কাফেরদের সাথে কেনাবেচা ও লেনদেনের বিধান: আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ. (সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি এবং বিশ্ববরেণ্য আলেম)।
প্রশ্ন: যারা আমেরিকা, ব্রিটেন বা এ জাতীয় অমুসলিম দেশে বসবাস করেন তারা কাফেরদের সাথে লেনদেন করেন। এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?
উত্তর:
النَّبِيُّ ﷺ مَاتَ وَدِرْعُهُ مَرْهُونٌ عِنْدَ يَهُودِيٍّ، وَالْمُحَرَّمُ الْمُوَالاةُ، أَمَّا الْبَيْعُ وَالشِّرَاءُ فَمَا فِيهِ شَيْءٌ، اشْتَرَى ﷺ مِنْ وَثَنِيٍّ أَغْنَامًا، وَوَزَّعَهَا عَلَى أَصْحَابِهِ ﷺ.
وَإِنَّمَا الْمُحَرَّمُ مُوَالاتُهُمْ وَمَحَبَّتُهُمْ، وَنَصْرُهُمْ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، أَمَّا كَوْنُ الْمُسْلِمِ يَشْتَرِي مِنْهُمْ وَيَبِيعُ عَلَيْهِمْ، أَوْ يَضَعُ عِنْدَهُمْ حَاجَةً، فَمَا فِي ذَلِكَ بَأْسٌ، حَتَّى النَّبِيُّ ﷺ أَكَلَ طَعَامَ الْيَهُودِ، وَطَعَامُهُمْ حِلٌّ لَنَا، كَمَا قَالَ سُبْحَانَهُ: ﴿وَطَعَامُ
“নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বর্মটি এক ইহুদির কাছে বন্ধক রাখা ছিল। আসলে কাফেরদের সাথে ‘মুয়ালাত’ বা ধর্মীয় সখ্যতা রাখা হারাম। কিন্তু কেনাবেচা বা ব্যবসায়িক লেনদেনে কোনও সমস্যা নেই। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন মূর্তিপূজক মুশরিকের কাছ থেকে বকরি কিনেছিলেন এবং তা সাহাবিদের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছিলেন। মূলত তাদের সাথে ভালোবাসা রাখা, অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব করা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য করা হারাম। তবে তাদের কাছ থেকে কেনা, তাদের কাছে বিক্রি করা বা তাদের কাছে কোনও প্রয়োজনীয় বস্তু রাখা—এসবের মধ্যে কোনও বাধা নেই। এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহুদিদের খাবার খেয়েছেন। আর আহলে কিতাবদের খাবার আমাদের জন্য হালাল, যেমন আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) বলেছেন:
وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَّهُمْ
“যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাবার তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাবার তাদের জন্য হালাল।” [সূরা আল-মায়িদাহ: ৫]
[মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত শাইখ বিন বাজ: ১৯/৬০]
প্রশ্ন: বর্তমানে কাফেরদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করলে তাদের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় তবুও কি আমরা তাদের থেকে কিনব?
উত্তর: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ، فَإِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ
“তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাকো। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে।”
তাদের থেকে কেনাকাটা নিষিদ্ধ করা এক ধরনের ভিত্তিহীন বাড়াবাড়ি এবং এটি শরয়ি দলিলের পরিপন্থী। এছাড়া কাফেরদের দাস ক্রয় করা বা তাদের সেবা গ্রহণ করায় কোনও অসুবিধা নেই, যেমনটি হাজেরা (আ.)-এর ঘটনায় দেখা যায়। তিনি সারাহ ও ইব্রাহিম (আ.)-এর মালিকানাধীন ছিলেন এবং এটি মুশরিকদের পক্ষ থেকে দেওয়া উপহার ছিল। পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আ.) তাকে গ্রহণ করেন এবং ইসমাইল (আ.)-এর জন্ম হয়।
সুতরাং অমুসলিমদের সাথে ক্রয়-বিক্রয়, উপহার বিনিময়সহ অন্যান্য লেনদেন শরয়ি শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ। তা নগদ মূল্যে হোক (যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিকের থেকে বকরি কিনেছেন) অথবা বাকিতে হোক। এসব লেনদেনের অর্থ এই নয় যে, তাদের সাথে ভালোবাসা বা অন্তরঙ্গতা পোষণ করা হচ্ছে। কারণ লেনদেন এক বিষয় আর মনের ভালোবাসা বা সখ্যতা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
প্রশ্ন: যদি একজন মুসলিম ব্যবসায়ী থাকে আর একজন রাফেজি (শিয়া) ব্যবসায়ী থাকে তবে (রাফেজির কাছ থেকে কেনা) কি ‘ওয়ালা-বারা’ (বন্ধুত্ব ও শত্রুতা) নীতির অন্তর্ভুক্ত হবে না?
উত্তর: না, কেনাবেচা ‘ওয়ালা-বারা’ বা ঈমানি বন্ধুত্ব ও শত্রুতার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। পণ্যটি কোনও রাফেজি, ইহুদি বা মূর্তিপূজকের কাছে থাকতে পারে। হতে পারে তার পণ্যটি মুসলিম ব্যবসায়ীর পণ্যের চেয়ে বেশি উন্নত বা দামে সস্তা; সেক্ষেত্রে তা কেনায় কোনও দোষ নেই। আল্লাহু আলাম। [উৎস: binbaz org]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
No comments:
Post a Comment