Wednesday, April 16, 2025

বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকের সময় পঠিতব্য দোয়া

 বজ্রপাত হচ্ছে আসমানি দুর্যোগ। মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখার একটি সতর্কবার্তাও বটে। এ বজ্রপাত আল্লাহ তাআলা শক্তিমত্তার এক মহা নিদর্শন। তিনি ইচ্ছা করলেই যে কাউকে এ বজ্রপাতের মাধ্যমে শাস্তি দিতে পারেন। আবার মানুষও এ বজ্রপাত থেকে সর্বোত্তম শিক্ষা নিতে পারে।

আল্লাহ তাআলা কুরআনের একটি সুরা নাম রেখেছেন রাদ। যার অর্থও বজ্রপাত। বজ্রপাত নামে নাজিল হওয়া সুরায় মহান আল্লাহ সে কথাই ঘোষণা করেছেন-

هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنْشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ – وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلاَئِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَن يَشَاء وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ

“তিনিই তোমাদের বিদ্যুৎ দেখান ভয়ের জন্য এবং আশার জন্য এবং উপেক্ষিত করেন ঘন মেঘমালা। তাঁর (তাহমিদ) প্রশংসা কর। বজ্র এবং ফেরেশতারাও তার ভয়ে (তাসবিহ রত)। তিনি বজ্রপাত করেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি তা (বজ্রপাত) দ্বারা আঘাত করেন। এরপরও তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।” [সুরা রাদ : আয়াত ১২-১৩] নিম্নে বজ্রপাত এবং বিদ্যুৎ চমকানো প্রসঙ্গে কী দোয়া পড়তে হয় সে বিষয়ে আলেমদের দুটি ফতোয়া উল্লেখ করার মাধ্যমে আলোচনা করা হলো:

✅ শাইখ বিন বায রাহ.:

প্রশ্ন: শ্রোতা (ম. সিহলি) একাধিক প্রশ্ন পাঠিয়েছেন। তার একটি প্রশ্ন হলো—বজ্রপাতের শব্দ শোনা বা বিদ্যুৎ চমক দেখার সময় শরিয়তসম্মত কোনো দোয়া আছে কি না? জাযাকাল্লাহু খাইরান (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন)

উত্তর: কিছু হাদিসে এসেছে যে, বজ্রপাতের শব্দ শোনার সময় বলা হয়:

سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ

উচ্চারণ: “সুবহানাল্লাযী ইউসাব্বিহুর রা’দু বিহামদিহি ওয়াল মালায়িকাতু মিন খীফাতিহি।”

অর্থ: “আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করি যার ভয়ে বজ্রধ্বনি ও ফেরেশতাবর্গ তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে।” [সূরা রাদ: ১৩]

এটি আব্দুল্লাহ ইবনুজ্ জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বজ্রপাত শুনলে বলতেন।

কিন্তু বিদ্যুৎ চমক (আলো) দেখার সময় বিশেষ কোনো দোয়া পড়ার ব্যাপারে আমার জানা নেই। আমি সুন্নাহ থেকে এ বিষয়ে কিছু পাইনি।

উপস্থাপক:

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান। ”আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।”

✅ ইসলাম ওয়েব:

প্রশ্ন: বজ্রপাতের শব্দ শোনার পর কোন দোয়া পড়তে হয়?

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিদের ওপর।

আব্দুল্লাহ ইবনুজ্ জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বজ্রপাতের শব্দ শুনলে কথাবার্তা বন্ধ করে দিতেন এবং বলতেন:

سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ

উচ্চারণ: “সুবহানাল্লাযী ইউসাব্বিহুর রা’দু বিহামদিহি ওয়াল মালায়িকাতু মিন খীফাতিহি।”

অর্থ: “আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করি যার ভয়ে বজ্রধ্বনি ও ফেরেশতাবর্গ তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে।” [সূরা রাদ: ১৩]

এরপর তিনি বলতেন: “নিশ্চয়ই এটি পৃথিবীর জন্য কঠিন শাস্তির সতর্কবার্তা।”
[ইমাম বুাখারির আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৭২৩, সহিহ সনদে বর্ণিত]

তাই কেউ যদি এই সাহাবির অনুসরণে এটি পড়ে তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আমরা এমন কোনো সহিহ হাদিস পাইনি যেখানে এটি সরাসরি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত।

আল্লাহু আলাম-আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

🛑 বজ্রপাত থেকে রক্ষার নিম্নোক্ত দোয়াটা জইফ (দুর্বল):

اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা-তাক্বতুলনা বিগাযাবিকা, ওয়া লা-তুহলিকনা বিআযা-বিকা; ওয়া আ-ফিনা-ক্বাবলা যা-লিকা।’

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার গজব দিয়ে হত্যা করে দেবেন না এবং আপনার আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দেবেন না। এসবের আগেই আপনি আমাকে পরিত্রাণ দিন।’ [তিরমিজি, হা/৩৪৫০]

এ হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ যদি বজ্রপাতের সময় এ দুআ পড়ে তাহলে সে রক্ষা পাবে। কিন্তু হাদিসটি সহিহ নয়।

[দেখুন: যায়ীফাহ-আলবানি , হা/১০৪২। আজকার-নওয়াবি, হা/২৩৪। তাখরিজুল মুসনাদ-শুয়াইব আরনাবুত, হা/ ৫৭৬৩]
আল্লাহু আলাম।

▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

কুরআন মাজীদকে মাটিতে রাখার বিধান কী

 প্রশ্ন: কুরআন মাজীদকে অল্প বা দীর্ঘ সময়ের জন্য মাটিতে রাখার কী হুকুম? তা কি মাটি থেকে অন্তত এক বিঘত উঁচুতে রাখা আবশ্যক?

উত্তর:
وضعه على محل مرتفع أفضل مثل الكرسي أو الرف في الجدار ونحو ذلك مما يكون مرفوعا به عن الأرض، وإن وضعه على الأرض للحاجة لا لقصد الامتهان على أرض طاهرة بسبب الحاجة لذلك ككونه يصلي وليس عنده محل مرتفع أو أراد السجود للتلاوة فلا حرج في ذلك إن شاء الله، ولا أعلم بأسًا في ذلك، لكنه إذا وضعه على كرسي أو على وسادة ونحو ذلك أو في رف كان ذلك أحوط، فقد ثبت عنه ﷺ عندما طلب التوراة لمراجعتها بسبب إنكار اليهود حد الرجم طلب التوراة وطلب كرسيًا ووضعت التوراة عليه، وأمر من يراجع التوراة حتى وجدوا الآية الدالة على الرجم وعلى كذب اليهود.
فإذا كانت التوراة يشرع وضعها على كرسي لما فيها من كلام الله سبحانه، فالقرآن أولى بأن يوضع على الكرسي لأنه أفضل من التوراة.

والخلاصة: أن وضع القرآن على محل مرتفع ككرسي، أو بشت مجموع ملفوف يوضع فوقه، أو رف في جدار أو فرجة هو الأولى والذي ينبغي، وفيه رفع للقرآن وتعظيم له واحترام لكلام الله، ولا نعلم دليلا يمنع من وضع القرآن فوق الأرض الطاهرة الطيبة عند الحاجة لذلك[

“কুরআন মাজীদকে উঁচু জায়গায় রাখা উত্তম, যেমন একটি চেয়ার, দেওয়ালের তাক বা অন্য কোনো উঁচু স্থান যেখানে এটি সম্মানের সঙ্গে রাখা যায়। তবে যদি কেউ প্রয়োজনে, অবমাননার উদ্দেশ্য ছাড়া পাক মাটির উপর কুরআন মাজীদকে রাখে তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। যেমন যদি কেউ সালাত আদায় করে এবং তার কাছে কুরআন রাখার জন্য কোনো উঁচু স্থান না থাকে অথবা সে তিলাওয়াতের সিজদার জন্য বসে থাকে তাহলে এটি মাটিতে রাখা জায়েজ হবে।

তবে কুরআনকে চেয়ার, কুশন, বালিশ, তাক বা অন্য কোনো উঁচু স্থানে রাখা উত্তম ও নিরাপদ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইহুদিদের পাথর নিক্ষেপের শাস্তি (রজম) অস্বীকার করার জন্য তাদের তাওরাত আনতে বলেন তখন তিনি একটি চেয়ারও আনতে বলেন এবং তাওরাতকে সেটির ওপর রাখা হয়। এরপর তিনি এক সাহাবিকে তাওরাত পড়তে বলেন। অতঃপর তারা সেই আয়াত খুঁজে পান যা রজমের শাস্তির সমর্থনে ছিল। ফলে ইহুদিদের মিথ্যাচার প্রমাণিত হয়।

যেহেতু তাওরাতের মতো কিতাবের জন্যও যার মধ্যে আল্লাহর কালাম আছে চেয়ারে রাখা শরিয়তসম্মত তাই কুরআন মাজীদকে চেয়ারে রাখা আরও বেশি উপযুক্ত। কারণ এটি তাওরাতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

মোটকথা, কুরআন মাজীদকে উঁচু স্থানে রাখা যেমন একটি চেয়ার, কুশন, তাক বা দেওয়ালের কোন ফাঁকা স্থানে রাখা উত্তম। এটি কুরআনের সম্মান ও মহত্ব বজায় রাখে। তবে প্রয়োজনে পরিষ্কার পাক-পবিত্র মাটিতে রাখার অনুমতি আছে। একে হারাম বলা যাবে না। [সূত্র: শাইখ ইবনে বায (রহ.), ‘নূরুন আলাদ দারব” প্রোগ্রামের ৭ নম্বর ক্যাসেট মাজমূ’ ফাতাওয়া ও মাকালাত শাইখ ইবন বায (৯/২৮৮)]

❑ শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল উসাইমিন রহ. বলেছেন:

ومن النصيحة لكتاب الله عز وجل : أن لا تضعه في موضع يمتهن فيه ، ويكون وضعه فيه امتهاناً له ، كمحل القاذورات ، وما أشبه ذلك ، ولهذا يجب الحذر مما يصنعه بعض الصبيان إذا انتهوا من الدروس في مدارسهم ، ألقوا مقرراتهم والتي من بينها الأجزاء من المصحف في الطرقات أو في الزبالة أو ما أشبه ذلك ، والعياذ بالله .
وأما وضع المصحف على الأرض الطاهرة الطيبة : فإن هذا لا بأس به ، ولا حرج فيه ؛ لأن هذا ليس فيه امتهان للقرآن ، ولا إهانة له ، وهو يقع كثيراً من الناس إذا كان يصلي ويقرأ من المصحف وأراد السجود يضعه بين يديه : فهذا لا يعدُّ امتهانا ، ولا إهانة للمصحف ، فلا بأس به .
” شرح رياض الصالحين ” ( 1 / 423 ) دار ابن الهيثم ، شرح حديث رقم ( 181

“আল্লাহর কিতাবের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধের অংশ হলো, এটিকে এমন স্থানে না রাখা যেখানে কুরআনের সম্মানহানী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন ময়লা-আবর্জনার স্থান বা অপবিত্র জায়গা।

অনেকে শিশু স্কুল থেকে ফেরার পর তাদের বই-খাতা-যার মধ্যে কুরআনের অংশও থাকতে পারে-রাস্তা বা আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেয় এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।)”

“তবে যদি পবিত্র ও পরিষ্কার মাটিতে মাটিতে কুরআন মাজীদ রাখা হয় তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ এটি কোনোভাবেই কুরআনের অবমাননা বা অশ্রদ্ধার শামিল নয়। অনেক মানুষ নামাজ পড়ার সময় মুসহাফ (কুরআনের কপি) থেকে তিলাওয়াত করেন এবং সিজদার সময় তা সামনে রেখে দেন এটি কোনোভাবেই অসম্মানজনক নয়। তাই এতে কোনো বাধা নেই।” [সূত্র: শারহে রিয়াদুস সালিহীন (১/৪২৩), দার ইবনুল হাইসম, হাদিস নং ১৮১]

❑ শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনে জিবরিন (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:

“পাক-পবিত্র মাটিতে বা জায়নামাজের ওপর কুরআন রাখা কি বৈধ?”

উত্তরে তিনি বলেন:

الأوْلى أن يوضع على مكان مرتفع حتى يتحقق رفعه حسّاً ومعنى ، قال الله تعالى : ( مرفوعة مطهرة ) فإذا احتجتَ إلى وضعه : فضعْه على مكان مرتفع ولو قليلاً ، فإذا لم يتيسر : جاز وضعه على الأرض على فراشٍ طاهرٍ ، ونحوه ، وينزَّه المصحف بأن يوضع على مكان منخفض أو على مكان متنجس أو على التراب ؛ لما فيه من الاحتقار له ، وإذا احتيج إلى وضعه على فراش طاهر : فلا بأس بذلك ، مع الحرص على رفعه حسّاً ومعنى .
” فتاوى إسلامية ” ( 4 / 15 )

“উত্তম হলো কুরআনকে উঁচু স্থানে রাখা, যাতে এটি বাহ্যিকভাবেও ঊর্ধ্বে থাকে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

مَرْفُوعَةٍ مُّطَهَّرَةٍ

“(কুরআন) লিখিত আছে সম্মানিত উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে।” [সূরা আবাসা: ১৪]

“তবে প্রয়োজনে যদি উঁচু স্থান না পাওয়া যায় তাহলে পরিষ্কার বিছানা বা জায়নামাজের ওপর রাখা জায়েজ। তবে এটিকে নিচু জায়গায়, নাপাক স্থানে বা সরাসরি মাটিতে না রাখা উচিত। কারণ এতে কুরআনের সম্মানহানি হতে পারে। যদি পবিত্র স্থান ছাড়া অন্য কোথাও রাখার উপায় না থাকে তবে কুশন বা পরিষ্কার কাপড়ের ওপর রাখা উত্তম।” [সূত্র: ফাতাওয়া ইসলামিয়া (৪/১৫)]

সারসংক্ষেপ:

✅ উঁচু জায়গায় রাখা উত্তম। তবে প্রয়োজনে পবিত্র স্থান বা জায়নামাজের ওপর রাখা জায়েজ।
🚫 অপবিত্র স্থান, নোংরা জায়গা বা মাটিতে সরাসরি রাখা নিষিদ্ধ। কারণ এতে কুরআনের অবমাননা হতে পারে।▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬
অনুবাদক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ইসলামে ঘোড়ার মাংস খাওয়ার বিধান

 আলহামদুলিল্লাহ। অধিকাংশ ইসলামি বিদ্বান ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে বৈধ বলেছেন। কারণ এ বিষয়ে সহিহ হাদিস রয়েছে।

হাদিসের দলিল:

❂ ১. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত:

نَهَى رَسولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عليه وسلَّمَ يَومَ خَيْبَرَ عن لُحُومِ الحُمُرِ الأهْلِيَّةِ، ورَخَّصَ في الخَيْلِ

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাইবারের দিনে গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।” [সহিহ বুখারি (৩৯৮২), সহিহ মুসলিম (১৯৪১)]

❂ ২. আসমা বিনতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন:

نحَرْنا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فرساً فأكلناه

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে আমরা একটি ঘোড়া জবাই করে খেয়েছিলাম।” [সহিহ বুখারি (৫১৯১), সহিহ মুসলিম (১৯৪২)]

❂ ৩. জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:

سافرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وكنا نأكل لحم الخيل ونشرب ألبانها

“আমরা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সফর করছিলাম এবং ঘোড়ার মাংস খেয়েছি ও এর দুধ পান করেছি।” [দারকুতনি, বায়হাকি – ইমাম নববী বলেছেন: এটি সহিহ সনদ বিশিষ্ট]

❒ বিরোধী মতামত:

কিছু বিদ্বান যেমন ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর দুই শিষ্য ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে মাকরুহ বলেছেন এবং তারা একটি আয়াত ও একটি হাদিস দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।

❂ ১. আয়াতের দলিল:

الْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً

“আর তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা যাতে তোমরা এগুলোর উপর সওয়ার হতে পারো এবং এগুলো তোমাদের জন্য শোভাস্বরূপ।” [সূরা আন-নাহল: ৮]

তারা বলেন, এখানে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধাকে কেবল বাহনের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, খাদ্য হিসেবে নয়। অথচ এর আগের আয়াতে চতুষ্পদ জন্তুর (গরু, উট, ছাগল) মাংস খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

➧ এর জবাব:

ইসলামি স্কলাররা বলেন, এই আয়াতে বাহনের বিষয়টি মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়ায় তা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, এগুলোর অন্য কোনো উপকারিতা নেই। যেমন: আল্লাহ বলেছেন:

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ

“তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত, শুকরের মাংস।” [সূরা মায়েদা: ৩]

এখানে কেবল মাংসের কথা বলা হলেও, সবাই একমত যে শুকরের চর্বি, রক্ত ও অন্যান্য অংশও হারাম।

❂ ২. হাদিসের দলিল: খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:

نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لحوم الخيل والبغال والحمير وكل ذي ناب من السباع

“রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়া, খচ্চর, গাধা ও হিংস্র দাঁতওয়ালা প্রাণীর মাংস খেতে নিষেধ করেছেন।” [আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]

❒ এর জবাব: এই হাদিসটি দুর্বল।

◈ শাইখ আলবানি জইফ আবু দাউদে এটিকে জয়িফ বলেছেন।
◈ বিশিষ্ট মুহাদ্দিস হাফিজ মুসা ইবনে হারুন (মৃত্যু: ২৯৪ হিজরি) বলেছেন: “এই হাদিসটি দুর্বল।”
◈ ইমাম বুখারি বলেছেন: “এই হাদিসটি সন্দেহযুক্ত।”
◈ ইমাম বায়হাকি বলেছেন: “এই হাদিসটির সনদ অসংগত এবং এটি বিশ্বাসযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসের (যা ঘোড়ার মাংসের বৈধতার পক্ষে) বিপরীত।”
◈ ইমাম খাত্তাবি বলেছেন: “এই হাদিসটির সনদে সন্দেহ রয়েছে।”
◈ ইমাম আবু দাউদ বলেছেন: “এই হাদিসটি রহিত (মানসুখ)।”
◈ ইমাম নাসাঈ বলেছেন: “ঘোড়ার মাংসের বৈধতার হাদিসই বেশি সহিহ।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন: “যদি নিষেধাজ্ঞার হাদিসটি সহিহ হয়, তবে এটি রহিত (নাসিখ) বলে মনে হয়। কারণ সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এটি সেই অনুমতিরই প্রমাণ।” (তথ্যসূত্র: আল মাজমু)

[islamqa থেকে অনুদিত]

❖❖ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ.-এর ফতোয়া:

শাইখকে প্রশ্ন করা হয়:

প্রশ্ন: আমাদের অঞ্চলের একটি গ্রামে লোকজন একটি ঘোড়া জবাই করে তার মাংস মানুষের মাঝে বিতরণ করে এই দাবিতে যে, এটি ইসলামে বৈধ। এটি কি সত্য?

উত্তরে তিনি বলেন:

: نعم، لحم الخيل مباح هذا الذي عليه جمهور أهل العلم وهو الصحيح، والرسول ﷺ أذن في لحوم الخيل، وروت أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما: أنهم نحروا فرسًا على عهد النبي ﷺ في المدينة وأكلوها، فالمقصود: أن لحوم الخيل مباح، هذا هو الصواب الذي عليه جمهور أهل العلم

“হ্যাঁ, ঘোড়ার মাংস খাওয়া ইসলামে বৈধ। এ বিষয়ে অধিকাংশ ইসলামি স্কলারের ঐকমত্য রয়েছে। এই মতটাই সঠিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। আসমা বিনতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন যে, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে আমরা মদিনায় একটি ঘোড়া জবাই করেছিলাম এবং তা খেয়েছিলাম।” [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম]

❑ প্রশ্নকারী: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। এটি কি উটের মতো জবাই করতে হয় নাকি গরুর মতো জবাই করতে হয়?

উত্তর:

تذبح كالبقر، بخلاف البغال والحمير لا، البغال والحمير هذه محرمة الحمر الأهلية المعروفة هذه محرمة، أما الخيل فإنها مباحة، الرسول ﷺ نهى عن الحمر والبغال وأذن في لحوم الخيل.

“ঘোড়া গরুর মতো জবাই করা হয়। তবে খচ্চর ও গৃহপালিত গাধার মাংস খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গৃহপালিত গাধা ও খচ্চরের মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু ঘোড়ার মাংসের ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন।”

❒ ঘোড়ার মাংস খাওয়া হালাল। তবে জিহাদের প্রয়োজন হলে জবাই করা উচিত নয়

শাইখক এ বিষয়ে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে বলেন,

الخيل مباحة قد أذن فيها النبي ﷺ، ورخص في لحم الخيل، وقالت أسماء بنت أبي بكر رضي الله تعالى عنهما: نحرنا على عهد النبي ﷺ فرساً، فأكلناه ونحن في المدينة رواه الشيخان في الصحيحين.

فالخيل مباحة، لكن إذا احتيج إليها في الجهاد لا تذبح .. لا تنحر، وإذا لم يحتج إليها وذبحت فهي حلال كالضباء وكالوعل، وكالأرنب، وكغيرها من الصيود النافعة،

أما الحمر والبغال لا، ليست بحلال، محرمة، الحمر والبغال.. الحمر الأهلية والبغال المعروفة هذه محرمة لا يجوز أكلها، أما الحمر الوحشية المعروفة هذه لا بأس بها، يسمونها الوضيحي فهذه مباحة، وهي حمر منقشة لها نقش عجيب، فليست مثل الحمر الأهلية بل لها شكل آخر، ولون آخر، وخلق آخر، فلا بأس بها، أما الحمر الأهلية فإنها تحرم، المعروفة اللي كان الناس يركبونها ويستعملونها في الحرث، والسني عليها، هذه معروفة، وقد ذبحها الناس يوم خيبر، فأنكر عليهم النبي ﷺ وأكفأ القدور، وبين تحريمها عليه الصلاة والسلام.

وهكذا البغال المعروفة لا يحل أكلها، ولكن تستعمل، تركب وتستعمل في
الحمل عليها كالحمير

“হ্যাঁ, ঘোড়ার মাংস খাওয়া বৈধ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং এটিকে হালাল ঘোষণা করেছেন।

আসমা বিনতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে আমরা মদিনায় একটি ঘোড়া জবাই করে তা খেয়েছিলাম।” [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম]

◆ ঘোড়া হালাল। তবে যদি জিহাদের জন্য প্রয়োজন হয় তাহলে এটিকে জবাই করা উচিত নয়। যদি জিহাদের প্রয়োজন না থাকে তাহলে তা হরিণ, বন্য ছাগল (ঘুরাল), খরগোশ এবং অন্যান্য উপকারী শিকারযোগ্য প্রাণীর মতোই বৈধ।

◆ গৃহপালিত গাধা ও খচ্চর গৃহপালিত গাধা এবং খচ্চরের মাংস খাওয়া হারাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাইবার যুদ্ধে গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেন এবং রান্নার হাঁড়িগুলো উল্টে দেন। [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম]

◆ বন্য গাধা: (নীলগাভি/নীলগাই) বন্য গাধার মাংস খাওয়া বৈধ। এটি গৃহপালিত গাধার মতো নয় এবং এটিকে খাওয়া জায়েজ।

◆ খচ্চরের মাংস খাওয়া হারাম হলেও এগুলো বাহন হিসেবে ব্যবহার করা এবং মাল বহনের কাজে লাগানো বৈধ যেমন গৃহপালিত গাধার ক্ষেত্রে হয়।”

সংক্ষিপ্ত কথা হলো, ঘোড়ার মাংস খাওয়া জায়েজ। হবে জিহাদের প্রয়োজন হলে, তা গণহারে খাওয়া উচিত নয়। হানাফি মাজহাবে তা মাকরুহ বলা হলেও এ মর্মে দলিল প্রমাণিত না হওয়ায় তা গ্রহনযোগ্য নয়।

▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ধর্ষণ ও বর্তমান সমাজের চিত্র এবং কারণ ও প্রতিকার

 ভূমিকা: আমাদের সমাজে অসংখ্য অন্যায়-অপকর্মের স্রোত-তরঙ্গের মাঝে ধর্ষণ বর্তমানে নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত আসছে ধর্ষণের নানা খবর। মানুষ গড়ার আঙ্গিনায় অমানুষদের হিংস্র থাবায় আমার বোন আজ ক্ষত-বিক্ষত। স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ। বাসের ড্রাইভার আর হেল্পার মিলে জন্তু-জানোয়ারের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে অসহায় নারীর উপর। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে জনসম্মুখে কুপিয়ে হত্যা কিংবা শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার মত ঘটনা দেখে জাতি স্তম্ভিত। এমনকি প্রেম প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রতিশোধ নিতে কয়েকজন ধর্ষক গণ ধর্ষণ করার পর ফেসবুক লাইভে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠে। বাদ যায় না প্রতিবন্ধী কিংবা ছয় বছরের শিশুও৷ এই হল, আমাদের বর্তমান সমাজের নির্মম হাল-চিত্র। (আল্লাহ এ জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।)

যাহোক, এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতে নিম্নে ধর্ষণ সংক্রান্ত জরুরি কিছু তথ্য, ধর্ষণের প্রকারভেদ, কারণ ও ইসলামে ধর্ষণ রোধে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ তুলে ধরা হল:

❐ বাংলাদেশ সংবিধানে ধর্ষণের সংজ্ঞা:

বাংলাদেশ সংবিধানে ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলক ভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।” [বাংলাদেশ সংবিধান: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০] অনুমতি প্রদানে অক্ষম (যেমন: কোনও অজ্ঞান, বিকলাঙ্গ, মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি) এরকম কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হওয়াও ধর্ষণের আওতাভুক্ত। ধর্ষণ শব্দটির প্রতিশব্দ হিসেবে কখনো কখনো ‘যৌন আক্রমণ’ শব্দ গুচ্ছটিও ব্যবহৃত হয়। (উইকিপিডিয়া) ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং আঘাত পরবর্তী চাপ বৈকল্যে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া ধর্ষণের ফলে গর্ভধারণ ও যৌন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির পাশাপাশি গুরুতর ভাবে আহত হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি ধর্ষকের দ্বারা এবং কোনও কোনও সমাজে ভুক্তভোগীর নিজ পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়।

❐ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ৯ ধারা মতে সাজাসমুহ:

(১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
ব্যাখ্যা৷- যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত [ষোল বৎসরের] অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলক ভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা [ষোল বৎসরের] কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন৷
(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-
(ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষিতা হন, তাহা হইলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্ত রূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷ [নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ source: https://bit.ly/3kWfFOO]

❐ ধর্ষণের প্রকারভেদ: (১০ প্রকার)

ধর্ষণের নানা প্রকারভেদ রয়েছে। এগুলো থেকে নিম্নোক্ত প্রকার সমূহ সমধিক সংঘটিত হয়। যেমন:

১) ডেট ধর্ষণ
২) গণ ধর্ষণ
৩) শিশু ধর্ষণ
৪) কারাগারে ধর্ষণ
৫) ধারাবাহিক ধর্ষণ (serial rape)
৬) প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ষণ
৭) হেফাজত কালীন ধর্ষণ। (যেমন: হাসপাতাল কর্মী, পুলিশ, সরকারী কর্মকর্তা ইত্যাদি কর্তৃক ধর্ষণ)।
৮) আন্তর্জাতিক সংঘাত বা যুদ্ধ কালীন নিয়মতান্ত্রিকভাবে ও ব্যাপক হারে ধর্ষণ।
৯) চৌর্যবৃত্তিমুলক ধর্ষণ: নারী অথবা পুরুষকে অপহরণ করে এ ধর্ষণ করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের যৌন দাসত্বে অথবা দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
১০) বিকৃত মস্তিষ্ক নিকটাত্মীয় কর্তৃক ধর্ষণ। যেমন: বাবা, চাচা, ভাই, দাদা ইত্যাদি রক্ত সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয় কর্তৃক এ ঘৃণ্য কাজটি করা হলে তাকে বলা হয় অজাচার।

❐ ধর্ষণে শীর্ষস্থানে থাকা ১০ দেশ:

ধর্ষণ অপরাধে গোটা বিশ্বে এক নম্বরে যে দেশটি অবস্থান করছে তার নাম হল, কথিত ‘সভ্য’ দেশ আমেরিকা/যুক্তরাষ্ট্র। আর ধর্ষণে শীর্ষস্থানে থাকা দশটি দেশের সবগুলোই অমুসলিম দেশ। যদিও এ সব দেশে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ আছে, নারীদের ইচ্ছামত পোশাক পরার স্বাধীনতা আছে, সর্বক্ষেত্রে পুরুষদের সাথে কাজের অনুমতি আছে এবং সেখানে নারী-পুরুষের মাঝে কোন ভেদাভেদ করা হয় না।
● ১. আমেরিকা : আমেরিকার ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিক অনুযায়ী আমেরিকায় ধর্ষণের শিকার নারীর পরিসংখ্যান ৯১% এবং ৮% পুরুষ। ন্যাশনাল ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইম্যানের সার্ভে অনুযায়ী আমেরিকার প্রতি ৬ জন মহিলার মধ্যে ১ জন ধর্ষণের শিকার।
পুরুষদের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটা ৩৩ জনে ১ জন ধর্ষণের শিকার। এই দেশে ১৪ বছর বয়স থেকেই ধর্ষণের মত অপরাধের প্রবণতা তৈরি হয় শিশু মননে।
● ২. দক্ষিণ আফ্রিকা: সন্তান এবং শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গোটা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয়। এই দেশে একজন ধর্ষকের শাস্তি মাত্র ২ বছরের কারাবাস। দক্ষিণ আফ্রিকাকে বলা হয় ‘রেপ ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড’।
● ৩. সুইডেন : ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে সুইডেনেই সবথেকে বেশি ধর্ষণ হয়। প্রতি বছরই প্রায় ৫৮% হারে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়ে সুইডেনে।
● ৪. ভারত : ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো অনুযায়ী ২০১২ সালে ভারতের মত উন্নতশীল দেশে ধর্ষণের অভিযোগ জমা হয়েছে ২৪ হাজার ৯২৩টি। ভারতে ধর্ষণের শিকার হওয়া ১০০ জন নারীর মধ্যে ৯৮ জনই আত্মহত্যা করেন। প্রতি ২২ মিনিটে ভারতে একটি করে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়।
● ৫. ব্রিটেন : ৪ লাখ মানুষ প্রতিবছর ধর্ষণের মত ঘটনার শিকার হন ব্রিটেনে। প্রতি ৫ জন মহিলার (১৬-৫৯ বছর বয়সী) মধ্যে একজন করে ধর্ষণের শিকার হন।
● ৬. জার্মানি : এখনও পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার নারীর মৃত্যু হয়েছে জার্মানিতে। প্রতি বছর জার্মানিতে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয় ৬৫ লাখ ৭ হাজার, ৩৯৪।
● ৭. ফ্রান্স : ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ধর্ষণের মত ঘটনা ফ্রান্সে অপরাধ বলেই মানা হত না। ফ্রান্সের সরকারী গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি বছরে এই দেশে ধর্ষণের শিকার হন অন্তত ৭৫ হাজার নারী।
● ৮. কানাডা : এই দেশে এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগের (ধর্ষণ) সংখ্যা ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৯১৮টি (এই সময় পর্যন্ত)। প্রতি ১৭ জন মহিলার মধ্যে ১ জন করে মহিলা এই দেশে ধর্ষিতা হন। যাদের মধ্যে ৬২% শারীরিকভাবে আহত হন।
● ৯. শ্রীলঙ্কা : এই দেশে অপরাধের শতাংশের বিচারে ১৪.৫ শতাংশ অপরাধ সংগঠিত হয় ধর্ষণে। ধর্ষণে অভিযুক্তদের ৬৫.৮% ধর্ষণের মত নারকীয় কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকেও কোনও প্রকার অনুশোচনা তাদের মধ্যে হয় না।
● ১০. ইথিওপিয়া : এই দেশের ৬০% নারী ধর্ষণের শিকার। (সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ)

❐ বাংলাদেশে পরিসংখ্যান:

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৮ হাজার ৬৬৮টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে প্রতিবছর গড়ে ৪ শতাংশ আসামির সাজা হয়। বাকিদের অধিকাংশই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৩২২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৬ মাসে ৬ শতাধিক ধর্ষণ। ৩৭ জন হত্যা। (চ্যানেল ২৪)
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,”চলতি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট এই ৮ মাসে দেশে অন্তত ৮৯২ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ সকল ধর্ষিতা নারীদের মধ্যে অন্তত ৪১ জন আহত অবস্থায় মারা গেছেন এবং অপর ৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। এতে আরও বলা হয় এ সময়কালে ১৯২ জন নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল।” (ভয়েস অফ আমেরিকা/voabangla ডট কম)

❐ ধর্ষণ বৃদ্ধির ১৬ কারণ:

নানা কারণে ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়। তাই বিশেষ একটি কারণকে এ জন্য দায়ী বলা যাবে না। আমাদের সমাজে ধর্ষণ বৃদ্ধির জন্য যে সব মৌলিক কারণকে দায়ী করা যায় সেগুলো নিম্নরূপ:
১) আল্লাহর দীন থেকে দুরে সরে যাওয়া, মানুষের অন্তর থেকে আল্লাহ ভীতি উঠে যাওয়া এবং নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
২) জিনা-ব্যভিচারের শাস্তি সংক্রান্ত আল্লাহর বিধানকে অবমূল্যায়ন।
৩) অশ্লীলতার ছড়াছড়ি। যৌন আবেদন মূলক সিনেমা, নাটক, কনসার্ট, চলচ্চিত্রে ধর্ষণের দৃশ্য উপস্থাপন, দেয়ালে দেয়ালে অশ্লীল পোস্টার, কাছে আসার গল্প মার্কা অনুষ্ঠান, অশ্লীল ম্যাগাজিন, পাঠ্য বইয়ে যৌন শিক্ষার সুড়সুড়ি, বিদেশী টিভি চ্যানেল, পর্ণ ওয়েব সাইট, ইউটিউব, ফেসবুক সহ সর্বত্র উন্মুক্ত অশ্লীলতা।
৪) পর্দা হীনতা, অশালীন পোশাক, বেপরোয়া চলাফেরা‌ এবং লাজ-লজ্জাকে নির্বাসন।
৫) আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা বা বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রিতা।
৬) বর্তমান যুবসমাজের অসুস্থ ও নোংরা মানসিকতা।
৭) স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিতে সহশিক্ষা চালু থাকা।
৮) কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা।
৯) পারিবারিক সুশিক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার উদাসীনতা।
১০) যুবক-যুবতীদের উপর সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব ও ধর্ষকদেরকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ না থাকা।
১১) মদ ও নেশার ছড়াছড়ি।
১২) বেকারত্ব।
১৩) অবৈধ প্রেম—বয় ফ্রেন্ড/গার্ল ফ্রেন্ড নামক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসন।
১৪) শত্রুতা এবং ক্রোধ বশত প্রতিপক্ষের নারীকে ধর্ষণ।
১৫) রাজনৈতিক কারণে ধর্ষণ।
১৬) নারীবাদী ও সেক্যুলারদের পক্ষ যুবক-যুবতীদেরকে বিয়েতে বিলম্ব করতে উৎসাহিত করণ।

❐ ধর্ষণ ঠেকাতে শুধু মানসিকতা পরিবর্তনই কি যথেষ্ট না কি আরও কিছু করণীয় রয়েছে?

নারী ধর্ষণের জন্য মানসিকতাও দায়ী এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নাই। কোন আলেম কখনোই বলেন নি যে, মানসিক পরিবর্তনের দরকার নাই। কিন্তু দ্বিমত হল, যখন আপনি বলবেন, নারীর পোশাক কোনভাবেই দায়ী নয়! সে যা মনে চায় তাই পরবে। অথবা আপনি যখন ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য নারীকে হিজাব থেকে বের করে কেবল পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনের ওয়াজ করবেন। একজন যুবতী মেয়ে যখন খােলামেলা পোশাক পরে, সাজগোজ করে, পারফিউম করে কোন পর পুরুষের কাছে যায় তখন সে পুরুষ যদি সুস্থ হয়ে থাকে তাহলে তার ভিতরে তোলপাড় শুরু করবে- যতই সে তার মানসিক অবস্থা কন্ট্রোল করার চেষ্টা করুক না কেন। ক্রমান্বয়ে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) সে নিজের প্রবৃত্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়। আস্তে আস্তে সে ‘মানসিক পরিবর্তন করার ওয়াজ’ ভুলতে শুরু করে। এটিই স্বতঃ:সিদ্ধ বাস্তবতা-যদিও দ্বিমুখী নীতির লোকেরা মুখে ভিন্ন কথা বলার চেষ্টা করুক না কেন। এবার আসুন, দেখা যাক, নারীর ধর্ষণ ঠেকাতে ইসলাম কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?

❐ ধর্ষণ, ইভ টিজিং ও অবৈধ যৌন অপরাধ ঠেকাতে ইসলামের গৃহীত ১০টি পদক্ষেপ:

➊ ইসলাম আমাদেরকে যেমন মানসিক পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছে ঠিক তেমনটি মহিলাদেরকে হিজাবের নির্দেশ দিয়েছে।
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ
“হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের, তোমার কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলে দাও,
তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের (মুখের) উপর নামিয়ে দেয়।” (সূরা আহযাব : আয়াত নং ৫৯)
➋ ধর্ষণ এড়াতে ইসলাম মহিলাদেরকে পরপুরুষের সাথে নির্জন স্থানে বা লোকচক্ষুর আড়ালে যেতে নিষেধ করেছে।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ ‏”‏ الْحَمْوُ الْمَوْتُ ‏
عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ
➌ পুরুষ-নারী নির্বিশেষে সকলকে পর পুরুষ/নারীর দিকে চোখ পড়লে তৎক্ষণাৎ চোখ নিচু করতে নির্দেশ দিয়েছে।
➍ মহিলাদেরকে স্বামী, বাবা, দাদা, ভাই, ভাগিনা ইত্যাদি মাহরাম পুরুষ ছাড়া দূরের সফরে যেতে নিষেধ করেছে।
➎ মহিলাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রয়োজনে পরপুরুষের সাথে কথার বলার সময় যেন কোমল কণ্ঠ পরিহার করে।
يَٰنِسَآءَ ٱلنَّبِىِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍۢ مِّنَ ٱلنِّسَآءِ ۚ إِنِ ٱتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِٱلْقَوْلِ فَيَطْمَعَ ٱلَّذِى فِى قَلْبِهِۦ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
➏ জরুরি দরকারে বাইরে যাওয়ার সময় মহিলাদেরকে পারফিউম/সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।
( أَيُّمَا امْرَأَةٍ اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ عَلَى قَوْمٍ لِيَجِدُوا مِنْ رِيحِهَا فَهِيَ زَانِيَةٌ ) رواه الإمام أحمد (19212) والنسائي (5126) وحسنه الألباني في صحيح الجامع .
➐ ইসলাম আরও বলেছে, কারো বাড়িতে প্রবেশের পূর্বে যেন অনুমতি নেয়া হয়। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করতে হবে। অনুমতি না পেলে ফিরে যেতে হবে।
حَدَّثَنَا رَجُلٌ مَنْ بَنِي عَامِرٍ أَنَّهُ اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي بَيْتٍ فَقَالَ : أَلِجُ ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِخَادِمِهِ : اخْرُجْ إِلَى هَذَا فَعَلِّمْهُ الِاسْتِئْذَانَ فَقُلْ لَهُ : قُلْ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ فَسَمِعَهُ الرَّجُلُ فَقَالَ : السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ فَأَذِنَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَخَلَ .
➑ হাদিসে বিয়েতে সামর্থ্যবান যুবক-যুবতীদেরকে বিয়ে বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বিয়েকে সহজ করার কথা বলা হয়েছে।
➒ সর্বোপরি এতগুলো ইসলামি আইন ও বিধিবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোন বিবাহিত ব্যক্তি যদি কোন নারীকে ধর্ষণ করে তাহলে ধর্ষককে কোর্টের মাধ্যমে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ফৌজদারি দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন করা হবে। আর অবিবাহিত ব্যক্তি ধর্ষণ করলে তাকে ১০০ বেত্রাঘাত করা হবে এবং মতান্তরে তৎসঙ্গে এক বছর দেশান্তর (বর্তমানে জেল) প্রদান করা হবে।
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وقيل إن المرأة لا تُغرّب بل تُجلَد فحسب.
➓ অবৈধভাবে দুজনের সম্মতিতে হলেও উপরোক্ত বিধান কার্যকর করা হবে।
বর্তমান সমাজে আল্লাহ প্রদত্ত উপরোক্ত ইসলামী বিধানগুলোর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের কারণে চতুর্দিকে ইভ টিজিং এবং নারী-ধর্ষণের ছড়াছড়ি। ঘটছে অসংখ্য অবৈধ গর্ভপাত। নিষ্পাপ নবজাতকের লাশ ডাস্টবিনে কুকুর-বেড়ালের খাবার হচ্ছে। ঘটছে নানা হত্যাকাণ্ড। বাড়ছে অপরাধ। সুতরাং ধর্ষণ ধর্ষণ করে চিৎকার না করে ধর্ষণ রোধের জন্য ইসলামি অনুশাসন বাস্তবায়ন করতে হবে, ইসলামি ও সু শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে, আমাদের সন্তানদেরকে নারীদের প্রতি সম্মান জনক আচরণ শেখানো ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ইত্যাদিতে সহশিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশা সহ জিনা-ব্যভিচারের সকল রাস্তা বন্ধ করতে হবে, নারীদেরকে সাজসজ্জা সহ আতর-সুগন্ধি মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে কিংবা অশালীন পোশাক পরে খোলামেলা চলাফেরা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, দূর দূরান্তে বা রাত-বিরেতে স্বামী বা মাহরাম (যাদের সাথে বিয়ে হারাম) পুরুষদের ছাড়া নারীদের চলাফেরা করা যাবে না। পাশাপাশী নারীদেরকে রক্ষার জন্য এজন্য প্রত্যেক সচেতন অভিভাবক, সচেতন শিক্ষক মণ্ডলী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী মানুষ, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা-নেতৃ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আলেম-উলামা, দাঈ, বক্তা, লেখক, গবেষক, মিডিয়া কর্মী, সোশ্যাল এক্টিভিস্ট সহ সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে এবং গণ সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সর্বপরি, ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সর্বপ্রকার অনিষ্ট, অন্যায়-অপকর্ম, পাপাচার ও ধ্বংসাত্মক বিষয়াদি থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
▬▬▬▬◐◯◑▬▬▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

যে জিকির দিনরাতের সকল জিকিরের চেয়েও অধিক উত্তম

 আবু উমামা বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন:

“হে আবু উমামা! তুমি কীসের মাধ্যমে তোমার দুই ঠোঁট নড়াচড়া করছ?”
আমি বললাম, “আল্লাহর জিকির করছি, হে আল্লাহর রসুল!”

তখন তিনি বললেন,

ألا أُخبرُكَ بأكثرَ وأفضلَ من ذِكرِك باللَّيلِ والنَّهارِ

“আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব, যা তোমার রাত-দিনের সব জিকিরের চেয়েও বেশি উত্তম?”

আমি বললাম, “অবশ্যই, হে আল্লাহর রসুল!”

তিনি বললেন:

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা খালাক।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, তিনি যত কিছু সৃষ্টি করেছেন তার গণনা পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি মিলআ মা খালাক।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا فِي الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা ফিল আরদ ওয়াস্-সামা।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, আসমান ও জমিনে যত কিছু আছে তার গণনা পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ مَا فِي الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি মিলআ মা ফিল আরদ ওয়াস্-সামা।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا أَحْصَى كِتَابُهُ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা আহসা কিতাবুহু।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, তাঁর কিতাবে যা কিছু গণনা করা হয়েছে তার পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ مَا أَحْصَى كِتَابُهُ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি মিলআ মা আহসা কিতাবুহু।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, তাঁর কিতাবে যা কিছু গণনা করা হয়েছে তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা কুল্লি শাই’।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, সমস্ত কিছুর গণনা পরিমাণ।”

❁ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি মিলআ কুল্লি শাই’।

➧ “আমি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছি, সমস্ত কিছুর পূর্ণ পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা মা খালাক।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি যত কিছু সৃষ্টি করেছেন তার গণনা পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ مِلْءَ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি মিলআ মা খালাক।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا فِي الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা মা ফিল আরদ ওয়াস্-সামা।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও জমিনে যত কিছু আছে তার গণনা পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ مِلْءَ مَا فِي الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি মিলআ মা ফিল আরদ ওয়াস্-সামা।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا أَحْصَى كِتَابُهُ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা মা আহসা কিতাবুহু।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবে যা কিছু গণনা করা হয়েছে তার পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ مِلْءَ مَا أَحْصَى كِتَابُهُ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি মিলআ মা আহসা কিতাবুহু।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবে যা কিছু গণনা করা হয়েছে তার পরিপূর্ণ পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা কুল্লি শাই’।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত কিছুর গণনা পরিমাণ।”

❂ الْحَمْدُ لِلَّهِ مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি মিলআ কুল্লি শাই’।

➧ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত কিছুর পূর্ণ পরিমাণ।”

(হাদিসটি সহিহ: আলবানী, সহিহ আত-তারগিব ১৫৭৫)

[উৎস: আহমাদ (২২১৯৮), আন-নাসাই (আস-সুনান আল-কুবরা) ৯৯৯৪, ইবনৈ আবি দুনইয়া, ত্বরগীব ও ত্বরহীব ২/২৮৭]

Translate