প্রশ্ন: আমরা জানি যে, গিবত করার গুনাহ থেকে রেহাই পেতে হলে যার ব্যাপারে গিবত করা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। আমার প্রশ্ন হল, যদি কেও কারো গিবত শোনে তাহলে এই শ্রবণকারী ব্যক্তি কি যার গিবত করা হয়েছে তার কাছে মাফ চাইবে বা এ ক্ষেত্রে শ্রবণকারী ব্যক্তির কী করণীয়?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
January 10, 2023
গিবত করা বা শুনার পর তওবা কবুলের জন্য যার গিবত করা হয়েছে তার নিকট ক্ষমা চাওয়া কি জরুরি
সন্তান-সন্ততি এবং অর্থ-সম্পদ তোমাদের জন্য পরীক্ষা এ কথার ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কুরআনের আয়াত থেকে আমরা জানি যে, পার্থিব জীবনের ধন-মাল এবং সন্তান-সন্ততি আমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। আমার প্রশ্ন হল, এ পরীক্ষাটা আসলে কী রকম? দয়া করে বুঝিয়ে বলবেন।▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
♻ বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ এ পরীক্ষায় অকৃতকার্যতার পরিচয় দিচ্ছে। দুনিয়া অর্থ-সম্পদ, স্ত্রী-সন্তান সহ সুখে জীবন-যাবন করার অভিপ্রায়ে হারামকে হালাল আর হালালকে হারাম বানিয়ে ছেড়েছে! সুদ, ঘুস, চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, অবৈধ পণ্যের ব্যবসা সব বিভিন্ন হারাম উপার্জনের পেছনে ছুড়ে বেড়াচ্ছে উদভ্রান্ত পাগলের মত! তাদের নামায, যাকাত, রোযা, হজ্জ, জিকির, তাসবীহ, কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন অধ্যয়ন করার সময় নাই!! সন্তানদের ক্যারিয়ার গঠনের চিন্তায় তাদেরকে দ্বীন শেখানোর কথা ভুলে গেছে!! এভাবে মানুষ এই পরীক্ষায় স্পষ্ট অকৃতকার্য হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে গেছে। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অথচ আল্লাহর বিধান মেনে অর্থ-সম্পদ কামানো, আয়-উন্নতি করার ব্যাপারে ইসলাম বাধা দেয়া না। তবে সম্পদের হক আদায় করতে হবে। যাকাত, সদকা, দ্বীনের কাজে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতা, গরীব-অসহায় মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার মাধ্যমে সে এ সম্পদ দ্বারা দ্বীন ও দুনিয়া উভয় দিকে দিয়ে কল্যাণ অর্জন করতে সক্ষম হত।
হে দ্বীনের দাঈ নরম কথা ভদ্র আচরণ ও সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে দাওয়াত পেশ করুন।
হে, দ্বীনের দাঈ,নরম কথা, ভদ্র আচরণ ও সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে দাওয়াত পেশ করুন। ইসলামকে কঠিন করে উপস্থাপন করবেন না। ইসলাম যেখানে যতটুকু ছাড় দিয়েছে,সেটুকু তুলে ধরে মানুষকে কোমলতা, প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের সাথে আল্লাহর দিকে ডাকুন।
দাওয়াত দানের পদ্ধতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন-‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক কর সুন্দর পন্থায়।’[সূরা নাহল ১৬/১২৫] এ আয়াতে দাওয়াতের তিনটি পদ্ধতি উল্লিখিত হয়েছে। যথা-
কুরআন ও হাদিসে ইলম দ্বারা কী উদ্দেশ্য এবং দুনিয়াবি পড়াশোনাও কি এর অন্তর্ভুক্ত
প্রশ্ন: কুরআন ও হাদিসে ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণের উপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রশ্ন হল, এই ‘ইলম’ (জ্ঞান) দ্বারা কী উদ্দেশ্য? দুনিয়াবি পড়াশোনাও কি এর অন্তর্ভুক্ত?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
❑ সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ইমাম আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,
“যেমনটি বক্তৃতার মূল অংশে এবং প্রশ্নগুলোতে শুনেছেন যে, ইসলামি পণ্ডিতদের মতে ইলম হল, শরিয়ত সংক্রান্ত জ্ঞান: আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রসুল বলেছেন এবং যা কিছু এর সাথে সম্পর্কিত। [যেমন: আরবি ভাষা ও নাহু-সরফ (আরবি ব্যাকরণ), ইলমুল বালাগাহ (আরবি ভাষার অলঙ্কার শাস্ত্র), ইলমুল উসুল (মূলনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান), ইলমুল ফিকহ (ইসলামি আইন শাস্ত্র ইত্যাদি]
তিনি আরও বলেন,
وأما مَن تعلَّمها للدنيا فهي مباحة، ما يتعلق بها أجرٌ، فإذا كان مع الإباحة نوى الخير: نوى أن ينفع الناس، نوى أن يُعين ولاة الأمور على الخير، نوى أن ينفع المجتمع؛ فله نيته الطيبة، وله أجره بهذه النية الطيبة
সাংগঠনিক জাহেলিয়াত এবং বিদআতি বাইয়াত
❑ প্রশ্ন-১: আমাদের গ্রামে একটা আহলে হাদিস মসজিদ আছে। এখানে এখন যারা মসজিদ কমিটিতে আছে তারা বলছে যে, সংগঠন করা বা না করা ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ চাইলে সংগঠন করবে আর কেউ না চাইলে করবে না। এর জন্য বিভেদ করা যাবে না। মসজিদের ইমাম সংগঠন করেন কিন্তু তিনিও খুতবায় একই কথা বলেছেন। কিন্তু এক পক্ষ আছে, যারা আমির মানা ও সংগঠন করাকে ‘ফরজ’ বলছেন। তারা সংগঠনের কেন্দ্র থেকে নেতাদেরকে এনে নিজেদের মত করে দশ জনকে নিজেদের ইচ্ছে মত সাংগঠনিক পদ দিয়ে দিয়েছে-যাদের ভিতর এমন লোকও রয়েছে যারা আদতে নামাজই পড়ে না। এখন তারা বর্তমান মসজিদ কমিটিকে বাতিল করতে চাচ্ছে এবং বলছে, যারা সংগঠন করে না তারা যেন মসজিদে না আসে। কেউ সংগঠন না করলে সে মসজিদের কোনও দায়িত্বেও থাকতে পারবে না। এখন করণীয় কী? এ নিয়ে হয়তো বিশাল এক মারামারি হতে পারে। (আল্লাহ হেফাজত করুন।) আমিন।
সুতরাং পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী দাওয়াতি কাজের ক্ষেত্রে কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করা জায়েজ। বিজ্ঞ আলেমদের মতে, আল্লাহ ভীতি ও সৎ কর্মে পারস্পারিক সাহায্য-সহযোগিতা, মানুষের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে সংগঠন করা কল্যাণকর এবং এর পর্যাপ্ত উপকারিতা রয়েছে।
কিন্তু যারা সংগঠন করাকে ‘ফরজ’ বলেছেন তারা ভুলের উপরে প্রতিষ্ঠিত। তারা মুসলিমদের জামাআত এবং আমিরের আনুগত্য সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে স্পষ্টই অপব্যাখ্যা করছে। কেননা হাদিসে বর্ণিত জামাআত দ্বারা উদ্দেশ্য, আল্লাহর কিতাব ও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণকারী এবং শরিয়তের পাবন্দ মুসলিমগণ। তারা পৃথিবীর যে প্রান্তেই অবস্থান করুক না কেন। তাদের সংখ্যা কম বা বেশি যাই হোক না কেন। এমনকি চতুর্দিকে ফিতনা-ফ্যাসাদের সময় একজন ব্যক্তিও যদি আল্লাহর দীনকে আঁকড়ে থাকে তাকেও ‘জামাআত’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
আর আমির দ্বারা উদ্দেশ্য মুসলিম শাসক এবং তার প্রতিনিধি; তথাকথিত সংগঠনের আমির নয়।
❑ প্রশ্ন-২: কোন একটি ইসলামি সংগঠনের দীনী কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজে সমর্থন ও সহায়তার উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামে শপথ করে সেই দলের সাথে বাইয়াত গ্রহণ করা হয়। অত:পর জানা গেল যে, সেই দলের আকিদা-মানহাজ ত্রুটিপূর্ণ এবং তারা বিদআত ও ভ্রান্ত পথের অনুসারী। এমতাবস্থায় সেই দলের বাইয়াত ত্যাগ করে ফিরে আসলে কি আল্লাহর নামে কসম ভঙ্গের কাফফারা দেওয়া কি জরুরি?
উত্তর: কোনও কথিত ইসলামি সংগঠন (চাই সুন্নাহ পন্থী হোক বা বিদআত পন্থী হোক) অথবা পীরের হাতে বাইয়াত করা বিদআত। বিশেষ কোনও তরিকার পীরের নিকট বাইয়াত গ্রহণ হল, ভ্রান্ত সুফিবাদি বিদআতি বাইয়াত আর কথিত ইসলামি সংগঠনের আমির বা সংগঠনের কোনও দায়িত্বশীলের নিকট বাইয়াত নেওয়া হল, আধুনিক বিদআত।
একাধিক বিয়ে সংক্রান্ত জরুরি প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: ক) পুরুষদের ৪টি বিয়ে করা তো জায়েজ। কিন্তু তা কি সুন্নত?
◆ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,
“নস (কুরআনের আয়াত)-এর দাবি অনুযায়ী তা সুন্নত। এর সর্বনিম্ন অবস্থা হল, এটি সুন্নত। আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ
“অত:এব মহিলাদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত।” [সূরা নিসা: ৩] এটি নির্দেশ। তবে শর্ত হল, ন্যায্যতা ও সততা প্রতিষ্ঠা করা। আর কেউ যদি অর্থের অভাব অথবা নিজের মধ্যে কোনও ধরণের দুর্বলতা সম্পর্কে জানে তাহলে সে একটার বেশি বিয়ে করবে না।” [binbaz]
◆ সৌদি আরবের আরেক প্রখ্যাত আলেম শাইখ নাসের আল বাররাক কে প্রশ্ন করা হয়, একাধিক বিয়ে করা সুন্নত নাকি মুবাহ? তিনি উত্তরে বলেন,
مباحٌ ومشروعٌ، معَ الحاجةِ يُشرَعُ التَّعدُّدُ
“প্রয়োজনে তা মুবাহ ও শরিয়ত অনুমোদিত।” [sh-albarrak]
একাধিক বিয়ে করা সুন্নত কি না এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি উত্তরে আরও বলেন,
لا؛ مِن الجائز، التعدُّد جائز فقط، ليس فيه فضيلة، هذا لأنّه حسب الدّاعي، مِن الناس مَن يحتاج إلى أكثر مِن زوجة: فينبغي له يُستحبُّ له أن يتزوّج أكثر ما دام يحتاج وأنّ الواحدة لا تكفيه أو لا تحصنه، أمّا إذا كان الزّوجة الواحدة يحصل بها المقصود: فلا نقول تزوّج أخرى، هذا أفضل، فضيلة الزّواج بالثّانية فضيلة، لا، ليس الزّواج بالثانية فضيلة، هذا أمر يعني يرجع إلى الحاجة وتحصيل مقصود النكاح.
“না, এটা জায়েজ। একাধিক বিয়ে করা কেবল জায়েজ। এতে বিশেষ কোনও ফজিলত নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী এর বিধান বর্তাবে। কারণ কিছু মানুষের একাধিক স্ত্রী প্রয়োজন। সুতরাং তার জন্য একাধিক বিয়ে করা মোস্তাহাব-যেহেতু তা তার প্রয়োজন এবং যেহেতু একজন স্ত্রী তার জন্য যথেষ্ট নয়, একজন স্ত্রী তাকে হেফাজত করে না। হ্যাঁ, যদি এক জন দ্বারাই তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যায় তাহলে তাকে বলবো না যে, আরেকটা বিয়ে করা, এটাই উত্তম, দ্বিতীয় বিয়ে করা মর্যাদার কাজ। না, দ্বিতীয় বিয়েতে কোনও ফজিলত নেই। অর্থাৎ বিষয়টা মানুষের প্রয়োজন ও উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়ার উপর নির্ভরশীল।”
◆ অন্য একদল আলেম বলেন, মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক বিয়ের বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বিষয়টি মূল বিয়ের মতই। কখনো তা সুন্নত বা মোস্তাহাব, কখনো ওয়াজিব আবার কখনো তা হারাম।
ইসলামে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী শর্ত সাপেক্ষে একাধিক বিয়ে করা অনুমোদিত। কারণ দুনিয়ার সকল মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যা এক রকম নয়। তাই ইসলামে এর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তা হল, দুই, তিন অথবা চার। ইসলাম পূর্ব যুগে এর কোন সীমা-সংখ্যা ছিল না। ইসলাম এর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সুতরাং এক সাথে চারের অতিরিক্ত বিয়ে করা জায়েজ নাই।
◯ একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামীর প্রতি অবশ্য পালনীয় শর্ত:
একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম কঠিন শর্ত আরোপ করেছে। তা হল, স্বামীর জন্য আবশ্যক হল, তার সকল স্ত্রীর সাথে ন্যায়-ইনসাফ ভিত্তিক আচরণ করা এবং তাদের মাঝে সমতা রক্ষা করা। কেউ যদি মনে করে যে, সে এই শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হবে না তাহলে তাকে এক স্ত্রী নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে তার জন্য একটির অধিক বিয়ে করো নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً
مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ
“যে ব্যক্তি দুই স্ত্রী থাকা অবস্থায় তাদের একজনের প্রতি ঝুঁকে পড়লো, কিয়ামতের দিন সে পঙ্গু অবস্থায় উপস্থিত হবে।” [সুনান আবু দাউদ, অধ্যায়: ৬/ বিয়ে, পরিচ্ছেদ: ৩৯. স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ পূর্ণ আচরণ করা]
◈◈ উল্লেখ্য যে, এই সমতা রক্ষার বিষয়টি স্ত্রীর শরিয়ত সম্মত হক আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (যেমন: রাত্রি বণ্টন, ভরণ-পোষণ তথা খাবার, পোশাক, বাসস্থান ইত্যাদি)। আন্তরিক টান, যৌন বাসনা বা সহবাসের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা আবশ্যক নয়। কারণ কোন স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ ও ভালবাসার বিষয়টি অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত। আর অন্তর মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এটিই আল্লাহ তাআলার এই আয়াতের অর্থ-আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَن تَسْتَطِيعُوا أَن تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ
“তোমরা কখনও স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না যদিও তোমরা তা প্রত্যাশা করো।” [সূরা নিসা: ১২৯] (দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির)
🔹 খ. বিয়ের সময় স্ত্রী যদি কাবিননামায় ‘প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বামী বিয়ে করতে পারবে না’ বলে শর্ত জুড়ে দেয় আর স্বামী যদি তাতে সম্মতি দেয় তাহলে এই শর্ত পালন করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। স্বামী তা লঙ্ঘন করলে স্ত্রীর বিয়ে ভঙ্গ করার অধিকার আছে। কারণ, হাদিসের আলোকে মুসলিম তার শর্ত পালনে বাধ্য। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
المسلمونَ على شروطِهم
“মুসলিমরা নিজেদের (চুক্তিপত্রের) শর্তসমূহ পালন করতে বাধ্য।” [সুনান আবু দাউদ-১৯/ বিচার ব্যবস্থা, পরিচ্ছেদ: ১২. সন্ধি স্থাপন। হাসান-শাইখ আলবানি]
তাছাড়া হাদিসে এসেছে, ওয়াদা রক্ষা না করা মুনাফেকির আলামত।
“যদি স্ত্রী শর্তারোপ করে যে, স্বামী তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে অথবা নিজ এলাকা থেকে বাইরে কোথাও নিয়ে যেতে পারবে না বা তাকে নিয়ে সফর করতে পারবে না অথবা তার উপর অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবে না তাহলে স্বামীর জন্য এই শর্ত পালন করা আবশ্যক। যদি সে তা না করে তাহলে স্ত্রীর অধিকার আছে, বিয়ে ভঙ্গ করার। এমনটি উমর রা., সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রা., আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে।” [আল মুগনি থেকে সংক্ষেপায়িত, ৯/৪৮৩]
أَحَقُّ الشُّرُوطِ أَنْ تُوفُوا بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ
“শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবী রাখে তা হল, সেই শর্ত যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ।” [মুসলিম ১৬/৭ হাদিস নাম্বার: ১৪১৮]
বিয়ের রাতে পাত্র-পাত্রীকে ক্ষীর, পায়েস ইত্যাদি খাওয়ানো এবং উপহার-সামগ্রী প্রদান করা
প্রশ্ন: আমাদের দেশে বিয়ের পাত্র-পাত্রীকে তাদের আত্মীয় স্বজনগণ পায়েস বা মিষ্টান্ন খাওয়ায়, তারপর তাদেরকে কিছু টাকা বা উপহার-সামগ্রী দেয়। এটা কি ইসলামে জায়েজ?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: আমাদের দেশে বিভিন্ন এলাকায় বিয়ের আগের রাতে অথবা বিয়ের কয়েক দিন আগে থেকে পাত্র-পাত্রীকে পায়েস, ক্ষীর বা বিভিন্ন মিষ্টান্ন দ্রব্য খাওয়ানোর প্রথা প্রচলিত আছে। কোন কোন এলাকার আঞ্চলিক ভাষায় এটিকে ‘থুবড়া’ বলা হয়। তারপর আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা তাদের হাতে কিছু টাকা বা উপহার সামগ্রী দেয়। এগুলো সামাজিক প্রথা মাত্র। এর উদ্দেশ্য আনন্দ-বিনোদন করা। এটিকে হিন্দুদের ধর্মীয় প্রথা বলা সঙ্গত নয়।
সুতরাং এতে কোন আপত্তি নেই-এগুলোকে হারাম বলা যাবে না যতক্ষণ না তাতে শরিয়ত বিরুদ্ধ বা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কোন কিছু ঘটে। যেমন: নন মাহরাম কর্তৃক কনের মুখে তুলে খাওয়ানো, পর্দা হীনতা, মিউজিক, প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের উচ্চস্বরে গীত গাওয়া, নাচ-গান, নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে হৈ হুল্লোড় করা ইত্যাদি।