Monday, December 6, 2021

নন মাহরাম পুরুষ-নারী সালাম বিনময় করার বিধান

 প্রশ্ন: মহিলারা না কি নন মহরম পুরুষদেরকে সালাম দিতে পারবে না? আমার (মহিলা)

ভাইয়ের বন্ধু আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে আমার সামনে দিয়ে গমন করার সময় আমি কি তাকে সালাম দিতে পারি?

উত্তর: সালাম দেয়া এবং সালামের উত্তর দেয়া ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এর মাধ্যমে পারষ্পারিক ভালবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়েই নির্দেশিত। মহিলারা মহিলাদের মাঝে সালাম-মুসাফাহা করবে আর পুরুষ পুরুষদের মাঝে সালাম-মুসাফাহা করবে। অনুরূপভাবে বাবা, মা, ভাই, বোন ইত্যাদি মাহরাম পুরুষ-মহিলাদের মাঝে সালাম-মুসাফাহা বিনিময় করায় শরীয়তে কোন বাধা নেই।

তবে নন মাহরাম পুরুষ বা মহিলাকে সালাম দেয়া বা তাদের সালামের জবাব দেয়ার বিধান স্বতন্ত্র।
এ ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত কথা হল:
✪ কোন বৃদ্ধা মহিলাকে মুসাফাহা ছাড়া সালাম প্রদান করা বৈধ।
✪ আর যুবক-যুবতীদের মাঝে সালাম বিনিময় করা উচিৎ নয় যদি তাতে উভয়ে ফিতনায় পতিত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
✪ তবে ফেতনার সম্ভাবনা না থাকলে সালাম বিনিময়ে কোন অসুবিধা নেই ইনশাআল্লাহ।
আসমা বিনতে ইয়াযিদ বলেন:
مَرَّ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نِسْوَةٍ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কয়েকজন মহিলার নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদেরকে সালাম দিয়েছেন।” (আবু দাউদ, সহীহ)

সহীহ বুখারীতেও বৃদ্ধ মহিলাকে সালাম দেয়ার হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

❍ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. ফাতহুল বারী গ্রন্তে মহিলা পুরুষদের এবং পুরুষ মহিলাদের সালাম দেয়ার বৈধতার ব্যাপারে বলেন, এখানে বৈধতা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকা।

সুতরাং যুবক-যুবতীদের মাঝে সালাম দেয়া বা সালামের জবাব দেয়ার ব্যাপারে সতর্কতা জরুরি। এতে ফেতনা সৃষ্টি হওয়া আশঙ্কা থাকলে বিরত থাকা অপরিহার্য। আল্লাহু আলাম।
——–
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।।

যে ৭ টি কারনে মানুষ হেদায়েত পায় না

 ১-জাহালত বা মুর্খতা অর্থাৎ দীনের ব্যাপারে উদাসীন

২- তাকলীদে আমা অর্থাৎ বাপ দাদাদের অনুসরণ, রসম রেওয়াজের অনুসরণ, সামাজিক প্রথার অনুসরন। ছেলেমেয়ের বিয়েতে অসংখ্য হারাম কাজ

৩-দলবাজি বা ফিরকাবাজি

৪- হিংসা বা অহংকার।
যেমন ফেরাউন, আবু জাহেল, আবু লাহাব, ইবলিস হেদায়েত পায়নি তার অহংকারের জন্য। ইবলিস যুক্তি দেখিয়েছিলো। অথচ আল্লাহর নির্দেশের কাছে যুক্তির স্থান নেই। অহীর নির্দেশের কাছে যুক্তি বাতিল।

৫-আহবার অর্থাৎ বেশী এলেম ওয়ালা বড় বড় আলেম ও রুহবান অর্থাৎ বেশি আমল ওয়ালা,ইলেম কম এমন ব্যক্তি যেমন দরবেশ বা তাকওয়াবান ব্যক্তি। এদের অনুসরণ করতে হবে কিন্তু যদি আপনি বিদাতি আহবার ও রুহবানের অনুসরণ করেন তবে হেদায়েত পাওয়া যাবে না।

৬- অন্তরের বক্রতা, যা কলবের একটি রোগ।
অন্তর বাকা হওয়ার লক্ষন হলো কাউকে সোজা ভাবে কিছু বললে সে তা বাকা ভাবে নেয়।

এর থেকে পানাহ চাইতে আল্লাহ সুরা আলে ইমরানের আয়াত ৮ এ একটি দুয়া শিক্ষা দিয়েছেন।

অন্তরের বক্রতা হতে মুক্তি চাওয়া*

رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
*হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন।*
*রব্বানা-লা-তুযিগ্ কুলূবানা- বা’দা ইয্ হাদাইতানা-অহাবলানা-মিল্ লাদুন্কা রহমাহ , ইন্নাকা আন্তাল্ অহ্হা-ব্*

৭- ইত্তেবাউল হাওয়া অর্থাৎ প্রবৃত্তির অনুসারী। হাওয়া মানে কু- প্রবৃত্তি। নিজের মন গড়া পদ্ধতির অনুসারী।
কুরান-হাদিসের পদ্ধতির অনুসরণ করে না।
রাসুল সা: বলেছেন যে ব্যক্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরণ করবে না ততক্ষণ সে হেদায়েত পাবে না। ততক্ষন সে ঈমান্দারই হতে পারবে না।

এই ৭ টি বড় বড় দোষ থেকে আমরা মুক্ত হতে পারলে ইনশা আল্লাহ আমরা হেদায়েত পাবো
আল্লাহ সুবাহানাহু তালা আমাদের সবাইকে এই ত্রুটি গুলি থেকে মুক্ত করুন।

~শাইখ ইমাম হোসেন।।

তাক্কদির একটি সংশয়ের ছোট জবাব

 لو كان الكفر بقضاء الله تعالى لوجب علينا أن نرضى به لأن الرضا بقضاء الله واجب وحيث اجتمعت الأمة على أن الرضا بالكفر كفر ثبت أنه ليس بقضاء الله

(ঠিকমত না বুঝলে একেবারে — দাগের নিচে চলে যান )
“যদি ‘কুফরি’ আল্লাহর ক্কদ(قضاء) অর্থাৎ তাক্কদিরের অংশ হয়, তাহলে তো কুফরির প্রতি আমাদের সন্তুষ্টি আবশ্যিক হয়ে যায়, কেননা,
আল্লাহ্‌র নির্ধারিত তাক্কদিরের উপর বিশ্বাস করা আবশ্যক ।
অথচ, উম্মাহর ইজমা’ আছে এই ব্যাপারে যে “কুফরের প্রতি সন্তুষ্টিও কুফর” , এটা তো তাহলে প্রমাণ করে যে, কুফরি আল্লাহর নির্ধারিত তাক্কদিরের অংশ নয়’ ”
__________________________________________________
প্রথম হিসেব হচ্ছে,
কেউ একজন দাবি করে বসেছে যে কুফরি আল্লাহর নির্ধারিত তাক্কদিরের অংশ হতে পারে না ।

তার যুক্তিঃ
১) যদি কারো ‘কুফরি’ করা আল্লাহর তাক্কদিরের অংশ হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের জন্য এটা আবশ্যক হয়ে পরবে, যে আমরা এই ‘কুফরি’ তে সন্তুষ্ট হবো ! কেন ?
কারন, “তাকদিরের উপর সন্তুষ্ট থাকা আবশ্যক”

অথচ, ‘কুফরির উপর সন্তুষ্ট হওয়া তো কুফরি’ ! [১]

তার মানে, “কুফরি” আল্লাহর নির্ধারিত তাক্কদিরের অংশ হতে পারে না !
.
.
.

জবাবে,
প্রথমত, আল্লাহ্‌ সবকিছুর স্রষ্টা । মানুষের কাজেরও স্রষ্টা আল্লাহ্‌ তা’আলা, যা কিছু ঘটে সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটে ।
তাহলে, কেউ যদি ‘কুফরি’ করে বসে, তাহলে সেটাও আল্লাহর ইচ্ছার অধীনেই ।
অতএব, কেউ যদি দাবি করে, “কুফরি” আল্লাহর তাকদিরের অংশ নয়, তাহলে সে তাকদির অস্বীকার করল !
তাহলে প্রশ্ন আসে, বেচারা বান্দার দোষ কি তাহলে ?
হ্যা, তার দোষ হচ্ছে এখানেই যে;
কুফরি কাজে তার নিজের স্বাধীন ইচ্ছা বা choice, বা এখতিয়ার ছিল ।
আল্লাহ্‌ তা’আলা বান্দার এখতিয়ারের ফলে ‘কুফরি’ [ফে’ল(فعل)ক্রিয়া] সৃষ্টি করেছেন ।

যদি এই স্বাধীন এখতিয়ারটিই আল্লাহ্‌ তা’আলা না দিতেন, তবে মানবসৃষ্টির মূল কারন নস্যাৎ হয়ে যেত ।

দেখুন, এখতিয়ার (স্বাধীন ইচ্ছা) সুরাহ রুমের ৪১ নং আয়াতেই স্পষ্ট।
” ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ”

(ভাবানুবাদ) ‘স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে আল্লাহ্‌ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদেরকে আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে’ (৩০ঃ ৪১)

তাই, ‘কুফরি’ তাক্কদিরের অংশ । কিন্তু , এখতিয়ার বান্দার; আল্লাহ্‌ কুফরির ক্রিয়া বান্দার উপর চাপান নি ।

এবং সাথে সাথে ‘কুফরির উপরও সন্তুষ্ট হওয়া যাবে না,
যেহেতু, ” الرضا بالكفر كفر ” কুফরির প্রতি সন্তুষ্টিও কুফরি [১]

[ বিদ্রঃ এখানে অনেক গুলো কথা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ ।
(( SO DON’T GO INTO CONCLUSIONS FROM STATEMENTS before knowing the details ))
যেমন [১] , এবং পাশাপাশি, ‘তাক্কদিরের উপর পূর্ণরূপ সন্তুষ্টি’ কিরুপ , আবার
الإمان بالقدر خيره
و شره،
و كيف الشر ، هل الشر بإعتبار القدر، الذي خالقه الخالق، او بإعتبار المخلوق ؛
الجواب، اعتباره المقدور يعني المخلوق ، انظر شرح عقيدة الواسطية لشيخ محمد بن العثيمين رحمه الله
ইত্যাদি ]
আর ভালো করে তাক্কদিরের বিষয়াদি জানতে হলে নিচের islamqa এর লেখার(বাংলা) লিঙ্কটা দেখতে পারেন।।

https://islamqa.info/bn/34732

 

***কৃতজ্ঞতাঃ নাজমুস সাকিব***

সমকামীর চিকিৎসা রোগাক্রান্ত হওয়ার পরের চিকিৎসা

 তাওহীদ বিরোধী উক্ত রোগে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে সর্ব প্রথম এ কথা অবশ্যই বুঝতে হবে যে, সে উক্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছে শুধু মূর্খতা এবং গাফিলতির দরুনই। অতএব সর্ব প্রথম তাকে আল্লাহ্ তা‘আলার তাওহীদ তথা একত্ববাদ, তাঁর সাধারণ নীতি ও নিদর্শন সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হবে। অতঃপর তাকে এমন কিছু প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইবাদত করতে হবে যার দরুন সে উক্ত মত্ততা থেকে রক্ষা পেতে পারে। এরই পাশাপাশি সে আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট সবিনয়ে সর্বদা এ দো‘আ করবে যে, আল্লাহ্ তা‘আলা যেন তাকে উক্ত রোগ থেকে ত্বরিত মুক্তি দেন। বিশেষ করে সম্ভাবনাময় স্থান, সময় ও অবস্থায় দো‘আ করবে। যেমন: আযান ও ইক্বামতের মধ্যবর্তী সময়, রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশ, সিজদাহ্ এবং জুমার দিনের শেষ বেলা ইত্যাদি ইত্যাদি।

সংক্ষিপ্তাকারে প্রস্তাবিত চিকিৎসাসমূহ:

১. প্রথমে আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট উক্ত গুনাহ্ থেকে খাঁটি তাওবা করে নিন। কারণ, কেউ আল্লাহ্ তা‘আলা নিকট একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টি পাওয়ার জন্য অথবা তাঁরই কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তাওবা করে নিলে আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তা কবুল করবেন এবং তাকে সেভাবেই চলার তাওফীক দিবেন।

২. আল্লাহ্ তা‘আলার প্রতি দৃঢ় একনিষ্ঠ হোন। এটিই হচ্ছে এর একান্ত মহৌষধ। আল্লাহ্ তা‘আলা ইউসুফ (আঃ) কে এ একনিষ্ঠতার কারণেই ’ইশ্ক্ব এবং প্রায় নিশ্চিত ব্যভিচার থেকে রক্ষা করেন।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

«كَذَلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوْءَ وَالْفَحْشَآءَ، إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْـمُخْلَصِيْنَ»

‘‘তাকে (ইউসুফ (আঃ) কে) মন্দ কাজ ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখার জন্যই এভাবে আমি আমার নিদর্শন দেখালাম। কারণ, তিনি তো ছিলেন আমার একান্ত একনিষ্ঠ বান্দাহ্দের অন্যতম’’। (ইউসুফ : ২৪)

৩. ধৈর্য ধরুন। কারণ, কোন অভ্যাসগত কঠিন পাপ ছাড়ার জন্য ধৈর্যের একান্তই প্রয়োজন। সুতরাং ধৈর্য ধারণের বার বার কসরত করতে হবে। এমনিভাবেই ধীরে ধীরে এক সময় ধৈর্য ধারণ অভ্যাসে পরিণত হবে।

আবূ সা’ঈদ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

وَمَنْ يَّتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللهُ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ.

‘‘যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করার চেষ্টা করবে আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তাকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দিবেন। আল্লাহ্ তা‘আলা কাউকে এমন কিছু দেন নি যা ধৈর্যের চাইতেও উত্তম এবং বিস্তর কল্যাণকর’’।

(বুখারী ১৪৬৯, ৬৪৭০; মুসলিম ১০৫৩)

এ কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, মনের কোন চাহিদা পূরণ করা থেকে ধৈর্য ধারণ করা অনেক সহজ তা পূরণ করার পর যে কষ্ট, শাস্তি, লজ্জা, আফসোস, লাঞ্ছনা, ভয়, চিন্তা ও অস্থিরতা পেয়ে বসবে তা থেকে ধৈর্য ধারণ করার চাইতে। তাই একেবারে শুরুতেই ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

৪. মনের বিরোধিতা করতে শিখুন। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মনের বিরোধিতা করবে আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে অবশ্যই সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

«وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا، وَإِنَّ اللهَ لَمَعَ الْـمُحْسِنِيْنَ»

‘‘যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করবো। আল্লাহ্ তা‘আলা নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের সাথেই রয়েছেন’’। (‘আন্কাবূত : ৬৯)

৫. আল্লাহ্ তা‘আলা যে সর্বদা আপনার কর্মকান্ডের প্রতি দৃষ্টিপাত করেই আছেন তা অনুভব করতে শিখুন। সুতরাং উক্ত কাজ করার সময় মানুষ আপনাকে না দেখলেও আল্লাহ্ তা‘আলা যে আপনার প্রতি দেখেই আছেন তা ভাবতে হবে। এরপরও যদি আপনি উক্ত কাজে লিপ্ত থাকেন তখন অবশ্যই এ কথা ভাবতে হবে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার সম্মান ও মর্যাদা আপনার অন্তরে নেই। তাই আল্লাহ্ তা‘আলা আপনার উক্ত কর্ম দেখলেও আপনার এতটুকুও লজ্জা হয় না। আর যদি আপনি এমন বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ্ তা‘আলা আপনার কর্মকান্ড দেখছেনই না তা হলে তো আপনি নিশ্চয়ই কাফির।

৬. জামাতে নামায পড়ার প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হোন।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

«إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَآءِ وَالْـمُنْكَرِ»

‘‘নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে’’। (‘আন্কাবূত : ৪৫)

৭. বেশি বেশি নফল রোযা রাখতে চেষ্টা করুন। কারণ, রোযার মধ্যে বিশেষ ফযীলতের পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমনেরও এক বাস্তবমুখী ব্যবস্থা রয়েছে। যেমনিভাবে রোযা আল্লাহ্ভীরুতা শিক্ষা দেয়ার জন্যও এক বিশেষ সহযোগী।

আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্’ঊদ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ! مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ، فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ.

‘‘হে যুবকরা! তোমাদের কেউ সঙ্গমে সক্ষম হলে সে যেন দ্রুত বিবাহ করে নেয়। কারণ, বিবাহ তার চোখকে নিম্নগামী করবে এবং তার লজ্জাস্থানকে হিফাযত করবে। আর যে বিবাহ করতে সক্ষম নয় সে যেন রোযা রাখে। কারণ, রোযা তার জন্য একান্ত যৌন উত্তেজনা প্রতিরোধক’’।

(বুখারী ১৯০৫, ৫০৬৬; মুসলিম ১৪০০)

৮. বেশি বেশি কুর‘আন তিলাওয়াত করুন। কারণ, কুর‘আন হচ্ছে সর্ব রোগের চিকিৎসা। তাতে নূর, হিদায়াত, মনের আনন্দ ও প্রশান্তি রয়েছে। সুতরাং উক্ত রোগে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির জন্য বেশি বেশি কুর‘আন তিলাওয়াত, মুখস্থ ও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা অবশ্যই কর্তব্য যাতে তার অন্তর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়।

৯. বেশি বেশি আল্লাহ্’র যিকির করুন। কারণ, আল্লাহ্ তা‘আলার যিকিরে অন্তরের বিরাট একটা প্রশান্তি রয়েছে এবং যে অন্তর সর্বদা আল্লাহ্’র যিকিরে ব্যস্ত থাকে শয়তান সে অন্তর থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। সুতরাং এ জাতীয় ব্যক্তির জন্য যিকির অত্যন্ত উপকারী।

১০. আল্লাহ্ তা‘আলার সকল বিধি-বিধানের প্রতি যত্নবান হোন। তা হলে আল্লাহ্ তা‘আলাও আপনার প্রতি যত্নবান হবেন। আপনাকে জিন ও মানব শয়তান এবং অন্তরের কুপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করবেন। তেমনিভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা আপনার ধার্মিকতা, সততা, মানবতা এবং সম্মানও রক্ষা করবেন।

১১. অতি তাড়াতাড়ি বিবাহ কার্য সম্পাদন করুন। তা হলে যৌন উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সহজেই আপনি একটি হালাল ক্ষেত্র পেয়ে যাবেন।

১২. জান্নাতের ’হুরের কথা বেশি বেশি স্মরণ করুন। যাদের চোখ হবে বড় বড় এবং যারা হবে অতুলনীয়া সুন্দরী লুক্কায়িত মুক্তার ন্যায়। নেককার পুরুষদের জন্যই আল্লাহ্ তা‘আলা তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং তাদেরকে পেতে হলে দুনিয়ার এ ক্ষণিকের অবৈধ স্বাদ পরিত্যাগ করতেই হবে।

১৩. শ্মশ্রুবিহীন সে প্রিয় ছেলেটি থেকে খুব দূরে থাকুন। যাকে দেখলে আপনার অন্তরের সে লুক্কায়িত কামনা-বাসনা দ্রুত জাগ্রত হয়। এমন দূরে থাকবেন যে, সে যেন কখনো আপনার চোখে না পড়ে এবং তার কথাও যেন আপনি কখনো শুনতে না পান। কারণ, বাহ্যিক দূরত্ব অন্তরের দূরত্ব সৃষ্টি করতে অবশ্যই বাধ্য।

১৪. তেমনিভাবে উত্তেজনাকর সকল বস্ত্ত থেকেও দূরে থাকুন যেগুলো আপনার লুক্কায়িত কামনা-বাসনাকে দ্রুত জাগ্রত করে। অতএব মহিলা ও শ্মশ্রুবিহীন ছেলেদের সাথে মেলামেশা করবেন না। বিশ্রী ছবি ও অশ্লীল গান শুনবেন না। আপনার নিকট যে অডিও ভিডিও ক্যাসেট, ছবি ও চিঠি রয়েছে সবগুলো দ্রুত নস্যাৎ করে দিন। উত্তেজনাকর খাদ্যদ্রব্য আপাতত বন্ধ রাখুন। তা আর কিছু দিনের জন্য গ্রহণ করবেন না। ইতিপূর্বে যেখানে উক্ত কাজ সম্পাদিত হয়েছে সেখানে আর যাবেন না।

১৫. লাভজনক কাজে ব্যস্ত থাকুন। কখনো একা ও অবসর থাকতে চেষ্টা করবেন না। পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারেন। আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন। ইত্যবসরে ঘরের প্রয়োজনসমূহ পূরণ করতে পারেন। কুর‘আন শরীফ মুখস্থ করতে পারেন অথবা অন্ততপক্ষে বেচাকেনা নিয়েও ব্যস্ত হতে পারেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

১৬. সর্বদা শয়তানের ওয়াসওয়াসা প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করুন। কোন কুমন্ত্রণাকে একটুর জন্যও অন্তরে স্থান দিবেন না।

১৭. নিজের মনকে দৃঢ় করুন। কখনো নিরাশ হবেন না। কারণ, এ ব্যাধি এমন নয় যে তার কোন চিকিৎসা নেই। সুতরাং আপনি নিরাশ হবেন কেন?

১৮. উচ্চাকাঙ্খী হোন। উচ্চাভিলাসের চাহিদা হচ্ছে এই যে, আপনি সর্বদা উন্নত গুণে গুণান্বিত হতে চাইবেন। অরুচিকর অভ্যাস ছেড়ে দিবেন। লাঞ্ছনার স্থানসমূহে কখনো যাবেন না। সমাজের সম্মানি ব্যক্তি সেজে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হাতে নিবেন।

১৯. অভিনব বিরল চিকিৎসাসমূহ থেকে দূরে থাকুন। যেমন: কেউ উক্ত কাজ ছাড়ার জন্য এভাবে মানত করলো যে, আমি যদি এমন কাজ আবারো করে ফেলি তা হলে আল্লাহ্ তা‘আলার জন্য ছয় মাস রোযা রাখা অথবা দশ হাজার রিয়াল সাদাকা করা আমার উপর বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। তেমনিভাবে এ বলে কসম খেলো যে, আল্লাহ্’র কসম! আমি আর এমন কাজ করবো না। শুরুতে কসমের কাফ্ফারার ভয়ে অথবা মানত ওয়াজিব হওয়ার ভয়ে উক্ত কাজ করা থেকে বেঁচে থাকলেও পরবর্তীতে তা কাজে নাও আসতে পারে।

কখনো কখনো কেউ কেউ কোন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী কোন কোন ওষুধ সেবন করে। তা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ, তাতে হিতে বিপরীতও হতে পারে।

২০. নিজের মধ্যে প্রচুর লজ্জাবোধ জন্ম দেয়ার চেষ্টা করুন। কারণ, লজ্জাবোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। যা কল্যাণই কল্যাণ এবং তা ঈমানেরও একটি বিশেষ অঙ্গ বটে। লজ্জাবোধ মানুষকে ভালো কাজ করতে উৎসাহ যোগায় এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে।

রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় কারা

 প্রশ্ন: হাদীসে এসেছে, আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ইসলামের দৃষ্টিতে সে সব আত্মীয় কারা?

——————————
উত্তর:
ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বলতে বুঝায়, মা ও বাবার দিক থেকে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দেরকে। সুতরাং –
? মা, নানী, নানীর মা…দাদী, দাদীর মা… এবং তাদের উর্ধস্তন নারীগণ।
? দাদা, দাদার পিতা…, নানা, নানার পিতা… এবং তাদের উর্ধস্তন পুরুষগণ।
? ছেলে, মেয়ে, তাদের সন্তান-সন্তুতি এবং তাদের অধ:স্তন ব্যক্তিবর্গ।
? ভাই, বোন, তাদের সন্তান-সন্তুতি এবং তাদের অধ:স্তন ব্যক্তিবর্গ।
? চাচা, ফুফু, মামা, খালা এবং তাদের সন্তানগণ
এরা সবাই আরহাম বা রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়ের অন্তর্ভূক্ত। এদের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম কারণ বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَىٰ بِبَعْضٍ
“বস্তুতঃ যারা (রক্ত সম্পর্কীয়) আত্নীয়, আল্লাহর বিধান মতে তারা পরস্পর বেশী হকদার।” (সূরা আনফাল: ৭৫)
আর নবী সা. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন কারী জান্না‌তে প্র‌বেশ কর‌বে না বলে ঘোষণা করেছেন। যেমন,
জুবাইর বিন মুতঈম (রা) থে‌কে ব‌র্ণিত যে, তি‌নি নাবী (স) কে বল‌তে শু‌নে‌ছেন যে,
(لا يدخل الجنة قاطع الرحم)
“আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্না‌তে প্র‌বেশ কর‌বে না।” [বুখারী ও মুস‌লিম]
এছাড়া ও মর্মে বহু হাদীস রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, স্ত্রীর নিকটাত্মীয়গণ স্বামীর নিকটাত্মীয় নয়। অনুরূপভাবে স্বামীর আত্মীয়গণ স্ত্রীর নিকটাত্মীয় নয়। ত‌বে তাদেরকে সাহায্য সহ‌যে‌া‌গিতা কর‌া এবং তাদের সাথে সদারণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে এটি ভা‌লো কা‌জের অন্তর্ভুক্ত এবং এ মাধ্যমে সওয়াব হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তওফিক দানকারী।
আল্লাহু আলাম।
____
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।।

Translate