Sunday, July 9, 2023

মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কুরবানি করা

 প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কুরবানি করা কি বৈধ?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: মৃত ব্যক্তি যদি কুরবানি করার ওসিয়ত করে যায় তাহলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তার উত্তরাধীগণ ওসিয়ত পালনার্থে তার পক্ষ স্বতন্ত্রভাবে থেকে কুরবানি করবে। অন্যথায় মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আলাদাভাবে কুরবানী করা অধিকাংশ আলেমের মতে ঠিক নয়। কেননা এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবীদের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা ও আমল পাওয়া যায় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর প্রাণ প্রিয় স্ত্রী খাদিজা রা., প্রিয় চাচা হামযা বিন আব্দুল মুত্তালিব রা., তিন ছেলে ও তিন মেয়ে দুনিয়া থেকে চির বিদায় গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু তিনি তাদের পক্ষ থেকে কখনও স্বতন্ত্রভাবে কুরবানি করেন নি। কোনো সাহাবি এমনটি করেছেন বলেও প্রমাণ পাওয়া যায় না।
তবে কুরবানি করার সময় যদি পরিবারের জীবিত ও মৃত সকলকে নিয়তে শরিক করা হয় তাহলে আল্লাহ তাআলা সকলকে সওয়াব দান করবেন ইনশাআল্লাহ। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
أبو سعيد رضي الله عنه: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتى يوم النحر بكبشين أملحين فذبح أحدهما فقال هذا عن محمد وأهل بيته وذبح الآخر فقال هذا عمن لم يضح من أمتي
আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানির দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট সাদা-কালো রঙ বিশিষ্ট দুটি দুম্বা আনা হল। তিনি দুটির মধ্যে একটি জবেহ করে বললেন, এটি মুহাম্মদ এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং আরেকটি জবেহ করে বললেন, এটি আমার উম্মতের যারা কুরবানি করে নি তাদের পক্ষ থেকে।” (মুসনাদ আহমদ)। ‘পরিবার’ এর মধ্যে জীবিত ও মৃত সকলেই অন্তর্ভূক্ত।

🔸◈ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রভাবে কুরবানী করার ব্যাপারে পূর্বসূরী আলেমদের অভিমত:

♦ ইমাম মালিক মৃত বাবা-মা’র পক্ষ থেকে কুরবানি করাকে অপছন্দ করতেন। যেমন:
روي محمد عن مالك قال: لا يعجبني أن يضحي عن أبويه الميتين، قال في الشرح: لكون الأضحية من أحكام الحي اهـ
মুহাম্মদ বর্ণনা করেন ইমাম মালিক থেকে। তিনি বলেন, “মৃত বাবা-মার পক্ষ থেকে কুরবানি করাকে আমি পছন্দ করি না।”
ব্যাখ্যাকার বলেন, “তা এই কারণে যে, কুরবানি করা জীবিত ব্যক্তিদের আহকামের অন্তর্ভুক্ত।” [আল মুন্তাকা শারহুল মুআত্তা]

♦শাফেয়ী মাজহাবের ফিকহের কিতাবে এ কথা বহু স্থানে উল্লেখিত হয়েছে যে,
لا يصل إلى الميت ثواب الأضحية ولا القراءة وحج التطوع
“কুরবানি, কুরআন তিলাওয়াত এবং নফল হজ্জের সওয়াব মৃত ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে না।”
আরও উল্লেখিত হয়েছে:
وكره فعلها، أي الأضحية عن ميت كالعتيرة
“আর তিনি (ইমাম শাফেয়ী রহ.) মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে কুরবানি করাকে আতীরা (عتيرة) তথা জাহেলি যুগে মৃতদের উদ্দেশ্যে ছাগল জবেহ করার মতই অপছন্দ করতেন।” [মাওয়াহিবুল জালীল শরহু মুখতাসার খালীল খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩৬৮]

♦ হানাফি মাজহাবের ফিকাহর গ্রন্থ আল بدائع الصنائع -বাদায়েউস সানায়ে গ্রন্থে বলা হয়েছে:
إذ الأضحية عن الميت لا تجوز
“মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করা জায়েয নেই।” [খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৭২]
♦ ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. থেকে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানির ব্যাপারে অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা কোনাটাই পাওয়া যায় না। যদিও হাম্বলি মাজহাবের কিতপয় আলেম মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দানের উপর কিয়াস করে কুরবানি করাকে বৈধ বলেন।
♦ ইমাম তিরমিযী রহ. জামে তিরমিযীতে বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেছেন,
أحب إلي أن يتصدق عنه ولا يضحى عنه وإن ضحى فلا يأكل منها شيئا ويتصدق بها كلها
“মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। কিন্তু কুরবানি করা যাবে না। তবে যদি কেউ কুরবানি করে তবে যেন তার মাংস না খায় বরং সবটুকু গরীবদের মাঝে বিলি-বন্টন করে দেওয়া হয়।” [তিরমিযী, মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা অধ্যায়]।

➰ অবশ্য একদল আলেম বলেন, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে যেহেতু দান করা সহীহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত সেহেতু কেউ যদি কুরবানি করে তা গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দেয় তাহলে তা জায়েয আছে। এ ক্ষেত্রে সেখান থেকে কুরবানি দাতা বা তার পরিবার কোন কিছুই গ্রহণ করতে পারবে না। বরং পুরোটাই গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করে দিতে হবে। কিন্তু মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে কুরবানি করার পক্ষ থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবীদের পক্ষ থেকে কোনো দলিল পাওয়া যায় না। এমনকি মাজহাবের ইমামগণও বৈধ বলেননি যেমনটি আমরা ইতোপূর্বে আলোচনা করেছি।

সুতরাং ১ম মতটি অধিক বিশুদ্ধ। মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কুরবানি করার কারণে তারা যদি কবরে লাভবান হত তাহলে সাহাবায়ে কেরাম এ ক্ষেত্রে সবার অগ্রে থাকতেন। কিন্তু তারা তা করেন নি। অত:এব তাদের আগ বাড়িয়ে কিছু করা আমাদের জন্য সমীচীন হতে পারে না।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।

আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করতে আল্লাহ তাআলার ১২০ বছর লেগেছে মর্মে কাহিনীটি ভিত্তিহীন

 প্রশ্ন: বাংলাদেশের জনৈক প্রসিদ্ধ ও সুকণ্ঠের অধিকারী বক্তা বলেছেন, আল্লাহ তাআলাকে আদম আ. এর মাটির দেহ তৈরি করতে ১২০ বছর সময় লেগেছে। প্রথমে ৪০ বছরে এঁটেল মাটি! কিন্তু এঁটেল মাটিতে কিছু হয় না। কিছু বানানো যায় না। তারপর ৪০ বছর বৃষ্টি দিলেন। তারপর ৪০ বছর রৌদের কিরণ! তারপর টনটনা মাটির ৬০ গজ আদমের মুর্তি বানালেন।” এ বক্তব্য কি সঠিক?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: এটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কাহিনী। এ সকল ভিত্তিহীন কিচ্ছা-কাহিনী বয়ান করা বা প্রচার করা জায়েজ নাই। কারণ মিথ্যা হাদিস বর্ণনার পরিণতি খুবই ভয়াবহ।
যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা হাদিস বয়ান করলো তার পরিণতি জাহান্নাম। এ মর্মে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন: রাসূল সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّداً فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ” رواه البخاري
“যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করল (মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করল), সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা করে নিলো।” [সহিহ বাখারি, অনুচ্ছেদ: আম্বিয়াদের হাদিস, হা/ ৩২৭৪]। শুধু তাই নয় তার ভুল বক্তব্যের কারণে যত মানুষ ইসলাম সম্পর্কে ভুল তথ্য পাবে তাদের সকলের দায়-দায়িত্ব তার উপর বর্তাবে। তাই বক্তাদের কর্তব্য, হাদিস বর্ণনা করার পূর্বে তার শুদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে যাচাই করা। আল্লাহ ক্ষমা করুন। আমিন।
– আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল –

গোপনাঙ্গে জয়তুন তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহারের বিধান এবং এই তেল ব্যবহারের অভূতপূর্ব কিছু উপকারিতা

 প্রশ্ন: শিশুর মলদ্বারে জয়তুনের তেল ব্যবহার করা কি জায়েজ? যেহেতু তা বরকতময়। আর জয়তুন তেলের উপকারিতা কী?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: শরীরের যেকোনো স্থানে জয়তুন তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে কোন বাধা নেই।
নিঃসন্দেহে জয়তুন তেল (زيت الزيتون/olive oil), জয়তুন ফল, জয়তুন গাছ সবই বরকতময়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা তীনে এই ফলটির কসম খেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَٱلتِّینِ وَٱلزَّیۡتُونِ
“কসম তীন ও ‘জয়তুন-এর।” [সুরা তীন: ১]
এটিও এই জিনিসটির মর্যাদা ও গুরুত্বের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

আর হাদিসে এসেছে, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“‏ كُلُوا الزَّيْتَ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ ‏”‏
“তোমরা জয়তুন খাবে এবং তা দ্বারা (শরীর) মালিশ করবে। কেননা, এ হলো মুবারক (বরকতময়) বৃক্ষ।”
[সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত, পরিচ্ছেদ: জয়তুন খাওয়া]

▪️লক্ষণীয়:
– জয়তুন বা অলিভ বরকতময় হওয়ার এটিও একটি দিক যে, এটি আমাদের শারীরিক সুস্থতা বা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই কার্যকর।
সুতরাং তা রান্না-বান্না সহ যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করা জায়েজ। পূর্ব যুগে জায়তুন তেল দ্বারা চেরাগ জ্বালানো হতো।

– এই হাদিসে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম জয়তুনের তেল শরীরে মালিশ করতে বলেছেন। কিন্তু শরীরের নির্দিষ্ট কোন স্থানে মালিশ করা যাবে না-মর্মে কোন কথা বলেননি। অতএব মানুষ প্রয়োজনে তার গোপনাঙ্গে যেমন তা ব্যবহার করতে পারে তেমনি চিকিৎসা হিসেবে মলদ্বার বা অন্য যেকোনো স্থানে ব্যবহার করতে পারে।

🔹”জয়তুন তেল পাইলস/অর্শরোগে ঔষধ” মর্মে বর্ণিত হাদিসটি বানোয়াট:

জয়তুন তেল পাইলস/অর্শরোগের ঔষধ” মর্মে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি হাদিস বলা হয়ে থাকে। কিন্তু তা বানোয়াট। সেটি হলো:
عليكم بزيت الزيتون فكلوه وادهنوا به، فإنه ينفع من الباسور
“তোমরা বরকতপূর্ণ জয়তুন গাছের তেল গ্রহণ কর এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার কর।‌ কারন তা অর্শরোগের আরোগ্যকারী।”
হাদিসটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
এটিকে তাবারানী “আল-মু-জামুল কাবীর” গ্রন্থে (১৭/২৪৭/৭৭৪) এবং তার থেকে আবূ নু’য়াইম “আত-তিব্ব” গ্রন্থে (২/৮০) বর্ণনা করেছেন।

🔹অলিভ অয়েল-এর উপকারিতা:

এ সম্পর্কে ডেইলি স্টার লিখেছে:

“ত্বকের যত্নে অলিভ ওয়েল
অলিভ অয়েল ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ত্বকের নিয়মিত যত্নে তেলটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নানান ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এই তেল আমাদের মুখে বয়সের ছাপ দূর করতে
অলিভ অয়েল ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ত্বকের নিয়মিত যত্নে তেলটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নানান ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এই তেল আমাদের মুখে বয়সের ছাপ দূর করতেও কাজ করে।
চলুন আজ জেনে নেই ত্বকে অলিভ ওয়েল ব্যবহারের কিছু উপকারিতা।

▪️১. ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা:

আমাদের ত্বকে পানির পরিমাণ কমে গেলে ত্বক রুক্ষ হতে শুরু করে। নিয়মিত অলিভ ওয়েলের ব্যবহার এই ঘাটতির আশঙ্কা দূর করে। প্রচুর ভিটামিন এ ও ই-এর পাশাপাশি এই তেলে ভিটামিন ডি ও কে থাকে, যা ত্বকের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশকেও সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেয়। তাই এটিকে সরাসরি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে বা ক্রিমের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

▪️২. ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু ঠিক করতে:

কনুই বা হাঁটুর ছিলে যাওয়া চামড়া অথবা কোনো হালকা আঘাতে অলিভ ওয়েল ব্যবহার বেশ কার্যকরী। পাশাপাশি মুখের ব্রণ রোধেও ভূমিকা রাখে এটি। ব্রণের জন্য দায়ী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টিতে বাধা দেয় তেলটির বিভিন্ন উপাদান। রোজাসিয়া ও সোরিয়াসিসের মতো রোগগুলোকেও বেশি বাড়তে দেয় না এটি।

▪️৩. মুখের সজীবতায়:

আমাদের ত্বকের অন্যতম উপাদান কোলাজেনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে অলিভ ওয়েল। তাছাড়া এতে থাকা অলিক এসিড ত্বকের নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে, মুখের ত্বককে করে তোলে আরও নরম, এনে দেয় মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।

▪️৪. বয়সের ছাপ দূর করতে:

সময়ের সঙ্গে মুখে-শরীরে বয়সের ছাপ পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার। তার সঙ্গে যদি যুক্ত হয় দূষিত পরিবেশ, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো কারণ, তাহলে তো কথাই নেই। আর এর সমাধানেও আছে অলিভ ওয়েলে। এই তেলে পলিফেনল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা বয়স্ক হওয়ার জন্য দায়ী ফ্রি র‍্যাডিকেল তৈরি হতে দেয় না। পাশাপাশি সূর্যের আলো থেকেও মুখকে সুরক্ষা দেয়।

▪️৫. ত্বক পরিষ্কার রাখতে:

প্রতিনিয়তই আমাদের ত্বককে পরিষ্কার রাখতে হয়। অলিভ ওয়েল সেই নিয়মিত কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মুখ থেকে মেকআপ বা সানস্ক্রিন ক্রিম তোলার ক্ষেত্রে তেলটি কাজে দেবে। মেকআপ তোলার জন্য বিভিন্ন সামগ্রী বাজারে পাওয়া গেলেও, এগুলোতে মুখের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু অলিভ ওয়েল সরাসরি বা প্যাডে মেখে মুখে লাগালে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।”
অনুবাদ করেছেন: আসিফ করিম চৌধুরী
[উৎস: bangla.thedailystar]
দৃষ্টি আকর্ষণী:
জয়তুনকে অনেকেই জলপাই-এর সাথে এক করে ফেলে। কিন্তু এ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ফল।

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল-

সাধারণ তাকবির ও বিশেষ তাকবির কী এবং কখন ও কীভাবে তা পাঠ করতে হয়

 🔸সাধারণ তাকবির পাঠ:

জিলহজের প্রথম দিন থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বড়ত্ব ঘোষণার উদ্দেশ্যে তাকবির পাঠ করা সুন্নত। এ তাকবির প্রকাশ্যে ও উচ্চস্বরে মসজিদ, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, বাজারসহ সর্বত্র উচ্চ আওয়াজে পাঠ করা যাবে।

সলাতের আগে কিংবা পরে, সকাল-সন্ধ্যা, দিন রাত যে কোন সময় পড়া ভালো। তবে মেয়েরা নিম্ন স্বরে তাকবীর পাঠ করবে।

🔸 তাকবির:

বিন বায র. বলেন, নিচের তাকবীর গুলো সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত:
اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَاإِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الحَمْدُ
الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله، الله أكبر الله أكبر ولله الحمد
الله أكبر كبيرًا، والحمد لله كثيرا، وسبحان الله بكرة وأصيلا

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা রাদিল্লাহু আনহুমা জিলহজ মাসের প্রথম দশকে বাজারে যেতেন ও তাকবির পাঠ করতেন। লোকজনও তাদের অনুসরণ করে তাকবির পাঠ করতেন। অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই দুই প্রিয় সাহাবি লোকজনকে তাকবির পাঠের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন।

▪️ ইমাম বুখারি রহ. বলেছেন, ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা রাদয়িাল্লাহু আনহুমা এ দশদিন তাকবির বলতে বলতে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হতেন। লোকজনও তাদের দেখে দেখে তাকবির বলত।

🔸 তাকবির পড়তে পড়তে ঈদগাহে গমন:

ঈদের রাত থেকে ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত হালকা উচ্চ আওয়াজে তাকবির পাঠ করা সুন্নত। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এক বর্ণনায় বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) উচ্চ আওয়াজে পাঠ করতে করতে ঈদগাহের দিকে গমন করতেন।” [সহীহ, ইরওয়া, ৩/১২৩]।

নাফে’ থেকে বর্ণিত:
” أن ابن عمر كان إذا غدا يوم الفطر ويوم الأضحى يجهر بالتكبير حتى يأتي المصلى ، ثم يكبر حتى يأتي الإمام ، فيكبر بتكبيره ” أخرجه الدارقطني بسند صحيح.
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. যখন ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহায় বের হতেন তখন ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত উচ্চ আওয়াজে তাকবির পাঠ করতেন। তারপর আবার ইমাম আসা পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন। অতঃপর ইমামের সাথে তাকবির বলতে থাকতেন। [দারাকুতনী, সনদ সহীহ, ইরওয়া, হাদিস নাম্বার: ৬৫০]।

🔸 আইয়ামে তাশরিকের দিন দিনগুলোতে বিশেষ তাকবির পাঠ:

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি আইয়ামে তাশরিকের মধ্যে এভাবে তাকবির বলতেন:
“الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله . والله أكبر ، الله أكبر، ولله الحمد ”
বাংলা উচ্চারণ:
“আল্লাহু আকবার,
আল্লাহু আকবার,
লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু,
ওয়াল্লাহু আকবার,
আল্লাহু আকবার,
ওয়া লিল্লাহিল হামদ”
বি. দ্র. দলবদ্ধ হয়ে একসাথে তাকবির পাঠ করা সুন্নত পরিপন্থী কাজ। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিংবা তাঁর কোন সাহাবি থেকে এমনটা পাওয়া যায় না। তাই সঠিক নিয়ম হল, সকলেই একা একা পাঠ করবে।

▪️ শায়খ বিন বায রাহ. বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং এক দল সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আরাফার দিন ফজরের পর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ সালাতের পরে তাকবির পাঠ করতেন। তবে এই দিন গুলোতে সাধারণ তাকবির এবং বিশেষ তাকবির উভয়টি চলমান থাকবে।”
▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

গ্রন্থনা:
আব্দুল্লাহ আল বাকী বিন আব্দুল জলীল
ইসলামী দাওয়াহ সংস্থা, জেদ্দা, সৌদি আরব।

▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
সম্পাদনা:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

কুরবানির গোশত তিন ভাগ করার বিধান

 ভূমিকা: ঈদুল আজহা হল, সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ বোধ ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত ঈমান ও তাকওয়া দীপ্ত এক মহান উৎসবের নাম। এটি মুসলিম জাতির বৃহত্তর জাতীয় উৎসব। এই উৎসবের আনন্দময় একটি দিক হল, কুরবানি করা। কুরবানি মহান আল্লাহর বিশেষ একটি নিয়ামত। এই নিয়ামত পুরোটা একাকী উপভোগ না করে যদি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশী এবং সমাজের অসহায়-দরিদ্র পীড়িত মানুষের মাঝে ভাগাভাগি করা হয় তাহলে তা হয় কতই না উত্তম! এর মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য, পারস্পারিক সম্প্রীতি, ভালবাসা ও সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং মনে উদারতা সৃষ্টি হয়। এর বিপরীতে তা আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের মাঝে বিতরণ না করাটা খুবই নিন্দনীয় ও কৃপণতা সুলভ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

বলা হয়, “ভোগে সুখ নাই, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ।” প্রকৃতপক্ষে ভোগ-বিলাসিতায় প্রকৃত সুখ পাওয়া যায় না। প্রকৃত সুখ আসে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। আর ত্যাগ মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়। দুস্থ ও অসহায় মানুষের মুখে একটু হাসি ফুটানো একদিকে বিশাল সওয়াবের কাজ অন্যদিকে এতে করে অন্তরে বয়ে যায় অনির্বচনীয় প্রশান্তি ও সুখের ফল্গুধারা। আর এটাই ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা।

❑ কুরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করা মুস্তাহাব:

কুরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করে এক ভাগ নিজের খাওয়া, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে উপহার দেওয়া এবং এক ভাগ গরিব-অসহায় মানুষকে দান করা মুস্তাহাব বা উত্তম। নিম্নে আমরা এ প্রসঙ্গে হাদিস, সাহাবিদের আমল ও বক্তব্য এবং বিজ্ঞ ফকিহদেরদের মতামত ও ফতোয়া উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ।
◈ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

عن ابن عباس، في صفة أضحية النبي – صلى الله عليه وسلم – قال: يطعم أهل بيته الثلث، ويطعم فقراء جيرانه الثلث، ويتصدق على السؤال بالثلث. رواه الحافظ أبو موسى الأصفهاني، في الوظائف، وقال: حديث حسن.

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কুরবানির বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, “তিনি কুরবানির মাংস একভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন, একভাগ গরিব প্রতিবেশীদের খাওয়াতেন এবং একভাগ যারা চাইতে আসতো তাদেরকে দান করতেন।” [এটি বর্ণনা করেন আবু মুসা আল আসপাহানি আল ওয়াজায়েফ গ্রন্থে এবং বলেন, হাসান হাদিস]।

◈ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকেও অনুরূপ বক্তব্য ও আমল পাওয়া যায়। [আল মুগনি] যেমন:

◍ বিখ্যাত তাবেঈ, আলকামা রাহ. বলেন,

بعث معي عبد الله بهديه، فأمرني أن آكل ثلثا، وأن أرسل إلى أهل أخيه عتبة بثلث، وأن أتصدق بثلث

“আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা, আমার সাথে তার হাদি (হজের কুরবানির পশু) পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, যেন এক তৃতীয়াংশ খাই, এক তৃতীয়াংশ তার ভাই উতবার পরিবারের নিকট পাঠাই এবং এক তৃতীয়াংশ সদকা (দান) করে দেই।”

◍ ইবনে উমর রা. বলেন,
الضحايا والهدايا ثلث لك ، وثلث لأهلك ، وثلث للمساكين
কুরবানি এবং হাদি (হজের কুরবানি) এর এক তৃতীয়াশ তোমার, এক তৃতীয়াংশ তোমার পরিবার এবং এক তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনদের জন্য।” [আল মুগনি]।

❑ বিজ্ঞ ফকিহদের ফতোয়া ও অভিমত:

✪ ইমাম আহমদ বিন হাম্বল বলেন,

نحن نذهب إلى حديث عبد الله: يأكل هو الثلث، ويطعم من أراد الثلث، ويتصدق على المساكين بالثلث

“আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর হাদিস অনুযায়ী মত পোষণ করি। তিনি নিজে এক তৃতীয়াংশ খেতেন, এক তৃতীয়াংশ যাকে ইচ্ছা খাওয়াতেন এবং এক তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনদেরকে দান করে দিতেন।” [আল মুগনি, অধ্যায়: কুরবানি, মাসআলা: কুরবানির তিনভাগের একভাগ খাওয়া, একভাগ উপহার দেওয়া এবং একভাগ সকদা (দান) করা মুস্তাহাব]

✪ ইবনে কুদামা হাম্বলি বলেন,

“الاستحباب أن يأكل ثلث أضحيته، ويهدي ثلثها، ويتصدق بثلثها، ولو أكل أكثر جاز
“কুরবানির গোশতের এক তৃতীয়াংশ খাওয়া, এক তৃতীয়াংশ হাদিয়া (উপহার) দেওয়া এক তৃতীয়াংশ সদকা (দান) করা মুস্তাহাব। যদি বেশির ভাগ খায় তাহলেও জায়েজ আছে।” [আল মুগনি, ৯/৪৮৮]।

✪ হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতারে এসেছে,
وَالْأَفْضَلُ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِالثُّلُثِ وَيَتَّخِذَ الثُّلُثَ ضِيَافَةً لِأَقْرِبَائِهِ وَأَصْدِقَائِهِ وَيَدَّخِرَ الثُّلُثَ
“উত্তম হলো, এক তৃতীয়াংশ সদকা করে দেবে, এক তৃতীয়াংশ নিকটাত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবদেরকে মেহমানদারির জন্য রাখবে এবং আরেক তৃতীয়াংশ (নিজের জন্য) জমা রাখবে।” [সূত্র: রদ্দুল মুহতার ৯/৪৭৪, বাদায়ে সানায়ে, ৪/২২৪]।

◯ কোনও কোনও আলেম তা দুভাগ করা উত্তম বলেছেন। একভাগ নিজের জন্য আরেক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য। এটি ইমাম শাফেয়ীর পরবর্তী অভিমত। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ‎
“অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুঃস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।” [সূরা হজ: ২৮]।

✪ সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি বিশ্ববরেণ্য ফকিহ আল্লামা শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,
الأضحية شرعها الله لعباده ، وجعلها قربةً يتقرب بها إليه في عيد النَّحر، في الحاضرة والبادية، ولم يُحدد سبحانه ما يأخذه منها صاحبها، وما يُعطيه الفقراء، فقال : فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ [الحج:28]، والآية الأخرى: فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ [الحج:36].
فالمشروع للمؤمن في ضحيَّته أن يأكل ويُطعم، فإذا أخرج الثلث ووزعه للفقراء وأكل الثلثين مع أهل بيته؛ فلا بأس ولا حرج في ذلك، ولو أخرج أقلَّ من الثلث؛ كفى ذلك، وإن أعطى الفقراء أيضًا من جيرانه وأقاربه؛ فلا بأس، فالأمر في هذا واسعٌ، والحمد لله
“আল্লাহ তাআলা কুরবানিকে বান্দাদের জন্য শরিয়ত সম্মত করেছেন এবং কুরবানির ঈদের দিন তা দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের মাধ্যমে হিসেব নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কুরবানি দাতা সেখান থেকে কতটুকু গ্রহণ করবেন তা নির্ধারণ করে দেননি। বরং তিনি বলেছেন, فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ “অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুঃস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।” [সূরা হজ: ২৮] অন্য আয়াতে তিনি বলেন,
فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ
“তা থেকে তোমরা নিজেরা খাও এবং খাওয়াও এমন দরিদ্র ব্যক্তিকে যে আত্মমর্যাদার কারণে কারও কাছে কিছু চায় না এবং এমন ব্যক্তিকে যে মানুষের কাছে ভিক্ষা করে।” [সূরা হজ: ৩৬]
সুতরাং শরিয়তের নিয়ম হল, একজন মুমিন ব্যক্তি কুরবানির গোশত নিজে খাবে এবং অন্যকে খাওয়াবে। তবে যদি তিনভাগের একভাগ বের করে দেয় এবং তা গরিব-অসহায় মানুষের মধ্যে বণ্টন করে এবং বাকি দু ভাগ তার পরিবার সহকারে খায় তাহলে তাতে কোনও সমস্যা বা সংকোচ নেই। আর যদি এক তৃতীয়াংশের কম বের করে তাও যথেষ্ট হবে। যদি তার গরিব নিকটাত্মীয় বা প্রতিবেশীদেরকে দেয় তাতেও কোনও সমস্যা নেই। এ ক্ষেত্রে প্রশস্ততা রয়েছে। আল হামদুলিল্লাহ।” [শাইখের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট]।
সুতরাং কারো পরিবারে যদি সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে তাদের জন্য গোশতের বেশি প্রয়োজন হয় তাহলে বেশিরভাগ রেখে দিতে পারে। উল্লেখ্য যে নিজের স্ত্রী সন্তান ও পরিবারবর্গকে গোশত খাওয়ানোও সদকার অন্তর্ভুক্ত।

➧ মোটকথা, সবচেয়ে উত্তম হল, কুরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করা। এক ভাগ নিজের খাবার জন্য, একভাগ আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য এবং একভাগ সমাজের দু:স্থ ও অসহায় মানুষকে দান করার জন্য। এটি মুস্তাহাব। তবে বাড়িতে লোকসংখ্যা বেশি হলে বেশির ভাগ তাদের জন্য রাখা হলেও তাতে কোনও সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। সমান সমান তিন ভাগে ভাগ করা আবশ্যক নয়। বরং বিষয়টিতে প্রশস্ততা রয়েছে-আল হামদুলিল্লাহ। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate