প্রশ্ন: আমি জানতে চাই, যখন আজান দেয় তখন আমরা যদি কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকি তখন কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ করে আজানের উত্তর দিব নাকি কুরআন পড়া শেষ হলে আজানের উত্তর দিব?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
March 14, 2023
কুরআন তিলাওয়াতের সময় আজান হলে
এক কালেমায় রুটি-রুজি আর এক কালেমায় ফাঁসি শীর্ষক কথাটির বাস্তবতা কতটুকু
মিসরের ব্রাদারহুড নেতা সাইয়েদ কুতুব-এর নামে প্রচলিত “এক কালেমায় রুটি-রুজি আর এক কালেমায় ফাঁসি” শীর্ষক কথাটির বাস্তবতা কতটুকু?
জামায়াতে ইসলামী পন্থীদের মধ্যে এটি খুবই প্রসিদ্ধ কথা। দাবি করা হয় যে, মিসরের ব্রাদারহুড নেতা সাইয়েদ কুতুবের ফাঁসির ১ ঘণ্টা আগে জেলখানার ইমাম এসে যখন তাকে কালিমা পড়তে বলেন, তখন তিনি নাকি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আমাকে কালিমা পড়ানো লাগবে না। আমি তা জানি। যে কালিমা পড়ানোর কারণে সরকার তোমাকে বেতন দেয় সেই কালিমার কারণে আজ আমাকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে।” জামায়াতে ইসলামীর বিখ্যাত বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি এভাবেই তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন। এ কথাটি মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর কথামালা এবং শিল্পী মশিউর রহমান-এর কণ্ঠের গানে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে। যা আমার দেখা মতে, দেলোয়ার হোসেন সাইদির ছেলে মাসউদ সাঈদি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার সহ অনেকেই শেয়ার করেছেন। শুধু তাই নয়, জামায়াত পন্থী বহু বক্তাও এ কথাটা উল্লেখ করার মাধ্যমে যে সব আলেমগণ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিকে সমর্থন করেন না তাদের কালিমাকে কটাক্ষ ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকে।
◍ এবার দেখা যাক, এ বিষয়টির বাস্তবতা কতটুকু?
প্রকৃত পক্ষে জামায়াতে ইসলামী ও শিবির নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের পক্ষ থেকে উক্ত কথাটি সাইয়েদ কুতুবের নামে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হলেও এর সপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং বলা হয়ে থাকে, যে, ইতালীয় দখলদার কর্তৃক লিবিয়ার কিংবদন্তী নেতা ও মুজাহিদ ওমর আল-মুখতার রহ. এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে তিনি প্রায় এমন একটি কথা বলেছিলেন।
গবেষকগণ বলেন, সাইয়েদ কুতুবের ফাঁসি কার্যকর করার তারিখ ও সময় সম্পর্কে কয়েকজন দায়িত্ব রত সরকারী কর্মকতা, আর্মি ও পুলিশ অফিসার ছাড়া কাউকে জানতে দেওয়া হয়নি। সাইয়েদ কুতুব নিজেও জানতেন না কখন তার ফাঁসি হবে। কারণ খুবই গোপনীয়তার সাথে তা বাস্তবায়ন করা হয়। যার কারণে কোনও মসজিদের ইমাম বা আজহার থেকে কোনও আলেমকেও কালিমা পড়ানোর জন্য ডাকা হয়নি। কোনও নির্ভরযোগ্য ইতিহাস বা ডকুমেন্টে এমন তথ্য পাওয়া যায় না।
«سيد قطب لم يفتح فمه بكلمة واحدة منذ أن تسلمته من السجن الحربى وحتى تنفيذ حكم الإعدام فيه داخل سجن الاستئناف، وكنت أجلس بجواره طوال الطريق» وتابع: «عندما سأله وكيل النيابة انت عايز حاجة ؟ لم يرد عليه، وتمتم بكلمات غير مفهومة»
আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের শানে ইশক, মোহাব্বত এবং প্রেম শব্দের ব্যবহার
প্রশ্ন: বলা হয়, “দুনিয়ার বেশি গভীরে প্রবেশ করো না; বের হতে পারবে না। দুনিয়ার মোহে পড়ে গেলে আল্লাহ প্রেমের স্বাদ পাবে না।” প্রশ্ন হল, প্রেম শব্দটি কি আল্লাহর সাথে ব্যবহার করা জায়েজ আছে? তৎসঙ্গে এই ক্ষেত্রে ইশক এবং মহাব্বত শব্দের ব্যবহারের বিধান জানতে চাই।
▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
এ শব্দটি কুরআন, হাদিস এবং সাহাবিদের মুখে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশার্থে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি।
মূলত: ভ্রান্ত সুফি পন্থী ও বিদআতিরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের শানে এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। যেমন: তারা বলে থাকে, আশেকে রসুল, চরমোনাই পীর মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ এছহাক রচিত ‘আশেক-মাশুক বা এস্কে এলাহী’ নামে একটি বই রয়েছে। আমাদের সমাজে অনেক মানুষের নাম দেখা যায় ‘আশেকে এলাহি/আশেকে খোদা’। (এমন নাম রাখা নাজায়েজ।)
ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কায়েম প্রমুখ মুহাক্বিক আলিমগণ এ ক্ষেত্রে উক্ত শব্দটি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন। [মাদারিজুদ সালিকিন]
ইমাম ইবনুল কাইয়েম বলেন,
ولما كانت المحبة جنسا تحته أنواع متفاوتة في القدر والوصف، كان أغلب ما يذكر فيها في حق الله تعالى ما يختص به ويليق به، كالعبادة والإنابة والإخبات، ولهذا لا يذكر فيها العشق والغرام والصبابة والشغف والهوى.. وقد يذكر لفظ المحبة كقوله تعالى: يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَه [المائدة: 54]
“মোহাব্বত (ভালোবাসা) শব্দটি হল, একটি জাতিবাচক বিশেষ্য। এর অধীনে পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে নানা ধরণের ভিন্নতা রয়েছে। এই জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্লাহর শানে তার জন্য যা নির্ধারিত এবং উপযুক্ত তাই ব্যবহৃত হয়। যেমন: দাসত্ব করা, অভিমুখী হওয়া, নত হওয়া। এ জন্য আল্লাহর শানে ইশক (চরম পর্যায়ের ভালবাসা), আসক্তি, তীব্র আকাঙ্ক্ষা, মোহ, কামনা-বাসনা…উল্লেখ করা হয় না। তবে (আল্লাহ শানে) কখনো মোহাব্বত (ভালবাসা) শব্দটিও উল্লেখ করা হয়। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন, يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ “তাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালবাসবে।” (সূরা মায়িদা: ৫৪) [ইমাম ইবনুল কাইয়েম-ইগাসাতুল লাহফান]
❑ ২. মোহাব্বত (ভালবাসা) শব্দের ব্যবহার:
কুরআন-সুন্নায় মোহব্বত (ভালোবাসা) শব্দটি বারবার ব্যবহৃত হয়েছে। কখনো বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর প্রতি, কখনো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি, আবার কখনো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
➧ কয়েকটি উদাহরণ:
◈ মহান আল্লাহ বলেন,
◈ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ
“হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে তা দিন থেকে ফিরে যাবে, অচিরেই আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালবাসবে।” [সূরা মায়িদা: ৫৪]
◈ তিনি আরও বলেছেন,
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِیْ یُحْبِبْكُمُ اللهُ
“(হে নবি) আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তাহলে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালোবাসবেন।” [সূরা আলে ইমরান: ৩১]
◈ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
“তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পিতা, পুত্র ও অন্য সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হই।” [সহীহ বুখারি]
◈ তিনি আরও বলেন,
ثَلاَثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلاَوَةَ الإِيمَانِ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لاَ يُحِبُّهُ إِلاَّ لِلَّهِ
“তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়। আল্লাহ ও তাঁর রসুল তার কাছে অন্য সব কিছুর থেকে প্রিয় হওয়া, কাউকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালবাসা এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত ঘৃণা করা।” [বুখারি ও মুসলিম]
এভাবে এই মোহাব্বত (ভালবাসা) শব্দটি কুরআন ও হাদিসে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু কোথাও ‘ইশক/এশক শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি। অথচ শরিয়ী শব্দাবলীর ব্যবহার কুরআন-সুন্নাহর মধ্যেই সীমিত থাকা জরুরি।
উল্লেখ্য যে, মোহাব্বত (ভালবাসা) শব্দটি স্বামী, স্ত্রী, পিতা, মাতা, সন্তান, আলেম, কুরআন, হাদিস ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য। যদিও পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে মোহাব্বত বা ভালবাসার বিভিন্ন প্রকারভেদ হয়ে থাকে। (যেমনটি ইমাম ইবনুল কাইয়েম রহ. উল্লেখ করেছেন।)
❑ ৩. আল্লাহর ও তাঁর রসুলের শানে ‘প্রেম’ শব্দের ব্যবহার:
কতিপয় আলেম বলেন যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ‘প্রেম’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ তা নাকি যৌন চাহিদা বা যৌনাকাঙ্ক্ষা যুক্ত ভালবাসাকে বুঝায়। কিন্তু এ মতটি আমার কাছে সঠিক মনে হয়নি। কারণ বাংলা অভিধানে এই শব্দটি প্রণয় এবং সাধারণ ভালোবাসা, স্নেহ, ভক্তি ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ এই ভালবাসায় যৌনাকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে। যেভাবে শুধু ‘ভালোবাসা’ শব্দটিও উভয় ধরনের অর্থই প্রকাশ করে। ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে প্রেম শব্দের অর্থ লেখা হয়েছে: ১ প্রণয়, ভালোবাসা, ২. প্রীতি (বন্ধুত্ব). ৩. স্নেহ [বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান-পরিমার্জিত সংস্করণ]
❑ যৌনাকাঙ্ক্ষা মুক্ত সাধারণ ভালোবাসা, অনুরাগ এবং স্নেহ অর্থে প্রেম শব্দ ব্যবহারের কিছু উদাহরণ:
একইভাবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি সম্মানসুলভ অগাধ ভালোবাসা বোঝাতে এ শব্দটি ব্যবহারে কোন দোষ নেই ইনশাআল্লাহ। তবে বলা যায়, বিতর্ক এড়াতে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ক্ষেত্রে এ শব্দটি পরিহার করাই ভালো।
হ্যাঁ, কেউ যদি যৌনাকাঙ্ক্ষা সুলভ ভালোবাসা ও প্রেমাসক্তি অর্থে মহান আল্লাহ ও তাঁর রসুলের শানে এই শব্দটি ব্যবহার করে তাহলে তা অবশ্যই হারাম হবে। আল্লাহু আলম (আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন)।
আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা এবং আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে কাজ করার বিধান
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা এবং আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে কাজ করার বিধান
নিম্নে এ বিষয়ে ৪টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হল: وبالله التوفيق
❑ ১. আইন বিষয়ে পড়াশোনা এবং বিচার কিংবা ওকালতি পেশায় চাকরি করার বিধান
সঙ্গত কারণেই ইসলামি আইন-কানুন সম্পর্কে পড়াশোনা করা অপরিহার্য (ফরজে কেফায়া)। কেননা কোন বিষয়ে জ্ঞানার্জন ছাড়া তা বাস্তবে প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব নয়। কিন্তু কোনও মুসলিম যদি ইসলামি আইনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ এবং তথাকথিত ইসলাম বিরোধী মানব রচিত আইনের অসারতা ও ক্ষতিকারক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্যে পড়াশোনা করে তাহলে এতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের এ সকল মানব রচিত আইন দ্বারা বিচারকার্য পরিচালনা করা, প্র্যাকটিস করা, আইনি সহায়তা দেওয়া বা ওকালতি করা হারাম।
◈ আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রহ. বলেন,
وأما تعلم الإنسان للقوانين الوضعية، إذا كان يتعلمها من أجل أن يدفع الباطل بالحق ؛ فهذا لا بأس به ، وإذا كان يتعلمها من أجل أن يتبع ما فيها من القوانين المخالفة للشرع ؛ فهذا حرام. وفي هذا نقول : حتى المحاماة في بلد تحكم الشريعة فيه نقول: إذا كان المحامي يريد إيصال الحق إلى أهله ؛ فلا بأس أن يمارس هذه المهنة ، وإن كان يريد أن يغلب الناس في قوله ومحاماته بالحق أو بالباطل ؛ فهذا حرام ” انتهى باختصار من “لقاء الباب المفتوح” (33/6).
“আর কেউ যদি মানব রচিত আইন বিষয়ে শিক্ষার্জন করে সত্যে দ্বারা মিথ্যাকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে তাহলে এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু যদি জ্ঞানার্জন করে ততে যে সব শরিয়ত পরিপন্থী আইন-কানুন রয়েছে সেগুলোর অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে তাহলে তা হারাম। এই বিষয়ে আমরা আরও বলি: শরিয়তের বিধান বাস্তবায়িত আছে এমন দেশেও যদি আইনজীবীর উদ্দেশ্য থাকে পাওনাদারের নিকট তার পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া তাহলে এই পেশায় প্র্যাকটিস করায় কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি সে তার কথা ও ওকালতির মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা যে কোনও প্রকারে বিজয়ী হওয়ার মনোভাব রাখে তাহলে তা হারাম।”
❑ ২. মেয়েদের জন্য আইন নিয়ে পড়াশোনা করার বিধান:
❑ ৩. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইন পেশায় কাজ করা কি বৈধ?
তবে এই পেশায় যারা কাজ করে তাদের জন্য মিথ্যা কথা বলা, অনৈতিক কাজ করা, ভুয়া ও জাল ডকুমেন্ট হাজির করা অথবা জেনেশুনে সত্য গোপন করা এবং জালিম ও অপরাধীর পক্ষে কাজ করা জায়েজ নেই- যা অনেক উকিল কেবল মামলায় জেতার উদ্দেশ্যে করে থাকে (নাউযুবিল্লাহ)। যে আইনজীবী এসব কাজ করবে সে গুনাহগার হবে এবং এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ তার জন্য হারাম বলে গণ্য হবে। অনুরূপভাবে কোন উকিলের জন্য অন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করা, জালিম ও অপরাধীকে সাহায্য করা, আইনের মার-প্যাঁচে ফেলে কারো অধিকার হরণ করা অথবা শরিয়ত বহির্ভূত কোনও কাজে কাউকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে ওকালতি করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। কেননা তা পাপকর্মে সহায়তার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
“তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।” [সূরা মায়িদা: ২]
◈ আল্লামা শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. কে আইন পেশা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেন,
বরাত অর্থ এবং প্রকৃত ভাগ্য রজনী বা মুক্তি রজনী
প্রশ্ন: বরাত অর্থ কী? এবং প্রকৃত ভাগ্য রজনী বা মুক্তি রজনী কোনটি?
উত্তর: বরাত শব্দটি শব্দের অর্থ: কপাল, ভাগ্য বা অদৃষ্ট। যেমন: বলা হয়, বরাত মন্দ (কপাল খারাপ), বদ-নসিবের বরাত খারাব।” [জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবিতা: কামাল পাশা] এর আরেকটি অর্থ, প্রতিনিধিত্ব বা দায়িত্বও কার্যভর। এখান থেকেই বলা হয়, বিয়ের বরাত অর্থাৎ বিয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা বলার দায়িত্ব। আরেকটি অর্থ: বরযাত্রীদল। [বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান]
এ রাতটিকে ‘অর্ধ শাবানের রাত’ বলা কুরআন বিরোধী:
শবে বরাত উপলক্ষে স্বামী যদি স্ত্রীকে হালুয়া-রুটি ইত্যাদি তৈরি করতে বাধ্য করে
প্রশ্ন: স্বামী যদি স্ত্রীকে শবে বরাতের জন্য হালুয়া-রুটি তৈরি করতে বাধ্য করে এবং বিরোধিতা করায় স্বামী সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে তাহলে এ ক্ষেত্রে ওই স্ত্রীর করণীয় কী?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
পরিবারের পক্ষ থেকে পর্দা করতে বাধা দিলে করণীয়
প্রশ্ন: আমি কয়েক মাস আগেও পর্দা করতাম না। কিন্তু দু মাস ধরে আমি পুরোপুরি পর্দা করি। যেখানেই যাই বোরখা পরিধান করি। কিন্তু আমার পরিবারের কেউ কেউ সব জায়গায় বোরখা পরে না। কিন্তু আমি পরতে চাই। তবে আমার বড়রা বলে যে, সব জায়গায় সব কিছু মানায় না। সমাজের সাথেও চলতে হয়। একা যেখানে যাও পর্দা করো। তবে পরিবারের সাথে কোথাও বেড়াতে গেলে বা দাওয়াতে গেলে বোরখা পড়া মানানসই না। হিজাব পড়লেই যথেষ্ট। এখন আমি পরিবারের জন্য পুরোপুরি পর্দা করে যেতে পারি না। তাদের সাথে যাব নাও বলতে পারি না। এখন আমার কী করণীয়?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: আপনি পর্দা করতে শুরু করেছেন এ জন্য আপনাকে অভিনন্দন। দুয়া করি, আল্লাহ যেন আপনাকে আমরণ ইসলামের এই মহান বিধানের উপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করেন আর আপনার জন্য এ পথে চলা সহজ করে দেন। আমিন।
আপনার পরিবার যেহেতু সঠিক নিয়মে পর্দা করে না তাই স্বাভাবিকভাবে তারা আপনার পর্দাকে স্বাগত জানাবে না বরং নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে। কিন্তু পর্দা যেহেতু মুসলিম নারীর প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অলঙ্ঘনীয় ফরজ ইবাদত সেহেতু কোনভাবেই মানুষের সমালোচনার সামনে হার মানা যাবে না। কে কী বলল বা ভাবল তার চেয়ে বড় কথা হল, এটি রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে নির্দেশ। তার নির্দেশ উপেক্ষা করলে তিনি হয়ত জাহান্নামের কঠিন আজাবে নিক্ষেপ করবেন। পক্ষান্তরে সকল সমালোচনা ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দৃঢ়তার পরিচয় দিলে তিনি জান্নাতে অভাবনীয় পুরস্কারে পুরস্কৃত করবেন।
তাই মানুষের কটুকথা, ভ্রুকুঞ্চন আর তথাকথিত সামাজিকতার ওজুহাত ইত্যাদিকে উপেক্ষা করে আল্লাহ বিধানের উপর অবিচল থাকুন। সেই সাথে তাদের হেদায়েতের জন্য দুআ করার পাশাপাশি যথাসম্ভব তাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখান, জাহান্নামের শাস্তির কথা শুনান এবং তাদের কাছে পর্দার গুরুত্ব তুলে ধরুন।