Thursday, November 9, 2023

সহবাসের দুআ

 প্রশ্ন: সহবাস করার শুরুতে, মাঝে ও শেষে কী কী দুআ পাঠ করতে হয়?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: স্বামী-স্ত্রী সহবাসের পূর্বের দুআ সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন: ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ তার স্ত্রী সহবাস করতে চায় সে যেন বলে,
” ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺟَﻨِّﺒْﻨَﺎ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ، ﻭَﺟَﻨِّﺐْ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻣَﺎ ﺭَﺯَﻗْﺘَﻨَﺎ ”
(বিসমিল্লাহ্‌। আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ও জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।)
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ, আমাদেরকে শয়তান হতে বাঁচান এবং আমাদেরকে যদি কোন সন্তান দেন তাকেও শয়তান হতে বাঁচান।” তাহলে এ মিলনে তাদের ভাগ্যে যদি কোন সন্তান হয় তবে শয়তান কখনো তার ক্ষতি করতে পারবে না।” [বুখারি হা/ ৬৩৮৮ ও মুসলিম হা/ ১৪৩৪]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, “তাহলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না এবং তার উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারবে না।” [সহীহ বুখারী (ইফা), অধ্যায়: ৪৯/ সৃষ্টির সূচনা, পরিচ্ছেদ: ১৯৯৩. ইবলিশ ও তার বাহিনীর বর্ণনা] কিন্তু সহবাসের মাঝে বা সহবাসের পর বিশেষ কোনও দুআ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনও দুআ নিয়ম করে পাঠ করা যাবে না। হ্যাঁ, কেউ যদি সহবাসের পর সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহর কাছে নিজের মত করে দুআ করে, আল্লাহর কাছে সন্তান চায় তাহলে তাতে কোনও আপত্তি নাই। তবে নির্দিষ্ট কোনও দুআ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পড়া যাবে না। অন্যথায় তা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে। কেননা তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস বা সাহাবিদের আমল দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। কেউ কেউ সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে সহবাসে বীর্যপাতের সময় অথবা সহবাসের পরে স্ত্রী পেটে হাত রেখে নির্দিষ্ট দুআ পড়ার কথা বলে। যেমন: বীর্যপাতের সময় নিম্নোক্ত দুআ পাঠের কথা বলা হয়:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي جَعَلَ مِنَ الْمَاءِ بَشَرًا
“সেই আল্লাহর সকল প্রশংসা যিনি পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন।” মূলত: সূরা ফুরকানের ৫৫ নাম্বার আয়াতকে কিছুটা বিকৃত করে এ দুআটি বানানো হয়েছে। কিন্তু কুরআন-সুন্নায় স্ত্রী মিলনকালে বীর্যপাতের সময় এই দুআ পাঠ করার কথা কোথাও বর্ণিত হয়নি। অনুরূপভাবে সহবাসের পরে স্ত্রীর পেটে হাত রেখে বিশেষ কোনও দুআ পাঠের ব্যাপারেও কোনও নির্দেশনা আসেনি। সুতরাং তা অবশ্যই বর্জনীয়। অন্যথায় তা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

মায়ের একটি সুখের হাসি‌ আর একটি কষ্টের নিঃশ্বাস

 “মায়ের একটি সুখের হাসি‌ আটটি বেহেস্তের সমান আর একটি কষ্টের নিঃশ্বাস সাতটি দোজখের চেয়েও ভয়ংকর” একটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট হাদিস:

প্রশ্ন: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মায়ের একটি সুখের হাসি আটটি বেহেস্তের সমান আর কষ্টের একটি নিঃশ্বাস সাতটি দোজখের চেয়েও ভয়ংকর।” এটি কি সহিহ হাদিস?

▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: এটি কোনো হাদিস নয় বরং ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা। অর্থাৎ এটি হাদিসের নামে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরে মিথ্যাচার। এটি কোন বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থে তো দূরের কথা, বানোয়াট হাদিস সংকলন গ্রন্থগুলোতেও উল্লেখিত হয়নি। বরং তা সোশ্যাল মিডিয়ার বকধার্মিক মূর্খ আবেগীদের তৈরি করা হাদিস বলেই প্রতীয়মান হয়। (আল্লাহ তাআলা এদের অনিষ্ট থেকে মুসলিমদেরকে হেফাজত করুন। আমিন) সুতরাং এই জাতীয় হাদিস প্রচার-প্রসার করা বা বর্ণনা করা জায়েজ নেই। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তা করলে তার পরিণতি হবে জাহান্নামের আগুন। এ ব্যাপারে হাদিসে সতর্ক বার্তা উচ্চারিত হয়েছে।

তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি, বই-পুস্তক রচনা, ওয়াজ মাহফিল, খুতবার মিম্বর ইত্যাদিতে হাদিস প্রচার বা বর্ণনার ক্ষেত্রে হাদিসের মান যাচাই করা এবং এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। ‌আমিন।
যাহোক, বাবা-মাকে খুশি রাখা এবং তাদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে পর্যাপ্ত আয়াত এবং বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে‌। সেগুলোই যথেষ্ট।
▪️উল্লেখ্য যে, জান্নাত আটটি এবং জাহান্নাম সাতটি নয়। বরং জান্নাত একটি কিন্তু তার দরজা আটটি। এ ব্যাপারে বহু সহিহ হাদিস রয়েছে। আর জাহান্নাম একটি কিন্তু তার দরজা সাতটি। এ বিষয়ে দেখুন, সূরা হিজর-এর ৪৪ নম্বর আয়াত। আল্লাহু আলম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Saturday, October 28, 2023

আল্লাহ তুমি অপরুপ

 আল্লাহ তুমি অপরুপ

না জানি কতো সুন্দর-২
তোমায় আমি সপেছি প্রান
সপেছি এই অন্তর
আল্লাহ তুমি অপরুপ
না জানি কতো সুন্দর
তোমায় আমি সপেছি প্রান
সপেছি এই অন্তর
আল্লাহ তুমি অপরুপ

তোমার আলো ছড়িয়ে পড়ে
সুন্দর এই পৃথিবীতে
চাঁদ সুরুজ জেগে উঠে
তোমার ডাকে সাড়া দিতে -২

তুমি আছো বুকের গভীর
গহিন ভিতর
আল্লাহ তুমি অপরুপ
না জানি কতো সুন্দর
তোমায় আমি সপেছি প্রান
সপেছি এই অন্তর
আল্লাহ তুমি অপরুপ

এই দুনিয়ার মালিক তুমি
তুমি মেহেরবান
বৃক্ষলতা সাগর নদী
সবই তোমার দান -২

তোমার পথে চলি যেনো
সারাটি জীবন ভর
(আল্লাহ তুমি অপরুপ
না জানি কতো সুন্দর
তোমায় আমি সপেছি প্রান
সপেছি এই অন্তর

জানিনা কত সুন্দর তুমি আল্লাহ

👉 জানিনা কত সুন্দর তুমি আল্লাহ

দুনিয়া সুন্দর, মানুষ সুন্দর
আসমান সুন্দর, জমিন সুন্দর
সুন্দরে সুন্দরে পাল্লা
জানিনা কত সুন্দর তুমি আল্লাহ


ঝরণা ছুটে চলে এঁকেবেঁকে
পৃথিবীর পটে কত ছবি এঁকে
নদীর কলতানে
সাগরের গর্জনে
ঢেউয়ে ঢেউয়ে দেয় পাল্লা
জানিনা কত সুন্দর তুমি আল্লাহ


বাগানে ফুটে ফুল রাশি রাশি
রাতেরই তারা ভরা চাঁদের হাসি
গুণগুণ গানে ডেকে
মৌমাছি মধু চাকে
ফুলে ফুলে করে হল্লা
জানিনা কত সুন্দর তুমি আল্লাহ


দখিনা বাতাস গায়ে পরশ বুলে
টানটানে পাল তুলে নৌকা চলে
তোমারি নামে মনে
ভাটিয়ালি সুরের তানে
দাঁড় টেনে যায় মাঝি মাল্লা
জানিনা কত সুন্দর তুমি আল্লাহ

আমি কোরানের সুর মাঝে শুনেছি যে নাম

 আমি কোরানের সুর মাঝে শুনেছি যে নাম

আমি কোরানের সুর মাঝে শুনেছি যে নাম
আজানের সুর মাঝেও শুনেছি সে নাম।
ও নাম শুনেছি আমি, আমার হৃদয়
হে রাসুল, নবীজি তোমায়
হে রাসুল, নবীজি তোমায়।
👇
ও নামে এত জাদু, এত মধুময়
ও নাম নিয়েই ফুল সুরভী ছড়ায়,
ও নামের সুর তুলে শুধু আমি চাই
হে রাসুল, নবীজি তোমায়
হে রাসুল, নবীজি তোমায়।
👇
আরশের বুকে লেখা ও মধুর নাম
তামাম মানবকুল জানায় সালাম,
ব্যাথিত মানবতা খুজেঁ ফেরে হায়
হে রাসুল, নবীজি তোমায়
হে রাসুল, নবীজি তোমায়।

আমি কোরানের সুর মাঝে শুনেছি যে নাম
আজানের সুর মাঝেও শুনেছি সে নাম।
ও নাম শুনেছি আমি, আমার হৃদয়
হে রাসুল, নবীজি তোমায়
হে রাসুল, নবীজি তোমায়।

Translate