Thursday, March 24, 2022

সাহাবিদের সংখ্যা কত ছিল

 প্রশ্ন: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবিদের সংখ্যা কত ছিল?

সাহাবিদের সংখ্যা কত ছিল?:
সাহাবি রা. এর সংখ্যা কত ছিল সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন হাদিস পাওয়া যায় না। তবে হাদিস, সিরাত ও ইতিহাসের বিভিন্ন দিক গবেষণা করে মুহাদ্দিসগণ তার আনুমানিক সংখ্যা উল্লেখ করেছেন। যেমন:
◈ ইমাম মুসলিমের উস্তাদ হাফেজ আবু যুরয়া রাযি রহঃ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন,
أن عدد الصحابة (114000) مائة وأربعة عشر ألفاً . رواه عنه الخطيب البغدادي في “الجامع” (2/293) .
“সাহাবিদের সংখ্যা ১,১৪০০০ (একলক্ষ চৌদ্দ হাজার)।” [উৎস: আল জামে ২/২৯৩-খতিব বাগদাদি]
আবু যুরয়া রাযিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যে সকল সাহাবি হাদিস বর্ণনা করেছেন তাদের সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
ومن يضبط هذا؟ شهد مع النبي – صلى الله عليه وسلم – حجة الوداع أربعون ألفا، وشهد معه غزوة تبوك سبعون ألفا.
“কে বা এই সংখ্যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করেছে? বিদায় হজ্জে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে অংশ গ্রহণ করেছেন চল্লিশ হাজার সাহাবি আর তাবুক যুদ্ধে সত্তর হাজার সাহাবি।”
তিনি আরও বলেছেন,
قبض رسول الله – صلى الله عليه وسلم -عن مائة ألف وأربعة عشر ألفاً من الصحابة، ممن روي عنه وسمع منه من أهل المدينة وأهل مكة ومن بينهما، والأعراب، ومن شهد معه حجة الوداع كل رآه وسمع منه بجبل عرفات.
[كتاب: مقدمة ابن الصلاح المسمى بـ «معرفة أنواع علوم الحديث-النوع التاسع والثلاثون‏:‏ معرفة الصحابة رضي الله عنهم أجمعين]
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনা, মক্কা এবং এর মাঝের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী এবং বেদুইনদের মধ্য থেকে এক লক্ষ চৌদ্দ হাজার সাহাবি ছেড়ে দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেন। যারা তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তার নিকট শুনেছেন।” (অথবা তিনি বলেছেন, “যারা তাঁকে দেখেছেন বা তাঁর কথা শুনেছেন)। আর বিদায় হজ্জে জাবালে আরাফাতে (আরাফাত পর্বতে) সবাই তাঁকে দেখেছেন এবং তাঁর কথা শুনেছেন।”
[মুক্বাদ্দামায়ে ইবনুস সালাহ/মারিফাতু আনওয়ায়ি উলূমিল হাদিস। অধ্যায়: ৩৯, অনুচ্ছেদ: সাহাবি রা. এর পরিচয়]
◈ জালালুদ্দিন সুয়ুতি বলেন, “সাহাবিদের সংখ্যা ১,২৪০০০ (এক লক্ষ চব্বিশ হাজার)।” [উৎস: আল খাসাইসুল কুবরা]
(একলক্ষ চৌদ্দ বা একলক্ষ চব্বিশ হাজার অনেকটা কাছাকাছি সংখ্যা।)
এ ছাড়াও আরও একাধিক মত পাওয়া যায়।
মোটকথা, সাহাবিদের সংখ্যা এক লক্ষের কিছু উপরে ছিল তা নিশ্চিত করে বলা যায়।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◐◯◑▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

সাহাবি সালাবা এর কান্না এবং পাহাড়ে চলে যাওয়ার ঘটনা সহিহ নয়

 এক মহিলাকে গোসল রত অবস্থায় দেখার কারণে সাহাবি সালাবা রা. এর কান্না এবং পাহাড়ে চলে যাওয়ার ঘটনা সহিহ নয়:

প্রশ্ন: সালাবা নামক এক সাহাবির কথা শুনা যায়, যিনি এক মহিলাকে গোসল রত অবস্থায় দেখেছিলেন। অতঃপর, তিনি গুনাহের ভয়ে কান্না করতে করতে পাহাড়ে চলে গিয়েছিলেন। এই কাহিনীটা কি সত্য?
উত্তর:
সাহাবি সালাবা বিন আব্দুর রহমান আল আনসারি রা. কোনও এক গোসল রত নারীকে দেখে ফেলার কারণে কাঁদতে কাঁদতে পাহাড়ে চলে যাওয়া বিষয়ে একটি ঘটনা ফেসবুকে যথেষ্ট ভাইরাল। ঘটনার আগে-পরে জোড়-তালি লাগিয়ে এবং রং মাখিয়ে একেকজন একেকভাবে পোস্ট করছে।
এ হাদিসটি মূলত: বর্ণিত হয়েছে, হিলয়াতুল আওয়ালিয়া [৯/৩২৯-৩৩১] এবং মারিফাতুস সাহাবা [১/৪৯৮] ইত্যাদি গ্রন্থে।

কিন্তু বাস্তবতা হল, বিজ্ঞ হাদিছ বিশারদগণের দৃষ্টিতে এটি موضوع বা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ঘটনা। কারও মতে জইফ।

ইবনুল জাওযী রাহ. এ কাহিনীটিকে তার বিখ্যাত বানোয়াট হাদিস সংকলন আল মাউযুআত الموضوعات [৩/১২১] এবং সুয়ুতী রাহ. তার “আল লাআলি আল মাসনুয়া” اللآلئ المصنوعة في الأحاديث الموضوعة গ্রন্থে ‘বানোয়াট হাদিস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মুহাদ্দিস ইবনে ইরাক আল কিনানি এটিকে জইফ/দুর্বল বলেছেন। [দ্রষ্টব্য: তানযিহুশ শরিয়াহ ২/২৮৩]

সুতরাং এই জাতীয় অপ্রমাণিত ভিত্তিহীন-বানোয়াট ঘটনা বর্ণনা করা, ফেসবুকে পোস্ট করা বা শেয়ার করা হারাম। তবে এর মূল অবস্থা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে হলে ভিন্ন কথা।
আল্লাহু আলাম।
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

আব্দুল কাদের জিলানীর কারণে কি বাগদাদ শহরের কবর আজাব মাফ

 প্রশ্ন: আব্দুল কাদের জিলানীর কারণে কি বাগদাদ শহরের কবর আজাব মাফ?

উত্তর:
“আব্দুল কাদের জিলানীর কারণে বাগদাদ শহরের কবর আজাব মাফ” এটি মিথ্যাবাদী সুফি বিদআতি দজ্জালদের জঘন্য মিথ্যাচার।
যে মদিনা মুনাওয়ারায় স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর অসংখ্য সাহাবীর কবর আছে সেখানকার ব্যাপারে এমন কথা বলা হয় নি। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মর্যাদপূর্ণ শহর মক্কা মুকাররমায় বহু সাহাবীর কবর আছে তারপরও সেখানকার ব্যাপারে এমন কথা বলা হয় নি। তাহলে ‘আব্দুল কাদের জিলানী রহ. এর কারণে বাগদাদের কবর আজাব মাফ’ এমন কথা বলা কিভাবে সম্ভব হতে পারে?!
তাছাড়া আব্দুল কাদের জিলানী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইন্তেকালের প্রায় সাড়ে চারশত বছর পরে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাহলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইন্তেকালের পরে আল্লাহর ওহী ছাড়া কোথায় কবরের আজাব মাফ এমন গায়েব বা অদৃশ্য সম্পর্কে কথা বলার দু:সাহস আর কার আছে?
◉ মনে রাখা আবশ্যক যে, কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শিরক মুক্ত বিশুদ্ধ আকীদা এবং কুরআন-সুন্নাহ নির্ভর বিদআত মুক্ত আমল থাকা অপরিহার্য।
সুতরাং একজন ইমানদারের মধ্যে যখন শিরক মুক্ত ঈমান এবং বিদআত মুক্ত আমল পাওয়া যাবে তখন তার আখিরাতের মুক্তির আশা করা যায়। আশা করা যায়, সে কবরের ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবে এবং আল্লাহ তাআলা কবরে তাকে কিয়ামত পর্যন্ত শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে রাখবেন।
(তৎসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার বিশেষ আমলগুলো করা উচিৎ)
পক্ষান্তরে এ দুটি বিষয় না থাকলে মুক্তির কোন সম্ভাবনা নাই। এগুলো ব্যতিরেকে কেউ ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তরও দিতে সক্ষম হবে না। ফলে সে কিয়ামত পর্যন্ত ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হবে-তার কবর যেখানেই হোক না কেন। (সেই সাথে যে সব কারণে কবরের আজাব হয় বলে হাদিসে এসেছে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে) আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন।
এ বিষয়গুলো কুরআন-সুন্নাহ বহু দলিল দ্বারা সুপ্রমাণিত।
বিশুদ্ধ ঈমান ও নেক আমল ছাড়া কেবল ‘বিশেষ স্থানে’ কবর থাকার কারণে কবরের আজাব মাফ হওয়ার বিশ্বাস কুরআন-সুন্নাহ ও বিশুদ্ধ আকীকা পরিপন্থী।
সুতরাং উপরোক্ত কথাটি যে ১০০% মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা তাতে কোনও সন্দেহ নাই। এ জাতীয় বিশ্বাস পোষণ করা সম্পূর্ণ হারাম।
আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।
◯ প্রশ্ন: বাকি গোরস্থানে কবর দেয়া হলে কি কবরের আজাব মাফ হবে?
উত্তর: না, এ বিষয়ে কোন সহিহ হাদিস সাব্যস্ত হয় নি।
তবে “বাকি গোরস্থানে কবর দেয়া হয়েছে এমন সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে..যাদের মুখমণ্ডল হবে চৌদ্দ তারিখের পূর্ণিমা চাঁদ সদৃশ” মর্মে একটি হাদিস পাওয়া যায়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, এটি মুনকার বা মারাত্মক দূর্বল।
হাদিসটি হল:
أمَّ قيسٍ تَرينَ هذِه المقبرةَ يبعثُ اللهُ منها سبعينَ ألفًا، يومَ القيامَةِ علَى صورةِ القمرِ ليلةَ البدر، يدخلونَ الجنَّةَ بغيرِ حسابٍ كأنَّ وجوهَهمُ القمَرُ ليلةَ البدرِ. فقامَ عُكاشةُ فقالَ: وأنا يا رسولَ اللَّهِ ؟ قال: وأنتَ. فقامَ آخرُ فقال: وأنا يا رسولَ اللَّهِ؟ قال: سبقَك بِها عُكاشةُ
الراوي:أم قيس بنت محصن المحدث:الألباني المصدر:السلسلة الضعيفة الجزء أو الصفحة:5491 حكم المحدث:منكر
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

ফজর এবং মাগরিব সালাতের পর ৭ বার করে ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার’ পড়ার হাদিস কি সহিহ

 প্রশ্ন: ডক্টর আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. বলেছেন, ফজর এবং মাগরিবের পর ৭ বার ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার’ পড়ার হাদিস সহিহ অথচ শাইখ আলবানী রাহ. বলেছেন, যয়ীফ। কোনটা সঠিক?

উত্তর:

প্রথমে আমরা এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করব অত:পর এ প্রসঙ্গে মুহাদ্দিসদের বক্তব্য দেখব ইনশাআল্লাহ।
হাদিসটি নিম্নরূপ:

মুসলিম বিন হারেস তামিমি রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
إِذَا صَلَّيْتَ الصُّبْحَ فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تُكَلِّمَ أَحَدًا مِنْ النَّاسِ اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنْ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ، فَإِنَّكَ إِنْ مِتَّ مِنْ يَوْمِكَ ذَلِكَ كَتَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَكَ جِوَارًا مِنْ النَّارِ، وَإِذَا صَلَّيْتَ الْمَغْرِبَ فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تُكَلِّمَ أَحَدًا مِنْ النَّاسِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ، اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنْ النَّارِ. سَبْعَ مَرَّاتٍ. فَإِنَّكَ إِنْ مِتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ تِلْكَ كَتَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَكَ جِوَارًا مِنْ النَّارِ.
“তুমি ফজরের সালাত শেষ করার পর মানুষের সাথে কথা বলার পূর্বে সাত বার পাঠ করো: “আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার” (হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে পরিত্রা দাও)। তাহলে তুমি যদি সে দিন মারা যাও তবে আল্লাহ তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি অবধারিত করে দিবেন।
অনুরূপভাবে তুমি মাগরিব সালাত শেষ করার পর মানুষের সাথে কথা বলার পূর্বে সাত বার পাঠ করো: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা (হে আল্লাহ তোমার নিকট জান্নাত প্রার্থনা করছি।” এবং সাত বার “আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার” (হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে পরিত্রা দাও)।” তাহলে তুমি যদি রাতে মারা যাও তবে আল্লাহ তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি অবধারিত করে দিবেন।” (সুনানে আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ ইত্যাদি)

❖ হাদিসটির মান:

এ হাদিসটি সহিহ-যইফ হওয়ার ব্যাপারে মুহাদ্দিসীনদের মাঝে দ্বিমত রযেছে। যেমন:

● শাইখ আলবানী এটিকে যইফ বলেছেন। কারণ এর বর্ণনাসূত্রে কিছু অজ্ঞাত পরিচয় বর্ণনাকারী রয়েছে। (দ্রষ্টব্য: আবুদাউদ- হা/৫০৭৯, তাখরিজু মিশকাতিল মাসাবিহ- হা/২৩৩৩,সিলসিলা যঈফা- হা/১৬২৪, যঈফুল জামে, হা/৫৭১)
● এছাড়াও শাইখ শুয়াইব আরাবুতও হাদিসটিকে যইফ বলেছেন। (দ্রষ্টব্য: তাখরিজ সুনানে আবু দাউদ, হা/৫০৭৯)
● পক্ষান্তরে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী এটিকে হাসান বলেছেন- যেমনটি শায়খ আলবানী সিলসিলা যঈফা (হা/১৬২৬) গ্রন্থে তার এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
● অনুরূপভাবে সুয়ূতীও এটিকে সহিহ বলেছেন। (দ্রষ্টব্য: আল জামেউস সাগীর, হা/৭২৩)

যাহোক উক্ত হাদিসটি সহিহ-যইফ হওয়ার ব্যাপারে সম্মানিত মুহাক্কিক হাদিস বিশারদদের নিকট দ্বিমত থাকলেও তার কাছাকাছি অর্থ বোধক অন্য একটি হাদিস রয়েছে- যেটিকে ইমাম আলবানী সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সহিহ বলেছেন। তবে তা ফজর ও মাগরিবের সালাতের পর নির্দিষ্ট নয় বরং দিনরাত যে কোন সময় পাঠ করা যায়।

হাদিসটি হল:

عَنَ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْتَجَارَ عَبْدٌ مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ فِىْ يَوْمِ اِلَّا قَالَتِ النَّارُ يَارَبِّ اِنَّ عَبْدَكَ فُلَانًا قَدْ اسْتَجَارَكَ مِنِّى فَأَجِرْهُ وَلَايَسْأَلُ اللهَ عَبْدٌ الْجَنَّةَ فِىْ يَوْمٍ سَبْعَ مَرَّاتٍ اِلَّا قَالَتِ الْجَنَّةُ يَارَبِّ اِنَّ عَبْدَكَ فُلَانًا سَأَلَنِىْ فَاَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ.
আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

“দিনের মধ্যে (দিনরাত যে কোন সময়) কোন মানুষ সাতবার জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ চাইলে জাহান্নাম বলে, “হে আমার প্রতিপালক, আপনার ‍উমুক বান্দা আমার থেকে আপনার নিকট পরিত্রাণ চেয়েছে। অত:এব আপনি তাকে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ দিন।
আর দিনের মধ্যে কোন বান্দা আল্লাহর নিকট সাতবার জান্নাত প্রার্থনা করলে জান্নাত বলে, “হে আমার আমার প্রতিপালক, আপনার উমুক বান্দা আমাকে চেয়েছে। অত:এব আপনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।” (সুনানে বায়হাকি, মুসনাদে আবি ইয়ালা, মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহওয়ােইহ ইত্যাদি)

❖ এ হাদিসটির মান:

● মুনযেরি তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে বলেন, এ হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ।
● ইবনুল কাইয়েম বলেন, হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ-হাদিল আরওয়াহ, হা/৮৫।
● শাইখ আলবানি বলেন, সহিহ-সিলসিলা সহীহাহ হা/২৫০৬।
এ ছাড়াও বহু সংখ্যক মুহাদ্দিস এ বিষয়ে একমত।

উল্লেখ্য যে, অন্য সহিহ হাদিসে তিন বারের কথাও এসেছে। (ইবনে মাজাহ হা/৪৩৪০, সহিহ)।

সুতরাং আগের হাদিসটিকে যঈফ ধরে নিলেও পরের সহিহ হাদিস দ্বারা রাত-দিন যে কোন সময় সাত বার অথবা তিন বার করে জান্নাত চাওয়া এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া জায়েজ প্রমাণিত হয়।

জান্নাত চাওয়ার বাক্যটি এরূপ হতে পারে:
اللهُمَّ اِنِّى أسْئَلُكَ جَنَّةَ الْفِرْدَوْسِ
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা জান্নাতাল ফিরদাউস।”
“হে আল্লাহ, আমাকে জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনা করছি।”

আর জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ চাওয়ার বাক্যটি এরূপ হতে পারে:
اللهُمَّ أجِرْنِىْ مِنَ النَّارِ
“আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার।”
“হে আল্লাহ, তুমি আমাকে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ দাও।”

তবে ফজর, মাগরিব, অন্য সালাতের পর অথবা বিশেষ কোন সময় নির্দিষ্ট না করে দিনরাত যে কোন সময় সাত বার করে আল্লাহ নিকট জান্নাত প্রার্থনা এবং জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ চাওয়া জায়েজ ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহু আলাম।

সারাংশ:

ফজর ও মাগরিব সালাতের পরে “আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার’“ (হে আল্লাহ, তুমি আমাকে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ দাও) এ দুআটি সাত বার পড়ার হাদিসটি সহিহ-যঈফ হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত থাকলেও বিশেষ কোন সময় নির্দিষ্ট না করে দিনরাত যে কোন সময় উক্ত দুআটি পাঠ করার ব্যাপারে আলাদা সহিহ হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।
সুতরাং রাতদিন যে কোন সুবিধাজনক সময়ে ৭ বার অথবা ৩ বার করে “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা জান্নাতাল ফিরদাউস।” (হে আল্লাহ, আমাকে জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনা করছি) এবং “আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার।” (হে আল্লাহ, তুমি আমাকে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ দাও) এ দুআগুলো পাঠ করা জায়েজ রয়েছে। আল হামদুলিল্লাহ।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

স্বামী-স্ত্রী ফোন সেক্স করার বিধান

 প্রশ্ন: আমার স্বামী দেশের বাইরে থাকে। এমতবস্থায় আমার এবং আমার স্বামী উভয়ের ফিতনায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী ফোন সেক্স করলে কি গুনাহ হবে?

উত্তর:
স্বামী-স্ত্রী যদি ফোনের মাধ্যমে যৌন আবেদন মূলক কথা-বার্তা বলে, বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে একে অপরের ছবি বা ভিডিও দেখে এবং যৌন বিষয়ে কল্পনা করে আনন্দ উপভোগ করে করে তাহলে তাতে কোনও দোষ নেই।
তবে এ ক্ষেত্রে দুটি শর্ত রয়েছে:
🔸 ১. তাদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা যেন অন্য কেউ শুনতে না পায় বা তাদের ছবি-ভিডিও কোনোভাবেই অন্যের দৃষ্টি গোচর না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ কোনও সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি আড়ি পেতে তাদের কথাবার্তা শুনতে না পারে বা গোপনে তাদের কোন কিছু দেখতে না পারে সে ব্যাপারে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

🔸 ২. কোনও হারাম কর্মে লিপ্ত হওয়া যাবে না। যেমন: তারা যৌন সম্পর্কিত কথাবার্তা বলা বা দেখাদেখি করার সময় যদি উত্তেজিত হয়ে কোনও হারাম কর্মের দিকে পা বাড়ায় তাহলে তা নি:সন্দেহে হারাম। যেমন: হস্তমৈথুন (তবে জিনায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ভিন্ন কথা। এ ক্ষেত্রে তা জায়েজ হবে), পরপুরুষ/পরনারীর মাধ্যমে যৌন চাহিদা পূরণ করা ইত্যাদি।
উল্লেখ্য যে, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে শুধু কল্পনা করা, ভিডিও মারফতে দেখাদেখি করা বা যৌন সংক্রান্ত কথাবার্তা বলার কারণে (হাত অথবা অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার ব্যতিরেকে) যদি বীর্যপাত ঘটে তাহলে তাতে কোন দোষ নেই ইনশাআল্লাহ।
(আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ. এর ফতোয়ার আলোকে)
[উৎস: islamqa]
سئل الشيخ ابن عثيمين رحمه الله : هل يجوز للزوجين أن يتحدثا عن الجنس بالهاتف ويستثيرا بعضهما حتى ينزل أحدهما أو كلاهما بدون استعمال اليد لأنه محرم ؟ يحصل هذا لأن زوجي يسافر دائما ولا نرى بعضنا إلا كل 4 أشهر .
فأجاب : لا بأس ، نعم يجوز هذا .
السائل : ولو كان باستعمال اليد .
الجواب : استعمال اليد فيه نظر ، ولا يجوز إلا إذا خاف على نفسه الزنا .
السائل : وبدون استعمال اليد لا مانع .
الجواب : نعم بدون استعمال اليد لا مانع ، يتصور أنه معها لا بأس في ذلك ” انتهى
الله أعلم
▬▬▬✪✪✪▬▬▬

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate