Sunday, April 21, 2024

ঈদের সালাত কোথায় আদায় করা সুন্নত মসজিদে নাকি ঈদগাহে এবং ঈদের পূর্বে দু রাকআত সালাত প্রসঙ্গ

 প্রশ্ন: ঈদের সালাত কোথায় পড়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত? মসজিদে না কি ঈদগাহে? আর হাদিসে এসেছে, ঈদের সালাতের আগে ও পরে আর কোন সালাত নেই। কিন্তু যদি মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করা হয় তাহলে কি বসার আগে দু রাকআত তাহিয়াতুল মসজিদ পড়া যাবে?

উত্তর: ঈদের সালাত ঈদগাহে পড়া সুন্নত। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবিগণ মরুভূমির খোলা প্রান্তরে ঈদগাহে সালাত আদায় করতেন বলে একাধিক হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন:
◈ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
«كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى المُصَلَّى
আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহে গমন করতেন। (সহিহ বুখারি)
◈ অন্য হাদিসে এসেছে, (আবদুল্লাহ) ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْدُو إِلَى الْمُصَلَّى وَالْعَنَزَةُ بَيْنَ يَدَيْهِ تُحْمَلُ وَتُنْصَبُ بِالْمُصَلَّى بَيْنَ يَدَيْهِ فَيصَلي إِلَيْهَا. رَوَاهُ البُخَارِيّ

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালে ঈদগাহে চলে যেতেন। যাবার সময় তাঁর সাথে একটি বর্শা নিয়ে যাওয়া হতো। এ বর্শা সামনে রেখে তিনি সালাত আদায় করতেন।” (সহিহ বুখারি) এসব হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ঈদের সালাত ঈদগাহে পড়া সুন্নত। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববী ছেড়ে বাইরে খোলা প্রান্তরে ঈদের সালাত পড়েছেন-যদিও এ মসজিদে সালাত আদায় করা কাবা শরিফ ছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য মসজিদের চেয়ে এক হাজারগুণ সওয়াব বেশি।
এখান থেকে ঈদগাহে ঈদের সালাত পড়ার গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

◈ খুলাফায়ে রাশেদিন তথা আবু বকর রা., উমর রা., উসমান রা, এবং আলী রা. প্রমুখগণও এমনটি করতেন।
◈ শুধু তাই নয়, যুগে যুগে বিভিন্ন দেশে অদ্যাবধি এই রীতি চালু আছে। সর্বযুগের আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত আল হামদুলিল্লাহ। ইবনে কুদামা বলেন,
أنَّه إجماعُ الناس؛ يخرجون إلى المصلَّى مع شرفِ مسجدِه
“মসজিদ মর্যাদাপূর্ণ স্থান হওয়ার পরও ঈদগাহে গিয়ে ঈদের সালাত পড়ার ব্যাপারে মুসলিমদের ইজমা রয়েছে।” (আল মুগনি ২/২৭৬)

❑ ঈদগাহে ঈদের সালাত পড়ার উপকারিতা কি?

◍ ১. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ এবং খুলফায়ের রাশেদার নীতির অনুসরণ।
◍ ২. ঈদগাহে ঈদের সালাত আদায়ের মাধ্যমে ইসলামের একটি বড় নিদর্শন, সৌন্দর্য এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রকাশিত হয়। কারণ মুসলিমগণ সুন্দর জামা-কাপড় পরে, আতর-সুগন্ধি মেখে তাকবীর ধ্বনি দিতে দিতে ঈদের মাঠে গমন করে-যা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক দৃশ্য-যা দেখেও অমুসলিমরা ইসলামের সৌন্দর্যে অভিভূত হয়।
◍ ৩. তাছাড়া ঈদগাহে ঈদের সালাত পড়লে সাধারণত কয়েক মসজিদ বা কয়েক গ্রাম ও এলাকার মুসল্লিগণ এক জায়গায় জমায়েত হওয়ার সুযোগ পায়। এতে একটি আনন্দ মুখর ঈমানি পরিবেশে বিভিন্ন এলাকার মুসলিমদের আন্তরিক দেখা-সাক্ষাৎ, শুভেচ্ছা ও কুশলাদি বিনিময় হয়। এর ফলে তাদের মাঝে সম্প্রতি ও ভালবাসার বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং ভ্রাতৃত্ব বোধ ও একতাবদ্ধ থাকার মনোভাব জাগ্রত হয় -যা মুসলিমদের জন্য অবশ্যই কল্যাণকর।

◍ ৪. হাদিসে মহিলাদেরকেও ঈদের মাঠে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে-এমনকি ঋতুমতী মহিলাদেরকেও। অবশ্য ঋতুমতী মহিলাদের সালাত না থাকার কারণে তারা মূল সালাতের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করলেও তারা মুসলিমদের দুআ ও কল্যাণকর কাজে শরিক হওয়ার সুযোগ পাবে। যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

প্রখ্যাত সাহাবি উম্মে আতিয়া (নুসাইবা বিনতে কা’ব রা.) বলেন,
أُمِرْنَا أَنْ نُخْرِجَ، الْحُيَّضَ يَوْمَ الْعِيدَيْنِ وَذَوَاتِ الْخُدُورِ، فَيَشْهَدْنَ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَدَعْوَتَهُمْ، وَيَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ عَنْ مُصَلاَّهُنَّ‏.‏ قَالَتِ امْرَأَةٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِحْدَانَا لَيْسَ لَهَا جِلْبَابٌ‏.‏ قَالَ ‏ “‏ لِتُلْبِسْهَا صَاحِبَتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا ‏”‏‏.
ঈদের দিনে ঋতুমতী এবং পর্দানশীন মহিলাদের বের করে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন তারাও মুসলিমদের জামাআত ও দুআয় শরিক হতে পারে। অবশ্য ঋতুমতী মহিলারা সালাত এর স্থান থেকে দূরে থাকবে। এক মহিলা বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের যদি কারও ওড়না না থাকে (তাহলে সে কী করবে?) তিনি বললেন, তাঁর সাথীর উচিত তাকে ওড়না পরার ব্যবস্থা করে দেয়া (অর্থাৎ অতিরিক্ত ওড়না থাকলে তাকে ধার দিয়ে হলেও ওড়না পারানোর ব্যবস্থা করবে।) [সহীহ বুখারি, অধ্যায় ৮/ সালাত]

এ সুন্নত আরব বিশ্ব সহ পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে এবং বাংলাদেশের কিছু কিছু এলাকায় অনুসরণ করা হলেও দুর্ভাগ্য জনক যে, অধিকাংশ এলাকায় মহিলাগণ মুসলিমদের এ জাতীয় উৎসব এবং ইসলামের এ কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। কারণ আমাদের সমাজে মসজিদগুলোতে মহিলাদের সালাতের উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেই। আর যদি থাকেও সেখানে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ঋতুমতী মহিলারা দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারে না।
সুতরাং ঈদের মাঠে সালাত আদায় করা হলে সর্বস্তরে মহিলাদেরকে তাতে অংশ গ্রহণ সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

❑ ঈদের সালাতের পূর্বে কোনও সালাত নেই:

ঈদের সালাতে পূর্বে কোন সালাত পড়ার বৈধতা হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত নয় যখন তা ঈদের মাঠে পড়া হবে। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
«كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى المُصَلَّى، فَأَوَّلُ شَيْءٍ يَبْدَأُ بِهِ الصَّلاَةُ
আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহে গমন করতেন এবং সর্বপ্রথম যে জিনিসটি দ্বারা শুরু করতেন তা হল, (ঈদের) সালাত।” (সহিহ বুখারি) এখান থেকে বুঝা গেল, ঈদের মাঠে সর্বপ্রথম করণীয় হল, ঈদের সালাত আদায়। এর আগে কোনও সালাতের কথা হাদিসে আসে নি।

❑ মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করা হলে দু রাকআত দুখুলুল মসিজদ/তাহিয়াতুল মসজিদ পড়ার বৈধতা:

ঈদগাহ না থাকলে বা বাইরে ঈদের সালাত পড়ার পরিবেশ না থাকলে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে মসজিদে ঈদের সালাত পড়া জায়েজ আছে। আর যেহেতু একাধিক হাদিসে মসজিদে প্রবেশের পর বসার পূর্বে দু রাকআত সালাত (তাহিয়াতুল মসজিদ/দুখুলুল মসজিদ) আদায় ব্যতিরেকে বসতে নিষেধ করা হয়েছে তাই ঈদের সালাত মসজিদে পড়লে দু রাকআত তাহিয়াতুল মসজিদ পড়া শরিয়ত সম্মত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلاَ يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ
“ যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে তখন দু রাকআত সালাত আদায়ের পূর্বে বসবে না।” [সহীহ বুখারি] আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।

ঈদের শুভেচ্ছায় ব্যবহৃত বাক্য এবং ঈদ মোবারক বলার বিধান ও সংশয় নিরসন

 উত্তর: মুসলিমদের জাতীয় জীবনে অনাবিল আনন্দের বার্তাবাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হল ঈদ। ঈদ আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা ও কৃতজ্ঞতার মাধ্যম। মানব জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে নতুন ভাবে পথ চলার অনুপ্রেরণা। দূরকে কাছে করার এবং সম্পর্কগুলোতে নতুনত্ব দেয়ারে এক চমৎকার সুযোগ। এ ক্ষেত্রে ছোট একটি শুভেচ্ছা বার্তা, একটি বাক্য বা মেসেজই বিরাট ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এ জন্য কোন বাক্যটি ব্যবহার করা উচিৎ আর কোনটি উচিৎ নয়-এ বিষয়ে আমাদের অনেকেরই মাঝে একটা দ্বিধা বা সংশয় কাজ করে। তাই বিষয়টি পরিষ্কার উদ্দেশ্যে এ সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি তুলে ধরা হল:

❒ ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর বিধান কি এবং শরিয়তে তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ঈদ উৎসব উপলক্ষে মুসলিমদের একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো বৈধ। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ সম্পর্কে নির্দেশনাা মূলক কোন (মারফু) হাদিস আসে নি। বরং সাহাবি ও তাবেঈ প্রমুখ সালাফ (পূর্বসূরীদের) থেকে সহিহ সনদে প্রমাণিত হয়েছে যে, ঈদের দিন একে অপরের সাথে সাক্ষাত হলে তারা বলতেন: “তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম” অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের (সৎকর্মগুলো) কবুল করুন। যেমন:
حديث محمد بن زياد ، قال : كنت مع أبي أمامة الباهلي وغيره من أصحاب النبي صلى الله عليه وآله وسلم ، فكانوا إذا رجعوا يقول بعضهم لبعض : ( تقبل الله منا ومنكم ) .
মুহাম্মদ বিন যিয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু উমামা আল বাহেলী রা. এবং অন্যান্য সাহাবিদের সাথে ছিলাম। তারা ঈদ থেকে ফিরে এসে একে অপরকে বলতেন, “তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।” [ইবনুত তুরকুমানী হাদিসটি ‘আল জাওহারাতুন নাকী হাশিয়াতুল বায়হাকী’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইমাম আহমদ বলেন, : إسناده جيد এর সনদ ভালো।

আরও বর্ণিত হয়েছে:
أخرج الأصبهاني في الترغيب والترهيب ( 1/251) عن صفوان بن عمرو السكسكي قال : سمعت عبد الله بن بُسر وعبد الرحمن بن عائذ وجبير بن نفير وخالد بن معدان ، يقال لهم في أيام الأعياد : ( تقبل الله منا ومنكم ) ، ويقولون ذلك لغيرهم . وهذا سند لابأس به .
ইসমাইল বিন মুহাম্মদ ইস্পাহানী (মৃত্যু: ৫৩৫) তার বিখ্যাত ‘তারগিব ওয়াত তারহিব’ গ্রন্থে (১/২৫১) সাফওয়ান বিন আমর আস সিকসিকী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর, আব্দুর রাহমান বিন আয়িয, জুবাইর বিন নুফাইর এবং খালিদ বিন মা’দানকে বলতে শুনেছি, তাদেরকে ঈদের দিন বলা হত: “তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম”। আর তারাও অন্যদেরকে তা বলতেন।” এ সনদেও কোন সমস্যা নেই।

সুতরাং ঈদের দিন একে অপরকে এভাবে দুআ ও শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ। তবে তা শরিয়তের আবশ্য পালনীয় ও ইবাদতের কোন বিষয় নয়। এটি সওয়াব ও ইবাদতের বিষয় হলে অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে যেতেন। তখন তা পালন করা উম্মতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াত এবং হাদিসে ব্যবহৃত শব্দ ছাড়া অন্য শব্দ ব্যবহারে আপত্তি আসতো। যেমন: মুসলিমদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যম সালামের গুরুত্ব এবং সালামে ব্যবহৃত বাক্যাবালী সম্পর্কে বহু সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সে কারণে সালাম দেয়া যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও সওয়াবের কাজ তেমনি সালামের জন্য হাদিসের বাক্য বাদ দিয়ে নতুন কোন বাক্য প্রবর্তন করা জায়েজ নয়।

মোটকথা, ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করা ইসলামে জায়েজ হলেও এ ব্যাপারে বিশেষ কোনো নির্দেশনা বা বিশেষ কোন বাক্য ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আসেনি। তবে কেউ যদি সালাফদের অনুসরণে ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম বলে তাহলে নি:সন্দেহে ভালো।

জ্ঞাতব্য, এ দুআটি কেবল ঈদের সাথেই সম্পৃক্ত নয় বরং হজ্জ, উমরা ইত্যাদি যে কোন নেক আমল করার পর তা বলা জায়েজ।

❒ ‘ঈদ মোবারক’ বা ‘ঈদের শুভেচ্ছা/কনগ্রাচুলেশন’ ইত্যাদি বলা কি বিদআত বা গুনাহের?

আল্লামা ‍মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রহ. কে প্রশ্ন করা হয়, ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর বিধান কি এবং এর জন্য কি বিশেষ কোন বাক্য আছে?
তিনি উত্তরে বলেন,
التهنئة بالعيد جائزة ، وليس لها تهنئة مخصوصة ، بل ما اعتاده الناس فهو جائز ما لم يكن إثماً
“ঈদের শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ। তবে এর জন্য বিশেষ কোন শুভেচ্ছা বাক্য নেই। বরং মানুষ যে সব বাক্য বলে অভ্যস্ত সেগুলো ব্যবহার করা জায়েজ যদি তাতে গুনাহ না থাকে।”

তিনি আরও বলেন,

“সালাফদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, ঈদের দিন একে অপরের সাথে দেখা হলে তারা বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ কিন্তু শরিয়তে এ বিষয়ে বিশেষ কোনও বাক্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। অতএব লোকসমাজে যে সকল বাক্য ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে সেগুলো যদি শরিয়তে নিষিদ্ধ না হয়ে থাকে তবে সেগুলো ব্যবহার করা জায়েজ। কেননা শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি মানুষের রীতি-নীতির সাথে সম্পৃক্ত। এটা শরিয়তের কোন বিষয় নয়। বরং তা রীতি-নীতি ও আভ্যাসগত বিষয়ের অন্তর্গত যা মানুষ নিজেদের মধ্যে প্রচলন করে নিয়েছে।
সুতরাং মানুষ যদি ‘তাকাব্বালাল্লাহ’ অথবা ‘দুআ করি আল্লাহ তোমার ঈদকে বরকত মণ্ডিত করুন’ বা এ জাতীয় বাক্য ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়-যেগুলো বললে পারস্পারিক ভালবাসা বৃদ্ধি পায় এবং নিজেদের মাঝে দূরত্ব দূর হয় তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ এগুলো সাধারণ রীতি-নীতির বিষয়।” [শাইখের লেকচার থেকে অনুদিত। উৎস: ইউটিউব চ্যানেল আল ওয়াহদাহ আল ইসলামিয়া আল ঊলা] এছাড়াও আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রহ. সহ বড় আলেমগণ ঈদ মোবারক (ঈদ বরকতময় হোক) বা এ জাতীয় বাক্য ব্যবহার করে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে কোন আপত্তি করেনি।

পরিশেষে বলব, ঈদের শুভেচ্ছা ও দুআ সম্বলিত বাক্য ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (আল্লাহ আামদেরও আপনাদের সৎকর্মগুলো কবুল করুন) ব্যবহার করা নি:সন্দেহে উত্তম। কিন্তু ‘ঈদ মোবারক’ (বরকতময় ঈদ), ‘ঈদের শুভেচ্ছা’, ‘কনগ্রাচুলেশন’, বা এ জাতীয় শব্দ/বাক্য ব্যবহার করায় কোন দোষ নেই-যতক্ষণ না তাতে শরিয়তপরিন্থী বা খারাপ অর্থবোধক কিছু থাকে। এ সব বাক্য ব্যবহার করাকে বিদআত, শরিয়ত বিরোধী..গুনাহের বিষয় ইত্যাদি বলা হল দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ির শামিল ও অজ্ঞতার প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করুন এবং বাড়াবাড়ি থেকে রক্ষা করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি। দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

ঈদের সালাতের আগে বা পরে ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের বিধান

 প্রশ্ন: “ঈদ না আসতেই ঈদের শুভেচ্ছা জানানো সালাফদের নীতি নয়।” অনেকে এরূপ করা বিদআত বলেছেন। কথাটির সত্যতা কতটুকু?

উত্তর: ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে কোন সুন্নাহ বা হাদিস পাওয়া যায় না। তবে কিছু কিছু সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে‌ যে, তারা ঈদের নামাজ পড়ে ফিরে আসার সময় একে অপরকে বলতেন,
تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ
“তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয় মিনকুম।”
অর্থ: ”আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের (নেক আমলগুলো) কবুল করুন।”
, قال محمد بن زياد : كنت مع أبي أمامة الباهلي وغيره من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ، فكانوا إذا رجعوا من العيد يقول بعضهم لبعض : تقبل الله منا ومنك ، وقال أحمد : إسناد حديث أبي أمامة إسناد جيد ” انتهى من ” المغني ” (2/130) .
এটি মূলত একটি দোয়া। এখানে দোয়া করা হয় যে, আল্লাহ যেন আমাদের নেক কাজগুলো কবুল করেন। শুভেচ্ছা জ্ঞাপনও মূলত এক ধরনের দোয়া ও কল্যাণ কামনা। তাই ঈদের পরেই শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা উত্তম। কিন্তু এ বিষয়টি মূলত মানুষের রীতিনীতি এবং সামাজিকতা হিসেবে পরিগণিত। তাই যদি ঈদের আগে থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের প্রচলন থাকে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আনন্দ ও ভালোবাসা প্রকাশ। এটি ইবাদতের বিষয় নয়।
অতএব ঈদের সালাতের আগে বা পরে ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপনে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন বলেন,
أن المعايدة والتهنئة قبل العيد لا بأس بها
“ঈদের আগে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে কোন দোষ নেই।”
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

ঈদের বিধি-বিধান

 ❑ ঈদের প্রকৃত অর্থ কি?

শুধু দামী পোশাক, রঙ্গিন জামা, হরেক রকম সুস্বাদু খাবার আর নানা ধরণের আনন্দ-উৎসবের নাম ঈদ নয়। ঈদের উদ্দেশ্য কি তা আল্লাহ তা’আলা নিন্মোক্ত আয়াতের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন:

وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

“আর যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্যে তোমরা আল্লাহর মমত্ব প্রকাশ কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা হও।” [সূরা বাকারা: ১৮৫] এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, ঈদের উদ্দেশ্য হল দুটি:
১) আল্লাহর বড়ত্ব মমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা।
২) আল্লাহ যে নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা।

❑ ঈদ সংক্রান্ত কতিপয় বিধান:

নিন্মে আমরা অতি সংক্ষেপে কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে ঈদ সংক্রান্ত কতিপয় বিধান আলোচনা করার চেষ্টা করব যাতে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসারে আমরা আমাদের ঈদ উদযাপন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।

◉ ১. ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ:

প্রখ্যাত সাহাবি আবু সাঈদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা এ দু দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।” [বুখারি, হাদিস নং ১৮৫৫]

◉ ২. ঈদের রাত থেকে তাকবির পাঠ করা:

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ
“আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর নির্দিষ্ট দিন সমূহে।” [সূরা বাকারা: ২০৩]

ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রে রমজানের শেষ সূর্য ডোবার পর ঈদের রাত থেকে আরম্ভ করে ঈদের সালাত শুরু করা পর্যন্ত তাকবির পড়তে হয়। পুরুষগণ মসজিদ, হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট তথা সর্বত্র উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ঈদের আনন্দ প্রকাশ করা হয় অন্যদিকে আল্লাহর আনুগত্যের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। আর ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে আরাফার দিনের ফজর থেকে শুরু করে তাশরিকের দিনের শেষ পর্যন্ত তথা জিলহজ মাসের তেরো তারিখের আসর পর্যন্ত তাকবির বলা।

তাকবির বলার পদ্ধতি:

الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله والله أكبر، الله أكبر ولله الحمد
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।”

আল্লাহর মহত্মের ঘোষণা এবং তাঁর ইবাদত ও কৃতজ্ঞতার বর্হি:প্রকাশের উদ্দেশ্যে পুরুষদের জন্য মসজিদে, বাজারে, বাড়িতে ও পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে উচ্চ স্বরে তাকবির পাঠ করা সুন্নত।

◉ ৩. ঈদ উপলক্ষে পরস্পরে শুভেচ্ছা বিনিময় করা:

মুসলিমদের উদ্দেশ্যে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা উত্তম। কারণ সাহাবিগণ তা করতেন।
মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল আলহানী রহ. বলেন, আমি সাহাবি আবু উমামা আল বাহেলী রা. কে ঈদের দিন তার সাথীদের উদ্দেশ্যে বলতে দেখেছি: “তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম” (অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের (নেক কাজগুলো) কবুল করুন) [বায়হাকী (২/৩১৯)-সনদ হাসান।

তবে ঈদ মোবারক, ঈদ সাঈদ, ঈদের শুভেচ্ছা, কনগ্রাচুলেশন, কুল্লু আম ওয়া আনতুম বি খাইর ইত্যাদি যে সব শব্দ বা বাক্য দ্বারা মানুষ পরস্পরকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে আর মানুষও তাতে খুশি হয় সে শব্দ/বাক্য ব্যবহারে কোন আপত্তি নেই। কারণ ইসলামে দেশীয় সংস্কৃতি ও প্রচলিত রীতিনীতিকে নিন্দা করা হয় নি যদি তাতে শরিয়ত বিরোধী কিছু না থাকে।

◉ ৪. ভালো পোশাক ও ভালো খাবারের আয়োজন করা:

ঈদ উপলক্ষে যথাসম্ভব পরিবারের সদস্যদেরকে ভালো খাবার ও সুন্দর পোশাক দেয়ার ব্যবস্থা করা উত্তম। তবে অপচয় যাতে না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী। অনুরূপভাবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা-সাক্ষাত করা কর্তব্য। সেই সাথে প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর রাখতে হবে। দরিদ্রদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে। যাতে ঈদের আনন্দ থেকে তারা বঞ্চিত না হয়।

◉ ৫. ঈদের সালাতের প্রতি যত্নশীল হওয়া:

ঈদুল ফিতরের সালাত বিলম্বে পড়া সুন্নত, যেন ঈদের দিন সকালবেলা ফিতরা বন্টণ করার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে ঈদুল আজহার সালাত সূর্য উদিত হওয়ার প্রায় ১৫ মি. পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি পড়া সুন্নত।

◉ ৬. গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:

ঈদের সালাতে যাওয়ার পূর্বে গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে। তারপর সুগন্ধি ব্যবহার করে ও সাধ্যানুযায়ী সবচেয়ে সুন্দর কাপড় পরিধান করে ঈদগাহ অভিমুখে যাত্রা করবে। তবে কাপড় পরিধান করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যেন পুরুষের কাপড় টাখনুর নিচে না যায়। কেননা, পুরুষের জন্য টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা হারাম। আর মহিলাকে তার সর্বাঙ্গ আবৃত করতে হবে এবং রূপ-সৌন্দর্য পরপুরুষের সামনে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। কেননা মহান আল্লাহ বলেন,
وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ الآية
“আর তারা (মহিলাগণ) তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না তাদের স্বামী, পিতা,স্বামীর পিতা…..ছাড়া অন্যের নিকট।” [সূরা নূর: ৩১]
মহিলাদের জন্য বাইরে যাওয়ার সময় আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম।

◉ ৭. ঈদের মাঠে যাওয়ার আগে কোন কিছু খাওয়া সুন্নত:

ঈদুল ফিতরে ঈদের মাঠে যাওয়ার আগে কোন কিছু খাওয়া সুন্নত। আনাস (রা:) বলেন, “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন কয়েকটা খেজুর না খেয়ে ঈদের মাঠে যেতেন না। আর তিনি তা বেজোড় সংখ্যায় খেতেন।” (বুখারি)। পক্ষান্তরে ঈদুল আজহায় তিনি ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে কিছুই খেতেন না। ঈদগাহ থেকে ফিরে এসে কুরবানির গোস্ত খেতেন।

◉ ৮. মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়া:

মহিলাদেরকে সাথে নিয়ে ঈদের সালাত পড়তে যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন,
لِيَخْرُجْ الْعَوَاتِقُ ذَوَاتُ الْخُدُورِوَالْحُيَّضُ وَيَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ الْمُصَلَّى وَلْيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُؤْمِنِينَ
“কর্তব্য হল, পর্দানশীন কুমারী মেয়েরা; এমন কি ঋতুমতী মহিলারাও ঈদগাহে যাবে। তবে ঋতুমতী মহিলাগণ নামাযের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করে কল্যাণময় কাজ এবং মুমিনদের দুআতে শরিক হবে।” [বুখারি: হাদিস নং ৯২৭]
এ সুন্নত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবং বাংলাদেশের কিছু কিছু এলাকায় আজো প্রচলিত আছে। সুতরাং যে সব এলাকায় তা চালু নেই সেসব স্থানের সচেতন আলেম সমাজ এবং নেতৃস্থানীয় মুসলমানদের কর্তব্য হল, আল্লাহর রাসূলের সুন্নতকে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে মহিলাদেরকেও ঈদের এই আনন্দঘন পরিবেশে অংশ গ্রহণের সুযোগ প্রদানের জন্য এগিয়ে আসা। তবে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, পর্দা হীনতা, উচ্ছৃঙ্খলতা ইত্যাদি যাতে না ঘটে তার জন্য আগে থেকে সকলকে সচেতন ও সাবধান করা জরুরী। মহিলাগণ যখন বাড়ি থেকে বের হবে সর্বাঙ্গ কাপড় দ্বারা আবৃত করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ عَلَى قَوْمٍ لِيَجِدُوا مِنْ رِيحِهَا فَهِيَ زَانِيَةٌ

“যে মহিলা সুগন্ধি ব্যবহার করে অন্য মানুষের নিকট দিয়ে গমন করার ফলে তারা তার ঘ্রাণ পেল সে মহিলা ব্যভিচারিণী।” [নাসাঈ: হাদিস নং ৫০৩৬]

◉ ৯. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন করা:

পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন করা এবং ভিন্ন পথে ঈদগাহ থেকে ফিরে আসা সুন্নত। [বুখারি: হাদিস নং ৯৩৩]

◉ ১০. ঈদের সালাত আদায় করা:

ঈদ সংক্রান্ত কতিপয় বিধান:

● ক. ঈদের সালাতে আজান ও একামত নেই: জাবের ইবনে সামুরা (রা:) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে একবার নয়-দু বার নয় একাধিক বার ঈদের সালাত পড়েছি তাতে আজান ও একামত ছিল না।” [সহীহ মুসলিম: হাদিস নং ১৪৭০]
● খ. ঈদের মাঠে ঈদের সালাতের আগে বা পরে নফল সালাত পড়া শরিয়ত সম্মত নয়।
حديث ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى يوم العيد ركعتين لم يصل قبلها ولابعدها))أخرجه البخاري(964)ومسلم(884)
ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দু রাকআত সালাত আদায় করেন। এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি।” [বুখারি ও মুসলিম]
তবে মসজিদে পড়া হলে তাহিয়াতুল মসজিদ (দুখুলুল মসজিদ) এর দু রাকআত পড়া জায়েজ আছে। তবে ঈদের মাঠ থেকে বাড়িতে ফিরে এসে বাড়িতে দু রাকআত সালাত পড়া সুন্নত। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – لَا يُصَلِّي قَبْلَ الْعِيدِ شَيْئًا, فَإِذَا رَجَعَ إِلَى مَنْزِلِهِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ
رواه ابن ماجه (1293) ولا يظن ظان أن بين هذا الحديث وبين حديث ابن عباس السابق (491) تعارض فحديث ابن عباس خاص بالصلاة في المصلى، وبهذا الجمع قال غير واحد

আবু সাঈদ আল-খুদরি রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাতের আগে কোন সালাত আদায় করতেন না। তবে তিনি তার বাড়িতে ফিরে আসার পর দু’ রাক’আত সালাত আদায় করতেন।” [ইবনে হাজার তার দিরায়াহ ১/২১৯ গ্রন্থে, ইমাম শাওকানী নাইলুল আওতার (৩/৩৭০) গ্রন্থে, আলবানী সহীহ ইবনে মাজাহ (১০৭৬), সহীহুল জামে (৪৮৫৯) গ্রন্থে, ইমাম সুয়ূতী জামেউস সগীর (৬৮৯৭) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইমাম শাওকানী বলেন, এর সনদে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উকাইল রয়েছেন আর তার সম্পপর্কে সমালোচনা রয়েছে।]

● গ. সর্বপ্রথম ঈদের সালাত হবে তারপর খুতবা: আবু সাঈদ খুদরী (রা:) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের মাঠে গিয়ে সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করতেন তারপর জনগণের দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে ওয়াজ করতেন, কোন উপদেশ থাকলে উপদেশ দিতেন বা কোন নির্দেশ থাকলে নির্দেশ দিতেন। আর জনগণ নামাযের কাতারে বসে থাকতেন। কোথাও কোন বাহিনী প্রেরণের ইচ্ছা থাকলে তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতেন অথবা অন্য কোন নির্দেশ জারী করার ইচ্ছা করলে তা জারী করতেন। [সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৯০৩]

● ঘ. ঈদের সালাতের রাকাত সংখ্যা: ঈদের সালাত দু রাকাত। [বুখারি, হাদিস নং ১৩৪১]

● ঙ. ঈদের সালাতে তাকবির সংখ্যা: তাকবিরে তাহরিমা ছাড়া প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত সাত তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত পাঁচ তাকবির।(মতান্তরে কববিরে তাহরিমা সহ ১ম রাকাতে মোট সাত তাকবির)
عن عَائِشَة أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُكَبِّرُ فِي الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى فِي الْأُولَى سَبْعَ تَكْبِيرَاتٍ وَفِي الثَّانِيَةِ خَمْسًا…قَالَ سِوَى تَكْبِيرَتَيْ الرُّكُوعِ

“আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার প্রথম রাকাতে সাত তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচ তাকবির দিতেন।” অন্য সনদে আছে, উল্লেখিত তাকবিরগুলো রুকুর তাকবির ছাড়া। [আবুদাঊদ হাদিস নং ৩৭০]

● চ. ঈদের সালাতে কেরাআত: প্রখ্যাত সাহাবি নুমান ইবনে বাশীর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই ঈদ ও জুমার নামাজে প্রথম রাকআতে ‘সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আ’লা’ এবং দ্বিতীয় রাকায়াতে ‘হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ্’ পাঠ করতেন। [নাসাঈ, হাদিস নং ১৫৫০ সনদ সহীহ-আলবানি] সূরা ক্বাফ এবং সূরা ইক্বতারাবতিস্ সা’আহ্’ পড়ার কথাও হাদিস পাওয়া যায়। (নাসাঈ: হাদিস নং ১৫৪৯, সনদ সহীহ-আলবানি)

● ছ. ঈদের খুতবা শোনা: ঈদের খুতবা প্রসঙ্গে নবী সায়েব ইবনে ইয়াজিদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ঈদের সালাতে উপস্থিত হলাম। তিনি ঈদের সালাত শেষ করার পর বললেন, আমরা এখন খুতবা দিব। সুতরাং
فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَجْلِسَ لِلْخُطْبَةِ فَلْيَجْلِسْ , وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَرْجِعَ فَلْيَرْجِعْ
“যে চলে যেতে চায় সে যেতে পারে আর যে (খুতবা শোনার জন্য) বসতে চায় সে বসতে পারে।” [নাসাঈ, অধ্যায়: দু ঈদ, অনুচ্ছেদ: দুই ঈদের খুতবা শুনা ইচ্ছাধীন বিষয়, হা/ ১৫৫৩, মুস্তাদরাক হাকিম, হা/১০৪৩, ইমাম হাকেম বলেন, হাদিসটি ইমাম বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ তবে তারা তাদের কিতাবে বর্ণনা করেন নি। ইমাম যাহাবী ইমাম হাকিমের কথায় একমত পোষণ করেছেন। অনুরূপভাবে ইমাম আলবানিও হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ আবু দাউদ, হা/১০৪৮, ইরওয়াউল গালীল, হা/৬২৯]

অর্থাৎ ঈদের খুতবা শুনার মুস্তাহাব; ওয়াজিব নয়। তাই বলে, এটির প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা উচিৎ নয়। কেননা, খুতবার মধ্যে মুসলিম জাতির কল্যাণের জন্য দুয়া করা হয়, ওয়ায-নসিহত করা হয়, বিভিন্ন বিষয়ে করণীয়-বর্জনীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনা পেশ করা হয়।

❑ ঈদ ও সামাজিক জীবন:

ঈদের আনন্দ নির্মল, পবিত্র এবং অত্যন্ত মধুময়। ঈদ উপলক্ষে যখন নিজ নিজ গৃহে আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু বান্ধব একে অপরকে দাওয়াত দেয়, পরস্পরে শুভেচ্ছা বিনিময় করে, একে অপরকে উপহার সামগ্রী আদান-প্রদান করে তখন ঈদের আনন্দ আরও মধুময় হয়ে উঠে। সুদৃঢ় হয় সামাজিক বন্ধন। মনের মধ্যে জমে থাকা হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ ও তিক্ততা দূর হয়ে পারস্পারিক ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা ও সম্মানবোধ জাগ্রত হয়। জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে বয়ে যায় শান্তির সুবাতাস যা প্রভাতের আলোর মতই স্বচ্ছ, নির্মল ও নিষ্কলুষ।

❑ ঈদ ও পাপাচারিতা:

ঈদের পবিত্রতা ম্লান হয়ে যায় যখন দেখা যায়, ঈদ উৎসব ও ঈদ মেলার নামে অশ্লীলতা-বেহায়াপনার মেলা বসে। তরুণ-তরুণীরা নানারকম আপত্তিকর পোষাকে চলাফেরা করে। একশ্রেণির উদ্ভট যুবক বাড়িতে, রাস্তার ধারে ও বিভিন্ন ক্লাবে বড় বড় ডেকসেটে অডিও সিডি চালু করে উচ্চ আওয়াজে গান বাজাতে থাকে। সরকারী-বেসরকারি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলোতে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ বিশেষ অশ্লীল ফিল্ম সম্প্রচার করে। সিনেমা হলগুলোতে নতুন নতুন ছবি জাঁকজমক ভাবে প্রদর্শিত হয়। মনে হয় এরা যেন এ ধরণের একটি সময়েরই প্রতীক্ষায় ছিল এত দিন!
দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা করার পর যে একটা ঈমানি পরিবেশ তৈরি হয়ে ছিল, কুরবানি করার মাধ্যমে যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রতিযোগিতার লিপ্ত হয়েছিল মুসলিম সমাজ তারা কি এসব ক্রিয়া-কাণ্ডের মাধ্যমে তার চিহ্ন মুছে ফেলতে চায়? এসব অপসংস্কৃতিকে পরিত্যাগ করে আমরা যদি ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে ধারণ করতে পারি তাহলে আমাদের সার্বিক জীবন সুন্দর ও পবিত্রতার আলোক রশ্মিতে ভাস্বর হয়ে উঠবে। পরিশেষে, কামনা করি ঈদ আমাদের জীবনে রংধনুর মত রং ছড়িয়ে বার বার ফিরে আসুক। আর সে রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে উঠুক আমাদের জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত। ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার হয়ে যাক সকল পাপ ও পঙ্কিলতা। আমিন।
▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।

ঈদে মেয়েদের মেহেদি রঙ্গে সাজ কতিপয় ইসলামি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

 ঈদে মেয়েদের মেহেদি রঙ্গে সাজ: কতিপয় ইসলামি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

(মেহেদি ব্যবহারের কতিপয় জরুরি নির্দেশনা-যা জানা জরুরি প্রতিটি নারীর)
▬▬▬◆◯◆▬▬▬
আমাদের বাঙ্গালী সমাজে মেহেদি ছাড়া নারীদের ঈদ কল্পনা করা যায় না। মেহেদির রং যেন ঈদ উৎসবে আনে এক ভিন্ন মাত্রা। ছোট শিশু, কিশোরী, যুবতী, মধ্যবয়স্কা ইত্যাদি প্রায় সব নারীদের মধ্যে এর ব্যবহার দেখা যায়। তারা চুলে, হাতে, পায়ে, হাত বা পায়ের আঙ্গুলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেহেদির মাধ্যমে নকশা অঙ্গন ও ডিজাইন করে। বর্তমানে টিউব মেহেদির কল্যাণে খুব সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হয়।
যাহোক, মেহেদি সজ্জা আমাদের নারীদের এক চির চেনা রীতি। সত্যিকার আর্থে এই সাজসজ্জা নারীদের স্বভাবজাত প্রবণতা। ইসলাম তাতে নিষেধ করে না। তবে এ ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয় লক্ষ রাখা জরুরি। যথা:

◈ ১. সাধারণ মেহেদি, রং ইত্যাদি ব্যবহার করলে তাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ এগুলো ব্যবহার করলেও ওজু-গোসলের ক্ষেত্রে অনায়াসে চামড়ায় পানি পৌঁছে যায়। তবে বর্তমানে বাজারে একপ্রকার ক্যামিক্যাল যুক্ত কৃত্রিম টিউব মেহেদি পাওয়া যায় যা ব্যবহার করলে চামড়ার উপর একটা পাতলা আবরণ পড়ে। এতে ওজু-গোসলে সমস্যা হবে। তাই নামাজি নারীগণ অবশ্যই এসব মেহদি ব্যবহার থেকে দূরে থাকবে। কখনো ব্যবহার করলেও এগুলো অবশ্যই সাবান, শ্যাম্পু, ক্যামিক্যাল বা অন্য কোন উপায়ে তুলে ফেলতে হবে। অন্যথায় ওজু-গোসল শুদ্ধ হবে না।
তবে যে সব নারীদের সালাত নেই (যেমন: ঋতুমতী ও প্রসূতি মহিলা বা ছোট বাচ্চা)। তাদের জন্য এগুলো ব্যবহারে সমস্যা নেই।

◈ ২. বাজারের মেহেদি ক্রয়ের সময় তাতে হারাম বা ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মিশানো আছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। কারণ বর্তমানে বাজারে এমন অনেক নকল ও ভেজাল মেহেদি পাওয়া যায় যা ব্যবহার করলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা নানা ধরণের চর্মরোগ সৃষ্টি হয়। হাতে মেহেদির সুন্দর আল্পনা আঁকতে গিয়ে তা বীভৎস রূপ ধারণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বলেন, ‘সরাসরি মেহেদি গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করে যারা নিজেরা মেহেদি ব্যবহার করে তাদের এ ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু বাজারের নকল ও ভেজাল অনেক টিউব মেহেদি বেচা-কেনা হয়। এসবের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক মেহেদির লেশমাত্র থাকে না বরং বিষাক্ত নানা রাসায়নিক রং দিয়ে এই মেহেদি তৈরি করে বাজারজাত করা হয়। এগুলোর মধ্যে এসিড জাতীয় ক্ষতিকর উপাদান থাকে, যা মানুষের ত্বক ঝলসে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে বাজারের সব মেহেদি ব্র্যান্ডই যে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর তা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। তাই দেখে-শুনে পরীক্ষিত ও ভালো ব্যান্ডের মেহদি ক্রয়ের চেষ্টা করতে হবে।

এ ক্ষত্রে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ পরামর্শ দিয়েছেন, একবারে পুরো হাত বা নির্দিষ্ট নকশা ধরে মেহেদি না লাগিয়ে শুরুতে সামান্য একটু মেহেদি কোথাও লাগিয়ে স্কিন টেস্ট করা যেতে পারে। যদিও এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে না-ও পাওয়া যেতে পারে। অনেকের স্কিনে তাৎক্ষণিক ক্ষতির লক্ষণ দেখা দিলেও, অনেকেরই ধীরে ধীরে কিংবা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পরেও ক্ষতি হতে পারে। তাই মেহেদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক ও সচেতন থাকা খুবই জরুরি। এ ছাড়া যাদের ত্বকে এলার্জির সমস্যা আছে তাদেরও মেহেদি পরিহার করা উচিত।

◈ ৩. মেহেদির মাধ্যমে ট্যাটু বা উল্কি অঙ্কনের মত করে শরীরে অমুসলিমদের ধর্মীয় প্রতীক, প্রাণীর ছবি, ড্রাগনের মাথা, প্রাণীর কার্টুন, নারী-পুরুষের ছবি, বয় ফ্রেন্ড-গার্ল ফ্রেন্ড এর নাম, অশ্লীল বাক্য ইত্যাদি ব্যবহার করা অথবা বিপরীত লিঙ্গের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেহদি লাগানো জায়েজ নাই।

◈ ৪. অন্য মহিলাকে মেহেদি দ্বারা সাজানোর সময় তার লজ্জা স্থানের দিকে তাকানো বা তার স্পর্শকাতর স্থান স্পর্শ করা হারাম।

◈ ৫. যখন আপনি জানতে পারবেন যে, কোন মহিলা সাজগোজ করে পরপুরুষের সামনে প্রদর্শনী করে বেড়াবে তখন তাকে এ ক্ষেত্রে কোনও ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা করা যাবে না। অর্থের বিনিময়ে হোক বা বিনামূল্যে হোক। কারণ তা গুনাহের কাজে সহযোগিতার শামিল। অথচ আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহায়তা করতে নিষেধ করেছেন।
আল্লাহ বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ
“সৎকর্ম ও তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতির কাজে একে অন্যের সহায়তা কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর।” [সূরা মায়িদা: ২] আল্লাহ ঐ সকল মহিলাকে হেদায়েত করুন। আমিন।
▬▬▬◆◯◆▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate