প্রশ্ন: তীব্র ঠান্ডার দিনে ফজরের সালাতের জন্য বাইরে বের হলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে কেউ যদি বাড়িতেই ফরজ সালাত আদায় করেন। তাহলে তার সালাত কি সহিহ হবে?
▬▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর মূলনীতি হলো পুরুষদের জন্য ফরয সালাত মসজিদে গিয়ে জামা‘আতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব। বরং ফরয সালাত জামা‘আত সহকারে আদায় না করলে সালাত ক্ববুল না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা নবী (ﷺ) বলেন, مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يَأْتِهِ فَلَا صَلَاةَ لَهُ إِلَّا مِنْ عُذْرٍ “যে ব্যক্তি আযান শুনল অথচ সে কোন ওজর (বৈধ কারণ) না থাকা সত্ত্বেও জামা‘আতে উপস্থিত হল না, তার কোন সালাত নেই। (অর্থাৎ বিনা ওরে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ঘরে সালাত আদায় করলে তার সালাত পূর্ণাঙ্গ বা কবুল হবে না, কিংবা সালাতের ফরজিয়াত আদায় হলেও তার কবিরা গুনাহ হবে)। অন্য বর্ণনায় এসেছে,সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ওযর কী? নবী (ﷺ) বললেন, ‘ভয়-ভীতি অথবা অসুস্থতা’ (ইবনু মাজাহ, হা/৭৯১; আবূ দাঊদ, হা/৫৫১; ইরওয়াউল গালীল, হা/৩৩৭; সহীহুল জামি‘ হা/৬৩০০)।অন্যত্র তিনি বলেন, من سمع النداءَ فارغًا صحيحًا فلم يُجِبْ ، فلا صلاةَ لهُ ‘যে ব্যক্তি সুস্থ শরীরে ও অবসর সময়ে আযান শুনল, অথচ সে সাড়া দিল না, তার কোন সালাত নেই’ (হাকিম, হা/৮৯৯; বাইহাক্বী, হা/৫৭৯৭; আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৪৩৪; ইরওয়াউল গালীল, ২/৩৩৮)। আরেক বর্ননায় ইবনু উম্মে মাকতূম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তিনি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি তো অন্ধ, আমার ঘরও দূরে অবস্থিত। আমার একজন পথচালকও আছে, কিন্তু সে আমার অনুগত নয়। এমতাবস্থায় আমার জন্য ঘরে সালাত আদায়ের অনুমতি আছে কি? রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি কি আযান শুনতে পাও? ইবনু উম্মে মাকতূম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তোমার জন্য অনুমতির কোন সুযোগ দেখছি না (আবূ দাঊদ হা/৫৫২-৫৫৩; সহীহ মুসলিম হা/৬৫৩; নাসাঈ, হা/৮৫১; ইবনু মাজাহ হা/৭৯২; মুসনাদে আহমাদ হা/১৫৪৯০-১৫৪৯১)। এমনকি যারা ফরয সালাতের জামা‘আতে উপস্থিত হয় না, ওযর বা শরী‘আতসম্মত কারণ না থাকা সত্ত্বেও মসজিদে হাজির হয় না, মহানবী (ﷺ) তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন (সহীহ বুখারী, হা/৬৫৭)। জামা‘আত ত্যাগ করা মুমিনের আদর্শ নয়, বরং তা মুনাফিক্বের বৈশিষ্ট্য। (সহীহ মুসলিম, হা/৬৫৪; আবূ দাঊদ, হা/৫৫০)।
.
প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত হাদিসসমূহসহ এ ধরনের আরও বহু সহিহ হাদিস গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সামর্থ্যবান ও সক্ষম পুরুষদের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাআতের সঙ্গে সালাত আদায় করা ওয়াজিব। বিনা শরঈ ওজরে জামাআত পরিত্যাগ করা গুরুতর কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়। তবে একই সঙ্গে রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ থেকে এটিও প্রমাণিত যে, ইসলামী শরীয়ত কষ্ট ও অক্ষমতার ক্ষেত্রে কঠোর নয়; বরং বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসংগত ওজরের প্রতি শরীয়ত পূর্ণ বিবেচনা রেখেছে। অতএব, কোনো ব্যক্তি যদি বিশেষ প্রয়োজন, ভয়, অসুস্থতা বা গ্রহণযোগ্য শার’ঈ ওজরের কারণে জামাআতে উপস্থিত হতে অপারগ হয়, তবে সে ক্ষেত্রে একাকী বা নিজ বাড়িতে সালাত আদায় করলে তা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হবে না।এর স্বপক্ষে দলিল হচ্ছে মহান আল্লাহর বানী: فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُم“তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো।”[সূরা তাগাবুন: ১৬] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ“আমি যদি তোমাদেরকে কোন বিষয়ে আদেশ করি তাহলে সাধ্য অনুসারে তা পালন করবে।”(সহিহ বুখারি]
.
সুতরাং যদি প্রচণ্ড শীতের কারণে বহু স্তরের পোশাক বা গরম কাপড় পরিধান করেও, কিংবা গাড়ি ইত্যাদির মাধ্যমে মসজিদে গমন করেও ঠান্ডা থেকে নিজেকে যথাযথভাবে রক্ষা করা সম্ভব না হয়, এবং কোনো ব্যক্তি যুক্তি সংগতভাবে আশঙ্কা করেন যে মসজিদে সালাত আদায়ের জন্য বের হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন—তাহলে এটি শরীয়তসম্মত একটি ওজর হিসেবে গণ্য হবে, যা তাকে মসজিদে জামাতে সালাত আদায় না করার অনুমতি দেয়। তবে যদি শীত থেকে আত্মরক্ষার উপায় সহজলভ্য হয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ার বাস্তব কোনো আশঙ্কা না থাকে, তাহলে কেবল শীতের অজুহাতে মসজিদের জামাত পরিত্যাগ করা শরীয়তসম্মত ওজর হিসেবে বিবেচিত হবে না। প্রচন্ড শীতের কারণের মসজিদে গমন করতে না পারে বাড়িতে সালাত আদায় করা বৈধ এর স্বপক্ষে দলিল হচ্ছে,নাফি‘ (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (প্রচন্ড এক শীতের রাতে) ইবনু ‘উমার (রাযি.) মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী পাহাড় যাজনান নামক স্থানে এক শীতের রাতে আযান দিলেন, অতঃপর তিনি ঘোষণা করলেনঃصَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ فَأَخْبَرَنَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ مُؤَذِّنًا يُؤَذِّنُ ثُمَّ يَقُولُ عَلَى إِثْرِهِ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ فِي اللَّيْلَةِ الْبَارِدَةِ أَوْ الْمَطِيرَةِ فِي السَّفَرِ.”তোমরা আবাস স্থলেই সালাত আদায় করে নাও। পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়াজ্জিনকে আযান দিতে বললেন এবং সাথে সাথে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমরা নিজ বাসস্থলে সালাত আদায় কর।”(সহীহ বুখারী হা/৬৩২;সহীহ মুসলিম হা/৬৬৬)
.
উক্ত হাদীসের ব্যাখায় শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আবুল ফাদল আহমাদ বিন আলি ইবনু হাজার আল-আসকালানি,(রাহিমাহুল্লাহ) [জন্ম:৭৭৩ হি: মৃত:৮৫২ হি:] বলেন:
وَفِي صَحِيح أَبِي عَوَانَةَ : ( لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ أَوْ ذَاتُ مَطَرٍ أَوْ ذَاتُ رِيحٍ ) وَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ كُلًّا مِنْ الثَّلَاثَة عُذْرٌ فِي التَّأَخُّر عَنْ الْجَمَاعَة , وَنَقَلَ اِبْن بَطَّالٍ فِيهِ الْإِجْمَاع , لَكِنَّ الْمَعْرُوفَ عِنْدَ الشَّافِعِيَّة أَنَّ الرِّيح عُذْرٌ فِي اللَّيْل فَقَطْ , وَظَاهِر الْحَدِيث اِخْتِصَاص الثَّلَاثَة بِاللَّيْلِ , لَكِنْ فِي السُّنَن مِنْ طَرِيق اِبْن إِسْحَاقَ عَنْ نَافِع فِي هَذَا الْحَدِيث : ( فِي اللَّيْلَة الْمَطِيرَة وَالْغَدَاة الْقَرَّة[الباردة] ) , وَفِيهَا بِإِسْنَادٍ صَحِيح مِنْ حَدِيث أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ : ( أَنَّهُمْ مُطِرُوا يَوْمًا فَرَخَّصَ لَهُمْ ) وَلَمْ أَرَ فِي شَيْء مِنْ الْأَحَادِيث التَّرَخُّص بِعُذْرِ الرِّيح فِي النَّهَار صَرِيحًا , لَكِنَّ الْقِيَاس يَقْتَضِي إِلْحَاقَهُ .قَوْله : (فِي السَّفَر) ظَاهِره اِخْتِصَاص ذَلِكَ بِالسَّفَرِ , وَرِوَايَة مَالِك عَنْ نَافِع الْآتِيَة فِي أَبْوَاب صَلَاة الْجَمَاعَة مُطْلَقَةٌ , وَبِهَا أَخَذَ الْجُمْهُور , لَكِنَّ قَاعِدَةَ حَمْلِ الْمُطْلَقِ عَلَى الْمُقَيَّدِ تَقْتَضِي أَنْ يَخْتَصَّ ذَلِكَ بِالْمُسَافِرِ مُطْلَقًا , وَيُلْحَق بِهِ مَنْ تَلْحَقُهُ بِذَلِكَ مَشَقَّة فِي الْحَضَر دُونَ مَنْ لَا تَلْحَقهُ ، وَاَللَّه أَعْلَم “
“সহীহ আবি আওয়ানা-তে বর্ণিত হয়েছে: ‘(রাসূলুল্লাহ ﷺ নির্দেশ দিতেন মুয়াজ্জিনকে ঘোষণা করতে) প্রচণ্ড শীতল রাতে অথবা বৃষ্টির রাতে অথবা বায়ুপ্রবাহের (ঝড়ো হাওয়া) রাতে।’ এটি প্রমাণ করে যে, এই তিনটির প্রতিটিই জামাতে উপস্থিত না হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য ওজর বা কারণ। ইবনে বাত্তাল রাহি. এ বিষয়ে (ওজর হওয়ার ব্যাপারে) ‘ইজমা’ বা ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে শাফে’ঈ মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো—বায়ুপ্রবাহ বা ঝড়ো হাওয়া কেবল রাতের বেলাতেই ওজর হিসেবে গণ্য হবে। হাদিসের বাহ্যিক শব্দ থেকেও বোঝা যায় যে, এই তিনটি বিষয় (শীত, বৃষ্টি ও বায়ু) রাতের সাথেই খাস বা সুনির্দিষ্ট। কিন্তু ‘সুনান’ গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সূত্রে নাফে (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: ‘বৃষ্টির রাতে এবং শীতল সকালে।’ আবার ‘সুনান’ এই সহীহ সনদে আবু মালিহ তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ‘একদিন তারা বৃষ্টির কবলে পড়লেন, তখন তাদের (জামাতে না আসার) অনুমতি দেওয়া হলো।”দিনের বেলা ঝড়ো হাওয়ার কারণে জামাত থেকে বিরত থাকার অনুমতি বিষয়ে আমি কোনো হাদিসে স্পষ্ট কিছু পাইনি, তবে কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) অনুযায়ী একেও বৃষ্টির সাথে যুক্ত করা প্রয়োজন। হাদিসের শব্দ ‘সফরের অবস্থায়’—এর বাহ্যিক দিক থেকে মনে হয় এটি কেবল সফরের সাথেই সংশ্লিষ্ট। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) নাফে থেকে জামাতের অধ্যায়ে যে রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করেছেন তা ‘মুতলাক’ বা শর্তহীন (অর্থাৎ সফর বা মুকিম কোনোটির উল্লেখ নেই)। জুমহুর বা অধিকাংশ আলিম এই মতটিই গ্রহণ করেছেন (অর্থাৎ সফর ও আবাসস্থল উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।তবে ‘মুতলাক’ (সাধারণ)-কে ‘মুয়াক্কাদ’ (নির্দিষ্ট)-এর ওপর ভিত্তি করার মূলনীতি অনুযায়ী এটি কেবল মুসাফিরের জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর মুকিম বা নিজ এলাকায় অবস্থানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হবে যাদের ক্ষেত্রে (বৃষ্টি বা শীতে) চলাচলে কষ্ট হয়; কিন্তু যাদের কোনো কষ্ট হয় না, তারা এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।”( ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১২৭৮৭৬)
.
আবু ইসহাক আল-সিরাজি তাঁর ‘আল-মুহায্যাব’ নামক গ্রন্থে বলেন:وتسقط الجماعة بالعذر وهو أشياء … ومنها : أن يخاف ضررا في نفسه أو ماله أو مرضا يشق معه القصد
“ওজরের (যুক্তিসঙ্গত কারণ) দরুন (মসজিদে) জামাতে উপস্থিত হওয়ার আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়; আর ওজরগুলো হলো কয়েকটি বিষয়… তার মধ্যে অন্যতম হলো: নিজের জান বা মালের ক্ষতির আশঙ্কা করা, অথবা এমন অসুস্থতা যা নিয়ে (মসজিদে যাওয়ার) সংকল্প করা অত্যন্ত কষ্টকর।”(আল-মুহাযযাব; খন্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১৭৬)
.
শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] তাঁর বিখ্যাত কিতাব ‘আল-মাজমু’-তে শাফি‘ঈ মাযহাবের ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী জামাতে উপস্থিত না হওয়ার বৈধ ওজর প্রসঙ্গে বলেন:”الْبَرْدُ الشَّدِيدُ عُذْرٌ فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ , وَشِدَّةُ الْحَرِّ عُذْرٌ فِي الظُّهْرِ , وَالثَّلْجُ عُذْرٌ إنْ بَلَّ الثَّوْبَ “প্রচণ্ড শীতের রাত এবং দিন উভয় সময়ের জন্যই (জামাতে উপস্থিত না হওয়ার) ওজর বা কারণ হিসেবে গণ্য। তেমনিভাবে জোহরের নামাজের সময় প্রচণ্ড গরমও একটি ওজর। আর তুষারপাতও একটি ওজর, যদি তা কাপড় ভিজিয়ে দেয় (অর্থাৎ কাপড়ে আর্দ্রতা তৈরি করে)।”(নববী আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৯৯)
.
আল মাওযূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ আল-কুয়েতিয়াহ, কুয়েতি ফিক্বহ বিশ্বকোষে বলা হয়েছে,والْبَرْدُ الشَّدِيدُ لَيْلاً أَوْ نَهَارًا وَكَذَلِكَ الْحَرُّ الشَّدِيدُ ، من الأَْعْذَار العامة الَّتِي تُبِيحُ التَّخَلُّفَ عَنْ صَلاَةِ الْجَمَاعَةِ . وَالْمُرَادُ : الْبَرْدُ أَوِ الْحَرُّ الَّذِي يَخْرُجُ عَمَّا أَلِفَهُ النَّاسُ ، أَوْ أَلِفَهُ أَصْحَابُ الْمَنَاطِقِ الْحَارَّةِ أَوِ الْبَارِدَةِ “রাতে বা দিনে প্রচণ্ড শীত, একইভাবে প্রচণ্ড গরম এগুলো সেই সকল সাধারণ ওজরের (অপারগতা) অন্তর্ভুক্ত যা জামাতে উপস্থিত না হওয়ার বৈধতা দান করে। আর এখানে প্রচণ্ড শীত বা গরম বলতে উদ্দেশ্য হলো: এমন শীত বা গরম যা মানুষের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার বাইরে, অথবা যা প্রচণ্ড গরম বা শীতপ্রধান অঞ্চলের অধিবাসীদের সচরাচর অভ্যাসের সীমানা ছাড়িয়ে যায়।”
(আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, খণ্ড: ২৭, পৃষ্ঠা: ১৮৬) এই কিতাবে আরও বলা হয়েছে;وَفِي صَلاَةِ الْجُمُعَةِ وَالْجَمَاعَةِ : أَجَازَ الْفُقَهَاءُ فِي الْبَرْدِ الشَّدِيدِ التَّخَلُّفَ عَنْ صَلاَةِ الْجُمُعَةِ ، وَعَنْ صَلاَةِ الْجَمَاعَةِ نَهَارًا أَوْ لَيْلاً”আর জুমুআ ও জামায়াতে নামাজের ক্ষেত্রে: ফকিহগণ (ইসলামী আইনবিদ) প্রচণ্ড শীতে জুমুআর সালাত এবং দিনে বা রাতে জামায়াতে সালাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।”(আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, খণ্ড:৮, পৃষ্ঠা: ৫৭-৫৮)
.
পরিশেষে, প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত উদ্ধৃতি ও আলোচনার আলোকে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামী শরিয়ত মূলত সহজ, সহনশীল ও মানবকল্যাণমুখী। শরিয়ত কখনোই মানুষের ওপর অযথা কষ্ট আরোপ করে না। অতএব, যখন আবহাওয়া এমন চরম অবস্থায় পৌঁছে যায়, যা মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে কিংবা স্বাস্থ্যের জন্য বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করে, তখন ইসলামী শরিয়ত ঘরে অবস্থান করে সালাত আদায়ের অনুমতি প্রদান করেছে। তবে সাধারণ ও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে—যখন কোনো বাস্তব অজুহাত বিদ্যমান নেই এবং গরম কাপড় বা অন্য কোনো উপায়ে মসজিদে যাওয়া সম্ভব হয়, তবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য মসজিদে জামাতে উপস্থিত না হয়ে ঘরে ফরজ সালাত আদায় করা শরিয়তসম্মত নয়। যেমনটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,(مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يَأْتِهِ فَلَا صَلَاةَ لَهُ إِلَّا مِنْ عُذْرٍ) “যে ব্যক্তি আযান শুনল এবং তার কোন ওযর না থাকা সত্ত্বেও জামাআতে উপস্থিত হলো না, তার সালাত নাই “(সুনানে ইবনে মাজাহ, হা/৭৯৩; আবূ দাঊদ হা/৫৫১; ইমাম আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটি সহীহ বলেছেন, ইরওয়াউল গালীল হা/৩৩৭)। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।
▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
No comments:
Post a Comment