Sunday, November 28, 2021

শিরক কি? ৭৯ টি শিরক যা আমরা নিয়মিত করে থাকি

 শিরক হচ্ছে সকল পাপের চাইতে বড় পাপ। যা আল্লাহ তা’আলা যা কক্ষনো ক্ষমা করবেন না। যদি কোন ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করে মারা যায় তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকতে হবে। শিরকের ভয়বহতা এত বেশি, শিরকের ভয়বহতা এত বেশি, শিরকের ভয়বহতা এত বেশি, যে শিরক মানুষের সব আমাল নস্ট করে দেয়, মানুষকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا
“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে শিরকের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আর ইহা ব্যতীত যাকে ইচ্ছা (তার অন্যান্য অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।” (সূরা আন-নিসা ৪: ৪৮)
হাদিসের বর্ণিত আছে “যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কিছু শরিক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কিছু শরিক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম-৯৩)
কুরআনে ‍আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
“যখন লোকমান তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বললেনঃ হে বৎস! আল্লাহর সঙ্গে শিরক করনা; কেননা শিরক সবচেয়ে বড় অন্যায় ” (সূরা লোকমান ৩১:১৩)।
মহিয়ান গরিয়ান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ
“নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা মায়িদাহ -৫:৭২)
আল্লাহ তা’আলা তার প্রিয় নাবীকে সাবধান করে বলেন,
وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের পতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন। ”(সূরা যুমার-৩৯:৬৫)
অতএব এ আয়াৎ থেকে আমরা জানতে পারি নাবী (সা) যদি শিরক করতো তাহলে তার সমস্ত আমল ধ্বংস হয়ে যেত অতএব আমরা উম্মতরা কোথায় আছি। সুতরাং শিরক থেকে সাবধান, শিরক থেকে সাবধান, শিরক থেকে সাবধান। হে আল্লাহ, হে বিশ্বজগতের পালনকর্তা তোমার কাছে আমরা যাবতীয শিরক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমীন। ছুম্মা আমীন।
একনজরে আমাদের সমাজে প্রচলিত শিরক
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল…
1. আহবানের শিরকঃ আহ্বানের শিরক বলতে মানুষের ক্ষমতার বাইরে এমন কোন পার্থিব লাভের আশায় অথবা কোন পার্থিব ক্ষতি হতে রক্ষা পাবার উদ্দেশে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আহবান করা বুঝায়। (সূরা জিন ৭২:১৮, রাদ-১৩:১৪, মারিয়াম-১৯:৪৮)
2. ফরিয়াদের শিরকঃ ফরিয়াদের শিরক বলতে নিতান্ত অসহায় অবস্থায় আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সাহায্যের জন্য ডাকাকে বুঝায়। রোগ নিরাময়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা। (সূরা আনফাল-৮:৯, আনকাবুত-২৯:৬৫)
3. আশ্রয়ের শিরক- কোন অনিষ্টকর বস্তু বা ব্যক্তি হতে বাঁচার জন্য আলাহ ব্যতিত অন্য কারো কাছে আশ্রয় নেয়া বা সরনাপন্ন হওয়া। (সূরা ফুসসিলাত/ হা মিম আসসাজদাহ-৪১:৩৬, সূরা মুমিনুন-২৩:৯৭-৯৮, সূরা ফালাক ১১৩:-১-৫, সূরা নাস ১১৪:১-৬)
4. আশা বা বাসনার শিরক- মানুষের অসাধ্য কোন বস্তু আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে কামনা করা। যেমন, কোন পিরের কাছে সন্তান কামনা করা। (সূরা আশ-শুআরা-৪২:৪৯,৫১)
5. নামাজের শিরক- রুকু, সিজদাহ, সওয়াবের আশায় কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাজের শিরক বলতে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাতগুলো ব্যয় করাকে বুঝান হয়। (সূরা হাজ্জ-২২:৭৭, আনআম-৬:১৬২-১৬৩)
6. তাওয়াফের শিরক- কাবা ঘর ব্যতিত অন্য কোন বস্তুর তাওয়াফ করা।(হাজ্জ-২২:২৯, বাকারাহ-২: ১২৫)
7. তাওবার শিরক- আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে তাওবা করা। (সূরা নুর-২৪:৩১, আল ইমরান-৩:১৩৫)
8. জবাইয়ের শিরক- আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নৈকট্য লাভের জন্য পশু জবাই করা। চাই তা আল্লাহর নামেই করা হোক বা অন্য কারো নামে বা নাবী বা জিনের নামে। (সূরা আনআম- ৬:১২১, ১৬২-১৬৩)
9. মানতের শিরক- আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর জন্য মানত করা। (সূরা-হাজ্জ-২২:২৯, বাকারাহ-২:২৭০, আনআম-৬:১৩৬)
10. আনুগত্যের শিরক- বিনা ভাবনায় শরিয়তের গ্রহণযোগ্য কোন প্রমান ছাড়াই হালাল হারাম জায়েজ নাজায়েজের ব্যপারে আলেম বুজুর্গ বা উপরস্থ কারো সিদ্ধান্ত অন্ধভাবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়া।(তাওবা-৯:৩১, আনআম-৬:১২১,আরাফ-৭:৩,)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্ধভাবে চার মাঝহাবের চার জন মহামতি ইমামের অন্ধ অনুসরণ করাও শিরক। উপরন্তু এই চার জন মহান ব্যক্তি কখনই নিজেকে অন্ধভাবে অনুসরন করতে বলেনি। যদি কোন ব্যক্তি মনে করে বর্তমান যুগে ইসলামিক শাসনব্যবস্থা অচল এবং গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র,পীরতন্ত্র,ধরমনিরপেক্ষ মতবাদ ইত্যাদিই হল আধুনিক পদ্ধতি তাহলে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। খ্রিস্টানরা তাদের আলিমদের উপাসনা করত না তবে তারা হালাল হারামের ব্যপারে বিনা প্রমানে তাদের আলিমদের সিদ্ধান্ত মেনে নিত। আর এটিই হচ্ছে শিরক। (তিরমিজি-অধ্যায় ৪৭ হা: নং ৩০৯৫)
11. ভালবাসার শিরক- দুনিয়ার কাউকে এমন ভাবে ভালবাসা যাতে তাঁর আদেশ নিষেধ কে আল্লাহ তাআলার আদেশ নিষেধের উপর প্রাধান্য দেয়া অথবা সমপর্যায়ের মনে করা। প্রকৃতিগত ভালবাসা (খাবার), স্নেহ জাতীয় ভালবাসা (সন্তানের জন্য পিতার), আসক্তিগত ভালবাসা (স্বামীর জন্য স্ত্রীর) ইত্যাদির কোনটাকেই আল্লাহ তাআলার ভালবাসার উপর স্থান দেয়া যাবে না। (বাকারাহ-২:১৬৫, তাওবা-৯:২৪)
12. ভয়ের শিরক- একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কাউকে প্রকাশ্যভাবে দুনিয়া বা আখিরাত সংক্রান্ত যে কোন ক্ষতি সংঘটন করতে পারে বলে অন্ধ বিশ্বাস করে তাকে ভয় পাওয়াকে বুঝানো হয়। মানুষ, মূর্তি, জিন ইত্যাদির অনিষ্টতা থেকে ভয় পাওয়া শিরক। প্রভাবশালি শাসকের ভয়ে ভাল কাজ বা জিহাদ হতে দূরে থাকা ছোট শিরক। তবে শত্রুর ভয়, বাঘের ভয় ইত্যাদি স্বাভাবিক ভয় শিরকের অন্তরভুক্ত নয়। (সূরা আনাআম- ৬:৮০-৮১, হুদ-১১:৫৪-৫৫, তাওবাহ-৯:১৩)
13. ভরসার শিরক- মানুষের অসাধ্য ব্যপারসমুহের ক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি ভরসা করা। কারো সমস্যা দূরীকরণ, চাকরি লাভ, রোগমুক্তি ইত্যাদি ব্যপারে আল্লাহর উপরেই ভরসা রাখতে হবে। দান, সাদাকার ব্যপারে নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তির উপর ভরসা ছোট শিরক। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক তাঁর কর্মচারীদের উপর মালামাল উৎপাদন বা কোন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ভরসা করতে পারে। তবে সম্পূর্ণরূপে ভরসা করা শরিয়াতে জায়েজ নয়।(মায়িদাহ-৫:২৩, ইউনুস-১০:৮৪)
14. সুপারিশের শিরক- আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে পরকালের মুক্তির জন্য সুপারিশ কামনা করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। (জুমার-৩৯:৪৪, আনাআম-৬: ৫১, বাকারাহ-২:২৫৫)
15. হিদায়াতের শিরক- আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ কাউকে হিদায়াত করতে পারে এমন বিশ্বাস করা অথবা কারো নিকট হিদায়াত কামনা করা। (বাকারাহ-২:২৭২, ইউসুফ-১০:১০৩)
16. সাহায্য প্রার্থনার শিরক- মানুষের সাধের বাইরে কোন কাজ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট কামনা করা। (ফাতিহা-১:৫)
17. কবরের শিরক- কবরে শায়িত কারো জন্য ইবাদাত ব্যয় করা। অর্থাৎ সেখানে সালাত আদায় করা, সিজদাহ করা শিরক (মুসলিম-৯৮৯) তাঁর নিকট কিছু চাওয়া। তাঁর (ওসীলায়) মাধ্যমে আল্লাহর নিকটে কিছু চাওয়া। সেখানে মসজিদ নির্মাণসহ আরও অসংখ্য শিরক বিদ্যমান। (নুহ-৭১:২৩, ) (বুখারি- ৪২৭,২৮)
18. আল্লাহর অবস্থান সম্পর্কিত শিরক- আল্লাহ মুমিনের অন্তরে বিরাজমান মনে করা। আল্লাহ সবার অন্তরে বিররাজমান মনে করা। আল্লাহ সকল বস্তুর মাঝে লুকায়িত মনে করা। আল্লাহ সম্পর্কে সহিহ আকিদা হল, তিনি আরশের উপর অবস্থান করছেন। তাঁর আকার আছে কিন্তু তিনি তাঁর মত।তার সদৃশ (মত)কেউ নেই। (মূলক- ৬৭:১৬-১৭, , ইমরান- ৩:৫৫, আরাফ- ৭:৫৪)
19. দেখা ও শোনার শিরক- আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মানুষ হোক নাবি বা রসুল সব শুনতে বা দেখতে পান এমন মনে করা শিরক। (সূরা ইউনুস- ১০:৬১, তাহা-২০:৪৬)
20. কিয়ামতের শিরক- কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কোন নাবি, রসুল, পীর, অলি, ইত্যাদি মানুষরা অন্যান্য মানুষদের আজাব হতে বাচাতে পারবে এটা মনে করা শিরক। এছাড়া অন্য কেউ মানুষকে আল্লাহর আজাব হতে কাউকে ক্ষমা করাতে পারবে এমনটা মনে করাও শিরক। (সূরা তাহরিম- ৬৬:১০, শুআরা- ২৬:২১৪, তাওবাহ- ৯:৮০)
21. গায়েব জানার শিরক- আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মানুষ হোক নাবি, রসুল, বুজুর্গ গায়েব জানেন এমনটা বিশ্বাস করা শিরক। (সূরা নামল- ২৭:৬৫, সূরা আনআম- ৬:৫০-৫৯)
22. মানুষের অন্তরের কথা- আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ মানুষের মনের কথা জানেন না। এর বিপরীতে বিশ্বাস করা শিরক। (সূরা মুলক- ৬৭:১৩,১৪)
23. আল্লাহ ছাড়া সন্তান সন্ততি কেউ দিতে পারে- আল্লাহ যাকে চান সন্তান দিতে পারেন। অন্য কারো এই ক্ষমতা নেই। (সূরা শুরা- ৪২:৪৯-৫০)
24. আল্লাহ ছাড়া সুস্থতা- একমাত্র আল্লাহ তাআলাই মানুষকে সুস্থতা দান করতে পারেন, অন্য কেউ নয়। (সূরা শুআরা- ২৬:৭৮-৮২)
25. কাজ করার শিরক- আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ ইচ্ছা করলেই কোন ভাল কাজ করতে পারবে বা কোন খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারবে এমন মনে করা শিরক। (সূরা হুদ-১১: ৮৮)
26. ক্ষতির শিরক- আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ কারো ক্ষতি করতে পারে এমনটা মনে করা শিরক। (সূরা ফাতহ- ৪৮:১১)
27. জীবন মৃত্যু- আল্লাহ ছাড়া কেউ কাউকে বাঁচাতে পারে বা মারতে পারে এমন মনে করা শিরক। (সূরা মুমিন- ৬৮)
28. আল্লাহ ছাড়া সবাই মৃত- যদি কেউ মনে করেন আল্লাহ ছাড়াও অন্য কোন নাবি,রসুল,গাউস,কুতুব সর্বদা জীবিত রয়েছেন তাহলে সে শিরক করছে। (সূরা রাহমান- ৫৫:২৬-২৭,সূরা ইমরান- ৩:১৮৫,১৪৪, সূরা জুমার- ৩৯:৩০)
29. আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ বিশ্ব পরিচালনা করেন- কোন নাবি, রসূল, গাউস, কুতুব, ওলি বিশ্ব পরিচালনায় অংশ নেন, একথা মনে করা শিরক। আল্লাহ তাআলা সময়কেও নিয়ন্ত্রন করেন। তাই সময় বা যুগকে গালি দেয়া গর্হিত কাজ। (সূরা রাদ- ১৩:২,সূরা ইউনুস- ১০:৩১, সূরা সাজদাহ-৩২:৫)
30. অন্তরের পরিবর্তন- একমাত্র আল্লাহ তাআলাই কারো অন্তরের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এর ব্যতিক্রমে বিশ্বাস করা শিরক। (সূরা আনফাল- ৮:২৪) (তিরমিজি- ৩৫২২)
31. যাদু-টোনা, বাণ মারা।
32. ওরশ : অনেক মাযারে ও পীরের দরবারে অমাবস্যা, পূর্ণিমা, পীরের জন্ম বা মৃত্যু তারিখ নির্দিষ্ট করে ওরশ হয়ে থাকে। বেপর্দা অবস্থায় নারী-পুরুষ একত্রে বসে যিকির করে, কাওয়ালী গান শোনে। ভন্ড পীর, ফকীররা এ সব ওরশে ওয়ায নসীহ’তের নামে শরী‘আত বিরোধী আক্বীদা-বিশ্বাস প্রচার করে। শাহী তবারক রান্না করা হয়। ওরশের পরে যে টাকা অবশিষ্ট থেকে যায়, তা পীর ও তার খাদেমদের পকেটে চলে যায়। ওরশ মূলতঃ আনন্দোৎসব ও টাকা উপার্জনের পন্থা হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
33. খাজা বাবার ডেগ :একদল লোক বিশেষত যুবকেরা রজব মাস এলেই পথে-ঘাটে, বাজারে যেখানেই সুযোগ পায় সেখানেই একটা ডেগ বা বড় হাড়ি বসায়। লালসালু কাপড় বিছিয়ে, বাঁশ দিয়ে ছাউনি দিয়ে, বিজলী বাতি জ্বালিয়ে, চকমকি কাগজ এবং বিভিন্ন ধরনের রং লাগিয়ে ঘর সাজিয়ে তার মধ্যে স্থাপন করে ডেগ। তারা একে বলে ‘খাজা বাবার ডেগ’। এটা একটা বিনা পুজির ধর্মব্যবসা।
34. ন্যাংটা বাবায় বিশ্বাস: এরুপ বিশ্বাস করা যে ন্যাংটা বাবা ভবিষ্যত বা গায়েব জানেন তার ভাল-মন্দ করার ক্ষমতা আছে ।
35. প্রাণীর ছবি, চিত্র, প্রতিকৃতি, মূর্তি, ভাস্কর্য,প্রতিমা ইত্যাদির হুকুম : কোন নেতা, লিডার বা স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিবর্গের ছবি, চিত্র, প্রতিকৃতি, মূর্তি ভাস্কর্য ইত্যাদি তৈরি করা, মাঠে-ঘাটে, অফিস-আদালতে ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এগুলো স্থাপন করা, এগুলোকে সম্মান করা, এগুলোর উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ ইত্যাদি করা।
36. সমাধি, স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ মিনার : সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের স্মরণে সমাধি, স্মৃতিস্তম্ভ, স্মৃতিসৌধ বা শহীদ মিনার নির্মাণ, এগুলোকে সম্মান জানানো, সামনে দাঁড়িয়ে নীরবতা ১ মিনিট পালন করা ইত্যাদি।
37. অগ্নিপূজা এবং শিখা চিরন্তন, শিখা অনির্বাণ : ‘অগ্নি শিখা’ অগ্নিপূজকের উপাস্য দেবতা। তারা ভক্তি, প্রণাম ও নানা কর্মকান্ডের দ্বারা আগুনের পূজা করে থাকে। এ অগ্নিপূজা সম্পূর্ণ শিরক ও আল্লাহদ্রোহী কাজ। ‘শিখা চিরন্তন’ বা ‘শিখা অনিবার্ণের’ নামে অগ্নি মশালকে সারা দেশে ঘুরিয়ে ভক্তি শ্রদ্ধা জানানো এবং এগুলোর প্রজ্জ্বলনকে অব্যাহত রাখার জন্য বিশেষ ধরনের বেদীর ওপর এগুলো স্থাপন করা, অলিম্পিক মশাল সহ বিভিন্ন ক্রীড়ানুষ্ঠানের মশাল প্রজ্জ্বলনও শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
38. মঙ্গল প্রদীপ : হিন্দুদের অনুকরণে কোন অনুষ্ঠানের শুরুতে বা কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন উপলক্ষে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা পালন করা।
39. তাছাওউফের শায়েখ বা পীরের কল্পনা : তাছাওউফের শায়খ বা পীরের চেহারা, আকৃতি ইত্যাদি কল্পনা করে মোরাকাবা, ধ্যান, যিকির বা অন্য যে কোন ইবাদত করা শিরক।
40. গায়রুল্লাহর নামে যিকির বা অযীফা : আল্লাহর যিকিরের ন্যায় কোন নাবী বা রসূল, পীর, ওলী-আওলিয়া, বুযুর্গ, আলিমের নাম জপ করা, বিপদের পড়লে তাদের নামের অযীফা পড়া। যেমন- ‘ইয়া রাহমাতুল্লিল আলামীন’, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ’, ‘নূরে রাসূল, নূরে খোদা’, ‘হক বাবা, হক বাবা’ ইয়া বড়-পীর আব্দুল কাদির জিলানী, ইয়া গাউছুল আযম, ইত্যাদি।
41. আল্লাহ যা করান, তাই করি : একদল ফকীর বলে, আল্লাহ যা করান, তা-ই করি। আল্লাহ ছালাত আদায় করান না, তাই আদায় করি না , আল্লাহ গাঁজা টানাচ্ছেন, তাই টানি। তাক্বদীরে ছালাত থাকলে তো আদায় করব।
42. সীনায় সীনায় মা‘রেফতী : ভন্ডপীর বা দরবেশ দাবীদার একদল লোক বলে থাকে, ‘কুরআন শরীফ মোট ৪০ পারা। ৩০ পারায় যাহেরী ইলমের বিষয় আছে। বাকি ১০ পারা মারেফতী বিদ্যায় ভরা রয়েছে। এ ১০ পারা আমরা সীনায় সীনায় পেয়েছি। শরী‘আতের আলিমরা এগুলোর খবর রাখেন না।
43. শরী‘আতের ইত্তেবা সর্বাবস্থায় ফরয নয় : অনেকের ধারণা, মুরীদ যখন মা‘রেফাতের উচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়, তখন তার জন্য শরী‘আতের হুকুম-আহকাম, ছালাত, ছওম ইত্যাদি মাফ হয়ে যায়।
44. শিরকের গন্ধযুক্ত উপাধি : পীর বা ওলীকে এমন কোন উপাধিতে সম্বোধন করা উচিত নয় যা অর্থগত দিক দিয়ে আল্লাহ তা‘আলার জন্য প্রযোজ্য। যেমন- গাউছুল আযম (সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী), গরীবে নেওয়াজ (গরীবরা যার মুখাপেক্ষী), মুশকিল কোশা (যার মাধ্যমে বিপদাপদ দূর হয়), কাইয়ূমে যামান (যামানা কায়েম করেছেন যিনি) ইত্যাদি
45. সন্তানের নামকরণে নবী ও পীর-আওলিয়ার সাথে সম্পর্ক স্থাপন : গোলাম মুছত্বফা (মুছত্বফার গোলাম), আব্দুন্নবী (নবীর দাস), আব্দুর রসূল (রসূলের দাস), আলী বখশ (আলী (রা)-এর দান), হোসেন বখশ (হুসাইন (রা)-এর দান), পীর বখশ (পীরের দান), মাদার(‘মাদার’-কে বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলের হিন্দুরা বড় ঋষি বলে জানে।) বখশ (মাদারের দান), গোলাম মহিউদ্দীন (মহিউদ্দীনের গোলাম), আব্দুল হাসান (হাসানের গোলাম), আব্দুল হুসাইন (হুসাইনের গোলাম), গোলাম রসূল (রসূলের গোলাম), গোলাম সাকলায়েন ইত্যাদি নাম রাখা।
46. মন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন : সিলভা, কোয়ান্টাম বা অন্য কোন মেথডের (পদ্ধতি) দ্বারা মন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো এবং সকল সমস্যার সমাধান লাভ করার মাধ্যমে জীবনে সফলতা অর্জন করার কথা বলা।
47. গ্রহ নক্ষত্রের তা‘ছীর (প্রভাব): অনেকের ধারণা মানুষের ভাল-মন্দ, বিপদ-আপদ, উন্নতি-অবনতি ইত্যাদি গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাবে হয়। কেউ বিপদে পড়লে বলা হয়, ‘এ ব্যক্তির ওপর শনি গ্রহের প্রভাব পড়েছে’বা রাহুগ্রাস হয়েছে। কারো আনন্দের খবর শুনলে বলা হয়ে থাকে, ‘এ ব্যক্তি মঙ্গল গ্রহের নজরে সু নজরে আছে’।
48. চন্দ্র ও সূর্য্য গ্রহণের প্রভাব : অনেকের ধারণা চন্দ্র ও সূর্য্য গ্রহণ মানুষের ভাল-মন্দ, জন্ম-মৃত্যু, বিপদ-আপদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
49. গাইরুল্লাহর নামে কসম করা : আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর নামে কসম করল, সে কুফরী করল অথবা শিরক করল’। (হাদীছ ছহীহ। তিরমিযী, হা/১৫৩৫)।মূলত আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন নামে কসম করলে কসম হয় না। যেমন- রসূলুল্লাহর কসম, কা‘বা ঘরের কসম, নিজ চোখের কসম,বাবা-মায়ের কসম, বিদ্যা বা বই এর কসম ইত্যাদি।
50. আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য পীর, ওলী বা বুযুর্গ ব্যক্তির অসীলা গ্রহণ : আল্লাহকে পাওয়ার জন্য, তাঁর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে, ক্ষমা ও সাহায্য পাওয়ার জন্য কোন জীবিত বা মৃত পীর, ওলী বা বুযুর্গ ব্যক্তিকে অসীলা বা মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করা ।
51. আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জীবন বিধান প্রণেতা- আল্লাহ তাআলাই একমাত্র মানব জাতির সার্বিক উন্নতির জন্য আইন বিধানের অধিকার রাখেন। এ কাজের যোগ্য তিনি ছাড়া আর কেউ নন। (সূরা ইউসুফ-১২:৪০) কোনো ব্যক্তি, শক্তি, প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন অথবা কোনো দল যদি আল্লাহর দেয়া বিধানের হালালকে যদি হারাম করে আর হারামকে হালাল করে তা মেনে নেয়া শিরক। যেমন: গণতন্ত্র মেনে নিয়ে আল্লাহর আইনকে বাদ দিয়ে মনগড়া আইন তৈরী করে ।
52. মানব রচিত বিধান দ্বারা শাসন করা, এমনিভাবে প্রথা ও চিরাচরিত অভ্যাস দ্বারা ফায়সালা করা।
53. পাশ্চাত্য গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, পুজিবাদ, জাতিয়াতাবাদ,প্রগতিবাদ ধর্মনিরপেক্ষবাদ সমর্থন ও বিশ্বাস করা।
54. মাসজিদ ছাড়া অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করা/ খাদেম হওয়া- মাজারে খাদেম হওয়া শিরক। (বাকারাহ-২:১২৫)
55. কুরআনের বিকুতি ঘটেছে এমন ধারনা করা বা এ ধারনা করা যে কুরআন ৯০ পারা। ৬০ পারা গোপন রয়েছে।
56. দ্বীন ইসলামের ভিতর শরীয়ত মারেফত, হাক্বীক্বত, তরীক্বত নামে ভাগাভাগি সৃস্টি করা। ইসলামী শরীয়ত ছাড়া সব কুফরী।
57. পীর ধরা ওয়াজিব । যার পীর নাই তার শির নাই। যার পীর নাই তার পীর শয়তান, এসব কথা বলা ও বিশ্বাস করা।
58. মাজারের পার্শ্বস্থ গাছ, পুকুরের মাছ, কচ্ছপ কুমিরকে কথিত ওলির সংশ্লিস্ট কিছু মনে করা ও তাদের খাবার দেআ। এবং তাদের খাবার গ্রহনকে সৌভাগ্য মনে করা।
59. পীর-মুরশিদ, রাষ্ট্রীয় নেতা-নেত্রীদের ভক্তি সম্মানের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা।
60. নাবী (সা) জীবিত রয়েছেন এমন বিশ্বাস পোষন করা।
61. নাবী (সা) কে হাজির নাযির মনে করা।
62. কাশফ, ইলহাম, মুরাকাবা, মুশাহাদাহর দাবী করা ও চর্চ্চা করা।
মুহাম্মাদ আব্দুর রব আফফান কর্তৃক সংকলিত শিরকের তালিকা নিম্নরুপ:
63. আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করা।
64. আল্লাহর মত করে অন্য কোন স্বত্তাকে বিনীত ও সম্মানের সাথে মুহাব্বত করা।
65. যে বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ সামর্থ রাখে না, সে ক্ষেত্রে অন্যের উপর ভরসা করা, যেমন : প্রয়োজন পূরণের জন্য মৃত ও অনুপস্থিত কোন স্বত্তার উপর ভরসা করা।
66. আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুকে যেমন: প্রতিমা, মূর্তি, আস্তানা, দরগাহ বা কবরে শায়িত মৃত ব্যক্তি, অনুরুপ অনুপস্থিত জ্বিন ও মানুষকে গোপনে গোপনে ভয় করা।
67. বিপদ-আপদ ও বদনজর থেকে মুক্তির জন্য তাবীজ-কবজ ঝুলানো (মুসনাদে আহমাদ ৪র্থ খন্ড, পৃ: ১৫৪) সূতা-বালা বা অনুরুপ কিছু পরিধান করা। (মুসনাদে আহমাদ ৪র্থ খন্ড, পৃ: ১৫৬, ইবনে মাজাহ হা: নং ৩৫৩১)
68. হালাল-হারাম ও বিচার-ফায়সালার ক্ষেত্রে আলিম, পীর, ইমাম,দরবেশ ও শাসকদের অন্ধভাবে অনুসরণ । (সূরা তাওবা: ৯:৩১)
69. কোন কিছুতে ‍অশভ বা কুলক্ষন মনে করা বা কোন কিছু দ্বারা নির্ণয় করা। যেমন: বিকলাঙ্গ, পেচা বা অপছন্দনীয় কিছু দেখলে অশুভ মনে করা।
70. সুনাম অর্জনের জন্য লোক দেখানে বা শুনানো ইবাদত (রিয়া) করা।
71. আমল-ইবাদত নিছক দুনিয়ার জন্য করা।
72. আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো বা কিছুর জন্য সিজদা বা মাথানত করা। যেমন: কদম বুচি করা।
73. আল্লাহর সিফাত সমূহে শিরক করা; যেমন আল্লাহর মতো ‍অন্য কাউকে পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু, রিযিকদাতা, বিধানদাতা এবং ক্ষমাশীল মনে করা।
74. আল্লাহ ব্যতীত কোন জ্বীন, ওলী, পীর-ফকির ইত্যাদির নিকট ফরিয়াদ ও সাহায্য প্রার্থনা, তাদের উপর ভরসা, তাদের উদ্দেশ্যে মান্নত ও জবাই করা।
75. কবরের চারপাশে তাওয়াফ করা।
76. হেদায়েত, শাফায়াত ও মুক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট কামনা করা।
77. পীর-ফকীর ও কবিরাজের শয়তানী তেলেসমাতি ও কারসাজীকে ওলীর কেরামত মনে করা।
78. কুরআন-হাদীস ভিত্তিক আলিমদের অনুসরণ ছেড়ে দিয়ে পীর ধরা ও তার অন্ধানুসরণ করা।
79. নাবী, ওলী-আউলিয়া ও পীর-বুযুর্গদের জন্য নামায ও অন্যান্য ইবাদত করা। [মূল: আল-ইসলাহ সিরিজ -৪ ,সংকলনে –মুহাম্মদ আব্দুর রব আফফান]
আসুন, আমরা সকলে ঈমানী দায়িত্ব পালন করি। মানুষকে শিরক মুক্ত ঈমানের আহ্বান জানাই।
নাবী ও ওলীদেরকে মহান আল্লাহ পাকের বৈশিষ্ট্যের সমকক্ষ না করি।
রাষ্টীয় ক্ষমতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেশের জনগণকে সকল ক্ষমতার মালিক বলে মনে না করি।
কোন ভাস্করয্য,মূর্তি,শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিরবে দাঁড়িয়ে না থাকি।
গনতন্ত্র,পীরতন্ত্র,রাজতন্ত্র,সমাজতন্ত্র,ধর্মনিরপেক্ষবাদকে না বলি ও প্রত্যাখান করি ও বাদ দেই।
মাজার ও কবরে নযর-মানত না করি।
মাজার ও কবরে গিয়ে মাজার ও কবর মুখী হয়ে দোয়া ও নামায না করি।
বিপদাপদ-বালামুছীবাতে, রিং, পৈতা,সূতা,শরীরে বাঁধা থেকে দূরে থাকি।
হাদীসে বর্ণিত দোয়া, আমলে আনার চেষ্টা করি।
গণক ও জোতির্বিদদের নিকট গমণ থেকে দূরে থাকি।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েব জানতেন এ-আক্বীদা-বিশ্বাস থেকে বেঁচে থাকি।
হে আল্লাহ! আমাদের শিরক মুক্ত জীবন দান করুন। আমীন।
শিরক সম্পর্কে সর্বদা মনে রাখার মতো কথা হল :
জীবন বিপন্ন হ’লেও শিরক করা যাবে না।
শিরকের পাপের কোন ক্ষমা নেই ।
শিরকের পরিণতি ধ্বংস ।
শিরক সমস্ত নেক আমলকে বিফল করে দেয়।
মুশরিকরা চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নিষেধ।
শিরক মিশ্রিত ঈমান কখনোই ঈমান হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সুতরাং, শিরক থেকে বেঁচে থাকার জন্য সবসময় আল্লাহ তা‘আলার নিকটে প্রাণখুলে দো‘আ করা ও সাহায্য প্রার্থনা করা কর্তব্য। রসূল (সা) শিরক হ’তে বাঁচার জন্য আমাদেরকে দো‘আ শিখিয়েছেন:
اَللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوْذُبِكَ أَنْ نُشْرِكَ شَيْئًا نَعْلَمُهُ وَنَسْتَغْفِرُكَ لَمَا لاَ نَعْلَمُ
‘আল্লাহুম্মা ইন্না না‘ঊযুবিকা আন নুশরিকা শাইআন না‘লামুহ, ওয়া নাসতাগফিরুকা লিমা লা না‘লামুহ।
“হে আল্লাহ্, জেনে বুঝে শিরক করা থেকে আমরা আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আমাদের অজ্ঞাত শিরক থেকে আপনার নিকটে ক্ষমা চাচ্ছি।” ( সহীহ-আদাবুল-মুফরাদ-৭১৬)
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ছোট-বড় সকল প্রকার শিরক হ’তে রক্ষা করুন, আমীন!

কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য এবং বিবেকে নাড়া দেয়ার মত কিছু প্রশ্ন

 কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য এবং বিবেকে নাড়া দেয়ার মত কিছু প্রশ্ন

▬▬▬●◈●▬▬▬
মূল: মুখতার আহমদ নাদভি রাহ. (ভারত)
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

আল্লাহ তাআলা কী উদ্দেশ্যে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন?
এ জন্য কি যে, এর দ্বারা তাবিজের ঘণ্টা বানিয়ে শিশু এবং রোগীদের গলায় ঝুলানো হবে?

নাকি এ জন্য যে, গোরস্থানে মৃতদের উদ্দেশ্যে পড়ে তার মাধ্যমে কাঠ মোল্লাদের অর্থ লুটের মাধ্যম বানানো হবে?

না এ উদ্দেশ্যে যে, ধান্দাবাজরা পাত্রের গায়ে লিখে তা ধুয়ে ধুয়ে রোগী এবং যাদুগ্রস্থদের পান করাবে?

না এ উদ্দেশ্যে যে, ফাঁকিবাজ এবং অলস লোকেরা কুরআনের মাধ্যমে রাস্তায় বসে ভিক্ষা করবে?

না এ লক্ষ্যে যে, পুরো কুরআন এক পৃষ্ঠায় ছেপে শোভা বর্ধনের উদ্দেশ্যে ঘরের দেয়ালে এবং বরকত লাভের উদ্দেশ্যে তাবিজ বানিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখা হবে?

না এ উদ্দেশ্যে যে, মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে আয়াতুল কুরসি এবং সূরা নাস-ফালাকের তাবিজ পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করা হবে?

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কি এ উদ্দেশ্যে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যে, কাওয়ালী পাঠকারী এবং গায়করা শুধু সুললিত কণ্ঠে তা পাঠ করবে আর শ্রোতারা তাদের বাদ্যযন্ত্র ও সুরের মূর্ছনায় পাগলপারা হয়ে নাচ-গানের বাজার বসাবে।

এ উদ্দেশ্যে কি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে যে, যার মাধ্যমে আমাদের পূর্বসূরিরা বিশ্ব জয় করেছিলেন সেই কুরআনকে ঘরের এক কোনে গিলাফ বদ্ধ করে রেখে দেয়া হবে এবং ধুলো-বালি ও ময়লার আস্তরণের নিচে চাপা পড়ে থাকবে?

আল্লাহ তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর।

এই মহা গ্রন্থ তুমি এ সব উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ করনি। অবতীর্ণ করেছো এ জন্যে যে, মানব জাতি এই কুরআনের আয়াত সমূহ গবেষণা করবে। এটা তো মানবতার জন্য উজ্জ্বল আলোক বর্তিকা। তুমি এই গ্রন্থ নাযিল করেছ বিশ্ব মানবতার জন্যে সুসংবাদ দাতা এবং সতর্ক কারী হিসেবে।
তুমি কুরআন অবতীর্ণ করেছ প্রাণ স্পন্দিত জীবিত মানুষের জন্যে। নির্জীব মৃত মানুষের জন্যে নয়। তুমি কুরআন অবতীর্ণ করেছ এ উদ্দেশ্যে যে, মুসলমানরা একে তাদের পরিবার, সমাজ তথা জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করবে।

আমরা কুরআন পরিত্যাগ করেছি। জীবনের পথ পরিক্রমায় কুরআনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মসূচী থেকে সরে গেছি অনেক দূরে। কুরআনের বিরুদ্ধে আমাদের পদচারণা সীমালঙ্ঘন করেছে। যার ফলে আমরা নিপতিত হয়েছি পশ্চাদপদতা, দুর্ভাগ্য ও লাঞ্ছনা-গঞ্চনার গহীন খাদে।

কুরআনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও মর্মবাণীকে আমরা এমন বিস্ময়কর প্রক্রিয়ায় পাল্টে ফেলেছি যার নজীর পূর্ববর্তী জাতি সমূহে পাওয়া যায় না। পূর্ববর্তী উম্মতগণ আসমানি গ্রন্থসমূহকে অস্বীকার করেছিল বটে, কিন্তু কোন উম্মতের ব্যাপারে একথা শোনা যায়নি যে, তারা আসমানি গ্রন্থসমূহকে মৃত মানুষের পুঁজি হিসাবে গ্রহণ করেছিল।

আমরা কোটি কোটি মানুষকে লাগামহীন ভাবে ছেড়ে দিয়েছি যাদের দিক নির্দেশনা এবং তাবলিগের দায়িত্ব আমাদেরকে দেয়া হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে তারা তৈরি করেছে যুদ্ধ এবং ধ্বংসের এমন অসংখ্য মারণাস্ত্র যা তাদের নিজেদের এবং আমাদের সকলের বিনাশ সাধন ও ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এই সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন:
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ
“আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে গেলাম যে দুটিকে তোমরা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে না। সে দুটি জিনিস হল আল্লাহর কিতাব এবং তার রাসূলের সুন্নত।”

আমাদের পূর্ব পুরুষগণ কুরআনের প্রকৃত মর্ম ও অর্থকে অত্যন্ত নিবিড় ও দৃঢ় হস্থে ধারণ করেছিলেন এবং নিজেদের জীবন ও কর্মের সংবিধান হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন বলেই তারা অতি অল্প সময়ে সারা বিশ্বের নেতৃত্ব ও বিশ্ব মানবতার পথ প্রদর্শকে পরিণত হয়েছিলেন।

কুরআন তো আমরা প্রতিদিনই তেলাওয়াত করি কিন্তু সে তেলাওয়াত আমাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। আমরা তো সালাফে-সালেহিনের চেয়ে বেশি কুরআন পাঠ করি কিন্তু আমরা শুধু পাঠই করি; বুঝার চেষ্টা করি না গবেষণাও করি না এবং তা কর্ম ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের কোন আগ্রহও আমাদের নাই। বরং আমাদের এই অধিক হারে কুরআন তেলাওয়াতের ব্যাপারে জনৈক মনিষীর এই উক্তিটিই প্রযোজ্য:
رب تال للقرآن والقرآن يلعنه
“এমন অনেক কুরআন পাঠক রয়েছে কুরআন যাদের উপর অভিসম্পাত করে।”

উদাহরণ স্বরূপ, মুসলমানেরা কুরআনের এই আয়াতটি পড়ছে:
أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
“সাবধান! আল্লাহর অভিশাপ যালিমদের উপর।” [সূরা হুদ: ১১] অথচ সে কখনো কখনো নিজে নিজেই জুলুম-অত্যাচার করে। নিজের জবানের দ্বারাই নিজের উপর আল্লাহর অভিশাপ পতিত হচ্ছে কিন্তু এ ব্যাপারে তার কোন অনুভূতি নেই।

হে মুসলিম জনগোষ্ঠী, এখনো কি তোমাদের গাফলতির ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় হয়নি?
সকল গোমরাহি ও ভ্রষ্টতার পঙ্কিলতা থেকে নিজেদের আচল মুক্ত করার সুযোগ আসেনি?

আমাদের আলেম সমাজ এসকল বিদআতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কখন করবে?

এসব বিদআতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সূচনার সাহস যদি তাদের না থাকে তাহলে তাদের ‘দস্তারে ফজিলত’ মাথা থেকে নামিয়ে রাখা উচিত অথবা কমপক্ষে ঐ সকল মানুষের সমর্থন দেয়া কর্তব্য যারা বিদ’আতের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু আফসোস তো এখানেই যে, স্বয়ং ঐ সকল আলেমে দ্বীন নিজেরাই এ সব বিদ’আতকে নিজেদের রুটি-রুজির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে বসেছে। বরং এসব কাজের বিরোধিতা কারীদেরকে বিভিন্ন অপমানজনক ও ঘৃণ্য অভিযোগে অভিযুক্ত করতে ও পিছুপা হন না।

এ নাযুক পরিস্থিতিতে যখন আমরা বংশীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইত্যাদি চর্তুমূখী সমস্যা ও বিপদে পরিব্যাপ্ত তখন আমাদের কর্তব্য হবে গভীর নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়া। কিতাবুল্লাহকে অবিচল ও দৃঢ় হস্তে ধারণ করা। সে সাথে তা গভীরভাবে গবেষণার মানসিকতা নিয়ে অধ্যয়ন করা এবং জীবন ও জগতের একমাত্র কর্মসূচী ও সংবিধান হিসাবে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা।

[উৎস: কুরআনখানি আওর ঈসালে সাওয়াব]

অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দেয়া এবং অসহায় এতিম শিশুর দায়িত্বগ্রহণের অপরিসীম মর্যাদা

 অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দেয়া এবং অসহায় এতিম শিশুর দায়িত্বগ্রহণের অপরিসীম মর্যাদা:

নিম্নে প্রসঙ্গে মহা গ্রন্থ আল কুরআন এর আয়াত ও কয়েকটি হাদিস এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা তুলে ধরা হল:

🔹 ১. আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সেসব মানুষের প্রশংসা করেছেন যারা নিজেদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অন্যকে আহার করায়। তিনি বলেন,
وَیُطۡعِمُونَ ٱلطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِۦ مِسۡكِینࣰا وَیَتِیمࣰا وَأَسِیرًا إِنَّمَا نُطۡعِمُكُمۡ لِوَجۡهِ ٱللَّهِ لَا نُرِیدُ مِنكُمۡ جَزَاۤءࣰ وَلَا شُكُورًا)
“খাবারের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বে তারা অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিদের খাবার দান করে এবং বলে, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা তোমাদের খাবার দান করি। আমরা তোমাদের কাছ থেকে প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়।’” [সুরা দাহার/ইনসান: ৮-৯]

🔹২. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল:

প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হল, সব চেয়ে উত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন,
أفضلُ الأعمالِ أن تُدخِلَ على أخيك المؤمنِ سرورًا ، أو تقضى عنه دَيْنًا ، أو تطعمَه خبزًا

“সবচেয়ে উত্তম আমল হল, তোমার কোন ইমানদার ভায়ের অন্তরে আনন্দ সঞ্চার করা বা তার ঋণ পরিশোধ করা বা তাকে একটি রুটি খাওয়ানো।” [সহীহুল জামে-আলবানি, হা/১০৯৬]

ব্যাখ্যা:

ইমাম মুনাবী রহ. ফযযুল কাদীর কিতাবে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন,

“ফরজের পরে একজন ঈমানদার অন্যান্য দীনী ভাইদের সাথে যে সব কাজ করে থাকে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম আমল হল, রক্ত বা বংশগত সম্পর্ক না থাকার পরেও শুধু দীনের স্বার্থে অন্য কোন ঈমানদার ভাইয়ের এমন কোন উপকার করা যার কারণে তার অন্তরে আনন্দের সঞ্চার ঘটে। সেটি দীন বা দুনিয়া যে কোন উপকার হতে পারে।
কারো পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হলে, এতে সে ব্যক্তি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায়। রক্ষা পায় লাঞ্ছনার হাত থেকে।
আর রুটি খাওয়ানোর কথা এ জন্য বলা হয়েছে যে, রুটি হল, সবচেয়ে সহজলভ্য জিনিস। কিন্তু কেউ যদি রুটির সাথে গোস্ত দেয় বা যাকে খাবার দেয়া হবে তার চাহিদা ও রুচি মোতাবেক খাবার দেয় তাবে তা নি:সন্দেহে আরও উত্তম কাজ। সবচেয়ে সহজলভ্য জিনিস উল্লেখ করায় মূলত: আমাদের সামনে গরীব ও সহায় মানুষের সাহায্য থেকে দূরে থাকার সুযোগ বাকি থাকল না।”

এই মূল্যবান হাদিসটি যদি আমরা আমল করতে পারতাম তবে নি:সন্দেহে আমাদের সমাজে ক্ষুধা ও দরিদ্রতার অভিযোগ আর শোনা যেতো না। পারস্পারিক সহানুভূতি আর ভ্রাতৃত্ব বোধ সম্পন্ন একটি সুন্দর মানচিত্র আমরা উপহার পেতাম।
আল্লাহ তায়ালা যেন, আমাদের সকলকে উক্ত হাদিসের আলোকে আমল করা তাওফীক দান করেন। আমীন।

🔹৩. খাদ্যদানের মর্যাদা সংক্রান্ত আরেকটি হাদিস:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ قَالَ تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
এক ব্যক্তি রাসুল আল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম?
তিনি বললেন, “তুমি খাবার খাওয়াবে এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দিবে।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

🔹 ৪. খাদ্যদান শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম আমল:

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (হিজরত করে মক্কা থেকে) মদিনায় এলেন তখন লোকেরা তাঁর নিকট যেতে লাগলো এবং বলাবলি হতে লাগলো:
”আল্লাহর রাসূল এসেছেন, আল্লাহর রাসূল এসেছেন,আল্লাহর রাসূল এসেছেন।” (তিনবার)।

আমিও লোকজনের সাথে (তাঁকে) দেখতে গেলাম।

আমি তাঁর মুখমণ্ডল ভালোভাবে দেখার পর বুঝতে পারলাম যে, এই চেহারা মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। আর সর্বপ্রথম তাঁর মুখে আমার শোনা কথা হল: তিনি বললেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلاَمَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَصِلُوا الأَرْحَامَ وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلاَمٍ
“হে লোকসকল! তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচলন করো, আহার করাও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখো এবং লোকজন যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন রাতের বেলা নামায পড়ো তাহলে শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”

[তিরমিযি ২৪৮৫, দারিমী ১৪৬০, তাহকীক আলবানি: সহীহ]

🔹৫. যার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে সে প্রকৃত ঈমানদার নয়:

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

ليس المؤمن الذي يشبع وجاره جائع إلى جنبه

“সে ব্যক্তি (পূর্ণ) ঈমানদার নয় যে নিজে তৃপ্তি সহকারে আহার করে, অথচ তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে।”

(মুসতাদরাক হাকেম, ইমাম যাহাবী তালখীস কিতাবে এবং ইমাম আলবানী সহীহ আবাদুল মুফরাদ কিতাবে হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন)

🔷 ৬. এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ ও প্রতিপালন করা জান্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খুব কাছাকাছি থাকার একটি বিরাট মাধ্যম:

সাহল রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ وَقَرَنَ بَيْنَ أُصْبُعَيْهِ الْوُسْطَى وَالَّتِي تَلِي الْإِبْهَامَ
“আমি ও এতিমের দায়িত্বগ্রহণকারী ব্যক্তি জান্নাতে এই দুই অঙ্গুলি ন্যায় পাশাপাশি অবস্থান করব।” এ কথা বলার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুগুলিকে কাছাকাছি করে দেখালেন। [সুনান আবু দাউদ-সহীহ]

🔷 ৭. এতিম-অনাথ শিশুদের জন্য অর্থ খরচ করা বিশাল মর্যাদাপূর্ণ কাজ:

আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَا أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ
“তারা তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, তারা কী ব্যয় করবে? বলে দাও, যে বস্তুই তোমরা ব্যয় কর, তা হবে পিতা-মাতার জন্যে, আত্মীয়-আপনজনের জন্যে, এতীম-অনাথদের জন্যে, অসহায়দের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে। আর তোমরা যে কোন সৎকাজ করবে, নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত ভালভাবেই আল্লাহর জানা রয়েছে।” [সূরা বাকারা: ২১৫]

🔷 ৮. এতিমের সম্পদ গ্রাস করা জাহান্নামে যাওয়ার একটি কারণ:

আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَىٰ ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا ۖ وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا
“যারা এতিমদের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করে এবং অচিরেই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” [সূরা নিসা: ১০]

♦️ গরিব হলে এতিমের দেখাশোনা ও সম্পদ রক্ষণা-বেক্ষণের পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েজ:

কারও দায়িত্বে এতিম শিশু থাকলে সে যদি আর্থিকভাবে দুর্বল ও অভাবগ্রস্ত হয় তাহলে তার দেখাশোনা ও সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করার পারিশ্রমিক হিসেবে তার সম্পদ থেকে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য পন্থায় কিছু অর্থ গ্রহণ করা জায়েজ রয়েছে।

যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَابْتَلُوا الْيَتَامَىٰ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ ۖ وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَن يَكْبَرُوا ۚ وَمَن كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ ۖ وَمَن كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ ۚ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوا عَلَيْهِمْ ۚ
“আর এতিমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পার, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পণ করো।

এতিমের মাল প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করো না বা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যারা সচ্ছল তারা অবশ্যই এতীমের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যে অভাবগ্রস্ত সে সঙ্গত পরিমাণ খেতে পারে। যখন তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যর্পণ কর, তখন সাক্ষী রাখবে।” [সূরা নিসা: ৬]

মোটকথা, পিতৃহীন এতিম শিশুর দেখাশোনা করা, তার দায়িত্বগ্রহণ করা, তাকে স্নেহমমতা দেয়া, তার প্রতি দয়া করা, তার সম্পদ রক্ষা করা ইত্যাদি ইসলামের দৃষ্টিতে বিশাল মর্যাদাপূর্ণ কাজ এবং জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম। পক্ষান্তরে তার সম্পদ লুটে খাওয়া বা তার প্রতি অন্যায় আচরণ করা খুবই গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ এবং জাহান্নামে প্রবেশের মাধ্যমে।

পরিশেষে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদেরকে দারিদ্র্য পীড়িত অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দেওয়ার এবং অসহায় পিতৃহীন এতিম শিশুদের দায়িত্ব গ্রহণের তৌফিক দান করেন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।

লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।।

আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫টি দুআ

 আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫টি দুআ:

🔹 নিম্নে হাদিসে বর্ণিত ইস্তিগফার তথা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার পাঁচটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দুআ প্রদান করা হল:(মূল আরবি টেক্সট, উচ্চারণ ও অনুবাদ সহ)

◈ দুআ-১:

মূল আরবি: أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লা-হ।
অনুবাদ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি ওয়াক্তের ফরজ সালাতের সালাম ফিরানোর পর এই দুআ ৩ বার পাঠ করতেন। [সহিহ মুসলিম, হা/ ১৩৬২]

◈ দুআ-২:

মূল আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতূবু ইলাইহি।

অনুবাদ: “আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর দিকে ফিরে আসছি।”
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক ইসতিগফার পাঠ করতেন। [সহিহ বুখারি/৬৩০৭]

◈ দুআ-৩:

মূল আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্‌তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি।
অনুবাদ: “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া সত্য কোনও উপাস্য নাই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।”
যে ব্যক্তি এই দুআ পাঠ করবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন-যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়নকারী হয়। [সহিহ তিরমিযী-৩৫৭৭]

◈ দুআ-৪:

মূল আরবি:
رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ: রাব্বিগ্ ফিরলী, ওয়া তুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়া-বুর রাহীম।
দ্বিতীয় বর্ণনায় “রাহীম”-এর বদলে: ‘গাফূর’ শব্দ রয়েছে।

অনুবাদ: “হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তওবা কবুল কারী ও করুণাময়। অন্য বর্ণনায়: তওবা কবুল কারী ও ক্ষমাশীল।”

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বৈঠকেই এই দুআ ১০০ বার পড়েছেন। [সহিহ আবু দাউদ-১৫১৬, ইবনে মাজাহ-৩৮১৪, তিরমিযী-৩৪৩৪]

◈ দুআ-৫:

সাইয়েদুল ইস্তিগফার বা আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দুআ:

মূল আরবি:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ’উযুবিকা মিন শার্ মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।

অনুবাদ: “হে আল্লাহ, তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।”

যে ব্যক্তি এই দুআর প্রতি (এই দুআয় উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি) দৃঢ় বিশ্বাস রেখে দিনের বেলা পাঠ করবে সে যদি সন্ধ্যার আগে মারা যায় অথবা রাতের বেলা পাঠ করবে এবং ভোর হওয়ার আগে মারা যায় তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [সহিহ বুখারি-৬৩০৬]

এ সকল দুয়া ছাড়াও কুরআন ও হাদিসে আল্লাহ তাআলা নিকট ক্ষমা প্রার্থনার আরও বিভিন্ন দুয়া বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো পড়ার চেষ্টা করতে হবে। এমনকি নিজের ভাষায় নিজের মত করে মহান আল্লাহর নিকট নিজের অপরাধগুলো তুলে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তিনি ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল অপরাধ মার্জনা করে তার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করে দিন। আমীন।

সংগ্রহে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।।

Saturday, November 27, 2021

ঝগড়া-বিবাদে ক্ষমা করা

 ঝগড়া-বিবাদে ক্ষমা করা

◈ ১) আবু বকর রা. এর ঘটনা:

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। এক লোক এসে আবু বকর রা.কে বকাবকি করতে লাগল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানেই বসে ছিলেন। তিনি এ কাণ্ড দেখে আশ্চর্য হয়ে মুচকি মুচকি হাসছেন। লোকটি বেশি মাত্রায় বকাবকি শুরু করলে আবু বকর রা. তার দু-একটি কথার জবাব দিলেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগ করে সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন।
আবু বকর রা. পেছনে পেছনে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, লোকটি আমাকে বকাবকি করছিল আর আপনি সেখানে বসে ছিলেন। কিন্তু যখনই তার কিছু কথার জবাব দিলাম তখনই আপনি রেগে সেখান থেকে চলে আসলেন!!
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার সাথে একজন ফেরেশতা ছিল যে তোমার পক্ষ থেকে উত্তর দিচ্ছিল। আর যখনই তুমি উত্তর দিলে সেখানে শয়তান ডুকে পড়ল।
আর হে আবু বকর, তিনটি জিনিস খুবই সত্য:
يَا أَبَا بَكْرٍ ثَلَاثٌ كُلُّهُنَّ حَقٌّ: مَا مِنْ عَبْدٍ ظُلِمَ بِمَظْلَمَةٍ فَيُغْضِي عَنْهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ، إِلَّا أَعَزَّ اللهُ بِهَا نَصْرَهُ ، وَمَا فَتَحَ رَجُلٌ بَابَ عَطِيَّةٍ ، يُرِيدُ بِهَا صِلَةً ، إِلَّا زَادَهُ اللهُ بِهَا كَثْرَةً ، وَمَا فَتَحَ رَجُلٌ بَابَ مَسْأَلَةٍ ، يُرِيدُ بِهَا كَثْرَةً ، إِلَّا زَادَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا قِلَّةً
🔹 ক. কেউ কোন ব্যাপারে জুলুমের শিকার হওয়ার পর সে যদি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তা ক্ষমা করে দেয় তবে এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে সম্মান জনক ভাবে সাহায্য করেন।
🔹 খ. কেউ যদি (কোন আত্মীয়ের সাথে বা সাধারণ মুসলমানের সাথে) সুসম্পর্ক তৈরির উদ্দেশ্যে দানের রাস্তা খুলে তবে আল্লাহর তার সম্পদ আরও বৃদ্ধি করে দেন।
🔹 গ. আর কেউ যদি সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে ভিক্ষার দরজা উন্মুক্ত করে তবে আল্লাহ তাআলা তার সম্পদ কমিয়ে দেন। [মুসনাদে আহমদ,আলবানি বলেন, হাদিসটি হাসান। মিশকাত হাদিস নং ৫১০২]

◈ ২) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
المستبَّانِ ما قالا ! فعلى البادي منهما ما لم يعتدِ المظلومُ
“দু জন লোক যদি পরস্পরকে গালাগালি করে তবে যাবতীয় গুনাহ তার উপর বর্তাবে যে আগে শুরু করেছে যদি অত্যাচারিত ব্যক্তি প্রতিদত্তরে অতিরিক্ত না বলে।” [সহীহ মুসলিম]

এ হাদিসের আলোকে প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি আগে কাউকে কষ্ট দেয় বা গালি দেয় তবে তার সমপরিমাণ প্রতিদত্তর দেয়া জায়েজ আছে আর তার যাবতীয় গুনাহ যে আগে শুরু করেছে তার উপর বর্তাবে। কারণ, সেই এর মূল কারণ। অবশ্য যদি প্রতিদত্তরে সে অতিরিক্ত গালমন্দ করে তবে যে পরিমাণ অতিরিক্ত গালমন্দ করেছে তার জন্য গুনাহগার হবে। কারণ,ইসলামে কেবল সমপরিমাণ প্রতিশোধ নেয়ার অনুমোদন রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا ۖ فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّـهِ ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ

“অন্যায়ের প্রাপ্য শুধু সমপরিমাণ অন্যায়। তবে যে ব্যক্তি ক্ষমা করে দেয় এবং সমঝোতা করে সে আল্লাহর নিকট পুরস্কার প্রাপ্ত হবে। তিনি তো অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন না।” [সূরা শূরা: ৪০]

যদিও সমপরিমাণ প্রতিশোধ নেয়া জায়েজ আছে তবুও ধৈর্য ধারণ করা উত্তম। যেমনটি আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসটিতে বর্ণিত হয়েছে।

◈ ৩) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন,
أبغضُ الرجالِ إلى اللهِ الأَلَدُّ الخَصِمُ
“প্রচণ্ড ঝগড়াটে স্বভাবের লোক আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত।” [বুখারি ও মুসলিম]

উৎস গ্রন্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের অনুপ্রেরণা
অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

Translate