Tuesday, December 3, 2019
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-আরিফ আজাদ
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-আরিফ আজাদ বইটি ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন- Download
Wednesday, September 18, 2019
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন ও অপছন্দ করেন ( কুরআনের আলোকে)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন
১. রাসূলুল্লাহ সা.-এর অনুসারীদের:
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
বল, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা আলে-ইমরান, ৩:৩১) অর্থ্যাৎ যারা রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী আমল করে।
১. রাসূলুল্লাহ সা.-এর অনুসারীদের:
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
বল, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা আলে-ইমরান, ৩:৩১) অর্থ্যাৎ যারা রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী আমল করে।
২. আল্লাহর উপর ভরসাকারীদের:
فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ
অতঃপর তুমি কোন সংকল্প গ্রহণ করলে আল্লাহর প্রতি নির্ভর কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর উপর) নির্ভরশীলদের ভালবাসেন। ( সূরা আলে-ইমরান, ৩:১৫৯)
৩. যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে:
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ
যারা আল্লাহর পথে সুদৃঢ় প্রাচীরের মত সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে, নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন। ( সূরা সাফ, ৬১:৪)
৪.সৎকর্মশীলদের:
وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর এবং (ব্যয় না করে) নিজেরা নিজেদের সর্বনাশ করো না। আর তোমরা সৎকর্ম কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন। (সূরা বাকারা, ২:১৯৫) আরো দেখুন- সূরা মায়িদা, ৫:১৩
الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে। আর আল্লাহ (বিশুদ্ধচিত্ত) সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আলে-ইমরান, ৩:১৩৪)
وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ “আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।” (দ্রষ্টব্য: সূরা আলে-ইমরান,৩:১৪৮, সূরা মায়িদা, ৫:৯৩)
৫. ন্যায়পরায়ণ ও সুবিচারকারীদের:
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন। ( সূরা মায়িদা, ৫:৪২) আরো দেখুন- সূরা হুজুরাত, ৪৯:৯, সূরা মুমতাহিনা, ৬০:৮
৬. তাওবাকারীদের:
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা প্রার্থিগণকে এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। ( সূরা বাকারা, ২:২২২)
৭. ধৈর্যশীলদের:
وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ
আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন। ( সূরা আলে-ইমরান, ৩:১৪৬)
৮. আল্লাহভীরু/মুত্তাকী/ সংযমীদের:
بَلَىٰ مَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ وَاتَّقَىٰ فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
অবশ্যই যে তার অঙ্গীকার পালন করে এবং সংযত হয়ে চলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সংযমীদেরকে ভালবাসেন। ( সূরা আলে ইমরান, ৩: ৭৬) আরো দেখুন- সূরা তাওবা, ৯: ৪, ৭ পুনশ্চ: যারা আল্লাহর ভয়ে তার নির্দিষ্ট বিষয়াবলী থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখে।
৯. পবিত্রদের:
وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ
আর আল্লাহ উত্তমরূপে পবিত্রতা সম্পাদনকারীদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা তাওবাহ, ৯:১০৮)
পুনশ্চ: যারা দৈহিক ও চরিত্রগতভাবে (পাপাচার থেকে) পবিত্র।
আল্লাহ যাদের অপছন্দ করেন
১. কাফির/অবিশ্বাসীদের:
قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ ۖ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ
বলো, ‘তোমরা আল্লাহ ও রসূলের অনুগত হও।’ কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখ নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে ভালবাসেন না। ( সূরা আলে-ইমরান, ৩:৩২)
২. জালেমদর:
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ
আর আল্লাহ অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন না। (দ্রষ্টব্য: সূরা আলে ইমরান, ৩: ৫৭, ১৪০) আরো দেখুন, সূরা শূরা, ৪২:৪০
৩. সীমালঙ্ঘনকারীদের:
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ বাড়াবাড়িকারীদেরকে পছন্দ করেন না’। ( সূরা বাকারা, ২: ১৯০)
“হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে সব উৎকৃষ্ট বস্তু বৈধ করেছেন, সে সকলকে তোমরা অবৈধ করো না এবং সীমালংঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারীদেরকে ভালবাসেন না।” ( সূরা মায়িদা, ৫:৮৭)
৪. অকৃতজ্ঞ পাপীদের:
يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ ۗ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ
আল্লাহ সূদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বৃদ্ধি দেন। আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালবাসেন না। ( সূরা বাকারা, ২:২৭৬)
৫. বিশ্বাসঘাতক পাপিষ্ঠদের:
وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا আর তুমি তাদের পক্ষে কথা বলো না, যারা নিজেদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে। নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বাসঘাতক পাপিষ্ঠকে ভালবাসেন না। ( সূরা নিসা, ৪:১০৭)
وَإِمَّا تَخَافَنَّ مِنْ قَوْمٍ خِيَانَةً فَانْبِذْ إِلَيْهِمْ عَلَىٰ سَوَاءٍ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ
যদি তুমি কোন সম্প্রদায়ের বিশ্বাসঘাতকতার আশংকা কর, তাহলে তোমার চুক্তিও তুমি যথাযথভাবে বাতিল কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদেরকে পছন্দ করেন না। ( সূরা আনফাল, ৮:৫৮) আরো দেখুন- সূরা হাজ্জ, ২২:৩৮
৬. অশান্তি/বিপর্যয় ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের:
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْفَسَادَ
আর আল্লাহ অশান্তি/ বিপর্যয় পছন্দ করেন না। (সূরা বাকারা, ২:২০৫)
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ
আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না। ( সূরা মায়িদা, ৫:৬৪) আরো দেখুন- সূরা কাসাস, ২৮:৭৬
৭. দাম্ভিক/অহঙ্কারীদের:
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
গর্বিত ও অহংকারীদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। ( সূরা হাদীদ, ৫৭:২৩)
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
মানুষের জন্য নিজের গাল ফুলায়ো না (অবজ্ঞা করো না) এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না; কারণ আল্লাহ কোন উদ্ধত, অহংকারীকে ভালবাসেন না। ( সূরা লুকমান, ৩১:১৮)
আরো দেখুন- সূরা নিসা, ৪:৩৬
لَا جَرَمَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِينَ
এটা নিঃসন্দেহ যে, আল্লাহ জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে; তিনি অহংকারীকে অবশ্যই পছন্দ করেন না। ( সূরা নাহল, ১৬:২৩)
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না। ( সূরা কাসাস, ২৮:৭৬
৮. মন্দকথা প্রকাশ করাকে:
لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ ۚ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا
মন্দ কথা প্রকাশ করাকে আল্লাহ পছন্দ করেন না; তবে যার উপর যুলুম করা হয়েছে তার কথা স্বতন্ত্র। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা নিসা, ৪:১৪৮
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুজেযা
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুজেযা
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) রাসুল্লাহ সা.-এর প্রখ্যাত সাহাবী। তিনি বলেন: মদীনায় আমার কাছে বাস করত এক ইয়াহুদী। আমি তার কাছ থেকে ফলের মৌসুমে খেজুর দেয়ার শর্তে অগ্রীম কিছু অর্থ নিই ( বাইয়ে সালাম )। সেই বৎসর ভাল ফলন না হওয়াতে তিনি ইয়াহুদীর কাছে আগামী এক বৎসরের অবকাশ (সময় ) চাইলেন। ইয়াহুদী তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। জাবের রা. এই বিষয়ে রাসুল (সা.)কে বললে ; তিনি কিছু সাহাবী নিয়ে জাবেরের ওখানে গিয়ে ইয়াহুদীর কাছে জাবেরের পক্ষে অবকাশ চাইলেন। সে পূর্বের মত অস্বীকার করল। রাসূল (সা) জাবেরের (রা) বাগান ঘুরে এসে আবারো ইয়াহুদীর কাছে এক বছরের সময় চাইলেন। ইয়াহুদী আবারো সময় দিতে অস্বীকার করল।
জাবের রা. এসময় কিছু তাজা-পাকা খেজুর এনে রাসূল (সা)-এর কাছে এনে রাখলেন। রাসূল সা. তা থেকে খেলেন এবং বললেনঃ হে জাবের. তোমার ঘরটি কোথায়?
জাবের (রা) ঘর দেখিয়ে দিলে তিনি তাকে বিছানা পাততে বললেন। তিনি বিছানা করে দিলে রাসূল (সা.) তাতে শুইয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
ঘুম থেকে উঠে রাসূল (সা) আবার ইয়াহুদীর কাছে গিয়ে সময়ের অবকাশ চাইলেন। সে তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। রাসূল সা জাবের রা)-এর খেজুরের বাগানটি চক্কর দিয়ে জাবের রা.-কে বললেন, তিনি যে তার বাগানের অপর্যাপ্ত কাচা-পাকা খেজুর পেরে এখানে জমা করেন। জাবের রা. তাই করলেন। রাসূল সা. খেজুর স্তুপের উপর বসে জাবের (রা)কে নির্দেশ দিলেন তা থেকে মেপে মেপে ইয়াহুদীর পাওনা মিটিয়ে দিতে। জাবের (রা.) তাই করলেন। তিনি বলেন: আমি ইয়াহুদীর পাওনা মিটিয়ে দিয়ে দেখি এখনো আমার কাছে ঐ পরিমাণ আছে যা আমি প্রথমে স্তুপ করেছি বা তারচে বেশি যা আমার প্রয়োজন পূরণের জণ্য যথেষ্ট।
জাবের রা. এসময় কিছু তাজা-পাকা খেজুর এনে রাসূল (সা)-এর কাছে এনে রাখলেন। রাসূল সা. তা থেকে খেলেন এবং বললেনঃ হে জাবের. তোমার ঘরটি কোথায়?
জাবের (রা) ঘর দেখিয়ে দিলে তিনি তাকে বিছানা পাততে বললেন। তিনি বিছানা করে দিলে রাসূল (সা.) তাতে শুইয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
ঘুম থেকে উঠে রাসূল (সা) আবার ইয়াহুদীর কাছে গিয়ে সময়ের অবকাশ চাইলেন। সে তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। রাসূল সা জাবের রা)-এর খেজুরের বাগানটি চক্কর দিয়ে জাবের রা.-কে বললেন, তিনি যে তার বাগানের অপর্যাপ্ত কাচা-পাকা খেজুর পেরে এখানে জমা করেন। জাবের রা. তাই করলেন। রাসূল সা. খেজুর স্তুপের উপর বসে জাবের (রা)কে নির্দেশ দিলেন তা থেকে মেপে মেপে ইয়াহুদীর পাওনা মিটিয়ে দিতে। জাবের (রা.) তাই করলেন। তিনি বলেন: আমি ইয়াহুদীর পাওনা মিটিয়ে দিয়ে দেখি এখনো আমার কাছে ঐ পরিমাণ আছে যা আমি প্রথমে স্তুপ করেছি বা তারচে বেশি যা আমার প্রয়োজন পূরণের জণ্য যথেষ্ট।
হাবশী ক্রীতদাসী
আরবের এক উপকন্ঠে এক গোত্রের বাস। এ গোত্রে এক হাবশী ক্রীতদাসী ছিল। তার মালিক তাকে মুক্তি দিলেও সে তাদের সাথে থাকত। একদিন ওই গোত্রের এক বালিকা বাইরে বের হয়ে তার পড়নের অলঙ্কার হারিয়ে ফেলে বা কোথাও রেখে ভুলে যায়। এক চিল খাবার ভেবে তা নিয়ে যায়। গোত্রের লোকেরা ঐ ক্রীতদাসীকে সন্দেহ করে।
এক পর্যায়ে তারা মেয়েটিকে তল্লাশী করে, এমনকি তারা ওর লজ্জাস্থান পর্যন্ত অনুসন্ধান করে। হঠাৎ ওই চিলটি এসে ওদের সামনে হারানো অলঙ্কারটি ফেলে দেয়। তা দেখে ক্রীতদাসী বলল, তোমরা যেই হারের কারণে আমাকে অপদস্ত করলে এই দেখো ……তোমাদের কাছে আমি ভাল কিছু আশা করতে পারি না।
হাবশী ক্রীতদাসী পরবর্তিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তার ক্ষোভের কথা বলল। সে ইসলাম গ্রহণ করলে থাকার জন্য তাকে মসজিদের পাশে তাবু করে দেয়া হয়।
আইশা রা. বলেন: এই মহিলার সাথে যখনই দেখা হত সে সুরে সুরে বলত, ওই হারানো অলঙ্কারে এরা আমাকে অপমান করেছে; মহান প্রভু এটা দ্বারা আমাকে পথ দেখিয়েছেন।
এক পর্যায়ে তারা মেয়েটিকে তল্লাশী করে, এমনকি তারা ওর লজ্জাস্থান পর্যন্ত অনুসন্ধান করে। হঠাৎ ওই চিলটি এসে ওদের সামনে হারানো অলঙ্কারটি ফেলে দেয়। তা দেখে ক্রীতদাসী বলল, তোমরা যেই হারের কারণে আমাকে অপদস্ত করলে এই দেখো ……তোমাদের কাছে আমি ভাল কিছু আশা করতে পারি না।
হাবশী ক্রীতদাসী পরবর্তিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তার ক্ষোভের কথা বলল। সে ইসলাম গ্রহণ করলে থাকার জন্য তাকে মসজিদের পাশে তাবু করে দেয়া হয়।
আইশা রা. বলেন: এই মহিলার সাথে যখনই দেখা হত সে সুরে সুরে বলত, ওই হারানো অলঙ্কারে এরা আমাকে অপমান করেছে; মহান প্রভু এটা দ্বারা আমাকে পথ দেখিয়েছেন।
Saturday, July 13, 2019
হাদিসের গল্পঃ ঈমানদার যুবক ও আছহাবুল উখদূদের কাহিনী
হাদিসের গল্পঃ ঈমানদার যুবক ও আছহাবুল উখদূদের কাহিনী
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্ তায়ালার নামে-
বহুকাল পূর্বে একজন রাজা ছিলেন। সেই রাজার ছিল একজন যাদকুর। ঐ যাদুকর বৃদ্ধ হ’লে একদিন সে রাজাকে বলল,‘আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি। সুতরাং আমার নিকট একটি ছেলে পাঠান, যাকে আমি যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিব’। বাদশাহ তার নিকট একটি বালককে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তাকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিতে লাগলেন। বালকটি যাদুকরের নিকট যে পথ দিয়ে যাতায়াত করত, সে পথে ছিল এক সন্ন্যাসীর আস্তানা। বালকটি তার নিকট বসল এবং তার কথা শুনে মুগ্ধ হ’ল। বালকটি যাদুকরের নিকট যাওয়ার সময় ঐ সন্ন্যাসীর নিকট বসে তাঁর কথা শুনত। ফলে যাদুকরের নিকট পৌছাতে বালকটির দেরী হ’ত বলে যাদুকর তাকে প্রহার করত। বালকটি সন্ন্যাসীর নিকট এ কথা জানালে তিনি বালককে শিখিয়ে দেন যে,তুমি যদি যাদুকর কে ভয় কর তাহ’লে বলবে, বাড়ীর লোকজন আমাকে পাঠাতে বিলম্ব করেছে এবং বাড়ীর লোকজনকে ভয় পেলে বলবে, যাদুকরই আমাকে ছুটি দিতে বিলম্ব করেছে।
বালকটি এভাবে যাতায়াত করতে থাকে। একদিন পথে সে দেখল,একটি বৃহদাকার প্রাণী মানুষের চলাচলের পথ রোধ করে বসে আছে। বালকটি ভাবল, আজ পরীক্ষা করে দেখব যে, যাদুকর শ্রেষ্ঠ, না সন্ন্যাসী শ্রেষ্ঠ? অতঃপর সে একটি প্রস্তর খন্ড নিয়ে বলল, ‘হে আল্লাহ্! যাদুকরের কার্যকলাপ অপেক্ষা সন্ন্যাসীর কার্যকলাপ যদি তোমার নিকট অধিকতর প্রিয় হয়, তবে এই প্রাণীটিকে এই প্রস্তরাঘাতে মেরে ফেল। যেন লোকজন যাতায়াত করতে পারে’। এই বলে প্রাণীটিকে লক্ষ্য করে সে প্রস্তরখন্ডটি ছুঁড়ে মারল। প্রাণীটি ঐ প্রস্তাঘাতে মারা গেল এবং লোক চলাচল শুরু হল।
এরপর বালকটি সন্ন্যাসীর নিকট গিয়ে তাকে ঘটনাটি জানালে তিনি তাকে বললেন, বৎস! তুমি এখনই আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেছ। তোমার প্রকৃত স্বরূপ আমি বুঝতে পারছি। শীঘ্রই তোমাকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। যদি তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হও তাহলে যেন আমার কথা প্রকাশ করে দিও না। বালকটির দোআয় জন্মান্ধ ব্যক্তি চক্ষুষ্মান হতে লাগল, কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তি নিরাময় হতে লাগল এবং লোকজন অন্যান্য রোগ হতেও আরোগ্য লাভ করতে লাগল।
এদিকে রাজার একজন সহচর অন্ধ হয়েছিল। সে বহু উপঢৌকন সহ বালকটির নিকট গিয়ে বলল, তুমি যদি আমাকে চক্ষুষ্মান করে দাও, তাহলে এ সবই তোমার। বালকটি বলল, আমিতো কাউকে আরোগ্য করতে পারি না । বরং রোগ ভাল করেন আল্লাহ্। অতএব আপনি যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেন, তাহলে আমি আপনার রোগ মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকটে দোআ করতে পারি। তাতে তিনি হয়ত আপনাকে আরোগ্য দান করতে পারেন। ফলে লোকটি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল। আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করলেন।
পূর্বের ন্যায় তিনি রাজার নিকটে গিয়ে বসলে রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কে তোমাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিল? সে বলল, ‘আমার রব’। রাজা বললেন, আমি ছাড়া তোমার রব আছে কি? সে বলল, ‘আমার ও আপনার উভয়ের রব আল্লাহ’। এতে রাজা তাকে ধরে তার উপর নির্যাতন চালাতে থাকে। অবশেষে সে বালকটির নাম প্রকাশ করে দিল। অতঃপর বালকটিকে রাজদরবারে আনা হল। রাজা তাকে বললেন, বৎস!আমি জানতে পারলাম যে, তুমি তোমার যাদুর গুণে জনমান্ধ ও কুষ্ঠোব্যাধিগ্রস্ত লোকদের রোগ নিরাময় করছ এবং অন্যান্য কঠিন রোগও নিরাময় করে চলেছ। বালকটি বলল, আমি কাউকে রোগ মুক্ত করি না। রোগ মুক্ত করেন আল্লাহ। তখন রাজা তাকে পাকড়াও করে তার উপর উৎপীড়ন চালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে সে সন্ন্যাসীর কথা প্রকাশ করে দিল। তখন সন্ন্যাসীকে ধরে আনা হ’ল এবং তাঁকে বলা হল, তুমি তোমার ধর্ম পরিত্যাগ কর। কিন্তু সে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করল। তখন রাজার আদেশক্রমে করাত নিয়ে আসা হলে তিনি তা তার মাথার মাঝখানে বসালেন এবং তাঁর মাথা ও শরীর চিরে দ্বিখন্ডিত করে ফেললেন। তারপর রাজার সহচরকে আনা হল এবং তাকেও তার ধর্ম ত্যাগ করতে বলা হল। কিন্তু সেও অস্বীকৃতি জানালে তাকেও করাত দিয়ে চিরে দ্বিখন্ডিত করা হল।
তারপর বালকটিকে হাযির করে তার ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলা হল। বালকটিও নিজ ধর্ম পরিত্যাগ করতে অস্বীকার করল। তখন রাজা তাকে তার লোকজনের নিকট দিয়ে বললেন, তোমরা একে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকে সঙ্গে করে পাহাড়ে আরোহণ করতে থাক। যখন তোমরা পাহাড়ের উচ্চশৃঙ্গে পৌঁছাবে, তখন তাকে তার ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলবে। সে যদি অস্বীকার করে, তাহলে তোমরা তাকে সেখান থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে দিবে। তারা বালকটিকে নিয়ে পাহাড়ের উপরে উঠলে বালকটি দো‘আ করল, ‘হে আল্লাহ্! তোমার যেভাবে ইচ্ছা হয়, সেভাবে তুমি আমাকে এদের কাছ থেকে রক্ষা কর’। তৎক্ষণাৎ পাহাড়টি কম্পিত হয়ে উঠল এবং তারা নীচে পড়ে মারা গেল। আর বালকটি (সুস্থ দেহে) রাজার নিকট এসে উপস্থিত হল। রাজা তখন তাকে বললেন, ‘তোমার সঙ্গীদের কি হল’? তখন সে বলল, আল্লাহই আমাকে তাদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।
তারপর রাজা তাকে তার একদল লোকের নিকট সোপর্দ করে আদেশ দিলেন, ‘একে একটি বড় নৌকায় উঠিয়ে নদীর মাঝখানে নিয়ে যাও। যদি সে নিজ ধর্ম পরিত্যাগ করে, তো ভাল। নচেৎ তাকে নদীতে নিক্ষেপ কর।’ তারা বালকটিকে নিয়ে মাঝ নদীতে পৌঁছালে বালকটি পূর্বের ন্যায় দোআ করল, ‘হে আল্লাহ্! তোমার যেভাবে ইচছা হয়, সেভাবে তুমি আমাকে এদের হাত থেকে রক্ষা কর’। এতে নৌকা ভীষণভাবে কাত হয়ে পড়ল। ফলে রাজার লোকজন নদীতে ডুবে মারা গেল। আর বালকটি (সুস্ত দেহে) রাজার নিকটে আসলে রাজা তাকে বললেন, তোমার সঙ্গীদের কি অবস্থা? সে বলল, আল্লাহ্ই আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এরপর সে রাজাকে বলল, ‘আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন আমাকে কোনভাবেই হত্যা করতে পারবেন না। যতক্ষণ না আমি যা বলব, আপনি তা করবেন। রাজা বললেন, ‘সেটা কি’? বালকটি বলল, ‘আপনি একটি বিসতীর্ণ মাঠে সকল লোককে হাযির করুন এবং সেই মাঠে খেজুরের একটি গুঁড়ি পুঁতে তার উপরিভাগে আমাকে বেঁধে রাখুন। তারপর আমার তূনীর হতে একটি তীর নিয়ে ধনুকে সংযোজিত করুন। তারপর (বালকটির রব আল্লাহর নামে) বলে আমার দিকে তীরটি নিক্ষেপ করুন। আপনি যদি এ পন্থা অবলম্বন করেন, তবেই আমাকে হত্যা করতে পারবেন।
বালকের কথামত এক বিসতীর্ণ মাঠে রাজা সকল লোককে সমবেত করলেন এবং বালকটিকে একটি খেজুর গাছের গুঁড়ির উপরে বাঁধলেন। তারপর রাজা বালকটির তূনীর হতে একটি তীর নিয়ে ধনুকের মধ্যভাগে সংযোজিত করলেন। তারপর বলে বালকটির দিকে তীর নিক্ষেপ করলেন। তীরটি বালকের চোখ ও কানের মধ্যভাগে বিদ্ধ হল। বালকটি এক হাতে তীরবিদ্ধ স্থানটি চেপে ধরল। অতঃপর সে মারা গেল।
এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত জনগণ বলে উঠল, ‘আমরা বালকটির রবের প্রতি ঈমান আনলাম। আমরা বালকটির রবের প্রতি ঈমান আনলাম। তারপর রাজার লোকজন তাঁর নিকট গিয়ে বলল, ‘আপনি যা আশঙ্কা করছিলেন তাই শেষ পর্যন্ত ঘটে গেল। সব লোক বালকটির রবের প্রতি ঈমান আনল’। তখন রাজা রাস্তাগুলির চৌমাথায় প্রকান্ড গর্ত খনন করার নির্দেশ দিলেন। তার কথা মতো গর্ত খনন করে তাতে আগুন প্রজ্জ্বলিত করা হ’ল। তারপর রাজা হুকুম দিলেন, ‘যে ব্যক্তি বালকের ধর্ম পরিত্যাগ করবে না, তাকে ঐ আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে মার। অথবা তাকে বলবে, তুমি এই আগুনে ঝাঁপ দাও। রাজার লোকেরা তার হুকমু পালন করতে লাগল। ইতিমধ্যে একজন রমণীকে তার শিশুসন্তাসহ উপস্থিত করা হল। রমণীটি আগুনে ঝাঁপ দিতে ইতস্তত করতে থাকলে শিশুটি বলে উঠল, ‘মা ছবর অবলম্বন (করতঃ আগুনে প্রবেশ) করুন।কেননা আপনি হক পথে আছেন’।
পবিত্র কুরআনের সূরা বুরূজে এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে,
‘ধবংস হয়েছিল গর্তওয়ালারা- ইন্ধনপূর্ণ যে গর্তে ছিল অগ্নি, যখন তারা তার পাশে উপবিষ্ট ছিল এবং তারা মুমিনদের সাথে যা করছিল তা প্রত্যক্ষ করছিল। তারা তাদেরকে নির্যাতন করেছিল শুধু একারনে যে, তারা বিশ্বাস করতো পরাক্রমশালী ও প্রশংসার্হ আল্লাহে’ (বুরূজ ৪-৮)।
[সহীহ মুসলিম হা/৩০০৫ ‘যুহদ ও রিক্বাক্ব’ অধ্যায়, অনুচেছদ-১৭, শুহাইব বিন সিনান আর-রূমী (রাঃ) হতে বর্ণিত, আহমাদ হা/২৩৯৭৬]।
শিক্ষা :
১. প্রত্যেকটি আদম সন্তান স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর জন্মগ্রহণ করে।
২. মুমিন বান্দা সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করবে ও কায়মনোবাক্যে তাঁর নিকট দো‘আ করবে।
৩. রোগমুক্তির মালিক একমাত্র আল্লাহ্; কোন পীর-ফকীর বা সাধু-সন্ন্যাসী নয়।
৪. আল্লাহর পথের নির্ভীক সৈনিকেরা বাতিলের সামনে কখনো মাথা নত করে না।
৫. মুমিন দুনিয়াবী জীবনে পদে পদে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তার ঈমানের মযবূতী পরখ করেন।
৬. হক্বের বিজয় অবশ্যম্ভাবী
Subscribe to:
Posts (Atom)