Saturday, February 22, 2025

পুরুষ ডাক্তার দ্বারা মহিলাদের সন্তান ডেলিভারির জন্য সিজার বা অস্ত্রোপচার করার বিধান

 পুরুষ ডাক্তার কর্তৃক মহিলাদের সন্তান ডেলিভারির জন্য সিজার বা অস্ত্রোপচার করা: একটি আহ্বান

প্রশ্ন: মহিলা ডাক্তার না থাকলে তখন পুরুষ ডাক্তারের সামনে ডেলিভারির সময় মহিলাদের গোপন স্থান বের করা কি গুনাহ হবে?
উত্তর: মূলতঃ স্বামী ছাড়া নারীদের গোপনাঙ্গ দেখা কোন পুরুষদের জন্য (চাই মাহরাম হোক বা নন মাহরাম হোক) অথবা অন্য নারীদের জন্য দেখা বা স্পর্শ করা হারাম। তবে জরুরি চিকিৎসা, সিজারিয়ান সেকশন বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ করণ ইত্যাদি অপরিহার্য পরিস্থিতি হলে ভিন্ন কথা।
এ ক্ষেত্রে নারী ডাক্তার দ্বারা তা সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু অভিজ্ঞ নারী ডাক্তার না পাওয়া যায় বা পাওয়া কষ্টসাধ্য হয় তখন পুরুষ ডাক্তার দ্বারা তা সম্পন্ন করা জায়েজ।

তবে এ ক্ষেত্রে কতিপয় শর্ত রয়েছে। যেমন:

◈ ১. সিজারের রুমে তার স্বামী অথবা মাহরাম পুরুষ অথবা একাধিক বিশ্বস্ত নারী (যেমন: অন্যান্য মহিলা ডাক্তার, নার্স, অথবা তার নিকটাত্মীয় ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ) উপস্থিত থাকা আবশ্যক।
◈ ২. অত্যাবশ্যকীয় স্থান ছাড়া অসুস্থ নারীর শরীরের অন্য কোথাও স্পর্শ করা বা দেখা হারাম-ডাক্তার এবং তার সাথে অবস্থানকারী সকলের জন্য।
◈ ৩. স্বতন্ত্র রুমে পর্দার অন্তরালে তা সম্পন্ন করবে যেন কোনোভাবেই অসুস্থ নারীর গোপনাঙ্গ অন্যদের দৃষ্টিগোচর না হয়।
◈ ৪. পুরুষ ডাক্তার এ সময় হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করার চেষ্টা করবে যেন, নারীর শরীরে সরাসরি তার হাতের স্পর্শ না লাগে।

❑ বিজ্ঞ আলেমদের ফতোয়া:

পুরুষ ডাক্তার দ্বারা সিজারিয়ান ডেলিভারির বিধান

প্রশ্ন: আমাদের দেশে নারী সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ করার সময় পুরুষ ডাক্তাররা অপারেশন রুমে উপস্থিত থাকেন এবং তারা নারীর শরীরের গোপন অংশ দেখতে পান। এটা কি জরুরি প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত? কী করা উচিত? কারণ আমাদের দেশে অধিকাংশ নারীই সিজার করেন। স্বাভাবিক প্রসব কঠিন। এবং অপারেশন রুমে নারী-পুরুষ মিশ্রিত পরিবেশ থাকে। এ বিষয়ে আপনাদের দিকনির্দেশনা কী? বারাকাল্লাহু ফীকুম।

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর।

খতিব শারবিনি [মিসরের বিখ্যাত ফকিহ, মুফাসসি ও নাহুবিদ মৃত্যু: ৯৭৭ হিজরি মোতাবেক ১৫৭০ খৃষ্টাব্দ]

(মুগনি আল-মুহতাজ) গ্রন্থে বলেন:

(وَ) اعْلَمْ أَنَّ مَا تَقَدَّمَ مِنْ حُرْمَةِ النَّظَرِ، وَالْمَسِّ هُوَ حَيْثُ لَا حَاجَةَ إلَيْهِمَا. وَأَمَّا عِنْدَ الْحَاجَةِ فَالنَّظَرُ وَالْمَسُّ (مُبَاحَانِ لِفَصْدٍ، وَحِجَامَةٍ، وَعِلَاجٍ) وَلَوْ فِي فَرْجٍ لِلْحَاجَةِ الْمُلْجِئَةِ إلَى ذَلِكَ؛ لِأَنَّ فِي التَّحْرِيمِ حِينَئِذٍ حَرَجًا، فَلِلرَّجُلِ مُدَاوَاةُ الْمَرْأَةِ وَعَكْسُهُ، وَلْيَكُنْ ذَلِكَ بِحَضْرَةِ مَحْرَمٍ أَوْ زَوْجٍ، أَوْ امْرَأَةٍ ثِقَةٍ إنْ جَوَّزْنَا خَلْوَةَ أَجْنَبِيٍّ بِامْرَأَتَيْنِ، وَهُوَ الرَّاجِحُ كَمَا سَيَأْتِي فِي الْعدَدِ إنْ شَاءَ اللَّهُ -تَعَالَى-. وَيُشْتَرَطُ عَدَمُ امْرَأَةٍ يُمْكِنُهَا تَعَاطِي ذَلِكَ مِنْ امْرَأَةٍ وَعَكْسُهُ، كَمَا صَحَّحَهُ فِي زِيَادَةِ الرَّوْضَةِ. انتهى

“প্রয়োজন ছাড়া নারীর শরীর দেখা এবং স্পর্শ করা হারাম। তবে প্রয়োজনে তা বৈধ, যেমন—শল্যচিকিৎসা, রক্ত নেওয়া, সিঙ্গা লাগানো বা অন্যান্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে। এমনকি যদি প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরি হয়, তাহলে লজ্জাস্থান পর্যন্ত দেখা ও চিকিৎসা করা বৈধ। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। এক্ষেত্রে নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব যদি কেবল পুরুষের ওপর বর্তায়, তাহলে তা অনুমোদিত হব। তবে সম্ভব হলে স্বামী, মাহরাম বা বিশ্বস্ত অন্য কোনও বিশ্বস্ত নারী উপস্থিত থাকা উচিত (যদি আমরা দু জন নারীর উপস্থিতিতে পরপুরুষের সাথে নির্জন ঘরে থাকাকে বৈধ বলি-সংখ্যা বিষয়ে এটাই অগ্রাধিকার যোগ্য কথা যেমনটি সামনে আলোচনা আসবে) । এবং যদি এমন কোনও নারী পাওয়া যায়, যিনি এই চিকিৎসা করতে পারেন, তবে তার কাছেই চিকিৎসা নেওয়া আবশ্যক।”

উপরোক্ত বক্তব্যের ভিত্তিতে, যদি অপারেশন রুমে উপস্থিত পুরুষ ডাক্তারদের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজনীয় হয় এবং কোনও নারী ডাক্তার সেই কাজ করার জন্য পাওয়া না যায়, তাহলে বিশেষ প্রয়োজনে তাদের জন্য নারীর শরীর দেখা বৈধ হবে। তবে, এটি কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

কিন্তু যদি কোনও নারী ডাক্তার পাওয়া যায়, এমনকি সে অমুসলিম হলেও, তাহলে তার দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করাই বাধ্যতামূলক হবে এবং পুরুষ ডাক্তার দিয়ে করানো বৈধ হবে না।

এছাড়া, হাসপাতালে নারী-পুরুষের অবাধ মিশ্রণ ও অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ, এটি ফিতনার অন্যতম বড় কারণ এবং বিপর্যয়ের দুয়ার খুলে দেয়। আল্লাহু আলাম-আল্লাহই সর্বজ্ঞ।”
[উৎস: islamweb]

আর এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্যই আল্লামা উসাইমীন রহ. মুসলিম মহিলাদের মেডিকেল পড়াকে ফরজে কিফায়া বলেছেন। অর্থাৎ মুসলিমদের মধ্যে অবশ্যই কিছু মহিলার এ পেশায় আসা আবশ্যক যেন মহিলা সংক্রান্ত অসুখ-বিসুখ, সিজার, সন্তান ডেলিভারি ইত্যাদি ক্ষেত্রে মুসলিম নারীদেরকে পর পুরুষ বা অমুসলিমদের শরণাপন্ন না হতে হয়।
সুতরাং সমাজের অর্থশালী ও উদ্যোগী ব্যক্তিদের জন্য মহিলাদের জন্য স্বতন্ত্র মেডিকেল কলেজ/ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা ফরজ- যেন আমাদের দ্বীনদার বোনেরা পর পুরুষ থেকে আলাদা থেকে নির্বিঘ্নে এ বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করতে পারে। তবে স্বতন্ত্র ব্যবস্থা না থাকলেও দ্বীনী বোনেরা পূর্ণ পর্দা ও শরিয়তের সীমারেখার মধ্যে থেকে প্রচলিত সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিকেল বা নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করবেন এবং ভবিষ্যতে মহিলাদের জন্য আলাদা মেডিক্যাল কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় খোলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। সুতরাং এ সংকট থেকে আমাদের দ্বীনী বোনদেরকে রক্ষা করতে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমাদের দেশের চিন্তাশীল ও দ্বীন দরদী ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরকে এ ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করার উদাত্ত আহ্বান জানাই। আল্লাহ সকলকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন এবং দ্বীনের সেবায় কাজ করা তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকে টাকা রাখা এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত মুনাফা গ্রহণের বিধান

 প্রশ্ন: আমি প্রতিমাসে বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংকে কিছু টাকা রাখি। ইসলামি ব্যাংক নাকি অন্য ব্যাংকগুলোর মতো লাভ দেয় না। যতটুকু শরিয়তসম্মত ততটুকুই দেয়। এখন প্রশ্ন হলো, ইসলামি ব্যাংকে টাকা রাখলে কি গুনাহ হবে? এই ব্যাংকে যে লাভটা দিবে তা কি হালাল? আর ওই টাকা কি আমি আমার নিজের কাজে ব্যয় করতে পারবো?

উত্তর: নিম্নে কয়েকটি পয়েন্টে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:

❂ ১. ইসলামি ব্যাংকিং কি সত্যিই সুদমুক্ত?

ইসলামি ব্যাংকিং পদ্ধতি প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকিং থেকে ভিন্ন, কারণ এটি মুরাবাহা, মুদারাবা, ইজারা, মুশারাকা ইত্যাদি ইসলামি বিনিয়োগের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এর মূলনীতি হলো, ব্যাংক গ্রাহকের টাকাকে কোনো সুদভিত্তিক লেনদেনে ব্যবহার করবে না বরং ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভ করবে এবং সেই লাভ থেকে গ্রাহকদের অংশ প্রদান করবে।

তবে বাস্তবে ইসলামি ব্যাংকগুলো কতটা শরিয়াহসম্মতভাবে পরিচালিত হয়, তা নির্ভর করে তাদের শরিয়াহ বোর্ড, কার্যপ্রণালি এবং বিনিয়োগের বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংকের একটি শরিয়াহ বোর্ড রয়েছে, যারা ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। যদি তারা প্রকৃতপক্ষে শরিয়াহ মোতাবেক বিনিয়োগ করে এবং মুনাফা প্রদান করে, তাহলে এটি বৈধ বলে গণ্য হবে।

❂ ২. ইসলামি ব্যাংকের লাভ কি সুদ (রিবা)?

ইসলামি ব্যাংকে রাখা সঞ্চয় হিসাব বা মুদারাবা হিসাবের ওপর প্রাপ্ত টাকা যদি ব্যবসার প্রকৃত লাভ থেকে আসে এবং আগেই নির্দিষ্ট সুদের মতো কোনো প্রতিশ্রুতি না থাকে তাহলে এটি বৈধ।

কিন্তু যদি ব্যাংক প্রকৃত ব্যবসা না করে কেবল সুদের মতো নির্দিষ্ট হারে লাভ দেয় তাহলে এটি শরিয়াহ অনুযায়ী সুদ (রিবা) হিসেবে গণ্য হবে।

সুতরাং ইসলামি ব্যাংকের প্রকৃত কার্যপ্রণালি বোঝার জন্য তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন, শরিয়াহ বোর্ডের পর্যবেক্ষণ এবং ফতোয়া পর্যালোচনা করা উচিত।

❂ ৩. ইসলামি ব্যাংকের লাভ কি ব্যবহার করা বৈধ?

যদি ইসলামি ব্যাংকের কার্যক্রম সত্যিই শরিয়াহসম্মত হয় এবং ব্যবসার প্রকৃত লাভের ওপর ভিত্তি করে মুনাফা দেয়, তাহলে তা সম্পূর্ণ বৈধ এবং আপনি সেই টাকা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু যদি কোনো সন্দেহ থাকে যে, ব্যাংক আসলেই সুদভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাহলে সেখান থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ সওয়াবের নিয়ত ছাড়া যে কোনো ইসলাম বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে দিতে হবে।

❑ আপনার করণীয় কী?

✅ ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের ফতোয়া এবং তাদের বিনিয়োগ পদ্ধতি যাচাই করুন।
✅ যদি নিশ্চিত হন যে, তারা প্রকৃত ব্যবসার মাধ্যমে লাভ করে তাহলে সেই টাকা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।
✅ যদি সন্দেহ থাকে যে ব্যাংক প্রকৃতপক্ষে সুদভিত্তিক ব্যবস্থায় চলে তাহলে সেই টাকা নিজের বা নিজের পরিবারের কাজে ব্যয় না করে এলাকার এতিমখানা, মাদরাসা, মসজিদ বা মসজিদের টয়লেট, ওজুখানা বা অন্য যে কোনো কাজে অথবা গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করে দিবেন কিন্তু সওয়াবের নিয়ত থেকে বিরত থাকবেন।
মোটকথা, ইসলামি ব্যাংকের কার্যপ্রণালি পুরোপুরি শরিয়াহভিত্তিক কি না সেটি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। আপনি ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন, তাদের শরিয়াহ বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং আলেমদের মতামত দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আল্লাহু আলাম
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

যে দশটি শর্তসাপেক্ষে ম্যান পাওয়ার সাপ্লাই বিজনেস বা জনশক্তি সরবরাহ ব্যবসা হালাল

 প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে চাকরি করে। যখন কাজের প্রচুর চাপ থাকে তখন তিনি কোম্পানির আদেশে কিছু দক্ষ-অদক্ষ লোক দিয়ে হাজিরা হিসেবে কাজ করান। তাদের সবাইকে তিনি কত টাকা করে করে হাজিরা দিবেন তা আগেই চুক্তি করে নেন কিন্তু কোম্পানি থেকে তিনি জন প্রতি ৫০ টাকা করে বেশি নেন এবং এই কমিশন টাকাটা তিনি নিজে রাখেন। তার এই টাকাটি কি হালাল না হারাম? (নোট: লোকটির মতে, তিনি যেহেতু হাজিরা লোকদের পিছনে পরিশ্রম করেন, তাদেরকে কাজ বুঝানো, পরিচালনা ইত্যাদি করেন সেহেতু তার এই কমিশন নেওয়াটা হালাল।)

উত্তর: এটিকে ‘ম্যান পাওয়ার সাপ্লাই বিজনেস (Manpower supply business) বা জনশক্তি সরবরাহ ব্যবসাও বলা হয়।

❑ ম্যান পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবসা কী?

ম্যান পাওয়ার সাপ্লাই বা জনশক্তি সরবরাহ ব্যবসা হলো, এমন একটি ব্যবসা যেখানে বিভিন্ন কোম্পানি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী কর্মী বা শ্রমিক সরবরাহ করা হয়। এটি মূলত একটি হিউম্যান রিসোর্স (HR) ও (লেবার সাপ্লাই) ভিত্তিক ব্যবসা, যেখানে কোম্পানিগুলো তাদের প্রয়োজনীয় কর্মী পেতে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়। এই ব্যবসায় ম্যান পাওয়ার সাপ্লায়ার বা জনশক্তি সরবরাহকারী ব্যক্তি বা সংস্থা বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, সে তাদেরকে মাসিক, দৈনিক বা ঘণ্টা প্রতি এত টাকা হারে শ্রমিক দিবে। অতঃপর সে শ্রমিকের সাথে তার থেকে কম মূল্যে চুক্তি করে। অতঃপর চুক্তি মোতাবেক সে কোম্পানির নিকট শ্রমিক সরবরাহ করে। এর মাধ্যমে জনশক্তি বা শ্রমিক সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মধ্যস্বত্ব ভোগী হিসেবে কিছু মুনাফা অর্জন করে।

ইসলামের দৃষ্টিতে এ ব্যবসায় কোনও সমস্যা নাই। অর্থাৎ এ ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা হালাল। কারণ তা কোম্পানি বা প্রকল্পের কাজের জন্য শ্রমিক সংগ্রহ করা, প্রয়োজন পথে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, কোম্পানি এবং শ্রমিকদের মাঝে মধ্যস্থতা করা, শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, তাদেরকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া ও পরিচালনা ইত্যাদি পরিশ্রমের বিনিময়ে উপার্জন।

তবে এ ক্ষেত্রে কতিপয় শর্ত এবং বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এগুলো যথাযথভাবে পূরণ করা হলে তা হালাল; অন্যথায় তা হারামে পরিণত হবে।

নিচে এ মর্মে দশটি শর্ত উল্লেখ করা হলো:

❂ ১. হালাল বা বৈধ শ্রম:

শ্রমটা ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল এবং সরকারি আইনে বৈধ হওয়া। (যেমন— নির্মাণ, কৃষি, শিল্প ইত্যাদি)

সুতরাং কোনও হারাম বা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বা আইন বহির্ভূত ভাবে কোন কাজ (দেহব্যবসা, মদ তৈরি বা পরিবেশন, সুদ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, সরকারের অনুমোদন বিহীন ব্যবসা ইত্যাদি)-এর জন্য শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া, কোম্পানি ও শ্রমিকদের মাঝে মধ্যস্থতা করা এবং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা ইত্যাদি সবই হারাম।

❂ ২. স্বচ্ছ চুক্তি:

– শ্রমিক, সরবরাহকারী, এবং নিয়োগকর্তার মধ্যে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তি থাকা।
কাজ শুরু করার পূর্বে শ্রমিককে তার কাজের ধরণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো।
– কর্মঘন্টা তথা কাজের সময়-সীমা (প্রতিদিন কত ঘণ্টা এবং শুরু ও শেষ সময়) নির্ধারণ করা।
– শ্রমিকদের ওভার টাইম, ছুটি, কাজের মধ্যে খাবার, সালাত, বিশ্রাম ইত্যাদির জন্য বিরতি ইত্যাদি নীতিমালা আগেই নির্ধারণ করা।
– স্যালারি বা পারিশ্রমিকের পরিমাণ নির্ধারণ করা ইত্যাদি।

❂ ৩. চুক্তি বাস্তবায়ন:

শ্রমিকদের সাথে কৃত চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনও চুক্তি লঙ্ঘন করা যাবে না। ইসলামের চুক্তি রক্ষা করার ব্যাপারে অপরিসীম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এখনো চুক্তির লঙ্ঘনকে মারাত্মক অপরাধ ও গুনাহ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

তবে জরুরি প্রয়োজনে শ্রমিকের সাথে কথা বলে বা তার সম্মতিক্রমে চুক্তির বিশেষ কোনও ধারা পরিবর্তন বা সংশোধন করা যেতে পারে।

❂ ৪. চুক্তি মোতাবেক যথাসময়ে পারিশ্রমিক/বেতন পরিশোধ:

চুক্তিতে উল্লেখিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন ধরনের টালবাহানা বা ছলচাতুরি ব্যতিরেকে শ্রমিকের নিকট তার পারিশ্রমিক/বেতন পরিশোধ করতে হবে।

‘কোম্পানি থেকে স্যালারি আসেনি বা প্রকল্প থেকে লাভ হয়নি বা ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে এসব বলে সরবরাহকারী শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে বিলম্ব বা গড়িমসি করতে পারবে না। কোম্পানি থেকে স্যালারি পেতে দেরি হলে কিংবা কোম্পানি টাকা না দিলে অথবা কন্টাক্টর বা শ্রমিক সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুক্তি মোতাবেক সে তার নিজস্ব পূঁজি থেকে বেতন পরিশোধ করবে। কারণ সে শ্রমিকের সাথে নির্দিষ্ট সময়ে বেতন সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ। শ্রমিকের সম্মতি ব্যতিরেকে সে তাকে এক পয়সাও কম দেওয়ার অধিকার রাখে না।

❂ ৫. শ্রমিকদের সাথে মিথ্যা কথা বলা,‌ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া ও ধোঁকাবাজি করা হারাম। যেমন: নির্ধারিত কাজের কথা বলে নিয়োগ দেওয়ার পরে অন্য কাজ করতে বাধ্য করা, নির্দিষ্ট বেতন থেকে কম দেওয়া, কাজ শেষে বোনাস দেওয়ার কথা বলে না দেওয়া ইত্যাদি।

❂ ৬. টাইম শীট (Timesheet বা কর্মঘন্টা) ক্রয়-বিক্রয়:

টাইম শীট ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। উদাহরণ: শ্রমিকের নিকট তার কাজের টাইম শীট কম টাকায় ক্রয় করে পরবর্তীতে কোম্পানি থেকে এর মাধ্যমে বেশি টাকা উত্তোলন করা। এটা সুদের অন্তর্ভুক্ত।

❂ ৭. জোরপূর্বক শ্রম:

শ্রমিকদের ইচ্ছার বাইরে জোরজবরদস্তি মূলক বা অমানবিক কাজে নিয়োগ দেওয়া বা সাধ্যাতীত কোনও কাজে বাধ্য করা জায়েজ নয়। কেননা তা জুলুম। আর ইসলামে জুলুম করা কবিরা গুনাহ।

অনুরূপভাবে যদি কাউকে বাধ্য করা হয় এমন চুক্তিতে যেখানে তারা স্বাধীনভাবে কাজ ছাড়তে পারে না তাহলে তা ইসলামি আইনে যেমন হারাম তেমনি দেশের আইনেও দণ্ডনীয় অপরাধ।

❂ ৮. শ্রমিকদেরকে তাদের প্রাপ্য দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে গড়িমসি করা বা বিলম্ব করা হারাম‌‌।

❂ ৯. ঘুষ, দুর্নীতি অথবা রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কাজ ধরা। এটা অন্যায় এবং হারাম।

❂ ১০. কোম্পানি বা প্রকল্প পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত শ্রমিকের রিকোয়ারমেন্ট” (Requirement) তথা আবশ্যকীয় শর্ত ও যোগ্যতা পূরণের ক্ষেত্রে শ্রমিকের কাজের অনুমোদন পত্র, পরিচয় পত্র, সনদপত্র, সরকারি বিভিন্ন ডকুমেন্ট ইত্যাদিতে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া অথবা তাদেরকে এক্ষেত্রে সাহায্য করা হারাম।

মোটকথা, যদি ন্যায়সঙ্গত ও নৈতিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে ‘ম্যান পাওয়ার সাপ্লাই’ ব্যবসা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ। কিন্তু যদি এতে অন্যায়, প্রতারণা, জুলুম বা হারাম উপার্জন জড়িত থাকে তবে এটি হারাম হবে।
আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহ আলাম।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

কথিত শবে বরাতে ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ কোনো ইবাদত-বন্দেগি করার বিধান এবং শবে বরাত সংক্রান্ত কতিপয় জাল ও জইফ হাদিস

 প্রশ্ন: অর্ধ শাবানের রাতে (কথিত শবে বরাতে) ব্যক্তিগতভাবে বাড়িতে বা মসজিদে কি বিশেষ কোনো ইবাদত-বন্দেগি করা শরিয়তসম্মত?▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬

উত্তর: এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কথা হলো, কথিত শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো ইবাদত-বন্দেগি করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। চাই তা বাড়িতে হোক বা মসজিদে হোক, একাকী হোক বা দলবদ্ধভাবে হোক। (যদিও কতিপয় আলেম মনে করেন এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু তাদের বক্তব্য দলিল দ্বারা সমর্থিত নয়।)

কারণ এ রাতে ইবাদত করার বিশুদ্ধ কোনো দলিল নেই। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে কোনো প্রমাণ নেই যে, তারা এ রাতে কোনো ধরনের ইবাদত-বন্দেগি করতেন।

সুতরাং এটি দ্বীনের মধ্যে সংযোজিত একটি বিদআত, যার পক্ষে কুরআন, সুন্নাহর দলিল নেই এবং সাহাবি-তাবেঈদেরও ইজমা তথা সম্মিলিত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।

এ রাতে যদি বিশেষ কোনো ইবাদত-বন্দেগি করা ফজিলতপূর্ণ হতো তাহলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে আমল করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে শিক্ষা দিতেন। সাহাবিগণ তা পালন করা থেকে বিরত থাকতেন এমনটি কল্পনাও করা যায় না। তবে কারও যদি আগে থেকেই অন্যান্য রাতে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া, তাসবিহ পাঠ এবং নফল সালাত আদায়ের অভ্যাস থাকে তাহলে সে এ রাতেও তা অব্যাহত রাখতে পারে। কিন্তু যদি আগে না থাকে এবং শুধুমাত্র এই রাতে বিশেষভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত হয় তাহলে এ বিষয়ে অবশ্যই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিদের আমল থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় তা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে।

❑ অর্ধ শাবানের দিনে রোজা রাখা ও রাতে নফল সালাত সম্পর্কে বর্ণিত কতিপয় জাল ও জইফ হাদিস:

সাধারণত মানুষ অর্ধ শাবানের দিনে রোজা রাখা ও রাতে নফল নামাজ পড়ার বিষয়ে কতিপয় বানোয়াট ও দুর্বল হাদিসের ওপর নির্ভর করে।

নিম্নে সে ধরনের কিছু হাদিস মুহাদ্দিসদের পর্যালোচনাসহ পেশ করা হলো:

❖ (ক) আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) হতে বর্ণিত:

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

“যখন শাবান মাসের পনেরোতম রাত আসে, তোমরা দিনে রোজা রাখো আর রাতে নফল নামাজ আদায় করো। কারণ, এ রাতে আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, এমন কেউ আছে কি যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কেউ কি আছে যে আমার কাছে রিজিক চাইবে? আমি তাকে রিজিক দেব। কেউ কি আছে যে আমার কাছে বিপদ থেকে মুক্তি চাইবে? আমি তাকে মুক্তি দেব…” এভাবে আল্লাহ তাআলা ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত ডাকতে থাকেন।

🔸 হাদিসের মান: মুহাদ্দিসদের মতে, এ হাদিসটি মাওযু (জাল/বানোয়াট)। [পর্যালোচনা দেখুন- ১]

❖ (খ) “হে আলি, যে ব্যক্তি অর্ধ শাবানের রাতে এমনভাবে একশত রাকাত নামাজ আদায় করবে যে, প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে দশবার ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ সূরা পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার সে রাতের যাবতীয় প্রার্থনা পূরণ করবেন।”
🔸 হাদিসের মান: এটি একটি মাওযু (জাল/বানোয়াট) হাদিস। [পর্যালোচনা দেখুন-২]

❖ (গ) “যে ব্যক্তি অর্ধ শাবানের রাতে বারো রাকাত নামাজ পড়বে—প্রতি রাকাতে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ সূরাটি পড়বে ত্রিশবার—তাহলে সে জান্নাতে তার আসন না দেখে বের হবে না।”
🔸 হাদিসের মান: এটি একটি মাওযু (বানোয়াট) হাদিস। [পর্যালোচনা দেখুন-৪]

❖ (ঘ) আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত: তিনি বলেন,

“এক রাতে আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (আমার ঘরে) না পেয়ে তাঁকে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে তাঁকে বাকী গোরস্থানে পেলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেন, ‘তুমি কি মনে কর যে, আল্লাহ ও তাঁর রসুল তোমার প্রতি অবিচার করবেন?’ আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল, আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর ঘরে গিয়েছেন। একথা শুনে তিনি বললেন: ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন এবং কালব গোত্রের ছাগলের লোমসমপরিমাণ মানুষকে ক্ষমা করে দেন।’”
🔸 হাদিসের মান: এটি জইফ (দুর্বল)। [পর্যালোচনা দেখুন-৪]

❖ (ঙ) “রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস এবং রমজান আমার উম্মতের মাস।”
🔸 হাদিসের মান: এটি জইফ (দুর্বল)। [পর্যালোচনা দেখুন-৫]

🔎 টিকা ও পর্যালোচনা:

[১] ইবনে মাজাহ, নামাজ অধ্যায়: নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। ইমাম বুসাইরি “জাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ” গ্রন্থে বলেন: উক্ত হাদিসের বর্ণনাসূত্রে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, তার নাম ইবনে আবি সুবরাহ (ابن أبي سبرة) (তার প্রকৃত নাম: আবু বকর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি সুবরাহ)। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, এ ব্যক্তি হাদিস তৈরি করত (অর্থাৎ জাল হাদিস বর্ণনা করত)। ইবনে হাজার আসকালানি রহ. “তাকরীব” কিতাবে [২/৩৯৭] বলেন, মুহাদ্দিসগণ এই ব্যক্তিকে হাদিস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। উকাইলি “আল-যুআফা আল-কাবীর” গ্রন্থে [২/২৭১] একই কথা বলেছেন।

[২] ইবনুল জাওজি উক্ত হাদিসটি “আল-মাওয়ুআত” কিতাবে তিনটি সনদে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি যে বানোয়াট তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনটি সনদেই এমন সব বর্ণনাকারী রয়েছেন, যাদের অধিকাংশেরই পরিচয় অজ্ঞাত। আরও কতিপয় বর্ণনাকারী খুব দুর্বল। সুতরাং হাদিসটি নিশ্চিতভাবে জাল। অথচ আমরা অনেক মানুষকে দেখি, যারা সারা রাত ধরে নামাজ পড়ার পর তাদের ফজর নামাজ ছুটে যায় কিংবা সকালে যখন ওঠে অলসতা সহকারে ওঠে। কিছু মসজিদের ইমাম শবে বরাতের এসব নামাজকে সাধারণ জনগণকে একত্রিত করার এবং এর মাধ্যমে নিজেদের রুটি-রুজি ও উন্নতির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এরা জনগণকে একত্রিত করে তাদের আলোচনা সভাগুলোতে বিভিন্ন কিচ্ছা-কাহিনি আলোচনা করে থাকে। মূলত এসবই ভ্রান্ত এবং হকের সঙ্গে সম্পর্কহীন।

ইবনুল কাইয়্যিম জাওজিয়াহ “আল-মানারুল মুনিফ” কিতাবে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন: জাল হাদিসসমূহের মধ্যে অর্ধ শাবানের রাতের নামাজ পড়া সম্পর্কিত উক্ত হাদিসটি অন্যতম। এরপর তিনি বলেন, “আজব ব্যাপার হলো, কিছু মানুষ যারা হাদিসের কিছু ঘ্রাণ পেয়েছে তারাও এসব উদ্ভট হাদিস দেখে প্রতারিত হয়ে শবে বরাতের নামাজ পড়া শুরু করে দেয়!”

অনুরূপভাবে ইমাম সুয়ুতি রহ. উপরোক্ত হাদিসটি “আল-লাআলি আল-মাসনুয়া” কিতাবে উল্লেখ করে সেটিকে জাল বলে আখ্যায়িত করেছেন। তদ্রূপ ইমাম শাওকানি রহ. এটিকে “আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমুয়া” কিতাবে জাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

[৩] এ হাদিসটিও ইবনুল জাওজি রহ. তার “আল-মাওজুয়াত” কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এ হাদিসটিও জাল। এ হাদিসটির সনদে এমন একদল বর্ণনাকারী রয়েছেন, যাদের সকলের পরিচয় অজ্ঞাত। অনুরূপভাবে ইমাম সুয়ুতি রহ. “আল-লাআলি” কিতাবে এবং ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ. “আল-মানারুল মুনীফ” কিতাবে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করে এটিকে জাল হাদিস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

[৪] তিরমিজি। অনুচ্ছেদ: অর্ধ শাবানের ব্যাপারে যা এসেছে। তবে তিনি নিজেই এর পরে উল্লেখ করেছেন, মুহাম্মাদ অর্থাৎ ইমাম বুখারি রহ. কে বলতে শুনেছি, তিনি এ হাদিসটিকে জইফ বলেছেন। ইমাম দারাকুতনি রহ. বলেন, ”এ হাদিসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তবে সনদগুলো মুজতারিব এবং সুপ্রমাণিত নয়।”
বর্তমান শতকের শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আল্লামা আলবানি রহ. ও এ হাদিসটিকে জইফ বলে সাব্যস্ত করেছেন। দেখুন: সহিহ ওয়া জইফ তিরমিজি, হাদিস নং ৭৩৯, মাকতাবা শামেলা।

[৫] ইমাম সুয়ুতি রহ. কর্তৃক লিখিত “আল-জামিউল কাবির” বা “জামউল জাওয়ামি” গ্রন্থের ১২৮৩০ নং হাদিস। তিনি নিজেই বলেছেন: হাদিসটি মুরসাল। আরও, হাদিসটি দায়লামী আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন। আল্লামা আলবানি রহ. বলেন: ”হাদিসটি জইফ বা দুর্বল।” দেখুন: “সিলসিলা যইফা মুখতাসারাহ”, হাদিস নং ৪৪০০, মাকতাবা শামেলা।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উৎস:
“আল-বিদাআতুল হাউলিয়াহ” গ্রন্থ থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

প্রচলিত তাবলীগ জামাতকে না বলার ১৩টি কারণ

নিম্নে ভারতের মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘তাবলীগ জামাত’কে ‘না’ বলার বা প্রত্যাখ্যান করার অসংখ্য কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও গুরুতর ১২টি কারণ উল্লেখ করা হলো:

◈ ১. তাবলিগ জামাতের অবস্থা হল, ঘরের ফাউন্ডেশন মজবুত ভাবে তৈরি না করে ডেকোরেশন নিয়ে ব্যস্ত থাকার মত বা ভঙ্গুর ঘরকে মজবুত ভিত্তির উপরে নির্মাণ করার পরিবর্তে কোনমতে ঠেকা দিয়ে রাখার মত কিংবা যে গাছের শেকড়ে ঘুণ ধরেছে তার মূল সমস্যা বাদ দিয়ে গাছের আগায় পানি ঢালার মত। কেননা মানুষের আকিদা সংশোধন, শিরক, বিদআত, ইসলামবিরোধী নানা মতবাদ, ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার থেকে এদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, লম্বা দাড়ি রাখা, মাথায় পাগড়ি পরা, লম্বা জুব্বা পরা, বোরকা পরা, মিসওয়াক করা, চিল্লায় বের হওয়া ইত্যাদি।

◈ ২. চতুর্দিকে শিরকের জমজমাট আসর, মানুষ কবর পূজায় লিপ্ত ও বিভিন্ন বাতিল দল ও ফিরকায় দিশেহারা। কিন্তু এসব ব্যাপারে তাদের কোন বক্তব্য নেই। কেননা এসব বিষয়ে কথা বললে নাকি সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে!

◈ ৩. মানুষ বিদআত, কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতির অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। কারণ এসব বিষয়ে কথা বললে নাকি ‘হাজার বছরের ঐক্য’ নষ্ট হবে এবং মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও ঝগড়া সৃষ্টি হবে।

◈ ৪. এই জামাতের ভিত্তি জাহালত বা মূর্খতার উপরে প্রতিষ্ঠিত। ফলে মানুষকে দ্বীনী ইলম বা ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞানান্বেষণের দিকে উৎসাহিত করার চেয়ে তাদের কথিত ‘চিল্লা’য় বের হওয়ার জন্য উৎসাহিত করাই তাদের অন্যতম প্রধান কাজ।

ফলশ্রুতিতে মূর্খরা মাথায় পাগড়ি বেঁধে ফাজায়েলের কিতাব নিয়ে জনগণের সামনে ওয়াজ করতে দাঁড়িয়ে যায়।তারপর স্বভাবতই ইসলাম সম্পর্কে উল্টাপাল্টা ও ভুলভাল ব্যাখ্যা দিতে শুরু করে।
অনুরূপভাবে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ মহিলারাও পাড়ায়-মহল্লায় দ্বীন সম্পর্কে সাধারণ মহিলাদের মাঝে ইসলাম সম্পর্কে নানা ভ্রান্ত ও বিদআতি কথাবার্তা প্রচারে নিয়োজিত রয়েছে। অথচ ইসলাম সম্পর্কে কথা বলা এবং আমল করার পূর্বে ইলম (জ্ঞান) অর্জন করা ফরজ।

◈ ৫. দ্বীনী ইলম অর্জনে অনীহা ও গুরুত্বহীনতা:

যার কারণে আপনি দেখবেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাবলিগের একজন মুরুব্বি যে, ১০-১৫ বা ২০ বছর ধরে তাবলিগের মেহনতের সাথে জড়িত তাকে যদি ইসলামের প্রাথমিক এবং মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তাহলে তার উত্তর দিতে ব্যর্থ হবে। যেমন:

– ইসলাম ও ইমান কাকে বলে?
– ইসলাম এবং ইমানের রোকন কয়টি ও কী কী?
– দ্বীনে স্তর কয়টি ও কী কী?
– ইবাদত কাকে বলে?
– ইবাদতের রোকন কয়টি ও কী কী?
– ইবাদত কবুলের শর্তাবলী কয়টি ও কী কী?
– ইমান ভঙ্গের কারণগুলো কী কী?
– ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর সঠিক অর্থ এবং এর শর্তাবলী কয়টি ও কী কী?
– এছাড়াও শিরক, কুফর, নিফাক, উসিলা, শাফাআত ইত্যাদি। বিষয়টি আপনারা নিজেরাই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

◈ ৬. উদ্ভট কিচ্ছা-কাহিনী এবং জাল-জইফ হাদিস বর্ণনা:

এই মূর্খদের ওয়াজ বা বয়ানের মূল ভিত্তি হলো, বুজুর্গদের বুজুর্গির বর্ণনা, উদ্ভট স্বপ্ন, কিচ্ছা-কাহিনী, জাল-জইফ হাদিসের বয়ান এবং ভিত্তিহীন ফজিলতের ফুলঝুরি। অথচ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা হাদিস বর্ণনার পরিণতি জাহান্নাম।

◈ ৭. সংস্কার ও সংশোধনে অনীহা:

তাবলিগ জামাতের প্রধান সিলেবাস ফাজায়েল নামক কিতাবগুলো অসংখ্য ভ্রান্ত কথাবার্তা, জাল-জইফ হাদিস এবং ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে পরিপূর্ণ। এসব কিতাবের ভুল-ভ্রান্তি সম্পর্কে সচেতন করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ভাষায় শত শত গ্রন্থ রচিত হলেও তারা মোটেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না‌। বরং তারা উল্টো সংস্কার প্রত্যাশীদেরকে গালাগালি, নানা অপবাদ ও তির্যক বাক্যবাণে জর্জরিত করে ছলে-বলে-কৌশলে ভুলগুলোকেই সঠিক প্রমাণের অপচেষ্টায় লিপ্ত!

◈ ৮. দলাদলি, কোন্দল ও রক্তপাত:

এই জামাতটি বর্তমানে দুই ভাগে (জুবায়ের পন্থী ও সাদ পন্থী) বিভক্ত হয়ে একে অপরের সাথে চরম কোন্দলে লিপ্ত হয়েছে। মসজিদ ভাগাভাগি, মসজিদে মারামারি, এক মসজিদে দু গ্রুপের আলাদা আলাদা জামাত, একই ময়দানে আলাদা আলাদা ইজতিমা। এমনকি একদল আরেক দলকে কাফের বা ইহুদি-খ্রিষ্টানের দালাল বলেও আখ্যায়িত করছে। সর্বোপরি টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে দুই গ্রুপের লোমহর্ষক রক্তাক্ত মারামারি জাতিকে স্তম্ভিত করেছে।

◈ ৯. এদের মাধ্যমে কিছু মানুষ দাড়ি ছেড়েছে, মাথায় টুপি পরেছে, মহিলারা বোরকা পরেছে, নামাজি হয়েছে, নানা পাপকর্ম থেকে ফিরে এসেছে তা ঠিক। কিন্তু শিরক যুক্ত ইমান এবং বিদআত যুক্ত আমল আল্লাহর কাছে কোনই কাজে লাগবে না সে ব্যাপারে তারা নিতান্তই বেখবর। তাই তো আল্লাহ বলেছেন,

قُلۡ هَلۡ نُنَبِّئُكُم بِٱلۡأَخۡسَرِینَ أَعۡمَـٰلًا
ٱلَّذِینَ ضَلَّ سَعۡیُهُمۡ فِی ٱلۡحَیَوٰةِ ٱلدُّنۡیَا وَهُمۡ یَحۡسَبُونَ أَنَّهُمۡ یُحۡسِنُونَ صُنۡعًا

“(হে নবী আপনি বলুন), আমি কি তোমাদেরকে সেসব মানুষের ব্যাপারে বলবো যারা আমলের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত? তারা হল, সে সব লোক, যাদের কর্ম প্রচেষ্টা দুনিয়ার জীবনেই বাতিল যায় অথচ তারা মনে করে যে, তারা ভালো কাজ করেছে!” [সূরা কাহফ: ১০৩ ও ১০৪]

◈ ১০. এই জামাতটি নিজেদের টাকায় দাওয়াতি কাজ করে বলে গর্ব করে। কিন্তু তারা নিজেদের টাকায় মূলত: বিদআত প্রচারে লিপ্ত। নিজে বিদআত করার চেয়ে বিদআত প্রচারের ভয়াবহতা বেশি। কারণ এর দ্বারা যত মানুষ বিদআতি কাজ করবে তাদের প্রত্যেকের সমপরিমাণ গুনাহ প্রচারকারীর আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হবে।

◈ ১১. কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা:

তাবলিগ জামাত জি/হাদের আয়াতগুলোকে তাদের কথিত চিল্লা ও গাশতের পক্ষে ব্যবহার করে, ‘চিল্লা’র জন্য নির্ধারিত ৩ দিন, ৪০ দিন (এক চিল্লা), ১২০ দিন (তিন চিল্লা) বা ১ সাল ইত্যাদির পক্ষে কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা করে এগুলোকে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা, টঙ্গীর মাঠে এক ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ৪৯ কোটি গুণ সওয়াবের বর্ণনা, তিন বার টঙ্গীর ইজতিমায় শরিক হলে এক হজের সমপরিমাণ সওয়াব বা এটিকে ‘গরিবের হজ’ বলা। (সাধারণ কিছু মূর্খ এমন কথা বললেও তাবলিগ জামাতের কেন্দ্র থেকে এর প্রতিবাদ বা সংশোধনী মূলক বক্তব্য করা হয়েছে বলে জানা যায় না)।

◈ ১২. তথাকথিত ‘আখেরি মুনাজাত’:

টঙ্গী ইজতেমার বিশেষ আকর্ষণ হল, ‘আখেরি মুনাজাত’। বাস্তবতা হলো, অসংখ্য মুসলিম এখন ফরজ সালাত আদায়ের চাইতে আখেরি মুনাজাতে যোগদান করাকেই অধিক গুরুত্ব দেয়। আখেরি মুনাজাতে শরিক হওয়ার জন্য নামাজি, বেনামাজি, ঘুষখোর, সন্ত্রাসী, বিদআতি, দুষ্কৃতিকারী ইত্যাদি মানুষ দলে দলে টঙ্গীর ময়দানের দিকে ছুটতে থাকে। কেউ ট্রেনের ছাদে, কেউ বাসের হ্যান্ডল ধরে, নৌকায় বসে, পিক আপ প্রভৃতির মাধ্যমে ইজতিমায় যোগদান করে। স্বয়ং রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে, প্রধানমন্ত্রী গণভবনে, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণও সেখানে গিয়ে আঁচল পেতে প্রার্থনা করেন। টিভিতে সরাসরি এই মুনাজাত সম্প্রচারিত হয়। রেডিও শুনে রাস্তার ট্রাফিকগণও হাত তুলে আমিন আমিন বলতে থাকে। সে দিন ঢাকা শহরে অফিস-আদালতে অঘোষিত ছুটি পালিত হয়। কারণ তাদের বিশ্বাস, এই আখেরি মুনাজাতে অংশ গ্রহণ করতে পারলে জীবনের সব গুনাহ মোচন হয়ে যায়! অথচ এভাবে নিয়ম করে সম্মিলিত মুনাজাত করাই বিদআত (দ্বীনের মধ্যে নব আবিষ্কৃত কাজ)। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমিন।

◈ ১৩. উম্মতের শ্রেষ্ঠ মুহাক্কিক সালাফি আলেমগণ -যেমন: শাইখ বিন বায, শাইখ উমাইমিন, শাইখ আলবানি, শাইখ সালেহ আল ফাওযান প্রমুখ-তাবলিগ জামাতের সাথে বের হওয়া, তাদের বই পড়া এবং তাদের ইজতিমায় শরিক হওয়াকে হারাম বলেছেন এবং উম্মতকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব। 

Translate