Sunday, December 19, 2021

তাওবা: জান্নাতের সোপান

 

তওবা: জান্নাতের সোপান

image (3)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
তওবা: জান্নাতের সোপান
মূল: শাইখ খালিদ আল ফুরাইজ
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল
ভূমিকাকোন মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে সে ব্যক্তিই উত্তম যে ভুল করার পর তওবা করে। আমাদের সবারই ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। কখনও মুখ ফসকে মুখের দ্বারা গুনাহ হয়েছে। অসাক্ষাতে কারও সমালোচনা করেছি, কাউকে গালি দিয়েছি, কখনো অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদের প্রতি হাত বাড়িয়েছি, কখনও এমন জিনিসের দিকে তাকিয়েছি যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। এভাবে কত ধরণের গুনাহর কাজ আমরা করেছি! এজন্যই দয়াময় আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের উপর তওবা করা অপরিহার্য করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মুমিনগণ,তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা কর। যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার।”[1]
তিনি আরও বলেছেন,
تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا
“তোমরা আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে তওবা কর।”[2] সুতরাং প্রতিটি পাপের জন্য বান্দার তওবা করা অপরিহার্য।
তওবা কারীদের প্রতি আল্লাহ অত্যন্ত আনন্দিত হন
আল্লাহ তায়ালা তওবা কারীদের অত্যন্ত ভালবাসেন। বান্দা যখন তার অপরাধের জন্য অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বান্দার তওবাতে কী পরিমাণ আনন্দিত হন তা নিম্নোক্ত হাদীসটিতে দেখুন,
প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খাদেম আবু হামযা আনাস বিন মালিক রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
اللَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ ، وَقَدْ أَضَلَّهُ فِى أَرْضِ فَلاَةٍ
“কোনও লোক বিজন মরু প্রান্তরে উট হারিয়ে যাবার পর পুনরায় তা ফেরত পেলে যে পরিমাণ আনন্দে উদ্বেলিত হয় মহান আল্লাহ বান্দার তওবাতে তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন।”[3]
আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে,

لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِأَرْضِ فَلَاةٍ فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَأَيِسَ مِنْهَا فَأَتَى شَجَرَةً فَاضْطَجَعَ فِي ظِلِّهَا قَدْ أَيِسَ مِنْ رَاحِلَتِهِ فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذَا هُوَ بِهَا قَائِمَةً عِنْدَهُ فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ
“বান্দার তওবাতে আল্লাহ তোমাদের ঐ ব্যক্তি থেকে অধিক আনন্দিত হন, যে বিজন মরু প্রান্তরে তার উট হারিয়ে ফেলল। যাতে তার খাদ্য-পানীয় ছিল। উট হারানো কারণে হতাশ হয়ে গাছের ছায়ায় এসে শুয়ে পড়ল। এমন পরিস্থিতিতে সে হঠৎ দেখতে পেল তার উট তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে উটের লাগাম ধরে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে বলতে লাগল, “হে আল্লাহ,তুমি আমার বান্দা আমি তোমার প্রভু!” অতি আনন্দের কারণে সে এভাবে ভুল কথা বলে ফেলল।”[4]
আল্লাহু আকবর! কত বিশাল এ আনন্দ! নি:সন্দেহে এটি এত বড় আনন্দের বিষয় যা কারও পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব নয়। আপনি নিজের কথা কল্পনা করুন যে, আপনি এমন এক মরুভূমিতে অবস্থান করছেন যেখানে আপনার আশে পাশে কোন মানুষ নেই। নেই কোন খাদ্য ও পানীয়। এমন জনমানব শূন্য মরুভূমিতে আপনার উট হারিয়ে গেছে যাতে আপনার খাদ্য-পানীয় মজুদ ছিল। আপনি অনেক খোঁজা-খুঁজি করেও উটের কোন হদিস পেলেন না। পরিশেষে, বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়ে দিয়ে কোন গাছের নিচে শুয়ে অনিবার্য মৃত্যুর প্রহর গুণতে লাগলেন।
এমন পরিস্থিতি চোখ খুলেই হঠাৎ দেখতে পেলেন, আপনার উট আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। গাছের সাথে তার লাগাম বাঁধা রয়েছে। তার উপরে খাদ্য-পানীয় ইত্যাদি সব কিছু ঠিকমত আছে। তখন আপনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উটের লাগাম হাতে নিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, “হে আল্লাহ তুমি আমার বান্দা; আমি তোমার প্রভু”। আনন্দে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আপনি উল্টো কথা বলে ফেললেন। আপনার উদ্দেশ্য ছিল এ কথা বলা, “হে আল্লাহ,তুমি আমার প্রভু;আমি তোমার বান্দা।”
আপনি কি কল্পনা করতে পারেন এ আনন্দ? আমার ধারণা,আপনি বলবেন, হ্যাঁ। তাহলে জেনে রাখুন, এমন অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর দুয়ার থেকে পুনর্জীবন লাভকারী ব্যক্তির চেয়েও আল্লাহ বান্দার তওবায় বেশি খুশি হন।
এটি মূলত: দয়াময় আল্লাহর সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহের অনুপম প্রমাণ বহন করে। তিনি এ কারণে বান্দার তওবাতে আনন্দিত হন না যে, আমাদের তওবা তাঁর বড় প্রয়োজন। তিনি এসব থেকে মুখাপেক্ষী হীন। বরং এটা তাঁর অন্তহীন দয়া, অপরিসীম ক্ষমা ও অনুপম ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।
সুতরাং হে প্রিয় মুসলিম ভাই, কাল বিলম্ব না করে দ্রুত ছুটে আসুন এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর নিকট তওবা করুন।
মহান আল্লাহ ক্ষমাশীলতিনি আমাদেরকে ক্ষমা করতে চান
আল্লাহ তায়ালা দিনের অপরাধীকে ক্ষমা করার জন্য রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন। আর রাতের অপরাধীকে ক্ষমার জন্য দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন। যেমন, ইমাম মুসলিম রহ. আবু মূসা আশয়ারী থেকে বর্ণনা করেছেন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِىءُ النَّهَارِ وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِىءُ اللَّيْلِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا
“আল্লাহ দিনের অপরাধীকে ক্ষমার জন্য রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন। আর রাতের অপরাধীকে ক্ষমার জন্য দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন। (তিনি এরূপ করতেই থাকেন) যে পর্যন্ত না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয় (তথা কিয়ামত পর্যন্ত)।[5]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের অনুসরণীয়:
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব বেশী তওবা-ইস্তেগফার করতেন। যেমন আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,
وَاللَّهِ إِنِّى لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِى الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً
“আল্লাহর শপথ, আমি দিনে সত্তর বারের অধিক আল্লাহর নিকট তওবা-ইস্তেগফার করি।”[6]
সহীহ মুসলিমে আরেকটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ
“হে মানব মণ্ডলী, তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর। কেননা, আমি দিনে একশ বার তওবা করি।” [7]
তওবার উপকারিতা:
তওবা করলে তিনটি বড় বড় উপকারিতা লাভ হয়। যথা:
১ম: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ পালন। আর তাঁর নির্দেশ পালনেই নিহিত আছে ইহ ও পরকালের পরম সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ।
২য়: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ। কারণ,তিনি দিনে একশ বার তওবা করতেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণের মাধ্যমেই আল্লাহর ভালবাসা অর্জন করা যায়। মহান আল্লাহ বলেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ
“হে নবী,আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসো তবে আমার অনুসরণ কর তবে আল্লাহ ও তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন।” (সূরা আলে ইমরান: ৩১)
৩য়: তওবার মাধ্যমে গুনাহ সমূহ কেবল মোচন করা হয় না বরং সেগুলো নেকীতে রূপান্তরিত করে দেয়া হয়।  আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ
 “কিন্তু যারা তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহ গুলোকে নেকী দ্বারা পরিবর্তিত করে দিবেন।” (সূরা আল ফুরকান: ৭০)
সুপ্রিয় দীনি ভাই ও বোন,‌ আমরা তওবার মহত্ব ও মর্যাদা এবং তওবা কারীর প্রতি মহান আল্লাহর ভালবাসা সম্পর্কে জানতে পারলাম। আরও জানতে পারলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্ব সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ ও সর্বাধিক আল্লাহকে ভয় কারী হওয়া স্বত্বেও কত অধিক পরিমাণে তওবা করতেন। তাহলে এখন আমাদের চিন্তা করার দরকার আমাদের কী করণীয়? বাস্তবতা হল, আমরা তো বড়ই দুর্বল। আমরা অসংখ্য পাপের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছি। তাই নয় কি?
অতএব, এখন আমাদের কর্তব্য, কাল বিলম্ব না করে তওবা করা এবং পাপের পুঁতি দুর্গন্ধময় জগত হতে বের হয়ে অনাবিল সুন্দর ও আলোকিত ভুবনে ফিরে আসা। আমাদের উচিৎ চির শান্তির নীড় জান্নাতের প্রত্যাশা করা এবং জান্নাতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিবেশী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা।
কবি বলেন,
কাজ কর সে শাশ্বত: গৃহের তরে
রেজওয়ান যার দারোয়ান।
পড়শি যার আহমদ আর নির্মাতা রহমান।
কুস্তরী সম মৃত্তিকা আর স্বর্ণ ছাড়ানো ভূমি।
সবুজ প্রকৃতি লতা-গুল্ময় জাফরান রয়েছে চুমি।
সে আবাস ভূমির দিলেন দিশা আহমদ প্রিয়তম।
বিক্রেতা যার দয়ার পাথার মনিব আপন জন।
নিশিত রাতে ডাকে জিবরীল কিনবে সে ঘর কে গো?
আঁধার মাড়িয়ে সালাতের তরে রাত্রিতে তব জাগো।
তওবার শর্তাবলী:
জেনে রাখা দরকার যে, তওবার জন্য কতিপয় শর্ত রয়েছে। এ সকল শর্ত সাপেক্ষে কেবল তওবা কবুল হতে পারে; অন্যথায় নয়। গুনাহ যদি বান্দা ও আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়; অপর কোন মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয় তবে তার জন্য তিনটি শর্ত। যথা:
  • ১ম শর্ত: তৎক্ষণাৎ গুনাহ হতে বিরত থাকা।
  • ২য় শর্ত: গুনাহের জন্য লজ্জিত হওয়া।
  • ৩য় শর্ত: পুনরায় উক্ত গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
উল্লেখিত তিনটি শর্ত পূরণ না হলে তওবা কবুল হবে না।
আর অন্যায় যদি অন্য মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তবে তার জন্য চার টি শর্ত। উল্লেখিত তিনটি শর্তের সাথে চতুর্থ শর্ত হল, সম্ভব হলে যার অধিকার হরণ করা হয়েছে তার সাথে বিষয়টি সুরাহা করে নেয়া। যেমন, কারও অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করা হলে তা মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে। অগোচরে  কারও সমালোচনা করা হলে তার সাথে বিষয়টি মিটমাট করে নেয়া। তবে যদি তা সম্ভব না হয় তবে উক্ত ব্যক্তির জন্য বেশি বেশি দোয়া করতে হবে এবং তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করতে হবে।
যে ব্যক্তি ক্ষমার যোগ্য নয়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক প্রকার মানুষের কথা বলেছেন, যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। আমরা যেন এ প্রকার লোকদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাই সে ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। আল্লাহর নিকট এদের থেকে পানাহ চাই।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
كُلُّ أُمَّتِى مُعَافًى إِلاَّ الْمُجَاهِرِينَ ، وَإِنَّ مِنَ الْمَجَاهرة أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلاً ، ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللَّهُ ، فَيَقُولَ يَا فُلاَنُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا ، وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ
“আমার উম্মতের সকলকেই ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে ঐ সকল লোককে ক্ষমা করা হবে না যারা পাপ করার পর তা অন্যের নিকট প্রকাশ করে দেয়। অন্যের নিকট প্রকাশ করার একটি দিক হল, কোন ব্যক্তি রাতের আঁধারে কোন গুনাহ করল এবং মহান আল্লাহ তার পাপটা গোপন করে রাখলেন। কিন্তু ভোর হলে সে নিজেই অন্য মানুষের নিকট বলল, হে উমুক, জানো, রাতে আমি এই এই কাজ করেছি। সারা রাত আল্লাহ তার পাপটাকে ঢেকে রেখেছিলেন কিন্তু ভোর হলে নিজেই আল্লাহর ঢেকে রাখা বিষয়টি প্রকাশ করে দিল।”[8]
যারা পাপাচার কারার পর আবার মানুষের সামনে বলে বেড়ায় যে, আমি এই এই কাজ করেছি আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহর নিকট এ কাজ থেকে পানাহ চাই।
সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই তওবা করা আবশ্যক:
তওবার সময় ফুরিয়ে যাবার পূর্বেই আমাদের তওবা করা আবশ্যক। কারণ, তওবার জন্য নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে আল্লাহ তওবা কবুল করবেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
“আল্লাহ বান্দার তওবা কবুল করেন যতক্ষণ না কণ্ঠনালীর নিকট দম আসে (কিন্তু কণ্ঠনালীর নিকট দম এসে গেলে তখন আর তওবা কবুল করা হয় না)।”[9]
আল্লাহ বলেন,
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ
“ঐ সব  লোকের জন্য তওবা নেই, যারা পাপ করতে থাকে-এমন কি যখন মৃত্যু এসে যায় তখন বলতে থাকে এখন তওবা করছি।” ( নিসাঃ ১৮)
প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্ণিত।  তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ
“পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয়ের পূর্বে (কিয়ামতের পূর্বে) যে তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।”[10]
সুতরাং আমরা কি জানি কখন মৃত্যু দূত আমাদের দুয়ারে এসে উপস্থিত হয়? এমনও তো হতে পারে যে, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌঁছতে পারব না- এমন কি এই লিখাটিও পড়ে শেষ করার পূর্বেই আমার-আপনার দেহ হতে প্রাণ পাখি উড়ে যাবে। অতএব,আসুন আমরা দ্রুত তওবা করি। তওবার পথ এখনো উন্মুক্ত। আল্লাহ আমাদেরকে তওবা কারীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন।
তওবাকারীদের দুটি ঘটনা
প্রথম ঘটনা: আবু সাঈদ সাদ বিন মালিক মিন সিনান খুদরী রা. হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ فَقَالَ لَا فَقَتَلَهُ فَكَمَّلَ بِهِ مِائَةً ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ فَقَالَ نَعَمْ وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ انْطَلِقْ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا فَإِنَّ بِهَا أُنَاسًا يَعْبُدُونَ اللَّهَ فَاعْبُدْ اللَّهَ مَعَهُمْ وَلَا تَرْجِعْ إِلَى أَرْضِكَ فَإِنَّهَا أَرْضُ سَوْءٍ فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ فَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ جَاءَ تَائِبًا مُقْبِلًا بِقَلْبِهِ إِلَى اللَّهِ وَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ فَأَتَاهُمْ مَلَكٌ فِي صُورَةِ آدَمِيٍّ فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ فَقَالَ قِيسُوا مَا بَيْنَ الْأَرْضَيْنِ فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ فَقَبَضَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ
“তোমাদের আগের উম্মতে এক লোক ছিল। সে নিরানব্বই জন লোক খুন করার পর জিজ্ঞেস করল, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আলেম কে? তাকে এক খৃষ্টান পাদ্রীর সন্ধান দেয়া হল। সে উক্ত পাদ্রীর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, এ পরিস্থিতিতে তার কি তওবা করার সুযোগ আছে? পাদ্রী জবাব দিল: “না।” এতে সে ক্রুদ্ধ হয়ে পাদ্রীকে হত্যা করে একশ খুন পূর্ণ করলো।
অতঃপর আবার সে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। এবার তাকে এক আলেমের সন্ধান দেয়া হল। তাঁর নিকট গিয়ে সে বলল: সে একশ মানুষ খুন করেছ। তার কি কোন তওবার সুযোগ আছে? আলেম বললেন, “হ্যাঁ, তওবার পথ তো খোলা আছে। তওবার সামনে কোন কিছু প্রতিবন্ধক নাই। তবে তুমি অমুক এলাকায় যাও, সেখানে আল্লাহর ইবাদত গুজার কিছু মানুষ বসবাস করে। তাদের সাথে তুমিও আল্লাহর ইবাদত কর। আর তোমার এলাকায় ফিরে এসো না। ওটা খারাপ এলাকা।
এ কথা শুনে সে ব্যক্তি উক্ত এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল। পথের মাঝখানে আসলে সে মৃত্যু বরণ করল। অতঃপর রহমতের ফিরিশতাগণ এবং আজাবের ফিরিশতাগণ এসে তার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হল। রহমতের ফিরিশতাগণ বললেন, এই ব্যক্তি যেহেতু তওবা করেছে এবং আল্লাহর প্রতি মন-প্রাণ সমর্পণ করে এসেছে। (সুতরাং আমরা তাকে নিয়ে যাব।)
আজাবের ফিরিশতাগণ বললেন, এ লোকটি কখনো কোন সৎকাজ করে নি। (সুতরাং আমরা তাকে নিয়ে যাব।) এহেন অবস্থায় তাদের নিকট অন্য এক ফিরিশতা মানুষের রূপ ধরে এসে দু দলের মাঝে ফয়সালা করে দিলেন। তিনি বললেন, লোকটি যেখান থেকে এসেছিল এবং যেখানে যাচ্ছিল এই দুই এলাকার দূরত্ব পরিমাপ কর। যে এলাকার নিকটবর্তী হবে তদনুযায়ী সে পক্ষ তাকে নিয়ে যাবে।
তারা দূরত্ব মাপল এবং যে এলাকায় যাওয়ার সে ইচ্ছা করেছিল তার নিকটবর্তী পেল। অতঃপর রহমতের ফিরিশতাগণ তাকে নিয়ে চলে গেল।[11]
সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় রয়েছে, উক্ত লোকটি ভাল গ্রামটির এক বিঘত নিকটে ছিল। বিধায় তাকে সৎলোকদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হল। সহীহ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে,
فَأَوحَى الله تَعَالَى إِلى هذِهِ أَنْ تَبَاعَدِي ، وإِلَى هذِهِ أَنْ تَقَرَّبِي ، وقَالَ : قِيسُوا مَا بيْنَهُما ، فَوَجَدُوهُ إِلى هذِهِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ فَغُفِرَ لَهُ
“আল্লাহ খারাপ গ্রামটিকে একটু দূরে সরে যাওয়ার এবং ভাল গ্রামটিকে একটু নিকটে আসার নির্দেশ দিয়ে বললেন, দুটি গ্রামের দূরত্ব মাপ। ফিরিশতাগণ দূরত্ব পরিমাপ করে উক্ত লোকটিকে ভালো গ্রামটির এক বিঘত পরিমাণ নিকটে পেলেন ফলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেয়া হল।
২য় ঘটনা: প্রখ্যাত সাহাবী আবু নহাইদ ইমরান বিন হুসাইন খুযাঈ রা. হতে বর্ণিত। জুহাইনা গোত্রের এক নারী ব্যভিচারের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়ে গিয়েছিল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমি হদ বা শাস্তির উপযুক্ত হয়ে গেছি। আমার উপর তা কার্যকর করুন।
নবী তার অভিভাবককে ডেকে বললেন, একে নিয়ে যাও। তার সাথে ভাল ব্যাবহার করবে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো।
মহিলাটির অভিভাবক তাই করলেন। এবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাকে কাপড় দিয়ে বাঁধার নির্দেশ দিয়ে রজম (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা) কার্যকর করার ফরমান জারি করলেন।
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলার জানাযা পড়ার জন্য অগ্রসর হলে উমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এ মহিলার জানাযা পড়বেন অথচ সে তো ব্যভিচার করেছে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন,
لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ وَهَلْ وَجَدْتَ تَوْبَةً أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا لِلَّهِ تَعَالَى
“এ মহিলা এমনভাবে তওবা করেছে যে, তা যদি মদীনার সত্তর জন অধিবাসীর মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয় তবে সকলের জন্য তা যথেষ্ট হবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজেকে পবিত্র করল, তার চেয়ে উত্তম আর কাকে পাবে?”[12]
হে যুবক,
  • হে যুবক, তুমি কি ঐ জিনিসের কথা স্মরণ করো যা তোমার জীবনের  সব সুখ ও আনন্দ-বিলাসকে ধূলিসাৎ করে দিবে ?
  • তুমি কি স্মরণ করো সে দিনের কথা যে দিন তুমি হবে নির্জন কবরের বাসিন্দা?
  • সে দিনের কথা কি তোমার স্মরণ হয় যে দিন তোমাকে স্ত্রী-পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ধন-সম্পদ, বন্ধু-বান্ধব সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে?
  • কবরের সংকীর্ণতা ও ঘুটঘুটে অন্ধকারের কথা কি তোমার স্মৃতিতে ভেসে উঠে?
  • কবরের বিভীষিকাময় ও ভয়ঙ্কর অবস্থা কি তোমার স্মরণ হয়?
  • কবরের শাস্তির নিষ্ঠুরতা এবং বিষধর সাপ-বিচ্ছুর দংশনের কথা কি তোমার মনে ভয় সৃষ্টি করে?
  • চাবুকের নিষ্ঠুর কষাঘাতে জর্জরিত হওয়ার কথা কি তোমার হৃদয়কে নাড়া দেয়?
  • কবরের শাস্তির ভয়ে কি তোমার অন্তরাত্মা প্রকম্পিত হয়?
  • মুনকার-নাকির ফিরিশতা দ্বয়ের প্রশ্নের সঠিক জবাব কি দিতে পারবে তুমি?
  • অনুরূপভাবে কবরের অফুরন্ত সুখ ও অনাবিল শান্তির কথা কখনও কি তোমাদের হৃদয় পটে জাগ্রত হয়েছে?
কবরের প্রশ্নের সঠিক জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন
কবরের প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত করুন। প্রস্তুত হোন সঠিকভাবে উত্তর দেয়ার জন্য। আউন বিন আব্দুল্লাহ পাপের কথা স্মরণ করে কাঁদতেন আর বলতেন,
  • “হায় আফসোস! আমি কতভাবে না আল্লাহর নাফারমানী করেছি!
  • আল্লাহ আমাকে কত-শত নিয়ামত দিয়েছেন তারপরও আমি তাঁর অবাধ্যতা করেছি!
  • হায় আফসোস! প্রবৃত্তির তাড়নায় কত অন্যায় করলাম! কিন্তু প্রবৃত্তির সে আকর্ষণ চলে গেলেও তাঁর কুপ্রভাব তো আমার নিকট রয়ে গেছে!
  • আফসোস! কিভাবে মৃত্যুকে ভুলে থাকি অথচ মৃত্যু তো আমাকে ভুলে না!
  • হায়! আমাকে যদি কেয়ামতের দিন প্রভুর সম্মুখীন না হতে হত!
  • কিভাবে মৃত্যু থেকে বেপরোয়া থাকি অথচ মৃত্যু তো  এতটুকুর জন্যও আমাকে ভুলে না!
  • কিভাবে রঙ্গিন জীবন আমাকে হাতছানিতে দিতে পারে অথচ এক ভয়াবহ কঠিন দিন আমার সামনে অপেক্ষা করছে!
  • কেন আমার পরিতাপ দীর্ঘ হয় না অথচ আমি জানি না আমার পরিণতি কী হবে?
  • যে গৃহ আমার নয় সে গৃহের প্রতি কি ভাবে আমার আসক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে?
  • কি ভাবে এটাকে আমার চিরস্থায়ী আবাসস্থল বানাতে পারি অথচ আমার আবাস ভূমি তো অন্যত্র?
  • কিভাবেই এর প্রতি আমার আসক্তি এবং আকাঙ্ক্ষা এত প্রবল হতে পারে অথচ এর চেয়ে অল্পই তো আমার জন্য যথেষ্ট?
  • কিভাবে এ পার্থিব জগতকে অগ্রাধিকার দিতে পারি অথচ ইতোপূর্বে যারা একে অগ্রাধিকার দিয়েছিল তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
  • কেন তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পূর্বে নেক কাজ করার জন্য ছুটতে পারছি না?
  • এ নশ্বর জগতের প্রতি আমার কেনই বা এতো প্রবল আকর্ষণ যা একদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাবে?”
অতএব হে যুবক, তওবা করতে অলসতা করো না। আল্লাহ মাফ করে দিবেন-এই ভরসায় তওবা করতে কাল বিলম্ব করো না।  কখনও একথা বলো না যে, এখন তো যৌবন কাল; বয়স হলে তওবা করে নেব। কারণ, মৃত্যু বুঝে না কোন যুবক-বৃদ্ধ,ধনী-দরিদ্র, কিংবা কোন আমীর-মন্ত্রী। যে যাই হোক না কেন সবাইকে মৃত্যু অবশ্যই গ্রাস করবে।
কবি বলেন,
বল পাপীরে, নেয় যেন আজি মৃত্যুর প্রস্তুতি।
মৃত্যু তাহারে লইবে ঘিরি; নেই কোন গতি।
যুবক কত বৃদ্ধ হল কালের চক্রবাঁকে।
অতীত কেবল অতীত রয় ফেরানো যায় না তাকে।
পাপীজন হায় সেই স্বত্বায় হয় না কেন সন্ত্রস্ত
শক্ত হাতে ধরেন যিনি পাপাচারীদের হস্ত।
কোন এক দিন দেখবে সে যে সঙ্কট অফুরান।
অগণন ক্লান্তি, কষ্ট প্রকোপে কেঁপে উঠে দেহ-প্রাণ।
আর কতদিন এমনি করে আবীর মাখা গায়
থাকবে ডুবে যুবক তুমি ভবের তামাশায়?
দুনিয়া পিয়াসী হয়েছো ব্যাকুল দুনিয়াদারীর মাঝে।
ডাকছে তোমায় মৃত্যুর দূত সকাল, বিকেল, সাঁঝে।
ক্ষণিকের পরে হয়ত হবে আবাস কবর গায়।
তবু কিনা সে গর্ব ভরে জীবন কাটিয়ে দেয়।
দিবস-যামী কমছে মোদের বয়সের গতিধারা
কামনা-বাসনা বাড়াতে মোরা তবুও আত্মহারা!
আল্লাহ আমাদেরকে এ ঘুম থেকে জাগ্রত করুন। আমাদেরকে মৃত্যুও তার পরবর্তী জীবনের কথা স্মরণ করার চেতনা দান করুন এবং আমাদের অন্তরে দান করুন তাঁর নেয়ামত রাজীর কৃতজ্ঞতা আদায় ও তার স্তুতি জ্ঞাপনের অনুপ্রেরণা।
তওবার প্রতিদান
আমার বক্তব্য শেষ করার পূর্বেই হয়ত আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন তওবা করলে এবং আল্লাহ মুখী হলে আমার কী লাভ হবে? আমি এতে কী প্রতিদান পাব? আমি বলব, এর একমাত্র প্রতিদান- চির শান্তির নীড় জান্নাত।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন,
أَعْدَدْتُ لِعِبَادِيَ الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ
“আমি আমার সৎকর্ম শীল বান্দাদের জন্য এমন সব সামগ্রী প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোন মনব চক্ষু অবলোকন করে নি কিংবা কোন মানব মনে যার কল্পনাও উদ্রেক হয় নি।”[13]
সহীহ বুখারীতে আরও বর্ণিত হয়েছে, আবু হারায়রা রা.  বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَوْضِعُ سَوْطٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
“জান্নাতের এক ধনুক সমপরিমাণ স্থান দুনিয়া ও তম্মধ্যস্থিত সবকিছু থেকে উত্তম।”[14]
সহীহ বুখারীতে সাহল বিন সাদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি,
مَوْضِعُ سَوْطٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
“জান্নাতের এক ছড়ি সমপরিমাণ স্থান দুনিয়া ও তম্মধ্যস্থিত সব কিছু হতে উত্তম।” (সহীহ বুখারী)
জগত বিখ্যাত মনিষী ইমাম ইবনে কাইয়েম র. বলেন, যে গৃহ আল্লাহ স্বহস্তে নির্মাণ করার পর তা তাঁর প্রিয় বান্দা-বান্দীদেরর জন্য আবাসস্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং রহমত ও সন্তোষ দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন সে গৃহের কিভাবে মূল্য পরিমাপ করা যায়?
জান্নাতের নির্মাণশৈলী  উপকরণ সামগ্রী:
 আপনি যদি জান্নাতের নির্মাণশৈলী ও উপকরণ সামগ্রী সম্পর্কে জানতে চান তাহলে নিম্নে তা উপস্থাপন করছি:
  • জান্নাতের মাটি কুস্তরী ও জাফরান সমৃদ্ধ।
  • জান্নাতের ছাদে আল্লাহর আরশ অবস্থিত।
  • জান্নাতের নুড়ি পাথর গুলো এক একটি মহামূল্যবান মনি-মুক্তা।
  • প্রাসাদের প্রতিটি ইট স্বর্ণের তৈরি।
  • বৃক্ষরাজির গোড়া গুলো সাধারণ কাঠ নয় বরং স্বর্ণ ও রৌপ্যের তৈরি।
  • এগুলোর ফল-ফলাদি মটকার মত বড়, মাখনের চেয়ে নরম এবং মধুর চেয়ে মিষ্টি।
  • এগুলোর পত্র-পল্লব মসৃণ কাপড়ের চেয়ে সুন্দর।
  • এর নদী-প্রস্রবণ কোনটি দুধের, যার সাধ পরিবর্তন হয় না। কোনটি শরাবের যা পানকারীদের রসনা তৃপ্ত করবে। আর কোনটি পরিষ্কার-স্বচ্ছ মধুর।
  • এর খাদ্য সামগ্রী হল জান্নাতিদের পছন্দ মাফিক বিচিত্র ধরণের ফলমূল ও নানা জাতের পাখির মাংস।
  • পানীয় হল তাসনীম ( সুমধুর পানীয় বিশেষ) যানজবীল (আদা) ও কর্পূর মিশ্রিত।
  • জান্নাতের প্রাসাদগুলোর দুই দরজার চৌকাঠের মধ্যে চল্লিশ বছরের পথের ব্যবধান।
  • এর মধ্যস্থিত বৃক্ষরাজির ছায়ার দৈর্ঘ্য হচ্ছে, একেকটি বৃক্ষের ছায়াতলে একজন দ্রুত গতি সম্পন্ন ঘোড়া সওয়ার এক হাজার বছর ধরে দ্রুত বেগে ঘোড়া ছুটিয়েও অতিক্রম করতে পারবে না।
  • এর পরিধি হল, একজন নিম্ন মর্যদার অধিকারী জান্নাতী তার রাজত্বের পরিসীমা, খাট-পালং, প্রাসাদ এবং বাগ-বাগিচার ভিতর দিয়ে দু হাজার বছর চলতে পারবে।
  • জান্নাতের তাঁবু এবং গম্বুজগুলো মণি-মুক্তার তৈরি। প্রতিটি তাঁবুর ভিতরের প্রশস্ততা ষাট মাইলের পথ।
  • আর জান্নাতিদের পরিধেয় হল, স্বর্ণ খচিত রেশমি পোশাক।
  • তাদের স্ত্রীগণ হবে উন্নত বক্ষা, সমবয়স্কা তরুণী। যাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে যৌবনের সুধা প্রবহমান। গোলাপের পাপড়ি এবং আপেল সদৃশ গণ্ডদেশ। ডালিম সদৃশ উন্নত বক্ষদেশ। মনি-মুক্তা সদৃশ সারিবদ্ধ দন্তরাজি। পাতলা, কমনীয় ও আকর্ষণীয় কোমর। মুখ মণ্ডলের সৌন্দর্য ছটায় যেন চন্দ্র-সূর্য প্রবাহিত হয়, আর মৃদু হাসিতে যেন বিদ্যুৎ চমকায়। এরা তারুণ্যে সকলেই সমবয়স্কা। তাদের সৌন্দর্য যেন আকাশের চন্দ্র-সূর্য কেও হার মানায়।
পরিশেষে দুয়া করি, মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরকে তওবা করার তওফীক দান করেন এবং তাঁর তওবা কারী বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করে নেন। তিনি সর্ব শ্রোতা ও দুয়া কবুল কারী।
——————-
টিকা:
[1] সূরা নূর: ৩১
[2] (তাহরীম: ৮)
[3] সহীহ বুখারী,অনুচ্ছেদ: তওবা, হা/৫৮৩৪, শামেলা
[4] সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ: তওবা করার প্রতি উৎসাহ দান এবং এতে খুশি হওয়া, হা/৪৯৩৪, শামেলা
[5]  সহীহ মুসলিম। অনুচ্ছেদ: গুনাহ থেকে তওবা করলে তা কবুল হওয়া যদিও বারবর গুনাহ সংঘটিত হয়, হা/৪৯৫৪, শামেলা
[6] সহীহ বুখারী। অনুচ্ছেদ: দিনে-রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তওবা, হা/৫৮৩২, শামেলা
[7] সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ: অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করা মুস্তাহাব, হা/৪৮৭১
[8] সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ: ঈমানদার ব্যক্তির নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা, হা/ ৫৬০৮
[9] তিরমিযী, সুনান ইবনে মাজাহ, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাসান, আলবানী
[10] সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ: অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করা মুস্তাহাব, হাদীস নং ৭০৩৬
[11]  সহীহ মুসলিম। অনুচ্ছেদ: হত্যা কারীর তওবা কবুল হবে যদিও হত্যার সংখ্যা প্রচুর পরিমান হয়। হা/৪৯৬৭
[12] সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি নিজের জিনার কথা স্বীকার করে। হা/৩২০৯
[13] সহীহ বুখারী হা/৩০০৫ ও মুসলিম, হা/৫০৫০(হাদীসে কুদসী)
[14] সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ: জান্নাতের বিবরণ এবং জান্নাত সৃষ্টি করা হয়েছে। হা/৩০১১

আল্লাহ আরশের উপর রয়েছেন, তবে জ্ঞানের মাধ্যমে তিনি আমাদের সাথে আছেন

 প্রশ্ন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿ تَعۡرُجُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ إِلَيۡهِ فِي يَوۡمٖ كَانَ مِقۡدَارُهُۥ خَمۡسِينَ أَلۡفَ سَنَةٖ ٤ ﴾ [المعارج: ٤]
“ফেরেশতাগণ ও রূহ এমন এক দিনে আল্লাহর পানে ঊর্ধ্বগামী হয়, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর”। 1সূরা মা‘আরিজ: (৪) এ আয়াত কি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা আরশে থেকে দুনিয়াবি কার্যাদি সম্পাদন করেন? যদি এ এরূপ হয়, তাহলে কিভাবে তিনি গলার ধমনীর চেয়েও আমাদের নিকটবর্তী?
উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ।
কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত যে, আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহের উর্ধ্বে আরশে আরোহণ করেছেন, তিনি সর্বোচ্চ ও মহান। তিনি সবার উপরে, তার উপরে কিছু নেই। ইরশাদ হচ্ছে:
﴿ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ مَا لَكُم مِّن دُونِهِۦ مِن وَلِيّٖ وَلَا شَفِيعٍۚ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ ٤﴾ [السجدة : ٤]
“আল্লাহ, যিনি আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোনো অভিভাবক নেই এবং নেই সুপারিশকারী। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না”? 2সূরা আলিফ লাম মীম সাজদাহ: (৪) অপর আয়াতে তিনি বলেন:
﴿ إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۖ ٣ ﴾ [يونس : ٣]
“নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ। যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তারপর আরশে উঠেছেন। তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন”। 3সূরা ইউনুস: (৩) অপর আয়াতে তিনি বলেন:
﴿إِلَيۡهِ يَصۡعَدُ ٱلۡكَلِمُ ٱلطَّيِّبُ وَٱلۡعَمَلُ ٱلصَّٰلِحُ يَرۡفَعُهُۥۚ ١٠ ﴾ [فاطر: ١٠]
“তাঁরই পানে উত্থিত হয় ভাল কথা আর নেক আমল তা উন্নীত করে”। 4সূরা ফাতির: (১০) অপর আয়াতে তিনি বলেন:
﴿هُوَ ٱلۡأَوَّلُ وَٱلۡأٓخِرُ وَٱلظَّٰهِرُ وَٱلۡبَاطِنُۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٌ ٣ ﴾ [الحديد: ٣]
“তিনিই প্রথম ও শেষ এবং সবকিছুর উপরে ও সবকিছুর নিকটে; আর তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবগত”। 5সূরা আল-হাদিদ: (৩) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ»
“আপনিই সবকিছুর উপরে, সুতরাং আপনার উপরে কিছু নেই”। 6মুসলিম: (২৭১৬) এ বিষয়ে আরো অনেক আয়াত ও হাদিস রয়েছে, এতদসত্ত্বেও আল্লাহ তা’আলা বলেছেন যে, তিনি বান্দার সাথে আছেন, যেখানেই তারা থাকুক, যেমন তিনি ইরশাদ করেন:
﴿ أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۖ مَا يَكُونُ مِن نَّجۡوَىٰ ثَلَٰثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمۡ وَلَا خَمۡسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمۡ وَلَآ أَدۡنَىٰ مِن ذَٰلِكَ وَلَآ أَكۡثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمۡ أَيۡنَ مَا كَانُواْۖ ٧ ﴾ [المجادلة: ٧]
“তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে নিশ্চয় আল্লাহ তা জানেন? তিন জনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না, আর পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। এর চেয়ে কম হোক কিংবা বেশি হোক, তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন, তারা যেখানেই থাকুক না কেন।”। 7সূরা আল-মুজাদালাহ: (৭) বরং একই আয়াতে তিনি বলেছেন আরশের উপরে আছেন, আবার বান্দার সাথেও আছেন, যেমন তিনি ইরশাদ করেন:
﴿ هُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يَعۡلَمُ مَا يَلِجُ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا يَخۡرُجُ مِنۡهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ وَمَا يَعۡرُجُ فِيهَاۖ وَهُوَ مَعَكُمۡ أَيۡنَ مَا كُنتُمۡۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٞ ٤ ﴾ [الحديد: ٤]
“তিনিই আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশে উঠেছেন। তিনি জানেন যমীনে যা কিছু প্রবেশ করে এবং তা থেকে যা কিছু বের হয়; আর আসমান থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যা কিছু উত্থিত হয়। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা”। 8সূরা আল-হাদিদ: (৪)
আল্লাহ বান্দার সাথে আছেন অর্থ এ নয় যে, তিনি মখলুকের সাথে মিলিত, বরং তার অর্থ তিনি জ্ঞান ও ইলমের দ্বারা বান্দার সাথে আছেন, তিনি আরশের উপরে, বান্দার কোনো আমল তার নিকট গোপন নয়। আর তিনি যে বলেছেন:
﴿ وَنَحۡنُ أَقۡرَبُ إِلَيۡهِ مِنۡ حَبۡلِ ٱلۡوَرِيدِ ١٦ ﴾ [ق: ١٦]
“আর আমরা তার গলার ধমনী হতেও অধিক কাছে”। 9সূরা কাফ: (১৬) অধিকাংশ মুফাসসির এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেছেন: এখানে উদ্দেশ্য মালায়েকা বা ফেরেশতাদের সাথে আল্লাহর নৈকট্য, যারা বান্দার আমল সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত। আর যারা বলেছেন, এখানে উদ্দেশ্য বান্দার সাথে আল্লাহর নৈকট্য, তারা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন আল্লাহর ইলম ও জ্ঞান, অর্থাৎ আল্লাহ ইলম ও জ্ঞান দ্বারা বান্দার নৈকট্যে আছেন, যেমন আল্লাহ বান্দার সাথে আছেন অর্থের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অভিমত, তারা বিশ্বাস করেন আল্লাহ আরশের উপর আছেন (বাস্তবিকই), অনুরূপ তিনি বান্দার সাথেও আছেন (জ্ঞানে)। তারা বিশ্বাস করে যে মখলুকের সাথে একাকার কিংবা মখলুকের মাঝে বিলিন হওয়া থেকে আল্লাহ পবিত্র। যারা আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করে, যেমন জাহমিয়া ও তাদের অনুসারীগণ আল্লাহর আরশে উঠা ও মখলুকের উপর উর্ধ্বে তাঁর অবস্থানকে অস্বীকার করে। তারা বলে: আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। আল্লাহ তাদেরকে হিদায়েত করুন।
শায়খ আব্দুর রহমান আল-বার্‌রাক

সানাউল্লাহ নজির আহমদ

সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নারীর জান্নাত যে পথে

 নারীর জান্নাত যে পথে

লিখেছেনঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সম্পাদনা : আলী হাসান তৈয়ব

প্রেক্ষাপট:
চারদিক থেকে ভেসে আসছে নির্দয় ও পাষন্ড স্বামী নামের হিংস্র পশুগুলোর আক্রমণের শিকার অসহায় ও অবলা নারীর করুণ বিলাপ। অহরহ ঘটছে দায়ের কোপ, লাথির আঘাত, অ্যাসিডে ঝলসানো, আগুনে পুড়ানো, বিষ প্রয়োগ এবং বালিশ চাপাসহ নানা দুঃসহ কায়দায় নারী মৃত্যুর ঘটনা। কারণ তাদের পাঠ্য সূচি থেকে ওঠে গেছে বিশ্ব নবির বাণী ‘‘তোমরা নারীদের প্রতি কল্যাণকামী হও।’’

আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

﴿ وَمَا كَانَ لِمُؤۡمِنٖ وَلَا مُؤۡمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمۡرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلۡخِيَرَةُ مِنۡ أَمۡرِهِمۡۗ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلٗا مُّبِينٗا ٣٦ ﴾ [الاحزاب: ٣٦]

‘‘আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য নিজদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।’’[1]

রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

«كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى، قالوا : يا رسول الله ومن يأبى؟ قال : من أطاعني دخل الجنة، ومن عصاني فقد أبى».

‘‘আমার প্রত্যেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যে অস্বীকার করবে। সাহাবারা প্রশ্ন করলেন, কে অস্বীকার করবে হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, যে আমার অনুসরণ করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হল, সে অস্বীকার করল।’’[2]

নারীর উপর পুরুষের কর্তৃত্ব :

আল্লাহ তাআলা বলেন :

﴿ ٱلرِّجَالُ قَوَّٰمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعۡضَهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖ وَبِمَآ أَنفَقُواْ مِنۡ أَمۡوَٰلِهِمۡۚ﴾ [النساء: ٣٤]

‘‘পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে।’’[3]

হাফেয ইবনে কাসির অত্র আয়াতের তাফসিরে বলেন, ‘‘পুরুষ নারীর তত্ত্বাবধায়ক। অর্থাৎ সে তার গার্জিয়ান, অভিভাবক, তার উপর কর্তৃত্বকারী ও তাকে সংশোধনকারী, যদি সে বিপদগামী বা লাইনচ্যুত হয়।’’[4]

এ ব্যাখ্যা রাসূলের হাদিস দ্বারাও সমর্থিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সেজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে নারীদের আদেশ করতাম স্বামীদের সেজদার করার জন্য। সে আল্লাহর শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার জীবন, নারী তার স্বামীর সব হক আদায় করা ব্যতীত, আল্লাহর হক আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে না। এমনকি স্বামী যদি তাকে বাচ্চা প্রসবস্থান থেকে তলব করে, সে তাকে নিষেধ করবে না।’’[5]

আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

﴿فَٱلصَّٰلِحَٰتُ قَٰنِتَٰتٌ حَٰفِظَٰتٞ لِّلۡغَيۡبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُۚ﴾ [النساء: ٣٤]

‘‘সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযতকারীনী ঐ বিষয়ের যা আল্লাহ হিফাযত করেছেন।’’[6]

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এ আয়াতের তাফসিরে বলেন, ‘সুতরাং নেককার নারী সে, যে আনুগত্যশীল। অর্থাৎ যে নারী সর্বদা স্বামীর আনুগত্য করে… নারীর জন্য আল্লাহ এবং তার রাসূলের হকের পর স্বামীর হকের মত অবশ্য কর্তব্য কোনো হক নেই।’[7]

হে নারীগণ, তোমরা এর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখ। বিশেষ করে সে সকল নারী, যারা সীমালঙ্ঘনে অভ্যস্ত, স্বেচ্ছাচার প্রিয়, স্বামীর অবাধ্য ও পুরুষের আকৃতি ধারণ করে। স্বাধীনতা ও নারী অধিকারের নামে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, যখন ইচ্ছা বাইরে যাচ্ছে আর ঘরে ফিরছে। যখন যা মন চাচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। তারাই দুনিয়া এবং দুনিয়ার চাকচিক্যের বিনিময়ে আখেরাত বিক্রি করে দিয়েছে। হে বোন, সতর্ক হও, চৈতন্যতায় ফিরে আস, তাদের পথ ও সঙ্গ ত্যাগ করে। তোমার পশ্চাতে এমন দিন ধাবমান যার বিভীষিকা বাচ্চাদের পৌঁছে দিবে বার্ধক্যে।

নারীদের উপর পুরুষের কর্তৃত্বের কারণ :

পুরুষরা নারীদের অভিভাবক ও তাদের উপর কর্তৃত্বশীল। যার মূল কারণ উভয়ের শারীরিক গঠন, প্রাকৃতিক স্বভাব, যোগ্যতা ও শক্তির পার্থক্য। আল্লাহ তা‘আলা নারী-পুরুষকে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য এবং ভিন্ন ভিন্ন রূপ ও অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।

দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ নেককার স্ত্রী :

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘পুরো দুনিয়া উপকৃত হওয়ার সামগ্রী, আর সবচে’ উপভোগ্য সম্পদ হল নেককার নারী।’’[8]

বুখারি ও মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘চারটি গুণ দেখে নারীদের বিবাহ করা হয়- সম্পদ, বংশ মর্যাদা, সৌন্দর্য ও দীনদারি। তবে তোমার হাত ধুলি ধুসরিত হোক, তুমি ধার্মিকতার দিক প্রাধান্য দিয়েই তুমি কামিয়াব হও।’’[9]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘চারটি বস্তু শুভ লক্ষণ। যথা : ১. নেককার নারী, ২. প্রশস্ত ঘর, ৩. সৎ প্রতিবেশী, ৪. সহজ প্রকৃতির আনুগত্যশীল-পোষ্য বাহন। পক্ষান্তরে অপর চারটি বস্তু কুলক্ষণা। তার মধ্যে একজন বদকার নারী।’’[10]

এসব আয়াত ও হাদিস পুরুষদের যেমন নেককার নারী গ্রহণ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে, তেমনি উৎসাহ দেয় নারীদেরকে আদর্শ নারীর সকল গুনাবলী অর্জনের প্রতি। যাতে তারা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় নেককার নারী হিসেবে গণ্য হতে পারে।

প্রিয় মুসলিম বোন, তোমার সামনে সে উদ্দেশেই নেককার নারীদের গুণাবলী পেশ করা হচ্ছে। যা চয়ন করা হয়েছে কুরআন, হাদিস ও পথিকৃৎ আদর্শবান নেককার আলেমদের বাণী ও উপদেশ থেকে। তুমি এগুলো শিখার ব্রত গ্রহণ কর। সঠিক রূপে এর অনুশীলন আরম্ভ কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘ইলম আসে শিক্ষার মাধ্যমে। শিষ্টচার আসে সহনশীলতার মাধ্যমে। যে কল্যাণ অনুসন্ধান করে, আল্লাহ তাকে সুপথ দেখান।’’[11]

নেককার নারীর গুণাবলি :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَٱلصَّٰلِحَٰتُ قَٰنِتَٰتٌ حَٰفِظَٰتٞ لِّلۡغَيۡبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُۚ﴾ [النساء: ٣٤]

ইবনে কাসির রহ. লিখেন,فالصالحات শব্দের অর্থ নেককার নারী, ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য মুফাসসিরের মতে قانتات শব্দের অর্থ স্বামীদের আনুগত্যশীল নারী, আল্লামা সুদ্দি ও অন্যান্য মুফাসসির বলেন حافظات للغيب শব্দের অর্থ স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের চরিত্র ও স্বামীর সম্পদ রক্ষাকারী নারী।’’[12]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, আপন লজ্জাস্থান হেফাযত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে তাকে বলা হবে, যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর।’’[13]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের সেসব স্ত্রী জান্নাতি, যারা মমতাময়ী, অধিক সন্তান প্রসবকারী, পতি-সঙ্গ প্রিয়- যে স্বামী গোস্বা করলে সে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি দুনিয়ার কোনো স্বাদ গ্রহণ করব না।’’[14]

সুনানে নাসাঈতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একদা জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল, কোনো নারী সব চেয়ে ভালো? তিনি বললেন, ‘‘যে নারী স্বামীকে আনন্দিত করে, যখন স্বামী তার দিকে দৃষ্টি দেয়। যে নারী স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী তাকে নির্দেশ দেয়, যে নারী স্বামীর সম্পদ ও নিজ নফসের ব্যাপারে, এমন কোনো কর্মে লিপ্ত হয় না, যা স্বামীর অপছন্দ।’’[15]

হে মুসলিম নারী, নিজকে একবার পরখ কর, ভেবে দেখ এর সাথে তোমার মিল আছে কতটুকু। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার পথ অনুসরণ কর। দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণ অর্জনের শপথ গ্রহণ কর। নিজ স্বামী ও সন্তানের ব্যাপারে যত্নশীল হও।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক মহিলাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘তোমার কি স্বামী আছে? সে বলল হ্যাঁ, রাসূল বললেন, তুমি তার কাছে কেমন? সে বলল, আমি তার সন্তুষ্টি অর্জনে কোনো ত্রুটি করি না, তবে আমার সাধ্যের বাইরে হলে ভিন্ন কথা। রাসূল বললেন, লক্ষ্য রেখ, সে-ই তোমার জান্নাত বা জাহান্নাম।’’[16]

উপরের আলোচনার আলোকে নেককার নারীর গুণাবলি :

১. নেককার : ভালো কাজ সম্পাদনকারী ও নিজ রবের হক আদায়কারী নারী।
২. আনুগত্যশীল : বৈধ কাজে স্বামীর আনুগত্যশীল নারী।
৩. সতী : নিজ নফসের হেফাযতকারী নারী, বিশেষ করে স্বামীর অবর্তমানে।
৪. হেফাযতকারী : স্বামীর সম্পদ ও নিজ সন্তান হেফাযতকারী নারী।
৫. আগ্রহী : স্বামীর পছন্দের পোশাক ও সাজ গ্রহণে আগ্রহী নারী।
৬. সচেষ্ট : স্বামীর গোস্বা নিবারণে সচেষ্ট নারী। কারণ হাদিসে এসেছে, স্বামী নারীর জান্নাত বা জাহান্নাম।
৭. সচেতন : স্বামীর চাহিদার প্রতি সচেতন নারী। স্বামীর বাসনা পূর্ণকারী।

যে নারীর মধ্যে এসব গুণ বিদ্যমান, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষ্য মতে জান্নাতী। তিনি বলেছেন, ‘‘যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, নিজ চরিত্র হেফাযত করে ও স্বামীর আনুগত্য করে, তাকে বলা হবে, যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে জান্নাতে প্রবেশ কর।’’[17]

পরিশেষে স্বামীদের উদ্দেশে বলি, আপনারা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন, তাদের কল্যাণকামী হোন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা নারীদের কল্যাণকামী হও। কারণ, তাদের পাঁজরের হাড্ডি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, পাঁজরের হাড্ডির ভেতর উপরেরটি সবচে’ বেশি বাঁকা। যদি সোজা করতে চাও, ভেঙে ফেলবে। আর রেখে দিলেও তার বক্রতা দূর হবে না, তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামিতার উপদেশ গ্রহণ কর।’’[18]

_________

[1] আহযাব:৩৬ [2] বুখারী [3] নিসা : ৩৪ [4] ইবনে কাসির : ১/৭২১ [5] সহিহ আল-জামে আল-সাগির : ৫২৯৫ [6] নিসা : ৩৪ [7] ফতওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ : ৩২/২৭৫ [8] মুসলিম [9] মুসলিম : ১০/৩০৫ [10] হাকেম, সহিহ আল-জামে : ৮৮৭ [11] দারে কুতনি [12] ইবনে কাসির : ১ : ৭৪৩ [13] ইবনে হিববান, সহিহ আল-জামে : ৬৬০ [14] আলবানির সহিহ হাদীস সংকলন : ২৮৭ [15] সহিহ সুনানে নাসায়ী : ৩০৩০ [16] আহমাদ : ৪ : ৩৪১ [17] ইবনে হিববান, আল-জামে : ৬৬০ [18] বর্ণনায় বুখারী, মুসলিম, বায়হাকি ও আরো অনেকে।

দানশীলতা

 দানশীলতা

==========

মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ۚوَمَآ أَنفَقۡتُم مِّن شَيۡءٖ فَهُوَ يُخۡلِفُهُۥۖ﴾ [سبا: ٣٩]
অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার বিনিময় দেবেন।” (সূরা সাবা’ ৩৯ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
﴿ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَلِأَنفُسِكُمۡۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ ٱللَّهِۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يُوَفَّ إِلَيۡكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تُظۡلَمُونَ﴾ [البقرة: ٢٧٢]
অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, তা নিজেদের উপকারের জন্যই। আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে তোমরা দান করো না। আর তোমরা যা দান কর, তার পুরস্কার পূর্ণভাবে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭২ আয়াত)
তিনি অন্যত্র বলেন,
﴿وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ﴾ [البقرة: ٢٧٣]
অর্থাৎ “আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাকারাহ ২৭৩ আয়াত)

হাদীসসমূহ:

1/549 وعن ابن مسعود رضي الله عنه، عن النبيِّ ﷺ، قَالَ: «لا حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً، فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ في الحَقّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ حِكْمَةً، فَهُوَ يَقْضِي بِهَا ويُعَلِّمُهَا » متفقٌ عَلَيْهِ
১/৫৪৯। ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কেবলমাত্র দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়

(১) ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তাকে হক পথে অকাতরে দান করার ক্ষমতা দান করেছেন এবং

(২) ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ হিকমত দান করেছেন, অতঃপর সে তার দ্বারা ফায়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]

* হাদীসের অর্থ হল, উক্ত দুই প্রকার মানুষ ছাড়া অন্য কারো প্রতি ঈর্ষা করা বৈধ নয়।

2/550 وَعَنهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «أيُّكُم مَالُ وَارِثِهِ أحبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِهِ ؟ » قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا مِنَّا أحَدٌ إِلاَّ مَالُهُ أحَبُّ إِلَيْهِ . قَالَ: «فإنَّ مَالَهُ مَا قَدَّمَ وَمَالَ وَارِثِهِ مَا أخَّرَ ». رواه البخاري

২/৫৫০। উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে প্রশ্ন করলেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কে আছে, যে নিজের সম্পদের চেয়ে তার ওয়ারেসের সম্পদকে বেশি প্রিয় মনে করে?’’ তাঁরা জবাব দিলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মাঝে এমন কোন ব্যক্তি কেউ নেই, যে তার নিজের সম্পদকে বেশি প্রিয় মনে করে না।’ তখন তিনি বললেন, ‘‘নিশ্চয়ই মানুষের নিজের সম্পদ তাই, যা সে আগে পাঠিয়েছে। আর এ ছাড়া যে মাল বাকী থাকবে, তা হল ওয়ারিসের মাল।’’ (বুখারী) [2]

3/551 عَن عَدِي بنِ حَاتمٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ النَّبيّ ﷺ، يَقُولُ: «اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ ». مُتَّفَقٌ عليه
৩/৫৫১। আদী ইবনে হাতেম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো; যদিও খেজুরের এক টুকরো সাদকাহ করে হয়!’’ (বুখারী-মুসলিম) [3]

4/552 وَعَن جَابرٍ رضي الله عنه، قَالَ: مَا سُئِلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ شَيْئاً قَطُّ، فَقَالَ: لاَ . متفقٌ عَلَيْهِ
৪/৫৫২। জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন কোনো জিনিসই চাওয়া হয়নি, যা জবাব দিয়ে তিনি ‘না’ বলেছেন। (অর্থাৎ কোনো কিছু তাঁর কাছে চাওয়া হলে তিনি তা দিতে কখনো নিষেধ করেন নি) (বুখারী ও মুসলিম) [4]

5/553 وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ:« مَا مِنْ يَوْمٍ يُصبِحُ العِبَادُ فِيهِ إِلاَّ مَلَكَانِ يَنْزِلاَنِ، فَيَقُولُ أحَدُهُمَا: اَللهم أعْطِ مُنْفِقاً خَلَفاً، وَيَقُولُ الآخَرُ: اَللهم أعْطِ مُمْسِكاً تَلَفاً». متفقٌ عَلَيْهِ
৫/৫৫৩। আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘প্রতিদিন সকালে দু’জন ফিরিশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, ‘হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের বিনিময় দিন।’ আর অপরজন বলেন, ‘হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস দিন।’’ (বুখারী-মুসলিম) [5]

6/554 وَعَنهُ: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: «قَالَ الله تَعَالَى: أنفِق يَا ابْنَ آدَمَ يُنْفَقْ عَلَيْكَ ». متفقٌ عَلَيْهِ
৬/৫৫৪। উক্ত রাবী কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি (অভাবীকে) দান কর, আল্লাহ তোমাকে দান করবেন।’ (বুখারী-মুসলিম) [6]

7/555 وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أنَّ رَجُلاً سَألَ رَسُولَ اللهِ ﷺ: أيُّ الإِسلاَمِ خَيْرٌ ؟ قَالَ:« تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ ». متفقٌ عَلَيْهِ
৭/৫৫৫। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ইসলামের কোন্ কাজটি উত্তম?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘‘তুমি অন্নদান করবে এবং পরিচিত ও অপরিচিত সবাইকে সালাম দেবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [7]

8/556 وَعَنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله ﷺ:«أرْبَعُونَ خَصْلَةً: أعْلاَهَا مَنيحَةُ العَنْزِ، مَا مِنْ عَامِلٍ يَعْمَلُ بِخَصْلَة مِنْهَا ؛ رَجَاءَ ثَوَابِهَا وتَصْدِيقَ مَوْعُودِهَا، إلاَّ أدْخَلَهُ اللهُ بِهَا الجَنَّةَ». رواه البخاري
৮/৫৫৬। উক্ত রাবী কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘চল্লিশটি সৎকর্ম আছে, তার মধ্যে উচ্চতম হল, দুধ পানের জন্য (কোন দরিদ্রকে) ছাগল সাময়িকভাবে দান করা। যে কোন আমলকারী এর মধ্য হতে যে কোন একটি সৎকর্মের উপর প্রতিদানের আশা করে ও তার প্রতিশ্রুত পুরস্কারকে সত্য জেনে আমল করবে, তাকে আল্লাহ তার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’’ (বুখারী, ১৪২ নম্বরেও গত হয়েছে।) [8]

9/557 وَعَن أَبي أُمَامَة صُدّيِّ بنِ عَجْلانَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «يَا ابْنَ آدَمَ، إنَّكَ أن تَبْذُلَ الفَضلَ خَيْرٌ لَكَ، وَأن تُمْسِكَه شَرٌّ لَكَ، وَلاَ تُلاَمُ عَلَى كَفَافٍ، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ، وَاليَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى ». رواه مسلم
৯/৫৫৭। আবূ উমামাহ সুদাই ইবন আজলান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘হে আদম সন্তান! প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাল (আল্লাহর পথে) খরচ করা তোমার জন্য মঙ্গল এবং তা আটকে রাখা তোমার জন্য অমঙ্গল। আর প্রয়োজন মত মালে তুমি নিন্দিত হবে না। প্রথমে তাদেরকে দাও, যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে। আর উপরের (উপুড়) হাত নিচের (চিৎ) হাত অপেক্ষা উত্তম।’’ (মুসলিম)[9]

10/558 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: مَا سُئِلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَى الإسْلاَمِ شَيْئاً إِلاَّ أعْطَاهُ، وَلَقَدْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَأعْطَاهُ غَنَماً بَيْنَ جَبَلَيْنِ، فَرجَعَ إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ: يَا قَوْمِ، أسْلِمُوا فإِنَّ مُحَمَّداً يُعطِي عَطَاءَ مَن لاَ يَخْشَى الفَقْر، وَإنْ كَانَ الرَّجُلُ لَيُسْلِمُ مَا يُريدُ إِلاَّ الدُّنْيَا، فَمَا يَلْبَثُ إِلاَّ يَسِيراً حَتَّى يَكُونَ الإسْلاَمُ أحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا . رواه مسلم
১০/৫৫৮। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ইসলামের স্বার্থে (অর্থাৎ নও মুসলিমের পক্ষ থেকে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যা চাওয়া হত, তিনি তা-ই দিতেন। (একবার) তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এল। তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মধ্যস্থলের সমস্ত বকরীগুলো দিয়ে দিলেন। অতঃপর সে তার সম্প্রদায়ের নিকট গিয়ে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। কেননা, মুহাম্মাদ ঐ ব্যক্তির মত দান করেন, যার দরিদ্রতার ভয় নেই।’ যদিও কোন ব্যক্তি কেবলমাত্র দুনিয়া অর্জন করার জন্য ইসলাম গ্রহণ করত, কিন্তু কিছুদিন পরেই ইসলাম তার নিকট দুনিয়া এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে সব কিছু থেকে প্রিয় হয়ে যেত। (মুসলিম) [10]

11/559 وَعَن عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ: قَسَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَسْماً، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَغَيْرُ هؤلاَءِ كَانُوا أحَقَّ بِهِ مِنْهُمْ؟ فَقَالَ:« إنَّهُمْ خَيَّرُونِي أنْ يَسأَلُوني بِالفُحْشِ، أَوْ يُبَخِّلُونِي، وَلَسْتُ بِبَاخِلٍ ». رواه مسلم
১১/৫৫৯। উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু মাল বণ্টন করলেন। অতঃপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! অন্য লোকেরা এদের চেয়ে এ মালের বেশি হকদার ছিল।’ তিনি বললেন, ‘‘এরা আমাকে দু’টি কথার মধ্যে একটা না একটা গ্রহণ করতে বাধ্য করছে। হয় তারা আমার নিকট অভদ্রতার সাথে চাইবে (আর আমাকে তা সহ্য করে তাদেরকে দিতে হবে) অথবা তারা আমাকে কৃপণ আখ্যায়িত করবে। অথচ, আমি কৃপণ নই।’’ (মুসলিম) [11]

12/560 وَعَن جُبَيرِ بنِ مُطعِمٍ رضي الله عنه، قَالَ: بَيْنَمَا هُوَ يَسِيرُ مَعَ النَّبيِّ ﷺ مَقْفَلَهُ مِنْ حُنَيْن، فَعَلِقَهُ الأعْرَابُ يَسْألُونَهُ، حَتَّى اضْطَرُّوهُ إِلَى سَمُرَةٍ، فَخَطِفَت رِدَاءَهُ، فَوَقَفَ النَّبيُّ ﷺ، فَقَالَ: « أعْطُونِي رِدَائي، فَلَوْ كَانَ لِي عَدَدُ هذِهِ العِضَاهِ نَعَماً، لَقَسَمْتُهُ بَينَكُمْ، ثُمَّ لاَ تَجِدُونِي بَخِيلاً وَلاَ كَذّاباً وَلاَ جَبَاناً ». رواه البخاري
১২/৫৬০। জুবাইর ইবনে মুত্বইম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তিনি হুনাইনের যুদ্ধ থেকে ফিরার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আসছিলেন। (পথিমধ্যে) কতিপয় বেদুঈন তাঁর নিকট অনুনয়-বিনয় করে চাইতে আরম্ভ করল, এমন কি শেষ পর্যন্ত তারা তাঁকে বাধ্য করে একটি বাবলা গাছের কাছে নিয়ে গেল। যার ফলে তাঁর চাদর (গাছের কাঁটায়) আটকে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেমে গেলেন এবং বললেন, ‘‘তোমরা আমাকে আমার চাদরখানি দাও। যদি আমার নিকট এসব (অসংখ্য) কাঁটা গাছের সমান উঁট থাকত, তাহলে আমি তা তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে দিতাম। অতঃপর তোমরা আমাকে কৃপণ, মিথ্যুক বা কাপুরুষ পেতে না।’’ (বুখারী) [12]

13/561 وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: «مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ، وَمَا زَادَ اللهُ عَبْداً بِعَفْوٍ إِلاَّ عِزّاً، وَمَا تَواضَعَ أحَدٌ للهِ إِلاَّ رَفَعَهُ اللهُ – عز وجل – ». رواه مسلم
১৩/৫৬১। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সাদকাহ করলে মাল কমে যায় না এবং ক্ষমা করার বিনিময়ে আল্লাহ তা‘আলা (ক্ষমাকারীর) সম্মান বৃদ্ধি করেন। আর কেউ আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য বিনয়ী হলে, আল্লাহ আয্যা অজাল্ল তাকে উচ্চ করেন।’’ (মুসলিম) [13]

14/562 وَعَن أَبي كَبشَةَ عَمرِو بنِ سَعدٍ الأنمَارِي رضي الله عنه: أنّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ، يَقُولُ: «ثَلاَثَةٌ أُقْسِمُ عَلَيْهِنَّ، وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثاً فَاحْفَظُوهُ: مَا نَقَصَ مَالُ عَبْدٍ مِنْ صَدَقَةٍ، وَلاَ ظُلِمَ عَبْدٌ مَظْلَمَةً صَبَرَ عَلَيْهَا إِلاَّ زَادَهُ اللهُ عِزّاً، وَلاَ فَتَحَ عَبْدٌ بَابَ مَسألَةٍ إِلاَّ فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقرٍ» – أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا- «وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثاً فَاحْفَظُوهُ» قَالَ: «إنَّمَا الدُّنْيَا لأرْبَعَةِ نَفَرٍ: عَبْدٍ رَزَقَهُ اللهُ مَالاً وَعِلماً، فَهُوَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ، وَيَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ، وَيَعْلَمُ للهِ فِيهِ حَقَّاً، فَهَذَا بِأَفضَلِ المَنَازِلِ . وَعَبْدٍ رَزَقهُ اللهُ عِلْماً، وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالاً، فَهُوَ صَادِقُ النِّيَّةِ، يَقُولُ: لَوْ أنَّ لِي مَالاً لَعَمِلتُ بِعَمَلِ فُلانٍ، فَهُوَ بنيَّتِهِ، فأجْرُهُمَا سَوَاءٌ . وَعَبْدٍ رَزَقَهُ الله مَالاً، وَلَمَ يَرْزُقْهُ عِلْماً، فَهُوَ يَخبطُ في مَالِهِ بغَيرِ عِلْمٍ، لاَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ، وَلاَ يَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ، وَلاَ يَعْلَمُ للهِ فِيهِ حَقّاً، فَهذَا بِأَخْبَثِ المَنَازِلِ . وَعَبْدٍ لَمْ يَرْزُقْهُ اللهُ مَالاً وَلاَ عِلْماً، فَهُوَ يَقُولُ: لَوْ أنَّ لِي مَالاً لَعَمِلْتُ فِيهِ بعَمَلِ فُلاَنٍ، فَهُوَ بنِيَّتِهِ، فَوِزْرُهُمَا سَوَاءٌ». رواه الترمذي، وقال: «حديث حسن صحيح »
১৪/৫৬২। আবূ কাবশাহ ‘আমর ইবনে সা‘দ আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘‘আমি তিনটি জিনিসের ব্যাপারে শপথ করছি এবং তোমাদেরকে একটি হাদীস বলছি তা স্মরণ রাখোঃ

(১) কোন বান্দার মাল সাদকাহ করলে কমে যায় না।

(২) কোন বান্দার উপর কোন প্রকার অত্যাচার করা হলে এবং সে তার উপর ধৈর্য-ধারণ করলে আল্লাহ নিশ্চয় তার সম্মান বাড়িয়ে দেন, আর

(৩) কোন বান্দা যাচ্ঞার দুয়ার উদ্ঘাটন করলে আল্লাহ তার জন্য দরিদ্রতার দরজা উদ্ঘাটন করে দেন।’’ অথবা এই রকম অন্য শব্দ তিনি ব্যবহার করলেন।

‘‘আর তোমাদেরকে একটি হাদীস বলছি তা স্মরণ রাখো।’’ তিনি বললেন, ‘‘দুনিয়ায় চার প্রকার লোক আছে;

(১) ঐ বান্দা, যাকে আল্লাহ ধন ও (ইসলামী) জ্ঞান দান করেছেন। অতঃপর সে তাতে আল্লাহকে ভয় করে এবং তার মাধ্যমে নিজ আত্মীয়তা বজায় রাখে। আর তাতে যে আল্লাহর হক রয়েছে তা সে জানে। অতএব সে (আল্লাহর কাছে) সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্তরে অবস্থান করবে।

(২) ঐ বান্দা, যাকে আল্লাহ (ইসলামী) জ্ঞান দান করেছেন; কিন্তু মাল দান করেননি। সে নিয়তে সত্যনিষ্ঠ, সে বলে যদি আমার মাল থাকত, তাহলে আমি (পূর্বোক্ত) অমুকের মত কাজ করতাম। সুতরাং সে নিয়ত অনুসারে বিনিময় পাবে; এদের উভয়ের প্রতিদান সমান।

(৩) ঐ বান্দা, যাকে আল্লাহ মাল দান করেছেন; কিন্তু (ইসলামী) জ্ঞান দান করেননি। সুতরাং সে না জেনে অবৈধরূপে নির্বিচারে মাল খরচ করে; সে তাতে আল্লাহকে ভয় করে না, তার মাধ্যমে নিজ আত্মীয়তা বজায় রাখে না এবং তাতে যে আল্লাহর হক রয়েছে তাও সে জানে না। অতএব সে (আল্লাহর কাছে) সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্তরে অবস্থান করবে। আর

(৪) ঐ বান্দা, যাকে আল্লাহ ধন ও (ইসলামী) জ্ঞান কিছুই দান করেননি। কিন্তু সে বলে, যদি আমার নিকট মাল থাকত, তাহলে আমিও (পূর্বোক্ত) অমুকের মত কাজ করতাম।
সুতরাং সে নিয়ত অনুসারে বিনিময় পাবে; এদের উভয়ের পাপ সমান।’’ (তিরমিযী হাসান সহীহ সূত্রে) [14]

15/563 وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أنَّهُمْ ذَبَحُوا شَاةً، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ:«مَا بَقِيَ مِنْهَا ؟» قَالَت: مَا بَقِيَ مِنْهَا إِلاَّ كَتِفُها. قَالَ:« بَقِيَ كُلُّهَا غَيْرُ كَتِفِهَا ». رواه الترمذي، وقال: «حديث صحيح »
১৫/৫৬৩। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, একদা তাঁরা একটি ছাগল জবাই করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘ছাগলটির কতটা (মাংস) অবশিষ্ট আছে?’’ (আয়েশা) বললেন, ‘কেবলমাত্র কাঁধের মাংস ছাড়া তার কিছুই বাকী নেই।’ তিনি বললেন, ‘‘(বরং) কাঁধের মাংস ছাড়া সবটাই বাকী আছে।’’ (তিরমিযী, বিশুদ্ধ সূত্রে) [15]

* অর্থাৎ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বললেন, ‘তার সবটুকু মাংসই সাদকা করে দেওয়া হয়েছে এবং কেবলমাত্র কাঁধের মাংস বাকী রয়ে গেছে।’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘‘কাঁধের মাংস ছাড়া সবই আখেরাতে আমাদের জন্য বাকী আছে।’’ (আসলে যা দান করা হয়, তাই বাকী থাকে।)

16/564 وَعَن أَسمَاءَ بِنتِ أَبي بَكرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَت: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ: «لاَ تُوكِي فَيُوكَى عَلَيْكِ». وَفِي رِوَايَةٍ: «أنفقي أَوِ انْفَحِي، أَوْ انْضَحِي، وَلاَ تُحصِي فَيُحْصِي اللهُ عَلَيْكِ، وَلاَ تُوعي فَيُوعي اللهُ عَلَيْكِ ». متفقٌ عَلَيْهِ
১৬/৫৬৪। আসমা বিনতে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘তুমি সম্পদ বেঁধে (জমা করে) রেখো না, এরূপ করলে তোমার নিকট (আসা থেকে) তা বেঁধে রাখা হবে।’’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘খরচ কর, অথবা ছেড়ে দাও, অথবা প্রবাহমান কর, গুনে গুনে রেখো না, এরূপ করলে আল্লাহও তোমাকে গুনে গুনে দেবেন। আর তুমি জমা করে রেখো না, এরূপ করলে আল্লাহও তোমার প্রতি (খরচ না করে) জমা করে রাখবেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [16]

17/565 وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ، يَقُولُ: «مَثَل البَخِيلِ وَالمُنْفِقِ، كَمَثَلِ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا جُنَّتَانِ مِنْ حَدِيدٍ مِنْ ثُدِيِّهِمَا إِلَى تَرَاقِيهِمَا، فَأَمَّا المُنْفِقُ فَلاَ يُنْفِقُ إِلاَّ سَبَغَتْ – أَوْ وَفَرَتْ – عَلَى جِلْدِهِ حَتَّى تُخْفِيَ بَنَانَهُ، وَتَعْفُو أثرَهُ، وأمَّا البَخِيلُ، فَلاَ يُرِيدُ أَنْ يُنْفِقَ شَيْئاً إِلاَّ لَزِقَتْ كُلُّ حَلْقَةٍ مَكَانَهَا، فَهُوَ يُوسِّعُهَا فَلاَ تَتَّسِعُ ». متفقٌ عَلَيْهِ
১৭/৫৬৫। আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘‘কৃপণ ও দানশীলের দৃষ্টান্ত এমন দুই ব্যক্তির মত, যাদের পরিধানে দু’টি লোহার বর্ম রয়েছে। যা তাদের বুক থেকে টুঁটি পর্যন্ত বিস্তৃত। সুতরাং দানশীল যখন দান করে, তখনই সেই বর্ম তার সারা দেহে বিস্তৃত হয়ে যায়, এমনকি (তার ফলে) তা তার আঙ্গুলগুলোকেও ঢেকে ফেলে এবং তার পদচিহ্ন (পাপ বা ত্রুটি) মুছে দেয়। পক্ষান্তরে কৃপণ যখনই কিছু দান করার ইচ্ছা করে, তখনই বর্মের প্রতিটি আংটা যথাস্থানে এঁটে যায়। সে তা প্রশস্ত করতে চাইলেও তা প্র্রশস্ত হয় না।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [17]

18/566 وَعَنهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «مَنْ تَصَدَّقَ بعَدلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ، وَلاَ يَقْبَلُ اللهُ إِلاَّ الطَّيبَ، فَإنَّ اللهَ يَقْبَلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهَا كَمَا يُرَبِّي أحَدُكُمْ فَلُوَّهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الجَبَلِ ». متفقٌ عَلَيْهِ
১৮/৫৬৬। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি (তার) বৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ থেকে একটি খেজুর পরিমাণও কিছু দান করে—আর আল্লাহ তো বৈধ অর্থ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণই করেন না—সে ব্যক্তির ঐ দানকে আল্লাহ ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর তা ঐ ব্যক্তির জন্য লালন-পালন করেন; যেমন তোমাদের কেউ তার অশব-শাবককে লালন-পালন করে থাকে। পরিশেষে তা পাহাড়ের মত হয়ে যায়।’’ (বুখারী-মুসলিম) [18]
19/567 وَعَنهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: «بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِفَلاَةٍ مِنَ الأَرْضِ، فَسَمِعَ صَوْتاً في سَحَابَةٍ، اِسقِ حَدِيقَةَ فُلانٍ، فَتَنَحَّى ذَلِكَ السَّحَابُ فَأفْرَغَ مَاءَهُ فِي حَرَّةٍ، فإِذَا شَرْجَةٌ مِنْ تِلْكَ الشِّرَاجِ قَدِ اسْتَوْعَبَت ذَلِكَ الماءَ كُلَّهُ، فَتَتَبَّعَ المَاءَ، فإذَا رَجُلٌ قَائمٌ في حَدِيقَتِهِ يُحَوِّلُ الماءَ بِمِسحَاتِهِ، فَقَالَ لَهُ: يَا عَبْدَ اللهِ، مَا اسمُكَ ؟ قال: فُلانٌ لِلاِسمِ الَّذِي سَمِعَ في السَّحَابَةِ، فَقَالَ لَهُ: يَا عَبدَ اللهِ، لِمَ تَسْألُنِي عَنِ اسْمِي؟ فَقَالَ: إنِّي سَمِعْتُ صَوتْاً فِي السَّحَابِ الَّذِي هَذَا مَاؤُهُ، يَقُولُ: اِسْقِ حَدِيقَةَ فُلاَنٍ لاِسمِكَ، فَمَا تَصْنَعُ فِيهَا، فَقَالَ: أمَا إِذ قُلتَ هَذَا، فَإنِّي أنْظُرُ إِلَى مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، فَأتَصَدَّقُ بِثُلُثِهِ، وَآكُلُ أنَا وَعِيَالِي ثُلُثاً، وَأردُّ فِيهَا ثُلُثَهُ ». رواه مسلم
১৯/৫৬৭। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘এক ব্যক্তি বৃক্ষহীন প্রান্তরে মেঘ থেকে শব্দ শুনতে পেল, ‘অমুকের বাগানে বৃষ্টি বর্ষণ কর।’ অতঃপর সেই মেঘ সরে গিয়ে কালো পাথুরে এক ভূমিতে বর্ষণ করল। তারপর (সেখানকার) নালাসমূহের মধ্যে একটি নালা সম্পূর্ণ পানি নিজের মধ্যে জমা করে নিল। লোকটি সেই পানির অনুসরণ করে কিছু দূর গিয়ে দেখল, একটি লোক কোদাল দ্বারা নিজ বাগানের দিকে পানি ঘুরাচ্ছে। সে তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার নাম কি ভাই?’ বলল, ‘অমুক।’ এটি ছিল সেই নাম, যে নাম মেঘের আড়ালে সে শুনেছিল। বাগান-ওয়ালা বলল, ‘ওহে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার নাম কেন জিজ্ঞাসা করলে?’ লোকটি বলল, ‘আমি মেঘের আড়াল থেকে তোমার নাম ধরে তোমার বাগানে বৃষ্টি বর্ষণ করতে আদেশ শুনলাম। তুমি কি এমন কাজ কর?’ বাগান-ওয়ালা বলল, ‘এ কথা যখন বললে, তখন বলতে হয়; আমি এই বাগানের উৎপন্ন ফল-ফসলকে ভেবে-চিন্তে তিন ভাগে ভাগ করি। অতঃপর তার এক ভাগ দান করি, এক ভাগ আমি আমার পরিজন সহ খেয়ে থাকি এবং বাকী এক ভাগ বাগানের চাষ-খাতে ব্যয় করি।’’ (মুসলিম) [19]

[1] সহীহুল বুখারী ৭৩, ১৪০৯, ৭১৪১, ৭৩১৬, মুসলিম ৮১৬, ইবনু মাজাহ ৪২১৬৮, আহমাদ ৩৬৪৩, ৪০৯৮
[2] সহীহুল বুখারী ৬৪৪২, নাসায়ী ৩৬১২, আহমাদ ৩৬১৯
[3] সহীহুল বুখারী ১৪১৩, ১৪১৭,৩৫৯৫, ৬০২৩, ৬৫৩৯, ৬৫৬৩, ৭৪৪৩, ৭৫১২, মুসলিম ১০১৬, নাসায়ী ২৫৫২, ২৫৫৩, আহমাদ ১৭৭৮২
[4] সহীহুল বুখারী ৬০৩৪, মুসলিম ২৩১১, আহমাদ ১৩৭৭২, দারেমী ৭০
[5] সহীহুল বুখারী ১৪৪২, মুসলিম ১০১০, আহমাদ ২৭২৯৪
[6] সহীহুল বুখারী ৪৬৮৪, ৫৩৫২, ৭৪১১, ৭৪১৯, ৭৪৯৬, তিরমিযী ৩০৪৫, ইবনু মাজাহ ১৯৭, আহমাদ ৭২৫৬, ২৭৩৫৭, ২৭৩৭০, ৯৬৬১, ১০১২২
[7] সহীহুল বুখারী ১২, ২৮, ৬২৩৬, মুসলিম ৩৯, তিরমিযী ১৮৫৫, নাসায়ী ৫০০০, আবূ দাউদ ৫১৫৪, ইবনু মাজাহ ৩২৫৩, ৩৬৯৪, আহমাদ ৬৫৪৫, ৬৮০৯, দারেমী ২০৮১
[8] সহীহুল বুখারী ২৬৩১, আবূ দাউদ ১৬৮৩, আহমাদ ৬৪৫২, ৬৭৯২, ৬৮১৪
[9] মুসলিম ১০৩৬, তিরমিযী ২৩৪৩, আহমাদ ১২৭৬২
[10] মুসলিম ২৩১২, আহমাদ ১১৬৩৯, ১২৩৭৯, ১৩৩১৯, ১৩৬১৫
[11] মুসলিম ১০৫৬, আহমাদ ১২৮, ২৩৬
[12] সহীহুল বুখারী ২৮২১, ৩১৪৮, আহমাদ ১৬৩১৫, ১৬৩৩৪
[13] মুসলিম ২৫৮৮, তিরমিযী ২০২৯, আহমাদ ৭১৬৫, ৮৭৮২, ৯৩৬০, মুয়াত্তা মালিক ১৮৮৫, দারেমী ১৬৭৬
[14] তিরমিযী ২৩২৫, ইবনু মাজাহ ৪২২৮, আহমাদ ১৭৫৭০
[15] তিরমিযী ২৪৭০, আহমাদ ২৩
[16] সহীহুল বুখারী ১৪৩৩, ১৪৩৪, ২৫৯০, ২৫৯১, মুসলিম ১০২৯, তিরমিযী ১৯৬০, নাসায়ী ২৫৫১, আবূ দাউদ ১৬৯৯, আহমাদ ২৪৫৫৮, ২৬৩৭২, ২৬৩৮২, ২৬৩৯৪, ২৬৪৩০, ২৬৪৪০, ২৬৪৪৭
[17] সহীহুল বুখারী ১৪৪৪, ২৯১৭, ৫৭৯৭, মুসলিম ১০২১, নাসায়ী ২৫৪৭, ২৫৪৮, আহমাদ ৭৪৩৪, ৮৮১৪, ১০৩৯১
[18] সহীহুল বুখারী ১৪১০, মুসলিম ১০১৪, তিরমিযী ৬৬১, নাসায়ী ২৫২৫, ইবনু মাজাহ ১৮৪২, আহমাদ ৭৫৭৮, ৮১৮১, ৮৭৮৩, ৮৯৯২, ৯১৪২, ৯১৪৯, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৭৪, দারেমী ১৬৭৫
[19] মুসলিম ২৯৮৪, আহমাদ ৭৮৮১
____________________________________________________________________________________________________________

সংকলন : ইমাম মুহিউদ্দীন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন শরফ আন-নাওয়াবী রহ.
হাদীসের শুদ্ধাশুদ্ধি নির্ণয় : শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ.
অনুবাদক : বিশিষ্ট আলেমবর্গ
অনুবাদ সম্পাদনা : আব্দুল হামীদ ফাইযী

Saturday, December 18, 2021

সুখী জীবনের জন্য ২৫ টি টিপস

 সুখী জীবনের জন্য ২৫ টি টিপসঃ

?????????

১. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন৷
২. নির্জন কোন স্থানে একাকী অন্তত ১০ মিনিট বসুন।
৩. ঘুম থেকে উঠেই প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন। সারা দিনের করণীয় গুলো সম্পর্কে মনস্থির করুন।
৪. নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরে তৈরি খাবার বেশি খাবেন আর প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাবেন।
৫. সবুজ চা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৬. প্রতিদিন অন্তত ৩ জনের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন।
৭. গালগপ্প, অতীতের স্মৃতি, বাজে চিন্তা করে আপনার মূল্যবান সময় এবং শক্তি অপচয় করবেন না। ভাল কাজে সময় ও শক্তি ব্যয় করুন।
৮. সকালের নাস্তা রাজার মত, দুপুরের খাবার প্রজার মত এবং রাতের খাবার খাবেন ভিক্ষুকের মত।
৯. জীবন সব সময় সমান যায় না, তবুও ভাল কিছুর অপেক্ষা করতে শিখুন।
১০. অন্যকে ঘৃনা করে সময় নষ্ট করার জন্য জীবন খুব ছোট, সকলকে ক্ষমা করে দিন সব কিছুর জন্য।
১১. কঠিন করে কোন বিষয় ভাববেন না। সকল বিষয়ের সহজ সমাধান চিন্তা করুন।
১২. সব তর্কে জিততে হবে এমন নয়, তবে মতামত হিসাবে মেনে নিতে পারেন আবার নাও মেনে নিতে পারেন।
১৩. আপনার অতীতকে শান্তভাবে চিন্তা করুন, ভূলগুলো শুধরে নিন। অতীতের জন্য বর্তমানকে নষ্ট করবেন না।
১৪. অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবন তুলনা করবেন না।
১৫. কেউ আপনার সুখের দায়িত্ব নিয়ে বসে নেই। আপনার কাজই আপনাকে সুখ এনে দেবে।
১৬. প্রতি ৫ বছরমেয়াদী পরিকল্পনা করুন এবং ওই সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করুন।
১৭. গরীবকে সাহায্য করুন। দাতা হোন, গ্রহীতা নয়।
১৮. অন্য লোকে আপনাকে কি ভাবছে তা তাদের ব্যপার আপনার এ নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই।
১৯. কষ্ট পুষে রাখবেন না। কারণ সময়ের স্রোতে সব কষ্ট ভেসে যায়।
২০. মনে রাখবেন সময় যতই ভাল বা খারাপ হোক তা বদলাবেই।
২১. অসুস্থ হলে আপনার ব্যবসা বা চাকুরী অন্য কেউ দেখভাল করবে না। করবে বন্ধু কিংবা নিকটাত্মীয়রা, তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন।
২২. ফেইসবুক অনেক সময় নষ্ট করে। পোষ্টটি পড়তে পড়তেই অনেক খানি সময় নষ্ট করেছেন। ফেইসবুকে আপনার সময় নির্দিষ্ট করুন। কতক্ষণ সময় থাকবেন এখানে।
২৩. প্রতি রাত ঘুমানোর আগে আপনার জীবনের জন্য বাবা মাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিন।
২৪. মনে রাখুন জীবনের কোন কোন ভুলের জন্য আপনি ক্ষমা পেয়েছেন। সেসব ভুল আর যেন না হয় তার জন্য সতর্ক থাকুন।
২৫. আপনার বন্ধুদেরও তথ্যগুলো জানান, যেন তারাও আপনার ভাল দিকগুলো সম্পর্কে জানেন এবং আপনাকে আপনার মত করে চলতে দেয়।

Translate