October 16, 2025

পাত্রী পছন্দ হলে আংটি পরানো

 প্রশ্ন: পাত্রের তরফ থেকে পাত্রী দেখতে যাওয়ার সময় যে আংটি পরানো হয় তার মূল্য কি বিয়ের সময় মোহরানার টাকার সাথে ধার্য (হিসাব) করা হয়?

উত্তর: বিজ্ঞ আলেমদের মতে, পাত্রী দেখতে গিয়ে পছন্দ হলে তাকে আংটি পরানোর প্রচলন খৃষ্টানদের থেকে এসেছে। তাদের রীতি অনুযায়ী পাদ্রী গির্জায় পাত্রীর আঙ্গুল আংটি পরিয়ে দেয়। তাদের বিশ্বাস, এটি তাদের পরস্পরের মাঝে আকর্ষণ সৃষ্টি করবে বা ভালবাসা তৈরি করবে। সুতরাং ইসলামে এ ধরণের রীতি সমর্থনযোগ্য নয়। কেননা তা অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বনের শামিল-যা ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই মুসলিমদের উচিত, এ প্রথা থেকে বের হয়ে আসা। যাহোক, অজ্ঞতা বশতঃ এমনটি করা হলে সে ক্ষেত্রে তা ‘উপহার’ বলে গণ্য হবে; মোহর নয়। কারণ তখনও বিয়ের কথা চূড়ান্ত হয়নি এবং তা দেওয়ার সময় মোহর বলেও উল্লেখ করা হয়নি। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

আল্লাহ আরশের উপরে রয়েছেন আবার তিনি নিচের আসমানেও নেমে আসেন সে সময় কি আরশ খালি হয়ে যায়

 আল্লাহ আরশের উপরে রয়েছেন আবার তিনি নিচের আসমানেও নেমে আসেন। সে সময় কি আরশ খালি হয়ে যায়? এ বিষয়ে সঠিক আকিদা কী?

প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা বলেন, “রহমান (দয়াময় আল্লাহ্‌) আরশে সমুন্নত।” [সূরা ত্ব-হা: ৫]। সেই সাথে এটাও সত্য যে, আল্লাহ তাআলা প্রতি শেষ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন, যা বহু সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
আমার প্রশ্ন হলো, আমার জিজ্ঞেস হলো, আল্লাহ আরশে আজিমে আছেন। তাহলে প্রতি রাতে তিনি প্রথম আসমানে নেমে আসেন। এ বিষয়ে আকিদা কী পোষণ করব? একটু বুঝিয়ে বলুন।
উত্তর:
✪ প্রথমত: প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জানা জরুরি যে, কুরআন ও হাদিসে আল্লাহ তাআলার যে সকল সিফাত (গুণ ও‌ বৈশিষ্ট্য ) বর্ণিত হয়েছে সেগুলো যেভাবে এসেছে হুবহু সেভাবে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। এগুলোর কোন ধরনের আকার-আকৃতি, সাদৃশ্য, ধরণ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা যাবে না। সেগুলোকে রূপক অর্থে ব্যাখ্যা করাও যাবে না। বরং কুরআন ও হাদিসে যেভাবে এসেছে হুবহু সেভাবেই প্রকৃত অর্থে বিশ্বাস করতে হবে।
✪ দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তায়ালা সাত আসমানের উপরে সমুন্নত রয়েছেন-এটা যেমন কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য নস দ্বারা প্রমাণিত তেমনি তিনি রাতের শেষ প্রহরে নিচের আসমানে নেমে আসেন সেটাও বহু নস দ্বারা প্রমাণিত। অতএব উভয়টির প্রতি বিশ্বাস করা আবশ্যক। আরও বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।
✪ তৃতীয়ত: তিনি কীভাবে আরশের উপরে সমুন্নত, কীভাবে নিচের আসমানে নেমে আসেন,‌ এই সময় আরশ খালি হয়ে যায় কিনা, পৃথিবীর কোথাও রাতের শেষ প্রহর অথচ কোথাও দুপুর, কোথাও বিকেল, কোথাও বা রাতের প্রথম প্রহর তাহলে তিনি কোথায় কীভাবে নিচের আসমানে অবতরণ করেন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা জায়েজ নেই। এগুলো বিদআতি প্রশ্ন। কারণ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিগণ কখনো এইসব প্রশ্ন করেননি। বরং তারা বিনা প্রশ্নে আল্লাহর এই সকল সিফাতের উপরে বিশ্বাস পোষণ করেছেন। সুতরাং তাদের মতই আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হতে হবে।
✪ চতুর্থত: “আল্লাহ আরশ থেকে কীভাবে নিচের আসমানে নেমে আসেন?” এই জাতীয় প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়ার কারণ হল, আমরা আল্লাহর সিফাতগুলোকে মানবিক বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা বিচার করি। কিন্তু এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। আল্লাহর সিফাতকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা অনুমান করা বা বিচার বিশ্লেষণ করা কখনো সম্ভব নয়। কেননা আল্লাহর সিফাত বা গুণ-বৈশিষ্ট্য গুলো অবশ্যই তাঁর কোনো সৃষ্টি জীবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। ‌ আমাদের কার্যক্রম এবং গুণ-বৈশিষ্ট্য খুবই সীমিত ও দুর্বল কিন্তু আল্লাহ তাআলার গুণ বৈশিষ্ট্য অসীম অপার, অতুলনীয় ও অপরিমেয়। সুতরাং আল্লাহর আরশে উপরে অবস্থান করা এবং দুনিয়ার জমিনে অবতরণ করা অবশ্যই সত্য কিন্তু তার ধরণ-প্রকৃতি আল্লাহর জন্য যেমনটা শোভনীয় ঠিক তেমনই। আমাদের কোন কিছুর সাথে তার সাদৃশ্য বা মিল নেই। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এই প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দিয়েছেন।‌ তা হলো, “আল্লাহ তাআলা নিচের আসমানে অবতরণ করলে আরশ খালি হয়ে যাওয়া আবশ্যক নয়। যেভাবে মানুষ ঘুমালে তার আত্মা আল্লাহর নিকটে চলে যায় কিন্তু তা মানুষের দেহ থেকে পরিপূর্ণভাবে আলাদা হয় না।” আল্লাহু আলম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।

রবিউল আখের মাসের বিশেষ আমল

 প্রশ্ন: আরবি বর্ষের ‘রবিউস সানি’ মাসের এমন কোন ফজিলতপূর্ণ আমল রয়েছে কী যা কিনা মুসলিমদের জন্য পালনযোগ্য? দয়া করে জানাবেন ইনশাআল্লাহ।

উত্তর: হিজরি বর্ষপঞ্জিকার ৪র্থ মাস হল, রবিউল আখের। (এ মাসটিকে ‘রবিউস সানি’ বলার থেকে ‘রবিউল আখের’ বলা, ভাষাগতভাবে অধিক বিশুদ্ধ)। এই মাসে বিশেষ কোনো আমল বা ইবাদত হাদিসে সাব্যস্ত হয়নি। তাই এ মাস উপলক্ষে বিশেষ কোনও আমল বা ইবাদত করা শরিয়ত সম্মত নয়। তবে সাধারণভাবে অন্যান্য মাসে যে আমলগুলো রয়েছে সেগুলো এ মাসেও করা যাবে। যেমন: নতুন চাঁদ দেখার দুআ পড়া, প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার, আইয়ামে বীয তথা হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে তিনটি রোজা অথবা মাসের যে কোনও দিন তিনটি রোজা রাখা ইত্যাদি। অনুরূপভাবে এ মাসেও সাধারণভাবে দান-সদকা, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, উমরা আদায় ইত্যাদি যথারীতি করা যাবে।
◈ শিয়াদের বিদআতি আমল:
২৩২ হিজরি মোতাবেক ৮৪৬ খৃষ্টাব্দে রবিউল আখের মাসের অষ্টম মতান্তরে দশম তারিখে শিয়া ইসনা আশারিয়া সম্প্রদায়ের ১১তম ইমাম হাসান আসকারীর জন্ম দিবস। (জন্মস্থান: মদিনা মুনাওয়ারা)। তাই এ উপলক্ষে তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে সে দিন নফল রোজা রাখে এবং বিভিন্ন ধরনের আয়োজন-অনুষ্ঠান করে থাকে। কিন্তু ইসলামে কারো জন্ম দিবস পালনের উদ্দেশ্যে বিশেষ কোনো ইবাদত-বন্দেগি বা বিশেষ কোনো আয়োজন করা ভিত্তিহীন ও বিদআতি কাজ। তাই এ জন্মদিবস পালন থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কেননা, বিদআত মানেই ভ্রষ্টতা। যার পরিণতি, আমল বরবাদ হওয়া এবং আখিরাতে আল্লাহর রসুলের শাফায়াত থেকে বঞ্চিত হওয়া। আল্লাহ আমাদেরকে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার এবং বিদআত বর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ফাতিহায়ে ইয়াজদাহম কী এবং এটি পালন করা কি শরিয়ত সম্মত

 ফাতিহা একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হল মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য কুরআনখানি, শবিনাখানি, দোয়া মাহফিল, মিলাদ মাহফিল অথবা ইসালে সওয়াব বা সওয়াব রেসানির মতো কার্যক্রম। ইয়াজদাহম একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হল, এগারো (১১)। আর ফাতিহায়ে ইয়াজদাহম বলতে বোঝানো হয়, ১১ রবিউস সানি তারিখে সংঘটিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠান, যা আব্দুল কাদের জিলানি-এর মৃত্যু বা ওফাত দিবস উপলক্ষে পালন করা হয়। এটাকে ‘গেয়ারভি শরিফ’ও বলা হয়ে থাকে। এটা পালনের জন্য বিশেষ কিছু পদ্ধতিও বলা হয়। যেমন:

– লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১১ বার,
আল্লাহ ১১ বার
– হু ১১ বার
– ইয়া শায়খ সুলতান সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানি শাইআঁনলিল্লাহ্ ১১ বার
– ক্বাসীদায়ে গাউসিয়া শরিফ এক বার
– শাজরা শরিফ একবার ইত্যাদি।
এছাড়াও বিশেষ কিছু সূরা, দুআ, দুরুদ ইত্যাদি। [সূত্র: ইসলামি বিশ্বকোষ]
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে এই দিনটি বিশেষ জাঁকজমকের সাথে পালন করা হয়ে থাকে।
❑ এটা কি শরিয়ত সম্মত?
সঠিক আকিদা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির মৃত্যু দিবস পালন করা শরিয়ত সম্মত নয়। এ ধরনের কার্যক্রমকে বিদআত বা নতুন উদ্ভাবিত প্রথা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা দ্বীনের মূল নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সুতরাং আব্দুল কাদের জিলানি রাহ. বা অন্য কোনও ব্যক্তির মৃত্যু দিবস বা ওরস পালন করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা সাহাবিদের থেকে কারও মৃত্যু দিবস পালনের পক্ষে কোনও দলিল পাওয়া যায় না। আর দলিল বহির্ভূত কোনও ইবাদত করার অর্থই বিদআত।
একইভাবে প্রচলিত নিয়মে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে কুরআনখানি, শবিনা খতম, এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করাকেও বিদআত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
❑ শাইখ আব্দুল কাদের জিলানি চিশতি রাহ. কে ছিলেন?
আব্দুল কাদের জিলানি রাহ. সমসাময়িক হাম্বলি মাজহাবের একজন অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও উঁচু মাপের ফকিহ বা ইসলামি আইনবিদ ছিলেন। অনেক বিজ্ঞ আলেম তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ও উচ্চ মর্যাদার প্রশংসা করেছেন।
✪ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. আল গুনিয়াহ (الغنية لطالب طريق الحق)
২. আল ফাতহুর রাব্বানি (الفتح الرباني)
৩. ফুতুহুল গায়েব (فتوح الغيب)
◆ জন্ম: ৪৭১ হিজরি, তাবারিস্থানের (বর্তমানে ইরানের মাজানদারান) জিলান অঞ্চলে।
◆ মৃত্যু: ৫৬১ হিজরি, বাগদাদ, ইরাকে।
আমাদের সমাজে সুফি ঘরনার বিদআতিদের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে অনেক ভিত্তিহীন কেচ্ছা-কাহিনী প্রচলিত আছে এবং তাঁর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করা হয়-যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

গান গজল বা সংগীতের সুরে কুরআন তেলাওয়াতের বিধান

 “কুন ফায়াকুন” (كن فيكون) সূরা আনআমের ৭৩ নম্বর আয়াত। অথচ এই আয়াতটিকে সংগীতের সুরে সংগীতের অংশ হিসেবে পড়া হচ্ছে! ইদানিং অনেক কথিত ইসলামি সংগীতে বা গজলের মধ্যে দুই-একটা আয়াত ঢুকিয়ে দেওয়ার ট্রেন্ডটা দেখা যাচ্ছে। অথচ ইসলামের বিধান হল, কুরআনে কারিমের কোন আয়াত গান, গজল বা সংগীতের সুরে পাঠ করা হারাম। বরং কুরআন পড়তে হবে, কূরআনের আদব রক্ষা করে, ভয়-ভীতি ও বিনয়-নম্রতা পূর্ণ হৃদয়ে এবং তারতিল সহকারে অর্থাৎ স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ উচ্চারণে ধীরে ধীরে-যেভাবে আল্লাহ আদেশ করেছেন (দেখুন: সূরা মুজাম্মেল-এর ৪ নাম্বার আয়াতের তাফসির) এবং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবিগণ তেলাওয়াত করতেন।

– সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায বলেন,
لا يجوز للمؤمن أن يقرأ القرآن بألحان الغناء وطريقة المغنيين، بل يجب أن يقرأه كما قرأه سلفنا الصالح من أصحاب الرسول ﷺ وأتباعهم بإحسان، فيقرأه مرتلاً متحزنًا متخشعًا حتى يؤثر في القلوب التي تسمعه وحتى يتأثر هو بذلك. أما أن يقرأه على صفة المغنيين وعلى طريقتهم، فهذا لا يجوز
“একজন ইমানদারের জন্য গানের সুরে এবং গায়কদের ধাঁচে কুরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ নয়। বরং তাঁকে অবশ্যই সেইভাবে তেলাওয়াত করতে হবে, যেভাবে আমাদের নেককার পূর্বসূরিগণ তথা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবিগণ এবং উত্তমভাবে তাঁদের অনুসারীগণ তেলাওয়াত করেছেন।
সুতরাং একজন ইমানদার ব্যক্তি তারতিল (ধীরে ধীরে সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ উচ্চারণে) সহকারে, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং বিনীতভাবে তা তেলাওয়াত করবে, যাতে তা শ্রোতার হৃদয়ে প্রভাব ফেলে এবং সে নিজেও তাতে প্রভাবিত হয়। কিন্তু গায়কদের গায়কি ধাঁচে এবং তাদের স্টাইলে তা তেলাওয়াত করা জায়েজ নয়।”
[সূত্র: মাজমূ’ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত-শাইখ ইবনে বায (৯/২৯০)]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।

নাপাক অবস্থায় মৃত্যু কি খারাপ মৃত্যু বলে গণ্য হয়

 প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম শ্রদ্ধেয় শাইখ। এমন মৃত্যুর হুকুম কী যখন কোন নারী মাসিক চলাকালীন সময় অর্থাৎ নাপাকি অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে? এই মৃত্যু কি খারাপ মৃত্যুর শামিল? দয়া করে জানাবেন ইনশাআল্লাহ।

উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহ. না, নাপাক অবস্থায় মৃত্যু খারাপ মৃত্যু,তার ইমানি দুর্বলতা কিংবা তার উপর আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট এমন কিছুর প্রমাণ বহন করে না। বরং একজন ইমানদার, তাকওয়াবান এবং জান্নাতি মানুষেরও ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটতে পারে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হানজালা বিন আমের রা. উহুদের যুদ্ধে জুনুবি (স্ত্রী সহবাস জনিত কারণে নাপাক) অবস্থায় শাহাদত বরণ করেছিলেন এবং ফেরেশতাগণ তাঁকে গোসল করিয়েছিল।
◈ আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إنَّ صاحبَكم حَنْظلةَ تغسِلُه الملائكةُ فسَلُوا صاحبتَه
“তোমাদের এই সাথী হানজালাকে রা.কে ফেরেশতাগণ গোসল করাচ্ছেন। তোমরা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করো।”
তখন (তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে) তিনি বললেন: তিনি যুদ্ধের ডাক শুনেই জুনুবি (স্ত্রী মিলন জনিত কারণে নাপাক) অবস্থায় বের হয়ে পড়েছিলেন।
তখন আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এই কারণেই ফেরেশতাগণ তাকে গোসল করিয়েছেন।” [ইবনে হিব্বান, হা/৭০২৫, বায়হাকি, সহিহ-ইরওয়াউল গালীল, ৩/১৬৭]
এ কারণে এই সাহাবিকে গাসিলুল মালাইকাহ غسيل الملائكة (ফেরেশতা কর্তৃক গোসল করানো ব্যক্তি) বলা হয়ে থাকে।
সুতরাং স্বামী-স্ত্রী সহবাস কিংবা স্বপ্নদোষ ঘটার পর ফরজ গোসলের পূর্বে অথবা কোনও নারীর ঋতুস্রাব চলাকালীন অবস্থায় বা কোনও প্রসূতি নারীর রক্তস্রাব চলাকালীন সময় মৃত্যু ঘটলে এটা তার খারাপ মৃত্যু, ইমানি দুর্বলতা বা তার উপর আল্লাহর অসন্তুষ্টির প্রমাণ বহন করে না। কারণ মৃত্যু এমন এক অবিসম্ভাবি বিষয় যে, তা যে কারও জীবনে যে কোনও মুহূর্তে নেমে আসতে পারে।
বিজ্ঞ আলেমগণ এমনটাই বলেছেন।
✪ তবে গোসল ফরজ হলে আমাদের কর্তব্য, যথাসম্ভব দ্রুত ফরজ গোসল করে নেওয়া। এটা অধিক উত্তম। বিনা দরকারে বিলম্ব না করাই ভালো। কিন্তু দরকার বোধে দেরি করলেও গুনাহ নেই ইনশাআল্লাহ যদি এ কারণে কোনও ফরজ ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।
✪ হ্যাঁ, কেউ যদি জিনা, সমকামিতা, হস্তমৈথুন (আল্লাহ ক্ষমা করুন) ইত্যাদি হারাম কারণে নাপাক হয় অথবা কেউ যদি ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাস ও শিরক-বিদআতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় থাকে অথবা নানা ধরণের ছোট পাপ অনবরত করতে থাকে বা বড় বড় গুনাহের কাজে জড়িত থাকে কিন্তু তওবা করার আগেই তার মৃত্যু এসে যায় তাহলে তা সূ-উল খাতিমাহ বা অপমৃত্যুর প্রমাণ যা হবে তার জন্য আখিরাতে দুর্ভাগ্যের কারণ। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন। তাই আমাদের কর্তব্য, মৃত্যুর পূর্বে আমাদের ইমান-আকিদা সংশোধন করা এবং অধিক পরিমান নেক আমল করার পাশাপাশি সব ধরণের পাপাচার থেকে দূরে থাকা এবং কোন পাপ ঘটে গেলে অনতিবিলম্বে লজ্জিত অন্তরে আল্লাহর নিকট তওবা করা। নিশ্চয় আল্লাহ দয়াময় ও তওবা কবুলকারী। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত বসা নিষিদ্ধ

 হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে দুই রাকাত সালাত আদায় করার আগে বসতে নিষেধ করেছেন।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ”
“যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে।” [সহিহ মুসলিম, হা/৭১৪]
বরং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিন খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে বসে পড়ছে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন,
“أَصَلَّيْتَ؟
‘তুমি কি সালাত আদায় করেছ?’
সে বলল, ‘না।’
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“قُمْ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَجَوَّزْ فِيهِمَا
‘তুমি ওঠো এবং দ্রুত দুই রাকাত সালাত আদায় করো।’ [সহিহ মুসলিম]
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বসার বা খুতবা শোনার অনুমতি দেননি যতক্ষণ না সে দুই রাকাত সালাত আদায় করে। তবে তিনি তাকে দ্রুত সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সে খুতবা শুনতে পারে। কারণ খুতবা শোনা ওয়াজিব।
এ কারণেই যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের সাথে কথা বলে- এমনকি সৎ কাজের আদেশও দেয় তবে সে জুমার প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ أَلْغَوْتَ”
“যখন তুমি তোমার সঙ্গীকে জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় ‘চুপ করো’ বলবে, তখন তুমি অনর্থক কাজ করলে।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
সুতরাং যখনই তোমাদের কেউ দিনের বা রাতের যে কোনো সময় মসজিদে প্রবেশ করবে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ পালনার্থে এবং তার নিষেধ থেকে বিরত থাকার জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় না করে বসবে না।
-আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ.
শাইখের বক্তব্যের ভিডিও (বাংলা ক্যাপশন সহ)
ভিডিও বক্তব্য থেকে অনুবাদ:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

Translate