Saturday, February 5, 2022

স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্য স্ত্রীর নৃত্য পরিবেশন

 প্রশ্ন: স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্য কি স্ত্রী নৃত্য পরিবেশন করতে পারবে?

উত্তর:
আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের জন্য হালাল করেছেন। তারা পরস্পরে আনন্দ-বিনোদন করবে এবং একে অপরকে উপভোগ করবে তাদের যেভাবে ইচ্ছা-যতক্ষণ না তাতে হারাম ও নিষিদ্ধ কোনও কিছুর সংযোগ ঘটবে।

সুতরাং স্বামীর জন্য স্ত্রীর নাচ-গান উপভোগ করা হালাল। এতে তারা উভয়েই হারাম পন্থার পরিবর্তে হালাল পন্থায় চিত্তবিনোদন করতে পারবে। তাছাড়া তা স্বামীর জন্য পরনারী থেকে দৃষ্টি অবনত রাখা এবং নিজ স্ত্রীর প্রতি প্রেমাসক্তি ও আকর্ষণ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হল:

◈ ১. গানের সাথে কোনও ধরণের মিউজিকের সংযোগ থাকা যাবে না। কারণ ইসলামে মিউজিক হারাম।
◈ ২. তাদের পারস্পারিক আনন্দ-বিনোদন যেন অন্য কারও দৃষ্টিগোচর না হয় সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে।
◈ ৩. নাচ শেখার জন্য স্ত্রীর জন্য কোনও পুরুষ নাচের শিক্ষকের নিকট গমন করা বা মিউজিক ভিডিও দেখা হারাম।

❑ এ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ. বলেন, “আর স্বামীর নিকট অন্য কেউ না থাকা অবস্থায় স্ত্রী যদি নাচে তাহলে তাতে কোনও সমস্যা নেই। কারণ তা হয়ত তার প্রতি স্বামীর আকর্ষণ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। আর যা কিছু স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আকর্ষণ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে তা কাম্য-যতক্ষণ না মূল বিষয়টা হারাম হয়।
এ কারণেই স্বামীর উদ্দেশ্যে স্ত্রীর সাজসজ্জা গ্রহণ করা সুন্নত। যেমনটা স্বামীর জন্যও সুন্নত, তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে সাজসজ্জা গ্রহণ করা- যেভাবে তার স্ত্রী তার উদ্দেশ্যে সাজসজ্জা গ্রহণ করে।” [আল লিকাউশ শাহরি (মাসিক সভা)-১২, প্রশ্ন নং ৯]
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬✪✪✪▬▬▬

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

আসরের ওয়াক্তে যদি পিরিয়ড ভালো হয় তাহলে কি আসর এবং যোহর উভয় ওয়াক্তের সালাত‌ই পড়তে হবে নাকি কেবল আসর সালাত পড়াই যথেষ্ট

 প্রশ্ন: আসরের ওয়াক্তে যদি পিরিয়ড ভালো হয় তাহলে কি আসর এবং যোহর উভয় ওয়াক্তের সালাত‌ই পড়তে হবে নাকি কেবল আসর সালাত পড়াই যথেষ্ট?

উত্তর:
কোনও ঋতুমতী নারীর যদি আসর সালাতের সময় হওয়ার পর ঋতুস্রাব বন্ধ হয় তাহলে তার জন্য গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। তারপর তার জন্য আসর সালাতে আদায়ের পাশাপাশি যোহরের সালাতও কাজা করা আবশ্যক কি না সে বিষয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত পরিলক্ষিত হয়।

◯ জুমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মতে, তার জন্য যোহর ও আসর উভয় ওয়াক্তের সালাত আদায় করা আবশ্যক। কারণ ওজর গ্রস্ত ব্যক্তি (যেমন: অসুস্থ ও মুসাফির) এর ক্ষেত্রে যোহর এবং আসর সালাত একসাথে জমা করার বিধান রয়েছে।

ইবনুল কুদামা তার আল মুগনী গ্রন্থে বলেন,
وروي هذا القول عن عبد الرحمن بن عوف وابن عباس وطاوس ومجاهد والنخعي والزهري وربيعة ومالك والليث والشافعي وإسحاق وأبي ثور . قال الإمام أحمد : عامة التابعين يقولون بهذا القول إلا الحسن وحده قال: لا تجب إلا الصلاة التي طهرت في وقتها وحدها، وهو قول الثوري وأصحاب الرأي
এই মতটি বর্ণিত হয়েছে, সাহাবি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা., আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এবং তাউস, মুজাহিদ, নাখঈ, যুহরী, রবিয়াহ, মালিক, লাইস, শাফেয়ী, ইসহাক, আবু সাউর প্রমুখ ফকিহদের থেকে। ইমাম আহমদ বলেন, একমাত্র হাসান বসরী ছাড়া অধিকাংশ তাবেঈর মত এটিই। তিনি (হাসান বসরী) বলেছেন যে, (হায়েজ-নেফাস গ্রস্ত নারী) যে ওয়াক্তে পবিত্র হয়েছে একমাত্র তা ছাড়া অন্য কোনও সালাত তার জন্য ওয়াজিব নয়। এটি সুফিয়ান সাওরী এবং আসহাবুর রায় (যুক্তি পন্থী) দের অভিমত।”

আধুনিক যুগে আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রহ.ও এই মত গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,
إذا طهرت المرأة من الحيض أو النفاس في وقت العصر وجب عليها أن تصلي الظهر والعصر جميعًا في أصح قولي العلماء؛ لأن وقتهما واحد في حق المعذور؛ كالمريض، والمسافر، وهي معذورة بسبب تأخر طهرها، وهكذا إذا طهرت وقت العشاء وجب عليها أن تصلي المغرب والعشاء جميعًا كما سبق، وقد أفتى جماعة من الصحابة بذلك
“কোনও মহিলা যদি আসরের সময় হায়েজ-নেফাস থেকে পবিত্রতা অর্জন করে তাহলে তার জন্য আবশ্যক হল, যোহর ও আসর উভয়টি পড়া। এটাই আলেমদের দুটি মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ। কারণ ওজর গ্রস্ত ব্যক্তি (যেমন: রোগী ও মুসাফির) এর জন্য যোহর ও আসর সালাতের সময় একটি। আর এই মহিলাও ওজর গ্রস্ত তার পবিত্রতা বিলম্বিত হওয়ার কারণে।

অনুরূপভাবে সে যদি ইশার সময় পবিত্র হয় তাহলে তার জন্য মাগরিব এবং ইশা উভয় সালাত আদায় করা আবশ্যক-যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মর্মে একদল সাহাবির ফতোয়া রয়েছে।”

◯ পক্ষান্তরে কতিপয় আলেমের মতে, তার জন্য যোহর সালাত কাজা করা আবশ্যক নয়। বরং কেবল আসর সালাত আদায় করবে। কারণ যোহরের সময় তার উপর সালাত ফরজ ছিল না। সুতরাং তা কাজা করাও আবশ্যক নয়। সুফিয়ান সাওরী, হাসান বসরি এবং আসহাবুর রায় এই মত পোষণ করেছেন। আধুনিক যুগে আল্লামা শাইখ উসামীন রাহ. একই মত গ্রহণ করেছেন। [ফতোয়ার মূল উৎস: islamweb]

যাহোক, দ্বিমত পূর্ণ মাসআলার ক্ষেত্রে আমাদের কর্তব্য, অধিক সতর্কতা মূলক এবং অধিক দলিল ও যুক্তি সম্মত মতটি গ্রহণ করা। সুতরাং সালাতের মত
তাওহিদের পরে ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের ক্ষেত্রে ১ম অভিমতটি (অর্থাৎ যোহর ও আসর উভয় সালাত একসাথে আদায় করা) গ্রহণ করা দীন ও ঈমানের স্বার্থে অধিক নিরাপদ-তাতে কোনও সন্দেহ নাই। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬✪✪✪▬▬▬

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

জিনেরা কি মানুষের অর্থ-সম্পদ চুরি করে

 প্রশ্ন: জিনেরা কি মানুষের অর্থ-সম্পদ চুরি করে? এ থেকে বাঁচার উপায় কি?

উত্তর:
জিন হল, এক অদৃশ্য জগতের নাম। যাদের সম্পর্কে আমাদের সব কিছু বিস্তারিত জানা সম্ভব নয় আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহির মারফতে আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে যতটুকু তথ্য প্রদান করেছেন তা ব্যতিরেকে।

যাহোক, জিন কর্তৃক মানুষের অর্থ-সম্পদ চুরি করা প্রসঙ্গে আলেমগণ বলেন যে, তারা মানুষের অর্থ-সম্পদ চুরি করতে পারে। কারণ তাদের মধ্যে ভালো-মন্দ দু ধরণের জিন আছে। সুতরাং তাদের মধ্যে খারাপ জিন (শয়তান) গুলো মানুষের ক্ষয়ক্ষতি করার সর্বপ্রকার পন্থা অবলম্বন করে থাকে। জিন সম্পর্কে কুরআনে এসেছে,
وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَٰلِكَ ۖ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا ‎
“(জিনরা বলে) আমাদের কেউ কেউ সৎকর্ম পরায়ণ এবং কেউ কেউ এরূপ নয়। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথে বিভক্ত।” [সূরা জিন: ১১] অর্থাৎ তারা সৎকর্মশীল এবং পাপাচারী এ দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত।

❑ জিনেরা কেন মানুষের সম্পদ চুরি করে?

খারাপ জিন বা শয়তানরা মানুষকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বিভিন্নভাবে তাদেরকে বিরক্ত করে। প্রকৃতপক্ষে তারা বনি আদমের ক্ষতি করার এমন কোনও পথ ও পদ্ধতি বাকি রাখে না যা তারা করে না। কারণ তারা তাদের পূর্ব ঘোষিত প্রকাশ্য শত্রু।

কখনো খারাপ জিনেরা জিন বশকারী যাদুকর নামক দাজ্জালদের নির্দেশে মানুষের অর্থ-সম্পদ চুরি করে আবার কখনো মানুষের ক্ষতি সাধন বা তাদরকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমনটি করে-এতে তাদের নিজেদের কোনও লাভ থাকুক বা না থাকুক। যেমন: ইবনে তায়মিয়া রাহ. বলেন,
إن للجن والشياطين لذة في الشر والفتن، يحبون ذلك وإن لم يكن فيه منفعة (الفُرقان بينَ الحقِّ والباطلِ)
“জিন-শয়তানরা অনিষ্ট সাধন এবং ফেতনা সৃষ্টি করে মজা পায়। তারা এটা করতে পছন্দ করে-যদিও এতে তাদের কোনও উপকার না থাকে।” [আল ফুরকানু বাইনাল হাক্বি ওয়াল বাতিল]

❑ জিনদের চুরি করার পক্ষে হাদিসের দলিল:

জিন কর্তৃক মানুষের অর্থ-সম্পদ চুরি করার পক্ষে আলেমগণ আবু হুরায়রা রা. যখন যাকাতের খাদ্যদ্রব্য পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন তখন শয়তান কর্তৃক তা চুরি করার লম্বা ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন-যা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।

[সহীহ বুখারী, অধ্যায়: ৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব), পরিচ্ছেদ: ৪০/১০. যদি কেউ কোন লোককে প্রতিনিধি নিয়োগ করে এবং ঐ প্রতিনিধি কোন কিছু বাদ দেয় অতঃপর প্রতিনিধি নিয়োগকারী তা অনুমোদন করে তবে এটা বৈধ। আর প্রতিনিধি যদি নির্দিষ্ট মেয়াদে কাউকে ধার প্রদান করে তবে তা বৈধ।]

সহিহ বুখারির ভাষ্যকার ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. উক্ত হাদিস থেকে বেশ কিছু ফায়দা তুলে ধরেছেন। যেমন:
وَأَنَّ الْجِنّ يَأْكُلُونَ مِنْ طَعَام الْإِنْس , وَأَنَّهُمْ يَتَكَلَّمُونَ بِكَلَامِ الْإِنْس , وَأَنَّهُمْ يَسْرِقُونَ وَيَخْدَعُونَ , وَفِيهِ فَضْل آيَة الْكُرْسِيّ وَفَضْل آخَر سُورَة الْبَقَرَة , وَأَنَّ الْجِنّ يُصِيبُونَ مِنْ الطَّعَام الَّذِي لَا يُذْكَر اِسْم اللَّه عَلَيْهِ ” انتهى مختصرا .

– জিন মানুষের কিছু খাবারও খায়,
– মানুষের কথার মতও কথা বলে,
– তারা চুরি ও প্রতারণা করে।
– এ হাদিসে আয়াতুল কুরসি ও সূরা বাকারার শেষাংশের ফযিলত রয়েছে।
– যে খাবারে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয় না তাতে শয়তান সংক্রমণ করে। [ফাতহুল বারি-সংক্ষেপায়িত]

❑ জিনের চুরি থেকে বাঁচার উপায়:

জিনের চুরি ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায় হল,

– আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা (তথা আউযুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম পাঠ করা) এবং জিন-শয়তান থেকে আত্মরক্ষার মাসনুন আমল সমূহ করা। যেমন:

– যখন বাড়িতে প্রবেশ করবেন তখন বাড়িতে প্রবেশের দুআ পাঠ করবেন। তাহলে শয়তান বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবে না আর বিসমিল্লাহ বলে আপনার মূল্যবান মালামাল সিন্দুক বা সংরক্ষিত কোনও স্থানে রেখে তার মুখ বন্ধ করবেন। তাহলে শয়তান বন্ধ মুখ খুলে তা চুরি করতে পারবে না। যেমন; হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

◍ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قالَ الشَّيْطَانُ: لا مَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ
“যখন কোন ব্যক্তি তার গৃহে প্রবেশের সময় ও খাবারের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে তখন শয়তান (নিজ সঙ্গীদেরকে) বলে, তোমাদের কোনো রাত কাটানোর জায়গা নেই, তোমাদের রাতের কোনও খাবার নেই।” [সহিহ মুসলিম, হা/২০১৮।]

◍ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,
غَطُّوا الإِنَاءَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ وَأَغْلِقُوا الْبَابَ وَأَطْفِئُوا السِّرَاجَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَحُلُّ سِقَاءً وَلاَ يَفْتَحُ بَابًا وَلاَ يَكْشِفُ إِنَاءً فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلاَّ أَنْ يَعْرُضَ عَلَى إِنَائِهِ عُودًا وَيَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ فَلْيَفْعَلْ فَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ تُضْرِمُ عَلَى أَهْلِ الْبَيْتِ بَيْتَهُمْ ‏”‏
“তোমরা (রাতের বেলা) পাত্রগুলো ঢেকে দাও, মশকগুলো (চামড়ার তৈরি পানি রাখার পাত্র বিশেষ) এর মুখ আটকিয়ে দাও, ঘরের দরজা বন্ধ করে দাও এবং চেরাগ নিভিয়ে দাও। কারণ, শয়তান মশকের বাঁধন খুলতে পারে না, দরজা খুলতে পারে না এবং পাত্রও উন্মুক্ত করতে পারে না। তবে তোমাদের কেউ পাত্র ঢাকার জন্য একটা কাঠি ছাড়া অন্য কিছু না পেলে যেন তাই রাখে এবং সাথে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে (বিসমিল্লাহ পাঠ করে)। কেননা ইঁদুর চেরাগের আগুন থেকে লোকজন সহ বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।”
[সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ৩৭/ পানীয় দ্রব্য, পরিচ্ছেদ: ১১. পাত্র আচ্ছাদিত করা বা ঢেকে রাখা, মশকের মুখ আঁটকে দেওয়া, দরজা বন্ধ করা ও এ সময়ে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা, ঘুমের সময় চেরাগের আগুন নিভিয়ে দেয়া এবং সন্ধ্যার পর শিশু ও গৃহপালিত জন্তুগুলোকে (বাড়িতে) আটকে রাখা উত্তম]

– সকাল-সন্ধ্যার দুআ ও জিকিরগুলো পাঠ করা,
– ঘরে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِى تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
“যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয় শয়তান সে ঘর থেকে পলায়ন করে।” [সহীহ মুসলিম। অনুচ্ছেদ: বাড়িতে নফল নামায পড়া মুস্তাহাব তবে মসজিদেও পড়া জায়েজ। হা/১৮৬০ আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত]
– সন্ধ্যার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করা (যেমনটি শয়তান কর্তৃক যাকাতের খেজুর চুরির হাদিসে বর্ণিত হয়েছে) ইত্যাদি।
আল্লাহ আমাদেরকে জিন-শয়তানের সর্ব প্রকার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

দুআ কবুল হওয়ার উদ্দেশ্যে সুরা ইয়াসিন খতম করার আমল কি হাদিস সম্মত

 দুআ কবুল বা মনের ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসিন খতম করার বিধান এবং সূরা ইয়াসিনের ফজিলতে বর্ণিত হাদিসগুলোর অবস্থা

▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
প্রশ্ন: দুআ কবুল হওয়ার উদ্দেশ্যে সুরা ইয়াসিন খতম করার আমল কি হাদিস সম্মত?
আরও জানতে চাই, হাদিসের আলোকে সূরা ইয়াসিনের ফজিলত কতটুকু?
উত্তর:
প্রচলিত আছে যে, “সূরাটি ৪১ বার পাঠ করার পর দুআ করার পূর্বে ১১ বার দরুদে ইবরাহিম পাঠ করতে হয়। তারপর দুআ করলে আল্লাহ দুআ কবুল করেন।” কিন্তু এটা দলিল বহির্ভূত ও বানোয়াট কথা। এটি বিদআতিদের তৈরি করা ওজিফা।

প্রকৃতপক্ষে দুআ কবুল বা মনের ইচ্ছা পূরণের জন্য সূরা ইয়াসিন খতম করার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনও হাদিস নেই। কোনও সাহাবি থেকেও তা প্রমাণিত হয় নি। তাই তো বিশ্ববিখ্যাত আলেমে দীন সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,
أن قراءة سورة يس لقضاء الأعمال بدعة
“কার্যসিদ্ধির উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসিন পাঠ করা বিদআত।”

❑ বানোয়াট হাদিস দ্বারা দলিল পেশ!

ইচ্ছা পূরণ, জীবনের নানা সঙ্কট নিরসন বা উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সহজ করণের ক্ষেত্রে সূরা ইয়াসিন খতম করার ব্যাপারে নিম্নোক্ত হাদিসটি পেশ করা হয়:
يس لما قرئت له
“যে উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসিন পাঠ করা হবে তা পূরণ করা হয়।” বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে মিথ্যাচার। এটি আদতে কোনও হাদিস নয়।

✪ ইমাম সাখাবি বলেন, لا أصل له بهذا اللفظ “এই শব্দে বর্ণিত হাদিসটির কোনও ভিত্তি নেই।” [আল মাকাসিদুল হাসানা, হা/৭৪১]-
✪ কাজি যাকারিয়া বায়যাবির হাশিয়াতে বলেন, “এটি বানোয়াট।” [যেমনটি রয়েছে কাশফুল খাফা গ্রন্থে ২/২২১৫]
✪ মোল্লা আলি কারি হানাফি রহ বলেন, قيل لا أصل له أو بأصله موضوع “বলা হয়েছে, এর কোনও ভিত্তি নাই বা মূলত: এটি বানোয়াট।” [আল আসরুল মারফুআহ, ৩৭৭]
✪ শাইখ আলবানি বলেন, এটি বানোয়াট হাদিস। [যাইফুত তারগীব, ৮৮৫]

◯ ইবনে কাসির রাহ. বলেন, কতিপয় আহলে ইলম বলেছেন,
” أنَّ مِن خصائص هذه السورة أنها لا تُقرَأ عند أمر عسير إلا يسره الله تعالى
এই সূরা (সূরা ইয়াসিন) এর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল, যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে এটি পাঠ করা হবে আল্লাহ তা সহজ করে দিবেন।” [তাফসিরে ইবনে কাসির, ৩/৭৪২] কিন্তু এ কথার পক্ষেও কোনও হাদিস বা সাহাবিদের বক্তব্য কিংবা আমল নেই। এভাবে যদি দীনের বিষয়ে দলিল ছাড়া মানুষের মতামত, ফতোয়া, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি গ্রহণ করা হয় তাহলে ইসলামের প্রকৃত রূপ পরিবর্তিত হয়ে যাবে। (আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমিন।)

❑ সূরা ইয়াসিন এর ফজিলতে বর্ণিত কোনও হাদিসই সহিহ নয়:

প্রকৃতপক্ষে সূরা ইয়াসিনের ফজিলতে যে সব হাদিস বর্ণিত হয়েছে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে সেগুলো একটিও সহিহ নয়।

এ বিষয়ে যে সকল হাদিস আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত আছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:
১. إن لكل شيء قلبا ، وقلب القرآن يس
“প্রতিটি বস্তুর অন্তর আছে। আর কুরআনের অন্তর হল সূরা ইয়াসিন।”
২. من قرأها فكأنما قرأ القرآن عشر مرات
“যে সূরা ইয়াসিন একবার পাঠ করল সে যেন সমস্ত কুরআন দশবার পাঠ করল।”
৩. من قرأ سورة ( يس ) في ليلة أصبح مغفورا له
“যে ব্যক্তি রাতে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করবে সে ভোরে উঠবে ক্ষমা প্রাপ্ত অবস্থায়।”
৪. من داوم على قراءتها كل ليلة ثم مات مات شهيدا
“যে ব্যক্তি প্রতিনিয়ত সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে অতপর মৃত্যু বরণ করবে যাবে সে শহিদ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে ।”
৫. من دخل المقابر فقرأ سورة ( يس ) ، خفف عنهم يومئذ ، وكان له بعدد من فيها حسنات
“যে ব্যক্তি গোরস্তানে প্রবেশ করে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে দিন কবর বাসীদের শাস্তি লাঘব করা হবে এবং পাঠকারীর জন্য কবরে যত লাশ আছে তাদের সমপরিমাণ সওয়াব লেখা হবে।”
বিজ্ঞ হাদিস বিশারদগণের দৃষ্টিতে এ হাদিসগুলো একটিও সহিহ নয়।
[দ্রষ্টব্য: ইবনুল জাওযী রচিত বিখ্যাত বানোয়াট হাদিস সংকলন আল মাউযুআত ২/৩১৩, শাওকানি রচিত আল ফাওয়ায়েদুল মাজমূআহ, হা/ ৯৭৯, ৯৪২]

মনে রাখতে হবে, যদি এ সূরা খতম করে দুআ করলে তা কবুলের নিশ্চয়তা থাকতো তাহলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে এই মর্যাদা পূর্ণ এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আমলটি থেকে বঞ্চিত করতেন না।

সুতরাং আমাদেরকে এ সব বানোয়াট ও বিদআতি
আমল থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা তৌফিক দান করুন। আমিন।

❑ দুআ কবুলের জন্য বিশুদ্ধ হাদিস সম্মত আমল:

আপনি কুরআনের যেখান থেকে সুবিধা হয় পাঠ করে অথবা নফল নামাজ, রোজা, দান-সদকা ইত্যাদি নেক আমল করার পর এসকল নেক আমলের ওসিলা ধরে আল্লাহর কাছে দুআ করতে পারেন। নেক আমলের ওসিলায় দুআ করলে তা কবুলের সম্ভাবনা থাকে। যেমন: এভাবে বলা, হে আল্লাহ আমার কুরআন খতম, কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ, রোজা ও দান-সদকার ওসিলায় আমার দুআ কবুল করো, আমার সমস্যা দূর করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান করো, আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা করো ইত্যাদি।

এছাড়াও দুআর শর্তাবলি ঠিক রেখে দুআ কবুলের অধিক সম্ভাবনাময় সময় ও ক্ষেত্রগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে দুআ করবেন। যেমন: ভোর রাতে, যে কোনও সালাতে সেজদা অবস্থায়, রোজা অবস্থায়, ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে, সফর অবস্থায়, আজান ও একামতের মাঝামাঝি সময়, জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিবের মাঝামাঝি সময় ইত্যাদি। অনুরূপভাবে পিতামাতা ও নেককার-পরহেজগার ব্যক্তিদের দুআ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহর রাব্বুল আলামিন দুআ কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে কমেন্ট, রিয়েক্ট এবং তা শেয়ার করা সম্পর্কে জরুরি ইসলামি নির্দেশনাসোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে কমেন্ট, রিয়েক্ট এবং তা শেয়ার করা সম্পর্কে জরুরি ইসলামি নির্দেশনা

 সোশ্যাল মিডিয়ায় পাবলিক পোস্টে কমেন্ট, রিয়েক্ট এবং তা শেয়ার করা সম্পর্কে জরুরি ইসলামি নির্দেশনা

▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো পোস্টে কমেন্ট করা বা তাতে লাইক-শেয়ার ইত্যাদি করার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি? ছেলেদের পোস্টে মেয়েরা আর মেয়েদের পোস্টে ছেলেরা লাইক-কমেন্ট করতে পারবে কি? এতে কি গুনাহ হবে?
উত্তর:
এ কথায় কোনও সন্দেহ নাই যে, বর্তমান সময়ে সমাজের বিশাল জনগোষ্ঠী যুবক-যুবতি, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ত। কেউ এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছে আর কেউ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যাহোক, নিম্নে সোশ্যাল মিডিয়ার পাবলিক পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা রিয়েক্ট প্রদান এবং তা শেয়ার প্রসঙ্গে কিছু ইসলামি দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হল:

যদি কোনও ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালো ও উপকারী কোনও লেখা, প্রবন্ধ, পোস্টার, ভিডিও ক্লিপ ইত্যাদি পোস্ট করে-যেমন: দাওয়াতি কার্যক্রম সংক্রান্ত পোস্ট তথা কুরআন-হাদিস ও সহিহ আকিদা ভিত্তিক লেখা বা ভিডিও ক্লিপ, মানুষকে সৎকর্ম ও মানব কল্যাণের প্রতি উৎসাহ প্রদান, পাপাচার ও অন্যায় প্রতিরোধের আহ্বান, সৎ চরিত্র ও সামাজিক মূল্যবোধ শিক্ষা, হারানো শিশুর সন্ধান চেয়ে পোস্ট ইত্যাদি।তাহলে এই জাতীয় পোস্টে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শালীন ভাষায় উৎসাহ মূলক কমেন্ট ও রিয়েক্ট প্রদান এবং সেগুলো শেয়ার করতে পারে। এতে কোন আপত্তি নেই ইনশাআল্লাহ।
এর মাধ্যমে দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি উপকারী ও কল্যাণময় বার্তা মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয় এবং পোস্ট দাতাকে ভালো কাজে সহযোগিতার করা হয়।

এতে করে যে তা পোস্ট করছে এবং যারা সৎ নিয়তে তাতে লাইক-শেয়ার করবে তারা সকলেই সওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ। কারণ এটি ভালো কাজের সহযোগিতার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ ۖ إِنَّ اللَّـهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
“আর সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সহায়তা কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কঠোর শাস্তি দাতা।” [সূরা মায়িদা: ২]

কিন্তু কোনও পোস্ট যদি খারাপ ও নোংরা বার্তা বহন করে, সমাজে পাপাচারের বিস্তার ঘটায়, দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয় এবং হারাম ও অন্যায়-অপকর্মের দিকে আহ্বান করে (যেমন: বেপর্দা নারীর ছবি, অপসংস্কৃতির প্রচার, মিউজিক, নাটক, সিনেমা, অশ্লীল ও অনর্থক ফানি ভিডিও ক্লিপ, শিরক, বিদআত সম্বলিত ওয়াজ, সমাজে অন্যায়-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী পোস্ট ইত্যাদি) তাহলে তাতে উৎসাহ মূলক কমেন্ট দেওয়া বা সেগুলো শেয়ার করা সবই হারাম।

এতে করে পোস্ট দাতা এবং কমেন্ট কারী বা শেয়ার কারী সকলেই গুনাহগার হবে। কারণ এটি সমাজে আল্লাহর নাফরমানি, হারাম, পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
“যারা পছন্দ করে যে, ইমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহা ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা নূর: ১৯]

❑ পোস্টে রিয়েক্ট প্রদান ও কমেন্ট করার ব্যাপারে সতর্কতা:

সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে রিয়েক্ট প্রদান ও কমেন্ট করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। যেমন:

১. কোনও বিপরীত লিঙ্গের পোস্টে রিয়েক্ট বা কমেন্ট করার কারণে যদি তারা একে অপরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে যার কারণে ক্রমান্বয়ে তারা ফিতনার দিকে ধাবিত হয় তাহলে অবশ্যই এ থেকে বিরত থাকতে হবে-যদিও তা ইসলামি পোস্ট হয়। কারণ তা নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা। অন্যথায় কমেন্ট কারী গুনাহগার হবে।
২. কোনো পোস্টেই খারাপ ও বাজে বার্তাবাহী অথবা সে দিকে ইঙ্গিত করে এমন কমেন্ট করা বৈধ নয়।
৩. পাপাচার, অশ্লীলতা ও ক্ষতিকর কাজে উৎসাহ ব্যঞ্জক কমেন্ট করা বা রিয়েক্ট দেওয়া হারাম।
৪. কমেন্ট করার ক্ষেত্রে অশ্লীল ও অশালীন ভাষা প্রয়োগ করা বৈধ নয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَقُولُواْ لِلنَّاسِ حُسۡنٗا
“তোমরা মানুষের সাথে সুন্দর ভাষায় কথা বলো” [সূরা বাকারা: ৮৩]

৫. ভিন্নমতের কারো জবাব দিতে হলেও তা হতে হবে যৌক্তিক, প্রমাণ ভিত্তিক এবং শালীন ভাষায়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ وَجَٰدِلۡهُم بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِينَ
“আপনি আপনার রবের পথে আহবান করুন প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে সেই পদ্ধতিতে বিতর্ক করুন যা সবচেয়ে সুন্দর। নিশ্চয় আপনার রব, তাঁর পথ ছেড়ে কে বিপথগামী হয়েছে, সে সম্বন্ধে তিনি বেশি জানেন এবং কারা সৎপথে আছে তাও তিনি ভালভাবেই জানেন।” [সূরা আন নাহল: ১২৫]

আল্লাহ তাআলা আমদেরকে সবসময় কল্যাণকর কথা বলার এবং কল্যাণের পথে চলার তওফিক দান করুন এবং অকল্যাণ, ক্ষতিকর কার্যক্রম থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।।

Translate