প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় কিছু মহিলা প্রতি সপ্তাহে একটি খেলা খেলে। খেলাটি হল, ধরুন দশ জন মহিলা ১০০ টাকা করে জমা দিবে। তাহলে সপ্তাহে জমা হবে, ১০০০ টাকা। এই টাকাটা প্রতি সপ্তাহে লটারির মাধ্যমে একজন মহিলা পাবে। অর্থাৎ যার নাম উঠবে সে পাবে। এভাবে প্রতি সপ্তাহে একজন করে মহিলা কমবে। এই লটারির দায়িত্বটা একজনের কাছে থাকবে। সে প্রত্যেকের নাম আলাদা আলাদা কাগজে মুড়িয়ে লটারি করবে। যে এ দায়িত্ব পালন করবে তাকে কিছু (৩০/৪০) টাকা দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হল, এই খেলাটি কি জায়েজ আছে? হাদিসে তো লটারি নিষেধ আছে। এটা কি সে পর্যায়ে যাবে?
Wednesday, February 22, 2023
যার নাম টান সমিতি: ইসলামি বিধান
স্ত্রী, পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের সাথে সুন্দর আচরণ এবং একটি প্রসিদ্ধ হাদিসের ভুল অর্থ ও ব্যাখ্যা
নিম্নোক্ত হাদিসটি আমাদের সমাজে যথেষ্ট পরিচিত: প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
উপরোক্ত হাদিসটি আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিচিত। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের কাছে তার ভুল অর্থ প্রচলিত। আর তা হল, উক্ত হাদিসকে কেবল স্ত্রীর সাথে খাস করা। অর্থাৎ এভাবে অর্থ করা যে, “তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ওই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো…।” (অধিকাংশ অনুবাদক এমনটি অর্থ করেছেন) কিন্তু তা সঠিক নয়। বরং ‘আহল’ শব্দের সঠিক অর্থ হলো, ‘পরিবার’ (শুধু স্ত্রী নয়)। আর স্ত্রী, মা-বাবা, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বোন ইত্যাদি সকলেই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। কিছু আলেমের মতে, রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজন বা নিকটাত্মীয়গণও এর মধ্যে শামিল।
🔸নিম্নে উক্ত হাদিসের ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যা পেশ করা হলো:
◾তিনি আরো বলেন,
ومن فوائد هذا الحديث: أنه ينبغي للإنسان أن يقتدي برسول الله صلى الله عليه وسلم في هذا، بحيث يكون مع أهله لينًا هيّنا أليفا لا يبعد عنهم ولا يطيل البعد
“এই হাদিসের অন্যতম একটি শিক্ষা হলো, একজন ব্যক্তির উচিত, আল্লাহর রসূলের আদর্শ অনুসরণ করা, যাতে সে তার পরিবারের সাথে নম্র, সহজ-সরল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারেন। যে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে না বা দীর্ঘ সময় দূরে থাকবে না।” [শারহে বুলুগুল মারাম-alathar]
মোটকথা, আমাদের সুন্দরতম আচার-আচরণ তথা হাসিমুখে কথা বলা, বদান্যতা, মানুষের অশোভন আচরণে ধৈর্য ধারণ করা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া ইত্যাদি উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচার-আচরণের যত বিষয় রয়েছে সেগুলোর সবচেয়ে বেশি হকদার নিজের স্ত্রী, মা-বাবা, সন্তান-সন্ততি এবং বিশেষ করে রক্ত সম্পর্কীয় বা নিকটাত্মীয়গণ। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, আমাদের সমাজে দেখা যায় তার উল্টো চিত্র। অনেক মানুষ বাইরের লোকদের সাথে খুবই নম্র, ভদ্র, সভ্য ও শালিন আচরণ করে কিন্তু নিজের স্ত্রী-পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের সাথে তার সম্পর্ক ও আচরণ খুব নিম্ন পর্যায়ের। এমনটি হওয়া উচিত নয়। বরং হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানুষ তারাই যারা তাদের স্ত্রী, পরিবার, সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুন্দরতম আচরণ করে। আর সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সে ব্যক্তি যার আচার-আচরণ সবচেয়ে সুন্দর এবং এই সুন্দর আচরণের অধিকারীরাই কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্নিকটে অবস্থান করবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, মা, বাবা, ভাই, বোন রক্তের সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়, সর্বোপরি সকল মানুষের সাথে সুন্দরতম আচরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সচেতনতা মূলক পোস্ট: তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া-ঝাটি করা পথভ্রষ্টতার কারণ
বর্তমানে মুসলমানদের মাঝে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও মতভেদ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ভয়ানক আক্রমণাত্মক ভাষায় আঘাত করছে। চলছে গালাগালি আর হিংসার উদগীড়ন। একে অপরকে কুরুচিপূর্ণ শব্দ প্রয়োগে ধোলাই করছেন। সব চেয়ে ভাবনার বিষয় হচ্ছে, একেবারে সাধারণ মানুষও ইলম ছাড়াই আলেমদের সাথে বিতর্ক জড়িয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে তারা ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি কোনভাবেই মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণকর নয়। বরং তা গোমরাহির আলামত ও ভ্রষ্টতার পূর্বাভাষ। তাই আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া (তাও শর্ত সাপেক্ষ) নিজেদের মাঝে বিতর্ক পরিহার করা প্রয়োজন।
নাস্তিকের জন্য বদদুআ করার বিধান
প্রশ্ন: একজন নাস্তিক আল্লাহর রাসূল সহ অনেক মুসলিমকে গালাগালি দিচ্ছে এবং নানাভাবে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। এতে আমিও কষ্ট পাচ্ছি। আমি কি তার জন্য বদদুআ করতে পারবো?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরুদ্ধাচারণ বা তাকে কটুক্তি করা নতুন কোন বিষয় নয়। তাঁর জীবদ্দশায় তাকে কাফের-মুশরিক ও মুনাফিকদের পক্ষ থেকে এ সবের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর তাতে মুসলিমগণ কষ্টপাবেন তা স্বাভাবিক। এটি ঈমানের আলামত। সাধারণভাবে কাফের-মুশরিক, নাস্তিক ও ফাসেক লোকদের প্রতি বদদুআ বা লানতের দুআ করা যাবে। এটি ওলামাদের সর্বসম্মত মত। তবে ব্যক্তি বিশেষকে নির্দিষ্ট করে লানত করা বা তার জন্য বদদুআ যাবে কি না তা দ্বিমতপূর্ণ। সঠিক কথা হল, ব্যক্তি বিশেষকে নির্দিষ্ট করে বদদুআ করা যাবে না। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নির্দিষ্ট কতিপয় ব্যক্তির নাম ধরে ধরে লানত করেছিলেন তখন কুরআনে আয়াত নাজিলের মাধ্যমে তাকে নিষেধ করা হয়েছে এই আয়াত দ্বারা:
لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ
বাবা-মা যদি ভুল ধারণার উপরে ভিত্তি করে বা অন্যায় ভাবে সন্তানের উপর বদদুআ করেন তাহলে কি সন্তান এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে
প্রশ্ন: অনিচ্ছা বশত আমার দ্বারা একটি ভুল কাজ ঘটে গেছে। কিন্তু আম্মা মনে করেছেন, আমি ইচ্ছাকৃত ভাবে এ কাজ করেছি। যার কারণে তিনি আমাকে বদদুআ করেন এবং বলেন, যেন আমার আশায় ছাই পড়ে। এখন আমি কি তার বদদুআর শিকার হব এবং দুআ করলেও আমার কোনও আশা পূরণ হবে না?
▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬