তাগুত বলতে কী বুঝায়, তা কত প্রকার ও কী কী? যারা আল্লাহর বিধান ছাড়া মানব রচিত বিধান অনুযায়ী বিচার বা শাসন কার্য পরিচালনা করে তারা কি তাগুত?
Tuesday, August 19, 2025
তাগুত বলতে কী বুঝায় এবং তা কত প্রকার ও কী কী
❑ তাগুতের সংজ্ঞা বা পরিচয়:
ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেছেন:
مَعْنَى الطَّاغُوتِ مَا تَجَاوَزَ بِهِ الْعَبْدُ حَدَّهُ مِنْ مَعْبُودٍ أَوْ مَتْبُوعٍ أَوْ مُطَاعٍ
“তাগুতের অর্থ হলো, বান্দা যা কিছুতে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে। চাই সে ব্যক্তির পূজা-অর্চনা করা হোক বা অনুসরণ করা হোক বা আনুগত্য করা হোক।”
❑ তাগুতের প্রকারভেদ:
ইমাম ইবনুল কাইয়িম রাহ. আরও বলেছেন,
“وَالطَّوَاغِيتُ كَثِيرُونَ وَرُؤُوسُهُمْ خَمْسَةٌ: إِبْلِيسُ لَعَنَهُ اللهُ، وَمَنْ عُبِدَ وَهُوَ رَاضٍ، وَمَنْ دَعَا النَّاسَ إِلَى عِبَادَةِ نَفْسِهِ، وَمَنْ ادَّعَى شيئًا مِنْ عِلْمِ الْغَيْبِ، وَمَنْ حَكَمَ بِغَيْرِ مَا أَنْزَلَ اللهُ”
“তাগুত অনেক। আর তাদের প্রধান পাঁচটি:
১. অভিশপ্ত ইবলিস।
২. যে ব্যক্তির ইবাদত বা পূজা-অর্চনা করা হয় এবং সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে।
৩. যে মানুষকে নিজের ইবাদতের দিকে ডাকে।
৪. যে গায়েব (অদৃশ্য) কোনও কিছু জানার দাবি করে।
৫. এবং যে আল্লাহ যা নাজিল করেছেন (আল্লাহর কিতাব ও রসুলের সুন্নাহ) তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে (অর্থাৎ মানব রচিত আইন) দ্বারা বিচার ও শাসন কার্য পরিচালনা করে।”
❑ যে ব্যক্তি আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার বিরুদ্ধাচরণ করে মানব রচিত আইন-কানুন দ্বারা বিচার ও শাসন কার্য পরিচালনা করে সেও তাগুত। এর কারণ কী?
এর কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একটি শরিয়ত ও বিধানসমূহ নির্ধারণ করেছেন। তিনি ভালো জানেন কোনটি তাঁর বান্দাদের জন্য কল্যাণকর, কোনটি তাদেরকে অন্যায় বা ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত রাখে এবং কোনটি তাদের উপকার করে।
সুতরাং যখন কোনও ব্যক্তি আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার বিরোধিতা করে এবং আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে বিচার বা শাসন কার্য পরিচালনা করে, তখন সে তাগুত।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
“وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ”
“যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই ফাসেক।” [মায়িদা: ৪৭]
তিনি আরও বলেছেন:
“وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ”
“যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই জালিম।” [মায়িদা: ৪৫]
এবং তিনি আরও বলেছেন:
“وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ”
“যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফের।” [মায়িদা: ৪৪]
❑ আল্লাহর আইন ছাড়া মানব রচিত আইন দ্বারা বিচার ও শাসন কার্য পরিচালনার বিধান:
আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে বিচার করা সর্বসম্মতিক্রমে কুফর। এটি আয়াত এবং অন্যান্য বহু প্রমাণ থেকে স্পষ্ট, যা শানকিতি (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন:
«وبهذه النصوص السماوية التي ذكرنا يظهر غاية الظهور: أن الذين يتبعون القوانين الوضعية التي شرعها الشيطان على ألسنة أوليائه مخالفة لما شرعه الله جل وعلا على ألسنة رسله ﷺ، أنه لا يشك في كفرهم وشركهم إلا من طمس الله بصيرته، وأعماه عن نور الوحي مثلهم»
“আমরা যে সকল আসমানি দলিল উল্লেখ করেছি, তা থেকে চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হয় যে, যারা শয়তান কর্তৃক তার বন্ধুদের মুখে প্রণীত মানব-রচিত আইন অনুসরণ করে, যা আল্লাহ তায়ালা তাঁর রসুলদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমে প্রণীত বিধানের পরিপন্থী। তাদের কুফর ও শিরকের ব্যাপারে কেবল সেই ব্যক্তিই সন্দেহ করবে, যার অন্তর্দৃষ্টি আল্লাহ অন্ধ করে দিয়েছেন এবং যারা তাদের মতোই ওহীর আলো থেকে বঞ্চিত।” [দেখুন: শানকিতির তাফসিরে “আদওয়াউল বায়ান” (৩/২৫৯)] তবে এটি নিরঙ্কুশ কুফর নয় বরং এর বিধান ভিন্ন ভিন্ন হয় যেমনটি আলেমগণ উল্লেখ করেছেন।
والمراد بالطاغوت في الآية: كل ما عدل عن كتاب الله تعالى وسنة نبيه ﷺ إلى التحاكم إليه من نظم وقوانين وضعية أو تقاليد وعادات متوارثة أو رؤساء قبائل ليفصل بينهم بذلك، أو بما يراه زعيم الجماعة أو الكاهن-ومن ذلك يتبين: أن النظم التي وضعت ليتحاكم إليها مضاهاة لتشريع الله داخلة في معنى الطاغوت
“আয়াতে তাগুত বলতে বোঝানো হয়েছে, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হয়ে বিচার-ফায়সালার জন্য যেসব মানব-রচিত নিয়মকানুন, ঐতিহ্যগত প্রথা বা গোত্রপ্রধানদের কাছে যাওয়া হয়, যাতে তারা সে অনুযায়ী বা গোষ্ঠী প্রধান বা ভবিষ্যদ্বক্তার নিজস্ব মতানুযায়ী বিচার করে। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, যেসব আইন আল্লাহর বিধানের অনুকরণে বিচার করার জন্য প্রণীত হয়েছে, সেগুলো তাগুতের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। [শাইখ ইবনে বাজের সভাপতিত্বে “ফাতাওয়ায়ে লাজনাহ দায়িমাহ” (১/৭৮৪)]
আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে বিচার করার বিষয়টি একটি একক রূপ নয়:
যথা:
«والصحيح أن الحكم بغير ما أنزل الله يتناول الكفرين، الأصغر والأكبر بحسب حال الحاكم، فإنه إن اعتقد وجوب الحكم بما أنزل الله في هذه الواقعة، وعدل عنه عصياناً، مع اعترافه بأنه مستحق للعقوبة، فهذا كفر أصغر، وإن اعتقد أنه غير واجب، وأنه مخير فيه، مع تيقنه أنه حكم الله، فهذا كفر أكبر، وإن جهله وأخطأه فهذا مخطئ، له حكم المخطئين
“সঠিক কথা হলো, আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে বিচার করা দুটি কুফরকেই (ছোট কুফর ও বড় কুফর) অন্তর্ভুক্ত করে, বিচারকের অবস্থা অনুসারে। যদি সে বিশ্বাস করে যে, এই বিশেষ ঘটনায় আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা দিয়ে বিচার করা ওয়াজিব ছিল, কিন্তু সে অবাধ্যতা বশত তা থেকে সরে আসে এবং স্বীকার করে যে সে শাস্তির যোগ্য, তাহলে এটি কুফরে আসগর (ছোট কুফর)। আর যদি সে বিশ্বাস করে যে, এটি ওয়াজিব নয় এবং তার এ বিষয়ে ইখতিয়ার (পছন্দ) আছে, অথচ সে নিশ্চিত যে এটি আল্লাহর বিধান, তাহলে এটি কুফরে আকবর (বড় কুফর)। আর যদি সে এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকে এবং ভুল করে তাহলে সে একজন ভুল কারী, তার ভুল কারীদের মতোই বিধান।” [মাদারিজুস সালিকিন” (১/৩৪৬)] [ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) এর বিখ্যাত কিতাব ‘আল উসুলুস সালাসাহ’ (তিনটি মূলনীতি)-এর একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ ’তাক্বরিবুল উসুল ইলা সালাসাতিল উসুল’ কিতাব থেকে নেওয়া। ব্যাখ্যা কারক: ড. মনসুর বিন মুহাম্মদ আস-সাকুব] আল্লাহু আলাম। আল্লাহ সর্বোজ্ঞ।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনা:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
দাদা ও নানার আপন ভাই ও চাচাতো ভাই ও তাদের ছেলেরা কি মাহরাম
প্রশ্ন: একজন নারীদের দাদার আপন ভাইয়েরা বা চাচাতো ভাইয়েরা আর তাদের ছেলেরা কি মাহরাম? অনুরূপভাবে নানার আপন ভাইয়েরা বা চাচাতো ভাইয়েরা আর তাদের ছেলেরা কি মাহরাম?
উত্তর: একজন নারীর আপন দাদা এবং তাদের আপন ভাইয়েরা সবাই মাহরাম। আর আপন দাদার ছেলেরা (চাচারা) মাহরাম। কিন্তু দাদার ভাইয়ের ছেলেরা মাহরাম নয়। অনুরূপভাবে দাদার চাচাতো ভাইয়েরাও মাহরাম নয়। নানা এবং তার ছেলেরা (মামারা) মাহরাম। আর নানার আপন ভাইয়েরাও মাহরাম। কিন্তু নানার ভাইদের ছেলেরা মাহরাম নয়। অনুরূপভাবে নানার চাচাতো ভাইয়েরাও মাহরাম নয়।
সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
১. দাদা ও তাঁর ভাইয়েরা= মাহরাম। 
২. দাদার ছেলেরা (চাচারা)= মাহরাম। 
৩. দাদার ভাইয়ের ছেলেরা= মাহরাম নয়। 
৪. দাদার চাচাতো ভাইয়েরা= মাহরাম নয়।
৫. নানা ও তার ভাইয়েরা= মাহরাম। 
৬. নানার ছেলেরা [মামারা]= মাহরাম। 
৭. নানার ভাইদের ছেলেরা = মাহরাম নয়। 
৮. নানার চাচাতো ভাইয়েরা=মাহরাম নয়। 
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
মন্তব্যে উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
স্ত্রীর আগের স্বামীর সন্তানের সাথে বর্তমান স্বামীর আগের স্ত্রীর সন্তানের বিয়ে
প্রশ্ন: স্ত্রীর আগের স্বামীর সন্তানের সাথে কি বর্তমান স্বামীর আগের স্ত্রীর সন্তানের বিয়ে বৈধ কি?
উত্তর: আপনার বর্ণিত সম্পর্কটি হল, স্ত্রীর আগের স্বামীর সন্তান এবং বর্তমান স্বামীর আগের স্ত্রীর সন্তান। এদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক নেই, দুধের সম্পর্ক নেই। তারা সৎ ভাই বোনও নয়। কারণ সৎভাই বোন হওয়ার জন্য একই পিতা বা একই মাতা থাকা লাগে যা এখানে নেই।
মোটকথা, আল্লাহ তাআলা সূরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে যে সব নারীদেরকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন এখানে এরা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং ইসলামি শরিয়তে এই বিয়েতে কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। অর্থাৎ এই বিয়ে বৈধ। আল্লাহু আলাম। আল্লাহ সর্বোজ্ঞ।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
স্বামীর পরিবারের কোন কোন পুরুষ নারীর জন্য মাহরাম
জেনে নিন, স্বামীর পরিবারের কোন কোন পুরুষ আপনার জন্য মাহরাম এবং কোন কোন পুরুষ মাহরাম নয়। স্বামীর চাচা কি স্ত্রীর জন্য মাহরাম? বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন এবং বিশিষ্ট ফকিহ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রহ. কে প্রশ্ন করা হয়- স্বামীর চাচা কি স্ত্রীর জন্য মাহরাম? স্বামীর উপস্থিতিতে কি তার সাথে হাত মেলাতে অনুমতি আছে? তিনি উত্তরে বলেন,
عم الزوج ليس محرمًا للزوجة ولا أخوه، وإنما المحرم أبوه وجده وابنه، أما عمه وأخوه فليسا محرمين للزوجة
“স্বামীর চাচা স্ত্রীর জন্য মাহরাম নন এবং তার ভাই (দেবর ভাসু্রও) নন। মাহরাম হলেন, কেবল স্বামীর পিতা (শ্বশুর), দাদা-নানা (দাদা শ্বশুর ও নানা শ্বশুর) এবং তার পুত্র। কিন্তু তার চাচা (চাচা শ্বশুর) এবং ভাই (দেবর-ভাসুর) স্ত্রীর জন্য মাহরাম নন।’ [binbaz] অর্থাৎ স্ত্রীর জন্য স্বামীর পিতা, দাদা-নানা, পুত্র, পুত্রের পুত্র এবং কন্যার পুত্র-এরা সকলেই মাহরাম। কিন্তু স্বামীর চাচা বা ভাই মাহরামের অন্তর্ভুক্ত নন। অনুরূপভাবে স্বামীর মামা, খালু এবং ফুফাও মাহরাম নয়।
الخال والعم ليسا محرمين، بل ليس لها أن تكشف لعم الزوج، ولا لخال الزوج، ولا لأخي الزوج، وهو أقرب أيضًا، وإنما قوله : وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ[النور:31] هذا يعم الآباء والأجداد، ولا يدخل فيه الأعمام ولا الأخوال،
” (স্বামীর) চাচা এবং মামা মাহরাম নন। বরং স্ত্রীর জন্য স্বামীর চাচার সামনে, স্বামীর মামার সামনে, এমনকি স্বামীর ভাইয়ের সামনেও পর্দা করা আবশ্যক। (স্বামীর ভাই তো আরও নিকটাত্মীয়, তবুও সে মাহরাম নয়।) আর আল্লাহ তা’আলার বাণী:
وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ
“এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তাদের স্বামী অথবা তাদের পিতা ও পিত্রব্যদের ব্যতীত।” [সূরা নূর: ৩১] এটি পিতা এবং দাদা-নানাদের অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু চাচা এবং মামাদের এর অন্তর্ভুক্ত করে না।” [Binbaz]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
Wednesday, August 6, 2025
রাসূল বলেন তুমি তোমার হৃদয়ের কাছ থেকে ফাতওয়া গ্রহণ করো যদিও মুফতিরা তোমাকে ফাতওয়া দিয়ে থাকে
প্রশ্ন: রাসূল ﷺ বলেন: “তুমি তোমার হৃদয়ের কাছ থেকে ফাতওয়া গ্রহণ করো, যদিও মুফতিরা তোমাকে ফাতওয়া দিয়ে থাকে।”(মুসনাদে আহমেদ হা/১৭৫৩৮) এই হাদিসটির বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা কি?
▬▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। অতঃপর:
প্রথমত: প্রশ্ন উল্লেখিত হাদিসটি ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) সংকলন করেছেন।বর্ননাটি হচ্ছে সাহাবী ওয়াবেস্বাহ ইবনে মা‘বাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘তুমি পুণ্যের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে এসেছ?’’ আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি তোমার অন্তরকে (ফতোয়া) জিজ্ঞাসা কর। পুণ্য হল তা, যার প্রতি তোমার মন প্রশান্ত হয় এবং অন্তর পরিতৃপ্ত হয়। আর পাপ হল তা, যা মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং অন্তর সন্দিহান হয়; যদিও লোকেরা তোমাকে (তার বৈধ হওয়ার) ফতোয়া দিয়ে থাকে।’’(মুসনাদে আহমেদ হা/১৭৫৩৮; ১৭৫৪০; ১৭৫৪৫; সুনানে দারেমী হা/২৫৩৩)
.
এটি ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলিত চল্লিশ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত একটি মহামূল্যবান হাদীস। ইমাম নববী, ইমাম মুনযিরি এবং ইমাম শাওকানী হাদিসটিকে সহীহ (বা হাসান)’ হাদীস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ও সহীহ আত-তারগীব হা/১৭৩৪) গ্রন্থে এটিকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সহীহ (বা হাসান) রূপে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ হাদীসটি ওয়াবেস্বাহ ইবনে মা‘বাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর বর্ণিত অনুরূপ আরেকটি হাদীসের মতোই গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। হাদীসটি হলো: নাওওয়াস ইবনু সাম’আন আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে পূণ্য ও পাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি জবাব দিলেন, পূণ্য হলো উন্নত চরিত্র। আর পাপ হলো যা তোমার অন্তরে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে এবং লোকে তা জানুক তা তুমি অপছন্দ করো।”(সহীহ মুসলিম হা/৬৪১০)
.
আবূ সা‘লাবাহ খুশানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সৎকর্ম হল তা, যার প্রতি তোমার মন প্রশান্ত হয় এবং অন্তর পরিতৃপ্ত হয়। আর পাপ হল তা, যা মনে খট্কা সৃষ্টি করে এবং অন্তর সন্দিহান হয়; যদিও লোকেরা তোমাকে (তার বৈধ হওয়ার) ফতোয়া দিয়ে থাকে।’’(মুসনাদে আহমেদ খণ্ড: ২৯; পৃষ্ঠা: ২৭৮-২৭৯; শায়খ শু’আইব আল-আরনা’উত (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহ বলেছেন; ইমাম মুনযিরি বলেছেন: এর সনদ উত্তম (জায়িদ)। আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব (৩/২৩) হাফিজ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) জামি’আল-উলুম ওয়াল-হিকাম; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৫১ এ অনুরূপ কিছু বলেছেন, যেমনটি ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহ আত-তারগীব; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ১৫১ সহীহ বলেছেন)
.
দ্বিতীয়ত: অনেকেই এই হাদিসটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন। তারা নিজেদের ইচ্ছা, প্রবৃত্তি বা পছন্দকে মানদণ্ড বানিয়ে কোন কিছু হালাল বা হারাম বলার জন্য এ হাদীসটি ব্যবহার করেন। এমনকি কেউ কেউ নানা রকম অবৈধ কাজ করেও হাদীসটি উদ্ধৃত করে বলেন: “তোমার অন্তরের সাথে পরামর্শ করো, দেখো মন কী বলে!” অথচ হাদীসটির প্রকৃত উদ্দেশ্য এটি নয়।মূলত, হাদীসটির তাৎপর্য হলো— এক মুমিন ব্যক্তি যখন কোনো বিষয়ে সংশয়ে পড়ে এবং জ্ঞানীদের থেকে ফতওয়া নেয়, তখন যদি তার অন্তর সেই হালাল হারামের ফাতওয়ায় অস্বস্তি অনুভব করে, তবে সে যেন নিজ অন্তরের সততা ও তাকওয়ার অনুসরণে তা পরিত্যাগ করে। কারণ পবিত্র হৃদয় অন্যায়ের প্রতি প্রশান্তি পায় না।
.
শাইখ, আল্লামাহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফাক্বীহ,আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু বকর ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যা,(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] বলেছেন:
“لا يجوز العمل بمجرد فتوى المفتي إذا لم تطمئن نفسه ، وحاك في صدره من قبوله ، وتردد فيها ؛ لقوله صلى الله عليه وسلم : (استفت نفسك وإن أفتاك الناس وأفتوك) .
فيجب عليه أن يستفتي نفسه أولا ، ولا تخلصه فتوى المفتي من الله إذا كان يعلم أن الأمر في الباطن بخلاف ما أفتاه ، كما لا ينفعه قضاء القاضي له بذلك ، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم : (من قضيت له بشيء من حق أخيه فلا يأخذه ، فإنما أقطع له قطعة من نار) .
والمفتي والقاضي في هذا سواء ، ولا يظن المستفتي أن مجرد فتوى الفقيه تبيح له ما سأل عنه إذا كان يعلم أن الأمر بخلافه في الباطن ، سواء تردد أو حاك في صدره ، لعلمه بالحال في الباطن ، أو لشكه فيه ، أو لجهله به ، أو لعلمه جهل المفتي ، أو محاباته في فتواه ، أو عدم تقيده بالكتاب والسنة ، أو لأنه معروف بالفتوى بالحيل والرخص المخالفة للسنة ، وغير ذلك من الأسباب المانعة من الثقة بفتواه ، وسكون النفس إليها”
“আর যদি তুমি কোনো ফতোয়ার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ো এবং তোমার মনে অস্বস্তি অনুভব করো, তবে এর ভিত্তিতে আমল করা তোমার জন্য হালাল হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তুমি তোমার হৃদয়ের কাছ থেকে ফাতওয়া গ্রহণ করো, যদিও মুফতিরা তোমাকে ফাতওয়া দিয়ে থাকে।” (মুসনাদে আহমাদ হা/১৮০০১; সহীহুল জামে হা/৯৪৮) সুতরাং প্রথমেই তোমার উচিত তোমার হৃদয়ের অনুভূতির দিকে খেয়াল করা। কেননা, যদি তুমি নিশ্চিত হও যে কোনো মুফতির কাছ থেকে তুমি যে ফতোয়া পেয়েছো, তা আল্লাহর সামনে তোমার দায়মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে না—যদি তুমি জানো যে বাস্তবে যে বিষয়টি ঘটেছে তা ঐ ফতোয়ার বিপরীত—তাহলে সে ফতোয়া কোনো কাজে আসবে না। একইভাবে, কোনো বিচারক যদি তোমার পক্ষে রায় দেয়, সেটাও তোমার কোনো উপকারে আসবে না, যদি তুমি জানো যে, তুমি যে হক দাবি করছো, তা প্রকৃতপক্ষে তোমার ভাইয়ের ন্যায্য অধিকার। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:”যদি আমি কাউকে তার ভাইয়ের কোন হক দিয়ে ফেলি,(বাস্তবে হয়ত এতে তার কোন অধিকারই নেই) তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে; কেননা,এতে যেন আমি তাকে জাহান্নামের এক খণ্ড আগুন প্রদান করলাম।”(সহিহ বুখারী হা/৭১৬৯; সহিহ মুসলিম হা/৪৩৬৫) এই দৃষ্টিকোণ থেকে মুফতি ও বিচারক উভয়েই সমান। আর কোনো প্রশ্নকারী ব্যক্তি যেন এই ভুল ধারণা না করে বসে যে, একজন আলেম ফতোয়া দিয়েছেন বলেই তার জন্য সেটাই হালাল হয়ে গেছে,যখন তিনি জানেন যে বাস্তবে তা সঠিক ফতোয়া থেকে ভিন্ন। সে হয়তো সংশয়বোধ করেছিল, অথবা তার অন্তরে অস্বস্তি অনুভব করেছিল। কারণ, হয় সে জানত বাস্তবতা কী,অথবা সে সন্দেহে ছিল, অথবা সে নিজেই সে বিষয়ে অজ্ঞ ছিল, অথবা সে জানত যে, মুফতিও সে বিষয়ে অজ্ঞ, অথবা সে জানত মুফতি ব্যক্তি পক্ষপাতিত্ব করে, অথবা সে জানে, তিনি (মুফতি) কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী ফতোয়া দেন না, অথবা তিনি পরিচিত এমন ফতোয়া দেওয়ার জন্য, যাতে সুন্নাহ পরিপন্থী ছাড় (রুখসাহ্) ও চালাকি (হীলা) রয়েছে। এবং এরকম আরও অনেক কারণ থাকতে পারে—যেগুলোর কারণে সেই ফতোয়ার ওপর আত্মবিশ্বাস স্থাপন করা এবং তার উপর অন্তরকে শান্ত রাখা বৈধ হয় না—যদি সে জানে যে, এই সব বিষয় সত্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”(ইমাম ইবনু কাইয়্যিম, ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ইন খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা: ২৫৪)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:
أي : حتى وإن أفتاك مفتٍ بأن هذا جائز ، ولكن نفسك لم تطمئن ولم تنشرح إليه فدعه ، فإن هذا من الخير والبر ، إلا إذا علمت في نفسك مرضا من الوسواس والشك والتردد فلا تلتفت لهذا ، والنبي صلى الله عليه وسلم إنما يخاطب الناس أو يتكلم على الوجه الذي ليس في قلب صاحبه مرض
অর্থাৎ, যদি কোনো মুফতি তোমাকে ফতোয়া দেন যে — এটি বৈধ, কিন্তু তোমার মন এতে প্রশান্তি অনুভব করে না এবং এটি গ্রহণে তোমার হৃদয় উদার হয় না, তাহলে সেটিকে ছেড়ে দাও। কেননা, এটিই কল্যাণ ও পূণ্যের অন্তর্ভুক্ত। তবে যদি তুমি জানো যে, তোমার মনে কোনো রোগ আছে, যেমন: ওয়াসওয়াসাহ্ (অতিরিক্ত সন্দেহ), সংশয় ও দ্বিধা তাহলে সে অবস্থায় এ অনুভবের প্রতি কর্ণপাত কোরো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই উপদেশ কেবল সেইসব লোকদের উদ্দেশ্যেই দিয়েছিলেন যাদের অন্তর রোগমুক্ত, যাদের হৃদয় স্বাভাবিক ও সুস্থভাবে বিচার করতে সক্ষম।”(ইবনু উসাইমিন, শারহু রিয়াদিস সালিহিন: খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ২৪৮)
.
যে ব্যক্তি নিজের হৃদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে সঠিক ও ভুলের মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারে—সে হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার হৃদয় পবিত্র ও আল্লাহভীতি সম্পন্ন।পক্ষান্তরে যে ব্যক্তির হৃদয় পথভ্রষ্ট ও পাপপ্রবণ,যদি সে কবীরা গোনাহ নিয়ে নিজের হৃদয়ের সাথে পরামর্শ করে,তবে সে নিশ্চয়ই তা বৈধ মনে করবে। কেননা, তার হৃদয়ে আর সত্য-মিথ্যার মাঝে কোনো স্পষ্ট পার্থক্য থাকে না।” এ সম্পর্কে বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেন:
(الإثم ما حاك في نفسك) أي : تردد وصرت منه في قلق (وكرهت أن يطلع عليه الناس) لأنه محل ذم وعيب ، فتجدك متردداً فيه وتكره أن يطلع عليك الناس .وهذه الجملة إنما هي لمن كان قلبه صافياً سليماً ، فهذا هو الذي يحوك في نفسه ما كان إثماً ، ويكره أن يطلع عليه الناس .أما المُتَمَرِّدون الخارجون عن طاعة الله الذين قست قلوبهم فهؤلاء لا يبالون ، بل ربما يتبجحون بفعل المنكر والإثم ، فالكلام هنا ليس عاماً لكل أحد ، بل هو خاص لمن كان قلبه سليماً طاهراً نقياً ، فإنه إذا هَمَّ بإثم وإن لم يعلم أنه إثم من قبل الشرع تجده متردداً يكره أن يطلع الناس عليه ، فهذا علامة على الإثم في قلب المؤمن”
“পাপ হলো সেই বিষয়, যা তোমার অন্তরে দ্বিধা ও সংশয়ের সৃষ্টি করে” অর্থাৎ, তুমি তাতে দ্বিধায় পড়ে যাও এবং তা নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা ও অস্বস্তি অনুভব করো। আর তুমি চাও না যে মানুষজন এ ব্যাপারে জানুক; কারণ এটি নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক কিছু। ফলে তুমি নিজেকে এতে দ্বিধায় পড়া অবস্থায় পাবে, এবং চাইবে না যে কেউ তা জেনে ফেলুক। এই উপদেশ মূলত তার জন্য, যার অন্তর বিশুদ্ধ ও সুস্থ। এমন ব্যক্তিই হলো সেই ব্যক্তি, যার অন্তরে পাপসমূহ ঘুরপাক খায় (অন্তর তা নিয়ে দোলাচলে পড়ে), এবং যে চায় না মানুষ তা জানুক। অথচ যারা অবাধ্য, আল্লাহর আনুগত্য পরিত্যাগ করেছে এবং যাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে—তারা এসব নিয়ে মোটেই চিন্তিত নয়; বরং কখনো কখনো তারা প্রকাশ্যেই গর্ব করে অন্যায় ও পাপ কাজ করার ব্যাপারে।সুতরাং, এই হাদীসের বক্তব্য সবার জন্য নয়; বরং শুধু তার জন্য, যার অন্তর সুস্থ, নির্মল ও পবিত্র রয়েছে। কারণ, এমন ব্যক্তি যখন কোনো পাপের দিকে মনোনিবেশ করে এমনকি যদি শরিয়তের দৃষ্টিতে তা স্পষ্টভাবে পাপ কি না, সে না জানে—তবুও তার অন্তরে দ্বিধা সৃষ্টি হয় এবং সে চায় না যে মানুষ তা জানুক।এটি একজন মু’মিনের অন্তরে পাপ-সচেতনতার পরিচায়ক।”(ইবনু উসাইমীন; শারহ আরবাইন আন-নববিয়্যাহ পৃষ্ঠা: ২৯৪-২৯৫) আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১৩৭২৬৭)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি সৌদি আরব।
Subscribe to:
Posts (Atom)