Saturday, February 19, 2022

ইসলামে যৌবনকালের গুরুত্ব এবং তার মেয়াদকাল

 প্রশ্ন: ইসলামে যৌবনকালের গুরুত্ব কি এবং যৌবনকালের মেয়াদ কত দিন? (যৌবন কত বছর বয়স থেকে শুরু হয় এবং কত বছরে শেষ হয়)

উত্তর:
আমাদের অজানা নয় যে, মানব জীবনে একাধিক ধাপ রয়েছে। শৈশব, কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব ও বার্ধক্য। এগুলোর মধ্যে যৌবনকাল হল, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় কালটাকে বলা হয়, Golden age of life বা জীবনের সোনালী অধ্যায়। এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব ও ক্যারিয়ার গঠন, জ্ঞানার্জন, অর্থ উপার্জন, বিয়ে-দাম্পত্য, পরিবার, নেতৃত্ব, যুদ্ধ-সংগ্রাম ও ইবাদতের প্রকৃত সময়। এ সময়কে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগালে একজন মানুষ যেমন সফল ও আলোকিত মানুষে পরিণত হয় ঠিক তেমনটি সামান্য অবহেলা ও অযত্নে যৌবনের উন্মাদনায় হারিয়ে যেতে পারে পাপ-পঙ্কিলতার অতল তলে, নিক্ষিপ্ত হতে পারে ধ্বংস ও অন্ধকারের অতল গহ্বরে। যৌবন হল এক অমিত শক্তির নাম, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে জীবন-সংসার সৃষ্টি-সৌন্দর্যে মহনীয় হয়ে ওঠে। পক্ষান্তরে যৌবনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেলে তার তাণ্ডবলীলায় জীবন ও জগত নরকে পরিণত হয়।

সে কারণে হাদিসে যৌবনকালকে গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে পর্যাপ্ত তাকিদ এসেছে এবং যৌবনকালে আল্লাহর ইবাদতের বিশেষ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে।

জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় যৌবনকাল সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَهُوَ الْعَلِيمُ الْقَدِيرُ
“আল্লাহ তিনি দুর্বল (শিশু) অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন অতঃপর দুর্বলতার পর (যৌবনে) শক্তি দান করেছেন, অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ [সূরা রূম: ৫৪]

ইসলামে‌ যৌবনকালের বিশেষ গুরুত্ব সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঁচটি জিনিসকে গনিমতের সম্পদ হিসেবে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। তম্মধ্যে অন্যতম হল, যৌবন কাল। তিনিও আরও সতর্ক করেছেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাঠগড়ায় আদমের সন্তানদেরকে এক পাও এগুতে দেয়া হবে না যতক্ষণ না তাকে চারটি প্রশ্ন করা হবে। তম্মধ্যে একটি হল, যৌবন কাল। যে যুবক যৌবন কালকে আল্লাহর ইবাদতে কাটাতে সক্ষম হয় তাকে কিয়ামতের বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এভাবে ইসলামে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টির প্রতি যত্নবান হতে যথেষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হাফসা বিনতে সিরিন রাহ. (বিশিষ্ট মহিলা ফকিহ ও তাবেয়ী) বলতেন,
يا معشر الشباب! خذوا من أنفسكم وانتم شباب، فإنى رأيت العمل في الشباب
“হে যুব সম্প্রদায়, তোমরা যৌবন কালেই যথাসাধ্য কাজ করো। কেননা, আমি মনে করি, কাজের প্রকৃত সময় হল, যৌবনকাল।” [সাফওয়াতুস সাফওয়া-ইবনুল জাওযী]

❑ যৌবনের সূচনা ও সমাপ্তি কখন?

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ উভয়ের শরীরে কিছু বিশেষ চিহ্ন প্রকাশ পাওয়াকে যৌবনের সূচনা কাল হিসেবে ধরা হয়। (যে চিহ্নগুলো সুপরিচিত)। তবে কোন কারণে যৌবনের চিহ্ন প্রস্ফুটিত হতে বিলম্ব হলে হাদিসে ১৫ বছর বয়সের ব্যক্তিকে ‘প্রাপ্ত বয়স্ক’ (adult) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু যৌবনের সর্বশেষ কোন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় নি। সে কারণে ইসলামি স্কলারগণ এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনও সময়-সীমার উপর একমত হন নি।

তবে অনেকে চল্লিশ বছরকে যৌবনের চূড়ান্ত মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছেন। তাইতো আমাদের পূর্বসূরিগণ চল্লিশ বছর বয়স অতিবাহিত হলে, আরও অধিক পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগীর দিকে ঝুঁকে পড়তেন।

আর বাস্তবতা হল, চল্লিশ বছর বয়সে জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়ায়-উৎরায় পার হয়ে অসংখ্য অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে মানুষের জ্ঞান-গরিমার পূর্ণতা পায়। তাই তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবুওয়তের গুরু দায়িত্ব প্রদান করা হয় যখন তার বয়স চল্লিশ। বরং সকল নবী-রাসূল যৌবন বয়সে নবুওয়ত লাভ করেছিলেন। যেমন:

ইবনে আব্বাস রা. এর বলেন,
ما بعث اللهُ نبيًّا إلَّا وهو شابٌّ ، ولا أُوتيَ العلمَ عالمٌ إلَّا وهو شابٌّ
‘আল্লাহ তায়ালা সব নবীকে যৌবনকালে নবুয়ত দান করেছেন, যৌবনকালেই আলেমদের ইলম প্রদান করা হয়।’ [তাবারানি, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, বায়হাকি। সূয়ুতী বলেন, إسناده جيد “এর সনদ ভালো।” দ্রষ্টব্য: আন নুকাত আলাল মাউযুআত, পৃষ্ঠা ৪৫]

এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা ৪০ বছর বয়সের কথা উল্লেখ করার বিষয়টি হয়ত কোনও তাৎপর্য বহন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا ۖ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا ۖ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا ۚ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
“আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্ট সহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্ট সহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থ্যে বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্ম পরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম।” [সূরা আহকাফ: ১৫]

তবে শারীরিক শক্তিমত্তা, সক্ষমতা , সুস্থতা, শৌর্য-বীর্য, ইত্যাদি ভেদে চল্লিশ বছরের পরেও অনেক মানুষ পূর্ণ যৌবন দীপ্ত জীবন উপভোগ করে।
সুতরাং যৌবনকালকে নির্দিষ্ট বয়স সীমায় সীমাবদ্ধ করা যাবে না। বরং যত দিন একজন মানুষ তার শরীরে যৌবনের উত্তাপ এবং শারীরিক ও মানসিক শক্তি অনুভব করবে ততদিনই সে যুবক। তা চল্লিশের পরও হতে পারে। তাই তো প্রখ্যাত হাদিস ব্যাখ্যাকার মোল্লা আলী কারী রাহ. বলেন,
شَبَابَكَ أَيْ: زَمَانَ قُوَّتِكَ عَلَى الْعِبَادَةِ
“তোমার যৌবন কাল।” অর্থাৎ যতদিন তুমি ইবাদতে শক্তি পাও।” [মিরকাতুল মাফাতীহ, কিতাবুর রিকাক। পাঁটটি জিনিসকে গনিমতের সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যা]

মহান আল্লাহ আমাদের জীবনকে আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গিন করুন, আমাদের যুব সমাজকে সকল পাপাচার ও অকল্যাণের হাত থেকে রক্ষা করুন এবং পরকালে আমাদেরকে প্রবেশ করান মুক্তি ও শান্তির ঠিকানা জান্নাতুল ফিরদাউসে। আমিন।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

প্রত্যেক জুমার দিন ১ কোটি ৪৪ লক্ষ জাহান্নামিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া সংক্রান্ত হাদিসটি সহিহ নয়

 প্রশ্ন: নিচের হাদিসটি কতটুকু সহিহ?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক জুমার দিন ১ কোটি ৪৪ লক্ষ জাহান্নামিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।” [মুসনাদে আবু ইয়ালা, ৩য় খণ্ড, ২৯১, ২৩৫ পৃঃ হাদিস ৩৪২১,৩৪৭১]
উত্তর:
জুমার দিন জাহান্নাম অবধারিত এমন বহু সংখ্যক মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত ঘোষণা সংক্রান্ত হাদিসটি সহিহ নয়।

নিম্নে উক্ত হাদিস এবং তার গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসদের মতামত সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল:

◈ হাদিসটি হল,
ليلةُ الجمعةِ ويومُ الجمعةِ أربعُ وعشرونَ ساعةً ، للهِ تعالى في كلِّ ساعَةٍ منها ستُّ مئةِ ألفِ عتيقٍ مِنَ النارِ ، كلُّهم قدِ استوجبوا النارَ
“জুমার দিনের রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা। প্রতি ঘণ্টায় আল্লাহ তাআলা ৬ লক্ষ জাহান্নামিকে জাহান্নাম মুক্তি দেয়া হয়-যাদের উপর জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আবু ইয়ালা, ৩য় খণ্ড, ২৯১, ২৩৫ পৃষ্ঠা, হাদিস-৩৪২১, ৩৪৭১]

◈ এ হাদিস বিষয়ে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের অভিমত:

● ইবনে হিব্বান বলেন, باطل لا أصل له “এটি ভিত্তিহীন বাতিল হাদিস” [কিতাবুল মাজরূহীন, ১/২০১]
● ইবনুল জাওযী এটিকে তার বিখ্যাত বানোয়াট হাদিস সংকলন গ্রন্থ ‘আল মাউযুআত’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন। [কিতবুল মাওযুআত, ২/৫৫২]
● শাইখ আলবানি বলেন, এটি মুনকার। [সিলসিলা যইফা, হা/৬১৪]।
অন্যত্র বলেন, ضعيف جداً “অত্যধিক দুর্বল। [সিলসিলা যইফা, হা/৩২৯৭]
এ ছাড়াও অনেক মুহাদ্দিস এটিকে দুর্বল, ভিত্তিহীন/বানোয়াট বলে মন্তব্য করেছেন।
আল্লাহু আলাম।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

মাগরিব সালাতের শুরু এবং শেষ সময়

 প্রশ্ন: মাগরিব সালাতের শুরু এবং শেষ সময়

উত্তর:
সূর্য পরিপূর্ণভাবে অস্ত গেলে মাগরিব সালাতের সময় শুরু হয় এবং পশ্চিম দিগন্তে রক্তিম আভা (الشفق) ডুবে যাওয়া পর্যন্ত তা অবশিষ্ট থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ مَالَمْ يَغِبِ الشَّفَقُ
“এবং মাগরিবের সালাতের ওয়াক্ত থাকে যতক্ষণ না শাফাক অন্তর্হিত হয়।” [সহীহ মুসলিম, হা/ ১৪১৯]

শাফাক এর আভিধানিক অর্থ:
الشَّفَقُ: حُمْرَةٌ تَظْهَرُ في الأفُقِ حيث تغْرب الشمسُ، وتستمرُّ من الغروب إلى قبيل العشاء تقريبًا
“শাফাক হল, সূর্যাস্তের পর (পশ্চিম) দিগন্তে যে লাল আভা প্রস্ফুটিত হয় এবং প্রায় ইশার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।” [আল মাআনি-অনলাইন আরবি অভিধান]

আর ঘড়ির সময়ের হিসেবে সূর্যাস্তের পর থেকে প্রায় ৮৫ বা ৯০ মিনিট পর্যন্ত মাগরিবের সময় অবশিষ্ট থাকে। তারপর ইশার ওয়াক্ত শুরু হয়।

❐ এ বিষয়ে শাইখ বিন বাজ রাহ .এর ফতোয়া প্রদান করা হল:

প্রশ্ন: সম্মানিত শায়খ, আজানের পর সময়ের হিসেবে মাগরিবের সময় কতক্ষণ থাকে?
উত্তর:
“বেশিরভাগ এ সময়টা প্রায় দেড় ঘণ্টা। সূর্যাস্ত এবং শাফাক তথা পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা অস্তমিত হওয়ার মাঝে সময় থাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বা পাঁচ মিনিট কম দেড় ঘণ্টা। তবে মানুষ সতর্কতার জন্য ‘দেড় ঘণ্টা’ সময় গ্রহণ করেছে। এসময়ের মধ্যে রক্তিম আভা সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং ইশার সালাতের সময় প্রবেশ করে।
মরুভূমিতে (বা উন্মুক্ত মাঠে দাঁড়িয়ে) এই রক্তিম আভা অদৃশ্য হওয়ার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া প্রয়োজন। যে তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং ভালো করে খেয়াল করবে সে মিনিটের হিসেবে এসময়-সীমাটা নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে। তবে এখন যা গ্রহণ করা হয়েছে তা হল, সর্তকতার স্বার্থে দেড় ঘণ্টা। সূর্যাস্ত থেকে পশ্চিম দিগন্তে লাল আভা ডুবে যাওয়ার সময় দেড় ঘণ্টা।” [ফাতাওয়া বিন বাজ, নূরুন আলাদ দারব (ফতোয়া বিষয়ক জনপ্রিয় সৌদি রেডিও প্রোগ্রাম) ৭/২৭-২৮]

এখান থেকে বুঝা গেল, মাগরিব সালাতের সময় যথেষ্ট দীর্ঘ। কিন্তু আমাদের সমাজে এ সময়টাকে খুব সংকীর্ণ ভাবা হয়। যার কারণে অধিকাংশ মসজিদে মাগরিবের আজান শেষ হতে না হতেই নামাজ শুরু করে দেয়া হয়। অথচ আরব বিশ্বের মসজিদগুলোতে সাধারণত: আজানের কমপক্ষে ১০ মিনিট পরে সালাত দাঁড়ায়। এ সময় মানুষ কর্মব্যস্ততা ছেড়ে ওজু করে মসজিদে এসে সুন্দরভাবে দু রাকাআত তাহিয়াতুল মসজিদ পড়ে। তারপর কিছুক্ষণ বসে কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকার করে। তারপর সালাত শুরু হয়।
▬▬▬❂❖❂▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব।

নিজের নামের সাথে পিতার পরিবর্তে স্বামীর নাম যুক্ত করা এবং স্বামীর নামে পরিচয় দেয়া হারাম

 প্রশ্ন: ইসলামের দৃষ্টিতে কোনও বিবাহিত নারীর সাথে স্বামীর নাম যুক্ত করা এবং স্বামীর পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার বিধান কি? ইসলামের সঠি জ্ঞানের অভাব বা অন্য কোনও কারণে যদি কোনো নারীর নামের সাথে তার স্বামীর নাম যুক্ত হয়ে যায় এবং জাতীয় পরিচয় পত্র সহ সকল সরকারী-বেসরকারি কাগজপত্রে সেই নাম উল্লেখ থাকে-যা পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। তাহলে সে ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে ত‌ওবা করার পাশাপাশি সেই নারীর করণীয় কী? তিনি জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য আর কী করতে পারেন? দয়া করে জানাবেন ইনশাআল্লাহ।

উত্তর:
খুব দুর্ভাগ্য বশত: আমাদের সমাজে মুসলিম নারীদের অনেকেই বিয়ের পরে নিজের নামের সাথে স্বামীর নামকে যুক্ত করে তা নিজের নামের অংশ বানিয়ে ফেলে। এটি একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অনেকে এটাকে স্বামীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বলেও মনে করেন। প্রকৃত পক্ষে এটি আমাদের সমাজে পশ্চিমা ইহুদি-নাসারাদের কৃষ্টি-কালচারের ব্যাপক প্রচলন এবং ইসলামি সংস্কৃতি ও শিষ্টাচার সম্পর্কে অজ্ঞতার ফল।
ইসলামি স্কলারদের মতে, ইসলামে জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে পরিচয় সম্বন্ধ করা নিষিদ্ধ। এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম প্রথা।
যদি স্বামীর নামের সাথে স্ত্রীর নাম যুক্ত করা মর্যাদার বিষয় হত তাহলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামের সাথে তাঁর প্রিয় সহধর্মিণীগণ নাম যুক্ত করাকে বিশাল মর্যাদার বিষয় মনে করতেন। কিন্তু তারা তা করেন নি। সাহাবি, তাবেয়ী বা তৎপরবর্তী কোনও কালেই মুসলিমদের মাঝে এমন প্রচলন ছিল না। কিন্তু অধুনা যুগে মুসলিমরা দীনের সঠিক পথ থেকে দূরে সরে কাফেরদের সাংস্কৃতির অন্ধ অনুসরণ করতে গিয়ে একান্ত তাদের বিষয়গুলোকে নিজেরা গিলতে শুরু করেছে-যা খুবই দুঃখজনক। অথচ ইসলামি শিষ্টাচার হল, নিজের নামের সাথে নিজের পিতার নাম যুক্ত করা। যেমন: ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ অথবা ফাতিমা মুহাম্মদ (বিনতে দেয়া বা না দেয়া উভয়টি সঠিক)।
[এটি পুরুষ-মহিলা সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।]

✪ মহান আল্লাহ মানুষকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ
“তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত।” [সূরা আহযাব: ৫]
এ আয়াতে ইসলামে একমাত্র পিতার সঙ্গেই পরিচয় নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

যাহোক, যারা এমনটি করেন তাদের সচেতন হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত হাদিসগুলো যথেষ্ট হতে পারে:

✪ আবু যার রা. হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ ادَّعَى قَوْمًا لَيْسَ لَهُ فِيْهِمْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ
“যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সঙ্গে বংশ সম্পর্কিত দাবী করল যে বংশের সঙ্গে তার কোন বংশ সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।” [সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) অধ্যায়: ৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য, পরিচ্ছেদ: ৬১/৫.মুসলিম ১/২৭]

✪ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“‏مَنِ انْتَسَبَ إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ….فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ‏”‏
“যে ব্যক্তি নিজের পিতা ব্যতীত অন্যের সাথে জন্মসূত্র স্থাপন করে… তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল ও সকল মানুষের অভিসম্পাত।”
[সুনান ইবনে মাজাহ, অধ্যায়: ১৪/ হদ (দণ্ড) পরিচ্ছেদ: ১৪/৩৬. কোন ব্যক্তি নিজের পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দিলে এবং নিজের মনিব ব্যতীত অন্যকে মনিব বলে পরিচয় দিলে।]

এসব কঠোর হুমকি ঐ সকল ব্যক্তির জন্যও প্রযোজ্য যারা নিজের জন্মদাতা পিতার স্থানে অন্য কোনও ব্যক্তি বা বংশের নাম স্থাপন করে এবং সেই নামেই নিজের পরিচয় দেয়।

◯ এটি কাফেরদের অন্ধ অনুকরণ:

ইসলামে অমুসলিমদের অনুসরণ-অনুকরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ-চাই তা ইবাদতের ক্ষেত্রে হোক অথবা আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, রীতি-নীতি বা কৃষ্টি-কালচারের ক্ষেত্রে হোক। কেননা হাদিসে এসেছে:

❖ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
“যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।” [সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছেদ হা/৪০৩১-হাসান সহিহ]

এছাড়াও হাদিসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের পূর্বে অনেক মুসলিম ইহুদি-খৃষ্টানদের রীতি-নীতি অনুসরণ করবে বলে ভবিষ্যতবাণী করেছেন-বর্তমানে যার বাস্তব প্রতিফলন আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি।

❖ সাহাবী আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حذو القذة بالقذة حَتَّى لَوْ دخلوا جُحْرَ ضَبٍّ لَدخلتتُمُوهُ قالوا: يَا رسول الله الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى. قَالَ: فَمَنْ؟»
‘‘তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী উম্মতদের অভ্যাস ও রীতি-নীতির ঠিক ঐ রকম অনুসরণ করবে, যেমন এক তীরের ফলা অন্য এক তীরের ফলার সমান হয়। অর্থাৎ তোমরা পদে পদে তাদের অনুসরণ করে চলবে। এমনকি তারা যদি শাণ্ডা (মরুভূমিতে বসবাসকারী গুই সাপের ন্যায় এক ধরণের জন্তু বিশেষ) এর গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও সেখানে প্রবেশ করবে।”
সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! পূর্ববর্তী উম্মত দ্বারা আপনি কি ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে বোঝাচ্ছেন?
তিনি বললেন: তবে আর কারা?
[বুখারী, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: ”তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী লোকদের রীতি-নীতির অনুসরণ করবে।” তবে বুখারীর বর্ণনায় حذو القذة بالقذة – এই শব্দসমূহ নেই। তার স্থলে شبرا بشبر وذراعا بذراع শব্দগুলো রয়েছে। অর্থাৎ এক হাতের বিঘত যেমন অন্য হাতের বিঘতের সমান হয় এবং এক হাতের বাহু অন্য হাতের বাহুর সমান হয়।]

➤ ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন,
لا يحل للمسلمين أن يتشبهوا بالكفار في شيء مما يختص بأعيادهم لا من طعام ولا لباس ولا اغتسال… ولا البيع بما يستعان به على ذلك لأجل ذلك.
“মুসলিমদের জন্য কাফেরদের উৎসবের জন্য নির্দিষ্ট খাদ্য, পোশাক, গোসল..ইত্যাদি কোন কিছুর সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে তাদের উৎসবের কাজে লাগানো হয় এমন জিনিসও এ উদ্দেশ্যে বিক্রয় করাও বৈধ নয়।”

আমাদের অজানা নয় যে, স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যে বা অন্য কোনও কারণে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হতে পারে, তারপর অন্যত্র বিয়ের মাধ্যমে স্বামী পরিবর্তন হতে পারে। তখন আগের স্বামীর এ নামের কোনও মূল্য থাকবে না। কিন্তু বাবা-মেয়ের রক্ত সম্পর্ক চিরকালীন। এটা কোনও অবস্থায় পরিবর্তন হবে না। তাছাড়া এটি নিজের পিতার প্রতি অকৃতজ্ঞতা, অসদাচরণ ও সম্মানহানীও বটে। অথচ ইসলামে প্রতিটি সন্তান তার পিতামাতার সাথে সদাচরণ, সুসম্পর্ক ও তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে নির্দেশিত। এটি একজন নারীর নিজস্ব ব্যক্তিত্ব বোধ ও আত্মমর্যাদা বির্সজনেরও শামিল।

সুতরাং এসব যৌক্তিক কারণেও আমাদের কর্তব্য, নিজের নামের সাথে পিতার নাম যুক্ত করার পাশাপাশি বিয়ের পর মেয়েদের স্বামীর পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার এবং স্বামীর নামকে নিজের নামের অংশ বানিয়ে নেয়ার বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে সরে আসা।

যাহোক, অজ্ঞতা বা অসতর্কতা বশত: জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট ইত্যাদি সরকারী-বেসরকারি কাগজ-পত্রে এভাবে নাম যুক্ত হয়ে থাকলে তা পরিবর্তন করার চেষ্টা করা উচিৎ। কিন্তু এতে খুব বেশি সমস্যা বা ঝামেলা হলে বা চেষ্টা করার পরও অসম্ভব হলে ওভাবে থাকলেও গুনাহ নেই। কারণ আল্লাহ বান্দার উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কোনও দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। তবে এমন অজ্ঞতা সুলভ কাজের জন্য লজ্জিত হৃদয়ে আল্লাহর নিকট তওবা করার পাশাপাশি সতর্কতা অবলম্বন করা কর্তব্য, যেন পরবর্তীতে নিজের সন্তান-সন্ততিদের ক্ষেত্রে এমনটি না ঘটে। নিশ্চয় আল্লাহ বান্দার নিয়ত সম্পর্কে অবহিত এবং ক্ষমাশীল। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬❂❖❂▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব।।

নিজের জন্মদাতা বাবা/মা ছাড়া অন্য কাউকে বাবা/মা বলা জায়েজ আছে কি

 প্রশ্ন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ” যে ব্যক্তি আপন পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে মেনে নেয় অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।” [সহীহ মুসলিম হাদিস নং- ১২৩]

এখন আমরা যারা শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা বলি তাদের ক্ষেত্রেও এই হাদিসটি প্রযোজ্য হবে?
উত্তর:
শ্বশুরকে ‘বাবা’ আর শাশুড়িকে ‘মা’ বলা আমাদের সমাজের একটি বহুল প্রচলিত রীতি। আবার অনেক সময় শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি, আলেম, মুরব্বী, বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষক, সম্মানিত নেতা ইত্যাদি ব্যক্তিকে ‘পিতা’ বা ’বাবা’ বলা হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি নাজায়েজ নয়। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই তা বলা হয়।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীদেরকে আমাদের মা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যদিও তারা আমাদের জন্মদাত্রী মা নয় এবং ইবরাহীম আ. কে আমাদের পিতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও তিনি আমাদের জন্মদাতা পিতা নয়।
অনুরূপভাবে ছোটদের প্রতি স্নেহ ও মমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে ‘ছেলে’ বা বৎস বলাও প্রচলিত রয়েছে। এটিও দূষণীয় নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনাস রা. কে বলেন,
يا بُنيِّ إذا دخلت على أهلك فسلم
“হে আমার বৎস, তুমি বাড়িতে প্রবেশ করলে বাড়ির লোকদেরকে সালাম দিবে।” [সহীহ মুসলিম]

❑ প্রশ্নে উল্লেখিত হাদিসটির ব্যাখ্যা:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ” যে ব্যক্তি আপন পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে মেনে নেয় অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম। “। [সহীহ মুসলিম হাদিস নং- ১২৩]
অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “যে ব্যক্তি আপন পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে মেনে নেয় অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।” [সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ১২৩]

উক্ত হাদিস দ্বয়ের অর্থ হল, যে ব্যক্তি নিজের জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা হিসেবে মেনে নেয় বা অন্য কারও সাথে জন্মগত সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠার দাবী করে তার জন্য জান্নাত হারাম। যেমন অন্য হাদিসের ভাষায়:
مَنِ ادَّعى إِلى غَيْرِ أَبيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبيهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرامٌ
“যে ব্যক্তি জেনে-শুনে নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা হিসেবে দাবী করে তার জন্য জান্নাত হারাম।” [বুখারি ও মুসলিম] অন্য বর্ণনায় এসেছে, সে কুফরি করবে। কেননা, তখন এতে নানা ধরণের বিধি-বিধান জড়িয়ে যাবে। যেমন, বৈবাহিক সম্পর্কিত হালাল-হারাম, পর্দা, উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ বণ্টন, ভরণ-পোষণ ইত্যাদি। আল্লাহু আলাম।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
[লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।।

Translate