Saturday, June 3, 2023

জান্নাত বাসীগণ জাহান্নাম বাসীদেরকে দেখতে পাবে এবং তাদের মাঝে কথোপকথন হবে

 কুরআনের বহু আয়াত, হাদিস এবং মুফাসসিরদের বক্তব্য থেকে প্রমাণিত যে, জান্নাত বাসীগণ জাহান্নাম বাসীদেরকে দেখতে পাবে এবং তাদের মধ্যে কথোপকথন হবে।

নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষপে কুরআনের একটি চিত্র উপস্থাপন করা হল:

◈ জাহান্নাম বাসীরা জান্নাত বাসীদের কাছে আর্তনাদ করবে একটু পানি ও খাবারের জন্য। কিন্তু তারা জবাবে বলবে যে, আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম বাসীদের জন্য তা হারাম করে দিয়েছেন। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَنَادَىٰ أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ ۚ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ
“আর জাহান্নামিরা জান্নাতিদেরকে ডেকে বলবে, আমাদের উপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুজি দিয়েছেন তা থেকেই কিছু দাও।” “তারা (জান্নাত বাসীগণ) বলবে, আল্লাহ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছেন।” [সূরা আরাফ: ৫০]

◈ জান্নাত বাসীগণ জাহান্নাম বাসীদের ভয়ানক আজাব দেখে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে যে, আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করেছেন। আর জাহান্নাম বাসীরা জান্নাত বাসীদের সুখ ও আনন্দ দেখে শুধুই আফসোস করবে এবং পুনরায় দুনিয়াতে ফিরে এসে ঈমানদার হওয়ার প্রত্যাশা করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ -‏ قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ- يَقُولُ أَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ ‎- أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَدِينُونَ – قَالَ هَلْ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ – فَاطَّلَعَ فَرَآهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ – قَالَ تَاللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ -‏ وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ -‏ أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ ‎-إِلَّا مَوْتَتَنَا الْأُولَىٰ وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ ‎- إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ‎-‏ لِمِثْلِ هَٰذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُونَ
অতঃপর তারা (জান্নাত বাসীগণ) একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তাদের একজন বলবে, আমার এক সঙ্গী ছিল। সে বলত, তুমি কি বিশ্বাস কর যে, আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফল প্রাপ্ত হব?
আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে উকি দিয়ে দেখতে চাও? অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে। সে বলবে, আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে। আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ না হলে আমিও যে গ্রেফতারকৃতদের সাথেই উপস্থিত হতাম। এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না। আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা শাস্তি প্রাপ্তও হব না। নিশ্চয় এই মহা সাফল্য। এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।” [সূরা সাফফাত: ৫০/৬১]

◈ জাহান্নাম বাসীদের আফসোস:
আল্লাহ বলেন,
فَقَالُوا يَا لَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
“তারা (জাহান্নাম বাসীরা) বলবে, কতই না ভাল হত, যদি আমরা পুনরায় দুনিয়ায় প্রেরিত হতাম; তা হলে আমরা আমাদের পালনকর্তার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।” [সূরা আনআম: ২৭]

◈ দুনিয়াতে যেসব পাপিষ্ঠ মুমিনদেরকে নিয়ে নানা উপহাস, তিরস্কার ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করত এবং নানাভাবে নির্যাতন করতো তারা জাহান্নামের আগুনে যখন পুড়বে তা দেখে ইমানদারদের চক্ষু শীতল হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ أَصْحَابَ النَّارِ أَن قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدتُّم مَّا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا ۖ قَالُوا نَعَمْ ۚ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌ بَيْنَهُمْ أَن لَّعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ ‎-‏ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُم بِالْآخِرَةِ كَافِرُونَ-‏ وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ ۚ
“জান্নাতিরা জাহান্নাম বাসীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি। কিন্তু তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবে, হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবে, “আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর। যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত। তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল। উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে।” [সূরা আরাফ: ৪৪, ৪৫ ও ৪৬]
ইবনে আব্বাস রা. বলেন,
السور بين أهل الجنة والنار ، فيفتح لأهل الجنة أبواب ، فينظرون وهم على السُّرر إلى أهل النار كيف يعذّبون ، فيضحكون منهم ، ويكون ذلك مما أقرّ الله به أعينهم ، كيف ينتقم الله منهم ” .
“تفسير الطبري” (24 / 304) .
“জান্নাত বাসী ও জাহান্নাম বাসীদের মাঝে প্রাচীর থাকবে। জান্নাত বাসীদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ফলে তারা খাট-পালঙ্কের উপরে উপবেশন গত অবস্থায় জাহান্নাম বাসীদেরকে দেখবে কীভাবে তাদেরকে আজাব দেওয়া হচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে তারা হাসাহাসি করবে। মহান আল্লাহ কীভাবে তাদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছেন, তা দেখানোর মাধ্যমে তিনি তাদের চক্ষু শীতল করবেন।” [তাফসিরে ত্ববারি-২৪/৩০৪]

❑ কারা সেই জাহান্নামের অধিবাসী জালেম সম্প্রদায়?
আল্লাহ তাআলা এদের সম্পর্কে বলছেন,
الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَهْوًا وَلَعِبًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا ۚ فَالْيَوْمَ نَنسَاهُمْ كَمَا نَسُوا لِقَاءَ يَوْمِهِمْ هَـٰذَا وَمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ
“তারা তাদের দীনকে তামাশা ও খেলনার বস্তু বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোঁকায় ফেলে রেখেছিল (অর্থাৎ দুনিয়ার জীবন নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকত যে তারা আখিরাতের কথা বেমালুম ভুলে থাকত) অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।” [সূরা আরাফ: ৫১]
যাদের কাছে দীন-ধর্ম হল, হাসি-তামাশা বা খেলনার বস্তু কিংবা যাদের কাছে, টাকা-পয়সা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক স্ট্যাটাস, পড়া-শোনা, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ, স্ত্রী-সন্তান তথা এই দুনিয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ-যারা এ সবের ধোঁকায় পড়ে আখিরাতকে ভুলে বসেছে উপরের আয়াতগুলোতে তাদের পরিণতি বর্ণিত হয়েছে। হে ক্ষমাশীল, করুণার আধার, তুমি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। আর আমাদেরকে সর্বদা পরিচালিত কর তোমার সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর। নিশ্চয় তুমি দুআ কবুল কারী। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

খালা মায়ের সমতুল্য এবং খালার হক ও এ সংক্রান্ত জরুরি জ্ঞাতব্য বিষয়

 প্রশ্ন: হাদিসে এসেছে, “খালা মায়ের সমতুল্য।” এর ব্যাখ্যা জানতে চাই।▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: ইসলামের দৃষ্টিতে খালা, মায়ের সমতুল্য আর চাচা, বাবার সমতুল্য। এ বিষয়ে একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে।
খালা মায়ের সমতুল্য-সংক্রান্ত একটি হাদিস:
◈ আলি রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন,
الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الْأُمِّ -صححه الألباني في “صحيح أبي داود
“খালা মায়ের মর্যাদার।” [শাইখ আলবানি এটিকে সহিহ বলেছেন। দ্রষ্টব্য: সহিহ আবু দাউদ]
এর অর্থের ব্যাপারে ইমাম যাহাবি বলেন,
“أي : في البر والإكرام والصلة” انتهى
“অর্থাৎ সদাচরণ, সম্মান এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে মা খালার সমতুল্য।”

◈ এই অর্থটি প্রকাশিত হয় অপর একটি হাদিস থেকে। তা হল:

عَنْ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَصَبْتُ ذَنْبًا عَظِيمًا فَهَلْ لِي تَوْبَةٌ؟ قَالَ: (هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ؟) قَالَ: لَا، قَالَ: (هَلْ لَكَ مِنْ خَالَةٍ؟) قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: (فَبِرَّهَا).
وصححه الألباني في “صحيح الترغيب” (2504)
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এসে বললেন, ‌ হে আল্লাহর রাসূল, আমি অনেক বড় একটি পাপ করে ফেলেছি। আমার কি তওবার সুযোগ আছে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কি মা আছে? লোকটি বলল, না। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি খালা আছে? লোকটি বললো, হ্যাঁ। তিনি তাকে বললেন, তাহলে তার সাথে সদাচরণ করো।” (অর্থাৎ মায়ের মত খালার খেদমত ও সেবা-শুশ্রূষা করো, তাকে সম্মান করো, তাকে সাহায্য সহযোগিতা কর এবং বিভিন্নভাবে তাকে খুশি রাখার চেষ্টা করো ইত্যাদি) [তিরমিজি, সহিহ তারগিব/২৫০৪]

এ হাদিস দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, খালার প্রতি ইহসান সুলভ আচরণ করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল এবং গুনাহ মোচনের মাধ্যম।

◈ উম্মুল মুমিনিন মা-জননী আয়েশা রা. এর কোন সন্তান ছিল না। কিন্তু তিনি তার বোন আসমা রা. এর ছেলে আব্দুল্লাহ (বিন জুবায়ের)-এর দিকে সম্বন্ধ করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উম্মে আব্দুল্লাহ বা আব্দুল্লাহর মা নামে নিজের কুনিয়ত (উপনাম) রাখার অনুরোধ করায় তিনি তা করেছিলেন। তাই তাকে উম্মে আব্দুল্লাহ (আব্দুল্লাহর মা) বলে সম্বোধন করা হতো।
وروى أبو داود (4970) عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كُلُّ صَوَاحِبِي لَهُنَّ كُنًى، قَالَ: (فَاكْتَنِي بِابْنِكِ عَبْدِ اللَّهِ) يَعْنِي ابْن اخْتُهَا ، فَكَانَتْ تُكَنَّى بِأُمِّ عَبْدِ اللَّهِ
[সুনানে আবু দাউদ/৪৯৭০]
এতেও বুঝা যায়, খালা মায়ের সমতুল্য। আলহামদুলিল্লাহ।

🔹এ বিষয়ে কতিপয় জরুরি জ্ঞাতব্য:

✪ ১. সম্মান, মর্যাদা ও সদাচরণের ক্ষেত্রে খালা মায়ের সমতুল্য হলেও মায়ের জীবদ্দশায় মা বেশি অগ্রাধিকার যোগ্য।
✪ ২. মা মারা যাওয়ার পর খালাদেরকে সম্মান করা, তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া, তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা, তাদের সেবা-শুশ্রূষা করা, যথাসাধ্য তাদের অভাব মোচন করা ও কষ্ট দূর করা, তাদেরকে মাঝেমাধ্যে উপহার দেওয়া, তাদের জন্য দুআ করা, সর্বোপরি সর্বদা সুখে-দুখে তাদের পাশে থাকা মায়ের সাথে সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত। কারণ খালা হল, মায়ের সব থেকে বেশি ঘনিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত।
✪ ৩. মায়ের মত খালাদেরকে কষ্ট দেওয়াও হারাম।
✪ ৪. খালার প্রতি ইহসান সুলভ আচরণ করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল এবং গুনাহ মোচনের মাধ্যম।
✪ ৫. খালার সন্তান-সন্ততিগণ (খালাতো ভাই-বোনেরা) নন মাহারাম। অর্থাৎ তাদের সাথে বিবাহ বৈধ। অতএব তাদের সামনে পর্দা করা ফরজ।
✪ ৬. অনুরূপভাবে খালুও নন মহরাম। অতএব মহিলার জন্য তার সামনেও পর্দা করা ফরজ। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

মানুষকে শয়তান বা ইবলিশ বলার বিধান

 প্রশ্ন: অনেকে ছোট বাচ্চা দুষ্টুমি করলে তাকে বলে, শয়তানি কেন করছ? আবার অনেক সময় একজন আরেকজনকে শয়তান বা ইবলিশ বলে সম্বোধন করে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা কি ঠিক?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: শয়তানি করা মানে, দুর্বৃত্ততা, দুষ্টামি করা, ক্ষতি করা ইত্যাদি। কোন মানুষ যখন কারো সাথে দুর্বৃত্ততাপনা করে বা দুষ্টমি করে বা করো ক্ষতি সাধন করে তখন শয়তানি করা কথাটি বলা হয়। কিংবা এর অর্থ, শয়তানের কাজ করা বা শয়তানের মত কাজ করা।
تَشَيْطَنَ الوَلَدُ : قَامَ بِعَمَلِ الشَّيْطَانِ
সুতরাং এসব ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহার করায় কোন দোষ নেই ইনশাআল্লাহ।
কেননা এখানে কাজটিকে শয়তানের কাজ বা দুর্বৃত্তপনা বলা হচ্ছে; ব্যক্তিকে নয়।
🔹 কোন ব্যক্তিকে কি শয়তান বা ইবলিশ বলা যাবে কি? শয়তান হল, কাফের, আল্লাহর দুশমন। তার প্রকৃত নাম হলো ইবলিশ।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই বিতাড়িত ইবলিশ শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম” (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) বলার মাধ্যমে শয়তান থেকে মহান রবের কাছে আশ্রয় চাই।

সুতরাং কোন ইমানদারকে উদ্দেশ্য করে শয়তান বা ইবলিশ শব্দ ব্যবহার করা জায়েজ নাই।
তাছাড়া এটি নিকৃষ্ট গালাগালির শব্দ। আর মুসলিম কখনো নোংরা চরিত্রের গালিবাজ হতে পারে না।
– হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আনাস ইবনে মালিক রা. হতে বর্ণিত।তিনি বলেন,
لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاحِشًا وَلاَ لَعَّانًا وَلاَ سَبَّابًا
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশালীন, লানতকারী (অভিসম্পাত কারী) ও গালিবাজ ছিলেন না।” [সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), অধ্যায়: ৭৮/ আচার-ব্যবহার, পরিচ্ছেদ: ৭৮/৪৪. গালি ও অভিশাপ দেয়া নিষিদ্ধ]
– অন্য হাদিসে এসেছে,
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ
“মুসলিমকে গালি দেওয়া গুনাহের কাজ এবং তার সাথে মারামারি করা কুফুরি।” [সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), অধ্যায়: ১। ঈমান, পরিচ্ছেদ: ২৮. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: “মুসলিমদেরকে গালি-গালাজ করা গুনাহের কাজ এবং তাদের সাথে মারামারি করা কুফরি।”]

– আল্লামা শাইখ সালেহ আল ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ) কে প্রশ্ন করা হয় যে, কখনো কখনো কিছু মানুষ অন্যকে উদ্দেশ্য করে মজার ছলে বলে থাকে ‘অমুক শয়তান’ বা ‘অমুক ইবলিশ’। এর বিধান কী?
তিনি বলেন,
هذا ما يجوز -هذا من الشتم والسب, أن يقال: فلان شيطان, فلان إبليس, او ما أشبه ذلك كلمات قبيحة لا يجوز, لا يجوز أن يقال: فلان فاسق, يا فاسق يا عدو الله فكيف يقال: فلان شيطان, أو فلان إبليس..للأسف! والعياذ بالله
“এটা জায়েজ নয়। ‘অমুক শয়তান, অমুক ইবলিশ’ বা এই জাতীয় শব্দগুলো কুৎসিত গালাগালির অন্তর্ভুক্ত। যা জায়েজ নয়। যেখানে কাউকে উদ্দেশ্য করে, অমুক ফাসেক, বা হে ফাসেক, হে‌ আল্লাহর দুশমন বলা জায়েজ নাই সেখানে কীভাবে “অমুক‌‌ শয়তান বা অমুক ইবলিশ” বলা জায়েজ হতে পারে? দুঃখজনক।আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।”
[শাইখের অডিও প্রশ্নোত্তর থেকে অনূদিত]
মোটকথা, একজন আদর্শবান মুসলিম কখনোই অশ্লীল শব্দ ও কটু বাক্য মুখ দিয়ে উচ্চারণ করবে না। মজার ছলে হলেও। এটি উত্তম চরিত্রের পরিপন্থী। তাছাড়া, আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, মানুষ মুখ দিয়ে যা কিছু উচ্চারণ করুক না কেন আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত অতন্দ্র প্রহরী লেখক ফেরেশতা সাথে সাথে তা তার আমলনামায় লিখে নেন।
সুতরাং ঝগড়াঝাটি হোক কিংবা মজার ছলে হোক কোন অবস্থাতেই গালাগালি করা বা কোন মুসলিমকে উদ্দেশ্য করে ইবলিশ, শয়তান ইত্যাদি বলা জায়েজ নেই। আল্লাহ তৌফিক দান করুন আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত এবং মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত কোনটি সঠিক

 প্রশ্ন: মানুষকে বলতে শোনা যায় যে, “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত”। আবার এটাও শোনা যায় যে, “স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত।” এ দুটি কথার মধ্যে মূলত: কোন হাদিসটি সঠিক দয়া করে জানাবেন।▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর:
💠 “স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত” এ কথাটা কোন হাদিস নয়। বরং বানোয়াট কথা। কিন্তু হাদিস হিসেবে আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছেে!! তবে স্ত্রীর কাছে স্বামীর সম্মানের কথা হাদিসে এভাবে উল্লিখিত হয়েছে,
لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِغَيْرِ اللهِ لأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَالَّذِى
نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ تُؤَدِّى الْمَرْأَةُ حَقَّ رَبِّهَا حَتَّى تُؤَدِّىَ حَقَّ زَوْجِهَا وَلَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِىَ عَلَى قَتَبٍ لَمْ تَمْنَعْهُ
“যদি আমি কাউকে নির্দেশ দিতাম আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে সিজদা করার, তাহ’লে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করার জন্য।” [ইবনে মাজাহ, হা/১৮৫৩; সহীহাহ, হা/১২০৩।]

– স্বামী জান্নাত অথবা জাহান্নাম:

হুসাইন বিন মিহসানের এক ফুফু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কোন প্রয়োজনে এলেন এবং তা পূরণ হয়ে গেলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
– তোমার কি স্বামী আছে?
সে বলল, জী, হ্যাঁ।
– তিনি বললেন, তার কাছে তোমার অবস্থান কী?
সে বলল, ’যথাসাধ্য আমি তার সেবা করি।’
– তিনি বললেন, ’’খেয়াল করো, তার কাছে তোমার অবস্থান কোথায়। যেহেতু সে তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।”

عَنِ الْحُصَيْنِ بْنِ مِحْصَنٍ أَنَّ عَمَّةً لَهُ أَتَتْ النَّبِيَّ ﷺ فِي حَاجَةٍ فَفَرَغَتْ مِنْ حَاجَتِهَا فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ ﷺ أَذَاتُ زَوْجٍ أَنْتِ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ كَيْفَ أَنْتِ لَهُ قَالَتْ مَا آلُوهُ إِلَّا مَا عَجَزْتُ عَنْهُ قَالَ فَانْظُرِي أَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ فَإِنَّمَا هُوَ جَنَّتُكِ وَنَارُكِ
[আহমদ, ১৯০০৩, নাসাঈ, হাকেম, বাইহাকি-সহিহ]

💠 “মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত” হুবহু এ শব্দে বর্ণিত হাদিসটি খুব দুর্বল মতান্তরে বানোয়াট। কিন্তু তার অর্থটি সঠিক-যেমনটি বর্ণিত হয়েছে নিম্নোক্ত হাদিস সমূহে:

🔰 মুআবিয়া ইবনে জাহিমা রা. হতে বর্ণিত। একদা আমার পিতা জাহিমা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললেন,

يَا رَسُولَ اللهِ أَرَدْتُ الْغَزْوَ وَجِئْتُكَ أَسْتَشِيْرُكَ فَقَالَ هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ الْزَمْهَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ عِنْدَ رِجْلِهَا

‘হে আল্লাহর রাসূল, আমি জিহাদে যেতে ইচ্ছুক। আমি আপনার নিকট পরামর্শ নিতে এসেছি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা আছে কি? লোকটি বললেন, হ্যাঁ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি তার পদযুগল জড়িয়ে থাকো (অর্থাৎ তার সেবা করো), কেননা তাঁর পায়ের নিকটেই জান্নাত রয়েছে।” [আহমদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৯৩৯; সহীহুল জামে‘ হা/১২৪৯, সহীহু তারগীব ওয়াত তারহীব।]
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
فالزَمها فإنَّ الجنَّةَ تحتَ رِجلَيها
“তুমি তার পদযুগল জড়িয়ে থাকো (অর্থাৎ তার সেবা করো), কেননা তাঁর পায়ের নিচেই জান্নাত রয়েছে।” [সহিহ নাসাঈ, হা/৩১০৪]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহিমা রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
أَلكَ والِدَانِ . قُلْتُ : نَعَمْ . قال : الزَمْهُما ، فإنَّ الجنةَ تَحْتَ أَرْجُلِهما
“তোমার কি পিতামাতা আছে?”
আমি বললাম, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, “তুমি তাদেরকে আঁকড়িয়ে থাকো। কারণ জান্নাত রয়েছে, তাদের পায়ের নিচে।” [সহিহ তারগিব, হাসান সহিহ, ২৪২৫]
এ বর্ণনায় পাওয়া গেলো, পিতামাতা উভয়ের পায়ের নিচেই জান্নাত রয়েছে।
🔰 আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমতে হাজির হয়ে বললেন,
يَا رَسُولَ اللهِ مَا حَقُّ الْوَالِدَيْنِ عَلَى وَلَدِهِمَا قَالَ هُمَا جَنَّتُكَ وَنَارُكَ
“হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সন্তানের উপর পিতামাতার কি হক? তিনি বললেন, “তারা উভয় তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম’। [ইবনে মাজাহ, মিশকাত হা/৪৭২৪।] অর্থাৎ মায়ের সেবা করা জান্নাতে যাওয়ার একটি মাধ্যম।

❌ ‘মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত’ মর্মে নিন্মোক্ত শব্দে বর্ণিত দুটি হাদিস সহিহ নয়। যথা:
((الجنة تحت أقدام الأمهات)). وفي لفظ: ((الجنة تحت أقدام الأمهات، مَنْ شِئن أدخلن، ومَن شِئن أخرجن!))
ক. “বেহেশত রয়েছে মায়েদের পদতলে।”
খ. অন্য শব্দে “বেহেশত রয়েছে মায়েদের পদতলে। যাকে খুশি তারা জান্নাতে প্রবেশ করাবে আর যাকে খুশি বের করবে।”
এই শব্দে বর্ণিত হাদিস দুটি মুহাদ্দিসদের মতানুসারে জঈফ (দুর্বল) আর কারো মতে মউযু (বানোয়াট)। তবে ‘মায়ের পায়ের নিকট জান্নাত’ এর মর্মার্থটি পূর্বোল্লিখিত হাদিসদ্বয়ের আলোক সহিহ। আল্লাহু আলাম
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Wednesday, April 12, 2023

ফিতরা

 প্রশ্ন: ফিতরা কাকে বলে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কী দ্বারা এবং কী পরিমাণ ফিতরা দেওয়া হত?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: ফিতরাকে শরিয়তে ‘যাকাতুল ফিতর এবং সাদাকাতুল ফিতর’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ ফিতরের যাকাত বা ফিতরের সদকা। ফিতর বা ফাতূর বলা হয় সেই আহারকে যা দ্বারা রোযাদার রোযা ভঙ্গ করে। [আল মুজাম আল ওয়াসীত/৬৯৪]
আর যাকাতুল ফিতর বলা হয় ঐ জরুরী দানকে যা, রোযাদারেরা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অভাবীদের দিয়ে থাকে। [প্রাগুক্ত]
যেহেতু দীর্ঘ দিন রোযা অর্থাৎ পানাহার থেকে বিরত থাকার পর ইফতার বা আহার শুরু করা হয় সে কারণে এটাকে ফিতরের তথা আাহারের যাকাত বলা হয়। [ ফাতহুল বারী ৩/৪৬৩]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কি দ্বারা এবং কি পরিমাণ ফিতরা দেওয়া হত?

বুখারী শরীফে ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহর রাসূল যাকাতুল ফিতর স্বরূপ এক সা খেজুর কিংবা এক সা যব ফরয করেছেন মুসলিম দাস ও স্বাধীন, পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড়র প্রতি। আর তা লোকদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বে আদায় করে দিতে আদেশ করেছেন’’। [বুখারী, অধ্যায়: যাকাত হাদিস নম্বর, ১৫০৩/ মুসলিম নং ২২৭৫]
উক্ত হাদিসে দুটি খাদ্য দ্রব্যের নাম পাওয়া গেল যা, দ্বারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে ফিতরা দেওয়া হত। একটি হচ্ছে, খেজুর অপরটি জব। এবার নিম্নে আর একটি হাদিস পাঠ করুন।
আবু সাঈদ খুদরীরা. বলেন, “আমরা-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে যাকাতুল ফিতর বের করতাম এক সা খাদ্য দ্রব্য কিংবা এক সা যব কিংবা এক সা খেজুর কিংবা এক সা পনীর কিংবা এক সা কিশমিশ।” [বুখারি- ১৫০৬ মুসলিম-২২৮১]
এই হাদিসে খেজুর ও জব ছাড়া আরও যে কয়েকটি বস্তুর নাম পাওয়া গেল তা হল: কিশমিশ, পনীর এবং খাদ্য দ্রব্য। উল্লেখ থাকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বিগত হওয়ার পরে মুআবিয়া রা.- এর খেলাফতে অনেকে গম দ্বারাও ফিতরাদিতেন। [বুখারী- ১৫০৮ ও মুসলিম-২২৮১ ]
প্রমাণিত হল যে, নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে যে সব দ্রব্যাদি দ্বারা ফিতরা দেওয়া হয়েছিল তা হল, খেজুর, জব, কিশমিশ, পনীর এবং খাদ্য দ্রব্য। এবং এটাও প্রমাণিত হল যে ফিতরার পরিমাণ ছিল এক সা’। যদি নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাদ্য দ্রব্য শব্দটি না বলতেন তো আমাদের প্রতি খেজুর, জব, কিশমিশ এবং পনীর দ্বারাই ফিতরা দেওয়া নির্ধারিত হত। কিন্তু আমাদের প্রতি আল্লাহর রহমত দেখুন এবং ইসলামের বিশ্বজনীনতা লক্ষ্য করুন যে খাদ্য দ্রব্য শব্দটি উল্লেখ হয়েছে বলেই উপরোল্লিখিত দ্রব্যাদি যাদের খাবার নয় তারাও নিজ খাবার দ্বারা ফিতরাআদায় করতে পারবেন। আর এখান থেকেই প্রশ্ন আসে যে, ধান দ্বারা ফিতরা দিতে হবে না চাল দ্বারা? দুটিই কি খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
লেখক: আব্দুর রাকীব (মাদানি)
দাঈ, দাওয়াহ সেন্টার খাফজী, সউদী আরব।
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল। দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate