Wednesday, December 1, 2021

নারী ও পুরুষের মেহেদী ব্যবহার সম্পর্কে হাদীস কি বলে

 *প্রশ্নঃ*

*পুরুষ হাতে মেহেদী ব্যবহার করতে পারবে কি*?

*বিয়ের সময় পুরুষ বা বর হাতে মেহেদী ব্যবহার করতে পারবে কী*?

*উত্তরঃ*

পুরুষদের জন্য বিয়ের সময় হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয নেই। বরং সাজ-সজ্জার উদ্যেশ্যে তারা কখনও হাতে-পায়ে মেহেদী লাগাতে পারবে না। কারণ এটা এক ধরনের রঙ। আর পুরুষদের জন্য রঙ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم طيب الرجال ما ظهر ريحه وخفي لونه وطيب النساء ما ظهر لونه وخفي ريحه

আবূ হুরাইরাহ রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের সুগন্ধি এমন হবে যার সুগন্ধ প্রকাশ পায় কিন্তু রঙ গোপন থাকে এবং নারীর সুগন্ধি এমন হবে যার রঙ প্রকাশ পায় কিন্তু সুগন্ধ গোপন থাকে। ( তিরমিযী হাদীস নং ২৭৮৭)

তবে চুল ও দাঁড়িতে ব্যবহার করতে পারবে। আর চিকিৎসার প্রয়োজনে যেকোনো স্থানে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েজ আছে। (তিরমিযী হাদীস নং ২৩৪১

*আবূ দাউদ হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৬*

*নারীদের হাত মেহেদী ব্যবহার করা*
بَابٌ فِي الْخِضَابِ لِلنِّسَاءِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصُّورِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا مُطِيعُ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ عِصْمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: أَوْمَتْ امْرَأَةٌ مِنْ وَرَاءِ سِتْرٍ بِيَدِهَا، كِتَابٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَبَضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ، فَقَالَ: مَا أَدْرِي أَيَدُ رَجُلٍ، أَمْ يَدُ امْرَأَةٍ؟ قَالَتْ: بَلِ امْرَأَةٌ، قَالَ: لَوْ كُنْتِ امْرَأَةً لَغَيَّرْتِ أَظْفَارَكِ يَعْنِي بِالْحِنَّاءِ حسن
৪১৬৬। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা পর্দার আড়াল থেকে একটি কিতাব হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে বাড়িয়ে দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত না বাড়িয়ে বললেনঃ আমি বুঝতে পারছি না এটা কোনো পুরুষের হাত না কি নারীর হাত? সে বললো, বরং নারীর হাত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি মহিলা হলে অবশ্যই তোমার নখগুলো মেহেদীর রঙ দ্বারা রঞ্জিত করতে।[1]

হাসান।

[1]. নাসায়ী, আহমাদ। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

দাড়িতে খেজাব করার সহীহ হাদীস

 মেহেদির খেযাব:

১/৩৬২১। *আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইহূদী ও খৃস্টানরা খেযাব ব্যবহার করে না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করো*।

*সহীহুল বুখারী ৩৪৬২, ৫৮৯৯, মুসলিম ২১০৩, নাসায়ী ৫২৬৯, ৫০৭১, ৫০৭২, আবূ দাউদ ৪২০৩, আহমাদ ৭২৩২. ৭৪৮৯, ৮০২২, ৮৯৫৬, গায়াতুল মারাম ১০৪, হিজাবুল মারআহ ৯৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ*।
بَاب الْخِضَابِ بِالْحِنَّاءِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعَ أَبَا سَلَمَةَ، وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، يُخْبِرَانِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ إِنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى لاَ يَصْبُغُونَ فَخَالِفُوهُمْ ‏”‏ ‏.‏
*হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)*

২/৩৬২২। *আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যেসব জিনিস দিয়ে তোমরা বার্ধক্যকে পরিবর্তন করতে পারো তার মধ্যে মেহেদি ও কাতাম হলো সর্বোত্তম*।

*তিরমিযী ১৭৫৩, আবূ দাউদ ৪২০৫, গায়াতুল মারাম ১০৭, সহীহাহ ১৫০৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ*।
بَاب الْخِضَابِ بِالْحِنَّاءِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الأَجْلَحِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِنَّ أَحْسَنَ مَا غَيَّرْتُمْ بِهِ الشَّيْبَ الْحِنَّاءُ وَالْكَتَمُ ‏”‏ ‏.‏
*হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)*

৩/৩৬২৩। *উসমান ইবনে মাওহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামা (রাঃ) -এর নিকট প্রবেশ করলাম। রাবী বলেন, তিনি আমার সামনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু চুল বের করলেন, যা মেহেদি ও কাতাম দ্বারা রঞ্জিত ছিল*।

*সহীহুল বুখারী ৫৮৯৬, আহমাদ ২৫৯৯৫, ২৬১৭৩, মুখতাসারুশ শামাইল ৩৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ*।
بَاب الْخِضَابِ بِالْحِنَّاءِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سَلاَّمُ بْنُ أَبِي مُطِيعٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مَوْهَبٍ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ ‏.‏ قَالَ فَأَخْرَجَتْ إِلَىَّ شَعَرًا مِنْ شَعَرِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَخْضُوبًا بِالْحِنَّاءِ وَالْكَتَمِ ‏.‏
*হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)*

*হলুদ রংয়ের খেযাব ব্যবহার*

১/৩৬২৬। *সাঈদ ইবনে আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে জুরাইজ (রাঃ) ইবনে উমার (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, আমি তো আপনাকে ওয়ারস ঘাসের রং দিয়ে আপনার দাড়ি রঞ্জিত করতে দেখছি। ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আমার দাড়ি হলুদ রংয়ে রঞ্জিত করার কারণ এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর দাড়ি হলুদ রংয়ে রঞ্জিত করতে দেখেছি*।

*সহীহুল বুখারী ১৬৬, ৫৮৫১, মুসলিম ১১৮৭, নাসায়ী ৫০৮৫, ৫২৪৪, আবূ দাউদ ১৭৭২, ৪০৬৪, ৪২১০, আহমাদ ৪৬৫৮, ৫৩১৬, ৫৮৬০, ৪৯০৭, মুয়াত্তা মালেক ৭৪১, সহীহ আবু দাউদ ১৫৫৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ*।
بَاب الْخِضَابِ بِالصُّفْرَةِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ عُبَيْدَ بْنَ جُرَيْجٍ، سَأَلَ ابْنَ عُمَرَ قَالَ رَأَيْتُكَ تُصَفِّرُ لِحْيَتَكَ بِالْوَرْسِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ أَمَّا تَصْفِيرِي لِحْيَتِي فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَفِّرُ لِحْيَتَهُ ‏.‏

*হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)*

সর্বশেষ আল্লাহ্‌র পা মুবারাক দিয়ে জাহান্নাম পরিপূর্ণ করবেন

 (৭০৬৫) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ….. আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা জাহান্নাম ও জান্নাত বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লো। জাহান্নাম বলল, অহংকারী এবং প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পন্ন লোকেরা আমার মাঝে প্রবেশ করবে। জান্নাত বলল, আমার কি হলো, মানুষের মাঝে যারা দুর্বল, নীচু স্তরের এবং অক্ষম, তারাই আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তা’আলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমাত, আমার বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা রহমাত বর্ষণ করব। তারপর তিনি জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব, আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা ‘আযাব দিব। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভর্তির ব্যবস্থা থাকবে। এতদসত্ত্বেও জাহান্নাম পূর্ণ হবে না। *তাই আল্লাহ তা’আলা এর উপরে স্বীয় পা মুবারাক রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, যথেষ্ট হয়ে গেছে। এ সময়ই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে* এবং একাংশ অপরাংশের সাথে মিলে যাবে অর্থাৎ সঙ্কুচিত হয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯১০, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৬৭)

باب النَّارُ يَدْخُلُهَا الْجَبَّارُونَ وَالْجَنَّةُ يَدْخُلُهَا الضُّعَفَاءُ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنِي وَرْقَاءُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ تَحَاجَّتِ النَّارُ وَالْجَنَّةُ فَقَالَتِ النَّارُ أُوثِرْتُ بِالْمُتَكَبِّرِينَ وَالْمُتَجَبِّرِينَ ‏.‏ وَقَالَتِ الْجَنَّةُ فَمَا لِي لاَ يَدْخُلُنِي إِلاَّ ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَسَقَطُهُمْ وَعَجَزُهُمْ ‏.‏ فَقَالَ اللَّهُ لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي ‏.‏ وَقَالَ لِلنَّارِ أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمْ مِلْؤُهَا فَأَمَّا النَّارُ فَلاَ تَمْتَلِئُ ‏.‏ فَيَضَعُ قَدَمَهُ عَلَيْهَا فَتَقُولُ قَطْ قَطْ ‏.‏ فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ ‏”‏ ‏.‏
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
===========================
(৭০৬৭) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ….. হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হলো এই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর তর্কে লিপ্ত হয়েছে। জাহান্নাম বলল, প্রভাবপ্রতিপত্তি ও অহংকারীদের জন্য আমাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জান্নাত বলল, আমার কি হলো, আমার মাঝে কেবল দুর্বল ও নগণ্য লোকেরাই প্রবেশ করবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তা’আলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমাত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে চাই তার প্রতি আমি রহমাত নাযিল করব এবং তিনি জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব। তোমার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা আযাব দিব। বস্তুতঃ তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভরপুর করার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু জাহান্নাম কিছুতেই পরিপূর্ণ হবে না। *পরিশেষে তিনি স্বীয় পা মুবারাক তার উপরে রাখলে তখন জাহান্নাম বলবে, হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে।* তখনই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে এবং এর একাংশ অন্য অংশের সাথে মিলে গিয়ে সংকুচিত হয়ে আসবে। আল্লাহ তা’আলা তার সৃষ্টির কারো উপর অবিচার করবেন না। আর জান্নাত পরিপূর্ণ করার জন্য আল্লাহ তা’আলা অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯১২, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৬৯)
باب النَّارُ يَدْخُلُهَا الْجَبَّارُونَ وَالْجَنَّةُ يَدْخُلُهَا الضُّعَفَاءُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ تَحَاجَّتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَقَالَتِ النَّارُ أُوثِرْتُ بِالْمُتَكَبِّرِينَ وَالْمُتَجَبِّرِينَ ‏.‏ وَقَالَتِ الْجَنَّةُ فَمَا لِي لاَ يَدْخُلُنِي إِلاَّ ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَسَقَطُهُمْ وَغِرَّتُهُمْ قَالَ اللَّهُ لِلْجَنَّةِ إِنَّمَا أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي ‏.‏ وَقَالَ لِلنَّارِ إِنَّمَا أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي ‏.‏ وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمَا مِلْؤُهَا فَأَمَّا النَّارُ فَلاَ تَمْتَلِئُ حَتَّى يَضَعَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى رِجْلَهُ تَقُولُ قَطْ قَطْ قَطْ ‏.‏ فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَلاَ يَظْلِمُ اللَّهُ مِنْ خَلْقِهِ أَحَدًا وَأَمَّا الْجَنَّةُ فَإِنَّ اللَّهَ يُنْشِئُ لَهَا خَلْقًا ‏”‏ ‏.‏
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
===========================
(৭০৭১) মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ আর রুমী (রহঃ) মহান আল্লাহর বাণী يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ‏ -এর ব্যাখ্যায় আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে উল্লেখ করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অনবরত *(জাহান্নামীদেরকে) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তবুও জাহান্নাম বলবে, আরো বেশি আছে কি? অবশেষে আল্লাহ রববুল আলামীন এতে আপন পা মুবারাক স্থাপন করবেন। তখন এর একাংশ অপরাংশের সাথে মিলে গিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং বলবে, তোমার ইজ্জত ও অনুগ্রহের কসম হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে।*

পক্ষান্তরে জান্নাতের মধ্যস্থলে কিছু জায়গা অব্যাহতভাবে খালি পড়ে থাকবে। পরিশেষে আল্লাহ তা’আলা এর জন্য অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং শূন্যস্থানে তাদেরকে আবাসের ব্যবস্থা করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯১৬, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৭৩)
باب النَّارُ يَدْخُلُهَا الْجَبَّارُونَ وَالْجَنَّةُ يَدْخُلُهَا الضُّعَفَاءُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّزِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏ يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ‏}‏ فَأَخْبَرَنَا عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏”‏ لاَ تَزَالُ جَهَنَّمُ يُلْقَى فِيهَا وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا قَدَمَهُ فَيَنْزَوِي بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَتَقُولُ قَطْ قَطْ بِعِزَّتِكَ وَكَرَمِكَ ‏.‏ وَلاَ يَزَالُ فِي الْجَنَّةِ فَضْلٌ حَتَّى يُنْشِئَ اللَّهُ لَهَا خَلْقًا فَيُسْكِنَهُمْ فَضْلَ الْجَنَّةِ ‏”‏ ‏.‏

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================
*সহীহ মুসলিম হাদীস* *নং/*৭০৬৫*/৭০৬৭/
*৭০৭১*

তাওহীদ ও শির্ক বিষয়ক হাদীসসমূহ

 📚(১) মুআয বিন জাবাল (রাঃ) বলেন, একদা আমি উফাইর নামক এক গাধার পিঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সওয়ার ছিলাম। তিনি বললেন, ‘‘হে মুআয! তুমি কি জান, বান্দার উপর আল্লাহর অধিকার এবং আল্লাহর উপর বান্দার অধিকার কি?’’ আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসূল অধিক জানেন। তিনি বললেন, ‘‘বান্দার উপর আল্লাহর অধিকার হল এই যে, বান্দা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার অধিকার হল এই যে, তাঁর সাথে যে কোন কিছু কে শরীক করে না তাকে আযাব না দেওয়া।’’ (বুখারী হা. ২৮৫৬, মুসলিম হা. ১৫৩)

عَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ كُنْتُ رِدْفَ رَسُولِ اللهِ ﷺ عَلَى حِمَارٍ يُقَالُ لَهُ عُفَيْرٌ قَالَ فَقَالَ يَا مُعَاذُ تَدْرِىْ مَا حَقُّ اللهِ عَلَى الْعِبَادِ وَمَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللهِ قَالَ قُلْتُ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّ حَقَّ اللهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَّعْبُدُوا اللهَ وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَحَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ لَّا يُعَذِّبَ مَنْ لَّا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================

📚(২) উসমান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ‘আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই’ এ কথা জানা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাত প্রবেশ করবে।’’ (মুসলিম ১৪৫, আহমাদ ৪৬৪)

عَن عُثْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================

📚(৩) মুআয বিন জাবাল (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যার শেষ কথা ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’ (আহমাদ ২২০৩৪, ২২১২৭, আবূ দাঊদ ৩১১৮, হাকেম ১২৯৯, সহীহুল জামে’ ৬৪৭৯)

عَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ كَانَ آخِرُ كَلاَمِهِ لَا إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================

📚(৪) মুআয (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি সত্য-চিত্তে (ইখলাসের সাথে) ‘‘আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু, অআন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’’ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’ (আহমাদ ২২০০৩, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৭, সিঃ সহীহাহ ২২৭৮)

عَن مُعَاذٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صَادِقًا مِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================

📚(৫) মুসাইয়িব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিতৃব্য আবু তালেবের যখন মরণকাল উপস্থিত হয়, তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন, ‘হে পিতৃব্য! আপনি ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলুন -এটা এমন এক কালিমা যাকে আল্লাহর নিকট আপনার (মুক্তির) জন্য দলীল স্বরূপ পেশ করব।’ (বুখারী ৩৮৮৪, ৪৭৭২, ৬৬৮১)

عَن الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا طَالِبٍ لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ دَخَلَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ ﷺ وَعَندَهُ أَبُو جَهْلٍ فَقَالَ أَيْ عَمِّ قُلْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ كَلِمَةً أُحَاجُّ لَكَ بِهَا عَندَ اللهِ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================

📚(৬) আবূ মালিক তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই) বলবে এবং আল্লাহ ব্যতীত পূজ্যমান যাবতীয় ব্যক্তি ও বস্ত্তকে অসবীকার ও অমান্য করবে, তার জান ও মাল অবৈধ হয়ে যাবে। (অর্থাৎ সে ইসলামী রাষ্ট্রে নিরাপত্তা লাভ করবে।) আর তার হিসাব আল্লাহর উপর।’’ (মুসলিম ১৩৯)

عَن أَبِى مَالِكٍ عَنْ أَبيْهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ قَالَ لَا إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُوْنِ اللهِ حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
===========================

📚(৭) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘(পরকালে) আল্লাহ বলবেন, সেই ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে যবের দানা পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে। সেই ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে অণু (বা ভুট্টা) পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে। আর সেই ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে গমের দানা পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে’’ (আহমাদ ৩/২৭৬, তিরমিযী ২৫৯৩, এ হাদীসের মূল রয়েছে সহীহায়নে)

عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَخْرِجُوا مِنْ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ شَعِيرَةً أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ ذَرَّةً أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ بُرَّةً

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
===========================
📚(৮) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘(কিয়ামতের দিন) আল্লাহ আমার উম্মতের একটি লোককে বেছে নিয়ে তার সামনে নিরানব্বইটি (আমল-নামা) রেজিষ্টার বিছিয়ে দেবেন; প্রত্যেকটি রেজিষ্টার দৃষ্টি বরাবর লম্বা! অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘তুমি কি লিখিত পাপের কোন কিছু অস্বীকার কর? আমার আমল সংরক্ষক ফিরিশতা কি তোমার প্রতি কোন অন্যায় করেছে?’ লোকটি বলবে, ‘না, হে আমার প্রতিপালক!’ আল্লাহ বলবেন, তোমার কি কোন পেশ করার মত ওযর আছে অথবা তোমার কি কোন নেকী আছে?’ লোকটি হতবাক হয়ে বলবে, ‘না, হে আমার প্রতিপালক!’ আল্লাহ বলবেন, ‘অবশ্যই আমাদের কাছে তোমার একটি নেকী আছে। আর আজ তোমার প্রতি কোন প্রকার অবিচার করা হবে না।’ অতঃপর একটি কার্ড বের করা হবে, যাতে লেখা থাকবে, ‘আশহাদু আল লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ অআন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরসূলুহ।’ আল্লাহ মীযান (দাঁড়িপাল্লা) আনতে আদেশ করবেন। লোকটি বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! এতগুলি বড় বড় রেজিষ্টারের কাছে এই কার্ডটির ওজন আর কী হবে?’ আল্লাহ বলবেন, ‘তোমার প্রতি অবিচার করা হবে না।’ অতঃপর রেজিষ্টারগুলোকে দাঁড়ির এক পাল্লায় এবং ঐ কার্ডটিকে অন্য পাল্লায় চড়ানো হবে। দেখা যাবে, রেজিষ্টারগুলোর ওজন হাল্কা এবং কার্ডটির ওজন ভারী হয়ে গেছে! যেহেতু আল্লাহর নামের চেয়ে অন্য কিছু ভারী নয়।’’ (আহমাদ ৬৯৯৪, তিরমিযী ২৬৩৯, ইবনে মাজাহ ৪৩০০, হাকেম১/৪৬)

عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الله عَزَّ وَجَلَّ يَسْتَخْلِصُ رَجُلاً مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُؤُوسِ الْخَلاَئِقِ يَوْمَ الْقيَامَةِ فَيَنْشُرُ عَلَيْهِ تِسْعَةً َوتسْعِينَ سِجِلاًّ كُلُّ سِجِلٍّ مَدُّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ : أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا ؟ أَظَلَمَتْكَ كَتَبَتِي الْحَافِظونَ ؟ قَالَ : لاَ يَا رَبِّ فَيَقُولُ : أَلَكَ عُذْرٌ أَوْ حَسَنَةٌ ؟ فَيُبْهَتُ الرَّجُلُ فَيَقُوْلُ : لاَ يَا رَبِّ فَيَقُولُ بَلَى إِنَّ لَكَ عَندَنَا حَسَنَةً وَاحِدَةً لاَظُلْمَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ فَتُخْرَجُ لَهُ بِطَاقَةٌ فِيهَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إلاَّ الله وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ : أَحْضِرُوهُ فَيَقُولُ : يَارَبِّ مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلاَّتِ ؟ فَيُقَالُ : إِنَّكَ لاَ تُظْلَمُ قَالَ : فَتُوضَعُ السِّجِلاتُ فِي كِفَّةٍ قَال : فَطَاشَتِ السِّجِلاَّتُ وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ وَلاَ يَثْقُلُ معَ اسْمِ اللهِ شَيْءٌ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================

📚(৯) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘নূহ (আঃ) মৃত্যুর সময় তাঁর দুই ছেলেকে অসিয়ত করে বললেন, —আমি তোমাকে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (বলার) আদেশ করছি। যেহেতু যদি সাত আসমান এবং সাত যমীনকে দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় রাখা হয় এবং ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’কে অপর পাল্লায় রাখা হয়, তাহলে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র পাল্লা বেশী ভারী হবে। যদি সাত আসমান এবং সাত যমীন নিরেট গোলাকার বস্ত্ত হয়, তাহলেও ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তা চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে।—’’ (আহমাদ ৭১০১, ত্বাবরানী, বায্যার, মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২১৯, সিঃ সহীহাহ ১৩৪)

عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ نُوحًا عَلَيْهِ السَّلَام لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ دَعَا ابْنَيْهِ فَقَالَ إِنِّي قَاصِرٌ عَلَيْكُمَا الْوَصِيَّةَ آمُرُكُمَا بِاثْنَتَيْنِ وَأَنْهَاكُمَا عَن اثْنَتَيْنِ أَنْهَاكُمَا عَن الشِّرْكِ وَالْكِبْرِ وَآمُرُكُمَا بِلَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ فَإِنَّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا فِيهِمَا لَوْ وُضِعَتْ فِي كِفَّةِ الْمِيزَانِ وَوُضِعَتْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ فِي الْكِفَّةِ الْأُخْرَى كَانَتْ أَرْجَحَ وَلَوْ أَنَّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا حَلْقَةً فَوُضِعَتْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ عَلَيْهَا لَفَصَمَتْهَا أَوْ لَقَصَمَتْهَا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
===========================

📚(১০) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন কিছুকে আল্লাহর শরীক (শির্ক) না করে মারা যাবে, সে ব্যক্তি জান্নাত্ প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি কোন কিছুকে আল্লাহর শরীক (শির্ক) করে মারা যাবে, সে ব্যক্তি দোযখ প্রবেশ করবে।’’ (মুসলিম ২৭৯)

عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
===========================

📚(১১) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সাতটি সর্বনাশী কর্ম হতে দূরে থাক।’’ সকলে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! তা কী কী?’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহর সাথে শির্ক করা, যাদু করা, ন্যায় সঙ্গত অধিকার ছাড়া আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করা, সূদ খাওয়া, এতীমের মাল ভক্ষণ করা, (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) যুদ্ধের দিন পলায়ন করা এবং সতী উদাসীনা মুমিনা নারীর চরিত্রে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।’’ (বুখারী ২৭৬৬, ৬৮৫৭, মুসলিম ২৭২, আবূ দাউদ, নাসাঈ)

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا هُنَّ قَالَ الشِّرْكُ بِاللهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِى حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَأَكْلُ الرِّبَا وَالتَّوَلِّى يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلاَتِ الْمُؤْمِنَاتِ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
===========================

📚(১২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, ‘‘তোমার নিকটতম স্বজনবর্গকে তুমি সতর্ক ক’রে দাও।’’ (শুআ’রাঃ ২১৪) এই আয়াত যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আত্মীয় ও বংশকে সম্বোধন করে বললেন, ‘‘হে কুরাইশদল! তোমরা আল্লাহর নিকট নিজেদেরকে বাঁচিয়ে নাও, আমি তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট কোন উপকার করতে পারব না। হে বানী আব্দুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর দরবারে তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে (চাচা) আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর দরবারে আপনার কোন কাজে আসব না। হে আল্লাহর রসূলের ফুফু সাফিয়্যাহ! আমি আপনার জন্য আল্লাহর দরবারে কোন উপকারে আসব না। হে আল্লাহর রসূলের বেটী ফাতেমা! আমার কাছে যে ধন-সম্পদ চাইবে চেয়ে নাও, আমি আল্লাহর কাছে তোমার কোন উপকার করতে পারব না।’’ (বুখারী ৩৫২৭, মুসলিম ৫২২, ৫২৫)

عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ حِينَ أُنْزِلَ عَلَيْهِ (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ) يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ اللهِ لاَ أُغْنِى عَنكُمْ مِنَ اللهِ شَيْئًا يَا بَنِى عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لاَ أُغْنِى عَنكُمْ مِنَ اللهِ شَيْئًا يَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لاَ أُغْنِى عَنكَ مِنَ اللهِ شَيْئًا يَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللهِ لاَ أُغْنِى عَنكِ مِنَ اللهِ شَيْئًا يَا فَاطِمَةُ بِنْتَ رَسُولِ اللهِ سَلِينِى بِمَا شِئْتِ لاَ أُغْنِى عَنكِ مِنَ اللهِ شَيْئًا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================

📚(১৩) ইবনে আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত, একদা এক ব্যক্তি কোন ব্যাপারে তাঁকে বলল, ‘আল্লাহ ও আপনি যা চেয়েছেন (তাই হয়েছে)।’ তা শুনে তিনি বললেন, ‘‘তুমি তো আল্লাহর সঙ্গে আমাকে শরীক (বা সমকক্ষ) করে ফেললে! না; বরং আল্লাহ একাই যা চেয়েছেন, তাই হয়েছে।’’ (আহমাদ ১৮৩৯, বুখারীর আদব ৭৮৩, ইবনে মাজাহ ২১১৭, বাইহাক্বী ৫৬০৩, সিঃ সহীহাহ ১৩৯)

عَن ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ ﷺ مَا شَاءَ اللهُ وَشِئْتَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ أَجَعَلْتَنِي وَاللهِ عَدْلًا بَلْ مَا شَاءَ اللهُ وَحْدَهُ

হাদিসের মানঃ সহিহ
=========================

📚(১৪) উবাদাহ বিন সবামেত কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মরণের পূর্বে কখনই তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবে না।’’ (আহমাদ ২২৭৬৪, নাসাঈর কুবরা ৭৭৬৪, সহীহুল জামে’ ২৪৫৯)

عَن عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وأنكمْ لنْ تَرَوْا رَبَّكمْ حَتَّى تَمُوتوا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
===========================

📚(১৫) উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা আমাকে নিয়ে (আমার তা’যীমে) বাড়াবাড়ি করো না, যেমন খ্রিষ্টানরা ঈসা ইবনে মারয়্যামকে নিয়ে করেছে। আমি তো আল্লাহর দাস মাত্র। অতএব তোমরা আমাকে আল্লাহর দাস ও তাঁর রসূলই বলো।’’ (বুখারী, ৩৪৪৫, মিশকাত ৪৮৯৭)

عَن عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ فَقُولُوا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================

📚(১৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘—কিয়ামতে লোকেরা সবাই সুপারিশের জন্য আদম, নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা নবীর কাছে যাবে। তাঁরা একে একে সকলে ওযর পেশ করলে অবশেষে লোকেরা শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলবে, ‘হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর রসূল। আপনি আখেরী নবী। আল্লাহ আপনার পূর্বাপর যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। অতএব আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না, আমরা কি (ভয়াবহ) দুঃখ ও যন্ত্রণা ভোগ করছি।’ তখন তিনি চলে যাবেন এবং আরশের নীচে তাঁর প্রতিপালকের জন্য সিজদাবনত হবেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর প্রশংসা ও গুণগানের জন্য তাঁর হৃদয়কে এমন উন্মুক্ত করে দেবেন, যেমন ইতিপূর্বে আর কারো জন্য করেননি। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, ‘হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও, চাও, তোমাকে দেওয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হবে।’ তখন শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠিয়ে বলবেন, ‘‘আমার উম্মতকে (রক্ষা করুন) হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মতকে (রক্ষা করুন) হে প্রতিপালক! আমার উম্মতকে (রক্ষা করুন) হে প্রতিপালক!ž’’ (বুখারী ৩৩৪০, মুসলিম ৫০১)

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَيَأْتُونِّى فَيَقُولُونَ يَا مُحَمَّدُ أَنْتَ رَسُولُ اللهِ وَخَاتَمُ الأَنْبِيَاءِ وَغَفَرَ اللهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلاَ تَرَى مَا نَحْنُ فِيهِ أَلاَ تَرَى مَا قَدْ بَلَغَنَا فَأَنْطَلِقُ فَآتِى تَحْتَ الْعَرْشِ فَأَقَعُ سَاجِدًا لِرَبِّى ثُمَّ يَفْتَحُ اللهُ عَلَىَّ وَيُلْهِمُنِى مِنْ مَحَامِدِهِ وَحُسْنِ الثَّنَاءِ عَلَيْهِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحْهُ لأَحَدٍ قَبْلِى ثُمَّ يُقَالُ يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ سَلْ تُعْطَهْ اشْفَعْ تُشَفَّعْ فَأَرْفَعُ رَأْسِى فَأَقُولُ يَا رَبِّ أُمَّتِى أُمَّتِى

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

===========================

📚(১৭) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি একদা (সওয়ারীর উপর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে (বসে) ছিলাম। তিনি বললেন, ‘‘ওহে কিশোর! আমি তোমাকে কয়েকটি (গুরুত্বপূর্ণ কথা( শিক্ষা দেব (তুমি সেগুলো স্মরণ রেখো)। তুমি আল্লাহর (বিধানসমূহের) রক্ষণাবেক্ষণ কর (তাহলে) আল্লাহও তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। তুমি আল্লাহর (অধিকারসমূহ) স্মরণ রাখো, তাহলে তুমি তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে। যখন তুমি চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন তুমি সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর। আর এ কথা জেনে রাখ যে, যদি সমস্ত উম্মত তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার (ভাগ্যে) লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার (ভাগ্যে) লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ (ভাগ্যলিপি) শুকিয়ে গেছে।’’ (তিরমিযী ২৫১৬)

عَن ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : كُنْتُ خَلْفَ النَّبيِّ ﷺ يَوماً فَقَالَ يَا غُلامُ إنِّي أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ : احْفَظِ اللهَ يَحْفَظْكَ احْفَظِ اللهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ إِذَا سَألْتَ فَاسأَلِ الله وإِذَا اسْتَعَنتَ فَاسْتَعَن باللهِ وَاعْلَمْ : أنَّ الأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إلاَّ بِشَيءٍ قَدْ كَتَبهُ اللهُ لَكَ وَإِن اجتَمَعُوا عَلَى أنْ يَضُرُّوكَ بِشَيءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إلاَّ بِشَيءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ رُفِعَتِ الأَقْلاَمُ وَجَفَّتِ الصُّحفُ رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن صحيح

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ফিৎনা কাকে বলে ?ইসলাম ধর্মে ফিৎনার সংজ্ঞা কি ?

 *** ফিৎনা ” فتنة ” শব্দটি পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বহুবার উচ্চারিত হয়েছে । বহুবচন ” فتن ” … ব্যাপক অর্থে ব্যবহ্রত হয় ।

*** ফিৎনা অর্থ পরীক্ষা । আল্লাহপাক বলেন ,
إنما اموالكم و اولادكم فتنة
সূরা আত তাগাবুন ১৫

*** ফিৎনা অর্থ আলামত / নিদর্শন । বোখারি- মুসলিম শরীফ গুলোতে কেয়ামতের আলামত অধ্যায়কে كتاب الفتن বলা হয়েছে ।

*** ফিৎনা অর্থ দাঙ্গামা- হাঙ্গামা , সন্ত্রাস , সংঘর্ষ , হানাহানি , গালাগালি , মারামারি , বাড়াবাড়ি ইত্যাদি । আল্লাহপাক বলেন ,
والفتنة أشد من القتل
সূরা আল্ বাক্বারা ১৯১
و الفتنة اكبر من القتل
সূরা আল্ বাক্বারা ২১৭
এখানে ফিৎনা অর্থ الفتنة بمعني الفساد

*** স্বামী/ স্ত্রী , ভাই- বোন , ভাই – ভাইদের মধ্যে যখন কোন কারণে মনমালিন্যতা শুরু হয় , তা’ সূচনাতেই Stop করা না গেলে ফিৎনার রূপ নেয় ।

*** ফরজ ইবাদত ও আমলগুলো বাদ দিয়ে যখন ইসলাম ধর্মের খেদমতের দাবীদার দলগুলো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হয় , সেখান থেকে ফিৎনার উৎপত্তি ঘটে । আর এ ফিৎনা তাঁদেরকে পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায় ।

*** শরিয়তে ফিৎনা সৃষ্টির হুকুম হলো কবিরা গুনাহ । আল্লাহপাক এ গুনাহটিকে হত্যার চেয়েও জঘন্য বলেছেন । মহানবী সা: বলেছেন , আমি সে ব্যক্তিকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি , যে সত্যের উপর থাকা সত্ত্বেও বিবাদের আশংকায় নীরব থাকে ।”
আবুদাউদ শরীফ ৪৮০০
মহানবী সা: বলেছেন , এমন একটি সময় অত্যাসন্ন , যখন ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম হবে । জাগ্রত ব্যক্তি উপবিষ্ট ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম হবে । উপবিষ্ট ব্যক্তি দন্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে । দন্ডায়মান ব্যক্তি হেঁটে চলা ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম হবে । হেঁটে চলা ব্যক্তি দৌড়ে চলা ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে । যে ফিৎনায় লিপ্ত হবে , উক্ত ফিৎনা তাকে ধ্বংস করে দেবে । ঐ সময়ে নিরাপদ স্হানে চলে যাও । ”

{সৌজন্যেঃ Mqm Saifullah Mehruzzaman}

Translate