❑ ১. ইস্তিফতাহ বা সালাত শুরুর দুআ যা তাকবিরে তাহরিমার পর পঠিতব্য:
◈ দোয়া-১
وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي، وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا، إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ، لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا، لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ، وَالشَّرُّ لَيْסَ إِلَيْكَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ، تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
উচ্চারণ: ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস সামাওয়াাতী ওয়াল আরদ্বা হানীফান্, ওয়া মাা আনা মিনাল মুশরিকীন।
ইন্না সালাাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাাতী লিল্লাাহি রাব্বিল আালামীন, লাা শারীকা লাহু, ওয়া বিযাালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন।
আল্ল-হুম্মা আনতাল মালিকু লাা ইলাাহা ইল্লাা আনতা, আনতা রাব্বী ওয়া আনা আবদুকা, যালামতু নাফসী, ওয়া’তারাফতু বিযাম্বী, ফাগফিরলী যুনূবী জামী’আন্, ইন্নাহু লাা ইয়াগফিরুজ যুনূবা ইল্লাা আনতা, ওয়াহদিনী লিআহসানিল আখলাা ক্ব, লাা ইয়াহদী লিআহসানিহাা ইল্লাা আনতা, ওয়াসরিফ আন্নী সাইয়িআহাা, লাা ইয়াসরিফু আন্নী সাইয়িআহাা ইল্লাা আনতা,
লাব্বাইকা ওয়া সা’দাইকা, ওয়াল খাইরু কুল্লুহু ফী ইয়াদাইকা, ওয়াশ শাররু লাইসা ইলাইকা, আনা বিকা ওয়া ইলাইকা, তাবারাকতা ওয়া তা’আালাইতা,
আসতাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।
অর্থ: আমি একনিষ্ঠভাবে আমার চেহারা সেই সত্তার দিকে ফিরিয়ে নিলাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।
নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য — তাঁর কোনো শরিক নেই।
আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
হে আল্লাহ! আপনি বাদশাহ, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমার প্রতিপালক এবং আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। সুতরাং আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। আমাকে উত্তম চরিত্রের দিকে হেদায়েত দিন। আপনি ছাড়া কেউ উত্তম চরিত্রের দিকে হেদায়েত দিতে পারে না।
আমার থেকে মন্দ চরিত্র দূর করে দিন। আপনি ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারে না।
আমি হাজির, আপনার আনুগত্যে প্রস্তুত। সকল কল্যাণ আপনার হাতে, আর অকল্যাণ আপনার দিকে সম্বন্ধিত নয়। আমি আপনার মাধ্যমেই টিকে আছি ও আপনার দিকেই আমার প্রত্যাবর্তন। আপনি বরকতময়, আপনি মহিমান্বিত। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার দিকে তওবা করছি।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৭৭১ — আলি ইবনে আবি তালিব রা. থেকে বর্ণিত; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৭৬০; জামে তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ৩৪২১ — হাদিসের মান: সহিহ]
◈ দোয়া-২ (ইস্তিফতাহ-এর দোয়াগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সহিহ)
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বাা’ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খাত্বাায়াায়া কামাা বাা’আদতা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিব, আল্লাহুম্মা নাক্ব ক্বিনী মিনাল খাত্বাায়াা কামাা ইউনাক্ব ক্বাস সাউবুল আবইয়াদু মিনাদ দানাস, আল্লাহুম্মাগসিলনী মিন খাত্বাায়াায়া বিল মাা’ই ওয়াস সালজি ওয়াল বারাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার ও আমার গুনাহসমূহের মাঝে তেমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দিয়ে ধুয়ে দিন।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৭৪৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৫৯৮ — আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, মুত্তাফাকুন আলাইহি। হাফেজ ইবনে হাজার ও ইবনুল হুমাম রহ. একে ইস্তিফতাহ-এর দোয়াগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সহিহ বলে উল্লেখ করেছেন]
◈ দোয়া-৩ (সংক্ষিপ্ততম ইস্তিফতাহ,যা উমর রা. মানুষকে শিক্ষা দিতেন)
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ: সুবহাানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবাারাকাসমুকা, ওয়া তা’আালাই জাদ্দুকা, ওয়া লাা ইলাাহা গাইরুক।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মহিমা সুউচ্চ, এবং আপনি ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৩৯৯ — উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর আমল হিসেবে বর্ণিত, সহিহ; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৭৭৫-৭৭৬; জামে তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ২৪২-২৪৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর: ৮০৬ — আয়িশা ও আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত সনদগুলো পৃথকভাবে দুর্বল (জইফ)। তবে পরস্পরকে শক্তিশালী করায় সম্মিলিতভাবে হাসান/সহিহ লি গাইরিহি। আল্লামা আলবানী রহ. একে সহিহ বলেছেন (ইরওয়াউল গালিল, হাদিস নম্বর: ৩৪০) (উমর রা.-এর বর্ণনাসূত্রে)।
হাসান লি গাইরিহী অন্যান্য সূত্রে]
➧ মনে রাখা জরুরি: উপরের তিনটি দোয়ার যেকোনো একটি প্রতি রাকাতের শুরুতে (শুধু প্রথম রাকাতে) একবার পড়া সুন্নাহ; একসাথে সবগুলো মিলিয়ে পড়া সুন্নাহসম্মত নয়। বৈচিত্র্য আনার উদ্দেশ্যে ভিন্ন ভিন্ন নামাজে ভিন্ন ভিন্ন দোয়া পড়া মুস্তাহাব। ইস্তিফতাহ ছুটে গেলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে না পড়লেও নামাজ সহিহ হয়ে যায়, কেননা এটি ওয়াজিব নয় বরং সুন্নাহ।
❑ ২. রুকুতে পাঠ করার দোয়া:
◈ দোয়া-১ (সবচেয়ে প্রচলিত)
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: সুবহাানা রাব্বিয়াল আযীম।
অর্থ: আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৭৭২]
◈ দোয়া-২ (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকু ও সিজদায় সবচেয়ে বেশি পড়তেন)
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: সুবহাানাকাল্ল-হুম্মা রাব্বানাা ওয়া বিহামদিকা আল্ল-হুম্মাগফিরলী।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৭৯৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৪৮৪]
◈ দোয়া-৩
سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
উচ্চারণ: সুব্বূহুন কুদ্দূসুন, রাব্বুল মালাা’ইকাতি ওয়ার রূুহ।
অর্থ: ফেরেশতাকুল ও রুহ (জিবরাইল)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পবিত্র, মহিমান্বিত।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৪৮৭]
◈ দোয়া-৪ (বিশেষভাবে নফল বা তাহাজ্জুদে পঠিত)
اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي، وَمُخِّي وَعَظْمِي وَعَصَبِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা রাকা’তু, ওয়া বিকা আামানতু, ওয়া লাকা আসলামতু, খাশা’আ লাকা সাম’ঈ ওয়া বাসারী, ওয়া মুখ্খী ওয়া আজমী ওয়া আসাবী।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার জন্যই রুকু করলাম, আপনার প্রতিই ইমান আনলাম, আপনার নিকটই আত্মসমর্পণ করলাম। আপনার সমীপে বিনীত হলো আমার কান, চোখ, মগজ, অস্থি ও স্নায়ুমণ্ডলী।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৭৭১]
➧ মনে রাখা জরুরি: রুকুতে ওয়াজিব একবার “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” বলা; বাকি সব দোয়া ও পুনরাবৃত্তি (৩/৫/৭ বার) সুন্নাহ।
❑ ৩. রুকু থেকে ওঠার সময় ও পরের দোয়া (কওমা):
মাথা তোলার সময় ইমাম ও একা নামাজ আদায়কারী বলবেন:
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ
উচ্চারণ: সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ।
অর্থ: আল্লাহ তার প্রশংসা শুনলেন যে তাঁর প্রশংসা করলো।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৭৩৬]
এরপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মুক্তাদি, ইমাম ও একা নামাজ আদায়কারী নিচের যেকোনো একটি বা একাধিক দোয়া পড়বেন:
◈ দোয়া-১
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: রাব্বানাা ওয়া লাকাল হামদ।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৭৯৬]
◈ দোয়া-২
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: রাব্বানাা লাকাল হামদ।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই প্রশংসা (ওয়াও ছাড়া)।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৭৯৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৩৯২]
◈ দোয়া-৩
اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বানাা লাকাল হামদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই প্রশংসা।
[সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৮৪৮ — হাদিসের মান: সহিহ]
◈ দোয়া-৪:
اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বানাা ওয়া লাকাল হামদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৭৯৬ (অন্য বর্ণনা)]
দোয়া-৫ (অধিক ফজিলতপূর্ণ):
حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ
উচ্চারণ: হামদান কাসীরান ত্বাইয়্যিবাম মুবাারাকান ফীহ।
অর্থ: এমন প্রশংসা যা প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় (উপরের “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ”-এর সাথে যুক্ত করে পড়া হয়)।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৭৯৯]
◈ দোয়া-৬
اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বানাা লাকাল হামদু মিলআস সামাাওয়াাতি ওয়া মিলআল আরদ্বি, ওয়া মিলআ মাা শি’তা মিন শাইয়িন বা’দু।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আকাশমণ্ডলী পূর্ণ, পৃথিবী পূর্ণ এবং এরপর আপনি যা চান তা পূর্ণ করার মতো সমস্ত প্রশংসা আপনারই।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৪৭৬]
◈ দোয়া-৭ (দীর্ঘতম ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ)
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ، أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ، أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ، وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ، اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ: রাব্বানাা লাকাল হামদু মিলআস সামাাওয়াাতি ওয়াল আরদ্বি, ওয়া মিলআ মাা শি’তা মিন শাইয়িন বা’দু, আহলাস সানাা’ই ওয়াল মাজদি, আহাক্ক্বু মাা ক্বাালাল আবদু, ওয়া কুল্লাহনাা লাকা আবদুন, আল্লাহুম্মা লাা মাানি’আ লিমাা আ’তাইতা, ওয়া লাা মু’তিয়া লিমাা মানা’তা, ওয়া লাা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আকাশ-জমিন পূর্ণ এবং এরপর আপনি যা চান তা পূর্ণ করার মতো সমস্ত প্রশংসা আপনারই। আপনিই প্রশংসা ও মহিমার যোগ্য অধিকারী। বান্দা যা বলেছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে সত্য কথা, আর আমরা সবাই আপনার বান্দা।
হে আল্লাহ! আপনি যা দেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দেওয়ার কেউ নেই। আর কোনো ধনবান বা প্রতাপশালীর ধন-প্রতাপ আপনার সামনে তাকে উপকৃত করতে পারে না।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৪৭৭]
❑ ৪. সিজদায় পাঠ করার দোয়া:
◈ দোয়া-১ (সবচেয়ে প্রচলিত)
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى
উচ্চারণ: সুবহাানা রাব্বিয়াল আ’লাা।
অর্থ: আমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৭৭২]
◈ দোয়া-২
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: সুবহাানাকাল্ল-হুম্মা রাব্বানাা ওয়া বিহামদিকা আল্ল-হুম্মাগফিরলী।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ७৯৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৪৮৪]
◈ দোয়া-৩
سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
উচ্চারণ: সুব্বূহুন ক্বুদ্দূসুন, রাব্বুল মালাা’ইকাতি ওয়ার রূুহ।
অর্থ: ফেরেশতাকুল ও রুহ (জিবরাইল)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পবিত্র, মহিমান্বিত।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৪৮৭]
◈ দোয়া-৪
اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু, ওয়া বিকা আামানতু, ওয়া লাকা আসলামতু, সাজাদা ওয়াজহী লিল্লাযী খালাক্বাহু ওয়া সোয়াউওয়ারাহু, ওয়া শাক্ব ক্বা সাম’আহু ওয়া বাস্বারাহু, তাবাারাকাল্লাাহু আহসানুল খ্বাালিক্বীন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার জন্যই সিজদা করলাম, আপনার প্রতিই ইমান আনলাম, আপনার নিকটই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার চেহারা সিজদা করলো সেই সত্তার জন্য, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন, আকৃতি দিয়েছেন এবং এর কান ও চোখ প্রকাশ করেছেন। মহান, বরকতময় আল্লাহ, সর্বোত্তম স্রষ্টা।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৭৭১]
◈ দোয়া-৫
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ: دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলী যাম্বী কুল্লাহু: দিক্ব ক্বাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আাখিরাহু, ওয়া আলাানিইয়াতাহু ওয়া সিররাহু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিন — ছোট ও বড়, প্রথম ও শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৪৮৩]
➧ মনে রাখা জরুরি: সিজদায় ওয়াজিব একবার “সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা” বলা; বাকি সব দোয়া ও পুনরাবৃত্তি সুন্নাহ। সিজদায় যত ইচ্ছা দোয়া করা মুস্তাহাব — কারণ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বান্দা তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদারত অবস্থায়। সুতরাং তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।
❑ ৫. দুই সিজদার মাঝখানে বসার দোয়া:
◈ দোয়া-১
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া আাফিনী, ওয়ারযুক্বনী।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করো, রহম করো, হেদায়েত দাও, নিরাপত্তা দাও এবং রিজিক দাও।
[সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৮৫০; জামে তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ২৮৪ — হাদিসের মান: হাসান]
◈ দোয়া-২
رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলী, রাব্বিগফিরলী।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন।
[সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৮৭৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর: ৮৯৭ — হাদিসের মান: সহিহ]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এ দুআগুলোর উপর আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment