Sunday, May 25, 2025

সংক্ষিপ্ত হজ ও উমরা নির্দেশিকা

সংক্ষিপ্ত ও সহজ হজ এবং উমরা নির্দেশিকা।
সংকলন: শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী রহ.।
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
ভূমিকা: হজ হলো ইসলামের ৫টি রুকনের সর্বশেষ তথা পঞ্চম রুকন। এটি একটি ইবাদত যা আত্মিক, মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ত্যাগ সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর এটি পালন করা ফরজ।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا
“মানুষের উপর আল্লাহর অধিকার এই যে, যারা এই ঘর পর্যন্ত আসার সমর্থ রাখে তারা এর হজ পালন করবে।” [সূরা আল ইমরান: ৯৭]
রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
«مَنْ أَتَى هَذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»
“যে ব্যক্তি (হজ ও উমরা করার জন্য) এঘরে আসবে, অতঃপর স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হবে না এবং পাপাচারে লিপ্ত হবে না, সে এমন (নিষ্পাপ) অবস্থায় ফিরে আসবে যেমন তার মাতা তাকে ভূমিষ্ট করেছিল।” [মুসলিম]
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন:
«صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ، وَصَلاَةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ»
“মসজিদে হারামে এক সালাত অন্য মসজিদে এক লক্ষ সালাতের চাইতে বেশি উত্তম।” [আহমদ ও ইবনে মাজাহ]
এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি বিশুদ্ধভাবে আদায়ের চেষ্টা করা একান্তভাবে অপরিহার্য।
🕋 এ লক্ষ্যে কুরআন-হাদিসের নির্যাস থেকে নেওয়া নিম্ন লিখিত সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলো সকলের জন্য অনুসরণীয়:
১. একনিষ্ঠতার সাথে শুধুমাত্র আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য হজ পালন করা।
২. এটি পালনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরীকা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা।
৩. হালাল বা বৈধ উপার্জন থেকে হজব্রত পালন করা।
৪. হজের বিধান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন করা।
৫. যাবতীয় শিরক, বিদআত ও পাপাচার থেকে বিরত থাকা।
🕋 হজ ও ওমরার কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে নিম্নরূপ:
৬. ইহরামের পূর্বে শারীরিকভাবে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা তথা নাভীমূল, বগলের লোম পরিষ্কার করা, নখ কাটা ইত্যাদি।
৭. মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা। [ওয়াজিব]
৮. মিকাতে গিয়ে ইহরামের উদ্দেশ্যে প্রথমে গোসল করা।
৯. মাথা, দাড়ি বা শরীরে আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করা।
১০. সেলাইবিহীন দুটি কাপড়ে ইহরাম বাঁধা। (শুধু পুরুষদের জন্য)। মহিলারা স্বাভাবিক পোশাকে থাকবে।
১১. কাপড় দুটি সাদা হওয়া উত্তম।
১২. হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট মিকাত অতিক্রমের পূর্বে (অন্তরে) নিয়ত করে ইহরাম বাঁধা। [রুকন]
১৩. তামাত্তু হজের জন্য প্রথমে উমরা আদায় করা।
১৪. উমরার ইহরাম বাঁধার সময় বলা: ‘আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা উমরাতান’।
১৫. ইফরাদ হজের ইহরাম বাঁধার সময় বলা: ‘আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা হাজ্জান’।
১৬. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পঠিত তালবিয়া জোরে জোরে পাঠ করা।
১৭. কিরান হজের ইহরাম বাঁধার সময় বলা: ‘আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা হাজ্জান ওয়া উমরাতান’।
🕋 তালবিয়া:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنَّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكُ، لَا شَرِيْكَ لَكَ
উচ্চারণ: ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইকা, ইন্নাল হামদা ওয়ানি’য়ামাতা লাকা ওয়াল্ মুক, লা-শারীকা লাকা’।
অর্থ: “আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির! আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির! নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই এবং রাজত্বও তোমারই, তোমার কোনো শরিক নেই।”
১৮. অজু-গোসল করে পবিত্রতার সাথে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা।
১৯. মসজিদে হারামে প্রবেশের পূর্বে তালবিয়া বলা বন্ধ করা।
২০. তাওয়াফের জন্য সরাসরি হাজরে আসওয়াদের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
২১. তাওয়াফ শুরুর পূর্বে (পুরুষের জন্য) ইজতিবা করা।
ইজতিবা অর্থ: ইহরামের কাপড় ডান বগলের নীচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রাখা।
নামাজের সময় উভয় কাঁধ ঢেকে রাখা জরুরি।
২২. بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ
‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে হজরে আসওয়াদকে চুমু দিয়ে বা ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করা।
২৩. প্রথম তিন চক্করে রমল করা। (দ্রুত পদে চলা)
২৪. তাওয়াফ অবস্থায় কোনো দু’আ নির্দিষ্ট না করে যে কোনো দুআ-জিকির পাঠ করা।
২৫. আল্লাহর ঘর বাম দিকে রেখে তাওয়াফ করা।
২৬. হাতিমের বাহির দিয়ে তাওয়াফ করা।
২৭. রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করা। তা না পারলে ইঙ্গিত না করেই চলতে থাকা।
২৮. রোকনে ইয়ামেনি এবং হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নিম্নোক্ত আয়াতটি পাঠ করা:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: “রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্কিনা আযাবান্নার।”
অর্থ: “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।” [সূরা বাকারা: ২০১]
২৯. একাধারে সাত চক্কর পূর্ণ করা। (রুকন)
৩০. মাকামে ইবরাহিমের পেছনের দিকে দুই রাকাত নামাজ পড়া। সেখানে সম্ভব না হলে মসজিদুল হারামের যে কোনো স্থানে তা আদায় করা।
(বর্তমানে তাওয়াফের স্থান সংকুলানের স্বার্থে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে সালাত আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।)
৩১. এই দুই রাকাত নামাজে সূরা ফাতিহার পর প্রথম রাকাআতে সূরা কাফেরূন এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ইখলাস পড়া।
৩২. জমজমের পানি পান করা এবং তা সামান্য কিছু মাথায় ঢালা।
৩৩. আবার হজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া বা সেদিকে ডান হাত উত্তোলন করে ইশারা করা।
৩৪. নিম্নোক্ত আয়াতটি পাঠ করতে করতে সাফা পাহাড়ে আরোহন করা:
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
উচ্চারণ: “ইন্নাস সাফা ওয়াল মাওয়াতা মিন শা’আয়িরিলহ”
অর্থ: “নিশ্চয়ই সাফা এবং মারওয়া পর্বতদ্বয় আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন।” [সূরা বাকারা: ১৫৮]
অতঃপর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি পাঠ করা।
অতঃপর তিনবার বলবে:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ . لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ الْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ .
৩৫. এরপর জানা যে কোনো দু’আ পাঠ করবে।
৩৬. সবুজ বাতিদ্বয়ের মধ্যবর্তী অংশে (পুরুষদের) দৌড়ানো। (মহিলারা দৌড়াবে না বরং স্বাভাবিক গতিতে চলবে)
৩৭. সাফা-মারওয়া সাঈ করার সময় কোনো দোয়া নির্দিষ্ট না করে যেকোনো দোয়া, তাসবিহ ইত্যাদি পাঠ করবে।
৩৮. মারওয়া পাহাড়ে আরোহণ করা।
৩৯. সেখানেও সাফা পাহাড়ের ন্যায় দুআ করা।
৪০. সাত বার সাঈ করা। (রুকন)
৪১. সাফা থেকে মারওয়া গমন ১ম চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা প্রত্যাবর্তন ২য় চক্কর। এভাবে ৭ম চক্কর মারওয়ায় এসে শেষ করা।
৪২. তামাত্তুকারী মাথার চুল মুড়িয়ে বা খাটো করে হালাল হয়ে যাওয়া।
৪৩. কিরান ও ইফরাদকারী ইহরাম অবস্থাতেই থেকে যাওয়া।
🕋 ৮ই জিলহজের কার্যাবলী:
৪৪. এদিন প্রভাতে তামাত্তুকারী পূর্ব নিয়মে ‘আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা হাজ্জান’ বলে হজের ইহরাম বাঁধা। (রুকন)
৪৫. মিনায় গমন করে জোহর থেকে ফজর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (চার রাকাআত বিশিষ্ট নামাজ) কসর করে আদায় করা। সেখানে রাত্রি যাপন করা।
🕋 ৯ই জিলহজের কার্যাবলী:
৪৬. এদিন সূর্যোদয়ের পর আরাফাতে গমন করা। এসময় অধিক পরিমাণে তালবিয়া (লাব্বাইক…) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার) পাঠ করা।
৪৭. দুপুর পর্যন্ত আরাফাত সীমানার বাইরে ‘নামেরা’ নামক স্থানে অবস্থান করা।
৪৮. সেখানে প্রদত্ত্ব খুতবা শোনা।
৪৯. জোহর আসরের নামাজ জোহরের সময় এক আজানে দুই ইকামতে কসর করে আদায় করা।
৫০. দুই নামাজের মাঝের সুন্নত নামাজগুলো না পড়া।
৫১. সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়ার পর আরাফাতে অবস্থান নেওয়া। (রুকন)
৫২. বেশি বেশি তালবিয়া, তাকবির পাঠ করা এবং কিবলামুখী হয়ে হাত তুলে দুআয় মশগুল থাকা।
৫৩. সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা। (ওয়াজিব)
৫৪. অতঃপর ধীর গতিতে মুজদালিফার উদ্দেশ্যে গমন করা।
৫৫. সেখানে সর্বপ্রথম মাগরিব ও এশার নামাজ এক আজানে ও দুই ইকামতে আদায় করা।
৫৬. মুজদালিফায় রাত্রি যাপন করা। (ওয়াজিব)
৫৭. রাতে কোনো প্রকার ইবাদাতে মশগুল না হয়ে সরাসরি ঘুমিয়ে পড়া।
৫৮. ফজর নামাজ আদায় করে মাশআরুল হারামে কিবলামুখী হয়ে দুআ করা।
৫৯. সূর্যোদয়ের পূর্বে মিনার দিকে রওয়ানা হওয়া।
৬০. ‘বাতুনে মুহাসসার’ (মুজদালিফা ও মিনার মধ্যবর্তী অঞ্চল) নামক স্থানে দ্রুত গতিতে চলা।
🕋 ১০ই জিলহজের কার্যাবলী:
৬১. মুজদালিফা বা মিনার যে কোনো স্থান থেকে ৭টি কংকর সংগ্রহ করা।
৬২. বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপের পূর্বে তালবিয়া বন্ধ করা।
৬৩. সূর্যোদয়ের পর উচ্চস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে বড় জামারায় একে একে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করা। (ওয়াজিব)
৬৪. মিনা বা মক্কার হারামের সীমানার মধ্যে যে কোনো স্থানে কুরবানী করা। [তামাত্তু এবং কিরানকারীর জন্য ওয়াজিব]
৬৫. নিজ হাতে কুরবানি করা। (কুরবানির টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে দেওয়াও বৈধ)
৬৬. সম্ভব হলে কুরবানি কিছু মাংস ভক্ষণ করা।
৬৭. ঈদের দিন ব্যতীত পরবর্তী তিন দিনও (১১, ১২, ১৩) কুরবানি করা বৈধ।
৬৮. মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করে হালাল হওয়া।
তবে মহিলাগণ চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙ্গুলের গিরা সমপরিমাণ কাটবে। (ওয়াজিব)
৬৯. মক্কায় গিয়ে রমল (হালকা দৌড়ানো) ব্যতিরেকে কাবা ঘরের তাওয়াফ করা। এটিকে তওয়াফে ইফাযাহ বলা হয়। (রুকন)
৭০. তাওয়াফের পর পূর্বের ন্যায় দু রাকাআত নামাজ পড়া।
৭১. তামাত্তু কারীর সাফা-মারওয়া সাঈ করা। (রুকন)
৭২. ১০ তারিখের কাজগুলি (কংকর নিক্ষেপ, কুরবানি, মাথা মুণ্ডন ও তাওয়াফ) ধারাবাহিক ভাবে সম্পাদন করার চেষ্টা করা। তবে অধিক বিশুদ্ধ মতে এগুলো আগে-পরে হয়ে গেলেও অসুবিধা নেই।
৭৩. মক্কা থেকে মিনায় প্রত্যাবর্তন করে ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ১১ ও ১২ তারিখের রাত যাপন করা। (ওয়াজিব)
৭৪. ১১ ও ১২ তারিখ পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলার পর তিনটি জামারার প্রতিটিতে তাকবিরসহ সাতটি করে কংকর নিক্ষেপ করা। (ওয়াজিব)
৭৫. তিনটি জামারায় পাথর মারার ক্ষেত্রে ছোট ও মধ্যবর্তী জামারার পর সামনে বেড়ে কিবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে দুআ করা। কিন্তু বড় জামারায় পাথর মেরে দাঁড়াবে না দু’আও করতে হবে না।
৭৬. ১২ তারিখ মিনা ত্যাগ করার ইচ্ছা করলে সূর্যাস্তের পূর্বেই তা করতে হবে।
৭৭. সূর্যাস্তের পর মিনায় থেকে গেলে সেই রাত্রি (মিনায়) যাপন করা ওয়াজিব, এবং পরবর্তী ১৩ তারিখ পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলার পর তিনটি জামারায় পাথর মারাও ওয়াজিব।
৭৮. মক্কায় এসে রমল বিহীন বিদায়ী তাওয়াফ করা। (ওয়াজিব)
🕋 কতিপয় প্রচলিত ভুল সংশোধনী ও বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণী:
১. অনেকে ইহরাম বাঁধার সময় থেকেই ইজতেবা করে অর্থাৎ ইহরামের কাপড় ডান বগলের নীচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রেখে দেয়, এমনকি সালাতের সময়ও সেভাবেই থাকে। এরূপ করা সুন্নতের পরিপন্থী। ইজতেবা শুধু তাওয়াফের মুহূর্তে করা সুন্নত; অন্য সময় নয়।
২. কাবা ঘরের তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া সাঈ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দুআ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। এসময় অনির্দিষ্টভাবে যে কোনো দুআ বা প্রার্থনা যে কোনো ভাষায় করা যাবে। সুতরাং বিভিন্ন ধরনের কিতাবে যে সকল দু’আ লিখিত আছে- ১ম চক্করের দুআ……. ২য় চক্করের দুআ তা নিঃসন্দেহে ভুল। কেননা এভাবে নির্দিষ্ট চক্করের জন্য নির্দিষ্ট দু’আ না রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পড়েছেন না তিনি পড়তে বলেছেন, না কোনো সাহাবি এরূপ করেছেন।
৩. অনেকে ইহরাম বাঁধার উদ্দেশ্যে দু রাকাআত সালাত আদায় করে থাকে! মূলত: ইহরামের জন্য কোনো সালাত নেই। তবে কোনো ফরজ সালাতের সময় হয়ে গেলে, উক্ত সালাত আদায় করার পর ইহরাম বাঁধবে।
৪. ১০ তারিখে তাওয়াফে ইফাযাহ করতে না পারলে পরবর্তীতে যে কোনো সময় তা করতে পারবে। তবে ১৩ তারিখের মধ্যে আদায় করা উত্তম।
৫. প্রয়োজনে তাওয়াফে ইফাযাহর সাথে বিদায়ী তাওয়াফের নিয়ত করলে উভয়টিই আদায় হয়ে যাবে।
৬. কোনো অবস্থাতেই আরাফাতের ময়দান থেকে সূর্যাস্তের পূর্বে প্রস্থান বৈধ নয়।
৭. তামাত্তুকারীর কোনো অবস্থাতেই এক সাঈ যথেষ্ট নয়। ১০ তারিখের পূর্বে তাওয়াফে ইফাযাহ করলে সেটি আদায় হবে না।
৮. তানইম বা মসজিদে আয়েশা বা ওমরাহ মসজিদ থেকে ঘন ঘন ইহরাম বেঁধে এসে নিজের জন্য বা আত্মীয়-স্বজনের নামে ওমরা পালন করা বিধি সম্মত নয়। কেননা একই সফরে এরূপ একাধিক ওমরা করা রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেইদের কারো থেকেই সাব্যস্ত নেই। [বিস্তারিত দেখুন আল-মুগনী ৫/১৭]
৯. মসজিদে নববীর জিয়ারত: এটি মুস্তাহাব। সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, কিংবা ওয়াজিব বা ফরজও নয়। আর এটি জিয়ারত করা হজ ও ওমরার সামান্যতম অংশ বিশেষও নয়। অনেকেই মনে করে যে, হজ সফরে গিয়ে মদিনা জিয়ারত না করলে হজ শুদ্ধ হবে না এই ধারণা ভুল।
সুতরাং শুধুমাত্র মদিনার মসজিদে ইবাদতের উদ্দেশ্যে সফর জায়েজ (বৈধ)। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে (যেমন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর মাজার জিয়ারত বা সাহাবিদেরৎকবর জিয়ারত ইত্যাদি উদ্দেশ্যে) সফর করা জায়েজ নয়। তবে মদিনায় পৌঁছে যাওয়ার পর এগুলো জিয়ারত করতে কোনো বাধা নেই। [বুখারী ও মুসলিম]
🕋 হজের রুকন ৪টি:
১. ইহরাম বাঁধা।
২. আরাফায় অবস্থান করা।
৩. তাওয়াফে ইফাযাহ করা।
৪. সাঈ করা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
*হজ বা ওমরার কোনো একটি রুকন ছুটে গেলে তা বাতিল হয়ে যাবে।
*আর কোনো একটি ওয়াজিব ছুটে গেলে কাফফারা দিতে হবে।
🕋 হজের ওয়াজিব বিষয় হল ৮টি:
১. মিকাত হতে ইহরাম বাঁধা।
২. সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা।
৩. মুজদালিফায় রাত্রি যাপন করা।
৪. ১১, ১২ জিলহজের রাতগুলো মিনায় যাপন করা।
৫. জামারায় পাথর মারা।
৬. কুরবানি করা। (তামাত্তু ও কিরানকারীদের জন্য)
৭. চুল কামানো বা ছোট করা।
৮. বিদায়ী তাওয়াফ করা। (তবে ঋতুমতী ও প্রসূতি মহিলাদের জন্য এটি আবশ্যক নয়।)
🕋 ইহরাম অবস্থায় যা করা নিষিদ্ধ (১০টি):
১. সেলাইকৃত কাপড় পরা।
২. মুখ ঢাকা।
৩. পুরুষদের মাথা ঢাকা।
৪. হাতমোজা পরিধান করা।
৫. নখ, চুল ইত্যাদি কাটা।
৬. স্থলচর প্রাণী শিকার করা বা তা শিকার করার জন্য ইঙ্গিত করা।
৭. স্ত্রী সহবাস করা।
৮. কোনো জিনিস কুড়ানো (হারাম এলাকায়)।
৯. বিয়ে করা বা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া।
১০. সুগন্ধি ব্যবহার করা।
🕋 হজ ফরজ হওয়ার শর্তাবলী (৬টি):
১. ইসলাম [সূরা তাওবাহ: ৫৪]
২. জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া [আহমাদ, আবু দাউদ, নাসায়ী]
৩. স্বাধীন হওয়া। [আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী]
৪. বালেগ হওয়া। [আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী]
৫. আর্থিক ও শারীরিক ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়া। [আল ইমরান: ৯৭]
৬. মহিলার জন্য স্বামী অথবা মাহরাম থাকা। [বুখারী ও মুসলিম]

মহান আল্লাহ্ আমাদের পবিত্র কুরআন এবং সহিহ্ হাদিস অনুযায়ী হজ পালন করে সৌভাগ্যশালীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন!! 

কুরবানির গোশত অমুসলিমদের মাঝে বিতরণ করার বিধান

 প্রশ্ন: আমাদের অমুসলিম প্রতিবেশীদেরকে কুরবানির মাংস দেওয়া কি বৈধ?

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। অমুসলিমদের, বিশেষ করে যদি তারা আত্মীয়, প্রতিবেশী বা দরিদ্র হয়—তাদেরকে কুরবানির মাংস দেওয়া জায়েজ। এতে কোনো আপত্তি নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন:
(لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ)
“আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না—তোমাদের সঙ্গে যারা ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর থেকে বের করেনি—তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে ও ন্যায়ের আচরণ করতে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে পছন্দ করেন।” [সূরা মুমতাহিনা, আয়াত: ৮]
অতএব অমুসলিমকে কুরবানির মাংস দেওয়া এই সদ্ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত যার অনুমতি আল্লাহ দিয়েছেন।
▪️মুজাহিদ (রহ.) বর্ণনা করেন:
“أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو ذُبِحَتْ لَهُ شَاةٌ فِي أَهْلِهِ ، فَلَمَّا جَاءَ قَالَ: أَهْدَيْتُمْ لِجَارِنَا الْيَهُودِيِّ ؟ ، أَهْدَيْتُمْ لِجَارِنَا الْيَهُودِيِّ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : (مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ)
“আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর পরিবারে একটি ছাগল জবাই করা হয়েছিল। তিনি বাড়ি ফিরে এসে বললেন: তোমরা কি আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে উপহার দিয়েছ? আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: ‘জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এত বেশি তাগিদ দিতেন যে, আমি মনে করতাম যে, তিনি তাকে ওয়ারিস (সম্পদের উত্তরাধিকারী) করে দিবেন।'”
[তিরমিজি: ১৯৪৩, সহিহ বলেছেন আলবানি]
▪️ইবন কুদামাহ (রহ.) বলেন:
“وَيَجُوزُ أَنْ يُطْعِمَ مِنْهَا كَافِرًا، … ؛ لِأَنَّهُ صَدَقَةُ تَطَوُّعٍ، فَجَازَ إطْعَامُهَا الذِّمِّيَّ وَالْأَسِيرَ، كَسَائِرِ صَدَقَةِ التَّطَوُّعِ”
“কুরবানির মাংস থেকে কোনো কা**ফেরকে খাওয়ানো জায়েজ। কারণ এটি একটি নফল সদকা। তাই অন্যান্য নফল সদকার মতোই এটি অমুসলিম জিম্মি ও বন্দীকেও দেওয়া যায়।” [আল-মুগনি, ৯/৪৫০]
▪️সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি (১১/৪২৪) বলেছে:
“يجوز لنا أن نطعم الكافر المعاهد ، والأسير من لحم الأضحية ، ويجوز إعطاؤه منها لفقره ، أو قرابته ، أو جواره ، أو تأليف قلبه…؛ لعموم قوله تعالى: (لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ…إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ)، ولأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها أن تصل أمها بالمال وهي مشركة في وقت الهدنة”
“আমরা কুরবানির মাংস থেকে কোনো কুফরি অমুসলিম, মুচলেকাপ্রাপ্ত (চুক্তিবদ্ধ) কাফির বা বন্দিকে খাওয়াতে পারি। তাকে দেওয়াও জায়েজ যদি সে দরিদ্র হয়, আত্মীয় হয়, প্রতিবেশী হয় বা তার মনকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা উদ্দেশ্য থাকে…। কারণ আয়াতে সাধারণভাবে বলা হয়েছে:
لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
“আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না তোমাদের সঙ্গে যারা ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর থেকে বের করেনি তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে ও ন্যায়ের আচরণ করতে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে পছন্দ করেন।” [সূরা মুমতাহিনা, আয়াত: ৮]
এবং এজন্যই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তার মুশরিক মাকে সাহায্য করেন, যদিও তখন যুদ্ধবিরতির সময় ছিল।” শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন:
“الكافر الذي ليس بيننا وبينه حرب ، كالمستأمن أو المعاهد : يعطى من الأضحية ، ومن الصدقة”
“যে কাফিরের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ নেই, যেমন নিরাপত্তা প্রাপ্ত (মুস্তাআমান) বা চুক্তিবদ্ধ (মুআহিদ)—তাকে কুরবানির মাংস বা সদকা দেওয়া যায়।” [মাজমু’ ফাতাওয়া: ১৮/৪৮]
Source: islamqa info
▪️মোটকথা, উপরের আলোচনার সারাংশ হলো যে, কিছু শর্তসাপেক্ষে অমুসলিম প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা দরিদ্রদের কুরবানির মাংস দেওয়া জায়েজ। অবশ্য এক্ষেত্রে আলেমদের ভিন্ন মতও রয়েছে। ‌যেমন: ইমাম মালেকের মতে, কাফেরদের থেকে মুসলিমদেরকে দেওয়া অধিক পছন্দনীয়। আর ইমাম শাফেয়ির মতে, ওয়াজিব কুরবানির ক্ষেত্রে কোনো অমুসলিমকে কুরবানির গোশত দেওয়া জায়েজ নয়‌‌। কিন্তু নফল কুরবানির ক্ষেত্রে দেওয়া জায়েজ হলেও তা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। [source: Islam web]
✅ সিদ্ধান্ত: পরিশেষে, আমরা বলব, মুসলিমদের সাথে সদাচরণকারী তথা শত্রুতা পোষণকারী বা যুদ্ধরত নয় এমন অমুসলিম প্রতিবেশী কিংবা নিকটাত্মীয়কে কুরবানির গোশত দেওয়া জায়েজ আছে। বিশেষ করে যদি এর মাধ্যমে তাকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা থাকে। অন্যথায় তাদেরকে তা দেওয়া উচিত নয় বরং মুসলিম গরীব-অসহায় মানুষকে দেওয়াই অধিক উপযুক্ত। তাছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের সার্বিক অবস্থা আমাদের অজানা নয়। অসংখ্য মুসলিম বর্তমান দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির দিনে দু মুঠো খাবারের জন্য কত কষ্ট করে! গোশত-ভাত খাওয়া তো তাদের কল্পনার বিষয়। তাই কুরবানির সময় আমাদের উচিত, কুরবানির গোশত দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মুসলিমদেরকে বঞ্চিত রেখে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কাফেরদেরকে দেওয়া থেকে বিরত থাকা। অবশ্য পূর্বোক্ত শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজন বোধে তাদেরকে কিছু গোশত দেওয়া নাজায়েজ নয়। বিশেষ করে যদি তারা প্রতিবেশী বা নিকট আত্মীয় হয়। আল্লাহু আলাম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
🛑আব্দুল্লাহিল হাদী বিল আব্দুল জলীল🛑

সাণ্ডা ও গুইসাপ এর পরিচয় ও পার্থক্য এবং এ সংক্রান্ত শরিয়তের বিধি-বিধান

 প্রশ্ন: সাণ্ডা ও গুইসাপ কি এক‌ই প্রাণী? ইসলামের দৃষ্টিতে এই প্রাণীগুলো খাওয়া কি হালাল নাকি হারাম? দয়া করে জানাবেন ইনশাআল্লাহ। কারণ ফেসবুকে এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে অনেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন।

উত্তর: সাণ্ডা (الضب দব্ব, ইংরেজিতে Spiny-tailed lizard) এবং গুইসাপ (ইংরেজিতে Monitor lizard)—এই দুটি প্রাণী দেখতে কিছুটা মিল থাকলেও প্রকৃতি, বসবাস ও ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
নিম্নে অতি সংক্ষেপে সেগুলো তুলে ধরা হলো:
◈ ১. সাণ্ডা (الضب):
বৈজ্ঞানিক নাম: Uromastyx spp.
▪️পরিচয়:
– এটি মরুভূমির শুষ্ক এলাকায় বসবাস করে।
– শরীর মোটা ও লেজে কাঁটার মতো স্পাইক থাকে।
– সাধারণত গাছপালা, বীজ ও ঘাস খায় (শাকাহারী)।
▪️হুকুম:
সাণ্ডা খাওয়া হালাল। সুতরাং যার রুচি হয় সে খেতে পারে। কিন্তু কারো রুচি না হলে সে খাওয়া থেকে বিরত থাকবে।
তবে কিছু আলেম তা মাকরুহ বা অপছন্দনীয় বলেছেন। (যেমন: শাইখ আলবানি)
▪️সাণ্ডা বা الضب সম্পর্কে সহিহ হাদিস:
ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«دخلت أنا وخالد بن الوليد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بيت ميمونة، فَأُتِيَ بِضَبٍّ مَحْنُوذٍ فَأَهْوَى إلَيْهِ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ، فقال بعض النِّسْوَةِ في بيت ميمونة: أخبروا رسول الله بما يريد أن يأكل، فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده، فقلت: أَحَرَامٌ هُوَ يَا رَسُولَ الله؟ قَالَ: لا، وَلَكِنَّهُ لَمْ يَكُنْ بِأَرْضِ قَوْمِي، فَأَجِدُنِي أَعَافُهُ، قال خالد: فَاجْتَرَرْتُهُ، فَأَكَلْتُهُ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَنْظُرُ» [متفق عليه]
“আমি ও খালিদ ইবন ওয়ালিদ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে মায়মুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম।
তখন আমাদের সামনে একপ্রকার পুড়িয়ে রান্না করা সাণ্ডা (ضبّ) পেশ করা হলো।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা খাওয়ার জন্য হাত বাড়ালেন।
তখন মায়মুনার ঘরের কোনো একজন নারী বললেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানিয়ে দিন তিনি যা খেতে যাচ্ছেন, সেটি কী!’
এরপর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত সরিয়ে নিলেন।
আমি (ইবন আব্বাস রা.) বললাম: ‘হে আল্লাহর রসুল! এটি কি হারাম?’
তিনি বললেন: ‘না, তবে এটা আমার জাতির অঞ্চলে ছিল না। তাই আমার নিকট তা রুচিকর নয়।
খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন:
‘তখন আমি সেটিকে টেনে নিলাম এবং খেতে লাগলাম আর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকিয়ে ছিলেন।’
[সহিহ, মুতাফাকুন আলাইহি: সহিহ বুখারি: ৫৩৮১, সহিহ মুসলিম: ১৯৪৬]
▪️এই হাদিসের শিক্ষা:
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, সাণ্ডা (ضبّ) খাওয়া হারাম নয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে খেতে অপছন্দ করেছেন। কিন্তু নিষেধ করেননি।
সাহাবি খালিদ (রা.) তা খেয়েছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বাঁধা দেননি।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সাণ্ডা হালাল হওয়ার পক্ষে।
▪️সাণ্ডা খাওয়ার ব্যাপারে কি হাদিসে কোন নিষেধাজ্ঞা এসেছে?
এ ব্যাপারে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায রহ. বলেন,
ما ورد في النهي فهو ضعيف، والصواب أنه حلال كما ثبت في الصحيحين
“নিষেধ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (যেমন: সুনানে আবু দাউদে সাণ্ডা খাওয়া নিষেধ হওয়া প্রসঙ্গে একটি হাদিস উল্লেখিত হয়েছে) তা দুর্বল (ضعيف)। এবং সঠিক কথা হলো—এটি হালাল, যেমন সহিহ বুখারি ও মুসলিমে প্রমাণিত।”
◈ ২. গুইসাপ (Monitor Lizard)
– বৈজ্ঞানিক নাম: Varanus spp.
– নদী, বন বা জলাশয়ের আশেপাশে বাস করে।
– শরীর দীর্ঘ ও চঞ্চল; দাঁত ও নখ ধারালো।
– এটি মাংসাশী; মৃতপ্রাণী, সাপ, ব্যাঙ ইত্যাদি খায়।
▪️হুকুম:
গুইসাপ সম্পর্কে সরাসরি হাদিস না থাকলেও এটি একধরনের শিকারি ও নাপাক প্রাণী হিসেবে ধরা হয়।
খাদ্যে হালাল হারাম সম্পর্কিত উক্ত মূলনীতির আলোকে সম্মানিত ফকিহ ও ইসলামি স্কলারগণ একে হারাম বলেছেন।
তবে আবু দাউদে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি হাদিসের আলোকে কিছু আলেম এটিকে মাকরুহ (অপছন্দনীয়) বলেছেন। তবে অধিকাংশ হাদিস বিশারদের মতে উক্ত হাদিসটি সহিহ নয়।
▪️উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশে হাদিস অনুবাদ কারীদের কেউ কেউ আরবি الضب শব্দের অর্থ লিখেছেন, গুইসাপ। যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ‌অথচ এটি মারাত্মক ভুল। الضب অর্থ গুইসাপ নয় বরং সাণ্ডা। আর এই দুইটির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে যেমনটি আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। আল্লাহু আলম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।

মহিলাদের মাথার উপরে উঁচু করে চুলের ঝুঁটি বাঁধা হারাম হওয়ার বিধান কি ঘরে-বাইরে সর্বত্র প্রযোজ্য

 প্রশ্ন: মহিলাদের মাথার উপরে উঁচু করে চুলের ঝুঁটি বাঁধা হারাম হওয়ার বিধান কি ঘরে-বাইরে সর্বত্র প্রযোজ্য নাকি কেবল বাইরে প্রযোজ্য?

উত্তর: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণভাবে উটের কুঁজের মত করে মাথার উপরে উঁচু করে চুলের ঝুঁটি বাঁধতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং বাড়ির ভিতরে এবং বাইরে সর্বত্র একই বিধান। অর্থাৎ বাড়ির বাইরে যেমন তা হারাম বাড়ির ভিতরেও হারাম। কেননা বাড়িতে এমনটি করার অনুমতি বিষয়ে কোন হাদিস পাওয়া যায় না। সুতরাং সর্বক্ষেত্রে একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
✅ ফতোয়া:
একজন মহিলা তার চুল জড়ো করে মাথার উপরে ঝুঁটি বাঁধার হুকুম কি যদি সে নিজ ঘরে থাকে?
প্রশ্ন: আমার প্রশ্ন হলো, একজন মহিলা তার চুল জড়ো করে মাথার উপর ঝুটি বেঁধে রাখলে তার কী হুকুম? আর যদি তাকে এতে নিষেধ করা হয়, সে বলে “নিষেধ তো তখনই যখন বাইরে বের হবে। কিন্তু ঘরের ভিতরে করলে তাতে কোনো সমস্যা নেই।” এ বিষয়ে আপনার মতামত কী, শাইখ? (আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দিন)
উত্তর: হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
«صنفان من أهل النار لم أرهما: قوم معهم سياطٌ كأذناب البقر يضربون بها الناس، ونساءٌ كاسياتٌ عارياتٌ مميلاتٌ مائلاتٌ، رؤوسهنَّ كأسنمة البُخت المائلة، لا يدخلنَ الجنة، ولا يجدنَ ريحها، وإن ريحها ليوجد من مسيرة كذا وكذا»
“জাহান্নামিদের মধ্যে এমন দুটি শ্রেণি আছে যাদের আমি এখনো দেখিনি:
– এক শ্রেণি: যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের মতো চাবুক। তারা সেসব দিয়ে মানুষকে মারবে‌।
– আর এক শ্রেণি হলো, এমন নারী, যারা পোশাক পরা হলেও যেন নগ্ন। তারা (পুরুষদেরকে) পথভ্রষ্ট করবে এবং নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে। তাদের মাথা হবে উটের কুঁজের মতো বাঁকা। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ এত এত দূর থেকেও পাওয়া যায়।” [সহিহ মুসলিম: ২১২৮] সুতরাং যখন কোনো মহিলা তার চুলগুলো মাথার ওপরে জড়ো করে ঝুঁটি বাঁধে তখন তা উটের কুঁজের মতো হয়ে যায়। বিশেষ করে “বুখত” (البُخت) প্রজাতির উট যাদের দুটি কুঁজ থাকে: একটি মূল কুঁজ অপরটি তার পেছনে। অনুরূপভাবে নারীর মাথা ও তার পেছনের চুলের গাঁঠ সেই কুঁজ সদৃশ হয়ে যায়। ফলে সে এই হাদিসের আওতায় পড়ে। এটি কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়। সেই ব্যক্তির যে ভুল ধারণা আছে তা হলো: সে মনে করে, ঘরের ভিতরে এইভাবে চুল জড়ো করে রাখলে কোনো সমস্যা নেই! অথচ হারাম তো সব জায়গায়ই হারাম যদি না তা এমন কোনো বিষয়ের সঙ্গে জড়িত হয় যা কেবল বাইরের পরিবেশে প্রযোজ্য। যেমন: পর্দা বা বাইরে বের হওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার। এসব বিষয়ে যেমন পার্থক্য আছে (বাইরে নিষেধ, ঘরে বৈধ), কিন্তু চুল জড়ো করে উটের কুঁজের মতো করে রাখা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এটি এমন একটি বিষয়, যার ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ এসেছে:
يدخلنَ الجنة، ولا يجدنَ ريحها
“তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।”
আল্লাহ আমাদেরকে আশ্রয় দিন। ইমাম মালেকের “মুওয়াত্তা” গ্রন্থে এমন একটি ইঙ্গিত এসেছে, যেখানে কিছু কাপড় (যেমন: লম্বা কাপড় পায়ের গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করা) যদি বাড়িতে থাকা অবস্থায় হয় এবং বাইরে পরিধান না করা হয় তবে তা পরা জায়েজ। কিন্তু এটা ইমাম মালেকের ইজতিহাদ (নিজস্ব গবেষণামূলক সিদ্ধান্ত অর্থাৎ এটি হাদিসে বর্ণিত আমভাবে টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরিধান করা হারাম হওয়ার বিধানের পরিপন্থী) সুতরাং উত্তম তো বটেই বরং অপরিহার্য হলো, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেসব বিষয়ে নিষেধ করেছেন সেগুলো থেকে পুরোপুরি বেঁচে থাকা। তাতেই মুক্তি নিহিত। আল্লাহু আলাম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ফতোয়া প্রদানে:
– শাইখ আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ আল খুযাইর।
(সাবেক সৌদি, সিনিয়র ওলামা পরিষদ এবং স্থায়ী ফতোয়া ও গবেষণা বোর্ডের সদস্য)।
ফতোয়া অনুবাদক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।

Monday, May 12, 2025

কবিরা গুনাহগারদের বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তিনটি দল

 (১). খারেজি সম্প্রদায়: খারিজি’ শব্দটি আরবি ‘খুরুজ’ মূলধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ বাহির হওয়া বা সীমানা লঙ্ঘন করা। একবচনে বলা হয় ‘খারিজি’ এবং এর বহুবচন ‘খাওয়ারিজ’। আভিধানিক দৃষ্টিকোণে, ‘খারিজি’ বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যে তার সম্প্রদায়, গোত্র বা সমসাময়িকদের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায় এবং বিদ্রোহের পথে পা বাড়ায়। খারেজিদের আক্বীদা হচ্ছে,কবিরা গুনাহগার হলো কাফির, কবীরাগুনাহ বড় কুফরি। যা মিল্লাত (ইসলাম) থেকে বের করে দেয়। এরা বলে, যে কবীরাগুনাহ করবে, সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৭২৮ হি.) বলেছেন, فَكانَ مِن أوَّلِ البِدَعِ والتَّفَرُّقِ الَّذِي وقَعَ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ «بِدْعَةُ الخَوارِجِ» المُكَفِّرَةِ بِالذَّنْبِ “এই উম্মতের মধ্যে উদ্ভূত সর্বপ্রথম বিদআত ও বিভক্তি হলো খারেজিদের বিদআত; যারা (বড়ো কুফর নয় এমন) গুনাহের দরুন কাফির ফতোয়া দেয়।”(মাজমুউ ফাতাওয়া, খণ্ড: ১২; পৃষ্ঠা: ৪৭০)

.
(২). মুতাজিলা সম্প্রদায়: মু‘তাযিলা” (المعتزلة) শব্দটি এসেছে “ই‘তাযাল” (اعتزل) ক্রিয়াপদ থেকে, যার অর্থ বিচ্ছিন্ন হওয়া, আলাদা থাকা বা একাকীত্ব অবলম্বন করা। এই দার্শনিক মতবাদের উদ্ভব হয় হিজরী প্রথম শতকের শেষভাগ এবং দ্বিতীয় শতকের শুরুতে, যখন কিছু চিন্তাবিদ প্রচলিত ধারার চিন্তা থেকে সরে এসে স্বতন্ত্র মত প্রকাশ করেন। এদের আক্বীদা হচ্ছে, কবীরাগুনাহগার ব্যক্তি কাফির এবং মুমিন এই দুইয়ের মাঝখানে রয়েছে,এরা বলে,কবিরা গুনাহগার মুমিনও নয়, আবার কাফিরও নয়, বরং সে দুটো স্তরের মধ্যবর্তী স্তরের আওতাভুক্ত। আর এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে,এমনকি শাফা‘আতের মাধ্যমেও তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা যাবে না। কারণ সে ঈমানহীনভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। মু‘তাযিলা মতবাদের জনক ওয়াছিল বিন আতা বললেন,أنا لا أقول إن صاحب الكبيرة مؤمن مطلقا ولا كافر مطلقا بل هو في منزلة بين المنزلتين لا مؤمن ولا كافر “আমি কবীরাগুনাহকারীকে পূর্ণাঙ্গ মুমিন বলব না এবং পূর্ণাঙ্গ কাফিরও বলব না। বরং তার অবস্থান উভয়ের মাঝামাঝি। না মুমিন না কাফির”(আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৫)
.
(৩). মুরজিয়া সম্প্রদায়: মুরজিয়া” (المرجئة) শব্দটি আরবি “إرجاء” ইরজা মূলধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বিলম্ব করা, স্থগিত রাখা, বা পেছনে ঠেলে দেওয়া।যেমন: আল্লাহ তা’আলা বলেন, ফির’আউন বলেছিল, ‘আরিজহ ওয়া আখাহু’ [সূরা আল-আ’রাফ: ১১১] অর্থাৎ “মূসা ও তার ভাইকে একটু বিলম্ব করাও”। আর সে হিসেবে এদেরকে মুরজিয়া বলার কারণ তারা আমলকে ঈমানের সংজ্ঞায় প্রবেশ করায় না। তারা বলে, ঈমান হচ্ছে শুধু অন্তরে বিশ্বাসের নাম।এরা কবীরাগুনাহকে মুলতবি রাখে। এদের আক্বীদা হচ্ছে,কবিরা গুনাহগার পরিপূর্ণ ইমানওয়ালা মুমিন।কবীরাগুনাহ ঈমানের কোন ক্ষতি করে না। তার কোনো শাস্তি হবে না, এমনকি সে শাস্তির হকদারও হবে না। তাদের নিকট আমল ঈমানের রুকন নয়। সীমালঙ্ঘন বা পাপ কাজও ঈমানের কোন ক্ষতি করে না। যেমনভাবে কুফরী আনুগত্যের কোন ক্ষতি করতে পারে না। এরাই হল মুরজিয়া।।
.
পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতে প্রতিদানপ্রাপ্তির দৃষ্টিকোণ থেকে কবিরা গুনাহগারের বিধান হচ্ছে কোনো ব্যক্তি যদি বড় গোনাহে লিপ্ত হয়, তবে সে তার গোনাহের কারণে সে আল্লাহর নির্ধারিত প্রতিদান তথা শাস্তির হকদার হবে। তবে এতে সে চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে না। বরং তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল আল্লাহ চাইলে ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে তাকে তার গোনাহ অনুযায়ী শাস্তি দেবেন,আবার তিনি চাইলে তাঁর অনুগ্রহে সম্পূর্ণ ক্ষমা করে দেবেন।”যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করা ক্ষমা করবেন না। এছাড়া অন্য সব (গুনাহ) যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন।” [সুরা নিসা: ৪৮] এছাড়াও কুরআন সুন্নাহ’য় আরো বহু দলিল রয়েছে। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
______________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

Translate