প্রশ্ন: সালাতের মাকরূহ কাজগুলো কী কী? এতে কি সালাত ভঙ্গ হয়ে যায়?
Thursday, June 16, 2022
সালাতের মাকরূহ বা অপছন্দীয় কাজ সমূহ
খিটখিটে মেজাজ সমাধানে কিছু পরামর্শ
প্রশ্ন: আমার মেজাজ সব সময় অনেক খিটখিটে হয়ে থাকে। সব সময় কেমন জানি রাগ উঠেই থাকে। আমি অনেক চেষ্টা করি তবুও কন্ট্রোল করতে পারি না। মেজাজ খারাপ হয়ে থাকে সব সময়। আমি কী করলে আমার খিটখিটে মেজাজ ভালো হবে? প্লিজ দয়া করে উত্তর টা দিবেন।
যদি শারীরিক রোগ-ব্যাধির কারণে এমনটি ঘটে তাহলে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আর যদি কোন কারণে অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনুভব করেন বা মানসিক অশান্তিতে থাকেন তাহলে তা চিহ্নিত করে তা থেকে মুক্তি লাভের উপায় খুঁজতে হবে। বিশেষ কোনও সমস্যা থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এবং মানসিক প্রশান্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
❑ খিটখিটে মেজাজ মুহূর্তেই ভালো করবে চার খাবার:
◍ চকলেট:
চকলেটে ফিনাইলিথ্যালাইমিনের বেশ কয়েকটি কার্যকর মিশ্রণ রয়েছে যা এন্ডোরফিন এবং আনন্ডামাইডকে বাড়ায়। চকলেট সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণা দেখায় যে, এটি মেজাজ এবং জ্ঞানকে উন্নত করতে পারে, পাশাপাশি এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের একটি সমৃদ্ধ উৎস।
◍ বাদাম:
আখরোট, চিনা বাদাম, পেস্তা, কিসমিসের আশ্চর্যজনক পুষ্টিমান রয়েছে। এগুলো অবশ্যই আপনার খাবারের তালিকায় যুক্ত করা উচিত। এগুলো ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে পূর্ণ সুপার হেলথ খাবার।কাজু বাদাম এবং অন্যান্য বাদাম অল্প করে খান যাতে আপনার কার্ব এবং ক্যালোরি স্তর ঠিক থাকে। সকাল ১১টার দিকে একমুঠো মিশ্র বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি স্বাস্থ্যকর নাস্তা। বাদামে আপনার মেজাজ, ত্বক এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে।
◍ ডিম:
আমরা সবাই বিভিন্ন পদ্ধতিতে রান্না করা ডিম খেতে পছন্দ করি। সুসংবাদ হল; ডিম খেলে আপনার মেজাজ ভালো থাকবে। ডিমে প্রোটিন, ভিটামিন ডি, বি ১২ বেশি থাকে এবং কোলিনযুক্ত থাকে, এটি এমন একটি পুষ্টি যা স্নায়ুতন্ত্রকে সমর্থন করে। যা আপনার মেজাজ ভালো রাখতে কাজ করে। এছাড়াও ডিম খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এটি খাওয়ার অনেক পদ্ধতি রয়েছে।
◍ অ্যাভোকাডো এবং বেল পেপার (ক্যাপসিকাম):
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
সহবাসের সময় আজান হলে কী করণীয়?
প্রশ্ন: সহবাসের সময় আজান হলে কী করণীয়?
কবর জিয়ারত করতে গিয়ে দু হাত উত্তোলন করে দুআ করার বিধান
প্রশ্ন: কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কি দু হাত উত্তোলন করে দুআ করার বিধান কি?
إن رفع يديه فلا بأس؛ لما ثبت عن النبي ﷺ في حديث عائشة رضي الله عنها: أنه ﷺ زار القبور ورفع يديه ودعا لأهلها رواه مسلم
“কবরের নিকট সম্মিলিত দুআ করার কোনও ভিত্তি নাই।” মৃতকে কবরের দাফন করার পরপর দুআ করার ক্ষেত্রেও তিনি বলেন, “প্রত্যেকেই নিজে নিজে দুআ করবে। প্রত্যেকই বলবে, হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দাও, তার প্রতি দয়া করো, তাকে (কবরে ফেরেশতাদের প্রশ্নের) সঠিক উত্তর দেওয়ার শক্তি দাও এবং তাতে সুদৃঢ় রাখো ইত্যাদি।” [শাইখের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট]
পরিবারে থাকলে যদি ঈমানে সমস্যা মনে হয় তাহলে কি করব?
প্রশ্ন: গত ২ মাস ধরে অনেক ধরনের প্রশ্ন মাথায় এসেছে। সবচেয়ে বড় কিছু প্রশ্ন হল মেয়েদের পড়াশুনা নিয়ে, খাবার দাবার, ওষুধপত্র ইত্যাদির ক্ষেত্রে শিরক নিয়ে আর পাক পবিত্রতা নিয়ে। আর হালাল হারাম খাদ্য নিয়েও প্রশ্ন আছে। আমার পরিবারের সদস্যদের ইসলামের জ্ঞান কম। পাক নাপাকি বিষয়ে সচেতন না আবার অজান্তে কুফরিও করে।তাদের সাথে থাকতে গেলে ইমানে সমস্যা মনে হতে থাকে। তাদেরকে যে বুঝাবো সে কথা তারা মানবে কিনা তাও জানি না। এমতাবস্থায় নামাজও পড়তে পারছি না। তাদের কাছে হয়ত মনে হয় আমি বাড়াবাড়ি করি। একজন বলে যে
এই ১৪ বছর বয়সেই পাক নাপাকির মাসায়ালা জানার দরকার নেই।কিন্তু আমি অনেক নিশ্চিত যে নাপাক আছে আমাদের ঘরে। কিন্তু আমি স্টুডেন্ট হওয়ায় তারা আমাকে কাজও করতে দেয় না। দুনিয়ার সাফল্যের জন্য শুধু পড়াশুনাটাই কি প্রধান কাজ?
এই অবস্থায় কি করব একটা পরামর্শ চাচ্ছি। আর কম কথা বলি তাদের সাথে, তাই ইসলাম বিষয়ক কোন কথা শুনতে চাবে কিনা জানিনা। এখন কি করব? তাদের কে ধীরে সুস্থে বুঝাতে গেলে তো কুফরের সম্ভাবনা থেকে যায়। আবার না বুঝালে যে সবসময়েই সমস্যা? এখন কি বাসা ছেড়ে দিব আমি? কিন্তু আমি যে মেয়ে।
উত্তর: আসসালামু আলাইকুম।
১) এগুলো সবই হচ্ছে আপনার কুধারণা। আপনার মধ্যে ওয়াসওয়াসা কাজ করছে। আমাদের জানামতে অনেকের মধ্যেই এ ধরনের খুঁত খুঁত ভাব থাকে। এমনি এমনি পাক-নাপাক নিয়ে ধারণা করতে থাকে। এমনি মনে করে এই বুঝি নাপাকী লেগে গেল, নাপাক হয়ে গেল। না, নাপাকী যতক্ষণ পর্যন্ত স্পষ্ট না দেখবেন ততক্ষণ পর্যন্ত নাপাক হয় না। সুধু যেকোনো জিনিসকে নাপাক বলে দেওয়া তারপর কথা বলতে এইগুলো কুফর। এগুলো সব ওয়াসওয়াসা। কথা বলতে কুফর হবে কেন? শুধু যে কথা বললেই কুফর হয়ে যাবে অথবা কাজের বুয়াকে দিয়ে কাপড় ধুয়ালে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে এগুলো আপনার মধ্যে ওয়াসওয়াসা কাজ করছে। এই ওয়াসওয়াসাকে দূর করতে হবে। স্পষ্ট যদি নাপাকী না লাগে তাহলে যে ব্যক্তিই কাপড় ধোয় না কেন নাপাকী লাগার সম্ভাবনা নাই ইন শাহ্ আল্লাহ।
২) ধীরে সুস্থে বোঝাতে গেলে কুফর হবে কেন। এটাও আপনার একটা কুধারণা। আপনার ভিতরে ওয়াসওয়াসা কাজ করতেছে, কুমন্ত্রণা কাজ করতেছে, সন্দেহ কাজ করতেছে। মনের মধ্যে থেকে সন্দেহ দূর করতে হবে, কুমন্ত্রণা দূর করতে হবে, ওয়াসওয়াসা দূর করতে হবে। কথা বললেই কুফর হয় এটা ঠিক নয়, মিশতে গেলেই কুফর হয় এটা ঠিক নয়। কম কথা বলেন ঠিক আছে। কিন্তু মানুষকে সত্য কথা বলতে হবে, ভালো কথা বলতে হবে। কিন্তু কারো সাথে কথা বললেই কুফর হয়ে যাবে। এটা আপনার ওয়াসওয়াসা। সুতরাং মানুষের সাথে মিশতে হবে, তাদের সাথে কথাবার্তা বলতে হবে, তাদেরকে বুঝাতে হবে। আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য দান করুন এবং মানুষকে বোঝানোর তৌফিক দান করুন। আমীন।
৩) বাসা ছাড়বেন কেন? এই ভুল আপনি করবেন না। আপনি বাসা ছেড়ে যাবেন কোথায়? বাসাতেই থাকতে হবে। বাসার মানুষের সাথে মিশতে হবে। আপনি সালাত আদায় করবেন, মানুষকে বুঝাবেন। আপনি ইবাদত করবেন, তাদেরকেও বুঝাবেন। কিন্তু বাসা ছেড়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করবেন না।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর দিয়েছেন:
শাইখ সাইফুল ইসলাম মাদানী।