October 26, 2026

নারীদের অলংকার ও প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির বিধান

 প্রশ্ন: আমরা জানি, মেয়েরা বিভিন্ন প্রকার অলংকার পরে বাইরে চলাচল করে। এ ক্ষেত্রে অলংকার বিক্রি করা কি হারাম?

উত্তর: কোনো নারী যদি প্রসাধনসামগ্রী বা অলংকার কিনতে আসেন তবে সাধারণ অবস্থায় বিক্রেতার জন্য তা বিক্রি করা বৈধ। ক্রেতা এটি ঘরে নাকি বাইরে ব্যবহার করবেন তা নিয়ে বিক্রেতার ঘাঁটাঘাঁটি বা সন্দেহ করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি নিশ্চিতভাবে জানেন যে, নারী ক্রেতা এসব অলংকার পরে বেপর্দা অবস্থায় বাইরে ঘোরাফেরা করবে কিংবা রাস্তাঘাটে তা প্রদর্শন করে বেড়াবে তবে তার কাছে তা বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ এটি তাকে হারাম ও গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার শামিল। অথচ আল্লাহ তাআলা গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন [সূরা মায়েদা: ২]।
তবে কোনো মুসলিম নারীর ব্যাপারে যদি এমন কিছু জানা না থাকে অথবা আপনার প্রবল ধারণা হয় যে, তিনি এগুলো হারাম ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন না তাহলে তার কাছে বিক্রি করতে কোনো বাধা নেই। কেননা হতে পারে তিনি এগুলো কেবল স্বামীর জন্য কিংবা নারীদের মজলিসে ব্যবহার করবেন। আর একজন মুসলিমের প্রতি সুধারণা পোষণ করাই ইসলামের শিক্ষা।
❑ সৌদি আরবের ফতওয়া ও গবেষণা বিষয় স্থায়ী কমিটিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:
নারীদের অলংকার ও প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা করার এবং এমন নারীর কাছে তা বিক্রি করার বিধান কী, যার সম্পর্কে বিক্রেতা জানেন যে, সে এসব পরে রাস্তাঘাটে পরপুরুষের সামনে বেপর্দা অবস্থায় প্রদর্শনী করে বেড়াবে যেমনটি তার বর্তমান অবস্থা দেখে বোঝা যায় এবং যেমনটি বর্তমানে কিছু অঞ্চলে ব্যাপক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে?
উত্তরে তাঁরা বলেন:
«لَا يَجُوزُ بَيْعُهَا إِذَا عَلِمَ التَّاجِرُ أَنَّ مَنْ يَشْتَرِيهَا سَيَسْتَعْمِلُهَا فِيمَا حَرَّمَ اللهُ؛ لِمَا فِي ذَلِكَ مِنَ التَّعَاوُنِ عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ، أَمَّا إِذَا عَلِمَ أَنَّ الْمُشْتَرِيَةَ سَتَتَزَيَّنُ بِهِ لِزَوْجِهَا أَوْ لَمْ يَعْلَمْ شَيْئًا فَيَجُوزُ لَهُ الِاتِّجَارُ فِيهَا» انتهى
“ব্যবসায়ী যদি জানেন যে ক্রেতা এগুলো আল্লাহর হারামকৃত কাজে ব্যবহার করবে তবে তা বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ এতে পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা রয়েছে। তবে যদি তিনি জানেন যে ক্রেতা এগুলো তার স্বামীর জন্য পরিধান করবে অথবা এ বিষয়ে তিনি কিছুই না জানেন তাহলে এর ব্যবসা করা জায়েজ।” (সমাপ্ত) [ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দাইমা লিল-বুহূসিল ইলমিয়্যা ওয়াল ইফতা: ১৩/৬৭]
❑ স্থায়ী কমিটিকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:
“নারীদের বিশেষ প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির বিধান কী? অথচ এর ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই বেপর্দা, পাপাচারী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য নারী, যারা স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষদের জন্য সাজসজ্জায় এসব ব্যবহার করে থাকে নাউজুবিল্লাহ!”
উত্তরে তাঁরা বলেন:
«إِذَا كَانَ الْأَمْرُ كَمَا ذُكِرَ فَلَا يَجُوزُ لَهُ الْبَيْعُ عَلَيْهِنَّ إِذَا كَانَ يَعْلَمُ حَالَهُنَّ؛ لِأَنَّهُ مِنَ التَّعَاوُنِ عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ، وَقَدْ نَهَى اللهُ تَعَالَى عَنْهُ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ﴾ [المائدة: 2]» انتهى.
“পরিস্থিতি যদি আপনার বর্ণনা অনুযায়ী হয় এবং আপনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন, তবে তাদের কাছে বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ এটি পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তাআলা তা নিষেধ করে ইরশাদ করেছেন: ‘আর তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কোরো না’ [সূরা মায়েদা: ২]।” (সমাপ্ত) [ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দাইমা লিল-বুহূসিল ইলমিয়্যা ওয়াল ইফতা: ১৩/১০৫]
❑ অলংকার ও কসমেটিকস বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ কতিপয় শর্তাবলী:
অলংকার ও কসমেটিকস ব্যবসার ক্ষেত্রে একজন মুসলিম ব্যবসায়ীকে অবশ্যই নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে:
• কসমেটিকস বা প্রসাধনসামগ্রী তৈরিতে যেন কোনো ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান বা ইসলামে নিষিদ্ধ কোনো জিনিস (যেমন: শুকরের চর্বি বা অ্যালকোহল যা অপবিত্র উৎস থেকে প্রাপ্ত) না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
• নকল বা নিম্নমানের প্রসাধনসামগ্রী আসল বলে বিক্রি করা যাবে না। অলংকারের ক্ষেত্রে সোনার ক্যারেট বা ওজনে কোনো প্রকার কারচুপি করা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা তা ধোঁকা ও প্রতারণার অন্তর্ভূক্ত। ইসলামে ধোঁকাবাজি কবিরা গুনাহ।
• মিথ্যা কসমের মাধ্যমে ক্রেতাকে বিশ্বাযোগ্যতা অর্জন করার চেষ্টা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। সুতরাং পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে অতিরিক্ত অতিরঞ্জিত বা মিথ্যা কথা বলে ক্রেতাকে প্রলুব্ধ করা যাবে না।
• ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়র জন্যই পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শরিয়তের বিধিবিধান মেনে চলার তওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate