Saturday, February 10, 2024

বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষা

 বিশুদ্ধ ভাষণ ও সুস্পষ্ট উচ্চারণ মানুষের ব্যক্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে। ইসলাম মাতৃভাষাকে শুদ্ধভাবে চর্চা করার শিক্ষা প্রদান করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মাতৃভাষা চর্চা বা বিশুদ্ধভাবে কথা বলা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যতম শিক্ষা।

শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের পর বিশুদ্ধ ভাষা ও শুদ্ধ উচ্চারণ শেখার লক্ষ্যে বিশুদ্ধ ভাষাভাষী বানু সাআদ গোত্রের হালিমা সাদিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।

ঐতিহাসিকদের মতে, ‘আরবের সম্ভ্রান্ত লোকদের মধ্যে এ প্রথা প্রচলিত ছিল যে তারা তাদের সন্তানদের বেদুঈন কোনো গোত্রে প্রতিপালনের জন্য পাঠাতেন। কেননা বেদুঈনরা বিশুদ্ধ ভাষাভাষী ছিল, ফলে বেদুঈনদের সঙ্গে মিশে তাদের শিশুরাও বিশুদ্ধ ভাষা শিখতে পারবে।’ [সিরাতে ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা ১৬২]।
সুতরাং এ বক্তব্যে মাতৃভাষার গুরুত্বকেই স্বীকার করা হয়েছে।

– মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিশুদ্ধা ভাষায় কথা বলতেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুদ্ধ ভাষায় স্পষ্টভাবে কথা বলতেন।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আমি আরবদের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ভাষাভাষী।” হাদিস হিসেবে বাক্যটির সূত্রে দুর্বলতা থাকলেও বহু মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক তা বর্ণনা করেছেন।

– রাসুলুলাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাষার বিশুদ্ধতা ও উপযুক্ত শব্দচয়ন ইত্যাদির প্রতি তাগিদ প্রদান করেছেন। একবার কোনো এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে সালাম দিয়ে বললেন, ‘আ-আলিজু?’ আরবি ভাষায় এ শব্দের ব্যবহার ‘প্রবেশ’ অর্থে প্রচলিত থাকলেও অনুমতি প্রার্থনার ক্ষেত্রে তা প্রমিত শব্দ নয়।

প্রমিত শব্দ হচ্ছে, ‘আ-আদখুলু?’ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি ‘আ-আদখুলু?’ বলো। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “তোমরা এশার নামাজকে আতামা বলবে না, এশা বলবে।” “আঙুরকে কারাম বলবে না, ইনাব বলবে।” এভাবে তিনি মুসলিম সমাজের ভাষাগত সংশোধনে সঠিক শব্দ প্রয়োগের নির্দেশনা দিয়েছেন। [সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৫১৭৭]

❑ শব্দচয়নে সতর্কতা:

সহিহ মুসলিমে ‘কিতাবুল আলফাজ’ শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে বিভিন্ন হাদিসে রাসুলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথাবার্তায় যেসব শব্দের প্রায়োগিক সংশোধন করেছেন তা বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে আবি শায়বার ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে ‘কিতাবুল আদব’-এর একটি শিরোনাম হলো, ‘মান কানা ইউয়ালিমুহুম ওয়াদরিবুহুম আলাল লাহনি’ অর্থাৎ সন্তানকে ভাষা শিক্ষা দেওয়া এবং ভুল হলে শাসন করা প্রসঙ্গ।

এ পরিচ্ছেদে সহিহ সনদে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে ‘কথাবার্তায় লাহন বা ভাষাগত ভুল হলে তিনি সন্তানদের শাসন করতেন।’

এ থেকে বোঝা যায় যে দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যেক ব্যক্তির ভাষা বিশুদ্ধ ও শালীন হতে হবে। এটা দ্বিনি ভাষার প্রসঙ্গ নয়; বরং মাতৃভাষার প্রসঙ্গ। অতএব মাতৃভাষার বিশুদ্ধতা ইসলামের নির্দেশ।

❑ চার উপায়ে মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জন:

মানুষকে তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য কোনো বিশেষ ভাষায় কথা বলার দক্ষতা অর্জন করতে হয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জনের মৌলিক চারটি মাধ্যম শোনা, বলা, পড়া ও লেখার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছেন।

ক. মানুষ যেসব মাধ্যম ব্যবহার করে জ্ঞান অর্জন করে থাকে পড়া তার অন্যতম। আল্লাহ সর্বপ্রথম রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন, ‘পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ [সুরা আলাক, আয়াত: ১]

কেননা পড়া ছাড়া জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যে ভাষায় পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা তাঁর মাতৃভাষা।

খ. জ্ঞান অর্জন করার দ্বিতীয় মাধ্যম শোনা। আল্লাহ বলেন, ‘যখন কোরআন পড়া হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগসহ শুনবে এবং নিশ্চুপ হয়ে থাকবে, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়।’ [সুরা আরাফ, আয়াত: ২০৪]

বস্তুত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যে ভাষায় আল্লাহ তাআলা তাঁর আয়াত শোনার নির্দেশ দেন তা হলো মাতৃভাষা। মানবশিশু প্রথমে তার মায়ের কাছ থেকে শুনে শুনে জ্ঞান অর্জন করে থাকে। এটা যে ভাষায় ঘটে থাকে তা-ই ব্যক্তির মাতৃভাষা।

গ. বলা: আল্লাহ তাআলা বলেন, “তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তাকে বায়ান তথা ভাবপ্রকাশ শিক্ষা দিয়েছেন।” [সুরা আর-রহমান, আয়াত: ৩-৪)

এখানে ‘বায়ান’ শব্দের অর্থ বলা। শিশু প্রথমে তার মাতৃভাষাতেই কথা বলতে শুরু করে। পরে সে অন্য ভাষা আয়ত্ত করে।

গ. মানুষকে তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য লেখায়ও দক্ষতা অর্জন করতে হয়। আর এটি মনের ভাব প্রকাশের আরেকটি মাধ্যম। আল্লাহ বলেন, “যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন।” [সুরা আলাক, আয়াত: ৪]

কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার অর্থ তিনি লিখে পাঠ করে শিক্ষা লাভের নির্দেশ দিয়েছেন। একবার রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কয়েকজন লোককে শিক্ষা দিচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীদের একজন বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার কাছ থেকে হাদিস শুনি কিন্তু ভুলে যাই। তখন হাতে লেখার প্রতি ইংগিত দিয়ে রাসুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য গ্রহণ কোরো তথা লিখে রাখো।’ [সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৬৬৬]

লক্ষ্য করা যায়, বাংলা অঞ্চলে আরব, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, খোরাসান, তুরস্ক, মিসর প্রভৃতি দেশ থেকে ইসলাম প্রচারকরা আগমন করেছেন। তারা এখানে এসে এ অঞ্চলের মানুষের ভাষা আয়ত্ত করেছেন এবং এ অঞ্চলের মানুষের ভাষাতেই ইসলাম প্রচার করেছেন। মানুষ অতি সহজেই তাদের কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। ফলে মুসলিমদের আগমনের ফলে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হয় এবং মর্যাদার আসন লাভ করে। বাংলার সুলতান ও শাসকগণের পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বপ্রথম বাংলায় রামায়ণ-মহাভারত অনূদিত হয় এবং বাংলা রাজদরবারে প্রবেশাধিকার পায়। তা ছাড়া ইসলাম বিভিন্ন ইবাদত ও দোয়ার ক্ষেত্রেও মাতৃভাষার চর্চাকে স্বীকৃতি দিয়েছে; বরং যারা আরবি ভাষায় পারদর্শী নন তাদের জন্য মাতৃভাষায় দোয়া করাই উত্তম। মাতৃভাষার মাধ্যমে মনের অভিব্যক্তি যেভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হয় অন্য কোনো ভাষায় তা সম্ভব হয় না। মাতৃভাষার মাধ্যমে মানুষ তার মনের সব আকুতি প্রকাশ করতে পারে এবং তাঁর রহমতের ও ক্ষমার আশায় প্রশান্তি লাভ করে।

উল্লেখ্য যে, ইসলামে বিশুদ্ধ ভাষা ব্যবহার ও সঠিক উচ্চারণের অবশ্যই গুরুত্ব রয়েছে যা উক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত। তবে ক্ষেত্রে বিশেষ আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা দোষণীয় নয় যদি বিশুদ্ধ ভাষা বুঝতে সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়। (সম্পাদক)

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
সম্পাদনা ও পরিমার্জনে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
[উৎস: kalerkantho]

চোখের পাতা লাফানো শারীরিক সমস্যা নাকি শুভ-অশুভের আলামত এবং প্রতিকার কী

 মাঝেমধ্যেই আমাদের চোখের পাতা লাফায় বা চোখ নাচে। এ ক্ষেত্রে কেউ মনে করে, চোখের পাতা লাফানো মানেই সর্বনাশ আবার কেউ মনে করে ভালো কিছুর পূর্বাভাস। অনেকের মতে, বাম চোখের পাতা লাফালে কোনও না কোনও বিপদ আসন্ন। এমনটা হলে বাড়ির লোকজন যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় থাকেন। আবার কেউ মনে করে, চোখ কাঁপলে তার শুভ-অশুভ ইঙ্গিত নির্ভর করে ব্যক্তির উপর। যদি মহিলাদের ডান চোখ কাঁপে, তবে তা অশুভ বলে ধরা হয় আর পুরুষদের ক্ষেত্রে ডান চোখ কাঁপার অর্থ তার মনের ইচ্ছে পূরণ হওয়ার সময় এসেছে। চোখের পাতা লাফানো নিয়ে এ রকম নানা বিশ্বাস সমাজৈ প্রচলিত আছে। এ সব বিশ্বাসের কারণ হল, জ্যোতিষ শাস্ত্রে এ জাতীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

এখন আমরা জানব, এই চোখের পাতা লাফানো কি কোনও শারীরিক সমস্যা নাকি শুভ-অশুভের আলামত?

প্রকৃত বিচারে, চোখের পাতা লাফানোকে অশুভ বা শুভ আলামত মনে করা একটি ভ্রান্ত কুসংস্কার ছাড়া অন্য কিছু নয়। ডান কিংবা বাঁ কোনও চোখ লাফানোর সঙ্গেই শুভ-অশুভ বা কল্যাণ-অকল্যাণের কোনও সম্পর্ক নেই।
এটি ইসলামের দৃষ্টিতে যেমন ভ্রান্ত বিশ্বাস তেমনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকেও ভিত্তিহীন।

❂ চোখের পাতা কেন লাফায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝেমধ্যে মানুষের চোখের পাতা লাফায়। এটা কিছু কারণে ঘটে থাকে। যেমন: চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ, (একটানা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, টিভি বা কম্পিউটারের দিকে গভীর মনোযোগ সহকারে তাকিয়ে থাকা ইত্যাদি কারণে) ঘুম কম হওয়া,‌ অ্যালার্জি ইত্যাদি। বাতাসের ধুলাবালি, ময়লা, রাসায়নিক পদার্থ প্রভৃতির সংস্পর্শে আসার কারণে চোখ লাফাতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহনুর শারমিন বলেন, “চোখের কোনও পেশির হঠাৎ নড়ে ওঠাকেই আমরা চোখ লাফানো বলে থাকি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ কিছু শারীরবৃত্তীয় কারণেই চোখ লাফানোর মতো অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে। চোখের কিছু সাধারণ রোগবালাইয়েও চোখ লাফাতে পারে। কিছু স্নায়বিক সমস্যাতেও চোখ লাফাতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে রোগের অন্যান্য উপসর্গও দেখা দেয়। আদতে ডান কিংবা বাঁ কোনও চোখ লাফানোর সঙ্গেই শুভ-অশুভ বা কল্যাণ-অকল্যাণের কোনও সম্পর্ক নেই।” [প্রথম আলো]

এটিকে কল্যাণ-অকল্যাণ বা শুভ-অশুভর ইঙ্গিত বাহী হিসেবে মনে করা হিন্দুদের মধ্যে বেশি প্রচলিত। কোনও মুসলিমের জন্য এমন কুসংস্কারে বিশ্বাস করা জায়েজ নয়।কেননা:

❑ কুলক্ষণে বিশ্বাস করার বিধান:

◈ ইসলামের দৃষ্টিতে কল্যাণ-অকল্যাণ একমাত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন:

মহান আল্লাহ বলেন,

إِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ ۖ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ ۚ يُصِيبُ بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ

“আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খণ্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তার অনুগ্রহকে প্রতিহত করার মতও কেউ নেই। তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন।” [সূরা ইউনুস: ১০৭]

◈ ইসলামে কুলক্ষণের বিশ্বাস করা শিরক:

– আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لا عَدْوَى وَلا طِيَرَةَ وَلا هَامَةَ وَلا صَفَرَ

“রোগ সংক্রমণ, কুলক্ষণ, পেঁচা এবং সফর মাস বলতে কিছু নাই।” [সহীহু বুখারী, হা/৫৭০৭]

– আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

الطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ ثَلاَثًا وَمَا مِنَّا إِلاَّ وَلَكِنَّ اللهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ

“কোনও কিছুকে অশুভ লক্ষণ বলে মনে করা শিরক। কোনও কিছুকে অশুভ লক্ষণ বলে মনে করা শিরক। এ কথা তিনি তিন বার বললেন। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মনে কু ধারণা জন্মে না। তবে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা তা (আমাদের মন থেকে) দূর করে দেন।” [আহমদ, ১/৩৮৯, ৪৪০, আবু দাউদ ৩৯১২, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম প্রমুখ। সনদ সহিহ-সিলসিলাহ সহীহাহ, ৪৩০]

– ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ، أَوْ تُطُيِّرَ لَهُ أَوْ تَكَهَّنَ، أَوْ تُكُهِّنَ لَهُ أَوْ سَحَرَ، أَوْ سُحِرَ لَهُ

“যে ব্যক্তি নিজে কুলক্ষণে বিশ্বাস করে ও যার কারণে অন্যের মাঝে কুলক্ষণের প্রতি বিশ্বাসের প্রবণতা সৃষ্টি হয় এবং যে ব্যক্তি ভাগ্য গণনা করে ও যার জন্য ভাগ্য গণনা করা হয় (বর্ণনাকারী মনে করেন যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সম্পর্কেও বলেছিলেন) এবং যে জাদু করে ও যার কারণে জাদু করা হয় সেই ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়।” [তাবারানী, সিলসিলা সহীহাহ, হা/২১৯৫।]

– আব্দুল্লাহ বিন আমর বর্ণিত হাদিসে এসেছে। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা বললেন, কুলক্ষণ যে ব্যক্তিকে কোন কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে, নিশ্চয়ই সে শিরক করে। সহাবিগণ আরজ করলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ, উহার কাফফারা কী হবে?

তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি বলবে,

اَللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُكَ وَلاَ طَيْرَ إِلاَّ طَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা লা খায়রা ইল্লা খায়রুকা ওয়ালা ত্বায়রা ইল্লা ত্বায়রুকা ওয়ালা ইলা-হা গায়রুকা।

“হে আল্লাহ! আপনার কল্যাণ ছাড়া কোন কল্যাণ নেই। আপনার সৃষ্ট কুলক্ষণ ছাড়া কোন কুলক্ষণ নেই। আর আপনি ছাড়া কোন (হক) মাবুদও নেই।” [আহমদ, হা/৭০৪৫; সিলসিলা সহীহাহ হা/১০৬৫]

– ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ هُمْ الَّذِينَ لاَ يَسْتَرْقُونَ وَلاَ يَتَطَيَّرُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ

“আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হবে এমন লোক, যারা শরিয়তে নিষিদ্ধ ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেয় না, কোনও বস্তুর শুভ-অশুভ মানে না। একমাত্র প্রতিপালকের ওপরই ভরসা রাখে।” [বুখারি, অধ্যায়: ৮১/ সদয় হওয়া, পরিচ্ছেদ: ৮১/২১. “যে কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করে তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।” [সূরা তালাক ৬৫/৩]

◈ প্রতিকার:

চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে কমানোর ব্যবস্থা করুন। মুঠোফোন, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ডিজিটাল পর্দায় সময় কম ব্যয় করুন। কম আলোতে চোখের কাজ করবেন না। মানসিক চাপ কমাতে চেষ্টা করুন। চা-কফির পরিমাণও কমিয়ে দিন। দূষিত বাতাসের কারণে সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হলে রোদ-চশমা ব্যবহার করতে পারেন। ঘুম কম হলে পর্যাপ্ত ঘুমান। চোখকে বিশ্রাম দিন।
চোখের পাতা লাফালে প্রাথমিকভাবে বাড়িয়ে দিন পানি খাওয়ার পরিমাণ। নিশ্চিত করুন ৮ ঘণ্টার গভীর ঘুমের। ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিনের ঘাটতি ও চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খেতে পারেন ডাব, দুধ, ডিম, বাদাম ও মৌসুমি ফলমূল।

◈ কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে:

ডাক্তারি পরিভাষায় চোখের পাতা লাফানোকে ‘মায়োকেমিয়া’ (Myokemia) বলা হয়। চিকিৎসকদের মতে, দিনে দু বার ঘটা স্বাভাবিক। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত হলে চিকিৎসা করানো দরকার। চোখ ছাড়া শরীরের অন্য কোনও অংশের পেশি লাফাচ্ছে মনে হলে কিংবা কোনও অংশ দুর্বল হয়ে পড়ছে মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চোখ লাফানো ছাড়া চোখে ব্যথা, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা চোখের অন্য কোনও উপসর্গ দেখা দিলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।
তা ছাড়া জেনে রাখা ভালো যে, পুষ্টির ভারসাম্যের অভাবে চোখ কাঁপা শুরু করলে চিকিৎসকরা ধরে নেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে। যে কারণে সঠিক ডায়েট প্ল্যান আর ওষুধ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা একজন চিকিৎসক ছাড়া মোটেও সম্ভব নয়।

যদি অ্যালার্জির কারণে চোখ কাঁপা সমস্যার শুরু হয় তবে আপনার চোখের পানির সঙ্গে হিস্টামিন নির্গত হচ্ছে বলে ধরে নেয়া হয়, যা সঠিক সময়ে রোগী চিকিৎসা না নিলে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। [প্রথম আলো, সময় নিউজ ইত্যাদি]

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

বিকাশ বিষয়ক একগুচ্ছ ইসলামি প্রশ্নোত্তর

 ❑ ক. বিকাশ বয়কট ও ব্যবহার প্রসঙ্গ:

◈ প্রশ্ন-১: হয়ত অবগত আছেন যে, ট্র্যান্স জেন্ডার নিয়ে প্রতিবাদ করায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মাহতাব স্যারকে চাকরি চ্যুত করা হয়েছে। আমাদের মোটামুটি পরিসরের একটা সদকা ফান্ড আছে। খাবার বিতরণ, এতিমদের নিয়ে কাজ করা এবং অন্যান্য দরিদ্র-অসহায়দের নিয়ে কাজ করি এই ফান্ড থেকে।
ফান্ডে অনেক প্র্যাক্টিসিং নন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম দান করেন। সবাই হয়ত বিকাশ বয়কটের বিষয়টা আমলে নিবে না। ফলে ফান্ডে টাকা আসার পরিমাণ কমে যেতে পারে। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কী বুঝতে পারছি না। পার্সনালি বয়কট করেছি। কিন্তু ফান্ডের ক্ষেত্রেও বয়কট করব কিনা সে বিষয়ে আপনার থেকে উত্তর আশা করছি।
উত্তর:
বিকল্প পন্থা থাকলে তাই ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায় প্রয়োজনে বিকাশ ব্যবহার করা যাবে ইনশাআল্লাহ। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্মিলিতভাবে ব্র্যাক এবং বিকাশ সহ ব্র্যাকের সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বয়কট করা উচিত। কারণ ট্রা**ন্স জে***ন্ডার-এর মত বিকৃত এবং শরিয়ত বিরোধী মতবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়-এর উক্ত শিক্ষক এক সেমিনারে ট্রান্স জেন্ডার বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক থেকে দুটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরি চ্যুত করেছে। বিষয়টি ধৃষ্টতা পূর্ণ এবং উদ্বেগ জনক। (যদিও কর্তৃপক্ষ চাকরি চ্যুত করার ভিন্ন কারণ দেখিয়েছে)।

◈ প্রশ্ন-২: বিকাশ তো সবাই বয়কট করতে বলছে। তো বিকাশ কি বন্ধ করে দিতে হবে? বন্ধ না করলে কি গুনাহ হবে?
উত্তর:
প্রয়োজনে বিকাশ ব্যবহার করলে গুনাহ হবে না। তবে বিকল্প থাকলে বিকাশ ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ তা ব্র্যাক সুদি ব্যাংক-এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া ব্র্যাক ট্র্যা***ন্স জে***ন্ডার নামক নিকৃষ্ট মতবাদের সমর্থক-যা প্রমাণিত হয়েছে, সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক শিক্ষক এ বিষয়ে বই ছিঁড়ে প্রতিবাদ করায় তাকে বহিষ্কার করার মাধ্যমে।

❑ খ. বিকাশ থেকে টাকা উঠানোর পর উক্ত টাকা পুনরায় একাউন্টে জমা হয়েছে

◈ প্রশ্ন-৩: একদিন বোন তার বিকাশ থেকে টাকা উঠানোর পর আবার দেখে যে পুনরায় সেই টাকাগুলোই যত টাকা উঠানো হয়েছে সেই টাকাগুলো তার বিকাশে পুনরায় ফিরে এসেছে। তখন তিনি দোকানদারকে বললে দোকানদার বলে এই টাকাগুলো তার না। এ অবস্থায় দ্বীনী বোনের প্রশ্ন, তিনি এই টাকাগুলা উঠিয়ে কী করবেন? তাছাড়া তিনিও অনেকদিন যাবত কিছু ঋণগ্রস্ত অবস্থায় আছেন। এখন তিনি কি টাকাগুলো ঋণ পরিশোধ করবেন না কাউকে দান করে দিবেন?
উত্তর:
বিকাশ একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের পরেও পুনরায় উক্ত টাকা ফিরে আসা এটা হয়তো বিকাশের কোন টেকনিক্যাল ভুলের কারণে হতে পারে। এইজন্যে প্রথমত করণীয় হল, বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে এই সমস্যার কথা জানানো এবং তাদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা।

কিন্তু তারা কোন সমাধান দিতে না পারলে আপনি উক্ত টাকা ক্যাশ আউট করে নিজে ব্যবহার করতে পারেন। কেননা আপনার পক্ষ থেকে কোন ধরনের দুর্নীতি ও অসৎ কলাকৌশল ব্যতিরেকে এই টাকা আপনার একাউন্টে জমা হয়েছে এবং আপনি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানিয়েছেনও। কিন্তু তারা তার কোন সমাধান দিতে পারেনি। অতএব আপনার জন্য তা ব্যবহার করা বৈধ।

অথবা চাইলে কোন মাদরাসা, মসজিদ, জনকল্যাণ খাত বা গরিব মানুষকে দান করে দিতে পারেন। তবে বিকাশ কর্তৃপক্ষ থেকে যদি পরবর্তীতে এর কোন সমাধান আসে তাহলে উক্ত টাকা ফেরত দিতে হবে বা তারা কেটে নেবে তখন আপনার আপত্তি করার সুযোগ থাকবে না।

❑ গ. বিকাশের ক্যাশ ব্যাক কি সুদের অন্তর্ভূক্ত?

◈ প্রশ্ন-৪: ক্যাশ ব্যাক-এ যে টাকা টা সেটা কি সুদের অন্তর্ভুক্ত? এটা খরচ করা জায়েজ হবে?
উত্তর:
বিকাশ এবং তাদের পার্টনার (যারা বিকাশের সাথে পার্টনারশিপে চুক্তিবদ্ধ) বিভিন্ন ব্র্যান্ড, দোকান বা প্রতিষ্ঠানে বিকাশের মাধ্যমে পে করা হলে তারা তৎক্ষণাৎ নির্ধারিত মূল্য থেকে কিছু টাকা ফেরত দেয়। এটাই ক্যাশ ব্যাক।
যেমন: আপনি যদি বিকাশের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন দোকান বা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০০ টাকার পণ্য ক্রয় করেন এবং সেই টাকাটা বিকাশের মাধ্যমে পে করেন তাহলে আপনি ২০ টাকা ফেরত পাবেন। অর্থাৎ আপনি বিকাশে মাধ্যমে পে করার কারণে উক্ত পণ্যটা পেলেন ৯৮০ টাকায়।
এটা মূলত বিকাশ এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত গ্রাহক আকৃষ্ট করার পদ্ধতি। এতে একদিকে বিকাশের প্রচার-প্রচারণা এবং গ্রাহক বৃদ্ধি হয়, অপরদিকে উক্ত প্রতিষ্ঠানেরও প্রচার-প্রচারণা এবং বিক্রয় বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং আপনি যদি ন্যায্য মূল্যে কোন পণ্য ক্রয় করেন বা সেবা গ্রহণ করেন কিন্তু এতে যদি কিছু টাকা ছাড় পাওয়া যায় তাহলে তা গ্রহণ করতে কোন দোষ নেই। কারণ পণ্যের মালিক আপনাকে ছাড় দিয়েছে।
এক্ষেত্রে বিকাশ এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাঝে চুক্তি থাকে এবং পরবর্তীতে তারা গ্রাহককে দেওয়া এই ছাড়টা নিজেদের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ভাগাভাগি করে নেয়-যা তাদের উভয়ের প্রচার প্রসারের খরচ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তবে আমরা জানি, বিকাশ ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গীভূত একটি সুদ ভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা। তাই একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিকাশ ব্যবহার করা উচিত নয়। কেননা এতে প্রকারান্তরে তাদেরকে সহায়তা করা হয়।
সুতরাং ক্যাশ ব্যাক পাওয়ার আশায় কোন দোকান থেকে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিকাশ ব্যবহার না করাই ভালো। বরং সরাসরি দোকানদারকে নির্দিষ্ট মূল্য পরিশোধ করেই পণ্য ক্রয় করবেন। এটাই সবচেয়ে নিরাপদ। আল্লাহু আলম।

❑ ঘ. বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে জাকাতের টাকা পাঠালে খরচের টাকা কি আলাদা দিতে হবে?

◈ প্রশ্ন-৫: বিকাশ, নগদ বা রকেট-এ জাকাতের টাকা পাঠালে টাকা উঠাতে গেলে খরচ কেটে নিবে। সেই খরচও কি জাকাতের মধ্যেই পড়বে? নাকি আলাদা করে উক্ত জাকাতের টাকার খরচ পাঠিয়ে দিতে হবে?
উত্তর:
খরচের টাকা আলাদা দিতে হবে।

❑ ঙ. বিকাশের বার্ড গেম খেলা থেকে প্রাপ্ত পুরস্কারের টাকা কি হালাল?

প্রশ্ন-৬: বিকাশে বার্ড (পাখি) গেম খেলে পুরস্কারের টাকা কি হালাল হবে? গেমের মধ্যে তেমন কোন হারাম আমি দেখি না!
উত্তর:
ব্র্যাক ব্যাংক হল, একটি সুপরিচিত সুদি ব্যাংক। এরই একটি শাখা হল বিকাশ। সুতরাং বিকাশ সরাসরি সুদি ব্যাংকের সাথে রিলেটেড।
অতএব এতে এজেন্ট হিসেবে কাজ করা বা তার কাস্টমার কেয়ারে চাকরি করা সুদি ব্যাংকে চাকরি করার নামান্তর। এটা যেমন হারাম তেমনি তার প্রচার-প্রসার বা এ্যাড দেওয়া, এর জন্য ঘর ভাড়া দেওয়া, অ্যাপ রেফার করে অর্থ উপার্জন করা, বিকাশ ওয়াপ-এ বার্ড নামক গেম খেলে অর্থ উপার্জন ইত্যাদি জায়েজ নাই। কারণ এর মাধ্যমে তাদের সুদি কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ ও ব্যাপ্তিতে সহায়তা করা হয়। আর এ কথা অজানা নয় যে, ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ ভয়ানক হারাম, ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহ এবং অভিশাপ যোগ্য কাজ হিসেবে পরিগণিত।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন,
أَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
“আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন।” [বাকারা: ২৭৫]
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

শবে মিরাজ পালন করা বিদআত

 মিরাজ দিবস কিংবা শবে মিরাজ উদযাপন করা রজব মাসের অন্যতম বিদআত। জাহেলরা এই বিদআতকে ইসলামের উপর চাপিয়ে দিয়ে প্রতি বছর তা পালন করে যাচ্ছে! এরা রজব মাসের সাতাইশ তারিখকে শবে মিরাজ পালনের জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছে। এ উপলক্ষে এরা একটি নয় একাধিক বিদআত তৈরি করেছে। যেমন:

– শবে মিরাজ উপলক্ষে মসজিদে মসজিদে একত্রিত হওয়া।
– মসজিদে কিংবা মসজিদের মিনারে মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালানো বা আলোকসজ্জা করা।
– এ উপলক্ষে অর্থ অপচয় করা।
– কুরআন তিলাওয়াত বা জিকিরের জন্য একত্রিত হওয়া।
– ‘মিরাজ দিবস’ উপলক্ষে মসজিদে বা বাইরে সভা-সেমিনার আয়োজন করে তাতে মিরাজের ঘটনা বয়ান করা ইত্যাদি।
এগুলো সবই গোমরাহি এবং বাতিল কর্মকাণ্ড। এ প্রসঙ্গে কুরআন-সুন্নাহতে ন্যূনতম কিছু বর্ণিত হয় নি।
তবে এ এভাবে দিবস পালন না করে যে কোন সময় মিরাজের ঘটনা বা শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা দোষণীয় নয়।

♻ ক) কোন রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইসরা ও মিরাজ সংঘটিত হয়েছিল?

যে রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইসরা ও মিরাজ সংঘটিত হয়েছিল সেটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পূর্ব যুগ থেকেই ওলামাগণের মাঝে মত পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন হাদীস না থাকায় আলেমগণ বিভিন্ন জন বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন।

▪ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, মিরাজের সময় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

কেউ বলেছেন, নবুওয়তের আগে। কিন্তু এটা একটি অপ্রচলিত মত। তবে যদি উদ্দেশ্য হয়, যে সেটা স্বপ্ন মারফত হয়েছিল সেটা ভিন্ন কথা।

অধিকাংশ আলেমগণের মত হল, তা হয়েছিল নবুওয়তের পরে। তবে নবুওয়তের পরে কখন সেটা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

কেউ বলেছেন: হিজরতের এক বছর আগে। ইবনে সা’দ প্রমুখ এ মতের পক্ষে। ইমাম নওবী রহ. এই মতটির পক্ষে জোর দিয়ে বলেছেন। তবে ইবনে হাজাম এর পক্ষে আরও শক্ত অবস্থান নিয়ে বলেন, এটাই সর্ব সম্মত মত। এই মতের আলোকে বলতে হয় মিরাজ হয়েছিল রবিউল আওয়াল মাসে।

কিন্তু তার কথা অগ্রহণ যোগ্য। কারণ, এটা সর্ব সম্মত মত নয়। বরং এক্ষেত্রে প্রচুর মতবিরোধ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশটির অধিক মত পাওয়া যায়।

-ইবনুল জাওযী বলেন, হিজরতের আট মাস আগে মিরাজ হয়েছিল। এ মতানুসারে সেটা ছিল রজব মাসে।

-কেউ বলেন, হিজরতের ছয় মাস আগে। এ মত অনুযায়ী সেটা ছিল রমাযানে। এ পক্ষে মত দেন আবুর রাবী বিন সালেম।

-আরেকটি মত হল, হিজরতের এগার মাস আগে। এ পক্ষে দৃঢ়তার সাথে মত ব্যক্ত করেন, ইবরাহীম আল হারবী। তিনি বলেন, হিজরতের এক বছর আগে রবিউস সানীতে মিরাজ সংঘটিত হয়।

-কারো মতে, হিজরতের এক বছর তিন মাস আগে। ইবনে ফারিস এ মত পোষণ করেন।

এভাবে আরও অনেক মতামত পাওয়া যায়। কোন কোন মতে রবিউল আওয়াল মাসে, কোন মতে শাওয়াল মাসে, কোন মতে রমাযান মাসে, কোন মতে রজব মাসে।

▪ আর তাই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন,

“ইবনে রজব বলেন, রজব মাসে বড় বড় ঘটনা ঘটেছে মর্মে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায় কিন্তু কোনটির পক্ষেই সহীহ দলীল নাই। বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজবের প্রথম রাতে ভূমিষ্ঠ হয়েছেন, সাতাইশ বা পঁচিশ তারিখে নবুওয়ত প্রাপ্ত হয়েছেন অথচ এ সব ব্যাপারে কোন সহীহ দলীল পাওয়া যায় না।” [লাতাইফুল মায়ারেফ, ১৬৮ পৃষ্ঠা]

▪ আবু শামাহ বলেন, গল্পকারেরা বলে থাকে যে, ইসরা ও মিরাজের ঘটনা ঘটেছিল রজব মাসে। কিন্তু ইলমে জারহ ওয়াত তাদীল সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ আলেমগণের মতে এটা ডাহা মিথ্যা। (আল বায়িস: ১৭১)

♻ খ) শবে মিরাজ পালন করার বিধান:

সালফে সালেহীনগণ এ মর্মে একমত যে, ইসলামী শরীয়তে অনুমোদিত দিন ছাড়া অন্য কোন দিবস উদযাপন করা বা আনন্দ-উৎসব পালন করা বিদআত। কারণ, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

(( من أحدث في ديننا ما ليس منه فهو رد))

“যে ব্যক্তি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন নতুন জিনিষ চালু করল তা পরিত্যাজ্য। [বুখারী, অধ্যায়: সন্ধি-চুক্তি।]

আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে:

(( من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد ))

“যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার ব্যাপারে আমার নির্দেশ নাই তা প্রত্যাখ্যাত। [মুসলিম, অধ্যায়: বিচার-ফয়সালা]

সুতরাং মিরাজ দিবস অথবা শবে মিরাজ পালন করা দ্বীনের মধ্যে সৃষ্ট বিদআতের অন্তর্ভুক্ত সাহাবীগণ, তাবেঈনগণ বা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী সালফে সালেহীনগণ তা পালন করেন নি। অথচ সকল ভাল কাজে তারা ছিলেন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রগামী।

▪ ইবনুল কাইয়েম জাওযিয়া রহ. বলেন,

ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, পূর্ববর্তী যুগে এমন কোন মুসলমান পাওয়া যাবে না যে শবে মিরাজকে অন্য কোন রাতের উপর মর্যাদা দিয়েছে। বিশেষ করে শবে কদরের চেয়ে উত্তম মনে করেছে এমন কেউ ছিল না। সাহাবায়ে কেরাম এবং তাদের একনিষ্ঠ অনুগামী তাবেঈনগণ এ রাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোন কিছু করতেন না এমনকি তা আলাদাভাবে স্মরণও করতেন না। যার কারণে জানাও যায় না যে, সে রাতটি কোনটি।

নি:সন্দেহে ইসরা ও মিরাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার প্রমাণ বহন করে। কিন্তু এজন্য এর মিরাজের স্থান-কালকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোন ইবাদত করার বৈধ নয়। এমনকি যে হেরা পর্বতে ওহী নাযিলের সূচনা হয়েছিল এবং নবুওয়তের আগে সেখানে তিনি নিয়মিত যেতেন নবুওয়ত লাভের পর মক্কায় অবস্থান কালে তিনি কিংবা তাঁর কোন সাহাবী সেখানে কোন দিন যান নি। তারা ওহী নাজিলের দিনকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোন ইবাদত-বন্দেগী করেন নি বা সেই স্থান বা দিন উপলক্ষে বিশেষ কিছুই করেন নি।

যারা এ জাতীয় দিন বা সময়ে বিশেষ কিছু ইবাদত করতে চায় তারা ঐ আহলে কিতাবদের মত যারা ঈসা আলাইহিস সালাম এর জন্ম দিবস (Chisthomas) বা তাদের দীক্ষাদান অনুষ্ঠান (Baptism) পালন ইত্যাদি পালন করে।

💠 উমর ইবনুল খাত্তাব রা. দেখলেন, কিছু লোক একটা জায়গায় নামাজ পড়ার জন্য হুড়াহুড়ি করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কী? তারা বলল, এখানে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ পড়েছিলেন। তিনি বললেন, তোমরা কি তোমাদের নবীদের স্মৃতি স্থলগুলোকে সাজদার স্থান বানাতে চাও? তোমাদের পূর্ববর্তী জমানার লোকেরা এ সব করতে গিয়েই ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে এসে যদি তোমাদের কারো নামাযের সময় হয় তবে সে যেন নামাজ পড়ে অন্যথায় সামনে অগ্রসর হয়। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, ২য় খণ্ড, ৩৭৬, ৩৭৭]

▪ ইবনুল হাজ্জ বলেন,

“রজব মাসে যে সকল বিদআত আবিষ্কৃত হয়েছে সবগুলোর মধ্যে সাতাইশ তারিখের লাইলাতুল মিরাজের রাত অন্যতম।”[আল মাদখাল, ১ম খণ্ড, ২৯৪পৃষ্ঠা]

পরিশেষে বলব, যেহেতু রজব মাসে নফল নামায, রোযা করা, মসজিদ, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট দোকান-পাট ইত্যাদি সাজানো, সেগুলোকে আলোক সজ্জা করা কিংবা ছাব্বিশ তারিখের দিবাগত রাত তথা সাতাইশে রজবকে শবে মিরাজ নির্ধারণ করে তাতে রাত জেগে ইবাদত করার ব্যাপারে কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নাই। তাই আমাদের কর্তব্য হবে সেগুলো থেকে দূরে থাকা। অন্যথায় আমরা বিদআত করার অপরাধে আল্লাহ তায়ালার দরবারে গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হব। অবশ্য কোন ব্যক্তি যদি প্রতি মাসে কিছু নফল রোযা রাখে সে এমাসেও সেই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী এ মাসে রোযা রাখতে পারে, শেষ রাতে উঠে যদি নফল নামাযের অভ্যাস থাকে তবে তবে এ মাসের রাতগুলিতেও নামাজ পড়তে পারে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সকল অবস্থায় তাওহীদ ও সুন্নাহর উপর আমল করার তাওফিক দান করুন এবং শিরক ও বিদয়াত থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
▬▬▬◄❖►▬▬▬
উৎস: আল বিদা’ আল হাওলিয়াহ।
লেখক: শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আযীয আত তুওয়াইজিরী।
অনুবাদ ও সংক্ষেপায়ন: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডন্সে সেন্টার, সৌদি আরব।

ইসলামি শরিয়তে শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ নামাজ-রোজা ও ইবাদত-বন্দেগির ভিত্তি কতটুকু

 প্রশ্ন: ‘শবে মেরাজ’ এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও নামাজ-রোজা আছে কি? এ উপলক্ষে আমাদের সমাজে যে সব কার্যক্রম করা হয় শরিয়তে সেগুলোর ভিত্তি কতটুকু?

উত্তর: নিম্নে এ বিষয়ে অতিসংক্ষপে আলোকপাত করা হল। তৎসঙ্গে এ সময়ের সাড়া জাগানো কয়েকজন বাংলাভাষী শাইখদের বক্তব্যও উপস্থাপন করা হল।
শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ কোন নামাজ, রোজা, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, লোকজন জমায়েত, ভোজ অনুষ্ঠান, কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন খতম, শব বেদারি (নিশী জাগরণ), দুআ মাহফিল, হালকায়ে জিকির, নাতে রাসূল ও ইসলামি গজল সন্ধ্যা, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মসজিদ ইত্যাদি আলোকসজ্জা করা ইত্যাদি কোন কিছুই করা শরিয়ত সম্মত নয়। কারণ হাদিসে এ মর্মে কোন কিছুই আসেনি। সাহাবায়ে কেরাম কখনো এ উপলক্ষে কোনও আয়োজন-অনুষ্ঠান, রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি ইত্যাদি করেছেন বলে হাদিসের কিতাবগুলো প্রমাণ করছে না।
➧ ইবনুল কাইয়েম জাওযিয়া রহ. বলেন,
قال شيخ الإسلام ابن تيمية – رحمه الله -: ولا يعرف عن أحد من المسلمين أن جعل لليلة الإسراء فضيلة على غيرها، لاسيما على ليلة القدر، ولا كان الصحابة والتابعون لهم بإحسان يقصدون تخصيص ليلة الإسراء بأمر من الأمور ولا يذكرونها، ولهذا لا يعرف أي ليلة كانت
“ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, পূর্ববর্তী যুগে এমন কোন মুসলিম পাওয়া যাবে না যে, শবে মেরাজকে অন্য কোন রাতের উপর মর্যাদা দিয়েছে। বিশেষ করে শবে কদরের চেয়ে উত্তম মনে করেছে এমন কেউ ছিল না। সাহাবায়ে কেরাম এবং তাদের একনিষ্ঠ অনুগামী তাবেঈনগণ এ রাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোন কিছু করতেন না এমনকি তা আলাদাভাবে স্মরণও করতেন না। যার কারণে জানাও যায় না যে, সে রাতটি কোনটি।” [উৎস: আল বিদা’ আল হাওলিয়া পৃষ্ঠা ২৭৪]

➧ ইবনুল হাজ্জ বলেন,
ومن البدع التي أحدثوها فيه أعني في شهر رجب ليلة السابع والعشرين منه التي هي ليلة المعراج
“রজব মাসে যে সকল বিদআত আবিষ্কৃত হয়েছে সগুলোর মধ্যে সাতাইশ তারিখের লাইলাতুল মেরাজ (শবে মেরাজ) অন্যতম।” [আল মাদখাল, ১ম খণ্ড, ২৯৪পৃষ্ঠা]

◍ নিচের দেওয়া লিংকগুলোতে থেকে শাইখদের আলোচনা শুনুন:

◈ শবে মেরাজ পালন করা কেন বিদআত? শাইখ মতিউর রহমান মাদানি
https://youtu.be/6mJAZWFne-M

◈ প্রশ্ন: শবে মেরাজ উপলক্ষে কি রোজা রাখা যাবে? শায়খ মতিউর রহমান মাদানি
https://www.youtube.com/watch?v=NgxKEHQv4v0

◈ শবে মেরাজ শবে বরাতের বিশেষ কোন নামাজ আছে কি?‌ শাইখ ড. আবু বকর মোহাম্মাদ জাকারিয়া
https://www.youtube.com/watch?v=fqMNpyZdscQ

◈ শবে বরাতের নামাজ ও রোজা রাখলে অসুবিধা কি? শাইখ ড. আবু বকর মোহাম্মাদ জাকারিয়া
https://www.youtube.com/watch?v=17IYVX26a5o

◈ শবে মেরাজ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো কি? ড. ইমাম হোসেন।
https://www.youtube.com/watch?v=KMi3BIX3p8E

◈ শবে মিরাজ নিয়ে প্রচলিত কিছু জাল হাদিস: ড. ইমাম হোসেন।
https://www.youtube.com/watch?v=h6FuimpwwpI

মোটকথা, আমাদের দেশে কথিত শবে মেরাজ উপলক্ষে ঘটা করে যে সব কার্যক্রম করা হয় তা দীনের মধ্যে নবসৃষ্ট বিদআত। আর বিদআত মানেই ভ্রষ্টতা। ভ্রষ্টতা মানেই জাহান্নামের পথ। সুতরাং প্রতিটি মুসলিমের জন্য দীনের মধ্যে নব আবিস্কৃত সকল বিদআতি কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা ফরজ। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। আমিন।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate