January 10, 2023

মহান আল্লাহর আরশে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ লেখা থাকা সংক্রান্ত কোনও হাদিসই বিশুদ্ধ নয়

 প্রশ্ন: আরশে লেখা আছে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু-মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।”-এ কথা কি সঠিক?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর:
এ বিষয়ে একাধিক হাদিস বলা হয়ে থাকে। তবে সেগুলো কোনটি সহিহ নয়। নিম্নে এ জাতীয় ৪টি হাদিস তুলে ধরে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের মতামতের আলোকে সেগুলোর মান সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে আলোকপাত করা হল: وبالله التوفيق

◆ ১. নিম্নোক্ত হাদিসটি প্রসিদ্ধ:

لما اقترف آدم الخطيئة، قال: يا ربِّ، أسألك بحق محمَّد لَمَا غفرتَ لي، فقال الله: يا آدم، وكيف عرفت محمدًا ولم أخلقْه؟ قال: يا رب، لأنَّك لما خلقتني بيدك، ونفخت فيَّ من رُوحك، رفعت رأسي، فرأيت على قوائم العرش مكتوبًا: لا إله إلا الله، محمد رسول الله، فعلمت أنك لم تضِفْ إلى اسمك إلا أحبَّ الخلق إليك، فقال الله: صدقتَ يا آدم، إنه لأحب الخلق إلي، ادعني بحقِّه، فقد غفرت لك، ولولا محمَّد ما خلقتك

“আদম আ. যখন (নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে) ভুল করে ফেলেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন: হে আমার প্রতিপালক, আমি মুহাম্মাদের ওসিলা দিয়ে আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
তখন আল্লাহ বলেন, হে আদম, তুমি কিভাবে মুহাম্মাদকে চিনলে? আমি তো এখনো তাঁকে সৃষ্টিই করি নি? তিনি বলেন, হে আমার রব, আপনি যখন নিজ হাতে আমাকে সৃষ্টি করেন এবং আমার মধ্যে আপনার রূহ ফুঁ দিয়ে প্রবেশ করান তখন আমি মাথা তুলে দেখলাম আরশের খুঁটি সমূহের উপর লিখা রয়েছে: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। এতে আমি জানতে পারলাম যে, আপনার সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি বলেই আপনি আপনার নামের সাথে তাঁর নামকে সংযুক্ত করেছেন।

তখন আল্লাহ বলেন, হে আদম, তুমি ঠিকই বলেছ। তিনিই আমার সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি। তুমি আমার কাছে তার ওসিলা দিয়ে চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। মুহাম্মদ না হলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।’’[হাকিম, আল-মুসতাদরাক ২/৬৭২]

❑ এ হাদিসটি বানোয়াট:

❂ এ হাদিসটিকে ইমাম হাকিম সহিহ বললেও একদল বিজ্ঞ মুহাদ্দিস তার সামালোচনা করে বলেছেন, সঠিক কথা হল, এটি বানোয়াট ও ভ্রান্ত হাদিস।

❂ ইমাম যাহাবি বলেন, এটি خبر باطل “এটি ভ্রান্ত হাদিস।” [মিযানুল ইতিদাল]
❂ ইবনে হাজার আসকালানি, ইমাম জাহাবির মতকে সমর্থন করেছেন। [লিসানুল মিযান]

এ হাদিসের বর্ণনা সূত্রে আব্দুর রহমান বিন যায়েদ (عبد الرحمن بن زيد) নামক একজন বর্ণনাকারী আছে। ইমাম হাকিম নিজেই তাকে তার আল মাদখাল (المدخل إلى معرفة الصحيح من السقيم) কিতাবে হাদিস বানানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। সুতরাং তা কীভাবে সহিহ হতে পারে? অত:এব ইমাম হাকেমের কথার মধ্যে বৈপরিত্য স্পষ্ট।
قال شيخ الإسلام ابن تيمية في “القاعدة الجليلة في التوسل والوسيلة” (ص 69) :
ورواية الحاكم لهذا الحديث مما أنكر عليه ، فإنه نفسه قد قال في كتاب “المدخل إلى معرفة الصحيح من السقيم” : عبد الرحمن بن زيد بن أسلم روى عن أبيه أحاديث موضوعة لا يخفى على من تأملها من أهل الصنعة أن الحمل فيها عليه ، قلت : وعبد الرحمن بن زيد بن أسلم ضعيف باتفاقهم يغلط كثيراً اهـ .
انظر سلسلة الأحاديث الضعيفة للألباني (1/38-47

❂ শাইখ আলবানি বলেন, এ হাদিসটি বানোয়াট। [সিলসিলা যাইফাহ/২৫]

—————

◆ ২. এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদিস বলা হয়। তা হল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
ليلةَ أُسري بي رأيتُ على العرشِ مكتوبًا : لا إلهَ إلَّا اللهُ محمَّدٌ رسولُ اللهِ ، أبو بكرٍ الصِّدِّيقُ ، عمرُ الفاروقُ ، عثمانُ ذو النُّورَيْن يُقتلُ مظلومًا

“মিরাজের রাতে আমি দেখলাম, আরশের গায়ে লেখা আছে,
لا إلهَ إلَّا اللهُ محمَّدٌ رسولُ اللهِ
“লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ-মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। আবু বকর সিদ্দিক, উমর ফারুক এবং উসমান যিন নুরাইন জুলুমের শিকার হয়ে শহিদি মৃত্যু বরণ করবে।”

❑ এ হাদিসটিও বানোয়াট:

❂ ইবনুল জাওযি তার বিখ্যাত বানোয়াট হাদিস সংকলন আল মাউযুআত (الموضوعات) শীর্ষক গ্রন্থে এ হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, لا يصح “সহিহ নয়।” [আল মাউযুআত ২/৯১]

❂ শাইখ আলবানি বলেন, “এটি বানোয়াট।” [সূত্র: সিলসিলা যইফাহ, হা/ ৫৬১৭]

—————-

◆৩. অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, যে মেরাজের রাতে আমি দেখলাম, আরশের পায়ায় (খুঁটিতে) লেখা আছে,
لا إلهَ إلا اللهُ محمَّدٌ رسولُ اللهِ، أبو بَكرٍ الصِّدِّيقُ، وعُمَرُ الفاروقُ، وعُثمانُ ذو النُّورينِ
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। আবু বকর সিদ্দিক, উমর ফারুক এবং উসমান যিন নুরাইন।”

❑ এ হাদিসটিও বানোয়াট:

❂ ইবনে আদী তার বিখ্যাত ‘আল কামিল ফিয যুয়াফা’ (الكامل في الضعفاء) গ্রন্থে এ সম্পর্কে বলেন, ليس بصحيح “সহিহ নয়।” [৬/৬৩]

❂ শাইখ আলবানি বলেন, “এ হাদিসটি মওযু বা বানোয়াট।” [সূত্র: সিলসিলা যইফা/২৫]
——————–

◆◆ ৪. এ মর্মে আরেকটি যইফ হাদিস আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর কথা হিসাবে হাকিম সংকলন করেছেন। তিনি জানদাল ইবনে ওয়ালিক-এর সূত্রে বলেন, তাকে আমর ইবনে আউস আনসারি নামক দ্বিতীয় শতকের এক ব্যক্তি বলেছেন, তাকে তাবি-তাবিয়ী সাঈদ ইবনে আবু আরূবাহ (১৫৭ হি.) বলেছেন, তাকে তাবিয়ী কাতাদা ইবনে দিআমাহ আস-সাদুসী (১১৫ হি.) বলেছেন, তাকে তাবিয়ী সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (৯১ হি.) বলেছেন, তাকে ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন,

أَوْحَى اللهُ إِلَى عِيْسَى يَا عِيْسَى آَمِنْ بِمُحَمَّدٍ وَأْمُرْ مَنْ أَدْرَكَهُ مِنْ أُمَّتِكَ أَنْ يُؤْمِنُوْا بِهِ فَلَوْلاَ مُحَمَّدٌ مَا خَلَقْتُ آَدَمَ وَلَوْلاَ مُحَمَّدٌ مَا خَلَقْتُ الْجَنَّةَ وَلاَ النَّارَ وَلَقَدْ خَلَقْتُ الْعَرْشَ عَلَى الْمَاءِ فَاضْطَرَبَ فَكَتَبْتُ عَلَيْهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ مُحَمَّدٌ رَسُوْلُ اللهِ فَسَكَنَ.
‘‘মহান আল্লাহ ঈসা আ. -এর প্রতি ওহী প্রেরণ করে বলেন, তুমি মুহাম্মাদের উপরে ঈমান আনয়ন কর এবং তোমার উম্মাতের যারা তাঁকে পাবে তাদেরকে তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নের নির্দেশ প্রদান কর। মুহাম্মাদ না হলে আদমকে সৃষ্টি করতাম না। মুহাম্মাদ না হলে জান্নাত ও জাহান্নামও সৃষ্টি করতাম না। আমি পানির উপরে আরশ সৃষ্টি করেছিলাম। তখন আরশ কাঁপতে শুরু করে। তখন আমি তার উপরে লিখলাম: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’; ফলে তা শান্ত হয়ে যায়।’’ [হাকিম, আল-মুসতাদরাক ২/৬৭১।]

ইমাম হাকিম হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন, হাদিসটির সনদ সহিহ। কিন্তু ইমাম যাহাবী প্রতিবাদ করে বলেন, ‘‘বরং হাদীসটি মাউযু (বানোয়াট) বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ এর একমাত্র বর্ণনাকারী এ ‘আমর ইবনে আউস আল-আনসারি’ নামক ব্যক্তি। সে প্রসিদ্ধ কয়েকজন মুহাদ্দিসের নামে হাদিসটি বর্ণনা করেছে। অথচ তাঁদের অন্য কোনও ছাত্র এ হাদিসটি তাঁদের থেকে বর্ণনা করে নি। এ লোকটি মূলত একজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি। তার কোনও পরিচয় পাওয়া যায় না। এ জানদাল ইবনে ওয়ালিক ছাড়া অন্য কোনও রাবী (বর্ণনাকারী) তার নাম বলেন নি বা তার কোনও পরিচয়ও জানা যায় না। এজন্য যাহাবি ও ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, “এটি ইবনে আববাসের নামে বানানো জাল হাদিস। [যাহাবী, মীযানুল ই’তিদাল ৫/২৯৯; ইবনে হাজার, লিসানুল মীযান ৪/৩৫৪।]
এই অর্থবোধক আরও একাধিক জাল হাদিস মুহাদ্দিসগণ উল্লেখ করেছেন।
[hdith ও hadithbd-থেকে সংকলিত ও সামান্য পরিমার্জিত]

আল্লাহ আমাদেরকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন হাদিসের ব্যাপারে সচেতন হওয়ার তাওফিক দান করুন এবং ইসলাম সম্পর্কে সৃষ্ট সব ধরণের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
▬▬▬🔹♦🔹▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের শুকরিয়ার সেজদা দেওয়ার বিধান

 প্রশ্ন: খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের শুকরিয়ার সেজদা দেওয়ার বিধান কি?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: এই প্রশ্নের উত্তরে সৌদি ফতোয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাকিহ, আল্লামা সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] বলেন,

“ফুটবল এবং ফুটবল খেলা কোনও নিয়ামত নয়। আর সেজদায়ে শোকর তো দিতে হয় নতুন কোনও নিয়ামত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে। সুতরাং এ জায়গায় সেজদা দেওয়া বিদআত। এই ফুটবল থেকে আমরা কী অর্জন করলাম? এ থেকে মুসলিমগণ কী ফায়দা পেলো? যুবকদের নষ্ট হওয়া ছাড়া তাদের কিছুই লাভ হয়নি। বরং তা মুসলিমদের জন্য ক্ষতি।” [ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রচিত ‘মুখতাসার যাদুল মায়াদ’ কিতাবের ব্যাখ্যা কালীন শাইখ এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। তারিখ: ২২/৫/১৪৩০, ক্যাসেট: ৬১: ০৮ মি.]

তিনি অন্যত্র এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “আল্লাহ খেলার জন্য সেজদার বিধান দেননি। এটা জায়েজ নয়। কারণ খেলাধুলা কোনও নিয়ামত বা বিপদমুক্তি নয় যে কারণে সেজদায়ে শোকর দিতে হবে। এর সর্বনিম্ন বা দূরতম অবস্থা হল, এটা মুবাহ (বৈধ)। আর মুবাহ কাজের জন্য সেজদা দেওয়া যাবে না।” [বুলুগুল মারাম কিতাবের উপর ৩য় দারসে শাইখ এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। উৎস: ইউটিউব চ্যানেল: قناة أبو عبدالرحمن الدعوية

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

সৎ চাচা মাহরাম পুরুষের অন্তর্ভুক্ত

 প্রশ্ন: বাবার সৎ ভাইয়ের সাথে কি দেখা দেওয়া যাবে? তিনি তো সৎ চাচা। (অর্থাৎ আমার দাদার দুই বিয়ে হয়েছিল। তিনি তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে।)

▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: হ্যাঁ, আপনার পিতার সৎ ভাই (আপনার সৎ চাচা)-এর সাথে আপনার পর্দা রক্ষা করা আবশ্যক নয়। বরং স্বাভাবিকভাবেই তার সাথে দেখা-সাক্ষাত করা জায়েজ। কেননা তিনি আপনার জন্য মাহরাম (বিয়ে নিষিদ্ধ)।
মনে রাখতে হবে, এক জন মহিলার জন্য তার দাদার সকল ছেলেই মাহরাম চাই তারা এক মায়ের সন্তান হোক বা একাধিক মায়ের। তারা সকলেই তার চাচা। সৎ চাচাও আপন চাচার মতই পিতৃতুল্য আর সে তাদের কন্যা তুল্য। সুতরাং তাদের মাঝে দেখা-সাক্ষাত করা জায়েজ; পর্দা করা আবশ্যক নয়।
মহান আল্লাহ ভাইয়ের কন্যাদেরকে (ভাতিজিদেরকে) বিয়ে করা চিরতরে হারাম ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন,
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ
“তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাদেরকে, তোমাদের কন্যাদেরকে, তোমাদের বোনদেরকে, তোমাদের ফুফুদেরকে, তোমাদের খালাদেরকে, তোমাদের ভাইয়ের কন্যাদেরকে, তোমাদের বোনের কন্যাদেরকে…।” [সূরা নিসা: ২৩]

হাদিসে আছে,
عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ أَبِيهِ
“চাচা পিতার অনুরূপ।” [সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ১৩/ জাকাত, হা/২১৪৯]

মোটকথা, আপন চাচা হোক অথবা সৎ চাচা হোক তারা আপনার মাহরাম (বিয়ে নিষিদ্ধ) পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আপনার জন্য আপনার উক্ত সৎ চাচার সাথে পর্দা বিহীন ভাবে দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েজ আছে। আল্লাহু আলাম।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

বিশ্বকাপ ফুটবল/ক্রিকেট খেলা দেখা জায়েজ নয়

 প্রশ্ন: খেলা দেখার হুকুম কি? যেমন বিশ্বকাপ ও অন্যান্য খেলা-ধুলা।

উত্তর:
“مباريات كرة القدم التي على مال أو نحوه من جوائز حرام ؛ لكون ذلك قمارا ؛ لأنه لا يجوز أخذ السَّبَق وهو العوض إلا فيما أذن فيه الشرع ، وهو المسابقة على الخيل والإبل والرماية ، وعلى هذا فحضور المباريات حرام ، ومشاهدتها كذلك ، لمن علم أنها على عوض ؛ لأن في حضوره لها إقرارا لها
أما إذا كانت المباراة على غير عوض ، ولم تشغل عما أوجب الله من الصلاة وغيرها ، ولم تشتمل على محظور : ككشف العورات ، أو اختلاط النساء بالرجال ، أو وجود آلات لهو – فلا حرج فيها ولا في مشاهدتها
“فتاوى اللجنة الدائمة” (15/238)-
‘ফুটবল ম্যাচ’ যেগুলো টাকা অথবা এমন পুরষ্কারের জন্য খেলা হয় – এগুলো নাজায়েজ, কারণ এটা হচ্ছে জুয়া। (টাকার বিনিময়ে ফুটবল/ক্রিকেট খেলা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।) কারণ ইসলাম অনুমতি দেয়নি, এমন খেলা ছাড়া অন্য যেকোনো খেলার জন্যে পুরষ্কার নেওয়া জায়েজ নয়। আর ইসলাম অনুমতি দিয়েছে পুরষ্কার নেওয়ার এমন খেলা হচ্ছে, ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা, উটের দৌড় প্রতিযোগিতা এবং তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা। (এই তিনটা খেলাধুলা ছাড়া অন্য যেকোনো খেলার জন্য পুরষ্কার নেওয়া হারাম, কেউ পুরষ্কার নিলে সেটা জুয়া বলে গণ্য হবে)।
এই নীতির উপরে ভিত্তি করে বলা যায়, এই খেলাগুলোতে অংশগ্রহণ করা হারাম এবং যে ব্যক্তি এটা জানে যে, এই খেলাগুলো পুরষ্কারের জন্য খেলা হয়, তার জন্য জায়েজ নয় যে সে এই খেলাগুলো দেখবে। কারণ, এই খেলাতে অংশগ্রহণ করা মানে এইগুলোকে সমর্থন করা। কিন্তু এ খেলা যদি পুরষ্কারের জন্য খেলা না হয় এবং কাউকে আল্লাহর হুকুম যেমন সালাত ও অন্য ইবাদত থেকে অমনোযোগী না করে এবং এইগুলোর সাথে কোন প্রকার হারাম কাজ যেমন: আওরাহ/সতর প্রকাশ করা, নারী-পুরুষ ফ্রি মিক্সিং, গান-বাজনা ইত্যাদি জড়িত না থাকে তাহলে এমন খেলায় অংশগ্রহণ করতে বা এমন খেলা দেখতে কোন সমস্যা নেই।
নিশ্চয়ই একমাত্র আল্লাহই হচ্ছেন সমস্ত ক্ষমতার উৎস। আল্লাহ নবী মোহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তার সাহাবিদের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।
[ফতওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইয়িমাহ: ১৫/২৩৮। সৌদি স্থায়ী ফতওয়া কমিটির ফতওয়া নম্বর: ১৮৯৫১]
স্থায়ী ফতওয়া কমিটির সদস্যবৃন্দ:
১. শায়খ বাকর আবু জায়েদ রাহিমাহুল্লাহ,
২. শায়খ সালেহ আল-ফওজান হাফিজাহুল্লাহ,
৩. শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ আলে-শায়খ হাফিজাহুল্লাহ,
৫. ফতোয়া কমিটির চেয়ারম্যান: শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাজ রাহি’মাহুল্লাহ। [সংগৃহীত]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
সংগ্রহে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

জিকির বা ওজিফা হিসেবে লাইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সাথে মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ পাঠ করা কি বিদআত

 জিকির বা ওজিফা হিসেবে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর সাথে ‘মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ’ পাঠ করা কি বিদআত? কোথায় কোথায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামের পর দরুদ পাঠ করা সুন্নত নয়?

প্রশ্ন: ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর সাথে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ সংযুক্ত করে জিকির করার বিধান কী? অনেক বার ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ জিকির করার পর শেষে কমপক্ষে একবার ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ পাঠ করা কি আবশ্যক? এবং এর পর কি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করতে হবে?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: নিঃসন্দেহে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনও উপাস্য নাই) এবং ‘মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ’ (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসুল বা প্রেরিত দূত) এই দুই মহান সাক্ষ্যবাণী ইসলামে প্রবেশের মূল চাবি। এ দুটি বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান ব্যতিরেকে আখিরাতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু নিয়মিত জিকির হিসেবে কেবল ১ম বাক্যটি অর্থাৎ ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করার ব্যাপারে হাদিস এসেছে; ২য় বাক্যটির ব্যাপারে নয়। সুতরাং ২য় বাক্যটিকে নিয়মিত জিকির হিসেবে পাঠ করা শরিয়ত সম্মত নয় বরং তা বিদআত।

❑ নিম্নে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর ফজিলত সংক্রান্ত কয়েকটি হাদিস পেশ করা হল:

◈ ১. জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

أَفْضَلُ الذِّكْرِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

“শ্রেষ্ঠ জিকির হল, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ।” [তিরমিযী, ইবনে মাজাহ-হাদিসটি সহিহ। উৎস: সহিহুল জামে-১১০৪, সহিহুত তারগিব ১৫২৬]

◈ ২. আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ‏.‏ خَالِصًا مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ

“কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত (সুপারিশ) লাভের মাধ্যমে সর্বাধিক সৌভাগ্যের অধিকারী হবে সেই ব্যক্তি, যে অন্তরের ইখলাস তথা (পরম একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা) সহকারে বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (লাইলাহা ইল্লাল্লাহ) “আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনও উপাস্য নাই।” [সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ৬৮/ কোমল হওয়া, পরিচ্ছেদ: ২৭৩২. জান্নাত ও জাহান্নাম-এর বর্ণনা।]

◈ ৩. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ

“ইমানের শাখা সত্তরটি বা ৬০টিরও কিছু বেশি। এর সর্বোচ্চ শাখা হচ্ছে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (লাইলাহা ইল্লাল্লাহ) “আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনও উপাস্য নাই”-এ কথা বলা আর এর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।” [সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ১/ কিতাবুল ঈমান, পরিচ্ছেদ: ১২. ঈমানের শাখা-প্রশাখার সংখ্যা, তার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখার বর্ণনা, লজ্জাশীলতার ফজিলত এবং তা ঈমানের অঙ্গ হওয়ার বর্ণনা]

◈ ৪. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, “আমি এবং আমার পূর্বের নবীগণ যা বলেছেন, তার মধ্যে সর্বোত্তম (বাক্য) হচ্ছে,

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

“আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক। তাঁর কোনও শরিক নেই। সম্রাজ্য তাঁরই। সমুদয় প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।” [ইমাম মালিক তার মুয়াত্তায় তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রা. হতে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আলবানি রা. বলেন, সংক্ষিপ্ত কথা হচ্ছে, হাদিসটির শাওয়াহেদ থাকার কারণে তথা অন্যান্য সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে সহিহ। দেখুন: সিলসিলা সহীহা, হাদিস নম্বর: ১৫০৩।] এ বিষয়ে আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

এ সকল হাদিস থেকে বুঝা গেল, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জিকির হল, কালিমায়ে তাওহিদ বা একত্ববাদের বাণী ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনও উপাস্য নেই)। কিন্তু ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল বা দূরত) জিকিরের অংশ নয়। কেননা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর সাথে ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বাক্যকে সংযুক্ত করে জিকির হিসেবে পাঠ করার ব্যাপারে কোনও হাদিস বর্ণিত হয়নি।

সুতরাং আমাদের সমাজের অনেক ইবাদত গুজার মানুষ এবং অনেক ওয়াজ মাহফিলের বক্তাগণ তাদের শ্রোতাদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাক্য দ্বারা জিকির করার পর শেষে একবার ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলে থাকেন অথবা কখনো কখনো উভয় বাক্য দ্বারাই জিকির করে থাকেন। কিন্তু এভাবে এ পদ্ধতি জিকির করা শরিয়ত পরিপন্থী। (উল্লেখ্য যে, সম্মিলিতভাবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জিকির করা আরেকটি বিদআত। কেননা কোন হাদিসে বা সাহাবীদের আমলে এভাবে সম্মানিত জিকির করার কোন দলিল নেই।)

তবে হ্যাঁ, ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসুল) বাক্যটি অবশ্যই শাহাদায়ে রেসালাহ বা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসুল হিসেবে সাক্ষ্য প্রদানের বাণী। সুতরাং আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতির পাশাপাশি এর প্রতি আন্তরিক দৃঢ় বিশ্বাসের পাশাপাশি তা মুখে স্বীকৃতি প্রদান ব্যতিরেকে ইসলামে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। কোনও কাফির ইসলামে প্রবেশ করতে চাইলে অবশ্যই তাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অর্থ: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনও উপাস্য নাই, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রসুল। অথবা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলাল্লাহ” (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনও উপাস্য নাই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল-এ উভয় বাণীর প্রতি অন্তরে বিশ্বাস থাকার পাশাপাশি মুখে তা সাক্ষ্য প্রদান করা করা অপরিহার্য। অন্যথায় সে ইসলামে প্রবেশ করতে পারবে না। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

مَنْ شَهِدَ أنْ لا إِلٰهَ إلاَّ اللهُ وَأنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، حَرَّمَ اللهُ عَلَيهِ النَّارَ

“যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনও উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর রসুল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।’’ [সহিহ মুসলিম]

❑ সৌদি আরবের ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়া:

সৌদি আরবের ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির নিকট প্রশ্ন করা হয়, প্রতিনয়ত “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর সাথে “মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” যুক্ত করে এই অতিরিক্ত বাক্য সহকারে জিকির করার বিধান কী? তারা জবাবে বলেন,
الشهادة لله تعالى بالوحدانية، ولرسوله صلى الله عليه وسلم بالرسالة، فرض، لا يكون الإنسان مسلمًا إلا بذلك، والذكر بـ: لا إله إلا الله وحدها، أجره عظيم؛ لحث الشرع على الذكر بها، ولأنها أفضل ما قاله النبي صلى الله عليه وسلم، والنبيون من قبله. أما اتخاذ هذه العبادة: (لا إله إلا الله، محمد رسول الله) وردًا يذكر به، ويداوم عليه، فلم يرد به الشرع، والخير كل الخير في الاستغناء في العمل بما ثبت شرعًا، والاكتفاء به في الذكر، مع الإكثار من الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم كل وقت، وبالله التوفيق. اهــ.
والله تعالى أعلم

“আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রেসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া ফরজ। এ ছাড়া কেউ মুসলিম হতে পারবে না। আর কেবল “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ” দ্বারা জিকির করার করার মর্যাদা বিশাল। কারণ ইসলামি শরিয়ত এই বাক্য দ্বারা জিকির করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। আর এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার পূর্বের সকল নবি-রাসুলগণ কর্তৃক পঠিত সর্বোত্তম বাক্য। কিন্তু কি ‘লা ইলা হা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এই বাক্যকে ওজিফা হিসেবে সর্বদা জিকির করার ব্যাপারে শরিয়তে নির্দেশনা আসেনি। আর শরিয়তে যতটুকু সাব্যস্ত হয়েছে শুধু তুতটুকুর উপর আমল করা, ততটুকু দ্বারা জিকির করা, পাশাপাশি সবসময় অধিক পরিমাণে আল্লাহর নবীর উপর দরুদ পাঠ মধ্যেই সর্ববিধ কল্যাণ নিহিত আছে। আল্লাহ তওফিক দান করুন। আল্লাহু আলাম-আল্লাহ সবচেয়ে বেশি জানেন।”

মোটকথা, জিকির হিসেবে কেবল ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এই কালিমাতু তাওহিদ দ্বারা জিকির করতে হবে। এর সাথে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বাক্যকে সংযোগ করা করে জিকির করা বা দৈনন্দিন ওজিফা হিসেবে আমল করা শরিয়ত সম্মত নয়। তবে উভয় বাণীর প্রতি সাক্ষ্য প্রদান অপরিহার্য। এখানে জিকির করা ও সাক্ষ্য প্রদানের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি বুঝা জরুরি।

❑ অনেক বার ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ জিকির করার পর শেষে কমপক্ষে একবার ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ পাঠ করা কি আবশ্যক?

➤ ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দ্বারা জিকির করার পর সবশেষে ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ পাঠ করতে হবে কিংবা ৯৯ বার ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করার পর ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বলার মাধ্যমে একশ পূর্ণ করতে হবে-ইসলামি শরিয়তে এমন কোনও বিধান নেই। সুতরাং কেউ এমনটি করলে তা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে। আর ইসলামে বিদআত জঘন্য কাজ হিসেবে বিবেচিত। মা জননী আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ
“যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যে ব্যাপারে আমার নির্দেশনা নেই তা আল্লাহর কাছে পরিত্যাজ্য।” [বুখারী ও মুসলিম] অন্য হাদিসে এসেছে, আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি আমাদের এই দীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।” [বুখারি ও মুসলিম]।

❑ ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ পাঠ করার পর কি দরুদ তথা ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ পাঠ করা জরুরি?

➤ একাধিক হাদিসে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম শুনলে তার প্রতি দরুদ পাঠ তথা ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পাঠের ব্যাপারে অনেক তাগিদ এসেছে। বরং দরুদ পাঠ না করাকে শক্ত ভাষায় তিরস্কার করা হয়েছে। তাছাড়া সাধারণভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। কিন্তু বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামের পরে দরুদ পাঠ করাকে আলেমগণ মকরূহ বা বিদআত বলেছেন দলিল বহির্ভূত হওয়ার কারণে। যেমন:
শাহাদত বাণী ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ অথবা “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ” পাঠ করা বা শুনার পর, কুরআন তিলাওয়াত বা শ্রবণ কালীন মুহাম্মদ সাল্লাাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম‌ এলে, আজান দেওয়ার সময়, আজানের জবাবে, ইকামতের সময়, সালাতের তাশাহুদের বৈঠক ইত্যাদি ক্ষেত্রে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামের পরে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ পাঠ করা সুন্নত সমর্থিত নয়। কেননা এসব ক্ষেত্রে দরুদ পাঠের কোন হাদিস আসেনি এবং সাহাবিগণও এমনটি করেননি। বরং এসব ক্ষেত্রে হাদিসে যেভাবে যা করতে বলা হয়েছেে সেভাবে তাই করতে হবে। ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজস্ব অভিরুচী অনুযায়ী আমল করা বা ও এ সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে ইচ্ছামত প্রয়োগ করা শরিয়ত সম্মত নয়। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি কখনো এ সব ক্ষেত্রে দরুদ পড়ে নেয় কিন্তু এটাকে নিয়ম বানিয়ে না ফলে বা সুন্নতি আমল মনে না করে তাহলে আশা করা যায়, তা বিদআত পর্যায়ে পৌঁছবে না ইনশাআল্লাহ।

جاء في “تحفة المحتاج” من كتب الشافعية (2/65) :
” وَلَوْ قَرَأَ الْمُصَلِّي أَوْ سَمِعَ آيَةً فِيهَا اسْمُهُ صلى الله عليه وسلم لَمْ تُسْتَحَبَّ الصَّلَاةُ عَلَيْهِ كَمَا أَفْتَى بِهِ الْمُصَنِّفُ – يعني النووي – ” انتهى .
ويقول الحافظ ابن حجر الهيتمي في “الفتاوى الفقهية الكبرى” (1/131) :
” وَوَرَدَتْ أَحَادِيثُ أُخَرُ بِنَحْوِ تِلْكَ الْأَحَادِيثِ السَّابِقَةِ , وَلَمْ نَرَ فِي شَيْءٍ مِنْهَا التَّعَرُّضَ لِلصَّلَاةِ عَلَيْهِ قَبْلَ الْأَذَانِ , وَلَا إلَى مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ بَعْدَهُ وَلَمْ نَرَ أَيْضًا فِي كَلَامِ أَئِمَّتِنَا تَعَرُّضًا لِذَلِكَ أَيْضًا , فَحِينَئِذٍ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ هَذَيْنِ لَيْسَ بِسُنَّةٍ فِي مَحَلِّهِ الْمَذْكُورِ فِيهِ , فَمَنْ أَتَى بِوَاحِدٍ مِنْهُمَا فِي ذَلِكَ مُعْتَقِدًا سُنِّيَّتَهُ فِي ذَلِكَ الْمَحَلِّ الْمَخْصُوصِ نُهِيَ عَنْهُ وَمُنِعَ مِنْهُ ; لِأَنَّهُ تَشْرِيعٌ بِغَيْرِ دَلِيلٍ ; وَمَنْ شَرَّعَ بِلَا دَلِيلٍ يُزْجَرُ عَنْ ذَلِكَ وَيُنْهَى عَنْهُ . ” انتهى .
وفي “فتاوى الشيخ ابن باز” رحمه الله (10/334) :
” وكذلك ما يزيده بعض الناس من الصلاة على النبي مع الأذان عندما يقول : ( لا إله إلا الله ) يزيد : ( الصلاة على النبي ) رافعا بها صوته مع الأذان أو في المكبر ، فهذا لا يجوز وبدعة أيضا ” انتهى باختصار .
আল্লাহু আলাম।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

চুলে কাল কলপ করার বিধান

 প্রশ্ন: ছেলে বা মেয়েদের চুল কালার করা সম্পর্কে ইসলামি শরিয়ত এর বিধান কি? দলীল সহ বিস্তারিত বললে উপকৃত হতাম।▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: পুরুষ-নারী উভয়ের জন্য চুলে কালো রং ছাড়া অন্য রং দ্বারা কলপ করা মুস্তাহাব। কালো কলপ ব্যবহার করা বৈধ নয়। এটি হারাম কাজ ও কবিরা গুনাহ। কিন্তু সাদা চুল-দাড়ি মেহেদি বা অন্য রং দিয়ে পরিবর্তন করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত। তিনি সাদা চুলকে কালো রং বাদ দিয়ে অন্য রং দিয়ে পরিবর্তন করতে আদেশ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إن اليهود والنصارى لا يصبغون شعورهم ؛ فخالفوهم

“ইহুদি ও খৃষ্টানরা চুল ও দাড়িতে খেজাব (কলপ) ব্যবহার করে না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত কাজ করো। (অর্থাৎ তোমারা কলপ ব্যবহার করো)। [সহিহ বুখারী, অধ্যায়: আহাদীসুল আম্বিয়া।]

◈ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভবিষ্যতবাণী কিয়ামতের পূর্বে মানুষ কালো রং এর কলপলাগাবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

يَكُونُ قَوْمٌ يَخْضِبُو نَفِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ لَا يَرِيحُونَ رَاءِحَةَالْجَنَّةِ
“আখেরি জামানায় কিছু মানুষ আসবে যারা কবুতরের বুকের মত সাদা চুল-দাড়ি কালো রং দিয়ে পরিবর্তন করবে। তারা জান্নাতের গন্ধও পাবে না”। [আবু দাউদ, অধ্যায়: কিতাবুত তারাজ্জুল, আলবানি রহ. হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]

হাদিসের ভাষ্য বাস্তবে পরিণত হয়েছে। পুরুষদের মাঝে দাড়ি ও মাথার চুল কালো রং দিয়ে পরিবর্তন করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। আল্লাহু ক্ষমা করুন। আমিন।

◈ কারো মাথার চুল বা দাড়ি সাদা হয়ে গেলে তাতে কালো ছাড়া যে কোন রং ব্যবহার করা সুন্নত:

জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أُتِيَ بِأَبِي قُحَا فَةَ يَومَفَتح مَكَّة، وَرَأسُهُ وَلِحيَتُهُ كَالثَّغَامَةِ بَيَاضًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلى اللهُ عَلَيهِ وَسَللَّم غَيِّرُوا هَذَا بِشَيءٍ، وَاجتَنِبُوا السَّوَادَ

“মক্কা বিজয়ের দিন (আবু বকর রা.-এর পিতা) আবু কুহাফাহকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে উপস্থিত করা হল। তখন তার মাথায় চুল ও দাড়ি সাগামা গাছ (শুভ্র ফল-ফুল বিশিষ্ট এক প্রকার গাছ) এর ন্যায় দেখাচ্ছিল। তা দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদেরকে বললেন, “তোমরা কোন কিছু দিয়ে তার রং পরিবর্তন করে দাও তবে কালো রং থেকে বিরত থাকবে।”। [সহিহ মুসলিম, হা/২১০২]

◈ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারণত: মেহেদি, জাফরান ও ওয়ারস দ্বারা দিয়ে চুল-দাড়ি কলপ করতেন:

✪ আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

كَانَ النَّبِيُّ رَسُولُ اللَّهِ صَلى اللهُ عَلَيهِ وَسَللَّم يَلبَسُ النِّعَالَ السِّبتِيَّة،وَيُصَفِّرُ لِحيَتَهُ بِالوَرسِ وَالزَّعفَرَانِ

ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার জুতা পরতেন এবং ওয়ারস (হলুদ বর্ণের একপ্রকার তৃণ ) ও জাফরান দ্বারা তাঁর দাড়ি রাঙাতেন। আর ইবনে উমর রা.-ও এরূপ করতেন।

✪ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন,

إِنَّ أَحسَنَ مَا غُيِّرَ بِهِ هَذَا الشَّيبُ : الحِنَّاءُوَالكَتَمُ

“নিশ্চয় সর্বশ্রেষ্ঠ বস্তু যা দিয়ে বার্ধক্যের শুভ্রতাকে পরিবর্তন করা যায় তা হচ্ছে, মেহেদি ও কাতাম।” [সহিহ আবু দাউদ, হা/১৪০৫]
❑ আল্লামা মুহম্ম বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ. বলেন, “পাকা চুলে কালো রঙ দিয়ে (চুল) কলপ করা হারাম ও কবিরা গুনাহগুলোর অন্তর্ভুক্ত।”
صبغ الشعر إذا شاب بالسواد حرام ، لأن النَّبِيّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال : (غَيِّرُوا هَذَا الشَّيْبَ وَجَنِّبُوهُ السَّوَادَ ) ووردت الأحاديث في النهي عنه والتحذير منه ، بل وردت بما يدل على أنه من كبائر الذنوب وهو ظاهر
[সূত্র: মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল, খণ্ড: ১১; পৃষ্ঠা: ১২১]
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

November 16, 2022

নাটক-সিনেমায় বিয়ের অভিনয় করার বিধান

 সিরিয়াস বিষয়ে হাসি-তামাশা নয়: জেনে নিন, নাটক-সিনেমায় বিয়ের অভিনয় করার বিধান

প্রশ্ন: স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আমরা নাটিকায় অভিনয় করি। এতে বিয়ের অভিনয় করা হয়, এতে কবুল‌ও বলা হয়। এতে কি বাস্তবে বিয়ে হয়েছে?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: আমাদের জানা দরকার যে, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শুধু ইজাব-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ)ই যথেষ্ট নয়। এই ক্ষেত্রে আরও অন্যান্য রোকন ও শর্তাবলী রয়েছে। সেগুলো ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না। যেমন: মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি (অধিক বিশুদ্ধ মতে), বিয়েতে প্রতিবন্ধক হতে পারে এমন বিষয় না থাকা (যেমন: বর-কনের মধ্যে মাহরামের সম্পর্ক থাকা, মহিলার অন্য স্বামী থাকা ইত্যাদি), মোহর নির্ধারণ, দু জন ন্যায়-নীতিমান সাক্ষী থাকা ইত্যাদি। সুতরাং নাটক-নাটিকা ও সিনেমা-থিয়েটারে এসব কথিত বিয়ের অভিনয়ে যদি উপরোক্ত শর্তাবলী যথার্থভাবে না পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। আর সাধারণত এসব ক্ষেত্রে উপরোক্ত শর্তাবলী সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। যেমন: এ ক্ষেত্রে মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি না থাকা, অথবা অভিনয়কারী মেয়েটির পূর্ব থেকেই স্বামী বিদ্যমান থাকা ইত্যাদি।

তবে হ্যাঁ, যদি এসব শর্তাবলী ঠিকভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে শুদ্ধ বলে গণ্য হবে। কেননা হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

ثَلَاثٌ جَدُّهُنَّ جَدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جَدُّ: النِّكَاحُ وَالطَّلَاقُ وَالرِّجْعَةُ

“তিনটি বিষয়ে কথাবার্তা গুরুতর বলেই বিবেচিত হবে- চাই তা গুরুত্বের সাথে বলা হোক বা রসিকতা বশত বলা হোক। যথা: বিয়ে, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার।” [আবু দাউদ,তিরমিযি, সহিহুল জামে:৩০২৭-শাইখ আলবানি]

সুতরাং বিয়ে-তালাকের মত মানব জীবনের সিরিয়াস এবং অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাসি-তামাশা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এর সাথে মানুষের ইজ্জত-সম্ভ্রমের পাশাপাশি হালাল-হারাম সংক্রান্ত অনেক বিধিবিধান এবং পরস্পরের বিভিন্ন দেনা-পাওনা ও হক জড়িত। যেভাবে ইসলামের কোন বিধান নিয়ে কেউ যদি হাসি-তামাশা করে তাহলে সে ইসলাম থেকেই বের হয়ে যাবে। (মুরতাদ বা ইসলাম চ্যুত বলে পরিণত হবে)। এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন, সূরা তওবা-এর ৬৫ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা।

মোটকথা, সবকিছু নিয়ে হাসি- তামাশা করা সংগত নয়। অতএব এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।

শাইখ আলবানি রা.কে প্রশ্ন করা হয়: নাটক-অভিনয়ের মধ্যে কি বিয়ে সংঘটিত হবে?
তিনি বলেন,
نعم إذا توفرت الشروط العقد الشرعي يقع لأن الصحيح من قولي العلماء أن الهزل في النكاح وفي الطلاق وفي العتاق نافد واقع فإذا توفرت الشروط تحقق النكاح شاءوا أم أبوا-سلسلة الهدى والنور شريط رقم 201).
“হ্যাঁ, যদি আক্দ সম্পন্ন হওয়ার শর্তাবলী পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ আলেমদের দুটি অভিমতের মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মতে বিয়ে, তালাক এবং দাস মুক্তির ক্ষেত্রে হাসি-মজাকও বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং যদি শর্তাবলী সঠিকভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে বাস্তবায়িত হয়ে যাবে-চাই তারা পছন্দ করুক অথবা না করুক।” [আল হুদা ওয়ান নূর সিরিজ। ক্যাসেট নম্বর: ২০১]

উল্লেখ্য যে, নাটক-সিনেমায় এসব কার্যক্রম হারাম। কেননা, এখানে বিয়ের মত মানব জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি বিধানকে বিনোদন ও হাসি-তামাশার খোরাকে পরিণত করা হয়। তাছাড়া অভিনয় মানেই মিথ্যার আশ্রয়। এখানে অবাস্তবকে বাস্তব এবং অসত্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়াও এতে নানা ধরণের গর্হিত কাজ সংঘটিত হয়। সুতরাং নাটক-সিনেমার মধ্যে বিয়ে নিয়ে তামাশা বন্ধ হওয়া জরুরি। আল্লাহু আলম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate