Wednesday, December 8, 2021

কুরআন তিলাওয়াত

 Posted 

আমাদের দেশেও মসজিদসমূহে রমযান মাসে তারাবীহ সালাত আয়োজন করা হয়ে থাকে। কুরঅানের দ্রুতপঠনের প্রতিযোগিতা যারা সন্তুষ্ট চিত্তে উপভোগ করেন; তাদের নিম্নোক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহ জেনে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ।

কুরআন তিলাওয়াত

الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ [٢:١٢١]

আমি যাদেরকে গ্রন্থ দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তৎপ্রতি বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরাহ বাক্বারাহ ২:১২১)

وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَىٰ مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنزِيلًا [١٧:١٠٦]

আমি কোরআনকে যতিচিহ্ন সহ পৃথক পৃথকভাবে পাঠের উপযোগী করেছি, যাতে আপনি একে লোকদের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি একে যথাযথ ভাবে অবতীর্ণ করেছি। (সূরাহ ইসরা ১৭:১০৬)

وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا [٧٣:٤]

এবং কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে। (সূরাহ মুযযাম্মিল ৭৩: ৩)

 অধ্যায়তাওয়াহ্‌য়ীদ | অনুচ্ছেদতোমরা তোমাদের কথা চুপেচাপেই বল আর উচ্চৈঃস্বরেই বলতিনি (মানুষেরঅন্তরের গোপন কথা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত (ত্বহা ২০/১০৩)

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫২৭

ইসহাক (র) ….. আবূ হুরায়রা h থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভাল আওয়াজে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের নয়। আবূ হুরায়রা h ছাড়া অন্যরা “يَجْهَرُ بِهِ “ ‘উচ্চস্বরে কুরআন পড়ে না’ কথাটুকু বৃদ্ধি করেছেন।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস।  তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫২৭] ( আ.প্র. ৭০০৮, ই.ফা. ৭০১৯)

 অধ্যায়তাওয়াহ্‌য়ীদ | অনুচ্ছেদনাবী (ﷺ)এর বাণীঃ কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি জান্নাতে সম্মানিত পূতপবিত্র কাতিব ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫৪৪

ইব্রাহীম ইবনু হামযা (র) ….. আবূ হুরায়রা h থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ উচ্চস্বরে মধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াতকারী নবীর প্রতি যেরূপ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, অন্য কিছুর প্রতি সেরূপ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন না।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫৪৪, ৫০২৩] ( আ.প্র. ৭০২৪, ই.ফা. ৭০৩৫)

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫৪৬

আবূ নুআয়ম (র) ….. বার‘আ h থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে এশার স্বলাতে সূরা { وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ } ত্বীন পড়তে শুনেছি। তাঁর চেয়ে সুন্দর স্বর কিংবা তাঁর চেয়ে সুন্দর কিরাআত আর কারো থেকে শুনিনি।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫৪৬, ৭৬৭] ( আ.প্র. ৭০২৬, ই.ফা. ৭০৩৭)

 অধ্যায়তাওয়াহ্‌য়ীদ | অনুচ্ছেদপাপী ও মুনাফিকের কিরাআততাদের স্বর ও তাদের কিরাআত কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫৬০

হুদবা ইবনু খালিদ (র) ….. আবূ মূসা আশ’আরী h থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন: কুরআন তিলাওয়াতকারী ঈমানদারের উদাহরণ উত্রুজ্জার (কমলালেবু) মত। এর স্বাদও উত্তম এবং ঘ্রাণও হৃদয়গ্রাহী। আর যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার উদাহরণ যেন খেজুর। এটি খেতে সাদ বটে, তবে তার কোন সুঘ্রাণ নেই। কুরআন তিলাওয়াতকারী গুনাহ্গার ব্যক্তিটি সুগন্ধি ঘামের তুল্য। এর ঘ্রাণ আছে বটে, তবে স্বাদে তিক্ত। আর যে অতি গুনাহ্গার হয়ে আবার কুরআনও তিলাওয়াত করে না সে মাকাল ফলের মত। এ ফল স্বাদেও তিক্ত এবং এর কোন সুঘ্রাণও নেই।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫৬০, ৫০২০] ( আ.প্র. ৭০৩৯, ই.ফা. ৭০৫০)

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫৬২

আবূ নুমান (র) ….. আবূ সাঈদ খুদরী h থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্বাঞ্চল থেকে একদল লোকের অভ্যুদয় ঘটবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, তবে তাদের এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়া যাবে, যেভাবে শিকার (ধনুক) থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা আর ফিরে আসবে না, যে পর্যন্ত তীর ধনুকের ছিলায় না আসে। বলা হল, তাদের আলামত কি? তিনি বললেন, তাদের আলামত হল মাথা মুন্ডানো।

তাহক্বীক:: মুতাওয়াতির হাদিস, মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫৬২] ( আ.প্র. ৭০৪১, ই.ফা. ৭০৫২)

অধ্যায়আলকুরআনের ফাযীলাতসমূহ | অনুচ্ছেদআত্তার্জী’ (ছন্দময় সুমুধুর সুরে পাঠ করা)

সহীহুল বুখারী :: হাদিস ৫০৪৭

আদাম ইবনু আবূ ইয়াস h…… আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফ্ফাল h বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উষ্ট্রির পিঠে অথবা উটের পিঠে আরোহণ করা অবস্থায় যখন উষ্ট্রটি চলছিল, তখন আমি তিলাওয়াত করতে দেখেছি। তিনি “সূরা ফাতহ” এবং “সূরা ফাতহ’র অংশ বিশেষ অত্যন্ত নরম এবং মধুর ছন্দোময় সুরে পাঠ করছিলেন।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৫০৪৭, ৪২৮১] ( আ.প্রঃ ৪৬৭৪, ই.ফা. ৪৬৭৮)

অধ্যায়আলকুরআনের ফাযীলাতসমূহ | অনুচ্ছেদসুস্পষ্ট ও ধীরে কুরআন তিলাওয়াত করা

সহীহুল বুখারী :: হাদিস ৫০৪৪

কুতায়বা ইবনু সাঈদ (র)….. হযরত ইবনু আব্বাস h থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ “হে নবী! আপনার জিহ্বাকে তাড়াতাড়ি মুখস্ত করার জন্য নাড়াবেন না” (কিয়ামাহঃ ৭৫ : ১৬) । আল্লাহর এই কালাম সম্পর্কে তিনি বলেন, যখনই হয়রত জিবরাঈল n ওয়াহ্‌য়ী নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)এর নিকট আসতেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খুব তাড়াতাড়ি জিহবা এবং ঠোঁট নাড়াতেন এবং তার জন্য খুব কষ্টের ব্যাপার হত। আর এ অবস্থা সহজেই অন্য একজন অনুমান করতে পারত। সুতরাং এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহতা’আলা এই আয়াত নাযলি করেন। “আমি কিয়ামত দিবসের কসম করছি, হে নবী! তাড়াতাড়ি ওয়াহ্‌য়ী মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহবা নাড়াবেন না। এ মুখস্থ করিয়ে দেয়া ও ফাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। যখন আমি তা পাঠ করিতে থাকি, তখন আপনি সে পাঠকে মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকুন। পরে এর অর্থ বুঝিয়ে দেয়াও আমার দায়িত্ব”। সুতরাং যখন জিবরাঈল n পাঠ করেন আপনি তার অনুসরণ করুন। এরপর থেকে যখন জিবরাঈল n বলে যেতেন তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা নীরবে শুনতেন। যখন তিনি চলে যেতেন, আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী তিনি তা পাঠ করতেন।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৫০৪৪, ৫] ( আ.প্রঃ ৪৬৭১, ই.ফা. ৪৭৭৫)

 

>>>>>Special Courtesy:- dararqam.com<<<<<

জিহাদের নামে যারা আত্মহনন করে, তারা মূলত শয়তানের অনুসারী

 Posted 

জিহাদের নামে যারা আত্মহনন করে, তারা মূলত শয়তানের অনুসারীশায়খ সালিহ ইবন ফাওযান আল-ফাওযান

অনুবাদঃ আবূ মুআয সুহাইল বিন সুলতান

সৌদি আরবের জেষ্ঠ্য আলেমগণের কাউন্সিল এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সম্মানিত শায়খ সালিহ ইবন ফাওযান আল-ফাওযান তাদেরকে মূলতঃ শয়তানের অনুসারী বলে উল্লেখ করেছেন যারা আত্মহত্যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জিহাদ করছে বলে দাবী করে।

এই সমস্ত অপকর্মের সাথে যারা জড়িত, তারা কখনও কোন বিশেষজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হয়নি বা সম্মানিত আলেমগণের নিকট হতে কোন জ্ঞান লাভ করেনি। তার পরিবর্তে তারা নিজেদেরকে মূল মুসলিম সমাজ থেকে পৃথক করে গোপণে ঐ লোকদের সঙ্গ দেয় যারা সবচেয়ে ‘নিকৃষ্ট মানুষের’ ন্যায় ঘৃণ্য অপকর্ম করে। অতঃপর তারা বিভিন্ন ব্যক্তির মগজ-ধোলাই করতে থাকে যতক্ষণ না তাদের অন্তরে সাধারণ মানুষের প্রতি চরম শত্রুতা বিদ্বেষ সঞ্চার করে এবং এই ধরণের জঘন্য আক্রমন চালায়। তারা মুসলিমদের কাফের গণ্য করে এবং হত্যা করে, ভবন উড়িয়ে দেয় নির্বিচারে হত্যা করে শিশু-বৃদ্ধ, পুরুষ-নারী, মুসলিম এবং অমুসলিম, যারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও শান্তিপূর্ণ বাঁচার অধিকার (VISA লাভের মাধ্যমে) নিয়ে ইসলামিক রাষ্ট্রে প্রবেশ করে। আর এসবই ঘটে এই ধরণের নষ্ট মতবাদ ও ভ্রষ্ট আদর্শের কারণে।

এইটা তাদের করুণ পরিণতি যারা পথহারা দুশ্চরিত্র লোকের হাত ধরে সফলতার পথে চলতে চায়। শেষ জমানার বিভিন্ন ফিৎনা ও পরীক্ষা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই ধরণের আহ্বানকারী ও প্রচারকারীর ব্যাপারে সাবধান বাণী উচ্চারণ করে বলেন,

نَعَمْ دُعَاةٌ إِلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوْهُ فِيْهَا

<হাঁ, তখন জাহান্নামের দিকে আহবানকারীদের উদ্ভব ঘটবে। যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে তাকেই তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।>

[সহীহ বুখারী:: অধ্যায়ঃ ৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য :: হাদিস নম্বরঃ ৩৬০৬ | 3606 ]

*******************************************************

উপরোক্ত হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম সংগ্রহ করেছেন।

হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম; এই ভয়ে যেন আমি ঐ সবের মধ্যে পড়ে না যাই। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলীয়্যাতে অকল্যাণকর অবস্থায় জীবন যাপন করতাম অতঃপর আল্লাহ আমাদের এ কল্যাণ দান করেছেন। এ কল্যাণকর অবস্থার পর আবার কোন অকল্যাণের আশঙ্কা আছে কি? তিনি বললেন, হাঁ, আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঐ অকল্যাণের পর কোন কল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হাঁ, আছে। তবে তা মন্দ মেশানো। আমি বললাম, মন্দ মেশানো কী? তিনি বললেন,

قَوْمٌ يَهْدُوْنَ بِغَيْرِ هَدْيِيْ تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ

{এমন একদল লোক যারা আমার সুন্নাত ত্যাগ করে অন্যপথে পরিচালিত হবে। তাদের কাজে ভাল-মন্দ সবই থাকবে।}

আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কি আরো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন,

نَعَمْ دُعَاةٌ إِلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوْهُ فِيْهَا

{হাঁ, তখন জাহান্নামের দিকে আহবানকারীদের উদ্ভব ঘটবে। যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে তাকেই তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।}

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন,

هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلَّمُوْنَ بِأَلْسِنَتِنَا

{তারা আমাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত এবং কথা বলবে আমাদেরই ভাষায়। }

আমি বললাম, আমি যদি এ অবস্থায় পড়ে যাই তাহলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ দেন? তিনি বললেন,

تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِيْنَ وَإِمَامَهُمْ

{মুসলিমদের দল ও তাঁদের ইমামকে আকঁড়ে ধরবে।}

আমি বললাম, যদি মুসলিমদের এহেন দল ও ইমাম না থাকে? তিনি বলেন,

فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ

{তখন তুমি তাদের সকল দল উপদলের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবে এবং মৃত্যু না আসা পর্যন্ত বৃক্ষমূল দাঁতে আকঁড়ে ধরে হলেও তোমার দ্বীনের উপর থাকবে।}

(বুখারী ৩৬০৭, ৭০৮৪, মুসলিম ৩৩/১৩ হাঃ ১৮৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪৫)

*******************************************************

এ-ই হচ্ছে এখনকার প্রকৃত অবস্থা যা শুধু রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর বাণীকেই সুনিশ্চিত করছে। যখন এই লোকগুলো বিপথে আহ্বানকারীদের সাথে একই কাতারে দাঁড়ায়; তখন বিভ্রান্তকারী পথভ্রষ্ট প্রচারক অন্যদেরকে ভুল পথে তথা জাহান্নামের পথে ঠেলে দেয়। মুসলিম বা অমুসলিম সকলেই তাদেরকে নিন্দা করে এবং তাদের কাজকে ঘৃণা করে। তাদের হীন অনুসারী বা ভ্রান্ত মতাদর্শী ব্যতীত কেউই তাদের কার্যকলাপকে সমর্থন করেনা।

আত্মহত্যার মাধ্যমে আক্রমনের বিষয়টি সুনিশ্চিতভাবে একটি বড় ফিতনা এবং শয়তানী অপকর্ম। এটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে মুসলিমগণ খুবই সতর্কতার সাথে এই বিষয়াদি বুঝবেন এবং কোন কিছু করতে তাড়াহুড়া করবেন না। কেউ এই বিষয়ে দ্বিধান্বিত হলে বিষয়টির স্বচ্ছ-সঠিক ব্যাখ্যার জন্য ধর্মীয় জ্ঞান-সম্পন্ন আলেমের নিকট জিজ্ঞেস করবেন অতঃপর সঠিক পথের জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে হবে। এমন জঘন্য পথে আহ্বানকারী বাহ্যিকভাবে সদাচারী, ধর্মপরায়ণ এবং ইসলাম ধর্মকে সম্মান করলেও তার প্রকৃত অবস্থা ও তার পরিচয় না জেনে শুধু সরল বিশ্বাসে তাকে সঙ্গ দেয়া উচিৎ নয়।

যে কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি তাকে বাহ্যিকভাবে সৎ ও সত্যবাদীও মনে হয় কিন্তু ধর্মীয় বিষয়ে যদি হয় অজ্ঞ, তবে তার দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া উচিৎ নয়, তার প্রকৃত অবস্থা, তার চরিত্র ও আচরণ না জেনে তার উপর আস্থা ও নির্ভরতা স্থাপন করা আদৌ সমীচীন নয়। এমন হীন কর্মযজ্ঞ ঘটে যখন তার ব্যাপারে বিবিধ বিষয়াদি না জেনে অথবা ধর্মীয় প্রজ্ঞাপূর্ণ সদুপদেশ না শুনে তাকে বিশ্বাস করা হয়। তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মচঞ্চলতা, ধর্মীয় অজ্ঞতা, মন্দ লোকের সংসর্গ, তাদের উপর বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন এবং মুসলিম সমাজ ও তাদের আলেমগণ হতে সম্পর্কচ্যুতি ইত্যাদি কারণের ফলস্বরুপ এ ধরণের গোষ্ঠী গড়ে উঠে।

এ ধরণের লোকজন (Suicide Bombers) সবসময় ধর্মীয় পড়াশুনা এবং বিশেষজ্ঞ আলেমগনকে এড়িয়ে চলে এবং ধীরে ধীরে হীন চক্রান্তে জড়িয়ে পড়ে। একই ভাবে তারা নিজেদেরকে নিজ পরিবার, নিজ ঘর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

তাই এটা বিশেষভাবে সকল মুসলিম যুবকদের জন্য বাধ্যতামূলক যে তারা এ ধরণের নিকৃষ্ট ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ড দেখে শিক্ষা গ্রহণ করবে; কেননা সফল ব্যক্তি তারাই যারা অন্যের কাজকর্ম থেকে নিজের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করে। এই ধরণের ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ যে আমাদেরকে অবশ্যই ধর্মীয় সীমারেখার মধ্যেই থাকতে হবে, এবং মুসলিম সম্প্রদায়ভূক্ত হয়ে হক্বপন্থী আলেমদের সাথে থাকতে হবে, তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন ও বিমূখ  হওয়া যাবে না ।

 

>>>>>Special Courtesy:- dararqam.com<<<<<

সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং স্রষ্টার নিকট প্রত্যাবর্তন

 Posted

Purpose-Creation-Saleh-As-Saleh

সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং স্রষ্টার নিকট প্রত্যাবর্তন

ডঃ সলেহ আস সলেহ প্রণীত ও “Daar Al-Bukhari” কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত “The Purpose Behind Creation And Return to the Creator” এর ২৭ পৃষ্ঠার মধ্যে প্রথম ১৫ পৃষঠা অনূদিত।

ভূমিকাঃ

মানুষের সহজাত প্রকৃতি (ফিতরা) সহজেই চিনতে পারে কোনটি ভালো এবং কোনটি মন্দ।

উদ্দেশ্য এবং প্রত্যাবর্তনঃ

আল্লাহ (c) মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষ তার অধীন। তিনি এই প্রত্যাদেশ করেছেন যে প্রত্যেক মানুষ অবশ্যই একদিন মৃত্যুবরণ করবে এবং তাঁর নিকট ফিরে যাবে। এই দুনিয়াবী জীবন একটি মধ্যবর্তী ক্ষণ মাত্র। আল্লাহ (c) চান মানুষ তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গঠণ করুক। এটিই ইবাদতের মর্ম। ইবাদতের জন্য জরুরী নিরংকুশ আত্মসমর্পণ, বিনয় এবং ভালোবাসা আর এ সবই একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি জান্নাতে অনন্ত জীবনের অঙ্গীকার করেছেন তাদের জন্য যারা আনুগত্যের সাথে একমাত্র তাঁর ইবাদত করবে; এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামের অঙ্গীকার করেছেন তাদের জন্য যারা তাঁর আদেশকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লাহ (c) বলেন, “সেদিন চূড়ান্ত বাদশাহী হবে একমাত্র আল্লাহতা’য়ালার।  তিনি সবার মাঝে ফায়সালা করবেন। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে তারা নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে অবস্থান করবে।“ (২২:৫৬)

“আর যারা অস্বীকার করবে এবং আমার আয়াত সমূহ মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তারা জাহান্নামের বাসিন্দা হবে, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।” (২:৩৯)

মানুষ তার জীবনে কৃষক, গাড়ী ব্যবসায়ী, ইলেকট্রিশিয়ান, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, প্রেসিডেন্ট, কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী, যা-ই হোক না কেন আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা ব্যতীত তার গত্যন্তর নাই। কি ভালো আর কি মন্দ তা নির্ধারণ করার তিনিই একক ক্ষমতাবান। তিনি বলেনঃ “পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যে ব্যক্তিই কোন নেক কাজ করবে এমতাবস্থায় যে সে হবে যথার্থ মুমিন, তাহলে অবশ্যই তাকে আমি দুনিয়ার বুকে পবিত্র জীবন যাপন করাবো এবং আখিরাতের জীবনেও তাদের দুনিয়ার জীবনের কাজকর্মের উত্তম বিনিময় দান করবো।” (১৬:৯৭)

নাযিলকৃত প্রত্যাদেশে বিস্তারিত রয়েছে কি ভালো আর কি মন্দ। ইহা ছেড়ে দেওয়া হয় নাই সীমিত প্রকৃতির কিছু মানুষের জন্য যারা নির্ধারণ করবে কি ভালো এবং কি মন্দঃ

“… আমি তোমাদের উপর কিতাব নাযিল করেছি, মুসলমানদের জন্য এই কিতাব হচ্ছে সব কিছুর ব্যাখ্যা, হিদায়াত ও মুসলমানদের জন্য সুসংবাদস্বরুপ” (১৬:৮৯)

“… মূলতঃ আইন বিধান জারি করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহতা’য়ালারই; আর তিনি আদেশ দিচ্ছেন, তোমরা আল্লাহতায়ালা ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবেনা; কারণ এটাই হচ্ছে সঠিক জীবন বিধান, কিন্তু মানুষের অধিকাংশই জানেনা।” (১২:৪০)

আল্লাহতায়ালা এটা পরিষ্কার করে বলেছেনঃ “যে কোন ব্যক্তিই কোন নেক কাজ করবে, সে তা করবে তার নিজের জন্য; আর যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ করবে, তা তার উপরই গিয়ে পড়বে। তোমার মালিক তার বান্দাদের ব্যাপারে কখনও যালিম নন।” (৪১:৪৬)

মহাসাফল্য অর্জিত হবে তখনই যখন বান্দা তারই জন্য তার রব প্রদত্ত জীবন বিধান পরিপূর্ণ অনুসরণ করে। আল্লাহ c বলেনঃ “আমি মানুষ এবং জ্বীন জাতিকে আমার ইবাদাত করা ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।” (৫১:৫৬)

ইসলামের এই শাশ্বত বাণী মানুষের মধ্যে ফিতরা (সহজাত প্রবৃত্তি) হিসেবে প্রদত্ত। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সর্বোত্তম আকৃতিতে। তিনি cপরকাল (অদৃশ্য) কে বিশ্বাস করার ফিতরা (সহজাত গুণ) দিয়েছেন। পশুপাখী তাদের ইন্দ্রিয়ের অবকাঠামোর মধ্যেই জীবনযাপন করে যেখানে মানুষ আরও বিস্তৃত সৃষ্টি পরিকল্পনার সাথে নিজের সম্বন্ধ তৈরী করতে পারে। মানুষের আত্মা ও তার পরিধি পশু-পাখীর আত্মার চেয়ে অধিক বিস্তৃত ও উন্মুক্ত। মানুষ জানে যে তড়িৎপ্রবাহ ইলেকট্রন নামক ক্ষুদ্র কণিকার সমষ্টি। অথচ আমরা এই কণিকাগুলো দেখতে পাইনা, এর কেবল প্রতিফল আমরা দেখি তড়িৎ তরঙ্গ আকারে অসিলোস্কোপ (Oscilloscope) নামক যন্ত্রে। প্রকৃতির মাঝে ও আমাদের নিজেদের মাঝে সর্বত্র আমরা আল্লাহর c নিদর্শণ দেখতে পাই, অতএব আমাদের অবশ্যই আল্লাহর সাথে সম্বন্ধ তৈরী করতে হবে ঠিক সেভাবে যেভাবে তিনি পছন্দ করেছেন। এটিই হলো আমাদের উপর তাঁর অধিকার: ইবাদত হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য।

মুয়াজ ইবনু জাবাল h থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একসময় নবী করীম g এর বাহনের পিছে বসা ছিলাম। আমার ও নবী করীম g এর মাঝে কাঠ ছাড়া আর কোন ব্যবধান ছিল না। নবী করীম g বললেন, হে মু’আয ইবনু জাবাল! আমি বললাম ইয়া রাসুলুল্লাহ! g বান্দা হাযির; আপনার আনুগত্য শিরোধার্য !তারপর তিনি কিছুদুর অগ্রসর হয়ে আবার বললেন,হে মু’আয ইবনু জাবাল !আমি বললাম, বান্দা আপনার খেদমতে হাযির, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য, হে আল্লাহর রাসুল !তারপর তিনি কিছুদুরে আগ্রসর হয়ে আবার বললেন, হে মু’আয ইবনু জাবাল !আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! বান্দা আপনার খেদমতে হাযির, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য । তিনি বললেন, তুমি কি জান বান্দার উপর আল্লাহ তায়ালার কী হক রয়েছে? আমি আরয করলাম, আল্লাহ এবং তার রাসুলই তা ভাল জানেন। নবী করীম g বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক এই যে, তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না । তারপর কিছুদুর চললেন । নবী করীম g আবার বললেন, হে মু’আয ইবনু জাবাল । আমি আরয করলাম, বান্দা আপনার খেদমতে হাযির, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য, হে আল্লাহর রাসুল! নবী করীম g বললেন, তুমি কি জান,এগুলো করলে আল্লাহর কাছে বান্দার কী হক আছে ? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভাল জানেন। নবী করীম g বললেন, বললেন,আল্লাহ তায়ালা তাকে শাস্তি দিবেন না ।

[অধ্যায়:- কিতাবুল ঈমান | অনুচ্ছেদ:- যে ব্যক্তি তাওয়াহ্‌য়ীদের উপর ইন্তিকাল করবে,সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে – এর প্রমাণ ।  সহিহ মুসলিম :: হাদিস ৪৯ । তাখরীজঃ ( ই.ফা. ৫০ , ই.সে. ৫১ )]

আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ও বিবেক দিয়ে মানুষ অদৃশ্য ইলেকট্রনিক বলয়ে অদৃশ্য পরমানু যা বলয়ের প্রকৃতি নির্ধারণ করে তার সাথে সম্বন্ধ তৈরী করতে পারে। মানুষ তার এই সহজাত জ্ঞান দিয়ে তার স্রষ্টার সাথেও সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম। যদিও এই সহজাত জ্ঞান এই জীবনে আল্লাহকে দেখতে অক্ষম, তথাপি সত্য রবের গুণাবলী ও সৃষ্টির মাঝে তার নিদর্শণ চিনতে সক্ষম। অতপর যে কেউ সহজে অনুধাবন করতে পারে যে বান্দার প্রতি আল্লাহর সর্বসেরা পুরস্কার হলো বিচার দিবসে স্বয়ং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ। আল্লাহকে তাঁর নাম ও গুণাবলীতে চেনা একজন বান্দাকে এই ধরণীতে তার উপস্থিতির উদ্দেশ্য পূরণে সচেষ্ট করে, যেভাবে উপরিল্লিখিত আয়াতে (৫১:৫৬) এবং এই আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ “…আইন বিধান জারি করার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তায়ালারই; আর তিনি আদেশ দিচ্ছেন, তোমরা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো গোলামী করবেনা। এটিই সঠিক জীবন বিধান, কিন্তু মানুষের অধিকাংশই জানেনা। (সূরা ইউসুফ ১২:৪০)।

আল্লাহর গুণাবলী ও সৃষ্টির মাঝে তাঁর নিদর্শণ তাঁর একত্বের সত্যায়ণ করে এবং আরও সত্যায়ণ করে যে তিনিই একমাত্র সত্য রব যিনি ইবাদতের যোগ্য। প্রত্যাখ্যানকারী ব্যক্তি তাঁর রবকে অবমূল্যায়ন করে। সে আল্লাহর যে কোন ইবাদতকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে অথবা মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যে কারো ইবাদত করতে পারে। প্রত্যাখ্যানকারীদের দলে এমন লোক রয়েছে যারা মনে করে এই মহাবিশ্ব নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে অথবা কোন আকস্মিক ঘটনার ফলে অস্তিত্ব পেয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে পূরণ করার জন্য মানুষের কোন লক্ষ্য নেই কারণ তার অস্তিত্বই নির্ধারিত কোন লক্ষ্য বিহীন। ফলতঃ নৈতিক ও মূল্যবোধ প্রথা অর্থহীন হয়ে পড়ে। অনুরুপভাবে মানুষ ‘প্রকৃতি মায়ের’ জন্য সাড়া দেওয়ার ‘যন্ত্র’ বিশেষ যা, ডারউইনের মতে, লক্ষ্যহীন ক্রিয়াকলাপ করে থাকে। চিন্তার এই পন্থাই হচ্ছে লক্ষ্যহীনতা এবং এটা ঘটে যখন মানুষ সেই একক সত্বা যিনি জন্ম, মৃত্যু, এই মহাবিশ্ব, এবং চারপাশের সবকিছুই পরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছেন তাঁকে চিনতে ব্যর্থ হয়ঃ

“… আল্লাহতায়ালা প্রতিটি জিনিষের জন্যই একটি পরিমাণ ঠিক করে রেখেছেন।” (সূরা তালাক ৬৫:৩)

লক্ষ্যহীনরাই আল্লাহর নিকট মানুষের প্রয়োজন প্রত্যাখ্যান করে। আল্লাহতায়ালা তাদের কথা উল্লেখ করে কুরআনে বলেনঃ

“বস্তুতঃ বহুসংখ্যক মানু্ষ ও জ্বীন আমি জাহান্নামের জন্যই পয়দা করেছি, তাদের কাছে যদিও (বুঝার জন্য) অন্তর আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা চিন্তা করেনা; (দেখার জন্য) চোখ থাকলেও তা দিয়ে তারা (সত্য) দেখেনা; আবার শোনার জন্য কান আছে, কিন্তু সে কান দিয়ে (সত্য) শোনেনা, এরা হচ্ছে কতিপয় জন্তু-জানোয়ারের মত, বরং তাদের চেয়েও এরা বেশী পথভ্রষ্ট, এসব লোকেরা উদাসীন।” (সূরা আ’রাফ ০৭ : ১৭৯)

সৃষ্টি আল্লাহর মুখাপেক্ষীঃ

মানুষ সর্বদাই তা-ই চায় যা তার মঙ্গল করে এবং যা তাকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করে। কিন্তু এটা পেতে হলে মানুষকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে কি কি ক্ষতিকর। কেবল তখনই সে জানতে পারবে কাকে তার প্রয়োজন, কার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে এবং ভালোবাসতে হবে যাতে সে অর্জন করতে পারে যা কিছু মঙ্গলজনক এবং স্বস্তি বোধ করতে পারে যা কিছু সে পছন্দ করে তা নিয়ে। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে তাকে সঠিক ও উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করতে জানতে হবে। তবে এজন্য তার প্রয়োজনঃ

ক) ক্ষতি সম্বন্ধে জানা

খ) এই ক্ষতি দূর করার পথ ও পদ্ধতি সমূহ জানা

যিনি সবকিছুই পরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাঁর স্বত্ত্বা ও গুণাবলীতে কোন ঘাটতি নেই, তাঁর প্রেরিত বিধানের চেয়ে মানুষের অন্য কোন জীবন বিধান উত্তম হতে পারেনা। তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই। যিনি অমুখাপেক্ষী, অশেষ ধন-ভান্ডারের অধিকারী, পরম দয়ালু ও অসীম দাতা এবং মানুষের অন্তর পরিবর্তনের মালিক, তাঁর চেয়ে উত্তম আর কে থাকতে পারে !

মানুষ তাঁর নিকট নিতান্তই দূর্বল। তিনি আল্লাহ, পরম সত্য ও একক ইলাহ। মানুষ নিজের কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করতে পারে যদি সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সাহায্য প্রার্থনা করে। মহান আল্লাহ তিনি এক ও অদ্বিতীয় যিনি এককভাবে অশুভ অমঙ্গল দূর করে মানুষের সাহায্য করতে পারেন, কেননা তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতা ব্যতীত কাউকে কোন অশুভ স্পর্শ করতে পারেনা।

আল্লাহ c তাঁর কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন এবং রাসূলগণ মনোনীত করেছেন যেন মানুষঃ

ক) তার রবকে চিনতে পারে ঠিক সেভাবে যেভাবে তিনি c নিজের সম্বন্ধে বর্ণনা করেছেন এবং

খ) তাঁর বিধান অনুযায়ী আঈবন যাপনের সাথে সাথে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে।

আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর জ্ঞান, তিনি ব্যতীত অন্য সকল কিছুর পূজা হতে মানুষকে মুক্ত করে, কেননা সৃষ্টি নিতান্তই দূর্বল এবং তার স্রষ্টা আল্লাহর c মুখাপেক্ষী। আল্লাহর সম্বন্ধে জ্ঞান মানুষকে এটা জানতে ধাবিত করে যে শেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ g এর উপর নাযিলকৃত আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন যাপনের জন্যই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই নাযিলকৃত ওয়াহীই হলো জীবনের পূর্ণাঙ্গ বিধান। মঙ্গল – অমঙ্গল ও শুভ-অশুভ সবই প্রতিষ্ঠিত যাতে মানুষ এই বিধানসমূহক কেন্দ্র করে জীবন পরিচালনা করত পারে। যদি কেউ কোন ভুল করে ফেলে এবং জানে যে আল্লাহতায়ালা পরম ক্ষমাশীল, তবে সে অবশ্যই একমাত্র আল্লাহর দিকে মুখ ফিরাবে এবং কেবল তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেঃ ‘জেনে রেখো, আল্লাহতায়ালা ছাড়া দ্বিতীয় কোন মাবুদ নাই, অতএব তাঁর কাছেই নিজের গুণাহ খাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। … ’ [সূরা মুহাম্মদ ৪৭: ১৯]

এটা চিন্তা করা ও বিশ্বাস করা মারাত্মক ভুল যে আল্লাহ c তাঁর পাশাপাশি অন্য কোন ইলাহ সৃষ্টি করেছেন যাতে তাদের নিকটও সাহায্য চাইতে পারে, তাদেরকেও ভালোবাসে ও ভয় করে, ইত্যাদি। সকল জাতির তিনিই একমাত্র রব। তিনি এই নির্দেশ দান করেননি যে মানুষ তাঁর পাশাপাশি তারকা, সূর্য, আগুণ, ঈসা m অথবা মূসা m কে রব বানাবে। তাদের ভাবনা থেকে তিনি c অনেক ঊর্ধ্বে। তাঁর পথ একই সরল পথ যা মানুষকে তাদের ইচ্ছা আল্লাহর নিকট সমর্পণ করতে বলে। তিনি c সকল মানুষকে, এমনকি মুহাম্মদ g কেও সতর্ক করে দেন যে যদি কেউ তাঁর সাথে শরীক স্থাপন করে তবে তাদের সকল আ’মল নষ্ট হয়ে যাবে ও তারা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বেঃ

“অথচ (হে নবী) তোমার কাছে ও সেসব (নবীদের) কাছে যারা তোমার পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, এ (মর্মে) ওহী পাঠানো হয়েছে, যদি তুমি আল্লাহতায়ালার সাথে শরীক করো তাহলে অবশ্যই তোমার সব আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থদের শামিল হবে। অতএব তুমি একান্তভাবে আল্লাহতায়ালার ইবাদাত করো এবং শোকরগুজার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও। ” (সূরা যুমার ৩৯:৬৫-৬৬)

জেনে নিই, মুহাম্মদ g যিনি মানুষ ও নবী, যিনি আল্লাহতায়ালাকে সর্বোত্তম জানতেন, তিনি কি বলতেনঃ

“ হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে তোমার সন্তুষ্টির জন্য আশ্রয় চাই; তোমার শাস্তি থেকে তোমার ক্ষমার নিকট; তোমার ক্রোধ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই; তোমার প্রশংসা ও গুণগান করার শক্তি আমার নেই। তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণণা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রুপ।”

[অধ্যায়: কিতাবুস স্বলাত | অনুচ্ছেদ: রুকু ও সিজদায় কি পাঠ করা হবে;  সহিহ মুসলিম :: হাদিস ৯৭৭] তাখরীজঃ ই.ফা. ৯৭২ , ই.সে. ৯৮৩।

“ …হে আল্লাহ! আমি আমার নিজকে তোমারই কাছে সমর্পণ করছি। আমার চেহারাকে তোমার দিকে ফিরাচ্ছি! আমার কর্ম তোমার কাছে সোপর্দ করছি। আমার নির্ভরশীলতা তোমারই প্রতি আশা ও ভয় উভয় অবস্থায়। তোমার কাছে ছাড়া আর কোথাও আশ্রয় ও মুক্তির জায়গা নেই। আমি ঈমান এনেছি তোমার কিতাবের প্রতি যা তুমি অবতীর্ণ করেছ এবং তোমার নবীর প্রতি যাঁকে তুমি প্রেরণ করেছ।…”

[অধ্যায়: তাওয়াহ্‌য়ীদ | অনুচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী : তা তিনি জেনে শুনে নাযিল করেছেন। আর ফেরেশতারা এর সাথী। (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১১৬) সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৪৮৮ ] তাহক্বীক:: মারফু হাদিস।         তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৪৮৮, ২৪৭] ( আ.প্র. ৬৯৭০, ই.ফা. ৬৯৮০)

কুর’আনে আমরা পড়িঃ

“আল্লাহ মানুষের জন্য যে অনুগ্রহ দান করেন তা রোধ করার কেউই নেই আবার তিনি কোন অনুগ্রহ বন্ধ করলে তা পুনরুদ্ধার করার মত কেউ নেই। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহা প্রজ্ঞাময়। ” (সূরা ফাতির ৩৫:২)

কুর’আনে আরও পাইঃ

“যদি আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কোন দুঃখ কষ্ট দেন তিনি ছাড়া অন্য কেউই নেই তা দূরীভুত করার; তিনি যদি তোমাদের কোন কল্যাণ চান তাহলে তাঁর সেই অনুগ্রহ রদ করারও কেউ নেই; তিনি তাঁর বান্দাদের যাকেই চান কল্যাণ পৌঁছান; আল্লাহ তায়ালা বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা ইউনুছ ১০:১০৭)

সুখ-দুঃখ সকল সময় সর্বাবস্থায় আল্লাহ সুবহানাতায়ালার প্রতি ফিরে আসার জন্য আমাদের অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত।

কুর’আনে এও আছেঃ

“যদি আল্লাহতায়ালা তোমাদের সাহায্য করেন, তাহলে কোন শক্তিই তোমাদের পরাজিত করতে পারবেনা, আর তিনিই যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে এমন কোন শক্তি আছে যে তোমাদের কোনরুপ সাহায্য করতে পারে! কাজেই আল্লাহর উপর যারা ঈমান আনে তাদের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত। ” (সূরা আল-ইমরান ৩:১৬০)

অতএব কুর’আন মানুষকে সকল মিথ্যা বিষয়াদি থেকে প্রকৃত মুক্তির পথে ধাবিত করে। এটি অন্তরে শান্তি আনয়ন করে। এটি ঈমানদারগণকে কপটতা ও সকলপ্রকার অসততার বিরুদ্ধে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরুপ ধরে নেয়া যেতে পারে একজন ঈমানদার ব্যক্তি যে কর্মক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন। সে ভুল ও বেআইনী কাজ কর্মের মুখোমুখী হলে তা প্রত্যাখ্যান করতে দ্বিধা করেনা। সে জানে যে চাকরি তার জীবিকা অর্জনের একটি মাধ্যম মাত্র। যখন সে ভুল শোধরাতে ও অন্যায়ের মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, সে ভালোই জানে যে ‘আল্লাহই একমাত্র রিযিকদাতা।’ যদি সে আল্লাহর জন্য তার এই চাকরী ত্যাগ করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তম ব্যবস্থা করবেনঃ

“… যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার জন্য পথ (বের হয়ে আসার উপায়) তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন রিযিক দান করেন যার (উৎস) সম্পর্কে তার কোন ধারণাই নেই।…” (সূরা তালাক ৬৫: ২-৩)

উপরোক্ত আয়াত হতে এটা অপরিহার্য় হয় যে মানুষ অবশ্যই নির্ভর করবে একমাত্র আল্লাহতায়ালার উপর এবং সাহায্য চাইবে একমাত্র তাঁরই নিকট। এটাও অপরিহার্য যে মানুষ আল্লাহকে অবশ্যই ভালোবাসবে এবং তাঁর সন্তুষ্টি ও সাহায্য লাভের জন্য একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে। এটা কি সত্য নয় যে মানুষের মধ্যে যারা এই ইহকালকে ‘চূড়ান্ত গন্তব্য’ ভেবে নিয়েছে তারা দুনিয়ারই বিভিন্ন বস্তুর পূজায় মত্ত রয়েছে? লক্ষ্য করবেন তারা এসবই পেতে খুবই সতর্ক। তারা নিজেদের উপর যুলুম করে: ব্যথা-বেদনা, সংকট, টানা দুশ্চিন্তা, উন্নতির লোভের সাথে তাল মিলিয়ে ঋণের পর ঋণের জন্য ব্যংকের দিকে হাত পেতে রাখা ইত্যাদি। তারা প্রতিনিয়ত দেওলিয়া হওয়ার শংকায় ভীত। তারা তাদের চোখের সামনে কেবল দরিদ্রতাই দেখতে পায়। রাসূলুল্লাহ (g) বলেনঃ

‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও, আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না।’ [তিরমিযী : ২৬৫৪; মুসনাদ আহমদ : ৮৬৮১; ইবন মাজাহ : ৪১০৭]

এই ধরণীতে আমাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য জাগতিক প্রাপ্তির দাসত্ব বরণ করার চেয়ে অনেক বেশী অর্থবহ। আমাদের স্রষ্টা স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত ও নির্দেশিত জীবন বিধান থেকে উন্নততর কোন জীবনবিধান হতে পারেনা। প্রতিটা কাজ যা আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত পদ্ধতিতে সম্পাদিত হয় তা-ই ইবাদাত। মানুষ উপকারভোগী আর আল্লাহতায়ালা অভাবমুক্ত :

“হে মানুষ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে অভাবগ্রস্থ, আর আল্লাহতায়ালা সম্পূর্ণ অভাবমুক্ত, (যাবতীয়) প্রশংসার মালিক।” (সূরা ফাতির ৩৫:১৫)

 

>>>>>Special Courtesy:- dararqam.com<<<<<

রিযিক

 Posted

রিযিকের সিদ্ধান্ত হয় উপরেঃ

আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু। (Adh-Dhaariyat 51: 22)

আল্লাহই রিযিকদাতাঃ

আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছারিযিক দান করেন। তিনি প্রবলপরাক্রমশালী (Ash-Shura 42: 19)

আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেইতবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে। (Hud 11: 6)

আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে নামাযের আদেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনরিযিক চাই না। আমি আপনাকে রিযিক দেই এবং আল্লাহ ভীরুতার পরিণাম শুভ। (Taa-Haa 20: 132)

এমন অনেক জন্তু আছেযারা তাদের খাদ্য সঞ্চিত রাখে না। আল্লাহই রিযিক দেন তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও। তিনি সর্বশ্রোতা,সর্বজ্ঞ। (Al-Ankaboot: 60)

নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছিআমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছিতাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। (Surah Al-Israa 17:70)

বল তো কে প্রথমবার সৃষ্টি করেনঅতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং কে তোমাদেরকে আকাশ ও মর্ত থেকে রিযিক দান করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কিবলুনতোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।(An-Naml 27: 64)

আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেনঅতঃপর রিযিক দিয়েছেনএরপর তোমাদের মৃত্যু দেবেনএরপর তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কিযে এসব কাজের মধ্যে কোন একটিও করতে পারবেতারা যাকে শরীক করে,আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও মহান। (Ar-Room 30: 40)

হালাল – হারামের বিধানদাতা আল্লাহইঃ

আপনি বলুনঃ আল্লাহর সাজসজ্জাকেযা তিনি বান্দাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্রবস্তুসমূহকে কে হারাম করেছেআপনি বলুনঃ এসব নেয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যে এবং কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই জন্যে। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্যে যারা বুঝে। (Al-Araaf 7: 32)

বলআচ্ছা নিজেই লক্ষ্য করে দেখযা কিছু আল্লাহ তোমাদের জন্য রিযিক হিসাবে অবতীর্ণ করেছেনতোমরা সেগুলোর মধ্য থেকেকোনটাকে হারাম আর কোনটাকে হালাল সাব্যস্ত করেছবলতোমাদের কি আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেননাকি আল্লাহর উপর অপবাদ আরোপ করছ? (Yunus 10: 59)

আল্লাহর হালালকৃত বিষয় নবীও হারাম করতে পারেননাঃ

হে নবীআল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করছেনআপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্যে তা নিজের জন্যে হারাম করেছেন কেনআল্লাহ ক্ষমাশীলদয়াময়। (At-Tahrim 66: 1)

অন্যের বিধান মানলে তাকেই রব মানা হবেঃ

তারা তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের এবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেইতারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করেতার থেকে তিনি পবিত্র। (At-Tawba 9: 31)

রিযিকের প্রশস্ততা আল্লাহরই নিকটঃ

আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি। (Al-Qamar 54: 49)

আকাশ ও পৃথিবীর চাবি তাঁর কাছে। তিনি যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী।(Ash-Shura 42: 12)

বলুনআমার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা রিযিক বাড়িয়ে দেন এবং পরিমিত দেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা বোঝে না। (Saba 34: 36)

বলুনআমার পালনকর্তা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা রিযিক বাড়িয়ে দেন এবং সীমিত পরিমাণে দেন। তোমরা যা কিছু ব্যয় কর,তিনি তার বিনিময় দেন। তিনি উত্তম রিযিক দাতা। (Saba 34: 39)

তিনি যদি রিযিক বন্ধ করে দেনতবে কে আছেযে তোমাদেরকে রিযিক দিবে বরং তারা অবাধ্যতা ও বিমুখতায় ডুবে রয়েছে।(Al-Mulk 67: 21)

আমি ভুপৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।(Al-Hijr 15: 19)

পরীক্ষাঃ

আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগবিলাসের যে উপকরণ দিয়েছিআপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী। (Taa-Haa 20: 131)

তারা যখন কোন ব্যবসায়ের সুযোগ অথবা ক্রীড়াকৌতুক দেখে তখন আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে যায়। বলুনঃ আল্লাহর কাছে যা আছেতা ক্রীড়াকৌতুক ও ব্যবসায় অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহ সর্বোত্তম রিযিকদাতা। (Al-Jumu’a 62: 11)

তোমরা জেনে রাখপার্থিব জীবন ক্রীড়াকৌতুকসাজসজ্জাপারস্পরিক অহমিকা এবং ধন  জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আরকিছু নয়যেমন এক বৃষ্টির অবস্থাযার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করেএরপর তা শুকিয়ে যায়ফলে তুমি তাকেপীতবর্ণ দেখতে পাওএরপর তা খড়কুটা হয়ে যায় আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা  সন্তুষ্টিপার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয় (Al-Hadid 57: 20)

রিযিক কমবেশী হওয়ার কারণঃ

যদি আল্লাহ তাঁর সকল বান্দাকে প্রচুর রিযিক দিতেনতবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ নাযিল করেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের খবর রাখেন ও সবকিছু দেখেন। (Ash-Shura 42: 27)

তারা কি আপনার পালনকর্তার রহমত বন্টন করেআমি তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছিযাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহণ করে। তারা যা সঞ্চয় করেআপনার পালনকর্তার রহমত তদপেক্ষা উত্তম। (Surah Al-Jukhruf 43 : 32)

দেখুনআমি তাদের একদলকে অপরের উপর কিভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করলাম। পরকাল তো নিশ্চয়ই মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং ফযীলতে শ্রেষ্ঠতম। (Surah Al-Israa 17 : 21)

আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। (An-Nisaa 4: 32)

রিযিক চাইতে হবে আল্লাহরই কাছেঃ

তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল প্রতিমারই পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করছতারা তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই আল্লাহর কাছে রিযিক তালাশ করতাঁর এবাদত কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (Al-Ankaboot 29: 17)

হে মানুষতোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর। আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন স্রষ্টা আছে কিযে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করেতিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় ফিরে যাচ্ছ? (Faatir 35: 3)

তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাও। আর তুমিই জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করে আন এবং মৃতকে জীবিতের ভেতর থেকে বের কর। আর তুমিই যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান কর। (Aali Imraan 3: 27)

আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক হতেই ব্যয়ঃ

বিত্তশালী ব্যক্তি তার বিত্ত অনুযায়ী ব্যয় করবে। যে ব্যক্তি সীমিত পরিমাণে রিযিকপ্রাপ্তসে আল্লাহ যা দিয়েছেনতা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যা দিয়েছেনতদপেক্ষা বেশী ব্যয় করার আদেশ কাউকে করেন না। আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দেবেন। (At-Talaaq 65: 7)

আমার বান্দাদেরকে বলে দিন যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছেতারা নামায কায়েম রাখুক এবং আমার দেয়া রিযিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করুক ঐদিন আসার আগেযেদিন কোন বেচা কেনা নেই এবং বন্ধুত্বও নেই। (Ibrahim 14: 31)

আর ব্যয় কর আল্লাহর পথেতবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহঅনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন। (Al-Baqara 2: 195)

তোমার কাছে জিজ্ঞেস করেকি তারা ব্যয় করবেবলে দাওযে বস্তুই তোমরা ব্যয় করতা হবে পিতামাতার জন্যেআত্নীয়আপনজনের জন্যেএতীমঅনাথদের জন্যেঅসহায়দের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে। আর তোমরা যে কোন সৎকাজ করবে,নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত ভালভাবেই আল্লাহর জানা রয়েছে। (Al-Baqara 2: 215)

নৈকট্যশীলদের জন্য পুরস্কারঃ

আর যে আল্লাহকে ভয় করেআল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। (At-Talaaq 65: 2 – 3)

যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়তবে তার জন্যে আছে সুখউত্তম রিযিক এবং নেয়ামতে ভরা উদ্যান। (Al-Waaqia 56: 88-89)

যে মন্দ কর্ম করেসে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবেআর যেপুরুষ অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বেহিসাব রিযিক দেয়া হবে। (Ghaafir 40: 40)

তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত হবে এবং সৎকর্ম করবেআমি তাকে দুবার পুরস্কার দেব এবং তার জন্য আমি সম্মান জনক রিযিক প্রস্তুত রেখেছি। (Al-Ahzaab 33: 31)

মুমিনের ডাকঃ (Surah Ghafir 40 : 38 – 45)

মুমিন লোকটি বললঃ হে আমার কওমতোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব।

হে আমার কওমপার্থিব এ জীবন তো কেবল উপভোগের বস্তুআর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ।

যে মন্দ কর্ম করেসে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবেআর যেপুরুষ অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বেহিসাব রিযিক দেয়া হবে।

হে আমার কওমব্যাপার কিআমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই মুক্তির দিকেআর তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও জাহান্নামের দিকে।

তোমরা আমাকে দাওয়াত দাওযাতে আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সাথে শরীক করি এমন বস্তুকেযার কোন প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই পরাক্রমশালীক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে।

এতে সন্দেহ নেই যেতোমরা আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাওহইকালে ও পরকালে তার কোন দাওয়াত নেইআমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে এবং সীমা লংঘকারীরাই জাহান্নামী।

আমি তোমাদেরকে যা বলছিতোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের চক্রান্তের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন এবং ফেরাউন গোত্রকে শোচনীয় আযাব গ্রাস করল।

>>>>>Special Courtesy:- dararqam.com<<<<<

Translate