January 11, 2025

রাতের বেলায় কুরআনের ১০০ টি আয়াত তেলাওয়াতের বিশেষ মর্যাদা

 প্রশ্ন: হাদীসে বর্ণিত হয়েছে রাতের বেলা ১০০ আয়াত পাঠ করলে সারা রাত নফল নামাযের সওয়াব পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হল, এই ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করার ক্ষেত্রে আমরা নামাযে যে সব সুরা পাঠ করি সেগুলোও কি এর আওতাভুক্ত হবে নাকি নামাযের বাইরে আলাদা ভাবে তেলাওয়াত করতে হবে? বিষয়টি জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর: প্রথমে আমরা এ মর্মে বর্ণিত দুটি হাদিস দেখবো।
❑ তামীম দারী রা. থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
قَالَ مَنْ قَرَأَ مِائَةَ آيَةٍ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ لَهُ قُنُوتُ لَيْلَةٍ
“যে ব্যক্তি এক রাতে একশ’টি আয়াত পাঠ করবে, সে ব্যক্তির আমলনামায় ঐ রাতের ইবাদত বন্দেগী ও নফল নামাযের সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে।”
(আহমাদ ১৬৯৫৮, নাসাঈ কুবরা ১০৫৫৩, ত্বাবারানী ১২৩৮, দারেমী ৩৪৫০, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৪৪)

❑ তিনি আরও বলেছেন,.

مَنْ قرأَ في ليلةٍ مِائةَ آيَةٍ لمْ يُكْتَبْ مِنَ الغَافِلِينَ أوْ كُتِبَ مِنَ القَانِتِينَ
“যে ব্যক্তি রাতে ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করে তাকে গাফেলদের (অন্যমনস্ক, অমনোযোগীদের) মাঝে লিপিবদ্ধ করা হবে না। অথবা তাকে আল্লাহর আনুগত্যশীল বান্দাদের মাঝে লিপিবদ্ধ করা হবে।”

(ইমাম মুহাম্মদ বিন নাসর আল মারওয়াযী রহ. ক্বিয়ামুল লাইল, পৃ:৬৬; শাইখ আলবানী সিলসিলা সহীহাহ গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসে শাইখাইন তথা ইমাম বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। হা/৬৪৩)

উপরোক্ত হাদীসদ্বয়ে কেবল রাতের বেলা ১০০টি আয়াত পড়ার কথা বলা হয়েছে। নামাযের ভিতরে না কি বাইরে সে ব্যাপারে কিছু বলা হয় নি। তাহলে আশা করা যায়, নামাযের ভিতরেই হোক অথবা বাইরে হোক রাতে একশত আয়াত পড়া হলে উক্ত মর্যাদা লাভ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন : উক্ত মর্যাদা লাভের জন্য কি রাতের সালাতে পড়া আবশ্যক?

উত্তর : কিছু হাদিসে রাতের সালাতের কথা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ কেউ যদি রাত্রে নফল সালাতে ১০০ টি আয়াত পাঠ করে তাহলে সে এই মর্যাদা লাভ করবে। যেমনটি বলেছেন, ইমাম ইবনে হাজার সহ অন্যান্য আলেমগণ।
তবে কিছু হাদিসে সালাতের কথা উল্লেখ নেই। এ কারণে কিছু আলেমের মতে, সালাতের বাইরে পড়লেও এই মর্যাদা লাভ হবে। যেমনটি মিশকাতুল মাসাবিহ-এর ভাষ্যগ্রন্থ মিরআতুল মাফাতীহ (مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح)-এর লেখক আল্লামা উবায়দুল্লাহ মোবারকপুরি ইমাম তীবীর সূত্রে এ মত উল্লেখ করেছেন।
وحاصله أن الحديث مطلق غير مقيد لا بصلاة ولا بليل، فينبغي أن يحمل على أدنى مراتبه، ويدل عليه قوله لم يكتب من الغافلين

সুতরাং এমতানুযায়ী যদি সালাতের বাইরেও আয়াতুল কুরসি, সূরাতুল ইখলাস, সূরাতুল ফালাক, সূরাতুন নাস, সুরাতুল মুলক ইত্যাদি পাঠ করে তাহলে এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। তবে সালাতের মধ্যে পাঠ করা নিঃসন্দেহে আরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ। এতে সালাতের মর্যাদার পাশাপাশি এই ১০০ আয়াত পাঠের মর্যাদা উভয়টি লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইসলাম ওয়েবের ফতোয়ায় লেখা হয়েছে,

فإن المقصود يحصل بقراءة الآيات في الصلاة ـ سواء قرأها في ركعة واحدة أو أكثر ـ ويحتمل حصوله بمجرد التلاوة ـ ولو لم يكن في صلاة ـ لما في الحديث: من قرأ عشر آيات في ليلة لم يكتب من الغافلين. رواه الحاكم وقال صحيح على شرط مسلم، وقال فيه الألباني: صحيح لغيره.
ولكن الأولى أن يكون ذلك في الصلاة، لما في الحديث: من صلى في ليلة بمائة آية لم يكتب من الغافلين. رواه ابن خزيمة والحاكم وصححاه.

“উদ্দেশ্য হলো, উক্ত মর্যাদা লাভ হবে যদি তা সালাতে পড়া হয়। চাই এক রাকাতে পড়ুক কিংবা একাধিক রাকাতে পড়ুক। এটাও সম্ভাবনা রয়েছে যে, কেবল তিলাওয়াতের মাধ্যমেই এই মর্যাদা অর্জিত হবে যদিও সালাতে না পড়ে। কেননা এক হাদিসে এসেছে,
من قرأ عشر آيات في ليلة لم يكتب من الغافلين

“যে ব্যক্তি রাতে দশটি আয়াত পাঠ করবে সে গাফিলদের দলভুক্ত হিসেবে নথিভুক্ত হবে না।”

[ইমাম হাকেম হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেন, সহিহ মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহিহ। শাইখ আলবানি বলেন, সহিহ লিগাইরিহী।]

তবে উত্তম হলো, সালাতে পাঠ করা। কেননা অন্য হাদিসে এসেছে যে,
من صلى في ليلة بمائة آية لم يكتب من الغافلين
“যে ব্যক্তি রাতের সালাতে ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করবে সে গাফিলদের মধ্যে নথিভুক্ত করা হবে না।”
[ইবনে খুযায়মা ও হাকেম। তারা উভয়েই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।] আল্লাহু আলাম।
▬▬▬❖❖❖▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব।

অবৈধ পন্থায় প্রবাসে বসবাস ও কাজ করার বিধান এবং এর ক্ষতিকর দিক সমূহ

 প্রশ্ন: অবৈধ হিসাবে প্রবাসে বসবাসকারী অনেক ঋণগ্রস্ত ভাই রয়েছেন যাদের দেশে এসে জীবন ধারণের কোন ব্যবস্থা নেই। তাদের ক্ষেত্রে অবৈধভাবে প্রবাসে থেকে অর্থ উপার্জন করা কি হালাল হবে?

উত্তর: ইসলামে প্রবাসে বসবাস ও কাজ করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে অনেকেই বিভিন্ন কারণে দেশের বাইরে চলে যান। কিন্তু অনেকে সেখানে গিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করে ও অর্থ উপার্জন করে।

ইসলাম শরিয়ত এই বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয় তা জানা অত্যন্ত জরুরি। নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

❑ অবৈধ পন্থায় প্রবাস: ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

অবৈধ পন্থায় প্রবাস বলতে সাধারণত বোঝায়, কোনও দেশের আইন-কানুন ভঙ্গ করে বা অনুমতি ছাড়া সেখানে বসবাস করা এবং কাজ করা।

মনে রাখা কর্তব্য যে, একজন মানুষ যখন প্রবাসে যাওয়ার জন্য ভিসা গ্রহণ করে তখন সে দেশে গিয়ে সেখানকার আইন-কানুন মেনে চলার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বলে পরিগণিত হয়‌। অতএব সে আইন ও শরিয়ত উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে উক্ত দেশের প্রচলিত আইন-কানুন মেনে চলতে বাধ্য।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ

“হে ইমানদারগণ, তোমরা অঙ্গীকার (ও চুক্তিসমূহ) পূর্ণ কর।” [সূরা মায়েদা: ১]

আর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

المسلمونَ على شروطِهم

“মুসলিমগণ তাদের শর্তের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকবে।” [সহীহ আবু দাউদ, হা/৩৫৯৫] অর্থাৎ মুসলিমগণ তাদের সাথে কৃত শর্ত লঙ্ঘন করবে না।

সুতরাং প্রবাসীদের জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে সে দেশের কোনও আইন লঙ্ঘন করা জায়েজ নেই। (যদি শরিয়ত বিরোধী কোন আইন না হয়। শরিয়ত বিরোধী হলে তা মানা জায়েজ নয়)।

অতএব কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে অবৈধ ভাবে প্রবাসে বসবাস করে তাহলে সে দেশের আইনের দৃষ্টিতে যেমন অপরাধী বলে গণ্য হবে তেমনি ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতেও সে গুনাহগার হবে। তবে সে যদি হালাল কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে তাহলে হারাম নয়।

❑ ফতোয়া:
প্রশ্ন: আমি একজন মুসলিম। সুইডেনে থাকি। রাষ্ট্র থেকে ভাতা পাই। আমার বাড়ি স্কুল ও বাজার থেকে অনেক দূরে হওয়ায় আমাকে গাড়ি কিনতে হয়েছে। আমার কিছু প্রতিবেশী আমাকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য টাকা দেয়। সুইডেনের শ্রম আইন অনুযায়ী এই কাজটি অবৈধ। কারণ এটি করের বাইরে। আমার এখনও রেসিডেন্স পারমিট না থাকায় আমি এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারি না। আমার প্রশ্ন হলো, আমার এই কাজটি কি ইসলামে হারাম? কারণ এটি দেশের আইন ভঙ্গ করে। আর যদি আমি শুধুমাত্র গাড়ির বীমা, ট্যাক্স বা মেরামতের খরচ জোগাড় করার জন্য এই কাজটি করি, তাহলে কি ইসলাম অনুযায়ী এটি হারাম হবে? জাযাকাল্লাহু খাইরান।
জবাব: আলহামদুলিল্লাহ-সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর-

অন্য দেশে যাওয়া মুসলমানদের উচিত, সেই দেশের আইন-কানুন মেনে চলা-সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সময় যেগুলো মেনে চলার প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিলো যদি না সেগুলো ইসলাম বিরোধী হয়। কেননা মুসলিমগণ চুক্তি রক্ষা করে, ওয়াদা পালনে সত্যবাদি হয় এবং আমানত যথাযথভাবে পালন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْؤولًا

“আর চুক্তি পূর্ণ কর। নিশ্চয় চুক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” (সূরা ইসরা, আয়াত ৩৪)।
তাই যদি কেউ এই আইন ভঙ্গ করে তাহলে সে ভুল করেছে। তবে এর মানে এই নয় যে, সে তার কাজের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ হারাম। যদি কাজটি হালাল হয় তাহলে তার বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থও হালাল। আইন ভঙ্গ করা আলাদা বিষয় আর কাজের বিনিময়ে উপার্জিত অর্থ আলাদা বিষয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (সংক্ষেপায়িত)
[উৎস: মিসরিয় ফতোয়া বোর্ড। ফতোয়া নাম্বার: ১৩১৩, ২০২২ সন]

❑ অবৈধ পন্থায় বিদেশে থাকার ক্ষতিকর দিক সমূহ:

প্রকৃতপক্ষে অবৈধ পন্থায় প্রবাসে বসবাসকারীগণ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার কারণে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যেমন:

• অনেক সময় অবৈধ পন্থায় বসবাসকারী প্রবাসীরা চুরি, ডাকাতি, নানা হারাম ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
• অবৈধ অভিবাসীরা অনেক সময় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং স্থানীয় জনগণের সাথে নানা ধরণের সমস্যায় জড়িয়ে পড়তে পারে।
• তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লুকোচুরির আশ্রয় নেওয়ার কারণে ইসলামি শিক্ষা ও ইসলামি পরিবেশ থেকে দূরে থাকে। যার ফলে তারা বিভিন্ন ধরণের পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্মের প্রতি ঝুঁকে পড়ে।
• তারা আইন ও প্রশাসনের ধরাছোঁয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। ফলে তাদের মধ্যে সবসময় একটা অপরাধ বোধ কাজ করে এবং তারা হীনমন্যতায় ভুগে।

• তারা বৈধ পন্থায় দেশে টাকা পাঠাতে পারে না। যার কারণে তারা সাধারণত: হুন্ডির আশ্রয় গ্রহণ করে। অথচ তা সে যে দেশে বসবাস করছে এবং নিজ দেশ উভয় দেশেই নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
• অবৈধ প্রবাসীরা যে কোনও সময় সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সে নিজে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি তার স্ত্রী-পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন)

❑ কেউ যদি পরিস্থিতির শিকার হয়ে কিংবা অনিচ্ছা বশতঃ প্রবাসে অবৈধ হয়ে যায় তাহলে তার করণীয়:

কোন ব্যক্তি যদি তার ইচ্ছার বাইরে বা পরিস্থিতির শিকার হয়ছ প্রবাসে ‘অবৈধ’ হয়ে যায় তাহলে সে নিজ দেশে ফিরে আসার জন্য সে উক্ত দেশে নিয়োজিত দূতাবাস/কনস্যুলেটের মাধ্যমে আইনানুগ পন্থায় চেষ্টা করবে। এ সময় তার জীবন ধারণ এবং দেশে ফেরত আসার খরচ যোগানের জন্য সে সতর্কতার সাথে যেকোনো হালাল কাজ করতে পারে। কেননা এটা অপারগ অবস্থা। অপারগ অবস্থায় শরিয়তের ছাড় রয়েছে। ইসলামি ফিকাহের একটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি হল,

الضرورة تبيح المحظورات

“জরুরত নিষিদ্ধ জিনিসকে বৈধ করে দেয়।” যেমন প্রচণ্ড ক্ষুধায় মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য শূকর বা মরা প্রাণীর গোস্ত খাওয়া। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে সে দেশে অবৈধ পন্থায় জীবন-যাপন করা ও অর্থ উপার্জন অব্যাহত রাখা জায়েজ নাই।

➤ উল্লেখ্য যে,
– একজন মুসলিম কোন অমুসলিম দেশে যাওয়ার আগে সে কোন শরিয়ত বিরোধী কোন আইন মানার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। এমনটি হলে (বিশেষ কারণ ছাড়া) সে দেশে ভ্রমণ করা বা গমন করা জায়েজ নেই।
– অজ্ঞতাবশত সেখানে যাওয়ার পরে শরিয়ত বিরোধী আইন মানতে বাধ্য হতে হলে যথাসম্ভব দ্রুত সেখান থেকে দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করা অপরিহার্য।
– অমুসলিম দেশে কোন কারণে যাওয়া জায়েজ আর কোন কারণে জায়েজ নয় এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমদের ফতোয়া গ্রহণ করা উচিৎ। আল্লাহু আলাম।
উত্তর প্রদানে :
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

মসজিদুল হারামের সম্মুখে একজন বিধর্মী ফুটবল খেলোয়াড়ের ফেইক ছবি জায়েজ নাকি নাজায়েজ

 মক্কার মসজিদুল হারামের সম্মুখে একজন কা*ফের ফুটবল খেলোয়াড়ের ফেইক ছবি। জায়েজ নাকি নাজায়েজ? কা*ফের খেলোয়াড়, নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা ইত্যাদিকে ভালোবাসার বিধান।

প্রশ্ন: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, কিছু মুসলিম একজন অমুসলিম ফুটবল খেলোয়াড়কে ইহরামের পোশাক পরিয়ে মসজিদুল হারামের সামনে দাঁড়িয়ে মুনাজাত রত অবস্থার একটি ফেইক ছবি পোস্ট ও শেয়ার করছে। এটা কি জায়েজ নাকি হারাম? যেহেতু আমরা জানি যে, অমুসলিমদের জন্য মক্কার হারামে প্রবেশ নিষেধ। অমুসলিমদেরকে‌ ভালোবাসার ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
উত্তর: আমাদের কিছু আবেগী নামধারী মুসলিমের কার্যক্রম অত্যন্ত নির্বুদ্ধিতা সুলভ। এরা আবেগের বশবর্তী হয়ে ইসলামের নামে এমন কিছু কাজ করে যা আদতে ইসলামে নিষিদ্ধ।

যাহোক, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারকৃত ছবিগুলো মূলত বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং তার স্ত্রীর। এ ছবিগুলো পুরোটাই এডিট কৃত বা আর্টিফিশ্যাল ইনটেলিজেন্ট (AI) দ্বারা তৈরি। অর্থাৎ এগুলো ফেইক বা মিথ্যাচার। এটি উক্ত ব্যক্তিদের প্রতি যেমন মিথ্যাচার তেমনি সাধারণ মানুষের সাথেও মিথ্যাচার। আর ইসলামে মিথ্যাচার করা সাধারণ কোনও গুনাহ নয় বরং কবিরা গুনাহ।

◈ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ

“তোমরা মিথ্যাচার থেকে বেঁচে থাকো। মিথ্যা পাপাচারের পথ দেখায়, আর পাপ জাহান্নামের দিকে পথ দেখায়।” [বুখারী ৬০৯৪, মুসলিম ১০৫-(২৬০৭)]

সুতরাং এসব ফেইক ছবি তৈরি করা ও প্রচার করা, শেয়ার বা লাইক করা সবই হারাম।

যারা এসব করাকে ইসলাম প্রচার করা মনে করছে তারা মূলত মূর্খ। এসব বকধার্মিক মূর্খরা সোশাল মিডিয়ায় কিছু লাইক ও কমেন্ট পাওয়ার ধান্ধায় এ ধরণের নিম্নমানের কাজ করে থাকে।

– অন্য দিকে একজন কাফে**রকে ইহরামের পোশাক পরিধান করিয়ে কাবার সম্মুখে মুনাজাত রত অবস্থায় তার মুখ খোলা স্ত্রীর সাথে কিংবা এককভাবে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা শুধু হারাম নয় বরং অত্যন্ত গর্হিত কাজ। কেননা একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, ইসলামের দৃষ্টিতে কা**ফেরদের জন্য জন্য ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মক্কার হারাম সীমানায় প্রবেশ নিষিদ্ধ।

◈ আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا
“হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে।” [সূরা তওবা: ২৮]

সুতরাং এসব ছবি আল্লাহর নিষেধাজ্ঞাকে তুচ্ছ করার শামিল এবং মুসলিম জাতির কিবলা ও দুনিয়ার সবচেয়ে সম্মানিত ঘর কাবাতুল মুশাররাফার জন্য মর্যাদাহানিকর।

❑ কা**ফের নায়ক-নায়িকা, খেলোয়াড় ইত্যাদিকে ভালোবাসা হারাম:

আমাদের মনে রাখা কর্তব্য যে, যে খৃষ্টান আল্লাহর নবী ইসা আ. (তাদের ভাষায় যিশুখ্রিস্ট) কে ‘আল্লাহর পুত্র ও গড’ বলে বিশ্বাস করে, যে হিন্দু মাটির তৈরি মূর্তিকে উপাস্য মনে করে (যেগুলো বড় শিরক বা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে ভয়ানক ও জঘন্য পাপ) কিংবা যে নাস্তিক ইসলামকেই অস্বীকার করে বা যারা ইসলাম বিদ্বেষ ও আল্লাহদ্রোহীতায় লিপ্ত তাকে তার প্রতি কোনও মুসলিমের ভালোবাসা প্রকাশ করা বা তার সাথে আন্তরিক বন্ধুত্ব গড়ে তোলা জায়েজ নয়।
আর এসব অমুসলিম খেলোয়াড়, নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, সেলেব্রিটি ইত্যাদির ছবি সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করা, প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করা, ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা, শোকেসে তাদের মূর্তি সাজিয়ে রাখা, তাদের ছবি বিশিষ্ট টি-শার্ট-জামা ইত্যাদি ব্যবহার করা ইত্যাদি তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের নামান্তর-যা সুস্পষ্ট হারাম।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ

“যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধাচরণ কারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়।” [সূরা মুজাদালা: ২২]

◈ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

“হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” [সূরা মায়িদা: ৫১]

ভালোবাসার ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হলো, কাউকে ভালোবাসতে হলে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যেই ভালবাসতে হবে এবং কাউকে ঘৃণা করতে হলে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যেই করতে হবে। এটিই ইমানের দাবী ও সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা। যেমন হাদিসে এসেছে,

◈ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু যর রা. কে বললেন, হে আবু যর, ইমানের কোন শাখাটি সর্বাধিক মজবুত? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসুলই অধিক অবগত। তিনি বললেন,

«الْمُوَالَاةُ فِي اللَّهِ وَالْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ»

“একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পর সখ্যতা স্থাপন করা এবং শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ঘৃণা করা। [বায়হাকি-এর শুআবুল ঈমান। হাসান]

◈ হাদিসে আরও বলা হয়েছে,

‏ الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ ‏

“যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে (কিয়ামত দিবসে) সে তার সাথেই অবস্থান করবে।” [সুনান আত তিরমিজি, অধ্যায়: ৩৪/ দুনিয়াবি ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি, পরিচ্ছেদ: ৫০. যে যাকে ভালোবাসে (কিয়ামত দিবসে) সে তার সাথী হবে]

আর এটা নিশ্চিত যে, কা**ফেররা পরকালে জাহান্নামের লেলিহান আগুনের বাসিন্দা হবে। সুতরাং যে সকল নামধারী মুসলিম এসব কা**ফেরদেকে অকুণ্ঠ ভালোবাসে তাদের কী পরিণতি হবে তা সহজে অনুমেয় যদি না তারা জীবদ্দশায় লজ্জিত অন্তরে মহান আল্লাহর কাছে তওবা করে। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।

◈ এছাড়া কেবল আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই ঘৃণা পোষণ করা ইমানের প্রকৃত স্বাদ লাভ এবং কিয়ামতের দিন আরশের ছায়াতলে অবস্থানের সুযোগ লাভের কারণ হিসেবে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

কা**ফেদের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা প্রকাশ একজন মুমিনের ইমানকে দুর্বল করে দেয়। এমনকি ইমান থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তবে আমরা সর্বদা অমুসলিমদের জন্য দুআ করব, আল্লাহ যেন, তাদেরকে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণের তৌফিক দান করুন। আমিন।

আমরা মহান আল্লাহ নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদেরকে সব ধরণের হারাম ও নির্বুদ্ধিতা সুলভ কার্যক্রম থেকে হেফাজত করেন। আমিন।

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি-

যুদ্ধ কামনা করা নিষেধ তবে যুদ্ধ বেধে গেলে শত্রুর মোকাবেলায় অবিচল থাকা আবশ্যক

 ◈ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

أَيُّهَا النَّاسُ، لاَ تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ العَدُوِّ، وَسَلُوا اللَّهَ العَافِيَةَ، فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّ الجَنَّةَ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ

‘‘হে লোক সকল, তোমরা আল্লাহর দুশমনের সাথে যুদ্ধ কামনা করো না। বরং আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। তবে যদি যুদ্ধের সম্মুখীন হয়ে যাও তবে ধৈর্য ধারণ করবে (অবিচল থাকবে।) আর জেনে রাখবে, জান্নাত হলো, তরবারির ছায়াতলে।’’
[সহীহ বুখারী/২৯৬৬,মাকতাবা শামেলা]

◈ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন,

لَا تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَسَلُوْا اللهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيْتُمُوْهُمْ فَاصْبِرُوْا وَاعْلَمُوْا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَمُجْرِيَ السَّحَابِ وَهَازِمَ الأَحْزَابِ اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ

‘’তোমরা শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না। বরং আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। আর যদি তাদের সম্মুখীন হয়ে যাও, তাহলে ধৈর্যধারণ করবে (অবিচল থাকবে।) জেনে রেখো, তরবারির ছায়ার নিচে রয়েছে জান্নাত। এরপর তিনি বলেন, হে আল্লাহ, কুরআন অবতরণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী, শত্রুদলকে পরাভূত কারী, আপনি শত্রুদের পরাভূত করে আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করুন।”[সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), অধ্যায়: ৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার-ব্যবহার, পরিচ্ছেদ: ৫৬/১১২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের প্রথমাংশে যুদ্ধ শুরু না করলে সূর্য ঢলা পর্যন্ত বিলম্ব করতেন]

❑ হাদিসটির ব্যাখ্যা:

❂ সহিহ বুখারির ভাষ্যকার ইবনে বাত্তাল বলেছেন,

حكمة النهي أن المرء لا يعلم ما يئول إليه الأمر، وهو نظير سؤال العافية من الفتن.

“এই নিষেধের পিছনে যে হেকমত বা জ্ঞানগত কারণ রয়েছে তা হল, মানুষ জানে না যে, কোন বিষয়ের পরিণতি কী হবে। এটি এমন, যেমন কেউ ফিতনা বা বিপদ থেকে নিরাপত্তা কামনা করে।”
অর্থাৎ শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতে নিষেধ করার কারণ হল, যুদ্ধের ফলাফল ভালো হবে নাকি মন্দ হবে, এতে বিজয় অর্জিত হবে নাকি পরাজয় ঘটবে সে সম্পর্কে তার ভবিষ্যৎ জ্ঞান নেই। এটা এটা ঠিক তেমন যেমন কেউ চায় যে, সে ফিতনা বা বিপদ থেকে নিরাপদ থাকুক।

❂ আবু বকর সিদ্দিক রা. বলেন,

لأن أعافى فأشكر أحب إلي من أن أبتلى فأصبر

“আমি সুস্থ ও নিরাপদ থেকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করব-এটা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয় অসুস্থ বা বিপদের সম্মুখীন হওয়ার পর ধৈর্য ধরার চেয়ে।”

❂ কোনো কোনো মুহাদ্দিস উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন,

إنما نهى عن تمني لقاء العدو لما فيه من صورة الإعجاب والاتكال على النفوس والوثوق بالقوة وقلة الاهتمام بالعدو ، وكل ذلك يباين الاحتياط والأخذ بالحزم.

“শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এজন্য যে, এতে আত্মতুষ্টি, নিজের শক্তির উপর নির্ভরশীলতা, শত্রুকে হালকা করে দেখা ইত্যাদি মনোভাব গোপন থাকে। আর এ সব কিছু সতর্কতা অবলম্বন ও ঝুঁকি এড়ানোর বিপরীত।” [islamweb]

❂ সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায কে “তোমরা আল্লাহর দুশমনের সাথে যুদ্ধ কামনা করো না” হাদিসটির ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বলেন,

حمله العلماءُ على أنَّ المراد: على سبيل العجب بالنَّفس، على سبيل الثِّقة بالنفس، ونحو ذلك.

أما إذا تمنى لقاء العدو؛ رغبةً في الجهاد، أو رغبةً في الشَّهادة في سبيل الله، فهو يبدأ بالجهاد؛ لأنَّ الرسول حثَّ على الجهاد ورغَّب فيه: مَن مات ولم يغزُ، ولم يُحدِّث نفسه بالغزو؛ مات على شُعبةٍ من النِّفاق.

فالنَّهي عن التَّمني ليس على إطلاقه، وإنما المراد التَّمني الذي يصحبه فخر وخُيلاء، أو ثقة بالنفس، أما مَن يتمنى أن يحضر الجهاد، ويُجاهد في سبيل الله، وأن يلقى عدو الله؛ فلا بأس به، وليس داخلًا في النَّهي هذا

আলেমগণ বলেন যে, এ হাদিসের মূল অর্থ হল, আত্মতুষ্টি ও (আল্লাহর শক্তি এবং সাহায্যের পরিবর্তে) নিজের প্রতি আস্থা রাখা হলে শত্রুর সাথে যুদ্ধ কামনা করা নিষেধ। কিন্তু যদি কেউ শত্রুর সাথে যুদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করে, জিহাদ করার জন্য বা আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হওয়ার জন্য তাহলে সে জিহাদ শুরু করতে পারে। কারণ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন,

مَن مات ولم يغزُ، ولم يُحدِّث نفسه بالغزو؛ مات على شُعبةٍ من النِّفاق

“যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল অথচ (জীবদ্দশায়) জি**হাদে অংশগ্রহণ করেনি বা জিহাদ করার ইচ্ছা পোষণও করেনি সে নিফাকের (মুনাফেকির) একটি শাখায় মৃত্যুবরণ করল।”
সুতরাং যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা করা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ নয়। বরং যে আকাঙ্ক্ষার সাথে অহংকার, দাম্ভিকতা বা আত্মতুষ্টি মিশে থাকে সেই আকাঙ্ক্ষা নিষিদ্ধ। কিন্তু যে ব্যক্তি এ আকাঙ্ক্ষা করবে যে, সে জি**হাদে অংশগ্রহণ করবে, আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহর শত্রুর মুখোমুখি হবে তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। এটা এই নিষেধের আওতাভুক্ত নয়।” [binbaz]

❑ কা**ফেরদের সাথে যুদ্ধ বেধে গেলে শত্রুর মোকাবেলায় সর্বশক্তি দিয়ে অবিচল থাকতে হবে। যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া হারাম ও কবিরা গুনাহ:

হাদিসে আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ কামনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে তারা যুদ্ধ বাধিয়ে দিলে প্রাণপণ যুদ্ধ করতে হবে। প্রাণ ভয়ে পালানো হারাম ও কবিরা গুনাহ। (বিশেষ কিছু শর্ত ছাড়া)। কেননা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধের ময়দান থেকে পালানোকে ৭টি ধ্বংসাত্মক কাজের অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য করেছেন। তিনি বলেন,

আবু হুরাইরা রা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন,

اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ ‏”‏‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ قَالَ ‏”‏ الشِّرْكُ بِاللَّهِ، وَالسِّحْرُ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلاَتِ ‏”‏‏.‏

“তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় হতে বেঁচে থাক। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসুল, সেগুলো কী কী? তিনি বললেন,
১. আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা,
২. জাদু করা
৩. যথার্থ কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করা যা আল্লাহ হারাম করেছেন,
৪. সুদ খাওয়া,
৫. এতিম শিশুর অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করা
৬. জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা
৭ সাধ্বী-সাধ্বী সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া।”
[সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), অধ্যায়: ৮৬/ দণ্ডবিধি, পরিচ্ছেদ: ৮৬/৪৫. সাধ্বী নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া]

মোটকথা, আল্লাহর দুশমনদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ শুরু হলে স্পাত-কঠিন দৃঢ়তা এবং পরম ধৈর্যের সাথে সর্বশক্তি দিয়ে শত্রুকে প্রতিহত করত হবে। মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই থাকবেন-এটা তার প্রতিশ্রুতি। ‘হয় বিজয় না হয় শাহাদাত’-এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, মুসলিম রাষ্ট্রকে শত্রু আগ্রাসন হাত থেকে রক্ষা, আল্লাহর দ্বীনকে হেফাজত বা বিজয়ী করার জন্য যুদ্ধ করার এবং এ পথে শহিদ হওয়ার মর্যাদা অপরিসীম। আল্লাহু আলাম।

মহান আল্লাহ মুসলিম জাতিকে জি*হাদি বলে বলিয়ান হওয়ার তওফিক দান করুন, তাদেরকে বিজয় দান করুন, শত্রুর মনোবল ভেঙ্গে দিন এবং তাদেরকে পরাভূত করুন। আমিন। নিশ্চয় তিনি মহাপরাক্রমশালী ও সাহায্যকারী।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

শ্বশুর বাড়িতে যদি নানা ধরণের শিরক বিদআত ও পাপাচার সংঘটিত হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে একজন পুত্রবধূর করণীয়

 শ্বশুর বাড়িতে যদি নানা ধরণের শিরক, বিদআত, অনৈসলামিক ও হারাম কার্যক্রম এবং পাপাচার সংঘটিত হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে একজন পুত্রবধূর করণীয়।

প্রশ্ন: আমার শ্বশুর বাড়ির ফ্যামিলির সবাই শিরক-বিদআতে লিপ্ত। তারা পীর ভক্ত। মাজারে যায়‌। এমনকি মৃত পীরের ছবি ফ্রেমে বেধে ঘরে ঝুলিয়ে রাখে। তাবিজ-সুতা ইত্যাদিতে বিশ্বাস করে। মিলাদ, কিয়াম, চল্লিশা সহ নানা রকম বিদআতি কাজ করে। আমি তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তারা কিছুতেই বুঝতে চায় না‌। আমি এসব কাজে বাধা দিলে অনেক কথা শুনায় (আমার, আমার সন্তানদের ক্ষতি হবে এরকম বদ দুআর মতো কথা বলে)। নামাজ,পর্দার গুরুত্ব বুঝে না। আমার সামনে তারা এসব করলে আমি সইতে পারি না। কান্না আসে। এসব পরিবেশের কারণে মাঝে মাঝে নিজের ঈমান দুর্বল হয়ে যায়। কিচ্ছু ভালো লাগে না। আমলে স্বাদ পাই না। অস্থির লাগে। কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করে। আমার স্বামী ঢাকাতে ছোট্ট একটা জব করে। আমি আমার স্বামীর সাথে থাকতে চাই। কিন্তু বাড়িতে আমার শাশুড়ি চান, আমার সন্তানদের নিয়ে আমি তার কাছে থাকি। কাজে একটু হেল্প করি। কাছে না থাকলে তার মনে কষ্ট। যেহেতু উনার বয়স হয়ে যাচ্ছে। এখন আমি কী করতে পারি?
উত্তর: আপনার শ্বশুর বাড়িতে যদি নানা ধরনের শিরক, বিদআত, অনৈসলামিক ও হারাম কার্যক্রম এবং পাপাচার সংঘটিত হয় তাহলে যথাসম্ভব দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়া আবশ্যক যদি তাদেরকে সংশোধন করা সম্ভব না হয় বা তাদের কাছে থাকার কারণে নিজের ঈমান, আমল ও আখলাক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে আপনার মাধ্যমে যদি তাদের মধ্যে সংশোধনী ও পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় তাহলে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে সেখানে থাকা উত্তম। কারণ হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, আপনার মাধ্যমে যদি একটি মানুষও সঠিক পথ প্রাপ্ত হয় তাহলে তা হবে আপনার জন্য একটি লাল উট পাওয়ার থেকে উত্তম।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ

“তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একজন লোককেও হেদায়েত দেন তবে তা তোমার জন্য একটি লাল উট পাওয়া থেকেও উত্তম।” [সহিহ বুখারী]

যাহোক, আপনার স্বামী যেহেতু দূরে থাকেন সেহেতু সম্ভব হলে আপনি আপনার স্বামীর কাছে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে আপনার স্বামীর জন্য আবশ্যক হচ্ছে, আপনাকে এমন পাপ-পঙ্কিল পরিবেশ থেকে রক্ষা করা। তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে তা না করলে গুনাহগার হবে। কারণ মহান আল্লাহ তাকে তার স্ত্রী পরিবারের ব্যাপারে দায়িত্বশীল বানিয়েছেন এবং কিয়ামতের দিন তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।

◈ আল্লাহ তাআলা বলেন,

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّـهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ

“পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্ব শীল (দায়িত্ববান) এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে।” [সূরা নিসা: ৩৪]

◈ তাছাড়া আল্লাহ তাআলা পুরুষকে আদেশ করেছেন যেন, সে নিজে জাহান্নাম থেকে বাঁচার পাশাপাশি যেন তার স্ত্রী-পরিবারকেও বাঁচায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا

“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।” [সূরা তাহরীম: ৬]

◈ মহান আল্লাহ কেবল দায়িত্ব দিয়েই ক্ষান্ত হননি বরং তিনি তাকে কিয়ামতের দিন তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

ইবনে উমর রা.সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন,

أَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ : وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ”‏ ‏

“জেনে রাখো, তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। …একজন পুরুষ তার পরিবার (স্ত্রী-সন্তানদের) উপর দায়িত্বশীল। সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” [সহিহ মুসলিম]

কিন্তু আপনার স্বামীর আর্থিক সংকট বা বিশেষ কোনও কারণে যদি আপনাকে তার সাথে রাখা সম্ভব না হয় তাহলে আপনার নিজের বাবার বাড়িতে অথবা আলাদা বাসা ভাড়া করে থাকার চেষ্টা করবেন।

উল্লেখ্য যে, আপনি সেখান থেকে চলে যাওয়ার কারণে আপনার স্বামীর বাবা-মা অসন্তুষ্ট হলেও এতে আপনি গুনাহগার হবেন না। কারণ সেখানে থাকা এবং তাদের সেবা করা আপনার জন্য ইসলাম আবশ্যক করেনি। উপরন্তু তাদের এমন পরিবেশে থাকার কারণে আপনার ঈমান-আকিদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যাহোক, এগুলোর কোনটাই সম্ভব না হলে তখন ধৈর্যের সাথে সেখানেই থাকবেন কিন্তু নিজেকে সর্বোচ্চ শিরক-বিদআত ও অন্যান্য পাপাচার থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করবেন।

এক্ষেত্রে আপনি নিরুপায়। আর لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا “আল্লাহ তায়ালা বান্দার উপরে সাধ্যাতীত কোনও দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।” [সূরা বাকারা ২৮৬ নম্বর আয়াত]
আল্লাহ সব ধরনের অকল্যাণ থেকে আপনাকে হেফাজত করুন এবং তার দ্বীনের উপরে মৃত্যু অবধি অবিচল রাখুন এই দোয়া করি। আমিন।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

আত্মহত্যা কারী ব্যক্তিকে কি সাধারণ মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে

 প্রশ্ন: আত্মহত্যা কারী ব্যক্তিকে কি সাধারণ মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে?

উত্তর: নিঃসন্দেহে আত্মহত্যা করা কবিরা গুনাহ। তবে এ কারণে আত্মহত্যা কারী ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত কাফির-মুরতাদ হয়ে যায় না। তাই তার গোসল, জানাজা এবং কাফন-দাফনে কোন বাধা নেই। অনুরূপভাবে তার লাশ মুসলিমদের সামাজিক গোরস্থানে দাফন করতেও কোনো সমস্যা নেই। তবে সমাজের মান্যগণ্য আলেম-ওলামা, ইমাম, উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল এবং সর্বগ্রাহ্য শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিবর্গ এ সব কাজ থেকে বিরত থাকাই ভালো। যেন সর্বসাধারণ আত্মহত্যাকে মারাত্মক অন্যায় এবং ঘৃণ্য কাজ হিসেবে বুঝাতে পারে।❑ সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি এবং বিশ্ববরেণ্য ফকিহ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায-এর ফতোয়া:

প্রশ্ন: আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির কি গোসল এবং জানাজার নামাজ পড়া যাবে?
উত্তর:
قاتل نفسه يغسل، ويصلى عليه، ويدفن مع المسلمين؛ لأنه عاص ما هو كافر، قتل النفس معصية، ما كفر، فإذا قتل نفسه -والعياذ بالله- يغسل، ويصلى عليه، ويكفن، ويصلى عليه، ويدفن مع المسلمين، لكن ينبغي للإمام الأكبر، ولمن له أهمية أن يترك الصلاة عليه من باب الإنكار، لئلا يظن أنه راض عن عمله.
فالإمام الأكبر السلطان، أو القضاة، أو رئيس البلد، وقاضي البلد، أو أميرها إذا ترك ذلك من باب إنكار هذا الشيء، وإعلان أن هذا خطأ؛ فهذا حسن، ولكن يصلي عليه بعض المسلمين

“যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করে তাকে গোসল দিতে হবে, তার জানাজা পড়তে হবে এবং তাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করতে হবে। কারণ আত্মহত্যা একটি গুনাহ তবে কাফির হওয়ার মতো নয়। তাই আত্মহত্যা করলে (আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি) তাকে গোসল করাতে হবে, তাকে কাফন পরাতে হবে, তার জানাজা পরাতে হবে এবং মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করতে হবে। তবে বড় ইমাম বা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উচিত, এই অন্যায়ের প্রতিবাদস্বরূপ তার জানাজায় অংশগ্রহণ না করা। যেন এই ধারণা সৃষ্টি না হয় যে, তিনি এতে সন্তুষ্ট।

সুতরাং বড় ইমাম, সুলতান, কাজি (বিচারক) বা দেশের প্রধান যদি এই কাজটির নিন্দা ও প্রতিবাদ হিসেবে এ থেকে বিরত থাকে এবং এটাকে অন্যায় বলে ঘোষণা করে তাহলে তা ভালো। তবে অন্য কিছু মুসলিম তার জন্য জানাজা পড়বে।” [উৎস শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায রহ. এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট]
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

তায়াম্মুমের জন্য মাটির ঢেলা বা মাটি সংরক্ষণ করা এবং তা দ্বারা তায়াম্মুম করার পদ্ধতি

 প্রশ্ন: অনেকেই সফরে ব্যাগে মাটির ঢেলা রাখে। কারণ বাস, ট্রেন বা প্লেনে যেখানে-সেখানে হয়তো তায়াম্মুমের জন্য মাটি পাওয়া যায় না। আবার সেখান থেকে ইচ্ছা হলেও নামাও যায় না। তাই তারা মাটির ঢেলাটাকে কোনো কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে একটু মাটি বের করে তায়াম্মুম করে থাকে। তাছাড়া শহরের বাড়িতে অনেক সময় মাটি পাওয়া যায় না। বৃদ্ধ মানুষদের জন্য অনেক সময় ওজু করে নামাজ পড়াটাই কষ্টকর হয়ে যায়। তখন অনেকেই এই মাটির ঢেলা থেকে খুঁচিয়ে মাটি বের করে তায়াম্মুম করে থাকে। এভাবে করা কি জায়েজ হবে?

উত্তর: তায়াম্মুম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ

“আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা স্ত্রী সহবাস করে, কিন্তু পরে যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমণ্ডল ও হাতের উপর মাসেহ করে নাও।” [সূরা নিসা: ৪৩]

সুতরাং কেউ সফর অবস্থায় অথবা সেখানে যদি পানি না পাওয়ার বা পানি ব্যবহার করতে কষ্টসাধ্য হওয়ার আশংকা করে তাহলে সাথে কিছু মাটি/ঢেলা সংরক্ষণ করতে পারে যাতে প্রয়োজনে তা দ্বারা তায়াম্মুম করা সহজ হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে তা আপত্তিকর কিছু নয়। বরং তা দ্বীনী ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তারই পরিচয় বহন করে।

❑ ঢেলা বা মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করার পদ্ধতি:
নিম্নোক্ত দুটি পদ্ধতিতে ঢেলা বা মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা যায়:

◈ ১. পবিত্রতার নিয়তে বিসমিল্লাহ বলে দু হাত একত্রিত করে সরাসরি পাক মাটির ঢেলার উপর মাসেহ করবে। তারপর হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে বা দু হাত ঝেড়ে ফেলে হস্তদ্বয় পুরো মুখমণ্ডলে একবার মাসেহ করবে। অতঃপর বাম হাতের তালু দ্বারা ডান হাতের পিঠ এবং ডান হাতের তালু দ্বারা বাম হাতের পিঠ একবার মাসেহ করবে। আগে বাম হাত মাসেহ করলেও তায়াম্মুম শুদ্ধ হবে।
(দু হাতের কুনই পর্যন্ত মাসেহ করার হাদিস শুদ্ধ নয়)।

◈ ২. অথবা ঢেলা থেকে যে কোনোভাবে কিছু মাটি অথবা কিছু ধুলো-বালি হাতে নিয়ে তা দু হাতে কচলে নিবে। দু হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে বা দু হাত ঝেড়ে ফেলে হস্তদ্বয় পুরো মুখমণ্ডলে একবার মাসেহ করবে। অতঃপর উপরোল্লিখিত পদ্ধতিতে তায়াম্মুম সম্পন্ন করবে।

➤➤ উল্লেখ্য যে, বর্তমান যুগে উন্নত ফার্মেসিতে আধুনিক স্বাস্থ্য সম্মত তায়াম্মুম প্যাড অথবা বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত প্যাকেট জাত তায়াম্মুমের মাটি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে তায়াম্মুম করা অধিকতর সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate