁর চেয়ে অধিক  মর্যাদাবানও আর কেউ থাকল  না এবং তাঁর অপরিসীম মর্যাদা ও  গাম্ভীর্যের দরুন আমি চোখভরে তাঁর  প্রতি তাকাতে পর্যন্ত পারতাম না।  ফলে আমাকে রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আকার-  প্রকৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে  তার বর্ণনা দিতে আমি অক্ষম হবো,  কারণ আমি তাঁর প্রতি পূর্ণ  চোখে তাকাতাম না। এই অবস্থায়  যদি আমার মৃত্যু হয়ে যেতো,  তাহলে আমি জান্নাতবাসীদের  অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নিশ্চিত আশা ছিল।  এরপর আমাদেরকে অনেক  যিম্মদারী বা দায়-দায়িত্ব মাথায়  নিতে হলো; জানি না, সেসব  ব্যাপারে আমার অবস্থা কী হবে? যাই  হউক, আমার যখন মৃত্যু হবে, তখন আমার  জানাযায় যেন  কোনো বিলাপকারিনী ও আগুনের  সংশ্রব না থাকে। আর তোমরা যখন  আমাকে দাফন করবে, তখন আমার  কবরে অল্প অল্প করে মাটি ফেলবে;  অতঃপর আমার কবরের চারপাশে এ  পরিমাণ সময় অবস্থান করবে, যে সময়ের  মধ্যে একটি উট যবাই করে তার গোশত  বণ্টন করা যায়; যাতে আমি তোমাদের  ভালবাসা ও সান্নিধ্য লাভ  করতে পারি এবং আমার রবের  পাঠানো ফিরিশ্তাদের  সাথে কি ধরনের বাক-বিনিময় হয়,  তা জেনে নিতে পারি।”[12]  ১. ২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও  অনুসরণ করা:  আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা একের  পর এক ধারাবাহিকভাবে তাঁর  রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন,  যাতে তাঁরা পথহারা মানুষদেরকে  অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের  করে নিয়ে যেতে পারেন। আর  আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের অনুসরণ  করাকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন।  আল-কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻭَﻣَﺎٓ ﺃَﺭۡﺳَﻠۡﻨَﺎ ﻣِﻦ ﺭَّﺳُﻮﻝٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻴُﻄَﺎﻉَ ﺑِﺈِﺫۡﻥِ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ :  ٦٤ ‏]  “আল্লাহর অনুমতিক্রমে কেবলমাত্র  আনুগত্য করার জন্যই আমরা রাসূলদের  প্রেরণ করেছি।” [13]  আর নবী-রাসূল প্রেরণের  ধারাবহিকতায় নবীদের মাঝ  থেকে আমাদের জন্য বরাদ্ধ হয়েছেন  মুহাম্মাদ ইবন আবদিল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম,  যেমনিভাবে উম্মাতগণের মধ্য  থেকে আমরা হলাম তাঁর ভাগের  উম্মাত; এই জন্য তাঁর আনুগত্য  করা ছাড়া আর কোনো আনুগত্যই শুদ্ধ  হবে না। আর নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করার বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে আল-  কুরআনুল কারীম অনেকভাবে বক্তব্য পেশ  করেছে, যেগুলোকে সুস্পষ্ট আয়াত  বলে গণ্য করা হয়:  (ক) রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান  আনার আবশ্যকতা নিয়ে বর্ণিত আয়াত:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻓََٔﺎﻣِﻨُﻮﺍْ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﭐﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﭐﻟۡﺄُﻣِّﻲِّ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺆۡﻣِﻦُ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ  ﻭَﻛَﻠِﻤَٰﺘِﻪِۦ ﻭَﭐﺗَّﺒِﻌُﻮﻩُ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗَﻬۡﺘَﺪُﻭﻥَ ١٥٨ ﴾ ‏[ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ١٥٨‏]  “কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহর  প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি,  যিনি আল্লাহ্ ও তাঁর  বাণীসমূহে ঈমান রাখেন। আর  তোমরা তার অনুসরণ কর,  যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত  হও।”[14]  আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের  প্রতি ঈমান আনার বিষয়টির  সাথে সংযুক্ত  করে দেওয়া হয়েছে নবী  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও  অনুসরণ করার বিষয়টিকে;  সুতরাং জানা গেল যে, ব্যক্তির সকল  অবস্থায় এই শর্তটি পূরণ করা আবশ্যক।  ( খ) যে আয়াত প্রমাণ করে যে, রাসূল  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করা মানে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য  করা; কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করা ছাড়া আল্লাহর আনুগত্য হয় না:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻣَّﻦ ﻳُﻄِﻊِ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻓَﻘَﺪۡ ﺃَﻃَﺎﻉَ ﭐﻟﻠَّﻪَۖ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ٨٠‏]  “কেউ রাসূলের আনুগত্য  করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য  করল।”[15]  (গ) যে আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার  আনুগত্য করার নির্দেশের সাথে রাসূল  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করার বিষয়টিকে সংযুক্ত  করে দেওয়া হয়েছে:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮٓﺍْ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻭَﺃُﻭْﻟِﻲ  ﭐﻟۡﺄَﻣۡﺮِ ﻣِﻨﻜُﻢۡۖ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ٥٩ ‏]  “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর  আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর, আরও  আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যকার  ক্ষমতাশীলদের ।”[16]  (ঘ) যেসব আয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করার বিষয়টিকে আল্লাহর বন্দাগণের  জন্য তাঁর রহমত পাওয়ার উপলক্ষ্য  বানিয়ে দেওয়া হয়েছে:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗُﺮۡﺣَﻤُﻮﻥَ ١٣٢ ﴾ ‏[ ﺍﻝ  ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٣٢‏]  “আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য  কর, যাতে তোমরা কৃপা লাভ  করতে পার।”[17] আল্লাহ তা‘আলা আরও  বলেছেন:  ﴿ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗُﺮۡﺣَﻤُﻮﻥَ ٥٦ ﴾ ‏[ﺍﻟﻨﻮﺭ : ٥٦‏]  “আর তোমরা রাসূলের আনুগত্য কর,  যাতে তোমাদের উপর রহম করা হয়।”[18]  আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:  ﴿ ﻭَﻳُﻄِﻴﻌُﻮﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُۥٓۚ ﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﺳَﻴَﺮۡﺣَﻤُﻬُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُۗ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ :  ٧١‏]  “আর তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের  আনুগত্য করে; তারাই,  যাদেরকে আল্লাহ্ অচিরেই  দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্  পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [19]  (ঙ) যে আয়াত হেদায়াতের  বিষয়টিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করার শর্তের সাথে সংযুক্ত করেছে:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻗُﻞۡ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَۖ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻮۡﺍْ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻋَﻠَﻴۡﻪِ ﻣَﺎ  ﺣُﻤِّﻞَ ﻭَﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢ ﻣَّﺎ ﺣُﻤِّﻠۡﺘُﻢۡۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗُﻄِﻴﻌُﻮﻩُ ﺗَﻬۡﺘَﺪُﻭﺍْۚ ﻭَﻣَﺎ ﻋَﻠَﻰ  ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝِ ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟۡﺒَﻠَٰﻎُ ﭐﻟۡﻤُﺒِﻴﻦُ ٥٤ ﴾ ‏[ﺍﻟﻨﻮﺭ : ٥٤‏]  “বলুন, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর  এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ তারপর  যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও,  তবে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য  তিনিই দায়ী এবং তোমাদের উপর  অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই  দায়ী; আর তোমরা তার আনুগত্য  করলে সৎপথ পাবে, মূলত: রাসূলের  দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া  ।”[20]  আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের  বিষয়টি তখনই প্রকৃত রূপে ফুটে উঠবে, যখন  মুসলিম ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  সুন্নাহকে হুবহু প্রাধান্য দিবে; কেননা,  সে নিশ্চিতভাবে জানে যে,  আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ  মানব জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত  (তার জন্ম  থেকে কবরে মাটি চাপা দেওয়া  পর্যন্ত) ছোট ও বড় সকল  বিষয়কে নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেছে।  সুতরাং যে ব্যক্তি এই কাজটি করবে,  সে যেন গুনাহ্ মাফ ও পাপ মোচনের  সুসংবাদ গ্রহণ করে। আল্লাহ  তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻗُﻞۡ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢۡ ﺗُﺤِﺒُّﻮﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻓَﭑﺗَّﺒِﻌُﻮﻧِﻲ ﻳُﺤۡﺒِﺒۡﻜُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻳَﻐۡﻔِﺮۡ  ﻟَﻜُﻢۡ ﺫُﻧُﻮﺑَﻜُﻢۡۚ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٞ ﺭَّﺣِﻴﻢٞ ٣١ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ٣١‏]  “বলুন,  ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস,  তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ  তোমাদেরকে ভালবাসবেন  এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন।  আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম  দয়ালু।” [21]  আর যখন একদল জিন রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  কাছে শুনতে পায়  এবং জানতে পারে যে, তাঁর অনুসরণ  করা গুনাহ্ মাফের উপায়, তখন  তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ভয়  প্রদর্শনকারী হিসেবে ফিরে যায়।  আল-কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻳَٰﻘَﻮۡﻣَﻨَﺎٓ ﺃَﺟِﻴﺒُﻮﺍْ ﺩَﺍﻋِﻲَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺀَﺍﻣِﻨُﻮﺍْ ﺑِﻪِۦ ﻳَﻐۡﻔِﺮۡ ﻟَﻜُﻢ ﻣِّﻦ  ﺫُﻧُﻮﺑِﻜُﻢۡ ﻭَﻳُﺠِﺮۡﻛُﻢ ﻣِّﻦۡ ﻋَﺬَﺍﺏٍ ﺃَﻟِﻴﻢٖ ٣١ ﴾ ‏[ﺍﻻﺣﻘﺎﻑ : ٣١ ‏]  “হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর  দিকে আহ্বানকারীর  প্রতি সাড়া দাও এবং তাঁর উপর ঈমান  আন, তিনি তোমাদের পাপসমূহ  ক্ষমা করবেন এবং যন্ত্রণাদায়ক  শাস্তি হতে তোমাদেরকে রক্ষা  করবেন।” [22]  আর এই জন্যই  খাঁটি মুমিনদেরকে দেখা যায়—  তারা নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ  করার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার  কাছে প্রার্থনা ও মিনতি করে,  যাতে তিনি তাদের গুনাহসমূহ  ক্ষমা করে দেন, পাপসমূহ মোচন  করে দেন এবং সর্বোত্তমভাবে মৃত্যু  তথা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান;  আল-কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﺭَّﺑَّﻨَﺎٓ ﺇِﻧَّﻨَﺎ ﺳَﻤِﻌۡﻨَﺎ ﻣُﻨَﺎﺩِﻳٗﺎ ﻳُﻨَﺎﺩِﻱ ﻟِﻠۡﺈِﻳﻤَٰﻦِ ﺃَﻥۡ ﺀَﺍﻣِﻨُﻮﺍْ ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢۡ  ﻓََٔﺎﻣَﻨَّﺎۚ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻓَﭑﻏۡﻔِﺮۡ ﻟَﻨَﺎ ﺫُﻧُﻮﺑَﻨَﺎ ﻭَﻛَﻔِّﺮۡ ﻋَﻨَّﺎ ﺳَﻴَِّٔﺎﺗِﻨَﺎ ﻭَﺗَﻮَﻓَّﻨَﺎ ﻣَﻊَ  ﭐﻟۡﺄَﺑۡﺮَﺍﺭِ ١٩٣ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٩٣ ‏]  “হে আমাদের রব! আমরা এক  আহ্বায়ককে ঈমানের দিকে আহ্বান  করতে শুনেছি, ‘তোমরা তোমাদের  রবের উপর ঈমান আন।’ কাজেই  আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব!  আপনি আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করুন,  আমাদের মন্দ কাজগুলো দূরীভূত করুন  এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের  সহগামী করে মৃত্যু দিন।” [23]  আর এই ধরনের  অসীলা করাটা শরী‘য়তসম্মত অসীলার  এক প্রকার; কেননা, সে সৎকাজ  দ্বারা অসীলা করেছে।  অতএব, হে আমাদের রব! তোমার নবীর  প্রতি আমাদের ভালবাসা এবং কথায়  ও কাজে তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ করার  কারণে আপনি আমাদের  অন্তরকে আপনার দীনের উপর অটল রাখুন;  আর আপনি এক মুহূর্তের জন্যেও  আমাদেরকে আমাদের নিজেদের  দায়িত্বে ছেড়ে দিবেন না; আর  আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন,  আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই  আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির  সম্প্রদায়ের  বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।  * * * [1] সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৩  [2] তিরমিযী, হাদিস নং- ১৯৮৭,  তিনি হাদিসটিকে হাসান-সহীহ  বলেছেন।  [3] সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭০  [4] সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১  [5] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯  [6] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫  [7] সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩৮ – ৩৯  [8] ইমাম বুখারী রহ.  হাদিসটি ‘তা‘লিকাত’ এর  মধ্যে বর্ণনা করেছেন: (১/৯৭— ফতহুল  বারী); তবে ‏« ﻛَﺘَﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟﻪ ﻛﻞ ﺣﺴﻨﺔ ﻛﺎﻥ ﺃَﺯْﻟَﻔَﻬَﺎ  ‏» (আল্লাহ তা‘আলা তার আগের সকল  ভাল কাজকে ভাল কাজ বলে গণ্য  করেন)— এই কথাটি তার বর্ণনার  মধ্যে নেই। আর ইমাম নাসায়ী রহ.  হাদিসটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন  এবং তাঁর বর্ণনায় তিনি ‏« ﻛَﺘَﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟﻪ ﻛﻞ  ﺣﺴﻨﺔ ﻛﺎﻥ ﺃَﺯْﻟَﻔَﻬَﺎ ‏» — এই কথাটি অন্তর্ভুক্ত  করেছেন।  হাফেয ইবনু হাজার ‘আসকালানী তাঁর  ‘ফতহুল বারী’ (১/৯৯) নামক গ্রন্থে বলেন:  “ইমাম বুখারী রহ. এর বর্ণনা যা বাদ  গিয়েছে, তা বাকি সকল বর্ণনার  মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে; আর তা হল  ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে করা সকল ভাল  কাজকে ভাল কাজ বলে গ্রহণ করার  বিষয়টি।”  [9] দেখুন: আমার প্রবন্ধ ‘মুবতিলাতুল  আ‘মাল’ ( ﻣﺒﻄﻼﺕ ﺍﻷﻋﻤﺎﻝ ), মাসআলা (প্রশ্ন)  নং- ১; তাতে এই বিধান  প্রসঙ্গে বিস্তারিত  আলোচনা রয়েছে; যা দারু ইবনিল  কায়্যিম— দাম্মাম থেকে প্রকাশিত।  [10] সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১০ – ১৪  [11] অর্থাৎ তিনটি পর্যায়  মানে তিনটি অবস্থা অতিক্রম  করেছি; যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:  ﴿ ﻟَﺘَﺮۡﻛَﺒُﻦَّ ﻃَﺒَﻘًﺎ ﻋَﻦ ﻃَﺒَﻖٖ ١٩ ﴾ ‏[ﺍﻻﻧﺸﻘﺎﻕ : ١٩‏]  “অবশ্যই তোমরা এক স্তর থেকে অন্য  স্তরে আরোহণ করবে।” – (সূরা আল-  ইনশিকাক, আয়াত: ১৯)।  [12] মুসলিম, হাদিস নং- ৩৩৬  [13] সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৪  [14] সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮  [15] সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০  [16] সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯  [17] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩২  [18] সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৬  [19] সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৭১  [20] সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৪  [21] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১  [22] সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ৩১  [23] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৩

নারী ও ‍পুরুষের সালাতে কি কোন পার্থক্য আছে?

 


নারী ও ‍পুরুষের সালাতে কি কোন পার্থক্য আছে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো শাইখ।

শাইখ আবদুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল । দাঈ,জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার ।
উত্তর :- ঠিক মতানুযায়ী নারী-পুরুষের নামাযের পদ্ধতিগত কোন পার্থক্য নেই। যেমন, কিয়াম, কিরাআত, রুকু, সিজদা, তাশাহুদ, সালাম ইত্যাদি।
কিন্তু

কিছু বিষয়ের পার্থক্য হাদীস দ্বারা প্রমানিত। তন্মধ্যে, আযান, একামত, জামাআতে নামায, মাসজিদে গমণ, জুমার নামায ইত্যদি কেবল পুরুষদের জন্য;মহিলাদের জন্য নয়। অনুরূপভাবে পর্দা, নামাযের ইমামতি, ইমামের ভুল সংশোধন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের পার্থক্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

—————————-
রাসূল (ছাঃ) এর সালাত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছিল একথা ভাববার কোন অবকাশ নেই। পুরুষ ও মহিলা সালাতের মধ্যে পদ্ধতিগত কোন পর্থক্য নেই। সতর বা পর্দার যে বিষয়টি মেয়েদের সালাতের বিষয়ে বিভিন্ন নামায শিক্ষা বইতে এসেছে তা মেয়েদের পূর্ণাঙ্গ পর্দার মধ্যে সালাত আদায়ের নির্দেশই যথেষ্ট। এতে নতুন করে যুক্তি পেশ করার প্রয়োজন নেই।
আমাদের মধ্যে যঈফ ও জাল হাদীসের অনুকরণে সালাত চালু থাকার কারণে এবং বিভিন্ন ‘মাযহাব পন্থীর গোড়ামীর’ কারণে বিভিন্ন নিয়ম চালু হয়ে গিয়েছে। এজন্য আমাদের সমাজের মহিলারা কিংবা পুরুষেরা মনে করে, তাদের সালাত আলাদা। কিন্তু বাস্তবে পুরুষ মহিলাদের সালাতের মধ্যে পদ্ধতিগত কোন পার্থক্য নেই এবং এ ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীসও বর্ণিত হয়নি সালাত আদায় করার জন্য নারী পুরুষ কারোর জন্য স্বতন্ত্র নিয়ম করা হয়নি।
জিবরাঈল (আঃ) মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ক্রমে দুই দফায় রাসূল (সাঃ)-কে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নিয়ম পদ্ধতি ইমামতি করে বাস্তবভাবে শিখিয়ে গেছেন। এ সময় জিবরাঈল (আঃ) নারীদের সালাতের জন্য আলাদা কোন নিয়ম পদ্ধতির বর্ণনা দেন নাই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষের জন্য এ নমুনা শিখানো হয়েছে। আল্লাহর নিয়ম পদ্ধতিতে কখনও কোন পার্থক্য দেখা যাবে না।
এ মর্মে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আর আপনি আল্লাহর নিয়ম-রীতিতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবেন না।”
[সূরা-আহযাব : আয়াত-৬২]
(নারী-পুরুষ উভয় জাতির) উম্মতকে সম্বোধন করে রাসূল(ছাঃ) বলেছেন,
“তোমরা সেইরুপ সালাত আদায় কর,
যেইরুপ আমাকে করতে দেখেছ”।
(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৮৯)।
উল্লেখ্য হাদীসটি উম্মে দারদা(রাঃ)থেকে বর্ণিত আছে।তিনি একজন ফকীহাও ছিলেন।
উভয়ের ছলাত আলাদাভাবে বলা হয়নি।
সুতরাং যে আদেশ শরীয়ত পুরুষদেরকে করেছে, সে আদেশ নারীদেরকেও করেছে। এবং যে সাধারণ আদেশ মহিলাদের তাও পুরুষদের ক্ষেত্রে পালনীয়- যদি বিশেষ হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার দলীল না থাকে।
যেমন,
আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’লা বলেন:
“যারা সতী মহিলাদের উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর চারজন স্বাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদের জন্য শাস্তি হল ৮০ কোড়া- —। (কুরআন-২৪/৪)।
পরন্ত যদি কেউ কোন সৎ পুরুষকে অনুরুপ অপবাদ দেয়, তবে তার জন্য একই শাস্তি প্রযোজ্য।
সুতরাং মহিলারাও তাদের সালাতে পুরুষদের মতই হাত তুলবে। পিঠ লম্বা করে রুকু করবে, তাশাহুদেও সেইরুপ বসবে, যেরুপ পুরুষরা বসে।
মসজিদে নববীতে নারী পুরুষ সকলে রাসূল(ছাঃ) এর (ইমামতি) পিছনে একই নিয়মে সালাত ও জুম’আ আদায় করেছেন। (বুখারী, মিশকাত হা/৯৪৮, মুসলিম,
মিশকাত হা/১৪০৯)।
উম্মে দারদা (রাঃ) তার সালাতে পুরুষের মতই বসতেন। আর তিনি একজন ফকীহা ছিলেন। (আত-তারীখুস স্বাগীর, বুখারী ১/৩৫৫ পৃঃ, ফাৎহুল বারী ২/৩৫৫)।
মহিলাদের জন্য পুরুষদের ন্যায় মুস্তাহাব আর তা হলো, ডান পা খাড়া করে রাখবে এবং বাম পা বিছিয়ে রাখবে।
এটা ইমাম নাসাঈ, ইমাম আবূ হানীফা এবং ইমাম মালিক (রহঃ) এর উক্তি।
(আইনী ৩য় খন্ড ১৬৫ পৃষ্ঠা)।
ইবরাহীম নাখয়ী (রঃ) বলেন,
মহিলারা ঐরুপ করবে, যেরুপ পুরুষরা করে থাকে। (ইবনু আবী শাইবাহ, সিসান ১৮৯ পৃঃ)।
এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, সালাতের মধ্যকার ফরয ও সুন্নাত সমূহ মুসলিম নারী ও পুরুষ সকলে একই নিয়মে আদায় করতে হবে।
(মির’আত ৩/৫৯ পৃঃ; ফিকহুস সুন্নাহ ১/১০৯; নায়লুল আওত্বার ৩/১৯)।
মহিলারা পুরুষদের মত একই নিয়মে সালাত আদায় করবে।
(ইবনে আবি শাইবা ১/৭৫/২, সিফাতু সালাতুন্নবী ১৮৯ পৃঃ)।
আর মহিলাদের জড়োসড়ো হয়ে সিজদাহ করার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস নেই।
(সিযঃ ২৬৫২ নং)।
আলবানী বলেন,‘পুরুষ ও মহিলাদের সালাতের পার্থক্য সম্পর্কে আমি একটিও সহীহ হাদীস জানি না। এটা ব্যক্তি রায় ও ইজতিহাদ মাত্র। (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৫০০ এর আলোচনা দ্রঃ)
বেগানা পুরুষ আশে পাশে থাকলে কির’আত পাঠের ক্ষেত্রে (জেহরী সলাতে) মহিলা সশব্দে কুরআন পড়বে না। তবে না থাকলে পড়তে হবে। (আল মারআতুল মুসলিমাহ ৩/৩০৪)।
সুনিদৃষ্ট সহীহ দলীলের ভিত্তিতে মহিলা ও পুরুষের সালাত কিছু পার্থক্য?
ক.মহিলারা মহিলা জাম‘আতে ইমামতি করলে প্রথম কাতারের মাঝখানে দাড়াবে।
আম্মার দুহনী হতে বর্ণিত, তিনি তার বংশের জনৈক মহিলা যার নাম ‘হুজায়রাহ’ হতে বর্ণনা করেন,তিনি উম্মে সালামা হতে বর্ণনা করেন। উম্মে সালামা(রাঃ) তাদের ইমামতি করতেন এবংতাদের মাঝ বরাবর দাঁড়াতেন।
(সুনানুল কুবরা হা/৫৫৬৩;আয়নুল মা‘বুদ ২খন্ড ২১২পৃঃ)।
খ.সালাতে ইমামের ভুল স্মরণ করাবার জন্য ডান হাত দ্বারা বাম হাতে মেরে আওয়াজ দিয়ে স্মরণ করাবে। (বুখারি হা/১২০৩)
গ.মহিলারা পুরুষের কাতারে একা থাকলেও একাই দাড়াতে হবে।
( বুখারি হা/৭২৭,৩৮০)।
ঘ.মহিলাদের আপাদমস্তক না ঢাকলে সালাত কবুল হবেনা।
(আবু দাউদ হা/৬৪১,তিরমিযী হা/৩৭৭)
ঙ.মহিলারা পুরুষদের ইমামতি করতে পারবেনা।( বুখারি হা/৭২৭)।
চ. মহিলাদের পায়ের গোড়ালি ঢেকে রাখবে।
(আবু দাউদ হা/৬৩৭,মিশকাত হা/৪৩৩১)।
ছ. জাম‘আতে সালাত আদায় কালীন পুরুষদের মাথা উঠানোর পর মহিলারা মাথা উঠাবে।
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,“তহবন্দ ——-খাটো —হে নারী সমাজ। পুরুষরা তাদের মাথা উত্তোলন না করা পর্যন্ত তোমরা সাজদা হতে তোমাদের মাথা উত্তোলন করবে না।’
(মুসলিম ১/১৮২পৃঃ হা/৬৬৫)
মহিলা ও ‍পুরুষের সালাত পার্থক্যের কতিপয় বর্ণণা ?
বিভিন্ন সালাত শিক্ষা বইয়ে পুরুষ ও মহিলাদের সালাতের মাঝে অনেক পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। কিছু দলীলও পেশ করেছেন। হাদীস বিদ্বানগনের বিশ্লেষন ও যাচাই বাছাই করলে দেখা যায় সে গুলো জাল ও যঈফ।
পুরুষও মহিলার সালাতের পার্থেক্যের ব্যাপারে যে সমস্ত বর্ণনা গুলো পেশ করা হয় তার কয়েকটি নিম্নরুপঃ
১.ইয়াযিদ ইবনু আবী হাবীব বলেন, দু’জন মহিলা সালাত রত অবস্থায় রাসূল(ছাঃ) তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, সিজদাহর সময় তোমরা শরীরের কিছু অংশ মাটির সাথে ঠেকিয়ে দাও। কারন মহিলাদের সিজদাহ পুরুষের মত নয়।
(বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/৩৩২৫) ।
হাদীসটি যঈফ।
(সিলসিলা যইফাহ হা/২৬৫২)।
বিশ্লেষণ : উক্ত বর্ণনা উল্লেখ করে ইমাম বায়হাক্বী নিজেই বলেছেন, এই বিষয়ে দুইটি মারফূ’ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু কোনটিই নির্ভরযোগ্য নয়। (বায়হাক্বী, মা’রেফাতুস সুনান ওয়াল আছার হা/১০৫০)
আবূ দাউদ মিরাসালে এই মুরসাল বর্ণনাটি আছে তাও উক্ত সনদে ‘ইয়াযীদ বিন আবী হাবিব’ যঈফ রাবী। ‘মুরসাল’ বর্ণনা অগ্রহনযোগ্য । কারন যে সনদের শেষ ভাগে তাবেঈর পরের ব্যক্তি অর্থাৎ সাহাবীকে উহ্য রেখে তাবেঈ বলবেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এরুপ সনদের হাদীসকে মুরসাল বলা হয়। (এর সমর্থনে কোন মারফু অথবা মাওকুফ হাদীস না থাকলে এরুপ বর্ণনা গ্রহনযোগ্য নয়)। তার পরও বর্ণনার সনদটি যঈফ।
অতএব বর্ণনাটি আমলের প্রশ্নই ওঠে না।
একজন তাবেঈ রাসূল (ছাঃ) এর সঙ্গে কোন সাহাবার সুত্র ছাড়া তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন।
(তাবেঈ তারাই, যারা রাসূল (ছাঃ) কে দেখেননি তবে সাহাবাদের থেকে হাদীস শিখেছেন এবং সহচর)।
২. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেন রাসূল (ছাঃ) বলেছেন মহিলা যখন সালাতে বসবে তখন সে তার এক উরুর সাথে অন্য উরু লাগিয়ে রাখবে এবং যখন সে সিজদাহ দিবে তখন তার পেট দুই উরুর সাথে মিলিয়ে রাখবে যেন তা তার জন্য পর্দা স্বরুপ হয়। আর তখন আল্লাহতা‘আলা তা লক্ষ্য করেন এবং ফেরেশতাদেরকে ডেকে বলেন, তোমাদেরকে সাক্ষী রাখছি, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/৩৩২৪ ; ‘নবীজীর নামায’ ৩৩৭-৩৩৮ পৃষ্ঠা)।
✴বিশ্লেষনঃ উক্ত বর্ণনা যঈফ ইমাম বায়হাক্বী উক্ত বর্ণনা উল্লেখ করে নিজেই যঈফ বলেছেন এবং প্রত্যাখ্যান করেছেন। (সুনানুল কুবরা হা/৩৩২৪ এর আলোচনা)।
❎মাওলানা আব্দুল মালেক বায়হাক্বী থেকে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন কিন্তু বর্ণনাটি যে যঈফ তা উল্লেখ করেননি। যঈফ বর্ণনা দ্বারা দ্বীনি আমলের মূল (বিধান) দলীল সাব্যস্ত হয় না। ইমাম আহমাদের মাসায়েল গ্রন্থে ইবনে উমার থেকে নিজ স্ত্রীদের এক পায়ের উপর অন্য পা আড়াআড়ি করে বসার আদেশ সূচক যে বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে এই সনদের মধ্যে ‘আবদল্লাহ বিন উমরী ’নামক রাবী যঈফ।
🔶৩. ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) বলেন, আমি একদা রাসূল (ছাঃ) এর নিকট আসলাম। তিনি সাহাবীদেরকে বললেন, এটা হল ওয়ায়েল বিন হুজর। সে তোমাদের কাছে উৎসাহে বা ভীতির কারণে আসেনি; বরং আল্লাহ ও তার রাসূল(ছাঃ) এর ভালোবাসার কারণে এসেছে। … ওয়ায়েল (রাঃ) বলেন তিনি আমাকে বললেন,
➡তুমি যখন সালাত আদায় করবে তখন তোমার দুই হাত কান বরাবর উঠাবে। আর মহিলা মুছল্লী তার হাত বুক বরাবর উঠাবে।
(ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/১৭৪৯৭; নবিজীর নামাজ, ৩৭৯ পৃষ্ঠা)।
বর্ণনাটি নিতান্তই যঈফ মূলতঃ এর সনদে মায়মুনাহ বিনতে হুজর এবং উম্মু ইয়াহইয়া বিনতে আব্দুল জ্জাব্বার নামে দুই জন অপরিচিত রাবী আছে।
(সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৫০০)।
নবিজীর নামাজ পৃষ্ঠা ৩৭৯-৩৮৮ তে উক্ত মর্মে সাহাবী ও তাবেঈর নামে আরো কতিপয় বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সবই মুনকার ও ভিত্তিহীন। সে গুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ করার কোন প্রয়োজন নেই।(জাল হাদিসের কবলে রাসূলুলাহ(ছাঃ) এর ছালাত পৃ-২১৬)।
✔মেয়েদের সালাত ভিন্ন হওয়ার ব্যাপারে গোড়ামী পন্থীদের কোন সুনির্দিষ্ট সহীহ দলীল নেই। মেয়েদের জড়োসড়ো হয়ে দাড়ানো থেকে সিজদাহ পর্যন্ত সবকিছুর ব্যাপারেই ইমাম কুদুরী (র.) মাযহাবের মত প্রকাশ করতে যেয়ে যুক্তি দেখিয়েছেন এটা তাদের সতরের জন্য অধিক উপযোগী।
(আল হেদায়া প্রথম খন্ড পৃঃ৮৫-৮৭)।
🔴এছাড়া জাল হাদীস গুলোকে হাসান বলে ভিত্তিহীন কিছু কল্প কাহিনী ও কয়েকটি জাল যঈফ হাদীস সহ আমাদের দেশে মেডইন ইরাক,কুফা,পাকিস
্থান,ভারত ইত্যাদি হাদীস পেশ করা হয়েছে বিভিন্ন নামাজ শিক্ষা বইতে।
এ সম্বন্ধে বিভিন্ন মন্তব্যও পাওয়া যায় যা আমলে অযোগ্য,সহীহ হাদীস বিরোধী
⚫ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে ব্যক্তি সালাতে নিজের উভয় পা(এক সঙ্গে) মিলিয়ে দাড়ালো সে সুন্নাতের বিরোধিতা করলো।
(নাসাঈ হা/ ৮৯৫ ইঃ ফাঃ)।
⚫ আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) এ রকম চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় মাটিতে দু’হাত বিছিয়ে সিজদাহ করতে নিষেধ করেছেন।
(মুসলিম, আবু দাউদ হা/৭৮৩)।
⚫ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী (ছাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন সিজদাহ দেওয়ার সময় দু‘হাত বিছিয়ে না দেয়, যেমন কুকুর বিছিয়ে দেয়। (বুখারী হা/৮২২, তাওহীদ প্রকাশনী, ইঃ ফাঃ ৭৮৪)।

Friday, February 26, 2021

ইসলামে মত বিরোধের কারণ- নোমান আলী খানের চমৎকার বক্তব্যের সার-সংক্ষেপ

 


আল্লাহ্ তাঁর কিছু বান্দাকে বিভিন্ন বিষয় বোঝার এবং উপলব্ধি করার এমন ক্ষমতা দিয়েছেন যে, তাদের ব্যাখ্যা শোনার পর আপনার মনে হবে যে, আমি কিছুই জানি না। তারা যদি কোন সাধারণ বিষয় নিয়েও আলাপ করে যেটা আপনার মতে আপনি ভালই জানেন কিš‘ আলাপ শেষে ‘সুবাহান্নাল্লাহ্’ আপনার মনে হবে এটা অসাধারণ ছিল। ইনশাআল্লাহ এই রকম কিছু বিষয় নিয়ে এখানে আলাপ করা হবে যেটা আমার কাছে তাৎপর্যকর বলে মনে হয়েছে। যেটা সবার জন্য কাজে লাগবে।

উপরের চিত্রে আমরা যা দেখতে পা”িছ তার মাধ্যমে এক অদ্ভুত প্রচেষ্টা করা হয়েছে। সেটা আজকের আলোচ্য বিষয়টি সবার সামনে সহজে উপ¯’াপন কারার জন্য। এখানে একদম ভিতরে একটা বৃত্ত। এর বাইরে আরও বড় আরও বড় আরও বড়, এই ছবিটা নিয়েই আজকে আমরা কথা বলব। মূলত আমাদের ধর্মের বৃহত্তম রূপটা আমরা এই ছবি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করবো।

একদম কেন্দ্র আমাদের ধর্মের মূল যেটা রয়েছে, মূলত আমাদের ধর্ম ইসলামের মূল নীতিটা আমরা এই ছবির মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করব। সেটাকে আমরা বলতে পারি আমাদের দীনে রসূল। আমাদের ধর্মের নির্যাস তথা মূলনীতি। অর্থাৎ আমাদের ধর্মের অত্যবশ্যকীয় নীতিমালা সমূহ। মোটের উপর আমাদের ধর্মটা হ”েছ একগু”ছ নীতিমালার সমাহার। বিষয়টিকে আমরা এইভাবে দেখতে পারি-এইসব নীতিমালা হলো সেটাই যেটা আল্লাহ্ একজন মানুষের কাছ থেকে চান। আল্লাহ্ একজন মানুষের কাছ থেকে কি চান? কি ধরণের গুনাবলী, কি ধরণের দৃষ্টিভঙ্গী, আবেগ, চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস একজন মানুষের থাকা উচিৎ। আপনারা যদি জানতে চান এই অত্যাবশ্যকীয় জিনিস কি কি, আল্লাহ্ কোরআনে খুবই সুন্দর ভাবে এইগুলো বর্ণনা করেছেন। তিনি এটা করেছেন “লা-আল্লাহ্ তাত্তাকুম” যেমন বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করার পর তিনি বলেন-“লা-আল্লাহ্ তাত্তাকুম, লা-আল্লাহ্কুম তাত্তাকুন, লা-আল্লাহকুম তাসকুরূন, লা-আল্লাহকুম তাযাক্বারূণ”। যাতে করে তোমরা মনে রাখো, যাতে করে তোমরা শোকরকারী হও, যাতে করে তোমরা তাকওয়া অর্জন কর, যাতে করে তোমরা চিন্তা কর। এই সবগুলোই হল মৌলিক গুনাবলী যা একজন মানুষের থাকা উচিৎ। একজন মানুষের বিবেচনা মূলক দৃষ্টিভঙ্গী থাকা উচিৎ, তার চিন্তাশীল হওয়া উচিৎ, তার সর্বদা আল্লাহকে স্মরণে রাখা উচিৎ, তার মধ্যে আল্লাহ্ ভীতি থাকতে হবে, তার আল্লাহর প্রতি শোকর গোজার হওয়া উচিৎ। “লা-আল্লাহ কুম তাশকুরূণ” যাতে করে তোমরা শোকরকারী হতে পার। আল্লাহ যখনই ‘লা-আল্লাহকুম’ বলেন এবং এই ধরণের কাজগুলো উল্লেখ করেন এর মানে তিনি বোঝাতে চান এই গুলো হল সেইসব গুনাবলী যেগুলো আমাদের আয়ত্ব করতে হবে। আমি তখনই আল্লাহর একজন সফল বান্দা হতে পারবো যখন নিজের জীবনে এই সব গুনাবলীর প্রতিফলন ঘটাতে পারবো।

সবগুলো বিষয় এখানে উল্লেখ করবো না। কয়েকটা বিষয়ই বার বার আপনাদের সামনে বলার চেষ্টা করবো।

সুষ্ঠভাবে চিন্তা করতে পারা-‘লা-আল্লাকুম ত্বাকিলুন’, ‘লা-আল্লাকুম তাসকুরুন’-যাতে করে তোমরা শোকর কারী হও, লা-‘আল্লাকুম তাযাক্কারুন’-যাতে করে তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর, ‘লা-আল্লাকুম তাত্তাকুম’- যাতে করে তোমরা নিজেকে রক্ষা করতে পারো বিপদ থেকে, সতর্ক থাকতে পারো এবং অবশ্যই ‘লা-আল্লাকুম তুফলিহুন’- যাতে করে তোমরা পরকালে সফল হতে পারো। আল্লাহ প্রায় কোরআনে লা-আল্লাকুম তুফলিহুন বলেছেন। এইগুলো হ”েছ মৌলিক কিছু গুনাবলী। এসব ছাড়াও অর্থাৎ আল্লাহ মানুষের কাছে কি চান এই সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন এই শব্দগুলোর মাধ্যমে ‘ইন্নালাহা ইউহিব্বু’ অথবা ‘ওয়া আল্লাহু ইউহিব্বু’ আল্লাহ মুত্তাকীনদের ভালবাসেন, আল্লাহ মুফছিনিনদের ভালবাসেন। এইভাবে আল্লাহ বিভিন্ন গুনাবলীর মানুষদের ভালবাসার কথা উল্লেখ করেছেন। এইগুলো হ”েছ সেই সব গুণ যেগুলা আমাদের জীবনে নিয়ে আসতে হবে। এবং সব শেষে আল্লাহ বলেন-‘ইন্নালাহা মা’আ’-আল্লাহ সাথে আছেন। আল্লাহ প্রথমে বলছেন- ‘লা-আল্লাহকুম’ এরপর বলছেন- ‘ইন্নালাহা ইউহিব্বু’ এবং এরপর বলছেন- ‘ইন্নালাহা মা’আ। নিশ্চই আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন যারা পরহেজগার এবং সৎকর্ম করেন। এই গুলোই হ”েছ আমাদের দীনে রসুল। মূলতঃ এই গুলোই হ”েছ আমাদের ধর্মের নির্যাস। আমার মতে এইগুলোই হ”েছ আমাদের ধর্মের মূল নীতি বা মৌলিক নীতি। আল্লাহ কুরআনে সরাসরি এইসব বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। আশা করি বিষয়টি আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে।

এখন কথা হ”েছ এই যে মূল নীতি এটা কিš‘ দেখা যায় না। এটা হ”েছ একটা ধারণা। ‘শোকরকারী হওয়া’  এর মানে কি তাকওয়া অর্জন করতে হবে। তাকওয়া বিষয়ে আমরা অনেক আলোচলা শুনেছি। তাকওয়া বাড়াতে হবে তাকওয়া বাড়াতে হবে। তাকওয়া কি কিনতে পাওয়া যাবে বা আমি কি এমন কিছু খেতে পারি যেটা আমার তাকওয়াকে বাড়াবে? আমি কিভাবে বুঝবো আমার তাকওয়া কম বা বেশি? একই ভাবে আমার ঈমান বাড়াতে হবে, তাওয়াক্কুল বাড়াতে হবে। এই সবই হ”েছ বিমূর্ত ধারণা। আমরা কিভাবে এইসব জিনিসকে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ে আসবো? কিভাবে আমরা এই কাজ করবো? সেটাই হ”েছ পরবতী বৃত্তটি।


দ্বিতীয় বৃত্তঃ

 ২য় বৃত্তটি হ”েছ মৌলিক বাধ্যবাদকতা। মূল করনীয় এবং মূল বর্জনীয় কাজ সমূহ।

উদাহরণ স্বরূপ আমরা সকলেই জানি আমাদের ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভ আছে। সালাত এর মধ্যে একটি। সালাত হ”েছ মৌলিক করণীয় কিš‘ প্রকৃতপক্ষে এই বাধ্যবাদকতার মাধ্যমে ইসলামের আত্যবশ্যকীয় মূল নীতির একটি পূরণ করা যায়। এমন কি আল্লাহ আমাদের যে সব মৌলিক বাধ্যবাদকতা সেট করে দিয়েছেন সে সবের উদ্দেশ্য হ”েছ মূলনীতি গুলোকে সুদূঢ় করা। যেমন ধরুণ- আল্লাহ বলছেন-“আকিমুছ সলাতালি জিকরী” সালাত প্রতিটা কর যাতে করে তোমরা আমাকে স্মরণ করতে পারো। আল্লাহেকে স্মরণ করা কি একটি মৌলিক নীতি নয়? অবশ্যই। আল্লাহর স্মরণকে কিভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ে আসবো এমন কি উপায় আমরা এটা করতে পারি যা আল্লাহকে সš‘ষ্ট করবে? এমনটি করার সবচেয়ে ভাল উপাই হ”েছ সালাত। সালাহ হ”েছ এমন একটি মাধ্যম যেটা আল্লাহর স্মরণ করার বিমূর্ত ধারণাটিকে বাস্তবিক স্বত্বে রূপান্তরিত করে। সিয়াম পালন করার বিষয়ে আল্লাহ বলেন-“কামা কুতিবা আলাল্লাযীনা মিন ক্ববলিকুম লা-আল্লাকুম তাত্তাকুম” তোমাদের সিয়াম পালন করতে বলা হয়েছে যাতে করে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। বাস্তবে এমন কি করা যেতে পারে যেটা তাকওয়ার এই বিমূর্ত ধারণাকে আমাদের জীবনযাত্রায় প্রতিফলিত করবে? কি সেটা? সিয়াম পালন করা এই ধরণের একটি কাজ। এইভাবে আপনারা দেখবেন আল্লাহ প্রদত্ত প্রত্যেকটি মৌলিক বাধ্যবাদকতা এক একটি মৌলিকনীতিকে সুদৃঢ় করে। বাধ্যবাদকাতা গুলো দেওয়া হয়েছে যাতে করে মৌলিকনীতি গুলোকে আমাদের প্রাত্যহিত জীবনে নিয়ে আসতে পারে। দূর ভাগ্য জনক ভাবে আমরা যা করছি সেটা হ”েছ আমরা আল্লাহ প্রদত্ত এই বাধ্যবাদকতাকে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা থেকে আলাদা করে ফেলেছি। মানুষ ঠিকই সিয়াম ফালক করছে কিš‘ তাদের মধ্যে এই বোধটি নেই যে, সিয়াম পালনের মূল উদ্দেশ্য হ”েছ তাকওয়া বৃদ্ধি করা। মানুষ সালাত আদায় করছে কিš‘ রাতা এই বিষয়ে অবগত না যে, সালাত আদায় করার কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। এইগুলো হ”েছ মৌলিক বাধ্যবাদকতা। শুধুমাত্র এই উদ্দেশ্যেই আমরা এইসব কাজ পালন করি না। ইসলামের অত্যবশ্যকীয় নীতিগুলো পূরণ করে আমাদের জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে আমরা এই সব কাজ করে থাকি।

সালাত হলো একটা গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছাবার একটা রাস্তা। একই ভাবে সিয়াল পালক করাও লক্ষ্যে পৌঁছানো একটা উপায়। আজকাল আমরা এইসব উপায় বা রাস্তাকে আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যে রূপন্তর করে ফেলেছি। যেটা খুবই ভয়াবহ সমস্যা। কোরআন কিš‘ আমাদের এমন করতে বলে না। কোরআনে যখনই কোন বাধ্যবাদকতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তখনই সে কাজের উদ্দেশ্য অর্থাৎ ঐ কাজ সম্পর্কিত মূল নীতিগুলোর কথা বলা হয়েছে। আমরাই এই দু’টি বিষয়কে কেঁটে আলাদা করে ফেলেছি। আর একটা কথা- বাধ্যবাদকতা বলতে শুধু করনীয় কাজগুলোকেই বোঝানো হয়নি। বর্জনীয় কাজ সমূহের কথাও বলা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ সালাত অন্যতম উদ্দেশ্য হ”েছ “সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে” অশ্লীলতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল নীতি থেকে দূরে রাখে। আমাদের তাকওয়াবান, আল্লাহর শুকরকারী এবং আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হতে বাঁধা দেয়। সালাত আমাদের এই অশ্লীলতা থেকে হেফাযত করে। অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের সেই সব কাজ করতে নিষেধ করেছেন যেগুলো করলে ইসলামের মূলনীতিকে অমাণ্য করা হবে। প্রত্যেকটা নিষেধ এক একটা মূলনীতির সাথে জড়িত। দ্বীনে রসূলের সাথে সম্পৃক্ত। সংক্ষেপে এটাই হ”েছ আমাদের দ্বিতীয় বৃত্তটি। প্রধান প্রধান করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়সমূহ। এই পর্যন্ত, অর্থাৎ এই দুটি বৃত্তে যে সব বলা হয়েছে এই বিষয়ে মোটামুটি সব স্কলার সব মুসলিমরাই একমত। ইসলামের মূল নীতি গুলো কি কি এবং আমাদের মূল করনীয় ও বর্জনীয় কাজ কি কি? কোন মুসলিম এসে এরকম বলবে না আমি আসলে নিশ্চিত না শুকর কি আসলে হারাম কি না? এরকম কখনই হবে না। আর যদি কেউ এরকম বলে থাকে তার মানে হ”েছ সে পাগল।


তৃতীয় বৃত্তঃ

এই তৃতীয় বৃত্তটি হ”েছ প্রধান বাধ্যবাদকতার তুলনাই ছোট সুপারিশ সমূহ(জবপড়সসধহফধঃরড়হ)। যেমন ধরুন আমাদের মহানবী (সাঃ) এর সুন্নাহ সমূহ। অর্থাৎ সেই সব ভাল কাজ সমূহ যে সবের কথা কোরআনে বলা হয়েছে। এমন কাজ যেগুলো আমাদের চারিত্রিীক উৎকর্ষ সাধন করে। উদাহরণ স্বরূপ নরম ভাবে কথা বলা, ন¤্রভাবে চলাফেরা করা। এইগুলো হ”েছ সেই সব কাজ যা আপনার চরিত্রকে উন্নত করবে। একই ভাবে ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা, যেটা একটা সুন্নাহ্। অথবা ধরুন ডান হাত দিয়ে খাওয়া। এই সব ছোট ছোট কাজগুলি আমাদের চরিত্রের বিকাশ ঘটায়। এখন ব্যাপারটা দাড়ালো এই যে, প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ মৌলিক নীতি গুলোর আত্য¯’ করার দিকে। সেটা সঠিক ভাবে করার জন্য তাকে নজর দিতে হবে প্রধান প্রধান বাধ্যবাদকতার দিকে। যদি সে এই প্রধান বাধ্যবাদকতাগুলো ঠিক ভাবে মেনে চলতে পারে তাহলে তার পরবর্তী চিন্তা হওয়া উচিৎ ছোট ছোট সুপারিশ গুলো পালনের মাধ্যমে আরও সুন্দর্য মন্ডিত করা।

উদাহরণ স্বরূপ- সালাত হ”েছ একটি প্রধান কাজ। সালাতের পরে জিকির করাটা কি? এটা হ”েছ উৎকর্ষ সাধন। একই ভাবে সালাতের পরে দোআ করাটা একটা উৎকর্ষ সাধন। অর্থাৎ আপনি ইতোমধ্যে প্রধান কাজটি করে ফেলেছেন। এই যে ছোট ছোট ভাল কাজ করার মাধ্যমে উৎকর্ষ সাধন করার যে ধারণা এটা নিয়ে কারও মধ্যে তেমন কোন ভেদাভেদ নেই। ‘কিয়ামুল লাইল’ একটা ভাল কাজ, তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করা একটা ভাল কাজ, সিয়ামের অতিরিক্ত সিয়াম পালন করা একটা ভাল কাজ, ভ্রমণ কিংবা ঘরে প্রবেশের সময় দোআ করা ইত্যাদি। দোআ না করে ঘরে প্রবেশ করা হারাম না। অর্থাৎ দোআ না পড়ে ভ্রমণ করাটাও হারাম না। কিš‘ এমন করাটা ভাল। এটা আপনার দ্বীনের উৎকর্ষ সাধন করে। এই সব জিনিস আপনার জীবনকে উন্নত করে। এইগুলি হল তৃতীয় বৃত্তটি। কিš‘ চার নম্বর বৃত্তে যাবার আগে তিন নম্বর বৃত্তটি সম্পর্কে আরও কিছু বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। প্রথম দ্বিতীয় বৃত্তে আলোচ্য বিষয়গুলো হ”েছ সেই সব জিনিস যে গুলোর দিকে আমাদের নবীগণ দাওয়াত দিয়েছেন। অর্থাৎ নবীগণ আমাদেরকে ইসলামের প্রধান নীতিমালা সমূহ, প্রধান করণীয় ও বর্জনীয় এই সবের দিকে ডেকেছেন। এইগুলোই ছিল বনীদের দাওয়াতের মৌলিক দিক। মানুষ যখন এইসব মৌলিক বিষয়কে মেনে নিয়ে, ভাল করে বুঝে আত্য¯’ করতে সক্ষম হল এর পরে গিয়ে নবীগন তাদেরকে এ সবের পাশাপাশি উৎকর্ষ সাধনের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ দিতেন। এখন দেখা যাক আমরা কি করি?

আমরা যেটা করি- সেটা হ”েছ মৌলিক নীতিমালা গুলো তো আমরা ভুলেই গেছি উপরš‘ আমরা প্রধান বাদ্যবাদকতাগুলো উৎকর্ষ সাধনের জন্য যেসব ছোট ছোট সুপারিশ রয়েছে সে সবের সাথে মিশিয়ে ফেলেছি। এই সম্পূর্ণ মিশ্রণই এখন প্রধান বাধ্যবাদকতা হয়ে গেছে। উদাহরণ স্বরূপ-আপনি যদি এমন কাউকে দেখেন যে জোহরের ফরজ সালাত আদায় করেছে, সুন্নাত সালাত আদায় করে নি, তখন আপনি তার পিছনে লাগেন। কি করেছেন আপনি!! আপনি সুন্নাত নামায পড়েন নি কেন? অর্থাৎ আমরা মানুষকে উৎকর্ষ সাধনমূলক কাজগুলো করার জন্য বল প্রয়োগ করছি। মানুষ যদি এ কাজগুলো না করে তাহলে আমরা তাদের পিছনে লাগছি, তাদের সালাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছি। তারা কি করছে কি করেনি এই সব নিয়ে কথা বলছি। যেমন ধরুন সহি উ”চারণ!

এটা কিš‘ দ্বিতীয় বৃত্তের মধ্যেও পড়ে না। এটা তৃতীয় বৃত্তের অন্তর্ভক্ত। অথচ আমরা কি করি-কারও তিলাওয়াত সহি না হলে কপালে হাত চাপড়ে বলি, ওহ! কুরআন তিলাওয়াত করে কখনই আপনি গুনাহের মধ্যে পড়ছেন না। আপনি অবম্যই সহি ভাবে তিলাওয়াত শেখার চেষ্টা করবেন। কিš‘ আপনি যদি বসে বসে মদ কলকলা একদম পুঃখানুপুঃখ ভাবে হিসাব করার চেষ্টা করেন তাহলে? সাহাবাগণ তো এইভাবে শেখেন নি। আপনি অবশ্যই আপনার তাসবিদের জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। কিš‘ আপনাকে বুঝতে হবে এই সব জিনিস এগুলো হ”েছ উৎকর্ষ সাধনের জন্যে। এগুলো ঘর সাজানোর জিনিসের মত। আপনার বারার একটা দরজা থাকা দরকার আছে, একটা জানালার দরকার আছে আলো বাতাসের জন্য কিš‘ আপনা বসার জন্য স্পেশাল কার্পেক অত্যবশ্যক না। দেওয়ালে রং বে রঙের পেইন্টিং থাকতেই হবে এমনটি নয়। এটা ঠিক যে এগুলো থাকলে ভালই লাগে। একটা সোফা থাকলে ভালই হয়। কিš‘ কারও বাসার দেওয়ালে পেইন্টিং না থাকলে আপনি তাকে বলতে পারেন না যে, তোমার তো বাসায় নেই। পেইন্টিং না থাকলে কি আর বাসা হয় নাকি? আপনি এ রকম করতে পারেন না। কারণ অধিকাংশ মানুষই প্রধান বাধ্যবাদকতা এবং উৎকর্ষ সাধনমূলক কাজগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেন না। যার ফলে আপনি যখন এরকম বলেন-সমালোচনা করেন একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে তখন মানুষ গণহারে সব ক্ষেত্রেই এটাকে প্রযজ্য মনে করে। আমি আপনাদের এর একটা ভয়াবহ পরিণতির উদাহরন দি”িছঃ

আমাদের মধ্যে এক ধরণের মানুষ আছেন যাদের মধ্যে মোটামুটি সব কিছুই হারাম। কেউ ভিডিও গেম খেলছে তারা বলবে ভিডিও গেম কিš‘ হারাম। আপনি টিভি দেখছেন এটা হারাম, আপনি রেডিও শুনছেন এটা হারাম। হারাম! সব কিছুই হারাম। এখন ব্যাপারটা হ”েছ দ্বিতীয় বৃত্তে বর্ণিত কিছু প্রধান বর্জনীয় কাজ রয়েছে, যেমন-মদ, জিনা। এহুলো খুবই খারাপ এবং এগুলো দ্বিতীয় বৃত্তের আওতায় পড়ে। আল্লাহ যে সবকে হারাম বলেছেন। আর এখন আপনি বলছেন ভিডিও গেমস হারাম। এই রকম বলার মাধ্যমে আপনি আল্লাহ যে সব কাজকে হারাম বলেছেন আর আপনি নিজে যে সব কাজকে অপছন্দ করেন এই উভয়কেই একই পাল্লায় মাপছেন। এর ফলে একজন যুবক ভাই বা বোন যে মুভি দেখে, হতে পারে সেটা অর্থহীন কোন মুভি বা যে কোন কিছু। যখন সে শুনবে মুভি দেখা হারাম সে বলবে এটা হারাম!! আমি তো সারাক্ষণই মুভি দেখি। এটা হারাম! তাহলে তো আমি বিপদে আছি? আর যেহেতু আমি প্রচুর মুভি দেখি, তাহলে তো আমি বিপদে আছি? আর বিপদে যখন আছিই অন্য হারাম গুলোও  তাহলে করি। দোযখে তো এমনিতেই যাওয়া লাগবে। তাহলে মোজ-মাস্তি, পার্টি এই সব করেই যাই। এখন দেখেন এই যে আপনি মদ, রেডিও, ভিডিও গেম এই সব কিছুকে এক কাতারে ফেলেছেন; একজন পাপির মনে মধ্যেও এই সব এখন একই পাল্লাই বিচার হ”েছ। সে ভাববে ভিডিও গেম কোন ব্যাপার না, মুভি দেখাও কোন ব্যাপার না, আর জিনাও কোন ঘটনা না, মদ, নেশা সবই সমান। তার মানে আমরা তখনই সমাজে সমস্যা তৈরি করা শুরু করি যখন আমরা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত সৃনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার লিস্টকে ঠিক রাখছি না। মানুষ মনে করে আমরা যত বেশি জিনিসকে হারাম হিসেবে লিস্ট করবো এটা মানুষের জন্য ততই ভাল হবে, মানুষকে রক্ষা করবে। আমাদের মনে রাখা উচিৎ নবীগণ মানুষকে আমাদের থেকে ভাল ভাবে রক্ষা করেছেন। তারা যা করেছেন এর চেয়ে উন্নত তর কিছু করার সামর্থ্য আমাদের নেই।  আমাদের সীমাবদ্ধতার ভিতরে থেকেই অবশ্যই বিচার করার চেষ্টা করবে যে, যে কোন কিছু কি আসলেই পরিষ্কারভাবে হারাম কি না? এমন স্পষ্ট হারাম জিনিস অবশ্যই আমাদের সামনে আসতে পারে যে, যেটার অস্তিত্ব আগে কখনই ছিল না। কিš‘ সেটা অবশ্যই বড় কোন পাপ কাজের সাথে সম্পর্কীত হবে। আপনারা কি এতোদূর পর্যন্ত বুঝতে পারলেন? এ সব হ”েছ উৎকর্ষ সাধন মূলক কাজ কর্ম। এসব কাজ কর্মের মধ্যে আছে অতিরিক্ত সুন্নাত নামায পড়া, সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম পালন করা, কবর জিয়ারত করা। এই যে এই সব কাজ এই সব নিয়ে কোন মতো ভেদ নেই। উৎকর্ষ সাধনমূলক কাজগুলো করুন। আপনি যদি মৌলিক বাধ্যবাদকতা গুলো পূরণ করার পরে আরও ভাল মুফতি হতে চান তো খুবই ভাল। প্রদিনি একটু একটু করে ভাল কিছু শিখুন, একটা ছোট দোআ শিখুন প্রতিদিন। এ ধরণের সব কিছুই করা উচিত। এখন এই বৃত্তের ঠিক বাইরে াার একটি বৃত্ত আছে। চার নম্বর বৃত্ত।


চার নম্বন বৃত্তঃ

চতুর্থ বৃত্তটি হ”েছ সেই সব বিষয় যে গুলো সম্পর্কে সাহাবীগণ একমত পোষণ করেছেন। আমরা এই বিষয়গুলো কুরআনে পাই না। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল সে সব কিš‘ সুন্নাতে স্পষ্টভাবেই বিদ্যমান। তার বাইতে এই যে চার নম্বার বৃত্তটির কথা বলা হ”েছ এগুলো হ”েছ সে সব বিষয় যে গুলো নিয়ে সাহাবীগণ মতো ঐক্য  পৌঁচেছেন। কিš‘ বাস্তবে এমন বিষয় পাওয়া দুষ্কর যেটা নিয়ে সব সাহবীগণ একমত হয়েছেন। ব্যাপারটা এতো সহজ নয়। তিন ধরণের মতোক্য রয়েছে। সাহাবীদের এক মতের ধরণের উপর নির্ভর করে মূলতঃ তিন ধরণের মতোক্য রয়েছে। প্রথমটি হ”েছ-সাহাবীগণ কোন একটা ঘটনা নিয়ে একমত। সেটা কেমন? যেমন ধরুন সব সাহাবীগণ বদরের যুদ্দে অংশ গ্রহণ করেন নি। অনেকেই বদরের যুদ্ধের পর মুসলিম হয়েছেন। কিš‘ যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা সকলেই একই ভাবে বলবেন যে, এই যুদ্দ অমুক দিনে শুরু হয়েছিল, এতো দিন ধরে চলেছে। সবাই এরকম কথা বলবেন কারণ তারা সবাই ওই যুদ্ধে উপ¯ি’ত ছিলেন। এ কারণেই তারা এ বিষয়ে একমত।

দ্বিতীয় ধরণের ঐক্যমত হ”েছ সাহাবীদের মধ্যে যারা সবচেয়ে জ্ঞানী ছিলেন তাদের মধ্যে ঐক্যমত। কিছু ক্ষেত্রে তারা সবাই একে অপরের সাথে একমত পোষণ করতেন। যেমন ধরুন ইবনে আব্বাস রা. তিনি একজন জ্ঞানী সাহাবী ছিলেন। এমন অনেক সাহাবী ছিলেন যারা মূলত একটি সূরাও পারতেন না। তারা সদ্য মুসলিম ছিলেন। এখনকার সময় যারা ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হ”েছ তাদের মতো। কিš‘ তাদের ঐক্যমত এই দ্বিতীয় ধরনের ঐক্যমতের মধ্যে পড়ে না। এটা হ”েছ সেই ধরণের ঐক্যমত যেখানে কোন বিষয়ে কোন জ্ঞানী সাহাবীগণ একমত হয়েছেন। তৃতীয়টি হ”েছ সাহাবীদের মধ্যে যারা শাসক তাদের মধ্যকার ঐক্যমত। যেমন ধরুন ওমরা রা. এবং তার উপদেষ্টা মন্ডলি, তার ঐক্যমত সেটা হ”েছ এই তৃতীয় ধরণের ঐক্যমত। এই হ”েছ সাহাবীগণদের মধ্যে তিন ধরণের ঐক্যমত। অর্থাৎ ঘটনা ভিত্তিক, জ্ঞানী সাহাবী ভিত্তিক এবং শাসন কার্যে নিয়োজিত সাহাবীদের ঐক্যমত ভিত্তিক। যখন শাসন কার্যেক সাথে সম্পৃক্ত কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন পড়তো ওমর রা. অবশ্যই হাজার হাজার সাহাবীদের সাথে আলোচনা করতেন না। তিনি তার উপদেষ্টা মন্ডলিদের সাথে বসে সবাই মিলে একমত হয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতেন। তার পর সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইন প্রনয়ণ করা হতো। ব্যাপারটা বোঝা গেল?এখন বর্তমান সময়ে এসে যেটা ঝামেলা হয়েছে কেউ একজন যখন এইভাবে বলে সব সাহাবীগণ এই বিষয়ে একমত। সব সাহাবীগণ এই বিষয়ে একমত? দাঁড়ান দাঁড়ান সব সাহাবীগণ একমত?এটা আপনি কোথায় পেলেন? কেন এইভাবেই তো বর্ণনা আছে। কোথায় আছে? বই পুস্তকে আছে। কোন বই? যাও ভাল ভাবে পড়। আপনি কোন ভাবেই এটা বলতে পারেন না যে সব সাহাবীরাই একমত ছিলেন। আপনি এচা করতে পারেন না। আপনার কথা সুনির্দিষ্ট দলিল পত্রের ভিত্তিতে হতে হবে। এমনিতেই বলে ফেললে হবে না। সব চেয়ে হাস্যকর যে কথাটি এখন পর্যন্ত শুনেছি সব ইসলামি বিশারদ এই বিষয়ে একমত। বলেন কি? ঠিক আছে তাদের দশ জনের নাম বলেন? অ্যা.....অ্যা.............সবাই।

আপনি যদি তাফসীর পড়েন তাহলে আপনি একটি বিষয় পাবেন না যে বিষয়ে সব স্কলার একমত হয়েছেন। এটা হাস্যকর কথা। কুরতুবি, তাবারী, জালালাইন, তাফসীর ইবনে কাছির, ইবনে আশুর, একটা কথা যেটা প্রায়শই সব তাফসীরে লেখা থাকে স্কলারগণ এই বিষয়ে একমত। এবং এর ভিন্নমত একদমই বিরল। অন্য আর এক মুফা”িছর হয়তো এর উল্টোটা লিখেছেন যে, এই ভিন্ন মতের বিষয়েই বরং স্কলারগণ একমত, আর প্রথম মতের পক্ষেই যুক্তি বিরল। অর্থাৎ তাদের কাছেও এই একমত হওয়ার বিষয়টি আপেক্ষিক। এটা ঠিক ভাবে বোঝার জন্য অনেক পড়াশোনা এবং ঠিকভাবে বোঝার প্রয়োজন। এমনও হয়েছে যে, সাহাবীগণের মধ্যে যিনি সব থেকে জ্ঞানী তিনিও একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন, দ্বিমত পোষণ করেছেন। দ্বীনের কোথায় সর্বসম্মত ভাবে ঐক্যমত আছে? কোন বিষয়ে কোন প্রকার দ্বিমত নেই? প্রথম তিনটি বৃত্ত। যখন আমরা মানুষকে দ্বীনের পথে দাওয়াত দিই, নবী রাসূলদের পক্ষ থেকে আওহŸান জানাই তখন আমরা মূলত কোন বিষয়ে কথা বলি? বৃত্ত নাম্বার এক এবং বৃত্ত নাম্বার দুই। যখন সেই মানুষগুলো আমাদের দলে চলে আসে, আমাদের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, আমাদের বন্ধু মহলের হয়ে যায়, প্রথম দুটি বৃত্তির বিষয়গুলো ইতিমধ্যেই মেনে নেই তখন আমরা তাদের তিন নাম্বার বৃত্তের দিকে আগ্রহী করার চেষ্টা করি। চার নাম্বার বৃত্তের বিষয়গুলো খুবই সুনির্দিষ্ট এগুলো মূলত গবেষণা ও উ”চ শিক্ষার জন্য। তাই আপনি চার নাম্বার বৃত্ত দিয়ে ইসলাম প্রচার শুরু করে এটা বলতে পারের না-এটা ইসলাম। আপনাকে শুরু করতে হবে মহানবী (সাঃ) যেখান থেকে শুরু করেছেন সেখান থেকে। আপনাদেরকে এক এবং দুই দিয়ে শুরু করতে হবে। এখন সকল সাহাবী কি এই সবগুলো বিষয়ে একমত হয়েছিলেন? না। তবে তারা সবাই এক থেকে তিন বিষয়গুলোতে সহমত পোষণ করেছেন। আপনারা যদি এটাকে ইজমা বলতে চান অর্থাৎ সকল সাহাবী যে সব বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন সেগুলো হ”েছ এক, দুই এবং তিন নাম্বার বৃত্তের বিষয়গুলি। এখন এই চারটি বৃত্তের বাইরে আর একটি বৃত্ত আছে।


পাঁচ নাম্বার বৃত্তঃ

এই বৃত্তের অন্তর্ভক্ত হ”েছ সেই সব বিষয় যে গুলো নিয়ে বর্তমান মুসলিম উম্মা একমত পোষণ করেন। এটাকে আপনারা ইস্তিহাদ বলতে পারেন। একজন স্কলার নিজস্ব মতামত থাকে যেটাকে আমরা ফতোয়া বলি। স্কলাররা কিভাবে চিন্তা করেন? তারা জানেন যে, এক দুই বা তিন এগুলো হ”েছ নিখুত। চার নাম্বার বৃত্তের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অর্থাৎ কেন তারা এই বিষয়ে একমত হয়েছিলেন অথবা দ্বিমত পোষণ করেছিলেন এটা বোঝার জন্য অনেক পড়ালেখা এবং গবেষণার প্রয়োজন। এর পরে যখন পাঁচ নাম্বার বৃত্তটি আসে যেখানে এমন কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলো সম্পর্কে কুরআনে সারাসরি কোন সমাধান দেওয়া হয়নি এবং হাদীসেও পরিষ্কার ভাবে কিছু বলা হয়নি। এখন সমাধার পাওয়ার জন্য আমাকে আমার নিজের গবেষণা করতে হবে। দলিল প্রমাণাদী যা কিছু পাওয়া যায় খুঁজে বের করতে হবে। এর পর আমার সামর্থের সর্বো”চ ব্যবহার করে এ সবের ভিত্তিতে একটা সমাধানে আসতে হবে। তার মানে আমি এই সমস্যা একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করছি এটা মেনে নিয়ে যে, আমার প্রাপ্ত উত্তরটি একেবারে নিখুত হবে না। কারণ একদম নিখুঁত সমাধান এক, দুই এবং তিন এই বৃত্ত গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই আমার প্রাপ্ত উত্তরটি হ”েছ আমার সীমাদ্ধতার মধ্য থেকে যতটুকু নিখুঁত হওয়া যায় ততটুকু। এটা এমন কোন সমাধান নয় যেটা আমি অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে পারি। কিš‘ আমি এমন করে বলতে পারবো না যে, এটাই ইসলাম এবং তোমরা যদি এটা অনুসরণ না কর তাহলে ইসলাম থেকে বাইরে চলে যাবে। আমি এমনটা বলতে পারি না। আমি বলতে পারবো না যে আমার দেওয়া ফতোয়া ইসলামের সাথে সু-নীবিড় ভাবে সম্পর্কীত। বড়ো জোর আমি এই ভাবে বলতে পারি যে, আমার জ্ঞান অনুসারে যতোদূর বুঝতে পেরেছি এইভাবে চিন্তা করতে পারি। এসব হ”েছ সেই সব বিষয় যেগুলোর বিষয়ে কোরআন, হাদীস বা সাহাবাগণের পক্ষ থেকে কোন স্পষ্ট সমাধান পাওয়া যায় না। একটা উদাহরণ দি”িছ-খলিফা হারুনর রশিদ। তিনি তখন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। আমিরুল মুমেনীন। সেই সময় আমেরুল মুমেনীনগণ সালাতের ইমামতী করতেন বিশেষ করে হজ্বের সময়। এরকম এক সময় তিনি হজ্ব পালন করতে গেলেন। আমেরুল মুমেনীন হিসেবে তিনিই ইমামতি করবেন। যাই হোক তিনি প্রথম কাতারে ছিলেন কারণ তিনি ইমামতি করবেন। আর তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী। ওনার হজ্বের যিনি মোয়াল্লেম ছিলেন (মোয়াল্লেম হ”েছ সেই ব্যক্তি যিনি অপনাকে হজ্বের বিভিন্ন নিয়ম কানুন শিখিয়ে দেবেন) স্বাভাবিক ভাবেই আমেরুল মুমেনীনের মোয়াল্লেম হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি ছিলেক কাজী আবু ইউসুফ। হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানীফার সব কিছু তিনিই লিপিব্ধ করতেন। যাই হোক, পৃথিবীর বুকে হানাফী মাযহাবের বিজ্ঞ যে আলেম তিনি হ”েছ তার মোয়াল্লীম। তারা দুজনেই সামনের কাতারে আছেন। এবং আমেরুল মুমেনীন একটু পরেই সালাতের ইমামতি করবেন। কিš‘ খলীফা হারুনর রশিদ হিজামা করেছেন (হিজামা হ”েছ এমন একটা চিকিৎসা পদ্ধতি যেটা কাপিং এর মাধ্যমে করা হয় এবং এর ফলে শরীর থেকে রক্ত বের হয়)। এখন হানাফী মাযহাব আনুসারে শরীর থেকে রক্ত বের হলে ওযু নষ্ট হবে। খলিফা হারুনর রশিদ একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি জানতেন যে, তিনি যদি ইমাম আবু ইউসুফকে এখন জিজ্ঞাসা করেন যে আমার ওযু কি নষ্ট হয়েছে তাহলে আবু ইউসুফ কি বলবে? হ্যা, আপনার ওযু নষ্ট হয়ে গেছে। আর সেই ক্ষেত্রে তাকে প্রথম কাতার থেকে বের হয়ে সবগুলো কাতার পার হয়ে ওযু খানাই যেয়ে ওযু করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে যে সময় লাগবে তাতে আসরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে মাগরীবের ওয়াক্ত চলে আসবে। কিš‘ তাকে তো তখনই সালাতের ইমামতি করতে হবে এবং তিনি যদি আবু ইউসুফকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে উনি বলবেন আপনার সালাত আদায় হবে না। কারন ওযু নেই। ঘটনা চক্রে ইমাম মালিক ও প্রথম কাতারে ছিলেন। এমতাব¯’ায় খলিফা উদ্দেশ্য প্রণিতভাবে উনার নিজের মোয়াল্লিমকে এ বিষয়ে না জিজ্ঞেস করে ইমাম মালিককে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। কারণ মালিকি মাযহাব অনুসারে রক্তপাত হলেও ওযু নষ্ট হয় না এবং খলিফা এটা জানতেন। তিনি ইমাম মালিককে জিজ্ঞেস করলেন-“আ”ছা আমি যে কাপিং করালাম আমার কি ওযু নষ্ট হয়েছে?”ইমাম মালিক বললেন-না না, আপনার ওযু ভঙ্গ হয় নি, আপনি ইমামতি করুন। ফলশ্রæতিতে খলিফা হারুনর রশিদ ইমামতি করলেন হজ্বের সময় সেই বিশাল জামাতের। কাজী আবু ইউসুফ, ইমাম মালেক দুজনেই সেই জামাতে উনার পেছনে ছিলেন। আর কাজী আবু ইউসুফ ছিলেন সেই সময়ের বিখ্যাত স্কলারদের মধ্যে অন্যতম। তার সাথে অনেক শিক্ষার্থী ছিলেন যারাও হজ্ব করতে এসেছিলেন। সেই শিক্ষার্থীরা কিš‘ পেছনে ছিলেন তারাও এই ঘটনা দেখতে পেলেন এবং নামায পড়ছিলেন। আর নামায শেষ হওয়ার সাথে সাথে তারা দৌঁড়ে কাজী ইউসুফের কাছে গেলেন এবং বললেন আমরা কি আবার সালাত আদায় করব?আপনি কিভাবে উনাকে কাবার সামনে ইমামতি করতে দিলেন ওযু ছাড়া? তখন কাজী আবু ইউসুফ, যিনি কিনা হানাফী মাযহাবেন অনুসারী তার শিক্ষার্থীদের বললেন-‘যে পুনরাই সালাত আদায়ের দুঃসাহস দেখাবে সে খাওয়ারীজদের অন্তর্ভক্ত, সে বা তারা এ দ্বীনের অন্তর্ভক্ত নয়’। কেন তিনি এরকম বললেন? কারণ ফতোয়া নিয়ে তার চিন্তার প্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। উনার চিন্তার প্রকৃতি এই রকম ছিল যে, রক্ত পাতের সাথে ওযু নষ্ট হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। এটি এমন একটি বিষয় যেট নিয়ে গবেষণা করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন আমাদের গবেষণা অনুসারে ওযু নষ্ট হবে আর ইমাম মালিকের গবেষণা অনুসারে ওযু নষ্ট হবে না। এটা একান্তই আমাদের ব্যক্তিগত গবেষণার ফলাফল। কোরআনে এমন কোন আয়াত নেই যেখানে বলা হয়েছে যে, রক্ত পাত হলে ওযু নষ্ট হবে। এমন কোন হাদীস নেই যেখানে বলা হয়েছে রক্ত পাতের কারণে ওযু নষ্ট হবে। তাই আমরা কেউ এই নিয়ে বিতর্ক করতে পারি না যে, আমার প্রপ্ত ফলাফলই সঠিক। কারণ এটা একান্তই আমার সীমিত জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত ব্যক্তিগত মতামত। যার ফলে আমি কিš‘ এটাও জানি না আমি সঠিক কি না আর উনি ভুল কি না। আর এটা নিয়ে তর্ক করতে যেয়ে আমি যে মূলনীতি জানি তা হ”েছ ঐক্য হ”েছ গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি। নিজের ফতোয়ার প্রতি অনড় থাকতে যেয়ে আমি এই মূল নীতিকে অমান্য করতে রাজি নয়। এরকম ছিল তাদের চিন্তা ভাবনা। এভাই উনারা বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতেন। আপনি যদি ফিকাহ নিয়ে পড়াশোনা করেন, ফিকার কিতাব গুলো পড়লে দেখবেন কেউ যদি অন্য আর একজনের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন তখন শুরুতেই তিনি যার  সেঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন তার জন্য দোআ করে একপৃষ্ঠা লেখেন। এরপরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন কেন তিনি একমত নন। একই ভাবে অপর জন যখন এর উত্তর দিবেন তখন তিনিও এভাবে বলেন যে, আপনার দোআর জন্য ধন্যবাদ এবং আপনার জন্যও নিন্মোক্ত দোআ রইলো। যদিও তারা যে সব সময় একে আপরের সাথে এরূপ ব্যবহার করেন তেমন কিন্ত নয়। মাঝে মাঝে তাদের লেখার মধ্যে অনের প্রতি প্রকৃতির মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। যা হোক, বর্তমান সময়ে ইসলামের যে রূপ সেটা বোঝার জন্য এই বৃত্ত গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা দরকার। বৃত্ত গুলার কথা মাথায় রেখে যদি আমরা চিন্তা করি যে আমাদের কোন বিষয় টাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, কোনটি সবার প্রথমে গণ্য হবে, মূলনীতি সমূহ, স্ব”ছতা, ন্যায়বিচার, আল্লাহ ভীতি, সত্যতা, সত্যবাদীতা এগলো হলো সবার আগে আসবে। এই মূলনীতি গুলো আমরা কিভাবে শিখি? অত্যাবশ্যকীয় বাধ্যবাদকতা পালন কারার মাধ্যমে এই মূলনীতি গুলো আমাদের মধ্যে দৃঢ় হয়। আর কোন জিনিসটা এই মূলনীতি গুলোকে পরিবর্তন করে, উন্নত করে? তৃতীয় বৃত্তটি। এখন যেটা দেখা যায় বর্তমান সময়ে ইসলাম মস্পর্কিত আমাদের বেশির ভাগ জিজ্ঞাসাই প্রথম তিনটি বৃত্ত থেকে দূরে। আমাদের জিজ্ঞাসা গুলো হলো পঞ্চম বৃত্তের মধ্যে চলে গেছে। মূলনীতি গুলোর ছিটে ফোটা যেখানে নেই। কোরআরে আল্লাহ যে সব মানুষের বর্ণনা দিয়েছেন, যারা পবিত্র থাকতে ভারবাসেন। আমরা যখন হজ্বে যায়; হজ্ব হ”েছ একটি মৌলিক বাধ্যবাদকতা। হজ্ব পালনের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে এইসব গুনাবলী সুদৃঢ় হওয়ার কথা। তাকওয়া, শোকর, আল্লাহ ভীতি, সততা, ন্যায়বিচার এই সব কিছুই। এখন ইব্রাহীম (আঃ) এর সময় থেকে প্রচলিত রীতি নীতি অনুসারে আপনি যখন কাবার সামনে গিয়ে কালো পাথর টিকে ধরার চেষ্টা করেন তখন দেখবেন আশে পাশের মানুষ জন আপনার মুখে তাদের কনুইয়ের গুতা দি”েছ। আপনাকে ঠেলে সরিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এমনও দেখবেন যে, কেউ একজন তার সামনের পাঁচ ছয় জন মানুষের উপর দিয়ে এসে হাজ্বে আসওয়া ধরার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। যেন তার অনেক মূল্যবান কিছু চাওয়ার আছে, দোআ করতে হবে। কিš‘ এরকম উতলা হয়ে, যুদ্ধ করে হাজ্বে আসওয়ার কাছে আসার পরে একমাত্র যে দোআটি তাকে সর্বপ্রথম করা উচিত সেটা হ”েছ ‘আমি এই মাত্র যে সব গুনাহ করে এই পর্যন্ত আসলাম তার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দাও’। অর্থাৎ দেখা যা”েছ যে,আমরা রীতি নীতি গুলো ঠিকই মেনে চলছি কিš‘ তার মাধে মূলনীতি গুলোর কোন উপ¯ি’তি নেই। মুজদালিফাই(মুজদালিফা হ”েছ খুবই পবিত্র ¯’ান) যখন আপনারা যাবেন; এটা এমন এক জায়গা যেখানে আপনি সারা রাত আল্লাহর দোআ করে কাটানোর কথা, আল্লাহর স্মরণে রাত পার করার কথা। সকালে যখন আপনি সেখান থেকে রওনা দেবেন এমনকি আপনি দুই কদমও সেখান থেকে যেতে পারবেন না। আপনি চিন্তাই পড়ে যাবেন আপনি কি একটা পবিত্র জায়গায় আছেন? নাকি একটা আস্তাকুড়ের মাঝখানে দাঁদিয়ে আছেন? আপনি নিচে তাকিয়ে মাটি দেখতে পাবেন না। শুধু দেখবেন ডাইপার, পানির বোতল, কোকা-কোলার বোতল, টিস্যু পেপার। এমন কেন হয়? আপনার কি জানের মূলনীতির কোন ধার ধারিনা আমরা। এর ফলে অত্যাবশ্যকীয় মূলনীতি গুলোর প্রাধান্য দেওয়ার কারণে যে ধর্ম হওয়ার কথা ছিল সব চেয়ে সুন্দর সেটা এখন হয়ে গেছে কদাকার। এভাবেই আমরা একটা সুন্দর ধর্মকে কদাকার করে ফেলেছি। বনি ঈসরাইলরা যেভাবে করেছিল। তারা আল্লাহর দেওয়া মূল জিনিসগুলো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র রীতি নীতি গুলোকেই গ্রহণ করেছিল। সুবহান আল্লাহ! আমার কাছে তাই এই কাঠামোটি ভালভাবে বুঝতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান মনে হয়। তাহলে আমাদের সেই সেই সুযোগটা নেওয়া উচিত। বর্তমান উম্মার মতোভেদের কয়েকটি বড় বড় বিষয় হ”েছ তারাবির নামায কয় রাকাত?চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে কি সারা পৃথিবী একই দিনে ধরা হবে নাকি এলাকা ভিত্তিক ঠিক করা হবে? এসব হ”েছ বড় বড় তর্কের বিষয়। কিš‘ আপনারা যদি মূল ফিকাহর বই গুলো দেখেন তাহলে বুঝবেন এই সব বিষষ এমনকি তিন নম্বার বৃত্তের মধ্যেও নেই। চার বা তার পরের বিষয়। তাহলে কেন আমরা এই সব নিয়ে তর্ক করছি? যে সব বিষয় আমাদেরকে সঙ্ঘবদ্ধ করে, সেগুলো সে সব বিষয় যেগুলো আমাদের মধ্যে বিভক্তি ঘটাই তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। কিš‘ আমরা যখন সে সব বিষয় থেকে আমাদের দৃষ্টিশক্তি সরিয়ে নিই তখন বিভক্তি সৃষ্টি করার বিষয় গুলিই আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে।  এমনকি এখনকার দিনে একজন মুসলিম আর একজন মুসলিমকে দেখে তখন মনে মনে চিন্তা করে সে কি সাফি? নাকি মালিকি? সে কি আমার মতো? আপনার তো এইসব নিয়ে চিন্তাই করা উচিত না। আপনার তো চিন্তা করা উচিত সেকি মুসলিম নাকি মুসলিম না? ব্যাস! এটুকুই যথেষ্ট।

এবার আসা যাক শেষে একটি উদাহরণে-আল্লাহ মোট কত জন নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন? এক লক্ষ চব্বিশ হাজার। পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারা? নবী রাসূলগল। এই বিষয় তো আমরা সবাই একমত? মানব জাতির জন্য সর্বত্তম শিক্ষক কারা ছিলেন? এই এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রাসূলগণ হ”েছন সমগ্র মানব জাতির জন্য প্রেরিত সর্বোত্তম শিক্ষক। তাদের নাম বলুন এই বার? তারা সব চেয়ে গুরুত্তপূর্ন ব্যক্তিবর্গ! আপনাদের তো তাদের নাম জানা উচিত ছিল? আল্লাহ তো তাদের সবার নাম বলেন নি। আল্লাগ শুধুমাত্র ২৫ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। তার মানে কি অল্প কয়েক জনের নাম বাদ পড়েছে? তারা ছিলেন ইসলামের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। অথচ আমরা তাদের নাম পর্যন্ত জানি না। আল্লাহ আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন না যে, আবু হানিফা কে ছিলেন? কে ছিলেন ইমাম শাফি? অযথা চিন্তা বন্ধ করুন। আল্লাহ্ তাঁর কিছু বান্দাকে বিভিন্ন বিষয় বোঝার এবং উপলব্ধি করার এমন ক্ষমতা দিয়েছেন যে, তাদের ব্যাখ্যা শোনার পর আপনার মনে হবে যে, আমি কিছুই জানি না। তারা যদি কোন সাধারণ বিষয় নিয়েও আলাপ করে যেটা আপনার মতে আপনি ভালই জানেন কিš‘ আলাপ শেষে ‘সুবাহান্নাল্লাহ্’ আপনার মনে হবে এটা অসাধারণ ছিল। ইনশাআল্লাহ এই রকম কিছু বিষয় নিয়ে এখানে আলাপ করা হবে যেটা আমার কাছে তাৎপর্যকর বলে মনে হয়েছে। যেটা সবার জন্য কাজে লাগবে।

উপরের চিত্রে আমরা যা দেখতে পা”িছ তার মাধ্যমে এক অদ্ভুত প্রচেষ্টা করা হয়েছে। সেটা আজকের আলোচ্য বিষয়টি সবার সামনে সহজে উপ¯’াপন কারার জন্য। এখানে একদম ভিতরে একটা বৃত্ত। এর বাইরে আরও বড় আরও বড় আরও বড়, এই ছবিটা নিয়েই আজকে আমরা কথা বলব। মূলত আমাদের ধর্মের বৃহত্তম রূপটা আমরা এই ছবি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করবো।

একদম কেন্দ্র আমাদের ধর্মের মূল যেটা রয়েছে, মূলত আমাদের ধর্ম ইসলামের মূল নীতিটা আমরা এই ছবির মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করব। সেটাকে আমরা বলতে পারি আমাদের দীনে রসূল। আমাদের ধর্মের নির্যাস তথা মূলনীতি। অর্থাৎ আমাদের ধর্মের অত্যবশ্যকীয় নীতিমালা সমূহ। মোটের উপর আমাদের ধর্মটা হ”েছ একগু”ছ নীতিমালার সমাহার। বিষয়টিকে আমরা এইভাবে দেখতে পারি-এইসব নীতিমালা হলো সেটাই যেটা আল্লাহ্ একজন মানুষের কাছ থেকে চান। আল্লাহ্ একজন মানুষের কাছ থেকে কি চান? কি ধরণের গুনাবলী, কি ধরণের দৃষ্টিভঙ্গী, আবেগ, চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস একজন মানুষের থাকা উচিৎ। আপনারা যদি জানতে চান এই অত্যাবশ্যকীয় জিনিস কি কি, আল্লাহ্ কোরআনে খুবই সুন্দর ভাবে এইগুলো বর্ণনা করেছেন। তিনি এটা করেছেন “লা-আল্লাহ্ তাত্তাকুম” যেমন বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করার পর তিনি বলেন-“লা-আল্লাহ্ তাত্তাকুম, লা-আল্লাহ্কুম তাত্তাকুন, লা-আল্লাহকুম তাসকুরূন, লা-আল্লাহকুম তাযাক্বারূণ”। যাতে করে তোমরা মনে রাখো, যাতে করে তোমরা শোকরকারী হও, যাতে করে তোমরা তাকওয়া অর্জন কর, যাতে করে তোমরা চিন্তা কর। এই সবগুলোই হল মৌলিক গুনাবলী যা একজন মানুষের থাকা উচিৎ। একজন মানুষের বিবেচনা মূলক দৃষ্টিভঙ্গী থাকা উচিৎ, তার চিন্তাশীল হওয়া উচিৎ, তার সর্বদা আল্লাহকে স্মরণে রাখা উচিৎ, তার মধ্যে আল্লাহ্ ভীতি থাকতে হবে, তার আল্লাহর প্রতি শোকর গোজার হওয়া উচিৎ। “লা-আল্লাহ কুম তাশকুরূণ” যাতে করে তোমরা শোকরকারী হতে পার। আল্লাহ যখনই ‘লা-আল্লাহকুম’ বলেন এবং এই ধরণের কাজগুলো উল্লেখ করেন এর মানে তিনি বোঝাতে চান এই গুলো হল সেইসব গুনাবলী যেগুলো আমাদের আয়ত্ব করতে হবে। আমি তখনই আল্লাহর একজন সফল বান্দা হতে পারবো যখন নিজের জীবনে এই সব গুনাবলীর প্রতিফলন ঘটাতে পারবো।

সবগুলো বিষয় এখানে উল্লেখ করবো না। কয়েকটা বিষয়ই বার বার আপনাদের সামনে বলার চেষ্টা করবো।

সুষ্ঠভাবে চিন্তা করতে পারা-‘লা-আল্লাকুম ত্বাকিলুন’, ‘লা-আল্লাকুম তাসকুরুন’-যাতে করে তোমরা শোকর কারী হও, লা-‘আল্লাকুম তাযাক্কারুন’-যাতে করে তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর, ‘লা-আল্লাকুম তাত্তাকুম’- যাতে করে তোমরা নিজেকে রক্ষা করতে পারো বিপদ থেকে, সতর্ক থাকতে পারো এবং অবশ্যই ‘লা-আল্লাকুম তুফলিহুন’- যাতে করে তোমরা পরকালে সফল হতে পারো। আল্লাহ প্রায় কোরআনে লা-আল্লাকুম তুফলিহুন বলেছেন। এইগুলো হ”েছ মৌলিক কিছু গুনাবলী। এসব ছাড়াও অর্থাৎ আল্লাহ মানুষের কাছে কি চান এই সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন এই শব্দগুলোর মাধ্যমে ‘ইন্নালাহা ইউহিব্বু’ অথবা ‘ওয়া আল্লাহু ইউহিব্বু’ আল্লাহ মুত্তাকীনদের ভালবাসেন, আল্লাহ মুফছিনিনদের ভালবাসেন। এইভাবে আল্লাহ বিভিন্ন গুনাবলীর মানুষদের ভালবাসার কথা উল্লেখ করেছেন। এইগুলো হ”েছ সেই সব গুণ যেগুলা আমাদের জীবনে নিয়ে আসতে হবে। এবং সব শেষে আল্লাহ বলেন-‘ইন্নালাহা মা’আ’-আল্লাহ সাথে আছেন। আল্লাহ প্রথমে বলছেন- ‘লা-আল্লাহকুম’ এরপর বলছেন- ‘ইন্নালাহা ইউহিব্বু’ এবং এরপর বলছেন- ‘ইন্নালাহা মা’আ। নিশ্চই আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন যারা পরহেজগার এবং সৎকর্ম করেন। এই গুলোই হ”েছ আমাদের দীনে রসুল। মূলতঃ এই গুলোই হ”েছ আমাদের ধর্মের নির্যাস। আমার মতে এইগুলোই হ”েছ আমাদের ধর্মের মূল নীতি বা মৌলিক নীতি। আল্লাহ কুরআনে সরাসরি এইসব বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। আশা করি বিষয়টি আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে।

এখন কথা হ”েছ এই যে মূল নীতি এটা কিš‘ দেখা যায় না। এটা হ”েছ একটা ধারণা। ‘শোকরকারী হওয়া’  এর মানে কি তাকওয়া অর্জন করতে হবে। তাকওয়া বিষয়ে আমরা অনেক আলোচলা শুনেছি। তাকওয়া বাড়াতে হবে তাকওয়া বাড়াতে হবে। তাকওয়া কি কিনতে পাওয়া যাবে বা আমি কি এমন কিছু খেতে পারি যেটা আমার তাকওয়াকে বাড়াবে? আমি কিভাবে বুঝবো আমার তাকওয়া কম বা বেশি? একই ভাবে আমার ঈমান বাড়াতে হবে, তাওয়াক্কুল বাড়াতে হবে। এই সবই হ”েছ বিমূর্ত ধারণা। আমরা কিভাবে এইসব জিনিসকে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ে আসবো? কিভাবে আমরা এই কাজ করবো? সেটাই হ”েছ পরবতী বৃত্তটি।


দ্বিতীয় বৃত্তঃ

 ২য় বৃত্তটি হ”েছ মৌলিক বাধ্যবাদকতা। মূল করনীয় এবং মূল বর্জনীয় কাজ সমূহ।

উদাহরণ স্বরূপ আমরা সকলেই জানি আমাদের ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভ আছে। সালাত এর মধ্যে একটি। সালাত হ”েছ মৌলিক করণীয় কিš‘ প্রকৃতপক্ষে এই বাধ্যবাদকতার মাধ্যমে ইসলামের আত্যবশ্যকীয় মূল নীতির একটি পূরণ করা যায়। এমন কি আল্লাহ আমাদের যে সব মৌলিক বাধ্যবাদকতা সেট করে দিয়েছেন সে সবের উদ্দেশ্য হ”েছ মূলনীতি গুলোকে সুদূঢ় করা। যেমন ধরুণ- আল্লাহ বলছেন-“আকিমুছ সলাতালি জিকরী” সালাত প্রতিটা কর যাতে করে তোমরা আমাকে স্মরণ করতে পারো। আল্লাহেকে স্মরণ করা কি একটি মৌলিক নীতি নয়? অবশ্যই। আল্লাহর স্মরণকে কিভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ে আসবো এমন কি উপায় আমরা এটা করতে পারি যা আল্লাহকে সš‘ষ্ট করবে? এমনটি করার সবচেয়ে ভাল উপাই হ”েছ সালাত। সালাহ হ”েছ এমন একটি মাধ্যম যেটা আল্লাহর স্মরণ করার বিমূর্ত ধারণাটিকে বাস্তবিক স্বত্বে রূপান্তরিত করে। সিয়াম পালন করার বিষয়ে আল্লাহ বলেন-“কামা কুতিবা আলাল্লাযীনা মিন ক্ববলিকুম লা-আল্লাকুম তাত্তাকুম” তোমাদের সিয়াম পালন করতে বলা হয়েছে যাতে করে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। বাস্তবে এমন কি করা যেতে পারে যেটা তাকওয়ার এই বিমূর্ত ধারণাকে আমাদের জীবনযাত্রায় প্রতিফলিত করবে? কি সেটা? সিয়াম পালন করা এই ধরণের একটি কাজ। এইভাবে আপনারা দেখবেন আল্লাহ প্রদত্ত প্রত্যেকটি মৌলিক বাধ্যবাদকতা এক একটি মৌলিকনীতিকে সুদৃঢ় করে। বাধ্যবাদকাতা গুলো দেওয়া হয়েছে যাতে করে মৌলিকনীতি গুলোকে আমাদের প্রাত্যহিত জীবনে নিয়ে আসতে পারে। দূর ভাগ্য জনক ভাবে আমরা যা করছি সেটা হ”েছ আমরা আল্লাহ প্রদত্ত এই বাধ্যবাদকতাকে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা থেকে আলাদা করে ফেলেছি। মানুষ ঠিকই সিয়াম ফালক করছে কিš‘ তাদের মধ্যে এই বোধটি নেই যে, সিয়াম পালনের মূল উদ্দেশ্য হ”েছ তাকওয়া বৃদ্ধি করা। মানুষ সালাত আদায় করছে কিš‘ রাতা এই বিষয়ে অবগত না যে, সালাত আদায় করার কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। এইগুলো হ”েছ মৌলিক বাধ্যবাদকতা। শুধুমাত্র এই উদ্দেশ্যেই আমরা এইসব কাজ পালন করি না। ইসলামের অত্যবশ্যকীয় নীতিগুলো পূরণ করে আমাদের জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে আমরা এই সব কাজ করে থাকি।

সালাত হলো একটা গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছাবার একটা রাস্তা। একই ভাবে সিয়াল পালক করাও লক্ষ্যে পৌঁছানো একটা উপায়। আজকাল আমরা এইসব উপায় বা রাস্তাকে আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যে রূপন্তর করে ফেলেছি। যেটা খুবই ভয়াবহ সমস্যা। কোরআন কিš‘ আমাদের এমন করতে বলে না। কোরআনে যখনই কোন বাধ্যবাদকতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তখনই সে কাজের উদ্দেশ্য অর্থাৎ ঐ কাজ সম্পর্কিত মূল নীতিগুলোর কথা বলা হয়েছে। আমরাই এই দু’টি বিষয়কে কেঁটে আলাদা করে ফেলেছি। আর একটা কথা- বাধ্যবাদকতা বলতে শুধু করনীয় কাজগুলোকেই বোঝানো হয়নি। বর্জনীয় কাজ সমূহের কথাও বলা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ সালাত অন্যতম উদ্দেশ্য হ”েছ “সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে” অশ্লীলতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল নীতি থেকে দূরে রাখে। আমাদের তাকওয়াবান, আল্লাহর শুকরকারী এবং আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হতে বাঁধা দেয়। সালাত আমাদের এই অশ্লীলতা থেকে হেফাযত করে। অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের সেই সব কাজ করতে নিষেধ করেছেন যেগুলো করলে ইসলামের মূলনীতিকে অমাণ্য করা হবে। প্রত্যেকটা নিষেধ এক একটা মূলনীতির সাথে জড়িত। দ্বীনে রসূলের সাথে সম্পৃক্ত। সংক্ষেপে এটাই হ”েছ আমাদের দ্বিতীয় বৃত্তটি। প্রধান প্রধান করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়সমূহ। এই পর্যন্ত, অর্থাৎ এই দুটি বৃত্তে যে সব বলা হয়েছে এই বিষয়ে মোটামুটি সব স্কলার সব মুসলিমরাই একমত। ইসলামের মূল নীতি গুলো কি কি এবং আমাদের মূল করনীয় ও বর্জনীয় কাজ কি কি? কোন মুসলিম এসে এরকম বলবে না আমি আসলে নিশ্চিত না শুকর কি আসলে হারাম কি না? এরকম কখনই হবে না। আর যদি কেউ এরকম বলে থাকে তার মানে হ”েছ সে পাগল।


তৃতীয় বৃত্তঃ

এই তৃতীয় বৃত্তটি হ”েছ প্রধান বাধ্যবাদকতার তুলনাই ছোট সুপারিশ সমূহ(জবপড়সসধহফধঃরড়হ)। যেমন ধরুন আমাদের মহানবী (সাঃ) এর সুন্নাহ সমূহ। অর্থাৎ সেই সব ভাল কাজ সমূহ যে সবের কথা কোরআনে বলা হয়েছে। এমন কাজ যেগুলো আমাদের চারিত্রিীক উৎকর্ষ সাধন করে। উদাহরণ স্বরূপ নরম ভাবে কথা বলা, ন¤্রভাবে চলাফেরা করা। এইগুলো হ”েছ সেই সব কাজ যা আপনার চরিত্রকে উন্নত করবে। একই ভাবে ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা, যেটা একটা সুন্নাহ্। অথবা ধরুন ডান হাত দিয়ে খাওয়া। এই সব ছোট ছোট কাজগুলি আমাদের চরিত্রের বিকাশ ঘটায়। এখন ব্যাপারটা দাড়ালো এই যে, প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ মৌলিক নীতি গুলোর আত্য¯’ করার দিকে। সেটা সঠিক ভাবে করার জন্য তাকে নজর দিতে হবে প্রধান প্রধান বাধ্যবাদকতার দিকে। যদি সে এই প্রধান বাধ্যবাদকতাগুলো ঠিক ভাবে মেনে চলতে পারে তাহলে তার পরবর্তী চিন্তা হওয়া উচিৎ ছোট ছোট সুপারিশ গুলো পালনের মাধ্যমে আরও সুন্দর্য মন্ডিত করা।

উদাহরণ স্বরূপ- সালাত হ”েছ একটি প্রধান কাজ। সালাতের পরে জিকির করাটা কি? এটা হ”েছ উৎকর্ষ সাধন। একই ভাবে সালাতের পরে দোআ করাটা একটা উৎকর্ষ সাধন। অর্থাৎ আপনি ইতোমধ্যে প্রধান কাজটি করে ফেলেছেন। এই যে ছোট ছোট ভাল কাজ করার মাধ্যমে উৎকর্ষ সাধন করার যে ধারণা এটা নিয়ে কারও মধ্যে তেমন কোন ভেদাভেদ নেই। ‘কিয়ামুল লাইল’ একটা ভাল কাজ, তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করা একটা ভাল কাজ, সিয়ামের অতিরিক্ত সিয়াম পালন করা একটা ভাল কাজ, ভ্রমণ কিংবা ঘরে প্রবেশের সময় দোআ করা ইত্যাদি। দোআ না করে ঘরে প্রবেশ করা হারাম না। অর্থাৎ দোআ না পড়ে ভ্রমণ করাটাও হারাম না। কিš‘ এমন করাটা ভাল। এটা আপনার দ্বীনের উৎকর্ষ সাধন করে। এই সব জিনিস আপনার জীবনকে উন্নত করে। এইগুলি হল তৃতীয় বৃত্তটি। কিš‘ চার নম্বর বৃত্তে যাবার আগে তিন নম্বর বৃত্তটি সম্পর্কে আরও কিছু বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। প্রথম দ্বিতীয় বৃত্তে আলোচ্য বিষয়গুলো হ”েছ সেই সব জিনিস যে গুলোর দিকে আমাদের নবীগণ দাওয়াত দিয়েছেন। অর্থাৎ নবীগণ আমাদেরকে ইসলামের প্রধান নীতিমালা সমূহ, প্রধান করণীয় ও বর্জনীয় এই সবের দিকে ডেকেছেন। এইগুলোই ছিল বনীদের দাওয়াতের মৌলিক দিক। মানুষ যখন এইসব মৌলিক বিষয়কে মেনে নিয়ে, ভাল করে বুঝে আত্য¯’ করতে সক্ষম হল এর পরে গিয়ে নবীগন তাদেরকে এ সবের পাশাপাশি উৎকর্ষ সাধনের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ দিতেন। এখন দেখা যাক আমরা কি করি?

আমরা যেটা করি- সেটা হ”েছ মৌলিক নীতিমালা গুলো তো আমরা ভুলেই গেছি উপরš‘ আমরা প্রধান বাদ্যবাদকতাগুলো উৎকর্ষ সাধনের জন্য যেসব ছোট ছোট সুপারিশ রয়েছে সে সবের সাথে মিশিয়ে ফেলেছি। এই সম্পূর্ণ মিশ্রণই এখন প্রধান বাধ্যবাদকতা হয়ে গেছে। উদাহরণ স্বরূপ-আপনি যদি এমন কাউকে দেখেন যে জোহরের ফরজ সালাত আদায় করেছে, সুন্নাত সালাত আদায় করে নি, তখন আপনি তার পিছনে লাগেন। কি করেছেন আপনি!! আপনি সুন্নাত নামায পড়েন নি কেন? অর্থাৎ আমরা মানুষকে উৎকর্ষ সাধনমূলক কাজগুলো করার জন্য বল প্রয়োগ করছি। মানুষ যদি এ কাজগুলো না করে তাহলে আমরা তাদের পিছনে লাগছি, তাদের সালাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছি। তারা কি করছে কি করেনি এই সব নিয়ে কথা বলছি। যেমন ধরুন সহি উ”চারণ!

এটা কিš‘ দ্বিতীয় বৃত্তের মধ্যেও পড়ে না। এটা তৃতীয় বৃত্তের অন্তর্ভক্ত। অথচ আমরা কি করি-কারও তিলাওয়াত সহি না হলে কপালে হাত চাপড়ে বলি, ওহ! কুরআন তিলাওয়াত করে কখনই আপনি গুনাহের মধ্যে পড়ছেন না। আপনি অবম্যই সহি ভাবে তিলাওয়াত শেখার চেষ্টা করবেন। কিš‘ আপনি যদি বসে বসে মদ কলকলা একদম পুঃখানুপুঃখ ভাবে হিসাব করার চেষ্টা করেন তাহলে? সাহাবাগণ তো এইভাবে শেখেন নি। আপনি অবশ্যই আপনার তাসবিদের জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। কিš‘ আপনাকে বুঝতে হবে এই সব জিনিস এগুলো হ”েছ উৎকর্ষ সাধনের জন্যে। এগুলো ঘর সাজানোর জিনিসের মত। আপনার বারার একটা দরজা থাকা দরকার আছে, একটা জানালার দরকার আছে আলো বাতাসের জন্য কিš‘ আপনা বসার জন্য স্পেশাল কার্পেক অত্যবশ্যক না। দেওয়ালে রং বে রঙের পেইন্টিং থাকতেই হবে এমনটি নয়। এটা ঠিক যে এগুলো থাকলে ভালই লাগে। একটা সোফা থাকলে ভালই হয়। কিš‘ কারও বাসার দেওয়ালে পেইন্টিং না থাকলে আপনি তাকে বলতে পারেন না যে, তোমার তো বাসায় নেই। পেইন্টিং না থাকলে কি আর বাসা হয় নাকি? আপনি এ রকম করতে পারেন না। কারণ অধিকাংশ মানুষই প্রধান বাধ্যবাদকতা এবং উৎকর্ষ সাধনমূলক কাজগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেন না। যার ফলে আপনি যখন এরকম বলেন-সমালোচনা করেন একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে তখন মানুষ গণহারে সব ক্ষেত্রেই এটাকে প্রযজ্য মনে করে। আমি আপনাদের এর একটা ভয়াবহ পরিণতির উদাহরন দি”িছঃ

আমাদের মধ্যে এক ধরণের মানুষ আছেন যাদের মধ্যে মোটামুটি সব কিছুই হারাম। কেউ ভিডিও গেম খেলছে তারা বলবে ভিডিও গেম কিš‘ হারাম। আপনি টিভি দেখছেন এটা হারাম, আপনি রেডিও শুনছেন এটা হারাম। হারাম! সব কিছুই হারাম। এখন ব্যাপারটা হ”েছ দ্বিতীয় বৃত্তে বর্ণিত কিছু প্রধান বর্জনীয় কাজ রয়েছে, যেমন-মদ, জিনা। এহুলো খুবই খারাপ এবং এগুলো দ্বিতীয় বৃত্তের আওতায় পড়ে। আল্লাহ যে সবকে হারাম বলেছেন। আর এখন আপনি বলছেন ভিডিও গেমস হারাম। এই রকম বলার মাধ্যমে আপনি আল্লাহ যে সব কাজকে হারাম বলেছেন আর আপনি নিজে যে সব কাজকে অপছন্দ করেন এই উভয়কেই একই পাল্লায় মাপছেন। এর ফলে একজন যুবক ভাই বা বোন যে মুভি দেখে, হতে পারে সেটা অর্থহীন কোন মুভি বা যে কোন কিছু। যখন সে শুনবে মুভি দেখা হারাম সে বলবে এটা হারাম!! আমি তো সারাক্ষণই মুভি দেখি। এটা হারাম! তাহলে তো আমি বিপদে আছি? আর যেহেতু আমি প্রচুর মুভি দেখি, তাহলে তো আমি বিপদে আছি? আর বিপদে যখন আছিই অন্য হারাম গুলোও  তাহলে করি। দোযখে তো এমনিতেই যাওয়া লাগবে। তাহলে মোজ-মাস্তি, পার্টি এই সব করেই যাই। এখন দেখেন এই যে আপনি মদ, রেডিও, ভিডিও গেম এই সব কিছুকে এক কাতারে ফেলেছেন; একজন পাপির মনে মধ্যেও এই সব এখন একই পাল্লাই বিচার হ”েছ। সে ভাববে ভিডিও গেম কোন ব্যাপার না, মুভি দেখাও কোন ব্যাপার না, আর জিনাও কোন ঘটনা না, মদ, নেশা সবই সমান। তার মানে আমরা তখনই সমাজে সমস্যা তৈরি করা শুরু করি যখন আমরা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত সৃনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার লিস্টকে ঠিক রাখছি না। মানুষ মনে করে আমরা যত বেশি জিনিসকে হারাম হিসেবে লিস্ট করবো এটা মানুষের জন্য ততই ভাল হবে, মানুষকে রক্ষা করবে। আমাদের মনে রাখা উচিৎ নবীগণ মানুষকে আমাদের থেকে ভাল ভাবে রক্ষা করেছেন। তারা যা করেছেন এর চেয়ে উন্নত তর কিছু করার সামর্থ্য আমাদের নেই।  আমাদের সীমাবদ্ধতার ভিতরে থেকেই অবশ্যই বিচার করার চেষ্টা করবে যে, যে কোন কিছু কি আসলেই পরিষ্কারভাবে হারাম কি না? এমন স্পষ্ট হারাম জিনিস অবশ্যই আমাদের সামনে আসতে পারে যে, যেটার অস্তিত্ব আগে কখনই ছিল না। কিš‘ সেটা অবশ্যই বড় কোন পাপ কাজের সাথে সম্পর্কীত হবে। আপনারা কি এতোদূর পর্যন্ত বুঝতে পারলেন? এ সব হ”েছ উৎকর্ষ সাধন মূলক কাজ কর্ম। এসব কাজ কর্মের মধ্যে আছে অতিরিক্ত সুন্নাত নামায পড়া, সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম পালন করা, কবর জিয়ারত করা। এই যে এই সব কাজ এই সব নিয়ে কোন মতো ভেদ নেই। উৎকর্ষ সাধনমূলক কাজগুলো করুন। আপনি যদি মৌলিক বাধ্যবাদকতা গুলো পূরণ করার পরে আরও ভাল মুফতি হতে চান তো খুবই ভাল। প্রদিনি একটু একটু করে ভাল কিছু শিখুন, একটা ছোট দোআ শিখুন প্রতিদিন। এ ধরণের সব কিছুই করা উচিত। এখন এই বৃত্তের ঠিক বাইরে াার একটি বৃত্ত আছে। চার নম্বর বৃত্ত।


চার নম্বন বৃত্তঃ

চতুর্থ বৃত্তটি হ”েছ সেই সব বিষয় যে গুলো সম্পর্কে সাহাবীগণ একমত পোষণ করেছেন। আমরা এই বিষয়গুলো কুরআনে পাই না। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল সে সব কিš‘ সুন্নাতে স্পষ্টভাবেই বিদ্যমান। তার বাইতে এই যে চার নম্বার বৃত্তটির কথা বলা হ”েছ এগুলো হ”েছ সে সব বিষয় যে গুলো নিয়ে সাহাবীগণ মতো ঐক্য  পৌঁচেছেন। কিš‘ বাস্তবে এমন বিষয় পাওয়া দুষ্কর যেটা নিয়ে সব সাহবীগণ একমত হয়েছেন। ব্যাপারটা এতো সহজ নয়। তিন ধরণের মতোক্য রয়েছে। সাহাবীদের এক মতের ধরণের উপর নির্ভর করে মূলতঃ তিন ধরণের মতোক্য রয়েছে। প্রথমটি হ”েছ-সাহাবীগণ কোন একটা ঘটনা নিয়ে একমত। সেটা কেমন? যেমন ধরুন সব সাহাবীগণ বদরের যুদ্দে অংশ গ্রহণ করেন নি। অনেকেই বদরের যুদ্ধের পর মুসলিম হয়েছেন। কিš‘ যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা সকলেই একই ভাবে বলবেন যে, এই যুদ্দ অমুক দিনে শুরু হয়েছিল, এতো দিন ধরে চলেছে। সবাই এরকম কথা বলবেন কারণ তারা সবাই ওই যুদ্ধে উপ¯ি’ত ছিলেন। এ কারণেই তারা এ বিষয়ে একমত।

দ্বিতীয় ধরণের ঐক্যমত হ”েছ সাহাবীদের মধ্যে যারা সবচেয়ে জ্ঞানী ছিলেন তাদের মধ্যে ঐক্যমত। কিছু ক্ষেত্রে তারা সবাই একে অপরের সাথে একমত পোষণ করতেন। যেমন ধরুন ইবনে আব্বাস রা. তিনি একজন জ্ঞানী সাহাবী ছিলেন। এমন অনেক সাহাবী ছিলেন যারা মূলত একটি সূরাও পারতেন না। তারা সদ্য মুসলিম ছিলেন। এখনকার সময় যারা ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হ”েছ তাদের মতো। কিš‘ তাদের ঐক্যমত এই দ্বিতীয় ধরনের ঐক্যমতের মধ্যে পড়ে না। এটা হ”েছ সেই ধরণের ঐক্যমত যেখানে কোন বিষয়ে কোন জ্ঞানী সাহাবীগণ একমত হয়েছেন। তৃতীয়টি হ”েছ সাহাবীদের মধ্যে যারা শাসক তাদের মধ্যকার ঐক্যমত। যেমন ধরুন ওমরা রা. এবং তার উপদেষ্টা মন্ডলি, তার ঐক্যমত সেটা হ”েছ এই তৃতীয় ধরণের ঐক্যমত। এই হ”েছ সাহাবীগণদের মধ্যে তিন ধরণের ঐক্যমত। অর্থাৎ ঘটনা ভিত্তিক, জ্ঞানী সাহাবী ভিত্তিক এবং শাসন কার্যে নিয়োজিত সাহাবীদের ঐক্যমত ভিত্তিক। যখন শাসন কার্যেক সাথে সম্পৃক্ত কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন পড়তো ওমর রা. অবশ্যই হাজার হাজার সাহাবীদের সাথে আলোচনা করতেন না। তিনি তার উপদেষ্টা মন্ডলিদের সাথে বসে সবাই মিলে একমত হয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতেন। তার পর সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইন প্রনয়ণ করা হতো। ব্যাপারটা বোঝা গেল?এখন বর্তমান সময়ে এসে যেটা ঝামেলা হয়েছে কেউ একজন যখন এইভাবে বলে সব সাহাবীগণ এই বিষয়ে একমত। সব সাহাবীগণ এই বিষয়ে একমত? দাঁড়ান দাঁড়ান সব সাহাবীগণ একমত?এটা আপনি কোথায় পেলেন? কেন এইভাবেই তো বর্ণনা আছে। কোথায় আছে? বই পুস্তকে আছে। কোন বই? যাও ভাল ভাবে পড়। আপনি কোন ভাবেই এটা বলতে পারেন না যে সব সাহাবীরাই একমত ছিলেন। আপনি এচা করতে পারেন না। আপনার কথা সুনির্দিষ্ট দলিল পত্রের ভিত্তিতে হতে হবে। এমনিতেই বলে ফেললে হবে না। সব চেয়ে হাস্যকর যে কথাটি এখন পর্যন্ত শুনেছি সব ইসলামি বিশারদ এই বিষয়ে একমত। বলেন কি? ঠিক আছে তাদের দশ জনের নাম বলেন? অ্যা.....অ্যা.............সবাই।

আপনি যদি তাফসীর পড়েন তাহলে আপনি একটি বিষয় পাবেন না যে বিষয়ে সব স্কলার একমত হয়েছেন। এটা হাস্যকর কথা। কুরতুবি, তাবারী, জালালাইন, তাফসীর ইবনে কাছির, ইবনে আশুর, একটা কথা যেটা প্রায়শই সব তাফসীরে লেখা থাকে স্কলারগণ এই বিষয়ে একমত। এবং এর ভিন্নমত একদমই বিরল। অন্য আর এক মুফা”িছর হয়তো এর উল্টোটা লিখেছেন যে, এই ভিন্ন মতের বিষয়েই বরং স্কলারগণ একমত, আর প্রথম মতের পক্ষেই যুক্তি বিরল। অর্থাৎ তাদের কাছেও এই একমত হওয়ার বিষয়টি আপেক্ষিক। এটা ঠিক ভাবে বোঝার জন্য অনেক পড়াশোনা এবং ঠিকভাবে বোঝার প্রয়োজন। এমনও হয়েছে যে, সাহাবীগণের মধ্যে যিনি সব থেকে জ্ঞানী তিনিও একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন, দ্বিমত পোষণ করেছেন। দ্বীনের কোথায় সর্বসম্মত ভাবে ঐক্যমত আছে? কোন বিষয়ে কোন প্রকার দ্বিমত নেই? প্রথম তিনটি বৃত্ত। যখন আমরা মানুষকে দ্বীনের পথে দাওয়াত দিই, নবী রাসূলদের পক্ষ থেকে আওহŸান জানাই তখন আমরা মূলত কোন বিষয়ে কথা বলি? বৃত্ত নাম্বার এক এবং বৃত্ত নাম্বার দুই। যখন সেই মানুষগুলো আমাদের দলে চলে আসে, আমাদের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, আমাদের বন্ধু মহলের হয়ে যায়, প্রথম দুটি বৃত্তির বিষয়গুলো ইতিমধ্যেই মেনে নেই তখন আমরা তাদের তিন নাম্বার বৃত্তের দিকে আগ্রহী করার চেষ্টা করি। চার নাম্বার বৃত্তের বিষয়গুলো খুবই সুনির্দিষ্ট এগুলো মূলত গবেষণা ও উ”চ শিক্ষার জন্য। তাই আপনি চার নাম্বার বৃত্ত দিয়ে ইসলাম প্রচার শুরু করে এটা বলতে পারের না-এটা ইসলাম। আপনাকে শুরু করতে হবে মহানবী (সাঃ) যেখান থেকে শুরু করেছেন সেখান থেকে। আপনাদেরকে এক এবং দুই দিয়ে শুরু করতে হবে। এখন সকল সাহাবী কি এই সবগুলো বিষয়ে একমত হয়েছিলেন? না। তবে তারা সবাই এক থেকে তিন বিষয়গুলোতে সহমত পোষণ করেছেন। আপনারা যদি এটাকে ইজমা বলতে চান অর্থাৎ সকল সাহাবী যে সব বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন সেগুলো হ”েছ এক, দুই এবং তিন নাম্বার বৃত্তের বিষয়গুলি। এখন এই চারটি বৃত্তের বাইরে আর একটি বৃত্ত আছে।


পাঁচ নাম্বার বৃত্তঃ

এই বৃত্তের অন্তর্ভক্ত হ”েছ সেই সব বিষয় যে গুলো নিয়ে বর্তমান মুসলিম উম্মা একমত পোষণ করেন। এটাকে আপনারা ইস্তিহাদ বলতে পারেন। একজন স্কলার নিজস্ব মতামত থাকে যেটাকে আমরা ফতোয়া বলি। স্কলাররা কিভাবে চিন্তা করেন? তারা জানেন যে, এক দুই বা তিন এগুলো হ”েছ নিখুত। চার নাম্বার বৃত্তের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অর্থাৎ কেন তারা এই বিষয়ে একমত হয়েছিলেন অথবা দ্বিমত পোষণ করেছিলেন এটা বোঝার জন্য অনেক পড়ালেখা এবং গবেষণার প্রয়োজন। এর পরে যখন পাঁচ নাম্বার বৃত্তটি আসে যেখানে এমন কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলো সম্পর্কে কুরআনে সারাসরি কোন সমাধান দেওয়া হয়নি এবং হাদীসেও পরিষ্কার ভাবে কিছু বলা হয়নি। এখন সমাধার পাওয়ার জন্য আমাকে আমার নিজের গবেষণা করতে হবে। দলিল প্রমাণাদী যা কিছু পাওয়া যায় খুঁজে বের করতে হবে। এর পর আমার সামর্থের সর্বো”চ ব্যবহার করে এ সবের ভিত্তিতে একটা সমাধানে আসতে হবে। তার মানে আমি এই সমস্যা একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করছি এটা মেনে নিয়ে যে, আমার প্রাপ্ত উত্তরটি একেবারে নিখুত হবে না। কারণ একদম নিখুঁত সমাধান এক, দুই এবং তিন এই বৃত্ত গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই আমার প্রাপ্ত উত্তরটি হ”েছ আমার সীমাদ্ধতার মধ্য থেকে যতটুকু নিখুঁত হওয়া যায় ততটুকু। এটা এমন কোন সমাধান নয় যেটা আমি অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে পারি। কিš‘ আমি এমন করে বলতে পারবো না যে, এটাই ইসলাম এবং তোমরা যদি এটা অনুসরণ না কর তাহলে ইসলাম থেকে বাইরে চলে যাবে। আমি এমনটা বলতে পারি না। আমি বলতে পারবো না যে আমার দেওয়া ফতোয়া ইসলামের সাথে সু-নীবিড় ভাবে সম্পর্কীত। বড়ো জোর আমি এই ভাবে বলতে পারি যে, আমার জ্ঞান অনুসারে যতোদূর বুঝতে পেরেছি এইভাবে চিন্তা করতে পারি। এসব হ”েছ সেই সব বিষয় যেগুলোর বিষয়ে কোরআন, হাদীস বা সাহাবাগণের পক্ষ থেকে কোন স্পষ্ট সমাধান পাওয়া যায় না। একটা উদাহরণ দি”িছ-খলিফা হারুনর রশিদ। তিনি তখন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। আমিরুল মুমেনীন। সেই সময় আমেরুল মুমেনীনগণ সালাতের ইমামতী করতেন বিশেষ করে হজ্বের সময়। এরকম এক সময় তিনি হজ্ব পালন করতে গেলেন। আমেরুল মুমেনীন হিসেবে তিনিই ইমামতি করবেন। যাই হোক তিনি প্রথম কাতারে ছিলেন কারণ তিনি ইমামতি করবেন। আর তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী। ওনার হজ্বের যিনি মোয়াল্লেম ছিলেন (মোয়াল্লেম হ”েছ সেই ব্যক্তি যিনি অপনাকে হজ্বের বিভিন্ন নিয়ম কানুন শিখিয়ে দেবেন) স্বাভাবিক ভাবেই আমেরুল মুমেনীনের মোয়াল্লেম হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি ছিলেক কাজী আবু ইউসুফ। হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানীফার সব কিছু তিনিই লিপিব্ধ করতেন। যাই হোক, পৃথিবীর বুকে হানাফী মাযহাবের বিজ্ঞ যে আলেম তিনি হ”েছ তার মোয়াল্লীম। তারা দুজনেই সামনের কাতারে আছেন। এবং আমেরুল মুমেনীন একটু পরেই সালাতের ইমামতি করবেন। কিš‘ খলীফা হারুনর রশিদ হিজামা করেছেন (হিজামা হ”েছ এমন একটা চিকিৎসা পদ্ধতি যেটা কাপিং এর মাধ্যমে করা হয় এবং এর ফলে শরীর থেকে রক্ত বের হয়)। এখন হানাফী মাযহাব আনুসারে শরীর থেকে রক্ত বের হলে ওযু নষ্ট হবে। খলিফা হারুনর রশিদ একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি জানতেন যে, তিনি যদি ইমাম আবু ইউসুফকে এখন জিজ্ঞাসা করেন যে আমার ওযু কি নষ্ট হয়েছে তাহলে আবু ইউসুফ কি বলবে? হ্যা, আপনার ওযু নষ্ট হয়ে গেছে। আর সেই ক্ষেত্রে তাকে প্রথম কাতার থেকে বের হয়ে সবগুলো কাতার পার হয়ে ওযু খানাই যেয়ে ওযু করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে যে সময় লাগবে তাতে আসরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে মাগরীবের ওয়াক্ত চলে আসবে। কিš‘ তাকে তো তখনই সালাতের ইমামতি করতে হবে এবং তিনি যদি আবু ইউসুফকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে উনি বলবেন আপনার সালাত আদায় হবে না। কারন ওযু নেই। ঘটনা চক্রে ইমাম মালিক ও প্রথম কাতারে ছিলেন। এমতাব¯’ায় খলিফা উদ্দেশ্য প্রণিতভাবে উনার নিজের মোয়াল্লিমকে এ বিষয়ে না জিজ্ঞেস করে ইমাম মালিককে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। কারণ মালিকি মাযহাব অনুসারে রক্তপাত হলেও ওযু নষ্ট হয় না এবং খলিফা এটা জানতেন। তিনি ইমাম মালিককে জিজ্ঞেস করলেন-“আ”ছা আমি যে কাপিং করালাম আমার কি ওযু নষ্ট হয়েছে?”ইমাম মালিক বললেন-না না, আপনার ওযু ভঙ্গ হয় নি, আপনি ইমামতি করুন। ফলশ্রæতিতে খলিফা হারুনর রশিদ ইমামতি করলেন হজ্বের সময় সেই বিশাল জামাতের। কাজী আবু ইউসুফ, ইমাম মালেক দুজনেই সেই জামাতে উনার পেছনে ছিলেন। আর কাজী আবু ইউসুফ ছিলেন সেই সময়ের বিখ্যাত স্কলারদের মধ্যে অন্যতম। তার সাথে অনেক শিক্ষার্থী ছিলেন যারাও হজ্ব করতে এসেছিলেন। সেই শিক্ষার্থীরা কিš‘ পেছনে ছিলেন তারাও এই ঘটনা দেখতে পেলেন এবং নামায পড়ছিলেন। আর নামায শেষ হওয়ার সাথে সাথে তারা দৌঁড়ে কাজী ইউসুফের কাছে গেলেন এবং বললেন আমরা কি আবার সালাত আদায় করব?আপনি কিভাবে উনাকে কাবার সামনে ইমামতি করতে দিলেন ওযু ছাড়া? তখন কাজী আবু ইউসুফ, যিনি কিনা হানাফী মাযহাবেন অনুসারী তার শিক্ষার্থীদের বললেন-‘যে পুনরাই সালাত আদায়ের দুঃসাহস দেখাবে সে খাওয়ারীজদের অন্তর্ভক্ত, সে বা তারা এ দ্বীনের অন্তর্ভক্ত নয়’। কেন তিনি এরকম বললেন? কারণ ফতোয়া নিয়ে তার চিন্তার প্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। উনার চিন্তার প্রকৃতি এই রকম ছিল যে, রক্ত পাতের সাথে ওযু নষ্ট হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। এটি এমন একটি বিষয় যেট নিয়ে গবেষণা করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন আমাদের গবেষণা অনুসারে ওযু নষ্ট হবে আর ইমাম মালিকের গবেষণা অনুসারে ওযু নষ্ট হবে না। এটা একান্তই আমাদের ব্যক্তিগত গবেষণার ফলাফল। কোরআনে এমন কোন আয়াত নেই যেখানে বলা হয়েছে যে, রক্ত পাত হলে ওযু নষ্ট হবে। এমন কোন হাদীস নেই যেখানে বলা হয়েছে রক্ত পাতের কারণে ওযু নষ্ট হবে। তাই আমরা কেউ এই নিয়ে বিতর্ক করতে পারি না যে, আমার প্রপ্ত ফলাফলই সঠিক। কারণ এটা একান্তই আমার সীমিত জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত ব্যক্তিগত মতামত। যার ফলে আমি কিš‘ এটাও জানি না আমি সঠিক কি না আর উনি ভুল কি না। আর এটা নিয়ে তর্ক করতে যেয়ে আমি যে মূলনীতি জানি তা হ”েছ ঐক্য হ”েছ গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি। নিজের ফতোয়ার প্রতি অনড় থাকতে যেয়ে আমি এই মূল নীতিকে অমান্য করতে রাজি নয়। এরকম ছিল তাদের চিন্তা ভাবনা। এভাই উনারা বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতেন। আপনি যদি ফিকাহ নিয়ে পড়াশোনা করেন, ফিকার কিতাব গুলো পড়লে দেখবেন কেউ যদি অন্য আর একজনের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন তখন শুরুতেই তিনি যার  সেঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন তার জন্য দোআ করে একপৃষ্ঠা লেখেন। এরপরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন কেন তিনি একমত নন। একই ভাবে অপর জন যখন এর উত্তর দিবেন তখন তিনিও এভাবে বলেন যে, আপনার দোআর জন্য ধন্যবাদ এবং আপনার জন্যও নিন্মোক্ত দোআ রইলো। যদিও তারা যে সব সময় একে আপরের সাথে এরূপ ব্যবহার করেন তেমন কিন্ত নয়। মাঝে মাঝে তাদের লেখার মধ্যে অনের প্রতি প্রকৃতির মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। যা হোক, বর্তমান সময়ে ইসলামের যে রূপ সেটা বোঝার জন্য এই বৃত্ত গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা দরকার। বৃত্ত গুলার কথা মাথায় রেখে যদি আমরা চিন্তা করি যে আমাদের কোন বিষয় টাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, কোনটি সবার প্রথমে গণ্য হবে, মূলনীতি সমূহ, স্ব”ছতা, ন্যায়বিচার, আল্লাহ ভীতি, সত্যতা, সত্যবাদীতা এগলো হলো সবার আগে আসবে। এই মূলনীতি গুলো আমরা কিভাবে শিখি? অত্যাবশ্যকীয় বাধ্যবাদকতা পালন কারার মাধ্যমে এই মূলনীতি গুলো আমাদের মধ্যে দৃঢ় হয়। আর কোন জিনিসটা এই মূলনীতি গুলোকে পরিবর্তন করে, উন্নত করে? তৃতীয় বৃত্তটি। এখন যেটা দেখা যায় বর্তমান সময়ে ইসলাম মস্পর্কিত আমাদের বেশির ভাগ জিজ্ঞাসাই প্রথম তিনটি বৃত্ত থেকে দূরে। আমাদের জিজ্ঞাসা গুলো হলো পঞ্চম বৃত্তের মধ্যে চলে গেছে। মূলনীতি গুলোর ছিটে ফোটা যেখানে নেই। কোরআরে আল্লাহ যে সব মানুষের বর্ণনা দিয়েছেন, যারা পবিত্র থাকতে ভারবাসেন। আমরা যখন হজ্বে যায়; হজ্ব হ”েছ একটি মৌলিক বাধ্যবাদকতা। হজ্ব পালনের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে এইসব গুনাবলী সুদৃঢ় হওয়ার কথা। তাকওয়া, শোকর, আল্লাহ ভীতি, সততা, ন্যায়বিচার এই সব কিছুই। এখন ইব্রাহীম (আঃ) এর সময় থেকে প্রচলিত রীতি নীতি অনুসারে আপনি যখন কাবার সামনে গিয়ে কালো পাথর টিকে ধরার চেষ্টা করেন তখন দেখবেন আশে পাশের মানুষ জন আপনার মুখে তাদের কনুইয়ের গুতা দি”েছ। আপনাকে ঠেলে সরিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এমনও দেখবেন যে, কেউ একজন তার সামনের পাঁচ ছয় জন মানুষের উপর দিয়ে এসে হাজ্বে আসওয়া ধরার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। যেন তার অনেক মূল্যবান কিছু চাওয়ার আছে, দোআ করতে হবে। কিš‘ এরকম উতলা হয়ে, যুদ্ধ করে হাজ্বে আসওয়ার কাছে আসার পরে একমাত্র যে দোআটি তাকে সর্বপ্রথম করা উচিত সেটা হ”েছ ‘আমি এই মাত্র যে সব গুনাহ করে এই পর্যন্ত আসলাম তার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দাও’। অর্থাৎ দেখা যা”েছ যে,আমরা রীতি নীতি গুলো ঠিকই মেনে চলছি কিš‘ তার মাধে মূলনীতি গুলোর কোন উপ¯ি’তি নেই। মুজদালিফাই(মুজদালিফা হ”েছ খুবই পবিত্র ¯’ান) যখন আপনারা যাবেন; এটা এমন এক জায়গা যেখানে আপনি সারা রাত আল্লাহর দোআ করে কাটানোর কথা, আল্লাহর স্মরণে রাত পার করার কথা। সকালে যখন আপনি সেখান থেকে রওনা দেবেন এমনকি আপনি দুই কদমও সেখান থেকে যেতে পারবেন না। আপনি চিন্তাই পড়ে যাবেন আপনি কি একটা পবিত্র জায়গায় আছেন? নাকি একটা আস্তাকুড়ের মাঝখানে দাঁদিয়ে আছেন? আপনি নিচে তাকিয়ে মাটি দেখতে পাবেন না। শুধু দেখবেন ডাইপার, পানির বোতল, কোকা-কোলার বোতল, টিস্যু পেপার। এমন কেন হয়? আপনার কি জানের মূলনীতির কোন ধার ধারিনা আমরা। এর ফলে অত্যাবশ্যকীয় মূলনীতি গুলোর প্রাধান্য দেওয়ার কারণে যে ধর্ম হওয়ার কথা ছিল সব চেয়ে সুন্দর সেটা এখন হয়ে গেছে কদাকার। এভাবেই আমরা একটা সুন্দর ধর্মকে কদাকার করে ফেলেছি। বনি ঈসরাইলরা যেভাবে করেছিল। তারা আল্লাহর দেওয়া মূল জিনিসগুলো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র রীতি নীতি গুলোকেই গ্রহণ করেছিল। সুবহান আল্লাহ! আমার কাছে তাই এই কাঠামোটি ভালভাবে বুঝতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান মনে হয়। তাহলে আমাদের সেই সেই সুযোগটা নেওয়া উচিত। বর্তমান উম্মার মতোভেদের কয়েকটি বড় বড় বিষয় হ”েছ তারাবির নামায কয় রাকাত?চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে কি সারা পৃথিবী একই দিনে ধরা হবে নাকি এলাকা ভিত্তিক ঠিক করা হবে? এসব হ”েছ বড় বড় তর্কের বিষয়। কিš‘ আপনারা যদি মূল ফিকাহর বই গুলো দেখেন তাহলে বুঝবেন এই সব বিষষ এমনকি তিন নম্বার বৃত্তের মধ্যেও নেই। চার বা তার পরের বিষয়। তাহলে কেন আমরা এই সব নিয়ে তর্ক করছি? যে সব বিষয় আমাদেরকে সঙ্ঘবদ্ধ করে, সেগুলো সে সব বিষয় যেগুলো আমাদের মধ্যে বিভক্তি ঘটাই তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। কিš‘ আমরা যখন সে সব বিষয় থেকে আমাদের দৃষ্টিশক্তি সরিয়ে নিই তখন বিভক্তি সৃষ্টি করার বিষয় গুলিই আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে।  এমনকি এখনকার দিনে একজন মুসলিম আর একজন মুসলিমকে দেখে তখন মনে মনে চিন্তা করে সে কি সাফি? নাকি মালিকি? সে কি আমার মতো? আপনার তো এইসব নিয়ে চিন্তাই করা উচিত না। আপনার তো চিন্তা করা উচিত সেকি মুসলিম নাকি মুসলিম না? ব্যাস! এটুকুই যথেষ্ট।

এবার আসা যাক শেষে একটি উদাহরণে-আল্লাহ মোট কত জন নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন? এক লক্ষ চব্বিশ হাজার। পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারা? নবী রাসূলগল। এই বিষয় তো আমরা সবাই একমত? মানব জাতির জন্য সর্বত্তম শিক্ষক কারা ছিলেন? এই এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রাসূলগণ হ”েছন সমগ্র মানব জাতির জন্য প্রেরিত সর্বোত্তম শিক্ষক। তাদের নাম বলুন এই বার? তারা সব চেয়ে গুরুত্তপূর্ন ব্যক্তিবর্গ! আপনাদের তো তাদের নাম জানা উচিত ছিল? আল্লাহ তো তাদের সবার নাম বলেন নি। আল্লাগ শুধুমাত্র ২৫ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। তার মানে কি অল্প কয়েক জনের নাম বাদ পড়েছে? তারা ছিলেন ইসলামের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। অথচ আমরা তাদের নাম পর্যন্ত জানি না। আল্লাহ আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন না যে, আবু হানিফা কে ছিলেন? কে ছিলেন ইমাম শাফি? অযথা চিন্তা বন্ধ করুন। 



Tuesday, February 23, 2021

সাড়ে তিন হাত দেহের ভিতর

 সাড়ে তিন হাত দেহের ভিতর এত বড় দুঃখ আমি কেমন করে সই রে?

'আমি কি তোর দুঃখের কোন আত্মীয় হই' রে?।।


সামনে-পিছে শিথান পুইথা এমন একটা জায়গাও নাই,

যেখানেতে আমার নামে দুঃখ বরাদ্দ নাই।।

আমি এমন কপাল পোড়া, বেঁচে থেকেও জিন্দা মরা,

কলিজাটা পইড়া ছাই।

'আমি কি তোর দুঃখের কোব আত্নীয় হয়' রে?।।


সুখের আশায় ঘুরলাম শুধু ভাটিয় আর  উজান,

আমার দুঃখ আমার কাছে হাইরে দুনিয়ার সমান।।

জনম গেলো ভুল শুধরাইতে, সময় নাই রে আমার হাতে,

যাব ডাকলে মালিক সাই।

'আমি কি তোর দুঃখের কোন আত্মীয় হই' রে?।।


সাড়ে তিন হাত দেহের ভিতর এত বড় দুঃখ আমি কেমন করে সই রে?

'আমি কি তোর দুঃখের কোন আত্মীয় হই' রে?।।


Sunday, February 21, 2021

বিপ্লব মানে জীবন দেওয়া বসে থাকা নায়

 বিপ্লব মানে জীবন দেওয়া বসে থাকা নয় সে কোনদিন আসবে না রে করো যদি ভয়।।

আসবে বিজয় রক্ত আর জীবনের বিনিময়।।

 বিপ্লব মানে জীবন দেয়া বসে থাকা নয় সে কোনদিন আসবে না রে করো যদি ভয়।।

 লড়াইয়ের ওই ময়দানেতে যেতে তোমাকে হবে,

প্রয়োজনে সব রক্তটুকু জমিনে ঢেলে দেবে।।

তবুও তোমার লড়তেই হবে মানিবে না পরাজয়।। 

বিপ্লব মানে জীবন দেওয়া বসে থাকা নয় সে কোনদিন আসবে না রে করো যদি ভয়।।

**কি হবে ছাত্র সেজে চুমু খেয়ে সনদ খানা যদি হয় বিদ্যালয়টা পতিতাদের আড্ডাখানা।।

এর চেয়ে মারাই ভালো দেশ ছেড়ে যাওয়াই ভাল।।

কিভাবে ধোকা দিয়ে বিবেক টা কে??

কি হবে বেঁচে থেকে??

অযথা বিদ্যা শিখে যদি না গড়তে পারি শোষণ বিহীন সমাজটাকে।

কি হবে বেঁচে থেকে??

আমি 'শহীদ দিবস পালন করি বাংলা ভাষার তরে ইংলিশ মিডিয়ামে কিন্তু আমার ছাওয়াল পড়ে'।।

মনে আমার উচ্চ আশা।।

বাংলাতে যে ফিউচার নাই, কইতে গেলে লজ্জায় মইরা যাই। তোমরা গোস্বা না হও ভাইরে ভাই কইতে গেলে লজ্জায় মইরা যাই।।

দেশটা লক্ষ মায়ের ইজ্জতের দামে কেনা, মাটিতে মিশে আছে লাখ শহীদের রক্ত কনা।।

শহীদের রক্তের দামে কেনা মোদের সোনার ভিটা।।

তবে কেন অভ্যাস হলো বিদেশিদের চরম চাটা?

দেশটা নয়তো কারো বাপের ভিটা করবে মন চাইবে যখন যেটা।।

সম্মুখে তোর ঘন কালো মেঘের আনাগোনা সূর্যোদয়ের পূর্বে দেখিস হয়ে যাবে ফানা।।

ওরে তুই যদি যাস খেয়া বেয়ে হিম্মত বুকে পাল উড়িয়ে দেখবি শেষে ফল কোরআন নামের বৈঠা ধরো হাদিস নামের পাল।

আধার রাতে জীবন খেয়ায় ওঠরে নবীন দল কোরআন নামের বৈঠা ধরো হাদিস নামের পাল।।

আঁধার রাতে জীবন খেয়ায়.......

কইরে সেই দিগ্বিজয়ী নবীন মুজাহিদ এখনো কি গাইতে হবে ঘুম ভাঙানী গীত??

কইরে খালিদ উমর? এসেছে নতুন বদর

কইরে খালিদ কইরে ওমর এসেছে নতুন বদর কইরে সেই দিক বিজয়ী নবীন মুজাহিদ??

এখনো কি গাইতে হবে ঘুম ভাঙ্গানী গীত






Translate