Friday, December 8, 2023

সমকামিতার ভয়াবহতা ও শাস্তি এবং পরিত্রাণের উপায়

 বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে সমকামিতা নামক প্রকৃতিবিরুদ্ধ ও নিকৃষ্ট কাজটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এর প্রচার-প্রসারে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে হাবুডুবু খাওয়া কিছু পথভ্রষ্ট মানুষ বিভিন্ন ভাবে কাজ করছে। এরা বিভিন্ন এনজিও এর ছাত্র ছায়ায় যুবকদেরকে এই অন্যায় কর্মে লিপ্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইতোমধ্যে বহু যুবক-যুবতী তাদের খপ্পরে পড়ে শুধু তাদের দ্বীনদারী ও‌ চরিত্রকে ভূলুণ্ঠিত করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং পুরো জীবনটাকেই এক গন্তব্যহীন অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। সে কারণে আমাদের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এ বিষয়ে সচেতনতা খুবই জরুরি।

যাহোক, নিম্নে সমকামিতার ভয়াবহতা, ইসলামি ও প্রচলিত আইনে এর শাস্তি এবং এ থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করা হল:

ইসলামে সমকামিতা (Homosexuality) তথা পুরুষের সাথে পুরুষ অথবা নারীর সাথে নারীর যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, কবিরা গুনাহ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি জিনার থেকেও নিকৃষ্ট। কেননা তা প্রকৃতি বিরুদ্ধ যৌনাচার এবং মানবতা বিধ্বংসী আচরণ। মানবজাতির পরিবার গঠনের স্বাভাবিক নিয়ম হল, একজন পুরুষ একজন নারীকে বৈধভাবে বিয়ে করার পর তারা দাম্পত্য জীবন গঠন করবে। অত:পর স্বামী-স্ত্রী মধুর মিলনে স্ত্রী গর্ভধারণ করবে ও সন্তান জন্ম দিবে। অতঃপর বাবা-মা সন্তানের পরিপালনের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিবেন। এই তো একটি সুন্দর মানবজীবন। এভাবে মানব সন্তানের বংশ বিস্তার ঘটবে এবং ফুলে-ফলে সুশোভিত হবে এই সুন্দর বসুন্ধরা। কিন্তু সমকামিতা হল, প্রকৃতি বিরুদ্ধ ও ধ্বংসাত্মক কাজ এবং মানবজাতির বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক।

কেন মানুষ সমকামী হয়? বিজ্ঞানীরা সমকামিতার প্রকৃত কারণ জানেন না কিন্তু তারা তাত্ত্বিকভাবে ধারণা করেন যে, জিনগত, হরমোন গত এবং পরিবেশগত কারণসমূহের এক জটিল আন্তক্রিয়ার ফলে এটি ঘটে থাকে। (উইকিপিডিয়া) তবে কিছু মানুষ স্বাভাবিক যৌন চাহিদা তথা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি স্বাভাবিক যৌন আকর্ষণ থাকার পরও বিকৃত মানসিকতার কারণে ইচ্ছাকৃত ভাবে সমকামিতায় লিপ্ত হয়।

❑ ইসলাম সমকামিতার পথ বন্ধ করেছে যেভাবে:

● ইসলাম সমকামিতার পথ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে যে নির্দেশনা প্রদান করেছে তা হল,

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لاَ يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ وَلاَ الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ وَلاَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَلاَ تُفْضِي الْمَرْأَةُ إِلَى الْمَرْأَةِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ.
আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক পুরুষ অপর পুরুষের লজ্জাস্থানের প্রতি তাকাবে না। তেমনি এক নারী অপর নারীর লজ্জাস্থানের প্রতি তাকাবে না। দু জন পুরুষ একটি কাপড়ের নীচে শয্যা গ্রহণ করবে না। তেমনি দুজন নারী একটি কাপড়ের নীচে শয্যা গ্রহণ করবে না।” (মুসলিম, মিশকাত হা/৩১০০; বাংলা ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা/২৯৬৬ ‘বিবাহ’ অধ্যায়)।

● অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ تُبَاشِرُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَتَنْعَتْهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّهُ يَنْظُرُ إِلَيْهاَ.
ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক নারী অপর নারীর চামড়ার সাথে চামড়ার লাগাবে না। কারণ সে তার স্বামীকে ঐ নারীর অঙ্গের বিবরণ দিতে পারে তখন তার স্বামী ঐ নারীকে যেন অন্তরের চোখে দেখবে।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪০৯৯; বাংলা ৮ম খন্ড, হা/৩৯২১ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়)। এ দুটি হাদিসে ইসলাম সমকামিতার মত ভয়াবহ ও ঘৃণিত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

❑ ইসলামের দৃষ্টিতে সমকামিতার ভয়াবহতা:

নি:সন্দেহে সমকাম ধ্বংসাত্মক ও অভিশপ্ত পাপকর্ম, আল্লাহর শাস্তির কারণ ও মানবতা বিধ্বংসী অপরাধ। নিম্নে কুরআন-সুন্নাহ ও প্রচলিত আইনের আলোকে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হল:

◈ ১. সমকাম আল্লাহর আজাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ:
লুত সম্প্রদায়ের লোকজন সমকামিতায় লিপ্ত হলে মহাশক্তিধর আল্লাহ তাদেকে কিভাবে ধ্বংস করেছেন তা ফুটে উঠেছে এই আয়াতে:
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِّن سِجِّيلٍ مَّنضُودٍ
“অতঃপর যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছল, এরপর যখন আমার সিদ্ধান্ত কার্যকর হল, তখন আমি জনপদের উপরিভাগ নিচে এবং নিম্নভাগ উপরে উঠালাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর-পাথর বর্ষণ করলাম।” (সুরা হুদ: ৮২)
ইতিহাসে এই ভয়াবহ ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে আজও বিদ্যমান রয়েছে জর্ডানে অবস্থিত ‘ডেড সি’ (The Dead Sea) বা মৃত সাগর।

◈ ২. সমকামিতা একটি অভিশপ্ত কর্ম:

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ ، ثَلاثًا -(حسنه شعيب الأرنؤوط في تحقيق المسند)
“যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের কাজে (সমকামে) লিপ্ত হবে তার প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত।যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের কাজে (সমকামে) লিপ্ত হবে তার প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত।” এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন। (মুসনাদ আহমদ ২৯১৫/শাইখ শুআইব আরনাবুত হাদিসটিকে হাসান বলেছেন)

◈ ৩. তাছাড়া সমকামিতাকে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীগণ প্রাণঘাতী এইডস সহ নানা জটিল ও কঠিন রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

❑ ইসলামি আইনে সমকামিতার শাস্তি:

ইসলামের ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী সমকামিতার শাস্তি হল, মৃত্যুদণ্ড:

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ ) وصححه الألباني في صحيح الترمذي .
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যাদেরকে তোমরা লুতের সম্প্রদায়ের কাজে (সমকামে) লিপ্ত দেখবে তাদের উভয়কেই হত্যা করো। (তিরমিজি: ৪/৫৭; আবু দাউদ: ৪/২৬৯; ইবনে মাজা: ২/৮৫৬-’শাইখ আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)

আল্লামা বিন বায রহঃ বলেন,
أن حكمه القتل الذي عليه أصحاب الرسول ﷺ وقد أجمعوا جميعًا  على قتل اللوطي مطلقًا سواء كان بكرًا أو ثيبًا، بعض الفقهاء قالوا: إنه كالزاني يرجم المحصن ويجلد البكر مائة جلدة ويغرب عامًا، ولكنه قول ضعيف
“সমকামিতার শাস্তি হল, হত্যা। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবিদের সম্মিলিত অভিমত রয়েছে। তারা সকলেই একমত যে, সমকামীকে হত্যা করা হবে চাই যে বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত হোক।
কতিপয় ফকিহ বলেন যে, সমকামিতার ক্ষেত্রে জিনার মতই বিবাহিত হলে, তার শাস্তি পাথর মেরে হত্যা আর অবিবাহিত হলে এক একশ চাবুক ও একবছর দেশান্তর (জেল বা নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেয়া)। কিন্তু এটি দুর্বল কথা।” [শাইখের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট]

অবশ্য যদি কারও সাথে জোরপূর্বক সমকামিতা করা হয় বা যার সাথে এই অন্যায় করা হয়েছে সে যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু বা পাগল হয় তাহলে তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না।

❑ প্রচলিত আইনে সমকামিতার শাস্তি:

অধিকাংশ সমাজে এবং সরকার ব্যবস্থায় সমকামী আচরণকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। উদাহরণ স্বরূপ: বাংলাদেশ (দশ বছরের থেকে শুরু করে আমরণ সশ্রম কারাদণ্ড) সহ দক্ষিণ এশিয়ার ৬ টি দেশের সংবিধানে ৩৭৭ ধারা এবং ১৯টি দেশে সমপর্যায়ের ধারা এবং সম্পূরক ধারা মোতাবেক সমকামিতা ও পশুকামিতা প্রকৃতি বিরোধী যৌনাচার হিসেবে শাস্তিযোগ্য ও দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা মোতাবেক পায়ু মৈথুন শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ, যার শাস্তি দশ বছর থেকে শুরু করে আজীবন কারাদণ্ড এবং সাথে জরিমানাও হতে পারে। এ আইনে বলা হয়েছে:

৩৭৭. প্রকৃতিবিরুদ্ধ অপরাধ: কোন ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় কোন পুরুষ, নারী বা পশু প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সঙ্গম করে, তবে তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হবে, অথবা বর্ণনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কালের কারাদণ্ড প্রদান করা হবে যা দশ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে, এবং এর সাথে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও দিতে হবে।

ব্যাখ্যা: ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণে যৌনসংগমের প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে লিঙ্গ প্রবেশের প্রমাণ যথেষ্ট হবে।

৩৭৭ ধারার ব্যাখ্যায় পায়ু সঙ্গম জনিত যে কোন যৌথ যৌন কার্যকলাপকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একারণে, পরস্পর সম্মতিক্রমে বিপরীতকামী মুখকাম ও পায়ু মৈথুনও উক্ত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে। [মুক্ত বিশ্বকোষ, বাংলাদেশে সমকামীদের অধিকার]

❑ কেউ যদি জন্মগত ভাবে সম লিঙ্গের দিকে আকর্ষণ অনুভব করে তাহলে তার কী করণীয়?

সৃষ্টিগত ভাবে কারো মধ্যে সমলিঙ্গের দিকে আকর্ষণ থাকলে তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, আল্লাহ তাকে এমনটি করেছেন তার প্রতি পরীক্ষা হিসেবে। যেমন অনেক প্রতিবন্ধী মানবিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কারও চোখ নাই, কারও কথা বলার ক্ষমতা নাই, কেউ বা কানে শুনে না ইত্যাদি। ঠিক তেমনি সেও নারীর প্রতি স্বাভাবিক যৌন আকর্ষণ বোধ থেকে বঞ্চিত।

যাহোক, কোন ব্যক্তি যদি ব্যক্তি সমলিঙ্গের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করে তাহলে এ থেকে বাঁচার জন্য তার জন্য নিম্নে ৮টি করণীয় তুলে ধরা হল:

১) সে আল্লাহর ভয় ও জাহান্নামের শাস্তির কথা চিন্তা করে ধৈর্য ধারণ করবে এবং এ জঘন্য গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করবে। কোনভাবেই সম লিঙ্গের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করবে না। যদি সে ধৈর্য ধারণ করতে পারে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে আখিরাতে মহা পুরস্কারে ভূষিত করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
أُولَـٰئِكَ يُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةً وَسَلَامًا خَالِدِينَ فِيهَا ۚ حَسُنَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا
“তাদেরকে তাদের ধৈর্যের প্রতিদানে জান্নাতে কক্ষ দেয়া হবে এবং তাদেরকে তথায় দেয়া হবে সম্ভাষণ ও সালাম। তথায় তারা চিরকাল বসবাস করবে। অবস্থানস্থল ও বাসস্থান হিসেবে তা কত উত্তম!” (আল ফুরকান: ৭৫ ও ৭৬)

২) সর্বদা আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখবে। মনে রাখা দরকার যে, আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিয়ামতের মাঠে আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে। তখন আমরা যত অন্যায় ও পাপকর্ম করেছি সব কিছুই প্রকাশিত হয়ে যাবে।
আল্লাহ বলেন,
يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“যেদিন প্রকাশ করে দেবে তাদের জিহবা, তাদের হাত ও তাদের পা, যা কিছু তারা করত।” (সূরা নূর: ২৪)

৩) যদি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি মোটেই আকর্ষণবোধ না থাকার কারণে বিয়ে করা সম্ভব না হয় অথচ প্রচণ্ড যৌন বাসনা অনুভব করে তাহলে করণীয় হল, রোজা রাখা। কেননা রোজার মাধ্যমে যৌন বাসনা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

৪) কখনো একাকী নিভৃতে না থাকা। কেননা একাকীত্ব যৌন চিন্তা জাগ্রত করে। বরং যে কোন দীন বা দুনিয়ার উপকারী কাজে সময়কে কাজে লাগাতে চেষ্টা করতে হবে। যেমন: নেক আমল করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, কুরআনে তাফসির পড়া, কুরআন মুখস্থ করা, জিকির করা, নামায পড়া, ইসলামি বই পড়া, ভালো আলেমদের লেকচার শোনা, শিক্ষণীয় ও উপকারী কোন কোর্স করা, জনকল্যাণ মূলক কাজ আঞ্জাম দেয়া, শখের কাজ করা (যদি তা হারাম না হয়) ইত্যাদি।
৫) পাপিষ্ঠ ও খারাপ লোকদের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা। কারণ মানুষ সঙ্গ দোষে অন্যায় ও অশ্লীল পথে পা বাড়ায়।
৬) যৌন উদ্দীপক মুভি, মিউজিক ভিডিও, গান, টিভি শো ইত্যাদি না দেখা এবং অশ্লীল গল্প-উপন্যাস না পড়া।
৭) যৌন বাসনাকে উদ্দীপ্ত করে এমন খাওয়া-দাওয়াও সীমিত করা দরকার। কেননা এসব খাদ্যের প্রভাবে শরীরে যৌন চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
৮) তারপরও মনে খারাপ চিন্তা জাগ্রত হলে তৎক্ষণাৎ শয়তানের প্ররোচনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা তথা আউযুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম পাঠ করা কর্তব্য।
৯) সর্বোপরি মহান আল্লাহর নিকট নিজের সমস্যা থেকে মুক্তি চেয়ে দুআ ও আরাধনা করা।
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সকল প্রকার পাপাচার ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
▬▬▬ ◤◯◥▬▬▬
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

সাত জমিনে সাতজন মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকা বিষয়ে বিভ্রান্তির জবাব

 সাত জমিনে সাতজন আদম, সাতজন নূহ, সাতজন ইবরাহিম, সাতজন ইসা আ. এবং সাতজন মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকা বিষয়ে এক বক্তার বিভ্রান্তির জবাব এবং এ ব্যাপারে ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি:

প্রশ্ন: সাত জমিনে সাতজন আদম, সাতজন নূহ, সাতজন ইবরাহিম, সাতজন ইসা এবং সাতজন মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন”- এ ব্যাপারে ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই।
উত্তর: মূল প্রশ্নের উত্তর জানার আগে আমরা জানব, জমিনের সংখ্যা কয়টি, এ বিষয়ে কুরআনে কী বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মুফাসসিরগণের মতামত কী?

কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত কথা যে, সাত আসমান যেমন থরে থরে সাজানো আছে ঠিক তেমনটি সাত তবক জমিনও থরে থরে সাজানো আছে। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

اللَّهُ الَّذِى خَلَقَ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوٓا أَنَّ اللَّهَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَىْءٍ عِلْمً

“আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আসমান এবং জমিনও অনুরূপ। ওগুলোর মধ্যে নেমে আসে তাঁর নির্দেশ, যাতে তোমরা বুঝতে পার যে, অবশ্যই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং জ্ঞানে আল্লাহ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।” [সূরা তালাক: ১২]

❑ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদগণের বক্তব্য:

◈ ১. তাফসিরে আহসানুল বায়ান-এ বলা হয়েছে:

أَيْ: خَلَقَ مِنَ الأَرْضِ مِثْلَهُنَّ

“অর্থাৎ সাত আসমানের ন্যায় সাত জমিনও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।”

কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন, সাতটি প্রদেশ। তবে এ কথা ঠিক নয়। বরং যেভাবে উপর্যুপরি সাতটি আসমান রয়েছে, অনুরূপ সাতটি জমিনও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও ব্যবধানও আছে এবং প্রত্যেক জমিনে আল্লাহর সৃষ্টি আবাদ রয়েছে। [কুরতুবী]

বহু হাদিস দ্বারা এ কথার সমর্থনও হয়। যেমন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুলুম করে বিঘত পরিমাণ জমিন আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবক জমিনকে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।” [মুসলিম, বাণিজ্য অধ্যায়, জুলুম করা হারাম পরিচ্ছেদ]

সহীহ বুখারির শব্দাবলী হলো,
خُسِفَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِينَ
“কিয়ামতের দিন তাকে সপ্ত জমিনের নীচ পর্যন্ত ধসিয়ে দেওয়া হবে।” [বুখারী, মাযালিম অধ্যায়, জমিন আত্মসাৎ করার পাপ পরিচ্ছেদ]

কেউ কেউ এটাও বলেন যে, প্রত্যেক জমিনে ঐ রকমই পয়গম্বর রয়েছেন, যে রকম পয়গম্বর তোমাদের জমিনে এসেছেন। যেমন: আদমের মত আদম, নুহের মত নুহ, ইবরাহিমের মত ইবরাহিম এবং ইসার মত ইসা (আলাইহিমুস সালাম)। কিন্তু এ কথা কোন সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।

◈ তাফসিরে ফাতহুল মাজিদে উক্ত আয়াতের তাফসিরে বলা হয়েছে,

(وَّمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ)

অর্থাৎ সাত আসমানের মত সাত জমিনও আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি জুলুম করে এক বিঘত পরিমাণ অন্যের জমি দখল করে নেবে তাকে সপ্ত জমিনের গলাবন্ধ পরানো হবে।”[সহীহ বুখারী হা. ২৪৫২]

অন্যত্র এসেছে, “তাকে সাত জমিনের নীচ পর্যন্ত ধসিয়ে দেওয়া হবে।” [আহমদ, হা/ ৫৭৪০]

(يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ)

অর্থাৎ যেভাবে প্রত্যেক আসমানে আল্লাহ তাআলার বিধান কার্যকর ও বলবত আছে অনুরূপ প্রত্যেক জমিনেও তাঁর নির্দেশ চলে। সপ্ত আকাশের মত সপ্ত জমিনের পরিচালনাও তিনিই করেন।

❑ সাত জমিনে সাত জন আদম, সাতজন নূহ, সাতজন ইবরাহিম, সাতজন ইসা আ. এবং সাতজন মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকার বর্ণনাটি সহিহ নয়:

সাত জমিনে সাতজন আদম, সাতজন নূহ, সাতজন ইবরাহিম, সাতজন ইসা আ. এবং সাতজন মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকার পক্ষে ইবনে আব্বাস রা. এর যে বর্ণনাটি পেশ করা হয় তা বিজ্ঞ মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে সহিহ নয় (শায ও ইসরাইলি বর্ণনা)।

বর্ণনাটি হলো, ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন,

سبع أرضين ، في كل أرض نبي كنبيكم ، وآدم كآدم ، ونوح كنوح ، وإبراهيم ، كإبراهيم ، وعيسى كعيسى

“সাত জমিনের প্রতিটি জমিনে তোমাদের নবীর মতই একজন করে নবী, আদমের মত আদম, নূহের মত নুহ, ইবরাহিমের মত ইবরাহিম এবং ইসার মত ইসা আছে।”

◯ মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ আলেমগণের অভিমত নিম্নরূপ:

◆ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন, এ বর্ণনাটি شاذ ‘শায’। [তুহফাতুন নুবালা/৬৫]

◆ ইমাম বায়হাকিও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন,
إسناد هذا عن ابن عباس صحيح وهو شاذ بمرة ، لا أعلم لأبي الضحى عليه متابعا
“ইবনে আব্বাস রা. থেকে উক্ত বর্ণনাটি সহিহ। কিন্তু তা شاذ بمرة “একদম শায।” এবং (সাহাবি থেকে বর্ণনাকারী) আবুয যুহা-এর কোনও متابع (সমর্থনকারী বর্ণনাকারী) আছে বলে জানি না।”

উল্লেখ্য যে, “একাধিক সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) রাবি (বর্ণনাকারী)-এর বিপরীতে একজন সিকাহ রাবির বর্ণনাকে শায বলা হয়।
মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টি শায বর্ণনা জইফ (দুর্বল) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।

◆ আব্দুর রহমান আল মুআল্লিমি বলেন, إسناده ليس صحيحا “এর সনদ সহিহ নয়।” [আল আনোয়ারুল কাশেফাহ/১১৭]

◆ ইবনে কাসির রাহ. বলেন,

إن صح نقله عنه على أنه أخذه ابن عباس رضي الله عنه عن الإسرائيليات

“ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনাটি সহিহ বলে ধরা হলে তিনি তা ইসরাইলি বর্ণনা থেকে নিয়েছেন।” [বিদায়া-নিহায়া ১/১৮] অর্থাৎ এটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোনো হাদিস নয় বরং তা ইবনে আব্বাস রা.-এর বক্তব্য-যা তিনি ইসরাইলি বর্ণনা (আহলে কিতাবদের) থেকে গ্রহণ করেছেন।
আর এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি হল, সহিহ হাদিসের সমর্থন ছাড়া ইসরাইলি বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ এ কথার পক্ষে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনও হাদিস সাব্যস্ত হয়নি।

❑ “সাতটি জমিনের মধ্যে দূরত্ব ৫০০ বছরের রাস্তা” এ মর্মে বর্ণিত হাদিসটি সহিহ নয়:

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

قال: أَتَدْرون ما هذا تحتَكم؟ قلنا: اللهُ ورسولُه أَعلَمُ
قال: أرضٌ، أَتَدْرون ما تحتَها؟ قلنا: اللهُ ورسولُه أَعلَمُ،
قال: أرضٌ أُخرى، أَتَدْرون كم بينَهما؟ قلنا: اللهُ ورسولُه أَعلَمُ،
قال: مَسيرةُ خمسِ مِئةِ عامٍ. حتى عَدَّ سبعَ أرَضينَ، ثمَّ قال: وَايْمُ اللهِ، لو دَلَّيتُم أَحدَكم بحبلٍ إلى الأرضِ السُّفلى السابعةِ؛ لَهَبَطَ. ثمَّ قرَأَ: {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [الحديد: 3].
رواه الترمذي فقال: هذا حديث غريب من هذا الوجه

“রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জানো, তোমাদের নিচে কী আছে?
আমরা বললাম: আল্লাহ ও তার রসুল ভালো জানেন।
তিনি বললেন: জমিন। তোমরা কি জানো, এই জমিনের নিচে কী আছে?
আমরা বললাম: আল্লাহ ও তার রসুল ভালো জানেন।
তিনি বললেন, আরেকটি জমিন। তোমরা কি জানো, এই দুই জমিনের মাঝে দূরত্ব কত?
আমরা বললাম: আল্লাহ ও তার রসূল ভালো জানেন।
তিনি বললেন, ৫০০ বছরের পথ। এভাবে তিনি ৭টি জমিন গণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, সেই মহান সত্তার কসম যার হাতে মোহাম্মাদ-এর প্রাণ। যদি তোমরা একটি রশি নীচে জমিনের দিকে ঝুলিয়ে দাও, তা অবশ্যই আল্লাহর কাছে গিয়ে পৌঁছবে। অতঃপর তিনি কুরআনের এ আয়াতটি পাঠ করলেন,
هُوَ الۡاَوَّلُ وَ الۡاٰخِرُ وَ الظَّاهِرُ وَ الۡبَاطِنُ ۚ وَ هُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ
“তিনি প্রথম, তিনি শেষ, তিনি প্রকাশ্য, তিনি গোপন।” [সূরা আল হাদীদ: ৩]
য’ঈফ: তিরমিযী ৩২৯৮, য’ঈফুল জামি ৬০৯৪, হাসান বাসরী ‘আন দ্বারা হাদীস বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মুদাল্লিস; হিদায়াতুর রুওয়াত ৫/২৫৩, ৫৬৬৭।] ” [তিরমিযী]

◯ হাদিসটি মান: (সহিহ নয় ✘)

মুহাদ্দিসগণের গবেষণায় সনদের মানদণ্ডে উক্ত হাদিসটি সহিহ নয়। নিম্নে এ প্রসঙ্গে জগদ্বিখ্যাত কয়েকজন মুহাদ্দিসের মতামত তুলে ধরা হল:

১. ইবনুল জাওযী উপরোক্ত হাদিস সম্পর্কে বলেন, لا يصح “এ হাদিসটি সহিহ নয়।” [আল ইলালুল মুতানাহিয়া ১/২৭]

২. ইবনে হাজার আসকালানী. বলেন, روي من طرق ولا يصح سنده “এটি একাধিক সনদে বর্ণিত হলেও এর সনদ সহিহ নয়।” [তুহফাতুন নুবালা/৬৩]
৩. ইবনে কাসির বলেন, روي مرسلا وهذا أشبه “এটি মুরসাল (জইফ-এর একটি প্রকার) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ কথাই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।” [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১/১৭]
৪. হায়সামি বলেন, فيه الحكم بن عبد الملك وهو متروك الحديث “এর সনদে আল হাকাম বিন আব্দুল মালিক নামক একজন বর্ণনাকারী আছে। সে মাতরূকুল হাদিস (হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য])” [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১/৯০) অন্যত্র বলেছেন, উক্ত ব্যক্তি জঈফ বা দুর্বল পূর্বোক্ত গ্রন্থ ৭/১২৩]
৫. শুআইব আরনাবুত বলেন: إسناده ضعيف “এর সনদ দুর্বল।” [তাখরিজুল মুসনাদ/ ৮৮২৮]

❑ গল্পবাজ বক্তাদের ব্যাপারে সতর্কীকরণ:

দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, বর্তমানে কিছু তথাকথিত বক্তা নামধারী গল্পবাজদের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে একটা ঈমানি জাগরণ শুরু হয়েছিলে তাতে আবার হতাশার আঁধার নামতে শুরু হয়েছে। এ সব আলতু-ফালতু ওয়াজ শুনে মানুষ আজ বিরক্ত ও হতাশ। মানুষকে চমকপ্রদ তথ্য দেওয়ার চিন্তা থেকে এভাবে খুঁজে খুঁজে জাল-জঈফ ও অদ্ভুত ইসরাইলি বর্ণনা উপস্থাপনের মাধ্যমে যদি সাধারণ মানুষের সামনে ওয়াজ করা হয় তাহলে জাতির ইমানের বারোটা বাজতে সময় লাগবে না। তাই এদের ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। তারা এ পথ থেকে ফিরে না আসলে তাদেরকে বয়কট করা সময়ের দাবী।
আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতার জন্য বক্তার মধ্যে কী কী গুণ থাকা আবশ্যক

 ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতার জন্য বক্তার মধ্যে কী কী গুণ-বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক?

(বক্তা, শ্রোতা এবং মাহফিলের আয়োজক সকলের জানা জরুরি)
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
ওয়াজ মাহফিলে বক্তা নির্বাচন ও বক্তৃতার ক্ষেত্রে আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা খুবই শোচনীয়। এ ক্ষেত্রে চলছে চরম দুরাবস্থা ও ভয়াবহ শরিয়ত বহির্ভূত কার্যক্রম। তাই এ ব্যাপারে সর্বস্তরের মুসলিমদের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে।
কারণ আমাদের অজানা নয় যে, বর্তমান সময়ে কারও চাপার জোর, সুললিত কণ্ঠ, হাসানো, কাঁদানো, কৌতুক, ড্যান্স, অভিনয়, গান-গজল, ইত্যাদি দ্বারা মাহফিল জমানোর মত কৌশল, উস্কানি ও হুংকার মার্কা কথাবার্তা দিয়ে সাধারণ জনগণকে উত্তেজিত করার মত যোগ্যতা থাকলেই তিনি বিশাল বক্তা ও আন্তর্জাতিক মুফাসসিরে কুরআনে পরিণত হন। অনুরূপভাবে সার্টিফিকেট, পদবী, সুন্দর চেহারা, ইংরেজি বলার দক্ষতা থাকলে তিনি বিশাল আল্লামা!
মাহফিলগুলোতে বিদেশ থেকে আগত, রেডিও-টিভির ভাষ্যকার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ২৬ ইঞ্চি বক্তা, শিশু বক্তা, নারী থেকে পুরুষের রূপান্তরিত হওয়া বক্তা, নওমুসলিম বক্তা ইত্যাদি নানা অদ্ভুত উপাধি ও বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত বক্তার চাহিদা তুঙ্গে। যেন এগুলোই বক্তা নির্বাচনের মানদণ্ড! কিন্তু প্রকৃত পক্ষে বক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এগুলো আদৌ শরয়ী মানদণ্ডের মধ্যে পড়ে না।

যার কারণে বিশাল বিশাল ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে, সেগুলোতে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হচ্ছে, এ উপলক্ষে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা চলছে, এলাকার যুবকদের মাঝে মাহফিল নিয়ে অনেক উত্তেজনা কাজ করে, মাহফিল উপলক্ষে এলাকায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, এগুলো অধিকাংশই সামাজিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক রুটিন ওয়ার্ক এবং অর্থ কালেকশনের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ওয়াজ মাহফিল থেকে মানুষ প্রত্যাশিত উপকার লাভ করে না, সেগুলো থেকে হেদায়েতের আলো বিচ্ছুরিত হয় না এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সঠিক দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য পাওয়া যায় না।

এর কারণ অধিকাংশ ওয়াজ মাহফিল আয়োজন কারীদের নিয়ত ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সঠিক নয়। ফলে তারা বক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরয়ী মানদণ্ড বিচার না করে মাহফিল জমানো ও আকর্ষণ সৃষ্টি করার মত বক্তা অনুসন্ধান করে। ফলশ্রুতিতে একশ্রেণীর তথাকথিত বাজারি ও পেশাদার বক্তা আরও দ্বিগুণ উৎসাহে মানুষকে কিভাবে আকর্ষণ করে স্টেজ মাতানো যায় সেই চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে—যা খুবই দুর্ভাগ্য জনক এবং শরয়ী দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য।

যাহোক, নিম্নে আমরা ইসলামি আইন বিষয়ক বিশ্বকোষ ‘আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা’ থেকে ওয়ায়েজ বা ধর্মীয় বক্তার মধ্যে কী কী শর্তাবলী এবং শিষ্টাচার থাকা কর্তব্য সেগুলো উপস্থাপন করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তওফিক দানকারী:

❑ ওয়াজ কারী বা বক্তার জন্য কয়েকটি শর্ত (অত্যাবশ্যকীয় বিষয়) রয়েছে। যথা:

◈ এক. শরিয়তের বিধিবিধান আবশ্যিকভাবে অর্পিত হওয়ার মত উপযুক্ত হওয়া অর্থাৎ তিনি সুস্থ বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হবেন।
◈ দুই. ন্যায়-নীতি ও আদর্শবান হওয়া।
◈ তিন. মুহাদ্দিস হওয়া। অর্থাৎ তিনি হাদিস শাস্ত্রের সাথে গভীর সম্পর্ক রাখবেন, হাদিস পাঠ করবেন, হাদিসের শব্দাবলীর অর্থ বুঝবেন এবং তার শুদ্ধতা-অশুদ্ধতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখবেন-যদিও তা কোনও বড় মুহাদ্দিস অথবা কোনও ফিকহবিদের গবেষণালব্ধ তথ্যাদির ভিত্তিতে হয়।

◈ চার. মুফাসসির হওয়া। অর্থাৎ তিনি কুরআনের দুর্বোধ্য ও কঠিন শব্দাবলীর অর্থ জানবেন এবং (বাহ্যত) সমস্যাপূর্ণ বিষয়গুলোর সঠিক সমাধান জানবেন এবং সে সম্পর্কে পূর্বসূরি তাফসির কারকদের থেকে বর্ণিত তাফসির সম্পর্কে জ্ঞান রাখবেন।
– পাশাপাশি তার জন্য এমন বাগ্মী ও সুভাষী হওয়া উত্তম যে, তিনি মানুষের ধারণ ক্ষমতার বাইরে কথা বলবেন না। সেই সাথে তিনি হবেন নম্র, ভদ্র ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন।
– তিনি দীনের বিষয়গুলোকে মানুষের সামনে সহজভাবে উপস্থাপন করবেন; জটিলতা সৃষ্টি করবে না। [আবজাদুল উলুম ২/৫৩৬-প্রকাশনী: দারুল কুতুবুল ইলমিয়া]

❑ বক্তার কতিপয় শিষ্টাচার:

ওয়ায়েজ (বক্তা), আলেম এবং শিক্ষকের অন্যতম শিষ্টাচার হল, তিনি এমন সব কথাবার্তা, কার্যক্রম ও আচার-আচরণ পরিত্যাগ করবেন যা বাহ্যত ভুল মনে হয়- যদিও তিনি এ ক্ষেত্রে নির্ভুল হন। কারণ তিনি এমনটি করার কারণে (সাধারণ মানুষের মাঝে) বিভিন্ন সমস্যা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। যেমন:

❂ কারও মধ্যে এমন বিষয় জানা গেলে অনেকেই ধারণা করে বসবে যে, এটা সর্বাবস্থায় জায়েজ। ফলে তা শরিয়তের বিধান বা আমল যোগ্য বিষয়ে পরিণত হবে- যে বিশেষ পরিস্থিতিতে তা করা হয়েছিলো তার মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকবে না।
❂ বক্তা যদি নাজায়েজ কর্মে জড়িত হয় তাহলে মানুষ তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে, তার সমালোচনা করবে এবং তার থেকে দূরে সরে যাবে।
❂ মানুষ তার ব্যাপারে খারাপ ধারণা করে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে এবং মানুষকেও তার ব্যাপারে সাবধান করবে যেন তার থেকে কেউ ইলম গ্রহণ না করে।
❂ তার সাক্ষ্য ও বর্ণনা অগ্রহণযোগ্য হবে। তার দেওয়া ফতোয়ার আমল প্রত্যাখ্যাত হবে এবং তার ইলমি কথা-বার্তার ব্যাপারে মানুষের মন থেকে আস্থা চলে যাবে ইত্যাদি।

❑ ওয়াজ মাহফিলে বক্তার নিজের জন্য অর্থ কালেকশন করা নাজায়েজ:

ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে এসেছে, “বক্তার জন্য ওয়াজ মাহফিলে মানুষের কাছে কোনও কিছু চাওয়া জায়েজ নাই। কারণ তা ইলমের মাধ্যমে দুনিয়া উপার্জন।” [ফাতাওয়া হিন্দিয়াহ ৫/৩১৯’
[উৎস: আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যা বা কুয়েতি ফিকাহ বিশ্বকোষ, ৪৪/৮১-৮৩,অনলাইন ভার্সন-সংক্ষেপায়িত]
আল্লাহ তাআলা যেন, আমাদেরকে সবচেয়ে সঠিক ও সুন্দর পদ্ধতিতে আল্লাহর দীনের আহ্বানকে গণ মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়ার তাওফিক দান করেন আর আমরা যে সব হেদায়েতের কথা মানুষকে বলবো তা যেন কর্মে বাস্তবায়ন করতে পারি রাব্বুল আলামিনের নিকট সেই তাওফিক কামনা করি। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর ফরজ গোসলের পূর্বে কি স্ত্রী সহবাস করা বৈধ

 প্রশ্ন: হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর ফরজ গোসলের পূর্বে কি স্ত্রী সহবাস করা বৈধ?

উত্তর: কোন ঈমানদার ব্যক্তির জন্য হায়েজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর গোসলের মাধ্যমে পূর্ণ পবিত্র হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হওয়া বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّـهُ ۚ
“আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতুস্রাব) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। সুতরাং তোমরা হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না (স্ত্রী সহবাস করবে না) যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়। অত:পর যখন উত্তম রূপে পবিত্রতা অর্জন করবে তখন তাদের কাছে গমন কর যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন।” [সূরা বাকারা: ২২২]
আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন না করা পর্যন্ত স্ত্রীগমনে নিষেধ করেছেন। আর ঋতুবতি মহিলার হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর সে ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ পবিত্র হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে।

▪️ইবনে কুদামা রহ. বলেন,

فإن انقطع دمها فلا توطأ حتى تغتسل، وجملته أن وطء الحائض قبل الغسل حرام وإن انقطع دمها في قول أهل العلم. قال ابن المنذر وهذا كالإجماع منهم
“রক্ত বন্ধ হলে গোসল করা পর্যন্ত সহবাস করো না। মোটকথা,‌ আলেমদের মতে গোসলের আগে ঋতুমতী নারীর সাথে সহবাস করা হারাম যদিও তার রক্ত বন্ধ হয়ে যায়। ইবনুল মুনজের বলেন, এটি যেন ইজমা বা সর্বসম্মত মত।” [আল মুগুনী]

– ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ আল মারওয়াযি বলেন,
لا أعلم في هذا خلافا
“এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত আছে বলে জানি না।” [Islamweb]

▪️ শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায রহ.-এর ফতোয়া:
السوال: وطء الحائض إذا طهرت قبل الاغتسال؟
الجواب:
لا ما يجوز فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ [البقرة: 222] حتى تطهر فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ [البقرة: 222].
س: والحالة هذه يلزمها الكفارة؟
الشيخ: إذا وطأها قبل الغسل نعم

প্রশ্ন: ঋতুমতি নারী পবিত্র হলে গোসলের পূর্বে কি তার সাথে সহবাস করা জায়েজ?
উত্তর: না, পবিত্রতা অর্জন করা পর্যন্ত তা জায়েজ নয়।
فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ
“পবিত্রতা অর্জন করলে স্ত্রী গমন কর।” [সূরা বাকারা: ২২২]
فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّـهُ
“অত:পর যখন উত্তম রূপে পবিত্রতা অর্জন করবে তখন তাদের কাছে গমন কর-যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন।” [সূরা বাকারা: ২২২]

– প্রশ্ন: এ অবস্থায় যদি কেউ স্ত্রী সহবাস করে তাহলে কি কাফফারা দেওয়া আবশ্যক?
উত্তর: হ্যাঁ, গোসলের পূর্বে যদি স্ত্রী সহবাস করে তাহলে (কাফফারা দেওয়া আবশ্যক)। [Binbaz] সুতরাং কেউ যদি অজ্ঞতা বশত: এমনটি করে তাহলে এ বিষয়ে জানার পর তার জন্য করণীয় হল, আল্লাহর নিকট তওবা-ইস্তিগফার করা এবং ভবিষ্যতে আর এমনটি না করা। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

ওয়াজ মাহফিলে বিদআতি বক্তাকে দাওয়াত দেওয়া ও তার ওয়াজ শোনা এবং অনুপযুক্ত বক্তাকে বাধা দেওয়া

 ❑ ক. কোনও বিদআতি বক্তাকে কি বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো জায়েজ আছে যদি সে বিদআতের দিকে আহ্বান না করে?

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য এবং বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ আল্লামা ডক্টর শাইখ সালেহ আল ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ) কে প্রশ্ন করা হয়, কিছু মানুষ আছে যারা দাওয়াতি প্রোগ্রাম ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বলে, কোনও বিদআতি বক্তাকে আমন্ত্রণ করতে কোনও সমস্যা নেই যদি সে বক্তৃতায় বিদআতের দিকে আহ্বান না করে। এ বিষয়টা কি সঠিক?

উত্তরে তিনি বলেন, না, এটা ঠিক নয়। তুমি যদি কোনও বিদআতি বক্তাকে আমন্ত্রণ করো এবং সে বক্তৃতা দেয় তাহলে লোকেরা তার বিদআতকে গ্রহণ করবে। বলবে, এতে কোন সমস্যা নেই এবং তারা তাকে অনুসরণ করবে। না, এটি জায়েজ নয়।” [শাইখের অডিও প্রশ্নোত্তর থেকে নেয়া, ইউটিউব চ্যানেল: ডা. আল্লামা সালেহ আল ফাউযান]

❑ খ. বিদআতি বক্তাদের ওয়াজ বা বক্তৃতা শোনা জায়েজ নাই:

যদি জানা যায়, ওয়াজ মাহফিলে কোনও বিদআতি বক্তা/আলোচক আলোচনা করবে তাহলে তাতে কোন সাধারণ মুসলিমের অংশগ্রহণ করা জায়েজ নেই। কারণ অনেক বিদআতি বক্তা আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে সুরেলা কণ্ঠে বাকপটুতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অন্তরে শিরক, বিদআত, উদ্ভট ও ভ্রান্ত কথাবার্তা এবং বিষাক্ত আকিদা ঢেলে দেয়। কিন্তু তারা দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ ও অসচেতন মানুষেরা সে সব ভ্রান্ত কথাবার্তা ও বিষাক্ত আকিদা অন্তরে ধারণ করে অবশেষে পথভ্রষ্ট হয়। (আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমিন।)
তবে কোনও বিজ্ঞ আলেম যদি বিদআতিদের বক্তব্য শোনে এ উদ্দেশ্যে যে, সে তার বিদআতের প্রতিবাদ করবে এবং তার উত্থাপিত সংশয় ও ভ্রান্ত দলিলের খণ্ডন করবে তাহলে তাতে কোনও সমস্যা নেই।

❑ গ. ওয়াজের জন্য অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে বাধা দেওয়া:

আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যা বা কুয়েতি ফিকাহ বিশ্বকোষে বলা হয়েছে, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, “যে ব্যক্তি ওয়াজের উপযুক্ত নয় অথবা মিথ্যা বলে তাকে বক্তৃতা থেকে বাধা দিতে হবে। কারণ এ আশঙ্কা মুক্ত নয় যে, মানুষ তার অপব্যাখ্যা ও উল্টাপাল্টা বক্তব্য দ্বারা প্রতারিত হবে।” [রাওযাতুত তালেবিন ১০/২১৮, আল মাকতাবুল ইসলামিয়া-শরিয়ী শিষ্টাচার ১/৮৯]

আরও বলা হয়েছে, “বিদআতির মাহফিলে উপস্থিত হওয়া বৈধ নয়। তবে তার প্রতিবাদ করা উদ্দেশ্য থাকলে ভিন্ন কথা। হয় বক্তাকে বাধা দিবে অথবা তার আশপাশের কিছু লোকজনকে নিষেধ করবে যদি শক্তি থাকে। শক্তি না থাকলে ঐ মাহফিলে উপস্থিত হওয়া জায়েজ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

“যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না হয়, যদি শয়তান আপনাকে ভুলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন করবেন না।” [সূরা আনআম: ৬৮]
[উৎস: আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যাহ বা কুয়েতি ফিকাহ বিশ্বকোষ, ৪৪/৮৩, অনলাইন ভার্সন]। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate