প্রশ্ন: নিউজ ফিডে দেখা যাচ্ছে যে, ৪০ জন ‘আমিন’ বললে নাকি দুআ কবুল হয় -এটা কতটুক সত্য?
February 05, 2022
কোনও দুআয় ৪০ জন ব্যক্তি আমিনবললে তা কি কবুল হয়?
গোরস্থানে কবরের মাটি সমান করে তার উপর মসজিদ নির্মাণ বা সম্প্রসারণ এবং তাতে সালাত আদায়ের বিধান
প্রশ্ন: আমাদের গ্রামের মসজিদের পাশে কবর ছিল। তো মসজিদ বড় করার জন্য জায়গার মালিকের অনুমতি নিয়ে কবরস্থানের মাটি সমান করে তার উপর মসজিদ বড় করা হয়েছে। এখন ওই মসজিদে কি নামাজ শুদ্ধ হবে? কয়েকজন আলেম হাদিস গ্রন্থের দলিল দেখিয়ে বলেছেন যে, এখানে নামাজ হবে। এখন আপনাদের কাছেও এ বিষয় জানতে চাই কুরআন-হাদিসের আলোকে।
❑ কোন পরিস্থিতিতে কবরস্থানে মসজিদ নির্মাণ বা সম্প্রসারণ করা বৈধ?
পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে, মসজিদে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে তা সম্প্রসারণ করা নিতান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে কিন্তু মসজিদের পার্শ্বে কবর থাকার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না আর অন্য দিকে মসজিদ বাড়ানোর মত জায়গাও নাই। তাহলে এমন জরুরি প্রয়োজন বশত: মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য কবরস্থানের যতটুকু জায়গা প্রয়োজন ততটুকু স্থান থেকে কবরগুলো খনন করে অত্যন্ত সম্মানের সাথে মৃত মানুষের লাশ বা অবশিষ্ট হাড়-হাড্ডি যা পাওয়া যায় সেগুলো অন্য কোনও কবরস্থানে দাফন করতে হবে। তারপর উক্ত স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মাটি সমান করে সেখানে মসজিদ সম্প্রসারণ করা বৈধ হবে।
❑ সৌদি স্থায়ী ফতোয়া কমিটির ফতোয়া:
ওজু-গোসল ও পাক-পবিত্রতা বিষয়ক জরুরি ২৫টি মাসআলা
প্রশ্ন-১: নাপাক (গোসল ফরজ) অবস্থায় দুআ, তাসবিহ, জিকির-আজকার ইত্যাদি পাঠ করা জায়েজ আছে কি?
অনুরূপভাবে হায়েজ-নেফাস জনিত নাপাক অবস্থায়ও উপরোক্ত বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে এ অবস্থায় কুরআন স্পর্শ বা তিলাওয়াত করা যাবে কি না তা দ্বিমত পূর্ণ। সঠিক কথা হল, সর্তকতার স্বার্থে একান্ত জরুরি না হলে (যেমন: কুরআন ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা, ছাত্রীদের কুরআনের পরীক্ষা ইত্যাদি) কুরআন তিলাওয়াত করা উচিৎ নয়। আর এ অবস্থায় মুসহাফ (গ্রন্থাকারে লিখিত কুরআন) স্পর্শ করার প্রয়োজন হলে, হাতমোজা, কুরআনের গিলাফ, কাপড় বা অন্য কোনও কিছুর আবরণ সহকারে তা স্পর্শ করা যাবে। কিন্তু মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি ডিভাইসে কুরআন থাকলে সে ক্ষেত্রে হাতমোজা বা আবরণ সহকারে ধরা আবশ্যক নয়। কারণ তা মূলত: মুসহাফ নয়।
প্রশ্ন-২: ওজু ব্যতীত হাদিসের কোন বই, তাফসির গ্রন্থ বা যে কোনও ইসলামিক বই-পুস্তক হাতে নিয়ে পড়া যাবে কি?
অনুরূপভাবে এ অবস্থায় জিকির, দুআ, তাসবিহ, ইস্তিগফার ইত্যাদি পাঠ করতেও কোন সমস্যা নাই।
প্রশ্ন-৩: আমার কোল্ড এলার্জি। এর ফলে প্রায় দিনই আমার হাঁচি-কাশি থাকে, পানি স্পর্শ করলে হাঁচি এবং কানের ব্যথা বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আমি কি ওজু ও ফরজ গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে পারি? আমি খুব দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। উত্তর দিলে উপকৃত হব।
প্রশ্ন-৪: হাতে যদি ফেবিকুইক লেগে যায় তাহলে কি অজু বা গোসল শুদ্ধ হবে?
তবে সালাত আদায়, (অধিক বিশুদ্ধ মতে) সরাসরি মুসহাফ (কুরআন) হাত দ্বারা স্পর্শ করা, কাবা ঘরের তওয়াফ ইত্যাদির জন্য ওজু থাকা জরুরি।
যা হোক, কেউ যদি কখনো ভুল বশত: পুরোটা বলেও ফেলে তাহলে তা বিদআত হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত ভাবে না বলাই উত্তম। আল্লাহু আলাম।
অনুরূপভাবে যদি মেহেদি, সাধারণ রং বা রং জাতীয় ওষুধ (যা চামড়ার উপর আবরণ ফেলে না) লাগানো হয় তাহলে তাতেও ওজুতে কোন সমস্যা নেই। কেননা এতে ওজুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চামড়ায় পানি পৌঁছতে বাঁধাগ্রস্ত হয় না।
“আল্লাহ তা’আলা কারো উপর তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব চাপান না।” [সূরা বাকারা: ২৮৬ নং আয়াত]
উল্লেখ্য যে, এ অবস্থায় পেশাব নির্গত হলে বারবার ওজু করার প্রয়োজন নাই বরং কাপড় পরিবর্তন করবে এবং একবার ওজু করে এক ওয়াক্তের পুরো সালাত আদায় করবে। নতুন ওয়াক্ত এলে পুনরায় নতুনভাবে ওজু করে সালাত আদায় করবে। এক ওজুতে একাধিক ওয়াক্তের সালাত আদায় করবে না। তবে এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
আল্লাহই রোগ-ব্যাধি থেকে শিফা দানকারী।
মোটকথা, ওজুর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ভেজাতে হবে। তবে তিন বারের বেশি পানি নেওয়া ঠিক নয়।
প্রশ্ন-২১ ওজু করার পর কালেমা শাহাদাত এবং একাধিক দুআ আছে যেগুলো পাঠ করায় অনেক ফজিলত রয়েছে! এই দুআগুলো ওজুর স্থানেই বসে পড়া আবশ্যক নাকি ওজু করে ঘরে আসার সময় হাঁটতে হাঁটতে পড়তে পারবো? তা কীভাবে পড়া উত্তম?
সুতরাং অজু করার পর যথাস্থানে বসে পাঠ করুন অথবা দাঁড়িয়ে বা হাঁটতে হাঁটতে পাঠ করুন তাতে কোন সমস্যা নেই।
ওজু শেষ করার পর পরই তা পাঠ করলে হাদিস অনুযায়ী জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। সে তার ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে ইনশাআল্লাহ-যে অবস্থায়ই তা পাঠ করা হোক না কেন।
ওজুর করার পর সুন্নত হল, ওজু শেষের দুআ পাঠ করা। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ রূপে ওজু করার পর পাঠ করবে:
أَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ
“আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহ্দাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহ্।” তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা উন্মুক্ত করা হবে সে যে কোনও দরজা দিয়ে ইচ্ছে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
দুআটির অর্থ: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরিক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল।” [সহিহ মুসলিম]
এ ছাড়াও হাদিসে ওজুর পরে পাঠ করার একাধিক দুআ বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো থেকে এক বা একাধিক দুআ পাঠ করা যাবে। তা ওজুর স্থানে বসে পাঠ করা হোক অথবা হাঁটতে হাঁটতে পাঠ করা হোক তাতে কোনও আপত্তি নাই ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে এমনটি করলে সে গুনাহগার হবে। কারণ ওজু ছাড়া সালাত আদায় করা হারাম। এ ক্ষেত্রে তার করণীয় হল, আল্লাহর কাছে লজ্জিত অন্তরে তওবা করত: ওজু করে নিজে নিজে উক্ত সালাত পড়ে নেওয়া।
কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই মুক্তাদিদের জন্য উক্ত সালাত পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নাই। কারণ তারা যথারীতি পবিত্র অবস্থায় সালাত আদায় করেছে। এ ক্ষেত্রে ইমামের ত্রুটি মুসল্লিরা বহন করবে না।
শরীর থেকে রক্ত নির্গত হলে ওজু নষ্ট হবে কি? মতবিরোধ এবং সমাধান
শরীর থেকে রক্ত নির্গত হলে তাতে ওজু ভঙ্গ হবে কি না-সে বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের মাঝে দ্বিমত সৃষ্টি হয়েছে। তবে অধিক বিশুদ্ধ মতে, তা ওজু ভঙ্গের কারণ নয়।
নিম্নে এ বিষয়ে বিংশ শতকের অন্যতম দুই শ্রেষ্ঠ ফকিহ সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. এবং আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ. এর ফতোয়া তুলে ধরা হল:
❑ শাইখ উসাইমিন রাহ এর ফতোয়া:
❑ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,
“যদি রক্ত স্বল্প পরিমাণে হয়-যেমন: সামান্য আহত হওয়া-তাহলে তাতে ওযু ভঙ্গ হবে না। তার ওযু সহিহ। কিন্তু রক্ত বেশি পরিমাণে হলে এ ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ কেউ মনে করেন, এতে অজু ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারো কারো মতে শরীর আহত হলে বা তাতে ক্ষত সৃষ্টি হলে ওজু বাতিল হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, এতে ওযু বাতিল হবে না। অর্থাৎ এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো স্পষ্ট নয় এবং যেগুলো স্পষ্ট সেগুলো সহিহ নয়।
তাই মুমিনের জন্য নিরাপদ হল, যদি প্রচুর পরিমাণে রক্ত নির্গত হয় তাহলে সালাত কাজা করে নিবে (অর্থাৎ ঐ অবস্থায় সালাত পড়ে থাকলে ওজু করে পুনরায় সালাত কাজা করে নিবে) মতানৈক্য থেকে দূরে থাকার স্বার্থে এবং দীনের ব্যাপারে সতর্কতা হিসেবে। তবে রক্ত হালকা ও সামান্য হলে তা ক্ষমার্হ।”
◯ শরীর থেকে রক্ত নির্গত হলে ওজু নষ্ট না হওয়ার পক্ষে হাদিসের দলিল:
ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালেক, মদিনার সাত ফকিহ প্রমুখ ফকিহগণ রক্ত নির্গত হওয়ার কারণে ওজু ভঙ্গ না হওয়ার পক্ষে নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন:
ঘটনাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জেনেছেন। কিন্তু রক্ত প্রবাহিত হওয়া স্বত্বেও সালাত অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি আপত্তি করেন নি। এতে ওজু নষ্ট হলে তিনি অবশ্যই তাকে বলতেন যে, শরীর থেকে রক্ত বের হওয়ার কারণে তোমার ওজু ভঙ্গ হয়ে গিয়েছিলো। তাই এভাবে তোমার সালাত শুদ্ধ হয় নি। কিন্তু তিনি তা বলেন নি।
কিন্তু হানাফি মাজহাব সহ অন্যান্য আলেম যারা বলেছেন, শরীর থেকে রক্ত নির্গত হলে ওজু নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের কথার পক্ষ কোনও হাদিসের দলিল নাই কিয়াস বা যুক্তি ছাড়া। তাদের মতে, শরীর থেকে পেশাব-পায়খানা বের হলে যদি ওজু নষ্ট হয় তাহলে রক্ত বের হলেও ওজু নষ্ট হবে। কারণ প্রবাহিত রক্তও নাপাক। কিন্তু হাদিসের বিপরীতে কিয়াস বা যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসলামে প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য এবং তার সাথে অন্যায়-আচরণের ভয়াবহতা
প্রশ্ন: কেউ প্রতিবেশীকে কষ্ট দিলে, তার সাথে প্রতারণা করলে, তার টাকা-পয়সা নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে বা তার সাথে হিংসা ও শত্রুতা পোষণ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে তার পরিণতি কী হবে?
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিবেশীর প্রতি বেশি কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য ও হক রয়েছে-যেগুলো বাস্তবায়ন করতে প্রতিটি মুসলিম নির্দেশিত।
❑ নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু পয়েন্ট অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল:
❑ প্রতিবেশীর অধিকার লঙ্ঘন এবং তার প্রতি অন্যায় আচরণের ভয়াবহতা:
কেউ যদি প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়, তার সাথে প্রতারণা করে, তার জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি করে, তার বিরুদ্ধে শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র করে অথবা হিংসা, অন্যায় গালাগালি বা বিভিন্নভাবে অন্যায়-অবিচার করে তাহলে নি:সন্দেহে সে প্রতিবেশীর অধিকার লঙ্ঘন করলো। এ কারণে সে আল্লাহর কাছে অপরাধী ও গুনাহগার বলে গণ্য হবে। সুতরাং সে যে ধরণের অন্যায় করবে আল্লাহ তাআলা সে অনুযায়ী তাকে শাস্তি দিবেন-দুনিয়াতেও হতে পারে- আখিরাতেও হতে পারে।
প্রচলিত কুরআন খতম নিয়ে দেওবন্দের ফতোয়ায় যা রয়েছে
আমাদের সমাজে কুরআন খতমের একটি প্রথা প্রচলিত রয়েছে। যেমন, নতুন ঘর ক্রয় করা হলে কুরআন খতম করা হয়। দোকান উদ্বোধন করা হলে খতম করা হয়। কারো চল্লিশা হলে কুরআন খতম করা হয়, কারো মৃত্যুর তৃতীয় দিনে কুরআন খতম করা হয়; যাতে মৃত ব্যক্তির কাছে ছওয়াব পৌঁছে।
কোনো সময় এর ঘোষণা পত্রিকায় দেওয়া হয় এবং মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে শুধুমাত্র কুরআন খতমের জন্য আসে। এমন কুরআন খতমের আমলের হুকুম কী? কুরআন হাদিসের আলোকে এর কোনো প্রমাণ আছে কি?
এ বিষয়ে বিশ্বখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে কাশ্মীরের একজন বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। যার প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ে শরীয়তের আলোকে নিজেদের মতামত জানান দেওবন্দের মুফতিরা।
নিম্নে প্রশ্নোত্তরটি হুবহু দারুল উলুম দেওবন্দের ওয়েবসাইট থেকে অনুবাদ করা হলো-
প্রশ্ন: কাশ্মীরে লোকজন অধিকাংশ সময় হুজুরদেরকে খতম পড়ার জন্য দাওয়াত করে আনে, খতম করার পর তাদেরকে খাওয়ায় এবং টাকা পয়সাও দেয়। এমন করা কি জায়েজ?
উত্তর: প্রচলিত খতমে কুরআন পাঠকারীদের খাবার খাওয়ানো এবং টাকা পয়সা দেওয়া বিদআত ও নাজায়েজ। এভাবে কুরআন তেলাওয়াত করার দ্বারা না পাঠকারী কোনো সওয়াব পায় আর না মৃতব্যক্তিরা।
ফাতাওয়া শামীতে রয়েছে- অর্থ: তাজুশ শরিয়াহ হেদায়াতে লিখেন, বিনিময় নিয়ে কুরআন পড়ার দ্বারা কোনো সওয়াবই হয় না। না মৃতব্যক্তি সওয়াব পায়, আর না তেলাওয়াতকারী।
আল্লামা আইনী হেদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থে লেখেন, দুনিয়া তলব করার কারণে তেলাওয়াতকারীকে এমন তেলাওয়াত থেকে বারণ করা হবে। এভাবে তেলাওয়াত করার বিনিময় দেওয়া হলে গ্রহীতা ও দাতা উভয়ে গুনাহগার হবে।
মোটকথা, আমাদের সময়ে বিনিময় গ্রহণ করে কুরআন তেলাওয়াত করার যে রেওয়াজ চালু হয়েছে তা জায়েজ নয়। কারণ, এর মধ্যে খতমের আয়োজনকারী বা তার আত্মীয়ের জন্য সওয়াব পাঠানো উদ্দেশ্য হয় এবং তেলাওয়াতকারী তেলাওয়াত করে টাকার জন্য।
টাকার জন্য তেলাওয়াত করায় তেলাওয়াতকারী নিজে কোনো সওয়াব না পেলে ভাড়া গ্রহণকারীকে সওয়াব দিবে কোত্থেকে?
▬▬▬✪✪✪▬▬▬
প্রেম বিষয়ক মিথ্যা হাদিস
প্রশ্ন: নিচের হাদিসটি কি সঠিক? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কেউ কারও প্রতি আসক্ত হল, আর ভালোবাসা রইল অপ্রকাশিত। এভাবে নিজের চরিত্র নির্মল রেখে, সবর করে মৃত্যুবরণ করল। আল্লাহ তায়ালা তাকে দান করবেন শাহাদাতের মর্যাদা।” [কানযুল আমাল-১৮০/৪]
এ হাদিসটি বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আল্লাহর বাণীকে উচ্চকিত করার জন্য কাফির/মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করতে করতে মৃত্যু বরণ করে সে শহিদ। ইসলামের শহিদের মর্যাদা অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা শহিদদেরকে জান্নাতবাসী করবেন। কিন্তু প্রেমাসক্ত ব্যক্তি তার প্রেমের কথা গোপন রেখে পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে তাকে শহিদি মর্যাদা দেওয়া মূলত: শহিদের সাথে উপহাসের শামিল। তাছাড়া একটি বানোয়াট কথাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করার পরিণতি ভয়াবহ। কারণ হাদিসের আলোকে এটা এমন অপরাধ যার পরিণতি জাহান্নাম।
যে সব ব্যক্তিরা পরনারীর প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে ব্যর্থ হয়েছে তারাই এ জাতীয় মনগড়া ও ভিত্তিহীন হাদিস দ্বারা তাদের অশান্ত মনকে প্রবোধ দেয়। কিন্তু ইসলামে বিয়ের পূর্বে কথিত প্রেম-ভালবাসা সম্পূর্ণ হারাম। আর হারামকে হালাল করার একমাত্র উপায় হল, ইসলামের বিধান অনুযায়ী বিয়ে করা।