প্রশ্ন: অনেকে ছোট বাচ্চা দুষ্টুমি করলে তাকে বলে, শয়তানি কেন করছ? আবার অনেক সময় একজন আরেকজনকে শয়তান বা ইবলিশ বলে সম্বোধন করে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা কি ঠিক?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
Saturday, June 3, 2023
মানুষকে শয়তান বা ইবলিশ বলার বিধান
স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত এবং মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত কোনটি সঠিক
প্রশ্ন: মানুষকে বলতে শোনা যায় যে, “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত”। আবার এটাও শোনা যায় যে, “স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত।” এ দুটি কথার মধ্যে মূলত: কোন হাদিসটি সঠিক দয়া করে জানাবেন।▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
– স্বামী জান্নাত অথবা জাহান্নাম:
💠 “মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত” হুবহু এ শব্দে বর্ণিত হাদিসটি খুব দুর্বল মতান্তরে বানোয়াট। কিন্তু তার অর্থটি সঠিক-যেমনটি বর্ণিত হয়েছে নিম্নোক্ত হাদিস সমূহে:
🔰 মুআবিয়া ইবনে জাহিমা রা. হতে বর্ণিত। একদা আমার পিতা জাহিমা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললেন,
يَا رَسُولَ اللهِ أَرَدْتُ الْغَزْوَ وَجِئْتُكَ أَسْتَشِيْرُكَ فَقَالَ هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ الْزَمْهَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ عِنْدَ رِجْلِهَا
Wednesday, April 12, 2023
ফিতরা
প্রশ্ন: ফিতরা কাকে বলে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কী দ্বারা এবং কী পরিমাণ ফিতরা দেওয়া হত?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কি দ্বারা এবং কি পরিমাণ ফিতরা দেওয়া হত?
Monday, March 27, 2023
একই নামায দুইবার পড়া যায় কি?
একই নামায দুইবার পড়া নিষিদ্ধ। মহানবী (সাঃ) বলেন, “একই নামাযকে একই দিনে দুইবার পড়ো না।” (আবূদাঊদ, সুনান ৫৭৯নং)
একদা তিনি এক সাহাবীকে ফজরের পরে নামায পড়তে দেখে বললেন, “এটি আবার কোন্ নামায? (ফজরের নামায কি দুইবার?)” (আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান ১২৬৭, তিরমিযী, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান ১১৫৪, ইবনে খুযাইমাহ্, সহীহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ)
কিন্তু যদি কেউ কোন অসুবিধার কারণে বাসায় নামায পড়ে নিয়ে মসজিদে এসে দেখে যে, তখনও জামাআত চলছে, তাহলে জামাআতের ফযীলত পাওয়ার আশায়, এক জামাআতে (মসজিদে) নামায পড়ার পর দ্বিতীয় জামাআতে (মসজিদে) কোন কাজের খাতিরে গিয়ে জামাআত চলছে দেখলে অধিক সওয়াবের আশায়, ইমাম অত্যন্ত দেরী করে নামায পড়লে আওয়াল অক্তে নামায পড়ে নেওয়ার পর পুনরায় ঐ ইমামের জামাআতে এবং এ সকল ক্ষেত্রে নফলের নিয়তে ও বেনামাযী বা জামাআত ত্যাগী হওয়ার অপবাদ অপনোদন করার উদ্দেশ্যে একই নামায দ্বিতীয়বার পড়া উত্তম। অনুরুপ কোন সাধারণ মসজিদের ইমাম শ্রেষ্ঠতর মসজিদে (মাহাত্মপূর্ণ ৪ মসজিদের কোন একটিতে) নামায পড়ার পর নিজের মসজিদে ইমামতি করার জন্য, অথবা একাকী নামাযীকে জামাআতের সওয়াব অর্জন করাবার উদ্দেশ্যেও পড়ে নেওয়া নামায নফলের নিয়তে পুনরায় পড়া যায়।
একদা মসজিদে খাইফে তিনি ফজরের নামাযে সালাম ফিরে দেখলেন, মসজিদের এক প্রান্তে দুই ব্যক্তি জামাআতে নামায পড়েনি। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল, ‘আমরা আমাদের বাসায় নামায পড়ে নিয়েছি।’ তিনি বললেন, “এমনটি আর করো না। বরং যখন তোমাদের কেউ নিজ বাসায় নামায পড়ে নেয়, অতঃপর (মসজিদে এসে) দেখে যে, ইমাম নামায পড়ে নি, তখন সে যেন (দ্বিতীয়বার) তাঁর সাথে নামায পড়ে। আর এ নামায তার জন্য নফল হবে।” (আবূদাঊদ, সুনান ৫৭৫, তিরমিযী, সুনান ২১৯, নাসাঈ, সুনান, মিশকাত ১১৫২, জামে ৬৬৭নং)
সাহাবী মিহ্জান (রাঃ) এক মজলিসে আল্লাহর রসূল (সাঃ)-এর সাথে বসেছিলেন। ইতিমধ্যে আযান (ইকামত) হলে আল্লাহর রসূল (সাঃ) উঠে গেলেন। তিনি নামায পড়ে এসে দেখলেন, মিহ্জান তাঁর সেই মজলিসেই বসে আছেন। আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাঁকে বললেন, “লোকেদের সাথে নামায পড়তে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি মুসলিম নও?” মিহ্জান বললেন, ‘অবশ্যই, হে আল্লাহর রসূল! তবে আমি আমার ঘরে নামায পড়ে নিয়েছি।’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাঁকে বললেন, “তুমি নামায পড়ার পর যখন মসজিদে আস এবং নামাযের জামাআত শুরু হয়, তখন তুমিও লোকেদের সাথে নামায পড়ে নাও; যদিও তুমি পূর্বে সে নামায পড়ে নিয়ে থাক।” (মালেক, মুঅত্তা, নাসাঈ, সুনান, মিশকাত, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ১৩৩৭নং)
একদা মহানবী (সাঃ) আবূ যার (রাঃ)-কে বললেন, “তোমার অবস্থা কি হবে, যখন এমন এমন আমীর হবে, যারা নামায মেরে ফেলবে অথবা যথাসময় থেকে দেরী করে পড়বে?” আবূ যার (রাঃ) বললেন, ‘আপনি আমাকে কি আদেশ করেন?’ তিনি বললেন, “তুমি যথাসময়ে নামায পড়ে নাও। অতঃপর যদি সেই নামায তাদের সাথে পাও, তাহলে তা আবার পড়ে নাও; এটা তোমার জন্য নফল হবে।” (মুসলিম, আবূদাঊদ, সুনান, মিশকাত ৬০০নং)
মুআয বিন জাবাল (রাঃ) মহানবী (সাঃ) এর সাথে তাঁর মসজিদে (নববীতে) নামায পড়তেন। অতঃপর নিজ গোত্রে ফিরে এসে ঐ নামাযেরই ইমামতি করতেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১১৫০ নং)
মহানবী (সাঃ) একদা এক ব্যক্তিকে একাকী নামায পড়তে দেখলে তিনি অন্যান্য সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বললেন, “এমন কেউ কি নেই, যে এর সাথে নামায পড়ে একে (জামাআতের সওয়াব) দান করে?” এ কথা শুনে এক ব্যক্তি উঠে তার সাথে নামায পড়ল। (আবূদাঊদ, সুনান ৫৭৪, তিরমিযী, সুনান, মিশকাত ১১৪৬ নং) অথচ সে মহানবী (সাঃ) এর সাথে ঐ নামায পূর্বে পড়েছিল।
দুটি নামাযের মধ্যে কোন্ নামাযটি নফল হবে সে বিষয়ে হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, ‘উভয় নামাযের মধ্যে কোন্টি আমার (ফরয) নামায গণ্য করব?’ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘এ এখতিয়ার কি তোমার আছে? এ এখতিয়ার আছে একমাত্র আল্লাহ আয্যা জাল্লারই। তিনি উভয়ের মধ্যে যেটিকে ইচ্ছা ফরয রুপে গণ্য করবেন।’ (মালেক, মুঅত্তা, মিশকাত ১১৫৬নং) অবশ্য পূর্বোক্ত অনেক বর্ণনায় স্পষ্ট আছে যে, শেষের নামাযটাই নফল গণ্য হবে।
ইসলাম/ঈমান বিনষ্টকারী বিষয় সমুহ
লেখক: মুহাম্মদ আব্দুর রব্ব আফ্ফান
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয় দশটি:
১। আল্লাহর ইবাদতে কোন কিছুকে শরীক করা:
২। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর মাঝে অন্যদেরকে মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে ও তাদের কাছে প্রার্থনা জানায়, তাদের নিকট সুপারিশ কামনা করে এবং তাদের উপর ভরসা করে, সে আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফের।
৩। মুশরিকদেরকে অমুসলিম ও কাফের বলে বিশ্বাস না করা বা তাদের কুফরীতে সন্দেহ পোষণ করা অথবা তাদের ধর্মমতকে সঠিক বলে মন্তব্য করা।
৪। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত ত্বরীকার চেয়ে অন্য ত্বরীকা কে পরিপূর্ণ বলে বিশ্বাস করা অথবা নবীর আনীত বিধান থেকে অন্য বিধানই উত্তম বলে মনে করা। এরূপ আকীদা পোষন কারী ব্যক্তি শরীয়তের দৃষ্টিতে কাফের বলে বিবেচিত। যেমন কোন ব্যক্তি তাঁর আনীত বিধানের উপর তাগুতের (মানব রচিত) বিধানকে অগ্রাধিকার দিল, এবং কোরআন হাদীসের সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে বৈধ জ্ঞানকরে মানব রচিত বিধানে বিচার শাসন করল।
৫। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত কোন বিধানের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা যদিও উক্ত বিধানের উপর আমল করা হয়। যদি কোন মুসলিম এরূপ করে তাহলে সে শরীয়তের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাফের বলে বিবেচিত হবে।
“এটি এ জন্য যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তারা তা অপছন্দ করে, সুতরাং আল্লাহ তাদের কর্মসমূহকে নিষ্ফল করে দেবেন”। সূরা মুহাম্মাদ: ৯
৬। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত কোন সামান্য বিষয় অথবা এর সওয়াব প্রতিদান বা শাস্তির বিধানের প্রতি কোনরূপ ঠাট্টা বিদ্রুপ করা কুফরী।
“বল! তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রুপ করছিলে? তোমরা আর অজুহাত দাড় করো না, তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরী করেছ।” সূরা আত-তাওবা: ৬৫-৬৬
৭। যাদু করা ও যাদুর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া, সুতরাং যে যাদু করল অথবা যাদুর প্রতি সন্তুষ্ট থাকল সে কুফরী করল।
“তারা কাউকে (যাদু) শিক্ষা দিত না এ কথা না বলে যে, আমরা পরীক্ষা স্বরূপ; সুতরাং তুমি কুফরী কর না।” সূরা আল-বাকারা : ১০২
৮। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাবত: অমুসলিম তথা ইহুদি, খ্রিস্টান বা মুশরিক প্রমূখদের সাহায্য করা।
“তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন হবে, নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না”। সূরা আল-মায়িদাহ: ৫১
৯। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, কিছু লোক আছেন যাদের জন্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত থেকে বের হয়ে যাওয়ার অনুমতি আছে। এরূপ বিশ্বাস পোষন কারী ব্যক্তি শরীয়তের বিবেচনায় কাফের বলে বিবেচিত হবে।
“কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন বা ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনও কবুল হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত”। সূরা আলে ইমরান: ৮৫
১০। আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীন, ইসলামকে উপেক্ষা করে চলা। এর বিধি বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল না করা।
“যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী দ্বারা উপদিষ্ট হয়ে তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে অপেক্ষা অধিক যালিম আর কে? আমি অবশ্যই অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে থাকি”। সূরা আস সিজদা: ২২
উল্লেখিত ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয় সমূহে স্বেচ্ছায় জড়িত হওয়া আর ঠাট্টা-বিদ্রুপ কিংবা ভয়ভীতির করণে জড়িত হওয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অবশ্য কেহ জোরপূর্বক বাধ্য করলে অন্য কথা। ক্ষতির দিক থেকে আলোচিত কারণগুলোর প্রত্যেকটিই খুবই ভয়াবহ ও মারাত্মক। আর বিষয়গুলো অনেক মুসলিমের জীবনে অহ-রহ সংঘটিত হয়ে থাকে। অতএব প্রতিটি মুসলমানের উচিত এ বিষয়গুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখা ও সতর্ক থাকা।