October 14, 2024

হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন জিনিস ভাড়া দেওয়া

 প্রশ্ন: হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, সিসি ক্যামেরা, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেওয়া জায়েজ আছে কি?

উত্তর: হিন্দুরা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ করে। তা হল, মূর্তিপূজা। এটি হল, শিরক। শিরক এত ভয়ানক অপরাধ যাতে মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি ক্রোধান্বিত হন এবং এই অপরাধ তিনি ক্ষমা করবেন না বলে দ্ব্যর্থ হীন ভাবে ঘোষণা করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِنَّ اللَّـهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।” [সূরা নিসা: ৪৮]

সুতরাং কোনও মুসলিমের জন্য জঘন্য শিরকের কাজে কোনও ভাবেই সহায়তা করা বৈধ নয়। অত:এব হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়াও দেওয়া যাবে না।

মোটকথা, পূজার কাজে ব্যবহার করার জন্য কোনও বস্তু বা উপকরণ তাদের কাছে বিক্রয় করা বা ভাড়া দেওয়া বৈধ নয়। কারণ তা শিরকের কাজে সহায়তার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

“সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” [সূরা মায়িদা: ২]

আর এ কথায় কোনও সন্দেহ নাই যে, মূর্তি পূজা ও শিরক হল, সবচেয়ে বড় পাপ ও সীমালঙ্ঘন।

তবে সিসি ক্যামেরা ভাড়া দেওয়া যেতে পারে। কারণ তা মুসলিম-হিন্দু সকলের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। কেননা অনেক সময় কিছু স্বার্থান্বেষী অমুসলিম মুসলিম সেজে পূজা মণ্ডপে আক্রমণ চালিয়ে মুসলিমদের উপর তার দোষ চাপিয়ে দেয়। সিসি ক্যামেরা থাকলে হয়ত এমন চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সুতরাং বৃহত্তর স্বার্থে এতে কোনও সমস্যা নাই ইনশাআল্লাহ।

সৌদি আরবের সাবেক গ্রান্ড মুফতি বিশ্ববরণ্যে আলেম আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,

لا يجوز لمسلم التعاون للمسلم ولا المسلمة مشاركة النصارى أو اليهود أو غيرهم من الكفرة في أعيادهم ، بل يجب ترك ذلك ؛ لأن ” مَن تشبَّه بقوم فهو منهم ” ، والرسول عليه الصلاة والسلام حذرنا من مشابهتهم والتخلق بأخلاقهم ، فعلى المؤمن وعلى المؤمنة الحذر من ذلك ، ولا تجوز لهما المساعدة في ذلك بأي شيء لأنها أعياد مخالفة للشرع ، فلا يجوز الاشتراك فيها ، ولا التعاون مع أهلها ، ولا مساعدتهم بأي شيء لا بالشاي ولا بالقهوة ولا بغير ذلك كالأواني وغيرها ؛ ولأن الله سبحانه يقول : ( وتعاونوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الإثم والعدوان واتقوا الله إن الله شديد العقاب ) فالمشاركة مع الكفرة في أعيادهم نوع من التعاون على الإثم والعدوان .
” مجموع فتاوى الشيخ ابن باز ” ( 6 / 405 ) .

“কোনও মুসলিম পুরুষ-নারীর জন্য ই-হুদি-খ্রি-স্টান বা অন্যান্য কা-ফেরদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা ও সহযোগিতা করা জায়েজ নয় বরং তা বর্জন করা আবশ্যক। কারণ “যে ব্যক্তি অন্য কোনও জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।” রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন ও চরিত্র গ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

সুতরাং ইমানদার নারী-পুরুষের জন্য এ বিষয়ে সাবধান হওয়া জরুরি। এ উৎসব পালনে তাদেরকে কোনভাবেই সাহায্য করা বৈধ নয়। কেননা এগুলো শরিয়ত বিরোধী উৎসব। সুতরাং তাতে অংশগ্রহণ করা জায়েজ নেই এবং তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা বৈধ নয়। চা, কফি, হাড়ি-পাতিল ইত্যাদি দ্বারাও সহায়তা করা যাবে না। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

“আর তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সহায়তা কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” [সূরা মায়িদা: ২]

আর কা*ফেরদের সাথে তাদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা তাদেরকে গুনাহ এবং সীমালঙ্ঘনের কাজে সহায়তার শামিল।” [ফতোয়া বিন বায, ৬/৪০৫]
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ঈদে নতুন পোশাক কেনা কোন বিলাসিতা নয়

 প্রশ্ন: স্বামীর যদি সামর্থ্য থাকে তবু্ও যদি সে সন্তানদের ঈদে নতুন ড্রেস কিনে না দেয় এবং বলে ঈদের কাপড় কিনা বিলাসিতা। কথাটা কি সঠিক? উল্লেখ্য সেই সন্তানেরা নানা বাড়ি থেকে নতুন ড্রেস গিফট পেয়েছে। এবং প্রতিটি সন্তানর‌ই বাবার কাছে এটা চাওয়া থাকে,না পেলে মন খারাপ হয়।

উত্তর: ঈদের সময় সুন্দর পোশাক পরা ও সাজ-সজ্জা করা সুন্নত। যেমন হাদিসে এসেছে,

أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ أَخَذَ عُمَرُ جُبَّةً مِنْ إِسْتَبْرَقٍ تُبَاعُ فِي السُّوقِ، فَأَخَذَهَا فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْتَعْ هَذِهِ تَجَمَّلْ بِهَا لِلْعِيدِ وَالْوُفُودِ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ إِنَّمَا هَذِهِ لِبَاسُ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ ‏”‌‏.‏ فَلَبِثَ عُمَرُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَلْبَثَ، ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِجُبَّةِ دِيبَاجٍ، فَأَقْبَلَ بِهَا عُمَرُ، فَأَتَى بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ قُلْتَ ‏”‏ إِنَّمَا هَذِهِ لِبَاسُ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ ‏”‌‏.‏ وَأَرْسَلْتَ إِلَىَّ بِهَذِهِ الْجُبَّةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ تَبِيعُهَا أَوْ تُصِيبُ بِهَا حَاجَتَكَ ‏”‌‏.

বদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বাজারে বিক্রি হচ্ছিল এমন একটি রেশমী জুব্বা নিয়ে উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এটি কিনে নিন। ঈদের সময় এবং প্রতিনিধি দলের সংগে সাক্ষাতকালে এটি দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করবেন। তথন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এটি তো তার পোশাক, যার (আখিরাতে) কল্যাণের কোন অংশ নেই। এ ঘটনার পর উমর (রাঃ) আল্লাহর যত দিন ইচ্ছা ততদিন অতিবহিত করলেন।”

তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট একটি রেশমী জুব্বা পাঠালেন, উমর (রাঃ) তা গ্রহন করেন এবং সেটি নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো বলেছিলেন, এটা তার পোশাক যার (আখিরাতে) কল্যাণের কোন অংশ নাই। অথচ আপনি এ জু্ব্বা আমার নিকট পাঠিয়েছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি এটি বিক্রি করে দাও এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থে তোমার প্রয়োজন মিটাও।

[সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ১৩/ দুই ঈদ, পরিচ্ছেদঃ ৬০২. দুই ঈদ ও এতে সুন্দর পোশাক পরা]

আর এ কথা সত্য যে, ঈদের সময় সুন্দর ও নতুন জামা-কাপড় ঈদের আনন্দকে বৃদ্ধি করে দেয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য। তবে এ ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না। এমন অতিরিক্ত করা যাবে না যা অপচয় পর্যায়ে চলে যায়।

বরং সাধ্যানুযায়ী ভালো পোশাক পরবে, প্রয়োজন বোধে নতুন জামা ক্রয় করবে। আর্থিক সামর্থ থাকলে এটিকে বিলাসিতা বলা উচিৎ নয়। হ্যাঁ, সামার্থ্য না থাকলেও অনেক কষ্ট করে বা ধার-দেনা করে নতুন জামা ক্রয় করতেই হবে-এমন চিন্তা বিলাসিতা বলে গণ্য হতে পারে। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ব্যাঙ খাওয়া হারাম

 প্রশ্ন: ব্যাঙ খাওয়া কি হারাম?

উত্তর: ব্যাঙ খাওয়া হারাম:

হাদিসে ব্যাঙ হত্যার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হাদিসটি হল: আব্দুর রহমান ইবনে উসমান রা. থেকে বর্ণিত:
أَنَّ طَبِيباً سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – عَنِ الضِّفْدَعِ يَجْعَلُهَا فِي دَوَاءٍ، فَنَهَى عَنْ قَتْلِهَا

“কোন চিকিৎসক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি’ ওয়া সাল্লাম কে ব্যাঙ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন, এটা ঔষধে প্রয়োগ করবেন কি না? উত্তরে তিনি তা হত্যা করতে নিষেধ করলেন।” [আহমদ ১৫৩৩০, নাসাঈ ৪৩৫৫, আবু দাউদ ৩৮৭১, দারেমী ১৯৯৮, হাকিম ৪র্খ খণ্ড ৪১১ পৃষ্ঠা। সহীহুল জামে, হা/৬৯৭০]

আর শরিয়তের একটি মূলনীতি হল, যে প্রাণী হত্যা করা হারাম তা খাওয়াও হারাম। সেটা খাওয়া হালাল হলে তা হত্যা করা বৈধ হত।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

সালাতে ওয়াস‌ওয়াসা অনুভব হলে করণীয় ও একাধিক বার সংঘটিত ভুলের জন্য সাহু সেজদা দেয়ার বিধান

 প্রশ্ন: আমি নামাজে রাক‌আত ও সিজদা সংখ্যা বারবার ভুলে যাই। একটু অমনোযোগী হলেই আমার মনে থাকে না। নামাজ পড়ার সময় বারবার মনে মনে বলা লাগে আমি অমুক রাক‌আতে অমুক সিজদায় আছি। আগে তো আমার এরকম হতো না। ইদানিং খুব হচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি এটা ওয়াসওয়াসা। আমার কি করণীয়? একই নামাজে আমি একাধিকবার ভুলে যাচ্ছি। একাধিকবার ভুলে গেলে কি একবার সাহু সিজদা দিলেই হবে? আমি কি সাহু সিজদা দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে এগুলো পাত্তা দিব না? শায়েখ দয়া করে করণীয় টা জানাবেন। দিন দিন এই রোগ বেড়েই যাচ্ছে।

উত্তর: আল্লাহ তায়ালা আপনার সমস্যা দূর করে দিন। আমিন। সালাতে কমবেশি সবারই অমনোযোগিতার কারণে ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে। তবে খুব বেশি হলে অবশ্যই নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যাচাই করা উচিত। শারীরিক অসুখ-বিসুখ, দুর্বলতা,অতিরিক্ত কোন দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ ইত্যাদি আছে কিনা তা দেখা উচিত। ওয়াসওয়াসা রোগও মানুষের ইবাদত-বন্দেগি ও জীবন যাপনকে দুর্বিষহ করে তোলে। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।
মোটকথা, আপনাকে আপনার নিজের অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জানার চেষ্টা করতে হবে।
প্রয়োজনে ফিজিক্যাল বা মেন্টাল ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। আর ওয়াসওয়াসা হলে সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে নিজ কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি বেশি বেশি আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম পাঠ করতে হবে।
– সাহু সেজদার ব্যাপারে কথা হল, একাধিক ভুলের জন্য একবার সাহু সেজদাই যথেষ্ট। একাধিক ভুলের জন্য একাধিকবার সাহু সেজদার প্রয়োজন নেই। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে জেনে নিতে হবে যে, সালাতের কোন কোন ভুলের ক্ষেত্রে কখন কিভাবে সহ সেজদা দিতে হয়। আল্লাহ সমস্যা দূর করে দিন এবং সঠিকভাবে ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

শিশুর খতনা বা মুসলমানি উপলক্ষে অনুষ্ঠান করার হুকুম

 প্রশ্ন: মরক্কোর অধিবাসীদের মধ্যে শিশুর খতনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করার প্রথা চালু আছে। এই অনুষ্ঠান করা কি সুন্নত; না বিদআত?

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ ও আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নবজাতকের খতনা উপলক্ষে ওলিমা বা ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে দোষের কিছু নেই।

ইবনে কুদামা (রহঃ) মুগনি গ্রন্থে (৭/২৮৬) বলেন:

খতনা উপলক্ষে দাওয়াত করা এবং বিয়ে ছাড়াও যে কোন উপলক্ষে খাওয়ার দাওয়াত করা মুস্তাহাব। যেহেতু এর মাধ্যমে খাদ্য খাওয়ানোর নেক আমল অর্জিত হয়। এ ধরনের দাওয়াত গ্রহণ করাও মুস্তাহাব; তবে ওয়াজিব নয়। এটি ইমাম মালেক, শাফেয়ি, আবু হানিফা ও তাঁর ছাত্রদের অভিমত।

যে কোন দাওয়াতকারীর দাওয়াত গ্রহণ করা মুস্তাহাব। যেহেতু দাওয়াত গ্রহণ করলে দাওয়াতকারীর কাছে ভাল লাগে, তার মন প্রশান্ত হয়। ইমাম আহমাদকে একবার খতনার অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হলে তিনি দাওয়াত গ্রহণ করেন এবং খাবার খান।

তবে এ ধরনের দাওয়াত খাওয়ানোর বিশেষ কোন ফজিলত নেই। যেহেতু এ ব্যাপারে বিশেষ কোন শরয়ি দলিল উদ্ধৃত হয়নি। কোন কারণ ছাড়া দাওয়াত খাওয়ানোর সাধারণ যে মর্যাদা এ আয়োজনেরও সে মর্যাদা। যদি দাওয়াতকারী এর মাধ্যমে আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মুসলমান ভাইদের খাবার খাওয়ানোর আমল পালনের উদ্দেশ্য করে, স্বীয় খাদ্যসামগ্রী ব্যয় করার নিয়ত করে তাহলে আল্লাহ চাহেত তিনি সে সওয়াব পাবেন। সংক্ষেপিত ও সমাপ্ত

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমগণ বলেন:

খতনা উপলক্ষে আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করা ইসলামি শরিয়তের দাবী। যেহেতু খতনা ইসলামপ্রিয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “বল, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে। সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা খুশি হয়। এটি যা তারা সঞ্চয় করে রাখে তা থেকে উত্তম।” [সূরা ইউনুছ, আয়াত: ৫৮]। নিঃসন্দেহে খতনা আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, আল্লাহর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এ উপলক্ষে ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে কোন আপত্তি নেই। সমাপ্ত [ফাতাওয়াল্‌ লাজনাহ আদ্‌দায়িমা (ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র), খণ্ড- ৫; পৃষ্ঠা-১৪২] আল্লাহই ভাল জানেন।

প্রাপ্ত বয়স্ক নারীকে দ্বীনহীন পাত্রের সাথে জোরপূর্বক বিবাহ দিতে চাইলে

 প্রাপ্ত বয়স্ক নারীকে দ্বীনহীন পাত্রের সাথে জোরপূর্বক বিবাহ দিতে চাইলে উক্ত নারী যদি বিয়ে করতে রাজি না হয় তাহলে কি ঐ নারী গুনাহগার হবে? আর এ ক্ষেত্রে ঐ নারীর করণীয় কী?

প্রশ্ন: আমার পরিবার থেকে আমাকে জোর করে বিয়ে দিতে চায়। এমনকি তারা সব সময় অর্থ সম্পদ দেখে শুধু তাই না তারা নামাজ, রোজা,পর্দা করার বিষয়ে নারাজ। মানে তাদের কথা সবার সামনে যেতে হবে। এই নিয়ে আমার পরিবারের সাথে আমার ঝামেলা হয়েছে। আমি অনেক কষ্টে জেনারেল লাইনে পড়েও দ্বীনের পথে টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছি। আমি দ্বীনি পরিবার দেখে বিয়ে করতে চাই। যার মাধ্যমে আমি আমার পরিপূর্ণ ইসলাম মানতে পারবো, সকল নন মাহরামদের থেকে বেঁচে থাকতে পারবো। আমি কোনো বেদ্বীন ছেলেকে বিয়ে করতে চাই না। এগুলো নিয়ে পরিবারের সাথে অনেক ঝামেলা চলতেছে। আমি যে আমার পরিবারের সাথে এমন করছি এতে কি আমার গুনাহ হবে? কারণ আমি বেদ্বীন ছেলেকে বিয়ে করবো না। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি?

উত্তর: ইসলামের দৃষ্টিতে প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর বিয়ের পূর্বে তার সম্মতি নেওয়া অপরিহার্য। তার সম্মতি ব্যতিরেকে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া বৈধ নয়।
আবু সালামাহ রা. হতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা রা. তাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لاَ تُنْكَحُ الأَيِّمُ حَتّٰى تُسْتَأْمَرَ وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتّٰى تُسْتَأْذَنَ قَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَكَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ أَنْ تَسْكُتَ.
“বিধবা/স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না।”
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল, কেমন করে তার অনুমতি নেয়া হবে?
তিনি বললেন, “তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি।”
[৬৯৭০; মুসলিম ১৬/৮, হাঃ ১৪১৯, আহমদ ৯৬১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬০)

এ সম্পর্কে ইমাম মুসলিম হাদিস বর্ণনা করেছেন- পূর্বে বিবাহ হয়েছিল এমন মহিলা তার নিজের বিয়েতে মত জানানোর ব্যাপারে তাদের অভিভাবক অপেক্ষাও বেশি অধিকার রাখে। আর অবিবাহিত মেয়েদের নিকট তাদের পিতা বিয়ের মত জানতে চাইলে তাদের চুপ থাকাই তাদের অনুমতি জ্ঞাপক।
সুতরাং অভিভাবকের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, বিয়ের পূর্বে অবশ্যই প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে, বোন প্রমুখ যার বিয়ে দিতে চায় তার সাথে কথা বলবে, তার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে মূল্যায়ন করবে, তার আগ্রহ-অনাগ্রহকে আমলে নিয়ে তারপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিবে। যদি তার সম্মতি থাকে তাহলে বিয়ে দিবে; অন্যথায় এ ক্ষেত্রে অগ্রসর হবে না। এটাই ইসলামের বিধান। এ বিধান লঙ্ঘন করা কোনও অভিভাকের জন্য বৈধ নয়। এর পরিণতি খুবই খারাপ। এমন জোর-জবরদস্তি বা কনের অনুমতি হীন বিয়েতে দাম্পত্য জীবন চরম বিশৃঙ্খল এবং হুমকির সম্মুখীন হয়। অথচ এ বিধান টি আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত। (আল্লাহ ক্ষমা করুন)

সুতরাং কোন মেয়ে যদি কোন বিয়ের প্রস্তাবকে দ্বীনহীনতা কিংবা অপছন্দ হওয়ার কারণে ফিরিয়ে দেয় তাহলে তাতে কোন গুনাহ নেই। এজন্য সে গুনাহগার হবে না। তার বাবা-মা অসন্তুষ্ট হলেও সে তাদের অবাধ্য বলে গণ্য হবে না। কেননা এটি তার আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম এই দুআটি কখন পাঠ‌ করতে হয়

 প্রশ্ন: “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম” এই দুআটি কখন পাঠ‌ করতে হয়? এবং তা পাঠের মর্যাদা ও উপকারিতা কী?

উত্তর:
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عن ثوبان رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا انصرف من صلاته استغفر ثلاثا وقال اللهم أنت السلام ومنك السلام تباركت يا ذالجلال والإكرام. قيل للأوزاعي وهو أحد رواة الحديث كيف الاستغفار؟ قال : يقول : أستغفر الله، أستغفر الله، أستغفر الله. رواه مسلم
প্রখ্যাত সাহাবি সাওবান রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত শেষ করতেন (অর্থাৎ সালাম ফেরাতেন) তখন তিনবার পাঠ করতেন, আসতাগফিরুল্লাহ।
(অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি)
অত:পর পাঠ করতেন:
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ
“আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়াযাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”
(অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি শান্তি দাতা। শান্তি অবতীর্ণ হয় আপনার পক্ষ থেকেই। আপনি মহত্ব ও মর্যাদার অধিকারী।)
বর্ণনাকারী আউযায়ীকে প্রশ্ন করা হলো, কীভাবে ইস্তিগফার পাঠ করতে হয়? তিনি বললেন, (এভাবে বলবে), “আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ।” [সহিহ মুসলিম, হা/ ১৩৬২]

🔸এই দুআ পাঠের উপকারিতা:

▪️১) হাদিসের ভাষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করার পর তিনবার ইস্তিগফার, অতঃপর উপরোক্ত দুআটি নিয়মিত পাঠ করতেন।
এ হাদিসের প্রতি আমল করলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ এবং তাঁর একটি সুন্নতের উপর আমল করা হয়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ এবং সুন্নাতের উপর আমল করা আল্লাহর ভালোবাসা, ক্ষমা এবং নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়।
▪️২. আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নতের উপরে আমল করা তাঁর প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ
এবং গভীর ভালোবাসার প্রমাণ। এই ভালোবাসা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়।
▪️৩. এটি আল্লাহর মর্যাদার স্বীকৃতি জ্ঞাপক ও স্তুতি মূলক বাক্য। যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
▪️৪. সালাতের পরে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার পর এই দুআটি পড়লে আশা করা যায়, মহান আল্লাহ আমাদের গুনাহগুলো মোচন করবেন। পাশাপাশি, আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জীবনে সুখ, শান্তি, দয়া ও বরকতের ফল্গুধারা নেমে আসবে। কারণ আল্লাহর একটি নাম হল, “আস সালাম” (শান্তি দাতা)। আর তার পক্ষ থেকেই শান্তি অবতীর্ণ হয়।
▪️৫. যেকোনো দুআ ও জিকির পাঠের মাধ্যমে মুখ ও জিহ্বাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করা হয়। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا بِذكر اللَّهِ
“তোমার জিহবা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকির দ্বারা তরতাজা থাকে।” [সহীহ, তিরমিযী, হা/ ৩৩৭৫, ইবনে মাজাহ, হা/ ৩৭৯৩]
▪️৬. আল্লাহর জিকির অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে। ‌ আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَلَا بِذِكۡرِ ٱللَّهِ تَطۡمَىِٕنُّ ٱلۡقُلُوبُ
“জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই মন প্রশান্ত হয়।” [সূরা রাদ: ২৮]
– উল্লেখ্য যে, এ হাদিসে ফরজ সালাত শেষে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করার বিষয়টি খুবই স্পষ্ট (একবার আল্লাহু আকবার পড়ার হাদিসের তুলনায়)। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।

Translate