Sunday, April 10, 2022

আমরা কি পরকালের জন্য প্রস্তুত?

 এক বাদশার একটি বাগান ছিল।

বাগানটি ছিল অনেক বড় এবং বিভিন্ন স্তর বিশিষ্ট। বাদশাহ একজন লোককে ডাকলেন। তার হাতে একটি ঝুড়ি দিয়ে বললেন, আমার এই বাগানে যাও এবং ঝুড়ি বোঝাই করে নানা রকম ফলমুল নিয়ে আস। তুমি যদি ঝুঁড়ি ভরে ফল আনতে পার আমি তোমাকে পুরস্কৃত করব। কিন্তু শর্ত হল, বাগানের যে অংশ তুমি পার হবে সেখানে তুমি আর যেতে পারবে না। লোকটি মনে করলো এটা তো কোন কঠিন কাজ নয়। সে এক দরজা দিয়ে বাগানে প্রবেশ করল। দেখল, গাছে গাছে ফল পেকে আছে। নানা জাতের সুন্দর সুন্দর ফল। কিন্তু এগুলো তার পছন্দ হল না। সে বাগানের সামনের  অংশে গেল। এখানকার ফলগুলো তার কিছুটা পছন্দ হল। কিন্তু সে ভাবল আচ্ছা থাক সামনের অংশে গিয়ে দেখি সেখানে হয়ত আরো উন্নত ফল পাব, সেখান থেকেই ফল নিয়ে ঝুঁড়ি ভরব। সে সামনে এসে পরের অংশে এসে অনেক উন্নত মানের ফল পেল। এখানে এ সে তার মনে হল এখান থেকে কিছু ফল ছিড়ে নেই। কিন্তু পরক্ষণে ভাবতে লাগলো যে সবচেয়ে ভা ফলই ঝুড়িতে নিবে। তাই সে সামনে এগিয়ে বাগানের সর্বশেষ অংশে প্রবেশ করল। সে এখানে এসে দেখল ফলের কোন চিহ্ন ই নেই। অতএব সে আফসোস করতে লাগল আর বলতে লাগল, হায় আমি যদি বাগানে ঢুকেই ফল সংগ্রহ করতাম তাহলে আমার ঝুড়ি এখন খালি থাকত না। আমি এখন বাদশাকে কি করে মুখ দেখাব। ঘটনা বর্ণনা করার পর শায়েখ গজালি (রহ:) বলেন, বন্ধুগণ, বাদশাহ হলেন আল্লাহ, আর বাগানে প্রবেশ কারি লোকটি হল তুমি। আর ঝুড়ি দ্বারা উদ্দেশ্য হল তোমার আমলনামা। আর বাগান দ্বারা উদ্দেশ্য হল তোমার জীবন। বাগানের বিভিন্ন অংশ তোমার জীবনের বিভিন্ন ধাপ। আর তোমাকে নেক কাজের ফল ছিড়তে বলা হয়েছে, কিন্তু তুমি প্রতিদিনই ভাব, আগামী কাল থেকে ফল ছেড়া আরম্ভ করব। আগামী দিন আগামী দিন করতে করতে তোমার জীবনে আর আগামী দিন আসবে না। এভাবেই তুমি রিক্ত হস্তে মাওলার সামনে হাজির হবে।

আপনি নিজেকে কিভাবে গুনাহ থেকে বাঁচাবেন?

 একটি অসাধারন গল্প। সবাই পড়ুন

এবং শেয়ার করুন।
একদিন এক যুবক একজন আলেমের কাছে এসে বললঃ “হুযুর, আমি একজন তরুণ যুবক ।কিন্তু সমস্যা হল, আমার মাঝে মাঝে প্রবল খায়েশ কাজ করে । আমি যখন রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করি, তখন আমি মেয়েদের দিকে না তাকিয়ে পারি না । আমি এখন কি করতে পারি ?” তখন ঐ আলেম কিছুক্ষন চিন্তা করলেন । চিন্তা করার পর তাকে একটা দুধ ভর্তি গ্লাস দিলেন । গ্লাস পুরোটায় দুধে কানায় কানায় পরিপুর্ণ ছিল । অতঃপর ঐ আলেম তাকে বললেনঃ “আমি তোমাকে বাজারের একটি ঠিকানা দিচ্ছি, তুমি এই দুধটুকু সোজা সেখানে পৌছিয়ে দিয়ে আসবে । ঐ আলেম তাকে আরও নির্দেশ দিলেন যে, গ্লাস থেকে এক ফোঁটা দুধও যাতে না পরে । অতঃপর ঐ আলেম, উনার এক ছাত্রকে ঐ যুবকের সহযোগী করে আদেশ দিলেনঃ “তুমি এই যুবকের সাথে বাজারে যাও, এবং সে যদি যাওয়ার সময় এই গ্লাস
থেকে এক ফোঁটা দুধও ফেলে দেয়, তাহলে তুমি তাকে চরম ভাবে পিটাতে থাকবে । ঐ যুবকটি সহজেই দুধটুকু বাজারে পৌছিয়ে দিল এবং এই সংবাদ হুযুরকে জানানোর জন্য দৌড়ে ছুটে আসল । হুযুর জিজ্ঞাসা করলেনঃ “তুমি যাওয়ার সময় কয়টি মেয়ের চেহারা দেখেছ?” যুবকটি সবিস্ময়ে বললঃ “হুযুর, আমি তো বুঝতেই পারি নি আমার চারপাশে কি চলছিল । আমি তো এই ভয়েই তটস্থ ছিলাম যে, আমি যদি দুধ ফেলে দিই তবে রাস্তায় সমবেত সকল মানুষের সামনে আমাকে মারা হবে । হুযুর হাসলেন এবং বললেনঃ “মুমিনরা ঠিক এভাবেই আল্লাহকে ভয় করে । এবং মুমিনরা সবসময় চিন্তা করে, যদি সে আল্লাহর উপর বিশ্বাস ঐ দুধের ন্যায় ছিটকে ফেলে তবে তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিয়ামত দিবসে সমগ্র সৃষ্টিজগতের সামনে তাকে অপমানিত করবেন । এভাবে সর্বদাই বিচার দিবসের চিন্তা, মুমিনদের গুনাহ হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখে ।”
==============================
========
এই পোস্টটি শেয়ার করার ফলে যদি কোন একজন ভাল হয় তাহলে তার সওয়াবের ভাগিদার আপনিও হবেন।শেয়ার করুন। ভাল কাজে নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ নিন।

“ভালবাসবো বাসবো রে বন্ধু “

 রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লেখক: ব্লগার স্বপ্নচারী | সম্পাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী

আজকে একটা সম্ভাব্য প্রেমের ধ্বংস দেখতে পেলাম !!

অফিস থেকে ফিরছিলাম, রিকসা থেকে যেখানে নামলাম, সেখানে অচেনা দু’টো ছেলে আর একটা মেয়ে দাঁড়ানো, একটা রিকসা দাঁড়ানো পাশে। সেই মেয়েটার বান্ধবীকে সম্ভবত একটা’ ছেলে ‘লাইক’ করে, সেই কথাটা বন্ধুটা মেয়েটাকে বলছিল বলে বুঝলাম। মেয়েটা কিছু একটা উত্তর দিলো। পরে শুনলাম বন্ধুটি মেয়েটিকে বলল, ”ও কি ফ্রেন্ডশিপ টাইপের রিলেশনও করবেনা?”। মেয়েটা রিকশায় উঠতে উঠতে বলল, “তোমরা রাগ কইরো না, ঠিকাছে? ভালো থাইকোওও, বাআআই!! ” (একটু সুর করে)

বেচারা প্রেমিক ছেলেটা কষ্টে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ানো। সারাদিন কাজের চাপে সময় কাটানোর পর দিনশেষে এই কষ্ট পাওয়ার ঘটনা দেখে আমিও স্তব্ধ। বন্ধুটি সেই রোমিও প্রেমিককে ঠেলে রিকশায় তোলা পর্যন্ত ওদের দেখলাম। রিকসা রওনা হবার পর আমিও একটু বিষণ্ণ মন নিয়ে হাঁটা ধরলাম। এরকম করে দেখা অনেক দৃশ্য মনে পড়ে গেলো। এমন কত প্রেমের শুরু-শেষ দেখলাম এইটুকু জীবনেই!

কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ঘোরা স্কুল-কলেজের এই ছেলে মেয়েগুলোর জীবনে প্রেম একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে গেছে। এটা আজ থেকে দশ বছর আগে ছিল না। বিলবোর্ড, মিউজিক ভিডিও, নাটক-সিরিয়াল, শাহরুখ খান-শাহেদ কাপুর, কারিনা-প্রিয়াঙ্কা-রনবীরদের সিনেমা দেখে প্রেম করাটাকে জীবনের অত্যাবশ্যকীয় কাজ বানিয়ে ফেলেছে। তাই যেকোনো মেয়ে দেখলেই তাদের নিজেদের রোমিও বানাতে ইচ্ছে হয়। আমার ভাইবোনদের কাছে শুনতে পাই, কলেজে বা ভার্সিটিতে ক্লাসের কোন মেয়ে (যে কিনা প্রেম করেনা) পেলেই সবাই তাকে ‘অফার’ দিয়ে বসে। এই আতঙ্কে অনেক মেয়ে নিজেকে ‘ইন এ রিলেশনশিপ’ দেখিয়ে থাকে!!✔স্বভাবগতভাবে কোমল আর কিছুটা ‘ভদ্র’ ছেলেরা দুঃখ পায় এবং ছ্যাঁকা খেয়ে অনেক কাজে অমনোযোগী হয়ে যায়। আমার অনেক বন্ধুরা সেই সময়েই সিগারেট ধরে “দুইডা টান” দিয়েছিলো আর সেখান থেকেই জীবনের মতন শুরু হয়ে যায়।

অন্যদিকে, যেসব ছেলের স্বভাবে ছোট থেকেই কোমলতা বর্জিত হয়ে গেছে, ছোটবেলা থেকেই যারা প্রয়োজনীয় পারিবারিক শিক্ষা কম পেয়ে বড় হয়েছে, তারা প্রেম করতে না চাওয়া সেই মেয়ের পিছু ছাড়েই না। মেয়েটা এই অফারকে ফিরিয়ে দিলেও ‘প্রেমের নেশায় কাতর’ নাছোড়বান্দা ছেলেটা ক্রমাগতভাবে ফোনে, ক্লাসে, রাস্তায়, ফেসবুকে মেয়েটিকে ফলো করার চেষ্টা করতে থাকে। আসলে এটাকে ‘বিরক্ত’ করা বলাটাই সঠিক হবে। এই বিরক্ত করার স্কেল যেসব ছেলে যত বেশি নোংরা আর পশু তাদের কাছে ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতর হয়। আর বখে যাওয়া ছেলেরা তখন “জোর করে” ভালোবাসা আদায়ে অনেক মেয়েরই ক্ষতি করতে চায় — যা কিনা স্বাভাবিক প্রাণীজ গুণাবলী। এই প্রাণী থেকে মানুষ হতে চেষ্টা করতে হয়।

আর সমাজের আধুনিকা ইয়ো-টাইপের মেয়ে অথবা পরিস্থিতির শিকারে পড়ে মেয়েরা এই অফার গ্রহণ করে, প্রেম খেলা শুরু হয়। স্কুল কলেজের বাইরে রাস্তার উপরে, ফাস্ট-ফুডের দোকানে, বাসের কাউন্টারের সামনে, কোন পার্কে বা বসুন্ধরা সিটিতে তাদের একসাথে দেখা যায়। প্রচুর ফোনালাপ শুরু হয় — কী খেয়েছ, তুমি কী পছন্দ করো, তোমার স্বপ্ন কী, তুমি কোথায় বেড়াতে যেতে চাও, তোমার কোন রঙ পছন্দ — এইসব বলে এফএনএফ নাম্বারের ব্যাপক উসুল করা হয়। জীবনের সমস্ত কথা এক দুই সপ্তাহেই বলা শেষ হয়ে যায়। তারপর ছেলেটা যদি উত্তম চরিত্রের না হয়, আর কোন একটা আদিম চাওয়া পূরণ করতে চাইলে তা না দেয়ায় মেয়েটা পুনরায় আবার দোষী হয় এবং এতকিছুর পরেও ছেলেটা তার উপরে খেপে যায়। মেয়েটা এমন অবস্থায় পেছানোর চেষ্টা করে কিন্তু অনেক দিনের অনেক অন্তরঙ্গতায় বাধা পড়ে সেখানেই আটকে যায়। স্মৃতিরা বাঁধা হয়ে যায়। শুরু হয় “প্রেমের নাম বেদনা” টাইপের অবস্থা।আবার, কোন একদিন তৃতীয় কোন ছেলের বা মেয়ের আগমন হয়, ঝগড়া আর ভুল বোঝাবোঝির শুরু। অথবা কেউ একজন ছেলে বন্ধু-মেয়েবন্ধুর স্বাধীনতা চায়, অপরজন তাকে আপন করে চায় আবার শুরু হয় যুদ্ধ। আবারো এই সম্পর্ক ভাঙ্গনের পথে যায়, একসময় আবারো পিছনে লাগা স্টেজ। দুইজন তাদের সম্ভাব্য সকল বন্ধু মহলে অপরের নামে খারাপ কথা বলতে থাকে, যাকে গীবত বলা যায়। এখানে প্রতিহিংসার আগমন হয়। ক্রোধের আগমন হয়।

এইরকম আরও বহু ধাপ পেরিয়ে বাবা-মা পর্যন্ত এসে আবার থেমে যায় প্রেমের স্রোত। তখন ডানে বামে শোনা যায় — প্রেম করলে অনেক অসাধ্য সাধন করতে হয়। এই জায়গায় কানপড়া পাওয়া যায় “ভালো কিছু পেতে হলে কিছু তো ত্যাগ হবেই”।অবশেষে এই প্রেম নামের ভালো কিছুর জন্য সারাজীবন সবকিছুতে সাথে থাকা বাবা-মা, ভাই-বোনের যাবতীয় অপছন্দ উপেক্ষা করে, রাগারাগি আর গালাগালির পরে হয়তবা তারা একসাথে হয়। কিন্তু বিয়ের পরের জীবন? সে এক ইতিহাস। সেইটা অন্যরকম আলোচনার বিষয়।

অনেকে আবার ‘সেই একজন’ কে না পেয়ে ভগ্ন হৃদয়ে চোখের পানি ঝরাতে থাকে। তাকে পাওয়ার জন্য শুরু হয় প্রার্থনা। হয়ত তাকে চেনাই হয়নি ঠিকমতন, কিন্তু এই মোহগ্রস্ততা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনা তারা। ছেলে হোক, মেয়ে হোক… এমন ঘটনা অজস্র।

উপরের কোন ঘটনা জীবনে নেই — এমন ছেলে বা মেয়ে খুব বেশি না মনে হয়। বয় ফ্রেন্ড-গার্ল ফ্রেন্ড কি আমাদেরই এই সমাজে ছিল পনের-বিশ বছর আগে? তখন কি আমাদের বড় ভাই-বোনেরা থাকতে পারেননি? আর সমাজের ওই রক্ষণশীলতা ছিল বলেই এত হাজার রকমের আতংক, ভয়ে নীল হয়ে থাকতে হতো না সমাজের মেয়েদের, মায়েদের, বাবাদের।

আফসোস!! আমাদের জীবন, আমাদের অনুভূতি, আমাদের ভালোলাগা-মন্দলাগা, আমাদের স্বাচ্ছন্দ্য এখন আমরা ছেড়ে দিয়েছি কিছু মোবাইল অপারেটর আর কর্পোরেট কোম্পানিদের বিজ্ঞাপনের কাছে, মুভি আর সিরিয়ালের কাছে।বলিউডের কেথ্রিজি, কুচ কুচ হোতা হ্যায়, মোহাব্বাতেইন, জাব উই মিট দেখে প্রেমিক-প্রেমিকা পাবার এবং হবার যেই আকাঙ্ক্ষাতে আমার ভাইবোনদের হৃদয় দোলে সেই নায়ক-নায়িকা, ক্যামেরা ম্যান-প্রস্ততকারক, প্রযোজক সবাই এ থেকে কেবল মুনাফাই অর্জন করেন। আর সেই ব্যবসা সফলতা থেকেই তাদের এমন সিনেমা বানানোর হিড়িক পড়ে। সেই সিনেমায় সত্য কতখানি, তার প্রভাব কতখানি আমাদের সমাজে সেই হিসেব কেইবা রাখে? ভুক্তভোগী যারা, সাবধানতা তাদের থেকেই তো আগে আসা উচিত, তাই নয় কি?

অথচ এই প্রেমিক-প্রেমিকা হয়ে আমরা প্রেমাক্রান্ত হয়ে যন্ত্রণা দিই আমাদের মা কে। আমাদের দুঃখিনী মা ক’বার গিয়েছেন তিনি এদেশেরই মাধবকুণ্ড ঝর্ণার কাছে? ক’বার গিয়েছেন তিনি কেএফসি আর ফ্যান্টাসি কিংডমে? তার কী একটা জীবন কেবলই আমাদের জন্য ভাত আর তরকারি রান্নার জন্য? আমাদের শরীরের খবর নেয়ার জন্য? কেন এই কাজ করবেন তারা? ছোটবেলা কত শত রাত আমরা এই মা-কে ঘুমাতে দিইনি — কেন এই মায়েদের অশান্তি দিয়ে এই ভালোবাসা বাসি? কেন হয়ত আমার কারণে অন্য আরেকটা ছেলে বা মেয়ের মা-বাবাকে অশান্তি দেয়া? পরিবারের শান্তি কেন আমরা নষ্ট করতে চাই?

ভালোবাসা মানে কী তবে? ভোগ করা?

‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ এই কথাটাকে অগ্রাহ্য করলেই কেন ওই মেয়েটা শত্রু হয়ে যায়? তার মানে কি সেই মেয়ের কিছুটা সময়, তার কণ্ঠের অনুরণন, তার কিছু দৃষ্টিকে, তার সহজাত সম্পদগুলোকে ভোগ করতে না পেরেই আমি তাকে ভালোবাসার পরিবর্তে ঘৃণা করতে শুরু করলাম? কী হাস্যকর রকমের সস্তা ব্যাপার, তাইনা? যাকে ভালোবাসি, তাকে না পেলেও তো আমার ভালোবাসা থাকারই কথা তাইনা? এই স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত হতে পারলে সেদিন নিজেকে মুক্ত করা যাবে পশুত্ব থেকে।

ক’দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ক্লাসমেট ছেলেটা তার প্রেমিকাকে ছুরি দিয়ে গেঁথে খুন করে ফেলার ঘটনাতে কি এই ভয়ংকর জিনিসগুলোই পরিষ্কার করে দেয় না? মানবীয় গুণাবলী যেখানে হারিয়ে যায়, তখন প্রেমের নামে এই সাময়িক মোহ কেটে যেতে কেবলই একটা মূহুর্ত লাগে!প্রিয় ভাইয়ারা, জীবনটাকে জটিল করতে, পাপময় করতে, রাগ-ক্ষোভ-হতাশার স্ফুরণ ঘটাতে কেন তোমরা ফিরে ফিরে রোমিও, মজনু, ফরহাদ হতে চাও? তুমি সেই মেয়েটিকেই খুঁজো, যার মতন একটা কন্যা সন্তান পেলে তুমি খুশি হবে জীবনে। কিংবা এমন মেয়ে খুঁজো যাকে তুমি তোমার সন্তানদের মা হিসেবে চাও! মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট থেকে দূরে রেখে ঘরের আলো নিভিয়ে নিজেকে একটুখানি সময় দাও। তারপর নিজের আত্মাকে জিজ্ঞেস করো তো এই একটা দেহ, প্রাণ, সে কি শুধুই কোন নারীর পেছনে ছোটার জন্য? তোমার ভাইবোন, মা-বাবার কষ্টার্জিত জীবন, রাস্তার পাশের কষ্টে থাকা মানুষগুলো কি কখনই তোমাকে ভাবায় না? যেদিন তুমি হবে সুন্দর চরিত্রের উদার প্রাণের ছেলে, দেখবে তোমার চাইতেও চমৎকার একজন তোমারই জন্য অপেক্ষা করবে এই জীবনের বাকিটা সময়, অনন্তকালের অসীম সময়ে সঙ্গ দিতে। চোখকে সংযত করা উচিত, কেননা এই নির্লজ্জ অবাধ্য দৃষ্টি অনেক বোনদেরকে কষ্ট দেয়, অশান্তি দেয়। হতে পারে সে আমাদেরই কারো মা-বোন। আর আখিরাতে আল্লাহর হিসেব তো হবে খুবই কঠিন!

আচ্ছা আপু, এই রূপ-সৌন্দর্য-যৌবন কতদিন থাকে জানো তো? সর্বোচ্চ ১৫-২০ বছর। তারপর? এই শরীর ভেঙ্গে যাবে, চামড়া কুঁচকে যাবে। তখন কে দেখবে তোমাকে? তুমি বরং এমন ছেলেকেই খুঁজো, যার মতন ছেলে গর্ভে পেলে তুমি খুশি হবে। কিংবা এমন ছেলে খুঁজো যাকে তুমি তোমার সন্তানদের বাবা হিসেবে চাও। তথাকথিত দারুণ স্মার্ট ছেলের আক্রমণাত্মক, ড্যাম কেয়ার আর “ম্যানলি” আচরণে মুগ্ধ হয়ে, তার প্রতি অনেক মেয়েরা মুগ্ধ বলে তাকে নিজের জীবনে চাইলে — মনে রেখো আপু, সে যদি তোমার হয়ও কখনো, তখনো সে এমনই থাকবে। সেদিন তার এই আক্রমণের আচরণের খারাপ দিকগুলো তুমি ভোগ করবে প্রতিদিন, প্রতি বেলা। আসলে, কোমল আর ধৈর্য্যশীল ছেলেরা বোধকরি সবচাইতে ভালো ছেলে। সংসার জীবনে প্রাপ্য সম্মান পাওয়াটা ভালোবাসা পাওয়ার চাইতে বেশি প্রয়োজনীয়।

মনে রাখা উচিত, এই জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর কাছ থেকে এসেছি, আবার তার কাছেই আমাদের সবাইকে ফিরে যেতে হবে। পৃথিবীতে এসেছিলাম তখনো একা, যাবোও একা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবসময়েই সাথে আছেন। মন অস্থির হলে, চঞ্চল হলে, একা লাগলে — আল্লাহকে স্মরণ করতে হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন:“… জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়… ” [সুরা আর রা’দঃ ২৮]

এই জগতে কত আত্মার প্রশান্তি আছে! কী অপার ভালোবাসা ছড়িয়ে আছে আমাদেরই চারপাশে। আমাদের প্রিয়তম জনকে ভালবাসলে, সবসময়ে স্মরণ করে সমস্ত জীবনটা কতটা সুন্দর হতে পারে — সেটা যারা চেষ্টা করে তারাই পায়! আল্লাহই আমাদের আপনজন, তিনিই সবকিছুর মালিক।

যারা অবিবাহিত, তাদের প্রয়োজন নিজেদের সংযত করা। দরকার আল্লাহর সাহায্য চেয়ে দুয়া করা, যেই সুন্দর দুয়া পবিত্র কুরআনুল কারীমেই আমরা শিখেছি। আল্লাহর কাছে আমাদের এমন একজন জীবনসঙ্গী চাওয়া উচিত, যাকে দেখলে আমাদের চোখ জুড়িয়ে যায়, যার সাথে আমরা দুনিয়াতে একসাথে থাকবো, আখিরাতেও আল্লাহর দেয়া জান্নাতে একসাথে থাকতে পারবো, চিরসবুজ, চির যুবা হয়ে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন আর তার ভালোবাসায় সিক্ত স্নিগ্ধ-শান্ত-মিষ্ট হৃদয় ধারণ করার তাওফিক দান করুন। সেই সুন্দর দু’আ হল– “রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা ক্কুররাতা আ’ইয়ুনিন ওয়া জা’আলনা লিল মুত্তাক্কিনা ইমামা।”

“হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।” [সূরা ফুরক্কানঃ ৭৪]

Tuesday, April 5, 2022

সেহরি সঠিক হবে নাকি সাহরি

 প্রশ্ন: ‘সেহরি’ সঠিক হবে নাকি ‘সাহরি’? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً
“তোমরা সাহুর (সেহেরি) করো, কারণ সাহুরে (সেহেরিতে) বরকত রয়েছে।” (বুখারি ও মুসলিম)

উক্ত হাদিসে ভোর রাতের খাবার বুঝাতে ‘সাহুর’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু বাংলা ভাষায় তা ‘সেহরি’ ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ সেহেরি শব্দটি এখন বাংলা। এটাই যুগে যুগে বাংলা সাহিত্য, পত্র-পত্রিকা, গল্প-উপন্যাস, পুঁথি-কবিতা ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং সর্বস্তরের মানুষের নিকট সুপরিচিত।

আর বাংলা ব্যাকরণের দৃষ্টিতে বিদেশী কোন শব্দ যখন বাংলা ভাষায় ‘আত্তীকরণ’ হয় তখন সেটাকে পরিবর্তন করা ভাষা বিকৃতির শামিল। যেমন: ইংরেজিতে Table (টেবল) কিন্তু সেটা বাংলায় টেবিল। Apple (এ্যাপল) বাংলায় আপেল। এমন বহু বিদেশী শব্দ বাংলায় প্রবেশ করেছে। এখন কোন অতি পণ্ডিত ব্যক্তি এসে যদি বাংলায় কথা বলার সময় টেবিলকে ‘টেবল’ আর আপেলকে ‘এ্যাপল’ বলা শুরু করে তাহলে তা নি:সন্দেহে হাস্যকর ও ভাষা বিকৃতির শামিল বলে গণ্য হবে।

সে কারণে প্রচলিত ‘সেহরি’ শব্দকে ভুল আখ্যা দিয়ে ‘সাহরি; বলা অনুচিত বলে মনে করি। কারণ সেহরি শব্দটি বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ বাংলা। তাছাড়া প্রকৃতপক্ষে ভোররাতের খাওয়া বুঝাতে হাদিসে ‘সাহুর; শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে; সাহরি নয়।

সুতরাং কেউ হুবহু হাদিসের শব্দ ব্যবহার করতে চাইলে ‘সাহুর’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারে; সেহেরি বা সাহরি কোনটাই নয়।

◍ ‘সেহেরি’ মানে কি যাদু?

অনেকেই বলছেন, ‘সেহরি’ মানে না কি যাদু। কিন্তু এ কথা সঠিক নয়। বরং আরবিতে সাহরুন বা সিহরুন শব্দের অর্থ: যাদু। যেমন: আরবি অভিধানে লেখা হয়েছে,
سحَرَ يَسحَر ، سَحْرًا وسِحْرًا ، فهو ساحِر ، والمفعول مَسْحور
আর ‘আস সাহারু’ অর্থ: শেষ রাত-ফজরের পূর্ব মূহুর্ত।
السَّحَرُ :آخرُ الليل قبيل الفجر
সুতরাং দেখা গেল, ‘সেহেরি’ শব্দটির অর্থ যাদু বলা অভিধান সঙ্গত নয়।

◍ ভোররাতের খাবার বুঝাতে ‘সাহরি’ শব্দটি শুদ্ধ নয়:

ভোর রাতের খাবার বুঝাতে ‘সাহরী’ শব্দটি শুদ্ধ নয়। কারণ হল, হাদিসে ‘সাহরী’ শব্দের অর্থ: আমার বক্ষ বা সিনা। যেমন: নিম্নোক্ত হাদিসটি,

আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি প্রায়ই বলতেন,
تُوُفِّيَ فِيْ بَيْتِيْ وَفِيْ يَوْمِيْ وَبَيْنَ سَحْرِيْ وَنَحْرِيْ
“আমার প্রতি আল্লাহর এটা নি’য়ামাত যে, আমার ঘরে, আমার পালার দিনে এবং আমার গণ্ড ও সিনার মাঝে রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকাল হয়।” [সহিহ বুখারি, হা/ ৪৪৪৯]

সর্বোপরি, এটা এমন কোন শব্দ নয় যে, পরিবর্তন করলে তা শরিয়ত পরিপন্থী কাজ হবে বা গুনাহ হবে। যেমন: কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ইত্যাদি।এগুলো পরিবর্তন করা শরিয়ত সম্মত নয়।

মোটকথা, সর্বস্তরের বাংলাভাষী মানুষ যে শব্দটি উচ্চারণ করে ও বুঝে এবং বাংলা ভাষা সাহিত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সে শব্দটি অবিকৃত রাখাই ভালো মনে করি। সুতরাং ‘সাহরি’ নয় বরং ‘সেহেরি’ বলাই অধিক উপযুক্ত।
এটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। এ ক্ষেত্রে যৌক্তিকভাবে যে কেউ দ্বিমত করার অধিকার রাখে। আল্লাহু আলাম।
—————
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।।
জুবাইল, সৌদি আরব।।

মহিলাদের কপালে টিপ পরার বিধান

 প্রশ্ন: মহিলাদের কপালে টিপ ব্যবহার কি হারাম? এ ব্যাপারে ইব্রাহীম আ. কে আগুনে নিক্ষেপের সময় কতিপয় উলঙ্গ বেশ্যা মহিলাকে টিপ পরানো হয়েছিলো- মর্মে যে ঘটনা বলা হয় তা কি সঠিক?

উত্তর:

বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব ওয়েব সাইটে কতিপয় তাফসীরের রবাত দিয়ে মহিলাদের টিপ পরার ইতিহাস বলা হয়েছে এভাবে:

“মুসলিম জাহানের পিতা হযরত ইবরাহীম আ.কে যখন আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য নমরুদ ৮ মাইল পরিমাণ জায়গা আগুন জ্বালাল তখন একটা নতুন সমস্যা দেখা দিল। আগুনের উত্তাপ এতই বেশি ছিল যে, তার কাছে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। তাই একটা চরক বানানো হল যার মাধ্যমে ইবরাহীম আ.কে দূর থেকে ছুড়ে আগুনে নিক্ষেপ করা যায়। কিন্তু রহমতের ফেরেশতাগণ চরকের একপাশে ভর করে থাকায় চরক ঘুরানো যাচ্ছিল না। তখন শয়তান এসে নমরুদকে কুবুদ্ধি দিয়েছিল যে, সমাজে যারা অনৈতিক কার্যকলাপ করে (বেশ্যা) এমন কয়েকজন মেয়ে এনে চরকের সামনে বসিয়ে দিতে। কারণ এ অবস্থায় রহমতের ফেরেশতাগণ থাকতে পারবেন না। তাই করা হল। ফেরেশতাগণ চলে গেলেন, আর ঠিক তখনি তারা ইবরাহীম আ. কে আগুনে নিক্ষেপ করতে সক্ষম হল।
কিন্তু আগুন আল্লাহর হুকুমে ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে জ্বালানোর বদলে ফুলের বাগান হয়ে গেলো।
পরবর্তীতে ঐ বেশ্যা মহিলাগুলোকে মেয়েগুলোকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দান করা হল যাদের কারণে রহমতের ফেরেশতাগণ চরক ছেড়ে দূরে সরে গিয়েছিলেন এবং তাদের মাথায় তিলক পরানো হল। যেটা এখন আমাদের কাছে টিপ নামে পরিচিত যা মেয়েরা নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে ব্যবহার করে।“

ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া উক্ত ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত। কিন্তু আমাদের অনুসন্ধানে তাফসীরের কিতাবগুলোতে এ সম্পর্কে ন্যূনতম কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। বেশ কিছু বিজ্ঞ আলেমকে জিজ্ঞাসা করেও কাজ হয় নি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এ ঘটনাটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন হতে পারে।

(যদিও কেউ যদি নির্ভরযোগ্য কোনও তাফসীরের কিতাব বা ইতিহাসের বইয়ে এই ঘটনা নিজে পড়ে থাকেন তাহলে আমাকে জানিয়ে বাধিত করবেন। দয়া করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা রেফারেন্স কপি-পেস্ট করে দিবেন না।)

🔴 যাহোক, হিন্দুদের অনুকরণে মাথার সিঁথির মাঝখানে বা কপালে সিঁদুর পরা হারাম। এ মর্মে আলেমদের মাঝে কোনও দ্বিমত নাই। কারণ এটি হিন্দুদের ধর্মীয় রীতি। ধর্মীয় রীতি অনুসারে তাদের কেবল বিবাহিত নারীরাই মাথায় সিঁথির মাঝখানে লম্বা করে সিঁদুর লাগায়। বিয়ের পূর্বেও লাগায় না; বিয়ের পর স্বামী মারা যাওয়ার পরও লাগায় না। আর এ কথা স্বত:সিদ্ধ যে, ইসলামে কাফেরদের ধর্মীয় ও সংস্কৃতি বিষয়ে সাদৃশ্য অবলম্বন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যেমন:
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
“যে ব্যক্তি যার সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।“ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪০৩১, সহীহুল জামে-আলবানী হা/২৮৩১)

🔴 তবে সাজ-সজ্জার অংশ হিসেবে মহিলাদের কপালে লাল বা অন্যান্য রঙের গোল টিপ পরা জায়েয কি না সে ব্যাপারে আলেমদের মাঝে দ্বিমত পরিলক্ষিত হয়।

🔹 একদল আলেমের মতে কপালে টিপ পরা মূলত: ভারত বর্ষের মহিলাদের সাজ-সজ্জার একটি উপকরণ মাত্র। এটা ধর্ম বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যার কারণে প্রাচীন কাল থেকেই অত্র অঞ্চলে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে মহিলাদের কপালে টিপ পরার প্রথা প্রচলিত রয়েছে।

দুনিয়াবি কোনও বিষয়কে স্পষ্ট দলীল ছাড়া হারাম বলার সুযোগ নাই। তবে শর্ত হল, সেজেগুজে পরপুরুষের সামনে ঘুরে বেড়ানো নাজায়েজ। কারণ ইসলামে স্বামী, নিজস্ব মাহরাম পুরুষ এবং মহিলা অঙ্গন ছাড়া অন্য কারো সামনে মহিলাদের সাজ-সজ্জা ও সৌন্দর্য প্রদর্শন করা বৈধ নয়।

🔹 অন্য একদল আলেমের মতে, মুসলিম মহিলাদের জন্য টিপ পরা বৈধ নয়। তাদের মতে, টিপ পরা মূলত: সিঁদুরেরই একটি অংশ যা-হিন্দুদের ধর্ম বিশ্বাস ও সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং টিপ পরিধান করলে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি চর্চা করা হয়-যা ইসলামে হারাম।

 উপসংহারে আমরা বলব, যেহেতু বিষয়টি দ্বিমত পূর্ণ সেহেতু দ্বিমত থেকে বাঁচার স্বার্থে টিপ পরিধান না করাই উত্তম।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

Translate