January 10, 2023

কুরআনের কয়েকটি বিশেষ সূরা ও আয়াতের ফজীলত

 শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

বাজারে প্রচলিত বিদ’আত ও ভুলে ভরা বই এ আমরা কুরআনের প্রত্যেকটি সূরার কোন না কোন ফজীলতের কথা পড়েছি। অথচ এগুলো অনেকাংশেই দুর্বল ও জাল হাদিসের উপর ভিত্তি করে লেখা। এখানে কুরআনের যেসব সূরা ও আয়াতের কথা সহীহ হাদিসে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখিত হয়েছে, সে হাদিসগুলো একত্রে উপস্থাপন করা হল।
সূরা ফাতিহা

১) আবু সাইদ রাফে’ ইবনে মুআল্লা (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন,

একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, “মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কি কুরআনের সব চেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব না?” এই সাথে তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর যখন আমরা বাহিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন আমি নিবেদন করলাম, “ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আপনি যে আমাকে বললেন তোমাকে অবশ্যই কুরআনের সব চেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব?’ সুতরাং তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সূরা ফাতেহা)। এটি হচ্ছে ‘সাবউ মাসানি (অর্থাৎ নামাযে বারংবার পঠিতব্য সপ্ত আয়াত ) এবং মহা কুরআন; যা আমাকে দান করা হয়েছে”। (সহীহুল বুখারি ৪৪৭৪)

সূরা ইখলাস
২) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা) ‘কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রান আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”।
৩) অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাগনকে বললেন, ‘তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ?’ প্রস্তাবটি তাদের পক্ষে ভারী মনে হল। তাই তারা বলে উঠলেন ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?’ ( অর্থাৎ কেও পারবে না।) তিনি বললেন, “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ” (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (অর্থাৎ, এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশের কুরআন পড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়।) (সহীহুল বুখারি ৫০১৫)
৪) উক্ত সাহাবী (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কোন লোককে সূরাটি বারবার পড়তে শুনল। অতঃপর সে সকালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিকট এসে তা ব্যক্ত করল। সে সূরাটিকে নগণ্য মনে করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, “সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এই সূরা (ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান”।(সহীহুল বুখারি ৫০১৫)
৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা) ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (মুসলিম ৮১২)
৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্নিত, এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই (সূরা) ‘কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি। তিনি বললেন, ‘ এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে’। (সহীহুল বুখারি ৭৭৪)

সূরা ফালাক ও সূরা নাস
৭) উকবাহ বিন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদা বললেন, ‘তুমি কি দেখনি, আজ রাতে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার আনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? (আর তা হল,) ‘কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ক’ ও ‘কুল আউযু বিরাব্বিল নাস’। (মুসলিম ৮১৪)
৮) আবূ সাঈদ খুদরী ( রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন ‘রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ক ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’ টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন’। (তিরমিজী ২০৫৮)
সূরা মূলক
৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘কুরআনের তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে , যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে,সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)। (আবূ দাউদ ১৪০০)
সূরা বাক্বারা
১০) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, একদা জিবরাইল (আঃ) নবী(সাঃ)-এর নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি (জিবরাইল) মাথা তুলে বললেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল। ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয় নাই। ওদিক দিয়ে একজন ফেরেশতা আবতির্ন হল। এই ফেরেশতা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে,ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি। সুতরাং তিনি এসে নবী (সাঃ)-কে সালাম জানিয়ে বললেন, ‘‘আপনি দুটি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হই নাই। (সে দুটি হচ্ছে) সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্কারার শেষ আয়াতসমূহ । ওর মধ্যে হতে যে বর্নটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেওয়া হবে।’’ (মুসলিম ৮০৬)
১১) আবূ মাসাঊদ বদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করবে, তার জন্য সেই দু’টি যথেষ্ট হবে’।(সহীহুল বুখারি ৪০০৮)
বলা হয়েছে যে, সে রাতে অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে। অথবা তাহাজ্জুদের নামায থেকে যথেষ্ট হবে।
১২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা নিজিদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না। কেননা, যে বাড়িতে সূরা বাক্কারা পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে’। (মুসলিম ৭৮০)
(অর্থাৎ সুন্নত ও নফল নামায তথা পবিত্র কুরআন পড়া ত্যাগ ক’রে ঘরকে কবর বানিয়ে দিয়ো না। যেহেতু কবরে এ সব বৈধ নয়)।
আয়াতুল কুরসী পড়ার ফযীলত
১৩) উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘হে আবূ মুনযির! তুমি কি জান,মহান আল্লাহর গ্রন্থ (আল-কুরাআন) এর ভিতর তমার যা মুখস্থ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় (মর্যাদাপূর্ণ) আয়াত কোনটি?’ আমি বললাম, ‘সেটা হচ্ছে আয়াতুল কুরসী’। সুতরাং তিনি আমার বুকে চাপর মেরে বললেন, ‘আবুল মুনযির! তমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক’। (মুসলিম ৮১০)
(অর্থাৎ তুমি, নিজ জ্ঞানের বর্কতে উক্ত আয়াতটির সন্ধান পেয়েছ, সে জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।)
১৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন (একবার) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে রমযানের জাকাত(ফিৎরার মাল-ধন) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। বস্তুতঃ ( আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে) একজন আগমনকারী এসে আজঁলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, ‘তোকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর কাছে পেশ করব’; সে আবেদন করল,আমি একজন সত্যিকারের অভাবী। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুন অভাব’; কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।
সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট হাযির হলাম); রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘হে আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচারন করেছে’? আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে তার অভাব ও (অসহায়) পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল। সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেরে দিলাম’; তিনি বললেন, ‘ সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে’।
আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আনুরুপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার প্রতীক্ষায় থাকলাম। সে (পুর্ববৎ) এসে আজঁলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি বললাম, ‘অবশ্যই তোকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর কাছে পেশ করব’; সে বলল, ‘আমি অভাবী,পরিবারের দায়ত্ব আমার উপর, (আমাকে ছেড়ে দাও) আমি আর আসব না’;সুতরাং আমার মনে দয়া হল। আমি তাকে ছেরে দিলাম।
সকালে উঠে (যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে গেলাম তখন) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, ‘‘আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচারন করেছে’? আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তানের-পরিবারের অভিযোগ জানাল। সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেরে দিলাম’; তিনি বললেন, ‘ সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে’।
সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম। সে (এসে)আজঁলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম ‘‘এবারে তোকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর দরবারে হাযির করবই’; এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার । ‘ফিরে আসবো না’ বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস’’; সে বলল ‘তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন’; আমি বললাম ‘সেগুলি কী?’ সে বলল, ‘যখন তুমি (ঘুমাবার জন্য) বিছানাই যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ ক’রে (ঘুমাবে); তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না’।
সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আবার সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে গেলাম); তিনি আমাকে বললেন, ‘‘তোমার বন্দী কী আচারন করেছে?’’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে বলল, ‘‘ আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন’’; বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’; তিনি বললেন ‘‘সে শব্দগুলি কী?’’ আমি বললাম, ‘সে আমাকে বলল, ‘‘যখন তুমি বিছানাই (শোয়ার জন্য) যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ পড়ে নেবে’’;সে আমাকে আর বলল, “তার কারনে আল্লাহর তরফ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না’’।
(এ কথা শুনে) তিনি (সাঃ) বললেন, ‘‘শোনো ! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবূ হুরাইরা! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?’’ আমি বললাম, ‘জী না’; তিনি বললেন, ‘‘সে ছিল শয়তান’’। (সহীহুল বুখারী ২৩১১)
সূরা কাহফ
১৫) আবূ দার্দা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্ত করবে,সে দাজ্জালের(ফিৎনা) থেকে পরিএাণ পাবে।’’ অন্য বর্ণনায় ‘কাহফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। (মুসলিম ৮০৯)

প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ফরজ গোসলের বিধান

 প্রশ্ন: রাতে স্বপ্নদোষ হলে এই শীতের সকালে গোসল সম্ভব নয়। তাহলে এ ক্ষেত্রে নামাজ পড়তে চাইলে কী করা উচিত?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: স্বপ্নদোষ হওয়া বড় নাপাকির অন্তর্ভুক্ত। এ থেকে পবিত্রতার জন্য গোসল করা ফরজ। সুতরাং এমনটি ঘটলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার সময় পানি গরম করে গোসল করতে হবে। কিন্তু যদি এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকেন যে, সেখানে পানি গরমের কোনো ব্যবস্থা নেই এবং ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের কারণে অসুস্থ হওয়ার কিংবা রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে তাহলে এক্ষেত্রে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়েজ। কিন্তু পানি গরমের ব্যবস্থা থাকলে তায়াম্মুম করা জায়েজ হবে না।
◆ আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُم
“তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো।” [সূরা তাগাবুন: ১৬]
◆ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“আমি যদি তোমাদেরকে কোন বিষয়ে আদেশ করি তাহলে সাধ্য অনুসারে তা পালন করবে।” [সহিহ বুখারি]

◆ হাদিসে আরও এসেছে, প্রখ্যাত সাহাবী আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
احتَلمتُ في ليلةٍ باردةٍ في غزوةِ ذاتِ السُّلاسلِ فأشفَقتُ إنِ اغتَسَلتُ أن أَهْلِكَ فتيمَّمتُ، ثمَّ صلَّيتُ بأصحابي الصُّبحَ فذَكَروا ذلِكَ للنَّبيِّ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ فقالَ: يا عَمرو صلَّيتَ بأصحابِكَ وأنتَ جنُبٌ ؟ فأخبرتُهُ بالَّذي مَنعَني منَ الاغتِسالِ وقُلتُ إنِّي سَمِعْتُ اللَّهَ يقولُ:( وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا ) فضحِكَ رسولُ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ ولم يَقُلْ شيئًا
“যাতুস সালাসিল যুদ্ধের সময় এক প্রচণ্ড শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়। আমার ভয় হল, আমি যদি গোসল করি তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হব। তাই আমি তায়াম্মুম করে লোকজনকে নিয়ে সালাত আদায় করলাম। পরে তারা বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালে তিনি বললেন, “হে আমর, তুমি নাকি জুনুবি (নাপাক) অবস্থায় তোমার সাথীদের নিয়ে সালাত আদায় করেছো?” তখন আমি গোসল না করার কারণ সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলাম এবং বললাম, আমি আল্লাহর এই বাণী শুনেছি, (আল্লাহ বলেছেন,)
وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا
“আর তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি বড়ই দয়াবান’’ (সূরা নিসা: ২৯)। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং কিছুই বললেন না।” [আবু দাউদ-সহিহ] এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মতির মাধ্যমে এমন পরিস্থিতিতে তায়াম্মুম করার বৈধতা প্রমাণিত হয়।

❑ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,
إذا كان في محل لا يستطيع فيه تدفئة الماء وليس هناك كن يستكن به للغسل بالماء الدافي وخاف على نفسه فإنه يصلي بالتيمم
ولا حرج عليه
“যদি সে এমন জায়গায় থাকে যেখানে সে পানি গরম করতে পারে না এবং গরম পানি দিয়ে গোসল করার জন্য সেখানে এমন কোনো ঘর না থাকে যেখানে (ঠাণ্ডা থেকে) আত্মরক্ষা করবে এবং (ঠাণ্ডা পানি ব্যবহারের কারণে) শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে তাকে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। এতে কোনও আপত্তি নেই।” [binbaz]

🔸উল্লেখ্য যে, এই বিধান স্বপ্নদোষের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী মিলন কিংবা জাগ্রত অবস্থায় বীর্যপাতের মাধ্যমে জুনুবি (নাপাক) হওয়ার ক্ষেত্রে, মহিলাদের ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়া ও প্রসূতি নারীর পবিত্রতার জন্য গোসলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

গায়ে হলুদের বিধান

 প্রশ্ন: অনেকে বলেন, মাহরামদের নিয়ে গায়ে হলুদ করা জায়েজ। আমার প্রশ্ন হল, গায়ে হলুদ তো অন্য জাতিদের আচার। তাহলে বিয়ের জন্য এটা ফলো করা কি হাদীস পরিপন্থী নয়?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: আমাদের সমাজে বিয়ের আগে বর ও কনের গায়ে কাঁচা হলুদ মাখানোর প্রচলন রয়েছে ।সাধারণভাবে এর উদ্দেশ্য থাকে শরীরের রঙ সুন্দর করা ও আনন্দ প্রকাশ করা। ইসলাম কোন সামাজিক প্রচলনকে নিষিদ্ধ করে না যদি না তার মধ্যে ইসলাম বিরোধী কিছু পাওয়া যায়। সুতরাং এ উদ্দেশ্যে বর বা কনের গায়ে হলুদ মাখানো হলে তাতে শরিয়তগতভাবে কোন সমস্যা নেই। তবে এ ক্ষেত্রে নন মাহরাম ছেলেরা মেয়েদের গায়ে আর নন মাহরাম মেয়েরা ছেলেদের গায়ে হলুদ লাগানো, গান-বাজনা করা, বেগানা নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ, হলুদ মেখে শরীর পবিত্র করার হিন্দুয়ানী বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান করা জায়েজ নাই।

❒ শাইখ আব্দুল হামীদ ফায়যী মাদানী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন,

বিবাহের মৌসুমে একটি সতর্কতা:

একদা এক সাহাবির গায়ে হলুদ রঙ দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুঝেছিলেন যে, তিনি নব-বিবাহিত। [বুখারী, মুসলিম] সেটা হলুদের রঙ নয়। বরং স্ত্রীর দেহের ‘খালুক’ (মহিলাদের ব্যবহার্য্য এক প্রকার সুগন্ধি)-এর হলুদ রঙ যা তাঁর কাপড়ে লেগে গিয়েছিল। [ফাতহুল বারী ৯/১৪৪]
সুতরাং এটাকে পাত্র-পাত্রীর জন্য হলুদ মাখার বৈধতার দলিল মানা যায় না। উল্লেখ্য যে, পাত্র-পাত্রীর গায়ে হলুদ দিয়ে বিবাহ-লগ্ন শুরু করা বিদআত। [আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য]
তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ে শুভ হবে’-এই নিয়ত গায়ে হলুদ মাখানো হলে তা হবে শিরক, বিয়ের আগে তা করণীয় মনে করলে তা হবে বিদআত, সবার দেখাদেখি করলে তা হবে বিজাতীয় অনুকরণ এবং গায়ের রং উজ্জ্বল করার উদ্দেশ্য হলে তা বৈধ। তবে যার দেহ স্পর্শ করা বৈধ তাকে মাখাতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে সেই ব্যক্তি সেই জাতির দলভুক্ত। [আবু দাউদ ৪০৩৩, সহিহুল জামে, হা/৬১৪৯] [ঈষৎ পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত]

❒ ডক্টর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ (হাফিযাহুল্লাহ):

প্রশ্ন: বিয়ের সময় বর-কনের গায়ে হলুদ লাগানো হয় এবং গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করা হয়। এগুলো করা কি ইসলাম সম্মত?

উত্তর: গায়ে হলুদ শুধু আমাদের কালচার, তা ঠিক নয়। ইসলামি কালচারের মধ্যে এটা আসেনি। কিন্তু এটা কোনও গুনাহের কাজ নয়। এটা যদি ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে ভুল হবে। এটা ইবাদতের বিষয় নয়। এটা হচ্ছে এলাকার প্রচলন হিসেবে। সৌন্দর্যের জন্য এটা করা যেতে পারে। এখন ছেলেরা মেয়েদের আবার মেয়েরা ছেলেদের আনুষ্ঠানিকভাবে গায়ে হলুদ দেয়, তা ঠিক নয়। এগুলো পুরোটাই শরিয়াহ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। এই আনুষ্ঠানিকতা ইসলামে কোথাও আসেনি। তবে ব্যক্তিগতভাবে যদি কেউ গায়ে হলুদ মাখে, তাহলে সেটা জায়েজ। অনানুষ্ঠানিক ভাবে যদি কেউ সৌন্দর্যের জন্য মেহেদি দিয়ে কাউকে সাজায়, সেটা জায়েজ আছে।
[সূত্র: ntvbd-ধর্ম ও জীবন] আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

রজবের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত, জুমার রাত, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাতে দুআ কবুল হওয়া সংক্রান্ত হাদিসটি বানোয়াট

 রজবের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত, জুমার রাত, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাত- এই পাঁচ রাতে দুআ কবুল হওয়া সংক্রান্ত হাদিসটি বানোয়াট

▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উপরোক্ত পাঁচ রাতে দুআ কবুল হওয়া সংক্রান্ত একটি হাদিস আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে তা বানোয়াট। নিম্নে উক্ত হাদিসটি এবং সে সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের অভিমত ও বিশ্লেষণ প্রদান করা হল:
➤ হাদিসটি হল: আবু উমামা আল বাহেলি রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
خَمْسُ لَيَالٍ لا تُرَدُّ فيهن الدعوةُ : أولُ ليلةٍ من رجبٍ ، وليلةُ النِّصفْ من شعبانَ وليلةُ الجُمُعةِ ، وليلةُ الفِطْرِ ، وليلةُ النحرِ

‘পাঁচটি রাত এমন আছে, যেগুলোতে বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না। (অর্থাৎ অবশ্যই কবুল করেন।) রাতগুলো হল—রজবের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত, জুমার রাত, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাত।’ [তারিখে দিমাস্ক- ইবনে আসাকির ১০/৪০৮, মুসনাদুল ফিরদাউস ২/১৯৬]

◆ এই মর্মে বর্ণিত হাদিসটিকে মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে (বানোয়াট)। শাইখ আলবানি বলেন, موضوع (বানোয়াট)। [সিলসিলা যঈফাহ/১৪৫২ এবং যঈফুল জামে/২৮৫২]

❑ বিশ্লেষণ:

এ হাদিসের মূল ভিত্তি হল, ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি ইয়াহিয়া (১৮৪ হি.) নামক একজন মুহাদ্দিস। ইমাম মালিক, আহমদ, বুখারি, ইয়াহিয়া ইবনে মাঈন, ইয়াহিয়া আল-কাত্তান, নাসাঈ, দারাকুতনী, যাহাবী, ইবনে হিববান ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ তাকে “রাফেজি শিয়া, মুতাজিলি ও ক্বাদরিয়া আকিদায় বিশ্বাসী” বলে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি মিথ্যাবাদী এবং অপবিত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ইমাম শাফেঈ প্রথম বয়সে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বিধায় কোনও কোনও শাফেঈ মুহাদ্দিস তাঁর দুর্বলতা কিছুটা হাল্কা করার চেষ্টা করেন। তবে শাফেঈ মাজহাবের অভিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ এবং অন্যান্য সকল মুহাদ্দিস এক কথায় তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘পরিত্যক্ত’ বলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন ইমাম শাফেঈ নিজেও তাঁর এ শিক্ষকের দুর্বলতা ও অগ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তিনি পরবর্তী জীবনে তার সূত্রে কোনও হাদিস বললে তার নাম উল্লেখ না করে বলতেন, “আমাকে বলা হয়েছে”, বা “আমি শুনেছি” বা অনুরূপ কোনও বাক্য ব্যবহার করতেন। [ইবনে হিববান, আল-মাজরূহীন, ১/১০৫-১০৭; ইবনে ‘আদী, আল-কামিল, ১/৩৫৩-৩৬৭; ইবনুল জাওযী, আদ-দুয়াফা ১/৫১; যাহাবী, মীযানুল ইতিদাল, ১/১৮২-১৮৫; ইবনে হাজার, তাহযীব ১/১৩৭-১৩৯] এ ছাড়াও এর বর্ণনা সূত্রে আবু সাঈদ বুনদার বিন উমর (بندار بن عمر الروياني) নামে একজন বর্ণনাকারী আছে। যে মুহাদ্দিসগণের নিকট ‘মিথ্যাবাদী ও হাদিস জাল কারী’ বলে পরিচিত। [যাহাবি-মিযানুল ইতিদাল, ২/৭০, ইবনে হাজার-লিসানুল মিযান, ২/৬৪] [সূত্র: adithbd]

◍ এটি মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক গ্রন্থে [৪/৩১৭-হা/৭৯২৭] ইবনে উমর রা. থেকে এবং বায়হাকি সুনানে কুবরা গ্রন্থে [৩/৩১৯, হা-৬০৮৭] আবুদ দারদা রা. থেকে মওকুফ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সনদগতভাবে সেগুলোও দুর্বল। [সূত্র: জর্ডান দারুল ইফতা, ফতোয়া নম্বর: ১৯০৩] সুতরাং এই বানোয়াট ‌হাদিসের অবস্থা বর্ণনা পূর্বক মানুষকে এ সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্য ছাড়া তা প্রচার করা হারাম।
আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামের নামে সব ধরণের ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও ভ্রান্ত কথাবার্তা থেকে হেফাজত করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।

লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

রদ করার পূর্বে কি ব্যক্তিগতভাবে জানানো শর্ত

 পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি অবতীর্ণ হোক আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর:

ঘটনা অনেক আগের। জনৈক সৌদি শাইখ একটি ফিক্বহী ইস্যুতে সিরিয়ার এক শাইখের বই পড়েন। তাঁর মনে হয়, বইটিতে লেখক ভুল করেছেন। বিধায় তিনি কঠিনভাবে সেই লেখার রদ করে হোমড়াচোমড়া বই লিখে বসেন। এর কয়েকবছর পর সিরিয়ান শাইখ জানতে পারেন, তাঁর বইয়ের রদ করে বই লেখা হয়েছে। এবার তিনি সৌদি শাইখের বইয়ের রদ করে আরেকটি বিরাট বই লিখে বসেন। দুই শাইখের কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। কিন্তু কোনো এক উপলক্ষে সিরিয়ার শাইখ গ্র্যান্ড মুফতি ইবনু বাযের কাছে আসেন। খবর পেয়ে ওই সৌদি শাইখও সেখানে তশরিফ আনেন।

·
সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতের একজন স্বনামধন্য শাইখ ‘আল্লামাহ ফালাহ বিন ইসমা‘ঈল (হাফিযাহুল্লাহ)। তাঁর অভিব্যক্তি অনেকটা এরকম, আমরা তো মহা ফাঁপড়ে পড়লাম। দুই শাইখের মধ্যে যে রদ-পাল্টা-রদ হয়েছে, তা তো ছাত্ররা সবাই জানে। মানে ছাত্রদের মধ্যে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে। কিন্তু একি! সৌদি শাইখ দেখি সিরিয়ান শাইখকে জড়িয়ে ধরে দীর্ঘ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হলেন। যেন কতকাল তিনি অপেক্ষার প্রহর গুনেছেন তাঁরই জন্য!

সুপ্রিয় পাঠক, ঘটনা অনেক দীর্ঘ। অন্য একসময় পুরো ঘটনা বর্ণনা করব, ইনশাআল্লাহ। এখন বলি, সিরিয়ান সেই শাইখ হলেন ইমাম আলবানী। আর সৌদি শাইখ ছিলেন ইমাম হামূদ। রাহিমাহুমাল্লাহ।

·
সম্প্রতি আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ সাহেবকে নিয়ে কথা হচ্ছে। তাঁর গুরুতর কিছু ভুল তুলে ধরা হচ্ছে। এতে কিছু ভাইয়ের মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়! কী সব্বোনাশ! এরা দেখছি আহলেহাদীস দা‘ঈদের পেছনে লেগেছে! আর যায় কোথায়? এতদিন জামাতী-ইখওয়ানীরা যেসব সংশয় পেশ করত, তাদের বিরুদ্ধে রদ করার কারণে, এখন আমাদের কতিপয় আহলেহাদীস ভাই সেসব সংশয় পেশ করতে শুরু করেছেন।

আপনারা সালাফীদেরকে কেন রদ করছেন? খেয়েদেয়ে কি কাজ নেই? মাঠেঘাটে তো কোনোদিন দা‘ওয়াত দিতে দেখলাম না। সব ঝাল ফেসবুকে মেটাচ্ছেন, তাইতো?! আহ! কী অমৃতবচন! তা ভাইয়াজি, যখন এই ফেসবুকেই জামাতী, খারিজী-সহ আরও নানা বিদ‘আতীর বিরুদ্ধে লেখালেখি হলো, তখন এসব সংশয় কোথায় গিয়েছিল? কোন আক্কেলে তখন আপনি এসব লেখা প্রচার করেছিলেন, মাঠেঘাটে দাওয়াত বাদ দিয়ে?!

·
এরকম নানাপদের সংশয় দিয়ে খিচুড়ি তৈরি হচ্ছে ফেসবুকের ভিতর ও বাহির মহলে। সেসব সংশয়ের মধ্যে অন্যতম একটি সংশয় হলো, ভাই, রদ করছেন, ভালো কথা। তা আপনারা রদ করার আগে কেন উস্তায আব্দুর রাযযাকের সাথে ব্যাক্তিগতভাবে আলোচনায় বসলেন না? কেন সমালোচনার আগে তাঁকে জানালেন না?

প্রিয় ভাইয়েরা, আপনাদের মনে পড়ে কিনা জানি না, জামাতীরা ঠিক একই কাজটা করত, যখন আপনারা তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতেন। ‘সাঈদী সাহেবকে কেন আগে জানানো হলো না?’ ‘আযহারী সাহেবের সাথে কেন আগে আলোচনায় বসা হলো না?’ ‘আফসারী সাহেবকে কেন আগে পার্সোনালি নসিহত করা হলো না?’ এই টাইপের কথাবার্তা কিন্তু তখন শোনা যেত। আসলে এ ব্যাপারে সালাফদের মানহাজ কী? ‘উলামায়ে সুন্নাহর মানহাজ কী? তাঁরা কি সমালোচনার আগে ব্যক্তিগত নসিহত করাকে জরুরি মনে করেছেন? এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্যই বক্ষ্যমাণ নিবন্ধের অবতারণা।

·
প্রথমত, স্বয়ং রাসূল ﷺ তাদের দাবিকৃত মানহাজ অনুসরণ করেননি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “সা‘দ মিথ্যা বলেছে। বরং আজ এমন একটি দিন, যেদিন আল্লাহ কা‘বাকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন। আজকের দিনে কা‘বাকে গিলাফে আচ্ছাদিত করা হবে।” [সাহীহ বুখারী, হা/৪২৮০]

মক্কা বিজয়ের দিন আবূ সুফইয়ানের সামনে দিয়ে বিজেতা দলের বাহিনীগুলো যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে আনসারদের বাহিনী আসল। যাদের ঝাণ্ডাবাহী নেতা হলেন সা‘দ বিন ‘উবাদাহ। সা‘দ বিন ‘উবাদাহ আবূ সুফইয়ানকে অতিক্রম করার সময় বললেন, “হে আবূ সুফইয়ান! আজকের দিন রক্তপাতের দিন, আজকের দিন কা‘বার অভ্যন্তরে রক্তপাত হালাল হওয়ার দিন।” পরে রাসূল ﷺ একটি বাহিনী নিয়ে আসলে আবূ সুফইয়ান ঘটনাটি রাসূল ﷺ কে অবহিত করেন। তখন রাসূল ﷺ উপরিউক্ত কথা বলেন।

·
উপরিউক্ত হাদীস দিয়ে সৌদি আরবের প্রখ্যাত দা‘ঈ শাইখ জামাল বিন ফুরাইহান আল-হারিসী (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর ‘লাম্মুদ দুর্রিল মানসূর’ গ্রন্থে এ মর্মে দলিল গ্রহণ করেছেন যে, শরিয়তবিরোধী ও বিদ‘আতীদের কোনো গিবত নেই। যে বইটি রিভিউ করেছেন এবং তাতে ভূমিকা লিখে দিয়েছেন ‘আল্লামাহ সালিহ আলুশ শাইখ (হাফিযাহুল্লাহ)। তদনুরূপ বইটি পড়ে তা প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছেন যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ ইমাম সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)।

অর্থাৎ, রাসূল ﷺ সেখানে সমালোচনা করেছেন। হাদীসের সাথে আমাদের বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা এখানে যে, নাবীজী ﷺ সাইয়্যিদুনা সা‘দের সাথে ব্যক্তিগত আলোচনা না করেই তাঁর সমালোচনা করেছেন। এ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, শরিয়তবিরোধীর সমালোচনা করার পূর্বে তাকে ব্যাক্তিগতভাবে জানানো শর্ত ও আবশ্যক নয়।

·
দ্বিতীয়ত, সালাফগণও শরিয়তবিরোধীর সমালোচনা করার জন্য আগে জানানো জরুরি মনে করেননি। ইমাম আবূ বকর আত্ব-ত্বারতূশী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “একদা (প্রখ্যাত তাবি‘ঈ) সুলাইমান বিন মিহরান আল-আ‘মাশ বুশরা নগরীতে আগমন করলেন। তিনি এক মসজিদে যেয়ে দেখেন, জনৈক গল্পবাজ সেখানে গল্প করছে (লোকদেরকে মিথ্যা গল্প শোনাচ্ছে)। সে বলে চলেছে, আমাদের কাছে আ‘মাশ হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ ইসহাক্ব থেকে, আমাদের কাছে আ‘মাশ হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ ওয়াইল থেকে। এ দেখে আ‘মাশ মজলিসের মাঝখানে বসে পড়লেন। এবার তিনি নিজের দুই বাহু উত্তোলন করে বগলের চুল উপড়াতে শুরু করলেন (তিনি হয়তো গল্পবাজের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কাজটি করেছিলেন, আল্লাহু আ‘লাম – সংকলক)।

তাঁর এই কাজ দেখে গল্পবাজ বলে উঠল, ইয়া শাইখ, আপনার কি লজ্জা বলে কিছু নেই?! আমরা এখানে ‘ইলমচর্চা করছি, আর আপনি এই কাজ করছেন! আ‘মাশ প্রত্যুত্তরে বললেন, তুমি যা করছ, আমি তার চেয়ে ভালো কাজে ব্যস্ত আছি। গল্পবাজ বলল, তা কীভাবে?! তিনি বললেন, কারণ আমি মশগুল সুন্নতি কাজে, আর তুমি মশগুল মিথ্যাচারে। আমি আ‘মাশ। তুমি যা বলছ, তার কিছুই আমি তোমার কাছে বর্ণনা করিনি। মজলিসের লোকেরা আ‘মাশের কথা শুনে তৎক্ষণাৎ তাকে ছেড়ে আ‘মাশের পাশে সমবেত হলো। আর বলল, হে মুহাম্মাদের পিতা, আপনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করুন।” [আল-হাওয়াদিসু ওয়াল বিদা‘, পৃষ্ঠা: ১১১-১১২; আল-মাদখাল, খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ১৪৬; তাহযীরুল খাওয়াস, পৃষ্ঠা: ১৯৭ ও ২৬৪; গৃহীত: লাম্মুদ দুর্রিল মানসূর, পৃষ্ঠা: ২২৫]

·
উক্ত ঘটনা থেকে আমাদের বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা এখানে যে, ইমাম আ‘মাশ মজলিস শেষ হওয়ারও অপেক্ষা করেননি, মজলিসের মধ্যেই ওই মিথ্যুকের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। আমাদের ভাইদের কথা অনুযায়ী তিনি মজলিস শেষে চুপিসারে তাকে বলেননি, কী ব্যাপার, ভাইসাব? মিথ্যা হাদীস ছড়াচ্ছেন যে খুব?!

আইয়্যুহাল ইখওয়ান, এটা দ্বীন! যার ভয়াবহ বিভ্রান্তি বিশাল জনপদের মধ্যে বিস্তৃতি লাভ করেছে, যার ভুলকে মানুষ শরিয়ত মনে করছে, তার ভুলের খণ্ডন জরুরি ভিত্তিতে হওয়া উচিত। আর তাই সালাফগণ মোসাহেবির ধার ধারেননি। সমালোচনা করেছেন, শরিয়তবিরোধীর সমালোচনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন। আপনারা কি ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা)’র এই ঘটনাটি শোনেননি? সাহীহ মুসলিমের ‘ইমান’ অধ্যায়ের প্রথম হাদীস। তাক্বদীর অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে যখন তাঁকে জানানো হলো, তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, “যখন তুমি এদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদেরকে জানিয়ে দাও, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আর আমার সাথেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

তিনি সমালোচনার করার আগে, তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করার আগে তাদের সাথে আলোচনায় বসেননি। সুতরাং সমালোচনার জন্য আগে জানানো বা নির্জনে নসিহত করাকে শর্ত করা কখনোই উচিত নয়। এই কর্মপদ্ধতির স্বপক্ষে তাদের কোনো দলিল নেই।

·
সুপ্রিয় ভ্রাতৃমণ্ডলী, এবারে আমরা এ ব্যাপারে ‘উলামায়ে সুন্নাহর কিছু বক্তব্য পেশ করছি।

১. বিগত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, আল-মুজাদ্দিদ, আল-ফাক্বীহ, আন-নাক্বিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] প্রদত্ত ফতোয়া—

سؤال : يتفرَّع عن هذا قول بعضهم أو اشتراط بعضهم بمعنى أصّح أنه في حالة الردود لابد قبل أن يُطبع الرّد إيصال نسخة إلى المردود عليه حتى ينظر فيها ، ويقول إن هذا من منهج السلف ؟
الجواب : هذا ليس شرطـاً ، لكن إن تيسّر وكان يُرجى من هذا الأسلوب التقارب بدون تشهير القضية بين الناس فهذا لا شك أنه أمر جيّد ، أما أولاً أن نجعله شرطاً ، وثانياً أن نجعله شرطاً عاماً فهذا ليس من الحكمة في شيء إطلاقاً ، والناس كما تعلمون جميعاً معادن كمعادن الذهب والفضَّة ، فمن عرفت منه أنه معنا على الخط وعلى المنهج وأنه يتقبّل النصيحة فكتبت إليه دون أن تُشهّر بخطئه على الأقل في وجهة نظرك أنت فهذا جيّد ، لكن هذا ليس شرطاً ، وحتى ولو كان شرطاً ليس أمراً مستطاعاً ، من أين تحصل على عنوانه ؟! ، وعلى مراسلته ؟! ، ثم هل يأتيك الجواب منه أو لا يأتيك ؟! ، هذه أمور ظنية تماماً … هذا الشرط تحقيقه صعب جداً ولذلك المسألة لا تُأخذ شرطاً .اهـ

প্রশ্ন: “এ থেকে কতিপয় লোকের এরকম বক্তব্য বা শর্তারোপ উদ্ভূত হয়েছে যে, কারও রদ (রিফিউটেশন) প্রকাশ করার আগে অবশ্যই রদের একটি কপি যাকে রদ করা হচ্ছে তার কাছে পাঠাতে হবে, তিনি না দেখা পর্যন্ত রদ প্রকাশ করা যাবে না। তারা বলছে, এটাই সালাফদের মানহাজ।”

উত্তর: “এটা শর্ত নয়। কিন্তু যদি সম্ভব হয়, আর এই কর্মপন্থার মাধ্যমে এটাই আশা করা হয় যে, জনসাধারণের মাঝে বিষয়টি না ছড়িয়ে সমঝোতায় হোক, তাহলে নিঃসন্দেহে এটা ভালো কাজ। পক্ষান্তরে এটাকে আগে শর্ত বানানো, তারপর এটাকে সার্বজনিক শর্ত বানানো, এগুলো কোনোভাবেই প্রজ্ঞাপূর্ণ কাজ নয়। তোমরা সকলেই জান, মানুষ স্বর্ণ-রৌপ্যের খনিস্বরূপ (যারা ভালো, তারা সবক্ষেত্রেই ভালো)। তুমি যার ব্যাপারে জেনেছ, সে আমাদের সাথে আমাদের মানহাজ ও আদর্শের ওপরেই আছে, আর সে নসিহত গ্রহণও করে, তাহলে তুমি তার ভুল না ছড়িয়ে তাকে চিঠি লিখ। কমপক্ষে তুমি তোমার দৃষ্টিকোণ থেকে এক্ষেত্রে ঠিক আছ। কিন্তু এটা শর্ত নয়। এমনকি এটা যদি শর্তও হতো, তথাপি তা পূরণ করা সম্ভবপর হতো না। তুমি কোথা থেকে তার ঠিকানা জোগাড় করবে? তারপর কীভাবেই বা চিঠি আদানপ্রদান করবে? এরপর তার তরফ থেকে চিঠির জবাব আসবে, নাকি আসবে না? এগুলো পুরোপুরি ধারণানির্ভর ব্যাপার। এই শর্ত বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন। এজন্য এই বিষয়কে শর্ত ধরে নেওয়া যাবে না।” [সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, ৬৩৮ নং অডিয়ো ক্লিপ; গৃহীত: আজুর্রি (ajurry) ডট কম]

·
২. সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, বিগত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] প্রদত্ত ফতোয়া—

উক্ত ফতোয়া বর্ণনা করেছেন শাইখ জামাল বিন ফুরাইহান আল-হারিসী (হাফিযাহুল্লাহ)। তিনি বলেছেন,

ﻣَﻦْ ﺍﻧﺘﺸﺮ ﺧﻄﺆﻩ ﻓﻲ ﺍﻵﻓﺎﻕ ﻭﺗﻌﺪَّﻯ ﻭﺫﺍﻉ؛ ﻓﺎﻟﺮﺩ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﺟﺐ ﻗﺒﻞ ﺃﻥ ﺗﻘﺪﻡ ﻟﻪ ﺍﻟﻨﺼﻴﺤﺔ، ﺛﻢ ﻳﻨﺎﺻﺢ ﺇﻥْ ﺃﻣﻜﻦ، ﻛﻤﺎ ﺃﻧﻪ ﻻ ﻳﻠﺰﻡ ﺷﺪُّ ﺍﻟﺮﺣﺎﻝ ﻭﻗﻄﻊ ﺍﻟﻤﻔﺎﻭﺯ ﺇﻟﻴﻪ ﻟﻨُﺼﺤﻪ .
ﻭﻟﻘﺪ ﻭﺟَّﻬﻨﺎ ﺳﺆﺍﻻً ﻟﻺﻣﺎﻡ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻌﺰﻳﺰ ﺑﻦ ﺑﺎﺯ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻲ ﻣﺠﻠﺴﻪ ﺑﻤﻨـﺰﻟﻪ ﺑﺤﻲ ﺍﻟﻌﺰﻳﺰﻳﺔ ﺑﻤﻜﺔ ﺍﻟﻤﻜﺮﻣﺔ ﻓﻲ ﻧﻬﺎﻳﺔ ﺷﻬﺮ ﺭﺟﺐ ﺗﻘﺮﻳﺒﺎً ﻋﺎﻡ 1414 ﻫـ، ﻭﻛﺎﻥ ﺗﻮﺍﺟﺪ ﺳﻤﺎﺣﺘﻪ ﻓﻲ ﻣﻜﺔ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻮﻗﺖ ﺑﺴﺒﺐ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﺍﻟﺴﻨﻮﻱ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﻨﻌﻘﺪ ﻓﻲ ﻣﻜﺔ ” ﻟﻠﻤﺠﻤﻊ ﺍﻟﻔﻘﻬﻲ ” ، ﻭﻛﻨﺎ ﺃﻛﺜﺮ ﻣﻦ ﻋﺸﺮﺓ ﺃﺷﺨﺎﺹ ﻣﻦ ﻃﻠﺒﺔ ﺍﻟﻌﻠﻢ، ﻭﻣﻦ ﺑﻴﻨﻨﺎ ﺷﺨﺼﻴﺔ ﻣﺮﻣﻮﻗﺔ، ﺟﺌﻨﺎ ﻣﻦ ﻣﺪﻳﻨﺘﻲ ﺍﻟﻄﺎﺋﻒ ﻭﺟﺪﻫـ، ﻭﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﻣﺠﻠﺲ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﺑﻦ ﺑﺎﺯ ﺁﻧﺬﺍﻙ ﺿﻴﻔﺎً ﻋﻨﺪﻩ؛ ﺭﺟﻼً ﻣﻦ ﻋﻠﻴﺔ ﺍﻟﻘﻮﻡ، ﻓﻌﺮّﻓَﻨﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﻗﺎﻝ : ﺗﻔﻀﻠﻮﺍ ﺑﺎﻟﻜﻼﻡ، ﻭﻛﺎﻥ ﺳﺒﺐ ﺣﻀﻮﺭﻧﺎ ﻭﺟﻠﻮﺳﻨﺎ ﻣﻊ ﺳﻤﺎﺣﺔ ﺍﻟﻤﻔﺘﻰ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﺑﻦ ﺑﺎﺯ ﻫﻮ : ﺗﺠﺎﻭﺯﺍﺕ ﺳﻔﺮ ﺍﻟﺤﻮﺍﻟﻲ ﻭﺳﻠﻤﺎﻥ ﺍﻟﻌﻮﺩﺓ، ﺫﻛﺮﺕُ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﻘﺪﻣﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ ﻟﻠﺴﺆﺍﻝ ﺍﻵﺗﻲ ﻣﻦ ﺃﺟﻞ ﺃﻥ ﻳﻌﺮﻑ ﺍﻟﺠﻤﻴﻊ ﺃﻥَّ ﺍﻷﻣﺮ ﻣﻮﺛَّﻖ، ﻭﻓﻲ ﻧﻔﺲ ﺍﻟﻮﻗﺖ ﺃﺗﺤﻔَّﻆ ﻋﻠﻰ ﺃﺳﻤﺎﺀ ﻣَﻦْ ﺣﻀﺮ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﺠﻠﺴﺔ، ﻓﺠﺎﺀ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺴﺆﺍﻝ : ﺳﻤﺎﺣﺔ ﺍﻟﺸﻴﺦ؛ ﻣﺎ ﻫﻮ ﻣﻨﻬﺞ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﻓﻴﻤﻦ ﺃﻇﻬﺮ ﺑﺪﻋﺘﻪ ﻭﺍﻧﺘﺸﺮ ﺧﻄﺄﻩ ﺑﺎﻷﺷﺮﻃﺔ ﻓﻲ ﺍﻵﻓﺎﻕ، ﻫﻞ ﻳﻠﺰﻡ ﺃﻥ ﻧﻀﺮﺏ ﻟﻪ ﺍﻟﻤﻔﺎﻭﺯ؟ ﻭﻫﻞ ﺗﻜﻮﻥ ﺍﻟﻨﺼﻴﺤﺔ ﻟﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺮ ﺃﻡ ﻳُﺸﻬَّﺮ ﺑﻪ ﻭﻳﺤﺬﺭ ﻣﻨﻪ؟
ﻗﺎﻝ ﺳﻤﺎﺣﺔ ﺍﻟﻤﻔﺘﻲ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﺑﻦ ﺑﺎﺯ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ : ” ﻓﻴﻪ ﺗﻔﺼﻴﻞ : ﺇﺫﺍ ﺃﻇﻬﺮ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺧﻄﺄﻩ ﺃﻭ ﻓﺴﻘﻪ؛ ﻓﺈﻥَّ ﺍﻟﻘﺎﻋﺪﺓ ﻋﻨﺪ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ : ﺃﻧﻪ ﻣَﻦْ ﺃﻇﻬﺮ ﺫﻟﻚ ﻻ ﺣﺮﻣﺔ ﻟﻪ، ﻭﻣﻨﻬﺞ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻓﻴﻤﻦ ﺃﻇﻬﺮ ﺑﺪﻋﺘﻪ ﻭﺍﻧﺘﺸﺮ ﺧﻄﺄﻩ ﻟﻠﻨﺎﺱ ﺃﻥ ﻳُﺮﺩَّ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﺎﻟﻤﺜﻞ، ﻭﻳُﺸﻬَّﺮ ﺑﻪ، ﻭﻳﻨﺘﺸﺮ، ﻛﻤﺎ ﺍﻧﺘﺸﺮ ﺧﻄﺄﻩ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ، ﻓﺈﻧﻪ ﻻ ﺣﺮﻣﺔ ﻟﻔﺎﺳﻖ، ﻭﻳﻨﺎﺻﺢ .

“যার ভুল দিগন্তবিস্তৃত হয়েছে, সীমা ছাড়িয়ে গেছে, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তার ভুলের খণ্ড করা ওয়াজিব, তাকে নসিহত করার পূর্বেই। পরবর্তীতে সম্ভব হলে নসিহত করা যাবে। একইভাবে তাকে নসিহত করার জন্য সফর করা আর দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া আবশ্যক নয়।

মক্কা মুকাররমার আযীযিয়্যাহ এলাকায় ইমাম আব্দুল ‘আযীয বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)’র বাড়িতে তাঁর মজলিসে আমরা তাঁকে একটি প্রশ্ন করেছিলাম। ঘটনা ১৪১৪ হিজরির রজব মাসের শেষের দিকের। সেসময় শাইখকে মক্কাতেই পাওয়া যেত। কারণ তখন মক্কায় ফিক্বহ একাডেমির বার্ষিক সম্মেলন চলছিল। আমরা দশজনেরও বেশি তালিবুল ইলম সেখানে ছিলাম। আমাদের মাঝেই ছিলেন আমাদের আকাঙ্ক্ষিত মানুষটি। আমরা তায়েফ ও জেদ্দা থেকে এসেছিলাম। সেই মুহূর্তে শাইখ ইবনু বাযের মজলিসে একজন মেহমান ছিলেন। তিনি ছিলেন খুবই সম্ভ্রান্ত লোক। আমরা তাঁকে পরিচয় দিলাম। তিনি বললেন, আপনারা কথা শুরু করেন। মাননীয় গ্র্যান্ড মুফতি ইমাম ইবনু বাযের সাথে আমাদের বৈঠকের কারণ ছিল সাফার আল-হাওয়ালী ও সালমান আল-‘আওদাহর (সাম্প্রতিক সময়ের) বাড়াবাড়ি।

আমি আগত প্রশ্নের প্রারম্ভে এই কথাগুলো বললাম, যাতে সবাই বুঝতে পারেন, এটা প্রমাণিত বিষয়। ওই বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের নাম আমার এখনও মনে আছে। তখন এই প্রশ্ন করা হলো, ‘সম্মাননীয় শাইখ, যে ব্যক্তি তার বিদ‘আত প্রকাশ করেছে, আর তার লেকচার ক্লিপের ভুল বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে, তার জন্য কি সফর করা আবশ্যক? আর তাকে কি গোপনে নসিহত করতে হবে, নাকি তার নিন্দা করতে হবে এবং তার থেকে সতর্ক করতে হবে?

মাননীয় গ্র্যান্ড মুফতি ইমাম ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বললেন, এক্ষেত্রে বিস্তারিত বিবরণের প্রয়োজন আছে। যখন কোনো ব্যক্তি তার ভুল বা ফাসেকি কাজকে প্রকাশ করে, তখন ‘উলামাদের নিকট মূলনীতি হচ্ছে—যে ব্যক্তি তা প্রকাশ করেছে, তার সম্ভ্রম হালাল। যে ব্যক্তি বিদ‘আত প্রকাশ করেছে এবং তার ভুল জনসাধারণের কাছে ছড়িয়ে পড়েছে, তার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মানহাজ হচ্ছে, অনুরূপভাবেই রদ করতে হবে। তার নিন্দা করতে হবে এবং তা ছড়িয়ে দিতে হবে। যেমনভাবে লোকদের কাছে তার ভুল ছড়িয়ে পড়েছে। কেননা এমন ফাসেক লোকের সম্ভ্রম (তার ভুল সংক্রান্ত ব্যাপারে) হালাল। এবং তাকে নসিহত করতে হবে।” [শাইখ হারিসী প্রণীত ‘আর-রাদ্দুর রাইয়্যান ‘আলাল ক্বারনী ওয়া হাসসান ফী সাব্বিহিমাস সাহবাল কিরাম’ শীর্ষক নিবন্ধ থেকে সংগৃহীত; গৃহীত: তাসফিয়াতারবিয়া ব্লগ]

·
৩. বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ‘আল্লামাতুল ফাক্বীহ, ইমাম রাবী‘ বিন হাদী বিন ‘উমাইর আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫১ হি./১৯৩২ খ্রি.] প্রদত্ত ফতোয়া—

ﺍﻟﺴﺆﺍﻝ : ﺷﻴﺨﻨﺎ ﻣﻦ ﺍﻷﻣﻮﺭ ﺍﻟﺘﻲ ﺻﺎﺭﺕ ﺗﺮﻭﺝ ﻭﺻﺎﺭﺕ ﻋﻄﻔﺎً ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺴﻠﻔﻴﻴﻦ؛ ﻫﻲ ﺃﻗﻮﺍﻡ ﻳﺪﻋﻮﻥ ﻭﺟﻮﺏ ﺍﻟﻨﺼﻴﺤﺔ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﺘﺤﺬﻳﺮ، ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻗﻮﻝ ﻣﻨﻜﻢ ﺷﻴﺨﻨﺎ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺒﺎﺏ؟
ﻓﻜﺎﻥ ﺟﻮﺍﺑﻪ : ﺃﺟﺒﺖُ ﻋﻠﻰ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺴﺆﺍﻝ ﺳﻠﻔﺎً ﺑﺎﺭﻙ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻚ، ﻭﻫﺬﻩ ﺍﻷﺻﻨﺎﻑ ﺍﺑﺘﻠﻴﻨﺎ ﺑﻬﺎ، ﻓﺘﺠﺪ ﻳﺸﻴﻊ ﺍﻷﺑﺎﻃﻴﻞ ﻭﺍﻷﻛﺎﺫﻳﺐ ﻭﺍﻻﻓﺘﺮﺍﺀﺍﺕ ﻋﻠﻰ ﺍﻵﺧﺮﻳﻦ ﺑﺎﻷﻋﻴﺎﻥ ﻭﺑﺎﻟﻌﻤﻮﻡ، ﻭﺇﺫﺍ ﻭﺟِّﻬﺖ ﻟﻪ ﻧﺼﻴﺤﺔ ﺃﻭ ﻧﻘﺪ ﺃﻭ ﺷﻲﺀ ﻗﺎﻝ : ﻟﻤﺎﺫﺍ ﻣﺎ ﺣﺬﺭﻭﻧﻲ؟ ﻭﻟﻤﺎﺫﺍ ﻣﺎ ﻧﺼﺤﻮﻧﻲ؟ ﻭﻟﻤﺎﺫﺍ ﻣﺎ ﺑﻴﻨﻮﺍ ﻟﻲ؟ ﻋﻠﻞ ﻓﺎﺳﺪﺓ .
ﻧﺤﻦ ﻧﻄﻠﺐ ﻣﻦ ﻫﺆﻻﺀ ﺃﻥ ﻳﺘﻮﺑﻮﺍ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﺃﻥ ﻳﺮﺟﻌﻮﺍ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺤﻖ ﺑﻜﻞ ﺃﺩﺏ ﻭﺗﻮﺍﺿﻊ، ﻭﺃﻥ ﻳﺘﺮﻛﻮﺍ ﻣﺜﻞ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺘﻌﺎﻟﻴﻞ .
ﻫﺐ ﺃﻥَّ ﻫﺬﺍ ﺃﺧﻄﺄ ﻭﻣﺎ ﺗﻜﻠَّﻢ، ﻭﻣﺎ ﻧﺼﺤﻚ، ﺍﺭﺟﻊ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺤﻖ ﻭﺑﻌﺪﻫﺎ ﻋﺎﺗﺒﻪ، ﺃﻣﺎ ﺗﺸﻴﻊ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭﺗﺘﻤﺎﺩﻯ ﻓﻲ ﺑﺎﻃﻠﻚ ﻭﻓﻲ ﺃﺧﻄﺎﺋﻚ ﻭﺗﻘﻮﻝ : ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻮﺍ، ﻭﻓﻌﻠﻮﺍ، ﻫﺬﺍ ﻛﻼﻡ ﻓﺎﺭﻍ، ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ﺃﻥ ﻳﺮﺟﻊ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﺒﺎﺭﻙ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ، ﻭﻳﻘﺒﻞ ﺍﻟﻨﺼﻴﺤﺔ ﺍﻟﺨﻔﻴﺔ ﻭﺍﻟﻮﺍﺿﺤﺔ . ﺃﻧﺖ ﺗﻨﺸﺮ ﺃﺧﻄﺎﺀﻙ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺘﺐ ﻭﻓﻲ ﺍﻷﺷﺮﻃﺔ ﻭ … ﻭ … ﺇﻟﻰ ﺁﺧﺮﻩ، ﻟﻮ ﻛﻨﺖَ ﺗﺨﻔﻲ ﺃﺧﻄﺎﺀﻙ ﻭﺗﻌﻤﻠﻬﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻈﻼﻡ ﺑﻴﻨﻚ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﺍﻛﺘﺸﻒ ﻫﺬﺍ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﻳﻨﺼﺤﻚ ﺑﻴﻨﻚ ﻭﺑﻴﻨﻪ، ﻭﺃﻣﺎ ﻭﺃﻧﺖ ﺗﻨﺸﺮ ﺃﻗﻮﺍﻟﻚ ﻭﺃﻓﻌﺎﻟﻚ ﻓﻲ ﺍﻟﻌﺎﻟﻢ، ﺛﻢ ﻳﺄﺗﻲ ﻣﺴﻠﻢ ﻭﻳﻨﺸﺮ ﻳﻌﻨﻲ ﻳﺮﺩ ﻋﻠﻴﻚ، ﻫﺬﺍ ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻪ ﺷﻲﺀ، ﺍﺗﺮﻛﻮﺍ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺘﻌﻠﻴﻼﺕ ﻣﻦ ﻛﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺒﺎﻃﻞ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻣﺮﺩﻭﺍ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺒﺎﻃﻞ ﻭ ﺍﻟﻌﻨﺎﺩ .

প্রশ্ন: “শাইখানা, কিছু কথা ছড়ানো হচ্ছে, আর তা সালাফীদের জন্য বিপথগামিতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদল লোক দাবি করছে, কারও থেকে সতর্ক করার আগে তাকে ব্যক্তিগত নসিহত করা ওয়াজিব। শাইখানা, এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?”

উত্তর: “আমি আগেও এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। আমরা এ ধরনের লোকদের নিয়ে বিপদগ্রস্ত হয়েছি। তুমি দেখবে, সে ব্যাপকভাবে অন্যদের ব্যাপারে নাম ধরে নানারকম বাতিল কথা, মিথ্যাচার ও রটনা প্রচার করছে। যখন তাকে নসিহত করা হবে, সমালোচনা করা হবে, তখনই সে বলে, তারা আগে আমাকে সতর্ক করল না কেন? তারা আগে আমাকে নসিহত করল না কেন? তারা আগে আমাকে জানাল না কেন? এগুলো হলো বিভ্রান্তিকর আপত্তি। আমরা তাদের কাছ থেকে আশা করব, তারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করুক, হকের দিকে ফিরে আসুক, আদব ও বিনয়ের সাথে। আর তারা এসব আপত্তি বর্জন করুক।

আচ্ছা, এ ভুল করেছে, তোমার সাথে কথা বলেনি, তোমাকে নসিহত করেনি। কিন্তু তুমি আগে হকের দিকে ফিরে আস, তারপর তাকে দোষারোপ করো। কিন্তু জনসাধারণের মধ্যে তোমার অনুসরণ করা হচ্ছে, আর তুমি তোমার বাতিল মতবাদ ও ত্রুটিবিচ্যুতির মধ্যেই অবস্থান করছ, আর বলছ, তারা এটা করল না, তারা এটা করল! এগুলো অর্থহীন প্রলাপ। মুমিনদের কর্তব্য হলো, তারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে এবং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব নসিহতই গ্রহণ করবে।

তুমি বইয়ের মধ্যে, আর লেকচারের মধ্যে তোমার ভুল প্রচার করছ! তুমি যদি তোমার ভুল গোপনে রাখ, আর ভুলগুলো অন্ধকারের মধ্যে চর্চা করো, তাহলে সেটা তোমার আর আল্লাহর মধ্যকার ব্যাপার। আর এই লোক যদি তোমার ভুল আবিষ্কার করে ফলে, সে তোমাকে নসিহত করবে। এটা তোমার আর তার ব্যাপার। কিন্তু তুমি জগৎ জুড়ে তোমার (ভুল) কথা ও কাজ প্রচার করছ। এখন কোনো মুসলিম এসে তোমাকে খণ্ডন করল। এতে কোনো শর্তের ব্যাপার নেই। এসব আপত্তি বর্জন করো। যেসব আপত্তি মূলত বাতিলপন্থিদের, যারা বাতিল ও হঠকারিতায় অটল থেকে লাঞ্ছিত হয়েছে।” [“১৪০০ হিজরিতে শাইখ রাবী‘র সাক্ষাৎকার”– শীর্ষক অডিয়ো ক্লিপ থেকে গৃহীত; দ্র.: www.rabee(ডট)net/ar/questions.php?cat=29&id=605]

·
পরিশেষে বলি, আসুন, আমরা সালাফী মানহাজের দীপ্ত আলোয় আলোকিত হই এবং বাতিলপন্থিদের সংশয় থেকে বিরত থাকি। আর সর্বোপরি যাবতীয় ব্যক্তি, দল ও স্থানের প্রতি বিশেষ প্রীতি ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত হই। এটা খুব খারাপ রোগ। আল্লাহর কাছে এ থেকে আমরা পানাহ চাই। অথচ তা‘আসসুব বা গোঁড়ামি এমন একটি রোগ, যা ব্যক্তিকে ধ্বংসে নিপাতিত করে। ভারতবর্ষের মুহাদ্দিস ইমাম সিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী (রাহিমাহুল্লাহ)’র নসিহতটি মনে রাখি, “মধ্যপন্থি হওয়া এবং শরিয়তের কোনো বিষয়েই অন্ধ পক্ষপাতিত্ব না করাই হবে—তোমার সবচেয়ে বড়ো অর্জন। তুমি ইসলামের কোনো ‘আলিমের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে শরিয়তের বরকতকে বিনাশ কোরো না।” [আবজাদুল ‘উলূম, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৩৬২; গৃহীত: আত-তা‘আসসুব লিশ শুয়ূখ, পৃষ্ঠা: ৯২]

আল্লাহ আমাদেরকে অন্ধ পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার এবং যথাযথভাবে সালাফী মানহাজ অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল ‘আলামীন।

·
সুপথপ্রাপ্তির অভিলাষী
এক গুনাহগার বান্দা—
Md Abdullah Mridha.

·
রচনাকাল—
রাত ৮টা ৫৪ মিনিট।
বৃহস্পতিবার।
৯ই শাবান, ১৪৪১ হিজরি।
১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।
২রা এপ্রিল, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ।

খালি গায়ে বা মহিলাদের মাথা খোলা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত এবং তিলাওয়াতে সেজদার বিধান

 খালি গায়ে বা মহিলাদের মাথা খোলা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত এবং তিলাওয়াতে সেজদার বিধান। নারী-পুরুষ সবার জন্য যে সব অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা সমীচীন নয়:

▬▬▬▬◈◯◈▬▬▬▬
ক. খালি গায়ে বা মহিলাদের মাথা খোলা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত এবং তেলাওয়াতে সেজদার বিধান:

ইসলামে পূর্ণ শরীর আবৃত করে বা সতর ঢেকে কুরআন তিলাওয়াতের শর্ত না হলেও পাক-পবিত্র অবস্থায় যথাসম্ভব মার্জিত পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে সুন্দরভাবে আদবের সাথে বসে কুরআন তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। তাই যখন তিলাওয়াতের ইচ্ছে হবে তখন করণীয় হল, ওজু করার পর পাক-পবিত্র জামা-কাপড় পরিধান করা। অত:পর অন্তরে আল্লাহর কালামের প্রতি সম্মান বজায় রেখে ভয়-ভীতি এবং আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করতে বসা। এটাই উত্তম।

▪ আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ

“আর যে কেউ আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে সেটি তাহলে নিশ্চয়ই হৃদয়ের তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি থেকে উৎসারিত।” [সূরা হজ: ৩২]

▪ বর্ণিত হয়েছে,

أن مالك بن أنس كان إذا أراد أن يحدث بحديث النبي صلى الله عليه وسلم يلبس أجمل ثيابه، ويتطيب بأحسن ما عنده من طيب، وجلس على أكمل هيئة، وعليه السكينة والوقار

“মালিক বিন আনাস রাহ. যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনা করতে বসতেন তখন সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন, তার নিকটে থাকা সবচেয়ে ভালো সুগন্ধি লাগাতেন এবং ভাব গাম্ভীর্য পূর্ণ অবস্থায় প্রশান্ত চিত্তে পূর্ণ প্রস্তুতি সহকারে বসতেন।”

সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর নবীর হাদিসের প্রতি ইমাম মালিক রাহ.-এর এত সম্মান ও আদব পূর্ণ আচরণ থেকে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় রয়েছে।

যাহোক, ব্যস্ততা, অলসতা, ক্লান্তি ইত্যাদি কারণে যদি কখনো খালি গায়ে বা পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়া তিলাওয়াতের ইচ্ছে হয় তাহলে এই অবস্থায়ও কেউ চাইলে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে। শরিয়তে তা নাজায়েজ নয়। বাড়িতে অবস্থান কালে লং, শর্ট, পাতলা, মোটা, ঢিলেঢালা, টাইট-ফিট ইত্যাদি যেকোনো পোশাক পরিধান করে দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, হাঁটতে হাঁটতে, কর্মব্যস্ততা ইত্যাদি যে কোনও অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ আছে। এতে কোনও গুনাহ নেই ইনশাআল্লাহ। কেননা কুরআন-হাদিসের কোথাও কুরআন তিলাওয়াতের জন্য সতর ঢাকা বা বিশেষ কোনও পোশাক পরিধান করা বা বিশেষ কোন ভঙ্গীতে বসার শর্তারোপ করা হয়নি। তবে নিঃসন্দেহে পূর্ণ আদব রক্ষা করে তিলাওয়াত করতে বসা উত্তম।

অনুরূপভাবে মহিলারাও বাড়িতে স্বামী কিংবা মাহরাম পুরুষদের সামনে কিংবা কেবল মহিলাদের উপস্থিতিতে অথবা একাকী থাকার সময় মাথার চুল খোলা অবস্থায়ও কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে। তবে পরপুরুষের উপস্থিতিতে অবশ্যই পূর্ণ পর্দা সহকারে নীরবে তিলাওয়াত করবে।

❑ মহিলাদের মাথার চুল খোলা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা এবং তেলাওয়াতে সেজদা দেওয়ার বিধান প্রসঙ্গে আল্লামা শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায ও আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ.-এর ফতোয়া:

◆ শাইখ বিন বায রাহ. কে প্রশ্ন করা হয়, কুরআন তিলাওয়াত বা তিলাওয়াতের সেজদা দেওয়ার সময় কি মহিলাদের হিজাব থাকা আবশ্যক?

তিনি উত্তরে বলেন,

لا يلزمها حجاب، إذا كان ما عندها أجنبي لا، ولو طرحت خمارها عن رأسها تقرأ لا بأس، إذا كان ما عندها أجنبي، وتسجد إذا مرت بسجود تلاوة تسجد، هذا هو الأفضل، وإذا كان مرت بآية سجود كونها تجعل الخمار على رأسها أفضل عند السجود

“না, এ সময় হিজাব থাকা আবশ্যক নয়-যদি তার কাছে কোনও পরপুরুষ না থাকে। যদি তার মাথা থেকে ওড়না সরেও যায় তবুও তিলাওয়াত করতে থাকবে। এতে কোনও সমস্যা নেই যদি তার কাছে কোনও পরপুরুষ না থাকে।
আর যখন সেজদার আয়াত অতিক্রম করবে তখন সেজদা করবে। এটাই উত্তম। আর সেজদার আয়াত আসার ক্ষেত্রে সেজদা দেওয়ার সময় মাথায় ওড়না রাখাটা উত্তম।”

◆ শাইখ উসাইমিন রাহ. বলেন,

قراءة القرآن لا يشترط فيها ستر الرأس

“কুরআন তিলাওয়াতের জন্য মাথা ঢাকা শর্ত নয়।” [ফতোয়া ইবনে উসাইমিন ১/৪২০]

– তিনি তেলাওয়াতে সেজদা প্রসঙ্গে বলেন,

وسجود التلاوة يكون حال قراءتها للقرآن، لا بأس بالسجود على أي حال ولو
مع كشف الرأس ونحوها لأن هذه السجدة ليس لها حكم الصلاة

“তেলাওয়াতে সেজদা দিতে হয় কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায়। যে কোনও অবস্থায় সেজদা দিতে কোনও সমস্যা নেই যদিও মাথাখোলা বা এ জাতীয় অবস্থায় হয়। কারণ এই সেজদার জন্য সালাতের বিধান প্রযোজ্য নয়।” [আল ফাতাওয়া আল জামেয়াহ লিল মারআলি মুসলিমাহ (মুসলিম মহিলাদের ফতোয়া সমগ্র) ১/২৪৯]

❑ নারী-পুরুষ সবার জন্য যে সব অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা সমীচীন নয়:

যে সব অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা সমীচীন নয় সেগুলো হল নিম্নরূপ:

◆ ১. স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত অবস্থায়।
◆ ২. প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় (পেশাব-পায়খানা রত অবস্থায়) বা টয়লেটে অবস্থান কালীন।
◆ ৩. পাপাচারে লিপ্ত থাকার সময়।
◆ ৪. স্ত্রী সহবাস, স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের ফলে শরীর নাপাক থাকা অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা বা তিলাওয়াত করা জায়েজ নয় গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা পর্যন্ত।
◆ ৫. ওজু বিহীন অবস্থায় (অধিক বিশুদ্ধ মতে) মুসহাফ (লিখিত কুরআন গ্রন্থ) স্পর্শ করা জায়েজ নয়। তবে মুখস্থ তিলাওয়াত করা জায়েজ। অনুরূপভাবে ওজু বিহীন অবস্থায় মোবাইল ডিভাইস থেকে অথবা হ্যান্ড গ্লাভস/কাপড়ের আবরণ বা গিলাফ সহকারে কুরআন ধরা এবং তিলাওয়াত করা যাবে।

◆ ৬. মহিলাদের হায়েজ-নিফাস তথা ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব কালীন সময় কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ কি না সে বিষয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত দেখা যায়। তবে অধিক সর্তকতা ও দ্বিমত থেকে বাঁচার স্বার্থে এ সময় নফল ইবাদত হিসেবে তিলাওয়াত না করাই ভালো। তবে বিশেষ দরকারে তিলাওয়াত করা যেতে পারে। যেমন: ছাত্রীদের কুরআন পরীক্ষার প্রস্তুতি বা পরীক্ষার জন্য তিলাওয়াত/লিখা, ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা, হেফজখানায় শিক্ষকতা ইত্যাদি। তবে এ ক্ষত্রে সরাসরি মুসহাফ (গ্রন্থ কুরআন) স্পর্শ করবে না। তবে হ্যান্ড গ্লাভস, কুরআনের গিলাফ বা কোনও কিছুর আবরণ অথবা মোবাইল/ল্যাপটপ ডিভাইস থেকে বা মুখস্থ তিলাওয়াত করতে পারে। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

জামাতে নামাজের সময় ইমাম উচ্চ আওয়াজে আর মুক্তাদিগণ নিম্ন আওয়াজে তাকবির বলে এর দলিল

 প্রশ্ন: জামাতে নামাজের সময় ইমাম উচ্চ আওয়াজে আর মুক্তাদিগণ নিম্ন আওয়াজে তাকবির বলে- এর দলিল কোথায় পাব? কেননা কিছু মানুষকে বলতে শুনা যাচ্ছে যে, এ মর্মে নাকি কোন দলিল নাই!

▬▬▬▬▬●●●▬▬▬▬▬
উত্তর:
এর দলিল নিম্নোক্ত হাদিসটি:
عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ : ” صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَأَبُو بَكْرٍ خَلْفَهُ ، فَإِذَا كَبَّرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَبَّرَ أَبُو بَكْرٍ لِيُسْمِعَنَا ” رواه مسلم /413

জাবির রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সালাত পড়াচ্ছিলেন। আবু বকর ছিলেন তাঁর পেছনে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবির দিলে আবু বকর রা.ও তাকবির দিতেন আমাদেরকে শুনানোর জন্য।” [সহীহ মুসলিম, হা/ ৪১৩]

এ হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, ইমাম সরবে আর মুক্তাদিগণ নিরবে তাকবির বলবে। কেননা হাদিসে দেখা যাচ্ছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সরবে তাকবির দিয়েছেন আর সে তাকবির শুনে আবু বকর রা. তাকবির দিয়েছেন পেছনের মুক্তাদিদের কে শুনানোর জন্য।
মুক্তাদিগণ সবাই যদি উচ্চ আওয়াজে তকবির বলতেন তাহলে পেছনের মুসল্লিদেরকে শুনানোর জন্য আবু বকর রা. এর জোরে তাকবির দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না।

সুতরাং ইমাম উচ্চস্বরে তাকবির দিবে এবং মুক্তাদিগণ সাধারণ অবস্থায় নিম্নস্বরে তাকবির দিবে-এ হাদিস তার প্রমাণ। উল্লেখ্য যে, এটি ছিল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু রোগে আক্রান্ত অবস্থায় ইমাম হয়ে সালাত আদায়ের ঘটনা।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate